হাদীস বিএন


সহীহুল বুখারী





সহীহুল বুখারী (5361)


مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيٰى عَنْ شُعْبَةَ قَالَ حَدَّثَنِي الْحَكَمُ عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلٰى حَدَّثَنَا عَلِيٌّ أَنَّ فَاطِمَةَ عَلَيْهِمَا السَّلاَم أَتَتْ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَشْكُو إِلَيْهِ مَا تَلْقٰى فِي يَدِهَا مِنَ الرَّحٰى وَبَلَغَهَا أَنَّه“ جَاءَه“ رَقِيقٌ فَلَمْ تُصَادِفْه“ فَذَكَرَتْ ذ‘لِكَ لِعَائِشَةَ فَلَمَّا جَاءَ أَخْبَرَتْه“ عَائِشَةُ قَالَ فَجَاءَنَا وَقَدْ أَخَذْنَا مَضَاجِعَنَا فَذَهَبْنَا نَقُومُ فَقَالَ عَلٰى مَكَانِكُمَا فَجَاءَ فَقَعَدَ بَيْنِي وَبَيْنَهَا حَتّٰى وَجَدْتُ بَرْدَ قَدَمَيْهِ عَلٰى بَطْنِي فَقَالَ أَلاَ أَدُلُّكُمَا عَلٰى خَيْرٍ مِمَّا سَأَلْتُمَا إِذَا أَخَذْتُمَا مَضَاجِعَكُمَا أَوْ أَوَيْتُمَا إِلٰى فِرَاشِكُمَا فَسَبِّحَا ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَاحْمَدَا ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَكَبِّرَا أَرْبَعًا وَثَلاَثِينَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمَا مِنْ خَادِمٍ.




‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, একদা ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যাঁতা ব্যবহারে তাঁর হাতে যে কষ্ট পেতেন তার অভিযোগ নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে আসলেন। তাঁর কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট দাস আসার খবর পৌঁছে ছিল। কিন্তু তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পেলেন না। তিনি তাঁর অভিযোগ ‘আয়িশার কাছে বললেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে আসলে ‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁকে জানালেন। ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ রাতে আমরা যখন শুয়ে পড়েছিলাম, তখন তিনি আমাদের কাছে আসলেন। আমরা উঠতে চাইলাম, কিন্তু তিনি বললেনঃ তোমরা উভয়ে নিজ স্থানে থাক। তিনি এসে আমার ও ফাতিমার মাঝখানে বসলেন। এমনকি আমি আমার পেটে তাঁর দুপায়ের শীতলতা উপলব্ধি করলাম। তারপর তিনি বললেনঃ তোমরা যা চেয়েছ তার চেয়ে কল্যাণকর বিষয় সম্পর্কে তোমাদের কি জানাবো না? তোমরা যখন তোমাদের শয্যাস্থানে যাবে, অথবা বললেনঃ তোমরা যখন তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তেত্রিশবার ‘সুবহানাল্লাহ’, তেত্রিশবার ‘আল্‌ হাম্‌দুলিল্লাহ’ এবং চৌত্রিশবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে। এটা খাদিম অপেক্ষা তোমাদের জন্য অধিক কল্যাণকর। [৩২](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৫৭)









সহীহুল বুখারী (5362)


الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ أَبِي يَزِيدَ سَمِعَ مُجَاهِدًا سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمٰنِ بْنَ أَبِي لَيْلٰى يُحَدِّثُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَنَّ فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلاَم أَتَتْ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَسْأَلُه“ خَادِمًا فَقَالَ أَلاَ أُخْبِرُكِ مَا هُوَ خَيْرٌ لَكِ مِنْه“ تُسَبِّحِينَ اللهَ عِنْدَ مَنَامِكِ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَتَحْمَدِينَ اللهَ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَتُكَبِّرِينَ اللهَ أَرْبَعًا وَثَلاَثِينَ ثُمَّ قَالَ سُفْيَانُ إِحْدَاهُنَّ أَرْبَعٌ وَثَلاَثُونَ فَمَا تَرَكْتُهَا بَعْدُ قِيلَ وَلاَ لَيْلَةَ صِفِّينَ قَالَ وَلاَ لَيْلَةَ صِفِّينَ.




‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) একটি খাদিম চাইতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলেন। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে এর চেয়ে অধিক কল্যাণদায়ক বিষয়ে খবর দিব না? তুমি শয়নকালে তেত্রিশবার ‘সুবহানাল্লাহ’, তেত্রিশবার ‘আল্‌ হাম্‌দুলিল্লাহ’ এবং চৌত্রিশবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে। পরে সুফিয়ান বলেনঃ এর মধ্যে যে কোন একটি চৌত্রিশবার। ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ অতঃপর কখনোও আমি এগুলো ছাড়িনি। জিজ্ঞেস করা হলো সিফ্‌ফীনের রাতেও না? তিনি বললেনঃ সিফ্‌ফীনের রাতেও না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৫৮)









সহীহুল বুখারী (5363)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَرْعَرَةَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، سَأَلْتُ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ فِي الْبَيْتِ قَالَتْ كَانَ فِي مِهْنَةِ أَهْلِهِ، فَإِذَا سَمِعَ الأَذَانَ خَرَجَ‏.‏




আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি ‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গৃহে কি কাজ করতেন? তিনি বললেনঃ তিনি ঘরের কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন, যখন আযান শুনতেন, তখন বেরিয়ে পড়তেন। [৩৩](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৫৯)









সহীহুল বুখারী (5364)


مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنّٰى حَدَّثَنَا يَحْيٰى عَنْ هِشَامٍ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ هِنْدَ بِنْتَ عُتْبَةَ قَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ شَحِيحٌ وَلَيْسَ يُعْطِينِي مَا يَكْفِينِي وَوَلَدِي إِلاَّ مَا أَخَذْتُ مِنْه“ وَهُوَ لاَ يَعْلَمُ فَقَالَ خُذِي مَا يَكْفِيكِ وَوَلَدَكِ بِالْمَعْرُوفِ.




‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, হিন্‌দা বিন্‌ত উত্‌বা বললঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আবূ সুফিয়ান একজন কৃপণ লোক। আমাদের এত পরিমাণ খরচ দেন না, যা আমার ও আমার সন্তানদের জন্য যথেষ্ট হতে পারে যতক্ষণ না আমি তার অজান্তে মাল থেকে কিছু নিই। তখন তিনি বললেনঃ তোমার ও তোমার সন্তানের জন্য ন্যায়সঙ্গতভাবে যা যথেষ্ট হয় তা তুমি নিতে পার।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৬০)









সহীহুল বুখারী (5365)


عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا ابْنُ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ وَأَبُو الزِّنَادِ عَنْ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ خَيْرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الإِبِلَ نِسَاءُ قُرَيْشٍ وَقَالَ الآخَرُ صَالِحُ نِسَاءِ قُرَيْشٍ أَحْنَاه“ عَلٰى وَلَدٍ فِي صِغَرِه„ وَأَرْعَاه“ عَلٰى زَوْجٍ فِي ذَاتِ يَدِه„ وَيُذْكَرُ عَنْ مُعَاوِيَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.




আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ উটে আরোহিনী নারীদের মধ্যে কুরাইশ গোত্রের নারীরা সর্বোত্তম। অপরজন বলেনঃ কুরাইশ গোত্রের নারীগণ সৎ, তারা সন্তানের প্রতি শৈশবে খুব স্নেহশীলা এবং স্বামীর প্রতি বড়ই অনুকম্পাশীলা তার সম্পদের ক্ষেত্রে। মু’আবিয়া ও ইবনু আব্বাসের সূত্রেও উক্ত হাদীসটি বর্ণিত আছে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৬১)









সহীহুল বুখারী (5366)


حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَيْسَرَةَ قَالَ سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ وَهْبٍ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ آتٰى إِلَيَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حُلَّةً سِيَرَاءَ فَلَبِسْتُهَا فَرَأَيْتُ الْغَضَبَ فِي وَجْهِه„ فَشَقَّقْتُهَا بَيْنَ نِسَائِي.




‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে রেশমী পোশাক আসলে আমি তা পরিধান করলাম। তাঁর চেহারায় গোস্বার চিহ্ন লক্ষ্য করলাম। তাই আমি এটাকে টুকরা করে আপন মহিলাদের মধ্যে বণ্টন করলাম।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৬২)









সহীহুল বুখারী (5367)


مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَمْرٍو عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ هَلَكَ أَبِي وَتَرَكَ سَبْعَ بَنَاتٍ أَوْ تِسْعَ بَنَاتٍ فَتَزَوَّجْتُ امْرَأَةً ثَيِّبًا فَقَالَ لِي رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجْتَ يَا جَابِرُ فَقُلْتُ نَعَمْ فَقَالَ بِكْرًا أَمْ ثَيِّبًا قُلْتُ بَلْ ثَيِّبًا قَالَ فَهَلاَّ جَارِيَةً تُلاَعِبُهَا وَتُلاَعِبُكَ وَتُضَاحِكُهَا وَتُضَاحِكُكَ قَالَ فَقُلْتُ لَه“ إِنَّ عَبْدَ اللهِ هَلَكَ وَتَرَكَ بَنَاتٍ وَإِنِّي كَرِهْتُ أَنْ أَجِيئَهُنَّ بِمِثْلِهِنَّ فَتَزَوَّجْتُ امْرَأَةً تَقُومُ عَلَيْهِنَّ وَتُصْلِحُهُنَّ فَقَالَ بَارَكَ اللهُ لَكَ أَوْ قَالَ خَيْرًا.




জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাতটি বা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) নয়টি মেয়ে রেখে আমার পিতা ইন্‌তিকাল করেন। তারপর আমি এক বিধবা মহিলাকে বিয়ে করি। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ জাবির! তুমি বিয়ে করেছ? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি তারপর জিজ্ঞেস করলেনঃ কুমারী বিয়ে করেছ না বিধবা? আমি বললামঃ বিধবা! তিনি বললেনঃ কুমারী করলে না কেন? তুমি তার সাথে খেলতে, সেও তোমার সাথে খেলত। তুমিও তাকে হাসাতে, সেও তোমাকে হাসাতো। জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ আমি তাঁকে বললাম, অনেকগুলো কন্যা সন্তান রেখে ‘আবদুল্লাহ্‌ (আমার পিতা) মারা গেছেন, তাই আমি ওদের-ই মত কুমারী মেয়ে বিয়ে করা পছন্দ করিনি। আমি এমন মেয়েকে বিয়ে করলাম, যে তাদের দেখাশোনা করতে পারে তাদের ভুলত্রুটি শুধরাতে পারে। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তোমাকে বরকত দিন অথবা বললেনঃ কল্যাণ দান করুন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৬৩)









সহীহুল বুখারী (5368)


أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَتٰى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ هَلَكْتُ قَالَ وَلِمَ قَالَ وَقَعْتُ عَلٰى أَهْلِي فِي رَمَضَانَ قَالَ فَأَعْتِقْ رَقَبَةً قَالَ لَيْسَ عِنْدِي قَالَ فَصُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ لاَ أَسْتَطِيعُ قَالَ فَأَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا قَالَ لاَ أَجِدُ فَأُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِعَرَقٍ فِيهِ تَمْرٌ فَقَالَ أَيْنَ السَّائِلُ قَالَ هَا أَنَا ذَا قَالَ تَصَدَّقْ بِهٰذَا قَالَ عَلٰى أَحْوَجَ مِنَّا يَا رَسُوْلَ اللهِ فَوَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا بَيْنَ لاَبَتَيْهَا أَهْلُ بَيْتٍ أَحْوَجُ مِنَّا فَضَحِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتّٰى بَدَتْ أَنْيَابُه“ قَالَ فَأَنْتُمْ إِذًا.




আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এক লোক এলো এবং বললো আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ কেন? সে বললোঃ রমযান মাসে আমি (দিনে) স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ একটি দাস মুক্ত করে দাও। সে বললোঃ আমার কাছে কিছুই নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে একাধারে দু’মাস সওম পালন কর। সে বললোঃ সে ক্ষমতাও আমার নেই। তিনি বলেনঃ তবে ষাটজন মিসকীনকে খাদ্য খাওয়াও। সে বললঃ সে সামর্থ্যও আমার নেই। এ সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এক বস্তা খেজুর এল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ প্রশ্নকারী কোথায়? লোকটি বললোঃ আমি এখানে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এগুলো সদকা কর। সে বললোঃ হে রাসূলুল্লাহ! আমার চেয়ে অভাবগ্রস্তকে দিব। সেই সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, মদীনার প্রস্তরময় দু’পার্শ্বের মধ্যে আমাদের চেয়ে অভাবগ্রস্ত কোন পরিবার নেই। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসলেন এমন কি তাঁর চোয়ালের দাঁত পর্যন্ত দেখা গেল এবং বললেনঃ তবে তোমরাই তা নিয়ে যাও।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৬৪)









সহীহুল বুখারী (5369)


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ ابْنَةِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ لِي مِنْ أَجْرٍ فِي بَنِي أَبِي سَلَمَةَ أَنْ أُنْفِقَ عَلَيْهِمْ، وَلَسْتُ بِتَارِكَتِهِمْ هَكَذَا وَهَكَذَا، إِنَّمَا هُمْ بَنِيَّ‏.‏ قَالَ ‏ "‏ نَعَمْ لَكِ أَجْرُ مَا أَنْفَقْتِ عَلَيْهِمْ ‏"‏‏.‏




উম্মু সালামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আবূ সালামার সন্তানদের জন্য ব্যয় করলে তাতে আমার কোন সওয়াব হবে কি? আমি তাদের এ (অভাবী) অবস্থায় ত্যাগ করতে পারি না। তারা তো আমারই সন্তান। তিনি বললেনঃ হ্যা, তুমি তাদের জন্য যা খরচ করবে তাতে তোমার সওয়াব আছে।আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৬৫)









সহীহুল বুখারী (5370)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ هِنْدُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ شَحِيحٌ فَهَلْ عَلَىَّ جُنَاحٌ أَنْ آخُذَ مِنْ مَالِهِ مَا يَكْفِينِي وَبَنِيَّ قَالَ ‏ "‏ خُذِي بِالْمَعْرُوفِ ‏"‏‏.‏




‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হিন্‌দা এসে বললঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আবূ সুফিয়ান কৃপণ লোক। আমার ও সন্তানের জন্য যথেষ্ট হয় এমন কিছু যদি তার মাল থেকে গ্রহণ করি, তবে কি আমার গুনাহ হবে? তিনি বললেনঃ ন্যায়সঙ্গতভাবে নিতে পার।আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৬৬)









সহীহুল বুখারী (5371)


يَحْيٰى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُؤْتٰى بِالرَّجُلِ الْمُتَوَفّٰى عَلَيْهِ الدَّيْنُ فَيَسْأَلُ هَلْ تَرَكَ لِدَيْنِه„ فَضْلاً فَإِنْ حُدِّثَ أَنَّه“ تَرَكَ وَفَاءً صَلّٰى وَإِلاَّ قَالَ لِلْمُسْلِمِينَ صَلُّوا عَلٰى صَاحِبِكُمْ فَلَمَّا فَتَحَ اللهُ عَلَيْهِ الْفُتُوحَ قَالَ أَنَا أَوْلٰى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ فَمَنْ تُوُفِّيَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فَتَرَكَ دَيْنًا فَعَلَيَّ قَضَاؤُه“ وَمَنْ تَرَكَ مَالاً فَلِوَرَثَتِهِ.




আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ঋণগ্রস্ত কোন মৃত ব্যক্তিকে (জানাযার সালাত আদায়ের জন্য) আনা হলে, তিনি জিজ্ঞেস করতেনঃ সে কি ঋণ পরিশোধ করার মত অতিরিক্ত কিছু রেখে গেছে? যদি বলা হত যে, সে ঋণ পরিশোধ করার মত সম্পদ রেখে গেছে, তাহলে তিনি তার জানাযা পড়তেন। অন্যথায় তিনি মুসলমানদের বলতেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযা পড়। তারপর আল্লাহ যখন তাঁকে অনেক বিজয় দান করলেন, তখন তিনি বললেনঃ আমি মুমিনদের জন্য তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক ঘনিষ্টতর। কাজেই মুমিনদের কেউ ঋণ রেখে মারা গেলে, তা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার-ই। আর যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যাবে, তা তার ওয়ারিসরা পাবে। [৩৪]আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৬৭)









সহীহুল বুখারী (5372)


يَحْيٰى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ أَنَّ زَيْنَبَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ أَخْبَرَتْه“ أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ انْكِحْ أُخْتِي بِنْتَ أَبِي سُفْيَانَ قَالَ وَتُحِبِّينَ ذَلِكِ قُلْتُ نَعَمْ لَسْتُ لَكَ بِمُخْلِيَةٍ وَأَحَبُّ مَنْ شَارَكَنِي فِي الْخَيْرِ أُخْتِي فَقَالَ إِنَّ ذَلِكِ لاَ يَحِلُّ لِي فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَوَاللهِ إِنَّا نَتَحَدَّثُ أَنَّكَ تُرِيدُ أَنْ تَنْكِحَ دُرَّةَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ فَقَالَ بِنْتَ أُمِّ سَلَمَةَ فَقُلْتُ نَعَمْ قَالَ فَوَاللهِ لَوْ لَمْ تَكُنْ رَبِيبَتِي فِي حَجْرِي مَا حَلَّتْ لِي إِنَّهَا بِنْتُ أَخِي مِنَ الرَّضَاعَةِ أَرْضَعَتْنِي وَأَبَا سَلَمَةَ ثُوَيْبَةُ فَلاَ تَعْرِضْنَ عَلَيَّ بَنَاتِكُنَّ وَلاَ أَخَوَاتِكُنَّ.
وَقَالَ شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ عُرْوَةُ ثُوَيْبَةُ أَعْتَقَهَا أَبُو لَهَبٍ.




নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর স্ত্রী উম্মু হাবীবা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার বোন আবূ সুফিয়ানের মেয়েকে আপনি বিয়ে করুন। তিনি বললেনঃ তুমি কি তা পছন্দ কর? আমি বললাম, হ্যাঁ। আমি তো আর আপনার অধীনে একা নই। যারা আমার সঙ্গে কল্যানের অংশীদার, আমার বোনও তাদের অন্তর্ভুক্ত হোক, তাই আমি অধিক পছন্দ করি। তিনি বললেনঃ কিন্তু সে তো আমার জন্য হালাল হবে না। আমি বললাম: হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আল্লাহ্‌র কসম! আমাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে, আপনি নাকি উম্মূ সালামার মেয়ে দুর্‌রাকে বিয়ে করার ইচ্ছা করেছেন? তিনি বললেনঃ উম্মু সালামার মেয়েকে? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! সে যদি আমার কোলে পালিত, পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত উম্মে সালামার গর্ভের সন্তান নাও-হতো, তবু সে আমার জন্য বৈধ ছিল না। সে তো আমার দুধ-ভাইয়ের কন্যা। সুওয়ায়বা আমাকে ও আবূ সালামাকে দুধ পান করিয়েছেন। সুতরাং তোমাদের কন্যা ও বোনদের আমার সামনে পেশ করো না। [৩৫]
শু‘আইব যুহরী হতে বর্ননা করেছেন যে, ‘উরওয়াহ বলেছেনঃ সুওয়ায়বাকে আবূ লাহাব আযাদ করে দিয়েছিল।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৬৮)









সহীহুল বুখারী (5373)


مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ أَبِي مُوسٰى الأَشْعَرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَطْعِمُوا الْجَائِعَ وَعُودُوا الْمَرِيضَ وَفُكُّوا الْعَانِيَ قَالَ سُفْيَانُ وَالْعَانِي الأَسِيرُ.




আবূ মূসা আশ’আরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নাবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেনঃ তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়াও, রোগীর শুশ্রুষা কর এবং বন্দীকে মুক্ত কর। সুফ্ইয়ান বলেছেন, وَالْعَانِي অর্থ বন্দী। [৩০৪৬] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯ম খন্ড/৪৮৬৯)









সহীহুল বুখারী (5374)


يُوسُفُ بْنُ عِيسٰى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مَا شَبِعَ آلُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مِنْ طَعَامٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ حَتّٰى قُبِضَ.




আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবার তাঁর ইনতিকাল পর্যন্ত একনাগাড়ে তিনদিন পরিতৃপ্তির সঙ্গে আহার করতে পাননি। [মুসলিম পর্ব ৫৩/হাঃ ২৯৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৯৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৯ম/৪৮৭০)









সহীহুল বুখারী (5375)


وَعَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَصَابَنِي جَهْدٌ شَدِيدٌ فَلَقِيتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَاسْتَقْرَأْتُه“ آيَةً مِنْ كِتَابِ اللهِ فَدَخَلَ دَارَه“ وَفَتَحَهَا عَلَيَّ فَمَشَيْتُ غَيْرَ بَعِيدٍ فَخَرَرْتُ لِوَجْهِي مِنَ الْجَهْدِ وَالْجُوعِ فَإِذَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ عَلٰى رَأْسِي فَقَالَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَقُلْتُ لَبَّيْكَ رَسُوْلَ اللهِ وَسَعْدَيْكَ فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَقَامَنِي وَعَرَفَ الَّذِي بِي فَانْطَلَقَ بِي إِلٰى رَحْلِه„ فَأَمَرَ لِي بِعُسٍّ مِنْ لَبَنٍ فَشَرِبْتُ مِنْه“ ثُمَّ قَالَ عُدْ يَا أَبَا هِرٍّ فَعُدْتُ فَشَرِبْتُ ثُمَّ قَالَ عُدْ فَعُدْتُ فَشَرِبْتُ حَتّٰى اسْتَو‘ى بَطْنِي فَصَارَ كَالْقِدْحِ قَالَ فَلَقِيتُ عُمَرَ وَذَكَرْتُ لَهُ الَّذِي كَانَ مِنْ أَمْرِي وَقُلْتُ لَه“ فَوَلّٰى اللهُ ذ‘لِكَ مَنْ كَانَ أَحَقَّ بِه„ مِنْكَ يَا عُمَرُ وَاللهِ لَقَدْ اسْتَقْرَأْتُكَ الآيَةَ وَلأَنَا أَقْرَأُ لَهَا مِنْكَ قَالَ عُمَرُ وَاللهِ لأَنْ أَكُونَ أَدْخَلْتُكَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ يَكُونَ لِي مِثْلُ حُمْرِ النَّعَمِ.




আরেকটি বর্ণনায় আবূ হাযিম আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একদা আমি প্রচণ্ড ক্ষুধা অনুভব করি। তখন ‘উমার ইবনু খাত্তাবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং মহান আল্লাহ্‌র (কুরআনের) একটি আয়াতের পাঠ তার থেকে শুনতে চাইলাম। তিনি আয়াতটি পাঠ করে নিজ গৃহে প্রবেশ করলেন। এদিকে আমি কিছু দূর চলার পর ক্ষুধার প্রচন্ডতায় উপুড় হয়ে পড়ে গেলাম। একটু পরে দেখি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার মাথার কাছে দাড়ানো। তিনি বললেনঃ হে আবূ হুরায়রা! আমি লাব্বাইকা ওয়া সা’দাইকা’ (হে আল্লাহ্‌র রাসূল আমি হাযির, হে আল্লাহ্‌র রাসূল, আপনার সমীপে) বলে সাড়া দিলাম। তিনি আমার হাত ধরে তুললেন এবং আমার অবস্থা বুঝতে পারলেন। তিনি আমাকে বাড়ীতে নিয়ে গেলেন এবং আমাকে এক পেয়ালা দুধ দেওয়ার জন্য আদেশ করলেন। আমি কিছু পান করলাম। তিনি বললেনঃ আবূ হুরায়রা! আরো পান কর। আবার পান করলাম। তিনি আবার বললেনঃ আরো। আমি আবার পান করলাম। এমনি কি আমার পেট তীরের মত সমান হয়ে গেল। এরপর আমি ‘উমারের সাথে সাক্ষাৎ করে আমার অবস্থার কথা তাঁকে জানালাম এবং বললামঃ হে ‘উমার! আল্লাহ তা’আলা এমন একজন লোকের মাধ্যমে এর বন্দোবস্ত করেছেন যিনি এ ব্যাপারে তোমার চেয়ে অধিক উপযুক্ত। আল্লাহর কসম! আমি তোমার কাছে আয়াতটি পাঠ শুনতে চেয়েছি অথচ আমি তোমার চেয়ে তা ভাল পাঠ করতে পারি। ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ আল্লাহর কসম! তোমাকে আপ্যায়ন করতে পারলে তা আমার নিকট লাল বর্ণের উটের চেয়েও অধিক প্রিয় হত। [৬২৪৬, ৬৪৫২; মুসলিম ৩৬/১৩, হাঃ ২০২২, আহমাদ ১৬৩৩২] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৯৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৯ম/৪৮৭০)









সহীহুল বুখারী (5376)


عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ قَالَ الْوَلِيدُ بْنُ كَثِيرٍ أَخْبَرَنِي أَنَّه“ سَمِعَ وَهْبَ بْنَ كَيْسَانَ أَنَّه“ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ أَبِي سَلَمَةَ يَقُوْلُ كُنْتُ غُلاَمًا فِي حَجْرِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَتْ يَدِي تَطِيشُ فِي الصَّحْفَةِ فَقَالَ لِي رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَا غُلاَمُ سَمِّ اللهَ وَكُلْ بِيَمِينِكَ وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ فَمَا زَالَتْ تِلْكَ طِعْمَتِي بَعْدُ.




‘উমার ইবনু আবূ সালামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি ছোট ছেলে অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খিদমাতে ছিলাম। খাবার বাসনে আমার হাত ছুটাছুটি করত। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ হে বৎস! বিসমিল্লাহ বলে ডান হাতে আহার কর এবং তোমার কাছের থেকে খাও। এরপর থেকে আমি সব সময় এ নিয়মেই খাদ্য গ্রহন করতাম। যার যার কাছের থেকে আহার করা। [৫৩৭৭, ৫৩৭৮] (আধুনিক প্রকাশনী ৪৯৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৮৭১)









সহীহুল বুখারী (5377)


حَدَّثَنِي‎ ‎عَبْدُ‎ ‎الْعَزِيزِ‎ ‎بْنُ‎ ‎عَبْدِ‎ ‎اللَّهِ،‎ ‎قَالَ‎ ‎حَدَّثَنِي‎ ‎مُحَمَّدُ‎ ‎بْنُ‎ ‎جَعْفَرٍ،‎ ‎عَنْ‎ ‎مُحَمَّدِ‎ ‎بْنِ‎ ‎عَمْرِو‎ ‎بْنِ‎ ‎حَلْحَلَةَ‎ ‎الدِّيلِيِّ،‎ ‎عَنْ‎ ‎وَهْبِ‎ ‎بْنِ‎ ‎كَيْسَانَ‎ ‎أَبِي‎ ‎نُعَيْمٍ،‎ ‎عَنْ‎ ‎عُمَرَ‎ ‎بْنِ‎ ‎أَبِي‎ ‎سَلَمَةَ‎ ‎ـ‎ ‎وَهْوَ‎ ‎ابْنُ‎ ‎أُمِّ‎ ‎سَلَمَةَ‎ ‎ـ‎ ‎زَوْجِ‎ ‎النَّبِيِّ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‎ ‎قَالَ‎ ‎أَكَلْتُ‎ ‎يَوْمًا‎ ‎مَعَ‎ ‎رَسُولِ‎ ‎اللَّهِ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‎ ‎طَعَامًا‎ ‎فَجَعَلْتُ‎ ‎آكُلُ‎ ‎مِنْ‎ ‎نَوَاحِي‎ ‎الصَّحْفَةِ‎ ‎فَقَالَ‎ ‎لِي‎ ‎رَسُولُ‎ ‎اللَّهِ‎ ‎صلى‎ ‎الله‎ ‎عليه‎ ‎وسلم‎ ‎‏‎ "‎‏‎ ‎كُلْ‎ ‎مِمَّا‎ ‎يَلِيكَ‎ ‎‏‎"‎‏‏‎.‎‏




আবদুল ‘আযীয ইবনু ‘আবদুল্লাহ ‘উমার ইবনু আবূ সালামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ‎ হতে বর্ণিত, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ্‌র পুত্র ছিলেন। তিনি বলেনঃ একদিন আমি ‎রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে খাবার খেলাম। আমি পাত্রের সব দিক থেকে খেতে লাগলাম। ‎রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ নিজের কাছের দিক থেকে খাও। ‎(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৭২)









সহীহুল বুখারী (5378)


عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ أَبِي نُعَيْمٍ قَالَ أُتِيَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِطَعَامٍ وَمَعَه“ رَبِيبُه“ عُمَرُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ فَقَالَ سَمِّ اللهَ وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ.




আবূ নু’আইম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ‎ হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে একদা কিছু খাবার আনা হলো, তাঁর সঙ্গে ‎ছিলেন তার পোষ্য ‘উমার ইবনু আবূ সালামা। তিনি বললেনঃ বিসমিল্লাহ বল এবং নিজের কাছের দিক থেকে খাও। ‎(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৭৩)









সহীহুল বুখারী (5379)


قُتَيْبَةُ عَنْ مَالِكٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ أَنَّه“ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُوْلُ إِنَّ خَيَّاطًا دَعَا رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِطَعَامٍ صَنَعَه“ قَالَ أَنَسٌ فَذَهَبْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَرَأَيْتُه“ يَتَتَبَّعُ الدُّبَّاءَ مِنْ حَوَالَيْ الْقَصْعَةِ قَالَ فَلَمْ أَزَلْ أُحِبُّ الدُّبَّاءَ مِنْ يَوْمِئِذٍ.




আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)‎ হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার এক দর্জি কিছু খাদ্য প্রস্তুত করে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে দাওয়াত ‎করল। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ আমিও রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে গেলাম। খেতে বসে ‎দেখলাম, তিনি পাত্রের সবদিক হতে কদুর টুকরা খুঁজে খুঁজে বের করছেন, সেদিন হতে আমি কদু পছন্দ করতে ‎থাকি।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৭৪)









সহীহুল বুখারী (5380)


حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُحِبُّ التَّيَمُّنَ مَا اسْتَطَاعَ فِي طُهُورِهِ وَتَنَعُّلِهِ وَتَرَجُّلِهِ‏.‏ وَكَانَ قَالَ بِوَاسِطٍ قَبْلَ هَذَا فِي شَأْنِهِ كُلِّهِ‏.‏




আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পবিত্রতা অর্জন, জুতা পরিধান ‎এবং চুল আঁচড়ানোতে সাধ্যমত ডান দিক থেকে শুরু করতেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৭৫)