হাদীস বিএন


সহীহুল বুখারী





সহীহুল বুখারী (5541)


عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوسٰى عَنْ حَنْظَلَةَ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّه“ كَرِهَ أَنْ تُعْلَمَ الصُّورَةُ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ نَهٰى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ تُضْرَبَ تَابَعَه“ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا الْعَنْقَزِيُّ عَنْ حَنْظَلَةَ وَقَالَ تُضْرَبُ الصُّورَةُ.




ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি জানোয়ারের মুখে চিহ্ন লাগানোকে অপছন্দ করতেন। ইবনু ‘উমার আরো বলেছেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানোয়ারের মুখে মারতে নিষেধ করেছেন। আনকাযী (রহ.) হানযালী সূত্রে কুতাইবাহ (রহ.) এরকমই বর্ণনা করেন। তিনি বলনঃ تُضْرَبُ الصُّورَةُ অর্থাৎ চেহারায় মারতে নিষেধ করেছেন। আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৩০)









সহীহুল বুখারী (5542)


أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِأَخٍ لِي يُحَنِّكُه“ وَهُوَ فِي مِرْبَدٍ لَه“ فَرَأَيْتُه“ يَسِمُ شَاةً حَسِبْتُه“ قَالَ فِي آذَانِهَا.




আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি আমার এক ভাইকে নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গেলাম, যেন তিনি তাকে তাহনীক করেন অর্থাৎ খেজুর বা অন্য কিছু চিবিয়ে তার মুখে দেন। এ সময়ে তিনি তাঁর ঊট বাঁধার জায়গায় ছিলেন। তখন আমি তাঁকে দেখলাম তিনি একটি বক্‌রীর গায়ে চিহ্ন লাগাচ্ছেন। বর্ননাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি (হিশাম) বলেছেনঃ ‘বক্‌রীর কানে চিহ্ন লাগাচ্ছেন’।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৩১)









সহীহুল বুখারী (5543)


مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّه„ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّنَا نَلْقَى الْعَدُوَّ غَدًا وَلَيْسَ مَعَنَا مُدًى فَقَالَ مَا أَنْهَرَ الدَّمَ وَذُكِرَ اسْمُ اللهِ فَكُلُوه“ مَا لَمْ يَكُنْ سِنٌّ وَلاَ ظُفُرٌ وَسَأُحَدِّثُكُمْ عَنْ ذ‘لِكَ أَمَّا السِّنُّ فَعَظْمٌ وَأَمَّا الظُّفْرُ فَمُدَى الْحَبَشَةِ وَتَقَدَّمَ سَرَعَانُ النَّاسِ فَأَصَابُوا مِنَ الْغَنَائِمِ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي آخِرِ النَّاسِ فَنَصَبُوا قُدُورًا فَأَمَرَ بِهَا فَأُكْفِئَتْ وَقَسَمَ بَيْنَهُمْ وَعَدَلَ بَعِيرًا بِعَشْرِ شِيَاهٍ ثُمَّ نَدَّ بَعِيرٌ مِنْ أَوَائِلِ الْقَوْمِ وَلَمْ يَكُنْ مَعَهُمْ خَيْلٌ فَرَمَاه“ رَجُلٌ بِسَهْمٍ فَحَبَسَهُ اللهُ فَقَالَ إِنَّ لِهٰذِهِ الْبَهَائِمِ أَوَابِدَ كَأَوَابِدِ الْوَحْشِ فَمَا فَعَلَ مِنْهَا هٰذَا فَافْعَلُوا مِثْلَ هَذَا.




রাফি’ ইবনু খাদিজ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বললেন আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বললাম। আগামী দিন আমরা শত্রুর সম্মুখিন হব অথচ আমাদের সাথে কোন ছুরি নেই। তিনি বললেনঃ সতর্ক দৃষ্টি রাখ অথবা তিনি বলেছেন, জলদি কর। যে জিনিস রক্ত প্রবাহিত করে এবং যাতে আল্লাহ্‌র নাম নেয়া হয়, সেটি খাও। যতক্ষন না সেটি দাঁত কিংবা নখ হয়। এ ব্যাপারে তোমাদের জানাচ্ছি, দাঁত হল হাড়, আর নখ হল হাবশীদের ছুরি। দলের দ্রুতগতি লোকেরা আগে বেড়ে গেল এবং গনীমতের মালামাল লাভ করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন তাদের পিছনে। তারা ডেকচি চড়িয়ে দিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে তা উল্টে দেয়ার আদেশ দিলেন, অতঃপর সেগুলো উল্টে দেয়া হল। এরপর তিনি তাদের মধ্যে মালে গনীমত বন্টন করলেন এবং দশটি বক্‌রীকে একটি উটের সমান গন্য করলেন। দলের অগ্রভাগের নিকট থেকে একটি উট ছুটে গিয়েছিল। অথচ তাদের সঙ্গে কোন অশ্বারোহী ছিল না। এ অবস্থায় এক ব্যক্তি উটটির দিকে তীর ছুঁড়লে আল্লাহ উটটিকে থামিয়ে দিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ সকল চতুষ্পদ জীবের মধ্যে বন্য পশুর স্বভাব আছে। কাজেই, এগুলোর কোনটি যদি এমন করে, তাহলে তার সঙ্গে এরকমই ব্যাবহার করবে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৩২)









সহীহুল বুখারী (5544)


مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّنَافِسِيُّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ عَنْ جَدِّه„ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَنَدَّ بَعِيرٌ مِنَ الإِبِلِ قَالَ فَرَمَاه“ رَجُلٌ بِسَهْمٍ فَحَبَسَه“ قَالَ ثُمَّ قَالَ إِنَّ لَهَا أَوَابِدَ كَأَوَابِدِ الْوَحْشِ فَمَا غَلَبَكُمْ مِنْهَا فَاصْنَعُوا بِه„ هٰكَذَا قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّا نَكُونُ فِي الْمَغَازِي وَالأَسْفَارِ فَنُرِيدُ أَنْ نَذْبَحَ فَلاَ تَكُونُ مُدًى قَالَ أَرِنْ مَا نَهَرَ أَوْ أَنْهَرَ الدَّمَ وَذُكِرَ اسْمُ اللهِ فَكُلْ غَيْرَ السِّنِّ وَالظُّفُرِ فَإِنَّ السِّنَّ عَظْمٌ وَالظُّفُرَ مُدَى الْحَبَشَةِ.




রাফী’ ইবনু খাদীজ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন উটগুলোর মধ্য থেকে একটি উট পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, তখন এক ব্যক্তি সেটির দিকে তীর ছুঁড়লে আল্লাহ সেটিকে থামিয়ে দেন। তিনি বলেন, এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ সব পশুর মধ্যে বন্য পশুর স্বভাব আছে। সুতরাং তার মধ্যে কোনটি তোমাদের উপর বেয়াড়া হয়ে উঠলে তার সঙ্গে সেরকমই ব্যাবহার কর। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহ্‌র রসুল! আমরা অনেক সময় যুদ্ধ অভিযানে বা সফরে থাকি, যবহ্‌ করতে ইচ্ছে করি কিন্তু ছুরি থাকে না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আঘাত করো এমন বস্তু দিয়ে যা রক্ত ঝরায় অথবা তিনি বলেছেনঃ এমন বস্তু দিয়ে যা রক্ত ঝরায় এবং যার উপরে আল্লাহ্‌র নাম নেয়া হয়েছে সেটি খাও, তবে দাঁত ও নখ বাদে। কারন দাঁত হল হাড়, আর নখ হল হাবশীদের ছুরি।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৩৩)









সহীহুল বুখারী (5545)


مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ زُبَيْدٍ الإِيَامِيِّ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَوَّلَ مَا نَبْدَأُ بِه„ فِي يَوْمِنَا هٰذَا أَنْ نُصَلِّيَ ثُمَّ نَرْجِعَ فَنَنْحَرَ مَنْ فَعَلَه“ فَقَدْ أَصَابَ سُنَّتَنَا وَمَنْ ذَبَحَ قَبْلُ فَإِنَّمَا هُوَ لَحْمٌ قَدَّمَه“ لأَ÷هْلِه„ لَيْسَ مِنَ النُّسُكِ فِي شَيْءٍ فَقَامَ أَبُو بُرْدَةَ بْنُ نِيَارٍ وَقَدْ ذَبَحَ فَقَالَ إِنَّ عِنْدِي جَذَعَةً فَقَالَ اذْبَحْهَا وَلَنْ تَجْزِيَ عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ قَالَ مُطَرِّفٌ عَنْ عَامِرٍ عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَنْ ذَبَحَ بَعْدَ الصَّلاَةِ تَمَّ نُسُكُه“ وَأَصَابَ سُنَّةَ الْمُسْلِمِينَ.




বারা' (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাদের এ দিনে আমরা সর্বাগ্রে যে কাজটি করব তা হল সলাত আদায় করব। এরপর ফিরে এসে আমরা কুরবানী করব। যে ব্যক্তি এভাবে তা আদায় করল সে আমাদের নীতি অনুসরন করল। আর যে ব্যক্তি আগেই যবহ্‌ করল, তা এমন গোশ্‌তরুপে গন্য যা সে তার পরিবারের জন্য আগাম ব্যবস্থা করল। এটা কিছুতেই কুরবানী বলে গণ্য নয়। তখন আবু বুরদাহ ইবনু নিয়ার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) দাঁড়ালেন, আর তিনি (সলাতের) আগেই যবহ্‌ করেছিলেন। তিনি বললেনঃ আমার নিকট একটি বক্‌রীর বাচ্চা আছে। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাই যবহ্‌ কর। তবে তোমার পরে আর কারো জন্য তা যথেষ্ট হবে না। মুতাররাফ বারা' (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ননা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সলাতের পরে যবহ্‌ করল তার কুরবানী পূর্ণ হল এবং সে মুসলিমদের নীতি গ্রহণ করল।[৯৫১; মুসলিম ৩৫/১, হাঃ ১৯৬১, আহমাদ ১৬৪৮৫] আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৩৪)









সহীহুল বুখারী (5546)


مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَنْ ذَبَحَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَإِنَّمَا ذَبَحَ لِنَفْسِه„ وَمَنْ ذَبَحَ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَقَدْ تَمَّ نُسُكُه“ وَأَصَابَ سُنَّةَ الْمُسْلِمِينَ.




আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সলাত আদায়ের পুর্বে যবহ্‌ করল সে নিজের জন্যই যবহ্‌ করল। আর যে ব্যক্তি সলাত আদায়ের পরে যবহ্‌ করল, তার কুরবানী পূর্ণ হল এবং সে মুসলিমদের নীতি গ্রহণ করল।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৩৫)









সহীহুল বুখারী (5547)


مُعَاذُ بْنُ فَضَالَةَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيٰى عَنْ بَعْجَةَ الْجُهَنِيِّ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ قَسَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَصْحَابِه„ ضَحَايَا فَصَارَتْ لِعُقْبَةَ جَذَعَةٌ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَارَتْ لِي جَذَعَةٌ قَالَ ضَحِّ بِهَا.




উকবাহ ইবনু আমির জুহানী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীগণের মধ্যে কতগুলো কুরবানীর পশু বন্টন করলেন। তখন 'উকবাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- এর অংশে পড়ল একটি বকরীর বাচ্চা। 'উকবাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তখন আমি বললামঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার অংশে পড়েছে একটি বকরীর বাচ্চা। তিনি বললেনঃ সেটাই কুরবানী করে নাও।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৩৬)









সহীহুল বুখারী (5548)


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهَا وَحَاضَتْ بِسَرِفَ، قَبْلَ أَنْ تَدْخُلَ مَكَّةَ وَهْىَ تَبْكِي فَقَالَ ‏"‏ مَا لَكِ أَنَفِسْتِ ‏"‏‏.‏ قَالَتْ نَعَمْ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِنَّ هَذَا أَمْرٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ، فَاقْضِي مَا يَقْضِي الْحَاجُّ غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ ‏"‏‏.‏ فَلَمَّا كُنَّا بِمِنًى أُتِيتُ بِلَحْمِ بَقَرٍ، فَقُلْتُ مَا هَذَا قَالُوا ضَحَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَزْوَاجِهِ بِالْبَقَرِ‏.‏




আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন। অথচ মাক্কাহ প্রবেশের পুর্বেই 'সারিফ' নামক জায়গায় তার মাসিক শুরু হয়। তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার কী হয়েছে? মাসিক শুরু হয়েছে না কি? তিনি বললেনঃ হাঁ। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা তো এমন এক ব্যাপার যা আল্লাহ আদম (আঃ)- এর কন্যাদের উপর নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। কাজেই হাজীগণ যা করে থাকে, তুমিও তেমনি করে যাও, তবে তুমি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করবে না। এরপর আমরা যখন মিনায় ছিলাম, তখন আমার কাছে গরুর গোশ্‌ত নিয়ে আসা হল। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এটা কী? লোকজন উত্তর করলঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেছেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৩৭)









সহীহুল বুখারী (5549)


صَدَقَةُ أَخْبَرَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ النَّحْرِ مَنْ كَانَ ذَبَحَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَلْيُعِدْ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ هٰذَا يَوْمٌ يُشْتَهٰى فِيهِ اللَّحْمُ وَذَكَرَ جِيرَانَه“ وَعِنْدِي جَذَعَةٌ خَيْرٌ مِنْ شَاتَيْ لَحْمٍ فَرَخَّصَ لَه“ فِي ذ‘لِكَ فَلاَ أَدْرِي بَلَغَتْ الرُّخْصَةُ مَنْ سِوَاه“ أَمْ لاَ ثُمَّ انْكَفَأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلٰى كَبْشَيْنِ فَذَبَحَهُمَا وَقَامَ النَّاسُ إِلٰى غُنَيْمَةٍ فَتَوَزَّعُوهَا أَوْ قَالَ فَتَجَزَّعُوهَا.




আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরবানীর দিন নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সলাত আদায়ের পুর্বে যবহ্‌ করেছে, সে যেন পুনরায় যবহ্‌ করে। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এটাতো এমন দিন যাতে গোশ্‌ত খাওয়ার প্রতি ইচ্ছা জাগে। তখন সে তার প্রতিবেশীদের কথাও উল্লেখ করল এবং বললঃ আমার কাছে এমন একটি বক্‌রীর বাচ্চা আছে যেটি গোশ্‌তের ক্ষেত্রে দু'টি বক্‌রীর চেয়েও উত্তম। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে সেটিই কুরবানী করতে অনুমতি প্রদান করলেন। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ আমি জানি না, এ অনুমতি এ ব্যক্তি ছাড়া অন্যের জন্যেও প্রযোজ্য কিনা? এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু'টি ভেড়ার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং সে দু'টিকে যবহ্‌ করলেন। লোকজন ছোট একটি বক্‌রীর পালের দিকে উঠে গেল। এরপর ওগুলোকে বন্টন করল কিংবা তিনি বলেছেনঃ সেগুলোকে তারা যবহ্‌ করে টুকরো টুকরো করে কাটলো।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৩৮)









সহীহুল বুখারী (5550)


مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ ابْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ الزَّمَانَ قَدْ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِه„ يَوْمَ خَلَقَ اللهُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ثَلاَثٌ مُتَوَالِيَاتٌ ذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ وَرَجَبُ مُضَرَ الَّذِي بَيْنَ جُمَاد‘ى وَشَعْبَانَ أَيُّ شَهْرٍ هٰذَا قُلْنَا اللهُ وَرَسُوْلُه“ أَعْلَمُ فَسَكَتَ حَتّٰى ظَنَنَّا أَنَّه“ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِه„ قَالَ أَلَيْسَ ذَا الْحِجَّةِ قُلْنَا بَلٰى قَالَ أَيُّ بَلَدٍ هٰذَا قُلْنَا اللهُ وَرَسُوْلُه“ أَعْلَمُ فَسَكَتَ حَتّٰى ظَنَنَّا أَنَّه“ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِه„ قَالَ أَلَيْسَ الْبَلْدَةَ قُلْنَا بَلٰى قَالَ فَأَيُّ يَوْمٍ هٰذَا قُلْنَا اللهُ وَرَسُوْلُه“ أَعْلَمُ فَسَكَتَ حَتّٰى ظَنَنَّا أَنَّه“ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِه„ قَالَ أَلَيْسَ يَوْمَ النَّحْرِ قُلْنَا بَلٰى قَالَ فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ قَالَ مُحَمَّدٌ وَأَحْسِبُه“ قَالَ وَأَعْرَاضَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هٰذَا فِي بَلَدِكُمْ هٰذَا فِي شَهْرِكُمْ هٰذَا وَسَتَلْقَوْنَ رَبَّكُمْ فَيَسْأَلُكُمْ عَنْ أَعْمَالِكُمْ أَلاَ فَلاَ تَرْجِعُوا بَعْدِي ضُلاَّلاً يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ أَلاَ لِيُبَلِّغْ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ فَلَعَلَّ بَعْضَ مَنْ يَبْلُغُه“ أَنْ يَكُونَ أَوْعٰى لَه“ مِنْ بَعْضِ مَنْ سَمِعَه“ وَكَانَ مُحَمَّدٌ إِذَا ذَكَرَه“ قَالَ صَدَقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ أَلاَ هَلْ بَلَّغْتُ أَلاَ هَلْ بَلَّغْتُ.




আবূ বাক্‌রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, আবূ বাক্‌রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত যে, নবী বলেছেনঃ কাল আবর্তিত হয়েছে তার সেই অবস্থানের উপর, যেভাবে আল্লাহ আকাশসমুহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। বছর বার মাসের। তার মাঝে চারটি মাস সম্মানিত। তিনটি পরপরঃ যুল কা’দা, যুল-হাজ্জাহ্‌ ও মুহাররম। আরেকটি মুদার গোত্রের রজব মাস, সেটি জুমাদা ও শা’বানের মাঝখানে। (এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ) এটি কোন্‌ মাস? আমরা বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জানেন। তখন তিনি নীরব রইলেন। এমনকি আমরা ভাবলাম যে, তিনি এটিকে অন্য নামে নাম দিবেন। তিনি বললেনঃ এটি কি যুল-হাজ্জ মাস নয়? আমরা বললামঃ হাঁ। তিনি আবার বললেনঃ এটি কোন্‌ শহর? আমরা বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জানেন। তিনি নীরব রইলেন, এমনকি আমরা ভাবতে লাগলাম, হয়ত তিনি এটির অন্য কোন নাম দিবেন। তিনি বললেনঃ এটি কি মাক্কাহ নগর নয়? আমরা বললামঃ হাঁ। তিনি বললেনঃ এটি কোন দিন? আমরা বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জানেন। তিনি নীরব রইলেন। এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে, হয়ত তিনি এর নামের পরিবর্তে অন্য নাম দিবেন। তিনি বললেনঃ এটা কি কুরবানীর দিন নয়? আমরা উত্তর করলামঃ হাঁ। এরপর তিনি বললেনঃ তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-সম্পদ, বর্ননাকারী মুহাম্মাদ বলেন, সম্ভবতঃ আবু বাক্‌রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, “এবং তোমাদের ইয্‌যত তোমাদের পরস্পরের উপর এমন সম্মানিত, যেমন সম্মানিত তোমাদের এই দিন, তোমাদের এই শহর, তোমাদের এই মাস। শীঘ্রই তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাত করবে। তখন তিনি তোমাদের সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞেস করবেন। সাবধান! আমার পরে তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে ফিরে যেয়ো না। তোমাদের কেউ যেন কাউকে হত্যা না করে। মনে রেখ, উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থির ব্যক্তির কাছে (আমার বাণী) পৌঁছে দেয়। হয়ত যাদের কাছে পৌঁছানো হবে তাদের কেউ কেউ বর্তমানে যারা শুনেছে তাদের কারো চেয়ে বেশী সংরক্ষণকারী হবে। রাবী মুহাম্মাদ যখন এ হাদীস উল্লেখ করতেন, তখন বলতেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্যই বলেছেন। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ দেখ, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? দেখ, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? [৬৭](আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৩৯)









সহীহুল বুখারী (5551)


مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ عَنْ نَافِعٍ قَالَ كَانَ عَبْدُ اللهِ يَنْحَرُ فِي الْمَنْحَرِ قَالَ عُبَيْدُ اللهِ يَعْنِي مَنْحَرَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.




নাফি’ (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আব্দুল্লাহ (রাহিঃ) কুরবানী করার জায়গায় কুরবানী করতেন। উবাইদুল্লাহ বলেনঃ অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কুরবানী করার জায়গায়।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৪০)









সহীহুল বুখারী (5552)


يَحْيٰى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ كَثِيرِ بْنِ فَرْقَدٍ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ أَخْبَرَه“ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَذْبَحُ وَيَنْحَرُ بِالْمُصَلَّى.




ইবনু 'উমর (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদগাহে যবহ্‌ করতেন ও নহর করতেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৪১)









সহীহুল বুখারী (5553)


آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ صُهَيْبٍ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُضَحِّي بِكَبْشَيْنِ وَأَنَا أُضَحِّي بِكَبْشَيْنِ.




আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু'টি মেষ দিয়ে কুরবানী আদায় করতেন। আমিও কুরবানী আদায় করতাম দু'টি মেষ দিয়ে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৪২)









সহীহুল বুখারী (5554)


قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم انْكَفَأَ إِلٰى كَبْشَيْنِ أَقْرَنَيْنِ أَمْلَحَيْنِ فَذَبَحَهُمَا بِيَدِه„ تَابَعَه“ وُهَيْبٌ عَنْ أَيُّوبَ وَقَالَ إِسْمَاعِيلُ وَحَاتِمُ بْنُ وَرْدَانَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَنَسٍ.




আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু'টি সাদা কালো রং এর শিংওয়ালা ভেড়ার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং নিজ হাত দিয়ে সে দু'টিকে যবহ্‌ করলেন।
ইসমাঈল ও হাতিম ইবনু ওয়ারদান এ হাদীসটি আইউব, ইবনু সীরীন, আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সূত্রে বর্ননা করেছেন। আইয়্যূব থেকেও এরকমই বর্ননা করেছেন।[৫৫৫৩; মুসলিম ৩৫/৩, হাঃ ১৯৬৬, আহমাদ ১২১৪৮] আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৪৩)









সহীহুল বুখারী (5555)


عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ يَزِيدَ عَنْ أَبِي الْخَيْرِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَعْطَاه“ غَنَمًا يَقْسِمُهَا عَلٰى صَحَابَتِه„ ضَحَايَا فَبَقِيَ عَتُودٌ فَذَكَرَه“ لِلنَّبِيِّصلى الله عليه وسلم فَقَالَ ضَحِّ أَنْتَ بِهِ.




উকবাহ ইবনু আমির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরবানীর পশু হিসেবে সহাবীদের মধ্যে বন্টন করে দেয়ার জন্য তাকে এক পাল বকরী দান করেন। তাত্থেকে একটি বক্‌রীর বাচ্চা বাকী থেকে গেলে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তা ব্যক্ত করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ তুমি নিজে তা কুরবানী করে দাও।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৪৪)









সহীহুল বুখারী (5556)


مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا مُطَرِّفٌ عَنْ عَامِرٍ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ ضَحّٰى خَالٌ لِي يُقَالُ لَه“ أَبُو بُرْدَةَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَقَالَ لَه“ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم شَاتُكَ شَاةُ لَحْمٍ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ عِنْدِي دَاجِنًا جَذَعَةً مِنَ الْمَعَزِ قَالَ اذْبَحْهَا وَلَنْ تَصْلُحَ لِغَيْرِكَ ثُمَّ قَالَ مَنْ ذَبَحَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَإِنَّمَا يَذْبَحُ لِنَفْسِه„ وَمَنْ ذَبَحَ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَقَدْ تَمَّ نُسُكُه“ وَأَصَابَ سُنَّةَ الْمُسْلِمِينَ تَابَعَه“ عُبَيْدَةُ عَنْ الشَّعْبِيِّ وَإِبْرَاهِيمَ وَتَابَعَه“ وَكِيعٌ عَنْ حُرَيْثٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ وَقَالَ عَاصِمٌ وَدَاوُدُ عَنْ الشَّعْبِيِّ عِنْدِي عَنَاقُ لَبَنٍ وَقَالَ زُبَيْدٌ وَفِرَاسٌ عَنْ الشَّعْبِيِّ عِنْدِي جَذَعَةٌ وَقَالَ أَبُو الأَحْوَصِ حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ عَنَاقٌ جَذَعَةٌ وَقَالَ ابْنُ عَوْنٍ عَنَاقٌ جَذَعٌ عَنَاقُ لَبَنٍ.




বারা' (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বুরদাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নামীয় আমার এক মামা সলাত আদায়ের আগেই কুরবানী করেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেনঃ তোমার বক্‌রী কেবল গোশ্‌তের বক্‌রী হল। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার কাছে একটি ঘরে পোষা বক্‌রীর বাচ্চা আছে। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সেটাকে কুরবানী করে নাও। তবে তা তুমি ছাড়া অন্য কারো জন্য ঠিক হবে না। এরপর তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি সলাত আদায়ের আগে যবহ্‌ করেছে, সে নিজের জন্যই যবহ্‌ করেছে, আর যে ব্যক্তি সলাত আদায়ের পরে যবহ্‌ করেছে, সে তার কুরবানী পূর্ণ করেছে। আর সে মুসলিমদের নিয়ম নীতি অনুসারেই করেছে।

শা'বী ও ইবরাহীম 'উবাইদাহ (রাহিঃ) হতে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন। হুরাইস সূত্রে শা’বী থেকে ওয়াকী’ এরকমই বর্ণনা করেন। শা’বী থেকে আসিম ও দাউদ আমার নিকট পাঁচ মাসের দুধের বকরীর বাচ্চা আছে বলে বর্ননা করেছেন। আবুল আহওয়াস বলেনঃ মানসূর আমাদের কাছে দু’ মাসের দুধের বাচ্চা আছে বলে বর্ননা করেছেন। ইবনু আউন বলেছেনঃ দুধের বাচ্চা।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৪৫)









সহীহুল বুখারী (5557)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ ذَبَحَ أَبُو بُرْدَةَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَبْدِلْهَا ‏"‏‏.‏ قَالَ لَيْسَ عِنْدِي إِلاَّ جَذَعَةٌ ـ قَالَ شُعْبَةُ وَأَحْسِبُهُ قَالَ ـ هِيَ خَيْرٌ مِنْ مُسِنَّةٍ‏.‏ قَالَ ‏"‏ اجْعَلْهَا مَكَانَهَا، وَلَنْ تَجْزِيَ عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ ‏"‏‏.‏ وَقَالَ حَاتِمُ بْنُ وَرْدَانَ عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ عَنَاقٌ جَذَعَةٌ‏.‏




বারা' (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আবূ বুরদাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সলাত আদায়ের পূর্বে যবহ্‌ করেছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেনঃ এটার বদলে আরেকটি যবহ্‌ কর। তিনি বললেনঃ আমার কাছে একটি ছয়-সাত মাসের বকরীর বাচ্চা ছাড়া কিছুই নেই। শু’বাহ বলেন,আমার ধারণা তিনি আরো বলেছেন যে, বক্‌রীর বাচ্চাটি পূর্ণ এক বছরের বক্‌রীর চেয়ে উত্তম। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তার স্থলে এটিকেই যবহ্‌ কর। কিন্তু তোমার পরে অন্য কারো জন্য কখনো এ অনুমতি থাকবে না।

হাতিম ইবনু ওয়ারদান এ হাদীসটি আইউব, মুহাম্মাদ, আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে (দুধের বাচ্চা) শব্দে বর্ণনা করেছেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৪৬)









সহীহুল বুখারী (5558)


آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَنَسٍ قَالَ ضَحّٰى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ فَرَأَيْتُه“ وَاضِعًا قَدَمَه“ عَلٰى صِفَاحِهِمَا يُسَمِّي وَيُكَبِّرُ فَذَبَحَهُمَا بِيَدِهِ.




আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুটি সাদা-কালো রং এর ভেড়া দ্বারা কুরবানী করেছেন। তখন আমি তাঁকে দেখতে পেলাম তিনি ভেড়া দু’টোর পার্শ্বে পা রেখে ‘বিসমিল্লাহ ও আল্লহু আকবার’ পড়ে তাঁর নিজ হাতে সে দু’টোকে যবহ্‌ করেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৪৭)









সহীহুল বুখারী (5559)


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَرِفَ وَأَنَا أَبْكِي، فَقَالَ ‏"‏ مَا لَكِ أَنَفِسْتِ ‏"‏‏.‏ قُلْتُ نَعَمْ‏.‏ قَالَ ‏"‏ هَذَا أَمْرٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ اقْضِي مَا يَقْضِي الْحَاجُّ غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ ‏"‏‏.‏ وَضَحَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نِسَائِهِ بِالْبَقَرِ‏.‏




আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সারিফ নামক জায়গায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কাছে এলেন। সে সময় আমি কাঁদছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার কী হলো? তুমি কি ঋতুবতী হয়ে পড়েছ? আমি বললামঃ হাঁ। তিনি বললেনঃ এটাতো এমন এক ব্যাপার যা আল্লাহ আদামের কন্যাদের উপর নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। অতএব হাজীরা যে সকল কাজ আদায় করে তুমিও তা আদায় কর। তবে তুমি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করবে না। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৪৮)









সহীহুল বুখারী (5560)


حَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ أَخْبَرَنِي زُبَيْدٌ قَالَ سَمِعْتُ الشَّعْبِيَّ عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ فَقَالَ إِنَّ أَوَّلَ مَا نَبْدَأُ بِه„ مِنْ يَوْمِنَا هٰذَا أَنْ نُصَلِّيَ ثُمَّ نَرْجِعَ فَنَنْحَرَ فَمَنْ فَعَلَ هٰذَا فَقَدْ أَصَابَ سُنَّتَنَا وَمَنْ نَحَرَ فَإِنَّمَا هُوَ لَحْمٌ يُقَدِّمُه“ لِأَهْلِه„ لَيْسَ مِنَ النُّسُكِ فِي شَيْءٍ فَقَالَ أَبُو بُرْدَةَ يَا رَسُوْلَ اللهِ ذَبَحْتُ قَبْلَ أَنْ أُصَلِّيَ وَعِنْدِي جَذَعَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُسِنَّةٍ فَقَالَ اجْعَلْهَا مَكَانَهَا وَلَنْ تَجْزِيَ أَوْ تُوفِيَ عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ.




বারা' (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে খুত্‌বা দেয়ার সময় বলতে শুনেছিঃ আমাদের আজকের এ দিনে সর্বপ্রথম আমরা যে কাজটি করব তা হল সলাত আদায়। অতঃপর আমরা ফিরে গিয়ে কুরবানী করব। যে ব্যক্তি এভাবে করবে সে আমাদের সুন্নাতকে অনুসরণ করবে। আর যে ব্যক্তি পূর্বেই যবহ্‌ করল, তা তার পরিবার পরিজনের জন্য অগ্রিম গোশ্‌ত প্রেরণ, তা কিছুতেই কুরবানী নয়। তখন আবূ বুরদাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি সলাত আদায়ের পূর্বেই যবহ্‌ করে ফেলেছি এবং আমার কাছে একটি বক্‌রীর বাচ্চা আছে, যেটি পূর্ণ এক বছরের বকরীর চেয়ে উৎকৃষ্ট। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি সেটির জায়গায় এটিকে কুরবানী কর। তোমার পরে এ নিয়ম আর কারো জন্য নয় কিংবা তিনি বলেছেনঃ আদায়যোগ্য হবে না।আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৪৯)