সহীহুল বুখারী
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُ عَلَى أُمِّ حَرَامٍ بِنْتِ مِلْحَانَ، وَكَانَتْ تَحْتَ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، فَدَخَلَ عَلَيْهَا يَوْمًا فَأَطْعَمَتْهُ، وَجَعَلَتْ تَفْلِي رَأْسَهُ، فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ اسْتَيْقَظَ وَهْوَ يَضْحَكُ.
আনাস ইব্নু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রায়ই উম্মু হারাম বিনত মিলহান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর গৃহে যেতেন। আর সে ছিল ‘উবাদাহ ইব্নু সামিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর স্ত্রী। একদা তিনি তার কাছে এলেন। সে তাকে খানা খাওয়াল। তারপর তারঁ মাথার উঁকুন বাছতে শুরু করল। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমিয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর হেসে হেসে জেগে উঠলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩০)
قَالَتْ فَقُلْتُ مَا يُضْحِكُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي عُرِضُوا عَلَىَّ، غُزَاةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ، يَرْكَبُونَ ثَبَجَ هَذَا الْبَحْرِ، مُلُوكًا عَلَى الأَسِرَّةِ أَوْ مِثْلَ الْمُلُوكِ عَلَى الأَسِرَّةِ ". شَكَّ إِسْحَاقُ. قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ، فَدَعَا لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ وَضَعَ رَأْسَهُ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ وَهْوَ يَضْحَكُ. فَقُلْتُ مَا يُضْحِكُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي عُرِضُوا عَلَىَّ، غُزَاةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ ". كَمَا قَالَ فِي الأُولَى. قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ. قَالَ " أَنْتِ مِنَ الأَوَّلِينَ ". فَرَكِبَتِ الْبَحْرَ فِي زَمَانِ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ فَصُرِعَتْ عَنْ دَابَّتِهَا حِينَ خَرَجَتْ مِنَ الْبَحْرِ، فَهَلَكَتْ.
উম্মু হারাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, উম্মু হারাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কেন হাসলেন? তিনি বললেনঃ আমার উম্মাতের একদল লোককে আমার কাছে পেশ করা হয়েছে। যারা আল্লাহ্র রাস্তায় যুদ্ধরত সাগরের মধ্যে জাহাজের ওপর আরোহণ করে বাদশাহ্র সিংহাসনে অথবা বাদশাহ্দের মত তারা সিংহাসনে বসে আছে। ইসহাক রাবী সন্দেহ করেছেন। উম্মু হারাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল। আপনি আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন,তিনি যেন আমাকে তাদের দলে অর্ন্তভুক্ত করে দেন। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জন্য দু‘আ করলেন। এরপর আবার তিনি মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর আবার হেসে হেসে জেগে উঠলেন। আমি বললাম, আপনি হাসলেন কেন হে রাসূলুল্লাহ? তিনি বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে লিপ্ত আমার একদল উম্মাতকে আমার কাছে পেশ করা হয়েছে। আগের মত এ দল সম্পর্কেও বললেন। উম্মু হারাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল। আপনি আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন, তিনি যেন আমাকে এ দলভুক্ত করে দেন। তিনি বললেনঃ তুমি প্রথম দলের অন্তভূক্ত। উম্মু হারাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মু‘আবীয়াহ ইব্নু সুফ্ইয়ান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর আমলে সামুদ্রিক জাহাজে উঠেন এবং সমুদ্র থেকে পেরিয়ে আসার সময় আপন সাওয়ারী থেকে মাটিতে পড়ে গিয়ে মারা যান।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩০)
سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي خَارِجَةُ بْنُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَنَّ أُمَّ الْعَلاَءِ امْرَأَةً مِنْ الأَنْصَارِ بَايَعَتْ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّهُمْ اقْتَسَمُوا الْمُهَاجِرِينَ قُرْعَةً قَالَتْ فَطَارَ لَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ وَأَنْزَلْنَاهُ فِي أَبْيَاتِنَا فَوَجِعَ وَجَعَهُ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ فَلَمَّا تُوُفِّيَ غُسِّلَ وَكُفِّنَ فِي أَثْوَابِهِ دَخَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْكَ أَبَا السَّائِبِ فَشَهَادَتِي عَلَيْكَ لَقَدْ أَكْرَمَكَ اللهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا يُدْرِيكِ أَنَّ اللهَ أَكْرَمَهُ فَقُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللهِ فَمَنْ يُكْرِمُهُ اللهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَمَّا هُوَ فَوَاللهِ لَقَدْ جَاءَهُ الْيَقِينُ وَاللهِ إِنِّي لأرْجُو لَهُ الْخَيْرَ وَ وَاللهِ مَا أَدْرِيْ وَأَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَاذَا يُفْعَلُ بِي فَقَالَتْ وَاللهِ لاَ أُزَكِّي بَعْدَهُ أَحَدًا أَبَدًا.
খারিজাহ ইব্নু যায়দ ইব্নু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, যে, উম্মুল আলা নামক এক আনসারী মহিলা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বাই‘আত গ্রহণ করেন। তিনি তাকেঁ জানান যে, আনসারগণ লটারির সাহায্যে মুহাজিরগণকে ভাগ করে নিয়েছিল। আমাদের ভাগে আসলেন উসমান ইব্নু মাযউন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। আমরা তাকে আমাদের ঘরের মেহমান করে নিলাম। এরপর তিনি এমন এক ব্যথায় আক্রান্ত হলেন যে, সে ব্যথায় তার মৃত্যু হল। মৃত্যুর পর তাঁকে গোসল দেয়া হল। তাঁর কাপড় দিয়েই তাকেঁ কাফন পরানো হল। এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এলেন। উম্মুল আলা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি বললাম, তোমার ওপর আল্লাহ্র রহমত হোক, হে আবূ সাইব! আমার সাক্ষ্য তোমার বেলায় এটাই যে আল্লাহ্ তোমাকে সম্মানিত করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি কী করে জানলে যে আল্লাহ্ তাকে সম্মানিত করেছেন? আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনার প্রতি আমার পিতা কুরবান হোক! তাহলে কাকে আল্লাহ্ সম্মানিত করবেন? তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ্র কসম! তাঁর ব্যাপার তো হল, তার মৃত্যু হয়ে গেছে। আল্লাহ্র কসম! তার জন্য আমি কল্যাণই আশা করি। আল্লাহ্র কসম! আমি আল্লাহ্র রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানি না, আমার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে? তখন উম্মুল আলা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমি আগামীতে কখনো কারো পবিত্র হওয়ার সাক্ষ্য দেব না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩১)
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ بِهَذَا وَقَالَ مَا أَدْرِي مَا يُفْعَلُ بِهِ قَالَتْ وَأَحْزَنَنِي فَنِمْتُ فَرَأَيْتُ لِعُثْمَانَ عَيْنًا تَجْرِي فَأَخْبَرْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ذَلِكَ عَمَلُهُ.
যুহরী (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, যুহরী (রাহিঃ) থেকে এ হাদীসে বলা হয়েছে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি জানি না, তার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে? উম্মুল আলা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমি এতে চিন্তিত হয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। তখন আমি স্বপ্নে ‘উসমান ইবনু মাযউন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর জন্য প্রবহমান ঝর্ণা দেখতে পেলাম। আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ সম্পর্কে জানালাম। তিনি বললেনঃ এটা তার ‘আমল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩২)
يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ الأَنْصَارِيَّ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَفُرْسَانِهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ الرُّؤْيَا مِنْ اللهِ وَالْحُلْمُ مِنْ الشَّيْطَانِ فَإِذَا حَلَمَ أَحَدُكُمْ الْحُلُمَ يَكْرَهُهُ فَلْيَبْصُقْ عَنْ يَسَارِهِ وَلْيَسْتَعِذْ بِاللهِ مِنْهُ فَلَنْ يَضُرَّهُ.
আবূ ক্বাতাদাহ আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহাবী ও অশ্বারোহী যোদ্ধা ছিলেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ভালো স্বপ্ন আল্লাহ্র তরফ থেকে এবং খারাপ স্বপ্ন শয়তানের তরফ থেকে হয়ে থাকে। যখন তোমাদের কেউ খারাপ স্বপ্ন দেখে যা তার কাছে অপছন্দনীয় মনে হয়, তখন সে যেন তার বামদিকে থু থু নিক্ষেপ করে এবং এ স্বপ্ন থেকে আল্লাহ্র আশ্রয় চায়। সেক্ষেত্রে এ স্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করবে না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৩)
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ أُتِيتُ بِقَدَحِ لَبَنٍ، فَشَرِبْتُ مِنْهُ، حَتَّى إِنِّي لأَرَى الرِّيَّ يَخْرُجُ مِنْ أَظْفَارِي، ثُمَّ أَعْطَيْتُ فَضْلِي ". يَعْنِي عُمَرَ. قَالُوا فَمَا أَوَّلْتَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الْعِلْمَ ".
ইবনু ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আমি একবার ঘুমিয়ে ছিলাম। আমার কাছে একটি দুধের পেয়ালা পেশ করা হল, আমি তা থেকে পরিতৃপ্ত হয়ে পান করলাম। তৃপ্তির চিহ্ন আমার নখ দিয়ে প্রকাশ পেতে লাগল। অতঃপর বাকী অংশ অবশিষ্টাংশ ‘উমারকে দিলাম। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে রাসূলুল্লাহ! আপনি এর কী ব্যাখ্যা দিলেন। তিনি বললেনঃ ইল্ম।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৪)
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ أُتِيتُ بِقَدَحِ لَبَنٍ، فَشَرِبْتُ مِنْهُ، حَتَّى إِنِّي لأَرَى الرِّيَّ يَخْرُجُ مِنْ أَطْرَافِي، فَأَعْطَيْتُ فَضْلِي عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ ". فَقَالَ مَنْ حَوْلَهُ فَمَا أَوَّلْتَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الْعِلْمَ ".
আবদুল্লাহ্ ইব্নু 'উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ একবার আমি ঘুমিয়েছিলাম। আমার কাছে দুধের একটি পেয়ালা হাজির করা হল। আমি পরিতৃপ্ত হয়ে তা থেকে পান করলাম। এমনকি তৃপ্তির চিহ্ন আমার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছিল। অতঃপর বাকী অংশ ‘উমার ইবনু খাত্তাবকে দিলাম। তাঁর পাশের লোকজন জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এর কী ব্যাখ্যা দিচ্ছেন হে আল্লাহ্র রাসূল? তিনি বললেনঃ ইল্ম। [১৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৫)
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ صَالِحٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو أُمَامَةَ بْنُ سَهْلٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَمَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُ النَّاسَ يُعْرَضُونَ عَلَيَّ وَعَلَيْهِمْ قُمُصٌ مِنْهَا مَا يَبْلُغُ الثَّدْيَ وَمِنْهَا مَا يَبْلُغُ دُونَ ذَلِكَ وَمَرَّ عَلَيَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعَلَيْهِ قَمِيصٌ يَجُرُّهُ قَالُوا مَا أَوَّلْتَهُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الدِّينَ.
আবূ সা‘ঈদ খুদ্রী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি একবার ঘুমিয়েছিলাম। একদল লোককে স্বপ্নে দেখলাম, তাদেরকে আমার কাছে আনা হচ্ছে। তাদের গায়ে ছিল জামা। কারো কারো জামা স্তন পর্যন্ত, আর কারো কারো তার নিচ পর্যন্ত।‘উমর ইব্নু খাত্তাব আমার নিকট দিয়ে গেল। তার গায়ের জামা মাটিতে হেঁচড়ে চলছিল। সহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কী ব্যাখ্যা দিলেন। তিনি বললেনঃ দ্বীন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৬)
سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي أَبُو أُمَامَةَ بْنُ سَهْلٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُ النَّاسَ عُرِضُوا عَلَيَّ وَعَلَيْهِمْ قُمُصٌ فَمِنْهَا مَا يَبْلُغُ الثَّدْيَ وَمِنْهَا مَا يَبْلُغُ دُونَ ذَلِكَ وَعُرِضَ عَلَيَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعَلَيْهِ قَمِيصٌ يَجْتَرُّهُ قَالُوا فَمَا أَوَّلْتَهُ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ الدِّينَ.
আবূ সা‘ঈদ খুদ্রী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ আমি একসময় ঘুমিয়ে ছিলাম। আমি দেখলাম, আমার কাছে একদল লোককে আনা হল, তাদের গায়ে ছিল জামা। কারো কারো জামা স্তন পযন্ত। আর কারো কারো এর নিচ পর্যন্ত। আর ‘উমার ইব্নু খাত্তাবকে এমন অবস্থায় আমার কাছে আনা হল যে, সে তার গায়ের জামা হেঁচড়িয়ে চলছিল। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি এর কী ব্যাখ্যা দিলেন। তিনি বললেনঃ দ্বীন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৭)
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجُعْفِيُّ حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ قَالَ قَيْسُ بْنُ عُبَادٍ كُنْتُ فِي حَلْقَةٍ فِيهَا سَعْدُ بْنُ مَالِكٍ وَابْنُ عُمَرَ فَمَرَّ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلاَمٍ فَقَالُوا هَذَا رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَقُلْتُ لَهُ إِنَّهُمْ قَالُوا كَذَا وَكَذَا قَالَ سُبْحَانَ اللهِ مَا كَانَ يَنْبَغِي لَهُمْ أَنْ يَقُولُوا مَا لَيْسَ لَهُمْ بِهِ عِلْمٌ إِنَّمَا رَأَيْتُ كَأَنَّمَا عَمُودٌ وُضِعَ فِي رَوْضَةٍ خَضْرَاءَ فَنُصِبَ فِيهَا وَفِي رَأْسِهَا عُرْوَةٌ وَفِي أَسْفَلِهَا مِنْصَفٌ وَالْمِنْصَفُ الْوَصِيفُ فَقِيلَ ارْقَهْ فَرَقِيتُهُ حَتَّى أَخَذْتُ بِالْعُرْوَةِ فَقَصَصْتُهَا عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَمُوتُ عَبْدُ اللهِ وَهُوَ آخِذٌ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى.
কায়স ইব্নু ‘উবায়দ (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক মজলিসে ছিলাম। যেখানে সা‘দ ইব্নু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং ইব্নু 'উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও ছিলেন। এ সময় ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু সালাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকেরা বলল, ঐ লোকটি জান্নাতবাসীদের একজন। আমি তাঁকে বললাম,লোকেরা এমন এমন বলছে। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ্! তাদের জন্য উচিত নয় মতামত ব্যক্ত করা, যে বিষয় সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই। আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম, যেন একটা স্তম্ভ একটি সবুজ বাগানে রাখা হয়েছে এবং সেটা যেখানে রাখা হয়েছে তার উপর ভাগে একটি রশি ছিল। আর নিচের দিকে ছিল একজন খাদিম। ‘মিনসাফ’ অর্থ খাদিম। বলা হল, এ স্তম্ভ বেয়ে উপরে উঠ। আমি উপরের দিকে উঠে রশিটি ধরে ফেললাম। এরপর এ স্বপ্ন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বর্ণনা করেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেনঃ ‘আবদুল্লাহ্ মযবূত রশি ধরা অবস্থায় মারা যাবে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৮)
عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أُرِيتُكِ فِي الْمَنَامِ مَرَّتَيْنِ إِذَا رَجُلٌ يَحْمِلُكِ فِي سَرَقَةٍ مِنْ حَرِيرٍ فَيَقُولُ هَذِهِ امْرَأَتُكَ فَأَكْشِفُهَا فَإِذَا هِيَ أَنْتِ فَأَقُولُ إِنْ يَكُنْ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللهِ يُمْضِهِ
আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাকে আমায় দু’বার স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। আমি দেখলাম, এক ব্যক্তি তোমাকে রেশমী এক টুকরা কাপড়ে জড়িয়ে বয়ে নিয়ে আসছে আর বলছে ইনি আপনার স্ত্রী। আমি তার নিকাব উম্মোচন করে দেখতে পাই যে ঐ মহিলাটি তুমিই এবং আমি বলেছি, যদি এটা আল্লাহ্র তরফ থেকে হয়ে থাকে তা হলে তিনি তা সত্যে পরিণত করবেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৯)
مُحَمَّدٌ أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أُرِيتُكِ قَبْلَ أَنْ أَتَزَوَّجَكِ مَرَّتَيْنِ رَأَيْتُ الْمَلَكَ يَحْمِلُكِ فِي سَرَقَةٍ مِنْ حَرِيرٍ فَقُلْتُ لَهُ اكْشِفْ فَكَشَفَ فَإِذَا هِيَ أَنْتِ فَقُلْتُ إِنْ يَكُنْ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللهِ يُمْضِهِ ثُمَّ أُرِيتُكِ يَحْمِلُكِ فِي سَرَقَةٍ مِنْ حَرِيرٍ فَقُلْتُ اكْشِفْ فَكَشَفَ فَإِذَا هِيَ أَنْتِ فَقُلْتُ إِنْ يَكُ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللهِ يُمْضِهِ.
আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাকে (‘আয়িশাহকে) বিয়ে করার আগে দু’বার আমাকে দেখানো হয়েছে। আমি দেখেছি, একজন ফেরেশ্তা তোমাকে রেশমী এক টুক্রা কাপড়ে জড়িয়ে বয়ে নিয়ে আসছে। আমি বললাম, আপনি নিকাব সরিয়ে দিন। যখন সে নিকার সরিয়ে দিল তখন আমি দেখতে পেলাম যে, সেই মহিলা তুমিই। আমি তখন বললাম, এটা যদি আল্লাহ্র তরফ থেকে হয়ে থাকে তাহলে তিনি তা সত্যে পরিণত করবেন। এরপর আবার আমাকে দেখানো হল যে, ফেরেশতা তোমাকে রেশমী এক টুকরা কাপড়ে জড়িয়ে বহন করে নিয়ে আসছে। আমি বললাম, আপনি (তার নিকাব) সরিয়ে দিন। সে তা সরিয়ে দিলে আমি দেখতে পাই যে, সেই মহিলা তুমিই। তখন আমি বললাম : এটা যদি আল্লাহ্র তরফ থেকে হয়ে থাকে তাহলে তিনি সত্যে পরিণত করবেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪০)
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " بُعِثْتُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ، وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ، وَبَيْنَا أَنَا نَائِمٌ أُتِيتُ بِمَفَاتِيحِ خَزَائِنِ الأَرْضِ، فَوُضِعَتْ فِي يَدِي ". قَالَ مُحَمَّدٌ وَبَلَغَنِي أَنَّ جَوَامِعَ الْكَلِمِ أَنَّ اللَّهَ يَجْمَعُ الأُمُورَ الْكَثِيرَةَ الَّتِي كَانَتْ تُكْتَبُ فِي الْكُتُبِ قَبْلَهُ فِي الأَمْرِ الْوَاحِدِ وَالأَمْرَيْنِ. أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ.
আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ বিস্তারিত অর্থবহ বাণী দিয়ে পাঠানো হয়েছে এবং ভীতি সঞ্চারকারী প্রভাব দিয়ে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। একবার আমি ঘুমিয়েছিলাম। আমার কাছে পৃথিবীর ভান্ডারসমূহের চাবি পেশ করে আমার সামনে দেয়া হল। (আবূ ‘আবদুল্লাহ্) মুহাম্মাদ বুখারী (রাহিঃ) বলেন, আমার কাছে এ কথা পৌঁছেছে যে, ‘সংক্ষিপ্ত অথচ বিশদ অর্থবহ বাণী’-এর অর্থ হল, আল্লাহ্র অনেক বিষয় যা আগের কিতাবসমূহে লেখা হত একটি অথবা দু’টি বিষয়ে বিন্যস্ত করে দেন। অথবা এর অর্থ তেমনি কিছু। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪১)
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا أَزْهَرُ عَنْ ابْنِ عَوْنٍ ح و حَدَّثَنِي خَلِيفَةُ حَدَّثَنَا مُعَاذٌ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ عُبَادٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلاَمٍ قَالَ رَأَيْتُ كَأَنِّي فِي رَوْضَةٍ وَوَسَطَ الرَّوْضَةِ عَمُودٌ فِي أَعْلَى الْعَمُودِ عُرْوَةٌ فَقِيلَ لِي ارْقَهْ قُلْتُ لاَ أَسْتَطِيعُ فَأَتَانِي وَصِيفٌ فَرَفَعَ ثِيَابِي فَرَقِيتُ فَاسْتَمْسَكْتُ بِالْعُرْوَةِ فَانْتَبَهْتُ وَأَنَا مُسْتَمْسِكٌ بِهَا فَقَصَصْتُهَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ تِلْكَ الرَّوْضَةُ رَوْضَةُ الإِسْلاَمِ وَذَلِكَ الْعَمُودُ عَمُودُ الإِسْلاَمِ وَتِلْكَ الْعُرْوَةُ عُرْوَةُ الْوُثْقَى لاَ تَزَالُ مُسْتَمْسِكًا بِالإِسْلاَمِ حَتَّى تَمُوتَ
আবদুল্লাহ্ ইব্নু সালাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি একটি বাগানে আছি। বাগানের মাঝে একটি স্তম্ভ। স্তম্ভের শিরোভাগে একটি হাতল। তখন আমাকে বলা হল, উপরের দিকে উঠ। আমি বললাম, পারছি না। তখন আমার কাছে একজন খাদিম আসল এবং আমার কাপড় গুটিয়ে দিল। আমি উপরের দিকে উঠতে উঠতে হাতলটি ধরে ফেললাম। হাতলটি ধরে থাকা অবস্থায় আমি জেগে গেলাম। তারপর এ স্বপ্ন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বললেনঃ ঐ বাগান ইসলামের বাগান, ঐ স্তম্ভ ইসলামের স্তম্ভ, আর ঐ হাতল হল মযবুত হাতল। তুমি মৃত্যু অবধি ইসলামকে শক্তভাবে ধরে থাকবে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪২)
مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّ فِي يَدِي سَرَقَةً مِنْ حَرِيرٍ لاَ أَهْوِي بِهَا إِلَى مَكَانٍ فِي الْجَنَّةِ إِلاَّ طَارَتْ بِي إِلَيْهِ فَقَصَصْتُهَا عَلَى حَفْصَةَ.
ইব্নু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পাই, আমার হাতে যেন রেশমী এক টুক্রা কাপড়। জান্নাতের যেখানেই তা আমি নিক্ষেপ করি তা আমাকে সেখানেই উড়িয়ে নিয়ে যায়। এ স্বপ্ন আমি হাফসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৩০ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪৩ প্রথমাংশ)
فَقَصَّتْهَا حَفْصَةُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ أَخَاكِ رَجُلٌ صَالِحٌ أَوْ قَالَ إِنَّ عَبْدَ اللهِ رَجُلٌ صَالِحٌ.
হাফসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, আর হাফসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেনঃ তোমার ভাই একজন নেককার লোক। অথবা বললেনঃ ‘আবদুল্লাহ্ তো একজন নেককার লোক। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৩০ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪৩ শেষাংশ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَبَّاحٍ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، سَمِعْتُ عَوْفًا، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم" إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ لَمْ تَكَدْ تَكْذِبُ رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ، وَرُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ. " قَالَ مُحَمَّدٌ وَأَنَا أَقُولُ هَذِهِ قَالَ وَكَانَ يُقَالُ الرُّؤْيَا ثَلاَثٌ حَدِيثُ النَّفْسِ، وَتَخْوِيفُ الشَّيْطَانِ، وَبُشْرَى مِنَ اللَّهِ، فَمَنْ رَأَى شَيْئًا يَكْرَهُهُ فَلاَ يَقُصُّهُ عَلَى أَحَدٍ، وَلْيَقُمْ فَلْيُصَلِّ. قَالَ وَكَانَ يُكْرَهُ الْغُلُّ فِي النَّوْمِ، وَكَانَ يُعْجِبُهُمُ الْقَيْدُ، وَيُقَالُ الْقَيْدُ ثَبَاتٌ فِي الدِّينِ. وَرَوَى قَتَادَةُ وَيُونُسُ وَهِشَامٌ وَأَبُو هِلاَلٍ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَدْرَجَهُ بَعْضُهُمْ كُلَّهُ فِي الْحَدِيثِ، وَحَدِيثُ عَوْفٍ أَبْيَنُ. وَقَالَ يُونُسُ لاَ أَحْسِبُهُ إِلاَّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْقَيْدِ. قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ لاَ تَكُونُ الأَغْلاَلُ إِلاَّ فِي الأَعْنَاقِ.
আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন ক্বিয়ামাত নিকটবর্তী হবে তখন মু’মিনের স্বপ্ন খুব কমই অবাস্তবায়িত থাকবে। আর মু’মিনের স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। আর নবুয়তের কোন কিছুই অসত্য হতে পারে না। রাবী মুহাম্মাদ (রাহিঃ) বলেন, আমি এমন বলছি। তিনি বলেন, এ কথা বলা হয় যে, স্বপ্ন তিন প্রকার, মনের কল্পনা, শয়তানের তরফ থেকে ভয় দেখানো এবং আল্লাহ্র তরফ হতে সুসংবাদ। তাই যদি কেউ অপছন্দনীয় কিছু দেখে তবে সে যেন তা কারো কাছে বর্ণনা না করে। বরং উঠে যেন (নফল) সালাত আদায় করে নেয়। রাবী বলেন, স্বপ্নে শিকল দেখা অপছন্দনীয় মনে করা হত এবং পায়ে বেড়ি দেখাকে তারা পছন্দ করতেন। বলা হত, পায়ে বেড়ি দেখার ব্যাখ্যা হলো দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা।
ক্বাতাদাহ, ইউনুস, হিশাম ও আবূ হিলাল (রাহিঃ) আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে উক্ত হাদীসকে বর্ণনা করেছেন। আর কেউ কেউ এসবকে হাদীসের মধ্যে অর্ন্তভুক্ত করেছেন। (অপরদিকে) আউফের বর্ণনা কৃত হাদীস সুস্পষ্ট। ইউনুস (রাহিঃ) বলেছেন, আমি বন্ধনের ব্যাখ্যাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তরফ থেকেই মনে করি। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ [ইমামু বুখারী (রাহিঃ) বলেন, শিকল গলাতেই বাঁধা হয়।[মুসলিম পর্ব ৪২/হাঃ ২২৬৩, আহমাদ ১০৫৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪৪)
عَبْدَانُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أُمِّ الْعَلاَءِ وَهِيَ امْرَأَةٌ مِنْ نِسَائِهِمْ بَايَعَتْ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ طَارَ لَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ فِي السُّكْنَى حِينَ اقْتَرَعَتْ الأَنْصَارُ عَلَى سُكْنَى الْمُهَاجِرِينَ فَاشْتَكَى فَمَرَّضْنَاهُ حَتَّى تُوُفِّيَ ثُمَّ جَعَلْنَاهُ فِي أَثْوَابِهِ فَدَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْكَ أَبَا السَّائِبِ فَشَهَادَتِي عَلَيْكَ لَقَدْ أَكْرَمَكَ اللهُ قَالَ وَمَا يُدْرِيكِ قُلْتُ لاَ أَدْرِي وَاللهِ قَالَ أَمَّا هُوَ فَقَدْ جَاءَهُ الْيَقِينُ إِنِّي لأرْجُو لَهُ الْخَيْرَ مِنْ اللهِ وَاللهِ مَا أَدْرِي وَأَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا يُفْعَلُ بِي وَلاَ بِكُمْ قَالَتْ أُمُّ الْعَلاَءِ فَوَاللهِ لاَ أُزَكِّي أَحَدًا بَعْدَهُ قَالَتْ وَرَأَيْتُ لِعُثْمَانَ فِي النَّوْمِ عَيْنًا تَجْرِي فَجِئْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ ذَاكِ عَمَلُهُ يَجْرِي لَهُ.
উম্মুল ‘আলা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, যিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতে বায়‘আত করেছিলেন তিনি তাদের একজন। তিনি বলেন, যখন মুহাজিরদের বাসস্থান নির্ধারণের জন্য আনসারগণ লটারী দিলেন, তখন আমাদের ঘরে বসবাসের জন্য ‘উসমান ইব্নু মাযউন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাদের ভাগে পড়েন। তিনি রোগগ্রস্ত হয়ে পড়লে আমরা তাঁর সেবা-শুশ্রূষা করি। অবশেষে তিনি মারা যান। এরপর আমরা তাকে তার কাপড় দিয়েই কাফন পরিয়ে দেই। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের ঘরে আসলেন। আমি বললাম, হে আবূ সাঈব! তোমার ওপর আল্লাহ্র রহমত হোক। তোমার বেলায় আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ্ তোমাকে সম্মানিত করেছেন। তিনি বললেনঃতুমি কী করে জানলে? আমি বললাম, আল্লাহ্র কসম! আমি জানি না। তিনি বললেনঃতার তো মৃত্যু হয়ে গেছে, আমি তার জন্য আল্লাহ্র পক্ষ থেকে কল্যাণই আশা করছি। আল্লাহ্র কসম! আমি আল্লাহ্র রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানি না যে, আমার সঙ্গে এবং তোমাদের সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে? উম্মুল আলা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমি আর কক্ষনো কারো পবিত্রতার প্রত্যয়ন করব না। উম্মুল আলা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি স্বপ্নে ‘উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য প্রবাহিত ঝর্ণা দেখেছি। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)–এর কাছে এসে সেটা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃএটা তাঁর ‘আমাল’ তার জন্য জারি থাকবে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪৫)
يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ كَثِيرٍ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا صَخْرُ بْنُ جُوَيْرِيَةَ حَدَّثَنَا نَافِعٌ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ حَدَّثَهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَا أَنَا عَلَى بِئْرٍ أَنْزِعُ مِنْهَا إِذْ جَاءَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فَأَخَذَ أَبُو بَكْرٍ الدَّلْوَ فَنَزَعَ ذَنُوبًا أَوْ ذَنُوبَيْنِ وَفِي نَزْعِهِ ضَعْفٌ فَغَفَرَ اللهُ لَهُ ثُمَّ أَخَذَهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مِنْ يَدِ أَبِي بَكْرٍ فَاسْتَحَالَتْ فِي يَدِهِ غَرْبًا فَلَمْ أَرَ عَبْقَرِيًّا مِنْ النَّاسِ يَفْرِي فَرْيَهُ حَتَّى ضَرَبَ النَّاسُ بِعَطَنٍ.
ইব্নু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ একবার (আমি স্বপ্নে দেখলাম) আমি একটি কূপের কাছে বসে কূপ থেকে পানি তুলছি। এমন সময় আমার কাছে আবূ বাক্র ও ‘উমার আসল। আবূ বাক্র বালতিটি হাতে নিয়ে এক বা দু’বালতি পানি উঠাল। আর তার উঠানোতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করুন। এরপর আবূ বাক্রের হাত থেকে ‘উমার তা নিল। তার হাতে বালতিটি বেশ বড় হয়ে গেল। আমি কোন শক্তিশালী লোককে ‘উমারের মত এত অভিজ্ঞ কর্মঠ দেখিনি। যার ফলে লোকেরা তাদের পরিতৃপ্ত উটগুলো নিয়ে বাসস্থানে পৌঁছে গেল। [১৫০](আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪৬)
أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رُؤْيَا النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ قَالَ رَأَيْتُ النَّاسَ اجْتَمَعُوا فَقَامَ أَبُو بَكْرٍ فَنَزَعَ ذَنُوبًا أَوْ ذَنُوبَيْنِ وَفِي نَزْعِهِ ضَعْفٌ وَاللهُ يَغْفِرُ لَهُ ثُمَّ قَامَ ابْنُ الْخَطَّابِ فَاسْتَحَالَتْ غَرْبًا فَمَا رَأَيْتُ مِنْ النَّاسِ مَنْ يَفْرِي فَرْيَهُ حَتَّى ضَرَبَ النَّاسُ بِعَطَنٍ.
সালিমের পিতা [‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত, তিনি আবূ বাক্র ও ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্বপ্ন বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি লোকদেরকে জড় হতে দেখলাম। তখন আবূ বাক্র দাঁড়িয়ে এক বা দু’বালতি পানি উঠালো। আর তার উঠানোতে কিছু দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করুন। এরপর ইব্নুল খাত্তাব দাঁড়াল। আর তার হাতে বালতিটি বেশ বড় হয়ে গেল। আমি লোকদের মধ্যে ‘উমারের মত এতটা অভিজ্ঞ কর্মঠ কাউকে দেখিনি। যার ফলে লোকেরা তাদের পরিতৃপ্ত উটগুলো নিয়ে বাসস্থানে পৌঁছে গেল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪৭)
