সহীহুল বুখারী
فَجَاءَ الأَشْعَثُ وَعَبْدُ اللهِ يُحَدِّثُهُمْ فَقَالَ فِيَّ نَزَلَتْ وَفِي رَجُلٍ خَاصَمْتُهُ فِي بِئْرٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَلَكَ بَيِّنَةٌ قُلْتُ لاَ قَالَ فَلْيَحْلِفْ قُلْتُ إِذًا يَحْلِفُ فَنَزَلَتْ إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللهِ الْآيَةَ.
আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস'ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, যখন ‘আবদুল্লাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাদেরকে হাদীস বর্ণনা করছিলেন, তখন আশ’আস ইব্নু কায়স (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এলেন এবং বললেন যে এ আয়াতটি আমি ও অন্য একটি লোক সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। একটি কূয়া নিয়ে যার সাথে আমি বিবাদ করেছিলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার কাছে প্রমাণ আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে সে কসম করুক। আমি বললাম, সে কসম করবেই। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। “যারা আল্লাহ্র সাথে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথকে নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করে…” -(সূরা আল ‘ইমরান ৩/৭৭)। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৯৪)
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ زَيْنَبَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ أَخْبَرَتْهُ عَنْ أُمِّهَا أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم جَلَبَةَ خِصَامٍ عِنْدَ بَابِهِ فَخَرَجَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ وَإِنَّهُ يَأْتِينِي الْخَصْمُ فَلَعَلَّ بَعْضًا أَنْ يَكُونَ أَبْلَغَ مِنْ بَعْضٍ أَقْضِي لَهُ بِذَلِكَ وَأَحْسِبُ أَنَّهُ صَادِقٌ فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ بِحَقِّ مُسْلِمٍ فَإِنَّمَا هِيَ قِطْعَةٌ مِنْ النَّارِ فَلْيَأْخُذْهَا أَوْ لِيَدَعْهَا.
উম্মু সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দরজার পাশে ঝগড়া বিবাদের আওয়াজ শুনতে পেলেন। তাই তিনি তাদের কাছে বেরিয়ে গেলেন এবং বললেনঃ আমি একজন মানুষ মাত্র। ঝগড়া বিবাদ আমার কাছে নিয়ে আসা হয়। হয়ত তাদের কেউ অন্যের চেয়ে পটুভাষী। আমি তার ভিত্তিতে ফায়সালা করি এবং আমি মনে করি সে সত্যবাদী। সুতরাং আমি যদি কাউকে অন্য মুসলিমের হক দেয়ার ফায়সালা করি তা (তার জন্য) এক টুকরা আগুন ছাড়া আর কিছু নয়। কাজেই সে তা গ্রহণ করুক কিংবা ছেড়ে দিক। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৫)
ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ بَلَغَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِهِ أَعْتَقَ غُلاَمًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرَهُ فَبَاعَهُ بِثَمَانِ مِائَةِ دِرْهَمٍ ثُمَّ أَرْسَلَ بِثَمَنِهِ إِلَيْهِ.
জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে খবর পৌঁছল যে, তাঁর সাহাবীদের একজন তার গোলামকে এই শর্তে আযাদ করলেন যে মৃত্যুর পর তা কার্যকর হবে। অথচ তাঁর এছাড়া কোন সম্পদ ছিল না। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গোলামটিকে আটশ’ দিরহামে বিক্রি করলেন এবং তার মূল্য তার কাছে পাঠিয়ে দিলেন। [২১৪১; মুসলিম ১২/১৩, হাঃ ৯৯৭, আহমাদ ১৪২৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৬)
مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ دِينَارٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ بَعَثَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَعْثًا وَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ فَطُعِنَ فِي إِمَارَتِهِ وَقَالَ إِنْ تَطْعَنُوا فِي إِمَارَتِهِ فَقَدْ كُنْتُمْ تَطْعَنُونَ فِي إِمَارَةِ أَبِيهِ مِنْ قَبْلِهِ وَايْمُ اللهِ إِنْ كَانَ لَخَلِيقًا لِلْإِمْرَةِ وَإِنْ كَانَ لَمِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ وَإِنَّ هَذَا لَمِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ بَعْدَهُ.
ইব্নু 'উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেনাদল পাঠালেন এবং উসামাহ ইব্নু যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -কে তাঁদের আমীর নিয়োগ করলেন। কিন্তু তার আমীর নিযুক্তির সমালোচনা করা হল। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা যদি তার আমীর নিযুক্তির সমালোচনা কর, তোমরা এর আগে তার পিতার আমীর নিযুক্তিরও সমালোচনা করেছিলে। আল্লাহ্র কসম! সে ইমারাতের যোগ্য ছিল। আর সে ছিল আমার কাছে মানুষদের মাঝে সবচেয়ে প্রিয়। আর তারপরে এ হল আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয়। (১৭৯)(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৭)
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي مُلَيْكَةَ يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَبْغَضُ الرِّجَالِ إِلَى اللهِ الأَلَدُّ الْخَصِمُ
আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্র কাছে সর্বাধিক ঘৃণ্য ঐ ব্যক্তি, যে সব সময় ঝগড়ায় লিপ্ত থাকে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৯৮)
مَحْمُودٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَالِدًا ح و حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللهِ نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ إِلَى بَنِي جَذِيمَةَ فَلَمْ يُحْسِنُوا أَنْ يَقُولُوا أَسْلَمْنَا فَقَالُوا صَبَأْنَا صَبَأْنَا فَجَعَلَ خَالِدٌ يَقْتُلُ وَيَأْسِرُ وَدَفَعَ إِلَى كُلِّ رَجُلٍ مِنَّا أَسِيرَهُ فَأَمَرَ كُلَّ رَجُلٍ مِنَّا أَنْ يَقْتُلَ أَسِيرَهُ فَقُلْتُ وَاللهِ لاَ أَقْتُلُ أَسِيرِي وَلاَ يَقْتُلُ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِي أَسِيرَهُ فَذَكَرْنَا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ اللهُمَّ إِنِّي أَبْرَأُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ مَرَّتَيْنِ.
ইব্নু 'উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খালিদ ইব্নু ওয়ালীদকে জাযীমা গোত্রের প্রতি পাঠালেন। কিন্তু “আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি” কথাটি তারা উত্তমরূপে বলতে পারল না। বরং বলল, ‘সাবানা’ ‘সাবানা’ (আমরা পুরাতন ধর্ম ত্যাগ করে নতুন ধর্ম গ্রহণ করেছি)। এরপর খালিদ তাদেরকে হত্যা ও বন্দী করতে শুরু করলেন। আর আমাদের প্রত্যেকের কাছে বন্দী হাওয়ালা করলেন এবং প্রত্যেককে নিজ বন্দীকে হত্যা করার আদেশ দিলেন। আমি বললাম, আল্লাহ্র কসম! আমি আমার বন্দীকে হত্যা করব না এবং আমার সাথীদের কেউ তার বন্দীকে হত্যা করবে না। অতঃপর এ ব্যাপারটি আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্! খালিদ ইব্নু ওয়ালীদ যা করেছে তা থেকে আমি আপনার কাছে অব্যাহতি চাচ্ছি। এ কথাটি তিনি দু’বার বললেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৯৯)
أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ الْمَدَنِيُّ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ قَالَ كَانَ قِتَالٌ بَيْنَ بَنِي عَمْرٍو فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ أَتَاهُمْ يُصْلِحُ بَيْنَهُمْ فَلَمَّا حَضَرَتْ صَلاَةُ الْعَصْرِ فَأَذَّنَ بِلاَلٌ وَأَقَامَ وَأَمَرَ أَبَا بَكْرٍ فَتَقَدَّمَ وَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ فِي الصَّلاَةِ فَشَقَّ النَّاسَ حَتَّى قَامَ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ فَتَقَدَّمَ فِي الصَّفِّ الَّذِي يَلِيهِ قَالَ وَصَفَّحَ الْقَوْمُ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلاَةِ لَمْ يَلْتَفِتْ حَتَّى يَفْرُغَ فَلَمَّا رَأَى التَّصْفِيحَ لاَ يُمْسَكُ عَلَيْهِ الْتَفَتَ فَرَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهُ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ أَنْ امْضِهْ وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ هَكَذَا وَلَبِثَ أَبُو بَكْرٍ هُنَيَّةً يَحْمَدُ اللهَ عَلَى قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ مَشَى الْقَهْقَرَى فَلَمَّا رَأَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ تَقَدَّمَ فَصَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالنَّاسِ فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ قَالَ يَا أَبَا بَكْرٍ مَا مَنَعَكَ إِذْ أَوْمَأْتُ إِلَيْكَ أَنْ لاَ تَكُونَ مَضَيْتَ قَالَ لَمْ يَكُنْ لِابْنِ أَبِي قُحَافَةَ أَنْ يَؤُمَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ لِلْقَوْمِ إِذَا رَابَكُمْ أَمْرٌ فَلْيُسَبِّحْ الرِّجَالُ وَلْيُصَفِّحْ النِّسَاءُ.
সাহ্ল ইব্নু সা’দ সা’ঈদী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বানী আমের গোত্রে সংঘর্ষ বিরাজিত ছিল। এ খবর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছল। যুহরের সালাত আদায় করে তিনি তাদের মাঝে মীগোশতা করার উদ্দেশে আসলেন। (আসার সময়) তিনি বিলালকে বললেনঃ যদি সালাতের সময় হয়ে যায় আর আমি না আসি, তাহলে আবূ বকরকে বলবে, লোকদের নিয়ে সে যেন সালাত আদায় করে। যখন ‘আসরের সময় উপস্থিত হল, বিলাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আযান দিলেন ইক্বামাত দিলেন। অতঃপর আবূ বকরকে সালাত আদায় করতে বললেন। আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সামনে এগোলেন। আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সালাতের মাঝেই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং মানুষকে ফাঁক করে আবূ বকরের পশ্চাতে দাঁড়ালেন। অর্থাৎ আবূ বকরের লাগোয়া কাতার পর্যন্ত এগোলেন। রাবী বলেন, লোকেরা হাততালি দিল। তিনি আরও বলেন যে, আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সালাত শুরু করলে, সালাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এদিক-ওদিক তাকাতেন না। তিনি যখন দেখলেন হাততালি দেয়া বন্ধ হচ্ছে না তখন তিনি তাকালেন এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর পশ্চাতে দেখতে পেলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইঈিতে তাকে সালাত পুরা করতে বললেন এবং যেভাবে আছেন সে ভাবেই থাকতে বললেন। আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশের কারণে আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর পশ্চাতে সরে আসলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এটা দেখলেন তখন এগিয়ে গেলেন এবং লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। যখন তাঁর সালাত শেষ হল, তখন তিনি আবূ বকরকে বললেনঃ আমি যখন তোমাকে ইঙ্গিত দিলাম, তখন তোমায় কিসে বাধা দিল যে, তুমি সালাত পূর্ণ করলে না? তিনি বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইমামত করার সাহস ইবনু আবূ কুহাফার কক্ষনো নেই। অতঃপর তিনি লোকদের বললেনঃ সালাতে তোমাদের কোন বিঘ্ন সৃষ্টি হলে পুরুষরা ‘সুবহানাল্লাহ্’ বলবে আর নারীরা হাতের উপর হাত মারবে। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (বুখারী) (রহ.) বলেন, يَا بِلالٌ مَرَّاَبَابكْرٍ কথাটি হাম্মাদ ছাড়া অন্য কোন রাবী বলেনি। [৬৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭০০)
مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ أَبُو ثَابِتٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ السَّبَّاقِ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ بَعَثَ إِلَيَّ أَبُو بَكْرٍ لِمَقْتَلِ أَهْلِ الْيَمَامَةِ وَعِنْدَهُ عُمَرُ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ عُمَرَ أَتَانِي فَقَالَ إِنَّ الْقَتْلَ قَدْ اسْتَحَرَّ يَوْمَ الْيَمَامَةِ بِقُرَّاءِ الْقُرْآنِ وَإِنِّي أَخْشَى أَنْ يَسْتَحِرَّ الْقَتْلُ بِقُرَّاءِ الْقُرْآنِ فِي الْمَوَاطِنِ كُلِّهَا فَيَذْهَبَ قُرْآنٌ كَثِيرٌ وَإِنِّي أَرَى أَنْ تَأْمُرَ بِجَمْعِ الْقُرْآنِ قُلْتُ كَيْفَ أَفْعَلُ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عُمَرُ هُوَ وَاللهِ خَيْرٌ فَلَمْ يَزَلْ عُمَرُ يُرَاجِعُنِي فِي ذَلِكَ حَتَّى شَرَحَ اللهُ صَدْرِي لِلَّذِي شَرَحَ لَهُ صَدْرَ عُمَرَ وَرَأَيْتُ فِي ذَلِكَ الَّذِي رَأَى عُمَرُ قَالَ زَيْدٌ قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَإِنَّكَ رَجُلٌ شَابٌّ عَاقِلٌ لاَ نَتَّهِمُكَ قَدْ كُنْتَ تَكْتُبُ الْوَحْيَ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَتَتَبَّعْ الْقُرْآنَ فَاجْمَعْهُ قَالَ زَيْدٌ فَوَاللهِ لَوْ كَلَّفَنِي نَقْلَ جَبَلٍ مِنْ الْجِبَالِ مَا كَانَ بِأَثْقَلَ عَلَيَّ مِمَّا كَلَّفَنِي مِنْ جَمْعِ الْقُرْآنِ قُلْتُ كَيْفَ تَفْعَلاَنِ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو بَكْرٍ هُوَ وَاللهِ خَيْرٌ فَلَمْ يَزَلْ يَحُثُّ مُرَاجَعَتِي حَتَّى شَرَحَ اللهُ صَدْرِي لِلَّذِي شَرَحَ اللهُ لَهُ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَرَأَيْتُ فِي ذَلِكَ الَّذِي رَأَيَا فَتَتَبَّعْتُ الْقُرْآنَ أَجْمَعُهُ مِنْ الْعُسُبِ وَالرِّقَاعِ وَاللِّخَافِ وَصُدُورِ الرِّجَالِ فَوَجَدْتُ فِي آخِرِ سُورَةِ التَّوْبَةِ {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ} إِلَى آخِرِهَا مَعَ خُزَيْمَةَ أَوْ أَبِي خُزَيْمَةَ فَأَلْحَقْتُهَا فِي سُورَتِهَا وَكَانَتْ الصُّحُفُ عِنْدَ أَبِي بَكْرٍ حَيَاتَهُ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ عِنْدَ عُمَرَ حَيَاتَهُ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللهُ ثُمَّ عِنْدَ حَفْصَةَ بِنْتِ عُمَرَ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ اللِّخَافُ يَعْنِي الْخَزَفَ.
যায়দ ইব্নু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদদের কারণে আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমার নিকট লোক পাঠালেন তখন তাঁর কাছে ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও উপস্থিত ছিলেন। আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমার কাছে এসে বলেছেন যে, কুরআনের বহু হাফিয ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। এজন্য আমার ভয় হচ্ছে যে, আরো অনেক জায়গায় যদি কুরআনের হাফিযগণ এমন ব্যাপক হারে শহীদ হন তাহলে কুরআনের বহু অংশ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সুতরাং আমি মনে করি যে, আপনি কুরআন সংকলনের আদেশ দিন। আমি বললাম, কী করে আমি এমন কাজ করব যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেন নি। ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আল্লাহর কসম! এটা একটা উত্তম কাজ। ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে এ বিষয়ে বারবার বলছিলেন। এক পর্যায়ে আল্লাহ্ তা‘আলা আমার অন্তর খুলে দিলেন। যে বিষয়ে তিনি ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর অন্তর খুলে দিয়েছিলেন এবং আমিও এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করলাম যা ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) পোষণ করেছিলেন। যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন যে, এরপর আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, তুমি একজন বুদ্ধিমান যুবক, তোমার সম্পর্কে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। তুমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়াহী লিখতে। কাজেই তুমি কুরআন খোঁজ কর এবং তা একত্রিত কর। যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আল্লাহর শপথ! কুরআন খোঁজ করে একত্রিত করার নির্দেশ না দিয়ে যদি আমাকে পাহাড়গুলোর একটিকে স্থানান্তর করার দায়িত্ব অর্পণ করতো, তাও আমার জন্য ভারী মনে হত না। আমি বললাম, কী করে আপনারা দু’জন এমন একটি কাজ করবেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেন নি । আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আল্লাহর শপথ! এটি একটি উত্তম কাজ। আমি আমার কথা বার বার বলতে থাকলাম। এক পর্যায়ে আল্লাহ্ তা‘আলা আমার অন্তর খুলে দিলেন, যে বিষয়ে আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর অন্তর খুলে দিয়েছিলেন। এবং তাঁরা দু’জন যা ভাল মনে করলেন আমিও তা ভাল মনে করলাম। কাজেই আমি কুরআন খোঁজ করতে শুরু করলাম। খেজুরের ডাল, পাতলা চামড়ার টুক্রা, সাদা পাথর ও মানুষের অন্তর থেকে আমি কুরআনকে জমা করলাম। সূরা তাওবার শেষ অংশ لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছেন.....(সূরাহ আত্-তাওবাহ ৯/১২৮) থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত এ অংশটুকু খুযাইমাহ কিংবা আবূ খুযাইমাহর কাছে পেলাম। আমি তা সূরার সঙ্গে জুড়ে দিলাম। কুরআনের এ সংকলিত সহীফাগুলো আবূ বকরের জীবনকাল পর্যন্ত তাঁর কাছে ছিল। অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে ওফাত দিলেন। পরে ‘উমারের জীবনকাল পর্যন্ত তাঁর নিকট ছিল। অতঃপর আল্লাহ তার ওফাত দিলেন, অতঃপর হাফসাহ বিন্ত ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কাছে ছিল। মুহাম্মাদ ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ্ বলেন, হাদীসে ব্যবহৃত اللِّخَفُ অর্থ হল চাড়ি (মাটির বড় গামলা)। [২৮০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭০১)
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي لَيْلَى ح حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ أَبِي لَيْلَى بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْلٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ هُوَ وَرِجَالٌ مِنْ كُبَرَاءِ قَوْمِهِ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ سَهْلٍ وَمُحَيِّصَةَ خَرَجَا إِلَى خَيْبَرَ مِنْ جَهْدٍ أَصَابَهُمْ فَأُخْبِرَ مُحَيِّصَةُ أَنَّ عَبْدَ اللهِ قُتِلَ وَطُرِحَ فِي فَقِيرٍ أَوْ عَيْنٍ فَأَتَى يَهُودَ فَقَالَ أَنْتُمْ وَاللهِ قَتَلْتُمُوهُ قَالُوا مَا قَتَلْنَاهُ وَاللهِ ثُمَّ أَقْبَلَ حَتَّى قَدِمَ عَلَى قَوْمِهِ فَذَكَرَ لَهُمْ وَأَقْبَلَ هُوَ وَأَخُوهُ حُوَيِّصَةُ وَهُوَ أَكْبَرُ مِنْهُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ فَذَهَبَ لِيَتَكَلَّمَ وَهُوَ الَّذِي كَانَ بِخَيْبَرَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِمُحَيِّصَةَ كَبِّرْ كَبِّرْ يُرِيدُ السِّنَّ فَتَكَلَّمَ حُوَيِّصَةُ ثُمَّ تَكَلَّمَ مُحَيِّصَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِمَّا أَنْ يَدُوا صَاحِبَكُمْ وَإِمَّا أَنْ يُؤْذِنُوا بِحَرْبٍ فَكَتَبَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْهِمْ بِهِ فَكُتِبَ مَا قَتَلْنَاهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لِحُوَيِّصَةَ وَمُحَيِّصَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ أَتَحْلِفُونَ وَتَسْتَحِقُّونَ دَمَ صَاحِبِكُمْ قَالُوا لاَ قَالَ أَفَتَحْلِفُ لَكُمْ يَهُودُ قَالُوا لَيْسُوا بِمُسْلِمِينَ فَوَدَاهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عِنْدِهِ مِائَةَ نَاقَةٍ حَتَّى أُدْخِلَتْ الدَّارَ قَالَ سَهْلٌ فَرَكَضَتْنِي مِنْهَا نَاقَةٌ.
সাহ্ল ইব্নু হাসমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি ও তাঁর কওমের কতক বড় বড় ব্যক্তি বর্ণনা করেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইব্নু সাহ্ল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও মুহাইয়াসা ক্ষুধার্ত হয়ে খায়বারে আসেন। একদা মুহাইয়াসা জানতে পারেন যে, ‘আবদুল্লাহ্ নিহত হয়েছে এবং তার লাশ একটি গর্তে অথবা কূপে ফেলে দেয়া হয়েছে। তখন তিনি ইয়াহূদীদের কাছে এসে বললেন, আল্লাহ্র শপথ! নিঃসন্দেহে তোমরাই তাকে মেরে ফেলেছ। তারা বলল, আল্লাহ্র কসম করে বলছি, আমরা তাকে হত্যা করিনি। তারপর তিনি তার কওমের কাছ এসে এ ঘটনা বর্ণনা করলেন। পরে তিনি, তার বড় ভাই হওয়াইয়াসা এবং ‘আবদুর রহমান ইব্নু সাহ্ল আসলেন। মুহাইয়াসা যিনি খায়বারে ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এ ঘটনা বলার জন্য এগিয়ে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ বড়কে কথা বলতে দাও, বড়কে কথা বলতে দাও। এ দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য করলেন বয়সে বড়কে। তখন হুওয়াইয়াসা প্রথমে ঘটনা বর্ণনা করলেন। এরপর কথা বললেন, মুহাইয়াসা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হয় তারা তোমাদের মৃত সাথীর রক্তপণ আদায় করবে, না হয় তাদের সঙ্গে যুদ্ধের ঘোষণা দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কাছে এ ব্যাপারে পত্র লিখলেন। জবাবে লেখা হল যে, আমরা তাকে হত্যা করিনি। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুওয়াইয়াসা, মুহাইয়াসা ও ‘আবদুর রহমানকে বললেন, তোমরা কি কসম করে বলতে পারবে? তাহলে তোমরা তোমাদের সঙ্গীর রক্তপণের অধিকারী হবে। তারা বলল, না। তিনি বললেন, তাহলে ইয়াহূদীরা কি তোমাদের সামনে কসম করবে? তাঁরা বলল, এরা তো মুসলমান না। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের পক্ষ হতে একশ’ উট রক্তপণ বাবদ আদায় করে দিলেন। অবশেষে উটগুলোকে ঘরে ঢুকানো হল। সাহ্ল বলেন, ওগুলো থেকে একটা উট আমাকে লাথি মেরেছিল।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭০২)
حَدَّثَنَا آدَمُ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ قَالاَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللهِ فَقَامَ خَصْمُهُ فَقَالَ صَدَقَ فَاقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللهِ فَقَالَ الأَعْرَابِيُّ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا فَزَنَى بِامْرَأَتِهِ فَقَالُوا لِي عَلَى ابْنِكَ الرَّجْمُ فَفَدَيْتُ ابْنِي مِنْهُ بِمِائَةٍ مِنْ الْغَنَمِ وَوَلِيدَةٍ ثُمَّ سَأَلْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ فَقَالُوا إِنَّمَا عَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لأقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللهِ أَمَّا الْوَلِيدَةُ وَالْغَنَمُ فَرَدٌّ عَلَيْكَ وَعَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ وَأَمَّا أَنْتَ يَا أُنَيْسُ لِرَجُلٍ فَاغْدُ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا فَارْجُمْهَا فَغَدَا عَلَيْهَا أُنَيْسٌ فَرَجَمَهَا.
আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইব্নু খালিদ জুহানী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তাঁরা বর্ণনা করেন যে, এক বেদুঈন এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের মাঝে আল্লাহ্র কিতাব মোতাবেক ফায়সালা করুন। তখন তার বিবাদী পক্ষ দাঁড়াল এবং বলল, সে ঠিকই বলেছে। আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহ্র কিতাব মোতাবেক ফায়সালা করুন। তারপর বেদুঈন বলল যে, আমার ছেলে এ লোকের মজুর হিসেবে কাজ করত। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করে ফেলেছে। লোকেরা আমাকে বলল, তোমার ছেলেকে রজম করা হবে। আমি একশ’ বক্রী ও একটি দাসী দিয়ে আমার ছেলেকে তার থেকে মুক্ত করেছি। পরে আমি এ বিষয়ে আলেমদের জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বললেন, তোমার পুত্রকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশ থেকে বহিষ্কারের শাস্তি ভোগ করতে হবে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি অবশ্যই অবশ্যই আল্লাহ্র কিতাব মোতাবেক তোমাদের মাঝে ফায়সালা করব। দাসী ও বকরীগুলো তোমার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে। আর তোমার ছেলেকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশ থেকে বহিষ্কারের শাস্তি ভোগ করতে হবে। হে উনায়স! তুমি কাল এ লোকের স্ত্রীর নিকট যাও অতঃপর তাকে রজম কর। অতঃপর উনায়স পর দিবস সেই স্ত্রী লোকের কাছে গিয়ে তাকে রজম করল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭০৩)
حَدَّثَنَا آدَمُ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ قَالاَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللهِ فَقَامَ خَصْمُهُ فَقَالَ صَدَقَ فَاقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللهِ فَقَالَ الأَعْرَابِيُّ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا فَزَنَى بِامْرَأَتِهِ فَقَالُوا لِي عَلَى ابْنِكَ الرَّجْمُ فَفَدَيْتُ ابْنِي مِنْهُ بِمِائَةٍ مِنْ الْغَنَمِ وَوَلِيدَةٍ ثُمَّ سَأَلْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ فَقَالُوا إِنَّمَا عَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لأقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللهِ أَمَّا الْوَلِيدَةُ وَالْغَنَمُ فَرَدٌّ عَلَيْكَ وَعَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ وَأَمَّا أَنْتَ يَا أُنَيْسُ لِرَجُلٍ فَاغْدُ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا فَارْجُمْهَا فَغَدَا عَلَيْهَا أُنَيْسٌ فَرَجَمَهَا.
আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইব্নু খালিদ জুহানী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তাঁরা বর্ণনা করেন যে, এক বেদুঈন এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের মাঝে আল্লাহ্র কিতাব মোতাবেক ফায়সালা করুন। তখন তার বিবাদী পক্ষ দাঁড়াল এবং বলল, সে ঠিকই বলেছে। আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহ্র কিতাব মোতাবেক ফায়সালা করুন। তারপর বেদুঈন বলল যে, আমার ছেলে এ লোকের মজুর হিসেবে কাজ করত। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করে ফেলেছে। লোকেরা আমাকে বলল, তোমার ছেলেকে রজম করা হবে। আমি একশ’ বক্রী ও একটি দাসী দিয়ে আমার ছেলেকে তার থেকে মুক্ত করেছি। পরে আমি এ বিষয়ে আলেমদের জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বললেন, তোমার পুত্রকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশ থেকে বহিষ্কারের শাস্তি ভোগ করতে হবে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি অবশ্যই অবশ্যই আল্লাহ্র কিতাব মোতাবেক তোমাদের মাঝে ফায়সালা করব। দাসী ও বকরীগুলো তোমার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে। আর তোমার ছেলেকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশ থেকে বহিষ্কারের শাস্তি ভোগ করতে হবে। হে উনায়স! তুমি কাল এ লোকের স্ত্রীর নিকট যাও অতঃপর তাকে রজম কর। অতঃপর উনায়স পর দিবস সেই স্ত্রী লোকের কাছে গিয়ে তাকে রজম করল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭০৩)
وَقَالَ خَارِجَةُ بْنُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ أَنْ يَتَعَلَّمَ كِتَابَ الْيَهُودِ حَتَّى كَتَبْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كُتُبَهُ وَأَقْرَأْتُهُ كُتُبَهُمْ إِذَا كَتَبُوا إِلَيْهِ.
وَقَالَ عُمَرُ وَعِنْدَهُ عَلِيٌّ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ وَعُثْمَانُ مَاذَا تَقُولُ هَذِهِ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَاطِبٍ فَقُلْتُ تُخْبِرُكَ بِصَاحِبِهَا الَّذِي صَنَعَ بِهَا وَقَالَ أَبُو جَمْرَةَ كُنْتُ أُتَرْجِمُ بَيْنَ ابْنِ عَبَّاسٍ وَبَيْنَ النَّاسِ وَقَالَ بَعْضُ النَّاسِ لاَ بُدَّ لِلْحَاكِمِ مِنْ مُتَرْجِمَيْنِ
যায়দ ইব্নু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ইয়াহূদীদের লিখন পদ্ধতি শিক্ষা করার জন্য আদেশ করেছিলেন। তিনি বলেন, যার ফলে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে তাঁর চিঠিপত্র লিখতাম এবং তারা কোন চিঠিপত্র তাঁর কাছে লিখলে তা তাঁকে পড়ে শোনাতাম। ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন- তখন তাঁর কাছে হাজির ছিলেন ‘আলী, ‘আবদুর রহমান ও উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- এ স্ত্রীলোকটি কী বলছে? ‘আবদুর রহমান ইব্নু হাতিব বলেন, আমি বললাম, এ স্ত্রীলোকটি তার এক সঙ্গীর ব্যাপারে আপনার নিকট অভিযোগ করেছে যে, সে তার সঙ্গে কুকাজ করেছে। আবূ জামরাহ বলেন, আমি ইব্নু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও লোকদের মাঝে দোভাষীর কাজ করতাম। আর কেউ কেউ বলেছেন, প্রত্যেক শাসনকর্তার জন্য দু’জন করে দোভাষী অত্যাবশ্যকীয়। (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ هِرَقْلَ أَرْسَلَ إِلَيْهِ فِي رَكْبٍ مِنْ قُرَيْشٍ ثُمَّ قَالَ لِتَرْجُمَانِهِ قُلْ لَهُمْ إِنِّي سَائِلٌ هَذَا فَإِنْ كَذَبَنِي فَكَذِّبُوهُ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ فَقَالَ لِلتُّرْجُمَانِ قُلْ لَهُ إِنْ كَانَ مَا تَقُولُ حَقًّا فَسَيَمْلِكُ مَوْضِعَ قَدَمَيَّ هَاتَيْنِ.
আবূ সুফ্ইয়ান হার্ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন যে, কুরাইশদের কাফেলাসহ অবস্থান করার সময় সম্রাট হিরাক্লিয়াস তাকে ডেকে পাঠালেন। এরপর সম্রাট তার দোভাষীকে বললেন, তাদেরকে বল যে, আমি এ লোকটিকে কিছু প্রশ্ন করব। যদি সে আমার কাছে মিথ্যা বলে তাহলে তারা যেন তাকে মিথ্যাচারী বলে। তারপর দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন। পরে হিরাক্লিয়াস তার দোভাষীকে বললেন, ওকে বলে দাও যে, সে যা বলেছে তা যদি সত্য হয়, তাহলে তিনি (অর্থাৎ মুহাম্মাদ শীঘ্রই আমার পায়ের তলার জায়গারও মালিক হবেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭০৪)
مُحَمَّدٌ أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اسْتَعْمَلَ ابْنَ الْأُتَبِيَّةِ عَلَى صَدَقَاتِ بَنِي سُلَيْمٍ فَلَمَّا جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَحَاسَبَهُ قَالَ هَذَا الَّذِي لَكُمْ وَهَذِهِ هَدِيَّةٌ أُهْدِيَتْ لِي فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَهَلاَّ جَلَسْتَ فِي بَيْتِ أَبِيكَ وَبَيْتِ أُمِّكَ حَتَّى تَأْتِيَكَ هَدِيَّتُكَ إِنْ كُنْتَ صَادِقًا ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَخَطَبَ النَّاسَ وَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي أَسْتَعْمِلُ رِجَالاً مِنْكُمْ عَلَى أُمُورٍ مِمَّا وَلاَّنِي اللهُ فَيَأْتِي أَحَدُكُمْ فَيَقُولُ هَذَا لَكُمْ وَهَذِهِ هَدِيَّةٌ أُهْدِيَتْ لِي فَهَلاَّ جَلَسَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ وَبَيْتِ أُمِّهِ حَتَّى تَأْتِيَهُ هَدِيَّتُهُ إِنْ كَانَ صَادِقًا فَوَاللهِ لاَ يَأْخُذُ أَحَدُكُمْ مِنْهَا شَيْئًا قَالَ هِشَامٌ بِغَيْرِ حَقِّهِ إِلاَّ جَاءَ اللهَ يَحْمِلُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَلاَ فَلأَعْرِفَنَّ مَا جَاءَ اللهَ رَجُلٌ بِبَعِيرٍ لَهُ رُغَاءٌ أَوْ بِبَقَرَةٍ لَهَا خُوَارٌ أَوْ شَاةٍ تَيْعَرُ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ أَلاَ هَلْ بَلَّغْتُ.
আবূ হুমায়দ সা’ঈদী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবনু লুতাবিয়্যাকে বানী সুলায়ম-এর সদাকাহ সংগ্রহের জন্য নিযুক্ত করলেন। যখন সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ফিরে আসল এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কাছে হিসেব চাইলেন, তখন সে বলল, এগুলো আপনাদের আর এগুলো হাদিয়া যা আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি সত্যবাদী হলে তোমার হাদিয়া তোমার কাছে না আসা পর্যন্ত তুমি তোমার বাবার ঘরে ও মায়ের ঘরে বসে থাকলে না কেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে দাঁড়ালেন এবং লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি আল্লাহ্র প্রশংসা ও গুণগান করলেন। তারপর বললেনঃ অতঃপর আল্লাহ্ তা’আলা আমার উপর যেসব দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন তা থেকে কিছু কাজের জন্য তোমাদের কতক লোককে নিযুক্ত করে থাকি। তাদের কেউ এসে বলে এগুলো আপনাদের, আর এগুলো হাদিয়া যা আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। সে সত্যবাদী হলে সে তার বাবার ঘরে ও মায়ের ঘরে কেন বসে থাকল না, যাতে তার হাদিয়া তার নিকট আসে? আল্লাহ্র শপথ! তোমাদের কেউ যেন তা থেকে অন্যায়ভাবে কিছু গ্রহণ না করে। তা না হলে সে ক্বিয়ামাতের দিন তা বহন করে আল্লাহ্র নিকট আসবে। সাবধান! আমি অবশ্যই চিনতে পারব যা নিয়ে আল্লাহ্র নিকট হাজির হবে। এক ব্যক্তি উট নিয়ে আসবে যা চেঁচাতে থাকবে অথবা গরু নিয়ে আসবে যে গরুটি হাম্বা হাম্বা করতে থাকবে, অথবা বক্রী নিয়ে আসবে, যে বক্রী ভ্যা ভ্যা করতে থাকবে। অতঃপর তিনি হাত দু’খানা উপরের দিকে এতটুকু উঠালেন যে, আমি তার বগলের শুভ্র উজ্জ্বলতা দেখতে পেলাম। এবং বললেন, শোন! আমি কি (আল্লাহ্র বিধান তোমাদের নিকট) পৌঁছিয়েছি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭০৫)
أَصْبَغُ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا بَعَثَ اللهُ مِنْ نَبِيٍّ وَلاَ اسْتَخْلَفَ مِنْ خَلِيفَةٍ إِلاَّ كَانَتْ لَهُ بِطَانَتَانِ بِطَانَةٌ تَأْمُرُهُ بِالْمَعْرُوفِ وَتَحُضُّهُ عَلَيْهِ وَبِطَانَةٌ تَأْمُرُهُ بِالشَّرِّ وَتَحُضُّهُ عَلَيْهِ فَالْمَعْصُومُ مَنْ عَصَمَ اللهُ تَعَالَى وَقَالَ سُلَيْمَانُ عَنْ يَحْيَى أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ بِهَذَا وَعَنْ ابْنِ أَبِي عَتِيقٍ وَمُوسَى عَنْ ابْنِ شِهَابٍ مِثْلَهُ وَقَالَ شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَوْلَهُ وَقَالَ الأَوْزَاعِيُّ وَمُعَاوِيَةُ بْنُ سَلاَّمٍ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ ابْنُ أَبِي حُسَيْنٍ وَسَعِيدُ بْنُ زِيَادٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَوْلَهُ وَقَالَ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ حَدَّثَنِي صَفْوَانُ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم.
আবূ সা’ঈদ খুদ্রী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, আবূ সা’ঈদ খুদ্রী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ্ যাকেই নবী হিসাবে পাঠান এবং যাকেই খলীফা নিযুক্ত করেন, তার জন্য দু’জন করে ঘনিষ্ঠ জন থাকে। এক ঘনিষ্ঠ জন তাকে ভাল কাজের আদেশ দেয় এবং তাকে তার প্রতি উৎসাহিত করে। আর এক ঘনিষ্ঠ জন তাকে মন্দ কাজের আদেশ দেয় এবং তার প্রতি উৎসাহিত করে। কাজেই নিষ্পাপ ঐ ব্যক্তিই যাকে আল্লাহ্ তা’আলা রক্ষা করেন।
সুলায়মান ইব্নু শিহাব থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেন এবং ইব্নু আবূ আতীক ও মূসার সূত্রে ইব্নু শিহাব থেকে এরকমই একটি হাদীস বর্ণনা করেন। তাছাড়া শু’আয়ব (রাহিঃ) ও আবূ সা’ঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেন। আওযায়ী ও মু’আবিয়াহ ইব্নু সাল্লাম (রাহিঃ) আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেন। ইব্নু আবূ হুসাইন ও সা’ঈদ ইব্নু যিয়াদ (রাহিঃ)-ও আবূ সা’ঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
‘উবাইদুল্লাহ্ ইব্নু আবূ জা’ফর (রাহিঃ) সূত্রে আইউব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭০৬)
إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَادَةُ بْنُ الْوَلِيدِ أَخْبَرَنِي أَبِي عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ بَايَعْنَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فِي الْمَنْشَطِ وَالْمَكْرَهِ.
উবাদাহ ইব্নু সামিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এ মর্মে বায়’আত করলাম যে, সুখে দুঃখে আমরা তাঁর কথা শুনব ও তাকে মেনে চলব। দায়িত্বশীলদের নির্দেশের ক্ষেত্রে মতভেদে লিপ্ত হব না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭০৭ )
وَأَنْ لاَ نُنَازِعَ الأَمْرَ أَهْلَهُ وَأَنْ نَقُومَ أَوْ نَقُولَ بِالْحَقِّ حَيْثُمَا كُنَّا لاَ نَخَافُ فِي اللهِ لَوْمَةَ لاَئِمٍ.
উবাদাহ ইব্নু সামিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, যেখানেই থাকি না কেন সত্যের উপর দৃঢ় থাকব কিংবা বলেছিলেন, সত্য কথা বলব এবং আল্লাহ্র কাজে কোন নিন্দুকের নিন্দার ভয় করব না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭০৭ )
عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي غَدَاةٍ بَارِدَةٍ وَالْمُهَاجِرُونَ وَالأَنْصَارُ يَحْفِرُونَ الْخَنْدَقَ فَقَالَ :
اللهُمَّ إِنَّ الْخَيْرَ خَيْرُ الآخِرَهْ فَاغْفِرْ لِلْأَنْصَارِ وَالْمُهَاجِرَهْ
فَأَجَابُوا
نَحْنُ الَّذِينَ بَايَعُوا مُحَمَّدَا عَلَى الْجِهَادِ مَا بَقِينَا أَبَدَا.
আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শীতের এক সকালে বের হলেন। মুহাজির ও আনসাররা তখন খন্দক খনন করছিল। তিনি বললেনঃ
হে আল্লাহ্! আখিরাতের কল্যাণই সত্যিকারের কল্যাণ,
অতএব তুমি আনসার ও মুহাজিরদের ক্ষমা করে দাও।
এর জবাবে তারা বলল,
আমরা তারাই যারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাতে বায়’আত করেছে
মৃত্যু অবধি জিহাদ করার জন্য।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭০৮)
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ كُنَّا إِذَا بَايَعْنَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ يَقُولُ لَنَا فِيمَا اسْتَطَعْتُم
আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে তাঁর কথা শোনার ও তাঁকে মান্য করার জন্য বায়’আত নিতাম তখন তিনি আমাদের বলতেনঃ যতটা তোমরা করতে সক্ষম হও।[মুসলিম ৩৩/২২, হাঃ ১৮৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭০৯)
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ دِينَارٍ قَالَ شَهِدْتُ ابْنَ عُمَرَ حَيْثُ اجْتَمَعَ النَّاسُ عَلَى عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ كَتَبَ إِنِّي أُقِرُّ بِالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ لِعَبْدِ اللهِ عَبْدِ الْمَلِكِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى سُنَّةِ اللهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ مَا اسْتَطَعْتُ وَإِنَّ بَنِيَّ قَدْ أَقَرُّوا بِمِثْلِ ذَلِكَ.
আবদুল্লাহ্ ইব্নু দীনার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা যখন ‘আবদুল মালিকের খিলাফাতের বিষয়ে একমত হল, তখন আমি ইব্নু ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর কাছে হাজির ছিলাম। তিনি পত্র লিখলেন যে, আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুন্নাত অনুসারে আল্লাহ্র বান্দা, আমীরুল মু’মিনীন ‘আবদুল মালিকের কথা যথাসাধ্য শোনার ও মেনে চলার অঙ্গীকার করছি। আমার ছেলেরাও তেমনি অঙ্গীকার করছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১০)