হাদীস বিএন


সহীহুল বুখারী





সহীহুল বুখারী (7224)


إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِحَطَبٍ يُحْتَطَبُ ثُمَّ آمُرَ بِالصَّلاَةِ فَيُؤَذَّنَ لَهَا ثُمَّ آمُرَ رَجُلاً فَيَؤُمَّ النَّاسَ ثُمَّ أُخَالِفَ إِلَى رِجَالٍ فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ يَعْلَمُ أَحَدُكُمْ أَنَّهُ يَجِدُ عَرْقًا سَمِينًا أَوْ مِرْمَاتَيْنِ حَسَنَتَيْنِ لَشَهِدَ الْعِشَاءَ.




আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সত্তার হাতে আমার জান তাঁর শপথ করে বলছি! আমার ইচ্ছে হয় যে, আমি জ্বালানি কাঠ জোগাড়ের আদেশ দেই। তারপর সালাতের আযান দেয়ার জন্য হুকুম করি এবং একজনকে লোকদের ইমামত করতে বলি। অতঃপর আমি জামা‘আতে আসেনি এমন লোকেদের কাছে যাই আর তাদেরসহ তাদের ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দেই। আমার প্রাণ যে সত্তার হাতে তাঁর শপথ করে বলছি, যদি তারা জানত যে, একটি গোশতওয়ালা হাড় কিংবা দু’টি বক্রীর ক্ষুরের গোশত পাবে তাহলে তারা এশার জামাআতে অবশ্যই হাযির হত। মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ (রহ.)....আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (বুখারী) (রহ.) বলেন مرماة অর্থ বকরীর ক্ষুরের মাঝের গোশত। ছন্দের দিক দিয়ে منساة ميضاة এর মত। مرماة এর মীম বর্ণটি যেরযুক্ত। [৬৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৩০)









সহীহুল বুখারী (7225)


يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ وَكَانَ قَائِدَ كَعْبٍ مِنْ بَنِيهِ حِينَ عَمِيَ قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ قَالَ لَمَّا تَخَلَّفَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ فَذَكَرَ حَدِيثَهُ وَنَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمُسْلِمِينَ عَنْ كَلاَمِنَا فَلَبِثْنَا عَلَى ذَلِكَ خَمْسِينَ لَيْلَةً وَآذَنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِتَوْبَةِ اللهِ عَلَيْنَا.




কা’ব ইব্‌নু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), কা’ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) অন্ধ হয়ে যাবার পর তাঁর ছেলেদের মধ্যে হতে তিনি তাঁকে (কা’ব) পথ দেখাতেন। তিনি বলেন, আমি কা’ব ইব্‌নু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন যে, যখন তিনি তাবূকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে গমন করা থেকে পেছনে রয়ে গেলেন। তারপর তিনি পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করে বললেন যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিমদেরকে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করে দিলেন। ফলে পঞ্চাশ রাত আমরা এভাবে থাকলাম। এরপর আল্লাহ্‌ কর্তৃক আমাদের তাওবাহ কবূলের কথা রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানিয়ে দিলেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৩১)









সহীহুল বুখারী (7226)


سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَالِدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْلاَ أَنَّ رِجَالاً يَكْرَهُونَ أَنْ يَتَخَلَّفُوا بَعْدِي وَلاَ أَجِدُ مَا أَحْمِلُهُمْ مَا تَخَلَّفْتُ لَوَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللهِ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ.




আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি কিছু লোক আমার শরীক না হয়ে পিছনে থেকে যাওয়াটা অপছন্দ না করত, আর সকলকে (যুদ্ধে যাওয়ার) বাহন দিতে আমি অক্ষম না হতাম, তাহলে আমি কোন যুদ্ধ থেকেই পিছনে থাকতাম না। আমি অবশ্যই কামনা করি যে, আমাকে আল্লাহ্‌র পথে শহীদ করা হয়, আবার জীবিত করা হয়। আবার শহীদ করা হয় আবার জীবিত করা হয়। আবার শহীদ করা হয় আবার জীবিত করা হয়। আবার শহীদ করা হয়। [১৮৩](আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৩২)









সহীহুল বুখারী (7227)


عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ وَدِدْتُ أَنِّي أُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللهِ فَأُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ فَكَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَقُولُهُنَّ ثَلاَثًا أَشْهَدُ بِاللهِ.




আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! আমি কামনা করি যেন আমি অবশ্যই আল্লাহ্‌র পথে যুদ্ধ করি। এতে আমাকে শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, আবার শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, আবার শহীদ করা হয়। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। এ সম্পর্কে আমি আল্লাহ্‌র নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৩৩)









সহীহুল বুখারী (7228)


إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ هَمَّامٍ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَوْ كَانَ عِنْدِي أُحُدٌ ذَهَبًا لأَحْبَبْتُ أَنْ لاَ يَأْتِيَ عَلَيَّ ثَلاَثٌ وَعِنْدِي مِنْهُ دِينَارٌ لَيْسَ شَيْءٌ أَرْصُدُهُ فِي دَيْنٍ عَلَيَّ أَجِدُ مَنْ يَقْبَلُهُ.




আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যদি ওহুদ (পাহাড়) পরিমাণ সোনা আমার কাছে থাকত, তাহলে আমি অবশ্যই পছন্দ করতাম যে, তিন রাতও এ অবস্থায় অতিবাহিত না হোক যে ঋণ আদায় করার জন্য ছাড়া একটি দীনারও আমার কাছে থাকুক যা গ্রহণ করার মত লোক নেই।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৩৪)









সহীহুল বুখারী (7229)


يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَوْ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا سُقْتُ الْهَدْيَ وَلَحَلَلْتُ مَعَ النَّاسِ حِينَ حَلُّوا.




আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার কর্তব্য সম্পর্কে যদি আমি আগে জানতাম যা পরে জানতে পেরেছি, তাহলে আমি হাদী (অর্থাৎ কুরবানীর পশু) সঙ্গে নিয়ে আসতাম না এবং লোকেরা যখন (ইহরাম ছেড়ে) হালাল হয়েছে, তখন আমিও হালাল হয়ে যেতাম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৩৫)









সহীহুল বুখারী (7230)


الْحَسَنُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ عَنْ حَبِيبٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَلَبَّيْنَا بِالْحَجِّ وَقَدِمْنَا مَكَّةَ لِأَرْبَعٍ خَلَوْنَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ فَأَمَرَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَطُوفَ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَأَنْ نَجْعَلَهَا عُمْرَةً وَنَحِلَّ إِلاَّ مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْيٌ قَالَ وَلَمْ يَكُنْ مَعَ أَحَدٍ مِنَّا هَدْيٌ غَيْرَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَطَلْحَةَ وَجَاءَ عَلِيٌّ مِنْ الْيَمَنِ مَعَهُ الْهَدْيُ فَقَالَ أَهْلَلْتُ بِمَا أَهَلَّ بِهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا نَنْطَلِقُ إِلَى مِنًى وَذَكَرُ أَحَدِنَا يَقْطُرُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنِّي لَوْ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا أَهْدَيْتُ وَلَوْلاَ أَنَّ مَعِي الْهَدْيَ لَحَلَلْتُ قَالَ وَلَقِيَهُ سُرَاقَةُ وَهُوَ يَرْمِي جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ أَلَنَا هَذِهِ خَاصَّةً قَالَ لاَ بَلْ لِأَبَدٍ قَالَ وَكَانَتْ عَائِشَةُ قَدِمَتْ مَعَهُ مَكَّةَ وَهِيَ حَائِضٌ فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَنْسُكَ الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا غَيْرَ أَنَّهَا لاَ تَطُوفُ وَلاَ تُصَلِّي حَتَّى تَطْهُرَ فَلَمَّا نَزَلُوا الْبَطْحَاءَ قَالَتْ عَائِشَةُ يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنْطَلِقُونَ بِحَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ وَأَنْطَلِقُ بِحَجَّةٍ قَالَ ثُمَّ أَمَرَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ أَنْ يَنْطَلِقَ مَعَهَا إِلَى التَّنْعِيمِ فَاعْتَمَرَتْ عُمْرَةً فِي ذِي الْحَجَّةِ بَعْدَ أَيَّامِ الْحَجِّ.




জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম এবং আমরা হজ্জের তালবিয়া পড়লাম। তারপর যিলহজ্জ মাসের চারদিন অতিক্রান্ত হবার পর আমরা মক্কায় এসে পৌঁছলাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের বাইতুল্লাহ্ তাওয়াফ করতে এবং সাফা ও মারওয়ার সায়ী করতে নির্দেশ দিলেন এবং এটাকে ‘উমরায় পরিণত করে ইহ্‌রাম খুলে হালাল হওয়ার জন্য বললেন। যাদের সঙ্গে হাদী (কুরবানীর পশু) ছিল তাদের ছাড়া। জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তালহা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ব্যতীত আমাদের আর কারো সঙ্গে হাদী ছিল না। এসময় ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ইয়ামান হতে আসলেন। তাঁর সঙ্গে হাদী ছিল। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও তেমন ইহরাম বেঁধেছি। সাহাবীগণ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমরা মিনার দিকে যাচ্ছি। অথচ আমাদের কারো কারো পুরুষাঙ্গ (স্ত্রী সহবাসের জন্য) উত্তেজিত হচ্ছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ আমি আমার এ কাজে যদি আগে জানতাম যা আমি পরে জানতে পারলাম, তাহলে আমি হাদি সঙ্গে আনতাম না। আর আমার সঙ্গে যদি হাদি না থাকত তাহলে আমি অবশ্যই হালাল হয়ে যেতাম। রাবী বলেন, এমন সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সঙ্গে সুরাকা ইব্‌নু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সাক্ষাত করলেন যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জামরা-ই আকাবাতে কঙ্গর নিক্ষেপ করছিলেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এটা কি কেবল আমাদের জন্যই? তিনি বললেনঃ না, বরং এটা চিরদিনের জন্য। জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ঋতুবতী হয়ে মক্কায় পৌঁছেছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে নির্দেশ করলেন, হজ্জের যাবতীয় কার্য যথারীতি আদায় কর, তবে পবিত্র হবার পূর্ব পর্যন্ত বাইতুল্লাহ্‌ তাওয়াফ করো না এবং সালাত আদায় করো না। তারা যখন বাতহা নামক স্থানে নামলেন, ‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে রাসূলুল্লাহ! আপনারা একটি হজ্জ ও একটি ‘উমরা নিয়ে ফিরলেন। আর আমি কেবল একটি হজ্জ নিয়ে ফিরছি? জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবদুর রহমান ইব্‌নু আবূ বক্‌র সিদ্দীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে তাঁকে তানঈমে নিয়ে যাবার হুকুম করলেন। পরে ‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যিলহজ্জ মাসে হজ্জের দিনগুলোর পরে একটি ‘উমরা আদায় করেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৩৬)









সহীহুল বুখারী (7231)


خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ أَرِقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَقَالَ لَيْتَ رَجُلاً صَالِحًا مِنْ أَصْحَابِي يَحْرُسُنِي اللَّيْلَةَ إِذْ سَمِعْنَا صَوْتَ السِّلاَحِ قَالَ مَنْ هَذَا قَالَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللهِ جِئْتُ أَحْرُسُكَ فَنَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى سَمِعْنَا غَطِيطَهُ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ وَقَالَتْ عَائِشَةُ قَالَ بِلاَلٌ أَلاَ لَيْتَ شِعْرِي هَلْ أَبِيتَنَّ لَيْلَةً بِوَادٍ وَحَوْلِي إِذْخِرٌ وَجَلِيلُ فَأَخْبَرْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم.




আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জেগে রইলেন। পরে তিনি বললেনঃ যদি আমার সাহাবীদের কোন নেককার লোক আজ রাতে আমার পাহারা দিত। হঠাৎ আমরা অস্ত্রের শব্দ শুনলাম। তখন তিনি বললেনঃ এ কে? বলা হল, এ হচ্ছে সা’দ, হে রাসূলুল্লাহ! আপনাকে পাহারা দিতে এসেছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমালেন, এমন কি আমরা তাঁর নাক ডাকার আওয়াজ শুনতে পেলাম। [১৮৪]
‘আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, বিলাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আওড়াচ্ছিলেন- হায়! আমার উপলব্ধি, আমি কি উপত্যকায় রাত কাটাতে পারব, যখন আমার পাশে থাকবে জালীর ও ইয্‌খির (ঘাস)। পরে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে এ খবর পৌঁছিয়ে দিলাম।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৩৭)









সহীহুল বুখারী (7232)


عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ تَحَاسُدَ إِلاَّ فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ الْقُرْآنَ فَهُوَ يَتْلُوهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ يَقُولُ لَوْ أُوتِيتُ مِثْلَ مَا أُوتِيَ هَذَا لَفَعَلْتُ كَمَا يَفْعَلُ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالاً يُنْفِقُهُ فِي حَقِّهِ فَيَقُولُ لَوْ أُوتِيتُ مِثْلَ مَا أُوتِيَ لَفَعَلْتُ كَمَا يَفْعَلُ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ بِهَذَا.




আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দু’টি বিষয় ব্যতীত হিংসা করা যাবে না। এক ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ্‌ কুরআন দান করেছেন সে দিন রাত তিলাওয়াত করে। কেউ বলল, একে যা দেয়া হয়েছে, যদি আমাকেও তা দেয়া হত, তবে সে যেমন করছে, আমিও তেমন করতাম। আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ মাল দিয়েছেন, সে তা যথোচিতভাবে খরচ করে। কেউ বলল, তাকে যা দেয়া হয়েছে তা যদি আমাকে দেয়া হত, তাহলে আমি অবশ্যই তাই করতাম, সে যা করে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৩৮)









সহীহুল বুখারী (7233)


حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ قَالَ قَالَ أَنَسٌ لَوْلاَ أَنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لاَ تَتَمَنَّوْا الْمَوْتَ لَتَمَنَّيْتُ.




আনাস ইব্‌নু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে একথা বলতে না শোনতাম যে, তোমরা মৃত্যু কামনা করো না, তাহলে অবশ্যই আমি কামনা করতাম। [৫৬৭১; মুসলিম ৪৮/৪, হাঃ ২৬৮০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৩৯)









সহীহুল বুখারী (7234)


مُحَمَّدٌ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ ابْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسٍ قَالَ أَتَيْنَا خَبَّابَ بْنَ الأَرَتِّ نَعُودُهُ وَقَدْ اكْتَوَى سَبْعًا فَقَالَ لَوْلاَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَانَا أَنْ نَدْعُوَ بِالْمَوْتِ لَدَعَوْتُ بِهِ.




কায়স (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, করেন। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব ইব্‌নু আরাত্‌ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সেবা শুশ্রুষা করার জন্য এলাম। তিনি সাতটি দাগ লাগিয়েছিলেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি আমাদের মৃত্যুর জন্য দু’আ করতে নিষেধ না করতেন, তাহলে আমি অবশ্যই এজন্য দু’আ করতাম।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৪০)









সহীহুল বুখারী (7235)


عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ اسْمُهُ سَعْدُ بْنُ عُبَيْدٍ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَزْهَرَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ يَتَمَنَّى أَحَدُكُمْ الْمَوْتَ إِمَّا مُحْسِنًا فَلَعَلَّهُ يَزْدَادُ وَإِمَّا مُسِيئًا فَلَعَلَّهُ يَسْتَعْتِبُ.




আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কারণ সে যদি সৎ হয় তবে (বেঁচে থাকলে) হয়ত সে নেক কাজ বৃদ্ধি করবে। আর যদি পাপী হয়, তাহলে হয়ত সে তওবা করবে।
আবূ ‘আবদুল্লাহ্‌ (বুখারী) (রাহিঃ) বলেন, আবু ‘উবায়দ-এর নাম হচ্ছে সা’দ ইব্‌নু ‘উবায়দ আব্‌দুর রহমান ইব্‌নু আয্‌হার এর আযাদকৃত গোলাম।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৪১)









সহীহুল বুখারী (7236)


عَبْدَانُ أَخْبَرَنِي أَبِي عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَنْقُلُ مَعَنَا التُّرَابَ يَوْمَ الأَحْزَابِ وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ وَارَى التُّرَابُ بَيَاضَ بَطْنِهِ يَقُولُ :
لَوْلاَ أَنْتَ مَـا اهْـتَـدَيْنــَا نَحْـنُ وَلاَ تَـصَدَّقْـنَا وَلاَ صَـلَّيْـنَا
فَأَنـْزِلَـنْ سَكِينَـةً عَلَيْنَــا إِنَّ الأُلَى وَرُبَّمَا قَالَ الْمَلاَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا
إِذَا أَرَادُوا فِـتْنَـةً أَبَـيْـنَـا أَبَـــيْـــنَــــــــا
يَرْفَعُ بِهَا صَوْتَهُ.




বারাআ ইব্‌নু ‘আযিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সঙ্গে মাটি উঠাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে দেখতে পেলাম, মাটি তাঁর পেটের শুভ্রতাকে ঢেকে ফেলেছে। তিনি বলেছিলেনঃ
(হে আল্লাহ!) যদি আপনি না করতেন তাহলে আমরা হিদায়াত পেতাম না এবং আমরা দান-সদকা করতাম না, আর আমরা সালাত ও পড়তাম না। অতএব আপনি আমাদের উপর শান্তি নাযিল করুন।--- প্রথম দলটি, কখনো বলতেন, একদল লোক আমাদের উপর যুল্‌ম করেছে।--- যখন তারা ফিত্‌নার ইচ্ছে করে আমরা তা প্রত্যখ্যান করি। ‘প্রত্যাখ্যান করি’- উচ্চৈঃস্বরে বলতেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৪২)









সহীহুল বুখারী (7237)


عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ وَكَانَ كَاتِبًا لَهُ قَالَ كَتَبَ إِلَيْهِ عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي أَوْفَى فَقَرَأْتُهُ فَإِذَا فِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ وَسَلُوا اللهَ الْعَافِيَةَ.




আবূ নাযর সালিম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, আবূ নাযর সালিম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ‘উমর ইব্‌নু ‘উবাইদুল্লাহ্র আযাদ করা গোলাম এবং তার কাতিব (সচিব) ছিলেন, বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তার কাছে ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু আবূ আওফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) চিঠি লিখলেন, আমি তা পড়লাম। তাতে লেখা ছিল, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শত্রুর মুখোমুখী হওয়ার কামনা করো না বরং আল্লাহ্ তা’আলার কাছে নিরাপত্তা কামনা কর। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৪৩)









সহীহুল বুখারী (7238)


عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ قَالَ ذَكَرَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْمُتَلاَعِنَيْنِ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ شَدَّادٍ أَهِيَ الَّتِي قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَوْ كُنْتُ رَاجِمًا امْرَأَةً مِنْ غَيْرِ بَيِّنَةٍ قَالَ لاَ تِلْكَ امْرَأَةٌ أَعْلَنَتْ




কাসিম ইব্‌নু মুহাম্মদ (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) দু’জন লি’আনকারীর বিষয়ে বর্ণনা করলেন। তখন ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু শাদ্দাদ বললেন, এটা কি সেই স্ত্রীলোক যার সম্পর্কে রাসূলল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, বিনা প্রমাণে যদি কোন মহিলাকে রজম (প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড দান) করতাম? তিনি বললেন, না, সে মহিলাটি প্রকাশ্যে অশ্লীল কাজ করেছিল।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৪৪)









সহীহুল বুখারী (7239)


عَلِيٌّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ عَمْرٌو حَدَّثَنَا عَطَاءٌ قَالَ أَعْتَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلمبِالْعِشَاءِ فَخَرَجَ عُمَرُ فَقَالَ الصَّلاَةَ يَا رَسُولَ اللهِ رَقَدَ النِّسَاءُ وَالصِّبْيَانُ فَخَرَجَ وَرَأْسُهُ يَقْطُرُ يَقُولُ لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي أَوْ عَلَى النَّاسِ وَقَالَ سُفْيَانُ أَيْضًا عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ بِالصَّلاَةِ هَذِهِ السَّاعَةَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَخَّرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم هَذِهِ الصَّلاَةَ فَجَاءَ عُمَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَقَدَ النِّسَاءُ وَالْوِلْدَانُ فَخَرَجَ وَهُوَ يَمْسَحُ الْمَاءَ عَنْ شِقِّهِ يَقُولُ إِنَّهُ لَلْوَقْتُ لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي وَقَالَ عَمْرٌو حَدَّثَنَا عَطَاءٌ لَيْسَ فِيهِ ابْنُ عَبَّاسٍ أَمَّا عَمْرٌو فَقَالَ رَأْسُهُ يَقْطُرُ وَقَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ يَمْسَحُ الْمَاءَ عَنْ شِقِّهِ وَقَالَ عَمْرٌو لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي وَقَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ إِنَّهُ لَلْوَقْتُ لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا مَعْنٌ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.




আত্বা (রাহিঃ) হতে বর্ণিত, বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এশার সালাত দেরি হল। তখন ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বের হয়ে বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সালাত, মহিলা ও শিশুরা ঘুমিয়ে যাচ্ছেন। তখন তিনি বের হয়ে এলেন, তাঁর মাথা থেকে পানি টপ টপ করে পড়ছে। তিনি বলেছিলেন, যদি আমার উম্মাতের জন্য কিংবা বলেছিলেন, লোকেদের জন্য, সুফিয়ানও বলেছেন, আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে অবশ্যই তাদেরকে এ সময়ে সালাত পড়ার হুকুম দিতাম।
ইব্‌নু জুরায়জ ‘আত্বার সূত্রে ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ সালাত বিলম্ব করলেন। ফলে ‘উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এসে বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! মহিলা ও শিশুরা ঘুমিয়ে যাচ্ছে। তখন তিনি তাঁর মাথার পাশ থেকে পানি মুছতে মুছতে বের হয়ে এসে বললেনঃ আসলে এটাই সময়। এরপর বললেনঃ যদি আমি আমার উম্মাতের উপর কষ্টকর মনে না করতাম .....।
‘আম্‌র এ হাদীসটি ‘আত্বা থেকে বর্ণনা করেন, সে সূত্রে ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নাম নেই। তবে ‘আম্‌র বলেছেন যে, তাঁর মাথা থেকে পানি টপ টপ করে পড়ছিল। আর ইব্‌নু জুরায়জ বলেন, তিনি তাঁর মাথার এক পাশ থেকে পানি মুছছিলেন। আবার ‘আম্‌রের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি আমি আমার উম্মাতের উপর কষ্টকর মনে না করতাম। আর ইব্‌নু জুরায়জ বলেন, এটাই সময়। যদি আমি আমার উম্মাতের উপর কষ্টকর মনে না করতাম ......। তবে ইব্রাহীম ইব্‌নু মুনযির ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদীসটি বর্ণনা আছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৪৫)









সহীহুল বুখারী (7240)


يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ




আবূ হুরায়য়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের উপর যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে আমি তাদেরকে মিস্ওয়াক করার হুকুম করতাম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৪৬)









সহীহুল বুখারী (7241)


عَيَّاشُ بْنُ الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ وَاصَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم آخِرَ الشَّهْرِ وَوَاصَلَ أُنَاسٌ مِنْ النَّاسِ فَبَلَغَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَوْ مُدَّ بِيَ الشَّهْرُ لَوَاصَلْتُ وِصَالاً يَدَعُ الْمُتَعَمِّقُونَ تَعَمُّقَهُمْ إِنِّي لَسْتُ مِثْلَكُمْ إِنِّي أَظَلُّ يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِ تَابَعَهُ سُلَيْمَانُ بْنُ مُغِيرَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.




আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, যে, (কোন এক) মাসের শেষভাগে নবী বিরতিহীন সওম রাখলেন এবং আরো কতিপয় লোকও বিরতিহীনভাবে সওম রাখল। এ সংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেনঃ যদি আমার এ মাস প্রলম্বিত হত, তবুও আমি এভাবে বিরতিহীন সওম করতাম। যাতে অধিক কষ্টকারীরা তাদের কষ্ট করা ত্যাগ করে। আমি তো তোমাদের মত নই, আমার প্রতিপালক আমাকে আহার করান এবং পান করান। সুলায়মান ইব্‌নু মুগীরা আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- এর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হুমায়দ-এর অনুসরণ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৪৭)









সহীহুল বুখারী (7242)


أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ وَقَالَ اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَالِدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الْوِصَالِ قَالُوا فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ قَالَ أَيُّكُمْ مِثْلِي إِنِّي أَبِيتُ يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِ فَلَمَّا أَبَوْا أَنْ يَنْتَهُوا وَاصَلَ بِهِمْ يَوْمًا ثُمَّ يَوْمًا ثُمَّ رَأَوْا الْهِلاَلَ فَقَالَ لَوْ تَأَخَّرَ لَزِدْتُكُمْ كَالْمُنَكِّلِ لَهُمْ.




আবূ হুরায়য়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিরতিহীন সওম পালন করতে নিষেধ করলেন। সাহাবীগণ বললেন, আপনি বিরতিহীন সওম পালন করছেন? তিনি বললেনঃ তোমাদের কে আছ আমার মতো? আমি তো রাত কাটাই যাতে আমার প্রতিপালক আমাকে খাওয়ান ও পান করান। কিন্তু তারা যখন বিরতি থাকতে অস্বীকৃতি জানাল, তখন তিনি তাদেরসহ একদিন, তারপর আর একদিন সওম পালন করলেন। তারপর তারা নতুন চাঁদ দেখতে পেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যদি চাঁদ আরো (কয়দিন) পরে উদিত হত, তাহলে আমি অবশ্যি তোমাদের (সওম) বাড়াতাম। তিনি যেন তাদেরকে শাসন করছিলেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৪৮)









সহীহুল বুখারী (7243)


مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ حَدَّثَنَا أَشْعَثُ عَنْ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ الْجَدْرِ أَمِنَ الْبَيْتِ هُوَ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ فَمَا لَهُمْ لَمْ يُدْخِلُوهُ فِي الْبَيْتِ قَالَ إِنَّ قَوْمَكِ قَصَّرَتْ بِهِمْ النَّفَقَةُ قُلْتُ فَمَا شَأْنُ بَابِهِ مُرْتَفِعًا قَالَ فَعَلَ ذَاكِ قَوْمُكِ لِيُدْخِلُوا مَنْ شَاءُوا وَيَمْنَعُوا مَنْ شَاءُوا وَلَوْلاَ أَنَّ قَوْمَكِ حَدِيثٌ عَهْدُهُمْ بِالْجَاهِلِيَّةِ فَأَخَافُ أَنْ تُنْكِرَ قُلُوبُهُمْ أَنْ أُدْخِلَ الْجَدْرَ فِي الْبَيْتِ وَأَنْ أَلْصِقْ بَابَهُ فِي الأَرْضِ.




আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কা’বার বাইরের দেয়াল (হাতীম) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, সেটা কি কা’বা ঘরের অংশ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমি বললাম, তাহলে তারা এ অংশকে ঘরে শামিল করল না কেন? তিনি বললেনঃ তোমার গোত্রের খরচে কমতি দেখা দিয়েছিল। আমি বললামঃ এর দরজাটা এত উঁচুতে বানানো হল কেন? তিনি বললেনঃ এটা তোমার কওম এ জন্য করেছিল, যাতে তারা যাকে ইচ্ছে ঢুকতে দেবে এবং যাকে ইচ্ছে বাধা দেবে। তোমার কওম যদি সবে জাহিলীয়্যাত মুক্ত না হত, অতঃপর তাদের অন্তর বিগড়ে যাবার আশঙ্কা না করতাম তাহলে দেয়ালটিকে ঘরের মাঝে শামিল করে দিতাম এবং এর দরজাকে ভূমি বরাবর করে দিতাম।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৪৯)