সহীফাতু হাম্মাম ইবনু মুনাব্বীহ
121 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَنَا أَوْلَى النَّاسِ بِالْمُؤْمِنِينَ فِي كِتَابِ اللَّهِ، فَأَيُّكُمْ تَرَكَ دَيْنًا أَوْ ضَيْعَةً فَادْعُونِي فَإِنِّي وَلِيُّهُ، وَأَيُّكُمْ مَا تَرَكَ مَالًا فَلْيُؤْثِرْ بِمَالِهِ عَصَبَتَهُ مَنْ كَانَ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী অন্য সব লোক অপেক্ষা আমি মুমিনদের সবচেয়ে নিকটবর্তী। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ঋণ অথবা নিঃসম্বল পরিজন রেখে যায় আমাকে ডাকবে, আমি তার অভিভাবক। আর তোমাদের মধ্যে যে সস্পদ রেখে যায়, তার সস্পদের অধিকারী হবে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় সে যেই হোক।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ১৬৯
122 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَقُلْ أَحَدُكُمُ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ، أَوِ ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ، أَوِ ارْزُقْنِي إِنْ شِئْتَ، لِيَعْزِمِ الْمَسْأَلَةَ؛ إِنَّهُ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ لَا مُكْرِهَ لَهُ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ এভাবে দু'আ করো না, হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করে দাও, যদি তুমি চাও। আমার প্রতি রহম কর, যদি তুমি চাও। আমাকে তুমি দাও, যদি তুমি চাও। বরঞ্চ দোয়াপ্রার্থী খুবই দৃঢ়তার সাথে প্রার্থনা করবে। কেননা তিনি যা চান তাই করেন। তাকে বাধ্য করার মত কেউ নেই।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৭৪৭৭, সহীহ মুসলিম ২৬৭৯
123 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «غَزَا نَبِيٌّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ فَقَالَ لِلْقَوْمِ: لَا يَتْبَعْنِي رَجُلٌ قَدْ كَانَ مَلَكَ بُضْعَ امْرَأَةٍ يُرِيدُ أَنْ يَبْنِيَ بِهَا وَلَمَّا بَنَى، وَلَا آخَرُ بَنَى بِنَاءً لَهُ وَلَمَّا يَرْفَعْ سُقُفَهَا، وَلَا آخَرُ قَدِ اشْتَرَى غَنَمًا أَوْ خَلِفَاتٍ وَهُوَ يَنْتَظِرُ وِلَادَهَا، فَغَزَا فَدَنَا الْقَرْيَةَ حِينَ صُلِّيَ الْعَصْرُ، أَوْ قَرِيبًا مِنْ ذَلِكَ، فَقَالَ لِلشَّمْسِ: أَنْتِ مَأْمُورَةٌ وَأَنَا مَأْمُورٌ، اللَّهُمَّ احْبِسْهَا عَلَيَّ شَيْئًا، فَحُبِسَتْ عَلَيْهِ حَتَّى فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ، فَجَمَعُوا مَا غَنِمُوا فَأَقْبَلَتِ النَّارُ لِتَأْكُلَهُ فَأَبَتْ أَنْ تَطْعَمَهُ، فَقَالَ: فِيكُمْ الْغُلُولُ، فَلْيُبَايِعْنِي مِنْ كُلِّ قَبِيلَةٍ رَجُلٌ، فَبَايَعُوهُ فَلَصِقَتْ يَدُ رَجُلٍ بِيَدِهِ فَقَالَ: فِيكُمُ الْغُلُولُ، فَلْتُبَايِعْنِي قَبِيلَتُهُ، فَبَايَعَتْهُ قَبِيلَتُهُ فَلَصِقَ يَدُ رَجُلَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةٍ بِيَدِهِ، فَقَالَ: فِيكُمُ الْغُلُولُ، أَنْتُمْ غَلَلْتُمْ، قَالَ: فَأَخْرَجُوا لَهُ مِثْلَ رَأْسِ بَقَرَةٍ مِنْ ذَهَبٍ فَوَضَعُوهُ فِي الْمَالِ وَهُوَ بِالصَّعِيدِ فَأَقْبَلَتِ النَّارُ فَأَكَلَتْ. قَالَ: فَلَمْ تَحِلَّ الْغَنَائِمُ لِأَحَدٍ مِنْ قَبْلِنَا؛ ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ رَأَى ضَعْفَنَا وَعَجْزَنَا فَطَيَّبَهَا لَنَا»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নবীগণের মধ্যে কোন এক নবী [ইউশা’ ইবনু নূন (আঃ) যিনি লাম (বাহরাইন) দেশে মূসা (আঃ)-এর প্রতিনিধি ছিলেন] জিহাদে রওনা দিলেন। তিনি তার লোকদের বললেন, এমন লোক যেন আমার সাথে অভিযানে না আসে, যে ব্যক্তি সদ্য বিবাহ করেছে এবং বাসর যাপনে ইচ্ছুক, কিন্তু এখনো তা সম্পন্ন হয়নি। সে ব্যক্তি যেন না আসে যে গৃহ নিৰ্মাণ করেছে এবং এখনো তার ছাদ দেয়নি এবং সে ব্যক্তি যেন না আসে যে গর্ভবতী ছাগল বা উটিনী ক্রয় করেছে এবং সেগুলোর বাচ্চা প্রসবের অপেক্ষায় আছে।
তারপর তিনি জিহাদে গমন করেন এবং আসরের সালাতের সময় যুদ্ধ ক্ষেত্রে নিকটবর্তী এক গ্রামে পৌছেন। তখন তিনি সূর্যকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমিও আদিষ্ট এবং আমিও আদিষ্ট। ইয়া আল্লাহ! তুমি একে আমার জন্য কিছুক্ষণ থামিয়ে রাখো (সূর্যাস্তের পূর্বেই বিজয় পাওয়ার জন্য)। সূর্যকে থামিয়ে দেয়া হলো। অবশেষে আল্লাহ তা’আলা তাকে বিজয় প্রদান করলেন। রাবী বলেন, তারা গনীমাতের মাল একত্রিত করল। তখন তা খাওয়ার জন্য আগুন এগিয়ে এলো। কিন্তু অগ্নি তা খেতে অস্বীকার করল।*
তখন সে নবী বললেন, তোমাদের মধ্যে আত্মসাৎকারী রয়েছে। কাজেই তোমাদের প্রত্যেক গোত্র থেকে একজন করে আমার কাছে বাই’আত করবে। সুতরাং তারা তার কাছে বাই’আত করল। এতে এক ব্যক্তির হাত নবীর হাতের সাথে লেগে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে আত্মসাৎকারী রয়েছে। কাজেই তোমাদের গোত্রের লোকেরা আমার কাছে বাই’আত করুক। অতঃপর তার ঐ গোত্রের লোকেরা বাই’আত করল।
তখন নবীর হাত দু’ বা তিন ব্যক্তির হাতের সাথে লেগে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে আত্মসাৎকারী রয়েছে। তোমরা আত্মসাৎ করেছ। রাবী বলেন, তারপর তারা নবীর কাছে একটি গাভীর মাথার পরিমাণ স্বর্ণখণ্ড বের করে দিলো। আর তারা সেটিও ঐ সম্পদের সাথে রাখল। তারপর আগুন এগিয়ে এসে তা খেয়ে ফেলল। আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল হালাল ছিল না। আল্লাহ তা’আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে আমাদের জন্য গনীমাতের মাল হালাল করে দিলেন।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৩১২৪, সহীহ মুসলিম ৪৪৪৭
124 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بَيْنَمَا أَنَا نَائِمٌ، رَأَيْتُ أَنِّي أَنْزِعُ عَلَى حَوْضٍ أَسْقِي النَّاسَ، فَأَتَانِي أَبُو بَكْرٍ فَأَخَذَ الدَّلْوَ مِنْ يَدِي لِيُرِيحَنِي فَنَزَعَ دَلْوَيْنِ وَفِي نَزْعِهِ ضَعْفٌ وَاللَّهُ يَغْفِرُ لَهُ، قَالَ: فَأَتَانِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَأَخَذَهَا مِنْهُ، فَلَمْ يَنْزِعْ رَجُلٌ نَزْعَهُ حَتَّى وَلَّى النَّاسُ وَالْحَوْضُ يَنْفَجِرُ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি একদা নিদ্রায় ছিলাম। দেখলাম, আমি একটি হাউযের কাছ থেকে লোকদেরকে পানি পান করাচ্ছি। তখন আমার কাছে আবু বকর আসল। আমাকে বিশ্রাম দেওয়ার নিমিত্তে আমার হাত থেকে সে বালতিটি নিয়ে গেল এবং দু’ বালতি পানি উঠাল। আর তার উত্তোলনে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। তিনি বলেন, এরপর ইবনুল খাত্তাব এসে তার কাছ থেকে তা নিয়ে নিল এবং পানি উত্তোলন করতে থাকল। অবশেষে লোকেরা ফিরে গেল, অথচ হাউযের পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৭০২২, সহীহ মুসলিম ২৩৯২
125 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا جُورَ كِرْمَانَ، قَوْمًا مِنَ الْأَعَاجِمِ حُمْرَ الْوُجُوهِ، فُطْسَ الْأُنُوفِ، صِغَارَ الْأَعْيُنِ، كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত সংঘটিত হবেনা যে পর্যন্ত তোমাদের যুদ্ধ না হবে খুয ও কিরমান নামক স্থানে (বসবাসরত) অনারব জাতিগুলোর সঙ্গে, যাদের চেহারা লালবর্ণ, চেহারা যেন পিটানো ঢাল, নাক চ্যাপ্টা, চোখ ছোট এবং জুতা পশমের।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৩৫৯০, সহীহ মুসলিম ২৯১২
126 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْخُيَلَاءُ وَالْفَخْرُ فِي أَهْلِ الْخَيْلِ وَالْإِبِلِ، وَالسَّكِينَةُ فِي أَهْلِ الْغَنَمِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অহংকার ও দাম্ভিকতা রয়েছে ঘোড়া ও উট ওয়ালাদের মধ্যে। আর নম্রতা রয়েছে বকরি ওয়ালাদের মধ্যে।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৫২
127 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعَرُ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যে পর্যন্ত না তোমরা এমন এক জাতির সঙ্গে লড়াই করবে, যাদের জুতা হবে পশমের তৈরি।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৭২০২
128 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «النَّاسُ تَبَعٌ لِقُرَيْشٍ فِي هَذِهِ الشَّأْنِ - أُرَاهُ يَعْنِي الْإِمَارَةَ - مُسْلِمُهُمْ تَبَعٌ لِمُسْلِمِهِمْ، وَكَافِرُهُمْ تَبَعٌ لِكَافِرِهِمْ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এই ব্যাপারে লোকজন কোরাইশদের অনুসারী—তাদের মুসলমানেরা তাদের মুসলমানদেরই অনুসারী এবং তাদের কাফের তাদের কাফেরেরই অনুগত।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ১৮১৮
129 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَيْرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الْإِبِلَ نِسَاءُ قُرَيْشٍ، أَحْنَاهُ عَلَى وَلَدٍ فِي صِغَرِهِ، وَأَرْعَاهُ عَلَى زَوْجٍ فِي ذَاتِ يَدِهِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, উষ্ট্রারোহী মহিলাদের মধ্যে কুরাইশ বংশীয় মহিলারা সর্বোত্তম। তারা শিশুদের প্রতি স্নেহশীলা এবং স্বামীর মর্যাদা রক্ষার্থে উত্তম হেফাজতকারিণী।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২৫২৭, ২০২
130 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْعَيْنُ حَقٌّ، وَنَهَى عَنِ الْوَشْمِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নযরলাগা প্রকৃত সত্য এবং তিনি উল্কি অঙ্কণ করা থেকে নিষেধ করেছেন।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ৫৯৪৪, ৫৭৪০, সহীহ মুসলিম ২৩৬৭
131 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاةٍ مَا كَانَتْ تَحْبِسُهُ، وَلَا يَمْنَعُهُ أَنْ يَخْرُجَ إِلَّا انْتِظَارُهَا»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তিকে যতক্ষণ পর্যন্ত নামায আব্দ্ধ রাখে, নামায ছাড়া অন্য কিছুই তাকে তার পরিবারের দিকে যেতে বাধা দেয় না, ততক্ষণ সে নামাযের মধ্যে গণ্য।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৬৪৯
132 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, উপরের হাত নীচের হাত অপেক্ষা উত্তম। প্রথমে তাদেরকে দিবে, যাদের ভরণ–পোষণ তোমার দায়িত্বে।
তাখরীজঃ সহীহ বুখারী ১৪২৬, সহীহ মুসলিম ১০৩৪
133 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَنَا أَوْلَى النَّاسِ بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ فِي الْأُولَى وَالْآخِرَةِ» ، قَالُوا: كَيْفَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الْأَنْبِيَاءُ إِخْوَةٌ مِنْ عَلَّاتٍ وَأُمَّهَاتُهُمْ شَتَّى، وَدِينُهُمْ وَاحِدٌ، فَلَيْسَ بَيْنَنَا نَبِيٌّ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইহ ও পরজগতে আমি ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর সবচেয়ে নিকটবর্তী। লোকেরা বললো, কিরূপে হে আল্লাহর রাসুল! তখন তিনি বললেনঃ নবীগণ একই পিতার সন্তানের মত। তাদের মা বিভিন্ন। তাঁদের দ্বীন একটিই। আর তাঁর এবং আমার মধ্যে কোন নবীও নেই।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২৩৬৭
134 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بَيْنَمَا أَنَا نَائِمٌ، إِذْ أُوتِيتُ مِنْ خَزَائِنِ الْأَرْضِ، فَوُضِعَ فِي يَدَيَّ سِوَارَانِ مِنْ ذَهَبٍ فَكَبُرَا عَلَيَّ وَأَهَمَّانِي، فَأُوحِيَ إِلَيَّ أَنِ انْفُخْهُمَا، فَنَفَخْتُهُمَا فَذَهَبَا، فَأَوَّلْتُهُمَا الْكَذَّابَيْنِ اللَّذَيْنِ أَنَا بَيْنَهُمَا؛ صَاحِبَ صَنْعَاءَ وَصَاحِبَ الْيَمَامَةِ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, একদা আমি ঘুমিয়েছিলাম। দেখলাম আমাকে ভূপৃষ্ঠের ভাণ্ডারসমূহ দেওয়া হয়েছে। আর আমার হাতে স্বর্ণের দু’টি চুড়ি রাখা হয়, যা আমার কাছে কষ্টকর মনে হল আর আমাকে চিন্তায় ফেলে দিল। তখন আমাকে নির্দেশ করা হল যেন আমি চুড়ি দুটিতে ফুঁ দেই। তাই আমি উভয়টিতে ফুঁ দিলাম, চুড়ি দু’টি উড়ে গেল। আমি চুড়ি দু’টির ব্যাখ্যা এভাবে দিলাম যে, দু’জন মিথ্যা দাবিদার রয়েছে, যাদের মাঝখানে আমি আছি। সানআর বাসিন্দা ও ইয়ামামার বাসিন্দা।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ২২৭৩
135 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَيْسَ أَحَدٌ مِنْكُمْ بِمُنْجِيهِ عَمَلُهُ، وَلَكِنْ سَدِّدُوا وَقَارِبُوا» . قَالُوا: وَلَا أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «وَلَا أَنَا إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِيَ اللَّهُ مِنْهُ بِرَحْمَةٍ وَفَضْلٍ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার আমল তাকে মুক্তি দিতে পারবে। তোমরা ইবাদতের বেলায় মধ্যম পন্থা অবলম্বন করো এবং সঠিক পন্থা দৃঢ়তার সাথে আঁকড়ে ধরো। তারা জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আর আপনি অর্থাৎ আপনার আমলও কি আপনাকে নাজাত দিবে না? তিনি বললেনঃ না, আমিও না। তবে মহান আল্লাহ তাঁর রহমত, করুণায় আমাকে ঢেকে রাখবেন।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ৭০০৪
136 - وَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعَتَيْنِ وَلِبْسَتَيْنِ، أَنْ يَحْتَبِيَ أَحَدُكُمْ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ لَيْسَ عَلَى فَرْجِهِ مِنْهُ شَيْءٌ، وَأَنْ يَشْتَمِلَ فِي إِزَارِهِ إِذَا مَا صَلَّى، إِلَّا أَنْ يُخَالِفَ بَيْنَ طَرَفَيْهِ عَلَى عَاتِقِهِ، وَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمَسِّ وَالْإِلْقَاءِ وَالنَّجْشِ `
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’ভাবে কাপড় পরতে এবং দু’ভাবে ক্রয়বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। এক কাপড়ে পুরুষের এমনভাবে পেঁচিয়ে থাকা যে, তার লজ্জাস্থানের উপর সে কাপড়ের কোন অংশই থাকে না। আর হলো, শুধু লুঙ্গি পরে নামাজ পড়বে না তবে কাঁধের উপর দিয়ে পেঁচিয়ে নিলে পড়তে পারে।
আর ‘মুলামাসা’ ও ‘মুনাবাযা’। আর তিনি দালালী করতেও নিষেধ করেছেন।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ১৫১১
137 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْعَجْمَاءُ جَرْحُهَا جُبَارٌ، وَالْبِئْرُ جُبَارٌ، وَالْمَعْدِنُ جُبَارٌ، وَالنَّارُ جُبَارٌ، وَفِي الرِّكَازِ الْخُمُسُ»
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, পশুর আঘাত ক্ষতিপূরণ মুক্ত, কূপে ক্ষতিপূরণ মুক্ত, খনিতে নিপতিত হয়ে হতাহত হওয়া ক্ষতিপূরণ মুক্ত এবং আগুন লেগে হতাহত হওয়া ক্ষতিপূরণ মুক্ত। আর গুপ্তধন অথবা খনিজ পদার্থে এক পঞ্চমাংশ নির্ধারিত।
তাখরীজঃ সূনান আবু দাউদ হাদীস নং - ৪৫৯৪, সহীহ মুসলিম ১৬১০
138 - وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَيُّمَا قَرْيَةٍ أَتَيْتُمُوهَا وَأَقَمْتُمْ، فِيهَا مَسْهَمُكُمْ» - وَأَظُنُّهُ قَالَ فَهِيَ لَكُمْ أَوْ نَحْوَهُ مِنَ الْكَلَامِ - ` وَأَيُّمَا قَرْيَةٍ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ خُمُسَهَا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ، ثُمَّ هِيَ لَكُمْ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা যে কোন জনপদে উপনিত হয়ে অবস্থান করবে, সেখান এক অংশ পাবে। আর যে কোন জনপদের অধিবাসীরা আল্লাহ ও তার রাসুলের অবাধ্যতা করবে, তবে তার এক পঞ্চমাংশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য। আর তোমাদের জন্য।
তাখরীজঃ সহীহ মুসলিম ১৭৫৬