হাদীস বিএন


সহীহ মুসলিম





সহীহ মুসলিম (1801)


وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ - وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ قَدِمْنَا الشَّامَ فَأَتَانَا أَبُو الدَّرْدَاءِ فَقَالَ أَفِيكُمْ أَحَدٌ يَقْرَأُ عَلَى قِرَاءَةِ عَبْدِ اللَّهِ فَقُلْتُ نَعَمْ أَنَا . قَالَ فَكَيْفَ سَمِعْتَ عَبْدَ اللَّهِ يَقْرَأُ هَذِهِ الآيَةَ ( وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى ) قَالَ سَمِعْتُهُ يَقْرَأُ ( وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى * وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى ) . قَالَ وَأَنَا وَاللَّهِ هَكَذَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَؤُهَا وَلَكِنْ هَؤُلاَءِ يُرِيدُونَ أَنْ أَقْرَأَ وَمَا خَلَقَ . فَلاَ أُتَابِعُهُمْ .




১৮০১-(২৮২/৮২৪) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আলকামাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সিরিয়ায় পৌছলাম, আবূদ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাদের কাছে আগমন করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর কিরআত পড়ে? আমি বললাম, হ্যাঁ আমি। তিনি বলেন, তুমি আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে এ আয়াত وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى কীভাবে পড়তে শুনেছ? তিনি বললেন, আমি তাকে উক্ত আয়াত এভাবে পড়তে শুনেছি وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى * وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى

আবূদ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আল্লাহর শপথ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আয়াতটি এভাবে পড়তে শুনেছি। কিন্তু এরা চায়, আমি যেন وَمَا خَلَقَ সহযোগে পড়ি। আমি তাদের অনুসরণ করব না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৮৬, ইসলামীক সেন্টার ১৭৯৩)









সহীহ মুসলিম (1802)


وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَتَى عَلْقَمَةُ الشَّامَ فَدَخَلَ مَسْجِدًا فَصَلَّى فِيهِ ثُمَّ قَامَ إِلَى حَلْقَةٍ فَجَلَسَ فِيهَا - قَالَ - فَجَاءَ رَجُلٌ فَعَرَفْتُ فِيهِ تَحَوُّشَ الْقَوْمِ وَهَيْئَتَهُمْ . قَالَ فَجَلَسَ إِلَى جَنْبِي ثُمَّ قَالَ أَتَحْفَظُ كَمَا كَانَ عَبْدُ اللَّهِ يَقْرَأُ فَذَكَرَ بِمِثْلِهِ .




১৮০২-(২৮৩/...) কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবরাহীম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আলকামাহ্ (রহঃ) সিরিয়ায় এলেন। তিনি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলেন, অতঃপর উঠে দাঁড়িয়ে একটি পাঠচক্রে গিয়ে বসলেন। আলকামাহ্ (রহঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি এলে আমি লোকদের মধ্যে তার প্রতি সপ্রতিভ সঙ্কোচবোধ লক্ষ্য করলাম। তিনি আমার পাশে বসলেন, অতঃপর (আমাকে) বললেন, আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যেভাবে পড়তেন, তুমি কি সেভাবে সংরক্ষণ করেছ ..... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৮৭, ইসলামীক সেন্টার ১৭৯৪)









সহীহ মুসলিম (1803)


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي، هِنْدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ لَقِيتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فَقَالَ لِي مِمَّنْ أَنْتَ قُلْتُ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ . قَالَ مِنْ أَيِّهِمْ قُلْتُ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ . قَالَ هَلْ تَقْرَأُ عَلَى قِرَاءَةِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ فَاقْرَأْ ( وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى ) قَالَ فَقَرَأْتُ ( وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى * وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّى * وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى ) . قَالَ فَضَحِكَ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَؤُهَا .




১৮০৩-(২৮৪/...) আলী ইবনু হুজুর আস্ সা'দী (রহঃ) ..... আলকামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূদ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমাকে বলেন, তুমি কোথা থেকে এসেছ? আমি বললাম, ইরাকবাসী। তিনি বলেন, কোন এলাকার? আমি বললাম, কুফা এলাকার, তিনি জিজ্ঞেস করেন, তুমি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর কিরআত পড়তে পার? আমি বললাম, হ্যাঁ তিনি বলেন, তাহলে وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى সুরাটি পড়। আমি পড়লাম وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى * وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّى * وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى তিনি বলেন, আবূ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হেসে দিয়ে বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সূরাটি এভাবে পড়তে শুনেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৮৮, ইসলামীক সেন্টার ১৭৯৫)









সহীহ মুসলিম (1804)


وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ أَتَيْتُ الشَّامَ فَلَقِيتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فَذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ عُلَيَّةَ .




১৮০৪-(.../...) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... 'আলকামাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় পৌছে আবূদ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। ..... হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা ইবনু উলাইয়্যাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৮৯, ইসলামীক সেন্টার ১৭৯৬)









সহীহ মুসলিম (1805)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَعَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ .




১৮০৫-(২৮৫/৮২৫) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। 'আসরের সালাতের পর থেকে সূর্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯০, ইসলামীক সেন্টার ১৭৯৭)









সহীহ মুসলিম (1806)


وَحَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ سَالِمٍ، جَمِيعًا عَنْ هُشَيْمٍ، - قَالَ دَاوُدُ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، - أَخْبَرَنَا مَنْصُورٌ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سَمِعْتُ غَيْرَ، وَاحِدٍ، مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَكَانَ أَحَبَّهُمْ إِلَىَّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَبَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ .




১৮০৬-(২৮৬/৮২৬) দাউদ ইবনু রুশায়দ ও ইসমাঈল ইবনু সালিম (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একাধিক সাহাবীর নিকট শুনেছি, যাদের মধ্যে আমার প্রিয়তম উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও অন্তর্ভুক্ত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাতের পর থেকে সূর্যস্ত যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯১, ইসলামীক সেন্টার ১৭৯৮)









সহীহ মুসলিম (1807)


وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو غَسَّانَ، الْمِسْمَعِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا مُعَاذُ، بْنُ هِشَامٍ حَدَّثَنِي أَبِي كُلُّهُمْ، عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ غَيْرَ أَنَّ فِي، حَدِيثِ سَعِيدٍ وَهِشَامٍ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَشْرُقَ الشَّمْسُ .




১৮০৭-(২৮৭/...) যুহারর ইবনু হারব, আবূ গাসসান মিসমাঈ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... সকলে কাতাদাহ্ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে সাঈদ ও হিশাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণনায় আছেঃ ফজরের সালাতের পর সূর্য আলোকজ্জ্বল না হওয়া পর্যন্ত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯২, ইসলামীক সেন্টার ১৭৯৯)









সহীহ মুসলিম (1808)


وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُ قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ اللَّيْثِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ صَلاَةَ بَعْدَ صَلاَةِ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَلاَ صَلاَةَ بَعْدَ صَلاَةِ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ " .




১৮০৮-(২৮৮/৮২৭) হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ 'আসরের সালাতের পর থেকে সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত কোন সালাত নেই এবং ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯৩, ইসলামীক সেন্টার ১৮০০)









সহীহ মুসলিম (1809)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَتَحَرَّى أَحَدُكُمْ فَيُصَلِّي عِنْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَلاَ عِنْدَ غُرُوبِهَا " .




১৮০৯-(২৮৯/৮২৮) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যেন সূর্যোদয়কালে এবং সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায় করার সংকল্প না করে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯৪, ইসলামীক সেন্টার ১৮০১)









সহীহ মুসলিম (1810)


وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ، نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا أَبِي وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالاَ جَمِيعًا حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَحَرَّوْا بِصَلاَتِكُمْ طُلُوعَ الشَّمْسِ وَلاَ غُرُوبَهَا فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بِقَرْنَىْ شَيْطَانٍ " .




১৮১০-(২৯০/...) আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যান্তের সময় তোমাদের সালাতের সঙ্কল্প করো না। কারণ সূর্য শাইতানের দুই শিং এর মাঝখান দিয়ে উদিত হয়*। (ইসলামী ফাউন্ডেশন. ১৭৯৫, ইসলামীক সেন্টার ১৮০২)









সহীহ মুসলিম (1811)


وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ، نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا أَبِي وَابْنُ، بِشْرٍ قَالُوا جَمِيعًا حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا بَدَا حَاجِبُ الشَّمْسِ فَأَخِّرُوا الصَّلاَةَ حَتَّى تَبْرُزَ وَإِذَا غَابَ حَاجِبُ الشَّمْسِ فَأَخِّرُوا الصَّلاَةَ حَتَّى تَغِيبَ " .




১৮১১-(২৯১/৮২৯) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূর্যের কিনারা যখন প্রকাশিত হয় তখন সম্পূর্ণ প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা সালাত বিলম্বিত কর। আবার সূর্যের কিনারা যখন অদৃশ্য হয়ে যায় তখন সম্পূর্ণ অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত তোমরা সালাত বিলম্বিত কর। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯৬, ইসলামীক সেন্টার ১৮০৩)









সহীহ মুসলিম (1812)


وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ خَيْرِ بْنِ نُعَيْمٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنِ ابْنِ هُبَيْرَةَ، عَنْ أَبِي تَمِيمٍ الْجَيْشَانِيِّ، عَنْ أَبِي بَصْرَةَ الْغِفَارِيِّ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَصْرَ بِالْمُخَمَّصِ فَقَالَ " إِنَّ هَذِهِ الصَّلاَةَ عُرِضَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَضَيَّعُوهَا فَمَنْ حَافَظَ عَلَيْهَا كَانَ لَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ وَلاَ صَلاَةَ بَعْدَهَا حَتَّى يَطْلُعَ الشَّاهِدُ " . وَالشَّاهِدُ النَّجْمُ .




১৮১২-(২৯২/৮৩০) কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ বাসরাহ আল গিফারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখাম্মাস নামক স্থানে আমাদের নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন। তিনি বললেনঃ এ সালাত তোমাদের পূর্ববর্তীদের নিকট পেশ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা এ সালাত ধ্বংস করে দিল। যে ব্যক্তি এ সালাতের প্রতি যত্নবান হবে তাকে দ্বিগুণ সাওয়াব দেয়া হবে। এ সালাতের পর শাহিদ অর্থাৎ তারকা উদিত না হওয়া পর্যন্ত কোন সালাত নেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯৭, ইসলামীক সেন্টার ১৮০৪)









সহীহ মুসলিম (1813)


وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ خَيْرِ بْنِ نُعَيْمٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هُبَيْرَةَ السَّبَائِيِّ، - وَكَانَ ثِقَةً - عَنْ أَبِي تَمِيمٍ الْجَيْشَانِيِّ، عَنْ أَبِي بَصْرَةَ الْغِفَارِيِّ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَصْرَ . بِمِثْلِهِ .




১৮১৩-(.../...) যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ বাসরাহ আল গিফারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে আসরের সালাত আদায় করলেন ..... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯৮, ইসলামীক সেন্টার ১৮০৫)









সহীহ মুসলিম (1814)


وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُلَىٍّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ، يَقُولُ ثَلاَثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّيَ فِيهِنَّ أَوْ أَنْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَمِيلَ الشَّمْسُ وَحِينَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ .




১৮১৪-(২৯৩/৮৩১) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উলাইয়্যি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমি উকবাহ ইবনু আমির আল জুহানী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলতে শুনেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি সময়ে আমাদেরকে সালাত আদায় করতে এবং আমাদের মৃতদেরকে দাফন করতে নিষেধ করেছেনঃ (১) সূর্য যখন আলোকোদ্ভাসিত হয়ে উদয় হতে থাকে তখন থেকে তা পরিষ্কারভাবে উপরে উঠা পর্যন্ত, (২) সূর্য যখন ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় থেকে হেলে যাওয়া পর্যন্ত, (৩) সূর্য ক্ষীণ আলোক হওয়া থেকে তা সম্পূর্ণ অস্ত যাওয়া পর্যন্ত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৯৯, ইসলামীক সেন্টার ১৮০৬)









সহীহ মুসলিম (1815)


حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَعْقِرِيُّ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا شَدَّادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو عَمَّارٍ، وَيَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، - قَالَ عِكْرِمَةُ وَلَقِيَ شَدَّادٌ أَبَا أُمَامَةَ وَوَاثِلَةَ وَصَحِبَ أَنَسًا إِلَى الشَّامِ وَأَثْنَى عَلَيْهِ فَضْلاً وَخَيْرًا - عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ قَالَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ السُّلَمِيُّ كُنْتُ وَأَنَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَظُنُّ أَنَّ النَّاسَ عَلَى ضَلاَلَةٍ وَأَنَّهُمْ لَيْسُوا عَلَى شَىْءٍ وَهُمْ يَعْبُدُونَ الأَوْثَانَ فَسَمِعْتُ بِرَجُلٍ بِمَكَّةَ يُخْبِرُ أَخْبَارًا فَقَعَدْتُ عَلَى رَاحِلَتِي فَقَدِمْتُ عَلَيْهِ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُسْتَخْفِيًا جُرَءَاءُ عَلَيْهِ قَوْمُهُ فَتَلَطَّفْتُ حَتَّى دَخَلْتُ عَلَيْهِ بِمَكَّةَ فَقُلْتُ لَهُ مَا أَنْتَ قَالَ " أَنَا نَبِيٌّ " . فَقُلْتُ وَمَا نَبِيٌّ قَالَ " أَرْسَلَنِي اللَّهُ " . فَقُلْتُ وَبِأَىِّ شَىْءٍ أَرْسَلَكَ قَالَ " أَرْسَلَنِي بِصِلَةِ الأَرْحَامِ وَكَسْرِ الأَوْثَانِ وَأَنْ يُوَحَّدَ اللَّهُ لاَ يُشْرَكُ بِهِ شَىْءٌ " . قُلْتُ لَهُ فَمَنْ مَعَكَ عَلَى هَذَا قَالَ " حُرٌّ وَعَبْدٌ " . قَالَ وَمَعَهُ يَوْمَئِذٍ أَبُو بَكْرٍ وَبِلاَلٌ مِمَّنْ آمَنَ بِهِ . فَقُلْتُ إِنِّي مُتَّبِعُكَ . قَالَ " إِنَّكَ لاَ تَسْتَطِيعُ ذَلِكَ يَوْمَكَ هَذَا أَلاَ تَرَى حَالِي وَحَالَ النَّاسِ وَلَكِنِ ارْجِعْ إِلَى أَهْلِكَ فَإِذَا سَمِعْتَ بِي قَدْ ظَهَرْتُ فَأْتِنِي " . قَالَ فَذَهَبْتُ إِلَى أَهْلِي وَقَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَكُنْتُ فِي أَهْلِي فَجَعَلْتُ أَتَخَبَّرُ الأَخْبَارَ وَأَسْأَلُ النَّاسَ حِينَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ حَتَّى قَدِمَ عَلَىَّ نَفَرٌ مِنْ أَهْلِ يَثْرِبَ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ فَقُلْتُ مَا فَعَلَ هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَقَالُوا النَّاسُ إِلَيْهِ سِرَاعٌ وَقَدْ أَرَادَ قَوْمُهُ قَتْلَهُ فَلَمْ يَسْتَطِيعُوا ذَلِكَ . فَقَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَعْرِفُنِي قَالَ " نَعَمْ أَنْتَ الَّذِي لَقِيتَنِي بِمَكَّةَ " . قَالَ فَقُلْتُ بَلَى . فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَخْبِرْنِي عَمَّا عَلَّمَكَ اللَّهُ وَأَجْهَلُهُ . أَخْبِرْنِي عَنِ الصَّلاَةِ قَالَ " صَلِّ صَلاَةَ الصُّبْحِ ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلاَةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ حَتَّى تَرْتَفِعَ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ حِينَ تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ ثُمَّ صَلِّ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتَّى يَسْتَقِلَّ الظِّلُّ بِالرُّمْحِ ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلاَةِ فَإِنَّ حِينَئِذٍ تُسْجَرُ جَهَنَّمُ فَإِذَا أَقْبَلَ الْفَىْءُ فَصَلِّ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتَّى تُصَلِّيَ الْعَصْرَ ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلاَةِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ " . قَالَ فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ فَالْوُضُوءُ حَدِّثْنِي عَنْهُ قَالَ " مَا مِنْكُمْ رَجُلٌ يُقَرِّبُ وَضُوءَهُ فَيَتَمَضْمَضُ وَيَسْتَنْشِقُ فَيَنْتَثِرُ إِلاَّ خَرَّتْ خَطَايَا وَجْهِهِ وَفِيهِ وَخَيَاشِيمِهِ ثُمَّ إِذَا غَسَلَ وَجْهَهُ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ إِلاَّ خَرَّتْ خَطَايَا وَجْهِهِ مِنْ أَطْرَافِ لِحْيَتِهِ مَعَ الْمَاءِ ثُمَّ يَغْسِلُ يَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ إِلاَّ خَرَّتْ خَطَايَا يَدَيْهِ مِنْ أَنَامِلِهِ مَعَ الْمَاءِ ثُمَّ يَمْسَحُ رَأْسَهُ إِلاَّ خَرَّتْ خَطَايَا رَأْسِهِ مِنْ أَطْرَافِ شَعْرِهِ مَعَ الْمَاءِ ثُمَّ يَغْسِلُ قَدَمَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ إِلاَّ خَرَّتْ خَطَايَا رِجْلَيْهِ مِنْ أَنَامِلِهِ مَعَ الْمَاءِ فَإِنْ هُوَ قَامَ فَصَلَّى فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَمَجَّدَهُ بِالَّذِي هُوَ لَهُ أَهْلٌ وَفَرَّغَ قَلْبَهُ لِلَّهِ إِلاَّ انْصَرَفَ مِنْ خَطِيئَتِهِ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ " . فَحَدَّثَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ بِهَذَا الْحَدِيثِ أَبَا أُمَامَةَ صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ أَبُو أُمَامَةَ يَا عَمْرَو بْنَ عَبَسَةَ انْظُرْ مَا تَقُولُ فِي مَقَامٍ وَاحِدٍ يُعْطَى هَذَا الرَّجُلُ فَقَالَ عَمْرٌو يَا أَبَا أُمَامَةَ لَقَدْ كَبِرَتْ سِنِّي وَرَقَّ عَظْمِي وَاقْتَرَبَ أَجَلِي وَمَا بِي حَاجَةٌ أَنْ أَكْذِبَ عَلَى اللَّهِ وَلاَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ لَوْ لَمْ أَسْمَعْهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا - حَتَّى عَدَّ سَبْعَ مَرَّاتٍ - مَا حَدَّثْتُ بِهِ أَبَدًا وَلَكِنِّي سَمِعْتُهُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ .




১৮১৫-(২৯৪/৮৩২) আহমাদ ইবনু জাফার আল মাকিরি (রহঃ) ..... 'ইকরামাহ (রহঃ) বলেন, শাদ্দাদ (রহঃ), আবূ উমামাহ ও ওয়াসিলাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সাক্ষাৎ লাভ করেছে এবং সিরিয়ায় আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাহচর্য লাভ করেছে এবং তার উচ্ছসিত প্রশংসা ও গুণগান করেছে। আবূ উসামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, 'আমর ইবনু আবাসাহ আস সুলামী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আমি জাহিলী যুগে ধারণা করতাম যে, সব লোকই পথভ্রষ্ট ও তাদের কোন ধর্ম নেই। তারা দেব-দেবীর পূজা করত। এ অবস্থায় আমি শুনতে পেলাম যে, মাক্কায় জনৈক ব্যক্তি বিভিন্ন বিষয় বর্ণনা করেছেন। আমি আমার বাহনে উপবিষ্ট হয়ে তার নিকট এসে পৌছে দেখলাম যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেকে জনসমাগম থেকে সরিয়ে রাখেন, তার সম্প্রদায় তাকে অত্যাচার-নির্যাতন করে। আমি কৌশলে মাক্কায় তার নিকট প্রবেশ করলাম।

আমি তাকে বললাম, আপনি কে? তিনি বলেনঃ আমি একজন নবী। আমি বললাম, নবী কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন। আমি বললাম, তিনি আপনাকে কোন জিনিস দিয়ে পাঠিয়েছেন? তিনি বলেনঃ তিনি আমাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখতে, মূর্তিসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে, আল্লাহ এক বলে- ঘোষণা করতে এবং তার সাথে কোন কিছু শারীক না করতে পাঠিয়েছেন। আমি তাকে বললাম, এ ব্যাপারে আপনার সাথে কারা আছে? তিনি বলেনঃ স্বাধীন ও দাসেরা।

বর্ণনাকারী বলেন, সেকালে তার সাথে ছিলেন তার ওপর ঈমান আনয়নকারী আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), বিলাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রমুখ। আমি বললাম, আমিও আপনার অনুসারী হতে চাই। তিনি বলেনঃ বর্তমান পরিস্থিতিতে তুমি তাতে সক্ষম হবে না। তুমি কি আমার অবস্থা এবং (ঈমান আনয়নকারী) অন্যদের অবস্থা দেখছ না? বরং তুমি তোমার পরিবারে ফিরে যাও, যখন তুমি শুনতে পাবে যে, আমি বিজয়ী হয়েছি তখন আমার নিকট এসো। বর্ণনাকারী বলেন, তাই আমি আমার পরিবারে ফিরে এলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় আগমন করলেন, আমি তখন আমার পরিবারের সাথে ছিলাম। তিনি মাদীনায় আসার পর থেকে আমি খবরাখবর নিতে থাকলাম এবং লোকজনের নিকট জিজ্ঞেস করতে থাকলাম।

শেষে আমার নিকট ইয়াসরিব-এর একদল লোক অর্থাৎ একদল মাদীনাহবাসী এলে আমি জিজ্ঞেস করলাম, যে ব্যক্তি মাদীনায় এসেছেন তিনি কি করনে? তারা বলেন, লোকজন অতি দ্রুত তার অনুসারী হচ্ছে, অথচ তার জাতি তাকে হত্যা করতে বদ্ধপরিকর, কিন্তু তারা তাতে সক্ষম হয়নি। অতএব, আমি মদীনায় এসে তার নিকট প্রবেশ করলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তুমি তো মাক্কায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললামঃ হ্যাঁ। আমি আরো বললাম, হে আল্লাহর নবী। আল্লাহ আপনাকে যা শিখিয়েছেন এবং যে সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞ তা আমাকে শিক্ষা দিন, আমাকে সালাত সম্পর্কে অবহিত করুন।

তিনি বলেনঃ তুমি ফজরের সালাত আদায় কর, অতঃপর সূর্য উদিত হয়ে উপরে না ওঠা পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত থাক। কারণ সূর্য উদিত হওয়ার সময় শাইতানের দু' শিং-এর মাঝখান দিয়ে উদিত হয় এবং তখন কাফিররা সূর্যকে সিজদা করে। অতঃপর তীরের ছায়া তার সমান না হওয়া পর্যন্ত তুমি সালাত আদায় কর, কারণ এ সালাতে মালায়িকাহ উপস্থিত হন। অতঃপর সালাত থেকে বিরত থাক, কারণ তখন জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়। অতঃপর সূর্য যখন ঢলে যায় তখন থেকে সালাত আদায় কর এবং 'আসরের সালাত আদায় করা পর্যন্ত মালাকগণ (ফেরেশতামণ্ডলী) উপস্থিত থাকেন। অতঃপর সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত থাক। কারণ তা শাইতানের দু' শিং-এর মাঝখান দিয়ে অস্ত যায় এবং তখন কাফিররা সূর্যকে সিজদা করে।

বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! ওযু সম্পর্কে আমাকে বলুন। তিনি বলেনঃ তোমাদের যে কোন ব্যক্তির নিকট ওযুর পানি পেশ করা হলে সে যেন কুলি করে, নাকে পানি দিয়ে তা পরিষ্কার করে, এতে তার মুখমণ্ডলের ও নাক গহ্বরের সমস্ত পাপ ঝরে যায়। অতঃপর যখন সে আল্লাহর নির্দেশ মতো মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন পানির সাথে তার মুখমণ্ডল থেকে, এমনকি দাঁড়ির আশপাশের সমস্ত পাপ ঝরে যায়। অতঃপর তার দু' হাত কনুই পর্যন্ত ধোয়ার সাথে সাথে তার আঙ্গুলসমূহ থেকে পানির সাথে গুনাহসমূহ ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন তার পদদ্বয় ধৌত করে তখন তার আঙ্গুলসমূহ দিয়ে তার পাপসমূহ ঝরে যায়। অতঃপর সে যদি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করে, তার যথাযোগ্য মর্যাদা বর্ণনা করে এবং আল্লাহর জন্য নিজের অন্তরকে পৃথক করে নেয় তাহলে সে তার জন্মদিনের মতো গুনাহমুক্ত হয়ে যায়।

আমর ইবনু আবাসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এ হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহচর আবূ উমামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি তাকে বলেন, হে আমর ইবনু আবাসাহ। লক্ষ্য করুন আপনি বলছেন, এক স্থানেই লোকটিকে এত সাওয়াব দেয়া হবে! আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, হে আবূ উমামাহ! আমি বার্ধক্যে পৌছে গেছি, আমার হাড়গোড় দুর্বল হয়ে গেছে এবং আমার মৃত্যু সন্নিকটে। এ অবস্থায় আল্লাহ ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি মিথ্যারোপে আমার কী ফায়দাহ। আমি যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ হাদীস একবার, দু'বার, তিনবার, এমনকি সাতবার গুনতাম তাহলে কখনো তা বর্ণনা করতাম না, কিন্তু এর অধিক সংখ্যক বার তার নিকট শুনেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮০০, ইসলামীক সেন্টার ১৮০৭)









সহীহ মুসলিম (1816)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ وَهِمَ عُمَرُ إِنَّمَا نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُتَحَرَّى طُلُوعُ الشَّمْسِ وَغُرُوبُهَا .




১৮১৬-(২৯৫/৮৩৩) মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ধারণা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যোদয় ও সূর্যস্তকালে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।









সহীহ মুসলিম (1817)


وَحَدَّثَنَا حَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ لَمْ يَدَعْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ . قَالَ فَقَالَتْ عَائِشَةُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَتَحَرَّوْا طُلُوعَ الشَّمْسِ وَلاَ غُرُوبَهَا فَتُصَلُّوا عِنْدَ ذَلِكَ " .




১৮১৭-(২৯৬/...) হাসন আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাতের পর দু' রাকাআত (নাফল) সালাত (আদায় করা) ত্যাগ করেননি। বর্ণনাকারী বলেন, 'আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আরো বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপেক্ষায় থেক না যে, তখন সালাত আদায় করবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮০২, ইসলামীক সেন্টার. ১৮০৯)









সহীহ মুসলিম (1818)


حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، - وَهُوَ ابْنُ الْحَارِثِ - عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ، بْنَ أَزْهَرَ وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ أَرْسَلُوهُ إِلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا اقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلاَمَ مِنَّا جَمِيعًا وَسَلْهَا عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ وَقُلْ إِنَّا أُخْبِرْنَا أَنَّكِ تُصَلِّينَهُمَا وَقَدْ بَلَغَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهُمَا . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَكُنْتُ أَصْرِفُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ النَّاسَ عَنْهَا . قَالَ كُرَيْبٌ فَدَخَلْتُ عَلَيْهَا وَبَلَّغْتُهَا مَا أَرْسَلُونِي بِهِ . فَقَالَتْ سَلْ أُمَّ سَلَمَةَ . فَخَرَجْتُ إِلَيْهِمْ فَأَخْبَرْتُهُمْ بِقَوْلِهَا فَرَدُّونِي إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ بِمِثْلِ مَا أَرْسَلُونِي بِهِ إِلَى عَائِشَةَ . فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنْهُمَا ثُمَّ رَأَيْتُهُ يُصَلِّيهِمَا أَمَّا حِينَ صَلاَّهُمَا فَإِنَّهُ صَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ دَخَلَ وَعِنْدِي نِسْوَةٌ مِنْ بَنِي حَرَامٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَصَلاَّهُمَا فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ الْجَارِيَةَ فَقُلْتُ قُومِي بِجَنْبِهِ فَقُولِي لَهُ تَقُولُ أُمُّ سَلَمَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَسْمَعُكَ تَنْهَى عَنْ هَاتَيْنِ الرَّكْعَتَيْنِ وَأَرَاكَ تُصَلِّيهِمَا فَإِنْ أَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخِرِي عَنْهُ - قَالَ - فَفَعَلَتِ الْجَارِيَةُ فَأَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخَرَتْ عَنْهُ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " يَا بِنْتَ أَبِي أُمَيَّةَ سَأَلْتِ عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ إِنَّهُ أَتَانِي نَاسٌ مِنْ عَبْدِ الْقَيْسِ بِالإِسْلاَمِ مِنْ قَوْمِهِمْ فَشَغَلُونِي عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ فَهُمَا هَاتَانِ " .




১৮১৮-(২৯৭/৮৩৪) হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া আত তুজীবী (রহঃ) ..... কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস, 'আবদুর রহমান ইবনু আযহার ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রমুখ তাকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট পাঠালেন। তারা বললেন, তুমি তাকে [আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে আমাদের পক্ষ থেকে সালাম জানাবে এবং আসরের সালাতের পর দু' রাকাআত (নাফল) সালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে এবং বলবে যে, আমাদের অবহিত করা হয়েছে যে, আপনি সে দু' রাকাআত আদায় করেন, অথচ আমরা জানতে পেরেছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমিও উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে লোকজনকে এ সালাত থেকে বিরত রাখতাম। আবূ কুরায়ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তারা আমাকে যে বিষয়সহ পাঠিয়েছিলেন, আমি তার ঘরে প্রবেশ করে তা তাকে পৌছে দিলাম। তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে জিজ্ঞেস কর। আমি বের হয়ে তাদের নিকট এসে আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর কথা তাদেরকে অবহিত করলাম। অতঃপর তারা আমাকে যে বিষয়সহ আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট পাঠিয়েছিলেন, সেই একই বিষয়সহ উম্মু সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট পাঠালেন। উম্মু সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সে সালাত আদায় করতে নিষেধ করতে শুনেছি, তা সত্ত্বেও পরে আমি তাকে তা আদায় করতে দেখেছি। তিনি যখন এ সালাত আদায় করেছেন তার বিবরণ এই যে, তিনি আসরের সালাত আদায় করলেন, অতঃপর আমার নিকট প্রবেশ করলেন, তখন আনসার সম্প্রদায়ভুক্ত বানু হারাম-এর কতক মহিলা আমার নিকট উপস্থিত ছিল। তিনি দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন।

আমি এক দাসীকে তার নিকট পাঠিয়ে বললাম, তুমি গিয়ে তার এক পাশে দাঁড়াবে, তারপর তাকে বলবে, উম্মু সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, হে আল্লাহর রসূল! এ দু' রাকাআত সালাত আদায় করতে আপনি নিষেধ করেছেন তা আমি শুনেছি, আর এখন দেখছি, আপনি তা আদায় করছেন। তিনি তার হাত দিয়ে ইশারা করলে সে তার জন্য অপেক্ষা করবে। বর্ণনাকারী বলেন, দাসী তাই করল। তিনি তার হাত দিয়ে ইশারা করলে সে তার জন্য অপেক্ষায় থাকে। তিনি সালাত থেকে অবসর হয়ে বলেনঃ হে আবূ উমাইয়্যাহ-এর কন্যা! তুমি আসরের সালাতের পর দু' রাকাআত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছ। তার বিবরণ এই যে, আবদুল কায়স গোত্রের কতক লোক স্বগোত্রের পক্ষ থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের উদ্দেশে আমার নিকট আসে। (তাদের নিয়ে) ব্যস্ত থাকার কারণে আমি যুহরের সালাতের পরবর্তী দু' রাকাআত সালাত আদায় করতে পারিনি। এ হ'ল সে দু' রাকাআত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮০৩, ইসলামীক সেন্টার, ১৮১০)









সহীহ মুসলিম (1819)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ ابْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - أَخْبَرَنِي مُحَمَّدٌ، - وَهُوَ ابْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ - قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنِ السَّجْدَتَيْنِ اللَّتَيْنِ، كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّيهِمَا بَعْدَ الْعَصْرِ فَقَالَتْ كَانَ يُصَلِّيهِمَا قَبْلَ الْعَصْرِ ثُمَّ إِنَّهُ شُغِلَ عَنْهُمَا أَوْ نَسِيَهُمَا فَصَلاَّهُمَا بَعْدَ الْعَصْرِ ثُمَّ أَثْبَتَهُمَا وَكَانَ إِذَا صَلَّى صَلاَةً أَثْبَتَهَا . قَالَ يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ قَالَ إِسْمَاعِيلُ تَعْنِي دَاوَمَ عَلَيْهَا .




১৮১৯-(২৯৮/৮৩৫) ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বাহ ও আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে দু' রাকাআত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসর সালাতের পর আদায় করেছিলেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসর সালাতের আগে ঐ দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর ব্যস্ততার কারণে অথবা ভুলে গিয়ে তিনি তা আদায় করেননি। সে দু' রাকাআতই তিনি 'আসর সালাতের পর আদায় করেছেন, অতঃপর তা নিয়মিত পড়তে থাকেন। তিনি কোন সালাত আদায় করলে তা নিয়মিত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮০৪, ইসলামীক সেন্টার ১৮১১)









সহীহ মুসলিম (1820)


حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي جَمِيعًا، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ عِنْدِي قَطُّ .




১৮২০-(২৯৯/...) যুহায়র ইবনু হারব, ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট (অবস্থানকালে) আসর সালাতের পরের দু' রাকাআত কখনো ত্যাগ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৮০৫, ইসলামীক সেন্টার ১৮১২)