সহীহ মুসলিম
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيُصَلِّ بَعْدَهَا أَرْبَعًا " .
১৯২১-(৬৭/৮৮১) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন জুমুআর সালাত আদায় করে, তখন সে যেন তার পরে চার রাকাআত (সুন্নাত) সালাত আদায় করে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯০৬, ইসলামীক সেন্টার ১৯১৩)
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا صَلَّيْتُمْ بَعْدَ الْجُمُعَةِ فَصَلُّوا أَرْبَعًا " . - زَادَ عَمْرٌو فِي رِوَايَتِهِ قَالَ ابْنُ إِدْرِيسَ قَالَ سُهَيْلٌ فَإِنْ عَجِلَ بِكَ شَىْءٌ فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ فِي الْمَسْجِدِ وَرَكْعَتَيْنِ إِذَا رَجَعْتَ " .
১৯২২-(৬৮/...) আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা জুমুআর সালাতের পর আরো সালাত আদায় করলে চার রাকাআত (সুন্নাত) আদায় কর। আমর (রহঃ) তার রিওয়ায়াতে আরো বলেন, ইবনু ইদরীস বলেছেন যে, সুহায়ল (রহঃ) বলেন, তোমরা তাড়াহুড়ায় থাকলে মসজিদে দু' রাকাআত এবং (বাড়িতে) ফিরে গিয়ে দু' রাক'আত আদায় করো। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯০৭, ইসলামীক সেন্টার ১৯১৪)
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، كِلاَهُمَا عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ كَانَ مِنْكُمْ مُصَلِّيًا بَعْدَ الْجُمُعَةِ فَلْيُصَلِّ أَرْبَعًا " . وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ " مِنْكُمْ " .
১৯২৩-(৬৯/...) যুহায়র ইবনু হারব, আমর আন নাকিদ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ জুমুআর সালাতের পর সালাত আদায় করতে চাইলে সে যেন চার রাকাআত আদায় করে। জারীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর রিওয়ায়াতে 'তোমাদের মধ্যে' কথাটুকু যুক্ত হয়নি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯০৮, ইসলামীক সেন্টার ১৯১৫)
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَمُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ كَانَ إِذَا صَلَّى الْجُمُعَةَ انْصَرَفَ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ ذَلِكَ .
১৯২৪-(৭০/৮৮২) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ, কুতায়বাহ (ইবনু সাঈদ) (রহঃ) .....আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি জুমুআর সালাত আদায় করে ফিরে এসে নিজ বাড়িতে দু'রাকাআত (সুন্নাত) সালাত আদায় করতেন। তিনি পুনরায় বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯০৯, ইসলামীক সেন্টার ১৯১৫)
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ وَصَفَ تَطَوُّعَ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَكَانَ لاَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ حَتَّى يَنْصَرِفَ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ . قَالَ يَحْيَى أَظُنُّنِي قَرَأْتُ فَيُصَلِّي أَوْ أَلْبَتَّةَ .
১৯২৫-(৭১/...) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নফল সালাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তিনি জুমুআর সালাতের পর ফিরে না আসা পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন না, অতঃপর নিজ বাড়িতে দু' রাকাআত সালাত আদায় করতেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মনে হয় আমি আদায় করেছি (বর্ণনা করেছি), তিনি সালাত আদায় করতেন অথবা অবশ্যই (সালাত আদায় করতেন)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯১০, ইসলামীক সেন্টার ১৯১৭)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، بْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنَا عَمْرٌو، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ .
১৯২৬-(৭২/...) আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআর সালাতের পর দু'রাকাআত সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯১১, ইসলামীক সেন্টার ১৯১৮)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُمَرُ، بْنُ عَطَاءِ بْنِ أَبِي الْخُوَارِ أَنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ، أَرْسَلَهُ إِلَى السَّائِبِ ابْنِ أُخْتِ نَمِرٍ يَسْأَلُهُ عَنْ شَىْءٍ، رَآهُ مِنْهُ مُعَاوِيَةُ فِي الصَّلاَةِ فَقَالَ نَعَمْ . صَلَّيْتُ مَعَهُ الْجُمُعَةَ فِي الْمَقْصُورَةِ فَلَمَّا سَلَّمَ الإِمَامُ قُمْتُ فِي مَقَامِي فَصَلَّيْتُ فَلَمَّا دَخَلَ أَرْسَلَ إِلَىَّ فَقَالَ لاَ تَعُدْ لِمَا فَعَلْتَ إِذَا صَلَّيْتَ الْجُمُعَةَ فَلاَ تَصِلْهَا بِصَلاَةٍ حَتَّى تَكَلَّمَ أَوْ تَخْرُجَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَنَا بِذَلِكَ أَنْ لاَ تُوصَلَ صَلاَةٌ حَتَّى نَتَكَلَّمَ أَوْ نَخْرُجَ .
১৯২৭-(৭৩/৮৮৩) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... উমর ইবনু আতা ইবনু আবূল খুওয়ার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নাফি ইবনু জুবায়র (রহঃ) তাকে নামির-এর ভাগ্নে সায়িব-এর নিকট একটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে পাঠান যা মু'আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার সালাতের ব্যাপারে লক্ষ্য করেছেন। তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি মাকসূরায় দাঁড়িয়ে তার সাথে জুমুআর সালাত আদায় করলাম। ইমামের সালাম ফিরানোর পর আমি আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে (সুন্নাত) সালাত আদায় করলাম। তিনি প্রবেশ করে আমাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি বললেন, তুমি যা করেছে তার পুনরাবৃত্তি করো না। তুমি জুমুআর সালাত আদায় করার পর কথা না বলা পর্যন্ত অথবা বের না হয়ে যাওয়া পর্যন্ত কোনরূপ সালাত আদায় করো না। কারণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এরূপ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা কথা না বলা অথবা বের হয়ে না যাওয়া পর্যন্ত যেন সালাত না আদায় করি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯১২, ইসলামীক সেন্টার ১৯১৯)
وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ عَطَاءٍ، أَنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ، أَرْسَلَهُ إِلَى السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ابْنِ أُخْتِ نَمِرٍ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمِثْلِهِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَلَمَّا سَلَّمَ قُمْتُ فِي مَقَامِي وَلَمْ يَذْكُرِ الإِمَامَ .
১৯২৮-(.../...) হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... 'উমার ইবনু আত্বা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নাফি ইবনু জুবায়র (রহঃ) তাকে নামির এর ভাগ্নে সারিব ইবনু ইয়াযীদ এর নিকট পাঠান। ..... হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বের ন্যায়। তবে তিনি বলেনঃ তিনি সালাম ফিরালে আমি আমার জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। এ সূত্রে ইমাম' শব্দটি যুক্ত হয়নি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯১৩, ইসলামীক সেন্টার, ১৯২০)
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، جَمِيعًا عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، - قَالَ ابْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، - أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي الْحَسَنُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ، عَبَّاسٍ قَالَ شَهِدْتُ صَلاَةَ الْفِطْرِ مَعَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ فَكُلُّهُمْ يُصَلِّيهَا قَبْلَ الْخُطْبَةِ ثُمَّ يَخْطُبُ قَالَ فَنَزَلَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ حِينَ يُجَلِّسُ الرِّجَالَ بِيَدِهِ ثُمَّ أَقْبَلَ يَشُقُّهُمْ حَتَّى جَاءَ النِّسَاءَ وَمَعَهُ بِلاَلٌ فَقَالَ ( يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَنْ لاَ يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا ) فَتَلاَ هَذِهِ الآيَةَ حَتَّى فَرَغَ مِنْهَا ثُمَّ قَالَ حِينَ فَرَغَ مِنْهَا " أَنْتُنَّ عَلَى ذَلِكِ " فَقَالَتِ امْرَأَةٌ وَاحِدَةٌ لَمْ يُجِبْهُ غَيْرُهَا مِنْهُنَّ نَعَمْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ لاَ يُدْرَى حِينَئِذٍ مَنْ هِيَ قَالَ " فَتَصَدَّقْنَ " . فَبَسَطَ بِلاَلٌ ثَوْبَهُ ثُمَّ قَالَ هَلُمَّ فِدًى لَكُنَّ أَبِي وَأُمِّي . فَجَعَلْنَ يُلْقِينَ الْفَتَخَ وَالْخَوَاتِمَ فِي ثَوْبِ بِلاَلٍ .
১৯২৯-(১/৮৮৪) মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' ও 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এবং আবূ বাকর, উমার ও উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে ঈদুল ফিতরের সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তারা সবাই খুতবার আগে সালাত আদায় করেছেন এবং পরে খুতবাহ পাঠ করেছেন। তিনি বলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মিম্বার থেকে) অবতরণ করলেন। যখন তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে লোকদের বসিয়ে দিচ্ছিলেন, তা যেন আমি দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর তিনি লোকদের মধ্য দিয়ে সামনে অগ্রসর হয়ে মহিলাদের নিকট আসলেন। এ সময় তার সাথে বিলাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ছিলেন।
এরপর তিনি এ আয়াতটুকু পাঠ করলেন يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَنْ لاَ يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا "হে নবী! ঈমানদার মহিলারা আপনার নিকট আসে, তখন তারা একথার ওপর বাইয়াত করবে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করবে না"- (সূরাহ আল মুমতাহিনাহ ৬০ঃ ১২)। এ আয়াত পাঠ সমাপ্ত করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তোমরা কি এ কথার ওপর অটল আছ? তখন মাত্র একজন মহিলাই উত্তর করল, হ্যাঁ। হে আল্লাহর নবী! সে ব্যতীত তাদের মধ্যে থেকে আর কেউ প্রতি উত্তর করেননি। অবশ্যই মহিলাটি কে তখন তা জানা যায়নি। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তারা সদাকাহ করতে লাগল আর বিলাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার কাপড় বিছিয়ে দিলেন অতঃপর বললেন, তোমাদের প্রতি আমার মা-বাপ কুরবান হোক! এগিয়ে আসো। তখন মহিলারা তাদের ছোট বড় আংটিসমূহ বিলালের কাপড়ের উপর ফেলতে লাগল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯১৪, ইসলামীক সেন্টার ১৯২১)
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ، عُيَيْنَةَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءً، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ أَشْهَدُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَصَلَّى قَبْلَ الْخُطْبَةِ - قَالَ - ثُمَّ خَطَبَ فَرَأَى أَنَّهُ لَمْ يُسْمِعِ النِّسَاءَ فَأَتَاهُنَّ فَذَكَّرَهُنَّ وَوَعَظَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ وَبِلاَلٌ قَائِلٌ بِثَوْبِهِ فَجَعَلَتِ الْمَرْأَةُ تُلْقِي الْخَاتَمَ وَالْخُرْصَ وَالشَّىْءَ .
১৯৩০-(২/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদের সালাত খুতবার পূর্বেই আদায় করেছেন। সালাতের পর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুতবাহ দিয়েছেন। তাই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহিলাদের কাছে এসে তাদেরকে বুঝালেন ও উপদেশ দিলেন এবং তাদেরকে দান সদাকার জন্যে আদেশ করলেন। বিলাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার কাপড় বিছিয়ে রেখেছিলেন। মহিলাগণ নিজ নিজ আংটি, বালা অন্যান্য জিনিস এতে ঢেলে দিতে লাগল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯১৫, ইসলামীক সেন্টার ১৯২২)
وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنِي يَعْقُوبُ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، كِلاَهُمَا عَنْ أَيُّوبَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ
১৯৩১-(.../...) আবূর রাবী' আয যাহরানী, ইয়াকুব আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... উভয়েই আইয়ূব (রহঃ) থেকে একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯১৬, ইসলামীক সেন্টার ১৯২৩)
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ ابْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَامَ يَوْمَ الْفِطْرِ فَصَلَّى فَبَدَأَ بِالصَّلاَةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ ثُمَّ خَطَبَ النَّاسَ فَلَمَّا فَرَغَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَزَلَ وَأَتَى النِّسَاءَ فَذَكَّرَهُنَّ وَهُوَ يَتَوَكَّأُ عَلَى يَدِ بِلاَلٍ وَبِلاَلٌ بَاسِطٌ ثَوْبَهُ يُلْقِينَ النِّسَاءُ صَدَقَةً . قُلْتُ لِعَطَاءٍ زَكَاةَ يَوْمِ الْفِطْرِ قَالَ لاَ وَلَكِنْ صَدَقَةً يَتَصَدَّقْنَ بِهَا حِينَئِذٍ تُلْقِي الْمَرْأَةُ فَتَخَهَا وَيُلْقِينَ وَيُلْقِينَ . قُلْتُ لِعَطَاءٍ أَحَقًّا عَلَى الإِمَامِ الآنَ أَنْ يَأْتِيَ النِّسَاءَ حِينَ يَفْرُغُ فَيُذَكِّرَهُنَّ قَالَ إِي لَعَمْرِي إِنَّ ذَلِكَ لَحَقٌّ عَلَيْهِمْ وَمَا لَهُمْ لاَ يَفْعَلُونَ ذَلِكَ.
১৯৩২-(৩/৮৮৫) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিত্বরের দিন দাঁড়ালেন, অতঃপর সালাত আদায় করলেন। তিনি খুতবাহ দেয়ার আগে প্রথমে সালাত আদায় করেছেন, পরে জনতার উদ্দেশে খুতবাহ দিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাহ শেষ করে মহিলাদের কাছে এসে উপদেশ দিলেন। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিলালের হাতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং বিলাল তার কাপড় প্রসারিত করে রেখেছিলেন। মহিলারা এতে দান বস্তু ফেলছিল। আমি (ইবনু জুরায়জ) আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, তা কি ঈদুল ফিত্বরের যাকাত (সদাকায়ে ফিতর)? আতা বললেন, না, বরং তা সাধারণ সদাকাই ছিল। মহিলারা তাদের মূল্যবান আংটি (দানপাত্রে) ফেলছিল এবং সম্ভব সবকিছু বিলিয়ে দিচ্ছিল। আমি আত্বা (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, বর্তমানে কি ইমামের জন্য খুতবাহ সমাপ্ত করার পর মহিলাদের কাছে এসে তাদেরকে উপদেশ শুনানোর বিধি সম্মত? আতা বললেন, হ্যাঁ। আমার জীবনের রবের শপথ! এটা ইমামদের ওপর অবশ্য কর্তব্য। তাদের এ কাজ না করার কি কারণ থাকতে পারে? (ইসলামী ফাউন্ডেশন, ১৯১৭, ইসলামীক সেন্টার ১৯২৪)
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ يَوْمَ الْعِيدِ فَبَدَأَ بِالصَّلاَةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلاَ إِقَامَةٍ ثُمَّ قَامَ مُتَوَكِّئًا عَلَى بِلاَلٍ فَأَمَرَ بِتَقْوَى اللَّهِ وَحَثَّ عَلَى طَاعَتِهِ وَوَعَظَ النَّاسَ وَذَكَّرَهُمْ ثُمَّ مَضَى حَتَّى أَتَى النِّسَاءَ فَوَعَظَهُنَّ وَذَكَّرَهُنَّ فَقَالَ تَصَدَّقْنَ فَإِنَّ أَكْثَرَكُنَّ حَطَبُ جَهَنَّمَ فَقَامَتْ امْرَأَةٌ مِنْ سِطَةِ النِّسَاءِ سَفْعَاءُ الْخَدَّيْنِ فَقَالَتْ لِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ لِأَنَّكُنَّ تُكْثِرْنَ الشَّكَاةَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ قَالَ فَجَعَلْنَ يَتَصَدَّقْنَ مِنْ حُلِيِّهِنَّ يُلْقِينَ فِي ثَوْبِ بِلَالٍ مِنْ أَقْرِطَتِهِنَّ وَخَوَاتِمِهِنَّ
১৯৩৩-(৪/...) মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঈদের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি খুতবার আগে প্রথমে সালাত আদায় করলেন-আযান ইকামাত ছাড়া। অতঃপর তিনি বিলালের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন এবং "আল্লাহ ভীতি" অর্জন করার আদেশ করলেন ও তার আনুগত্য করার জন্য অনুপ্রাণিত করলেন। তিনি সমবেত জনতাকে উপদেশ দিলেন। তারপর বললেন, তোমরা সদাকাহ কর। কেননা তোমাদের বেশীর ভাগ মহিলাই জাহান্নামের জ্বালানী হবে। (এ কথা শুনে) মহিলাদের মধ্যে থেকে উভয় গালে কালো দাগ বিশিষ্ট একটি মেয়েলোক দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, কেন আল্লাহর রসূল? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কেননা তোমরা বেশী অজুহাত ও অভিযোগ পেশ করে থাক এবং স্বামীর অবাধ্যচরণ করে থাক। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মহিলাগণ তাদের অলঙ্কারাদি দান করতে শুরু করল। তারা তাদের কানের ঝুমকা, রিং এবং আংটিসমূহ বিলালের কাপড়ে ফেলতে লাগল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯১৮, ইসলামীক সেন্টার ১৯২৫)
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيِّ، قَالاَ لَمْ يَكُنْ يُؤَذَّنُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَلاَ يَوْمَ الأَضْحَى . ثُمَّ سَأَلْتُهُ بَعْدَ حِينٍ عَنْ ذَلِكَ فَأَخْبَرَنِي قَالَ أَخْبَرَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ أن لا أذان للصلاة يوم الفطر حين يخرج الإمام ولا بعد ما يخرج ولا إقامة ولا نداء ولا شيء لا نداء يومئذ ولا إقامة
১৯৩৪-(৫/৮৮৬) মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস ও জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়) ঈদুর ফিতরের দিন এবং ঈদুল আযহার দিন (ঈদের জন্য) আযান দেয়া হ'ত না। ইবনু জুরায়জ বলেন, কিছু সময় পর আমি আতাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে বলেন, আমাকে জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের সালাতের জন্য আযানও নেই ইকামাতও নেই। কোন ডাক বা কোন প্রকার ধ্বনিও নেই। ঐ দিন ঈদের জন্য কোন আযান ও ইকামাতের নিয়ম নেই। ইমাম (সালাতের উদ্দেশে) বের হওয়ার সময় এবং বের হওয়ার পরেও আযানের কোন প্রয়োজন নেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯১৯, ইসলামীক সেন্টার ১৯২৬)
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، أَرْسَلَ إِلَى ابْنِ الزُّبَيْرِ أَوَّلَ مَا بُويِعَ لَهُ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يُؤَذَّنُ لِلصَّلاَةِ يَوْمَ الْفِطْرِ فَلاَ تُؤَذِّنْ لَهَا - قَالَ - فَلَمْ يُؤَذِّنْ لَهَا ابْنُ الزُّبَيْرِ يَوْمَهُ وَأَرْسَلَ إِلَيْهِ مَعَ ذَلِكَ إِنَّمَا الْخُطْبَةُ بَعْدَ الصَّلاَةِ وَإِنَّ ذَلِكَ قَدْ كَانَ يُفْعَلُ - قَالَ - فَصَلَّى ابْنُ الزُّبَيْرِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ .
১৯৩৫-(৬/...) মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আত্বা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমাকে জানিয়েছেন যে, ইবনু যুবায়র-এর নিকট প্রথমে লোকেরা যখন বাইয়্যাত নিচ্ছিল- ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার কাছে এ সংবাদ পাঠালেন যে, ঈদুল ফিত্বরের দিন ঈদের সালাতের জন্য আযান দেয়া হতো না। অতএব তুমি ঈদের সালাতের জন্য আযানের প্রচলন করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু যুবায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার সময় আযানের প্রচলন করেননি। ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এ কথাটুকু ইবনুয যুবায়র-এর নিকট বলে পাঠান যে, খুতবাহ সালাতের পরে হবে, আর এ নিয়ম পালিত হয়ে আসছে। বর্ণনাকারী বলেন, অতএব ইবনু যুবায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) খুতবার পূর্বে ঈদের সালাত সমাপন করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২০, ইসলামীক সেন্টার ১৯২৭)
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ، سَمُرَةَ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِيدَيْنِ غَيْرَ مَرَّةٍ وَلاَ مَرَّتَيْنِ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلاَ إِقَامَةٍ .
১৯৩৬-(৭/৮৮৭) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, হাসান ইবনুর রাবী', কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে একবার দু'বার নয়, অনেক বার দু'ঈদের সালাত আযান ও ইকামাত ব্যতীত আদায় করেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২১, ইসলামীক সেন্টার ১৯২৮)
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ عُبَيْدِ، اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ كَانُوا يُصَلُّونَ الْعِيدَيْنِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ .
১৯৩৭-(৮/৮৮৮) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ঈদের সালাত খুতবার আগে আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২২, ইসলামীক সেন্টার ১৯২৮)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَخْرُجُ يَوْمَ الأَضْحَى وَيَوْمَ الْفِطْرِ فَيَبْدَأُ بِالصَّلاَةِ فَإِذَا صَلَّى صَلاَتَهُ وَسَلَّمَ قَامَ فَأَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ وَهُمْ جُلُوسٌ فِي مُصَلاَّهُمْ فَإِنْ كَانَ لَهُ حَاجَةٌ بِبَعْثٍ ذَكَرَهُ لِلنَّاسِ أَوْ كَانَتْ لَهُ حَاجَةٌ بِغَيْرِ ذَلِكَ أَمَرَهُمْ بِهَا وَكَانَ يَقُولُ " تَصَدَّقُوا تَصَدَّقُوا تَصَدَّقُوا " . وَكَانَ أَكْثَرَ مَنْ يَتَصَدَّقُ النِّسَاءُ ثُمَّ يَنْصَرِفُ فَلَمْ يَزَلْ كَذَلِكَ حَتَّى كَانَ مَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ فَخَرَجْتُ مُخَاصِرًا مَرْوَانَ حَتَّى أَتَيْنَا الْمُصَلَّى فَإِذَا كَثِيرُ بْنُ الصَّلْتِ قَدْ بَنَى مِنْبَرًا مِنْ طِينٍ وَلَبِنٍ فَإِذَا مَرْوَانُ يُنَازِعُنِي يَدَهُ كَأَنَّهُ يَجُرُّنِي نَحْوَ الْمِنْبَرِ وَأَنَا أَجُرُّهُ نَحْوَ الصَّلاَةِ فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ مِنْهُ قُلْتُ أَيْنَ الاِبْتِدَاءُ بِالصَّلاَةِ فَقَالَ لاَ يَا أَبَا سَعِيدٍ قَدْ تُرِكَ مَا تَعْلَمُ . قُلْتُ كَلاَّ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ تَأْتُونَ بِخَيْرٍ مِمَّا أَعْلَمُ . ثَلاَثَ مِرَارٍ ثُمَّ انْصَرَفَ .
১৯৩৮-(৯/৮৮৯) ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বাহ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিন বের হতেন এবং প্রথমে সালাত আদায় করতেন। যখন সালাত সম্পন্ন করে সালাম ফিরাতেন, লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন। তারা নিজ নিজ সালাতের স্থানে বসে থাকত। তারপর যদি কোথাও সৈন্য পাঠানোর প্রয়োজন হতো, তবে তা লোকদের নিকট ব্যক্ত করতেন। অথবা যদি অন্য কোন প্রয়োজন হতো তবে সে সম্পর্কে তাদেরকে নির্দেশ দিতেন এবং তিনি বলতেন, তোমরা সদাকাহ কর, সদাকাহ কর। দানের সবচেয়ে অগ্রগামী ছিল মহিলাগণ। অতঃপর তিনি ঘরে ফিরতেন।
পরবর্তীকালে মারওয়ান যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হল, তখন একবার আমি তার হাত ধরে চলতে চলতে ঈদগাহে এসে উপনীত হলাম। এসে দেখি কাসীর ইবনু সালত শক্ত মাটি ও ইট দিয়ে একটা মিম্বার তৈরি করে রেখেছে। মারওয়ান আমার থেকে এমনভাবে হাত টেনে ছুটাচ্ছিল যেন আমাকে মিম্বারের দিকে টানা হেঁচড়া করছে আর আমি তাকে সালাতের দিকে টানা হেঁচড়া করছি। যখন আমি তার এ মনোভাব দেখলাম আমি জিজ্ঞেস করলাম, প্রথমে সালাত আদায়ের নিয়ম কি হল? মারওয়ান বলল, না হে আবূ সাঈদ! তুমি যে নিয়ম সম্পর্কে অবহিত তা রহিত হয়ে গেছে। আমি বললাম, কখনও না! সে সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! আমি যে নিয়ম সম্পর্কে অবহিত এর চেয়ে উত্তম কিছু তোমরা কখনও করতে পারবে না। এ কথা তিনি তিনবার উচ্চারণ করলেন। এরপর তিনি চলে আসলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২৩, ইসলামীক সেন্টার, ১৯৩০)
حَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ أَمَرَنَا - تَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - أَنْ نُخْرِجَ فِي الْعِيدَيْنِ الْعَوَاتِقَ وَذَوَاتِ الْخُدُورِ وَأَمَرَ الْحُيَّضَ أَنْ يَعْتَزِلْنَ مُصَلَّى الْمُسْلِمِينَ .
১৯৩৯-(১০/৮৯০) আবূর রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... উম্মু আতিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন, আমরা যেন পরিণত বয়স্কা মেয়েদেরকে ও পর্দানশীন মেয়ে লোকদেরকে ঈদের সালাতে যাওয়ার জন্য বলি এবং তিনি ঋতুবতী নারীদেরকে আদেশ করেছেন তারা যেন মুসলিমদের সালাতের স্থান থেকে কিছুটা পৃথক থাকে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২৪, ইসলামীক সেন্টার ১৯৩১)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ، سِيرِينَ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ كُنَّا نُؤْمَرُ بِالْخُرُوجِ فِي الْعِيدَيْنِ وَالْمُخَبَّأَةُ وَالْبِكْرُ قَالَتِ الْحُيَّضُ يَخْرُجْنَ فَيَكُنَّ خَلْفَ النَّاسِ يُكَبِّرْنَ مَعَ النَّاسِ .
১৯৪০-(১১/...) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উম্মু 'আতিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়) ঈদের মাঠে বের হওয়ার আদেশ করা হত এমনকি গৃহবাসিনী পর্দানশীন মহিলা ও প্রাপ্তবয়স্কা কুমারীকেও অনুমতি দেয়া হতো। উম্মু আতিয়াহ বলেন, ঋতুবতী মহিলারাও বের হয়ে আসত এবং সব লোকের সাথে তাকবীর পাঠ করত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯২৫, ইসলামীক সেন্টার ১৯৩২)