সহীহ মুসলিম
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ، أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا إِلَى جَنْبِ ابْنِ عُمَرَ وَنَحْنُ نَنْتَظِرُ جَنَازَةَ أُمِّ أَبَانٍ بِنْتِ عُثْمَانَ وَعِنْدَهُ عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ فَجَاءَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُودُهُ قَائِدٌ فَأُرَاهُ أَخْبَرَهُ بِمَكَانِ ابْنِ عُمَرَ، فَجَاءَ حَتَّى جَلَسَ إِلَى جَنْبِي فَكُنْتُ بَيْنَهُمَا فَإِذَا صَوْتٌ مِنَ الدَّارِ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ - كَأَنَّهُ يَعْرِضُ عَلَى عَمْرٍو أَنْ يَقُومَ فَيَنْهَاهُمْ - سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ " . قَالَ فَأَرْسَلَهَا عَبْدُ اللَّهِ مُرْسَلَةً
২০৩৪-(২২/৯২৮) দাউদ ইবনু রুশায়দ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আবূ মুলায়কাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর পাশে বসা ছিলাম এবং আমরা উসমানের কন্যা উম্মু আবান এর জানাযাহ পড়ার জন্যে অপেক্ষা করছিলাম। আর তার (ইবনু উমার) নিকটেই ছিল 'আমর ইবনু উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। এমন সময় ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আসলেন, তাকে একজন পথ নির্দেশনাকারী হাতে ধরে নিয়ে আসছে। আমার ধারণা সে তাকে ইবনু উমারের উপস্থিতি সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছে। তিনি এসে আমার পাশে বসলেন। আমি উভয়ের মাঝখানে ছিলাম। হঠাৎ ঘর থেকে একটা (কান্নার) আওয়াজ শুনা গেল। তখন ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, মনে হয় তিনি আমরের প্রতি ইঙ্গিত করছিলেন যেন তিনি উঠে তাদেরকে (কান্না থেকে) বিরত রাখেন- আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কান্নার দরুন শাস্তি দেয়া হয়। বর্ণনাকারী বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এ কথাটা সাধারণভাবে বলেই ছেড়ে দিলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৭. ইসলামীক সেন্টার ২০২৪)
فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كُنَّا مَعَ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ إِذَا هُوَ بِرَجُلٍ نَازِلٍ فِي شَجَرَةٍ فَقَالَ لِيَ اذْهَبْ فَاعْلَمْ لِي مَنْ ذَاكَ الرَّجُلُ . فَذَهَبْتُ فَإِذَا هُوَ صُهَيْبٌ . فَرَجَعْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ إِنَّكَ أَمَرْتَنِي أَنْ أَعْلَمَ لَكَ مَنْ ذَاكَ وَإِنَّهُ صُهَيْبٌ . قَالَ مُرْهُ فَلْيَلْحَقْ بِنَا . فَقُلْتُ إِنَّ مَعَهُ أَهْلَهُ . قَالَ وَإِنْ كَانَ مَعَهُ أَهْلُهُ - وَرُبَّمَا قَالَ أَيُّوبُ مُرْهُ فَلْيَلْحَقْ بِنَا - فَلَمَّا قَدِمْنَا لَمْ يَلْبَثْ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ أَنْ أُصِيبَ فَجَاءَ صُهَيْبٌ يَقُولُ وَاأَخَاهْ وَاصَاحِبَاهْ . فَقَالَ عُمَرُ أَلَمْ تَعْلَمْ أَوْ لَمْ تَسْمَعْ - قَالَ أَيُّوبُ أَوْ قَالَ أَوَلَمْ تَعْلَمْ أَوَلَمْ تَسْمَعْ - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبَعْضِ بُكَاءِ أَهْلِهِ " . قَالَ فَأَمَّا عَبْدُ اللَّهِ فَأَرْسَلَهَا مُرْسَلَةً وَأَمَّا عُمَرُ فَقَالَ بِبَعْضٍ
২০৩৫-(.../৯২৭) অতঃপর ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমরা একবার আমীরুল মু'মিনীন উমার ইবনুল খাত্ত্বাব-এর সাথে ছিলাম। যখন আমরা "বায়দা' নামক স্থানে পৌঁছলাম, হঠাৎ জনৈক ব্যক্তিকে একটা গাছের ছায়ায় অবস্থানরত দেখলাম। উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বললেন, এগিয়ে যাও তো গিয়ে দেখ আমাকে জানাও ঐ ব্যক্তি কে? আমি গিয়ে দেখলাম তিনি সুহায়ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। আমি ফিরে এসে বললাম, আপনি আমাকে আদেশ করেছেন, ঐ ব্যক্তির পরিচয় জেনে আপনাকে জানাতে। তিনি হচ্ছেন, সুহায়ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। পুনরায় তিনি আমাকে বললেন, তাকে আমাদের সাথে মিলিত হতে বল। আমি বললাম, তার সাথে তার পরিবারবর্গ রয়েছে। তিনি বললেন, তার সাথে পরিবারবর্গ থাকলে তাতে কি আছে। কখনও আইয়ুব বলেছেন- "তাকে বল- সে যেন আমাদের নিকট আসে।" এরপর যখন আমরা মদীনায় পৌঁছলাম, অল্প সময়ের মধ্যেই আমীরুল মু'মিনীন উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আহত হলেন। সুহায়ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে দেখতে এসে দীর্ঘ-নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন, আহ! ভাই উমার! আহ সঙ্গী উমার! "উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) শুনে বললেন, সুহায়ব। তুমি কি অবহিত নও, অথবা শোননি- আইয়ুব বলেছেনঃ অথবা বলেছেন, "তুমি কি জান না, তুমি কি শোন না।" রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কান্নার দরুন শান্তি দেয়া হয়। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তিনি এ কথাটা সাধারণভাবে বলে ছিলেন। কিন্তু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) "কোন কোন লোকের" শব্দ উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৭, ইসলামীক সেন্টার ২০২৪)
فَقُمْتُ فَدَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَحَدَّثْتُهَا بِمَا، قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَقَالَتْ لاَ وَاللَّهِ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَطُّ " إِنَّ الْمَيِّتَ يُعَذَّبُ بِبُكَاءِ أَحَدٍ " . وَلَكِنَّهُ قَالَ " إِنَّ الْكَافِرَ يَزِيدُهُ اللَّهُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَذَابًا وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَى وَلاَ تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى " . قَالَ أَيُّوبُ قَالَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ لَمَّا بَلَغَ عَائِشَةَ قَوْلُ عُمَرَ وَابْنِ عُمَرَ قَالَتْ إِنَّكُمْ لَتُحَدِّثُونِّي عَنْ غَيْرِ كَاذِبَيْنِ وَلاَ مُكَذَّبَيْنِ وَلَكِنَّ السَّمْعَ يُخْطِئُ .
২০৩৬-(.../৯২৯) অতঃপর আমি উঠে গিয়ে আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট গেলাম এবং তাকে ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর উক্তি সম্পর্কে জানালে তিনি বললেনঃ না, আল্লাহর কসম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও এরূপ বলেননি যে, মৃত ব্যক্তিকে কারো কান্নার দরুন আযাব দেয়া হবে বরং তিনি বলেছেন, কাফির ব্যক্তির আযাব আল্লাহ তা'আলা তার পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন আরও বাড়িয়ে দেন এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহই হাসান এবং কাঁদান। "আর কোন বহনকারীই অন্যের বোঝা বহন করবে না"- (সূরাহ আল ইসরা/ ইসরাঈল ১৭ঃ ১৫)।
আইয়ূব (রহঃ) বলেন, ইবনু আবূ মুলায়কাহ বলেছেন, আমাকে কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ জানিয়েছেন, তিনি বলেন, 'আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট যখন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও ইবনু উমার-এ বক্তব্য পৌছল তখন তিনি বললেন, তোমরা আমাকে এমন দু' ব্যক্তির কথা শুনাচ্ছ, যারা মিথ্যাবাদী নন আর তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্নও করা যায় না। তবে কখনও শুনতে ভুল হয়ে যেতে পারে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৭. ইসলামীক সেন্টার ২০২৪)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ ابْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ تُوُفِّيَتِ ابْنَةٌ لِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ بِمَكَّةَ قَالَ فَجِئْنَا لِنَشْهَدَهَا - قَالَ - فَحَضَرَهَا ابْنُ عُمَرَ وَابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ وَإِنِّي لَجَالِسٌ بَيْنَهُمَا - قَالَ - جَلَسْتُ إِلَى أَحَدِهِمَا ثُمَّ جَاءَ الآخَرُ فَجَلَسَ إِلَى جَنْبِي فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ لِعَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ وَهُوَ مُوَاجِهُهُ أَلاَ تَنْهَى عَنِ الْبُكَاءِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ "
২০৩৭-(২৩/৯২৮) মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' ও 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আবূ মুলায়কাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাক্কায় উমর ইবনু আফফান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর এক কন্যা ইনতিকাল করলে আমরা তার জানাযায় হাজির হওয়ার জন্য আসলাম। জানাযায় ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) উপস্থিত হলেন। বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বলেন, আমি উভয়ের মাঝখানে বসে ছিলাম। অথবা তিনি বলেন, প্রথমে আমি একজনের পাশে বসে ছিলাম। অতঃপর অন্যজন এসে আমার পাশে বসে গেলেন। আবদুল্লাহ ইবনু উমার তার সামনে বসা আমর ইবনু উসমানকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা কান্নাকাটি করা থেকে কেন বারণ করছ না? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৮, ইসলামীক সেন্টার ২০২৫)
فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَدْ كَانَ عُمَرُ يَقُولُ بَعْضَ ذَلِكَ ثُمَّ حَدَّثَ فَقَالَ صَدَرْتُ مَعَ عُمَرَ مِنْ مَكَّةَ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ إِذَا هُوَ بِرَكْبٍ تَحْتَ ظِلِّ شَجَرَةٍ فَقَالَ اذْهَبْ فَانْظُرْ مَنْ هَؤُلاَءِ الرَّكْبُ فَنَظَرْتُ فَإِذَا هُوَ صُهَيْبٌ - قَالَ - فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ ادْعُهُ لِي . قَالَ فَرَجَعْتُ إِلَى صُهَيْبٍ فَقُلْتُ ارْتَحِلْ فَالْحَقْ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ . فَلَمَّا أَنْ أُصِيبَ عُمَرُ دَخَلَ صُهَيْبٌ يَبْكِي يَقُولُ وَاأَخَاهْ وَاصَاحِبَاهْ . فَقَالَ عُمَرُ يَا صُهَيْبُ أَتَبْكِي عَلَىَّ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْمَيِّتَ يُعَذَّبُ بِبَعْضِ بُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ
২০৩৮-(.../৯২৭) ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তো কোন কোন লোকের কথা বলতেন। অতঃপর তিনি হাদীস বর্ণনা করলেন এবং বললেন, আমি একবার উমারের সাথে মক্কাহ থেকে রওয়ানা হয়ে "বায়দা" নামক সমতল ভূমিতে পৌঁছলাম। দেখলাম, একটা গাছের ছায়ায় একদল আরোহী। তাদেরকে দেখে তিনি [উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] বললেন, গিয়ে দেখ তো, এরা কারা? আমি গিয়ে দেখলাম তথায় সুহায়ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এসে তাকে (উমার) খবর দিলাম। তিনি বললেন, তাকে আমার কাছে ডেকে আন। আদেশ পেয়ে আমি সুহায়ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট ফিরে এসে বললাম চলুন, আমীরুল মুমিনীনের সাথে সাক্ষাৎ করুন। এরপর যখন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আহত হন, সুহায়ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে দেখতে এসে কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, আহ! ভাই উমার! আহ! সঙ্গী উমার! উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে সুহায়ব! আমার জন্য কাঁদছ? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের কান্নাকাটির দরুন আযাব দেয়া হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৮, ইসলামীক সেন্টার ২০২৫)
فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَلَمَّا مَاتَ عُمَرُ ذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَائِشَةَ فَقَالَتْ يَرْحَمُ اللَّهُ عُمَرَ لاَ وَاللَّهِ مَا حَدَّثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ يُعَذِّبُ الْمُؤْمِنَ بِبُكَاءِ أَحَدٍ " . وَلَكِنْ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ يَزِيدُ الْكَافِرَ عَذَابًا بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ " قَالَ وَقَالَتْ عَائِشَةُ حَسْبُكُمُ الْقُرْآنُ ( وَلاَ تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ) قَالَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ عِنْدَ ذَلِكَ وَاللَّهُ أَضْحَكَ وَأَبْكَى . قَالَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ فَوَاللَّهِ مَا قَالَ ابْنُ عُمَرَ مِنْ شَىْءٍ .
২০৩৯-(.../৯২৯) ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ইনতিকাল করলে আমি অত্র হাদীসটি আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট ব্যক্ত করলাম। তিনি বললেন, উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে আল্লাহ রহমত করুন। কখনও না আল্লাহর কসম! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও এমন হাদীস ব্যক্ত করেননি যে, ঈমানদার ব্যক্তিকে কারো কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হবে। বরং তিনি বলেছেনঃ কাফির ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন আল্লাহ তা'আলা তার আযাবকে আরো বাড়িয়ে দিবেন। এছাড়া আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আরও বলেছেন, তোমাদের জন্য আল্লাহর কুরআনই যথেষ্ট। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে, "কোন ব্যক্তিই অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না।" বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, "এবং আল্লাহই হাসান, আল্লাহই কাঁদান।" ইবনু আবূ মুলায়কাহ বলেন, আল্লাহর কুসম! ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর ওপর আর কোন কথাই বলেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৮, ইসলামীক সেন্টার ২০২৫)
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ عَمْرٌو عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، كُنَّا فِي جَنَازَةِ أُمِّ أَبَانٍ بِنْتِ عُثْمَانَ وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَلَمْ يَنُصَّ رَفْعَ الْحَدِيثِ عَنْ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَمَا نَصَّهُ أَيُّوبُ وَابْنُ جُرَيْجٍ وَحَدِيثُهُمَا أَتَمُّ مِنْ حَدِيثِ عَمْرٍو .
২০৪০-(.../...) আবদুর রহমান ইবনু বিশর (রহঃ) ..... ইবনু আবূ মুলায়কাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমরা উম্মু আবান বিনতু উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর যামানায় উপস্থিত হলাম। অবশিষ্ট বর্ণনা উপরের হাদীসের অনুরূপ তবে তিনি এ হাদীস ইবনু উমার-এর সূত্রে সরাসরি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু আইয়ুব ও ইবনু জুরায়জ এটাকে মারফু' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের বর্ণনা আমর-এর বর্ণনার চেয়ে পূর্ণাঙ্গ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০১৯, ইসলামীক সেন্টার ২০২৬)
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنَّحَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْمَيِّتَ يُعَذَّبُ بِبُكَاءِ الْحَىِّ " .
২০৪১-(২৪/৯৩০) হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার বংশধরের কান্নাকাটির দরুন আযাব দেয়া হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২০, ইসলামীক সেন্টার ২০২৭)
وَحَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، وَأَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، جَمِيعًا عَنْ حَمَّادٍ، - قَالَ خَلَفٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، - عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ ذُكِرَ عِنْدَ عَائِشَةَ قَوْلُ ابْنِ عُمَرَ الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ . فَقَالَتْ رَحِمَ اللَّهُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ سَمِعَ شَيْئًا فَلَمْ يَحْفَظْهُ إِنَّمَا مَرَّتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَنَازَةُ يَهُودِيٍّ وَهُمْ يَبْكُونَ عَلَيْهِ فَقَالَ " أَنْتُمْ تَبْكُونَ وَإِنَّهُ لَيُعَذَّبُ " .
২০৪২-(২৫/৯৩১) খালাফ ইবনু হিশাম ও আবুর রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর কাছে ইবনু উমারের বক্তব্য "মৃত ব্যক্তিকে তার স্বজনদের কান্নাকাটির দরুন আযাব দেয়া হয়" উল্লেখ করা হ'ল। তিনি বললেন, আল্লাহ আবূ আবদুর রহমানের (ইবনু উমর) প্রতি রহমত করুন। তিনি একটা কথা শুনেছেন, তবে স্মরণ রাখতে পারেননি। প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছেঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দিয়ে এক ইয়াহুদীর জানাযাহ যাচ্ছিল। তখন তার আত্মীয় স্বজনরা কাঁদছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কাঁদছ? অথচ তাকে এজন্য আযাব দেয়া হচ্ছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২১, ইসলামীক সেন্টার ২০২৮)
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ ذُكِرَ عِنْدَ عَائِشَةَ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، يَرْفَعُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْمَيِّتَ يُعَذَّبُ فِي قَبْرِهِ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ " . فَقَالَتْ وَهَلَ إِنَّمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهُ لَيُعَذَّبُ بِخَطِيئَتِهِ أَوْ بِذَنْبِهِ وَإِنَّ أَهْلَهُ لَيَبْكُونَ عَلَيْهِ الآنَ " . وَذَاكَ مِثْلُ قَوْلِهِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ عَلَى الْقَلِيبِ يَوْمَ بَدْرٍ وَفِيهِ قَتْلَى بَدْرٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَقَالَ لَهُمْ مَا قَالَ " إِنَّهُمْ لَيَسْمَعُونَ مَا أَقُولُ " . وَقَدْ وَهَلَ إِنَّمَا قَالَ " إِنَّهُمْ لَيَعْلَمُونَ أَنَّ مَا كُنْتُ أَقُولُ لَهُمْ حَقٌّ " . ثُمَّ قَرَأَتْ ( إِنَّكَ لاَ تُسْمِعُ الْمَوْتَى ) ( وَمَا أَنْتَ بِمُسْمِعٍ مَنْ فِي الْقُبُورِ ) يَقُولُ حِينَ تَبَوَّءُوا مَقَاعِدَهُمْ مِنَ النَّارِ .
২০৪৩-(২৬/৯৩২) আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হিশাম তার পিতা [উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট উল্লেখ করা হ'ল, ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সরাসরি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন, "মৃত ব্যক্তিকে তার কবরে তার স্বজনদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়।" তিনি বললেন, ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ভুলে গেছেন। আসলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কথা বলেছেন তা হচ্ছে এইঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পাপের দরুন কবরে শাস্তি দেয়া হয়। আর তার পরিবার-পরিজনেরা তার জন্য কান্নাকাটি করছে। আর এটা হচ্ছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বদরের একটা কুপের পাশে দাঁড়িয়ে যাতে বদরের দিন নিহত কাফিরদের লাশ নিক্ষিপ্ত হয়েছিল- তাদেরকে সম্বোধন করে যেরূপ বলেছিলেন। তিনি তাদের সম্পর্কে বলেছিলেন, তারা অবশ্যই আমি যা কিছু বলছি তা শুনতে পাচ্ছে অথচ তিনি (ইবনু উমার) এ কথার অর্থ ভুল বুঝেছে।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বলেছেন তার সঠিক তাৎপর্য হচ্ছে এইঃ আমি যা কিছু তাদেরকে তাদের জীবদ্দশায় বলেছিলাম, তারা এখন ভালভাবে তা অনুধাবন করেছে যে, তা সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত ও সত্য। অতঃপর তিনি (আয়িশাহ) এ দু'টি আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ "আপনি অবশ্যই মৃত ব্যক্তিদেরকে শুনাতে সক্ষম নন"- (সূরাহ আন নামল ২৭ঃ ৭০, সূরাহ রুম ৩০ঃ ৫২)। এবং "আপনি কবরের অধিবাসীদেরকেও শুনাতে সক্ষম নন"- (সূরাহ ফা-ত্বির ৩৫ঃ ২২২)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটা তখন বলেছিলেন তখন তারা জাহান্নামে নিজ ঠিকানায় পৌছে গেছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২২, ইসলামীক সেন্টার ২০২৯)
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ بِمَعْنَى حَدِيثِ أَبِي أُسَامَةَ وَحَدِيثُ أَبِي أُسَامَةَ أَتَمُّ .
২০৪৪-(.../...) আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... হিশাম ইবনু উরওয়াহ (রহঃ) থেকে একই সূত্রে আবূ উসামাহ এর হাদীসের সমর্থনে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ উসামাহ এর বর্ণিত হাদীসই পূর্ণাঙ্গ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২৩, ইসলামীক সেন্টার ২০৩০)
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ، أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا، سَمِعَتْ عَائِشَةَ، وَذُكِرَ، لَهَا أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبُكَاءِ الْحَىِّ . فَقَالَتْ عَائِشَةُ يَغْفِرُ اللَّهُ لأَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَمَا إِنَّهُ لَمْ يَكْذِبْ وَلَكِنَّهُ نَسِيَ أَوْ أَخْطَأَ إِنَّمَا مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى يَهُودِيَّةٍ يُبْكَى عَلَيْهَا فَقَالَ " إِنَّهُمْ لَيَبْكُونَ عَلَيْهَا وَإِنَّهَا لَتُعَذَّبُ فِي قَبْرِهَا " .
২০৪৫-(২৭/...) কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আমরাহ বিনতু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর কাছে শুনেছেন যখন তার কাছে উল্লেখ করা হ'ল যে, আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার বংশধরদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়। আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আল্লাহ আবূ আবদুর রহমানকে (ইবনু উমার) ক্ষমা করুন, কথাটা ঠিক নয়। তবে তিনি মিথ্যা বলেননি। বরং তিনি (প্রকৃত কথাটা) ভুলে গেছেন অথবা ভুল বুঝেছেন। প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছেঃ একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ইয়াহুদী নারীর করের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন তার জন্য কান্নাকাটি করা হচ্ছে। তিনি বললেন, তারা এর জন্য কান্নাকাটি করছে আর এ নারীকে তার কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২৪, ইসলামীক সেন্টার ২০৩১)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عُبَيْدٍ الطَّائِيِّ، وَمُحَمَّدِ، بْنِ قَيْسٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ أَوَّلُ مَنْ نِيحَ عَلَيْهِ بِالْكُوفَةِ قَرَظَةُ بْنُ كَعْبٍ فَقَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ نِيحَ عَلَيْهِ فَإِنَّهُ يُعَذَّبُ بِمَا نِيحَ عَلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .
২০৪৬-(২৮/৯৩৩) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আলী ইবনু রবী'আহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির প্রতি বিলাপ করা হয়েছে, সে হচ্ছে কুফা নগরীর কারাযাহ ইবনু কা'ব। মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যার জন্য বিলাপ করে কান্না হয়, কিয়ামতের দিন তাকে এর জন্য আযাব দেয়া হবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২৫, ইসলামীক সেন্টার ২০৩২)
وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قَيْسٍ، الأَسْدِيُّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ الأَسْدِيِّ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .
২০৪৭-(.../...) আলী ইবনু হুজর আস সা'দী (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২৬, ইসলামীক সেন্টার ২০৩৩)
وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - يَعْنِي الْفَزَارِيَّ - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ، الطَّائِيُّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .
২০৪৮-(.../...) ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২৭, ইসলামীক সেন্টার ২০৩৪)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ، ح وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، بْنُ مَنْصُورٍ - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا أَبَانٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، أَنَّ زَيْدًا، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا سَلاَّمٍ حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا مَالِكٍ الأَشْعَرِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَرْبَعٌ فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ لاَ يَتْرُكُونَهُنَّ الْفَخْرُ فِي الأَحْسَابِ وَالطَّعْنُ فِي الأَنْسَابِ وَالاِسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُومِ وَالنِّيَاحَةُ " . وَقَالَ " النَّائِحَةُ إِذَا لَمْ تَتُبْ قَبْلَ مَوْتِهَا تُقَامُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَعَلَيْهَا سِرْبَالٌ مِنْ قَطِرَانٍ وَدِرْعٌ مِنْ جَرَبٍ " .
২০৪৯-(২৯/৯৩৪) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) [শব্দাবলী তার] ..... আবূ মালিক আল আশ'আর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার উন্মাতের মধ্যে জাহিলী যুগের চারটি কু-প্রথা রয়ে গেছে যা লোকেরা পরিত্যাগ করতে চাইবে না। (১) বংশের গৌরব, (২) অন্যকে বংশের খোটা দেয়া, (৩) নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করা, (৪) মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করা। তিনি আরও বলেন, বিলাপকারী যদি মৃত্যুর পূর্বে তওবা না করে তাহলে কিয়ামতের দিন তাকে এভাবে উঠানো হবে যে, তার গায়ে আলকাতরার (চাদর) খসখসে চামড়ার ওড়না থাকবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২৮, ইসলামীক সেন্টার ২০৩৪)
وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ أَخْبَرَتْنِي عَمْرَةُ، أَنَّهَا سَمِعَتْ عَائِشَةَ، تَقُولُ لَمَّا جَاءَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَتْلُ ابْنِ حَارِثَةَ وَجَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَوَاحَةَ جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعْرَفُ فِيهِ الْحُزْنُ قَالَتْ وَأَنَا أَنْظُرُ مِنْ صَائِرِ الْبَابِ - شَقِّ الْبَابِ - فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ نِسَاءَ جَعْفَرٍ وَذَكَرَ بُكَاءَهُنَّ فَأَمَرَهُ أَنْ يَذْهَبَ فَيَنْهَاهُنَّ فَذَهَبَ فَأَتَاهُ فَذَكَرَ أَنَّهُنَّ لَمْ يُطِعْنَهُ فَأَمَرَهُ الثَّانِيَةَ أَنْ يَذْهَبَ فَيَنْهَاهُنَّ فَذَهَبَ ثُمَّ أَتَاهُ فَقَالَ وَاللَّهِ لَقَدْ غَلَبْنَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَتْ فَزَعَمَتْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اذْهَبْ فَاحْثُ فِي أَفْوَاهِهِنَّ مِنَ التُّرَابِ " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ أَرْغَمَ اللَّهُ أَنْفَكَ وَاللَّهِ مَا تَفْعَلُ مَا أَمَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا تَرَكْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْعَنَاءِ .
২০৫০-(৩০/৯৩৫) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আমরাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি 'আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছেন, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) জাফর ইবনু আবূত তলিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও 'আবদুল্লাহ ইবনু রওয়াহাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর শাহাদাতের খবর পৌছল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিমর্ষচিত্তে বসে পড়লেন। তার চেহারায় শোকের ছাপ ফুটে উঠল। আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি দরজার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে তাদের লাশ দেখছিলাম। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! জাফার এর স্ত্রীগণ অথবা তার পরিবারের মহিলার কান্নাকাটি করছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গিয়ে তাদেরকে কাঁদতে নিষেধ করার জন্য আদেশ করলেন। লোকটি গিয়ে ফিরে এসে জানাল যে, তারা তার কথা শুনছে না। তখন দ্বিতীয়বার তাকে আদেশ করলেন যেন গিয়ে তাদেরকে নিষেধ করে। লোকটি গিয়ে আবার ফিরে এসে বলল, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রসূল! তারা আমাদের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে। আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমার মনে হয় এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এবার গিয়ে তাদের মুখে কিছু মাটি ঢেলে দাও। আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহ তোমার নাককে ভূলুষ্ঠিত করুক। আল্লাহর কসম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে যে আদেশ করেছেন, তা তুমি পালন করছ না বা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিরক্ত করা থেকেও রেহাই দিচ্ছ না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০২৯, ইসলামীক সেন্টার ২০৩৫)
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، ح وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُسْلِمٍ - كُلُّهُمْ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ . وَفِي حَدِيثِ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَمَا تَرَكْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْعِيِّ .
২০৫১-(.../...) আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আবূত তাহির, আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... সকলেই ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে একই সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবদুল আযীয (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে এরূপ বর্ণিত হয়েছেঃ তুমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পরিশ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকছ না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০৩০, ইসলামীক সেন্টার ২০৩৬)
حَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ أَخَذَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ الْبَيْعَةِ أَلاَّ نَنُوحَ فَمَا وَفَتْ مِنَّا امْرَأَةٌ إِلاَّ خَمْسٌ أُمُّ سُلَيْمٍ وَأُمُّ الْعَلاَءِ وَابْنَةُ أَبِي سَبْرَةَ امْرَأَةُ مُعَاذٍ أَوِ ابْنَةُ أَبِي سَبْرَةَ وَامْرَأَةُ مُعَاذٍ .
২০৫২-(৩১/৯৩৬) আবূর রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... উম্মু আত্বিয়্যাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বায়'আতের সঙ্গে এ ওয়াদাও নিয়েছেন যে, আমরা যেন মৃতের জন্যে বিলাপ করে কান্নাকাটি না করি। কিন্তু পরে মাত্র পাঁচজন মহিলা ছাড়া আমাদের কোন মহিলাই তা পালন করেনি। তারা হচ্ছেন- উম্মু সুলায়ম, উন্মুল 'আলা, আবূ সাবুরাহ-এর কন্যা ও মু'আয-এর স্ত্রী প্রমুখ। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০৩১, ইসলামীক সেন্টার ২০৩৭)
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَسْبَاطٌ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ أَخَذَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْبَيْعَةِ أَلاَّ تَنُحْنَ فَمَا وَفَتْ مِنَّا غَيْرُ خَمْسٍ مِنْهُنَّ أُمُّ سُلَيْمٍ .
২০৫৩-(৩২/...) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... উম্মু 'আতিয়্যিাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়আতের সময় আমাদের নিকট থেকে এ ওয়াদা নিয়েছেন- যেন আমরা বিলাপ করে কান্নাকাটি না করি। কিন্তু আমাদের মধ্যে পাঁচজন মহিলা ব্যতীত আর কেউই এ ওয়া'দা পালন করতে পারেনি। উম্মু সুলায়ম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এদের অন্যতম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২০৩২, ইসলামীক সেন্টার ২০৩৮)
