হাদীস বিএন


সহীহ মুসলিম





সহীহ মুসলিম (2301)


وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَلْبُ الشَّيْخِ شَابٌّ عَلَى حُبِّ اثْنَتَيْنِ طُولُ الْحَيَاةِ وَحُبُّ الْمَالِ " .




২৩০১-(১১৪/...) আবূ ত্বাহির ও হারমালাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দু'টি জিনিসের ভালবাসায় বৃদ্ধের অন্তর চির যৌবনের অধিকারী- দীর্ঘ জীবন এবং ধন-সম্পদের মোহ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৭৯, ইসলামীক সেন্টার ২২৮০)









সহীহ মুসলিম (2302)


وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَسَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، كُلُّهُمْ عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ، - عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَهْرَمُ ابْنُ آدَمَ وَتَشِبُّ مِنْهُ اثْنَتَانِ الْحِرْصُ عَلَى الْمَالِ وَالْحِرْصُ عَلَى الْعُمُرِ " .




২৩০২-(১১৫/১০৪৭) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, সাঈদ ইবনু মানসূর ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ...... আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম সন্তান বার্ধক্যে পৌছে যায়, কিন্তু দুটি ব্যাপারে তার আকাঙ্ক্ষা যৌবনে বিরাজ করে- সম্পদের লালসা এবং বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৮০, ইসলামীক সেন্টার ২২৮১)









সহীহ মুসলিম (2303)


وَحَدَّثَنِي أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بِمِثْلِهِ .




২৩০৩-(.../...) আবূ গাসসান আল মিসমাঈ ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ..... উপরের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৮১, ইসলামীক সেন্টার ২২৮২)









সহীহ মুসলিম (2304)


وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ .




২৩০৪-(.../...) মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একই হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৮২, ইসলামীক সেন্টার ২২৮৩)









সহীহ মুসলিম (2305)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَسَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ كَانَ لاِبْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ لاَبْتَغَى وَادِيًا ثَالِثًا وَلاَ يَمْلأُ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلاَّ التُّرَابُ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى مَنْ تَابَ " .




২৩০৫-(১১৬/১০৪৮) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, সাঈদ ইবনু মানসূর ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ...... আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম সন্তান যদি দুটি মাঠ ভর্তি সম্পদের অধিকারী হয়ে যায় তাহলে সে তৃতীয় মাঠ ভর্তি সম্পদ খুঁজে বেড়াবে। আদম সন্তানের পেট- মাটি ছাড়া কোন কিছুই ভরাতে পারে না। যে ব্যক্তি তওবা করে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৮৩, ইসলামীক সেন্টার ২২৮৪)









সহীহ মুসলিম (2306)


وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ - فَلاَ أَدْرِي أَشَىْءٌ أُنْزِلَ أَمْ شَىْءٌ كَانَ يَقُولُهُ - بِمِثْلِ حَدِيثِ أَبِي عَوَانَةَ .




২৩০৬-(.../...) ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ রাবী বলেন, তবে আমি সঠিক বলতে পারব না যে, তার উপর এ কথাগুলো অবতীর্ণ হয়েছিল, না তিনি নিজের পক্ষ থেকে বলেছিলেন। এ সূত্রে বর্ণিত হাদীস উপরোল্লিখিত আবূ আওয়ানার বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৮৪, ইসলামীক সেন্টার ২২৮৫)









সহীহ মুসলিম (2307)


وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنِي ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لَوْ كَانَ لاِبْنِ آدَمَ وَادٍ مِنْ ذَهَبٍ أَحَبَّ أَنَّ لَهُ وَادِيًا آخَرَ وَلَنْ يَمْلأَ فَاهُ إِلاَّ التُّرَابُ وَاللَّهُ يَتُوبُ عَلَى مَنْ تَابَ " .




২৩০৭-(১১৭/...) হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি কোন আদম সন্তান একটি স্বর্ণের উপত্যকার মালিক হয়ে যায় তাহলে সে এরূপ আরেকটি উপত্যকা পেতে আকাজক্ষা করে। মাটি ছাড়া আর কোন কিছুই তার পেট ভরাতে পারে না। আর যে ব্যক্তি তওবা করে আল্লাহ তা'আলা তার তওবা কবুল করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৮৫, ইসলামীক সেন্টার ২২৮৬)









সহীহ মুসলিম (2308)


وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءً، يَقُولُ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَوْ أَنَّ لاِبْنِ آدَمَ مِلْءَ وَادٍ مَالاً لأَحَبَّ أَنْ يَكُونَ إِلَيْهِ مِثْلُهُ وَلاَ يَمْلأُ نَفْسَ ابْنِ آدَمَ إِلاَّ التُّرَابُ وَاللَّهُ يَتُوبُ عَلَى مَنْ تَابَ " . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَلاَ أَدْرِي أَمِنَ الْقُرْآنِ هُوَ أَمْ لاَ . وَفِي رِوَايَةِ زُهَيْرٍ قَالَ فَلاَ أَدْرِي أَمِنَ الْقُرْآنِ . لَمْ يَذْكُرِ ابْنَ عَبَّاسٍ .




২৩০৮-(১১৮/১০৪৯) যুহায়র ইবনু হারব ও হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যদি কোন আদম সন্তানের পূর্ণ এক উদ্যান সম্পদ থাকে তাহলে সে অনুরূপ আরো সম্পদ পেতে চাইবে। মাটি ছাড়া কোন কিছুতেই আদম সন্তানের পেট ভরে না। যে ব্যক্তি তওবা করে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এটা কুরআনের আয়াত কিনা তা আমি জানি না। যুহায়রের বর্ণনায় আছে- এটা কুরআনের আয়াত কিনা তা আমি জানি না। এখানে তিনি ইবনু আব্বাসের নাম উল্লেখ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৮৬, ইসলামীক সেন্টার ২২৮৭)









সহীহ মুসলিম (2309)


حَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ دَاوُدَ، عَنْ أَبِي حَرْبِ بْنِ أَبِي، الأَسْوَدِ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ بَعَثَ أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ إِلَى قُرَّاءِ أَهْلِ الْبَصْرَةِ فَدَخَلَ عَلَيْهِ ثَلاَثُمِائَةِ رَجُلٍ قَدْ قَرَءُوا الْقُرْآنَ فَقَالَ أَنْتُمْ خِيَارُ أَهْلِ الْبَصْرَةِ وَقُرَّاؤُهُمْ فَاتْلُوهُ وَلاَ يَطُولَنَّ عَلَيْكُمُ الأَمَدُ فَتَقْسُوَ قُلُوبُكُمْ كَمَا قَسَتْ قُلُوبُ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ وَإِنَّا كُنَّا نَقْرَأُ سُورَةً كُنَّا نُشَبِّهُهَا فِي الطُّولِ وَالشِّدَّةِ بِبَرَاءَةَ فَأُنْسِيتُهَا غَيْرَ أَنِّي قَدْ حَفِظْتُ مِنْهَا لَوْ كَانَ لاِبْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ لاَبْتَغَى وَادِيًا ثَالِثًا وَلاَ يَمْلأُ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلاَّ التُّرَابُ . وَكُنَّا نَقْرَأُ سُورَةً كُنَّا نُشَبِّهُهَا بِإِحْدَى الْمُسَبِّحَاتِ فَأُنْسِيتُهَا غَيْرَ أَنِّي حَفِظْتُ مِنْهَا ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لاَ تَفْعَلُونَ ) فَتُكْتَبُ شَهَادَةً فِي أَعْنَاقِكُمْ فَتُسْأَلُونَ عَنْهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ .




২৩০৯-(১১৯/১০৫০) সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূল আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মূসা আল আশ'আরী (রাযীঃ) একবার বাসরার কারীদেরকে (আলিমদের) ডেকে পাঠালেন। অতঃপর সেখানকার তিনশ' কারী তার কাছে আসলেন এবং কুরআন পাঠ করলেন। তিনি (তাদের উদ্দেশে) বললেন, আপনারা বাসরার মধ্যে উত্তম লোক এবং সেখানকার কারী। সুতরাং আপনারা অনবরত কুরআন পাঠ করতে থাকুন। অলসতায় দীর্ঘ সময় যেন কেটে না যায়। তাহলে আপনাদের অন্তর কঠিন হয়ে যেতে পারে যেমন আপনাদের পূর্ববর্তী একদল লোকের অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছিল। আমরা একটি সূরা পাঠ করতাম যা দীর্ঘ এবং কঠোর ভীতি প্রদর্শনের দিক থেকে সূরা বারাআতের সমতুল্য। পরে তা আমি ভুলে গেছি। তবে তার এতটুকু মনে রেখেছি- "যদি কোন আদম সন্তান দুই উপত্যকা সম্পদের মালিক হয়ে যায় তাহলে সে তৃতীয় আর একটি উপত্যকা ভর্তি সম্পদ পেতে চাইবে। মাটি ছাড়া আর কোন কিছুতেই আদম সন্তানের পেট ভরে না।" আমি আরো একটি সূরা পাঠ করতাম যা মুসাব্বিহাত (গুণগানপূর্ণ) সূরাগুলো সমতুল্য। তাও আমি ভুলে গেছি, শুধু তা থেকে এ আয়াতটি মনে আছে- "হে ঈমানদারগণ! তোমরা কেন এমন কথা বল যা কর না"- (সুরাহু সফ ৬১ঃ ২)। আর যে কথা তোমরা শুধু মুখে আওড়াও অথচ করো না তা তোমাদের ঘাড়ে সাক্ষী হিসেবে লিখে রাখা হয়। কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৮৭, ইসলামীক সেন্টার ২২৮৮)









সহীহ মুসলিম (2310)


حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ الْغِنَى عَنْ كَثْرَةِ الْعَرَضِ وَلَكِنَّ الْغِنَى غِنَى النَّفْسِ " .




২৩১০-(১২০/১০৫১) যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ধন-সম্পদ ও পার্থিব সাজ-সরঞ্জামের প্রাচুর্য ও আধিক্য প্রকৃত ঐশ্বর্য নয়, বরং মনের ঐশ্বর্যই বড় ঐশ্বর্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৮৮,ইসলামীক সেন্টার ২২৮৯)









সহীহ মুসলিম (2311)


وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، - وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ - قَالَ حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ، عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ " لاَ وَاللَّهِ مَا أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ إِلاَّ مَا يُخْرِجُ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا " . فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ فَصَمَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَاعَةً ثُمَّ قَالَ " كَيْفَ قُلْتَ " . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْخَيْرَ لاَ يَأْتِي إِلاَّ بِخَيْرٍ أَوَ خَيْرٌ هُوَ إِنَّ كُلَّ مَا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ يَقْتُلُ حَبَطًا أَوْ يُلِمُّ إِلاَّ آكِلَةَ الْخَضِرِ أَكَلَتْ حَتَّى إِذَا امْتَلأَتْ خَاصِرَتَاهَا اسْتَقْبَلَتِ الشَّمْسَ ثَلَطَتْ أَوْ بَالَتْ ثُمَّ اجْتَرَّتْ فَعَادَتْ فَأَكَلَتْ فَمَنْ يَأْخُذْ مَالاً بِحَقِّهِ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ وَمَنْ يَأْخُذْ مَالاً بِغَيْرِ حَقِّهِ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الَّذِي يَأْكُلُ وَلاَ يَشْبَعُ " .




২৩১১-(১২১/১০৫২) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন, অতঃপর লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! না, আল্লাহর শপথ! তোমাদের ব্যাপারে আমার কোন কিছুর আশঙ্কা নেই। তবে আল্লাহ তোমাদের জন্য যে পার্থিব সৌন্দর্য ও চাকচিক্যের ব্যবস্থা করে রেখেছেন, এ সম্পর্কে তোমাদের ব্যাপারে আমার আশঙ্কা রয়েছে। এক ব্যক্তি বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! কল্যাণের পরিণামে কি অকল্যাণও হয়ে থাকে? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কী বলেছিলে? সে বলল, আমি বলেছিলাম, "হে আল্লাহর রসূল! কল্যাণের সাথে কি অকল্যাণ আসবে?"

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে বললেন, কল্যাণ তো অকল্যাণ বয়ে আনে না। তবে কথা হলো, বসন্তকালে যেসব তৃণলতা ও সবুজ ঘাস উৎপন্ন হয় এটা কোন পশুকে ডায়রিয়ার প্রকোপে ফেলে মারে না বা মৃত্যুর কাছাকাছিও নিয়ে যায় না। কিন্তু চারণভূমিতে বিচরণকারী পশুর এগুলো খেয়ে পেট ফুলিয়ে ফেলে। অতঃপর সূর্যের দিকে তাকিয়ে পেশাব-পায়খানা করতে থাকে, অতঃপর জাবর কাটতে থাকে। এগুলো পুনরায় চারণভূমিতে যায় এবং এভাবে অত্যধিক খেতে খেতে একদিন মৃত্যুর শিকার হয়। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি সৎ পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে তাকে এর মধ্যে বারাকাত দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি অসৎ পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে- সে অনেক খাচ্ছে কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারছে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২২৮৯, ইসলামীক সেন্টার ২২৯০)









সহীহ মুসলিম (2312)


حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَخْوَفُ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ مَا يُخْرِجُ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا " . قَالُوا وَمَا زَهْرَةُ الدُّنْيَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " بَرَكَاتُ الأَرْضِ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَهَلْ يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ قَالَ " لاَ يَأْتِي الْخَيْرُ إِلاَّ بِالْخَيْرِ لاَ يَأْتِي الْخَيْرُ إِلاَّ بِالْخَيْرِ لاَ يَأْتِي الْخَيْرُ إِلاَّ بِالْخَيْرِ إِنَّ كُلَّ مَا أَنْبَتَ الرَّبِيعُ يَقْتُلُ أَوْ يُلِمُّ إِلاَّ آكِلَةَ الْخَضِرِ فَإِنَّهَا تَأْكُلُ حَتَّى إِذَا امْتَدَّتْ خَاصِرَتَاهَا اسْتَقْبَلَتِ الشَّمْسَ ثُمَّ اجْتَرَّتْ وَبَالَتْ وَثَلَطَتْ ثُمَّ عَادَتْ فَأَكَلَتْ إِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ فَمَنْ أَخَذَهُ بِحَقِّهِ وَوَضَعَهُ فِي حَقِّهِ فَنِعْمَ الْمَعُونَةُ هُوَ وَمَنْ أَخَذَهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ كَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلاَ يَشْبَعُ " .




২৩১২-(১২২/...) আবূ তহির (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি তোমাদের ব্যাপারে যে সব জিনিসের আশঙ্কা করছি এর মধ্যে অনন্য হলো পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা সৌন্দর্য যা আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য উন্মুক্ত করবেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা বলতে কী বুঝায়? তিনি বললেন, পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা হলো দুনিয়ায় সম্পদের প্রাচুর্য। তারা পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! "কল্যাণ কি অকল্যাণ বয়ে আনবে। তিনি বললেন, কল্যাণ তো অকল্যাণ বয়ে আনে না, কল্যাণ তো কল্যাণই বয়ে আনে, তবে কথা হলো বসন্তকালে যে সব গাছপালা, তরুলতা ও সবুজ ঘাস জন্মায় কোন পশু সেগুলো অতিরিক্ত খেলে কলেরা হয়ে মারা যায় বা মরার নিকটবর্তী হয়। এসব তৃণভোজী পশু অতিরিক্ত খেয়ে পেট ফুলিয়ে ফেলে। অতঃপর রোদে দাঁড়িয়ে জাবর কাটে ও পেশাব করে মলমূত্র ত্যাগ করে। এরপর আবার চারণভূমিতে গিয়ে অতিরিক্ত খেতে থাকে। (এ অতি ভোজের কারণে কোন সময় পেট খারাপ হয়ে মারা যায়) এ দুনিয়ার ধন-সম্পদ তিক্ত ও সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা সৎ পস্থায় উপার্জন করল, সে সে পথেই থাকল। সে কতই না সাহায্য সহযোগিতার সুযোগ লাভ করে। আর যে ব্যক্তি তা অসৎ পস্থায় উপার্জন করল তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে- এক ব্যক্তি খাচ্ছে অথচ পরিতৃপ্ত হতে পারছে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৯০, ইসলামীক সেন্টার ২২৯১)









সহীহ মুসলিম (2313)


حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هِشَامٍ، صَاحِبِ الدَّسْتَوَائِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ فَقَالَ " إِنَّ مِمَّا أَخَافُ عَلَيْكُمْ بَعْدِي مَا يُفْتَحُ عَلَيْكُمْ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا وَزِينَتِهَا " . فَقَالَ رَجُلٌ أَوَيَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَسَكَتَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقِيلَ لَهُ مَا شَأْنُكَ تُكَلِّمُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ يُكَلِّمُكَ قَالَ وَرُئِينَا أَنَّهُ يُنْزَلُ عَلَيْهِ فَأَفَاقَ يَمْسَحُ عَنْهُ الرُّحَضَاءَ وَقَالَ " إِنَّ هَذَا السَّائِلَ - وَكَأَنَّهُ حَمِدَهُ فَقَالَ - إِنَّهُ لاَ يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ وَإِنَّ مِمَّا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ يَقْتُلُ أَوْ يُلِمُّ إِلاَّ آكِلَةَ الْخَضِرِ فَإِنَّهَا أَكَلَتْ حَتَّى إِذَا امْتَلأَتْ خَاصِرَتَاهَا اسْتَقْبَلَتْ عَيْنَ الشَّمْسِ فَثَلَطَتْ وَبَالَتْ ثُمَّ رَتَعَتْ وَإِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرٌ حُلْوٌ وَنِعْمَ صَاحِبُ الْمُسْلِمِ هُوَ لِمَنْ أَعْطَى مِنْهُ الْمِسْكِينَ وَالْيَتِيمَ وَابْنَ السَّبِيلِ أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّهُ مَنْ يَأْخُذُهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ كَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلاَ يَشْبَعُ وَيَكُونُ عَلَيْهِ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .




২৩১৩-(১২৩/...) 'আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের উপরে বসলেন এবং আমরা তার চারদিকে বসে পড়লাম। অতঃপর তিনি (আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে) বললেনঃ "আমার পরে তোমাদের ব্যাপারে আমি যে সব জিনিসের আশঙ্কা করছি তার মধ্যে অন্যতম হলো- পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা সৌন্দর্য যা আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য বের করবেন। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! কল্যাণ কি অকল্যাণ নিয়ে আসবে? বর্ণনাকারী বলেন, (লোকটির প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকলেন। এতে (উপস্থিত লোকদের মধ্যে) কেউ কেউ তাকে বলল, কী দুর্ভাগা তুমি! তুমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কথা বলছ অথচ তিনি তোমার সাথে কথা বলছেন না। রাবী আরো বলেন, আমাদের মনে হলো, তার উপর ওয়াহী অবতীর্ণ হচ্ছে।

অতঃপর তিনি তার (মুখমণ্ডল থেকে) ঘাম মুছে জিজ্ঞেস করলেন, প্রশ্নকারী কোথায়? তিনি মনে হলো তার প্রশংসাই করলেন। তিনি বললেন, কল্যাণ মূলতঃ অকল্যাণ বয়ে আনে না। তবে কথা হলো, বসন্তকালে যে সব সবুজ লতাপাতা ও তৃণরাজির আবির্ভাব ঘটে এগুলো অতি ভোজনে মৃত্যু ঘটায় বা মৃত্যুর নিকটবর্তী করে দেয়। কতিপয় তৃণভোজী পশু তা খেয়ে পেট ফুলিয়ে ফেলে, অতঃপর রোদের দিকে তাকিয়ে মলমূত্র ত্যাগ করে ও পেশাব করে এবং জাবর কাটতে থাকে। অতঃপর তা চারণভূমিতে ছুটে চলে এবং বেশী করে খায় (এভাবে অতিভোজের কারণে বদহজম হয়ে মারা যায়)।

এ দুনিয়ায় ধন সম্পদ সবুজ এবং সুমিষ্ট। এ ধন কোন মুসলিমের কতই উত্তম বন্ধু যা থেকে সে নিঃস্ব, অনাথ, ইয়াতীম ও অসহায় এবং প্রবাসী পথিককে দান করে। কিন্তু যে ব্যক্তি না- হাক (হক)ভাবে এ ধন সম্পদ উপার্জন করে তার দৃষ্টাত্ত হচ্ছে কোন ব্যক্তি আহার করে অথচ তৃপ্ত হয় না। আর ঐ সম্পদ কিয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৯১, ইসলামীক সেন্টার ২২৯২)









সহীহ মুসলিম (2314)


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ نَاسًا، مِنَ الأَنْصَارِ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَعْطَاهُمْ ثُمَّ سَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ حَتَّى إِذَا نَفِدَ مَا عِنْدَهُ قَالَ " مَا يَكُنْ عِنْدِي مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ أَدَّخِرَهُ عَنْكُمْ وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللَّهُ وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ وَمَنْ يَصْبِرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ وَمَا أُعْطِيَ أَحَدٌ مِنْ عَطَاءٍ خَيْرٌ وَأَوْسَعُ مِنَ الصَّبْرِ " .




২৩১৪-(১২৪/১০৫৩) কুতায়বাহ ইবনু সা'ঈদ (রহঃ).... আবূ সা'ঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। আনসার সম্প্রদায়ের কিছু সংখ্যক লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু সাহায্য চাইল। তিনি তাদেরকে দান করলেন। তারা আবারও চাইল, তিনি আবারও দিলেন। এমনকি তার কাছে যে সম্পদ ছিল তাও ফুরিয়ে গেল। অতঃপর তিনি বললেন, আমার কাছে যখন কোন মালামাল থাকে তা তোমাদের দিতে কোন প্রকার কুণ্ঠাবোধ করি না। আর যে ব্যক্তি অন্যের কাছে চাওয়া থেকে বেঁচে থাকতে চায় আল্লাহ তাকে (পরের কাছে হাত পাতার অভিশাপ থেকে) বাঁচিয়ে রাখেন। আর যে ব্যক্তি স্বনির্ভর হতে চায় আল্লাহ তাকে বেপরোয়া ও স্বনির্ভর করে দেন। আর যে ব্যক্তি ধৈর্যের পথে অগ্রসর হয় আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন। বস্তুতঃ আল্লাহর দেয়া অবদানগুলোর মধ্যে ধৈর্য শক্তির চেয়ে উত্তম ও প্রশস্ত অবদান আর কিছু নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৯২, ইসলামীক সেন্টার ২২৯৩)









সহীহ মুসলিম (2315)


حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ .




২৩১৫-(.../...) আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) এর সূত্রেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২২৯৩, ইসলামীক সেন্টার ২২৯৪)









সহীহ মুসলিম (2316)


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي، أَيُّوبَ حَدَّثَنِي شُرَحْبِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ شَرِيكٍ - عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَسْلَمَ وَرُزِقَ كَفَافًا وَقَنَّعَهُ اللَّهُ بِمَا آتَاهُ " .




২৩১৬-(১২৫/১০৫৪) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তির ইসলাম কবুল করার সৌভাগ্য হয়েছে, যাকে প্রয়োজন পরিমাণ রিযক দেয়া হয়েছে এবং আল্লাহ তা'আলা তাকে যে সম্পদ দিয়েছেন এর উপর পরিতৃপ্ত হওয়ারও শক্তি দিয়েছেন, সে-ই (জীবনে) সফলতা লাভ করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৯৪, ইসলামীক সেন্টার ২২৯৫)









সহীহ মুসলিম (2317)


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، كِلاَهُمَا عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ اجْعَلْ رِزْقَ آلِ مُحَمَّدٍ قُوتًا " .




২৩১৭-(১২৬/১০৫৫) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ "হে আল্লাহ! মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের রিযক (বা পানাহারের ব্যবস্থা) প্রয়োজন পরিমাণ রাখুন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৯৫, ইসলামীক সেন্টার ২২৯৬)









সহীহ মুসলিম (2318)


حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ سَلْمَانَ، بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَسْمًا فَقُلْتُ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَغَيْرُ هَؤُلاَءِ كَانَ أَحَقَّ بِهِ مِنْهُمْ . قَالَ " إِنَّهُمْ خَيَّرُونِي أَنْ يَسْأَلُونِي بِالْفُحْشِ أَوْ يُبَخِّلُونِي فَلَسْتُ بِبَاخِلٍ " .




২৩১৮-(১২৭/১০৫৬) উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী (রহঃ) ..... উমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু যাকাতের মাল বণ্টন করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি যাদেরকে দিয়েছেন প্রকৃতপক্ষে এরা পাওয়ার যোগ্য নয়। বরং পাওয়ার যোগ্য হলো অন্য লোক। উত্তরে তিনি বললেন, তারা আমাকে এমনভাবে বাধ্য করেছে যে, আমি যদি তাদেরকে না দিতাম তাহলে তারা আমার কাছে নির্লজ্জভাবে প্রশ্ন করত অথবা আমাকে কৃপণ বলে আখ্যায়িত করত। সুতরাং আমি কৃপণতার আশ্রয় গ্রহণকারী নই (অর্থাৎ কৃপণ নই)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৯৬, ইসলামীক সেন্টার ২২৯৭)









সহীহ মুসলিম (2319)


حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّازِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ مَالِكًا، ح وَحَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي مَالِكُ، بْنُ أَنَسٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ رِدَاءٌ نَجْرَانِيٌّ غَلِيظُ الْحَاشِيَةِ فَأَدْرَكَهُ أَعْرَابِيٌّ فَجَبَذَهُ بِرِدَائِهِ جَبْذَةً شَدِيدَةً نَظَرْتُ إِلَى صَفْحَةِ عُنُقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ أَثَّرَتْ بِهَا حَاشِيَةُ الرِّدَاءِ مِنْ شِدَّةِ جَبْذَتِهِ ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ مُرْ لِي مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي عِنْدَكَ . فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَضَحِكَ ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِعَطَاءٍ .




২৩১৯-(১২৮/১০৫৭) 'আমর আন নাকিদ ও ইউনুস ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে পথ চলছিলাম, তার পরনে ছিল নাজরানের তৈরি মোটা আঁচল বিশিষ্ট চাঁদর। এক বেদুঈন তার কাছে আসল। সে তার চাঁদর ধরে তাকে সজোরে টান দিল। আমি দেখলাম ফলে তার ঘাড়ে দাগ পড়ে গেল। সজোরে তার এ টানের কারণে চাঁদরের আঁচলও পড়ে গেল। সে (বেদুঈন) বলল, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আল্লাহর দেয়া যে সব মাল তোমার কাছে আছে এ থেকে আমাকে কিছু দেয়ার জন্য নির্দেশ দাও। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলেন এবং তাকে কিছু মাল দেয়ার নির্দেশ দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৯৭, ইসলামীক সেন্টার ২২৯৮)









সহীহ মুসলিম (2320)


حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، ح وَحَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، كُلُّهُمْ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ، بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ . وَفِي حَدِيثِ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ مِنَ الزِّيَادَةِ قَالَ ثُمَّ جَبَذَهُ إِلَيْهِ جَبْذَةً رَجَعَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نَحْرِ الأَعْرَابِيِّ . وَفِي حَدِيثِ هَمَّامٍ فَجَاذَبَهُ حَتَّى انْشَقَّ الْبُرْدُ وَحَتَّى بَقِيَتْ حَاشِيَتُهُ فِي عُنُقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .




২৩২০-(.../...) যুহায়র ইবনু হারব ও সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এ সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একই হাদীস বর্ণিত হয়েছে। "আমরের বর্ণিত হাদীসে আরো আছে "তারপর সে (বেদুঈন) এমন জোরে চাঁদর ধরে টান দিল যে, আল্লাহর নবী বেদুঈনের ঘাড়ের সাথে লেগে গেল। আর হাম্মামের বর্ণনায় আছেঃ এমন জোড়ে তার চাঁদর ধরে টান দিল যে, তা ফেটে গেল এবং এর আঁচল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘাড়ে থেকে গেল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৯৮, ইসলামীক সেন্টার ২২৯৯)