সহীহ মুসলিম
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحِ بْنِ الْمُهَاجِرِ، أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ، أَبِي صَالِحٍ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ عَبْدٍ يَصُومُ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلاَّ بَاعَدَ اللَّهُ بِذَلِكَ الْيَوْمِ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا " .
২৬০১-(১৬৭/১১৫৩) মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ ইবনুল মুহাজির (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে বান্দা আল্লাহর রাস্তায় (যুদ্ধের সময়) একদিন সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করবে আল্লাহ তা'আলা তার চেহারাকে এ দিনের (সিয়ামের) বারাকাতে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের পথ দূরে রাখবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৭৮, ইসলামীক সেন্টার ২৫৭৭)
وَحَدَّثَنَاهُ قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي الدَّرَاوَرْدِيَّ - عَنْ سُهَيْلٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .
২৬০২-(.../...) কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সুহায়ল (রহঃ) থেকে এ সূত্রেও উপরের হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৭৯, ইসলামীক সেন্টার ২৫৭৮)
وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرٍ الْعَبْدِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، وَسُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، أَنَّهُمَا سَمِعَا النُّعْمَانَ بْنَ، أَبِي عَيَّاشٍ الزُّرَقِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، - رضى الله عنه - قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بَاعَدَ اللَّهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا " .
২৬০৩-(১৬৮/...) ইসহাক ইবনু মানসূর ও আবদুর রহমান ইবনু বিশর আল আবদী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করে, আল্লাহ তা'আলা তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের পথ দূরে রাখবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৮০, ইসলামীক সেন্টার ২৫৭৯)
وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا طَلْحَةُ، بْنُ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ بِنْتُ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ " يَا عَائِشَةُ هَلْ عِنْدَكُمْ شَىْءٌ " . قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا عِنْدَنَا شَىْءٌ . قَالَ " فَإِنِّي صَائِمٌ " . قَالَتْ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأُهْدِيَتْ لَنَا هَدِيَّةٌ - أَوْ جَاءَنَا زَوْرٌ - قَالَتْ - فَلَمَّا رَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُهْدِيَتْ لَنَا هَدِيَّةٌ - أَوْ جَاءَنَا زَوْرٌ - وَقَدْ خَبَأْتُ لَكَ شَيْئًا . قَالَ " مَا هُوَ " . قُلْتُ حَيْسٌ . قَالَ " هَاتِيهِ " . فَجِئْتُ بِهِ فَأَكَلَ ثُمَّ قَالَ " قَدْ كُنْتُ أَصْبَحْتُ صَائِمًا " . قَالَ طَلْحَةُ فَحَدَّثْتُ مُجَاهِدًا بِهَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ ذَاكَ بِمَنْزِلَةِ الرَّجُلِ يُخْرِجُ الصَّدَقَةَ مِنْ مَالِهِ فَإِنْ شَاءَ أَمْضَاهَا وَإِنْ شَاءَ أَمْسَكَهَا .
২৬০৪-(১৬৯/১১৫৪) আবূ কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন (রহঃ) ..... উম্মুল মু'মিনীন আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, "হে আয়িশাহ! তোমাদের কাছে কি খাওয়ার মতো কিছু আছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কাছে খাওয়ার মতো কিছুই নেই। তিনি বললেন, আমি সিয়াম (রোজা/রোযা) পালনকারী। আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে চলে গেলেন। পরে আমাদের জন্য হাদিয়াহ (হাদিয়া/উপহার) হিসেবে কিছু জিনিস আসলো এবং সাথে সাথে আমাদের কাছে কিছু সংখ্যক মেহমানও আসলো। তিনি আরো বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফিরে আসলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কাছে উপঢৌকন হিসেবে কিছু জিনিস এসেছে এবং কয়েকজন মেহমানও এসেছে (তাই হাদিয়্যার বেশীর ভাগ তাদেরকে খাইয়ে দিয়েছি)। আমি তা থেকে কিছু অংশ আপনার জন্য লুকিয়ে রেখেছি। তিনি বললেন, তা কী? আমি বললাম, তা হলো হায়স (খেজুর, পনির ও আটার সমন্বয়ে তৈরি হালুয়া)। তিনি বললেন, তা নিয়ে এসো। অতঃপর আমি তা নিয়ে আসলাম। তিনি তা খেয়ে বললেন, আমি ভোরে সিয়াম পালন করেছিলাম। ত্বলহাহ বলেন, আমি এ হাদীসটি মুজাহিদের কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বলেন, এটা (এভাবে নাফল সিয়াম ভেঙে ফেলা) এমন ব্যক্তির সাথে তুল্য যে নিজের সম্পদ থেকে সদাকাহ্ বের করে। অতঃপর সে ইচ্ছা করলে তা দিতেও পারে আর রেখেও দিতে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৮১, ইসলামীক সেন্টার ২৫৮০)
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ عَمَّتِهِ، عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ " هَلْ عِنْدَكُمْ شَىْءٌ " . فَقُلْنَا لاَ . قَالَ " فَإِنِّي إِذًا صَائِمٌ " . ثُمَّ أَتَانَا يَوْمًا آخَرَ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أُهْدِيَ لَنَا حَيْسٌ . فَقَالَ " أَرِينِيهِ فَلَقَدْ أَصْبَحْتُ صَائِمًا " . فَأَكَلَ .
২৬০৫-(১৭০/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এসে বললেন, তোমাদের কাছে কিছু আছে কি? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে আমি সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করলাম। আর একদিন তিনি আমাদের কাছে আসলেন। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদেরকে 'হায়স' (ঘি বা পনির মিশ্রিত খেজুর) হাদিয়াহ দেয়া হয়েছে।
তিনি বললেন, আমাকে তা দেখাও; অবশ্য আমি সকালে সিয়ামের নিয়্যাত করেছি। অতঃপর তিনি তা খেলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৮২, ইসলামীক সেন্টার ২৫৮১)
وَحَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هِشَامٍ الْقُرْدُوسِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ نَسِيَ وَهُوَ صَائِمٌ فَأَكَلَ أَوْ شَرِبَ فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللَّهُ وَسَقَاهُ " .
২৬০৬-(১৭১/১১৫৫) আমর ইবনু মুহাম্মাদ আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সিয়াম (রোজা/রোযা) অবস্থায় ভুলে কিছু খেয়েছে বা পান করেছে সে যেন তার সিয়াম (রোজা/রোযা) পূর্ণ করে। কেননা আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৮৩, ইসলামীক সেন্টার ২৫৮২)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، بْنِ شَقِيقٍ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ رضى الله عنها هَلْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَهْرًا مَعْلُومًا سِوَى رَمَضَانَ قَالَتْ وَاللَّهِ إِنْ صَامَ شَهْرًا مَعْلُومًا سِوَى رَمَضَانَ حَتَّى مَضَى لِوَجْهِهِ وَلاَ أَفْطَرَهُ حَتَّى يُصِيبَ مِنْهُ .
২৬০৭-(১৭২/১১৫৬) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি রমযান মাস ছাড়া অন্য কোন সময় পূর্ণ মাস সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করতেন? তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ তিনি আজীবন রমযান ছাড়া অন্য কোন সময় পূর্ণ এক মাস সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করেননি। আর এমন কোন মাসও অতিবাহিত হয়নি যাতে তিনি অন্তত কিছু সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৮৪, ইসলামীক সেন্টার ২৫৮৩)
وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا كَهْمَسٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ - رضى الله عنها - أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَهْرًا كُلَّهُ قَالَتْ مَا عَلِمْتُهُ صَامَ شَهْرًا كُلَّهُ إِلاَّ رَمَضَانَ وَلاَ أَفْطَرَهُ كُلَّهُ حَتَّى يَصُومَ مِنْهُ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ صلى الله عليه وسلم .
২৬০৮-(১৭৩/...) উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কখনও একটি পূর্ণ মাস (নাফল) সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করতেন? তিনি বললেন, আমার জানা মতে তার ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত তিনি রমযান মাস ছাড়া অন্য কোন সময়ে পূর্ণ মাস সিয়াম পালন করেননি। আর এমন কোন মাসও কাটেনি যে মাসে তিনি (দু'একটি) সিয়াম পালন করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৮৫, ইসলামীক সেন্টার ২৫৮৪)
وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، وَهِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، - قَالَ حَمَّادٌ وَأَظُنُّ أَيُّوبَ قَدْ سَمِعَهُ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، - قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - عَنْ صَوْمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ قَدْ صَامَ . وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ قَدْ أَفْطَرَ - قَالَتْ - وَمَا رَأَيْتُهُ صَامَ شَهْرًا كَامِلاً مُنْذُ قَدِمَ الْمَدِينَةَ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ رَمَضَانَ .
২৬০৯-(১৭৩/...) আবূ রবী' আয যাহরানী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিয়াম (রোজা/রোযা) সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তিনি একাধারে সিয়াম পালন করে যেতেন যাতে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি অনেক সিয়াম পালন করেছেন। আর কখনো তিনি একাধারে পানাহার (সিয়াম পালন না করে) কাটিয়ে দিতেন। যাতে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি অনেক দিন যাবৎ সিয়াম পালন করেননি, তিনি অনেক দিন সিয়াম পালন করেননি। আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আরো বলেন, তিনি মদীনায় আসার পর আমি তাকে রমযান মাস ছাড়া কখনো পূর্ণ একটি মাস সিয়াম পালন করতে দেখিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৮৬, ইসলামীক সেন্টার ২৫৮৫)
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - بِمِثْلِهِ وَلَمْ يَذْكُرْ فِي الإِسْنَادِ هِشَامًا وَلاَ مُحَمَّدًا .
২৬১০-(.../...) কুতায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে জিজ্ঞেস করলাম ... উপরের হাদীসের অনুরূপ। তবে এ সানাদে অধঃস্তন রাবী হিশাম ও মুহাম্মাদের নাম উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৮৭, ইসলামীক সেন্টার ২৫৮৬)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يُفْطِرُ . وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يَصُومُ . وَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ قَطُّ إِلاَّ رَمَضَانَ وَمَا رَأَيْتُهُ فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ مِنْهُ صِيَامًا فِي شَعْبَانَ .
২৬১১-(১৭৫/...) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করতে থাকতেন। ফলে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর সিয়াম ভঙ্গ করবেন না। আবার এমনভাবে তিনি ক্রমাগত সিয়াম ছাড়তে থাকতেন যাতে আমরা বলতাম, তিনি বুঝি আর (এ মাসে) সিয়াম পালন করবেন না। আমি তাকে কখনো রমযান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে অধিক সিয়াম পালন করতেও দেখিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৮৮, ইসলামীক সেন্টার ২৫৮৭)
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، - عَنِ ابْنِ أَبِي لَبِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - عَنْ صِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ . وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ . وَلَمْ أَرَهُ صَائِمًا مِنْ شَهْرٍ قَطُّ أَكْثَرَ مِنْ صِيَامِهِ مِنْ شَعْبَانَ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ إِلاَّ قَلِيلاً .
২৬১২-(১৭৬/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিয়াম (রোজা/রোযা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, কখনো কখনো একাধারে সিয়াম পালন করে যেতেন যে, আমরা বলতাম, তিনি সিয়াম পালন করে যাচ্ছেন (হয়ত আর বিরত হবেন না)। আবার তিনি কখনো কখনো একাধারে সিয়াম পালন না করে অতিবাহিত করতেন যে, আমরা বলতাম, হয়ত তিনি আর সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করবেন না। আমি তাকে শা'বান মাসের চেয়ে অন্য কোন মাসে এত অধিক (নাফল) সিয়াম পালন করতে দেখিনি। তিনি পুরো শাবান মাসেই সিয়াম পালন করতেন (অর্থাৎ কয়েক দিন ছাড়া পূর্ণ শাবান মাস সিয়াম পালন করতেন)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২৫৮৯, ইসলামীক সেন্টার ২৫৮৮)
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى بْنِ، أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الشَّهْرِ مِنَ السَّنَةِ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ وَكَانَ يَقُولُ " خُذُوا مِنَ الأَعْمَالِ مَا تُطِيقُونَ فَإِنَّ اللَّهَ لَنْ يَمَلَّ حَتَّى تَمَلُّوا " . وَكَانَ يَقُولُ " أَحَبُّ الْعَمَلِ إِلَى اللَّهِ مَا دَاوَمَ عَلَيْهِ صَاحِبُهُ وَإِنْ قَلَّ " .
২৬১৩-(১৭৭/৭৮২) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শা'বান মাসে যত সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করতেন সারা বছরে অন্য কোন মাসে তিনি এত অধিক সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করতেন না। আর তিনি (লোকদের উদ্দেশে) বলতেন, "তোমরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী যত বেশী পার আমল কর। কেননা, আল্লাহ তা'আলা (তোমাদেরকে সাওয়াব দানে) ক্লান্ত বা বিরক্ত হবেন না যতক্ষণ তোমরা অক্ষম হয়ে না পড়বে। তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তা'আলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় 'আমল হচ্ছে যা কোন বান্দা অব্যাহতভাবে করে থাকে- যদিও তা পরিমাণে কম হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৯০, ইসলামীক সেন্টার ২৫৮৯)
حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - رضى الله عنهما - قَالَ مَا صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَهْرًا كَامِلاً قَطُّ غَيْرَ رَمَضَانَ . وَكَانَ يَصُومُ إِذَا صَامَ حَتَّى يَقُولَ الْقَائِلُ لاَ وَاللَّهِ لاَ يُفْطِرُ . وَيُفْطِرُ إِذَا أَفْطَرَ حَتَّى يَقُولَ الْقَائِلُ لاَ وَاللَّهِ لاَ يَصُومُ .
২৬১৪-(১৭৮/১১৫৭) আবূ রবী যাহরানী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাস ছাড়া আর কখনো পূর্ণ মাস সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করতেন না। তিনি যখন সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করতেন তখন ক্রমাগত সিয়াম পালন করে যেতেন। ফলে লোকেরা বলত, আল্লাহর কসম! হয়ত তিনি আর সিয়াম ভঙ্গ করবেন না। আবার যখন তিনি সিয়াম ছেড়ে দিতেন একাধারেই বিরতি দিতে থাকতেন। এমনকি লোকেরা বলত আল্লাহর কসম! তিনি হয়ত আর সিয়াম পালন করবেন না।*(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৯১, ইসলামীক সেন্টার ২৫৯০)
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ عَنْ غُنْدَرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ بِهَذَا الْإِسْنَادِ وَقَالَ شَهْرًا مُتَتَابِعًا مُنْذُ قَدِمَ الْمَدِينَةَ
২৬১৫-(.../...) মুহাম্মদ ইবনু বাশশার ও আবূ বাকর ইবনু নাফি (রহঃ) ..... আবূ বিশর (রহঃ) এর সূত্রে এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাতে আসার পর কখনো একাধারে এক মাস (নাফল) সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৯২, ইসলামীক সেন্টার ২৫৯১)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ سَأَلْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ عَنْ صَوْمِ، رَجَبٍ - وَنَحْنُ يَوْمَئِذٍ فِي رَجَبٍ - فَقَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يُفْطِرُ . وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يَصُومُ .
২৬১৬-(১৭৯/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... উসমান ইবনু হাকীম আল আনসারী (রহঃ) বলেন, আমি রজব মাসের সিয়াম (রোজা/রোযা) সম্পর্কে সাঈদ ইবনু জুবায়র কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করতে থাকতেন যাতে আমরা বলতাম, তিনি হয়ত আর সিয়াম (রোজা/রোযা) ছাড়বেন না। আবার তিনি এমনভাবে ক্রমাগত সিয়াম (রোজা/রোযা) না রেখে থাকতেন যাতে আমরা বলতাম, তিনি বুঝি আর (এ মাসে) সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করবেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৯৩, ইসলামীক সেন্টার ২৫৯২)
وَحَدَّثَنِيهِ عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، ح وَحَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، كِلاَهُمَا عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ . بِمِثْلِهِ .
২৬১৭-(.../...) 'আলী ইবনু হুজর ও ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) ..... উসমান ইবনু হাকীম (রহঃ) থেকে এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৯৪, ইসলামীক সেন্টার ২৫৯৩)
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ أَبِي خَلَفٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، رضى الله عنه ح. وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَصُومُ حَتَّى يُقَالَ قَدْ صَامَ قَدْ صَامَ . وَيُفْطِرُ حَتَّى يُقَالَ قَدْ أَفْطَرَ قَدْ أَفْطَرَ .
২৬১৮-(১৮০/১১৫৮) যুহায়র ইবনু হারব, ইবনু আবূ খালাফ ও আবূ বাকর ইবনু নাফি (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করে যেতেন, এমনকি বলা হত তিনি অনেক সিয়াম পালন করেছেন,তিনি অনেক সিয়াম পালন করেছেন। আবার তিনি সিয়াম থেকে এমনভাবে বিরত থাকতেন যে, বলা হত তিনি অনেক দিন সিয়াম (রোজা/রোযা) থেকে বিরত রয়েছেন, অনেক দিন বিরত রয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৯৫, ইসলামীক সেন্টার ২৫৯৪)
حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ وَهْبٍ، يُحَدِّثُ عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ، شِهَابٍ ح وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ أُخْبِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ يَقُولُ لأَقُومَنَّ اللَّيْلَ وَلأَصُومَنَّ النَّهَارَ مَا عِشْتُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " آنْتَ الَّذِي تَقُولُ ذَلِكَ " . فَقُلْتُ لَهُ قَدْ قُلْتُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِنَّكَ لاَ تَسْتَطِيعُ ذَلِكَ فَصُمْ وَأَفْطِرْ وَنَمْ وَقُمْ وَصُمْ مِنَ الشَّهْرِ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَإِنَّ الْحَسَنَةَ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا وَذَلِكَ مِثْلُ صِيَامِ الدَّهْرِ " . قَالَ قُلْتُ فَإِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمَيْنِ " . قَالَ قُلْتُ فَإِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا وَذَلِكَ صِيَامُ دَاوُدَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - وَهُوَ أَعْدَلُ الصِّيَامِ " . قَالَ قُلْتُ فَإِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ " . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو رضى الله عنهما لأَنْ أَكُونَ قَبِلْتُ الثَّلاَثَةَ الأَيَّامَ الَّتِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَهْلِي وَمَالِي .
২৬১৯-(১৮১/১১৫৯) আবূ ত্বহির ও হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অবহিত করা হলো যে, আমি বলছি, আমি যতদিন বেঁচে থাকব সারা রাতে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করব এবং সর্বদা দিনের বেলা সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করব।
অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাকে) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এ কথা বলেছ? আমি তাকে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি এ কথা বলেছি। তিনি বললেন, তুমি এ কাজ করতে পারবে না, কারণ তোমার সে সামর্থ্য নেই। পড়, নিদ্রাও যাও। আর প্রতি মাসে তিনদিন করে সিয়াম পালন কর। কেননা প্রত্যেক নেক কাজের জন্য দশগুণ সাওয়াব পাওয়া যায়। এতেই সারা জীবন সিয়াম পালন করার সাওয়াব পাওয়া যাবে।
রাবী বলেন, আমি আরয করলাম, আমি এর চেয়েও বেশী করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তবে একদিন সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন কর এবং অতঃপর দুদিন সিয়াম পালন থেকে বিরত থাক। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, "হে আল্লাহর রসূল! আমি এর চেয়েও বেশী করতে সক্ষম। তিনি বললেন, তাহলে তুমি একদিন সিয়াম পালন কর এবং একদিন বিরত থাক। এটাই দাউদ (আঃ)-এর সিয়াম। আর এর চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই।
'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ মত তিন দিনের সিয়াম পালন করাকে যদি আমি গ্রহণ করে নিতাম তাহলে এটা আমার কাছে আমার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের চেয়েও পছন্দনীয় হত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৯৬, ইসলামীক সেন্টার ২৫৯৫)
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الرُّومِيُّ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، - وَهُوَ ابْنُ عَمَّارٍ - حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ انْطَلَقْتُ أَنَا وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَتَّى نَأْتِيَ أَبَا سَلَمَةَ فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهِ رَسُولاً فَخَرَجَ عَلَيْنَا وَإِذَا عِنْدَ بَابِ دَارِهِ مَسْجِدٌ - قَالَ - فَكُنَّا فِي الْمَسْجِدِ حَتَّى خَرَجَ إِلَيْنَا . فَقَالَ إِنْ تَشَاءُوا أَنْ تَدْخُلُوا وَإِنْ تَشَاءُوا أَنْ تَقْعُدُوا هَا هُنَا . - قَالَ - فَقُلْنَا لاَ بَلْ نَقْعُدُ هَا هُنَا فَحَدِّثْنَا . قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ - رضى الله عنهما - قَالَ كُنْتُ أَصُومُ الدَّهْرَ وَأَقْرَأُ الْقُرْآنَ كُلَّ لَيْلَةٍ - قَالَ - فَإِمَّا ذُكِرْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَإِمَّا أَرْسَلَ إِلَىَّ فَأَتَيْتُهُ فَقَالَ لِي " أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ تَصُومُ الدَّهْرَ وَتَقْرَأُ الْقُرْآنَ كُلَّ لَيْلَةٍ " . قُلْتُ بَلَى يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَلَمْ أُرِدْ بِذَلِكَ إِلاَّ الْخَيْرَ . قَالَ " فَإِنَّ بِحَسْبِكَ أَنْ تَصُومَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ " . قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " فَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَلِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَلِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا - قَالَ - فَصُمْ صَوْمَ دَاوُدَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُ كَانَ أَعْبَدَ النَّاسِ " . قَالَ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَمَا صَوْمُ دَاوُدَ قَالَ " كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا " . قَالَ " وَاقْرَإِ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ " . قَالَ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ قَالَ " فَاقْرَأْهُ فِي كُلِّ عِشْرِينَ " . قَالَ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ قَالَ " فَاقْرَأْهُ فِي كُلِّ عَشْرٍ " . قَالَ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " فَاقْرَأْهُ فِي كُلِّ سَبْعٍ وَلاَ تَزِدْ عَلَى ذَلِكَ . فَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَلِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَلِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا " . قَالَ فَشَدَّدْتُ فَشُدِّدَ عَلَىَّ . قَالَ وَقَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّكَ لاَ تَدْرِي لَعَلَّكَ يَطُولُ بِكَ عُمْرٌ " . قَالَ فَصِرْتُ إِلَى الَّذِي قَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا كَبِرْتُ وَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ قَبِلْتُ رُخْصَةَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
২৬২০-(১৮২/...) আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আর রূমী (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ আবূ সালামার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশে রওনা হলাম। অবশেষে আমরা তার বাড়িতে গিয়ে পৌছলাম। তার বাড়ির সামনেই ছিল একটি মসজিদ। আমরা সেখানে গিয়ে বসলাম এবং তাকে খবর দেয়ার জন্য একটি লোক পাঠালাম। তিনি বাড়ির ভিতর থেকে বের হয়ে আমাদের কাছে এসে বললেন, তোমরা ইচ্ছে করলে ঘরে গিয়েও বসতে পার অথবা এখানেও বসতে পার। আমরা বললাম, অবশ্যই আমরা এখানে বসব। অতঃপর তিনি আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমার কাছে বলেছেন, আমি সর্বদা সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করতাম এবং প্রতি রাতেই (রাত ভর) কুরআন তিলাওয়াত করতাম। পরে হয়ত বা আমার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আলোচনা করা হয়েছে অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি নিজেই আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। আমি গিয়ে তার কাছে হাজির হলাম।
তিনি বললেন, আমি জানতে পারলাম, তুমি নাকি সর্বদা সিয়াম পালন কর এবং প্রতি রাতেই (সারা রাত) কুরআন তিলাওয়াত কর? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর নবী! আমি কল্যাণ লাভ করার উদেশেই তা করে থাকি। তিনি বললেন, প্রতি মাসে তিনটি করে সিয়াম (রোজা/রোযা) পালন করাই তোমার জন্য যথেষ্ট। তখন আমি বললাম, আমি এর চেয়েও বেশী করতে সক্ষম। তিনি বললেন, (এরূপ করো না)। কেননা তোমার উপর তোমার স্ত্রীর অধিকার রয়েছে, যারা তোমার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে তাদেরও তোমার উপর অধিকার রয়েছে। আর তোমার উপর তোমার দেহেরও হাক্ব (হক) আছে। তাই তুমি আল্লাহর নবী দাউদ (আঃ) এর সিয়াম অনুসরণ কর। কেননা তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ইবাদাত করতেন। আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রললাম, হে আল্লাহর নবী দাউদ (আঃ) এর সিয়াম কী? তিনি বললেন, দাউদ (আঃ) একদিন সিয়াম পালন করতেন এবং একদিন পালন করতেন না (অর্থাৎ একদিন পরপর সিয়াম পালন করতেন)।
তিনি (আরো) বললেন, তুমি প্রতি মাসে একবার কুরআন খতম কর। আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমি এর চেয়েও বেশী পড়ার সামর্থ রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি প্রতি বিশ দিনে একবার কুরআন খতম কর। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর নবী! আমি এর চেয়েও বেশী করতে সক্ষম। তিনি বললেন, তাহলে তুমি প্রতি দশ দিনে একবার কুরআন খতম কর। আমি আবার বললাম, হে আল্লাহর নবী এর চেয়েও বেশী পারি। তিনি বললেন, তুমি সাতদিন অন্তর কুরআন খতম কর, তবে এর চেয়ে বেশী পড়ো না। কেননা তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হাক্ব (হক) আছে, তোমার সাক্ষাতপ্রার্থীদেরও তোমার উপর হাক্ব (হক) আছে, আর তোমার শরীরেরও তোমার উপর হাক্ব (হক) আছে।
আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি (সর্বদা সিয়াম পালন করে) নিজের উপর কঠোরতা করেছি। ফলে (আমার উপরও) কঠোরতা চেপে বসেছে। তিনি আরো বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছিলেন, তোমার জানা নেই হয়ত বা তুমি দীর্ঘায়ু লাভ করবে (তখন তোমার পক্ষে এত বেশী 'আমল করা অসম্ভব হয়ে পড়বে)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছিলেন বাস্তবে তাই হলো। আমি যখন বয়োবৃদ্ধ হয়ে পড়লাম তখন অনুশোচনা করে বলতাম, "হায়! আমি যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেয়া অবকাশটুকু গ্রহণ করতাম! (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৫৯৭, ইসলামীক সেন্টার ২৫৯৬)