সহীহ মুসলিম
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَرَانِي لَيْلَةً عِنْدَ الْكَعْبَةِ فَرَأَيْتُ رَجُلاً آدَمَ كَأَحْسَنِ مَا أَنْتَ رَاءٍ مِنْ أُدْمِ الرِّجَالِ لَهُ لِمَّةٌ كَأَحْسَنِ مَا أَنْتَ رَاءٍ مِنَ اللِّمَمِ قَدْ رَجَّلَهَا فَهِيَ تَقْطُرُ مَاءً مُتَّكِئًا عَلَى رَجُلَيْنِ - أَوْ عَلَى عَوَاتِقِ رَجُلَيْنِ - يَطُوفُ بِالْبَيْتِ فَسَأَلْتُ مَنْ هَذَا فَقِيلَ هَذَا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ . ثُمَّ إِذَا أَنَا بِرَجُلٍ جَعْدٍ قَطَطٍ أَعْوَرِ الْعَيْنِ الْيُمْنَى كَأَنَّهَا عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ فَسَأَلْتُ مَنْ هَذَا فَقِيلَ هَذَا الْمَسِيحُ الدَّجَّالُ " .
৩১৪-(২৭৩/১৬৯) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একরাতে (স্বপ্নে) আমি কা'বা শরীফের কাছে আমাকে দেখতে পেলাম। গোধূম (গম) বর্ণের এক ব্যক্তিকে দেখলাম। এ বর্ণের যত লোক তোমরা দেখেছ তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। ঘাড় পর্যন্ত লম্বা চুল ছিল তার। এ ধরনের চুলের অধিকারী যত ব্যক্তি তোমরা দেখেছ তাদের মধ্যে তিনি হলেন সবচেয়ে সুন্দর। তিনি এ চুল আঁচড়িয়ে রেখেছেন আর তা থেকে পানি ঝরছিল। দু'জনের উপর বা বর্ণনাকারী বলেন, দু'জনের কাঁধের উপর ভর করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করছেন। জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বলা হল, ইনি মাসীহ ইবনু মারইয়াম*। তারপর দেখি আরেক ব্যক্তি, অধিক কোকড়ানো চুল, ডান চক্ষুটি টেরা যেন একটি আঙ্গুর ফুলে রয়েছে। জিজ্ঞেস করলামঃ এ কে? বলা হল, এ হচ্ছে মাসীহুদ দাজ্জাল।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২২, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৩৩)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمُسَيَّبِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ، - يَعْنِي ابْنَ عِيَاضٍ - عَنْ مُوسَى، - وَهُوَ ابْنُ عُقْبَةَ - عَنْ نَافِعٍ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا بَيْنَ ظَهْرَانَىِ النَّاسِ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لَيْسَ بِأَعْوَرَ أَلاَ إِنَّ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ أَعْوَرُ عَيْنِ الْيُمْنَى كَأَنَّ عَيْنَهُ عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ " . قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرَانِي اللَّيْلَةَ فِي الْمَنَامِ عِنْدَ الْكَعْبَةِ فَإِذَا رَجُلٌ آدَمُ كَأَحْسَنِ مَا تَرَى مِنْ أُدْمِ الرِّجَالِ تَضْرِبُ لِمَّتُهُ بَيْنَ مَنْكِبَيْهِ رَجِلُ الشَّعَرِ يَقْطُرُ رَأْسُهُ مَاءً . وَاضِعًا يَدَيْهِ عَلَى مَنْكِبَىْ رَجُلَيْنِ وَهُوَ بَيْنَهُمَا يَطُوفُ بِالْبَيْتِ فَقُلْتُ مَنْ هَذَا فَقَالُوا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ . وَرَأَيْتُ وَرَاءَهُ رَجُلاً جَعْدًا قَطَطًا أَعْوَرَ عَيْنِ الْيُمْنَى كَأَشْبَهِ مَنْ رَأَيْتُ مِنَ النَّاسِ بِابْنِ قَطَنٍ وَاضِعًا يَدَيْهِ عَلَى مَنْكِبَىْ رَجُلَيْنِ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ فَقُلْتُ مَنْ هَذَا قَالُوا هَذَا الْمَسِيحُ الدَّجَّالُ " .
৩১৫-(২৭৪/...) মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবাদের সম্মুখে দাজ্জালের কথা উল্লেখ করে বললেন, অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা টেরা চোখ বিশিষ্ট নন। জেনে রাখ দাজ্জালের ডান চোখ টেরা যেন ফোলা একটি আঙ্গুর। ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একবার আমি স্বপ্নে আমাকে কা'বার কাছে পেলাম। গোধূম বর্ণের এক ব্যক্তিকে দেখলাম। এ বর্ণের তোমরা যত লোক দেখেছ তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। চুল তার কাঁধ পর্যন্ত বুলছিল। তার চুলগুলো ছিল সোজা। তা থেকে তখন পানি ঝরছিল। তিনি দু' ব্যক্তির কাঁধে হাত রেখে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করছিলেন। জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বলা হল, ইনি মাসীহ ইবনু মারইয়াম। তারই পেছনে দেখলাম, আরেক ব্যক্তি, অধিক কোঁকড়ানো চুল। তার ডান চোখ ছিল টেরা। সে দেখতে ছিল ইবনু কাতান এর ন্যায়। সেও দু' ব্যক্তির কাঁধে হাত রেখে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করছে। জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? বলা হল, মাসীহুদ দাজ্জাল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৩৪)
حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا حَنْظَلَةُ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رَأَيْتُ عِنْدَ الْكَعْبَةِ رَجُلاً آدَمَ سَبِطَ الرَّأْسِ وَاضِعًا يَدَيْهِ عَلَى رَجُلَيْنِ . يَسْكُبُ رَأْسُهُ - أَوْ يَقْطُرُ رَأْسُهُ - فَسَأَلْتُ مَنْ هَذَا فَقَالُوا عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ أَوِ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ - لاَ نَدْرِي أَىَّ ذَلِكَ قَالَ - وَرَأَيْتُ وَرَاءَهُ رَجُلاً أَحْمَرَ جَعْدَ الرَّأْسِ أَعْوَرَ الْعَيْنِ الْيُمْنَى أَشْبَهُ مَنْ رَأَيْتُ بِهِ ابْنُ قَطَنٍ فَسَأَلْتُ مَنْ هَذَا فَقَالُوا الْمَسِيحُ الدَّجَّالُ " .
৩১৬-(২৭৫/...) ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি (স্বপ্নযোগে) কা'বার নিকটে খাড়া চুল বিশিষ্ট বাদামী রঙের এক ব্যক্তিকে দু'জন লোকের (কাঁধের) উপর হাত রাখা অবস্থায় দেখেছি। তার মাথা থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছিল অথবা বলেছেন, ফোটা ফোটা পানি পড়ছিল। আমি জানতে চাইলাম, ইনি কে? লোকেরা বললো, ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) অথবা বলেছেন, আল মাসীহ ইবনু মারইয়াম (আঃ)। সালিম বলেন, ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সঠিকভাবে অবগত নন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনটি বলেছেন। তবে তিনি এ কথাও বলেছেন যে, তার পেছনে আমি এমন এক ব্যক্তিকেও দেখেছি, যে রক্তবর্ণের, স্থুলদেহী, মাথার চুল কোঁকড়ানো, ডান চোখ কানা, আকৃতিতে আমার দেখা (কাফির) ইবনু কাতানের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। আমি জানতে চাইলাম, এ লোকটি কে? তারা বললেন, এ হলো মাসীহে দাজ্জাল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৩৫)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَمَّا كَذَّبَتْنِي قُرَيْشٌ قُمْتُ فِي الْحِجْرِ فَجَلاَ اللَّهُ لِي بَيْتَ الْمَقْدِسِ فَطَفِقْتُ أُخْبِرُهُمْ عَنْ آيَاتِهِ وَأَنَا أَنْظُرُ إِلَيْهِ " .
৩১৭-(২৭৬/১৭০) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (মি'রাজের সংবাদে) কুরায়শরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে অপবাদ দিল। তখন আমি হজ্জরে আসওয়াদের পাশে দাঁড়ালে আল্লাহ তা'আলা আমার সম্মুখে বাইতুল মাকদাসকে তুলে ধরেন, আর আমি চোখে দেখেই তার সকল নিদর্শনাবলী উল্লেখ করে যেতে লাগলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৫, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৩৬)
حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " بَيْنَمَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُنِي أَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ فَإِذَا رَجُلٌ آدَمُ سَبِطُ الشَّعْرِ بَيْنَ رَجُلَيْنِ يَنْطِفُ رَأْسُهُ مَاءً - أَوْ يُهَرَاقُ رَأْسُهُ مَاءً - قُلْتُ مَنْ هَذَا قَالُوا هَذَا ابْنُ مَرْيَمَ . ثُمَّ ذَهَبْتُ أَلْتَفِتُ فَإِذَا رَجُلٌ أَحْمَرُ جَسِيمٌ جَعْدُ الرَّأْسِ أَعْوَرُ الْعَيْنِ كَأَنَّ عَيْنَهُ عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ . قُلْتُ مَنْ هَذَا قَالُوا الدَّجَّالُ . أَقْرَبُ النَّاسِ بِهِ شَبَهًا ابْنُ قَطَنٍ " .
৩১৮-(২৭৭/১৭১) হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, একদিন আমি ঘুমিয়েছিলাম। তখন দেখি যে, আমি কা'বা তাওয়াফ করছি। বাদামী বর্ণের মধ্যমাকৃতির এক ব্যক্তিকে সেখানে দেখলাম। তার চুলগুলো ছিল সোজা। তিনি দু'জনের কাধে ভর করে তাওয়াফ করছেন। আর তার মাথা হতে টপটপ করে পানি ঝরছে। বর্ণনাকারী বলেন, এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়তো অথবা' শব্দ ব্যবহার করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বলা হল, ইনি ইবনু মারইয়াম (আঃ)। তারপর আমি চোখ ফিরিয়ে তাকালাম; লোহিত বর্ণের মোটা এক ব্যক্তিকে দেখলাম। তার চুলগুলো ছিল কোঁকড়ানো। তার চোখ ছিল টেরা, যেন একটি ফোলা আঙ্গুর। জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? বলা হল, এ হল দাজ্জাল। তার নিকটতম সদৃশ হল ইবনু কাতান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৩৭)
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حُجَيْنُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - وَهُوَ ابْنُ أَبِي سَلَمَةَ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ رَأَيْتُنِي فِي الْحِجْرِ وَقُرَيْشٌ تَسْأَلُنِي عَنْ مَسْرَاىَ فَسَأَلَتْنِي عَنْ أَشْيَاءَ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ لَمْ أُثْبِتْهَا . فَكُرِبْتُ كُرْبَةً مَا كُرِبْتُ مِثْلَهُ قَطُّ قَالَ فَرَفَعَهُ اللَّهُ لِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ مَا يَسْأَلُونِي عَنْ شَىْءٍ إِلاَّ أَنْبَأْتُهُمْ بِهِ وَقَدْ رَأَيْتُنِي فِي جَمَاعَةٍ مِنَ الأَنْبِيَاءِ فَإِذَا مُوسَى قَائِمٌ يُصَلِّي فَإِذَا رَجُلٌ ضَرْبٌ جَعْدٌ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ وَإِذَا عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - قَائِمٌ يُصَلِّي أَقْرَبُ النَّاسِ بِهِ شَبَهًا عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ الثَّقَفِيُّ وَإِذَا إِبْرَاهِيمُ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - قَائِمٌ يُصَلِّي أَشْبَهُ النَّاسِ بِهِ صَاحِبُكُمْ - يَعْنِي نَفْسَهُ - فَحَانَتِ الصَّلاَةُ فَأَمَمْتُهُمْ فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنَ الصَّلاَةِ قَالَ قَائِلٌ يَا مُحَمَّدُ هَذَا مَالِكٌ صَاحِبُ النَّارِ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ . فَالْتَفَتُّ إِلَيْهِ فَبَدَأَنِي بِالسَّلاَمِ " .
৩১৯-(২৭৮/১৭২) যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি হাজরে আসওয়াদের নিকট ছিলাম। এ সময় কুরায়শরা আমাকে আমার মি'রাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করে। তারা আমাকে বাইতুল মাকদাসের এমন সব বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লাগল যা আমি ভালভাবে দেখিনি। ফলে আমি খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর আল্লাহ তা'আলা আমার সামনে বাইতুল মাকদাসকে উদ্ভাসিত করে দিলেন এবং আমি তা দেখছিলাম। তারা আমাকে যে প্রশ্ন করছিল তার জবাব দিতে লাগলাম। এরপর নবীদের এক জামা'আতেও আমি নিজেকে উদ্ভাসিত দেখলাম। মূসা (আঃ) কে সালাতে দণ্ডায়মান দেখলাম। তিনি শানুয়াহ গোত্রের লোকদের ন্যায় মধ্যমাকৃতি। তার চুল ছিল কোকড়ানো। ঈসা (আঃ) কেও সালাতে দাঁড়ানো দেখলাম। তিনি তোমাদের এ সাখীর মতোই দেখতে অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তারপর সালাতের সময় হল, আমি তাদের ইমামাত করলাম। সালাত শেষে এক ব্যক্তি আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইনি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক মালিক ওকে সালাম করুন। আমি তার দিকে তাকালাম। তিনি আমাকে আগেই সালাম করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৭, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৩৮)
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، جَمِيعًا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، - وَأَلْفَاظُهُمْ مُتَقَارِبَةٌ - قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ طَلْحَةَ، عَنْ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا أُسْرِيَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم انْتُهِيَ بِهِ إِلَى سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى وَهِيَ فِي السَّمَاءِ السَّادِسَةِ إِلَيْهَا يَنْتَهِي مَا يُعْرَجُ بِهِ مِنَ الأَرْضِ فَيُقْبَضُ مِنْهَا وَإِلَيْهَا يَنْتَهِي مَا يُهْبَطُ بِهِ مِنْ فَوْقِهَا فَيُقْبَضُ مِنْهَا قَالَ ( إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى ) قَالَ فَرَاشٌ مِنْ ذَهَبٍ . قَالَ فَأُعْطِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثًا أُعْطِيَ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ وَأُعْطِيَ خَوَاتِيمَ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَغُفِرَ لِمَنْ لَمْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ مِنْ أُمَّتِهِ شَيْئًا الْمُقْحِمَاتُ .
৩২০-(২৭৯/১৭৩) আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মি'রাজ রজনীতে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হল। এটি ষষ্ঠ আসমানে অবস্থিত[1]। জমিন থেকে যা কিছু উত্থিত হয় তা সে পর্যন্ত গিয়ে পৌছে এবং সেখান থেকে তা গ্রহণ করা হয়। তদ্রূপ ঊর্ধ্বলোক থেকে যা কিছু অবতরণ হয় তাও এ পর্যন্ত এসে পৌছে এবং সেখান থেকে তা গ্রহণ করা হয়। এরপর আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তিলাওয়াত করলেনঃ "যখন প্রান্তবর্তী বাদরী বৃক্ষটি যা দ্বারা আচ্ছাদিত হবার, তা দ্বারা আচ্ছাদিত হলো"- (সূরাহু আন নাজন ৫৩ঃ ১৬) এবং বলেন, এখানে 'যা দ্বারা' কথাটির অর্থ সোনার পতঙ্গসমূহ। তিনি বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তিনটি বিষয় দান করা হল, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। সূরাহ আল-বাকারার শেষ দু' আয়াত এবং শিরক মুক্ত উম্মতের মারাত্মক গুনাহ তাওবার মাধ্যমে ক্ষমার সুসংবাদ[2]। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৮, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৩৯)
وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبَّادٌ، - وَهُوَ ابْنُ الْعَوَّامِ - حَدَّثَنَا الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ سَأَلْتُ زِرَّ بْنَ حُبَيْشٍ عَنْ قَوْلِ اللَّهِ، عَزَّ وَجَلَّ ( فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى ) قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ مَسْعُودٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَأَى جِبْرِيلَ لَهُ سِتُّمِائَةِ جَنَاحٍ .
৩২১-(২৮০/১৭৪) আবূ রাবী' আয যাহরানী (রহঃ) ..... শাইবানী (রহঃ) বলেন, আমি যির ইবনু হুবায়শকে "তাদের মধ্যে দু' ধনুকের ব্যবধান ছিল কিংবা তারও কম"- (সূরাহ আন নাজম ৫৩ঃ ৯)। এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বললেন, ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আঃ) কে দেখেছিলেন, তার ছয়শ' ডানা আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৯, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৪০)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ ( مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى ) قَالَ رَأَى جِبْرِيلَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - لَهُ سِتُّمِائَةِ جَنَاحٍ .
৩২২-(২৮১/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) "তিনি যা দেখেছেন তার অন্তকরণ তা অস্বীকার করেনি"- (সূরাহ আন নাজম ৫৩ঃ ১১)। আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন এবং এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আঃ) কে দেখেছিলেন তার ছয়শ' ডানা আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩০, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৪১)
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ الشَّيْبَانِيِّ، سَمِعَ زِرَّ بْنَ حُبَيْشٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ ( لَقَدْ رَأَى مِنْ آيَاتِ رَبِّهِ الْكُبْرَى ) قَالَ رَأَى جِبْرِيلَ فِي صُورَتِهِ لَهُ سِتُّمِائَةِ جَنَاحٍ .
৩২৩-(২৮২/...) উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয আল 'আম্বারী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ থেকে "তিনি তো তার প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলী দেখেছিলেন"- (সূরাহ আন নাজম ৫৩ঃ ১৮)। এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন এবং এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আঃ)-কে তার আকৃতিতে দেখেছিলেন, তার ছয়শ' ডানা আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩১, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৪২)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ( وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى ) قَالَ رَأَى جِبْرِيلَ .
৩২৪-(২৮৩/১৭৫) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে "নিশ্চয়ই তিনি তাকে আরেকবার দেখেছিলেন"- (সূরাহু আন নাজম ৫৩ঃ ১৩) আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আঃ)-কে দেখেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩২, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৪৩)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ رَآهُ بِقَلْبِهِ .
৩২৫-(২৮৩/১৭৬) আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিপালককে অন্তর দ্বারা অনুভূতির মাধ্যমে দেখেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৩, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৪৪)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ جَمِيعًا عَنْ وَكِيعٍ، - قَالَ الأَشَجُّ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، - حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ زِيَادِ بْنِ الْحُصَيْنِ أَبِي جَهْمَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ( مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى ) ( وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى ) قَالَ رَآهُ بِفُؤَادِهِ مَرَّتَيْنِ .
৩২৬-(২৮৫/...) আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর বাণীঃ "তিনি যা দেখেছেন, তার অন্তকরণ তা অস্বীকার করেনি" "এবং নিশ্চয়ই তিনি তাকে আরো একবার দেখেছেন"- (সূরাহ্ আন নাজম ৫৩ঃ ১১ ও ১৩) আয়াতদ্বয়ের ব্যাখ্যা হচ্ছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রভুকে দু'বার অন্তকরণ দ্বারাই দেখেন। (অর্থাৎ বাহ্যিক চোখে প্রত্যক্ষ করেননি)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৪, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৪৫)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، حَدَّثَنَا أَبُو جَهْمَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .
৩২৭-(২৮৬/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ জাহমাহ এ সনদে উপরোক্ত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৫, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৪৬)
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ دَاوُدَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ كُنْتُ مُتَّكِئًا عِنْدَ عَائِشَةَ فَقَالَتْ يَا أَبَا عَائِشَةَ ثَلاَثٌ مَنْ تَكَلَّمَ بِوَاحِدَةٍ مِنْهُنَّ فَقَدْ أَعْظَمَ عَلَى اللَّهِ الْفِرْيَةَ . قُلْتُ مَا هُنَّ قَالَتْ مَنْ زَعَمَ أَنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم رَأَى رَبَّهُ فَقَدْ أَعْظَمَ عَلَى اللَّهِ الْفِرْيَةَ . قَالَ وَكُنْتُ مُتَّكِئًا فَجَلَسْتُ فَقُلْتُ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ أَنْظِرِينِي وَلاَ تَعْجَلِينِي أَلَمْ يَقُلِ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( وَلَقَدْ رَآهُ بِالأُفُقِ الْمُبِينِ ) ( وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى ) . فَقَالَتْ أَنَا أَوَّلُ هَذِهِ الأُمَّةِ سَأَلَ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّمَا هُوَ جِبْرِيلُ لَمْ أَرَهُ عَلَى صُورَتِهِ الَّتِي خُلِقَ عَلَيْهَا غَيْرَ هَاتَيْنِ الْمَرَّتَيْنِ رَأَيْتُهُ مُنْهَبِطًا مِنَ السَّمَاءِ سَادًّا عِظَمُ خَلْقِهِ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ " . فَقَالَتْ أَوَلَمْ تَسْمَعْ أَنَّ اللَّهَ يَقُولُ ( لاَ تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الأَبْصَارَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ ) أَوَلَمْ تَسْمَعْ أَنَّ اللَّهَ يَقُولُ ( وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلاَّ وَحْيًا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولاً فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ ) قَالَتْ وَمَنْ زَعَمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَتَمَ شَيْئًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَقَدْ أَعْظَمَ عَلَى اللَّهِ الْفِرْيَةَ وَاللَّهُ يَقُولُ ( يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ ) . قَالَتْ وَمَنْ زَعَمَ أَنَّهُ يُخْبِرُ بِمَا يَكُونُ فِي غَدٍ فَقَدْ أَعْظَمَ عَلَى اللَّهِ الْفِرْيَةَ وَاللَّهُ يَقُولُ ( قُلْ لاَ يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ الْغَيْبَ إِلاَّ اللَّهُ ) .
৩২৮-(২৮৭/১৭৭) যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মাজলিসে হেলান দিয়ে বসেছিলাম। তখন তিনি বলছেন, হে আবূ আয়িশাহ। তিনটি কথা এমন, যে এর কোন একটি বলল, সে আল্লাহ সম্পর্কে ভীষণ অপবাদ দিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সেগুলো কি? তিনি বললেন, যে এ কথা বলে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিপালককে দেখেছেন, সে আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দিল। রাবী মাসরূক বলেন, আমি তো হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলাম, এবার সোজা হয়ে বসলাম। বললাম, হে উন্মুল মুমিনীন! থামুন। আমাকে সময় দিন, ব্যস্ত হবেন না। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কি বলেননিঃ "তিনি (রাসূল) তো তাকে (আল্লাহকে) স্পষ্ট দিগন্তে দেখেছেন- (সূরাহ আত তাকভীর ৮১ঃ ২৩)। অন্যত্র "নিশ্চয় তিনি তাকে আরেকবার দেখেছিলেন"- (সূরাহ আন নাজম ৫৩ঃ ১৩)।
আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমিই এ উম্মতের প্রথম ব্যক্তি, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছেনঃ তিনি তো ছিলেন জিবরীল (আঃ)। কেবলমাত্র এ দু'বারই আমি তাকে তার আসল আকৃতিতে দেখেছি। আমি তাকে আসমান থেকে অবতরণ করতে দেখেছি। তার বিরাট দেহ ঢেকে ফেলেছিল আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী সব স্থানটুকু৷ আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আরো বলেন, তুমি শোননি? আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ তিনি (আল্লাহ) দৃষ্টির অধিগম্য নন, তবে দৃষ্টিশক্তি তার অধিগত এবং তিনি সূক্ষ্মদৰ্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত"- (সুরাহ আল আন'আম ৬ঃ ১০৩)। এরূপে তুমি কি শোননি? আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ "মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওয়াহীর মাধ্যম ব্যতিরেকে, অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যতিরেকে, অথবা এমন দূত প্রেরণ ব্যতিরেকে যে তার অনুমতিক্রমে তিনি চান তা ব্যক্ত করেন, তিনি সমুন্নত ও প্রজ্ঞাময়"- (সূরাহ আশ শূরা ৪২ঃ ৫১)।
'আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আর ঐ ব্যক্তিও আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দেয়, যে এমন কথা বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কিতাবের কোন কথা গোপন রেখেছেন। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ "হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের নিকট হতে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন, যদি তা না করেন তবে আপনি তার বার্তা প্রচারই করলেন না (সূরাহ আল মায়িদাহ ৫ঃ ৬৭)। তিনি [আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] আরো বলেন, যে ব্যক্তি এ কথা বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর ওয়াহী ব্যতীত আগামীকাল কি হবে তা অবহিত করতে পারেন, সেও আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দেয়। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন, "বল, আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত গায়ব সম্পর্কে কেউ জানে না" (সূরাহ আন নামল ২৭ঃ ৬৫)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৬, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৪৭)
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ عُلَيَّةَ وَزَادَ قَالَتْ وَلَوْ كَانَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم كَاتِمًا شَيْئًا مِمَّا أُنْزِلَ عَلَيْهِ لَكَتَمَ هَذِهِ الآيَةَ ( وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ )
৩২৯-(২৮৮/...) মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) হতে উক্ত সনদে ইবনু উলাইয়্যাহ এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে এতটুকু অতিরিক্ত আছে, আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যদি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর অবতীর্ণ ওয়াহীর কোন অংশ গোপন করতেন তবে তিনি এ আয়াতটি অবশ্য গোপন করতেনঃ "স্মরণ করুন, আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ দান করেছেন এবং আপনিও যার [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পোষ্য পুত্র যায়দ] প্রতি অনুগ্রহ করেছেন আপনি তাকে বলেছিলেন "তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখ এবং আল্লাহকে ভয় কর। আর আপনি আপনার অন্তরে গোপন করেছিলেন। অথচ আল্লাহ তা প্রকাশকারী। আপনি লোককে ভয় করছিলেন, অথচ আল্লাহকে ভয় করা আপনার জন্য অধিকতর সঙ্গত" (সূরাহু আল আহযাব ৩৩ঃ ৩৭)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৭, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৪৮)
حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ هَلْ رَأَى مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم رَبَّهُ فَقَالَتْ سُبْحَانَ اللَّهِ لَقَدْ قَفَّ شَعْرِي لِمَا قُلْتَ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِقِصَّتِهِ . وَحَدِيثُ دَاوُدَ أَتَمُّ وَأَطْوَلُ .
৩৩০-(২৮৯/...) ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে জিজ্ঞেস করলাম- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার রবকে দেখেছেন কি? জবাবে তিনি (আতঙ্ক বা আশ্চর্যের সাথে) বললেন, সুবহানাল্লাহ! তোমার কথা শুনে আমার শরীরের পশম কাটা দিয়ে খাড়া হয়ে গেছে। অতঃপর হাদীসের পূর্ণ বিবরণ বর্ণনা করেছেন। তবে এ প্রসঙ্গে দাউদের হাদীসটিই পরিপূর্ণ ও বিস্তৃত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৪৯)
وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ، عَنِ ابْنِ أَشْوَعَ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ فَأَيْنَ قَوْلُهُ ( ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّى * فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى * فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى ) قَالَتْ إِنَّمَا ذَاكَ جِبْرِيلُ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْتِيهِ فِي صُورَةِ الرِّجَالِ وَإِنَّهُ أَتَاهُ فِي هَذِهِ الْمَرَّةِ فِي صُورَتِهِ الَّتِي هِيَ صُورَتُهُ فَسَدَّ أُفُقَ السَّمَاءِ .
৩৩১-(২৯০/...) ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বললাম (আপনিতো বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিপালককে দেখেননি) তাহলে আল্লাহর এ বাণীর জবাব কি? "এমনকি দুই ধনুকের সমান কিংবা তার চেয়েও কম দূরত্ব থেকে গেল। তখন আল্লাহর বান্দাকে যে ওয়াহী পৌছাবার ছিল তা পৌছে দিল"- (সূরাহ আন নাজম ৫৩ঃ ৯-১১)। 'আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, ইনি তো হলেন জিবরীল (আঃ)। সাধারণত তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসতেন মানুষের আকৃতিতে। কিন্তু এবার এসেছিলেন তার আসল রূপে। তার দেহ আকাশের সীমা ঢেকে ফেলেছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৯, ইসলামিক সেন্টারঃ, ৩৫০)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَلْ رَأَيْتَ رَبَّكَ قَالَ " نُورٌ أَنَّى أَرَاهُ " .
৩৩২-(২৯১/১৭৮) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করেছি, আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন? তিনি বললেনঃ তিনি (আল্লাহ) নূর, তা আমি কি রূপে দেখবো? (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০ ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৫১)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، كِلاَهُمَا عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ قُلْتُ لأَبِي ذَرٍّ لَوْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَسَأَلْتُهُ فَقَالَ عَنْ أَىِّ شَىْءٍ كُنْتَ تَسْأَلُهُ قَالَ كُنْتُ أَسْأَلُهُ هَلْ رَأَيْتَ رَبَّكَ قَالَ أَبُو ذَرٍّ قَدْ سَأَلْتُ فَقَالَ " رَأَيْتُ نُورًا " .
৩৩৩-(২৯২/...) মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার, হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ) বলেন, আমি আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বললাম, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দেখা পেতাম তবে অবশ্যই তাকে একটি কথা জিজ্ঞেস করতাম। আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, কি জিজ্ঞেস করতে? তিনি বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করতাম যে, আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন? আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, এ কথা তো আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেছেন, আমি নূর দেখেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪১ ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৫২)
