সহীহ মুসলিম
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ الْمَاجِشُونِ، عَنْ صَالِحِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّهُ قَالَ بَيْنَا أَنَا وَاقِفٌ، فِي الصَّفِّ يَوْمَ بَدْرٍ نَظَرْتُ عَنْ يَمِينِي، وَشِمَالِي، فَإِذَا أَنَا بَيْنَ، غُلاَمَيْنِ مِنَ الأَنْصَارِ حَدِيثَةٍ أَسْنَانُهُمَا تَمَنَّيْتُ لَوْ كُنْتُ بَيْنَ أَضْلَعَ مِنْهُمَا فَغَمَزَنِي أَحَدُهُمَا . فَقَالَ يَا عَمِّ هَلْ تَعْرِفُ أَبَا جَهْلٍ قَالَ قُلْتُ نَعَمْ وَمَا حَاجَتُكَ إِلَيْهِ يَا ابْنَ أَخِي قَالَ أُخْبِرْتُ أَنَّهُ يَسُبُّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَئِنْ رَأَيْتُهُ لاَ يُفَارِقُ سَوَادِي سَوَادَهُ حَتَّى يَمُوتَ الأَعْجَلُ مِنَّا . قَالَ فَتَعَجَّبْتُ لِذَلِكَ فَغَمَزَنِي الآخَرُ فَقَالَ مِثْلَهَا - قَالَ - فَلَمْ أَنْشَبْ أَنْ نَظَرْتُ إِلَى أَبِي جَهْلٍ يَزُولُ فِي النَّاسِ فَقُلْتُ أَلاَ تَرَيَانِ هَذَا صَاحِبُكُمَا الَّذِي تَسْأَلاَنِ عَنْهُ قَالَ فَابْتَدَرَاهُ فَضَرَبَاهُ بِسَيْفَيْهِمَا حَتَّى قَتَلاَهُ ثُمَّ انْصَرَفَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَاهُ . فَقَالَ " أَيُّكُمَا قَتَلَهُ " . فَقَالَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا أَنَا قَتَلْتُ . فَقَالَ " هَلْ مَسَحْتُمَا سَيْفَيْكُمَا " . قَالاَ لاَ . فَنَظَرَ فِي السَّيْفَيْنِ فَقَالَ " كِلاَكُمَا قَتَلَهُ " . وَقَضَى بِسَلَبِهِ لِمُعَاذِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْجَمُوحِ وَالرَّجُلاَنِ مُعَاذُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْجَمُوحِ وَمُعَاذُ ابْنُ عَفْرَاءَ .
৪৪৬১-(৪২/১৭৫২) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামিমী (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বদরের দিন যুদ্ধ সারিতে অবস্থান করছিলাম। এমন সময় আমি ডান ও বাম দিকে তাকিয়ে দেখি যে, আমি দু'জন আনসারী বালকের মাঝখানে আছি। আমি আশা করেছিলাম, যদি আমি দু'জন শক্তিশালী যুবকের মাঝে থাকতে পেতাম। এমন সময় তাদের একজন আমাকে ইঙ্গিতে বলল, হে আমার চাচা! আপনি কি আবূ জাহলকে চিনেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। আর তাকে তোমার প্রয়োজন কী হে ভ্রাতুষ্পুত্র! সে বলল, আমি সংবাদ জেনেছি যে, সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে গালাগালি করে। সেই আল্লাহর শপথ যার হাতে আমার জীবন, যদি আমি তাকে দেখতে পাই তবে অবশ্যই তাকে ছেড়ে দিব না, যতক্ষণ না আমাদের দু'জনের থেকে যার মৃত্যু পূর্বে হওয়া অবধারিত তার মৃত্যু হয়। বর্ণনাকারী বলেন, কিশোরের এ কথা শুনে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম। তারপর অপর কিশোর আমার দিকে ইঙ্গিত করে অনুরূপ কথা বলল। পরে বেশি সময় অতিবাহিত হয়নি, হঠাৎ আমি দেখলাম, আবূ জাহল লোকদের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
আমি তখন বালক দু'জনকে বললাম তোমরা কি দেখছ না এ ব্যক্তিকে যার ব্যাপারে তোমরা জানতে চাচ্ছ। উভয়ে দৌড়ে গিয়ে তাদের তলোয়ার দ্বারা তাকে আঘাত করল এবং হত্যা করে ফেলল। অতঃপর উভয়েই ফিরে এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ ঘটনার সংব দিলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্য থেকে কে হত্যা করেছে? তাদের প্রত্যেকেই বলল, আমি তাকে হত্যা করেছি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের তলোয়ার কি পরিষ্কার করে ফেলেছ? তারা বলল, না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়ের তলোয়ার পরীক্ষা করে দেখলেন। তারপর বললেন, তোমরা উভয়েই তাকে হত্যা করেছ। অতএব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয ইবনু আমর ইবনু জামূহকে খুলে নেয়া সম্পদ প্রদানের নির্দেশ দেন। আর সে দু' বালক হলো, মুআয ইবনু আমর ইবনু জামূহ এবং মুআয ইবনু আফরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৭, ইসলামিক সেন্টার ৪৪১৯)
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَتَلَ رَجُلٌ مِنْ حِمْيَرَ رَجُلاً مِنَ الْعَدُوِّ فَأَرَادَ سَلَبَهُ فَمَنَعَهُ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ وَكَانَ وَالِيًا عَلَيْهِمْ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ لِخَالِدٍ " مَا مَنَعَكَ أَنْ تُعْطِيَهُ سَلَبَهُ " . قَالَ اسْتَكْثَرْتُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " ادْفَعْهُ إِلَيْهِ " . فَمَرَّ خَالِدٌ بِعَوْفٍ فَجَرَّ بِرِدَائِهِ ثُمَّ قَالَ هَلْ أَنْجَزْتُ لَكَ مَا ذَكَرْتُ لَكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَمِعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتُغْضِبَ فَقَالَ " لاَ تُعْطِهِ يَا خَالِدُ لاَ تُعْطِهِ يَا خَالِدُ هَلْ أَنْتُمْ تَارِكُونَ لِي أُمَرَائِي إِنَّمَا مَثَلُكُمْ وَمَثَلُهُمْ كَمَثَلِ رَجُلٍ اسْتُرْعِيَ إِبِلاً أَوْ غَنَمًا فَرَعَاهَا ثُمَّ تَحَيَّنَ سَقْيَهَا فَأَوْرَدَهَا حَوْضًا فَشَرَعَتْ فِيهِ فَشَرِبَتْ صَفْوَهُ وَتَرَكَتْ كَدَرَهُ فَصَفْوُهُ لَكُمْ وَكَدَرُهُ عَلَيْهِمْ " .
৪৪৬২-(৪৩/১৭৫৩) আবূ তাহির আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ..... 'আওফ ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুমাইর গোত্রের এক ব্যক্তি শক্র পক্ষের এক ব্যক্তিকে হত্যা করল এবং তার যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নিতে চাইল। কিন্তু তাদের সেনাপতি খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে নিষেধ করলেন। তারপর আওফ ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলেন এবং ঐ ঘটনার সংবাদ দিলেন। তখন তিনি খালিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে জিজ্ঞেস করলেন, কেন তুমি (নিহত ব্যক্তির) সম্পদ তাকে প্রদান করলে না? খালিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তার প্রচুর সম্পদ পেয়েছি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে তা দিয়ে দাও। তারপর খালিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) 'আওফ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর কাছ দিয়ে গেলেন এবং 'আওফ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার চাদর ধরে টান দিয়ে বললেন, আমি তো আগেই বলেছিলাম ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছাবো, তাই কি হয়নি? অতএব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শোনতে পেলেন। এতে তিনি রাগান্বিত হলেন। এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে খালিদ! তুমি তাকে তা দেবে না। হে খালিদ! তুমি তাকে তা দেবে না। তোমরা কি আমার নেতাদের পরিত্যাগ করবে? নিশ্চয় তোমাদের এবং তাদের দৃষ্টান্ত এমন, যেমন কোন ব্যক্তি উট কিংবা ছাগল চরাতে মনস্থ করলো এবং মাঠে নিয়ে চরাল। তারপর পিপাসার সময় পানি পান করানোর জন্য জলাশয়ে নিয়ে গেল। পরিষ্কার পানি পান করতে শুরু করল এবং ঘোলাটে পানি পরিত্যাগ করল। অতঃপর এমনিভাবে পরিষ্কারটা তোমাদের জন্য এবং অপরিষ্কারটা তোমাদের নেতাদের জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৮, ইসলামিক সেন্টার ৪৪২০)
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ، الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ مَنْ خَرَجَ مَعَ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ فِي غَزْوَةِ مُؤْتَةَ وَرَافَقَنِي مَدَدِيٌّ مِنَ الْيَمَنِ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِنَحْوِهِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فِي الْحَدِيثِ قَالَ عَوْفٌ فَقُلْتُ يَا خَالِدُ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِالسَّلَبِ لِلْقَاتِلِ قَالَ بَلَى وَلَكِنِّي اسْتَكْثَرْتُهُ .
৪৪৬৩-(৪৪/...) যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... 'আওফ ইবনু মালিক আশজাঈ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সঙ্গে যারা মূতার যুদ্ধে গিয়েছিল, তন্মধ্যে আমিও ছিলাম। ইয়ামানের একজন সাহায্যকারীও আমার সাথি হলো। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তবে তিনি হাদীসে বলেছেন যে, 'আওফ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অতঃপর আমি বললাম, হে খালিদ! তুমি কি জাননা যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রু থেকে ছিনিয়ে নেয়া লব্ধ সম্পদ হত্যাকারী মুজাহিদ ব্যক্তির প্রাপ্য বলে নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, কিন্তু এ সম্পদ আমার কাছে অধিক মনে হলো। (তাই আমি নিষেধ করেছিলাম।) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৯, ইসলামিক সেন্টার ৪৪২১)
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنِي أَبِي سَلَمَةُ بْنُ الأَكْوَعِ، قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَوَازِنَ فَبَيْنَا نَحْنُ نَتَضَحَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَ رَجُلٌ عَلَى جَمَلٍ أَحْمَرَ فَأَنَاخَهُ ثُمَّ انْتَزَعَ طَلَقًا مِنْ حَقَبِهِ فَقَيَّدَ بِهِ الْجَمَلَ ثُمَّ تَقَدَّمَ يَتَغَدَّى مَعَ الْقَوْمِ وَجَعَلَ يَنْظُرُ وَفِينَا ضَعْفَةٌ وَرِقَّةٌ فِي الظَّهْرِ وَبَعْضُنَا مُشَاةٌ إِذْ خَرَجَ يَشْتَدُّ فَأَتَى جَمَلَهُ فَأَطْلَقَ قَيْدَهُ ثُمَّ أَنَاخَهُ وَقَعَدَ عَلَيْهِ فَأَثَارَهُ فَاشْتَدَّ بِهِ الْجَمَلُ فَاتَّبَعَهُ رَجُلٌ عَلَى نَاقَةٍ وَرْقَاءَ . قَالَ سَلَمَةُ وَخَرَجْتُ أَشْتَدُّ فَكُنْتُ عِنْدَ وَرِكِ النَّاقَةِ . ثُمَّ تَقَدَّمْتُ حَتَّى كُنْتُ عِنْدَ وَرِكِ الْجَمَلِ ثُمَّ تَقَدَّمْتُ حَتَّى أَخَذْتُ بِخِطَامِ الْجَمَلِ فَأَنَخْتُهُ فَلَمَّا وَضَعَ رُكْبَتَهُ فِي الأَرْضِ اخْتَرَطْتُ سَيْفِي فَضَرَبْتُ رَأْسَ الرَّجُلِ فَنَدَرَ ثُمَّ جِئْتُ بِالْجَمَلِ أَقُودُهُ عَلَيْهِ رَحْلُهُ وَسِلاَحُهُ فَاسْتَقْبَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ مَعَهُ فَقَالَ " مَنْ قَتَلَ الرَّجُلَ " . قَالُوا ابْنُ الأَكْوَعِ . قَالَ " لَهُ سَلَبُهُ أَجْمَعُ " .
৪৪৬৪-(৪৫/১৭৫৪) যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... সালামাহ্ ইবনু আকওয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হাওয়াযিন গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ছিলাম। একদা আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সকালের খাওয়ায় শামিল ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি লাল রঙের উটে চড়ে এসে উটটিকে বসাল এবং তার কোমর থেকে একটি চামড়ার রশি বের করে এর দ্বারা সেটিকে বাঁধলো। এরপর সে এসে লোকদের সাথে সকালের নাস্তা খেতে লাগল এবং এদিক-সেদিক তাকাতে লাগলো (সে ছিল গুপ্তচর)। আমাদের মধ্যে দুর্বলতাও ছিল। সওয়ারীও কম ছিল। আমাদের কেউ কেউ পায়ে হেঁটে চলছিল। এমন সময় সে ব্যক্তি দ্রুত গতিতে নিজের উটের কাছে এসে এর রশি খুললো। এরপর উটটিকে বসিয়ে এর উপর সওয়ার হয়ে হাকালো এবং উট তাকে নিয়ে ছুটল। তখন এক ব্যক্তি একটি ধূসর বর্ণের উটনীর উপর আরোহণ করে তার পশ্চাদ্ধাবন করল।
সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি বের হয়ে দৌড় দিলাম। অতঃপর আরও অগ্রসর হয়ে আমি উটনীর লাগাম ধরে ফেললাম। এবং আমি তাকে বসালাম। যখন উটটি তার হাটু মাটিতে রাখল, তখন আমি তলোয়ার বের করে লোকটির মাথায় আঘাত করলাম। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। এরপর আমি উটটি টেনে নিয়ে এলাম। এর উপর ঐ ব্যক্তির আসবাবপত্র ও অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজনসহ আমাকে এগিয়ে নিলেন। তিনি বললেন, কে এ লোকটিকে হত্যা করেছে? লোকেরা বলল, ইবনু আকওয়া। তিনি বললেন, (নিহত ব্যক্তির) থেকে খুলে আনা সমুদয় সম্পদ আকওয়া'র পুত্র সালামার জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২০, ইসলামিক সেন্টার ৪৪২২)
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، غَزَوْنَا فَزَارَةَ وَعَلَيْنَا أَبُو بَكْرٍ أَمَّرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْنَا فَلَمَّا كَانَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْمَاءِ سَاعَةٌ أَمَرَنَا أَبُو بَكْرٍ فَعَرَّسْنَا ثُمَّ شَنَّ الْغَارَةَ فَوَرَدَ الْمَاءَ فَقَتَلَ مَنْ قَتَلَ عَلَيْهِ وَسَبَى وَأَنْظُرُ إِلَى عُنُقٍ مِنَ النَّاسِ فِيهِمُ الذَّرَارِيُّ فَخَشِيتُ أَنْ يَسْبِقُونِي إِلَى الْجَبَلِ فَرَمَيْتُ بِسَهْمٍ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْجَبَلِ فَلَمَّا رَأَوُا السَّهْمَ وَقَفُوا فَجِئْتُ بِهِمْ أَسُوقُهُمْ وَفِيهِمُ امْرَأَةٌ مِنْ بَنِي فَزَارَةَ عَلَيْهَا قِشْعٌ مِنْ أَدَمٍ - قَالَ الْقِشْعُ النِّطَعُ - مَعَهَا ابْنَةٌ لَهَا مِنْ أَحْسَنِ الْعَرَبِ فَسُقْتُهُمْ حَتَّى أَتَيْتُ بِهِمْ أَبَا بَكْرٍ فَنَفَّلَنِي أَبُو بَكْرٍ ابْنَتَهَا فَقَدِمْنَا الْمَدِينَةَ وَمَا كَشَفْتُ لَهَا ثَوْبًا فَلَقِيَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي السُّوقِ فَقَالَ " يَا سَلَمَةُ هَبْ لِي الْمَرْأَةَ " . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ لَقَدْ أَعْجَبَتْنِي وَمَا كَشَفْتُ لَهَا ثَوْبًا ثُمَّ لَقِيَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْغَدِ فِي السُّوقِ فَقَالَ لِي " يَا سَلَمَةُ هَبْ لِي الْمَرْأَةَ لِلَّهِ أَبُوكَ " . فَقُلْتُ هِيَ لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَوَاللَّهِ مَا كَشَفْتُ لَهَا ثَوْبًا فَبَعَثَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَهْلِ مَكَّةَ فَفَدَى بِهَا نَاسًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ كَانُوا أُسِرُوا بِمَكَّةَ .
৪৪৬৫-(৪৬/১৭৫৫) যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমরা ফাযারাহ গোত্রের সাথে যুদ্ধ করেছিলাম। আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ছিলেন আমাদের আমীর। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আমাদের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন। যখন আমাদের এবং পানির স্থানের মাঝে একঘণ্টা সময়ের ব্যবধান ছিল, তখন আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাদেরকে (রাতের শেষের দিকে সেখানে অবতরণের) নির্দেশ দিলেন। সুতরাং আমরা রাতের শেষাংশেই সেখানে অবতরণ করলাম। এরপর বিভিন্ন দিক দিয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে পানির নিকট পৌছলেন। আর যাদেরকে তার বিরুদ্ধে পেলেন হত্যা এবং বন্দী করলেন। আমি লোকদের একটি দলকে দেখতে পাচ্ছি যাদের মধ্যে শিশু ও নারী রয়েছে। আমি আশংকা করছিলাম যে, তারা হয়তোবা আমার আগেই পাহাড়ে পৌছে যাবে। অতএব আমি তাদের ও পাহাড়ের মাঝে তীর নিক্ষেপ করলাম। তারা তখন তীর দেখতে পেয়ে থেমে গেল। তখন আমি তাদের হাঁকিয়ে নিয়ে এলাম। তাদের মাঝে চামড়ার পোশাক পরিহিত বানী ফাযারার একজন মহিলাও ছিল এবং (রাবী বলেন) তার সঙ্গে তার এক কন্যা ছিল। সে ছিল আরবের সবচেয়ে সুন্দরী। আমি সকলকেই হাকিয়ে আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর কাছে নিয়ে এলাম।
আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মহিলার কন্যাটি আমাকে নফল হিসেবে প্রদান করলেন। এরপর আমি মাদীনায় ফিরে এলাম। আমি তখনও তার বস্তু উঠাইনি। পরে বাজারে আমার সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, হে সালামাহ্ তুমি মহিলাটি আমাকে দিয়ে দাও। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ তা'আলার কসম, তাকে আমার অত্যধিক পছন্দ হয়েছে এবং এখনও আমি তার বস্ত্র উঠাইনি। পরের দিন আবারও বাজারে আমার সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ হলো। তখন তিনি বললেন, হে সালামাহ! তুমি মহিলাটি আমাকে দিয়ে দাও। "আল্লাহ তোমার পিতার কল্যাণ করুন।" তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল আল্লাহর কসম! সে আপনার জন্যই। আমি তার বস্ত্র উন্মোচন করিনি। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ কন্যাটিকে মাক্কায় পাঠিয়ে দিয়ে তার বিনিময়ে কয়েকজন মুসলিম বন্দীকে মুক্ত করে আনলেন, যারা মাক্কায় ইতোপূর্বে বন্দী ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২১, ইসলামিক সেন্টার ৪৪২৩)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيُّمَا قَرْيَةٍ أَتَيْتُمُوهَا وَأَقَمْتُمْ فِيهَا فَسَهْمُكُمْ فِيهَا وَأَيُّمَا قَرْيَةٍ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ خُمُسَهَا لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ ثُمَّ هِيَ لَكُمْ " .
৪৪৬৬-(৪৭/১৭৫৬) আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ হুরাইরাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যেসব হাদীস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন তন্মধ্যে একটি হলো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যে কোন জনপদে এসে অবস্থান করবে, সেখান থেকে (প্রাপ্ত ফাই-এর) এক অংশ পাবে। আর যে কোন জনপদের অধিবাসীরা আল্লাহ ও তার রসূলের অবাধ্যতা করবে, (অর্থাৎ- যুদ্ধ করবে) তবে তার (সম্পদের) এক পঞ্চমাংশ আল্লাহ ও তার রসূলের জন্য। অতঃপর অবশিষ্ট সম্পদ তোমাদের জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২২, ইসলামিক সেন্টার ৪৪২৪)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ أَبِي شَيْبَةَ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ كَانَتْ أَمْوَالُ بَنِي النَّضِيرِ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِمَّا لَمْ يُوجِفْ عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ بِخَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ فَكَانَتْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً فَكَانَ يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ نَفَقَةَ سَنَةٍ وَمَا بَقِيَ يَجْعَلُهُ فِي الْكُرَاعِ وَالسِّلاَحِ عُدَّةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ .
৪৪৬৭-(৪৮/১৭৫৭) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক (রহঃ) ..... উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানী নাযীর গোত্রের সম্পদ এমন সম্পদ যা আল্লাহ তা'আলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিনাযুদ্ধে প্রদান করেন। সেখানে মুসলিমরা ঘোড়া এবং উট হাঁকিয়ে যুদ্ধ করেনি। অতএব এ সম্পদ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। সুতরাং তিনি তা থেকে স্বীয় পরিবারের এক বছরের ভরণ-পোষণে খরচ করতেন এবং অবিশষ্ট সম্পদ আল্লাহর পথে যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য ঘোড়া ও অস্ত্র ক্রয় খাতে রেখে দিতেন এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২৩, ইসলামিক সেন্টার ৪৪২৫)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .
৪৪৬৮-(.../...) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে উল্লিখিত হাদীস একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২৪, ইসলামিক সেন্টার ৪৪২৬)
وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ الضُّبَعِيُّ، حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّ مَالِكَ بْنَ أَوْسٍ، حَدَّثَهُ قَالَ أَرْسَلَ إِلَىَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَجِئْتُهُ حِينَ تَعَالَى النَّهَارُ - قَالَ - فَوَجَدْتُهُ فِي بَيْتِهِ جَالِسًا عَلَى سَرِيرٍ مُفْضِيًا إِلَى رِمَالِهِ مُتَّكِئًا عَلَى وِسَادَةٍ مِنْ أَدَمٍ . فَقَالَ لِي يَا مَالُ إِنَّهُ قَدْ دَفَّ أَهْلُ أَبْيَاتٍ مِنْ قَوْمِكَ وَقَدْ أَمَرْتُ فِيهِمْ بِرَضْخٍ فَخُذْهُ فَاقْسِمْهُ بَيْنَهُمْ - قَالَ - قُلْتُ لَوْ أَمَرْتَ بِهَذَا غَيْرِي قَالَ خُذْهُ يَا مَالُ . قَالَ فَجَاءَ يَرْفَا فَقَالَ هَلْ لَكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فِي عُثْمَانَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَالزُّبَيْرِ وَسَعْدٍ فَقَالَ عُمَرُ نَعَمْ . فَأَذِنَ لَهُمْ فَدَخَلُوا ثُمَّ جَاءَ . فَقَالَ هَلْ لَكَ فِي عَبَّاسٍ وَعَلِيٍّ قَالَ نَعَمْ . فَأَذِنَ لَهُمَا فَقَالَ عَبَّاسٌ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ اقْضِ بَيْنِي وَبَيْنَ هَذَا الْكَاذِبِ الآثِمِ الْغَادِرِ الْخَائِنِ . فَقَالَ الْقَوْمُ أَجَلْ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فَاقْضِ بَيْنَهُمْ وَأَرِحْهُمْ . فَقَالَ مَالِكُ بْنُ أَوْسٍ يُخَيَّلُ إِلَىَّ أَنَّهُمْ قَدْ كَانُوا قَدَّمُوهُمْ لِذَلِكَ - فَقَالَ عُمَرُ اتَّئِدَا أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " . قَالُوا نَعَمْ . ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى الْعَبَّاسِ وَعَلِيٍّ فَقَالَ أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ أَتَعْلَمَانِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَاهُ صَدَقَةٌ " . قَالاَ نَعَمْ . فَقَالَ عُمَرُ إِنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَزَّ كَانَ خَصَّ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم بِخَاصَّةٍ لَمْ يُخَصِّصْ بِهَا أَحَدًا غَيْرَهُ قَالَ ( مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ ) مَا أَدْرِي هَلْ قَرَأَ الآيَةَ الَّتِي قَبْلَهَا أَمْ لاَ . قَالَ فَقَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَكُمْ أَمْوَالَ بَنِي النَّضِيرِ فَوَاللَّهِ مَا اسْتَأْثَرَ عَلَيْكُمْ وَلاَ أَخَذَهَا دُونَكُمْ حَتَّى بَقِيَ هَذَا الْمَالُ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْخُذُ مِنْهُ نَفَقَةَ سَنَةٍ ثُمَّ يَجْعَلُ مَا بَقِيَ أُسْوَةَ الْمَالِ . ثُمَّ قَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ أَتَعْلَمُونَ ذَلِكَ قَالُوا نَعَمْ . ثُمَّ نَشَدَ عَبَّاسًا وَعَلِيًّا بِمِثْلِ مَا نَشَدَ بِهِ الْقَوْمَ أَتَعْلَمَانِ ذَلِكَ قَالاَ نَعَمْ . قَالَ فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجِئْتُمَا تَطْلُبُ مِيرَاثَكَ مِنَ ابْنِ أَخِيكَ وَيَطْلُبُ هَذَا مِيرَاثَ امْرَأَتِهِ مِنْ أَبِيهَا فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " . فَرَأَيْتُمَاهُ كَاذِبًا آثِمًا غَادِرًا خَائِنًا وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّهُ لَصَادِقٌ بَارٌّ رَاشِدٌ تَابِعٌ لِلْحَقِّ ثُمَّ تُوُفِّيَ أَبُو بَكْرٍ وَأَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَوَلِيُّ أَبِي بَكْرٍ فَرَأَيْتُمَانِي كَاذِبًا آثِمًا غَادِرًا خَائِنًا وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنِّي لَصَادِقٌ بَارٌّ رَاشِدٌ تَابِعٌ لِلْحَقِّ فَوَلِيتُهَا ثُمَّ جِئْتَنِي أَنْتَ وَهَذَا وَأَنْتُمَا جَمِيعٌ وَأَمْرُكُمَا وَاحِدٌ فَقُلْتُمَا ادْفَعْهَا إِلَيْنَا فَقُلْتُ إِنْ شِئْتُمْ دَفَعْتُهَا إِلَيْكُمَا عَلَى أَنَّ عَلَيْكُمَا عَهْدَ اللَّهِ أَنْ تَعْمَلاَ فِيهَا بِالَّذِي كَانَ يَعْمَلُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذْتُمَاهَا بِذَلِكَ قَالَ أَكَذَلِكَ قَالاَ نَعَمْ . قَالَ ثُمَّ جِئْتُمَانِي لأَقْضِيَ بَيْنَكُمَا وَلاَ وَاللَّهِ لاَ أَقْضِي بَيْنَكُمَا بِغَيْرِ ذَلِكَ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ فَإِنْ عَجَزْتُمَا عَنْهَا فَرُدَّاهَا إِلَىَّ .
৪৪৬৯-(৪৯/...) আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আসমা যুবা'ঈ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিত। মালিক ইবনু আওস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, উমার ইবনু খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে ডেকে পাঠালেন। বেলা উঠে গেলে আমি তার নিকট এলাম। তখন আমি তাকে তার ঘরে খাটের উপর বসা অবস্থায় দেখলাম। তাতে বিছানা ছিল চাটাইয়ের। তিনি চামড়ার একটি বালিশের উপর হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। তখন তিনি আমাকে বললেন, হে মাল! (অর্থাৎ- হে মালিক) তোমার সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারের লোকজন আমার কাছে দ্রুত এলো, আমি তাদেরকে কিছু দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তুমি তা গ্রহণ করো এবং তাদের মধ্যে বন্টন করে দাও। অতএব আমি বললাম, আপনি যদি এর নির্দেশ আমাকে ব্যতীত অন্য কাউকে দিতেন, তাহলে ভাল হত। তখন তিনি বললেন, হে মাল (অর্থাৎ- হে মালিক) তুমি তা গ্রহণ করো।
এমন সময় ইয়ারফা (রহঃ) তার কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, হে আমীরুল মু'মিনীন। আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চান উসমান, 'আবদুর রহমান ইবনু 'আওফ, যুবায়র এবং সা'দ। তখন উমার বললেন, হ্যাঁ, তাদেরকে আসতে দাও। তখন সকলেই প্রবেশ করলেন। এরপর পুনরায় ইয়ারফা' এসে বলল, আব্বাস এবং আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চান। তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাদেরকেও আসতে দাও। এরপর আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আমীরুল মু'মিনীন! আমার মধ্যে এবং এ মিথ্যাবাদী, পাপী, প্রতারক ও বিশ্বাসঘাতকের মধ্যে মীমাংসা করে দিন।* তখন লোকেরা বলল, হ্যাঁ, হে আমীরুল মু'মিনীন তাদের মধ্যে বিষয়টি নিম্পত্তি করে দিন এবং তাদেরকে এ থেকে স্বস্তি দিন।
অতএব মালিক ইবনু আওস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমার ধারণা হলো যে, তারা দু'জন অর্থাৎ- আলী এবং আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাদেরকে পূর্বাহ্নে পাঠিয়ে ছিলেন এ ব্যাপারটির জন্যেই, যেন তারা উমারকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে ফায়সালা করে দেন। উমার বললেন, আপনারা একটু অপেক্ষা করুন। আমি আপনাদের সে মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যার নির্দেশে আকাশ এবং পৃথিবী যথাস্থানে অবস্থিত। আপনাদের কি জানা নেই যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা (নবীগণ) কাউকে ওয়ারিস বানিয়ে যাই না, আমরা যা রেখে যাই তা হবে সদাকাহ। তখন তারা বললেন, হ্যাঁ, আমরা তা জানি।
এবার তিনি আলী এবং আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর দিকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের উভয়কেই সে মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যার নির্দেশে আকাশ এবং পৃথিবী যথাস্থানে অবস্থিত। আপনারা কি জানেন না যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমরা (নবী সম্প্রদায়) কাউকে উত্তরাধিকার করে যাই না। আমরা যা রেখে যাই, তা হবে সদাকাহ। তখন তারা উভয়েই বললেন, হ্যাঁ। আমরা তা জানি।
তখন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আল্লাহ তা'আলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছেন, যা তাকে ছাড়া অন্য কাউকে প্রদান করেননি। তিনি বলেন, "আল্লাহ তা'আলা জনপদ বা নগরবাসীর নিকট থেকে মালে ফাই** হিসেবে স্বীয় রসূলকে যা প্রদান করেছেন- তা আল্লাহ ও তদীয় রসূলের জন্য নির্দিষ্ট। আমার জানা নেই যে, তিনি এ পঠিত আয়াতের পূর্বেও কোন আয়াত পাঠ করেছিলেন কি-না? অতঃপর উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো তোমাদেরকে বানী নামীর গোত্র থেকে প্রাপ্ত সম্পদ বণ্টন করে দিয়েছেন। আল্লাহর শপথ! তিনি সম্পদকে নিজের জন্য জমা করে রেখে যাননি। আর তিনি এমনও করেননি যে, নিজে সম্পদ নিয়েছেন এবং তোমাদেরকে তা দেননি। পরিশেষে যে সম্পদ রইল তা থেকে আপন পরিবারের এক বছরের ভরণ পোষণের খরচ রেখে অবশিষ্ট সম্পদ বাইতুল মালে জমা দেন।
এরপর উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আপনাদেরকে সে মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যার নির্দেশে আকাশ ও পৃথিবী যথাস্থানে অবস্থিত। আপনারা কি সেসব কথা অবগত আছেন। তখন তারা বলেন, হ্যাঁ, আমরা তা জানি। এরপর তিনি আব্বাস এবং আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) উভয়কে অনুরূপ শপথ প্রদান করলেন, যেরূপ তিনি ইতোপূর্বে আগত সম্প্রদায়ের লোকদেরকে শপথ প্রদান করেছিলেন। তিনি বললেন, আপনারা উভয়ই কি এসব কথা জানেন? তখন তারা উভয়েই বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতিকাল হলো তখন আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন যে, আমিই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওয়ালী। আর আপনারা উভয়েই এসেছেন, আপনি আপনার ভাতিজা থেকে মীরাস দাবী করতে। আর আপনি এসেছেন, আপনার স্ত্রীর (ফাতিমার) পিতা থেকে মীরাস গ্রহণ করতে।
এরপর আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের নবীগণের সম্পত্তিতে কোন উত্তরাধিকারিত্ব নেই। আমরা যা রেখে যাই- তা হয় সদাকাহ। আপনারা উভয়েই তো তাকে মিথ্যাবাদী, অপরাধী, বিশ্বাসঘাতক এবং থিয়ানাতকারী মনে করবেন। অতঃপর প্রকৃতপক্ষে নিশ্চয়ই তিনি আবূ বাকর সিদীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সত্যবাদী, পুণ্যবান, সত্যপথ প্রদর্শক এবং সত্যের অনুসারী যা আল্লাহ জানেন। অতঃপর আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মৃত্যুবরণ করলেন। তখন আমি ওয়ালী হলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ও আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর। সুতরাং আপনারা উভয়েই আমাকেও তার মত মিথ্যাবাদী, পাপী, বিশ্বাসঘাতক এবং খিয়ানাতকারী মনে করছেন। আল্লাহ অবগত আছেন যে, নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী, পুণ্যবান, সত্য পথ-প্রদর্শক এবং সত্যের অনুসারী। আমি সে সম্পদেরও ওলী ও অভিভাবক।
অতঃপর আপনি এবং ইনি এসেছেন। আপনারা উভয়েই এক এবং আপনাদের দাবীও এক। সুতরাং আপনারা বলছেন যে, এসব আমাদের কাছে দিয়ে দিন। আমি বলি- যদি আপনারা চান, তবে আমি তা আপনাদেরকে দিয়ে দেব- এ শর্তে যে, আপনারা এ সম্পদ দ্বারা সে কাজ করবেন, যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। অতএব আপনারা এ শর্তে আমার নিকট থেকে তা গ্রহণ, করেছেন। এরপর উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমার কথা কি যথার্থ? তখন উভয়েই বললেন, হ্যাঁ। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, তারপরও আপনারা দু'জন আমার কাছে এসেছেন, আপনাদের মাঝে (সম্পদের) মীমাংসা করে দেয়ার জন্য। আল্লাহর কসম! আমি আপনাদের উভয়ের মাঝে এটা ছাড়া আর কোন মীমাংসা করতে পারবো না কিয়ামত পর্যন্ত। আর যদি আপনারা সে মালের দায়িত্ব পালনে অপারগ হন, তবে তা আপনারা আমার কাছে ফেরত দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২৫, ইসলামিক সেন্টার ৪৪২৭)
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، - قَالَ ابْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، - أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ، بْنِ الْحَدَثَانِ قَالَ أَرْسَلَ إِلَىَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَقَالَ إِنَّهُ قَدْ حَضَرَ أَهْلُ أَبْيَاتٍ مِنْ قَوْمِكَ . بِنَحْوِ حَدِيثِ مَالِكٍ . غَيْرَ أَنَّ فِيهِ، فَكَانَ يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ مِنْهُ سَنَةً وَرُبَّمَا قَالَ مَعْمَرٌ يَحْبِسُ قُوتَ أَهْلِهِ مِنْهُ سَنَةً ثُمَّ يَجْعَلُ مَا بَقِيَ مِنْهُ مَجْعَلَ مَالِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ .
৪৪৭০-(৫০/...) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... মালিক ইবনু আওস ইবনু হাদাসান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, উমার ইবনু খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে ডেকে পাঠালেন। এরপর বললেন, তোমার সম্প্রদায়ের কতিপয় পরিবারের লোক আমার কাছে উপস্থিত হলো ...... তারপর মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তাছাড়া তার হাদীসে রয়েছে যে, "তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার পরিবারের জন্য তা থেকে এক বছরের খরচ দিতেন। অনেক সময় মা'মার (রহঃ) বলেছেন যে, তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরিবারের জন্য তা থেকে এক বছরের খোরাকী রেখে দিতেন। এরপর অবশিষ্ট সম্পদ বাইতুল মালে জমা দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২৬, ইসলামিক সেন্টার ৪৪২৮)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ إِنَّ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرَدْنَ أَنْ يَبْعَثْنَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَيَسْأَلْنَهُ مِيرَاثَهُنَّ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ عَائِشَةُ لَهُنَّ أَلَيْسَ قَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا فَهُوَ صَدَقَةٌ " .
৪৪৭১-(৫১/১৭৫৮) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকাল হলো, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণ উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট পাঠাতে মনস্থ করলেন, যেন তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে তাদের মীরাস তলব করেন। তখন আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাদের বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এ কথা বলে যাননি যে, আমরা (নবীগণ) সম্পত্তিতে কাউকে ওয়ারিস রেখে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা হবে সদাকাহ্ সর্বসাধারণের জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২৭, ইসলামিক সেন্টার ৪৪২৯)
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، أَخْبَرَنَا حُجَيْنٌ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْسَلَتْ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْهِ بِالْمَدِينَةِ وَفَدَكٍ وَمَا بَقِيَ مِنْ خُمْسِ خَيْبَرَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ إِنَّمَا يَأْكُلُ آلُ مُحَمَّدٍ - صلى الله عليه وسلم - فِي هَذَا الْمَالِ " . وَإِنِّي وَاللَّهِ لاَ أُغَيِّرُ شَيْئًا مِنْ صَدَقَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ حَالِهَا الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهَا فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلأَعْمَلَنَّ فِيهَا بِمَا عَمِلَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَبَى أَبُو بَكْرٍ أَنْ يَدْفَعَ إِلَى فَاطِمَةَ شَيْئًا فَوَجَدَتْ فَاطِمَةُ عَلَى أَبِي بَكْرٍ فِي ذَلِكَ - قَالَ - فَهَجَرَتْهُ فَلَمْ تُكَلِّمْهُ حَتَّى تُوُفِّيَتْ وَعَاشَتْ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِتَّةَ أَشْهُرٍ فَلَمَّا تُوُفِّيَتْ دَفَنَهَا زَوْجُهَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ لَيْلاً وَلَمْ يُؤْذِنْ بِهَا أَبَا بَكْرٍ وَصَلَّى عَلَيْهَا عَلِيٌّ وَكَانَ لِعَلِيٍّ مِنَ النَّاسِ وِجْهَةٌ حَيَاةَ فَاطِمَةَ فَلَمَّا تُوُفِّيَتِ اسْتَنْكَرَ عَلِيٌّ وُجُوهَ النَّاسِ فَالْتَمَسَ مُصَالَحَةَ أَبِي بَكْرٍ وَمُبَايَعَتَهُ وَلَمْ يَكُنْ بَايَعَ تِلْكَ الأَشْهُرَ فَأَرْسَلَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ أَنِ ائْتِنَا وَلاَ يَأْتِنَا مَعَكَ أَحَدٌ - كَرَاهِيَةَ مَحْضَرِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - فَقَالَ عُمَرُ لأَبِي بَكْرٍ وَاللَّهِ لاَ تَدْخُلْ عَلَيْهِمْ وَحْدَكَ . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَمَا عَسَاهُمْ أَنْ يَفْعَلُوا بِي إِنِّي وَاللَّهِ لآتِيَنَّهُمْ . فَدَخَلَ عَلَيْهِمْ أَبُو بَكْرٍ . فَتَشَهَّدَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ ثُمَّ قَالَ إِنَّا قَدْ عَرَفْنَا يَا أَبَا بَكْرٍ فَضِيلَتَكَ وَمَا أَعْطَاكَ اللَّهُ وَلَمْ نَنْفَسْ عَلَيْكَ خَيْرًا سَاقَهُ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلَكِنَّكَ اسْتَبْدَدْتَ عَلَيْنَا بِالأَمْرِ وَكُنَّا نَحْنُ نَرَى لَنَا حَقًّا لِقَرَابَتِنَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَلَمْ يَزَلْ يُكَلِّمُ أَبَا بَكْرٍ حَتَّى فَاضَتْ عَيْنَا أَبِي بَكْرٍ فَلَمَّا تَكَلَّمَ أَبُو بَكْرٍ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَرَابَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَبُّ إِلَىَّ أَنْ أَصِلَ مِنْ قَرَابَتِي وَأَمَّا الَّذِي شَجَرَ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ مِنْ هَذِهِ الأَمْوَالِ فَإِنِّي لَمْ آلُ فِيهِ عَنِ الْحَقِّ وَلَمْ أَتْرُكْ أَمْرًا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُهُ فِيهَا إِلاَّ صَنَعْتُهُ . فَقَالَ عَلِيٌّ لأَبِي بَكْرٍ مَوْعِدُكَ الْعَشِيَّةُ لِلْبَيْعَةِ . فَلَمَّا صَلَّى أَبُو بَكْرٍ صَلاَةَ الظُّهْرِ رَقِيَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَتَشَهَّدَ وَذَكَرَ شَأْنَ عَلِيٍّ وَتَخَلُّفَهُ عَنِ الْبَيْعَةِ وَعُذْرَهُ بِالَّذِي اعْتَذَرَ إِلَيْهِ ثُمَّ اسْتَغْفَرَ وَتَشَهَّدَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَعَظَّمَ حَقَّ أَبِي بَكْرٍ وَأَنَّهُ لَمْ يَحْمِلْهُ عَلَى الَّذِي صَنَعَ نَفَاسَةً عَلَى أَبِي بَكْرٍ وَلاَ إِنْكَارًا لِلَّذِي فَضَّلَهُ اللَّهُ بِهِ وَلَكِنَّا كُنَّا نَرَى لَنَا فِي الأَمْرِ نَصِيبًا فَاسْتُبِدَّ عَلَيْنَا بِهِ فَوَجَدْنَا فِي أَنْفُسِنَا فَسُرَّ بِذَلِكَ الْمُسْلِمُونَ وَقَالُوا أَصَبْتَ . فَكَانَ الْمُسْلِمُونَ إِلَى عَلِيٍّ قَرِيبًا حِينَ رَاجَعَ الأَمْرَ الْمَعْرُوفَ .
৪৪৭২-(৫২/১৭৫৯) মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, ফাতিমাহ বিনতু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর এর নিকট লোক পাঠালেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্পদে তার মীরাস এর দাবী করে, যা আল্লাহ তা'আলা তাকে মদীনাহ্ ও ফিদাক এর ফাই এবং খাইবারের অবশিষ্ট এক পঞ্চমাংশ থেকে প্রদান করেছেন। তখন আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গিয়েছেন- আমরা আমাদের (নবীগণের) পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে কাউকে ওয়ারিস রেখে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা হয় সদাকাহ (বাইতুল মাল)। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারবর্গ তা থেকে জীবিকা গ্রহণ করবেন। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়কালে সদাকাহর যে অবস্থা চালু ছিল, তা আমি পরিবর্তন করব না। আর এতে আমি নিশ্চয়ই সে কাজ করবো, যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে গিয়েছেন। অতএব, আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ফাতিমাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে তা থেকে কিছু প্রদান করতে অস্বীকার করলেন। সুতরাং ফাতিমাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এতে রাগান্বিত হয়ে তাকে পরিত্যাগ করলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কোন কথা বলেননি।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পর তিনি ছয় মাস জীবিত ছিলেন। এরপর যখন তিনি ইন্তিকাল করলেন, তখন তার স্বামী আলী ইবনু আবূ তালিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে রাতে দাফন করলেন এবং ফাতিমাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মৃত্যু সংবাদ পর্যন্ত আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে দেননি। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। ফাতিমাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর জীবিতকাল পর্যন্ত আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর প্রতি জনগণের বিশেষ মর্যাদাবোধ ছিল। এরপর যখন তার ইন্তিকাল হলো তখন তিনি লোকের চেহারায় অপছন্দনীয় ভাব দেখতে পেলেন। অতএব তিনি আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সঙ্গে ফায়সালা করে তার বাই'আতের প্রার্থনা করলেন। কেননা তিনি ঐ মাসগুলোতে তার বাই'আত গ্রহণ করেননি।
তারপর 'আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট লোক পাঠিয়ে সংবাদ দিলেন যে, আপনি একাকী আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করুন। আপনার সাথে অন্য কাউকে আনবেন না। কেননা, তিনি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর আগমনকে অপছন্দ করছিলেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবূ বাকরকে বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি একাকী তাদের কাছে যাবেন না। আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমি আশংকা করিনি যে, তারা আমার সাথে কিছু করবেন। আল্লাহর কসম! আমি একাকীই যাব। পরিশেষে আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাদের কাছে গেলেন। এরপর 'আলী ইবনু আবূ তালিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাশাহহুদ তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য বাণী পাঠ করলেন, তারপর বললেন, হে আবূ বাকর! আপনার মর্যাদা এবং আল্লাহ তা'আলা আপনাকে যে সম্মান প্রদান করেছেন, তা আমরা জানি। আর আল্লাহ তা'আলা আপনাকে যে নি'আমাত প্রদান করেছেন, তাতে আমাদের কোন হিংসা নেই। কিন্তু আপনি আমাদের উপেক্ষা করে খিলাফাতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্মীয়তার কারণে আমরা মনে করতাম যে, আমাদেরও অধিকার আছে। আবূ বাকরের সঙ্গে তিনি এভাবে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
পরিশেষে আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর দু'চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হলো। এরপর যখন আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কথা বলতে শুরু করলেন, তখন তিনি বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ করে বলছি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্মীয়দের প্রতি উত্তম আচরণ করা আমার কাছে অধিক প্রিয় আমার নিজ আত্মীয়ের প্রতি ভাল আচরণের চেয়েও। তবে আমার এবং আপনাদের মধ্যে এ সম্পদ নিয়ে যে দ্বন্দ শুরু হয়েছে তাতে আমি সত্য পরিহার করব না। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এতে যা করতে দেখেছি তা আমি পরিত্যাগ করব না। এরপর 'আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বললেন যে, আমি বাই'আতের জন্য আপনাকে আজ বিকাল বেলায় কথা দিলাম। যখন আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যুহরের সালাত শেষ করলেন তখন তিনি মিম্বারে আরোহণ করলেন এবং তাশাহহুদ পাঠ করলেন। এরপর তিনি 'আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর ঘটনা বর্ণনা করেন এবং তার বাই'আত গ্রহণে বিলম্ব ও এ বিষয়ে তার ওযর বর্ণনা করেন, যা তার কাছে বর্ণনা করা হয়েছিল।
এরপর তিনি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তারপর আলী ইবনু আবূ তালিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাশাহহুদ পাঠ করলেন এবং আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মহত্ত্ব বর্ণনা করলেন। আর তিনি ব্যক্ত করলেন যে, তিনি যা করেছেন, তা আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর প্রতি হিংসা পোষণ করে নয়। আর না আছে আমাদের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত কোন সম্মান ও নি'আমাতের অস্বীকৃতি। বরং আমরা মনে করতাম যে, খিলাফতের মধ্যে আমাদেরও অংশ আছে। কিন্তু আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাদের উপেক্ষা করে এ কাজের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এতে আমরা মনঃক্ষুন্ন হয়েছি। এ কথা শুনে মুসলিমগণ আনন্দিত হলেন এবং তারা বললেন যে, আপনি তা ঠিক বলেছেন। তখন তিনি কল্যাণের প্রতি ফিরে এলেন অর্থাৎ- তখন মনোমালিন্যের অবসান হলো এবং আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর বাই'আত গ্রহণ করা হলো, তখন থেকে মুসলিমগণ আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সংস্পর্শে আসতে লাগলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২৮, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৩০)
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَ مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ قَالَ ابْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّصلى الله عليه وسلم وَهُمَا حِينَئِذٍ يَطْلُبَانِ أَرْضَهُ مِنْ فَدَكٍ وَسَهْمَهُ مِنْ خَيْبَرَ . فَقَالَ لَهُمَا أَبُو بَكْرٍ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمِثْلِ مَعْنَى حَدِيثِ عُقَيْلٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ ثُمَّ قَامَ عَلِيٌّ فَعَظَّمَ مِنْ حَقِّ أَبِي بَكْرٍ وَذَكَرَ فَضِيلَتَهُ وَسَابِقَتَهُ ثُمَّ مَضَى إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَبَايَعَهُ فَأَقْبَلَ النَّاسُ إِلَى عَلِيٍّ فَقَالُوا أَصَبْتَ وَأَحْسَنْتَ . فَكَانَ النَّاسُ قَرِيبًا إِلَى عَلِيٍّ حِينَ قَارَبَ الأَمْرَ الْمَعْرُوفَ .
৪৪৭৩-(৫৩/...) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' ও 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, ফাতিমাহ্ এবং আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) উভয়েই আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট আগমন করলেন, তখন তারা উভয়ে ফেদাকের ভূমি ও খাইবারের প্রাপ্য অংশ দাবী করলেন। তখন আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) উভয়কে বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি... এরপর যুহরী (রহঃ) হতে উকায়ল কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের মর্মার্থের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। কিন্তু তিনি তাছাড়া এতে বর্ণনা করলেন যে, এরপর আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) দাঁড়ালেন এবং আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর যোগ্যতা ও মর্যাদা বর্ণনা করলেন এবং তার সর্বকাজে উল্লেখ করলেন। এরপর তিনি আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর কাছে গেলেন এবং তার অগ্রগামীরা বাই'আত গ্রহণ করলেন। তারপর জনগণ আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট এসে বললেন, আপনি ঠিকই করেছেন, আপনি ভালই করেছেন। যখন আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কল্যাণকর ব্যবস্থার নিকটবর্তী হলেন, তখন লোকজনও তার সংস্পর্শে আসতে লাগলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২৯, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৩১)
وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَأَلَتْ أَبَا بَكْرٍ بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَقْسِمَ لَهَا مِيرَاثَهَا مِمَّا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْهِ . فَقَالَ لَهَا أَبُو بَكْرٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " . قَالَ وَعَاشَتْ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِتَّةَ أَشْهُرٍ وَكَانَتْ فَاطِمَةُ تَسْأَلُ أَبَا بَكْرٍ نَصِيبَهَا مِمَّا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ خَيْبَرَ وَفَدَكٍ وَصَدَقَتِهِ بِالْمَدِينَةِ فَأَبَى أَبُو بَكْرٍ عَلَيْهَا ذَلِكَ وَقَالَ لَسْتُ تَارِكًا شَيْئًا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْمَلُ بِهِ إِلاَّ عَمِلْتُ بِهِ إِنِّي أَخْشَى إِنْ تَرَكْتُ شَيْئًا مِنْ أَمْرِهِ أَنْ أَزِيغَ فَأَمَّا صَدَقَتُهُ بِالْمَدِينَةِ فَدَفَعَهَا عُمَرُ إِلَى عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ فَغَلَبَهُ عَلَيْهَا عَلِيٌّ وَأَمَّا خَيْبَرُ وَفَدَكُ فَأَمْسَكَهُمَا عُمَرُ وَقَالَ هُمَا صَدَقَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَتَا لِحُقُوقِهِ الَّتِي تَعْرُوهُ وَنَوَائِبِهِ وَأَمْرُهُمَا إِلَى مَنْ وَلِيَ الأَمْرَ قَالَ فَهُمَا عَلَى ذَلِكَ إِلَى الْيَوْمِ .
৪৪৭৪-(৫৪/...) ইবনু নুমায়র, যুহায়র ইবনু হারব ও হাসান ইবনু 'আলী হুলওয়ানী (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা ফাতিমাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পর আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিত্যক্ত সম্পত্তির যা আল্লাহ তাকে দিয়েছেন নিজের প্রাপ্য অংশ দাবী করেন। তখন আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা (নবীগণ) সম্পত্তিতে কাউকে উত্তরাধিকার রেখে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা হবে সদাকাহ। আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পর ফাতিমাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ছয় মাস জীবিত ছিলেন।
ফাতিমাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট তার সে প্রাপ্য অংশ চেয়েছিলেন- যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার, ফিদাক এবং মাদীনার (সদাকাহ্) দান থেকে রেখে গিয়েছেন। আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে তা প্রদান করতে অস্বীকার করলেন এবং বললেন, আমি এমন কাজ ছেড়ে দেব না যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। কেননা আমি ভয় করি যে, যদি তার কোন কাজ পরিত্যাগ করি, তবে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবো। তবে হ্যাঁ, মাদীনার (সদাকার) দানের মাল উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার সময়ে আলী এবং আব্বাসকে প্রদান করেছিলেন। কিন্তু আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) একাকীই সে সম্পদ অধিকার করে নেন। আর খাইবার এবং ফিদাকের সম্পদ উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নিজের দায়িত্বে রাখলেন এবং বললেন, এ ছিল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রয়োজন মেটানোর জন্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয়ের জন্য। এ দু'টাে সম্পদের দায়িত্ব থাকে মুসলিমদের আমীরের উপর। বর্ণনাকারী বলেন, এ উভয় সম্পদের বণ্টন ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত তদ্রুপই আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩০, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৩২)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَقْتَسِمُ وَرَثَتِي دِيِنَارًا مَا تَرَكْتُ بَعْدَ نَفَقَةِ نِسَائِي وَمَئُونَةِ عَامِلِي فَهُوَ صَدَقَةٌ " .
৪৪৭৫-(৫৫/১৭৬০) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরিত্যক্ত সম্পদের এক দিনারও বন্টিত হবে না। আমি যা রেখে যাই তা থেকে আমার স্ত্রীগণের ব্যয় নির্বাহ এবং রাষ্ট্রীয় পরিচালকের বেতন ভাতার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা হবে সদাকাহ বা দান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩১, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৩৩)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ .
৪৪৭৬-(.../...) মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... আবূ যিনাদ (রহঃ) হতে এ সানাদে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩২, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৩৪)
وَحَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ عَدِيٍّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " .
৪৪৭৭-(৫৬/১৭৬১) ইবনু আবূ খালাফ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা কাউকে উত্তরাধিকারী করে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা হবে সদাকাহ বা দান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩৩, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৩৫)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو كَامِلٍ فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ كِلاَهُمَا عَنْ سُلَيْمٍ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا سُلَيْمُ بْنُ أَخْضَرَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، حَدَّثَنَا نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَسَمَ فِي النَّفَلِ لِلْفَرَسِ سَهْمَيْنِ وَلِلرَّجُلِ سَهْمًا .
৪৪৭৮-(৫৭/১৭৬২) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মধ্যে অশ্বারোহী সৈনিকের জন্য দু'ভাগ এবং পদাতিক সৈনিকের জন্য এক ভাগ হিসেবে বণ্টন করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩৪, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৩৬)
حَدَّثَنَاهُ ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فِي النَّفَلِ .
৪৪৭৯-(.../...) ইবনু নুমায়র (রহঃ) এ একই সূত্রে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি (গনীমাতের সম্পদে) এ কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩৫, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৩৭)
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي سِمَاكٌ، الْحَنَفِيُّ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ بَدْرٍ ح وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ الْحَنَفِيُّ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنِي أَبُو زُمَيْلٍ - هُوَ سِمَاكٌ الْحَنَفِيُّ - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ قَالَ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ بَدْرٍ نَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمُشْرِكِينَ وَهُمْ أَلْفٌ وَأَصْحَابُهُ ثَلاَثُمِائَةٍ وَتِسْعَةَ عَشَرَ رَجُلاً فَاسْتَقْبَلَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْقِبْلَةَ ثُمَّ مَدَّ يَدَيْهِ فَجَعَلَ يَهْتِفُ بِرَبِّهِ " اللَّهُمَّ أَنْجِزْ لِي مَا وَعَدْتَنِي اللَّهُمَّ آتِ مَا وَعَدْتَنِي اللَّهُمَّ إِنْ تَهْلِكْ هَذِهِ الْعِصَابَةُ مِنْ أَهْلِ الإِسْلاَمِ لاَ تُعْبَدْ فِي الأَرْضِ " . فَمَازَالَ يَهْتِفُ بِرَبِّهِ مَادًّا يَدَيْهِ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ حَتَّى سَقَطَ رِدَاؤُهُ عَنْ مَنْكِبَيْهِ فَأَتَاهُ أَبُو بَكْرٍ فَأَخَذَ رِدَاءَهُ فَأَلْقَاهُ عَلَى مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ الْتَزَمَهُ مِنْ وَرَائِهِ . وَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ كَذَاكَ مُنَاشَدَتُكَ رَبَّكَ فَإِنَّهُ سَيُنْجِزُ لَكَ مَا وَعَدَكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ مُرْدِفِينَ ) فَأَمَدَّهُ اللَّهُ بِالْمَلاَئِكَةِ . قَالَ أَبُو زُمَيْلٍ فَحَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَوْمَئِذٍ يَشْتَدُّ فِي أَثَرِ رَجُلٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ أَمَامَهُ إِذْ سَمِعَ ضَرْبَةً بِالسَّوْطِ فَوْقَهُ وَصَوْتَ الْفَارِسِ يَقُولُ أَقْدِمْ حَيْزُومُ . فَنَظَرَ إِلَى الْمُشْرِكِ أَمَامَهُ فَخَرَّ مُسْتَلْقِيًا فَنَظَرَ إِلَيْهِ فَإِذَا هُوَ قَدْ خُطِمَ أَنْفُهُ وَشُقَّ وَجْهُهُ كَضَرْبَةِ السَّوْطِ فَاخْضَرَّ ذَلِكَ أَجْمَعُ . فَجَاءَ الأَنْصَارِيُّ فَحَدَّثَ بِذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " صَدَقْتَ ذَلِكَ مِنْ مَدَدِ السَّمَاءِ الثَّالِثَةِ " . فَقَتَلُوا يَوْمَئِذٍ سَبْعِينَ وَأَسَرُوا سَبْعِينَ . قَالَ أَبُو زُمَيْلٍ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَلَمَّا أَسَرُوا الأُسَارَى قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ " مَا تَرَوْنَ فِي هَؤُلاَءِ الأُسَارَى " . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا نَبِيَّ اللَّهِ هُمْ بَنُو الْعَمِّ وَالْعَشِيرَةِ أَرَى أَنْ تَأْخُذَ مِنْهُمْ فِدْيَةً فَتَكُونُ لَنَا قُوَّةً عَلَى الْكُفَّارِ فَعَسَى اللَّهُ أَنْ يَهْدِيَهُمْ لِلإِسْلاَمِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا تَرَى يَا ابْنَ الْخَطَّابِ " . قُلْتُ لاَ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَرَى الَّذِي رَأَى أَبُو بَكْرٍ وَلَكِنِّي أَرَى أَنْ تُمَكِّنَّا فَنَضْرِبَ أَعْنَاقَهُمْ فَتُمَكِّنَ عَلِيًّا مِنْ عَقِيلٍ فَيَضْرِبَ عُنُقَهُ وَتُمَكِّنِّي مِنْ فُلاَنٍ - نَسِيبًا لِعُمَرَ - فَأَضْرِبَ عُنُقَهُ فَإِنَّ هَؤُلاَءِ أَئِمَّةُ الْكُفْرِ وَصَنَادِيدُهَا فَهَوِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَلَمْ يَهْوَ مَا قُلْتُ فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ جِئْتُ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ قَاعِدَيْنِ يَبْكِيَانِ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي مِنْ أَىِّ شَىْءٍ تَبْكِي أَنْتَ وَصَاحِبُكَ فَإِنْ وَجَدْتُ بُكَاءً بَكَيْتُ وَإِنْ لَمْ أَجِدْ بُكَاءً تَبَاكَيْتُ لِبُكَائِكُمَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَبْكِي لِلَّذِي عَرَضَ عَلَىَّ أَصْحَابُكَ مِنْ أَخْذِهِمُ الْفِدَاءَ لَقَدْ عُرِضَ عَلَىَّ عَذَابُهُمْ أَدْنَى مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ " . شَجَرَةٍ قَرِيبَةٍ مِنْ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الأَرْضِ ) إِلَى قَوْلِهِ ( فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلاَلاً طَيِّبًا ) فَأَحَلَّ اللَّهُ الْغَنِيمَةَ لَهُمْ .
৪৪৮০-(৫৮/১৭৬৩) হান্নাদ ইবনু সারিয়্যি ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... উমার ইবনু খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধের দিনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের দিকে তাকালেন, দেখলেন যে, তারা সংখ্যায় এক হাজার ছিল। আর তার সাহাবী ছিলেন তিনশ' তের জন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হলেন, এরপর দু'হাত উঁচু করে আওয়াজ করে আপন প্রভুর কাছে দুআ করতে লাগলেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছ আমার জন্য তা পূরণ করো। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছ, তা দাও। হে আল্লাহ! যদি মুসলিমদের এ ক্ষুদ্র সেনাদল ধ্বংস করে দাও তবে পৃথিবীতে তোমার ইবাদাত করার মত আর কেউ থাকবে না। তিনি এমনিভাবে দু'হাত উঁচু করে কিবলামুখী হয়ে প্রভুর কাছে উচ্চস্বরে দু'আ করে যাচ্ছিলেন।
এক পর্যায়ে তার কাঁধ থেকে চাদর পড়ে গেল। তখন আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার কাছে এসে চাদরটি তার কাঁধে পুনরায় তুলে দিলেন। তারপর তার পিছন দিক থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনার এতটুকু দু'আই যথেষ্ট আপনার প্রভুর কাছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা আপনার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছেন, তা অচিরেই পূর্ণ করবেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন- إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ مُرْدِفِينَ
"স্মরণ করে, যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে; তখন তিনি তা কবুল করেছিলেন এবং বলেছিলেন, আমি তোমাদেরকে এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করব যারা একের পর এক আসবে।" (সূরা আনফাল ৮ঃ ৯)
অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করলেন। আবূ যুমায়ল বর্ণনা করেন যে, আমার নিকট ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন যে, সেদিন একজন মুসলিম সৈনিক তার সামনের একজন মুশরিকের পিছনে ধাওয়া করছিলেন। এমন সময় তিনি তার উপর দিক থেকে বেত্রাঘাতের শব্দ শুনতে পেলেন এবং তার উপর দিকে অশ্বারোহীর এরূপ ধ্বনি শুনতে পেলেন। তিনি বলতেছিলেন, হে হায়যুম, (ফেরেশতার ঘোড়ার নাম) সামনের দিকে অগ্রসর হও। তখন তিনি তার সামনের এক মুশরিক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে চিৎ হয়ে পড়ে আছে। আরো দেখেন যে, তার নাক-ক্ষতযুক্ত এবং তার মুখমণ্ডল আঘাতপ্রাপ্ত। যেন কেউ তাকে বেত্ৰাঘাত করেছে। আহত স্থানগুলো সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে (বেত্রের বিষাক্ততায়)।
এরপর আনসারী ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে যাবতীয় ঘটনা বর্ণনা করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছ। এ সাহায্য তৃতীয় আকাশ থেকে এসেছে। পরিশেষে সেদিন মুসলিমগণ সত্তর জন কাফিরকে হত্যা এবং সত্তর জনকে বন্দী করলেন। আবূ যুমায়ল বলেন যে, ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেছেন, যখন যুদ্ধ বন্দীদেরকে আটক করা হলো, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সব যুদ্ধবন্দী সম্পর্কে আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সাথে কথা বললেন, "এ সকল যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে আপনারা কী মত দিচ্ছেন"। আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আল্লাহর নবী! তারা তো আমাদের চাচাতো ভাই এবং স্বগোত্রীয়। আমি উচিত মনে করি যে, তাদের নিকট থেকে আপনি মুক্তিপণ (فدية) গ্রহণ করুন। এতে কাফিরদের উপর আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। আশা করা যায় আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ইসলামের হিদায়াত দিবেন।
এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ইবনুল খাত্তাব! এ ব্যাপারে আপনি কী বলছেন? উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রসূল! আবূ বাকর যা উচিত মনে করেন আমি তা উচিত মনে করি না। আমি উচিত মনে করি যে, আপনি তাদেরকে আমাদের হস্তগত করুন। আমরা তাদের গর্দান উড়িয়ে দেব। আর আকিল-কে আলী-এর হস্তগত করুন। তিনি তার শিরোচ্ছেদ করবেন। আর আমার বংশের অমুককে আমার কাছে অৰ্পণ করুন, আমি তার শিরোচ্ছেদ করবো। কেননা তারা হল কাফিরদের মর্যাদাশালী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। অতএব আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যা বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটাই পছন্দ করলেন এবং আমি যা বললাম, তা তিনি পছন্দ করলেন না।
পরের দিন যখন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম, তখন দেখি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) উভয়েই বসে কাঁদছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে বলুন, আপনি এবং আপনার সাখী কেন কাঁদছেন? আমার কান্না আসলে আমিও কাঁদবো। আর যদি আমার কান্না না আসে তবে আপনাদের কাঁদার কারণে আমিও কান্নার ভান করবো (প্রচেষ্টা চালাব)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মুক্তিপণ গ্রহণের কারণে তোমার সাথীদের উপর সমাগত বিপদের কথা স্মরণ করে আমি কাঁদছি। আমার নিকট তাদের শাস্তি পেশ করা হল- এ বৃক্ষ থেকেও নিকটে। বৃক্ষটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটবর্তী। (একটি বৃক্ষের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, এ বৃক্ষের চাইতেও কাছে তোমাদের উপর সমাগত আযাব আমাকে দেখানো হয়েছিল।)
অতঃপর আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ
"مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الأَرْضِ) إِلَى قَوْلِهِ ( فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلاَلاً طَيِّبًا
"দেশে ব্যাপকভাবে শক্রকে পরাস্ত না করা পর্যন্ত বন্দী কোন নবীর জন্য সঙ্গত নয় ..... যুদ্ধে যা তোমরা লাভ করেছ তা বৈধ ও উত্তম বলে তোমরা ভোগ কর"- (সূরা আল-আনফাল ৮ঃ ৬৭-৬৯)। এর ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য মালে গনীমাত হালাল করে দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৩৬, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৩৮)