হাদীস বিএন


সহীহ মুসলিম





সহীহ মুসলিম (6101)


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ ابْنُ سَلُولَ جَاءَ ابْنُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ أَنْ يُعْطِيَهُ قَمِيصَهُ أَنْ يُكَفِّنَ فِيهِ أَبَاهُ فَأَعْطَاهُ ثُمَّ سَأَلَهُ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَامَ عُمَرُ فَأَخَذَ بِثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتُصَلِّي عَلَيْهِ وَقَدْ نَهَاكَ اللَّهُ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا خَيَّرَنِيَ اللَّهُ فَقَالَ ( اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لاَ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً ) وَسَأَزِيدُ عَلَى سَبْعِينَ " . قَالَ إِنَّهُ مُنَافِقٌ . فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( وَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلاَ تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ ) .




৬১০১-(২৫/২৪০০) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে রিওয়ায়াত করেন, তিনি বলেন, যখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালুল ওফাত হন তখন তার ছেলে আবদুল্লাহ ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে আরজ করলেন, তিনি যেন নিজ জামা তার পিতার কাফনের জন্য দান করেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রদান করলেন। এরপর আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার পিতার জানাযা পড়ার অনুরোধ জানালেন। তিনি তার জানাযা পড়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। তখন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) দাঁড়িয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গায়ের কাপড় ধরে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি ওর জানাযা পড়বেন? কেননা আল্লাহ আপনাকে তার জানাযা আদায় করতে বারণ করেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ অবশ্য আমাকে ইখতিয়ার দিয়েছেন। বলেছেনঃ "আপনি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করুন আর নাই করুন, যদি আপনি সত্তরবারও এদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন" ..... (সূরা আত তওবা ৯ঃ ৭০) অতএব আমি সত্তরবারের চেয়েও অধিক মাফ চাইব। উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, সে তো মুনাফিক। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযা আদায় করলেন। তখন আল্লাহ তা'আলা আয়াত নাযিল করলেন। "মুনাফিকদের মাঝে কেউ মরে গেলে কক্ষনো তার জানাযা আদায় করবেন না; আর তার কবরের সন্নিকটেও দাঁড়াবেন না"- (সূরা আত তওবা ৯ঃ ৮৪)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯০, ইসলামিক সেন্টার ৬০৩০)









সহীহ মুসলিম (6102)


وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، - وَهُوَ الْقَطَّانُ - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ فِي مَعْنَى حَدِيثِ أَبِي أُسَامَةَ وَزَادَ قَالَ فَتَرَكَ الصَّلاَةَ عَلَيْهِمْ .




৬১০২-(..../...) ইবনুল মুসান্না ও উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... উবাইদুল্লাহ (রহঃ) থেকে এ সানাদে আবূ উসামাহর হাদীদের সমার্থক হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন এবং বর্ধিত বলেছেন, "তারপর তিনি তাদের উপর জানাযা আদায় ছেড়ে দেন"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯১, ইসলামিক সেন্টার ৬০৩১)









সহীহ মুসলিম (6103)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنُونَ ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي حَرْمَلَةَ، عَنْ عَطَاءٍ، وَسُلَيْمَانَ، ابْنَىْ يَسَارٍ وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُضْطَجِعًا فِي بَيْتِي كَاشِفًا عَنْ فَخِذَيْهِ أَوْ سَاقَيْهِ فَاسْتَأْذَنَ أَبُو بَكْرٍ فَأَذِنَ لَهُ وَهُوَ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ فَتَحَدَّثَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ فَأَذِنَ لَهُ وَهُوَ كَذَلِكَ فَتَحَدَّثَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُثْمَانُ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَوَّى ثِيَابَهُ - قَالَ مُحَمَّدٌ وَلاَ أَقُولُ ذَلِكَ فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ - فَدَخَلَ فَتَحَدَّثَ فَلَمَّا خَرَجَ قَالَتْ عَائِشَةُ دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ فَلَمْ تَهْتَشَّ لَهُ وَلَمْ تُبَالِهِ ثُمَّ دَخَلَ عُمَرُ فَلَمْ تَهْتَشَّ لَهُ وَلَمْ تُبَالِهِ ثُمَّ دَخَلَ عُثْمَانُ فَجَلَسْتَ وَسَوَّيْتَ ثِيَابَكَ فَقَالَ " أَلاَ أَسْتَحِي مِنْ رَجُلٍ تَسْتَحِي مِنْهُ الْمَلاَئِكَةُ " .




৬১০৩-(২৬/২৪০১) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, ইবনু আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হাজর (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে শুয়ে ছিলেন, তার উরু কিংবা পায়ের নলা উন্মুক্ত ছিল। আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এসে অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থাতে কথপকথন করলেন। তারপর উমার (রাঃ) অনুমতি চাইলে অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থায়ই কথাবার্তা বললেন। উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে বসলেন এবং তার কাপড় ঠিক করলেন। বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ বলেন, এ বিষয়টি একই দিনে ঘটেছে বলে আমি দাবী করি না। অতঃপর উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এসে কথা বলে চলে যাওয়ার পর আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আসলেন, আপনি তাকে কোন গুরুত্ব দিলেন না ও ভ্রুক্ষেপ করলেন না, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আসলেন আপনি তাকেও কোন গুরুত্ব দিলেন না ও ভ্রূক্ষেপ করলেন না। উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রবেশ করতেই আপনি উঠে বসলেন এবং জামা ঠিক করে নিলেন।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি কি সে লোককে লজ্জা করবো না, ফেরেশতারা পর্যন্ত যাকে দেখলে লজ্জা পান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯২, ইসলামিক সেন্টার ৬০৩২)









সহীহ মুসলিম (6104)


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، حَدَّثَنِي عُقَيْلُ، بْنُ خَالِدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعُثْمَانَ حَدَّثَاهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ اسْتَأْذَنَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُضْطَجِعٌ عَلَى فِرَاشِهِ لاَبِسٌ مِرْطَ عَائِشَةَ فَأَذِنَ لأَبِي بَكْرٍ وَهُوَ كَذَلِكَ فَقَضَى إِلَيْهِ حَاجَتَهُ ثُمَّ انْصَرَفَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ فَأَذِنَ لَهُ وَهُوَ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ فَقَضَى إِلَيْهِ حَاجَتَهُ ثُمَّ انْصَرَفَ . قَالَ عُثْمَانُ ثُمَّ اسْتَأْذَنْتُ عَلَيْهِ فَجَلَسَ وَقَالَ لِعَائِشَةَ " اجْمَعِي عَلَيْكِ ثِيَابَكِ " . فَقَضَيْتُ إِلَيْهِ حَاجَتِي ثُمَّ انْصَرَفْتُ فَقَالَتْ عَائِشَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لِي لَمْ أَرَكَ فَزِعْتَ لأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا كَمَا فَزِعْتَ لِعُثْمَانَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ عُثْمَانَ رَجُلٌ حَيِيٌّ وَإِنِّي خَشِيتُ إِنْ أَذِنْتُ لَهُ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ أَنْ لاَ يَبْلُغَ إِلَىَّ فِي حَاجَتِهِ " .




৬১০৪-(২৭/২৪০২) আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স ইবনু সা'দ (রহঃ) ..... নবী পত্নী আয়িশাহ ও উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন নিজের বিছানায় আয়িশাহর চাদর গায়ে দিয়ে শুয়ে ছিলেন। তিনি আবূ বাকরকে অনুমতি দিলেন। আর তিনি এ অবস্থায়ই রইলেন, আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার প্রয়োজন শেষে চলে গেলেন। তারপর উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দিলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থায়ই রইলেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার কাজ সেরে চলে গেলেন। উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তারপর আমি অনুমতি চাইলাম, তিনি উঠে বসে পড়লেন এবং আয়িশাহকে বললেন, ভালো মতো তোমার শরীরের কাপড় ঠিক করে নাও। আমি আমার কাজ শেষ করে চলে এলে আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কি ব্যাপার, আবূ বাকর ও উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আসলে আপনাকে এমন ব্যস্ত হতে দেখলাম না, যেমন উসমান আসতেই আপনি ব্যতিব্যস্ত হলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বড়ই লাজুক পুরুষ। তাই আমি ভাবলাম, এ অবস্থায় তাকে আসতে বললে হয়ত সে তার প্রয়োজন আমার নিকট উথাপন করতে পারবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৮৩, ইসলামিক সেন্টার ৬০৩৩)









সহীহ মুসলিম (6105)


حَدَّثَنَاهُ عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، كُلُّهُمْ عَنْ يَعْقُوبَ، بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يَحْيَى، بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُثْمَانَ وَعَائِشَةَ حَدَّثَاهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ اسْتَأْذَنَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ عُقَيْلٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ .




৬১০৫-(..../...) আমর আন নাকিদ, হাসান ইবনু আলী হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... উসমান ও আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, আবূ বাকর সিদীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, অবশিষ্টাংশ যুহরী (রহঃ) থেকে উকায়ল (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯৪, ইসলামিক সেন্টার ৬০৩৪)









সহীহ মুসলিম (6106)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنَزِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ غِيَاثٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَائِطٍ مِنْ حَائِطِ الْمَدِينَةِ وَهُوَ مُتَّكِئٌ يَرْكُزُ بِعُودٍ مَعَهُ بَيْنَ الْمَاءِ وَالطِّينِ إِذَا اسْتَفْتَحَ رَجُلٌ فَقَالَ " افْتَحْ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ " . قَالَ فَإِذَا أَبُو بَكْرٍ فَفَتَحْتُ لَهُ وَبَشَّرْتُهُ بِالْجَنَّةِ - قَالَ - ثُمَّ اسْتَفْتَحَ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ " افْتَحْ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ " . قَالَ فَذَهَبْتُ فَإِذَا هُوَ عُمَرُ فَفَتَحْتُ لَهُ وَبَشَّرْتُهُ بِالْجَنَّةِ ثُمَّ اسْتَفْتَحَ رَجُلٌ آخَرُ - قَالَ - فَجَلَسَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " افْتَحْ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ عَلَى بَلْوَى تَكُونُ " . قَالَ فَذَهَبْتُ فَإِذَا هُوَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ - قَالَ - فَفَتَحْتُ وَبَشَّرْتُهُ بِالْجَنَّةِ - قَالَ - وَقُلْتُ الَّذِي قَالَ فَقَالَ اللَّهُمَّ صَبْرًا أَوِ اللَّهُ الْمُسْتَعَانُ .




৬১০৬-(২৮/২৪০৩) মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আনাযী (রহঃ) ... আবূ মূসা আশআর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনার একটি বাগিচায় হেলান দিয়ে বসাবস্থায় একটি লাকড়ি কাদা মাটিতে গাঢ়তে চেষ্টা করছিলেন। এমনি মুহূর্তে কেউ দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন আমি গিয়ে দেখি তিনি আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। আমি দরজা খুললাম এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম।

তারপর আরেক ব্যক্তি দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন আমি গিয়ে দেখলাম তিনি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। দরজা খুলে দিলাম এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। তারপর আরেক ব্যক্তি দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোজা হয়ে বসে পড়লেন এবং বললেন। দরজা খুলে দাও এবং তাকে আসন্ন বিপদসহ জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি গিয়ে দেখি তিনি উসমান ইবনু আফফান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। আমি দরজা উন্মুক্ত করে তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তার বর্ণনা দিলাম। উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ "হে আল্লাহ আমাকে ধৈর্য দান করো। আল্লাহর নিকট আমি সাহায্য কামনা করছি।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯৫, ইসলামিক সেন্টার ৬০৩৫)









সহীহ মুসলিম (6107)


حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ حَائِطًا وَأَمَرَنِي أَنْ أَحْفَظَ الْبَابَ . بِمَعْنَى حَدِيثِ عُثْمَانَ بْنِ غِيَاثٍ .




৬১০৭-(.../....) আবূ রাবী' আল-আতাকী (রহঃ) ..... আবূ মূসা আশ'আর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাগিচায় গেলেন এবং আমাকে দরজায় পাহারা দিতে বললেন, তারপর উসমান ইবনু আফফান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদীসের সমার্থক হাদীস রিওয়ায়াত করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯৬, ইসলামিক সেন্টার ৬০৩৬)









সহীহ মুসলিম (6108)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِسْكِينٍ الْيَمَامِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - وَهُوَ ابْنُ بِلاَلٍ - عَنْ شَرِيكِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَخْبَرَنِي أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ، أَنَّهُ تَوَضَّأَ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ خَرَجَ فَقَالَ لأَلْزَمَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلأَكُونَنَّ مَعَهُ يَوْمِي هَذَا . قَالَ فَجَاءَ الْمَسْجِدَ فَسَأَلَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا خَرَجَ . وَجَّهَ هَا هُنَا - قَالَ - فَخَرَجْتُ عَلَى أَثَرِهِ أَسْأَلُ عَنْهُ حَتَّى دَخَلَ بِئْرَ أَرِيسٍ - قَالَ - فَجَلَسْتُ عِنْدَ الْبَابِ وَبَابُهَا مِنْ جَرِيدٍ حَتَّى قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَاجَتَهُ وَتَوَضَّأَ فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَإِذَا هُوَ قَدْ جَلَسَ عَلَى بِئْرِ أَرِيسٍ وَتَوَسَّطَ قُفَّهَا وَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ وَدَلاَّهُمَا فِي الْبِئْرِ - قَالَ - فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ ثُمَّ انْصَرَفْتُ فَجَلَسْتُ عِنْدَ الْبَابِ فَقُلْتُ لأَكُونَنَّ بَوَّابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْيَوْمَ . فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ فَدَفَعَ الْبَابَ فَقُلْتُ مَنْ هَذَا فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ . فَقُلْتُ عَلَى رِسْلِكَ - قَالَ - ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا أَبُو بَكْرٍ يَسْتَأْذِنُ فَقَالَ " ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ " . قَالَ فَأَقْبَلْتُ حَتَّى قُلْتُ لأَبِي بَكْرٍ ادْخُلْ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُبَشِّرُكَ بِالْجَنَّةِ - قَالَ - فَدَخَلَ أَبُو بَكْرٍ فَجَلَسَ عَنْ يَمِينِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَهُ فِي الْقُفِّ وَدَلَّى رِجْلَيْهِ فِي الْبِئْرِ كَمَا صَنَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ ثُمَّ رَجَعْتُ فَجَلَسْتُ وَقَدْ تَرَكْتُ أَخِي يَتَوَضَّأُ وَيَلْحَقُنِي فَقُلْتُ إِنْ يُرِدِ اللَّهُ بِفُلاَنٍ - يُرِيدُ أَخَاهُ - خَيْرًا يَأْتِ بِهِ . فَإِذَا إِنْسَانٌ يُحَرِّكُ الْبَابَ فَقُلْتُ مَنْ هَذَا فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ . فَقُلْتُ عَلَى رِسْلِكَ . ثُمَّ جِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ وَقُلْتُ هَذَا عُمَرُ يَسْتَأْذِنُ فَقَالَ " ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ " . فَجِئْتُ عُمَرَ فَقُلْتُ أَذِنَ وَيُبَشِّرُكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْجَنَّةِ - قَالَ - فَدَخَلَ فَجَلَسَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْقُفِّ عَنْ يَسَارِهِ وَدَلَّى رِجْلَيْهِ فِي الْبِئْرِ ثُمَّ رَجَعْتُ فَجَلَسْتُ فَقُلْتُ إِنْ يُرِدِ اللَّهُ بِفُلاَنٍ خَيْرًا - يَعْنِي أَخَاهُ - يَأْتِ بِهِ فَجَاءَ إِنْسَانٌ فَحَرَّكَ الْبَابَ فَقُلْتُ مَنْ هَذَا فَقَالَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ . فَقُلْتُ عَلَى رِسْلِكَ - قَالَ - وَجِئْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ " ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ مَعَ بَلْوَى تُصِيبُهُ " . قَالَ فَجِئْتُ فَقُلْتُ ادْخُلْ وَيُبَشِّرُكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْجَنَّةِ مَعَ بَلْوَى تُصِيبُكَ - قَالَ - فَدَخَلَ فَوَجَدَ الْقُفَّ قَدْ مُلِئَ فَجَلَسَ وُجَاهَهُمْ مِنَ الشِّقِّ الآخَرِ . قَالَ شَرِيكٌ فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ فَأَوَّلْتُهَا قُبُورَهُمْ .




৬১০৮-(২৯/...) মুহাম্মাদ ইবনু মিসকীন ইয়ামামী (রহঃ) ..... আবূ মূসা আশ'আরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, তিনি তার গৃহ থেকে ওযু সেরে বেরিয়ে বলেন, আজকের দিন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে থাকবো। তিনি মসজিদে আসলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন। লোকেরা বলল, তিনি এ দিকে গিয়েছেন। আবূ মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) লোকদের নিকট প্রশ্ন করে তার পদাংক অনুসরণ করে বি'রি আরীসে গিয়ে পৌছলেন। আবূ মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি চৌকাঠে বসলাম। এর দরজাটি ছিল খেজুরের ডালের। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাজ শেষ করে ওযু করলে আমি তার নিকট গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আরীস' কূপের কিনারার মাঝখানে উপবিষ্ট হলেন। তার পা দু'টো হাটু পর্যন্ত উন্মুক্ত করে কূপের ভেতর ঝুলিয়ে দিলেন। আমি তাকে সালাম দিয়ে চৌকাঠের কাছে গিয়ে বসে পড়লাম আর বললাম, অবশ্যই আমি আজ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাহারাদার হবো।

আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এসে দরজায় ধাক্কা দিলে আমি বললাম, কে? বললেন, আবূ বাকর। আমি বললাম, দাঁড়ান। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এসেছেন এবং অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন। তাকে আসার অনুমতি এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি এগিয়ে গিয়ে আবূ বাকরকে বললাম, প্রবেশ করুন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রবেশ করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ডান পাশে রূপে পা লটকিয়ে বসলেন আর পা দু'টো ইঁটু পর্যন্ত উন্মুক্ত করলেন। যেমনটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন।

এরপর আমি প্রত্যাবর্তন শেষে বসে পড়লাম। আমি আমার ভাইকে রেখে এসেছিলাম, তিনি ওযু করছিলেন। তিনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করবেন। আমি মনে করলাম, আল্লাহ তা'আলা যদি তার মঙ্গল চান তাহলে তাকে এখনই এনে দেবেন। এমন সময় এক লোক দরজা নাড়ল। বললাম, কে? উত্তর দিলো, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। বললাম, দাঁড়ান। পরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে তাকে সালাম দিয়ে বললাম, 'উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এসেছেন, তিনি প্রবেশের অনুমতি চান। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। উমারের নিকট এসে বললাম, আসুন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সুখবর দিচ্ছেন। উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রবেশ করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বামপাশে কূপে পা ঝুলিয়ে বসলেন।

আমি ফিরে এসে বসে পড়লাম, বললাম, আল্লাহ যদি আমার ভাইয়ের ভাল চান তাহলে তাকে এনে দেবেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে দরজা নাড়ল। আমি বললাম, কে? বলল, উসমান ইবনু আফফান। বললাম, দাঁড়ান। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে সংবাদ দিলাম। তিনি বললেনঃ তাকে প্রবেশ করতে দাও এবং আগত বিপদের সঙ্গে জান্নাতের সুখবর দাও। আমি এসে বললাম, প্রবেশ করুন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে একটি আগত বিপদের সঙ্গে জান্নাতের সুখবর দিচ্ছেন। উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রবেশ করে দেখলেন কুপের একপাশ ভরাট হয়ে আছে। তিনি তাদের মুখোমুখি হয়ে কুপের অন্য পাশে বসলেন। শারীক (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনু ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) বলেন, আমি এ বৈঠকের বিশ্লেষণ করলাম যে, এ হচ্ছে তাদের কবরের অবস্থান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯৭, ইসলামিক সেন্টার ৬০৩৭)









সহীহ মুসলিম (6109)


حَدَّثَنِيهِ أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، حَدَّثَنِي شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، يَقُولُ حَدَّثَنِي أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ، هَا هُنَا - وَأَشَارَ لِي سُلَيْمَانُ إِلَى مَجْلِسِ سَعِيدٍ نَاحِيَةَ الْمَقْصُورَةِ - قَالَ أَبُو مُوسَى خَرَجْتُ أُرِيدُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدْتُهُ قَدْ سَلَكَ فِي الأَمْوَالِ فَتَبِعْتُهُ فَوَجَدْتُهُ قَدْ دَخَلَ مَالاً فَجَلَسَ فِي الْقُفِّ وَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ وَدَلاَّهُمَا فِي الْبِئْرِ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ حَسَّانَ وَلَمْ يَذْكُرْ قَوْلَ سَعِيدٍ فَأَوَّلْتُهَا قُبُورَهُمْ .




৬১০৯-(.../...) আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আবূ মূসা আশ'আরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সন্ধানে বের হয়ে দেখলাম তিনি বাগিচার দিকে গিয়েছেন। আমি একটি বাগিচায় গিয়ে দেখি তিনি কুয়ার চাকের উপর পা দু'টো বুলিয়ে বসে আছেন, তার পা দু'টো হাঁটু পর্যন্ত উন্মুক্ত। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বোল্লিখিত হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করলেন। এখানে সাঈদ (রহঃ) এর কথা "আমি বিশ্লেষণ করলাম যে, তাদের কবরও এভাবেই" কথাটি উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯৭, ইসলামিক সেন্টার ৬০৩৮)









সহীহ মুসলিম (6110)


حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ قَالاَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي، مَرْيَمَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، أَخْبَرَنِي شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ سَعِيدِ، بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا إِلَى حَائِطٍ بِالْمَدِينَةِ لِحَاجَتِهِ فَخَرَجْتُ فِي إِثْرِهِ . وَاقْتَصَّ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ وَذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ قَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ . فَتَأَوَّلْتُ ذَلِكَ قُبُورَهُمُ اجْتَمَعَتْ هَا هُنَا وَانْفَرَدَ عُثْمَانُ .




৬১১০-(.../...) হাসান ইবনু আলী আল-হুলওয়ানী ও আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আবূ মূসা আশ'আরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোন প্রয়োজনে মাদীনায় এক বাগিচায় গেলেন। আমি তার পদাঙ্ক অনুসরণ করলাম। তারপর সুলাইমান ইবনু বিলাল এর হাদীসের অবিকলভাবে তিনি (রাবী) এ হাদীস রিওয়ায়াত করেন। এ হাদীসে এও বর্ণনা রয়েছে যে, ইবনু মুসাইয়্যিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি এর বিশ্লেষণ করলাম যে, তা হচ্ছে তাদের কবরের নিদর্শন। সকলে একত্রে আর পৃথকভাবে আছেন উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯৮, ইসলামিক সেন্টার ৬০৩৯)









সহীহ মুসলিম (6111)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، وَأَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ وَعُبَيْدُ اللَّهِ الْقَوَارِيرِيُّ وَسُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ كُلُّهُمْ عَنْ يُوسُفَ الْمَاجِشُونِ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الصَّبَّاحِ - حَدَّثَنَا يُوسُفُ، أَبُو سَلَمَةَ الْمَاجِشُونُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ، بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِعَلِيٍّ " أَنْتَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلاَّ أَنَّهُ لاَ نَبِيَّ بَعْدِي " . قَالَ سَعِيدٌ فَأَحْبَبْتُ أَنْ أُشَافِهَ بِهَا سَعْدًا فَلَقِيتُ سَعْدًا فَحَدَّثْتُهُ بِمَا حَدَّثَنِي عَامِرٌ فَقَالَ أَنَا سَمِعْتُهُ . فَقُلْتُ آنْتَ سَمِعْتَهُ فَوَضَعَ إِصْبَعَيْهِ عَلَى أُذُنَيْهِ فَقَالَ نَعَمْ وَإِلاَّ فَاسْتَكَّتَا .




৬১১১-(৩০/২৪০৪) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী, আবূ জাফার মুহাম্মাদ ইবনু সাব্বাহ, উবাইদুল্লাহ কাওয়ারীরী ও সুরায়জ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলেছেনঃ তুমি আমার কাছে তেমন যেমন মূসা (আঃ) এর কাছে হারূন। তবে আমার পর আর কোন নবী আসবেন না। সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমি মনে করলাম যে, হাদীসটি প্রত্যক্ষভাবে সা'দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে শ্রবণ করি। অতএব আমি সা'দের সঙ্গে একত্রিত হলাম এবং আমির আমাকে যা বলেছে আমি তাকে তা বললাম। তিনি বললেন, আমি এ কথা শুনেছি। আমি বললাম, আপনি কি এ কথা শুনেছেন? তিনি দু'কানে দু'টো আঙ্গুল ঢুকিয়ে বললেন, হ্যাঁ শুনেছি, না শুনে থাকলে এ কান দু'টো বধির হয়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৯৯, ইসলামিক সেন্টার ৬০৪০)









সহীহ মুসলিম (6112)


وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدِ بْنِ، أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ خَلَّفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ تُخَلِّفُنِي فِي النِّسَاءِ وَالْصِّبْيَانِ فَقَالَ " أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى غَيْرَ أَنَّهُ لاَ نَبِيَّ بَعْدِي " .




৬১১২-(৩১/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) .... সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, তাবুকের যুদ্ধের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে মদীনায় তার প্রতিনিধি বানিয়ে রেখে গেলেন। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে মহিলা ও শিশুদের নিকট রেখে যাচ্ছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি এতে খুশী হবে না যে, তোমার মর্যাদা আমার কাছে মূসা (আঃ) এর কাছে হারূন (আঃ) এর মতো। এ কথা ভিন্ন যে, আমার পর আর কোন নবী আসবেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০০, ইসলামিক সেন্টার, নেই)









সহীহ মুসলিম (6113)


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ .




৬১১৩-(..../...) উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) শুবাহ হতে এ সূত্রেই রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০১, ইসলামিক সেন্টার, নেই)









সহীহ মুসলিম (6114)


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، - وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ - قَالاَ حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - وَهُوَ ابْنُ إِسْمَاعِيلَ - عَنْ بُكَيْرِ بْنِ مِسْمَارٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَمَرَ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ سَعْدًا فَقَالَ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسُبَّ أَبَا التُّرَابِ فَقَالَ أَمَّا مَا ذَكَرْتُ ثَلاَثًا قَالَهُنَّ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَنْ أَسُبَّهُ لأَنْ تَكُونَ لِي وَاحِدَةٌ مِنْهُنَّ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَهُ خَلَّفَهُ فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ يَا رَسُولَ اللَّهِ خَلَّفْتَنِي مَعَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلاَّ أَنَّهُ لاَ نُبُوَّةَ بَعْدِي " . وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ يَوْمَ خَيْبَرَ " لأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ رَجُلاً يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ " . قَالَ فَتَطَاوَلْنَا لَهَا فَقَالَ " ادْعُوا لِي عَلِيًّا " . فَأُتِيَ بِهِ أَرْمَدَ فَبَصَقَ فِي عَيْنِهِ وَدَفَعَ الرَّايَةَ إِلَيْهِ فَفَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ ) دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيًّا وَفَاطِمَةَ وَحَسَنًا وَحُسَيْنًا فَقَالَ " اللَّهُمَّ هَؤُلاَءِ أَهْلِي " .




৬১১৪-(৩২/...) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) .... সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, মু'আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফইয়ান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সা'দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে আমির (প্রতিনিধি) নিযুক্ত করলেন এবং বললেন, আপনি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে কেন মন্দ বলেন না? সা'দ বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্বন্ধে যে তিনটি কথা বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তা আমি মনে রাখবো ততক্ষণ পর্যন্ত কখনও তাকে খারাপ বলব না। সেসব কথার মধ্য হতে একটিও যদি আমি লাভ করতে পারতাম তাহলে তা আমার জন্য লাল উটের চেয়েও অধিক কল্যাণকর হত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে 'আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর উদ্দেশে বলতে শুনেছি- আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে কোন যুদ্ধের সময় প্রতিনিধি বানিয়ে রেখে গেলে তিনি বললেন, মহিলা ও শিশুদের মধ্যে আমাকে রেখে যাচ্ছেন, হে আল্লাহর রসূল? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি এতে আনন্দবোধ করো না যে, আমার নিকট তোমার সম্মান মূসা (আঃ) এর নিকট হারূন (আঃ) এর মতো। এ কথা ভিন্ন যে, আমার পর আর কোন নবী নেই।

খাইবারের যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছি, আমি এমন এক লোককে পতাকা (ইসলামের ঝাণ্ডা) দেব যে আল্লাহ ও তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ভালবাসে এবং আল্লাহ ও তার রসূলও তাকে ভালবাসেন। এ কথা শুনে আমরা (অধির আগ্রহে) অপেক্ষা করতে থাকলাম। তখন তিনি বললেন, 'আলীকে ডাকো। আলী আসলেন, তার চোখ (অসুখ হয়েছিল) উঠেছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চোখে থুথু লাগিয়ে দিলেন এবং তার হাতে পতাকা সপে দিলেন। অবশেষে আল্লাহ তার হাতেই বিজয়মালা (পতাকা) তুলে দিলেন। আর যখন আয়াতঃ চলো আমরা আমাদের এবং তোমাদের সন্তান-সন্ততিকে ডাকি"- (সূরাহ আ-লি ইমরান ৩ঃ ৬১) অবতীর্ণ হলো, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী, ফাতিমাহ, হাসান ও হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে ডাকলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহ! এরাই আমার পরিবার-পরিজন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০২, ইসলামিক সেন্টার ৬০৪১)









সহীহ মুসলিম (6115)


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ، بْنَ سَعْدٍ عَنْ سَعْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ لِعَلِيٍّ " أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى " .




৬১১৫-(.../...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... সা'দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললেনঃ তুমি কি এতে খুশী নও যে, তোমার সম্মান আমার নিকট মূসা (আঃ) এর নিকট হারূন এর ন্যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০৩, ইসলামিক সেন্টার ৬০৪২)









সহীহ মুসলিম (6116)


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَارِيَّ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَوْمَ خَيْبَرَ " لأُعْطِيَنَّ هَذِهِ الرَّايَةَ رَجُلاً يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَى يَدَيْهِ " . قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مَا أَحْبَبْتُ الإِمَارَةَ إِلاَّ يَوْمَئِذٍ - قَالَ - فَتَسَاوَرْتُ لَهَا رَجَاءَ أَنْ أُدْعَى لَهَا - قَالَ - فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فَأَعْطَاهُ إِيَّاهَا وَقَالَ " امْشِ وَلاَ تَلْتَفِتْ حَتَّى يَفْتَحَ اللَّهُ عَلَيْكَ " . قَالَ فَسَارَ عَلِيٌّ شَيْئًا ثُمَّ وَقَفَ وَلَمْ يَلْتَفِتْ فَصَرَخَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَى مَاذَا أُقَاتِلُ النَّاسَ قَالَ " قَاتِلْهُمْ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ فَقَدْ مَنَعُوا مِنْكَ دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلاَّ بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ " .




৬১১৬-(৩৩/২৪০৫) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারের দিন বললেন। নিশ্চয়ই আমি ঐ লোকের হাতে পতাকা তুলে দিবো, যে লোক আল্লাহ ও তার রসূলকে ভালবাসে। তার হাতেই আল্লাহ তা'আলা বিজয় দেবেন। উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, শুধু ঐ দিনটি ব্যতীত আমি কখনো নেতৃত্ব লাভের আশা করিনি। এ প্রত্যাশা নিয়ে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম, হয়ত এ কাজের জন্য আমাকে ডাকা হতে পারে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ইবনু আবূ তালিবকে ডেকে তার হাতে পতাকা দিলেন এবং বললেনঃ অগ্রসর হও, এদিক-ওদিক দৃষ্টি দিও না যতক্ষণ আল্লাহ তোমাকে বিজয় দেন। অতঃপর 'আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সামান্য অগ্রসর হয়ে থামলেন, এদিক-সেদিক দেখেননি।

এরপর চিৎকার করে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! কোন কথার উপর আমি লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করব। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃতপক্ষে আর কোন ইলাহ নেই, আর নিঃসন্দেহে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসূল। যখনই তারা এ সাক্ষ্য প্রদান করবে তখনই তারা তাদের প্রাণ ও ধন-মাল তোমার হাত হতে মুক্ত করে ফেলবে। তবে কোন প্রাপ্য অধিকারের প্রশ্নে মুক্ত হবে না। আর তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০৪, ইসলামিক সেন্টার ৬০৪৩)









সহীহ মুসলিম (6117)


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي حَازِمٍ - عَنْ أَبِي، حَازِمٍ عَنْ سَهْلٍ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، - وَاللَّفْظُ هَذَا - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ أَبِي حَازِمٍ، أَخْبَرَنِي سَهْلُ بْنُ سَعْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَوْمَ خَيْبَرَ " لأُعْطِيَنَّ هَذِهِ الرَّايَةَ رَجُلاً يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَى يَدَيْهِ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ " . قَالَ فَبَاتَ النَّاسُ يَدُوكُونَ لَيْلَتَهُمْ أَيُّهُمْ يُعْطَاهَا - قَالَ - فَلَمَّا أَصْبَحَ النَّاسُ غَدَوْا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كُلُّهُمْ يَرْجُونَ أَنْ يُعْطَاهَا فَقَالَ " أَيْنَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ " . فَقَالُوا هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ يَشْتَكِي عَيْنَيْهِ - قَالَ - فَأَرْسَلُوا إِلَيْهِ فَأُتِيَ بِهِ فَبَصَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي عَيْنَيْهِ وَدَعَا لَهُ فَبَرَأَ حَتَّى كَأَنْ لَمْ يَكُنْ بِهِ وَجَعٌ فَأَعْطَاهُ الرَّايَةَ فَقَالَ عَلِيٌّ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُقَاتِلُهُمْ حَتَّى يَكُونُوا مِثْلَنَا . فَقَالَ " انْفُذْ عَلَى رِسْلِكَ حَتَّى تَنْزِلَ بِسَاحَتِهِمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلاَمِ وَأَخْبِرْهُمْ بِمَا يَجِبُ عَلَيْهِمْ مِنْ حَقِّ اللَّهِ فِيهِ فَوَاللَّهِ لأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلاً وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ " .




৬১১৭-(৩৪/২৪০৬) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... সাহল ইবনু সা'দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারের যুদ্ধের দিন বলেছেনঃ অবশ্যই আমি এমন এক লোকের হাতে পতাকা তুলে দিব যার হাতে আল্লাহ তা'আলা বিজয় প্রদান করবেন। সে লোক আল্লাহ ও তার রসূলকে ভালবাসে আর আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রসূলও তাকে ভালবাসেন। লোকেরা রাতভর এ কথোপকথনই করতে থাকল যে, কাকে এ পতাকা তুলে দেয়া হবে। প্রত্যুষে সবাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলো। প্রত্যেকের এটাই প্রত্যাশা যে, তাকেই হয়ত দেয়া হবে এ পতাকা। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আলী ইবনু আবূ তালিব কোথায়?

লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রসূল! তার চোখে অসুখ। তারপর তিনি তাকে ডেকে পাঠালেন, তাকে নিয়ে আসা হলো, তার চোখে থুথু লাগালেন এবং দুআ করলেন তার জন্য। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন এমনভাবে যেন তার চোখে কোন রোগই ছিল না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পতাকা তুলে দিলেন। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব যতক্ষণ না তারা আমাদের মতো হয়ে যায়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তোমার পথে চলে যাও এবং ওদের মাঠে অবতীর্ণ হয়ে তাদেরকে ইসলামের দিকে আহবান কর। আর তাদের উপর বর্তিত আল্লাহর হাকগুলোর ব্যাপারে সংবাদ দিয়ে দাও। কারণ, আল্লাহর কসম! তোমার মাধ্যমে যদি আল্লাহ একটা মানুষকেও হিদায়াত করেন তবে তা তোমার জন্য লাল উট থেকেও উত্তম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০৫, ইসলামিক সেন্টার ৬০৪৪)









সহীহ মুসলিম (6118)


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي، عُبَيْدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ كَانَ عَلِيٌّ قَدْ تَخَلَّفَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي خَيْبَرَ وَكَانَ رَمِدًا فَقَالَ أَنَا أَتَخَلَّفُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَخَرَجَ عَلِيٌّ فَلَحِقَ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا كَانَ مَسَاءُ اللَّيْلَةِ الَّتِي فَتَحَهَا اللَّهُ فِي صَبَاحِهَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ - أَوْ لَيَأْخُذَنَّ بِالرَّايَةِ - غَدًا رَجُلٌ يُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَوْ قَالَ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِ " . فَإِذَا نَحْنُ بِعَلِيٍّ وَمَا نَرْجُوهُ فَقَالُوا هَذَا عَلِيٌّ . فَأَعْطَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرَّايَةَ فَفَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ .




৬১১৮-(৩৫/২৪০৭) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... সালামা ইবনু আকওয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, খাইবারের দিন আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) পিছনে রয়ে গেলেন। তার চোখ উঠেছিল। তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রেখে পিছনে পড়ে থাকব? তিনি বের হলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মিলিত হলেন। বিজয় প্রভাতের আগের দিন বিকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আগামীকাল এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা তুলে দিব কিংবা পতাকা এমন এক লোক গ্রহণ করবে, যাকে আল্লাহ ও তার রসূল ভালবাসেন, কিংবা যিনি আল্লাহ ও তার রসূলকে ভালবাসেন। আল্লাহ তার হস্তেই বিজয় দেবেন। অকস্মাৎ আমরা আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে লক্ষ্য করলাম। আমরা তাকে প্রত্যাশা করিনি। মানুষেরা বলল, ইনি তো আলী। আর একেই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পতাকা দিলেন এবং তার হাতেই আল্লাহ বিজয় প্রদান করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০৬, ইসলামিক সেন্টার ৬০৪৫)









সহীহ মুসলিম (6119)


حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَشُجَاعُ بْنُ مَخْلَدٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنِي أَبُو حَيَّانَ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ حَيَّانَ، قَالَ انْطَلَقْتُ أَنَا وَحُصَيْنُ، بْنُ سَبْرَةَ وَعُمَرُ بْنُ مُسْلِمٍ إِلَى زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ فَلَمَّا جَلَسْنَا إِلَيْهِ قَالَ لَهُ حُصَيْنٌ لَقَدْ لَقِيتَ يَا زَيْدُ خَيْرًا كَثِيرًا رَأَيْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَمِعْتَ حَدِيثَهُ وَغَزَوْتَ مَعَهُ وَصَلَّيْتَ خَلْفَهُ لَقَدْ لَقِيتَ يَا زَيْدُ خَيْرًا كَثِيرًا حَدِّثْنَا يَا زَيْدُ مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - يَا ابْنَ أَخِي وَاللَّهِ لَقَدْ كَبِرَتْ سِنِّي وَقَدُمَ عَهْدِي وَنَسِيتُ بَعْضَ الَّذِي كُنْتُ أَعِي مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَا حَدَّثْتُكُمْ فَاقْبَلُوا وَمَا لاَ فَلاَ تُكَلِّفُونِيهِ . ثُمَّ قَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فِينَا خَطِيبًا بِمَاءٍ يُدْعَى خُمًّا بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَوَعَظَ وَذَكَّرَ ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ أَلاَ أَيُّهَا النَّاسُ فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ يُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَ رَسُولُ رَبِّي فَأُجِيبَ وَأَنَا تَارِكٌ فِيكُمْ ثَقَلَيْنِ أَوَّلُهُمَا كِتَابُ اللَّهِ فِيهِ الْهُدَى وَالنُّورُ فَخُذُوا بِكِتَابِ اللَّهِ وَاسْتَمْسِكُوا بِهِ " . فَحَثَّ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ وَرَغَّبَ فِيهِ ثُمَّ قَالَ " وَأَهْلُ بَيْتِي أُذَكِّرُكُمُ اللَّهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي أُذَكِّرُكُمُ اللَّهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي أُذَكِّرُكُمُ اللَّهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي " . فَقَالَ لَهُ حُصَيْنٌ وَمَنْ أَهْلُ بَيْتِهِ يَا زَيْدُ أَلَيْسَ نِسَاؤُهُ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ قَالَ نِسَاؤُهُ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ وَلَكِنْ أَهْلُ بَيْتِهِ مَنْ حُرِمَ الصَّدَقَةَ بَعْدَهُ . قَالَ وَمَنْ هُمْ قَالَ هُمْ آلُ عَلِيٍّ وَآلُ عَقِيلٍ وَآلُ جَعْفَرٍ وَآلُ عَبَّاسٍ . قَالَ كُلُّ هَؤُلاَءِ حُرِمَ الصَّدَقَةَ قَالَ نَعَمْ .




৬১১৯-(৩৬/২৪০৮) যুহায়র ইবনু হারব ও শুজা ইবনু মাখলাদ (রহঃ) ...... ইয়াযীদ ইবনু হাইয়্যান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি, হুসায়ন ইবনু সাবরাহ এবং উমার ইবনু মুসলিম- আমরা যায়দ ইবনু আরকাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর কাছে গেলাম। যখন আমরা তার নিকট বসি তখন হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে বললেন, হে যায়দ আপনি তো অনেক কল্যাণ লক্ষ্য করেছেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছেন, তার হাদীস শ্রবণ করেছেন, তার সাথে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং তার পেছনে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেছেন। আপনি অনেক কল্যাণ অর্জন করেছেন, হে যায়দ। আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যা শ্রবণ করেছেন তা আমাদের বলুন। যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, ভাতুস্পুত্র আমার বয়স বেড়েছে, আমি পুরনো যুগের মানুষ। অতএব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হতে যা আমি সংরক্ষণ করেছিলাম এর কিয়দংশ ভুলে গেছি। তাই আমি যা বলি তা গ্রহণ করো আর আমি যা না বলি সে সম্বন্ধে আমাকে কষ্ট দিও না।

এরপর তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মাক্কাহ ও মাদীনার মাঝামাঝি খুম্ম' নামক স্থানে দাঁড়িয়ে আমাদের সামনে বক্তৃতা দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও সানা বর্ণনা শেষে ওয়ায-নাসীহাত করলেন। অতঃরপর বললেন, হুঁশিয়ার, হে লোক সকল! আমি একজন মানুষ, অতি সত্বরই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ফেরেশতা আসবে, আর আমিও তার আহানে সাড়া দিব। আমি তোমাদের নিকট ভারী দুটাে জিনিস রেখে যাচ্ছি। এর প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব। এতে হিদায়াত এবং আলোকবর্তিকা আছে। অতএব তোমরা আল্লাহর কিতাবকে অনুসরণ করো, একে শক্ত করে আঁকড়ে রাখো। তারপর তিনি কুরআনের প্রতি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিলেন।

এরপর বলেন, আর দ্বিতীয়টি হলো আমার আহলে বায়ত। আর আমি আহলে বায়তের বিষয়ে তোমাদের আল্লাহর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছি। আহলে বায়তের ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আহলে বায়তের বিষয়ে তোমাদের আল্লাহর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছি।

হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আহলে বায়ত কারা, হে যায়দ? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবিগণ কি আহলে বায়তের অধিভুক্ত নন? যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, বিবিগণও আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত; কিন্তু আহলে বায়ত তারাই তার (মৃত্যুর) পর যাদের উপর যাকাত নেয়া নিষিদ্ধ। হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, এসব লোক কারা? যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, এরা আলী, আকীল, জাফার ও আব্বাস (রায়িঃ) এর পরিবার-পরিজনেরা। হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, এদের সবার জন্য যাকাত গ্রহণ নাজায়িয? যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হ্যাঁ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০৭, ইসলামিক সেন্টার ৬০৪৬)









সহীহ মুসলিম (6120)


وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ الرَّيَّانِ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ، - يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ - عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ حَيَّانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِهِ بِمَعْنَى حَدِيثِ زُهَيْرٍ .




৬১২০-(..../...) মুহাম্মাদ ইবনু বাক্কার ইবনু রাইয়্যান (রহঃ) ...... যায়দ ইবনু আরকাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সনাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০০৮, ইসলামিক সেন্টার ৬০৪৭)