হাদীস বিএন


সহীহ মুসলিম





সহীহ মুসলিম (6234)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ جَمَعَ الْقُرْآنَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعَةٌ كُلُّهُمْ مِنَ الأَنْصَارِ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ وَأَبُو زَيْدٍ . قَالَ قَتَادَةُ قُلْتُ لأَنَسٍ مَنْ أَبُو زَيْدٍ قَالَ أَحَدُ عُمُومَتِي .




৬২৩৪-(১১৯/২৪৬৫) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে রিওয়ায়াত করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগেই চারজন কুরআন সংকলন করেছেন। এরা সকলেই আনসার। মু'আয ইবনু জাবাল, উবাই ইবনু কা'ব, যায়দ ইবনু সাবিত ও আবূ যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)।

কাতাদাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি আনাসকে প্রশ্ন করলাম, আবূ যায়দ কে? তিনি বললেন, আমার চাচাদের মাঝে একজন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১১৭, ইসলামিক সেন্টার ৬১৫৯)









সহীহ মুসলিম (6235)


حَدَّثَنِي أَبُو دَاوُدَ، سُلَيْمَانُ بْنُ مَعْبَدٍ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، قَالَ قُلْتُ لأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ مَنْ جَمَعَ الْقُرْآنَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَرْبَعَةٌ كُلُّهُمْ مِنَ الأَنْصَارِ أُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ وَمُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ وَرَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يُكْنَى أَبَا زَيْدٍ .




৬২৩৫-(১২০/....) আবূ দাউদ সুলাইমান ইবনু মা'বাদ (রহঃ) ..... কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে রিওয়ায়াত করেন, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে প্রশ্ন করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় কে কুরআন একত্রিত করেছিলেন? তিনি বললেন, চারজন, তাদের সকলেই আনসার। উবাই ইবনু কা'ব, মুআয ইবনু জাবাল, যায়দ ইবনু সাবিত ও আনসারদের মাঝে একজন, তার কুনইয়াত আবূ যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১১৮, ইসলামিক সেন্টার ৬১৬০)









সহীহ মুসলিম (6236)


حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لأُبَىٍّ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ " . قَالَ آللَّهُ سَمَّانِي لَكَ قَالَ " اللَّهُ سَمَّاكَ لِي " . قَالَ فَجَعَلَ أُبَىٌّ يَبْكِي .




৬২৩৬-(১২১/৭৯৯) হাদ্দাব ইবনু খালিদ (রহঃ) ...... আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাইকে বললেন, আল্লাহ তা'আলা আমাকে আদেশ করেছেন তোমাকে (কুরআন) পড়ে শুনানোর জন্যে। উবাই (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আল্লাহ তা'আলা কি আপনার নিকট আমার নামোল্লেখ করে বলেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহই আমার নিকট তোমার নাম নিয়েছেন। তাতে উবাই (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কাঁদতে শুরু করলেন। [দ্রষ্টব্য হাদীস ১৮৬৪] (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১১৯, ইসলামিক সেন্টার ৬১৬১)









সহীহ মুসলিম (6237)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ " إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ ( لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا ) " . قَالَ وَسَمَّانِي قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ فَبَكَى .




৬২৩৭-(১২২/...) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) কে বললেন। আল্লাহ তা'আলা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, তোমাকে لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا (সূরা বাইয়্যিনাহ) পড়ে শুনাবার জন্য। উবাই (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আল্লাহ তা'আলা কি আমার নাম উল্লেখ করেছেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, উবাই (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তখন কেঁদে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১২০, ইসলামিক সেন্টার ৬১৬২)









সহীহ মুসলিম (6238)


حَدَّثَنِيهِ يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأُبَىٍّ بِمِثْلِهِ .




৬২৩৮-(..../...) ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ..... কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাসকে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাইকে হুবহু অনুরূপ কথা বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১২০, ইসলামিক সেন্টার ৬১৬৩)









সহীহ মুসলিম (6239)


حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَنَازَةُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ " اهْتَزَّ لَهَا عَرْشُ الرَّحْمَنِ " .




৬২৩৯-(১২৩/২৪৬৬) আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলতে শুনেছেন যখন সা'দ ইবনু মুআয (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর জানাযাহ সম্মুখে রাখা হয়েছিল তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার জন্যে দয়াময় আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১২১, ইসলামিক সেন্টার ৬১৬৪)









সহীহ মুসলিম (6240)


حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ الأَوْدِيُّ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي، سُفْيَانُ عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اهْتَزَّ عَرْشُ الرَّحْمَنِ لِمَوْتِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ " .




৬২৪০-(১২৪/...) 'আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সা'দ ইবনু মু'আযের মৃত্যুতে মহান আল্লাহর আরশ কম্পন করে উঠেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১২২, ইসলামিক সেন্টার ৬১৬৫









সহীহ মুসলিম (6241)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرُّزِّيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ الْخَفَّافُ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَجِنَازَتُهُ مَوْضُوعَةٌ - يَعْنِي سَعْدًا - " اهْتَزَّ لَهَا عَرْشُ الرَّحْمَنِ " .




৬২৪১-(১২৫/...) মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ রুযয়ী (রহঃ) ..... কাতাদাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সা'দ বিন মু'আযের জানাযাহ যখন রাখা হয়েছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার জন্য পরম করুণাময় আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১২৩, ইসলামিক সেন্টার ৬১৬৬)









সহীহ মুসলিম (6242)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ، يَقُولُ أُهْدِيَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُلَّةُ حَرِيرٍ فَجَعَلَ أَصْحَابُهُ يَلْمُسُونَهَا وَيَعْجَبُونَ مِنْ لِينِهَا فَقَالَ " أَتَعْجَبُونَ مِنْ لِينِ هَذِهِ لَمَنَادِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنْهَا وَأَلْيَنُ " .




৬২৪২-(১২৬/....) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি বারা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলতে শুনেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক জোড়া রেশমী পোশাক উপহার দেয়া হলো। তখন সহাবারা তা ছুঁয়ে তার কোমলতায় বিস্ময়বোধ করতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এর কোমলতায় অবাক হচ্ছো? জান্নাতের মাঝে সা'দ ইবনু মুআয এর রুমালগুলো হবে এর তুলনায় অধিক উত্তম ও নরম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১২৪, ইসলামিক সেন্টার ৬১৬৭)









সহীহ মুসলিম (6243)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَنْبَأَنِي أَبُو إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ، يَقُولُ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِثَوْبِ حَرِيرٍ . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ ثُمَّ قَالَ ابْنُ عَبْدَةَ أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنِي قَتَادَةُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ هَذَا أَوْ بِمِثْلِهِ .




৬২৪৩-(.../...) আহমাদ ইবনু আবদাহ দাব্বী (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলতে শুনেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রেশমী কাপড় দেয়া হলো ..... তারপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ রিওয়ায়াত করেন। ইবনু 'আবদাল্লাহ্ আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও অনুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১২৫, ইসলামিক সেন্টার ৬১৬৮)









সহীহ মুসলিম (6244)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ جَبَلَةَ، حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الْحَدِيثِ بِالإِسْنَادَيْنِ جَمِيعًا كَرِوَايَةِ أَبِي دَاوُدَ .




৬২৪৪-(..../...) মুহাম্মাদ ইবনু 'আমর ইবনু জাবালাহ্ ..... শুবাহ্ (রহঃ) হতে এ দু'টো সূত্রেই আবূ দাউদের ন্যায় রিওয়ায়াত করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১২৬, ইসলামিক সেন্টার ৬১৬৯)









সহীহ মুসলিম (6245)


حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّهُ أُهْدِيَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جُبَّةٌ مِنْ سُنْدُسٍ وَكَانَ يَنْهَى عَنِ الْحَرِيرِ فَعَجِبَ النَّاسُ مِنْهَا فَقَالَ " وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ إِنَّ مَنَادِيلَ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فِي الْجَنَّةِ أَحْسَنُ مِنْ هَذَا " .




৬২৪৫-(১২৭/২৪৬৯) যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিহি রেশমের একটি জুব্বা উপহার দেয়া হলো। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশম পরিধান করতে বারণ করতেন। তখন লোকেরা তাতে বিস্ময়বোধ করলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঐ সত্তার শপথ! যার হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রাণ রয়েছে। নিঃসন্দেহে জান্নাতে সা'দ ইবনু মু'আযের রুমালগুলো এর তুলনায় অধিক উত্তম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১২৭, ইসলামিক সেন্টার ৬১৭০)









সহীহ মুসলিম (6246)


حَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ نُوحٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ أُكَيْدِرَ، دُومَةِ الْجَنْدَلِ أَهْدَى لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . حُلَّةً فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ وَكَانَ يَنْهَى عَنِ الْحَرِيرِ .




৬২৪৬-(.../...) মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, দাওমাতুল জান্দালের বাদশাহ উকাইদির রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একজোড়া বস্ত্র উপঢৌকন পাঠালেন ..... এরপর অনুরূপ রিওয়ায়াত করলেন। কিন্তু তাতে "তিনি রেশম পরিধান করতে বারণ করতেন" এ বক্তব্যটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১২৮, ইসলামিক সেন্টার ৬১৭১)









সহীহ মুসলিম (6247)


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ سَيْفًا يَوْمَ أُحُدٍ فَقَالَ " مَنْ يَأْخُذُ مِنِّي هَذَا " . فَبَسَطُوا أَيْدِيَهُمْ كُلُّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ يَقُولُ أَنَا أَنَا . قَالَ " فَمَنْ يَأْخُذُهُ بِحَقِّهِ " . قَالَ فَأَحْجَمَ الْقَوْمُ فَقَالَ سِمَاكُ بْنُ خَرَشَةَ أَبُو دُجَانَةَ أَنَا آخُذُهُ بِحَقِّهِ . قَالَ فَأَخَذَهُ فَفَلَقَ بِهِ هَامَ الْمُشْرِكِينَ .




৬২৪৭-(১২৮/২৪৭০) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের দিন একটি তলোয়ার হাতে নিয়ে বললেন, এটা আমার কাছ থেকে কে নিবে? তখন তাদের উপস্থিত প্রত্যেকই হাত বাড়িয়ে বলতে লাগল আমি নিব, আমি নিব। তিনি বললেন, আরে এ তরবারির উপযুক্ত হক কে আদায় করতে পারবে? এ কথা শুনেই লোকেরা থমকে গেল। কিন্তু সিমাক ইবনু খারাশাহ আবূ দুজানাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমিই তার হক আদায় করতে পারব।

রাবী বলেন, অতঃপর তিনি তা নিয়েই মুশরিকদের মাথার খুলি টুকরো টুকরো করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১২৯, ইসলামিক সেন্টার ৬১৭২)









সহীহ মুসলিম (6248)


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، كِلاَهُمَا عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ الْمُنْكَدِرِ، يَقُولُ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ لَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ جِيءَ بِأَبِي مُسَجًّى وَقَدْ مُثِلَ بِهِ - قَالَ - فَأَرَدْتُ أَنْ أَرْفَعَ الثَّوْبَ فَنَهَانِي قَوْمِي ثُمَّ أَرَدْتُ أَنْ أَرْفَعَ الثَّوْبَ فَنَهَانِي قَوْمِي فَرَفَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ أَمَرَ بِهِ فَرُفِعَ فَسَمِعَ صَوْتَ بَاكِيَةٍ أَوْ صَائِحَةٍ فَقَالَ " مَنْ هَذِهِ " . فَقَالُوا بِنْتُ عَمْرٍو أَوْ أُخْتُ عَمْرٍو فَقَالَ " وَلِمَ تَبْكِي فَمَا زَالَتِ الْمَلاَئِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا حَتَّى رُفِعَ " .




৬২৪৮-(১২৯/২৪৭১) উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার আল-কাওয়ারীরী ও আমর আন নাকিদ ..... জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলতে শুনেছি যে, উহুদ যুদ্ধের দিন যখন আমার বাবাকে বস্ত্রে ঢেকে আনা হলো এমতাবস্থায় যে, অঙ্গচ্ছেদন করা (নাক-কান হাত-পা কেটে ফেলা) হয়েছে। আমি তার কাপড় সরাতে চাইলে লোকেরা আমায় বারণ করল। আমি আবারও কাপড় সরাতে চাইলে আমার সম্প্রদায় আমাকে বারণ করল। আমি আবারও কাপড় সরাতে চাইলে আমার সম্প্রদায় আমাকে বারণ করল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই তার বস্ত্র সরালেন কিংবা তিনি সরানোর নির্দেশ দেয়ায় সরানো হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ক্রন্দসী নারীর শব্দ শুনে প্রশ্ন করলেন, ইনি কে? লোকেরা বলল, আমরের মেয়ে কিংবা বলল, 'আমরের বোন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কান্নাকাটি করছো কেন? অথচ ফেরেশতারা তাকে তুলে নেয়া পর্যন্ত পাখা মেলে ছায়া দিচ্ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ৭ম খণ্ড, ৬১৩০; ইসলামিক সেন্টার ৬১৭৩)









সহীহ মুসলিম (6249)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أُصِيبَ أَبِي يَوْمَ أُحُدٍ فَجَعَلْتُ أَكْشِفُ الثَّوْبَ عَنْ وَجْهِهِ، وَأَبْكِي، وَجَعَلُوا يَنْهَوْنَنِي وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يَنْهَانِي - قَالَ - وَجَعَلَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ عَمْرٍو تَبْكِيهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَبْكِيهِ أَوْ لاَ تَبْكِيهِ مَا زَالَتِ الْمَلاَئِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا حَتَّى رَفَعْتُمُوهُ " .




৬২৪৯-(১৩০/...) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, আমার বাবা উহুদের দিবস শহীদ হলেন, আমি তার মুখায়ব হতে বস্ত্র তুলি আর কাঁদি। ব্যক্তিরা আমাকে নিষেধ করল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বারণ করেননি। আর আমরের মেয়ে ফাতিমাও তার জন্য কান্নাকাটি করতে থাকলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কাঁদো কিংবা না-ই কাঁদো, ফেরেশতাগণ তার উপর আপন পাখার ছায়া বিস্তার করে রেখেছিল, যতক্ষণ না তোমরা তাকে তুলে নিয়েছো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৩১, ইসলামিক সেন্টার ৬১৭৪)









সহীহ মুসলিম (6250)


حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، كِلاَهُمَا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، . بِهَذَا الْحَدِيثِ غَيْرَ أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ، لَيْسَ فِي حَدِيثِهِ ذِكْرُ الْمَلاَئِكَةِ وَبُكَاءُ الْبَاكِيَةِ .




৬২৫০-(.../...) আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সানাদে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে জুরায়জের বর্ণনায় ফেরেশতা ও ক্রন্দনকারীর কান্নার বর্ণনা নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৩২, ইসলামিক সেন্টার ৬১৭৫)









সহীহ মুসলিম (6251)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ عَدِيٍّ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، بْنُ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ جِيءَ بِأَبِي يَوْمَ أُحُدٍ مُجَدَّعًا فَوُضِعَ بَيْنَ يَدَىِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِهِمْ .




৬২৫১-(..../...) মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু আবূ খালাফ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ..... জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের দিবস আমার বাবাকে অঙ্গহানী অবস্থায় আনা হলো এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে রাখা হলো ...... তারপর তাদের অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৩৩, ইসলামিক সেন্টার ৬১৭৬)









সহীহ মুসলিম (6252)


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عُمَرَ بْنِ سَلِيطٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ كِنَانَةَ، بْنِ نُعَيْمٍ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي مَغْزًى لَهُ فَأَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَقَالَ لأَصْحَابِهِ " هَلْ تَفْقِدُونَ مِنْ أَحَدٍ " . قَالُوا نَعَمْ فُلاَنًا وَفُلاَنًا وَفُلاَنًا . ثُمَّ قَالَ " هَلْ تَفْقِدُونَ مِنْ أَحَدٍ " . قَالُوا نَعَمْ فُلاَنًا وَفُلاَنًا وَفُلاَنًا . ثُمَّ قَالَ " هَلْ تَفْقِدُونَ مِنْ أَحَدٍ " . قَالُوا لاَ . قَالَ " لَكِنِّي أَفْقِدُ جُلَيْبِيبًا فَاطْلُبُوهُ " . فَطُلِبَ فِي الْقَتْلَى فَوَجَدُوهُ إِلَى جَنْبِ سَبْعَةٍ قَدْ قَتَلَهُمْ ثُمَّ قَتَلُوهُ فَأَتَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَوَقَفَ عَلَيْهِ فَقَالَ " قَتَلَ سَبْعَةً ثُمَّ قَتَلُوهُ هَذَا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ هَذَا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ " . قَالَ فَوَضَعَهُ عَلَى سَاعِدَيْهِ لَيْسَ لَهُ إِلاَّ سَاعِدَا النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَحُفِرَ لَهُ وَوُضِعَ فِي قَبْرِهِ . وَلَمْ يَذْكُرْ غَسْلاً .




৬২৫২- (১৩১/২৪৭২) ইসহাক ইবনু আমর ইবনু সালীত (রহঃ) ..... আবূ বারযাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জিহাদে ছিলেন। আল্লাহ তা'আলা তাকে গানীমাতের সম্পদ দান করলেন। তিনি তার সহাবাদের বললেন, তোমরা কেউ কি হারিয়ে যায়নি? লোকেরা বলল, হ্যাঁ, অমুক, অমুক ও অমুককে। তিনি বললেন, তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? লোকেরা বলল, হ্যাঁ, অমুক, অমুক এবং অমুককে। তিনি পুনরায় বললেন, তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? লোকেরা বলল, জি-না। তিনি বললেন, কিন্তু আমি জুলায়বীবকে হারিয়েছি। তোমরা তাকে সন্ধান করো। তখন তাকে নিহতদের মাঝে সন্ধান করা হলো। তারপর তারা সাতটা লাশের সামনে তাকে খুঁজে পেল। তিনি এ সাতজনকে মেরে ফেলেছিলেন। তারপর শক্ররা তাকে মারে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট আসলেন এবং ওখানে দণ্ডায়মান অবস্থায় বললেন, সে সাতজন হত্যা করেছে; তারপর শক্ররা তাকে মেরেছে। সে আমার আর আমিও তার। সে আমার আর আমি তার। অতঃপর তিনি তাকে দু'বাহুর উপর উঠিয়ে নিলেন। কেবল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাহুই তাকে বহন করছিল। তার কবর খনন করা হলো এবং তিনি তাকে তার কবরে রেখে দিলেন। রাবী তার গোসলের বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৩৪, ইসলামিক সেন্টার ৮ম খণ্ড, ৬১৭৭)









সহীহ মুসলিম (6253)


حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ قَالَ أَبُو ذَرٍّ خَرَجْنَا مِنْ قَوْمِنَا غِفَارٍ وَكَانُوا يُحِلُّونَ الشَّهْرَ الْحَرَامَ فَخَرَجْتُ أَنَا وَأَخِي أُنَيْسٌ وَأُمُّنَا فَنَزَلْنَا عَلَى خَالٍ لَنَا فَأَكْرَمَنَا خَالُنَا وَأَحْسَنَ إِلَيْنَا فَحَسَدَنَا قَوْمُهُ فَقَالُوا إِنَّكَ إِذَا خَرَجْتَ عَنْ أَهْلِكَ خَالَفَ إِلَيْهِمْ أُنَيْسٌ فَجَاءَ خَالُنَا فَنَثَا عَلَيْنَا الَّذِي قِيلَ لَهُ فَقُلْتُ لَهُ أَمَّا مَا مَضَى مِنْ مَعْرُوفِكَ فَقَدْ كَدَّرْتَهُ وَلاَ جِمَاعَ لَكَ فِيمَا بَعْدُ . فَقَرَّبْنَا صِرْمَتَنَا فَاحْتَمَلْنَا عَلَيْهَا وَتَغَطَّى خَالُنَا ثَوْبَهُ فَجَعَلَ يَبْكِي فَانْطَلَقْنَا حَتَّى نَزَلْنَا بِحَضْرَةِ مَكَّةَ فَنَافَرَ أُنَيْسٌ عَنْ صِرْمَتِنَا وَعَنْ مِثْلِهَا فَأَتَيَا الْكَاهِنَ فَخَيَّرَ أُنَيْسًا فَأَتَانَا أُنَيْسٌ بِصِرْمَتِنَا وَمِثْلِهَا مَعَهَا - قَالَ - وَقَدْ صَلَّيْتُ يَا ابْنَ أَخِي قَبْلَ أَنْ أَلْقَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِثَلاَثِ سِنِينَ . قُلْتُ لِمَنْ قَالَ لِلَّهِ . قُلْتُ فَأَيْنَ تَوَجَّهُ قَالَ أَتَوَجَّهُ حَيْثُ يُوَجِّهُنِي رَبِّي أُصَلِّي عِشَاءً حَتَّى إِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ أُلْقِيتُ كَأَنِّي خِفَاءٌ حَتَّى تَعْلُوَنِي الشَّمْسُ . فَقَالَ أُنَيْسٌ إِنَّ لِي حَاجَةً بِمَكَّةَ فَاكْفِنِي . فَانْطَلَقَ أُنَيْسٌ حَتَّى أَتَى مَكَّةَ فَرَاثَ عَلَىَّ ثُمَّ جَاءَ فَقُلْتُ مَا صَنَعْتَ قَالَ لَقِيتُ رَجُلاً بِمَكَّةَ عَلَى دِينِكَ يَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَهُ . قُلْتُ فَمَا يَقُولُ النَّاسُ قَالَ يَقُولُونَ شَاعِرٌ كَاهِنٌ سَاحِرٌ . وَكَانَ أُنَيْسٌ أَحَدَ الشُّعَرَاءِ . قَالَ أُنَيْسٌ لَقَدْ سَمِعْتُ قَوْلَ الْكَهَنَةِ فَمَا هُوَ بِقَوْلِهِمْ وَلَقَدْ وَضَعْتُ قَوْلَهُ عَلَى أَقْرَاءِ الشِّعْرِ فَمَا يَلْتَئِمُ عَلَى لِسَانِ أَحَدٍ بَعْدِي أَنَّهُ شِعْرٌ وَاللَّهِ إِنَّهُ لَصَادِقٌ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ . قَالَ قُلْتُ فَاكْفِنِي حَتَّى أَذْهَبَ فَأَنْظُرَ . قَالَ فَأَتَيْتُ مَكَّةَ فَتَضَعَّفْتُ رَجُلاً مِنْهُمْ فَقُلْتُ أَيْنَ هَذَا الَّذِي تَدْعُونَهُ الصَّابِئَ فَأَشَارَ إِلَىَّ فَقَالَ الصَّابِئَ . فَمَالَ عَلَىَّ أَهْلُ الْوَادِي بِكُلِّ مَدَرَةٍ وَعَظْمٍ حَتَّى خَرَرْتُ مَغْشِيًّا عَلَىَّ - قَالَ - فَارْتَفَعْتُ حِينَ ارْتَفَعْتُ كَأَنِّي نُصُبٌ أَحْمَرُ - قَالَ - فَأَتَيْتُ زَمْزَمَ فَغَسَلْتُ عَنِّي الدِّمَاءَ وَشَرِبْتُ مِنْ مَائِهَا وَلَقَدْ لَبِثْتُ يَا ابْنَ أَخِي ثَلاَثِينَ بَيْنَ لَيْلَةٍ وَيَوْمٍ مَا كَانَ لِي طَعَامٌ إِلاَّ مَاءُ زَمْزَمَ فَسَمِنْتُ حَتَّى تَكَسَّرَتْ عُكَنُ بَطْنِي وَمَا وَجَدْتُ عَلَى كَبِدِي سُخْفَةَ جُوعٍ - قَالَ - فَبَيْنَا أَهْلُ مَكَّةَ فِي لَيْلَةٍ قَمْرَاءَ إِضْحِيَانَ إِذْ ضُرِبَ عَلَى أَسْمِخَتِهِمْ فَمَا يَطُوفُ بِالْبَيْتِ أَحَدٌ وَامْرَأَتَيْنِ مِنْهُمْ تَدْعُوَانِ إِسَافًا وَنَائِلَةَ - قَالَ - فَأَتَتَا عَلَىَّ فِي طَوَافِهِمَا فَقُلْتُ أَنْكِحَا أَحَدَهُمَا الأُخْرَى - قَالَ - فَمَا تَنَاهَتَا عَنْ قَوْلِهِمَا - قَالَ - فَأَتَتَا عَلَىَّ فَقُلْتُ هَنٌ مِثْلُ الْخَشَبَةِ غَيْرَ أَنِّي لاَ أَكْنِي . فَانْطَلَقَتَا تُوَلْوِلاَنِ وَتَقُولاَنِ لَوْ كَانَ هَا هُنَا أَحَدٌ مِنْ أَنْفَارِنَا . قَالَ فَاسْتَقْبَلَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ وَهُمَا هَابِطَانِ قَالَ " مَا لَكُمَا " . قَالَتَا الصَّابِئُ بَيْنَ الْكَعْبَةِ وَأَسْتَارِهَا قَالَ " مَا قَالَ لَكُمَا " . قَالَتَا إِنَّهُ قَالَ لَنَا كَلِمَةً تَمْلأُ الْفَمَ . وَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى اسْتَلَمَ الْحَجَرَ وَطَافَ بِالْبَيْتِ هُوَ وَصَاحِبُهُ ثُمَّ صَلَّى فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ قَالَ أَبُو ذَرٍّ . فَكُنْتُ أَنَا أَوَّلُ مَنْ حَيَّاهُ بِتَحِيَّةِ الإِسْلاَمِ - قَالَ - فَقُلْتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ " وَعَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ " . ثُمَّ قَالَ " مَنْ أَنْتَ " . قَالَ قُلْتُ مِنْ غِفَارٍ - قَالَ - فَأَهْوَى بِيَدِهِ فَوَضَعَ أَصَابِعَهُ عَلَى جَبْهَتِهِ فَقُلْتُ فِي نَفْسِي كَرِهَ أَنِ انْتَمَيْتُ إِلَى غِفَارٍ . فَذَهَبْتُ آخُذُ بِيَدِهِ فَقَدَعَنِي صَاحِبُهُ وَكَانَ أَعْلَمَ بِهِ مِنِّي ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ ثُمَّ قَالَ " مَتَى كُنْتَ هَا هُنَا " . قَالَ قُلْتُ قَدْ كُنْتُ هَا هُنَا مُنْذُ ثَلاَثِينَ بَيْنَ لَيْلَةٍ وَيَوْمٍ قَالَ " فَمَنْ كَانَ يُطْعِمُكَ " . قَالَ قُلْتُ مَا كَانَ لِي طَعَامٌ إِلاَّ مَاءُ زَمْزَمَ . فَسَمِنْتُ حَتَّى تَكَسَّرَتْ عُكَنُ بَطْنِي وَمَا أَجِدُ عَلَى كَبِدِي سُخْفَةَ جُوعٍ قَالَ " إِنَّهَا مُبَارَكَةٌ إِنَّهَا طَعَامُ طُعْمٍ " . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي فِي طَعَامِهِ اللَّيْلَةَ . فَانْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ وَانْطَلَقْتُ مَعَهُمَا فَفَتَحَ أَبُو بَكْرٍ بَابًا فَجَعَلَ يَقْبِضُ لَنَا مِنْ زَبِيبِ الطَّائِفِ وَكَانَ ذَلِكَ أَوَّلَ طَعَامٍ أَكَلْتُهُ بِهَا ثُمَّ غَبَرْتُ مَا غَبَرْتُ ثُمَّ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّهُ قَدْ وُجِّهَتْ لِي أَرْضٌ ذَاتُ نَخْلٍ لاَ أُرَاهَا إِلاَّ يَثْرِبَ فَهَلْ أَنْتَ مُبَلِّغٌ عَنِّي قَوْمَكَ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَنْفَعَهُمْ بِكَ وَيَأْجُرَكَ فِيهِمْ " . فَأَتَيْتُ أُنَيْسًا فَقَالَ مَا صَنَعْتَ قُلْتُ صَنَعْتُ أَنِّي قَدْ أَسْلَمْتُ وَصَدَّقْتُ . قَالَ مَا بِي رَغْبَةٌ عَنْ دِينِكَ فَإِنِّي قَدْ أَسْلَمْتُ وَصَدَّقْتُ . فَأَتَيْنَا أُمَّنَا فَقَالَتْ مَا بِي رَغْبَةٌ عَنْ دِينِكُمَا فَإِنِّي قَدْ أَسْلَمْتُ وَصَدَّقْتُ . فَاحْتَمَلْنَا حَتَّى أَتَيْنَا قَوْمَنَا غِفَارًا فَأَسْلَمَ نِصْفُهُمْ وَكَانَ يَؤُمُّهُمْ إِيمَاءُ بْنُ رَحَضَةَ الْغِفَارِيُّ وَكَانَ سَيِّدَهُمْ . وَقَالَ نِصْفُهُمْ إِذَا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ أَسْلَمْنَا . فَقَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ فَأَسْلَمَ نِصْفُهُمُ الْبَاقِي وَجَاءَتْ أَسْلَمُ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِخْوَتُنَا نُسْلِمُ عَلَى الَّذِي أَسْلَمُوا عَلَيْهِ . فَأَسْلَمُوا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " غِفَارُ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا وَأَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ " .




৬২৫৩-(১৩২/২৪৭৩) হাদ্দাব ইবনু খালিদ আবাদী (রহঃ) ..... আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের গিফার সম্প্রদায় হতে বের হলাম। তারা হারাম মাসগুলোকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করত। আমি আমার ভাই উনায়স এবং আমাদের মা সহ বের হলাম এবং আমরা আমাদের এক মামার নিকট গেলাম। মামা আমাদের অনেক সসম্মানে গ্রহণ করলেন এবং আমাদের সঙ্গে ভদ্রতাসূচক আচরণ করলেন। এতে তার সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা আমাদের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ হল। তারা বলল, তুমি যখন তোমার পরিবার হতে দূরে থাকো তখন উনায়স তোমার অনুপস্থিতিতে তাদের নিকট আসা-যাওয়া করে। তারপর আমাদের মামা আসলেন এবং তাকে যা বলা হয়েছে তিনি তা আমাদের কাছে বলে দিলেন।

তখন আমি বললাম, আপনি আমাদের সঙ্গে অতীতে যে সদ্ব্যবহার করেছেন তাকে নিঃশেষ করে দিলেন। তারপর আপনার সাথে আমাদের এক থাকার কোন সুযোগ নেই। অতঃপর আমরা আমাদের উটগুলোকে সন্নিকটে আনলাম এবং তাদের উপর আরোহিত হলাম। তখন আমাদের মামা তার বস্ত্র দ্বারা নিজেকে আবৃত করে কাঁদতে শুরু করলেন। আমরা রওনা হয়ে মক্কার নিকটবর্তী অবতরণ করলাম। উনায়স আমাদের পশুগুলো এবং সে পরিমাণ পশুর মাঝে বাজি ধরল। এরপর তারা উভয়ে এক গণকের নিকট গেল। গণক উনায়সকে শ্রেষ্ঠ বলে রায় দিল। তারপর উনায়স আমাদের উটগুলো এবং তার সমসংখ্যক উট নিয়ে আমাদের কাছ থেকে প্রত্যাবর্তন করল।

আবূ যর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে ভ্রাতুষ্পপুত্র! আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে দেখা করার তিন বছর আগে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করেছি। আমি (রাবী) বললাম, কার জন্যে? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্যে। আমি (রাবী) বললাম, কোন দিকে মুখ ফিরাতেন? তিনি বললেন, আমার মহান আল্লাহ যেদিকে আমার মুখ ফিরিয়ে দিতেন সেদিকে মুখ ফিরাতাম। আমি ইশার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতে করতে রাতের শেষাংশে ঘুমের ঘোরে ঢলে পড়তাম, যতক্ষণ না সূর্যের কিরল এসে আমার উপর পড়ত।

তারপর উনায়স (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, মক্কায় আমার একটু দরকার আছে। সুতরাং আপনি আমার সংসার দেখাশুনা করবেন। তারপর উনায়স (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) চলে গেল এবং মাক্কায় পৌছলো এবং সে দেরীতে আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করল। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, তুমি কী করলে? সে বলল, আমি মাক্কায় কতিপয় জনৈক লোকের দেখা পেয়েছি, যিনি আপনার দীনের উপর অবিচল। তিনি মনে করেন যে, আল্লাহ তাকে (রসূল হিসেবে) পাঠিয়েছেন। আমি আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললাম, ব্যক্তিরা তার ব্যাপারে কী বলে? সে বলল, তারা তাকে কবি, জ্যোতিষী ও যাদুকর বলে। উনায়স (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নিজেও একজন কবি ছিল। উনায়স (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলল, আমি বহু গণকের কথা শুনেছি; কিন্তু সে লোকের কথা গণকের মতো নয়। আমি তার বাক্যকে কবিদের রচনার সাথে মিলিয়ে দেখেছি; কিন্তু কোন কবির ভাষার সঙ্গে তার কোন সামঞ্জস্য নেই। আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই তিনি সত্যবাদী এবং ওরা মিথ্যাবাদী।

তিনি বললেন, আমি বললাম, তুমি আমার সংসার খোঁজ-খবর রাখবে এবং আমি গিয়ে একটু দেখে নেই। তিনি বললেন, আমি মাক্কায় আসলাম এবং তাদের এক জীর্ণ লোককে উদ্দেশ্য করে বললাম, সে লোক কোথায়, যাকে তোমরা সাবী (বিধর্মী) বলে ডাক? সে আমার দিকে ইঙ্গিত করল এবং বলল, এ-ই সাবী। এরপর মক্কা পর্বতের ব্যক্তিরা ঢেলা ও হাড়সহ আমার উপর চড়াও হলো, এমনকি আমি অজ্ঞান হয়ে লুটে পড়লাম। তিনি বললেন, যখন আমি উঠলাম তখন লাল মূর্তির (অর্থাৎ- রক্তের ঢল) অবস্থায় উঠলাম। তিনি বলেন, তারপর আমি যমযম কূপের নিকট এসে আমার রক্ত ধুয়ে নিলাম। তারপর তার পানি পান করলাম। হে ভ্রাতুষ্পপুত্র! আমি সেখানে ত্রিশ রাত-দিন অবস্থান করেছিলাম। সে সময় যমযমের পানি ব্যতীত আমার নিকট কোন খাবার ছিল না। এরপর আমি এমন মোটা হয়ে গেলাম যে, আমার পেটের চামড়ায় ভাজ পড়ে গেল। আমি আমার অন্তরে ক্ষুধার যাতনা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন, ইতোমধ্যে মাক্কাবাসীরা যখন এক উজ্জ্বল গভীর রাতে ঘুমিয়ে পড়ল, তখন কেউ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করছিল না। সে সময় তাদের মধ্য থেকে দু'জন মহিলা ইসাফা* ও নায়িলাকে ডাকছিল।

তিনি বললেন, তারা তাওয়াফ করতে করতে আমার নিকট এসে উপস্থিত হল। আমি বললাম, তাদের একজনকে অপরজনের সঙ্গে বিবাহে আবদ্ধ কর। তিনি বললেন, তবুও তারা তাদের কথা হতে বিচ্ছিন্ন হলো না। তিনি বলেন, তারা আবার আমার সামনে দিয়ে আসলো। আমি অধৈর্য হয়ে বললাম, গুপ্তাঙ্গ কাষ্ঠের ন্যায়। এখানে আমি ইশারা ইঙ্গিত না করে স্পষ্টভাবেই বললাম। এতে তারা অভিসম্পাত করতে করতে ফিরে চলল আর বলতে লাগল, যদি এখানে আমাদের লোকদের মাঝে কেউ থাকত (তাহলে এ দুষ্টকে উপযুক্ত শাস্তি দিত) পথিমধ্যে উভয় নারীর সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর দেখা হলো। তখন তারা উভয়ে উঁচুভূমি থেকে নীচে নামছিলেন। তিনি তাদের দু'জনকেই প্রশ্ন করলেন, কী হয়েছে তোমাদের? তারা বলল, কাবাহ ও তার পর্দার মধ্যস্থলে এক বিধর্মী আছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, সে তোমাদের কী বলেছে? তারা বলল, সে এমন কথা বলেছে যাতে মুখ ভরে যায় (মুখে বলা ঠিক না)।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তার সাথীসহ হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং বাইতুল্লাহ'র তাওয়াফ করে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। যখন তিনি তার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় শেষ করলেন তখন আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমিই প্রথম লোক, যে তাকে ইসলামী শার'ঈ নিয়মে সালাম জানিয়ে বললাম, আসসালামু আলাইকা ইয়া রসূলাল্লাহ! (আপনার প্রতি সালাম ও শান্তি বর্ষিত হোক)। উত্তরে তিনি বললেন, ওয়া আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ্ (তোমার প্রতিও শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)। অতঃপর তিনি জানতে চাইলেন, তুমি কে? তিনি বললেন, আমি গিফার সম্প্রদায়ের ব্যক্তি। তিনি বললেন, তারপর তিনি তার হাত ঝুকালেন এবং তার হাতের আঙ্গুলগুলো কপালে রাখলেন। আমি ধারণা করলাম, গিফার সম্প্রদায়ের প্রতি আমার সম্পর্ককে তিনি পছন্দ করছেন না। তারপর আমি তার হাত ধরতে চাইলাম। তার সাথী আমাকে বাধা দিলেন। তিনি তাকে আমার তুলনায় বহু বেশী ভাল জানতেন।

অতঃপর তিনি মাথা তুলে দেখলেন এবং আমাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কতদিন যাবৎ এখানে অবস্থান করছ? আমি বললাম, আমি এখানে ত্রিশটি রাত্রদিন যাবৎ আছি। তিনি বললেন, তোমাকে কে খাদ্য দিত? আমি বললাম, যমযম কূপের পানি ব্যতীত আমার জন্য অন্য কোন খাদ্য ছিল না। এ পানি পান করেই আমি স্থূলদেহী হয়ে গেছি, এমনকি আমার পেটের চামড়ায় ভাজ পড়েছে এবং আমি কক্ষনো ক্ষুধার কোন দুর্বলতা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন, এ পানি অতিশয় বারাকাতময় ও প্রাচুর্যময় এবং তা অন্যান্য খাবারের মতো তা পেট পূর্ণ করে দেয়।

তারপর আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! তাকে আজ রাতের খাবার খাওয়ানোর জন্য আমাকে অনুমতি দিন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রওনা হলেন এবং আমিও তাদের সঙ্গে চললাম। আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) একটি দরজা খুললেন এবং আমাদের জন্য তিনি মুষ্টি ভরে তায়িফের কিশমিশ খেতে দিলেন। এটাই ছিল আমার প্রথম খাদ্য যা সেখানে আমি খেলাম। সেখানে যতক্ষণ থাকার তা থাকলাম। তারপর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম। তিনি বললেন, আমাকে খেজুর সমৃদ্ধ একটি দেশের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আমার ধারণা সেটি ইয়াসরির (মাদীনার পুরনো নাম) ব্যতীত অন্য কোন জায়গা নয়। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি আমার পক্ষ থেকে তোমার সম্প্রদায়ের নিকট আমার আহ্বান পৌছিয়ে দিবে? হয়ত তোমার ওয়াসীলায় আল্লাহ তাদের কল্যাণ দান করবেন এবং এদের হিদায়াতের জন্য তোমাকে পুরস্কৃত করবেন।

তারপর আমি উনায়সের নিকট প্রত্যাবর্তন করলাম। সে বলল, আপনি কী করেছেন? আমি বললাম, আমি অবশ্যই ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছি। সে (উনায়স) বলল, আপনার দীন সম্পর্কে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমিও ইসলাম কবুল করেছি এবং ঈমান এনেছি। তারপর আমরা দু'জনে মায়ের নিকট আসলাম। তিনি বললেন, তোমাদের দীনের ব্যাপারে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমিও ইসলাম কবূল করলাম এবং ঈমান আনলাম। তারপর আমরা আরোহিত হয়ে আমাদের গিফার সম্প্রদায়ের নিকট আসলাম। তাদের অর্ধেক লোক ইসলাম কবুল করল এবং ঈমা ইবনু রাহাযাহ্ গিফারী তাদের ইমামাত করেন।

তিনি ছিলেন তাদের নেতা। তাদের বাকী অর্ধেক বলল, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় আসবেন তখন আমরা ইসলাম কবুল করব। তারপরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাতে আসলেন এবং তাদের (গিফার সম্প্রদায়ের) অবশিষ্ট অর্ধেক ব্যক্তি ইসলামে দীক্ষিত হলো। এরপর আসলাম সম্প্রদায়ের লোকেরা আসলো। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের ভাইয়েরা (মিত্ররা) যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছেন আমরাও তাদের ন্যায় ইসলাম গ্রহণ করলাম। এভাবে তারাও ইসলামে দীক্ষিত হলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ গিফার সম্প্রদায়কে আল্লাহ তা'আলা মাফ করুন এবং আসলাম গোত্রকে আল্লাহ তা'আলা নিরাপত্তা প্রদান করুন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৩৫, ইসলামিক সেন্টার ৬১৭৮)