সহীহ মুসলিম
وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، الْحُلْوَانِيُّ وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحِ، بْنِ كَيْسَانَ كِلاَهُمَا عَنِ الزُّهْرِيِّ، . بِمِثْلِ حَدِيثِ يُونُسَ وَمَعْمَرٍ بِإِسْنَادِهِمَا . وَفِي حَدِيثِ فُلَيْحٍ اجْتَهَلَتْهُ الْحَمِيَّةُ كَمَا قَالَ مَعْمَرٌ . وَفِي حَدِيثِ صَالِحٍ احْتَمَلَتْهُ الْحَمِيَّةُ . كَقَوْلِ يُونُسَ وَزَادَ فِي حَدِيثِ صَالِحٍ قَالَ عُرْوَةُ كَانَتْ عَائِشَةُ تَكْرَهُ أَنْ يُسَبَّ عِنْدَهَا حَسَّانُ وَتَقُولُ فَإِنَّهُ قَالَ فَإِنَّ أَبِي وَوَالِدَهُ وَعِرْضِي لِعِرْضِ مُحَمَّدٍ مِنْكُمْ وِقَاءُ وَزَادَ أَيْضًا قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ وَاللَّهِ إِنَّ الرَّجُلَ الَّذِي قِيلَ لَهُ مَا قِيلَ لَيَقُولُ سُبْحَانَ اللَّهِ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا كَشَفْتُ عَنْ كَنَفِ أُنْثَى قَطُّ . قَالَتْ ثُمَّ قُتِلَ بَعْدَ ذَلِكَ شَهِيدًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ . وَفِي حَدِيثِ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ مُوعِرِينَ فِي نَحْرِ الظَّهِيرَةِ وَقَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ مُوغِرِينَ . قَالَ عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ قُلْتُ لِعَبْدِ الرَّزَّاقِ مَا قَوْلُهُ مُوغِرِينَ قَالَ الْوَغْرَةُ شِدَّةُ الْحَرِّ .
৬৯১৪-(৫৭/....) আবূ রাবী আল আতাকী, হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে ইউনুস এবং মা'মার এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী ফুলায়হ এর হাদীসে রয়েছে, গোত্রীয় আত্মম্ভরিতা তাকে অজ্ঞতামূলক আচরণ করতে উত্তেজিত করেছিল। মা'মার তার বর্ণনায় যেমন বলেছেন। আর সালিহ-এর হাদীসের মধ্যে ইউনুসের বর্ণনার মতো এতে রয়েছে ---- অর্থাৎ- 'গোত্রীয় আত্মম্ভরিতা তাকে উত্তেজিত করলো।' সালিহ-এর হাদীসে এটাও রয়েছে যে, উরওয়াহ (রহঃ) বলেন, 'আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হাসসান ইবনু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে কটু বাক্য বলার বিষয়টিকে অপছন্দ করতেন। তিনি বলতেন, হাসসান তো নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করেছেন, "আমার পিতা-মাতা, আমার ইযযত সবই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইজ্জত-সম্মানের জন্যে রক্ষাকবচ।"
এতে এটাও বর্ধিত রয়েছে যে, আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যে লোকের ব্যাপারে দোষারোপ করা হয়েছে তিনি বলতেন, সুবহানাল্লাহ আল্লাহর কসম! আমি কক্ষনো কোন মহিলার-আবরণ খুলিনি। অতঃপর তিনি আল্লাহর পথে শাহীদ হন। ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহীম-এর হাদীসে রয়েছেঃمُوعِرِينَ فِي نَحْرِ الظَّهِيرَةِ কিন্তু আবদুর রাযাক (রহঃ) বলেন, مُوغِرِينَ আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) বলেন, আমি আবদুর বাযযককে مُوغِرِينَ শব্দের ব্যাখ্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, لْوَغْرَةُ অর্থ কঠিন গরম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৬৪, ইসলামিক সেন্টার ৬৮১৯)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ، بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا ذُكِرَ مِنْ شَأْنِي الَّذِي ذُكِرَ وَمَا عَلِمْتُ بِهِ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطِيبًا فَتَشَهَّدَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ أَشِيرُوا عَلَىَّ فِي أُنَاسٍ أَبَنُوا أَهْلِي وَايْمُ اللَّهِ مَا عَلِمْتُ عَلَى أَهْلِي مِنْ سُوءٍ قَطُّ وَأَبَنُوهُمْ بِمَنْ وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ عَلَيْهِ مِنْ سُوءٍ قَطُّ وَلاَ دَخَلَ بَيْتِي قَطُّ إِلاَّ وَأَنَا حَاضِرٌ وَلاَ غِبْتُ فِي سَفَرٍ إِلاَّ غَابَ مَعِي " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِقِصَّتِهِ وَفِيهِ وَلَقَدْ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْتِي فَسَأَلَ جَارِيَتِي فَقَالَتْ وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ عَلَيْهَا عَيْبًا إِلاَّ أَنَّهَا كَانَتْ تَرْقُدُ حَتَّى تَدْخُلَ الشَّاةُ فَتَأْكُلَ عَجِينَهَا أَوْ قَالَتْ خَمِيرَهَا - شَكَّ هِشَامٌ - فَانْتَهَرَهَا بَعْضُ أَصْحَابِهِ فَقَالَ اصْدُقِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَسْقَطُوا لَهَا بِهِ فَقَالَتْ سُبْحَانَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ عَلَيْهَا إِلاَّ مَا يَعْلَمُ الصَّائِغُ عَلَى تِبْرِ الذَّهَبِ الأَحْمَرِ . وَقَدْ بَلَغَ الأَمْرُ ذَلِكَ الرَّجُلَ الَّذِي قِيلَ لَهُ فَقَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا كَشَفْتُ عَنْ كَنَفِ أُنْثَى قَطُّ . قَالَتْ عَائِشَةُ وَقُتِلَ شَهِيدًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ . وَفِيهِ أَيْضًا مِنَ الزِّيَادَةَ وَكَانَ الَّذِينَ تَكَلَّمُوا بِهِ مِسْطَحٌ وَحَمْنَةُ وَحَسَّانُ وَأَمَّا الْمُنَافِقُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ فَهُوَ الَّذِي كَانَ يَسْتَوْشِيهِ وَيَجْمَعُهُ وَهُوَ الَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ وَحِمْنَةُ .
৬৯১৫-(৫৮/...) আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনুল আলী (রহঃ) ..... 'আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। 'আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমার সম্পর্কে মানুষেরা যখন কুৎসা রটাতে শুরু করল, যা আমি জানি না, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বক্তব্য দেয়ার জন্যে দাঁড়িয়ে তাশাহহুদ পড়লেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করলেন। এরপর বললেন, অতঃপর যারা আমার সহধর্মিণী সম্পর্কে অপবাদ রটাচ্ছে তাদের ব্যাপারে তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও। আল্লাহর শপথ আমি আমার সহধর্মিণী সম্পর্কে খারাপ কোন কিছুই জানি না এবং তারা যার ব্যাপারে অপবাদ রটাচ্ছে তার সম্পর্কেও খারাপ কিছু আমি জানি না। আমার অনুপস্থিতিতে সে আমার ঘরে কক্ষনো প্রবেশ করেনি এবং আমি যখন সফরে বের হয়েছি সেও তখন আমার সঙ্গে সফরে বের হয়েছে।
অতঃপর বর্ণনাকারী সম্পূর্ণ ঘটনাসহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অবশ্য এতে বর্ধিত রয়েছে যে, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করে আমার বাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তখন সে বলল, আল্লাহর শপথ আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মধ্যে আমি কোন ক্রটি দেখিনি। তবে তিনি নিদ্রায় যেতেন, আর বকরী এসে মথিত আটা খেয়ে ফেলত। অথবা বললেন, খামীর খেয়ে ফেলত। বর্ণনাকারী হিশাম এতে সন্দেহ করেছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন সহাবা তাকে ধমক দিয়ে বললেন, তুমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সত্য কথা বলো। এমনকি তারা তার সম্মুখে ঘটনা উত্থাপন করলেন।
তখন বারীরাহ বললেন, সুবহানাল্লাহ আল্লাহর শপথ! স্বর্ণকার খাটি স্বর্ণের টুকরা সম্পর্কে যেমন জানে আমিও আয়িশাহ সম্বন্ধে অনুরূপ জানি। যে লোক সম্পর্কে এ অপবাদ রটানো হচ্ছিল তার কাছে এ সংবাদ পৌছার পর তিনিও বললেন, সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর শপথ আমি কক্ষনো কোন মহিলার আবরণ খুলিনি।
আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, পরে তিনি আল্লাহর রাস্তায় শাহীদ হন। এতে আরো বর্ধিত রয়েছে যে, অপবাদ রটনাকারীদের মাঝে ছিলেন মিসতাহ, হামনাহ্ ও হাসসান। আর মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনু উবাই সে ছিল ঐ লোক যে খুঁজে খুঁজে বের করে এসব জমা করত। সে এবং হামনাই এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৬৫, ইসলামিক সেন্টার ৬৮২০)
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَجُلاً، كَانَ يُتَّهَمُ بِأُمِّ وَلَدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِعَلِيٍّ " اذْهَبْ فَاضْرِبْ عُنُقَهُ " . فَأَتَاهُ عَلِيٌّ فَإِذَا هُوَ فِي رَكِيٍّ يَتَبَرَّدُ فِيهَا فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ اخْرُجْ . فَنَاوَلَهُ يَدَهُ فَأَخْرَجَهُ فَإِذَا هُوَ مَجْبُوبٌ لَيْسَ لَهُ ذَكَرٌ فَكَفَّ عَلِيٌّ عَنْهُ ثُمَّ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ لَمَجْبُوبٌ مَا لَهُ ذَكَرٌ
৬৯১৬-(৫৯/২৭৭১) যুহায়র ইবনু হাব (রহঃ) ..... আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মু ওয়ালাদের (দাসীদের) সঙ্গে এক লোকের প্রতি অভিযোগ আসে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বললেন, যাও, তার শিরশ্ছেদ কর। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার কাছে গিয়ে দেখলেন, সে কূয়ার মধ্যে শরীর ঠাণ্ডা করছে। 'আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে বললেন, বেরিয়ে এসো। সে আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর দিকে হাত এগিয়ে দিলো। তিনি তাকে বের করলেন এবং দেখলেন, তার পুরুষাঙ্গ সম্পূর্ণ কাটা, তার লিঙ্গ নেই। তখন আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে হত্যা করা হতে বিরত থাকলেন। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সে তো লিঙ্গকাটা, তার যে লিঙ্গ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৬৬, ইসলামিক সেন্টার ৬৮২১)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، أَنَّهُ سَمِعَ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ، يَقُولُ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ أَصَابَ النَّاسَ فِيهِ شِدَّةٌ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ لأَصْحَابِهِ لاَ تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يَنْفَضُّوا مِنْ حَوْلِهِ . قَالَ زُهَيْرٌ وَهِيَ قِرَاءَةُ مَنْ خَفَضَ حَوْلَهُ . وَقَالَ لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الأَعَزُّ مِنْهَا الأَذَلَّ - قَالَ - فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ بِذَلِكَ فَأَرْسَلَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَىٍّ فَسَأَلَهُ فَاجْتَهَدَ يَمِينَهُ مَا فَعَلَ فَقَالَ كَذَبَ زَيْدٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَوَقَعَ فِي نَفْسِي مِمَّا قَالُوهُ شِدَّةٌ حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ تَصْدِيقِي ( إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ ) قَالَ ثُمَّ دَعَاهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِيَسْتَغْفِرَ لَهُمْ - قَالَ - فَلَوَّوْا رُءُوسَهُمْ . وَقَوْلُهُ ( كَأَنَّهُمْ خُشُبٌ مُسَنَّدَةٌ ) وَقَالَ كَانُوا رِجَالاً أَجْمَلَ شَىْءٍ .
৬৯১৭-(১/২৭৭২) আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ...... যায়দ ইবনু আরকাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কোন এক সফরে আমরা বের হলাম। এ সফরে মানুষজন অনেক কষ্টে পড়ে। সে সময় 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই তার সাখীদেরকে বলল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথীদের জন্যে তোমরা কিছু ব্যয় করো না, যাতে তারা তার কাছ হতে দূরে চলে যায়। যুহায়র (রহঃ) বলেন, এ হলো ঐ লোকের তিলাওয়াত যে, من حوله শব্দের পরিবর্তে مِنْ حَوْلِهِ পড়ে শক্তিশালীগণ বেশি দুর্বলগণকে বহিষ্কার করে দিবে। আর সে এটাও বলল, আমরা মদীনায় ফিরে আসলে সেখান থেকে নিশ্চয়ই বেশি দুর্বলকে বহিষ্কৃত করবে শক্তিশালী ব্যক্তি। এ কথা শুনে আমি রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে তার এ কথাবার্তার ব্যাপারে তাকে জানালাম। তখন তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উবাইকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলেন। সে জোরদার শপথ করে বলল যে, সে এমন কর্ম করেনি। আর বলল, যায়দ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে মিথ্যা কথা বলেছে। যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তাদের এ কথায় আমি মনে কঠিন কষ্ট পেলাম। তখন আল্লাহ তা'আলা আমার সততার পক্ষে অবতীর্ণ করেন, إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এজন্য আহ্বান করলে যে, তিনি তাদের জন্যে মার্জনা প্রার্থনা করবেন। তিনি বলেন, তখন তারা তাদের মাথা ঘুরিয়ে নিল। আল্লাহ তা'আলা তাদের ব্যাপারে বলেছেন,كَأَنَّهُمْ خُشُبٌ مُسَنَّدَةٌ তারা দেয়ালে ভর দেয়া কাঠের স্তম্ভ সরূপ। যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, বাহ্যিকভাবে তারা ছিল খুবই সুন্দর মানুষ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৬৭, ইসলামিক সেন্টার ৬৮২২)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ أَبِي شَيْبَةَ - قَالَ ابْنُ عَبْدَةَ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا، يَقُولُ أَتَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَبْرَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَىٍّ فَأَخْرَجَهُ مِنْ قَبْرِهِ فَوَضَعَهُ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَنَفَثَ عَلَيْهِ مِنْ رِيقِهِ وَأَلْبَسَهُ قَمِيصَهُ فَاللَّهُ أَعْلَمُ .
৬৯১৮-(২/২৭৭৩) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও আহমাদ ইবনু আবদাল্লাহ আয যাব্বী (রহঃ) ..... জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনু উবাই এর কবরের কাছে আসলেন এবং তাকে তার কবর থেকে উঠিয়ে নিজ হাঁটুর উপর রাখলেন এবং তিনি তার উপর থুথু দিলেন এবং তাকে নিজ জামা পরিয়ে দিলেন। আল্লাহই এ ব্যাপারে পূর্ণ অবগত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৬৮, ইসলামিক সেন্টার ৬৮২৩)
حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ جَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَىٍّ بَعْدَ مَا أُدْخِلَ حُفْرَتَهُ . فَذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ سُفْيَانَ .
৬৯১৯-(..../...) আহমাদ ইবনু ইউসুফ আল আযদী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাইকে কবরে ঢুকানোর পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসছেন। হাদীসের পরবর্তী অংশটুকু সুফইয়ান এর হুবহু বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৬৯, ইসলামিক সেন্টার ৬৮২৪)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ ابْنُ سَلُولَ جَاءَ ابْنُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ أَنْ يُعْطِيَهُ قَمِيصَهُ يُكَفِّنُ فِيهِ أَبَاهُ فَأَعْطَاهُ ثُمَّ سَأَلَهُ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَامَ عُمَرُ فَأَخَذَ بِثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتُصَلِّي عَلَيْهِ وَقَدْ نَهَاكَ اللَّهُ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا خَيَّرَنِي اللَّهُ فَقَالَ اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لاَ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً وَسَأَزِيدُهُ عَلَى سَبْعِينَ " . قَالَ إِنَّهُ مُنَافِقٌ . فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( وَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلاَ تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ )
৬৯২০-(৩/২৭৭৪) আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই এর মৃত্যুর পর তার সন্তান আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন এবং তাঁর পিতার কাফনের জন্যে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জামাটি চাইলেন। তিনি তাঁকে জামাটি দিয়ে দিলেন। তারপর তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর পিতার সালাতে জানাযা আদায়ের জন্যে অনুরোধ করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ালেন। এমতাবস্থায় উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) দাঁড়িয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় টেনে ধরে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তার জানাযা কি আপনি আদায় করাবেন? আর আল্লাহ তা'আলা তার সালাতে জানাযা আদায় করাতে আপনাকে বারণ করেছেন।
এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ ব্যাপারে তো আল্লাহ তা'আলা আমাকে এ কথা বলে স্বাধীনতা দিয়েছেন যে, আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন অথবা তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা না করুন- উভয়ই সমান, আপনি সত্তরবারও যদি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন- সবই সমান। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি সত্তরের উপরে বাড়িয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব। উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! সে তো কপট ছিল। এরপরও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালাতে জানাযা আদায় করলেন। তখন আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করলেন- "তাদের মাঝে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার জন্যে জানাযার সালাত আদায় করবেন না এবং তার কবরের পাশেও দণ্ডায়মান হবেন না"- (সূরা আত তওবা্ ৯ঃ ৮৪)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৭০, ইসলামিক সেন্টার ৬৮২৫)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، - وَهُوَ الْقَطَّانُ - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ وَزَادَ قَالَ فَتَرَكَ الصَّلاَةَ عَلَيْهِمْ .
৬৯২১-(৪/...) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... উবাইদুল্লাহ (রহঃ) হতে উক্ত সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে বর্ধিত রয়েছে যে, তারপর হতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুনাফিকদের সালাতে জানাযা আদায় করা পরিপূর্ণরূপে পরিত্যাগ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৬৭১, ইসলামিক সেন্টার ৬৮২৬)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي، مَعْمَرٍ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ اجْتَمَعَ عِنْدَ الْبَيْتِ ثَلاَثَةُ نَفَرٍ قُرَشِيَّانِ وَثَقَفِيٌّ أَوْ ثَقَفِيَّانِ وَقُرَشِيٌّ قَلِيلٌ فِقْهُ قُلُوبِهِمْ كَثِيرٌ شَحْمُ بُطُونِهِمْ فَقَالَ أَحَدُهُمْ أَتَرَوْنَ اللَّهَ يَسْمَعُ مَا نَقُولُ وَقَالَ الآخَرُ يَسْمَعُ إِنْ جَهَرْنَا وَلاَ يَسْمَعُ إِنْ أَخْفَيْنَا وَقَالَ الآخَرُ إِنْ كَانَ يَسْمَعُ إِذَا جَهَرْنَا فَهُوَ يَسْمَعُ إِذَا أَخْفَيْنَا . فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلاَ أَبْصَارُكُمْ وَلاَ جُلُودُكُمْ ) الآيَةَ .
৬৯২২-(৫/২৭৭৫) মুহাম্মাদ ইবনু আবু উমার মাক্কী (রহঃ) ..... ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাইতুল্লাহর কাছে তিন লোক একত্রিত হলো। এদের দু'জন কুরাইশী এবং একজন সাকাফী অথবা দু'জন সাকাফী এবং একজন কুরাইশী ছিল। তাদের অন্তরে সূক্ষ্মজ্ঞান খুব কমই ছিল। তবে পেটে অনেক চর্বি ছিল। তাদের একজন বলল, আমরা যা বলি আল্লাহ সব শুনেন, এ কথা কি তোমরা মনে করো? তখন দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, আমরা উচ্চ আওয়াজে কথা বললে আল্লাহ তা শুনে থাকেন। তবে নিম্নস্বরে কথা বললে আল্লাহ তা শুনেন না। তখন তৃতীয় ব্যক্তি বলল, উচ্চ আওয়াজে কথা বললে যদি তিনি শুনে থাকেন তবে নিম্নস্বরে কথা বললেও তিনি তা শুনতে পাবেন। এ প্রেক্ষিতেই আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করলেন, "তোমরা গোপন করতে পারবে না এজন্য যে, তোমাদের কান, চোখ এবং ত্বক তোমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে"- (সূরা ফুসসিলাত ৪১ঃ ২২)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৭২, ইসলামিক সেন্টার ৬৮২৭)
وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، ح
وَقَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي مَنْصُورٌ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، بِنَحْوِهِ .
৬৯২৩-(..../...) আবূ বাকর ইবনু খাল্লাদ আল বাহিলী ও ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৭৩, ইসলামিক সেন্টার ৬৮২৮)
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيٍّ، - وَهُوَ ابْنُ ثَابِتٍ - قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ، يُحَدِّثُ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى أُحُدٍ فَرَجَعَ نَاسٌ مِمَّنْ كَانَ مَعَهُ فَكَانَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيهِمْ فِرْقَتَيْنِ قَالَ بَعْضُهُمْ نَقْتُلُهُمْ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ . فَنَزَلَتْ ( فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ )
৬৯২৪-(৬/২৭৭৬) উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয আল আম্বারী (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের জন্যে বের হলেন। এমন সময় কতক লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সফরসঙ্গী হয়েও ফিরে আসলো। তাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহাবাগণ দু'দলে ভাগ হয়ে গেল। কেউ বলল, আমরা তাদেরকে হত্যা করে ফেলব; আর কেউ বলল, আমরা তাদের হত্যা করব না। তখন অবতীর্ণ হলো, "তোমাদের কি হলো যে, তোমরা মুনাফিকদের ব্যাপারে দু'দলে ভাগ হয়ে গেলে?" (সূরা আন নিসা ৪ঃ ৮৮)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৭৪, ইসলামিক সেন্টার ৬৮২৯)
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، كِلاَهُمَا عَنْ شُعْبَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .
৬৯২৫-(..../...) যুহায়র ইবনু হারব ও আবু বকর ইবনু নাফি (রহঃ) ...... শু'বাহ হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৭৫, ইসলামিক সেন্টার ৬৮৩০)
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَهْلٍ التَّمِيمِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي، مَرْيَمَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، الْخُدْرِيِّ أَنَّ رِجَالاً، مِنَ الْمُنَافِقِينَ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانُوا إِذَا خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْغَزْوِ تَخَلَّفُوا عَنْهُ وَفَرِحُوا بِمَقْعَدِهِمْ خِلاَفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم اعْتَذَرُوا إِلَيْهِ وَحَلَفُوا وَأَحَبُّوا أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا فَنَزَلَتْ ( لاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَفْرَحُونَ بِمَا أَتَوْا وَيُحِبُّونَ أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا فَلاَ تَحْسَبَنَّهُمْ بِمَفَازَةٍ مِنَ الْعَذَابِ )
৬৯২৬-(৭/২৭৭৭) হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী ও মুহাম্মাদ ইবনু সাহল আত তামীমী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবিতাবস্থায় কতক মুনাফিক লোকের অভ্যাস এই ছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন যুদ্ধের জন্যে বের হতেন তখন তারা পিছনে গা ঢাকা দিয়ে থাকতো এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরুদ্ধে অবস্থান করাতেই তারা উচ্ছাস প্রকাশ করত। এরপর যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসতেন তখন তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে বিভিন্ন অজুহাত পেশ করত, কসম করত এবং প্রত্যাশা করত যেন তারা প্রশংসিত হয় এমন কার্যের উপর যা তারা করেনি। তখন অবতীর্ণ হলোঃ "যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্দোল্লাস করে এবং যা নিজেরা করেনি এমন কর্মের জন্য প্রশংসিত হতে পছন্দ করে, তারা আযাব থেকে রেহাই পাবে- আপনি কক্ষনো এমন মনে করবেন না। তাদের জন্যে আছে কঠিন আযাব"- (সূরাহ্ আ-লি ইমরান ৩ঃ ১৮৮)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৭৬, ইসলামিক সেন্টার ৬৮৩১)
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، - وَاللَّفْظُ لِزُهَيْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ، بْنُ مُحَمَّدٍ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، أَنَّ حُمَيْدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ مَرْوَانَ قَالَ اذْهَبْ يَا رَافِعُ - لِبَوَّابِهِ - إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقُلْ لَئِنْ كَانَ كُلُّ امْرِئٍ مِنَّا فَرِحَ بِمَا أَتَى وَأَحَبَّ أَنْ يُحْمَدَ بِمَا لَمْ يَفْعَلْ مُعَذَّبًا لَنُعَذَّبَنَّ أَجْمَعُونَ . فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مَا لَكُمْ وَلِهَذِهِ الآيَةِ إِنَّمَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِي أَهْلِ الْكِتَابِ . ثُمَّ تَلاَ ابْنُ عَبَّاسٍ ( وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلاَ تَكْتُمُونَهُ ) هَذِهِ الآيَةَ وَتَلاَ ابْنُ عَبَّاسٍ ( لاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَفْرَحُونَ بِمَا أَتَوْا وَيُحِبُّونَ أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا ) وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ سَأَلَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ شَىْءٍ فَكَتَمُوهُ إِيَّاهُ وَأَخْبَرُوهُ بِغَيْرِهِ فَخَرَجُوا قَدْ أَرَوْهُ أَنْ قَدْ أَخْبَرُوهُ بِمَا سَأَلَهُمْ عَنْهُ وَاسْتَحْمَدُوا بِذَلِكَ إِلَيْهِ وَفَرِحُوا بِمَا أَتَوْا مِنْ كِتْمَانِهِمْ إِيَّاهُ مَا سَأَلَهُمْ عَنْهُ .
৬৯২৭-(৮/২৭৭৮) যুহায়র ইবনু হারব ও হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... হুমায়দ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মারওয়ান তার দারোয়ান রাফি'কে বললেন, তুমি ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর কাছে যাও এবং বলো, নিজে যা করেছে তাতে খুশী হয় এবং যা করেনি তাতে প্রশংসিত হতে চেয়ে আমাদের মধ্যে কেউ যদি আযাব পায় তবে আমরা সবাই 'আযাবে পড়ব। ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, এ আয়াতের সঙ্গে তোমাদের কি সম্পর্ক? এ আয়াত তো আহলে কিতাব সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে। এরপর ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এ আয়াত পাঠ করলেন- "স্মরণ করো, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল।
আল্লাহ তাদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন- তোমরা মানুষের কাছে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না।" তারপর ইবনু আব্বাস (রাযি) পড়লেন, "যারা নিজের যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং যা নিজেরা করেনি তার জন্য প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা শাস্তি হতে মুক্তি পাবে, এরূপ আপনি কক্ষনো মনে করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে মর্মম্ভদ 'আযাব।" তারপর ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিতাবীদের নিকট কোন ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা তা গোপন করলো এবং তার উত্তরে ভিন্ন কথা বলে দিল। তারপর তারা এমন ভনিতা করে বের হলো যে, জিজ্ঞাসিত বিষয়ের যথাযথ জবাব তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দিয়েছে। তারা এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে প্রশংসা কামনা করেছিল এবং জিজ্ঞাসিত বিষয়টি গোপন করার মাধ্যমে তারা খুবই আনন্দিত হয়েছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৭৭, ইসলামিক সেন্টার ৬৮৩২)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ قَيْسٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَمَّارٍ أَرَأَيْتُمْ صَنِيعَكُمْ هَذَا الَّذِي صَنَعْتُمْ فِي أَمْرِ عَلِيٍّ أَرَأْيًا رَأَيْتُمُوهُ أَوْ شَيْئًا عَهِدَهُ إِلَيْكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا عَهِدَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا لَمْ يَعْهَدْهُ إِلَى النَّاسِ كَافَّةً وَلَكِنْ حُذَيْفَةُ أَخْبَرَنِي عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " فِي أَصْحَابِي اثْنَا عَشَرَ مُنَافِقًا فِيهِمْ ثَمَانِيَةٌ لاَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ ثَمَانِيَةٌ مِنْهُمْ تَكْفِيكَهُمُ الدُّبَيْلَةُ وَأَرْبَعَةٌ " . لَمْ أَحْفَظْ مَا قَالَ شُعْبَةُ فِيهِمْ .
৬৯২৮-(৯/২৭৭৯) আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আম্মার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে প্রশ্ন করলাম, তোমরা আমাকে সে সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করো যা তোমরা আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর ব্যাপারে গ্রহণ করেছে। একি তোমাদের সিদ্ধান্ত না এ সম্পর্কে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে কোন আদেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বসাধারণকে যে কথা বলেননি, এমন কোন কথা তিনি আমাদেরকেও বলে যাননি। তবে হুযাইফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার সহাবাদের মাঝে বারোজন মুনাফিক লোক আছে। এদের আটজনের জান্নাতে প্রবেশ করা এমনিভাবে অসম্ভব যেমনিভাবে সূচের ছিদ্র দিয়ে উষ্ট্রের প্রবেশ করা অসম্ভব। দুবাইলাহ্ (এক প্রকার বড় ধরনের ফোড়া) আটজন লোককে শেষ করে দিবে। আসওয়াদ (রহঃ) বলেন, বাকী চার লোক সম্বন্ধে শুবাহ কি বলেছেন, আমার তা মনে নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৭৮, ইসলামিক সেন্টার ৬৮৩৩)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ، قَالَ قُلْنَا لِعَمَّارٍ أَرَأَيْتَ قِتَالَكُمْ أَرَأْيًا رَأَيْتُمُوهُ فَإِنَّ الرَّأْىَ يُخْطِئُ وَيُصِيبُ أَوْ عَهْدًا عَهِدَهُ إِلَيْكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا عَهِدَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا لَمْ يَعْهَدْهُ إِلَى النَّاسِ كَافَّةً . وَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ فِي أُمَّتِي " . قَالَ شُعْبَةُ وَأَحْسِبُهُ قَالَ حَدَّثَنِي حُذَيْفَةُ . وَقَالَ غُنْدَرٌ أُرَاهُ قَالَ " فِي أُمَّتِي اثْنَا عَشَرَ مُنَافِقًا لاَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلاَ يَجِدُونَ رِيحَهَا حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ ثَمَانِيَةٌ مِنْهُمْ تَكْفِيكَهُمُ الدُّبَيْلَةُ سِرَاجٌ مِنَ النَّارِ يَظْهَرُ فِي أَكْتَافِهِمْ حَتَّى يَنْجُمَ مِنْ صُدُورِهِمْ " .
৬৯২৯-(১০/...) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না এবং মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... কায়স ইবনু উবাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আম্মার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে প্রশ্ন করলাম, আপনাদের এ সংগ্রামের ব্যাপারে বলুন তো, তা কি আপনাদের স্বীয় মতের ভিত্তিতে? যা ভুলও হতে পারে, সঠিকও হতে পারে। কিংবা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক্ষেত্রে বিশেষভাবে আপনাদের আদেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বসাধারণকে যে আদেশ দেননি, এমন কিছু তিনি বিশেষভাবে আমাদেরকেও বলেননি। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মাঝে বর্ণনাকারী শুবাহ (রহঃ) বলেন, আমার মনে হয়, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমার উম্মাতের মাঝে বারোজন মুনাফিক হবে। তাদের জান্নাতে ঢুকা এবং জান্নাতের ঘ্রাণও পাওয়া তেমন অসম্ভব যেমন সূচের ছিদ্রপথে উষ্ট্রের ঢুকা অসম্ভব। তাদের মাঝে আটজনের (ধ্বংসের) জন্য দুবাইলাহা যথেষ্ট হবে। দুবাইলাহ হলো অগ্নিশিখা, যা কাঁধের মাঝে প্রকাশ পেয়ে অন্তঃকরণকে ছেয়ে ফেলবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৭৯,ইসলামিক সেন্টার ৬৮৩৪)
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ جُمَيْعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الطُّفَيْلِ، قَالَ كَانَ بَيْنَ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْعَقَبَةِ وَبَيْنَ حُذَيْفَةَ بَعْضُ مَا يَكُونُ بَيْنَ النَّاسِ فَقَالَ أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ كَمْ كَانَ أَصْحَابُ الْعَقَبَةِ قَالَ فَقَالَ لَهُ الْقَوْمُ أَخْبِرْهُ إِذْ سَأَلَكَ قَالَ كُنَّا نُخْبَرُ أَنَّهُمْ أَرْبَعَةَ عَشَرَ فَإِنْ كُنْتَ مِنْهُمْ فَقَدْ كَانَ الْقَوْمُ خَمْسَةَ عَشَرَ وَأَشْهَدُ بِاللَّهِ أَنَّ اثْنَىْ عَشَرَ مِنْهُمْ حَرْبٌ لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ الأَشْهَادُ وَعَذَرَ ثَلاَثَةً قَالُوا مَا سَمِعْنَا مُنَادِيَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ عَلِمْنَا بِمَا أَرَادَ الْقَوْمُ . وَقَدْ كَانَ فِي حَرَّةٍ فَمَشَى فَقَالَ " إِنَّ الْمَاءَ قَلِيلٌ فَلاَ يَسْبِقُنِي إِلَيْهِ أَحَدٌ " . فَوَجَدَ قَوْمًا قَدْ سَبَقُوهُ فَلَعَنَهُمْ يَوْمَئِذٍ .
৬৯৩০-(১১/...) যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবু তুফায়ল (বাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আকাবায় উপস্থিত এক ব্যক্তির সাথে হুযাইফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মাঝে মানুষের মধ্যে যেমন মনোমালিন্য হয়ে থাকে তেমন কিছু ছিল। সে তাকে জিজ্ঞেস করল, তোমাকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, বলো, 'আকাবায় উপস্থিত লোকেদের সংখ্যা কত ছিল? হুযইফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে লোকেরা অনুরোধ করল, সে যেহেতু প্রশ্ন করেছে, তাই আপনি বলে দিন। তিনি বললেন, আমাদের অবহিত করা হয়েছে যে, তাদের সংখ্যা ছিল চোদ্দ। আর যদি তুমিও তাদের মধ্যে হয়ে থাকো, তবে তাদের সংখ্যা হবে পনের। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি যে, এদের বারোজন দুনিয়া এবং আখিরাতের জীবনে আল্লাহ এবং তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শত্রু। বাকী তিনজন অজুহাত পেশ করে বলল, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘোষকের আওয়াজ শুনিনি এবং কওমের লোকেদের প্রয়াসও আমাদের জানা ছিল না। আল্লাহ ও তার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্তরময় মাঠে ছিলেন। অতঃপর তিনি সেখান থেকে এগিয়ে চললেন এবং বললেন, (আমাদের গন্তব্যস্থলের) পানি অতি সামান্য। কেউ আমার পূর্বে সেখানে যাবে না। কিন্তু তিনি সেখানে গিয়ে দেখলেন যে, কতক লোক তার আগমনের পূর্বেই চলে এসেছে। সেদিন তিনি তাদের প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৮০, ইসলামিক সেন্টার ৬৮৩৫)
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ يَصْعَدُ الثَّنِيَّةَ ثَنِيَّةَ الْمُرَارِ فَإِنَّهُ يُحَطُّ عَنْهُ مَا حُطَّ عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ " . قَالَ فَكَانَ أَوَّلَ مَنْ صَعِدَهَا خَيْلُنَا خَيْلُ بَنِي الْخَزْرَجِ ثُمَّ تَتَامَّ النَّاسُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَكُلُّكُمْ مَغْفُورٌ لَهُ إِلاَّ صَاحِبَ الْجَمَلِ الأَحْمَرِ " . فَأَتَيْنَاهُ فَقُلْنَا لَهُ تَعَالَ يَسْتَغْفِرْ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ وَاللَّهِ لأَنْ أَجِدَ ضَالَّتِي أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لِي صَاحِبُكُمْ . قَالَ وَكَانَ رَجُلٌ يَنْشُدُ ضَالَّةً لَهُ .
৬৯৩১-(১২/২৭৮০) উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয আল 'আম্বারী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুরার টিলাতে কে আরোহণ করবে? যে আরোহণ করে, তার পাপসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, যেমনভাবে বনী ইসরাঈলকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছিল। জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, প্রথমে ঐ টিলাতে আরোহণ করল আমাদের বানী খাযরাজের ঘোড়াগুলো। তারপর অন্য লোকেরা তাদের পিছনে আসল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের সকলকেই ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে, লাল উষ্ট্রের মালিক ছাড়া। তখন আমরা ঐ লোকটির নিকট গিয়ে বললাম, এসো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার জন্য ক্ষমা কামনা করবেন। সে বলল, আমি যদি আমার হারানো উটটি পেয়ে যাই তবে তা অবশ্য আমার জন্য। তোমাদের সঙ্গীর দু'আ থেকে উত্তম। জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এ লোকটি তার হারানো উষ্ট্রির সন্ধানে ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৮১, ইসলামিক সেন্টার ৬৮৩৬)
وَحَدَّثَنَاهُ يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا قُرَّةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ يَصْعَدُ ثَنِيَّةَ الْمُرَارِ أَوِ الْمَرَارِ " . بِمِثْلِ حَدِيثِ مُعَاذٍ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ وَإِذَا هُوَ أَعْرَابِيٌّ جَاءَ يَنْشُدُ ضَالَّةً لَهُ .
৬৯৩২-(১৩/...) ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কে আরোহণ করবে মুরার টিলাতে? পরবর্তী অংশটুকু মুআয এর হাদীসের অনুরূপ। তবে এতে বর্ধিত রয়েছে যে, তখন তিনি এক বেদুঈনকে দেখলেন, সে তার হারানো উট সন্ধান করে আসছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৮২, ইসলামিক সেন্টার ৬৮৩৭)
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - وَهُوَ ابْنُ الْمُغِيرَةِ - عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ مِنَّا رَجُلٌ مِنْ بَنِي النَّجَّارِ قَدْ قَرَأَ الْبَقَرَةَ وَآلَ عِمْرَانَ وَكَانَ يَكْتُبُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَانْطَلَقَ هَارِبًا حَتَّى لَحِقَ بِأَهْلِ الْكِتَابِ - قَالَ - فَرَفَعُوهُ قَالُوا هَذَا قَدْ كَانَ يَكْتُبُ لِمُحَمَّدٍ فَأُعْجِبُوا بِهِ فَمَا لَبِثَ أَنْ قَصَمَ اللَّهُ عُنُقَهُ فِيهِمْ فَحَفَرُوا لَهُ فَوَارَوْهُ فَأَصْبَحَتِ الأَرْضُ قَدْ نَبَذَتْهُ عَلَى وَجْهِهَا ثُمَّ عَادُوا فَحَفَرُوا لَهُ فَوَارَوْهُ فَأَصْبَحَتِ الأَرْضُ قَدْ نَبَذَتْهُ عَلَى وَجْهِهَا ثُمَّ عَادُوا فَحَفَرُوا لَهُ فَوَارَوْهُ فَأَصْبَحَتِ الأَرْضُ قَدْ نَبَذَتْهُ عَلَى وَجْهِهَا فَتَرَكُوهُ مَنْبُوذًا .
৬৯৩৩-(১৪/২৭৮১) মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানী নাজ্জার এর এক লোক আমাদের সাথে ছিল। সে সূরাহ্ আল-বাকারাহ এবং সূরাহ্ আ-লি ইমরান তিলাওয়াত করেছিল। সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে কাতিবে ওয়াহীর দায়িত্ব পালন করত। পরে পালিয়ে গিয়ে সে কিতাবীদের সাথে মিলে যায়। রাবী বলেন, তারা তাকে খুব সমাদর করল এবং বলল, এ ব্যক্তিটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাতিব ছিল। এতে তারা খুবই আনন্দিত হলো। এরপর বেশি দেরী হয়নি, আল্লাহ তা'আলা তাদের মাঝেই তাকে ধ্বংস করে দিলেন। তারপর তারা তার জন্য গর্ত করে তাকে ঢেকে দিলো। সকালে দেখা গেল যে, জমিন তার লাশ বের করে উপরে ফেলে দিয়েছে। তারপর আবার তারা গর্ত করে তাকে পুতে দিলো। সকালে দেখা গেল যে, জমিন তার লাশটি বের করে উপরে ফেলে দিয়েছে। তারপর পুনরায় তারা তার জন্য গর্ত করে তাকে তাতে পুঁতে বালু সকলে দেখা গেল, এবারও জমিন তার লাশ বের করে মাটির উপর ফেলে দিয়েছে। কাজেই তারা তাকে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় পরিত্যাগ করলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৮৩, ইসলামিক সেন্টার ৬৮৩৮)