সহীহ মুসলিম
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَعْبَدِ بْنِ خَالِدٍ، قَالَ سَمِعْتُ حَارِثَةَ بْنَ وَهْبٍ الْخُزَاعِيَّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ الْجَنَّةِ كُلُّ ضَعِيفٍ مُتَضَعَّفٍ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ النَّارِ كُلُّ جَوَّاظٍ زَنِيمٍ مُتَكَبِّرٍ " .
৭০৮১-(৪৭/...) মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... হারিসাহ ইবনু ওয়াহব আল খুযাঈ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতবাসীগণের পরিচয় আমি কি তোমাদেরকে জানাব না? তারা হবে দুর্বল কোমল হৃদয় বিনয়ী লোক। যারা আল্লাহর উপর ভরসা করে কসম করলে আল্লাহ তা পূর্ণ করান। তিনি আবার বললেন, আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামীদের পরিচয় বলব না? তারা হবে দাম্ভিক, হীন বা নীচ এবং অহংকারী লোক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯২৫, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৮৩)
حَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي حَفْصُ بْنُ مَيْسَرَةَ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رُبَّ أَشْعَثَ مَدْفُوعٍ بِالأَبْوَابِ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ " .
৭০৮২-(৪৮/২৮৫৪) সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিছু সংখ্যক এমন জীর্ণশীর্ণ লোক আছে, যাদেরকে মানুষের দ্বার হতে বিতাড়িত করা হয়। (অথচ তারা আল্লাহর নিকট এত প্রিয় যে,) তারা যদি আল্লাহর নামে কোন কসম করে তবে আল্লাহ তা'আলা তা পূর্ণ করে দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯২৬, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৮৪)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ، عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَمْعَةَ، قَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ النَّاقَةَ وَذَكَرَ الَّذِي عَقَرَهَا فَقَالَ " إِذِ انْبَعَثَ أَشْقَاهَا انْبَعَثَ بِهَا رَجُلٌ عَزِيزٌ عَارِمٌ مَنِيعٌ فِي رَهْطِهِ مِثْلُ أَبِي زَمْعَةَ " . ثُمَّ ذَكَرَ النِّسَاءَ فَوَعَظَ فِيهِنَّ ثُمَّ قَالَ " إِلاَمَ يَجْلِدُ أَحَدُكُمُ امْرَأَتَهُ " . فِي رِوَايَةِ أَبِي بَكْرٍ " جَلْدَ الأَمَةِ " . وَفِي رِوَايَةِ أَبِي كُرَيْبٍ " جَلْدَ الْعَبْدِ وَلَعَلَّهُ يُضَاجِعُهَا مِنْ آخِرِ يَوْمِهِ " . ثُمَّ وَعَظَهُمْ فِي ضَحِكِهِمْ مِنَ الضَّرْطَةِ فَقَالَ " إِلاَمَ يَضْحَكُ أَحَدُكُمْ مِمَّا يَفْعَلُ " .
৭০৮৩-(৪৯/২৮৫৫) আবু বাকর ইবনু আবু শাইবাহ ও আবু কুরায়ব (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবনু যাম'আহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাহ প্রদানকালে সালিহ (আঃ) এর উষ্ট্রি সম্পর্কে এবং যে লোক সেটার পা কেটেছিল তার সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, যখন ঐ উষ্ট্রিকে হত্যা করার জন্য তাদের কাওমের সবচেয়ে হতভাগ্য লোকটি উদ্যত হল, তখন এ কাজের জন্য ঐ কাওমের মধ্যে আবু যাম'আর ন্যায় সবচেয়ে শক্তিশালী, নিষ্ঠুর, অসভ্য ও হতভাগ্য লোক ছিল। এ খুতবায় তিনি মহিলাদের বিষয়ে আলোচনা করলেন এবং তাদের নাসীহাত করলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে তার স্ত্রীকে অযথা প্রহার করে। আবূ বাকর এর বর্ণনায় আছে, ক্রীতদাসীর ন্যায় প্রহার করে। আবূ কুরায়ব এর বর্ণনায় আছে, ক্রীতদাসের ন্যায় প্রহার করে। কিন্তু আবার দিন শেষে রাতের বেলা তার সঙ্গে মিলিত হয়। এরপর তিনি বায়ু নিঃসরণ করে হাসি দেয়া সম্বন্ধে উপদেশ করলেন এবং বললেন, যে কাজ তোমরা স্বয়ং করবে সে ব্যাপারে তোমরা কি করে হাসতে পার? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯২৭, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৮৫)
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " رَأَيْتُ عَمْرَو بْنَ لُحَىِّ بْنِ قَمَعَةَ بْنِ خِنْدِفَ أَبَا بَنِي كَعْبٍ هَؤُلاَءِ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ " .
৭০৮৪-(৫০/২৮৫৬) যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি বানী কা'ব এর বাবা আমর ইবনু লুহাই ইবনু কামা'আহ ইবনু খিনদিফকে জাহান্নামের মাঝে দেখেছি সে তার পেট হতে সব নাড়ী-ভুড়ি টেনে বের করছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯২৮, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৮৬)
حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَحَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنِي وَقَالَ، الآخَرَانِ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ، شِهَابٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، يَقُولُ إِنَّ الْبَحِيرَةَ الَّتِي يُمْنَعُ دَرُّهَا لِلطَّوَاغِيتِ فَلاَ يَحْلُبُهَا أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ وَأَمَّا السَّائِبَةُ الَّتِي كَانُوا يُسَيِّبُونَهَا لآلِهَتِهِمْ فَلاَ يُحْمَلُ عَلَيْهَا شَىْءٌ . وَقَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " رَأَيْتُ عَمْرَو بْنَ عَامِرٍ الْخُزَاعِيَّ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ وَكَانَ أَوَّلَ مَنْ سَيَّبَ السُّيُوبَ " .
৭০৮৫-(৫১/...) আমর আন নাকিদ, হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ...... সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'বাহীরাহ বলা হয় এমন উষ্ট্রীকে, যা কোন দেবতার নামে মানৎ করে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেয়া হয়। তাকে আর কেউ দোহন করে না। আর 'সায়িবাহ বলা হয় এমন উটকে, মুশরিকগণ তাদের দেবতার নামে ছেড়ে দিত। এভাবে ছেড়ে দেয়ার পর এর পিঠে কোন বোঝা বহন করা হত না।
ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) আরো বলেন, আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি জাহান্নামের মাঝে আমির আল খুযাঈকে দেখেছি, সে তার নাড়ী-ভুড়ি টেনে বের করছে। কেননা সে-ই সর্বপ্রথম দেব-দেবীর নামে সায়িবাহ (উটের) জন্তুর প্রথা চালু করেছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯২৯, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৮৭)
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلاَتٌ مَائِلاَتٌ رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ لاَ يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلاَ يَجِدْنَ رِيحَهَا وَإِنَّ رِيحَهَا لَتُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا " .
৭০৮৬-(৫২/২১২৮) যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু প্রকার লোক জাহান্নামী হবে। আমি তাদেরকে দেখিনি। এক প্রকার ঐ সব লোক যাদের কাছে গরুর লেজের ন্যায় ছড়ি থাকবে। তারা এর দ্বারা লোকেদের পিটাবে। দ্বিতীয় প্রকার ঐ শ্রেণীর মহিলা, যারা কাপড় পরিহিতা কিন্তু উলঙ্গ প্রায়, মানুষকে আকৃষ্টকারিণী ও স্বয়ং বিচ্যুত। যাদের মাথার খোপা বুখতী উটের পিঠের উঁচু কুজোর ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং জান্নাতের গন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি অনেক দূর থেকে পাওয়া যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩০, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৮৮)
حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا زَيْدٌ، - يَعْنِي ابْنَ حُبَابٍ - حَدَّثَنَا أَفْلَحُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَافِعٍ، مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُوشِكُ إِنْ طَالَتْ بِكَ مُدَّةٌ أَنْ تَرَى قَوْمًا فِي أَيْدِيهِمْ مِثْلُ أَذْنَابِ الْبَقَرِ يَغْدُونَ فِي غَضَبِ اللَّهِ وَيَرُوحُونَ فِي سَخَطِ اللَّهِ " .
৭০৮৭-(৫৩/২৮৫৭) ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... উম্মু সালামার মুক্তদাস 'আবদুল্লাহ ইবনু রাফি (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেদিন আর খুব বেশি দূরে নয়, অচিরেই তোমরা এক সম্প্রদায় দেখতে পাবে, যাদের হাতে থাকবে গরুর লেজের মতো চাবুক। সকাল অতিবাহিত হবে তাদের আল্লাহর গযবের মধ্যে এবং সন্ধ্যা যাপন হবে আল্লাহর অভিশাপের মধ্যে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩১, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৮৯)
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ حَدَّثَنَا أَفْلَحُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَافِعٍ، مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنْ طَالَتْ بِكَ مُدَّةٌ أَوْشَكْتَ أَنْ تَرَى قَوْمًا يَغْدُونَ فِي سَخَطِ اللَّهِ وَيَرُوحُونَ فِي لَعْنَتِهِ فِي أَيْدِيهِمْ مِثْلُ أَذْنَابِ الْبَقَرِ " .
৭০৮৮-(৫৪/...) উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ, আবু বাকর ইবনু নাফি' ও 'আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছি, তুমি যদি দীর্ঘজীবি হও তাহলে অচিরেই তোমরা এমন এক সম্প্রদায় দেখতে পাবে, যাদের সকাল হবে আল্লাহর অসম্ভষ্টির ভিতর এবং সন্ধ্যা হবে আল্লাহর অভিসম্পাতের মাঝে। তাদের হাতে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩২, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৯০)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، كُلُّهُمْ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ، حَاتِمٍ - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا قَيْسٌ، قَالَ سَمِعْتُ مُسْتَوْرِدًا، أَخَا بَنِي فِهْرٍ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَاللَّهِ مَا الدُّنْيَا فِي الآخِرَةِ إِلاَّ مِثْلُ مَا يَجْعَلُ أَحَدُكُمْ إِصْبَعَهُ هَذِهِ - وَأَشَارَ يَحْيَى بِالسَّبَّابَةِ - فِي الْيَمِّ فَلْيَنْظُرْ بِمَ يَرْجِعُ " . وَفِي حَدِيثِهِمْ جَمِيعًا غَيْرَ يَحْيَى سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ذَلِكَ . وَفِي حَدِيثِ أَبِي أُسَامَةَ عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ أَخِي بَنِي فِهْرٍ وَفِي حَدِيثِهِ أَيْضًا قَالَ وَأَشَارَ إِسْمَاعِيلُ بِالإِبْهَامِ .
৭০৮৯-(৫৫/২৮৫৮) আবূ বাকর ইবনু আবু শাইবাহ, ইবনু নুমায়র, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি, মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... বানু ফিহর এর ভাই মুসতাওরিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর শপথ! ইহকাল-পরকালের তুলনায় অতটুকুই, যেমন তোমাদের কেউ তার এ আঙ্গুলটি সমুদ্রে পানিতে ভিজিয়ে দেখল যে, কতটুকু পরিমাণ এতে পানি লেগেছে। বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া এ সময় শাহাদাত আঙ্গুলের দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন। ইয়াহইয়া ছাড়া সকলের বর্ণনার মাঝেই আছে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি। আর আবূ উসামার বর্ণনাতেও أَخِي بَنِي فِهْرٍ শব্দ উল্লেখ রয়েছে। তাতে এ কথাও উল্লেখ আছে যে, ইসমাঈল বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩৩, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৯১)
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ حَاتِمِ بْنِ أَبِي صَغِيرَةَ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلاً " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ النِّسَاءُ وَالرِّجَالُ جَمِيعًا يَنْظُرُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ قَالَ صلى الله عليه وسلم " يَا عَائِشَةُ الأَمْرُ أَشَدُّ مِنْ أَنْ يَنْظُرَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ " .
৭০৯০-(৫৬/২৮৫৯) যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ সিদ্দীকা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের মাঠে সকল মানুষকে একত্রিত করা হবে খালি পা, উলঙ্গ দেহ এবং খাতনাবিহীন অবস্থায়। এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! পুরুষ এবং মহিলা এক সঙ্গেই উত্থিত হবে আর তারা পরস্পর একে অপরের প্রতি তাকাবে? তিনি বললেন, হে 'আয়িশাহ! তখনকার প্রেক্ষাপট এতো কঠিন ও ভয়ঙ্ককর হবে যে, একে অপরের প্রতি তাকানোর কল্পনারও উদ্রেক হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩৪, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৯২)
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ حَاتِمِ، بْنِ أَبِي صَغِيرَةَ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرْ فِي حَدِيثِهِ " غُرْلاً " .
৭০৯১-(..../...) আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... হাতিম ইবনু আবূ সাগীরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এতে غُرْلاً খাতনাবিহীন শব্দটি বর্ণনা নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩৫, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৯৩)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَابْنُ أَبِي، عُمَرَ قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ، بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ وَهُوَ يَقُولُ " إِنَّكُمْ مُلاَقُو اللَّهِ مُشَاةً حُفَاةً عُرَاةً غُرْلاً " . وَلَمْ يَذْكُرْ زُهَيْرٌ فِي حَدِيثِهِ يَخْطُبُ .
৭০৯২-(৫৭/২৮৬০) আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খুতবারত অবস্থায় এ কথা বলতে শুনেছেন যে, অবশ্যই তোমরা খালি পায়ে হেঁটে হেঁটে, উলঙ্গদেহ ও খাতনাবিহীন অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে। তবে যুহায়র (রহঃ) তার হাদীসে খুতবাহ প্রদানের শব্দটি বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩৬, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৯৪)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي كِلاَهُمَا، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ النُّعْمَانِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطِيبًا بِمَوْعِظَةٍ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ تُحْشَرُونَ إِلَى اللَّهِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلاً ( كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ ) أَلاَ وَإِنَّ أَوَّلَ الْخَلاَئِقِ يُكْسَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَلاَ وَإِنَّهُ سَيُجَاءُ بِرِجَالٍ مِنْ أُمَّتِي فَيُؤْخَذُ بِهِمْ ذَاتَ الشِّمَالِ فَأَقُولُ يَا رَبِّ أَصْحَابِي . فَيُقَالُ إِنَّكَ لاَ تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ . فَأَقُولُ كَمَا قَالَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ ( وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ شَهِيدٌ * إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ) قَالَ فَيُقَالُ لِي إِنَّهُمْ لَمْ يَزَالُوا مُرْتَدِّينَ عَلَى أَعْقَابِهِمْ مُنْذُ فَارَقْتَهُمْ " . وَفِي حَدِيثِ وَكِيعٍ وَمُعَاذٍ " فَيُقَالُ إِنَّكَ لاَ تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ " .
৭০৯৩-(৫৮/....) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উপদেশ সম্বলিত ভাষণ প্রদানের উদ্দেশে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর সামনে খালি পা এবং উলঙ্গদেহে এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় উপস্থিত হবে। (আল্লাহর বাণী) "যেমন আমি প্রথম দিন সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, তেমনি তার পুনরাবৃত্তি করব। এটা আমার একটা ওয়াদা, তা পালন করা আমার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। আমি তা পালনে বদ্ধপরিকর।" সাবধান! কিয়ামতের দিন সৃষ্টির মাঝে সর্বপ্রথম ইবরাহীম (আঃ) কে পোশাক পরিধান করানো হবে, সেদিন আমার উম্মাতের মধ্য থেকে কিছু মানুষকে হাযির করা হবে, এদের মধ্যে যারা বাম হাতে আমলনামা প্রাপ্ত তাদের পাকড়াও করা হবে।
তখন আমি বলব, হে আমার রব! এরা তো আমার উম্মাত। উত্তরে আমাকে বলা হবে, তুমি জানো না তোমার পরে এরা কি কার্যকলাপে জড়িত ছিল। আমি তখন আল্লাহর সৎ বান্দা ঈসা (আঃ) এর ন্যায় বলব, "যতদিন আমি তাদের মাঝে ছিলাম ততদিন আমি ছিলাম তাদের কার্যকলাপের সাক্ষী; কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে তখন তুমিই তো ছিলে তাদের কার্যকলাপের পর্যবেক্ষণকারী এবং তুমিই সর্ব বিষয়ে সাক্ষী, তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও তবে তারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাদেরকে মাফ করো তবে তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" তখন আমাকে বলা হবে, তুমি তাদের থেকে বিদায় গ্রহণের পর থেকে তারা সবসময় মুখ ফিরিয়ে কুফুরীর আশ্রয় নিয়েছিল।
ওয়াকী এবং মুআয এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে فَيُقَالُ إِنَّكَ لاَ تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ অতঃপর বলা হবে, আপনি অবশ্য জানেন না আপনার পরে তারা কোন নতুন ধর্মমত আবিষ্কার করেছে? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩৭, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৯৫)
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، قَالاَ جَمِيعًا حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى ثَلاَثِ طَرَائِقَ رَاغِبِينَ رَاهِبِينَ وَاثْنَانِ عَلَى بَعِيرٍ وَثَلاَثَةٌ عَلَى بَعِيرٍ وَأَرْبَعَةٌ عَلَى بَعِيرٍ وَعَشَرَةٌ عَلَى بَعِيرٍ وَتَحْشُرُ بَقِيَّتَهُمُ النَّارُ تَبِيتُ مَعَهُمْ حَيْثُ بَاتُوا وَتَقِيلُ مَعَهُمْ حَيْثُ قَالُوا وَتُصْبِحُ مَعَهُمْ حَيْثُ أَصْبَحُوا وَتُمْسِي مَعَهُمْ حَيْثُ أَمْسَوْا " .
৭০৯৪-(৫৯/২৮৬১) যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেদেরকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করে সমবেত করা হবে। প্রথম দল আশা পোষণকারী এবং ভীত-সন্ত্রস্ত লোকেদের দল। দ্বিতীয় দলে সেসব লোক যাদের দু'জন থাকবে এক উটের উপর, কোন উটের উপর তিনজন, কোনটির উপর চারজন, আর কোনটির উপরে আরোহিত হবে দশজন। অবিশিষ্টরা হবে সে সকল লোক যাদেরকে আগুন তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। তারা যেখানে রাত্রিযাপন করবে আগুনও তাদের সঙ্গে রাত কাটাবে। তারা যেখানে বিশ্রাম নিবে আগুনও সেখানে বিশ্রাম নিবে। তাদের যেখানে সকাল হবে আগুনও তাদের সঙ্গে থাকবে। আর যেখানে তাদের সন্ধ্যা হবে একই সঙ্গে আগুনও তাদের সাথে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩৮, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৯৬)
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنُونَ ابْنَ سَعِيدٍ - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ( يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ ) قَالَ " يَقُومُ أَحَدُهُمْ فِي رَشْحِهِ إِلَى أَنْصَافِ أُذُنَيْهِ " . وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ الْمُثَنَّى قَالَ " يَقُومُ النَّاسُ " لَمْ يَذْكُرْ يَوْمَ .
৭০৯৫-(৬০/২৮৬২) যুহায়র ইবনু হারব, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ এর ব্যাখ্যায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সেদিন মানুষ অর্ধ কর্ণ পর্যন্ত ঘামে ডুবে দাড়িয়ে থাকবে। ইবনুল মুসান্নার বর্ণনাতে তিনিঃ يوم "যেখানে" শব্দটি উল্লেখ করা ছাড়া শুধু يَقُومُ النَّاسُ "লোকজন দাঁড়িয়ে থাকবে" উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩৯, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৯৭)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمُسَيَّبِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ يَعْنِي ابْنَ عِيَاضٍ، ح وَحَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ مَيْسَرَةَ، كِلاَهُمَا عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ، بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، وَعِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، ح وَحَدَّثَنِي عَبْدُ، اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ يَحْيَى حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ، بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَيُّوبَ، ح وَحَدَّثَنَا الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، كُلُّ هَؤُلاَءِ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمَعْنَى حَدِيثِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ . غَيْرَ أَنَّ فِي حَدِيثِ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ وَصَالِحٍ " حَتَّى يَغِيبَ أَحَدُهُمْ فِي رَشْحِهِ إِلَى أَنْصَافِ أُذُنَيْهِ " .
৭০৯৬-(..../...) মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী, সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ, আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, 'আবদুল্লাহ ইবনু জাফার ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ নাসর তাম্মার, হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ...... ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উবাইদুল্লাহর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে মূসা ইবনু উকাহ ও সালিহ (রহঃ) এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে যে, حَتَّى يَغِيبَ أَحَدُهُمْ فِي رَشْحِهِ إِلَى أَنْصَافِ أُذُنَيْهِঅর্থাৎ তাদের মধ্যে কোন কোন ব্যক্তি স্বীয় ঘামে দুই কানের অর্ধেক অবধি ডুবে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪০, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৯৮)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْعَرَقَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَيَذْهَبُ فِي الأَرْضِ سَبْعِينَ بَاعًا وَإِنَّهُ لَيَبْلُغُ إِلَى أَفْوَاهِ النَّاسِ أَوْ إِلَى آذَانِهِمْ " يَشُكُّ ثَوْرٌ أَيَّهُمَا قَالَ .
৭০৯৭-(৬১/২৮৬৩) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের দিন ঘাম জমিনের উপর দিয়ে একশ' চল্লিশ হাত পর্যন্ত উঁচু হয়ে বয়ে যাবে। আর তা মানুষের মুখমণ্ডল পর্যন্ত বা কান পর্যন্ত পৌছবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু'য়ের মধ্যে কোনটির কথা বলেছেন, বর্ণনাকারী সাওর এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪১, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৯৯)
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ، جَابِرٍ حَدَّثَنِي سُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنِي الْمِقْدَادُ بْنُ الأَسْوَدِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تُدْنَى الشَّمْسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنَ الْخَلْقِ حَتَّى تَكُونَ مِنْهُمْ كَمِقْدَارِ مِيلٍ " . قَالَ سُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ فَوَاللَّهِ مَا أَدْرِي مَا يَعْنِي بِالْمِيلِ أَمَسَافَةَ الأَرْضِ أَمِ الْمِيلَ الَّذِي تُكْتَحَلُ بِهِ الْعَيْنُ . قَالَ " فَيَكُونُ النَّاسُ عَلَى قَدْرِ أَعْمَالِهِمْ فِي الْعَرَقِ فَمِنْهُمْ مَنْ يَكُونُ إِلَى كَعْبَيْهِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَكُونُ إِلَى رُكْبَتَيْهِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَكُونُ إِلَى حَقْوَيْهِ وَمِنْهُمْ مَنْ يُلْجِمُهُ الْعَرَقُ إِلْجَامًا " . قَالَ وَأَشَارَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ إِلَى فِيهِ .
৭০৯৮-(৬২/২৮৬৪) হাকাম ইবনু মূসা আবূ সালিহ (রহঃ) ..... মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন সূর্যকে মানুষের সন্নিকটবর্তী করে দেয়া হবে। অবশেষে তা মানুষের এক মাইলের দূরত্বের মাঝে চলে আসবে। বর্ণনাকারী সুলায়ম ইবনু আমির (রহঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ আমি জানি না, مِيلٍ শব্দ দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে, জমিনের দূরত্ব, না ঐ শলাকা যা চোখে সুরমা দেয়া কাজে ব্যবহৃত হয়। মানুষ তাদের আমল অনুসারে ঘর্মের মাঝে ডুবে থাকবে। তাদের কারো ঘাম পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত হবে, কেউ হাঁটু পর্যন্ত ঘামের মধ্যে থাকবে, কেউ কোমর পর্যন্ত আর কারো মুখ পর্যন্ত ঘামে ডুবে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ মুখের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪২, ইসলামিক সেন্টার ৭০০০)
حَدَّثَنِي أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارِ بْنِ عُثْمَانَ، - وَاللَّفْظُ لأَبِي غَسَّانَ وَابْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ الْمُجَاشِعِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ فِي خُطْبَتِهِ " أَلاَ إِنَّ رَبِّي أَمَرَنِي أَنْ أُعَلِّمَكُمْ مَا جَهِلْتُمْ مِمَّا عَلَّمَنِي يَوْمِي هَذَا كُلُّ مَالٍ نَحَلْتُهُ عَبْدًا حَلاَلٌ وَإِنِّي خَلَقْتُ عِبَادِي حُنَفَاءَ كُلَّهُمْ وَإِنَّهُمْ أَتَتْهُمُ الشَّيَاطِينُ فَاجْتَالَتْهُمْ عَنْ دِينِهِمْ وَحَرَّمَتْ عَلَيْهِمْ مَا أَحْلَلْتُ لَهُمْ وَأَمَرَتْهُمْ أَنْ يُشْرِكُوا بِي مَا لَمْ أُنْزِلْ بِهِ سُلْطَانًا وَإِنَّ اللَّهَ نَظَرَ إِلَى أَهْلِ الأَرْضِ فَمَقَتَهُمْ عَرَبَهُمْ وَعَجَمَهُمْ إِلاَّ بَقَايَا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَقَالَ إِنَّمَا بَعَثْتُكَ لأَبْتَلِيَكَ وَأَبْتَلِيَ بِكَ وَأَنْزَلْتُ عَلَيْكَ كِتَابًا لاَ يَغْسِلُهُ الْمَاءُ تَقْرَؤُهُ نَائِمًا وَيَقْظَانَ وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أُحَرِّقَ قُرَيْشًا فَقُلْتُ رَبِّ إِذًا يَثْلَغُوا رَأْسِي فَيَدَعُوهُ خُبْزَةً قَالَ اسْتَخْرِجْهُمْ كَمَا اسْتَخْرَجُوكَ وَاغْزُهُمْ نُغْزِكَ وَأَنْفِقْ فَسَنُنْفِقَ عَلَيْكَ وَابْعَثْ جَيْشًا نَبْعَثْ خَمْسَةً مِثْلَهُ وَقَاتِلْ بِمَنْ أَطَاعَكَ مَنْ عَصَاكَ . قَالَ وَأَهْلُ الْجَنَّةِ ثَلاَثَةٌ ذُو سُلْطَانٍ مُقْسِطٌ مُتَصَدِّقٌ مُوَفَّقٌ وَرَجُلٌ رَحِيمٌ رَقِيقُ الْقَلْبِ لِكُلِّ ذِي قُرْبَى وَمُسْلِمٍ وَعَفِيفٌ مُتَعَفِّفٌ ذُو عِيَالٍ - قَالَ - وَأَهْلُ النَّارِ خَمْسَةٌ الضَّعِيفُ الَّذِي لاَ زَبْرَ لَهُ الَّذِينَ هُمْ فِيكُمْ تَبَعًا لاَ يَتْبَعُونَ أَهْلاً وَلاَ مَالاً وَالْخَائِنُ الَّذِي لاَ يَخْفَى لَهُ طَمَعٌ وَإِنْ دَقَّ إِلاَّ خَانَهُ وَرَجُلٌ لاَ يُصْبِحُ وَلاَ يُمْسِي إِلاَّ وَهُوَ يُخَادِعُكَ عَنْ أَهْلِكَ وَمَالِكَ " . وَذَكَرَ الْبُخْلَ أَوِ الْكَذِبَ " وَالشِّنْظِيرُ الْفَحَّاشُ " . وَلَمْ يَذْكُرْ أَبُو غَسَّانَ فِي حَدِيثِهِ " وَأَنْفِقْ فَسَنُنْفِقَ عَلَيْكَ " .
৭০৯৯-(৬৩/২৮৬৫) আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ইবনু উসমান (রহঃ) ..... ইয়ায ইবনু হিমার আল মুজাশি'ঈ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাহ প্রদানকালে বললেনঃ সাবধান! আমার প্রতিপালক আজ আমাকে যা শিক্ষা প্রদান করেছেন, এ থেকে তোমাদেরকে এমন বিষয়ের শিক্ষা দেয়ার জন্য তিনি আমাকে আদেশ দিয়েছেন, যে বিষয়ে তোমরা সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞাত। তা হলো এই যে, আমি আমার বান্দাদেরকে যে প্রাচুর্য দিয়েছি তা সম্পূর্ণরূপে বৈধ। আমি আমার সকল বান্দাদেরকে একনিষ্ঠ (মুসলিম) হিসেবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের নিকট শইতান এসে তাদেরকে দীন হতে সরিয়ে দেয়। আমি যে সমস্ত জিনিস তাদের জন্য বৈধ করেছিলাম সে তা হারাম করে দেয়। অধিকন্তু সে তাদেরকে আমার সাথে এমন বিষয়ে অংশীদার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করে, যে বিষয়ে আমি কোন প্রমাণ পাঠাইনি। আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীবাসীদের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে কিতাবীদের কিছু লোক ছাড়া আরব-আজম সকলকে অপছন্দ করেছেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাকে পরীক্ষা করার উদ্দেশে এবং তোমার দ্বারা অন্যদেরকে পরীক্ষা করার উদ্দেশে আমি তোমাকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছি এবং তোমার প্রতি আমি এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা পানি কখনো ধুয়ে-মুছে ফেলতে পারবে না। ঘুমন্ত ও জাগ্রত অবস্থায় তুমি সেটা পাঠ করবে।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কুরায়শ সম্প্রদায়ের লোকেদেরকে জ্বালিয়ে দেয়ার জন্য আল্লাহ আমাকে নির্দেশ করেছেন। আমি তখন বললাম, হে আমার প্রতিপালক! আমি যদি এ কাজ করি তবে তারা তো আমার মাথা ভেঙ্গে রুটির মতো টুকরা টুকরা করে ফেলবে। আল্লাহ তা'আলা বললেন, তারা যেমনিভাবে তোমাকে বহিষ্কার করেছে ঠিক তেমনিভাবে তুমিও তাদেরকে বহিষ্কার করে দাও। তুমি তাদের সাথে যুদ্ধ করো। আমি তোমাকে সাহায্য করব। ব্যয় করো আল্লাহর পথে, তোমার জন্যও ব্যয় করা হবে। তুমি একটি সেনাদল প্রেরণ করো, আমি অনুরূপ পাঁচটি বাহিনী প্রেরণ করব। যারা তোমার আনুগত্য করে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যারা তোমার বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের সাথে যুদ্ধ করো।
তিন শ্রেণীর মানুষ জান্নাতী হবে। এক প্রকার মানুষ তারা, যারা রাষ্ট্রীয় কর্ণধার, ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী এবং নেক কাজের তাওফীক লাভে ধন্য লোক। দ্বিতীয় ঐ সকল মানুষ, যারা দয়ালু এবং আত্মীয়-স্বজন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি কোমলচিত্ত। তৃতীয় ঐ শ্রেণীর মানুষ, যারা পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, যাঞ্চাকারী নয় এবং সন্তানাদি সম্পন্ন লোক।
অতঃপর তিনি বললেন, পাঁচ ধরনের মানুষ জাহান্নামী হবে। এক- এমন দুর্বল মানুষ, যাদের মধ্যে পার্থক্য ক্ষমতা নেই, যারা তোমাদের এমন তাবেদার যে, না তারা পরিবার-পরিজন চায়, না ধনৈশ্বর্য। দুই- এমন খিয়ানাতকারী মানুষ, সাধারণ বিষয়েও যে খিয়ানাত করে যার লালসা কারো নিকটই লুক্কায়িত নেই। তিন- ঐ ব্যক্তি, যে তোমার পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদের বিষয়ে তোমার সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা প্রতারণা করে। অবশেষে তিনি কৃপণতা, মিথ্যা বলা এবং গালমন্দ করার কথাও বর্ণনা করেছেন। তবে আবূ গাসসান (রহঃ) তার হাদীসের মাঝে وَأَنْفِقْ فَسَنُنْفِقَ عَلَيْكَ অর্থাৎ "তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় কর, আমিও তোমার জন্য ব্যয় করব" বাক্যটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪৩, ইসলামিক সেন্টার ৭০০১)
وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنَزِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَلَمْ يَذْكُرْ فِي حَدِيثِهِ " كُلُّ مَالٍ نَحَلْتُهُ عَبْدًا حَلاَلٌ " .
৭১০০-(..../....) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসন্ন আল আনায়ী (রহঃ) ..... কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে এ সূত্রে অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনিكُلُّ مَالٍ نَحَلْتُهُ عَبْدًا حَلاَلٌ অর্থাৎ "আমি বান্দাকে যে সম্পদ দিয়েছি তা সম্পূর্ণরূপে বৈধ" কথাটি বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪৪, ইসলামিক সেন্টার ৭০০২)