সহীহ মুসলিম
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، قَالاَ جَمِيعًا حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى ثَلاَثِ طَرَائِقَ رَاغِبِينَ رَاهِبِينَ وَاثْنَانِ عَلَى بَعِيرٍ وَثَلاَثَةٌ عَلَى بَعِيرٍ وَأَرْبَعَةٌ عَلَى بَعِيرٍ وَعَشَرَةٌ عَلَى بَعِيرٍ وَتَحْشُرُ بَقِيَّتَهُمُ النَّارُ تَبِيتُ مَعَهُمْ حَيْثُ بَاتُوا وَتَقِيلُ مَعَهُمْ حَيْثُ قَالُوا وَتُصْبِحُ مَعَهُمْ حَيْثُ أَصْبَحُوا وَتُمْسِي مَعَهُمْ حَيْثُ أَمْسَوْا " .
৭০৯৪-(৫৯/২৮৬১) যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেদেরকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করে সমবেত করা হবে। প্রথম দল আশা পোষণকারী এবং ভীত-সন্ত্রস্ত লোকেদের দল। দ্বিতীয় দলে সেসব লোক যাদের দু'জন থাকবে এক উটের উপর, কোন উটের উপর তিনজন, কোনটির উপর চারজন, আর কোনটির উপরে আরোহিত হবে দশজন। অবিশিষ্টরা হবে সে সকল লোক যাদেরকে আগুন তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। তারা যেখানে রাত্রিযাপন করবে আগুনও তাদের সঙ্গে রাত কাটাবে। তারা যেখানে বিশ্রাম নিবে আগুনও সেখানে বিশ্রাম নিবে। তাদের যেখানে সকাল হবে আগুনও তাদের সঙ্গে থাকবে। আর যেখানে তাদের সন্ধ্যা হবে একই সঙ্গে আগুনও তাদের সাথে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩৮, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৯৬)
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنُونَ ابْنَ سَعِيدٍ - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ( يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ ) قَالَ " يَقُومُ أَحَدُهُمْ فِي رَشْحِهِ إِلَى أَنْصَافِ أُذُنَيْهِ " . وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ الْمُثَنَّى قَالَ " يَقُومُ النَّاسُ " لَمْ يَذْكُرْ يَوْمَ .
৭০৯৫-(৬০/২৮৬২) যুহায়র ইবনু হারব, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ এর ব্যাখ্যায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সেদিন মানুষ অর্ধ কর্ণ পর্যন্ত ঘামে ডুবে দাড়িয়ে থাকবে। ইবনুল মুসান্নার বর্ণনাতে তিনিঃ يوم "যেখানে" শব্দটি উল্লেখ করা ছাড়া শুধু يَقُومُ النَّاسُ "লোকজন দাঁড়িয়ে থাকবে" উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩৯, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৯৭)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمُسَيَّبِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ يَعْنِي ابْنَ عِيَاضٍ، ح وَحَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ مَيْسَرَةَ، كِلاَهُمَا عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ، بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، وَعِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، ح وَحَدَّثَنِي عَبْدُ، اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ يَحْيَى حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ، بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَيُّوبَ، ح وَحَدَّثَنَا الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، كُلُّ هَؤُلاَءِ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمَعْنَى حَدِيثِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ . غَيْرَ أَنَّ فِي حَدِيثِ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ وَصَالِحٍ " حَتَّى يَغِيبَ أَحَدُهُمْ فِي رَشْحِهِ إِلَى أَنْصَافِ أُذُنَيْهِ " .
৭০৯৬-(..../...) মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী, সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ, আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, 'আবদুল্লাহ ইবনু জাফার ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ নাসর তাম্মার, হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ...... ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উবাইদুল্লাহর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে মূসা ইবনু উকাহ ও সালিহ (রহঃ) এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে যে, حَتَّى يَغِيبَ أَحَدُهُمْ فِي رَشْحِهِ إِلَى أَنْصَافِ أُذُنَيْهِঅর্থাৎ তাদের মধ্যে কোন কোন ব্যক্তি স্বীয় ঘামে দুই কানের অর্ধেক অবধি ডুবে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪০, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৯৮)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْعَرَقَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَيَذْهَبُ فِي الأَرْضِ سَبْعِينَ بَاعًا وَإِنَّهُ لَيَبْلُغُ إِلَى أَفْوَاهِ النَّاسِ أَوْ إِلَى آذَانِهِمْ " يَشُكُّ ثَوْرٌ أَيَّهُمَا قَالَ .
৭০৯৭-(৬১/২৮৬৩) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের দিন ঘাম জমিনের উপর দিয়ে একশ' চল্লিশ হাত পর্যন্ত উঁচু হয়ে বয়ে যাবে। আর তা মানুষের মুখমণ্ডল পর্যন্ত বা কান পর্যন্ত পৌছবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু'য়ের মধ্যে কোনটির কথা বলেছেন, বর্ণনাকারী সাওর এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪১, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৯৯)
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ، جَابِرٍ حَدَّثَنِي سُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنِي الْمِقْدَادُ بْنُ الأَسْوَدِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تُدْنَى الشَّمْسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنَ الْخَلْقِ حَتَّى تَكُونَ مِنْهُمْ كَمِقْدَارِ مِيلٍ " . قَالَ سُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ فَوَاللَّهِ مَا أَدْرِي مَا يَعْنِي بِالْمِيلِ أَمَسَافَةَ الأَرْضِ أَمِ الْمِيلَ الَّذِي تُكْتَحَلُ بِهِ الْعَيْنُ . قَالَ " فَيَكُونُ النَّاسُ عَلَى قَدْرِ أَعْمَالِهِمْ فِي الْعَرَقِ فَمِنْهُمْ مَنْ يَكُونُ إِلَى كَعْبَيْهِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَكُونُ إِلَى رُكْبَتَيْهِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَكُونُ إِلَى حَقْوَيْهِ وَمِنْهُمْ مَنْ يُلْجِمُهُ الْعَرَقُ إِلْجَامًا " . قَالَ وَأَشَارَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ إِلَى فِيهِ .
৭০৯৮-(৬২/২৮৬৪) হাকাম ইবনু মূসা আবূ সালিহ (রহঃ) ..... মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন সূর্যকে মানুষের সন্নিকটবর্তী করে দেয়া হবে। অবশেষে তা মানুষের এক মাইলের দূরত্বের মাঝে চলে আসবে। বর্ণনাকারী সুলায়ম ইবনু আমির (রহঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ আমি জানি না, مِيلٍ শব্দ দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে, জমিনের দূরত্ব, না ঐ শলাকা যা চোখে সুরমা দেয়া কাজে ব্যবহৃত হয়। মানুষ তাদের আমল অনুসারে ঘর্মের মাঝে ডুবে থাকবে। তাদের কারো ঘাম পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত হবে, কেউ হাঁটু পর্যন্ত ঘামের মধ্যে থাকবে, কেউ কোমর পর্যন্ত আর কারো মুখ পর্যন্ত ঘামে ডুবে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ মুখের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪২, ইসলামিক সেন্টার ৭০০০)
حَدَّثَنِي أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارِ بْنِ عُثْمَانَ، - وَاللَّفْظُ لأَبِي غَسَّانَ وَابْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ الْمُجَاشِعِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ فِي خُطْبَتِهِ " أَلاَ إِنَّ رَبِّي أَمَرَنِي أَنْ أُعَلِّمَكُمْ مَا جَهِلْتُمْ مِمَّا عَلَّمَنِي يَوْمِي هَذَا كُلُّ مَالٍ نَحَلْتُهُ عَبْدًا حَلاَلٌ وَإِنِّي خَلَقْتُ عِبَادِي حُنَفَاءَ كُلَّهُمْ وَإِنَّهُمْ أَتَتْهُمُ الشَّيَاطِينُ فَاجْتَالَتْهُمْ عَنْ دِينِهِمْ وَحَرَّمَتْ عَلَيْهِمْ مَا أَحْلَلْتُ لَهُمْ وَأَمَرَتْهُمْ أَنْ يُشْرِكُوا بِي مَا لَمْ أُنْزِلْ بِهِ سُلْطَانًا وَإِنَّ اللَّهَ نَظَرَ إِلَى أَهْلِ الأَرْضِ فَمَقَتَهُمْ عَرَبَهُمْ وَعَجَمَهُمْ إِلاَّ بَقَايَا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَقَالَ إِنَّمَا بَعَثْتُكَ لأَبْتَلِيَكَ وَأَبْتَلِيَ بِكَ وَأَنْزَلْتُ عَلَيْكَ كِتَابًا لاَ يَغْسِلُهُ الْمَاءُ تَقْرَؤُهُ نَائِمًا وَيَقْظَانَ وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أُحَرِّقَ قُرَيْشًا فَقُلْتُ رَبِّ إِذًا يَثْلَغُوا رَأْسِي فَيَدَعُوهُ خُبْزَةً قَالَ اسْتَخْرِجْهُمْ كَمَا اسْتَخْرَجُوكَ وَاغْزُهُمْ نُغْزِكَ وَأَنْفِقْ فَسَنُنْفِقَ عَلَيْكَ وَابْعَثْ جَيْشًا نَبْعَثْ خَمْسَةً مِثْلَهُ وَقَاتِلْ بِمَنْ أَطَاعَكَ مَنْ عَصَاكَ . قَالَ وَأَهْلُ الْجَنَّةِ ثَلاَثَةٌ ذُو سُلْطَانٍ مُقْسِطٌ مُتَصَدِّقٌ مُوَفَّقٌ وَرَجُلٌ رَحِيمٌ رَقِيقُ الْقَلْبِ لِكُلِّ ذِي قُرْبَى وَمُسْلِمٍ وَعَفِيفٌ مُتَعَفِّفٌ ذُو عِيَالٍ - قَالَ - وَأَهْلُ النَّارِ خَمْسَةٌ الضَّعِيفُ الَّذِي لاَ زَبْرَ لَهُ الَّذِينَ هُمْ فِيكُمْ تَبَعًا لاَ يَتْبَعُونَ أَهْلاً وَلاَ مَالاً وَالْخَائِنُ الَّذِي لاَ يَخْفَى لَهُ طَمَعٌ وَإِنْ دَقَّ إِلاَّ خَانَهُ وَرَجُلٌ لاَ يُصْبِحُ وَلاَ يُمْسِي إِلاَّ وَهُوَ يُخَادِعُكَ عَنْ أَهْلِكَ وَمَالِكَ " . وَذَكَرَ الْبُخْلَ أَوِ الْكَذِبَ " وَالشِّنْظِيرُ الْفَحَّاشُ " . وَلَمْ يَذْكُرْ أَبُو غَسَّانَ فِي حَدِيثِهِ " وَأَنْفِقْ فَسَنُنْفِقَ عَلَيْكَ " .
৭০৯৯-(৬৩/২৮৬৫) আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ইবনু উসমান (রহঃ) ..... ইয়ায ইবনু হিমার আল মুজাশি'ঈ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাহ প্রদানকালে বললেনঃ সাবধান! আমার প্রতিপালক আজ আমাকে যা শিক্ষা প্রদান করেছেন, এ থেকে তোমাদেরকে এমন বিষয়ের শিক্ষা দেয়ার জন্য তিনি আমাকে আদেশ দিয়েছেন, যে বিষয়ে তোমরা সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞাত। তা হলো এই যে, আমি আমার বান্দাদেরকে যে প্রাচুর্য দিয়েছি তা সম্পূর্ণরূপে বৈধ। আমি আমার সকল বান্দাদেরকে একনিষ্ঠ (মুসলিম) হিসেবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের নিকট শইতান এসে তাদেরকে দীন হতে সরিয়ে দেয়। আমি যে সমস্ত জিনিস তাদের জন্য বৈধ করেছিলাম সে তা হারাম করে দেয়। অধিকন্তু সে তাদেরকে আমার সাথে এমন বিষয়ে অংশীদার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করে, যে বিষয়ে আমি কোন প্রমাণ পাঠাইনি। আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীবাসীদের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে কিতাবীদের কিছু লোক ছাড়া আরব-আজম সকলকে অপছন্দ করেছেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাকে পরীক্ষা করার উদ্দেশে এবং তোমার দ্বারা অন্যদেরকে পরীক্ষা করার উদ্দেশে আমি তোমাকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছি এবং তোমার প্রতি আমি এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা পানি কখনো ধুয়ে-মুছে ফেলতে পারবে না। ঘুমন্ত ও জাগ্রত অবস্থায় তুমি সেটা পাঠ করবে।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কুরায়শ সম্প্রদায়ের লোকেদেরকে জ্বালিয়ে দেয়ার জন্য আল্লাহ আমাকে নির্দেশ করেছেন। আমি তখন বললাম, হে আমার প্রতিপালক! আমি যদি এ কাজ করি তবে তারা তো আমার মাথা ভেঙ্গে রুটির মতো টুকরা টুকরা করে ফেলবে। আল্লাহ তা'আলা বললেন, তারা যেমনিভাবে তোমাকে বহিষ্কার করেছে ঠিক তেমনিভাবে তুমিও তাদেরকে বহিষ্কার করে দাও। তুমি তাদের সাথে যুদ্ধ করো। আমি তোমাকে সাহায্য করব। ব্যয় করো আল্লাহর পথে, তোমার জন্যও ব্যয় করা হবে। তুমি একটি সেনাদল প্রেরণ করো, আমি অনুরূপ পাঁচটি বাহিনী প্রেরণ করব। যারা তোমার আনুগত্য করে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যারা তোমার বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের সাথে যুদ্ধ করো।
তিন শ্রেণীর মানুষ জান্নাতী হবে। এক প্রকার মানুষ তারা, যারা রাষ্ট্রীয় কর্ণধার, ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী এবং নেক কাজের তাওফীক লাভে ধন্য লোক। দ্বিতীয় ঐ সকল মানুষ, যারা দয়ালু এবং আত্মীয়-স্বজন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি কোমলচিত্ত। তৃতীয় ঐ শ্রেণীর মানুষ, যারা পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, যাঞ্চাকারী নয় এবং সন্তানাদি সম্পন্ন লোক।
অতঃপর তিনি বললেন, পাঁচ ধরনের মানুষ জাহান্নামী হবে। এক- এমন দুর্বল মানুষ, যাদের মধ্যে পার্থক্য ক্ষমতা নেই, যারা তোমাদের এমন তাবেদার যে, না তারা পরিবার-পরিজন চায়, না ধনৈশ্বর্য। দুই- এমন খিয়ানাতকারী মানুষ, সাধারণ বিষয়েও যে খিয়ানাত করে যার লালসা কারো নিকটই লুক্কায়িত নেই। তিন- ঐ ব্যক্তি, যে তোমার পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদের বিষয়ে তোমার সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা প্রতারণা করে। অবশেষে তিনি কৃপণতা, মিথ্যা বলা এবং গালমন্দ করার কথাও বর্ণনা করেছেন। তবে আবূ গাসসান (রহঃ) তার হাদীসের মাঝে وَأَنْفِقْ فَسَنُنْفِقَ عَلَيْكَ অর্থাৎ "তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় কর, আমিও তোমার জন্য ব্যয় করব" বাক্যটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪৩, ইসলামিক সেন্টার ৭০০১)
وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنَزِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَلَمْ يَذْكُرْ فِي حَدِيثِهِ " كُلُّ مَالٍ نَحَلْتُهُ عَبْدًا حَلاَلٌ " .
৭১০০-(..../....) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসন্ন আল আনায়ী (রহঃ) ..... কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে এ সূত্রে অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনিكُلُّ مَالٍ نَحَلْتُهُ عَبْدًا حَلاَلٌ অর্থাৎ "আমি বান্দাকে যে সম্পদ দিয়েছি তা সম্পূর্ণরূপে বৈধ" কথাটি বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪৪, ইসলামিক সেন্টার ৭০০২)
حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ هِشَامٍ، - صَاحِبِ الدَّسْتَوَائِيِّ - حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ ذَاتَ يَوْمٍ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَقَالَ فِي آخِرِهِ قَالَ يَحْيَى قَالَ شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ مُطَرِّفًا فِي هَذَا الْحَدِيثِ .
৭১০১-(..../...) আবদুর রহমান ইবনু বিশর আল আবদী (রহঃ) ..... ইয়ায ইবনু হিমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ দিলেন। তারপর তিনি পুরো হাদীসটি বর্ণনা করলেন এবং শেষ ভাগে বলেছেন, কাতাদাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি মুতারিফকে বলতে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪৫, ইসলামিক সেন্টার ৭০০৩)
وَحَدَّثَنِي أَبُو عَمَّارٍ، حُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ مَطَرٍ، حَدَّثَنِي قَتَادَةُ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ، أَخِي بَنِي مُجَاشِعٍ قَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ خَطِيبًا فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمِثْلِ حَدِيثِ هِشَامٍ عَنْ قَتَادَةَ وَزَادَ فِيهِ " وَإِنَّ اللَّهَ أَوْحَى إِلَىَّ أَنْ تَوَاضَعُوا حَتَّى لاَ يَفْخَرَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ وَلاَ يَبْغِي أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ " . وَقَالَ فِي حَدِيثِهِ " وَهُمْ فِيكُمْ تَبَعًا لاَ يَبْغُونَ أَهْلاً وَلاَ مَالاً " . فَقُلْتُ فَيَكُونُ ذَلِكَ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ قَالَ نَعَمْ وَاللَّهِ لَقَدْ أَدْرَكْتُهُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَرْعَى عَلَى الْحَىِّ مَا بِهِ إِلاَّ وَلِيدَتُهُمْ يَطَؤُهَا .
৭১০২-(৬৪/...) আবু আম্মার হুসায়ন ইবনু হুরায়স (রহঃ) ..... বানী মুজাশি' এর ভাই ইয়ায ইবনু হিমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ প্রদানকালে আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা আমাকে আদেশ দিয়েছেন। তারপর তিনি কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে হিশাম এর সানাদে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে এ কথা বর্ধিত উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা আমার প্রতি ওয়াহী নাযিল করেছেন যে, তোমরা বিনয়ী হও, কারো উপর কেউ যেন গর্ব না করে এবং কারো প্রতি যেন কেউ যুলম না করে। এ হাদীসে এটাও রয়েছে যে, তারা তোমাদের এমন অনুগামী যে, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ সন্ধান করে না।
কাতাদাহ (রহঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আবু আবদুল্লাহ! এমনটি কি হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। জাহিলিয়াতের যুগে আমি তাদেরকে পেয়েছি। আর এরূপ এক গোত্রে কোন এক লোক ছিল। সে বকর চরাতো। দাসী ছাড়া সেখানে তার কাছে কেউ যেত না। তার সাথেই সে সহবাস করত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪৬, ইসলামিক সেন্টার ৭০০৪)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا مَاتَ عُرِضَ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ يُقَالُ هَذَا مَقْعَدُكَ حَتَّى يَبْعَثَكَ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .
৭১০৩-(৬৫/২৮৬৬) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কোন লোকের মৃত্যুর পর সকাল-সন্ধ্যা তার সম্মুখে তার (পরকালীন) ঠিকানা পেশ করা হয়। যদি সে জান্নাতবাসী হয় তবে জান্নাতবাসীদের থেকে আর যদি জাহান্নামী হয় তবে জাহান্নামীদের থেকে। আর তাকে বলা হয়, এটাই তোমার বাসস্থান। কিয়ামতে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪৭, ইসলামিক সেন্টার ৭০০৫)
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا مَاتَ الرَّجُلُ عُرِضَ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَالْجَنَّةُ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَالنَّارُ " . قَالَ " ثُمَّ يُقَالُ هَذَا مَقْعَدُكَ الَّذِي تُبْعَثُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .
৭১০৪-(৬৬/....) আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তখন সকাল-সন্ধ্যা তার কাছে তার (পরকালীন) ঠিকানা পেশ করা হয়। যদি সে জান্নাতবাসী হয় তবে জান্নাত আর যদি জাহান্নামী হয় তবে জাহান্নাম। তারপর তাকে বলা হয়, এটাই তোমার ঐ বাসস্থান যেখানে তোমাকে কিয়ামতের দিন পাঠানো হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪৮, ইসলামিক সেন্টার ৭০০৬)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ، قَالَ ابْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، قَالَ وَأَخْبَرَنَا سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ أَبُو سَعِيدٍ وَلَمْ أَشْهَدْهُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَكِنْ حَدَّثَنِيهِ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ قَالَ بَيْنَمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي حَائِطٍ لِبَنِي النَّجَّارِ عَلَى بَغْلَةٍ لَهُ وَنَحْنُ مَعَهُ إِذْ حَادَتْ بِهِ فَكَادَتْ تُلْقِيهِ وَإِذَا أَقْبُرٌ سِتَّةٌ أَوْ خَمْسَةٌ أَوْ أَرْبَعَةٌ - قَالَ كَذَا كَانَ يَقُولُ الْجُرَيْرِيُّ - فَقَالَ " مَنْ يَعْرِفُ أَصْحَابَ هَذِهِ الأَقْبُرِ " . فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا . قَالَ " فَمَتَى مَاتَ هَؤُلاَءِ " . قَالَ مَاتُوا فِي الإِشْرَاكِ . فَقَالَ " إِنَّ هَذِهِ الأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا فَلَوْلاَ أَنْ لاَ تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ الَّذِي أَسْمَعُ مِنْهُ " . ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَقَالَ " تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ النَّارِ " . قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ النَّارِ فَقَالَ " تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ " . قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ . قَالَ " تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ " . قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ قَالَ " تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ " . قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ .
৭১০৫-(৬৭/২৮৬৭) ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব ও আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সূত্রে আবু সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। আবু সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত ছিলাম না, বরং আমাকে যায়দ ইবনু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজ্জার গোত্রের একটি প্রাচীর ঘেরা বাগানে তার একটি খচ্চরের উপর আরোহী ছিলেন। এ সময় আমরা তার সাথে ছিলাম। অকস্মাৎ তা লাফিয়ে উঠল এবং তাকে ফেলে দেয়ার উপক্রম করল। দেখা গেল, সেখানে ছয়টি কিংবা পাঁচটি অথবা চারটি কবর রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, জুরাইরী এমনটিই বর্ণনা করতেন। অতঃপর তিনি প্রশ্ন করলেন, এ কবরবাসীদেরকে কে চিনে? তখন এক ব্যক্তি বললেন, আমি চিনি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তারা কখন মৃত্যুবরণ করেছে? তিনি বললেন, তারা শিরকের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ উম্মাতকে তাদের কবরের মধ্যে পরীক্ষা করা হবে। তোমরা মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা বর্জন করবে, এ আশঙ্কা না হলে আমি আল্লাহর নিকট দু'আ করতাম যেন তিনি তোমাদেরকেও কবরের আযাব শুনান যা আমি শুনতে পাচ্ছি।
তারপর তিনি আমাদের প্রতি মনোনিবেশ করে বললেন, তোমরা সবাই জাহান্নামের আযাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। সহাবাগণ বললেন, জাহান্নামের শাস্তি হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তারপর তিনি বললেন, তোমরা সকলে কবরের শাস্তি হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। সহাবাগণ বললেন, কবরের আযাব হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার ফিতনাহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। তারা বললেন, প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার ফিতনাহ্ হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তিনি আবারো বললেন, তোমরা দাজ্জালের ফিতনাহ হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। সহাবাগণ বললেন, দাজ্জালের ফিতনাহ হতে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪৯, ইসলামিক সেন্টার ৭০০৭)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَوْلاَ أَنْ لاَ تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ " .
৭১০৬-(৬৮/২৮৬৮) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা মৃতদেরকে দাফন করা বর্জন করবে এ ভয় না থাকলে আমি আল্লাহর কাছে দুআ করতাম যেন তিনি তোমাদেরকে কবরের কিছু আযাব শুনিয়ে দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫০, ইসলামিক সেন্টার ৭০০৮)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، كُلُّهُمْ عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ جَمِيعًا عَنْ يَحْيَى الْقَطَّانِ، - وَاللَّفْظُ لِزُهَيْرٍ - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي عَوْنُ، بْنُ أَبِي جُحَيْفَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْبَرَاءِ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ مَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ فَسَمِعَ صَوْتًا فَقَالَ " يَهُودُ تُعَذَّبُ فِي قُبُورِهَا " .
৭১০৭-(৬৯/২৮৬৯) আবু বকর ইবনু আবু শাইবাহ্, উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশশার, যুহায়র ইবনু হারব, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবু আইয়্যুব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যাস্ত হওয়ার পর বের হলেন। এমন সময় তিনি একটি শব্দ শুনতে পেয়ে বললেন, ইয়াহুদী লোকেদেরকে তাদের কবরের মধ্যে আযাব দেয়া হচ্ছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫১, ইসলামিক সেন্টার ৭০০৯)
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ " . قَالَ " يَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ فَيَقُولاَنِ لَهُ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ " . قَالَ " فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ " . قَالَ " فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ بِهِ مَقْعَدًا مِنَ الْجَنَّةِ " . قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَيَرَاهُمَا جَمِيعًا " . قَالَ قَتَادَةُ وَذُكِرَ لَنَا أَنَّهُ يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا وَيُمْلأُ عَلَيْهِ خَضِرًا إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ .
৭১০৮-(৭০/২৮৭০) আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরের মধ্যে রেখে তার সঙ্গী-সাথীরা সেখান থেকে ফিরে আসে এবং সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায় তখন তার কাছে দু'জন ফেরেশতা এসে তাকে উঠিয়ে বসান। তারপর তাকে তারা জিজ্ঞেস করে, এ লোকটির ব্যাপারে তুমি কি বলতে? মু'মিন বান্দা তখন বলে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তার রসূল। তখন তাকে বলা হয়, জাহান্নামে তুমি তোমার আসন দেখে নাও। আল্লাহ তা'আলা তোমার এ আসনকে জান্নাতের আসনের দ্বারা পরিবর্তন করে দিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তখন সে তার উভয় আসন অবলোকন করে নেয়।
বর্ণনাকারী কাতাদাহ্ (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট এ কথাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতঃপর তার কবরকে (দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে) সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেয়া হয় এবং সবুজ শ্যামল গাছের দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেয়া হয় কিয়ামত পর্যন্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫২, ইসলামিক সেন্টার ৭০১০)
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِنْهَالٍ الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْمَيِّتَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ إِنَّهُ لَيَسْمَعُ خَفْقَ نِعَالِهِمْ إِذَا انْصَرَفُوا " .
৭১০৯-(৭১/...) মুহাম্মাদ ইবনু মিনহাল আয যারীর (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃতদেরকে যখন তার কবরে রাখা হয় তখন সে তার সঙ্গীসাথীদের ফিরে আসার সময় তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৩, ইসলামিক সেন্টার ৭০১১)
حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، - يَعْنِي ابْنَ عَطَاءٍ - عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ " . فَذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ شَيْبَانَ عَنْ قَتَادَةَ .
৭১১০-(৭২/...) 'আমর ইবনু যুরারাহ্ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বান্দাকে যখন তার কবরে রেখে তার সঙ্গী-সাথীগণ প্রত্যাবর্তন করে। অতঃপর সাঈদ (রহঃ) শাইবান এর সানাদে কাতাদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৪, ইসলামিক সেন্টার ৭০১২)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارِ بْنِ عُثْمَانَ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " ( يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ ) قَالَ " نَزَلَتْ فِي عَذَابِ الْقَبْرِ فَيُقَالُ لَهُ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ وَنَبِيِّيَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم . فَذَلِكَ قَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ ( يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ ) " .
৭১১১-(৭৩/২৮৭১) মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ইবনু উসমান আল আবদী (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বাণীঃ "যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন" সম্পর্কে বলেন, এ আয়াত কবরের আযাব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। কবরে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তোমার রব কে? সে বলে, আমার রব আল্লাহ এবং আমার নবী মুহাম্মাদ। এটাই আল্লাহর নিম্নবর্ণিত বাণীর মর্ম, "যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৫, ইসলামিক সেন্টার ৭০১৩)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنُونَ ابْنَ مَهْدِيٍّ - عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، ( يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ ) قَالَ نَزَلَتْ فِي عَذَابِ الْقَبْرِ .
৭১১২-(৭৪/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও আবু বকর ইবনু নাফি (রহঃ) ...... বারা ইবনু আযিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে আল্লাহর বাণীঃ "যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন"- (সূরা ইবরাহীম ১৪ঃ ২৭) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, এ আয়াতটি কবরের শাস্তির ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৬, ইসলামিক সেন্টার ৭০১৪)
حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا بُدَيْلٌ، عَنْ عَبْدِ، اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ " إِذَا خَرَجَتْ رُوحُ الْمُؤْمِنِ تَلَقَّاهَا مَلَكَانِ يُصْعِدَانِهَا " . قَالَ حَمَّادٌ فَذَكَرَ مِنْ طِيبِ رِيحِهَا وَذَكَرَ الْمِسْكَ . قَالَ " وَيَقُولُ أَهْلُ السَّمَاءِ رُوحٌ طَيِّبَةٌ جَاءَتْ مِنْ قِبَلِ الأَرْضِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْكِ وَعَلَى جَسَدٍ كُنْتِ تَعْمُرِينَهُ . فَيُنْطَلَقُ بِهِ إِلَى رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ يَقُولُ انْطَلِقُوا بِهِ إِلَى آخِرِ الأَجَلِ " . قَالَ " وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا خَرَجَتْ رُوحُهُ - قَالَ حَمَّادٌ وَذَكَرَ مِنْ نَتْنِهَا وَذَكَرَ لَعْنًا - وَيَقُولُ أَهْلُ السَّمَاءِ رُوحٌ خَبِيثَةٌ جَاءَتْ مِنْ قِبَلِ الأَرْضِ . قَالَ فَيُقَالُ انْطَلِقُوا بِهِ إِلَى آخِرِ الأَجَلِ " . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَرَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَيْطَةً كَانَتْ عَلَيْهِ عَلَى أَنْفِهِ هَكَذَا .
৭১১৩-(৭৫/২৮৭২) উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুমিন লোকের রূহু কবয করার পর দু'জন ফেরেশতা এসে তার রূহ আকাশের দিকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এখানে ঐ রূহের সুগন্ধি এবং মিশকের কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আকাশের বাসিন্দারা বলতে থাকে, এক পবিত্ৰ আত্মা পৃথিবী হতে আগমন করেছে। আল্লাহ তোমার প্রতি এবং তোমার আবাদকৃত শরীরের প্রতি করুণা বর্ষণ করুন। তারপর তাকে তার প্রতিপালকের নিকট নিয়ে যায়। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আর যখন কোন কাফির লোকের রূহ বের হয়- বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আবু হুরাইরাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এখানে তার দুর্গন্ধ এবং তার প্রতি অভিসম্পাতের কথা উল্লেখ করেছেন। তখন আকাশমণ্ডলীর অধিবাসীরা বলতে থাকে, এক অপবিত্র আত্মা দুনিয়া হতে এসেছে। অতঃপর বলা হয়, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আবু হুরাইরাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়ে জড়ানো একটি পাতলা কাপড় দ্বারা নিজের নাকটি এভাবে ধরলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৭, ইসলামিক সেন্টার ৭০১৫)