হাদীস বিএন


সহীহ মুসলিম





সহীহ মুসলিম (881)


حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي أَيُّوبَ - حَدَّثَنَا كَعْبُ بْنُ عَلْقَمَةَ، عَنْ بِلاَلِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَمْنَعُوا النِّسَاءَ حُظُوظَهُنَّ مِنَ الْمَسَاجِدِ إِذَا اسْتَأْذَنُوكُمْ " فَقَالَ بِلاَلٌ وَاللَّهِ لَنَمْنَعُهُنَّ . فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ أَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَقُولُ أَنْتَ لَنَمْنَعُهُنَّ .




৮৮১-(১৪০/...) হারূন ইবনু 'আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... বিলাল ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার অধিকারে তোমরা বাধা দিও না। তারা যদি তোমাদের নিকট অনুমতি চায়। বিলাল বললেনঃ আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আমরা তাদেরকে বাধা দিব। ইবনু উমার উত্তরে বললেনঃ আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশ সম্পর্কে অবহিত করছি, আর তুমি বলছঃ তাদেরকে অবশ্যই বাধা দিব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৭৭, ইসলামিক সেন্টারঃ ৮৯০)









সহীহ মুসলিম (882)


حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَخْرَمَةُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ زَيْنَبَ الثَّقَفِيَّةَ، كَانَتْ تُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " إِذَا شَهِدَتْ إِحْدَاكُنَّ الْعِشَاءَ فَلاَ تَطَيَّبْ تِلْكَ اللَّيْلَةَ " .




৮৮২-(১৪১/৪৪৩) হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী (রহঃ) ..... সাকীফ গোত্রের যাইনাব আস্ সাকাফিয়্যাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের (মহিলাদের) কেউ যখন ইশার সালাতে শামিল হতে চায়, ঐ রাতে সে যেন সুগন্ধি ব্যবহার না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৭৮, ইসলামিক সেন্টারঃ ৮৯১)









সহীহ মুসলিম (883)


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، حَدَّثَنِي بُكَيْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْنَبَ، امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَتْ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا شَهِدَتْ إِحْدَاكُنَّ الْمَسْجِدَ فَلاَ تَمَسَّ طِيبًا " .




৮৮৩-(১৪২/...) আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহর স্ত্রী যাইনাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বললেনঃ তোমাদের কোন মহিলা যখন মসজিদে উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে, সে যেন সুগন্ধি স্পর্শ না করে (আসে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৭৯, ইসলামিক সেন্টারঃ ৮৯২)









সহীহ মুসলিম (884)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُصَيْفَةَ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيُّمَا امْرَأَةٍ أَصَابَتْ بَخُورًا فَلاَ تَشْهَدْ مَعَنَا الْعِشَاءَ الآخِرَةَ " .




৮৮৪-(১৪৩/৪৪৪) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন স্ত্রীলোক সুগন্ধি দ্রব্যের ধোয়া গ্রহণ করে, সে যেন আমাদের সাথে ইশার সালাতে শামিল না হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮০, ইসলামিক সেন্টারঃ ৮৯৩)









সহীহ মুসলিম (885)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - عَنْ يَحْيَى، - وَهُوَ ابْنُ سَعِيدٍ - عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهَا سَمِعَتْ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَقُولُ لَوْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ الْمَسْجِدَ كَمَا مُنِعَتْ نِسَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ . قَالَ فَقُلْتُ لِعَمْرَةَ أَنِسَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مُنِعْنَ الْمَسْجِدَ قَالَتْ نَعَمْ .




৮৮৫-(১৪৪/৪৪৫) আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ ইবনু কানাব (রহঃ) ..... 'আবদুর রহমান-এর কন্যা আমরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছেন। মহিলারা (সাজসজ্জার যেসব) নতুন পন্থা বের করে নিয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এগুলো দেখলে বনী ইসরাঈলের মহিলাদের মতো তাদেরকেও মসজিদে আসতে নিষেধ করতেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেন, আমি আমরাহকে জিজ্ঞেস করলাম, ইসরাঈল বংশের মহিলাদের কি মসজিদে আসতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮১, ইসলামিক সেন্টারঃ ৮৯৪)









সহীহ মুসলিম (886)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ يَعْنِي الثَّقَفِيَّ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، كُلُّهُمْ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ .




৮৮৬-(.../...) মুহাম্মদ ইবনু আল মুসান্না, আমর আন নাকিদ ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) এর উল্লেখিত সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮২, ইসলামিক সেন্টারঃ ৮৯৫)









সহীহ মুসলিম (887)


حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ وَعَمْرٌو النَّاقِدُ جَمِيعًا عَنْ هُشَيْمٍ، - قَالَ ابْنُ الصَّبَّاحِ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، - أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ ( وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا ) قَالَ نَزَلَتْ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُتَوَارٍ بِمَكَّةَ فَكَانَ إِذَا صَلَّى بِأَصْحَابِهِ رَفَعَ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ فَإِذَا سَمِعَ ذَلِكَ الْمُشْرِكُونَ سَبُّوا الْقُرْآنَ وَمَنْ أَنْزَلَهُ وَمَنْ جَاءَ بِهِ فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم ( وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ ) فَيَسْمَعَ الْمُشْرِكُونَ قِرَاءَتَكَ ( وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا ) عَنْ أَصْحَابِكَ أَسْمِعْهُمُ الْقُرْآنَ وَلاَ تَجْهَرْ ذَلِكَ الْجَهْرَ وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلاً يَقُولُ بَيْنَ الْجَهْرِ وَالْمُخَافَتَةِ .




৮৮৭-(১৪৫/৪৪৬) আবূ জাফার মুহাম্মাদ ইবনুস্ সাব্বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তা'আলার বাণী- "নিজেদের সালাত খুব উচ্চস্বরেও পড়বে না এবং খুব নীচুস্বরেও পড়বে না, (এর মাঝামাঝি আওয়াজে পড়বে)"- (সূরাহ বনী ইসরাঈল/ইসরা ১৭ঃ ১১০)। তিনি এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, এ আয়াত এমন এক সময় নাযিল হয় যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় (লোকচক্ষুর অন্তরালে) গোপন জীবন-যাপন করছিলেন। অতঃপর তিনি সাহাবাদের নিয়ে যখন সালাত আদায় করতেন উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করতেন। মুশরিকরা যখন তা শুনতে পেত তারা কুরআনের অবতীর্ণকারী এবং এটা নিয়ে আগমনকারীকে গালি দিত। মহান আল্লাহ তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললেনঃ "তোমার সালাতে উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করো না।" তাহলে মুশরিকরা তোমার কিরাআত শুনে ফেলবে। "আর নীচু স্বরেও পাঠ করবে না"- তাহলে তোমার সাহাবারা তোমার কুরআন পাঠ শুনতে পাবে না। অবশ্য উচ্চস্বরেও পাঠ করবে না, বরং এ দুয়ের মাঝামাঝি আওয়াজে পাঠ করবে। অর্থাৎ- উচ্চৈঃস্বর ও নিম্নস্বরের মাঝামাঝি স্বরে পাঠ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৩, ইসলামিক সেন্টারঃ ৮৯৬)









সহীহ মুসলিম (888)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ ( وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا ) قَالَتْ أُنْزِلَ هَذَا فِي الدُّعَاءِ .




৮৮৮-(১৪৬/৪৪৭) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণী- "নিজেদের সালাত খুব উচ্চস্বরেও পড়বে না এবং নীচুস্বরেও পড়বে না"- এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা দু'আ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। (অর্থাৎ- দু'আ খুব উচ্চস্বরেও করবে না এবং খুব নিম্নস্বরেও করবে না)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৪, ইসলামিক সেন্টারঃ ৮৯৭)









সহীহ মুসলিম (889)


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، وَوَكِيعٌ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، كُلُّهُمْ عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ .




৮৮৯-(.../...) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ)-এর সূত্রে উপরোল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৫, ইসলামিক সেন্টারঃ ৮৯৮)









সহীহ মুসলিম (890)


وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ كُلُّهُمْ عَنْ جَرِيرٍ، - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، - عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ ( لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ ) قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا نَزَلَ عَلَيْهِ جِبْرِيلُ بِالْوَحْىِ كَانَ مِمَّا يُحَرِّكُ بِهِ لِسَانَهُ وَشَفَتَيْهِ فَيَشْتَدُّ عَلَيْهِ فَكَانَ ذَلِكَ يُعْرَفُ مِنْهُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ( لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ ) أَخْذَهُ ( إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ ) إِنَّ عَلَيْنَا أَنْ نَجْمَعَهُ فِي صَدْرِكَ . وَقُرْآنَهُ فَتَقْرَأُهُ ( فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ ) قَالَ أَنْزَلْنَاهُ فَاسْتَمِعْ لَهُ ( إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ ) أَنْ نُبَيِّنَهُ بِلِسَانِكَ فَكَانَ إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيلُ أَطْرَقَ فَإِذَا ذَهَبَ قَرَأَهُ كَمَا وَعَدَهُ اللَّهُ .




৮৯০-(১৪৭/৪৪৮) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণী- "তাড়াতাড়ি শিখে নেয়ার জন্যে আপনি দ্রুত ওয়াহী আবূত্তি করবেন না"- (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৬)। এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিবরীল (আঃ) যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে ওয়াহী অবতীর্ণ করতেন তিনি তা আয়ত্ত করার জন্য জিহ্বা ও ঠোট নাড়তেন। এটা তার জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ত। তার অবস্থা থেকেই এটা বুঝা যেত। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করলেনঃ "এ ওয়াহী খুব তাড়াতাড়ি মুখস্থ করার জন্য নিজের জিহবা নাড়াবেন না। এটা মুখস্থ করিয়ে দেয়া এবং পড়িয়ে দেয়া আমারই দায়িত্ব"- (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৬-১৭)। অর্থাৎ- এটা তোমার অন্তরে পুঞ্জিভূত করে দেয়া এবং তোমাকে পড়িয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব। "অতএব আমি যখন তা পাঠ করতে থাকি তখন তুমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকো"- (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৮)। অর্থাৎ- এ ওয়াহী আমি অবতীর্ণ করছি, তুমি তা মনোযোগ সহকারে শুন। এর তাৎপর্য বুঝিয়ে দেয়া আমাদেরই দায়িত্ব। "তোমার মুখ দিয়ে তা বলানো আমার দায়িত্ব"- (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৯)। এরপর থেকে যখন জিবরীল (আঃ) তার কাছে ওয়াহী নিয়ে আসতেন, তিনি মনোযোগ সহকারে তা শুনতেন। তিনি চলে যাওয়ার পর মহান আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা পাঠ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৬, ইসলামিক সেন্টারঃ ৮৯৯)









সহীহ মুসলিম (891)


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ ( لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ ) قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعَالِجُ مِنَ التَّنْزِيلِ شِدَّةً كَانَ يُحَرِّكُ شَفَتَيْهِ - فَقَالَ لِيَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَا أُحَرِّكُهُمَا كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحَرِّكُهُمَا . فَقَالَ سَعِيدٌ أَنَا أُحَرِّكُهُمَا كَمَا كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يُحَرِّكُهُمَا . فَحَرَّكَ شَفَتَيْهِ - فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ( لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ * إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ ) قَالَ جَمْعَهُ فِي صَدْرِكَ ثُمَّ تَقْرَأُهُ ( فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ ) قَالَ فَاسْتَمِعْ وَأَنْصِتْ ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا أَنْ تَقْرَأَهُ قَالَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيلُ اسْتَمَعَ فَإِذَا انْطَلَقَ جِبْرِيلُ قَرَأَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَمَا أَقْرَأَهُ .




৮৯১-(১৪৮/...) কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণীঃ "এ ওয়াহী তাড়াহুড়া করে মুখস্থ করার জন্য নিজের জিহবা নাড়াবেন না" - (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৬)। এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াহী নাযিল হওয়াকালীন সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হতেন। তিনি তা আয়ত্ব করার জন্য নিজের ঠোঁটদ্বয় নাড়তেন। সাঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেভাবে তার ঠোঁট নাড়তেন- আমি তোমাকে তেমন করে দেখাচ্ছি। অতঃপর তিনি ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার ঠোট নাড়ালেন। সাঈদ (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যেভাবে ঠোট নেড়েছেন আমিও তেমন করে দেখাচ্ছি।

অতঃপর তিনি সাঈদ (রহঃ) নিজের ঠোঁট নাড়লেন, মহান আল্লাহ নাযিল করলেনঃ "এ ওয়াহী তাড়াহুড়া করে মুখস্থ করার জন্য বারবার নিজের জিহবা নাড়িও না। এটা মুখস্থ করিয়ে দেয়া এবং পড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার" - (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৬-১৭)। অর্থাৎ- তোমার অন্তরে তা গেঁথে দেয়া এবং তোমার মুখে তা পাঠ করিয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব। অর্থাৎ- "অতএব আমি যখন তা পাঠ করতে থাকি তখন তুমি তার অনুসরণ করতে থাকো" - (সূরাহ আল কিয়ামাহ ৭৫ঃ ১৮)। তুমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকো এবং চুপচাপ থাকো। এরপর তা তোমার মুখ দিয়ে পড়িয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব।" এরপর থেকে জিবরীল (আঃ) ওয়াহী নিয়ে আসলে তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। জিবরীল (আঃ) চলে যাওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পাঠ হুবহু পড়তেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৭, ইসলামিক সেন্টারঃ ৯০০)









সহীহ মুসলিম (892)


حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَا قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْجِنِّ وَمَا رَآهُمُ انْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي طَائِفَةٍ مِنْ أَصْحَابِهِ عَامِدِينَ إِلَى سُوقِ عُكَاظٍ وَقَدْ حِيلَ بَيْنَ الشَّيَاطِينِ وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ وَأُرْسِلَتْ عَلَيْهِمُ الشُّهُبُ فَرَجَعَتِ الشَّيَاطِينُ إِلَى قَوْمِهِمْ فَقَالُوا مَا لَكُمْ قَالُوا حِيلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ وَأُرْسِلَتْ عَلَيْنَا الشُّهُبُ . قَالُوا مَا ذَاكَ إِلاَّ مِنْ شَىْءٍ حَدَثَ فَاضْرِبُوا مَشَارِقَ الأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا فَانْظُرُوا مَا هَذَا الَّذِي حَالَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ . فَانْطَلَقُوا يَضْرِبُونَ مَشَارِقَ الأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا فَمَرَّ النَّفَرُ الَّذِينَ أَخَذُوا نَحْوَ تِهَامَةَ - وَهُوَ بِنَخْلٍ - عَامِدِينَ إِلَى سُوقِ عُكَاظٍ وَهُوَ يُصَلِّي بِأَصْحَابِهِ صَلاَةَ الْفَجْرِ فَلَمَّا سَمِعُوا الْقُرْآنَ اسْتَمَعُوا لَهُ وَقَالُوا هَذَا الَّذِي حَالَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ . فَرَجَعُوا إِلَى قَوْمِهِمْ فَقَالُوا يَا قَوْمَنَا ( إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا * يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا ) فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى نَبِيِّهِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم ( قُلْ أُوحِيَ إِلَىَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ ) .




৮৯২-(১৪৯/৪৪৯) শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিনদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করেননি এবং তিনি তাদের দেখেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার একদল সাহাবাকে নিয়ে উকায বাজারের উদ্দেশে রওনা হলেন। এ সময় আকাশমণ্ডলী থেকে তথ্য সংগ্রহকারী শয়তানদের জন্য আকাশমণ্ডলীর সংবাদ শোনা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এবং তাদের উপর উল্কা (জ্বলন্ত আগুনের টুকরা) নিক্ষেপ করা হচ্ছিল। শয়তানেরা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসলে তারা জিজ্ঞেস করল, তোমাদের কি হয়েছে? তারা বলল, ঊর্ধ্বলোকের তথ্য ও আমাদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আমাদের উপর উল্কা নিক্ষেপ করা হয়েছে। সম্প্রদায়ের লোকেরা বলল, এর কারণ হচ্ছে- নিশ্চয়ই নতুন কিছু ঘটছে। পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবী বিচরণ করে দেখো তোমাদের মাঝে ও আসমানের খবরাদির মাঝে কোন জিনিস প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দলে দলে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবী ঘুরে এর কারণ উদঘাটন করার জন্য বেরিয়ে পড়ল।

এদের মধ্যে একদল তিহামাহ প্রদেশের পথ ধরে উকায বাজারের উদ্দেশে বের হলো। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাখলাহ নামক স্থানে তার সাহাবাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। তারা যখন কুরআন পড়া শুনতে পেল, খুব মনোযোগ দিয়ে শুনল। অতঃপর তারা বলল, আমাদের এবং আসমানের খবরাদির মাঝখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার এটাই একমাত্র কারণ। তারা নিজেদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে বলল, 'হে আমাদের জাতির লোকেরা! "আমরা এক অতীব আশ্চর্যজনক পাঠ (কুরআন) শুনেছি। তা কল্যাণের পথের দিকে হিদায়াত দান করে। এজন্য আমরা এর উপর ঈমান এনেছি। আমরা আর কখনো আমাদের প্রতিপালকের সাথে কাউকে শারীক করব না"- (সূরাহ জিন ৭২ঃ ১-২)। এ ঘটনার পর আল্লাহ তা'আলা তার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ করে বললেনঃ "বলো আমাকে ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে (কুরআন) শুনেছে....."- (সূরাহ জিন ৭২ঃ ১) নাযিল করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৮, ইসলামিক সেন্টারঃ ৯০১)









সহীহ মুসলিম (893)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ دَاوُدَ، عَنْ عَامِرٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَلْقَمَةَ هَلْ كَانَ ابْنُ مَسْعُودٍ شَهِدَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ الْجِنِّ قَالَ فَقَالَ عَلْقَمَةُ أَنَا سَأَلْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ فَقُلْتُ هَلْ شَهِدَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ الْجِنِّ قَالَ لاَ وَلَكِنَّا كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَفَقَدْنَاهُ فَالْتَمَسْنَاهُ فِي الأَوْدِيَةِ وَالشِّعَابِ فَقُلْنَا اسْتُطِيرَ أَوِ اغْتِيلَ - قَالَ - فَبِتْنَا بِشَرِّ لَيْلَةٍ بَاتَ بِهَا قَوْمٌ فَلَمَّا أَصْبَحْنَا إِذَا هُوَ جَاءٍ مِنْ قِبَلِ حِرَاءٍ - قَالَ - فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَدْنَاكَ فَطَلَبْنَاكَ فَلَمْ نَجِدْكَ فَبِتْنَا بِشَرِّ لَيْلَةٍ بَاتَ بِهَا قَوْمٌ . فَقَالَ " أَتَانِي دَاعِي الْجِنِّ فَذَهَبْتُ مَعَهُ فَقَرَأْتُ عَلَيْهِمُ الْقُرْآنَ " . قَالَ فَانْطَلَقَ بِنَا فَأَرَانَا آثَارَهُمْ وَآثَارَ نِيرَانِهِمْ وَسَأَلُوهُ الزَّادَ فَقَالَ " لَكُمْ كُلُّ عَظْمٍ ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ يَقَعُ فِي أَيْدِيكُمْ أَوْفَرَ مَا يَكُونُ لَحْمًا وَكُلُّ بَعَرَةٍ عَلَفٌ لِدَوَابِّكُمْ " . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَلاَ تَسْتَنْجُوا بِهِمَا فَإِنَّهُمَا طَعَامُ إِخْوَانِكُمْ " .




৮৯৩-(১৫০/৪৫০) মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আমির (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি "আলকামাকে প্রশ্ন করলাম, জিনদের সাথে সাক্ষাতের রাতে ইবনু মাসউদ (রাঃ) কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলেন? রাবী বলেন, "আলকামাহ (রহঃ) বললেন, আমি ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, জিনদের সাথে সাক্ষাতের রাতে আপনাদের মধ্যে কেউ কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলেন? তিনি উত্তরে বললেনঃ না, তবে আমরা এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। আমরা তাকে হারিয়ে ফেললাম। আমরা পাহাড়ের উপত্যকায় এবং গিরিপথে তাকে খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না। আমরা মনে করলাম, হয় জিনেরা তাকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে অথবা কেউ তাকে গোপনে মেরে ফেলেছে। রাবী ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এ রাতটি আমাদের জন্য এতই দুর্ভাগ্যজনক ছিল যে, মনে হয় কোন জাতির উপর এমন রাত কখনো আসেনি। যখন ভোর হলো, আমরা তাকে হেরা পর্বতের দিক থেকে আসতে দেখলাম।

আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা আপনাকে হারিয়ে ফেললাম এবং অনেক খোজাখুজি করেও আপনার কোন সন্ধান পেলাম না। তাই সারারাত আমরা চরম দুশ্চিন্তায় কাটিয়েছি। মনে হয় এরূপ দুর্ভাগ্যজনক রাত কোন জাতির উপর আসেনি। তিনি বলেনঃ জিনদের পক্ষ থেকে এক আহবানকারী আমাকে নিতে আসে। আমি তার সাথে চলে গেলাম এবং তাদেরকে কুরআন পাঠ করে শুনালাম। রাবী ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তিনি আমাদেরকে সাথে করে নিয়ে গিয়ে তাদের বিভিন্ন নিদর্শন এবং আগুনের চিহ্ন দেখালেন। তারা তার কাছে খাদ্যের জন্য প্রার্থনা করল। তিনি বললেন, যে জন্তু আল্লাহর নামে যাবাহ করা হয়েছে তার হাড় তোমাদের খাদ্য। তোমাদের হাতের স্পর্শে তা পুনরায় গোশতে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। উটের বিষ্ঠা তোমাদের পশুর খাদ্য। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আমাদের) বললেনঃ এ দু'টাে জিনিস দিয়ে শৌচকার্য করো না। কেননা এ দু'টাে তোমাদের ভাইদের (জিনদের) খাদ্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৯, ইসলামিক সেন্টারঃ ৯০২)









সহীহ মুসলিম (894)


وَحَدَّثَنِيهِ عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ دَاوُدَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ إِلَى قَوْلِهِ وَآثَارَ نِيرَانِهِمْ .




৮৯৪-(.../...) 'আলী ইবনু হুজর আস সা'দী (রহঃ) ..... দাউদ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে- "তাদের আগুনের চিহ্ন" পর্যন্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯০, ইসলামিক সেন্টারঃ ৯০৩)









সহীহ মুসলিম (895)


قَالَ الشَّعْبِيُّ وَسَأَلُوهُ الزَّادَ وَكَانُوا مِنْ جِنِّ الْجَزِيرَةِ . إِلَى آخِرِ الْحَدِيثِ مِنْ قَوْلِ الشَّعْبِيِّ مُفَصَّلاً مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ .




৮৯৫-(.../...) শা'বী (রহঃ) বলেন, এরা তার কাছে খাদ্যের জন্য আবেদন করে। এরা জায়ীরাতুল আরবের জ্বিন ছিল। শা'বীর এ বর্ণনা পর্যন্ত হাদীস শেষ হয়েছে। আবদুল্লাহর হাদীস থেকে এ সূত্রে বর্ণনা কিছুটা ব্যাপক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯০, ইসলামিক সেন্টারঃ ৯০৩)









সহীহ মুসলিম (896)


وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ دَاوُدَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى قَوْلِهِ وَآثَارَ نِيرَانِهِمْ . وَلَمْ يَذْكُرْ مَا بَعْدَهُ .




৮৯৬-(১৫১/...) আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ সূত্রে "তাদের আগুনের চিহ্ন" বক্তব্য পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে এবং এর পরের অংশ উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯১, ইসলামিক সেন্টারঃ ৯০৪)









সহীহ মুসলিম (897)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمْ أَكُنْ لَيْلَةَ الْجِنِّ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَوَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ مَعَهُ .




৮৯৭-(১৫২/...) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জিনদের সাথে সাক্ষাতের রাতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলাম না। আফসোস! আমি যদি তার সাথে থাকতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯২, ইসলামিক সেন্টারঃ ৯০৪)









সহীহ মুসলিম (898)


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَرْمِيُّ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ مَعْنٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ، سَأَلْتُ مَسْرُوقًا مَنْ آذَنَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِالْجِنِّ لَيْلَةَ اسْتَمَعُوا الْقُرْآنَ فَقَالَ حَدَّثَنِي أَبُوكَ - يَعْنِي ابْنَ مَسْعُودٍ - أَنَّهُ آذَنَتْهُ بِهِمْ شَجَرَةٌ .




৮৯৮-(১৫৩/...) সাঈদ ইবনু মুহাম্মাদ আল জারমী ও উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... মা'ন (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার কাছে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি মাসরূককে জিজ্ঞেস করলাম, জিনের রাত, কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জানিয়ে দিল যে, তারা এসে তার কুরআন পাঠ শুনছে? মাসরূক বলেছেন, আমাকে তোমার পিতা অর্থাৎ- ইবনু মাসউদ বলেছেন যে, গাছই তাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জানিয়ে দিয়েছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯৩, ইসলামিক সেন্টারঃ ৯০৫)









সহীহ মুসলিম (899)


وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنَزِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ الْحَجَّاجِ، - يَعْنِي الصَّوَّافَ - عَنْ يَحْيَى، - وَهُوَ ابْنُ أَبِي كَثِيرٍ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، وَأَبِي، سَلَمَةَ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِنَا فَيَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَتَيْنِ وَيُسْمِعُنَا الآيَةَ أَحْيَانًا وَكَانَ يُطَوِّلُ الرَّكْعَةَ الأُولَى مِنَ الظُّهْرِ وَيُقَصِّرُ الثَّانِيَةَ وَكَذَلِكَ فِي الصُّبْحِ .




৮৯৯-(১৫৪/৪৫১) মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না আল আনায়ী (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সাথে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তিনি যুহর ও আসরের প্রথম দুরাকাআতে সূরাহ আল ফাতিহাহ এবং এর সাথে আরো দুটি সূরাহ পাঠ করতেন। কখনো কখনো তিনি আমাদেরকে শুনিয়ে আয়াত পাঠ করতেন। তিনি যুহরের প্রথম রাকাআত দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকাআত সংক্ষিপ্ত করতেন। ফজরের সালাতেও তিনি এরূপ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯৪, ইসলামিক সেন্টারঃ ৯০৬)









সহীহ মুসলিম (900)


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، وَأَبَانُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ وَيُسْمِعُنَا الآيَةَ أَحْيَانًا وَيَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُخْرَيَيْنِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ .




৯০০-(১৫৫/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহর ও আসরের দুরাকাআতে সূরাহ্ আল ফাতিহার সাথে একটি করে সূরাহ পাঠ করতেন। তিনি কখনো কখনো আমাদেরকে শুনিয়ে আয়াত পাঠ করতেন। আর শেষের দুরাকাআত তিনি কেবল সূরাহ ফাতিহাই পাঠ করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৯৫, ইসলামিক সেন্টারঃ ৯০৭)