হাদীস বিএন


মিশকাতুল মাসাবিহ





মিশকাতুল মাসাবিহ (1141)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أَمَا يَخْشَى الَّذِي يَرْفَعُ رَأْسَهُ قَبْلَ الْإِمَامِ أَنْ يُحَوِّلَ اللَّهُ رَأْسَهُ رَأْسَ حمَار"




১১৪১-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক ইমামের পূর্বে (রুকূ’ সিজদা্ হতে) মাথা উঠায় সে-কি এ বিষয়ের ভয় করে না যে, আল্লাহ তা’আলা তার মাথাকে পরিবর্তন করে গাধার মাথায় পরিণত করবেন। (বুখারী, মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (691) و مسلم (114/ 427)









মিশকাতুল মাসাবিহ (1142)


عَنْ عَلِيٍّ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِذَا أَتَى أَحَدُكُمْ الصَّلَاةَ وَالْإِمَامُ عَلَى حَالٍ فَلْيَصْنَعْ كَمَا يَصْنَعُ الْإِمَامُ" . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ




১১৪২-[৭] ’আলী ও মু’আয ইবনু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোন লোক যখন জামা’আতের সালাতে শরীক হওয়ার জন্যে আসবে তখন ইমাম যে অবস্থায় থাকবে ও যে কাজ করবে সেও সে কাজ করবে। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ الترمذي (591) ٭ الحجاج بن أرطاۃ ضعیف مدلس و، للحدیث شواھد ضعیفۃ عند أبي داود (506) وغیرہ۔









মিশকাতুল মাসাবিহ (1143)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِذَا جِئْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ وَنَحْنُ سُجُودٌ فَاسْجُدُوا وَلَا تَعُدُّوهُ شَيْئًا وَمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً فقد أدْرك الصَّلَاة" . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد




১১৪৩-[৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা জামা’আতে শরীক হওয়ার জন্যে সালাতে আসলে আমাদেরকে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) অবস্থায় পেলে তোমরাও সাজদায় যাও। আর এ সাজদাকে (কোন রাক্’আত) হিসেবে গণ্য করবে না। তবে যে লোক (ইমামের সাথে) এক রাক্’আতপ্রাপ্ত হবে সে সম্পূর্ণ সালাত পেয়ে গেল। (আবূ দাঊদ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ أبو داود (893) ٭ فیہ یحیی بن أبي سلیمان:، ضعفہ البخاري و الجمھور و لہ شاھد ضعیف فی السلسلۃ الصحیحۃ للألباني (1188)









মিশকাতুল মাসাবিহ (1144)


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ صَلَّى لِلَّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فِي جَمَاعَةٍ يُدْرِكُ التَّكْبِيرَةَ الْأُولَى كُتِبَ لَهُ بَرَاءَتَانِ: بَرَاءَةٌ مِنَ النَّارِ وَبَرَاءَةٌ مِنَ النِّفَاق . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ




১১৪৪-[৯] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে লোক চল্লিশ দিন পর্যন্ত তাকবীর তাহরীমাসহ(মাসেহ) আল্লাহর জন্যে জামা’আতে সালাত আদায় করেন তার জন্যে দু’ প্রকার মুক্তি তার জন্য বরাদ্ধ করা হয়। এক জাহান্নাম থেকে মুক্তি। আর দ্বিতীয় মুনাফিক্বী থেকে মুক্তি। (তিরমিযী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ الترمذي (241) ٭ حبیب بن أبي ثابت مدلس و عنعن و، للحدیث شواھد ضعیفۃ عند أحمد (155/3) و بحشل الواسطي في تاریخ واسط (ص65۔ 66)، وغیرھما۔









মিশকাতুল মাসাবিহ (1145)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ رَاحَ فَوَجَدَ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا أَعْطَاهُ اللَّهُ مِثْلَ أَجْرِ مَنْ صَلَّاهَا وَحَضَرَهَا لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ م أُجُورهم شَيْئا" . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ




১১৪৫-[১০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে লোক উযূ করেছে এবং ভালভাবে সে তার উযূ সমাপ্ত করেছে। তারপরে মসজিদে গিয়েছে। সেখানে লোকদেরকে সালাত আদায় করে ফেলা অবস্থায় পেয়েছে। আল্লাহ তা’আলা তাকে ঐ সালাত আদায়কারীদের সমান সাওয়াব দান করবেন যারা সেখানে হাযির হয়ে সালাত পুরা করেছে। অথচ তাতে তাদের পুণ্য একটুও কমতি হবে না। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * حسن، رواہ أبو داود (564) والنسائي (2/ 111 ح 856) [و صححہ، الحاکم (1/ 208، 209) ووافقہ الذہبي ولہ شاھد۔ ]









মিশকাতুল মাসাবিহ (1146)


وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ وَقَدْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: "أَلَا رَجُلٌ يَتَصَدَّقُ عَلَى هَذَا فَيُصَلِّيَ مَعَهُ؟" فَقَامَ رَجُلٌ فيصلى مَعَه . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد




১১৪৬-[১১] আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, একদিন এক লোক মসজিদে এমন সময় আসলেন, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করে ফেলেছেন। তিনি (তাকে দেখে) বললেন, এমন কোন মানুষ কি নেই যে তাকে সদাক্বাহ্ (সাদাকা) দিবে তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করে। এ মুহূর্তে এক লোক দাঁড়ালেন এবং তার সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ الترمذي (220 وقال: حدیث حسن۔) و أبو داود (574) [و، صححہ ابن خزیمۃ (1632) و ابن حبان (436، 438) والحاکم (1/ 209) ووافقہ الذھبي۔ ]، ٭ ھذا الحدیث دلیل صریح علٰی مشروعیۃ تعدد الجماعات فی المسجد برضا الإمام و أھل، المسجد، و تؤیدہ أدلۃ أخری و لم یثبت خلافہ والحمد للّٰہ۔









মিশকাতুল মাসাবিহ (1147)


عَن عبيد الله بن عبد الله بن عتبَة قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْتُ أَلَا تُحَدِّثِينِي عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ بَلَى ثَقُلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ: "أصلى النَّاس؟" قُلْنَا لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَهُمْ يَنْتَظِرُونَكَ فَقَالَ: "ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ" قَالَتْ فَفَعَلْنَا فَاغْتَسَلَ فَذَهَبَ لِيَنُوءَ فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: "أَصَلَّى النَّاسُ؟" قُلْنَا لَا هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: "ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ" قَالَتْ فَقَعَدَ فَاغْتَسَلَ ثُمَّ ذَهَبَ لِيَنُوءَ فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ: "أَصَلَّى النَّاسُ؟" قُلْنَا لَا هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ: "ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ" فَقَعَدَ فَاغْتَسَلَ ثُمَّ ذَهَبَ لِيَنُوءَ فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ: "أَصَلَّى النَّاسُ" . قُلْنَا لَا هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالنَّاسُ عُكُوفٌ فِي الْمَسْجِدِ يَنْتَظِرُونَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِصَلَاةِ الْعِشَاءِ الْآخِرَةِ. فَأَرْسَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ بِأَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ فَأَتَاهُ الرَّسُولُ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُكَ أَنْ تُصَلِّيَ بِالنَّاسِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَكَانَ رَجُلًا رَقِيقًا يَا عُمَرُ صَلِّ بِالنَّاسِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَنْتَ أَحَقُّ بِذَلِكَ فَصَلَّى أَبُو بَكْرٍ تِلْكَ الْأَيَّامَ ثُمَّ إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وجد من نَفْسِهِ خِفَّةً وَخَرَجَ بَيْنَ رَجُلَيْنِ أَحَدُهُمَا الْعَبَّاسُ لِصَلَاةِ الظُّهْرِ وَأَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ فَلَمَّا رَآهُ أَبُو بَكْرٍ ذَهَبَ لِيَتَأَخَّرَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَنْ لَا يَتَأَخَّرَ قَالَ: "أَجْلِسَانِي إِلَى جَنْبِهِ" فَأَجْلَسَاهُ إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم قَاعد. قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: فَدَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ فَقُلْتُ لَهُ أَلَا أَعْرِضُ عَلَيْكَ مَا حَدَّثتنِي بِهِ عَائِشَةُ عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ هَاتِ فَعَرَضْتُ عَلَيْهِ حَدِيثَهَا فَمَا أَنْكَرَ مِنْهُ شَيْئًا غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ أَسَمَّتْ لَكَ الرَّجُلَ الَّذِي كَانَ مَعَ الْعَبَّاسِ قلت لَا قَالَ هُوَ عَليّ رَضِي الله عَنهُ




১১৪৭-[১২] ’উবায়দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, একদিন আমি ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর দরবারে হাযির হয়ে বললাম। আপনি কি আমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসুস্থ অবস্থার (সালাত আদায় করার ব্যাপারে) কিছু বলবেন না? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ! (বলব শুনো)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই অসুস্থ হয়ে পড়লেন সালাতের সময়ের কথা জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রসূল! তারা আপনার অপেক্ষা করছে্ (এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার জন্যে পাত্র ভরে পানি আনো। ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমরা তাঁর জন্যে পাত্র ভরে পানি আনলাম। সে পানি দিয়ে গোসল করলেন। চাইলেন দাঁড়াতে। (কিন্তু দুর্বলতার কারণে) তিনি বেহুঁশ্ হয়ে পড়লেন। হুঁশ ফিরে আসলে তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন। লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম না। এখনো পড়েনি। লোকেরা আপনার অপেক্ষায় আছে হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, আমার জন্যে পাত্র ভরে পানি নিয়ে আসো।
’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে বসলেন। আবার গোসল করলেন। চেয়েছিলেন দাঁড়াতে। কিন্তু (এ সময়) বেহুঁশ হয়ে পড়লেন, যখন হুঁশ হয়েছে আবার জিজ্ঞেস করেছেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, এখনো পড়েনি। লোকেরা আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন পাত্র ভরে পানি নিয়ে আসো। আমরা পানি নিয়ে আসলাম। তিনি বসলেন, গোসল করলেন। তারপর আবার যখন উঠতে চাইলেন বেহুঁশ হয়ে গেলেন। যখন হুঁশ ফিরে আসলো তখন বললেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না; তারা আপনার অপেক্ষায় আছে, হে আল্লাহর রসূল। লোকেরা মসজিদে বসে বসে ’ঈশার সালাত পড়ার জন্য আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে দিয়ে (বিলাল) আবূ বকরের নিকট খবর পাঠালেন লোকদের সালাত পড়িয়ে দেয়ার জন্যে। তাই দূত [বেলাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] তাঁর নিকট এলেন। বললেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে লোকদের সালাত আদায় করার জন্যে আদেশ করেছেন। আবূ বকর ছিলেন কোমলমতি মানুষ।
তিনি এ কথা শুনে ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বললেন। ’উমার! তুমিই লোকদের সালাত পড়িয়ে দাও। কিন্তু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন। আপনিই সালাত আদায় করান এর জন্যে আপনিই সবচেয়ে বেশী উপযুক্ত। এরপর আবূ বকর রসূলের অসুখের এ সময়ে (সতের ওয়াক্ত) সালাত সাহাবীদেরকে নিয়ে আদায় করালেন। একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু সুস্থতাবোধ করলে দু’লোকের ওপর ভর করে (এদের একজন ইবনু ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ছিলেন) যুহরের সালাতে (মসজিদে গমন করলেন। তখন আবূ বকর সালাত পড়াচ্ছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর আগমন টের পেয়ে আবূ বকর পেছনে সরে আসতে চাইলেন। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশারা দিয়ে তাঁকে পেছনে সরে আসতে নিষেধ করলেন। যাদের ওপরে ভর করে তিনি মসজিদে এসেছিলেন তাদের বললেন। আমাকে আবূ বকরের পাশে বসিয়ে দাও। ফলে তারা তাঁকে আবূ বকরের পাশে বসিয়ে দিলেন। তিনি বসে বসে সালাত পড়াতে লাগলেন।
’উবায়দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) (এ হাদীসের বর্ণনাকারী) বলেন। ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এ হাদীস শুনে আমি ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস-এর নিকট গেলাম। তাঁকে আমি বললাম, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর অসুখের সময়ের যে হাদীসটি ’আয়িশার নিকট শুনলাম তা-কি আপনার নিকট বর্ণনা করব না? ইবনু ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হ্যাঁ, শুনাও। তাই আমি তাঁর সামনে ’আয়িশার নিকট শুনা হাদীসটি বর্ণনা করলাম। ইবনু ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এ হাদীসের কোন কথা অস্বীকার করলেন না। অবশ্য তিনি বললেন, ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তোমাকে এ লোকের নাম বলেননি যিনি ইবনু ’আব্বাসের সঙ্গে ছিলেন! আমি বললাম, না, বলেননি। ইবনু ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন। তিনি ছিলেন ’আলী। (বুখারী, মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (687) و مسلم (90/ 418)









মিশকাতুল মাসাবিহ (1148)


وَعَن أبي هُرَيْرَة أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: "مَنْ أَدْرَكَ الرَّكْعَةَ فَقَدْ أَدْرَكَ السَّجْدَةَ وَمَنْ فَاتَتْهُ قِرَاءَةُ أُمِّ الْقُرْآنِ فقد فَاتَهُ خير كثير" . رَوَاهُ مَالك




১১৪৮-[১৩] আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে লোক (সালাতে) রাকআত পেয়েছে সে সিজদাও পেয়েছে। আর যে লোকের সূরা আল ফাতিহাহ্ পড়া ছুটে গিয়েছে, অনেক সাওয়াব তার থেকে ছুটে গিয়েছে। (মুওয়াত্তা মালিক)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ مالک (1/ 11ح 17) ٭ السند منقطع لأنہ من، البلاغات و لقولہ: ’’و من فاتتہ۔ ۔ ۔ خیر کثیر‘‘ شواھد عند البخاري و مسلم، وغیرھما فھو صحیح۔









মিশকাতুল মাসাবিহ (1149)


وَعنهُ قَالَ: الَّذِي يَرْفَعُ رَأْسَهُ وَيَخْفِضُهُ قَبْلَ الْإِمَامِ فَإِنَّمَا ناصيته بيد الشَّيْطَان . رَوَاهُ مَالك




১১৪৯-[১৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে লোক (রুকূ’ ও সাজদায়) ইমামের পূর্বে নিজের মাথা উঠিয়ে ফেলে অথবা ঝুঁকিয়ে ফেলে তবে মনে করতে হবে তার কপাল শায়ত্বনের (শয়তানের) হাতে। (মালিক)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ مالک (1/ 92 ح 205) [وانظر مسند الحمیدي بتحقیقي، (995)] ٭ ملیح بن عبد اللہ السعدي مجھول الحال و ثقہ ابن حبان وحدہ۔









মিশকাতুল মাসাবিহ (1150)


عَنْ جَابِرٍ قَالَ: كَانَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ يَأْتِي قومه فَيصَلي بهم




১১৫০- জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু’আয ইবনু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন। এরপর নিজের গোত্রে এসে তাদের সালাত আদায় করাতেন। (বুখারী, মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (700) و مسلم (181/ 465)









মিশকাতুল মাসাবিহ (1151)


وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ مُعَاذٌ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعِشَاءَ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى قَوْمِهِ فَيُصَلِّي بِهِمُ الْعِشَاءَ وَهِيَ لَهُ نَافِلَة. أخرجه الشَّافِعِي فِي مُسْنده والطَّحَاوِي وَالدَّارَقُطْنِيّ وَالْبَيْهَقِيّ




১১৫১-[২] উক্ত রাবী [জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু’আয (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে জামা’আতে ’ইশার সালাত আদায় করতেন। তারপর নিজ জাতির কাছে ফিরে এসে তাদের আবার ’ইশার সালাত আদায় করাতেন। তাঁর জন্যে তা ছিল নফল। (শাফি’ঈ তাঁর মুসনাদে, ত্বহাবী, দারাকুত্বনী ও বায়হাক্বী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ الدارقطني (1/ 274 ح 1062، 1063) والبیھقي (3/ 86)، والشافعي في مسندہ (ص 57 ح237)









মিশকাতুল মাসাবিহ (1152)


عَن يزِيد بن الْأسود قَالَ: شَهِدْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَجَّتَهُ فَصَلَّيْتُ مَعَهُ صَلَاةَ الصُّبْحِ فِي مَسْجِدِ الْخَيْفِ فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ وَانْحَرَفَ فَإِذَا هُوَ بِرَجُلَيْنِ فِي آخِرِ الْقَوْمِ لَمْ يُصَلِّيَا مَعَهُ قَالَ: "عَلَيَّ بِهِمَا" فَجِيءَ بِهِمَا تُرْعَدُ فَرَائِصُهُمَا فَقَالَ: "مَا مَنَعَكُمَا أَنْ تُصَلِّيَا مَعَنَا؟" . فَقَالَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا قَدْ صَلَّيْنَا فِي رِحَالِنَا. قَالَ: "فَلَا تَفْعَلَا إِذَا صَلَّيْتُمَا فِي رِحَالِكُمَا ثُمَّ أَتَيْتُمَا مَسْجِدَ جَمَاعَةٍ فَصَلِّيَا مَعَهُمْ فَإِنَّهَا لَكُمَا نَافِلَةٌ" . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ




১১৫২-[৩] ইয়াযীদ ইবনু আস্ওয়াদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হাজ্জে (বিদায় হাজ্জে) গিয়েছিলাম। সে সময় আমি একদিন তাঁর সঙ্গে মসজিদে খায়েফে ফাজ্-রের (ফজরের) সালাত আদায় করেছি। তিনি সালাত সমাপ্ত করে পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখলেন জামা’আতের শেষ প্রান্তে দু’লোক বসে আছে। যারা তাঁর সঙ্গে (জামা’আতে) সালাত আদায় করেনি। তাদের দেখে তিনি বললেন তাদেরকে আমার নিকট নিয়ে আসো। তাদের এ অবস্থায়ই রসূলের নিকট হাযির করা হলো। ভয়ে তখন তাদের কাঁধের মাংস (মাংস/মাংস/গোসত) থরথর করে কাঁপছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে প্রশ্ন করলেন। আমাদের সঙ্গে সালাত আদায় করতে তোমাদেরকে কে বাধা দিয়েছে? তারা আরয করলো! হে আল্লাহর রসূল! আমরা আমাদের বাড়িতে সালাত আদায় করে এসেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা শুনে বললেন ভবিষ্যতে এ কাজ আর করবে না। তোমরা ঘরে সালাত আদায় করে আসার পরও মসজিদে এসে জামা’আত চলছে দেখলে জামা’আতে সালাত আদায় করে নিবে। এ সালাত তোমাদের জন্যে নফল হয়ে যাবে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ الترمذي (219 وقال: حسن صحیح۔) و أبو داود، (575) والنسائي (112/2، 113 ح859) [و صححہ ابن خزیمۃ (1279) و ابن حبان (434، 435)]









মিশকাতুল মাসাবিহ (1153)


وَعَن بسر بن محجن عَن أَبِيه أَنَّهُ كَانَ فِي مَجْلِسٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُذِّنَ بِالصَّلَاةِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّى وَرَجَعَ وَمِحْجَنٌ فِي مَجْلِسِهِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَا مَنَعَكَ أَنْ تُصَلِّيَ مَعَ النَّاسِ؟ أَلَسْتَ بِرَجُلٍ مُسْلِمٍ؟" فَقَالَ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلَكِنِّي كُنْتُ قَدْ صَلَّيْتُ فِي أَهْلِي فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِذَا جِئْتَ الْمَسْجِدَ وَكُنْتَ قَدْ صَلَّيْتَ فَأُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَصَلِّ مَعَ النَّاسِ وَإِنْ كُنْتَ قَدْ صَلَّيْتَ" . رَوَاهُ مَالك وَالنَّسَائِيّ




১১৫৩-[৪] বুসর ইবনু মিহজান (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (তার পিতা মিহজান) এক সভায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন। এমন সময় আযান হয়ে গেল। তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্যে দাঁড়িয়ে গেলেন ও সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে ফিরে আসলেন। দেখলেন মিহজান তার স্থানে বসে আছে। তিনি তাকে প্রশ্ন করলেন। মানুষের সঙ্গে (জামা’আতে) সালাত আদায় করতে তোমাকে কোন জিনিস নিষেধ করেছিল? তুমি কি মুসলিম না। মিহজান বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! আমি মুসলিম। কিন্তু আমি আমার পরিবারের সঙ্গে সালাত আদায় করে এসেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তোমার বাড়িতে সালাত আদায় করে আসার পরে মসজিদে এসে সালাত হচ্ছে দেখলে লোকদের সঙ্গে (জামা’আতে) সালাত আদায় করবে তুমি (এর পূর্বে) সালাত আদায় করে থাকলেও। (মালিক, নাসায়ী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ مالک (1/ 132 ح 294) والنسائي (2/ 112 ح 858)، [و صححہ ابن حبان (الإحسان: 2398) والحاکم (1/ 244)]









মিশকাতুল মাসাবিহ (1154)


وَعَنْ رَجُلٍ مِنْ أَسَدِ بْنِ خُزَيْمَةَ أَنَّهُ سَأَلَ أَبَا أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيَّ قَالَ: يُصَلِّي أَحَدُنَا فِي مَنْزِلِهِ الصَّلَاةَ ثُمَّ يَأْتِي الْمَسْجِدَ وَتُقَامُ الصَّلَاةُ فَأُصَلِّي مَعَهُمْ فَأَجِدُ فِي نَفْسِي شَيْئًا من ذَلِك فَقَالَ أَبُو أَيُّوبَ: سَأَلَنَا عَنْ ذَلِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "فَذَلِكَ لَهُ سَهْمُ جَمْعٍ" . رَوَاهُ مَالِكٌ وَأَبُو دَاوُد




১১৫৪-[৫] আসাদ ইবনু খুযায়মাহ্ গোত্রের এক লোক থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ আইয়ূব আল আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে প্রশ্ন করলেন। আমাদের কেউ বাড়িতে সালাত আদায় করে মসজিদে আসলে (জামা’আতে) সালাত হচ্ছে দেখলে তাদের সাথে সালাত পড়ি। কিন্তু আমি এ ব্যাপারে আমার মনে খটকা অনুভব করি। আবূ আইয়ূব আল আনসারী জবাবে বললেন, আমিও এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করেছি। তিনি বলেছেন, এটা (দ্বিতীয়বার সালাত আদায় করা) তার জন্যে জামা’আতের অংশ সমতুল্য। (এতে খটকার কিছু নেই)। (মালিক, আবূ দাঊদ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ مالک (1/ 133 ح 297) و أبو داود (578) ٭ رجل، من أسد بن خزیمۃ: لم أعرفہ۔









মিশকাতুল মাসাবিহ (1155)


وَعَن يَزِيدَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: جِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ فَجَلَسْتُ وَلَمْ أَدْخُلْ مَعَهُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَآنِي جَالِسا فَقَالَ: "ألم تسلم يَا زيد؟" قُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ أَسْلَمْتُ. قَالَ: "وَمَا مَنَعَكَ أَنْ تَدْخُلَ مَعَ النَّاسِ فِي صَلَاتِهِمْ؟" قَالَ: إِنِّي كُنْتُ قَدْ صَلَّيْتُ فِي مَنْزِلِي أَحْسَبُ أَنْ قَدْ صَلَّيْتُمْ. فَقَالَ: "إِذَا جِئْتَ الصَّلَاةَ فَوَجَدْتَ النَّاسَ فَصَلِّ مَعَهُمْ وَإِنْ كُنْتَ قَدْ صَلَّيْتَ تَكُنْ لَكَ نَافِلَةً وَهَذِه مَكْتُوبَة" . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد




১১৫৫-[৬] ইয়াযীদ ইবনু ’আমির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। সে সময় তিনি লোকজন নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আমি (এক পাশে) বসে থাকলাম। তাঁদের সঙ্গে জামা’আতে অংশগ্রহণ করলাম না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করে এদিকে ফিরে আমাকে বসা অবস্থায় দেখে বললেন। তুমি কি মুসলিম না, হে ইয়াযীদ! সালাত আদায় করনি। আমি বললাম। হ্যাঁ! আমি মুসলিম হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, তাহলে লোকদের সঙ্গে সালাতে অংশগ্রহণ করতে তোমাকে নিষেধ করেছে কে? আমি বললাম, আমি আমার ঘরে সালাত আদায় করে এসেছি। আমার ধারণা ছিল আপনিও সালাত আদায় করে ফেলেছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি যখন মসজিদে আসবে আর লোকজনকে জামা’আতে সালাত আদায় করতে দেখবে। তখন তুমিও সালাতে অংশগ্রহণ করবে। যদি তুমি এর পূর্বে (একবার) সালাত আদায় করেও থাকো। আর এ (দ্বিতীয়বারের) সালাত তোমার জন্যে নফল হিসেবে গণ্য হবে। আর পূর্বের পড়া সালাত ফরয হিসেবে আদায় হবে। (আবূ দাঊদ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ أبو داود (577) ٭ نوح بن صعصعۃ: مجھول الحال، لم یوثقہ غیر ابن حبان۔









মিশকাতুল মাসাবিহ (1156)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَجُلًا سَأَلَهُ فَقَالَ: إِنِّي أُصَلِّي فِي بَيْتِي ثُمَّ أُدْرِكُ الصَّلَاةَ فِي الْمَسْجِدِ مَعَ الْإِمَامِ أَفَأُصَلِّي مَعَهُ؟ قَالَ لَهُ: نَعَمْ قَالَ الرجل: أَيَّتهمَا أجعَل صَلَاتي؟ قَالَ عُمَرَ: وَذَلِكَ إِلَيْكَ؟ إِنَّمَا ذَلِكَ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يَجْعَلُ أَيَّتَهُمَا شَاءَ. رَوَاهُ مَالِكٌ




১১৫৬-[৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক তাঁকে প্রশ্ন করলঃ আমি আমার বাড়িতে সালাত আদায় করে নেই। এরপর মসজিদে আসলে (মানুষদেরকে) ইমামের সঙ্গে সালাত আদায় করা অবস্থায় পাই। আমি কি (এ অবস্থায়) এ ইমামের পেছনে সালাত আদায় করতে পারি? ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন হ্যাঁ, পারো। তারপর ঐ লোক আবার প্রশ্ন করল। তাহলে আমার (ফরয) সালাত কোনটি মনে করব? ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, এটা কি তোমার কাজ? এটা আল্লাহ তা’আলার কাজ। তিনি যে সালাতকে চাইবেন ফরয হিসেবে গ্রহণ করে নেবেন। (মালিক)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ مالک (1/ 133 ح 295)









মিশকাতুল মাসাবিহ (1157)


وَعَنْ سُلَيْمَانَ مَوْلَى مَيْمُونَةَ قَالَ: أَتَيْنَا ابْنَ عُمَرَ عَلَى الْبَلَاطِ وَهُمْ يُصَلُّونَ. فَقُلْتُ: أَلَا تُصَلِّي مَعَهُمْ؟ فَقَالَ: قَدْ صَلَّيْتُ وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُول الله يَقُولُ: "لَا تُصَلُّوا صَلَاةً فِي يَوْمٍ مَرَّتَيْنِ" . رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ




১১৫৭-[৮] উম্মুল মু’মিনীন মায়মূনাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মুক্ত গোলাম সুলায়মান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট বালাতে (মসজিদের আঙিনায়) আসলাম। সে সময় মানুষেরা মসজিদে (জামা’আতে) সালাত আদায় করছিল। আমরা ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞেস কাছে আবেদন করলাম, আপনি লোকদের সঙ্গে (জামা’আতে) সালাত আদায় করছেন না কেন? জবাবে ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমি সালাত আদায় করে ফেলেছি। আর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমরা একই দিনে এক সালাত দু’বার আদায় করবে না। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, নাসায়ী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ أحمد (2/ 19) و أبو داود (579) والنسائي (2/، 114 ح 861) [و صححہ ابن خزیمۃ (1641) و ابن حبان (432)]









মিশকাতুল মাসাবিহ (1158)


وَعَنْ نَافِعٍ قَالَ: إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُولُ: مَنْ صَلَّى الْمَغْرِبَ أَوِ الصُّبْحَ ثُمَّ أَدْرَكَهُمَا مَعَ الْإِمَامِ فَلَا يَعُدْ لَهما. رَوَاهُ مَالك




১১৫৮-[৯] নাফি’ (রাহিমাহুল্লাহ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলতেন, যে লোক মাগরিবের সালাত কি ফজরের (ফজরের) সালাত একা একা আদায় করে নিয়েছে। এরপর এ সালাতগুলোকে (অন্যত্র) ইমামকে জামা’আতে আদায় করা অবস্থায় পায় তাহলে সে এ সালাত কে পুনরায় আদায় করবে না। (মালিক)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ مالک (1/ 133 ح 298)









মিশকাতুল মাসাবিহ (1159)


عَن أُمِّ حَبِيبَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ صَلَّى فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ: أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمغرب وَرَكْعَتَيْنِ بعد الْعشَاء وَرَكْعَتَيْنِ قبل صَلَاة الْفَجْرِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ أَنَّهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لِلَّهِ كُلَّ يَوْمٍ ثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعًا غَيْرَ فَرِيضَةٍ إِلَّا بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي لاجنة أَوْ إِلَّا بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ"




১১৫৯- উম্মু হাবীবাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক দিন রাতে বারো রাক্’আত সালাত আদায় করবে তার জন্যে জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করা হবে। (সে বারো রাক্’আত সালাত হলো) চার রাক্’আত যুহরের ফারযের (ফরযের/ফরজের) পূর্বে আর দু’ রাক্’আত যুহরের (ফারযের) পরে, দু’ রাক্’আত মাগরিবের (ফরয সালাতের) পরে। দু’ রাক্’আত ’ইশার ফরয সালাতের পরে। আর দু’ রাক্’আত ফাজ্-রের (ফজরের) (ফরয সালাতের) পূর্বে। (তিরমিযী)
মুসলিমের এক বর্ণনায় শব্দ হলো উম্মু হাবীবাহ্ বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে মুসলিম প্রতিদিন আল্লাহ তা’আলার ফরয সালাত ব্যতীত বারো রাক্’আত সুন্নাত সালাত আদায় করবে। আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানাবেন। অথবা বলেছেন, জান্নাতে তার জন্যে একটি ঘর বানানো হবে।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ الترمذي (415 وقال: حسن صحیح۔) و مسلم (103/ 728) ٭، مؤمل بن إسماعیل: حسن الحدیث کما حققتہ في جزء خاص و لم یثبت فیہ الجرح المنسوب، إلی البخاري والحمد للّٰہ۔









মিশকাতুল মাসাবিহ (1160)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ فِي بَيْتِهِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ فِي بَيْتِهِ قَالَ: وَحَدَّثَتْنِي حَفْصَةُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ حِينَ يَطْلُعُ الْفَجْرُ




১১৬০-[২] ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুহরের ফারযের (ফরযের/ফরজের) পূর্বে দু’ রাক্’আত ও মাগরিবের ফারযের পরে দু’ রাক্’আত সালাত তাঁর বাড়িতে এবং ’ইশার সালাতের ফারযের (ফরযের/ফরজের) পর দু’ রাক্’আত সালাত তার বাড়িতে আদায় করেছি। ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আরো বলেছেন, হাফসাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)(ইবনু ’উমারের বোন) আমার নিকট বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালকা দু’ রাক্’আত সালাত ফাজ্-রের (ফজরের) সালাতের সময় আরম্ভ হবার সঙ্গে সঙ্গে আদায় করতেন। (বুখারী, মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (1180، 1181) و مسلم (104 / 729)