মিশকাতুল মাসাবিহ
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوتِرُ بِثَلَاثٍ يَقْرَأُ فِيهِنَّ بِتِسْعِ سُوَرٍ مِنَ الْمُفَصَّلِ يَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ بِثَلَاثِ سُوَرٍ آخِرُهُنَّ: (قل هوا لله أحد) رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
১২৮১-[২৮] ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের সালাত তিন রাক্’আত আদায় করতেন এবং তাতে মুফাসসালের নয়টি সূরাহ্ পাঠ করতেন। প্রতি রাক্’আতে তিনটি সূরাহ্ এবং এগুলোর শেষ সূরাহ্ ছিল ’’কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’’ (সূরাহ্ আল ইখলা-স)। (তিরমিযী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف جدا
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف جدًا، رواہ الترمذي (460) ٭ فیہ الحارث الأعور وھو، ضعیف جدًا۔
وَعَنْ نَافِعٍ قَالَ: كُنْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ بِمَكَّةَ وَالسَّمَاءُ مُغَيِّمَةٌ فَخَشِيَ الصُّبْحَ فَأَوْتَرَ بِوَاحِدَةٍ ثُمَّ انْكَشَفَ فَرَأَى أَنَّ عَلَيْهِ لَيْلًا فَشَفَعَ بِوَاحِدَةٍ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فَلَمَّا خَشِيَ الصُّبْح أوتر بِوَاحِدَة. رَوَاهُ مَالك
১২৮২-[২৯] নাফি’ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সঙ্গে মক্কায় ছিলাম। আসমান মেঘাচ্ছন্ন ছিল। ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সকাল হয়ে যাওয়ার আশংকা করলেন। তখন তিনি এক রাক্’আত বিতরের সালাত আদায় করে নিলেন। তারপর আসমান পরিষ্কার হয়ে গেলে দেখলেন, এখনো অনেক রাত অবশিষ্ট আছে। তা তিনি আরো এক রাক্’আত আদায় করে জোড়া করে নিলেন। এরপর দু’ দু’ রাক্’আত করে (নফল) আদায় করতেন। তারপর যখন আবার সকাল হয়ে যাওয়ার আশংকা করলেন তিনি বিতরের এক রাক্’আত আদায় করতেন। (মালিক)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ مالک (1/ 125 ح 272)
وَعَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي جَالِسًا فَيَقْرَأُ وَهُوَ جَالِسٌ فَإِذَا بَقِيَ مِنْ قِرَاءَتِهِ قَدْرُ مَا يَكُونُ ثَلَاثِينَ أَوْ أَرْبَعِينَ آيَةً قَامَ وَقَرَأَ وَهُوَ قَائِمٌ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ ثُمَّ يَفْعَلُ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ ذَلِكَ. رَوَاهُ مُسلم
১২৮৩-[৩০] ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (শেষ বয়সে) বসে বসে ক্বিরাআত (কিরআত) পড়তেন। ত্রিশ কি চল্লিশ আয়াত অবশিষ্ট থাকতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে যেতেন। বাকী (আয়াত) দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তেন। তারপর রুকূ’ করতেন ও সাজদায় যেতেন। এভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বিতীয় রাক্’আতও আদায় করতেন। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (731/112)
وَعَنْ أُمُّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الْوِتْرِ رَكْعَتَيْنِ" رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَزَادَ ابْنُ مَاجَه: خفيفتين وَهُوَ جَالس
১২৮৪-[৩১] উম্মুল মু’মিনীন উম্মু সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের পরে দু’ রাক্’আত (সালাত) আদায় করতেন। (তিরমিযী; কিন্তু ইবনু মাজাহ আরো বলেছেন, সংক্ষেপে ও বসে বসে।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ الترمذي (471) و ابن ماجہ (1195)
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوتِرُ بِوَاحِدَةٍ ثُمَّ يَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ يَقْرَأُ فِيهِمَا وَهُوَ جَالِسٌ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ قَامَ فَرَكَعَ. رَوَاهُ ابْن مَاجَه
১২৮৫-[৩২] উম্মুল মু’মিনীন ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের এক রাক্’আত আদায় করতেন। তারপর দু’ রাক্’আত (নফল) আদায় করতেন। এতে তিনি বসে বসে ক্বিরাআত (কিরআত) পড়তেন। রুকূ’ করার সময় হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে যেতেন ও রুকূ’ করতেন। (ইবনু মাজাহ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ ابن ماجہ (1196) [و مسلم: 738/126]
وَعَنْ ثَوْبَانَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "إِنَّ هَذَا السَّهَرَ جُهْدٌ وَثِقَلٌ فَإِذَا أَوْتَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ فَإِنْ قَامَ مِنَ اللَّيْلِ وَإِلَّا كَانَتَا لَهُ" . رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ
১২৮৬-[৩৩] সাওবান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তাহাজ্জুদের সালাতের জন্যে রাত্রে জেগে উঠা কষ্টকর ও কঠিন কাজ। তাই তোমাদের যে লোক রাতের শেষাংশে জাগরিত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়, সে ঘুমাবার পূর্বে ’ইশার সালাতের পর বিতর আদায় করতে চাইলে যেন দু’ রাক্’আত আদায় করে নেয়। যদি তাহাজ্জুদের সালাতের জন্যে রাত্রে উঠে যায় তবে তো ভাল, উঠতে না পারলে ঐ দু’ রাক্’আত যথেষ্ট। (দারিমী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الدارمي (1/ 374 ح 1602) [و صححہ ابن خزیمۃ، (1106) و ابن حبان (الموارد: 683)] ٭ قولہ: ’’السھر‘‘ و عند ابن خزیمۃ و ابن، حبان وغیرھما: ’’السفر‘‘ فالحدیث یتعلق بالسھر فی السفر واللہ أعلم۔
وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّيهِمَا بَعْدَ الْوِتْرِ وَهُوَ جَالس يقْرَأ فيهمَا (إِذا زلزلت) و (قل يَا أَيهَا الْكَافِرُونَ) رَوَاهُ أَحْمد
১২৮৭-[৩৪] আবূ উমামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের পরে দু’ রাক্’আত সালাত বসে বসে আদায় করতেন। আর এ দু’ রাক্’আতে ’ইযা- যুলযিলাতি’ এবং ’কুল ইয়া- আইয়্যুহাল কা-ফিরূন’ পড়তেন। (আহমাদ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ أحمد (260/5 ح 22601)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَدْعُوَ عَلَى أَحَدٍ أَوْ يَدْعُوَ لِأَحَدٍ قَنَتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ فَرُبَّمَا قَالَ إِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ: اللَّهُمَّ أَنْج الْوَلِيد بن الْوَلِيد وَسَلَمَة ابْن هِشَام وَعَيَّاش بن رَبِيعَةَ اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ وَاجْعَلْهَا سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ يَجْهَرُ بِذَلِكَ وَكَانَ يَقُولُ فِي بَعْضِ صَلَاتِهِ: اللَّهُمَّ الْعَنْ فُلَانًا وَفُلَانًا لِأَحْيَاءٍ مِنَ الْعَرَبِ حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ: (لَيْسَ لَك من الْأَمر شَيْء) الْآيَة)
১২৮৮- আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন লোককে বদ্দু’আ অথবা কোন লোককে দু’আ করতে চাইলে রুকূ’র পরে কুনূত পড়তেন। তাই কোন কোন সময় তিনি, ’সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- লাকাল হামদু’ বলার পর এ দু’আ করতেন,
’আল্ল-হুম্মা আনজিল ওয়ালীদ ইবনিল ওয়ালীদ। ওয়া সালামাতাবনি হিশা-ম, ওয়া ’আইয়্যা-শাবনি রবী’আহ্, আল্লা-হুম্মাশদুদ ওয়াত্ব আতাকা ’আলা- মুযারা ওয়াজ্’আলহা- সিনীনা কাসিনী ইউসুফা’।
অর্থাৎ ’হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে, সালমাহ্ ইবনু হিশামকে, ’আইয়্যাশ ইবনু আবূ রবী’আকে তুমি মুক্তি দান করো। হে আল্লাহ! ’মুযার জাতির’ ওপরে তুমি কঠিন ’আযাব নাযিল করো। আর এ ’আযাবকে তাদের ওপর ইউসুফ (আঃ)-এর বছরগুলোর ন্যায় দুর্ভিক্ষের রূপ ধারণ করে দাও।’ তিনি উচ্চস্বরে এ দু’আ পড়তেন।
কোন কোন সালাতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ’আরাবে এসব গোত্রের জন্যে এভাবে দু’আ করতেন, ’হে আল্লাহ! তুমি অমুক অমুকের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করো।’ তারপর আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেছেন, ’লাইসা লাকা মিনাল আমরি শাইয়ুন’ অর্থাৎ ’’এ ব্যাপারে আপনার কোন দখল নেই’’- (সূরাহ্ আ-লি ’ইমরান ৩: ১২৮)। (বুখারী, মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (4590) و مسلم (675/294)
وَعَن عَاصِم الْأَحول قَالَ: سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ عَنِ الْقُنُوتِ فِي الصَّلَاةِ كَانَ قَبْلَ الرُّكُوعِ أَوْ بَعْدَهُ؟ قَالَ: قَبْلَهُ إِنَّمَا قَنَتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدُ الرُّكُوعِ شَهْرًا إِنَّهُ كَانَ بَعَثَ أُنَاسًا يُقَالُ لَهُمْ الْقُرَّاءُ سَبْعُونَ رَجُلًا فَأُصِيبُوا فَقَنَتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدُ الرُّكُوعِ شَهْرًا يَدْعُو عَلَيْهِمْ
১২৮৯-[২] ’আসিম আল আহ্ওয়াল (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে ’’দু’আয়ে কুনূত’’ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছি যে, এটা সালাতে রুকূ’র পূর্বে পড়া হয়, না পরে? আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, রুকূ’র পূর্বে। তিনি আরো বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফজরের সালাতে অথবা সকল সালাতে রুকূ’র পরে দু’আয়ে) কুনূত পড়েছেন শুধু একবার। (তারও কারণে ছিল) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লোককে, যাদেরকে ক্বারী বলা হত, তাদের সংখ্যা ছিল সত্তরজন (তাবলীগের জন্য) কোথাও পাঠিয়েছিলেন। ওখানকার লোকেরা তাদেরকে শাহীদ করে দিয়েছিল। সেজন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস পর্যন্ত রুকূ’র পরে দু’আয়ে কুনূত পড়ে হত্যাকারীদের জন্যে বদদু’আ করেছেন। (বুখারী, মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (1002) و مسلم (301/ 677)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَهْرًا مُتَتَابِعًا فِي الظّهْر وَالْعصر وَالْمغْرب وَالْعشَاء وَصَلَاة الصُّبْح إِذا قَالَ: "سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ" مِنَ الرَّكْعَةِ الْآخِرَة يَدْعُو عَلَى أَحْيَاءٍ مَنْ بَنِي سُلَيْمٍ: عَلَى رِعْلٍ وَذَكْوَانَ وَعُصَيَّةَ وَيُؤَمِّنُ مَنْ خَلْفَهُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
১২৯০-[৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে এক মাস পর্যন্ত প্রতিদিন যুহর, ’আসর, মাগরিব, ’ইশা ও ফাজ্-রের (ফজরের) সালাতের শেষ রাক্’আতে ’সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ’ বলার পর দু’আ কুনূত পড়তেন। এতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বানী সুলায়ম-এর কয়েকটি গোত্র, রি’ল, যাকওয়ান, ’উসাইয়্যাহ্ এর জীবিতদের জন্যে বদ্দু’আ করতেন। পেছনের লোকেরা ’আমীন’ ’আমীন’ বলতেন। (আবূ দাঊদ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * حسن، رواہ أبو داود (1443) [و صححہ ابن خزیمۃ (618) والحاکم علٰی، شرط البخاري (1/ 225) ووافقہ الذہبي۔ ] ٭ وللحدیث شواھد عند الدارقطني (2/ 37، 1671) وغیرہ۔
وَعَنْ أَنَسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَنَتَ شَهْرًا ثُمَّ تَرَكَهُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ
১২৯১-[৪] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে এক মাস পর্যন্ত (রুকূ’র পরে) ’দু’আ কুনূত’ পাঠ করেছেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা ত্যাগ করেছেন। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ أبو داود (1445) و النسائي (204/2 ح 1080) [و مسلم:، 677/300 مختصرًا]
وَعَن أبي مَالك الْأَشْجَعِيّ قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي: يَا أَبَتِ إِنَّكَ قَدْ صليت خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبِي بكر وَعمر وَعُثْمَان وَعلي هَهُنَا بِالْكُوفَةِ نَحْوًا مِنْ خَمْسِ سِنِينَ أَكَانُوا يَقْنُتُونَ؟ قَالَ: أَيْ بُنَيَّ مُحْدَثٌ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْن مَاجَه
১২৯২-[৫] আবূ মালিক আল আশজা’ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার কাছে প্রশ্ন করেছিলাম, হে পিতা! আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর, ’উমার, ’উসমান, আর ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পেছনে কুফায় প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত সালাত আদায় করেছেন। এসব মর্যাদাবান ব্যক্তিগণ কি ’’দু’আ কুনূত’’ পড়তেন? তিনি জবাব দিলেন, হে আমার পুত্র! (দু’আ কুনূত পড়া) বিদ’আত। (তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ الترمذي (402 و قال: حسن صحیح۔) والنسائي (2/، 204 ح 1081) و ابن ماجہ (1241) [و صححہ ابن حبان: 511]
عَن الْحسن: أَن عمر بن الْخطاب جَمَعَ النَّاسَ عَلَى أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ فَكَانَ يُصَلِّي بِهِمْ عِشْرِينَ لَيْلَةً وَلَا يَقْنُتُ بِهِمْ إِلَّا فِي النِّصْفِ الْبَاقِي فَإِذَا كَانَتِ الْعَشْرُ الْأَوَاخِرُ تَخَلَّفَ فَصَلَّى فِي بَيْتِهِ فَكَانُوا يَقُولُونَ: أبق أبي. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
১২৯৩-[৬] হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমীরুল মু’মিনীন ’উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) (রমাযান মাসের তারাবীহের জন্যে) লোকজনকে একত্র করলেন। তিনি [’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] উবাই ইবনু কা’বকে ইমাম নিযুক্ত করলেন। উবাই ইবনু কা’ব তাদের নিয়ে বিশ রাত সালাত আদায় করালেন। তিনি (উবাই) রমাযানের শেষ পনের দিন ছাড়া আর কোন দিন লোকদেরকে নিয়ে দু’আ কুনূত পড়েননি। শেষ দশ দিন উবাই ইবনু কা’ব মসজিদে আসেননি। বরং তিনি বাড়িতেই সালাত আদায় করতে লাগলেন। লোকেরা বলতে লাগল, উবাই ইবনু কা’ব ভেগে গেছেন। (আবূ দাঊদ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ أبو داود (1429) ٭ قال العیني: ’’إن فیہ، انقطاعًا فإن الحسن لم یدرک عمر بن الخطاب‘‘ (شرح سنن أبي داود 5/ 343 ح 1399)
وَسُئِلَ أَن بْنُ مَالِكٍ عَنِ الْقُنُوتِ. فَقَالَ: قَنَتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدُ الرُّكُوعِ وَفِي رِوَايَةٍ: قَبْلَ الرُّكُوعِ وَبَعْدَهُ. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ
১২৯৪-[৭] আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে কুনূত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ’র পর দু’আ কুনূত পড়তেন। আর এক সূত্রে আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’আ কুনূত পড়তেন কখনো রুকূ’র পূর্বে, আর কখনো রুকূ’র পরে। (ইবনু মাজাহ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * حسن، رواہ ابن ماجہ (1183) بلفظ مختلف [و أصلہ عند البخاري، (1001) ومسلم (677)]
عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اتَّخَذَ حُجْرَةً فِي الْمَسْجِدِ مِنْ حَصِيرٍ فَصَلَّى فِيهَا لَيَالِيَ حَتَّى اجْتَمَعَ عَلَيْهِ نَاسٌ ثُمَّ فَقَدُوا صَوْتَهُ لَيْلَةً وَظَنُّوا أَنَّهُ قَدْ نَامَ فَجَعَلَ بَعْضُهُمْ يَتَنَحْنَحُ لِيَخْرُجَ إِلَيْهِمْ. فَقَالَ: مَا زَالَ بِكُمُ الَّذِي رَأَيْتُ مِنْ صَنِيعِكُمْ حَتَّى خَشِيتُ أَنْ يُكْتَبَ عَلَيْكُمْ وَلَوْ كُتِبَ عَلَيْكُمْ مَا قُمْتُمْ بِهِ. فَصَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنَّ أَفْضَلَ صَلَاةِ الْمَرْء فِي بَيته إِلَّا الصَّلَاة الْمَكْتُوبَة)
১২৯৫- যায়দ ইবনু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রমাযান) মাসে মসজিদের ভিতর চাটাই দিয়ে একটি কামরা তৈরি করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এখানে কয়েক রাত (তারাবীহ) সালাত আদায় করলেন। আস্তে আস্তে তাঁর নিকট লোকজনের ভিড় জমে গেল। এক রাতে তাঁর কণ্ঠস্বর না শুনতে পেয়ে লোকেরা মনে করেছে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমিয়ে গেছেন। তাই কেউ কেউ গলা খাকারী দিলো, যাতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের কাছে বেরিয়ে আসেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের যে অনুরাগ আমি দেখছি তাতে আমার আশংকা হচ্ছে এ সালাত না আবার তোমাদের ওপর ফরয হয়ে যায়। তোমাদের ওপর ফরয হয়ে গেলে তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হবে না। অতএব হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের বাড়ীতে সালাত আদায় কর। এজন্য ফরয সালাত ব্যতীত যে সালাত ঘরে পড়া হয় তা উত্তম সালাত। (বুখারী, মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (731) و مسلم (213/ 781)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: (كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْغَبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ فِيهِ بِعَزِيمَةٍ فَيَقُولُ: "مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ. فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ والمر عَلَى ذَلِكَ ثُمَّ كَانَ الْأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ فِي خِلَافَةِ أَبِي بَكْرٍ وَصَدْرًا مِنْ خِلَافَةِ عمر على ذَلِك" . رَوَاهُ مُسلم
১২৯৬-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসে ক্বিয়ামুল লায়লের উৎসাহ দিতেন (তারাবীহ সালাত), কিন্তু তাকিদ করে কোন নির্দেশ দিতেন না। তিনি বলতেন, যে লোক ঈমানের সঙ্গে ও পুণ্যের জন্যে রমাযান মাসে রাত জেগে ’ইবাদাত করে তার পূর্বের সব সগীরাহ্ গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর ব্যাপারটি এভাবেই থেকে গেল। (অর্থাৎ তারাবীহের জন্যে জামা’আত নির্দিষ্ট ছিল না, বরং যে চাইতো সাওয়াব অর্জনের জন্যে আদায় করে নিত)। আবূ বকরের খিলাফাতকালেও এ অবস্থা ছিল। ’উমারের খিলাফাতের প্রথম দিকেও এ অবস্থা ছিল। শেষের দিকে ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তারাবীহের সালাতের জন্যে জামা’আতের ব্যবস্থা করেন এবং তখন থেকে লাগাতার তারাবীহের জামা’আত চলতে থাকল। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (174 / 759)
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِذَا قَضَى أَحَدُكُمُ الصَّلَاةَ فِي مَسْجده فليجعل لبيته نَصِيبا من صلَاته فَإِنَّ اللَّهَ جَاعِلٌ فِي بَيْتِهِ مِنْ صِلَاتِهِ خيرا" . رَوَاهُ مُسلم
১২৯৭-[৩] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কোন লোক যখন নিজের ফরয সালাত মসজিদে আদায় করে, সে যেন তার সালাতের কিছু অংশ বাড়ীতে আদায়ের জন্য জন্য রেখে দেয়। কেননা, আল্লাহ তা’আলা তার সালাতের দ্বারা ঘরের মাঝে কল্যাণ সৃষ্টি করে দেন।’’ (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (778/210)
عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: صُمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَمَضَانَ فَلَمْ يَقُمْ بِنَا شَيْئًا مِنَ الشَّهْرِ حَتَّى بَقِيَ سَبْعٌ فَقَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ فَلَمَّا كَانَتِ السَّادِسَةُ لَمْ يَقُمْ بِنَا فَلَمَّا كَانَتِ الْخَامِسَةُ قَامَ بِنَا حَتَّى ذهب شطر اللَّيْل فَقلت: يارسول الله لَو نفلتنا قيام هَذِه اللَّيْلَة. قَالَ فَقَالَ: "إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا صَلَّى مَعَ الْإِمَامِ حَتَّى ينْصَرف حسب لَهُ قيام اللَّيْلَة" . قَالَ: فَلَمَّا كَانَت الرَّابِعَة لم يقم فَلَمَّا كَانَتِ الثَّالِثَةُ جَمَعَ أَهْلَهُ وَنِسَاءَهُ وَالنَّاسَ فَقَامَ بِنَا حَتَّى خَشِينَا أَنْ يَفُوتَنَا الْفَلَاحُ. قَالَ قُلْتُ: وَمَا الْفَلَاحُ؟ قَالَ: السَّحُورُ. ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا بَقِيَّةَ الشَّهْرِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَرَوَى ابْنُ مَاجَهْ نَحْوَهُ إِلَّا أَنَّ التِّرْمِذِيَّ لَمْ يَذْكُرْ: ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا بَقِيَّة الشَّهْر
১২৯৮-[৪] আবূ যার গিফারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (রমাযান মাসের) সওম পালন করেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাসের অনেক দিন আমাদের সঙ্গে ক্বিয়াম (কিয়াম) করেননি (অর্থাৎ তারাবীহের সালাত আদায় করেননি)। যখন রমাযান মাসের সাতদিন অবশিষ্ট থাকল তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সঙ্গে এক তৃতীয়াংশ রাত পর্যন্ত ক্বিয়াম (কিয়াম) করলেন অর্থাৎ তারাবীহের সালাত আদায় করালেন।
যখন ছয় রাত বাকী থাকল (অর্থাৎ চব্বিশতম রাত এলো) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সঙ্গে ক্বিয়াম (কিয়াম) করলেন না। আবার পাঁচ রাত অবশিষ্ট থাকতে অর্থাৎ পঁচিশতম রাতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সঙ্গে আধা রাত পর্যন্ত ক্বিয়াম (কিয়াম) করলেন। আমি আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আজ রাত যদি আরো অনেক সময় আমাদের সঙ্গে কিয়াম করতেন (তাহলে কতই না ভাল হত)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন কোন লোক ফরয সালাত ইমামের সঙ্গে আদায় করে। সালাত শেষে ফিরে চলে যায়, তার জন্যে গোটা রাত্রের ’ইবাদাতের সাওয়াব লেখা হয়ে যায়।
এরপর যখন চার রাত বাকী থাকে অর্থাৎ ছাব্বিশতম রাত আসে তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সঙ্গে ক্বিয়াম (কিয়াম) করতেন না। এমনকি আমরা তাঁর জন্যে অপেক্ষা করতে করতে এক তৃতীয়াংশ রাত বাকী থাকল। যখন তিনরাত বাকী থাকল অর্থাৎ সাতাশতম রাত আসলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরিবারের নিজের বিবিগণের সকলকে একত্র করলেন এবং আমাদের সঙ্গে ক্বিয়াম (কিয়াম) করালেন (অর্থাৎ গোটা রাত আমাদেরকে সালাত আদায় করালেন)। এমনকি আমাদের আশংকা হলো যে, আবার না ’ফালাহ’ ছুটে যায়।
বর্ণনাকারী বললেন, আমি প্রশ্ন করলাম ’ফালা-হ’ কি? ’আবূ যার’ বললেন। ’ফালা-হ’ হলো সাহরী খাওয়া। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সঙ্গে মাসের বাকী দিনগুলো (অর্থাৎ আটাশ ও ঊনত্রিশতম দিন) ক্বিয়াম (কিয়াম) করেননি। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী; ইবনু মাজাহও এভাবে বর্ণনা নকল করেছেন। তিরমিযীও নিজের বর্ণনায় ’’এরপর আমাদেরসঙ্গে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোতে ক্বিয়াম (কিয়াম) করেননি’’ শব্দগুলো উল্লেখ করেনি।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * و إسنادہ صحیح، رواہ أبو داود (1375) و الترمذي (806 وقال: حسن، صحیح۔) و النسائي (83/3، 84 ح 1365) و ابن ماجہ (1327) [و صححہ ابن خزیمۃ (2206)، و ابن حبان (919)]
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: فَقَدْتُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً فَإِذَا هُوَ بِالْبَقِيعِ فَقَالَ أَكُنْتِ تَخَافِينَ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ؟ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي ظَنَنْتُ أَنَّكَ أَتَيْتَ بَعْضَ نِسَائِكَ فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَنْزِلُ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِرُ لِأَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعْرِ غَنَمِ كَلْبٍ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَزَادَ رَزِينٌ: "مِمَّنِ اسْتَحَقَّ النَّارَ" وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَعْنِي البُخَارِيّ يضعف هَذَا الحَدِيث
১২৯৯-[৫] উম্মুল মু’মিনীন ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি রাত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিছানায় খুঁজে না পেয়ে তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ জান্নাতুল বাকীতে দেখতে পেলাম। আমাকে দেখে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি কি আশংকা করেছিলে যে, আল্লাহ ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার ওপর অবিচার করবে? আমি আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি মনে করেছিলাম আপনি আপনার কোন বিবির নিকট গিয়েছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (’আয়িশাহ্!) আল্লাহ তা’আলা শা’বান মাসের পনের তারিখের রাত্রে প্রথম আকাশে নেমে আসেন। বানূ কালব গোত্রের (বকরীর) দলের পশমের সংখ্যার চেয়েও বেশী পরিমাণ গুনাহ ক্ষমা করে দেন। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; রযীন অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন ’’যাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়েছে তাদের মধ্য থেকে’’। আর তিরমিযী বলেছেন, আমি ইমাম বুখারীকে এ হাদীসটি দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করতে শুনেছি)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (739 و أعلہ) و ابن ماجہ (1389) و، رزین (لم أجدہ) ٭ حجاج بن أرطاۃ ضعیف مدلس و للحدیث شواھد ضعیفۃ۔
وَعَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "صَلَاةُ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهِ فِي مَسْجِدِي هَذَا إِلَّا الْمَكْتُوبَة" . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ
১৩০০-[৬] যায়দ ইবনু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ মানুষ তার ঘরে ফরয সালাত ব্যতীত যে সালাত আদায় করবে তা এ মসজিদে সালাত আদায়ের চেয়ে ভাল। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ أبو داود (1044) والترمذي (450 وقال: حسن)، [والبخاري (731) و مسلم (781)]