হাদীস বিএন


মিশকাতুল মাসাবিহ





মিশকাতুল মাসাবিহ (2821)


وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ مُرْسَلًا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نهى عَن بَيْعِ اللَّحْمِ بِالْحَيَوَانِ قَالَ سَعِيدٌ: كَانَ مِنْ مَيْسِرِ أَهْلِ الْجَاهِلِيَّةِ. رَوَاهُ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ




২৮২১-[১৫] সা’ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রাহিমাহুল্লাহ) হতে মুরসালরূপে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো প্রাণীর বিনিময়ে মাংস/মাংস বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকারী সা’ঈদ বলেন, জাহিলিয়্যাতের যুগে এক প্রকার জুয়ার প্রচলন ছিল। তখন ঐভাবে ক্রয়-বিক্রয় হতো। (শারহুস্ সুন্নাহ্)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ البغوي في شرح السنۃ (76/8 ح 2073) [و مالک فی الموطأ، 655/2 ح 1396] ٭ السند ضعیف لإرسالہ و لہ شواھد عند أبي داود (3356) والترمذي، (1237) وغیرہما .









মিশকাতুল মাসাবিহ (2822)


وَعَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ: أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ نَسِيئَةً. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ




২৮২২-[১৬] সামুরাহ্ বিন জুনদুব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবের বিনিময়ে জীব বাকিতে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ الترمذي (1237 وقال: حسن صحیح) و أبو داود (3356)، والنسائي (292/7 ح 4624) و ابن ماجہ (2270) والدارمي (254/2 ح 2567)









মিশকাতুল মাসাবিহ (2823)


وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُ أَن يُجهِّزَ جَيْشًا فنفدتِ الإِبلُ فأمرَهُ أَن يَأْخُذَ عَلَى قَلَائِصِ الصَّدَقَةِ فَكَانَ يَأْخُذُ الْبَعِيرَ بِالْبَعِيرَيْنِ إِلَى إِبِلِ الصَّدَقَةِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ




২৮২৩-[১৭] ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’আমর ইবনুল ’আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কোনো এক যুদ্ধাভিযানের জন্য সৈন্যবাহিনী প্রস্তুতির আদেশ করেছিলেন। এ সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করতে (সরকারী কোষাগারে, অর্থাৎ- বায়তুল মালে) প্রয়োজনীয় উটের সংকট দেখা গেলো। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে সাদাকার উট পাওয়া সাপেক্ষে (বায়তুল মাল থেকে) উট ধার নেয়ার আদেশ করলন। সে হিসেবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাদাকার উট সংগ্রহের সাপেক্ষে এক একটি উট দু’ দু’টি উটের বিনিময়ে গ্রহণ করলেন। (আবূ দাঊদ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ أبو داود (3357) ٭ عمرو بن حریش مجھول الحال و، للحدیث شواھد ضعیفۃ .









মিশকাতুল মাসাবিহ (2824)


عَنْ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "الرِّبَا فِي النَّسِيئَةِ" . وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: "لَا رِبًا فِيمَا كَانَ يدا بيد"




২৮২৪-[১৮] উসামাহ্ ইবনু যায়দ হতে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেবলমাত্র বাকিতে লেন-দেনেই (অনেক ক্ষেত্রে) সুদ সাব্যস্ত হয়। অপর এক বর্ণনায় আছে, নগদে আদান প্রদানের ক্ষেত্রে সুদ সাব্যস্ত হয় না। (বুখারী, মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2178۔ 2179) و مسلم (101۔ 103 / 1596)









মিশকাতুল মাসাবিহ (2825)


وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْظَلَةَ غَسِيلِ الْمَلَائِكَةِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "دِرْهَمُ رِبًا يَأْكُلُهُ الرَّجُلُ وَهُوَ يَعْلَمُ أَشَدُّ مِنْ سِتَّةٍ وَثَلَاثِينَ زِنْيَةً" . رَوَاهُ أَحْمَدُ والدراقطني وَرَوَى الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَزَادَ: وَقَالَ: "مَنْ نَبَتَ لَحْمُهُ مِنَ السُّحت فَالنَّار أولى بِهِ"




২৮২৫-[১৯] ’আব্দুল্লাহ ইবনু হানযালাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। যিনি মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) কর্তৃক গোসলপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জেনে শুনে সুদের কেবলমাত্র একটি রোপ্যমুদ্রা খায়, তার গুনাহ ছত্রিশবার যিনার চেয়ে বেশি হয়। (আহমাদ, দারাকুত্বনী)
আর বায়হাক্বী ’’শু’আবুল ঈমান’’-এ হাদীসটি ইবনু ’আব্বাস হতে বর্ণনা করেছেন। এতে অতিরিক্ত এ কথাও আছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির শরীরের গোশ্ত/মাংস হারাম রিযক্বে গঠিত তার জন্য জাহান্নামই সর্বোত্তম।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * ضعیف، رواہ أحمد (225/5 ح 22303) والدارقطني (16/3 ح 2819) ٭، سندہ ضعیف، في سماع ابن أبي ملیکۃ من عبد اللہ بن حنظلۃ لھذا الحدیث نظر و، للحدیث علۃ أخری و شواھد ضعیفۃ عند ابن ماجہ (2274) وغیرہ . ٭٭ البیھقي في شعب، الإیمان (5518) عن ابن عباس و سندہ ضعیف جدًا، فیہ محمد بن الفضل بن جابر ثنا، یحیی بن إسماعیل بن عباس عن حسین بن قیس الرحبي [متروک] عن عکرمۃ عن ابن عباس، إلخ .









মিশকাতুল মাসাবিহ (2826)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "الرِّبَا سَبْعُونَ جُزْءًا أيسرها أَن الرجل أمه"




২৮২৬-[২০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সুদের গুনাহের সত্তর ভাগের ক্ষুদ্রতম ভাগ হলো নিজের মায়ের সাথে যিনা করা।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ ابن ماجہ (2274) والبیھقي في شعب الإیمان (5521)، ٭ أبو معشر نجیح بن عبد الرحمٰن السندي ضعیف و للحدیث شواھد ضعیفۃ عند ابن، الجارود (647) و الحاکم (37/2) وغیرہما .









মিশকাতুল মাসাবিহ (2827)


وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِ الرِّبَا وَإِنْ كَثُرَ فإِنَّ عاقبتَه تصيرُ إِلى قُلِّ: رَوَاهُمَا ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ. وَرَوَى أَحْمد الْأَخير




২৮২৭-[২১] ইবনু মাস্’ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সুদের মাধ্যমে সম্পদ (বাহ্যত) বেশি হলেও পরিণামে তা স্বল্পই। (ইবনু মাজাহ ও বায়হাক্বী- শু’আবুল ’ঈমানে পূর্বোক্ত হাদীসটিসহ বর্ণনা করেছেন; আর ইমাম আহমাদ শেষের হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ ابن ماجہ (2279) و البیھقي في شعب الإیمان، (5511) و أحمد (395/1 ح 3754، 424/1 ح 4026) [و صححہ الحاکم (37/2) ووافقہ، الذہبي]









মিশকাতুল মাসাবিহ (2828)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَتَيْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عَلَى قَوْمٍ بُطُونُهُمْ كَالْبُيُوتِ فِيهَا الْحَيَّاتُ تُرَى مِنْ خَارِجِ بُطُونِهِمْ فَقُلْتُ: مَنْ هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيلُ؟ قَالَ: هَؤُلَاءِ أَكَلَةُ الرِّبَا . رَوَاهُ أَحْمد وَابْن مَاجَه




২৮২৮-[২২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মি’রাজের রাতে এমন এক শ্রেণীর লোকেদের কাছে গেলাম, যাদের পেট গৃহের ন্যায় প্রশস্ত। এতে অনেক সাপ রয়েছে, এগুলোকে পেটের বাহির হতে দেখা যায়। আমি (আমার সঙ্গী জিবরীল আমীনকে) জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরীল! এরা কারা? জবাবে তিনি বললেন, এরা সুদখোর। (আহমাদ, ইবনু মাজাহ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ أحمد (353/2 ح 8625) و ابن ماجہ (2273) ٭ فیہ، أبو الصلت: مجھول و علي بن زید بن جدعان: ضعیف .









মিশকাতুল মাসাবিহ (2829)


وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم لعن آكِلَ الرِّبَا وَمُوَكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَمَانِعَ الصَّدَقَةِ وَكَانَ ينْهَى عَن النوح. رَوَاهُ النَّسَائِيّ




২৮২৯-[২৩] ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অভিসম্পাত করতে শুনেছেন- সুদ গ্রহীতার প্রতি, সুদ দাতার প্রতি, সুদের দলীলপত্র লেখকের প্রতি এবং দান-খয়রাতে বাধাদানকারীর প্রতিও। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃতের জন্য বিলাপ করে কাঁদতে নিষেধ করতেন। (নাসায়ী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ النسائي (147/8 ح 5106) ٭ الحارث الأعور ضعیف و، لبعض الحدیث شواھد ضعیفۃ .









মিশকাতুল মাসাবিহ (2830)


وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّ آخِرَ مَا نَزَلَتْ آيَةُ الرِّبَا وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُبِضَ وَلَمْ يُفَسِّرْهَا لَنَا فَدَعُوا الرِّبَا وَالرِّيبَةَ. رَوَاهُ ابْن مَاجَه والدارمي




২৮৩০-[২৪] ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুদ হারাম হওয়ার আয়াতই (কুরআন মাজীদের) সর্বশেষ আয়াত। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকাল হয়ে গেছে অথচ সুদের পরিপূর্ণ বর্ণনা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে (স্পষ্ট করে) রেখে যাননি। সুতরাং কুরআন সুন্নাহ্’য় বর্ণিত সুদ এবং যে সব ক্ষেত্রে সুদের কোনো প্রকার সন্দেহের সৃষ্টি হয়, তাও বর্জন করবে। (ইবনু মাজাহ, দারামী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ ابن ماجہ (2276) و الدارمي (51/1۔ 52 ح 131) ٭، قتادۃ مدلس و عنعن و للحدیث طریق آخر عند الإسماعیلي کما في مسند الفاروق لابن، کثیر (571/2) و سندہ ضعیف .









মিশকাতুল মাসাবিহ (2831)


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِذَا أَقْرَضَ أَحَدُكُمْ قَرْضًا فَأَهْدَي إِلَيْهِ أَوْ حَمَلَهُ عَلَى الدَّابَّةِ فَلَا يَرْكَبْهُ وَلَا يَقْبَلْهَا إِلَّا أَنْ يَكُونَ جَرَى بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ قَبْلَ ذَلِكَ" . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ




২৮৩১-[২৫] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কাউকে ঋণ দেয়, আর ঋণগ্রহীতা ঋণদাতাকে কোনো হাদিয়া (উপহার) দেয়, তা গ্রহণ করবে না। অথবা ঋণগ্রহীতা যদি তার বাহনে ঋণদাতাকে বসাতে চায়, তবে এর উপর বসবে না। তবে যদি ঋণ লেন-দেন করার পূর্বে তাদের মধ্যে এরূপ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে, সেক্ষেত্রে ভিন্নকথা। (ইবনু মাজাহ, বায়হাক্বী- শু’আবুল ঈমানে)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ ابن ماجہ (2432) و البیھقي في شعب الإیمان، (5532) ٭ عتبۃ: لیس شامیًا و روایۃ إسماعیل بن عیاش عن غیر الشامیین ضعیفۃ .









মিশকাতুল মাসাবিহ (2832)


وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "إِذَا أَقْرَضَ الرَّجُلُ الرَّجُلَ فَلَا يَأْخُذُ هَدِيَّةً" . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي تَارِيخِهِ هَكَذَا فِي الْمُنْتَقى




২৮৩২-[২৬] উক্ত রাবী [আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো লোক অপর কোনো লোককে ঋণ দিলে, ঋণদাতা ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে কোনো হাদিয়া (উপহার) গ্রহণ করবে না। (বুখারী; এটি তাঁর তারীখে বর্ণনা করেছেন, মুনতাকায়ও এরূপ বর্ণিত আছে)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * لم أجدہ، رواہ البخاري في تاریخہ (لم أجدہ و لعلہ لا أصل لہ) و، ذکرہ في منتقی الأخبار (2970)









মিশকাতুল মাসাবিহ (2833)


وَعَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى قَالَ: قدمت الْمَدِينَة فَلَقِيت عبد الله بن سلا م فَقَالَ: إِنَّك بِأَرْض فِيهَا الرِّبَا فَاش إِذا كَانَ لَكَ عَلَى رَجُلٍ حَقٌّ فَأَهْدَى إِلَيْكَ حِمْلَ تَبْنٍ أَو حِملَ شعيرِ أَو حَبْلَ قَتٍّ فَلَا تَأْخُذْهُ فَإِنَّهُ رِبًا. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ




২৮৩৩-[২৭] আবূ বুরদাহ্ ইবনু আবূ মূসা (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি মদীনায় এসে ’আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। আমাকে তিনি বললেন, তুমি এমন এলাকায় বসবাস করছো, যেখানে সুদের প্রচলন অত্যধিক। অতএব কারো কাছে যদি তোমার কোনো পাওনা থাকে, সে যদি তোমাকে হাদিয়া হিসেবে এক বোঝা খড় অথবা এক গাঠুরী যব, অথবা ঘাসের একটি বোঝাও দেয়; তুমি তা গ্রহণ করবে না। কারণ এটা সুদ হিসেবে সাব্যস্ত হবে। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3814)









মিশকাতুল মাসাবিহ (2834)


عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْمُزَابَنَةِ: أَنْ يَبِيع تمر حَائِطِهِ إِنْ كَانَ نَخْلًا بِتَمْرٍ كَيْلَا وَإِنْ كَانَ كرْماً أنْ يَبيعَه زبيبِ كَيْلَا أَوْ كَانَ وَعِنْدَ مُسْلِمٍ وَإِنْ كَانَ زَرْعًا أَنْ يَبِيعَهُ بِكَيْلِ طَعَامٍ نَهَى عَنْ ذلكَ كُله. مُتَّفق عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا: نَهَى عَنِ الْمُزَابَنَةِ قَالَ: والمُزابنَة: أنْ يُباعَ مَا فِي رُؤوسِ النَّخلِ بتمْرٍ بكيلٍ مُسمَّىً إِنْ زادَ فعلي وَإِن نقص فعلي)




২৮৩৪- ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’মুযাবানাহ্’ জাতীয় ক্রয়-বিক্রয় হতে নিষেধ করেছেন। আর তা হলো বাগানের মধ্যে রেখে ফল বিক্রি করা। গাছ হতে পেড়ে তা শুকালে কি পরিমাণ খুরমা হবে ওই পরিমাণ খুরমা দিয়ে এর বিনিময়ে গাছের খেজুর গাছে রেখেই অনুমান করে ক্রয়-বিক্রয় করা। আর যদি আঙ্গুর হয়, কিসমিসের বিনিময়ে অনুমান করে ক্রয়-বিক্রয় করা। মুসলিম-এর বর্ণনায় ক্ষেতের শস্যদানার বেলায়ও এভাবে ক্রয়-বিক্রয় করা নিষেধ। (বুখারী, মুসলিম)
মুত্তাফাকুন ’আলায়হি-এর অন্য এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানাহ্ ধরনের ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেছেন, (খেজুর) গাছের মাথায় যে খেজুর রয়েছে তা নির্দিষ্ট পরিমাপ করে খেজুরের বিনিময়ে বিক্রয় করা হলো ’মুযাবানাহ্’। যদি বেশি হয় তবে তা আমার (বিক্রেতার লাভে) হবে। যদি কম হয় তবে তা আমারই ক্ষতি হিসেবে পরিগণিত হবে (অর্থাৎ- এর লাভ-ক্ষতি আমারই হবে)। (বুখারী, মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2205) و مسلم (1542/75)









মিশকাতুল মাসাবিহ (2835)


وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْمُخَابَرَةِ وَالْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ وَالْمُحَاقَلَةُ: أَنْ يَبِيعَ الرَّجُلُ الزَّرْعَ بِمِائَةِ فَرَقٍ حِنطةً والمزابنةُ: أنْ يبيعَ التمْرَ فِي رؤوسِ النَّخْلِ بِمِائَةِ فَرَقٍ وَالْمُخَابَرَةُ: كِرَاءُ الْأَرْضِ بِالثُّلُثِ والرُّبُعِ. رَوَاهُ مُسلم




২৮৩৫-[২] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখাবারাহ্, মুহাকালাহ্ ও মুযাবানাহ্ করতে নিষেধ করেছেন। ’মুহাকালাহ্’ হলো ক্ষেতের শস্য একশ’ ফুরক্ব (প্রায় বিশ মণ প্রস্তুতকৃত) গমের বিনিময়ে বিক্রি করা। ’মুযাবানাহ্’ হলো খেজুর গাছের মাথায় যে খেজুর রয়েছে, তা কর্তিত বিশ মণ খুরমার বিনিময়ে বিক্রি করা। ’মুখাবারাহ্’ অর্থ হলো এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ শস্যের বিনিময়ে ক্ষেত ইজারা (বর্গা) দেয়া। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (81۔ 1536/84)









মিশকাতুল মাসাবিহ (2836)


وَعَنْهُ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ وَالْمُخَابَرَةِ وَالْمُعَاوَمَةِ وَعَنِ الثُّنْيَا وَرَخَّصَ فِي الْعَرَايَا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ




২৮৩৬-[৩] উক্ত রাবী [জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন মুহা-কলাহ্, মুযা-বানাহ্, মুখা-বারাহ্ ও মু’আ-ওয়ামাহ্ হতে এবং নিষেধ করেছেন (অনির্দিষ্টভাবে) কিছু অংশ বাদ দিতেও। আর ’আরা-ইয়া’-কে জায়িয করেছেন। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (1536/85)









মিশকাতুল মাসাবিহ (2837)


وَعَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَن بيعِ التمْر بالتمْرِ إِلَّا أَنَّهُ رَخَّصَ فِي الْعَرِيَّةِ أَنْ تُبَاعَ بِخَرْصِهَا تَمْرًا يَأْكُلُهَا أَهْلُهَا رُطَبًا




২৮৩৭-[৪] সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্তুতকৃত খুরমার বিনিময়ে (গাছে বিদ্যমান রেখে) খেজুর বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবশ্য ’আরা-ইয়া বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন। ’আরা-ইয়া’র ফলকেই অনুমান করে বিক্রি করে সেই অনুমান অনুযায়ী খুরমা দিবে। ’আরা-ইয়া’র ফল ক্রেতা তা পাকা ও তাজা অবস্থায় খাবে। (বুখারী, মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2191) و مسلم (1540/67)









মিশকাতুল মাসাবিহ (2838)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْخَصَ فِي بَيْعِ الْعَرَايَا بِخَرْصِهَا مِنَ التَّمْرِ فِيمَا دُونَ خَمْسَة أوسق أَو خَمْسَة أوسق شكّ دَاوُد ابْن الْحصين




২৮৩৮-[৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আরা-ইয়া’ জাতীয় ক্রয় বিক্রয়ে- ফলের অনুমানে খুরমার বিনিময়ে অনুমতি দিয়েছেন। যা সাধারণত পাঁচ আওসুক-এর কম হয়ে থাকে, অথবা পাঁচ আওসুক-এর মধ্যে হয়ে থাকে। দাঊদ ইবনু হুসায়ন তা সন্দেহে করেছেন। (বুখারী, মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2190) و مسلم (1541/71)









মিশকাতুল মাসাবিহ (2839)


وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلَاحُهَا نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُشْتَرِي. مُتَّفِقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: نَهَى عَنْ بَيْعِ النَّخْلِ حَتَّى تَزْهُوَ وَعَنِ السنبل حَتَّى يبيض ويأمن العاهة




২৮৩৯-[৬] ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিক্রয়কারী ও ক্রেতাকে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন যতদিন পর্যন্ত গাছের ফল (খাবার বা কাজে লাগানোর) উপযুক্ত না হবে। (বুখারী, মুসলিম)
মুসলিম-এর অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, খেজুরে যতদিন পর্যন্ত লাল বা হলুদ বর্ণ না আসে এবং শীষ জাতীয় শস্য (গম ও যব প্রভৃতি) বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন (যতক্ষণ পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে পেকে শুকিয়ে সাদা না হয়ে যায়)। আর কোনো প্রকার মোড়কে নষ্ট হওয়া থেকে আশঙ্কামুক্ত না হয়ে যায়, অর্থাৎ- ব্যাধি হতে মুক্ত থাকতে হবে।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2194) و مسلم (1534/49، 1535/50)









মিশকাতুল মাসাবিহ (2840)


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَن بيع الثِّمَارِ حَتَّى تَزْهَى قِيلَ: وَمَا تَزْهَى؟ قَالَ: حَتَّى تخمر وَقَالَ: "أَرَأَيْتَ إِذَا مَنَعَ اللَّهُ الثَّمَرَةَ بِمَ يَأْخُذ أحدكُم مَال أَخِيه؟"




২৮৪০-[৭] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর ফল পরিপক্ক হবার পূর্বে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। প্রশ্ন করা হলো, পরিপক্কতা কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ফল লাল হওয়া। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেছেন, আল্লাহর দেয়া কোনো বালা-মুসীবাতে যদি এ ফল নষ্ট হয়ে যায়, তবে মুসলিম ভাই (ক্রেতা) হতে কিসের বিনিময়ে মূল্যমান গ্রহণ করবে। (বুখারী, মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2198) و مسلم (1555/15)