হাদীস বিএন


মিশকাতুল মাসাবিহ





মিশকাতুল মাসাবিহ (5361)


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَتَتَّبِعُنَّ سُننَ مَنْ قبلكُمْ شبْرًا بشبرٍ وذراعاً بذراعٍ حَتَّى لَوْ دَخَلُوا جُحْرَ ضَبٍّ تَبِعْتُمُوهُمْ» . قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى؟ قَالَ: «فَمَنْ» . مُتَّفق عَلَيْهِ




৫৩৬১-[২] আবূ সাঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের অভ্যাস এক এক বিঘত ও এক এক হাত পরিমাণে অনুসরণ করে চলবে- এমনকি তারা যদি দব্বের গর্তেও ঢুকে থাকে তাহলে তোমরাও এতে তাদের অনুসরণ করবে। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! তারা কি ইয়াহূদ ও খ্রিষ্টানরা! তিনি বললেন, তবে আর কারা? (বুখারী ও মুসলিম)।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3456) و مسلم (6/ 2669)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5362)


وَعَن مرداس الْأَسْلَمِيّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَذْهَبُ الصَّالِحُونَ الْأَوَّلُ فَالْأَوَّلُ وَتَبْقَى حُفَالَةٌ كَحُفَالَةِ الشَّعِيرِ أَوِ التَّمْرِ لَا يُبَالِيهِمُ اللَّهُ بالةً» . رَوَاهُ البُخَارِيّ




৫৩৬২-[৩] মিরদাস আল আসলামী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ভালো ও সৎ লোকেরা (পর্যায়ক্রমে) একের পর এক চলে যাবে। অতঃপর অবশিষ্টরা যব অথবা খেজুরের নিকৃষ্ট চিটার মতো থেকে যাবে। আল্লাহ তা’আলা তাদের প্রতি কোন গুরুত্ব দিবেন না। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (4156)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5363)


عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا مَشَتْ أُمَّتِي الْمُطَيْطَاء وَخَدَمَتْهُمْ أَبْنَاءُ الْمُلُوكِ أَبْنَاءُ فَارِسَ وَالرُّومِ سَلَّطَ اللَّهُ شِرَارَهَا عَلَى خِيَارِهَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيث غَرِيب




৫৩৬৩-[৪] ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যখন আমার উম্মত গর্বের সাথে চলতে লাগবে এবং রাজা-বাদশাহদের সন্তানরা তথা পারস্য ও রূমের রাজ কুমাররা এদের খিদমতে রত থাকবে, তখন আল্লাহ তা’আলা উম্মতের খারাপ লোকেদেরকে ভালো লোকদের ওপর শাসক হিসেবে চাপিয়ে দেবেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ الترمذي (2261) ٭ موسی بن عبیدۃ ضعیف وروی ابن، حبان في صحیحہ(الإحسان:6716/6681) أن النبي ﷺ قال: ((إذا مشت أمتي المطیطاء وخد، متھم فارس و الروم سلّط بعضھم علی بعض .)) و سندہ حسن و ھو یغني عنہ .









মিশকাতুল মাসাবিহ (5364)


وَعَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَقْتُلُوا إِمَامَكُمْ وَتَجْتَلِدُوا بأسيافكم ويرَث دنياكم شرارُكم» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ




৫৩৬৪-[৫] হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা নিজেদের খলীফাহ্ বা বাদশাহকে হত্যা না করবে, তলোয়ার দ্বারা একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত না হবে এবং তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা খারাপ ব্যক্তি তোমাদের দুনিয়ার মালিক (শাসক) না হবে। (তিরমিযী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (2170 و قال: حسن)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5365)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكُونَ أَسْعَدَ النَّاسِ بِالدُّنْيَا لُكَعُ بْنُ لُكَعَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي «دَلَائِل النُّبُوَّة»




৫৩৬৫-[৬] উক্ত রাবী [হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যতক্ষণ দুনিয়ার ব্যাপারে অধমের সন্তান সৌভাগ্যের অধিকারী বলে গণ্য না হবে ততক্ষণ কিয়ামত সংঘটিত হবে না। (তিরমিযী ও বায়হাক্বী’র "দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ্")




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (2209 وقال: حسن) و البیھقي في دلائل، النبوۃ (6/ 392)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5366)


وَعَن مُحَمَّد بن كَعْب الْقرظِيّ قَالَ: حَدَّثَنِي مَنْ سَمِعَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالب قَالَ: إِنَّا لَجُلُوسٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ فَاطَّلَعَ عَلَيْنَا مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ مَا عَلَيْهِ إِلَّا بُرْدَةٌ لَهُ مَرْقُوعَةٌ بِفَرْوٍ فَلَمَّا رَآهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَكَى لِلَّذِي كَانَ فِيهِ مِنَ النِّعْمَةِ وَالَّذِي هُوَ فِيهِ الْيَوْمَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَيْفَ بِكُمْ إِذَا غَدَا أَحَدُكُمْ فِي حُلَّةٍ وَرَاحَ فِي حُلَّةٍ؟ وَوُضِعَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ صَحْفَةٌ وَرُفِعَتْ أُخْرَى وَسَتَرْتُمْ بُيُوتَكُمْ كَمَا تُسْتَرُ الْكَعْبَة؟» . فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ مِنَّا الْيَوْمَ نَتَفَرَّغُ لِلْعِبَادَةِ وَنُكْفَى الْمُؤْنَةَ. قَالَ: «لَا أَنْتُمُ الْيَوْمَ خَيْرٌ مِنْكُمْ يَوْمَئِذٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ




৫৩৬৬-[৭] মুহাম্মাদ ইবনু কা’ব আল কুরাযী (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে সে ব্যক্তিই এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যিনি ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে শ্রবণ করেছেন, তিনি বলেছেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। এমন সময় মুস্’আব ইবনু উমায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এমন অবস্থায় সেখানে এসে উপস্থিত হলেন যে, তাঁর চাদরে চামড়ার তালি লাগানো ছিল। তাঁকে দেখে রাসূলুল্লাহ (সা.) কেঁদে দিলেন। (অতীতে) তিনি কতই না সুখ-সাচ্ছন্দে ছিলেন, অথচ আজ তার এ অবস্থা। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ঐ সময় তোমাদের অবস্থা কেমন হবে? যখন তোমরা সকালে এক জোড়া পরিধান এবং বিকালে আরেক জোড়া পরিধান করে বের হবে। আর তোমাদের সম্মুখে রাখা হবে (পৃথক পৃথক প্রকারের) খানার পেয়ালা এবং তা তুলে নিয়ে রাখা হবে সে স্থলে আরেক পেয়ালা। আর তোমরা ঘরকে এমনভাবে পর্দা দ্বারা আচ্ছাদিত করবে, যেভাবে আচ্ছাদিত করা হয় কা’বা ঘরকে। তখন সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! সেদিন আমরা আজকের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থায় থাকব। কেননা তখন আমাদের খাওয়া-পরার দুশ্চিন্তা থাকবে না। ফলশ্রুতিতে আমরা অধিক সময় আল্লাহর ইবাদতের জন্য অবসর ও সুযোগ পাব। নবী (সা.) বললেন, তোমাদের এ আন্দাজ সঠিক নয়, বরং তোমরা সেদিন অপেক্ষা এখনকার সময়ই ভালো আছ। (তিরমিযী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (2476 وقال: حسن غریب) ٭ فیہ ’’من، سمع‘‘ وھو مجھول .









মিশকাতুল মাসাবিহ (5367)


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ الصَّابِرُ فِيهِمْ عَلَى دِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ إِسْنَادًا




৫৩৬৭-[৮] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে, তখন তাদের মধ্যে দীন-শারী’আতের উপর দৃঢ়ভাবে ধৈর্যধারণকারীর অবস্থা হবে হাতের মুষ্টিতে অগ্নিশিখা ধারণকারীর মতো। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, সনদ হিসেবে হাদীসটি গরীব]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ الترمذي (2260) ٭ عمر بن شاکر ضعیف و حدیث، الترمذي (3058) یغني عنہ .









মিশকাতুল মাসাবিহ (5368)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا كَانَ أُمَرَاؤُكُمْ خِيَارَكُمْ وَأَغْنِيَاؤُكُمْ سُمَحَاءَكُمْ وَأُمُورُكُمْ شُورَى بَيْنِكُمْ فَظَهْرُ الْأَرْضِ خَيْرٌ لَكُمْ مِنْ بَطْنِهَا. وَإِذَا كَانَ أمراؤكم شِرَاركُمْ وأغنياؤكم بخلاؤكم وَأُمُورُكُمْ إِلَى نِسَائِكُمْ فَبَطْنُ الْأَرْضِ خَيْرٌ لَكُمْ من ظهرهَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ: هَذَا حديثٌ غَرِيب




৫৩৬৮-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যখন তোমাদের শাসক হবে তোমাদের ভালো লোকেরা, তোমাদের বিত্তবান ব্যক্তিরা হবে দানশীল এবং তোমাদের যাবতীয় কাজকর্ম সম্পাদিত হবে পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে, তখন জমিনের পেট অপেক্ষা তার পিঠ হবে তোমাদের জন্য শ্রেয়। পক্ষান্তরে যখন তোমাদের খারাপ লোকেরা হবে তোমাদের শাসক, বিত্তবান লোকেরা হবে কৃপণ এবং তোমাদের কাজকর্ম অর্পণ করা হবে নারীদের ওপর তখন জমিনের পিঠ অপেক্ষা তার পেট হবে তোমাদের জন্য শ্রেয়। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (2266) ٭ صالح بن بشیر المري ضعیف و، فیہ علۃ أخری .









মিশকাতুল মাসাবিহ (5369)


وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُوشِكُ الْأُمَمُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ كَمَا تَدَاعَى الْأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا» . فَقَالَ قَائِلٌ: وَمِنْ قِلَّةٍ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ؟ قَالَ: «بَلْ أَنْتُم يَوْمئِذٍ كثير وَلَكِن غُثَاءٌ كَغُثَاءِ السَّيْلِ وَلَيَنْزِعَنَّ اللَّهُ مِنْ صُدُورِ عَدُوِّكُمُ الْمَهَابَةَ مِنْكُمْ وَلَيَقْذِفَنَّ فِي قُلُوبِكُمُ الْوَهْنَ» . قَالَ قَائِلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْوَهْنُ؟ قَالَ: «حُبُّ الدُّنْيَا وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»




৫৩৬৯-[১০] সাওবান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: অদূর ভবিষ্যতে তোমাদের বিরুদ্ধে (ইসলামবিদ্বেষী) অন্যান্য সম্প্রদায় একে অন্যকে আহ্বান করবে, যেরূপ খাবার পাত্রের প্রতি ভক্ষণকারী অন্যান্যদেরকে ডেকে থাকে। বর্ণনাকারী বলেন, এটা শুনে সাহাবীদের কেউ বললেন, তা কি এজন্য হবে যে, আমরা সেই সময় সংখ্যায় অল্প হব? তিনি (সা.) বললেন, বরং তখন তোমরা সংখ্যায় অনেক বেশি হবে, কিন্তু তোমাদের অবস্থা হবে স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মতো। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তোমাদের হৃদয়ে ’ওয়াহন’ সৃষ্টি করে দেবেন। তখন কোন একজন প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! ’ওয়াহন কি? তিনি (সা.) বললেন, দুনিয়ার ভালোবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা (বাঁচার লোভ)। (আবূ দাউদ ও বায়হাক্বী’র শুআবূল ঈমান গ্রন্থে)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * حسن، رواہ أبو داود (4297) [وعنہ] والبیھقي في دلائل ا لنبوۃ (6/، 534)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5370)


عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: «مَا ظَهَرَ الْغُلُولُ فِي قَوْمٍ إِلَّا أَلْقَى اللَّهُ فِي قُلُوبِهِمُ الرُّعْبَ وَلَا فَشَا الزِّنَا فِي قَوْمٍ إِلَّا كَثُرَ فِيهِمُ الْمَوْتُ وَلَا نَقَصَ قَوْمُ الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ إِلَّا قَطَعَ عَنْهُمُ الرِّزْقَ وَلَا حَكَمَ قَوْمٌ بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَّا فَشَا فِيهِمُ الدَّمُ وَلَا خَتَرَ قَوْمٌ بالعهد إِلا سُلِّطَ عَلَيْهِم عدوهم» . رَوَاهُ مَالك




৫৩৭০-[১১] ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে সম্প্রদায়ের মধ্যে খিয়ানত বা আত্মসাতের রোগ ঢুকে, আল্লাহ তা’আলা তাদের অন্তরে শত্রুর ভয় ঢেলে দেন। যে সম্প্রদায়ের মধ্যে যিনা ব্যভিচার বিস্তার লাভ করে তাদের মধ্যে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। যে সম্প্রদায় মাপে-ওযনে কম দেয়, তাদের রিয়ক উঠিয়ে নেয়া হয়। যে সম্প্রদায় বিচারে ন্যায়নীতি রক্ষা করে না, তাদের মাঝে খুনাখুনি ব্যাপক হয়। আর যে সম্প্রদায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তাদের ওপর শত্রুকে চেপে দেয়া হয়। (মালিক)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ مالک (2/ 460 ح 1013) ٭ السند فیہ بلاغ، أي ھو، غیر متصل و حدیث ابن ماجہ (4019 حسن بتحقیقي): ’’یا معشر المھاجرین خصال خمس، ابتلیتم بھن‘‘ إلخ یغني عنہ .









মিশকাতুল মাসাবিহ (5371)


عَن عِيَاض بن حمَار الْمُجَاشِعِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ فِي خُطْبَتِهِ: " أَلَا إِنَّ رَبِّي أَمَرَنِي أَنْ أُعَلِّمَكُمْ مَا جَهِلْتُمْ مِمَّا عَلَّمَنِي يَوْمِي هَذَا: كُلُّ مَالٍ نَحَلْتُهُ عَبْدًا حلالٌ وإِني خلقت عبَادي حنفَاء كلهم وَإنَّهُ أَتَتْهُمُ الشَّيَاطِينُ فَاجْتَالَتْهُمْ عَنْ دِينِهِمْ وَحَرَّمَتْ عَلَيْهِمْ مَا أَحْلَلْتُ لَهُمْ وَأَمَرَتْهُمْ أَنْ يُشْرِكُوا بِي مَا لَمْ أُنْزِلْ بِهِ سُلْطَانًا وَإِنَّ اللَّهَ نَظَرَ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ فَمَقَتَهُمْ عَرَبَهُمْ وَعَجَمَهُمْ إِلَّا بَقَايَا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَقَالَ: إِنَّمَا بَعَثْتُكَ لِأَبْتَلِيَكَ وَأَبْتَلِيَ بِكَ وَأَنْزَلَتُ عَلَيْكَ كِتَابًا لَا يَغْسِلُهُ الْمَاءُ تَقْرَؤُهُ نَائِمًا وَيَقْظَانَ وَإِنَّ الله أَمرنِي أَن أحرقَ قُريْشًا فَقلت: يَا رَبِّ إِذًا يَثْلَغُوا رَأْسِي فَيَدَعُوهُ خُبْزَةً قَالَ: اسْتَخْرِجْهُمْ كَمَا أَخْرَجُوكَ وَاغْزُهُمْ نُغْزِكَ وَأَنْفِقْ فَسَنُنْفِقُ عَلَيْكَ وَابْعَثْ جَيْشًا نَبْعَثْ خَمْسَةً مِثْلَهُ وَقَاتِلْ بِمن أطاعك من عصاك ". رَوَاهُ مُسلم




৫৩৭১- ’ইয়ায ইবনু হিমার আল মুজাশি’ঈ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর ভাষণে বললেন, জেনে রাখ! আল্লাহ তা’আলা আমাকে আদেশ করেছেন যে, আমি তোমাদেরকে ঐ কথাটি অবহিত করি যা তোমরা জান না। আল্লাহ তা’আলা আজ আমাকে যে সমস্ত বিষয়ে অবগত করেছেন, (আল্লাহ বলেন, আমি আমার বান্দাকে যে সমস্ত সম্পদ দান করেছি, তা হালাল। আল্লাহ তা’আলা আরো বলেছেন, আমি আমার বান্দাদেরকে ন্যায় ও সত্যের উপরে সৃজন করেছি। অতঃপর তাদের নিকট শয়তান এসে তাদেরকে দীন হতে ঘুরিয়ে দেয়, আর আমি তাদের জন্য যা হালাল করেছিলাম শয়তান তাকে তাদের জন্য হারাম করে দেয় এবং শয়তান তাদেরকে এ আদেশ করে যে, তারা যেন আমার সাথে ঐ জিনিসকে শরীক করে নেয় যার সম্পর্কে কোন দলীল বা প্রমাণ অবতীর্ণ করা হয়নি।
আর আল্লাহ জমিনবাসীদের প্রতি দৃষ্টি দিলেন, তখন (তাদের চরম গোমরাহির কারণে) কতিপয় আহলে কিতাব ছাড়া আরবী, আজমী সকলের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ হলেন। আল্লাহ তা’আলা আরো বলেছেন, আমি তোমাকে [হে মুহাম্মাদ (সা.)] এজন্যই নবী বানিয়ে পাঠিয়েছি যে, তোমাকে পরীক্ষা করব আর তোমার সাথে তোমার উম্মতেরও পরীক্ষা করব আমি তোমার ওপর একটি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাকে পানিতে ধুতে পারবে না (তা অন্তরে সংরক্ষিত, কাজেই কেউ মেটাতে পারবে না)। তুমি তা ঘুমন্ত ও জাগ্রত অবস্থায় পাঠ করবে। আর আল্লাহ আমাকে এটাও নির্দেশ করেছেন- আমি যেন কুরায়শদেরকে জ্বালিয়ে (ধ্বংস করে) ফেলি আমি বললাম, এতে কুরায়শগণ তো আমার মস্তক পিষে রুটির মতো চ্যাপ্টা করে ফেলবে। (সংখ্যাগরিষ্ঠতার দরুন) তখন আল্লাহ তা’আলা বললেন, তারা তোমাকে যেভাবে (মক্কা হতে) বের করে দিয়েছে, সেভাবে আমিও তাদেরকে (বাড়িঘর হতে) বের করে দেব। তুমি তাদের সাথে যুদ্ধ কর, আমি তোমার যুদ্ধের সরঞ্জাম প্রস্তুত করে দেব। তুমি আল্লাহর রাস্তায় খরচ কর। আমি শীঘ্রই তোমার খরচের ব্যবস্থা করে দেব। তুমি তাদের (কুরায়শদের) বিরুদ্ধে সেনাদল প্রেরণ করবে, আমি শত্ৰু-শক্তির পাঁচ গুণ বেশি সৈন্য আর তোমার অনুসরণ করে তাদের সঙ্গে নিয়ে ঐ সমস্ত লোকেদের বিরুদ্ধে লড়াই কর, যারা তোমার নাফরমানি করে। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (62/ 2865)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5372)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ (وَأَنْذِرْ عشيرتك الْأَقْرَبين) صَعِدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّفَا فَجَعَلَ يُنَادِي: «يَا بَنِي فِهْرٍ يَا بَنِي عَدِيٍّ» لِبُطُونِ قُرَيْشٍ حَتَّى اجْتَمَعُوا فَقَالَ: «أَرَأَيْتَكُمْ لَوْ أَخْبَرْتُكُمْ أَنَّ خَيْلًا بِالْوَادِي تُرِيدُ أَنْ تُغِيرَ عَلَيْكُمْ أَكُنْتُمْ مُصَدِّقِيَّ؟ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ نَادَى: «يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ إِنَّمَا مَثَلِي وَمَثَلُكُمْ كَمَثَلِ رَجُلٍ رَأَى الْعَدُوَّ فَانْطَلَقَ يَرْبَأُ أَهْلَهُ فَخَشِيَ أَنْ يسبقوه فَجعل يَهْتِف يَا صَبَاحَاه»




৫৩৭২-[২] ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নাযিল হয় (وَ اَنۡذِرۡ عَشِیۡرَتَکَ الۡاَقۡرَبِیۡنَ) "(হে নবী!) তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দাও"- (সূরাহ আশ শু’আরা ২৬ : ২১৪); তখন নবী (সা.) সাফা পাহাড়ে উঠলেন এবং হে বনী ফিহর! হে বনী ’আদী! বলে কুরায়শদের বিভিন্ন গোত্রকে উচ্চৈঃস্বরে আহ্বান করলেন, এতে তারা সকলে জড়ো হয়ে গেল। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, বল তো আমি যদি এখন তোমাদেরকে বলি যে, এ পাহাড়ের উপত্যকায় একটি অশ্বারোহী সৈন্যবাহিনী তোমাদের ওপর হঠাৎ আক্রমণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, তবে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে? সমবেত সকলে বলল, হ্যা, কারণ আমরা আপনাকে সদা সত্যবাদীই পেয়েছি। তখন তিনি (সা.) বললেন, "আমি তোমাদের সম্মুখে একটি কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছি।" এ কথা শুনে আবূ লাহাব বলল, সারাটা জীবন তোমার ধ্বংস হোক। তুমি কি এজন্যই আমাদেরকে একত্রিত করেছ? এমতাবস্থায় অবতীর্ণ হলো (تَبَّتۡ یَدَاۤ اَبِیۡ لَهَبٍ وَّ تَبَّ ؕ) "আবূ লাহাব-এর উভয় হাত ধ্বংস হোক এবং তার বিনাশ হোক"- (সূরাহ্ লাহাব ১১১:১)। (বুখারী ও মুসলিম)
অপর এক বর্ণনাতে আছে, নবী (সা.) ডাক দিলেন, হে আবদ মানাফ-এর বংশধর! মূলত আমার তোমাদের দৃষ্টান্ত হলো সেই ব্যক্তির ন্যায়, যে শত্রুসৈন্যকে দেখে স্বীয় গোত্রকে বাঁচানোর জন্য চলল, অতঃপর আশঙ্কা করল যে, শত্রু তাদের ওপর আগে এসে আক্রমণ করে বসতে পারে। তাই সে উচ্চস্বরে (يَا صَبَاحَاهٗ) "হে সকাল বেলার বিপদ!" বলে সতর্ক করতে লাগল। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (4770) و مسلم (355/ 208 و 353 / 207)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5373)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ (وَأَنْذِرْ عشيرتك الْأَقْرَبين) دَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُرَيْشًا فَاجْتَمَعُوا فَعَمَّ وَخَصَّ فَقَالَ: «يَا بَنِي كَعْبِ بْنِ لُؤَيٍّ أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ يَا بَنِي مُرَّةَ بْنِ كَعْبٍ أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ. يَا بَنِي عَبْدِ شَمْسٍ أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ من النَّار يَا بني عبد منَاف أَنْقِذُوا أَنفسكُم من النَّار. با بَنِي هَاشِمٍ أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ. يَا بني عبد الْمطلب أَنْقِذُوا أَنفسكُم من النَّار. يَا فَاطِمَةُ أَنْقِذِي نَفْسَكِ مِنَ النَّارِ فَإِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا غَيْرَ أَنَّ لَكُمْ رَحِمًا سَأَبُلُّهَا بِبَلَالِهَا» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفَى الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِ قَالَ: «يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَيَا صَفِيَّةُ عَمَّةَ رَسُولِ اللَّهِ لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا. وَيَا فَاطِمَةُ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَلِينِي مَا شِئْتِ مِنْ مَالِي لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا»




৫৩৭৩-[৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নাযিল হলো, (وَأَنْذِرْ عشيرتك الْأَقْرَبين)"হে নবী! তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সাবধান করে দাও"- (সূরা আশ শুআরা ২৬ : ২১৪); তখন নবী (সা.) কুরায়শদেরকে আহ্বান করলে তারা সমবেত হলো। তিনি (সা.) সতর্কবাণী শুনালেন। তিনি (সা.) বললেন, হে কা’ব ইবনু লুয়াই-এর বংশধর! হে মুররাহ্ ইবনু কা’ব-এর বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর! হে ’আবদ শামস্-এর বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে আগুন হতে বাঁচাও! হে ’আবদ মানাফ-এর বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে আগুন থেকে মুক্ত কর! হে হাশিম-এর বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা কর! হে ’আবদুল মুত্ত্বালিব-এর বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচাও! হে ফাতিমাহ্! তুমি তোমার দেহকে জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচাও! কেননা, আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করার ক্ষমতা আমার নেই। তবে তোমাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে, তা আমি (দুনিয়াতে) ভালো আচরণ দ্বারা সিক্ত করব। (মুসলিম)
বুখারী ও মুসলিম-এর যৌথ বর্ণনায় আছে, নবী (সা.) বললেন: হে কুরায়শ সম্প্রদায়! তোমাদের জানকে খরিদ করে নাও (অর্থাৎ- আমার ওপরে ঈমান এনে জাহান্নামের আগুন হতে আত্মরক্ষা কর)। আমি তোমাদের ওপর থেকে আল্লাহর শাস্তি কিছুই দূর করতে পারব না। হে আবদ মানাফ-এর বংশধর! আমি তোমাদের ওপর হতে আল্লাহর শাস্তি কিছুই দূর করতে পারব না। হে রাসূলুল্লাহর ফুফী সফিয়্যাহ! আমি তোমাকে আল্লাহর ’আযাব হতে বাঁচাতে পারব না। হে মুহাম্মাদ-এর মেয়ে ফাতিমাহ! আমার কাছে দুনিয়াবী ধন-সম্পদ হতে যা ইচ্ছা তা চাইতে পার, কিন্তু আমি তোমাকে আল্লাহর শাস্তি হতে রক্ষা করতে পারব না।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (348/ 204) و حدیث ’’یا معشر قریش‘‘ إلخ متفق علیہ، (البخاري: 2753 و مسلم: 351 / 206)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5374)


عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أُمَّتِي هَذِهِ أُمَّةٌ مَرْحُومَةٌ لَيْسَ عَلَيْهَا عَذَابٌ فِي الْآخِرَةِ عَذَابُهَا فِي الدُّنْيَا: الْفِتَنُ وَالزَّلَازِلُ وَالْقَتْلُ ". رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ




৫৩৭৪-[৪] আবূ মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার এ উম্মাত আল্লাহর রহমাতপ্রাপ্ত উম্মত, তাদের ওপর পরকালে শাস্তি হবে না। তবে ইহকালে তাদের ’আযাব হলো ফিতনাহ্, ভূমিকম্প ও হত্যাযজ্ঞ। (আবূ দাউদ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ أبو داود (4278)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5375)


وَعَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ هَذَا الْأَمْرَ بَدَأَ نُبُوَّةً وَرَحْمَةً ثُمَّ يَكُونُ خِلَافَةً وَرَحْمَةً ثُمَّ مُلْكًا عَضُوضًا ثُمَّ كَانَ جَبْرِيَّةً وَعُتُوًّا وَفَسَادًا فِي الْأَرْضِ يَسْتَحِلُّونَ الْحَرِيرَ وَالْفُرُوجَ وَالْخُمُورَ يُرْزَقُونَ عَلَى ذَلِكَ وَيُنْصَرُونَ حَتَّى يَلْقَوُا اللَّهَ» رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»




৫৩৭৫-[৫], ৫৩৭৬-[৬] আবূ উবায়দাহ্ ও মু’আয ইবনু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: এ দীনের (ইসলামের) শুরু হয়েছে নুবুওয়্যাত ও রহমতের দ্বারা। অতঃপর আসবে খিলাফত ও রহমতের যুগ, তারপর আসবে অত্যাচারী বাদশাহদের যুগ। এরপর আসবে নির্দয়তা উচ্ছৃঙ্খলতা ও দেশে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীর যুগ। তারা রেশমি কাপড় পরিধান করা, অবৈধভাবে নারীদের যৌনাঙ্গ উপভোগ করা এবং মদ্য পান করাকে বৈধ মনে করবে। এতদসত্ত্বেও তাদেরকে রিযক দেয়া হবে এবং (দুনিয়াবী কাজে) তাদেরকে সাহায্য করা হবে। অবশেষে এ পাপের মধ্যে লিপ্ত থেকে কিয়ামতে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। (বায়হাক্বী’র শুআবূল ঈমান)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ البیھقي في شعب الإیمان (5616، نسخۃ محققۃ:، 5228) [و أبو یعلی (873)] ٭ لیث بن أبي سلیم: ضعیف، و للحدیث شواھد .









মিশকাতুল মাসাবিহ (5376)


وَعَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ هَذَا الْأَمْرَ بَدَأَ نُبُوَّةً وَرَحْمَةً ثُمَّ يَكُونُ خِلَافَةً وَرَحْمَةً ثُمَّ مُلْكًا عَضُوضًا ثُمَّ كَانَ جَبْرِيَّةً وَعُتُوًّا وَفَسَادًا فِي الْأَرْضِ يَسْتَحِلُّونَ الْحَرِيرَ وَالْفُرُوجَ وَالْخُمُورَ يُرْزَقُونَ عَلَى ذَلِكَ وَيُنْصَرُونَ حَتَّى يَلْقَوُا اللَّهَ» رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»




৫৩৭৬-[৬] আবূ উবায়দাহ্ ও মু’আয ইবনু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: এ দীনের (ইসলামের) শুরু হয়েছে নুবুওয়্যাত ও রহমতের দ্বারা। অতঃপর আসবে খিলাফত ও রহমতের যুগ, তারপর আসবে অত্যাচারী বাদশাহদের যুগ। এরপর আসবে নির্দয়তা উচ্ছৃঙ্খলতা ও দেশে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীর যুগ। তারা রেশমি কাপড় পরিধান করা, অবৈধভাবে নারীদের যৌনাঙ্গ উপভোগ করা এবং মদ্য পান করাকে বৈধ মনে করবে। এতদসত্ত্বেও তাদেরকে রিযক দেয়া হবে এবং (দুনিয়াবী কাজে) তাদেরকে সাহায্য করা হবে। অবশেষে এ পাপের মধ্যে লিপ্ত থেকে কিয়ামতে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। (বায়হাক্বী’র শুআবূল ঈমান)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ البیھقي في شعب الإیمان (5616، نسخۃ، محققۃ: 5228) [و أبو یعلی (873)] ٭ لیث بن أبي سلیم: ضعیف، و للحدیث، شواھد .









মিশকাতুল মাসাবিহ (5377)


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " إِنَّ أَوَّلَ مَا يُكْفَأُقَالَ زَيْدُ بْنُ يَحْيَى الرَّاوِيُّ: يَعْنِي الْإِسْلَامَكَمَا يُكْفَأُ الْإِنَاءُ " يَعْنِي الْخَمْرَ. قِيلَ: فَكَيْفَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَقَدْ بَيَّنَ اللَّهُ فِيهَا مابين؟ قَالَ: «يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا فَيَسْتَحِلُّونَهَا» . رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ




৫৩৭৭-[৭] ’আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, সর্বপ্রথম যে জিনিসকে উল্টিয়ে দেয়া হবে- বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু ইয়াহইয়া বলেন- অর্থাৎ ইসলামী বিধানসমূহ যেভাবে কোন পাত্রকে উল্টিয়ে দেয়া হয়, তা হবে শরাবের ব্যাপারটি। তখন জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! তা কিরূপে হবে? অথচ শরাব যে অবৈধ, তার বিধান তো আল্লাহ তা’আলা সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। তখন তিনি (সা.) বললেন, তারা অন্য নামে তার নামকরণ করে বৈধ সাব্যস্ত করে নেবে। (দারিমী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * حسن، رواہ الدارمي (2/ 114 ح 2106، نسخۃ محققۃ: 2145) ٭ وسندہ، حسن و رواہ أبي یعلی في مسندہ (8/ 177 ح 4731) من حدیث فرات بن سلمان عن القاسم، بن محمد بہ .









মিশকাতুল মাসাবিহ (5378)


عَن النُّعْمَان بن بشير عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَكُونُ النُّبُوَّةُ فِيكُمْ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا عَاضًّا فَتَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا جَبْرِيَّةً فَيَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً عَلَى مِنْهَاجِ نُبُوَّةٍ» ثُمَّ سَكَتَ قَالَ حَبِيبٌ: فَلَمَّا قَامَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَتَبْتُ إِلَيْهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ أُذَكِّرُهُ إِيَّاهُ وَقُلْتُ: أَرْجُو أَنْ تَكُونَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ بَعْدَ الْمُلْكِ الْعَاضِّ وَالْجَبْرِيَّةِ فَسُرَّ بِهِ وَأَعْجَبَهُ يَعْنِي عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ. رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي «دَلَائِل النُّبُوَّة»




৫৩৭৮-[৮] নু’মান ইবনু বাশীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : আল্লাহ যতদিন চাইবেন ততদিন তোমাদের মাঝে নুবুওয়্যাত পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান থাকবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে তুলে নেবেন, তারপর আল্লাহ যতদিন চাইবেন ততদিন নুবুয়্যাতের নিয়মানুযায়ী খিলাফত থাকবে, অতঃপর এমন এক সময় তাও উঠিয়ে নেবেন। তারপর প্রতিষ্ঠিত হবে দংশনকারী বাদশাহী, আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী তা যতদিন থাকার থাকবে, পরে এমন সময় তাকেও উঠিয়ে নেবেন। অতঃপর চেপে বসবে একনায়কত্ব, অপ্রতিরোধ্য রাজতন্ত্র। আল্লাহর ইচ্ছা যতদিন থাকার থাকবে, পরে তাকেও তুলে নেবেন। তারপর প্রতিষ্ঠিত হবে পুনরায় নুবুওয়্যাতের তরীকায় খিলাফত। এ পর্যন্ত বলার পর রসূল (সা.) নীরব হলেন।
বর্ণনাকারী হাবীব বলেন, যখন ’উমার ইবনু আবদুল আযীয খলীফাহ্ হলেন তখন আমি তাকে এ হাদীসটি লিখিয়ে পাঠালাম এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ভবিষ্যদ্বাণীটি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিলাম। অতঃপর বললাম, দংশনকারী ও একনায়কত্ববাদী রাজতন্ত্রের পর আমি মনে করি আপনিই ঐ আমীরুল মু’মিনীন বা খলীফাহ [যার কথা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলে গেছেন]। এতে তিনি অর্থাৎ ’উমার ইবনু ’আবদুল আযীয আনন্দ ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। (আহমাদ ও বায়হাক্বী’র "দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ أحمد (4/ 273 ح 18596، و البیھقي في دلائل، النبوۃ 6/ 491)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5379)


عَن حُذَيْفَة قَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَامًا مَا تَرَكَ شَيْئًا يَكُونُ فِي مقَامه إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ إِلَّا حَدَّثَ بِهِ حَفِظَهُ مَنْ حَفِظَهُ وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ قَدْ عَلِمَهُ أَصْحَابِي هَؤُلَاءِ وَإِنَّهُ لَيَكُونُ مِنْهُ الشَّيْءُ قَدْ نَسِيتُهُ فَأَرَاهُ فَأَذْكُرُهُ كَمَا يَذْكُرُ الرَّجُلُ وَجْهَ الرَّجُلِ إِذَا غَابَ عَنْهُ ثُمَّ إِذَا رَآهُ عرفه. مُتَّفق عَلَيْهِ




৫৩৭৯- হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) - আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন এবং তখন থেকে কিয়ামত অবধি যা কিছু ঘটবে তার সকল কিছুই বর্ণনা করেন। তাঁর সেই ভাষণটি যারা স্মরণে রাখতে পারে তারা স্মরণে রেখেছে, আর যারা ভুলে যাওয়ার তার ভুলে গিয়েছে। নিশ্চয় আমার বন্ধুগণ (সাহাবায়ি কিরামগণ)ও সে বিষয়ে অবগত আছেন। অবশ্য যখন কোন ঘটনা সামনে আসে, যার কথা আমি ভুলে গিয়েছি, তখন তাঁর [রাসূল (সা.) -এর] সেই দিনের ভাষণটি আমার স্মরণে পড়ে। যেমন- উপস্থিত হলে তাকে দেখামাত্রই চেনা যায়- এই তো সেই অমুক লোক। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (6604) و مسلم (23/ 2891)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5380)


وَعَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " تُعْرَضُ الْفِتَنُ عَلَى الْقُلُوبِ كَالْحَصِيرِ عُودًا عُودًا فَأَيُّ قَلْبٍ أُشْرِبَهَا نَكَتَتْ فِيهِ نُكْتَةً سَوْدَاءَ وَأَيُّ قَلْبٍ أَنْكَرَهَا نُكِتَتْ فيهِ نُكْتَةٌ بَيْضَاءُ حَتَّى يَصِيرَ عَلَى قَلْبَيْنِ: أَبْيَضُ بِمثل الصَّفَا فَلَا تَضُرُّهُ فِتْنَةٌ مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ وَالْآخَرُ أَسْوَدُ مِرْبَادًّا كَالْكُوزِ مُجْخِيًّا لَا يَعْرِفُ مَعْرُوفًا وَلَا يُنْكِرُ مُنْكَرًا إِلَّا مَا أشْرب من هَوَاهُ " رَوَاهُ مُسلم




৫৩৮০-[২] উক্ত রাবী [হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, মানুষের হৃদয়ে ফিতনাসমূহ এমনভাবে প্রবেশ করে, যেমন- আঁশ একটির পর আরেকটি বিছানো হয়ে থাকে এবং যেই হৃদয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তা প্রবেশ করে তাতে একটি কালো দাগ পড়ে। আর যে অন্তর তাকে জায়গা দেয় না। তাতে একটি সাদা দাগ পড়ে। ফলে মানুষের অন্তরসমূহ পৃথক পৃথক দু’ভাগে আলাদা হয়ে যায়। একপ্রকার অন্তর হয় মর্মর পাথরের মতো শ্বেত, যাকে আসমান ও জমিন বহাল থাকা পর্যন্ত (কিয়ামত পর্যন্ত) কোন ফিতনাই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না।
অপরদিকে দ্বিতীয় প্রকার অন্তর হয় কয়লার মতো কালো। যেমন- উপুড় হওয়া পাত্রের মতো, যাতে কিছুই ধারণ করার ক্ষমতা থাকে না। তা ভালোকে ভালো জানার এবং মন্দকে মন্দ জানার ক্ষমতা রাখে না, ফলে শুধুমাত্র তাই গ্রহণ করে যা তার প্রবৃত্তির চাহিদা হয়। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (231/ 144)