হাদীস বিএন


মিশকাতুল মাসাবিহ





মিশকাতুল মাসাবিহ (5375)


وَعَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ هَذَا الْأَمْرَ بَدَأَ نُبُوَّةً وَرَحْمَةً ثُمَّ يَكُونُ خِلَافَةً وَرَحْمَةً ثُمَّ مُلْكًا عَضُوضًا ثُمَّ كَانَ جَبْرِيَّةً وَعُتُوًّا وَفَسَادًا فِي الْأَرْضِ يَسْتَحِلُّونَ الْحَرِيرَ وَالْفُرُوجَ وَالْخُمُورَ يُرْزَقُونَ عَلَى ذَلِكَ وَيُنْصَرُونَ حَتَّى يَلْقَوُا اللَّهَ» رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»




৫৩৭৫-[৫], ৫৩৭৬-[৬] আবূ উবায়দাহ্ ও মু’আয ইবনু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: এ দীনের (ইসলামের) শুরু হয়েছে নুবুওয়্যাত ও রহমতের দ্বারা। অতঃপর আসবে খিলাফত ও রহমতের যুগ, তারপর আসবে অত্যাচারী বাদশাহদের যুগ। এরপর আসবে নির্দয়তা উচ্ছৃঙ্খলতা ও দেশে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীর যুগ। তারা রেশমি কাপড় পরিধান করা, অবৈধভাবে নারীদের যৌনাঙ্গ উপভোগ করা এবং মদ্য পান করাকে বৈধ মনে করবে। এতদসত্ত্বেও তাদেরকে রিযক দেয়া হবে এবং (দুনিয়াবী কাজে) তাদেরকে সাহায্য করা হবে। অবশেষে এ পাপের মধ্যে লিপ্ত থেকে কিয়ামতে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। (বায়হাক্বী’র শুআবূল ঈমান)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ البیھقي في شعب الإیمان (5616، نسخۃ محققۃ:، 5228) [و أبو یعلی (873)] ٭ لیث بن أبي سلیم: ضعیف، و للحدیث شواھد .









মিশকাতুল মাসাবিহ (5376)


وَعَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ هَذَا الْأَمْرَ بَدَأَ نُبُوَّةً وَرَحْمَةً ثُمَّ يَكُونُ خِلَافَةً وَرَحْمَةً ثُمَّ مُلْكًا عَضُوضًا ثُمَّ كَانَ جَبْرِيَّةً وَعُتُوًّا وَفَسَادًا فِي الْأَرْضِ يَسْتَحِلُّونَ الْحَرِيرَ وَالْفُرُوجَ وَالْخُمُورَ يُرْزَقُونَ عَلَى ذَلِكَ وَيُنْصَرُونَ حَتَّى يَلْقَوُا اللَّهَ» رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»




৫৩৭৬-[৬] আবূ উবায়দাহ্ ও মু’আয ইবনু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: এ দীনের (ইসলামের) শুরু হয়েছে নুবুওয়্যাত ও রহমতের দ্বারা। অতঃপর আসবে খিলাফত ও রহমতের যুগ, তারপর আসবে অত্যাচারী বাদশাহদের যুগ। এরপর আসবে নির্দয়তা উচ্ছৃঙ্খলতা ও দেশে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীর যুগ। তারা রেশমি কাপড় পরিধান করা, অবৈধভাবে নারীদের যৌনাঙ্গ উপভোগ করা এবং মদ্য পান করাকে বৈধ মনে করবে। এতদসত্ত্বেও তাদেরকে রিযক দেয়া হবে এবং (দুনিয়াবী কাজে) তাদেরকে সাহায্য করা হবে। অবশেষে এ পাপের মধ্যে লিপ্ত থেকে কিয়ামতে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। (বায়হাক্বী’র শুআবূল ঈমান)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ البیھقي في شعب الإیمان (5616، نسخۃ، محققۃ: 5228) [و أبو یعلی (873)] ٭ لیث بن أبي سلیم: ضعیف، و للحدیث، شواھد .









মিশকাতুল মাসাবিহ (5377)


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " إِنَّ أَوَّلَ مَا يُكْفَأُقَالَ زَيْدُ بْنُ يَحْيَى الرَّاوِيُّ: يَعْنِي الْإِسْلَامَكَمَا يُكْفَأُ الْإِنَاءُ " يَعْنِي الْخَمْرَ. قِيلَ: فَكَيْفَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَقَدْ بَيَّنَ اللَّهُ فِيهَا مابين؟ قَالَ: «يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا فَيَسْتَحِلُّونَهَا» . رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ




৫৩৭৭-[৭] ’আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, সর্বপ্রথম যে জিনিসকে উল্টিয়ে দেয়া হবে- বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু ইয়াহইয়া বলেন- অর্থাৎ ইসলামী বিধানসমূহ যেভাবে কোন পাত্রকে উল্টিয়ে দেয়া হয়, তা হবে শরাবের ব্যাপারটি। তখন জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! তা কিরূপে হবে? অথচ শরাব যে অবৈধ, তার বিধান তো আল্লাহ তা’আলা সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। তখন তিনি (সা.) বললেন, তারা অন্য নামে তার নামকরণ করে বৈধ সাব্যস্ত করে নেবে। (দারিমী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * حسن، رواہ الدارمي (2/ 114 ح 2106، نسخۃ محققۃ: 2145) ٭ وسندہ، حسن و رواہ أبي یعلی في مسندہ (8/ 177 ح 4731) من حدیث فرات بن سلمان عن القاسم، بن محمد بہ .









মিশকাতুল মাসাবিহ (5378)


عَن النُّعْمَان بن بشير عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَكُونُ النُّبُوَّةُ فِيكُمْ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا عَاضًّا فَتَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا جَبْرِيَّةً فَيَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً عَلَى مِنْهَاجِ نُبُوَّةٍ» ثُمَّ سَكَتَ قَالَ حَبِيبٌ: فَلَمَّا قَامَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَتَبْتُ إِلَيْهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ أُذَكِّرُهُ إِيَّاهُ وَقُلْتُ: أَرْجُو أَنْ تَكُونَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ بَعْدَ الْمُلْكِ الْعَاضِّ وَالْجَبْرِيَّةِ فَسُرَّ بِهِ وَأَعْجَبَهُ يَعْنِي عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ. رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي «دَلَائِل النُّبُوَّة»




৫৩৭৮-[৮] নু’মান ইবনু বাশীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : আল্লাহ যতদিন চাইবেন ততদিন তোমাদের মাঝে নুবুওয়্যাত পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান থাকবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে তুলে নেবেন, তারপর আল্লাহ যতদিন চাইবেন ততদিন নুবুয়্যাতের নিয়মানুযায়ী খিলাফত থাকবে, অতঃপর এমন এক সময় তাও উঠিয়ে নেবেন। তারপর প্রতিষ্ঠিত হবে দংশনকারী বাদশাহী, আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী তা যতদিন থাকার থাকবে, পরে এমন সময় তাকেও উঠিয়ে নেবেন। অতঃপর চেপে বসবে একনায়কত্ব, অপ্রতিরোধ্য রাজতন্ত্র। আল্লাহর ইচ্ছা যতদিন থাকার থাকবে, পরে তাকেও তুলে নেবেন। তারপর প্রতিষ্ঠিত হবে পুনরায় নুবুওয়্যাতের তরীকায় খিলাফত। এ পর্যন্ত বলার পর রসূল (সা.) নীরব হলেন।
বর্ণনাকারী হাবীব বলেন, যখন ’উমার ইবনু আবদুল আযীয খলীফাহ্ হলেন তখন আমি তাকে এ হাদীসটি লিখিয়ে পাঠালাম এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ভবিষ্যদ্বাণীটি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিলাম। অতঃপর বললাম, দংশনকারী ও একনায়কত্ববাদী রাজতন্ত্রের পর আমি মনে করি আপনিই ঐ আমীরুল মু’মিনীন বা খলীফাহ [যার কথা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলে গেছেন]। এতে তিনি অর্থাৎ ’উমার ইবনু ’আবদুল আযীয আনন্দ ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। (আহমাদ ও বায়হাক্বী’র "দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ أحمد (4/ 273 ح 18596، و البیھقي في دلائل، النبوۃ 6/ 491)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5379)


عَن حُذَيْفَة قَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَامًا مَا تَرَكَ شَيْئًا يَكُونُ فِي مقَامه إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ إِلَّا حَدَّثَ بِهِ حَفِظَهُ مَنْ حَفِظَهُ وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ قَدْ عَلِمَهُ أَصْحَابِي هَؤُلَاءِ وَإِنَّهُ لَيَكُونُ مِنْهُ الشَّيْءُ قَدْ نَسِيتُهُ فَأَرَاهُ فَأَذْكُرُهُ كَمَا يَذْكُرُ الرَّجُلُ وَجْهَ الرَّجُلِ إِذَا غَابَ عَنْهُ ثُمَّ إِذَا رَآهُ عرفه. مُتَّفق عَلَيْهِ




৫৩৭৯- হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) - আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন এবং তখন থেকে কিয়ামত অবধি যা কিছু ঘটবে তার সকল কিছুই বর্ণনা করেন। তাঁর সেই ভাষণটি যারা স্মরণে রাখতে পারে তারা স্মরণে রেখেছে, আর যারা ভুলে যাওয়ার তার ভুলে গিয়েছে। নিশ্চয় আমার বন্ধুগণ (সাহাবায়ি কিরামগণ)ও সে বিষয়ে অবগত আছেন। অবশ্য যখন কোন ঘটনা সামনে আসে, যার কথা আমি ভুলে গিয়েছি, তখন তাঁর [রাসূল (সা.) -এর] সেই দিনের ভাষণটি আমার স্মরণে পড়ে। যেমন- উপস্থিত হলে তাকে দেখামাত্রই চেনা যায়- এই তো সেই অমুক লোক। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (6604) و مسلم (23/ 2891)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5380)


وَعَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " تُعْرَضُ الْفِتَنُ عَلَى الْقُلُوبِ كَالْحَصِيرِ عُودًا عُودًا فَأَيُّ قَلْبٍ أُشْرِبَهَا نَكَتَتْ فِيهِ نُكْتَةً سَوْدَاءَ وَأَيُّ قَلْبٍ أَنْكَرَهَا نُكِتَتْ فيهِ نُكْتَةٌ بَيْضَاءُ حَتَّى يَصِيرَ عَلَى قَلْبَيْنِ: أَبْيَضُ بِمثل الصَّفَا فَلَا تَضُرُّهُ فِتْنَةٌ مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ وَالْآخَرُ أَسْوَدُ مِرْبَادًّا كَالْكُوزِ مُجْخِيًّا لَا يَعْرِفُ مَعْرُوفًا وَلَا يُنْكِرُ مُنْكَرًا إِلَّا مَا أشْرب من هَوَاهُ " رَوَاهُ مُسلم




৫৩৮০-[২] উক্ত রাবী [হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, মানুষের হৃদয়ে ফিতনাসমূহ এমনভাবে প্রবেশ করে, যেমন- আঁশ একটির পর আরেকটি বিছানো হয়ে থাকে এবং যেই হৃদয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তা প্রবেশ করে তাতে একটি কালো দাগ পড়ে। আর যে অন্তর তাকে জায়গা দেয় না। তাতে একটি সাদা দাগ পড়ে। ফলে মানুষের অন্তরসমূহ পৃথক পৃথক দু’ভাগে আলাদা হয়ে যায়। একপ্রকার অন্তর হয় মর্মর পাথরের মতো শ্বেত, যাকে আসমান ও জমিন বহাল থাকা পর্যন্ত (কিয়ামত পর্যন্ত) কোন ফিতনাই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না।
অপরদিকে দ্বিতীয় প্রকার অন্তর হয় কয়লার মতো কালো। যেমন- উপুড় হওয়া পাত্রের মতো, যাতে কিছুই ধারণ করার ক্ষমতা থাকে না। তা ভালোকে ভালো জানার এবং মন্দকে মন্দ জানার ক্ষমতা রাখে না, ফলে শুধুমাত্র তাই গ্রহণ করে যা তার প্রবৃত্তির চাহিদা হয়। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (231/ 144)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5381)


وَعَنْهُ قَالَ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثَيْنِ رَأَيْتُ أَحَدَهُمَا وَأَنَا أَنْتَظِرُ الْآخَرَ: حَدَّثَنَا: «إِنَّ الْأَمَانَةَ نَزَلَتْ فِي جَذْرِ قُلُوبِ الرِّجَالِ ثُمَّ عَلِمُوا مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ عَلِمُوا مِنَ السُّنَّةِ» . وَحَدَّثَنَا عَنْ رَفْعِهَا قَالَ: " يَنَامُ الرَّجُلُ النَّوْمَةَ فَتُقْبَضُ الْأَمَانَةُ مِنْ قَلْبِهِ أَثَرُهَا مِثْلُ أَثَرِ الْوَكْتِ ثُمَّ يَنَامُ النَّوْمَةَ قتقبض فَيَبْقَى أَثَرُهَا مِثْلَ أَثَرِ الْمَجْلِ كَجَمْرٍ دَحْرَجْتَهُ عَلَى رِجْلِكَ فَنَفِطَ فَتَرَاهُ مُنْتَبِرًا وَلَيْسَ فِيهِ شَيْءٌ وَيُصْبِحُ النَّاسُ يَتَبَايَعُونَ وَلَا يَكَادُ أَحَدٌ يُؤَدِّي الْأَمَانَةَ فَيُقَالُ: إِنَّ فِي بَنِي فُلَانٍ رَجُلًا أَمِينًا وَيُقَالُ لِلرَّجُلِ: مَا أَعْقَلَهُ وَمَا أَظْرَفَهُ وَمَا أَجْلَدُهُ وَمَا فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ ". مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ




৫৩৮১-[৩] উক্ত রাবী [হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে দু’টি হাদীস বর্ণনা করেন। যার একটি আমি সংঘটিত হতে দেখেছি। আর অপরটির প্রতীক্ষায় আছি।
১. তিনি (সা.) আমাদেরকে বলেছেন যে, আমানত মানুষের অন্তরসমূহের অন্তস্থলে (আল্লাহর নিকট হতে) অবতীর্ণ হয়। অতঃপর তারা কুরআন হতে শিক্ষা গ্রহণ করেন, তারপর সুন্নাহ হতে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
২. আমানত কিরূপে উঠে যাবে- এ কথাটিও তিনি (সা.) আমাদেরকে বলেছেন। এমন সময় মানুষ নিদ্রা যাবে, এমতাবস্থায় তার অন্তর হতে আমানত তুলে নেয়া হবে। তখন শুধুমাত্র কালো দাগের মতো একটি সাধারণ চিহ্ন অবশিষ্ট থাকবে। অতঃপর মানুষ আবার নিদ্রা যাবে, তখন আমানত উঠিয়ে নেয়া হবে। এতে এমন ফোসকা সদৃশ চিহ্ন অবশিষ্ট থাকবে, যেমন জ্বলন্ত অগ্নিশিখা, তাকে তুমি নিজের পায়ের উপর রেখে রোমন্থন করলে তথায় ফুলে উঠে। তুমি অবশ্য স্ফীতি দেখতে পাবে, কিন্তু তার ভিতরে কিছুই নেই। আর লোকজন ভোরে উঠে স্বভাবত ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যস্ত হবে, কিন্তু কাউকেও আমানত রক্ষাকারী পাবে না। তখন বলা হবে, অমুক সম্প্রদায়ে একজন বিশ্বস্ত ও আমানতদার লোক রয়েছে। আবার কোন ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হবে যে, সে কতই জ্ঞানী! সে কতই চালাক ও চতুর! এবং সে কতই সচেতন ও দৃঢ় প্রত্যয়ী! অথচ তার অন্তরে রাই পরিমাণও ঈমান নেই। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (6497) و مسلم (230/ 143)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5382)


وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ النَّاسُ يَسْأَلُونَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَن الْخَيْرِ وَكُنْتُ أَسْأَلُهُ عَنِ الشَّرِّ مَخَافَةَ أَنْ يُدْرِكَنِي قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا فِي جَاهِلِيَّةٍ وَشَرٍّ فَجَاءَنَا اللَّهُ بِهَذَا الْخَيْرِ فَهَلْ بَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قُلْتُ: وَهَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الشَّرِّ مِنْ خَيْرٍ؟ قَالَ: «نَعَمْ وَفِيهِ دَخَنٌ» . قُلْتُ: وَمَا دَخَنُهُ؟ قَالَ: «قَوْمٌ يَسْتَنُّونَ بِغَيْرِ سُنَّتِي وَيَهْدُونَ بِغَيْرِ هَدْيِي تَعْرِفُ مِنْهُمْ وَتُنْكِرُ» . قُلْتُ: فَهَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ؟ قَالَ: «نَعَمْ دُعَاةٌ عَلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَذَفُوهُ فِيهَا» . قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صِفْهُمْ لَنَا. قَالَ: «هُمْ مِنْ جِلْدَتِنَا وَيَتَكَلَّمُونَ بِأَلْسِنَتِنَا» . قُلْتُ: فَمَا تَأْمُرُنِي إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ؟ قَالَ: «تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِينَ وَإِمَامَهُمْ» . قُلْتُ: فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ جَمَاعَةٌ وَلَا إِمَامٌ؟ قَالَ: «فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا وَلَوْ أَنْ تَعَضَّ بِأَصْلِ شَجَرَةٍ حَتَّى يُدْرِكَكَ الْمَوْتُ وَأَنْتَ عَلَى ذَلِكَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: قَالَ: «يَكُونُ بَعْدِي أَئِمَّةٌ لَا يَهْتَدُونَ بِهُدَايَ وَلَا يَسْتَنُّونَ بِسُنَتِي وَسَيَقُومُ فِيهِمْ رِجَالٌ قُلُوبُهُمْ قُلُوبُ الشَّيَاطِينِ فِي جُثْمَانِ إِنْسٍ» . قَالَ حُذَيْفَةُ: قُلْتُ: كَيْفَ أَصْنَعُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَدْرَكْتُ ذَلِكَ؟ قَالَ: تَسْمَعُ وَتُطِيعُ الْأَمِيرَ وَإِنْ ضَرَبَ ظهرك وَأخذ مَالك فاسمع وأطع "




৫৩৮২-[৮] উক্ত রাবী [হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নিকট কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করত। আর আমি ক্ষতিকর বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করতাম এই ভয়ে যেন আমি তাতে লিপ্ত না হই। হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এক সময় মূর্খতা ও অকল্যাণের মাঝে নিমজ্জিত ছিলাম অতঃপর আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে এই কল্যাণ (দীন-ইসলাম) দান করেন। তবে কি এ কল্যাণের পর পুনরায় অকল্যাণ আসবে? তিনি (সা.) বললেন, হ্যা, আসবে। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম সেই অকল্যাণের পরে কি আবার কল্যাণ আসবে? তিনি (সা.) বললেন, হ্যা আসবে, তবে তা হবে ধোঁয়াযুক্ত। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সেই ধোঁয়া কি ধরনের? তিনি (সা.) বললেন, লোকেরা আমার সুন্নত বর্জন করে অন্য তরীকাহ্ গ্রহণ করবে এবং আমার পথ ছেড়ে লোকদেরকে অন্য পথে পরিচালিত করবে। তখন তুমি তাদের মধ্যে ভালো কাজও দেখতে পাবে এবং মন্দ কাজও। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, সেই কল্যাণের পরও কি অকল্যাণ আগমন করবে? তিনি (সা.) বললেন, হ্যাঁ, জাহান্নামের পাশে দাঁড়িয়ে কতক আহ্বানকারী লোকেদেরকে সেই দিকে ডাকবে। যারা তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে তাদেরকে তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করে ছাড়বে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদেরকে তাদের পরিচয় অবহিত করুন। তিনি (সা.) বললেন, তারা আমাদের মতোই মানুষ হবে এবং আমাদের ভাষায় কথা বলবে। আমি বললাম, আমি সে অবস্থায় উপনীত হলে তখন আমাকে কি কি অদেশ দেন? তিনি (সা.) বললেন, তখন তুমি মুসলিমদের দল ও মুসলিমদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে। আমি বললাম, সে সময় যদি কোন মুসলিম জামা’আত ও মুসলিম ইমাম না থাকে (তখন আমাকে কি করেতে হবে)? তিনি (সা.) বললেন, তখন তুমি সেই সমস্ত বিচ্ছিন্ন দলকে বর্জন করবে, যদিও তোমাকে গাছের শিকড়ের আশ্রয় নিতে হয় এবং তুমি এই নির্জন অবস্থায় থাকবে যতক্ষণ না তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয় (অর্থাৎ মৃত্যু পর্যন্ত বাতিল থেকে দূরে অবস্থান করতে হবে, এতে যে কোন দুঃখ-কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকারে তোমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে)। (বুখারী ও মুসলিম)
সহীহ মুসলিম-এর এক রিওয়ায়াতে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার (ওফাতের) পরে এমন কতিপয় ইমাম ও বাদশাহর আগমন ঘটবে যারা আমার নির্দেশিত পথে চলবে না এবং আমার সুন্নাত ও তরীকানুযায়ী আমল করবে না। আবার তাদের মধ্যেও এমন কিছু লোকের আগমন ঘটবে যারা শরীরে গঠনে এবং চেহারা আকৃতিতে মানুষই হবে, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ হবে শয়তানের মতো। হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! যদি আমি সেই অবস্থায় পতিত হই তখন আমার কর্তব্য কি হবে? তিনি (সা.) বললেন, তোমার আমির (শাসক) যা বলে তা মানবে এবং তার অনুসরণ করবে, যদিও তোমার পিঠে আঘাত করা হয় এবং তোমার ধন-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়, তবুও তার নির্দেশ মেনে চলবে এবং তার আনুগত্য করবে।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3606) و مسلم (52، 51 / 1847)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5383)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: «بَادرُوا بِالْأَعْمَالِ فِتناً كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا وَيُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا يَبِيعُ دِينَهُ بِعرْض من الدُّنْيَا» . رَوَاهُ مُسلم




৫৩৮৩-[৫] আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা ভালো ’আমলের দিকে দ্রুত অগবর্তী হও ঘুটঘুটে তিমির রাত্রির অংশ সদৃশ ফিতনার পতিত হওয়ার পূর্বেই যখন কোন লোক ভোরে উঠবে ঈমানদার হয়ে আর সন্ধ্যা করবে কুফরী অবস্থায় এবং সন্ধ্যা করবে মু’মিন অবস্থায় আর প্রভাতে উঠবে কাফির হয়ে। সে ইহকালীন সামান্য সম্পদের বিনিময়ে নিজের দীন ও ঈমানকে বিক্রয় করে দেবে। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (186 / 118)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5384)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَتَكُونُ فِتَنٌ الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ من الْمَاشِي والماشي فِيهِ خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي مَنْ تَشَرَّفَ لَهَا تَسْتَشْرِفْهُ فَمن وجد ملْجأ أَو معَاذًا فليَعُذْ بِهِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: قَالَ: «تَكُونُ فِتْنَةٌ النَّائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْيَقْظَانِ واليقظانُ خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي فَمن وجد ملْجأ أومعاذا فليستعذ بِهِ»




৫৩৮৪-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: শীঘ্রই এমন ফিতনাহ দেখা দেবে, যখন বসা লোক দাঁড়িয়ে থাকা লোক অপেক্ষা উত্তম হবে। আর চলমান ব্যক্তি দ্রুতগামী অপেক্ষা উত্তম হবে। এমনকি যে ব্যক্তি উক্ত ফিতনার দিকে চক্ষু তুলে দেখবে, ফিতনাহ তাকে নিজের দিকে টেনে নিবে। অতএব যে ব্যক্তি তা হতে মুক্ত স্থান অথবা আশ্রয়স্থল পাবে, তা দ্বারা তারা নিজেকে রক্ষা করা উচিত। (বুখারী ও মুসলিম)
আর সহীহ মুসলিম-এর এক রিওয়ায়াতে আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: এমন এক ফিতনাহ্ আগমন করবে তখন নিদ্রিত ব্যক্তি জাগ্রত ব্যক্তি হতে শ্রেয় হবে। আর জাগ্রত ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তি হতে শ্রেয় হবে এবং দাঁড়ানো ব্যক্তি দ্রুতগামী অপেক্ষা শ্রেয় হবে। অতএব যে ব্যক্তি তা হতে নিরাপদ স্থান অথবা আশ্রয়স্থল পায়, সে যেন অবশ্যই ঐ আশ্রয়স্থলে অবস্থান নেয়।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3601) و مسلم (12۔ 10/ 2886)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5385)


وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتَنٌ أَلَا ثُمَّ تَكُونُ فِتنٌ أَلا ثمَّ تكونُ فتنةٌ القاعدُ خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي فِيهَا وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي إِلَيْهَا أَلَا فَإِذَا وَقَعَتْ فَمَنْ كَانَ لَهُ إِبل فَلْيَلْحَقْ بِإِبِلِهِ وَمَنْ كَانَ لَهُ غَنَمٌ فَلْيَلْحَقْ بغنمه وَمن كَانَت لَهُ أرضٌ فَلْيَلْحَقْ بِأَرْضِهِ» فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ مَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ إِبِلٌ وَلَا غَنَمٌ وَلَا أَرْضٌ؟ قَالَ: «يَعْمِدُ إِلَى سَيْفِهِ فَيَدُقُّ عَلَى حَدِّهِ بِحَجَرٍ ثُمَّ لِيَنْجُ إِنِ اسْتَطَاعَ النَّجَاءَ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ؟» ثَلَاثًا فَقَالَ: رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ أُكْرِهْتُ حَتَّى ينْطَلق بِي إِلَى أحدالصفين فَضَرَبَنِي رَجُلٌ بِسَيْفِهِ أَوْ يَجِيءُ سَهْمٌ فَيَقْتُلُنِي؟ قَالَ: «يَبُوءُ بِإِثْمِهِ وَإِثْمِكَ وَيَكُونُ مِنْ أَصْحَابِ النَّار» رَوَاهُ مُسلم




৫৩৮৫-[৭] আবূ বকরাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) - বলেছেন : অচিরেই বিভিন্ন ধরনের ফিতনাহ্ দেখা দেবে। জেনে রাখ, এটার পর নানান ধরনের ফিতনাহ্ এসে পড়বে, সে সময় বসা অবস্থায় থাকা ব্যক্তি চলমান ব্যক্তির তুলনায় হবে উত্তম এবং চলমান ব্যক্তি উক্ত ফিতনার দিকে দ্রুতগামী ব্যক্তির তুলনায় হবে উত্তম। জেনে রেখ! যখন সেই ফিতনাহ সংঘটিত হবে তখন যার কাছে উট বকরি আছে সে যেন তা নিয়ে থাকে। আর যার ভূসম্পত্তি আছে, সে যেন উক্ত জমি-ভূমি নিয়েই থাকে। এ সময় জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল! যদি কারো উট, বকরি ও ভূসম্পত্তি না থাকে (তখন কি করবে)? তিনি (সা.) বললেন, তখন সে যেন নিজের তলোয়ারের প্রতি দৃষ্টি দেয় এবং তার ধার-পার্শ্ব দিয়ে পাথরে আঘাত করে তা ভেঙ্গে ফেলে, অতঃপর সম্ভব হলে উক্ত ফিতনার স্থান থেকে পালিয়ে বাঁচবে। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি তোমার আদেশসমূহ পৌছিয়ে দিয়েছি? এ কথাটি তিনি (সা.) তিনবার বললেন। এ সময় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! যদি কোন লোক বলপূর্বক আমাকে নিয়ে দুই দলের কোন এক কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়, অতঃপর কোন লোক তলোয়ারের আঘাতে আমাকে হত্যা করে অথবা তীর এসে আমায় বিধে এবং তাতে আমার মৃত্যু ঘটে, তখন (আমার পরিণাম সম্পর্কে আপনার কি মতামত? উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, সে তার নিজের এবং তোমার গুনাহ বহন করবে এবং জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (13/ 2887)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5386)


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خيرَ مالِ المسلمِ غنمٌ يتبع بهَا شغف الْجِبَالِ وَمَوَاقِعَ الْقَطْرِ يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الْفِتَنِ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ




৫৩৮৬-[৮] আবূ সাঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: এমন একটি সময় অতি নিকটবর্তী, যখন মুসলিমদের সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ হবে বকরি, যা নিয়ে পর্বতশৃঙ্গে ও বারিপাতের স্থানসমূহের আশ্রয় গ্রহণ করবে। অর্থাৎ ফিতনাহ্ হতে বাঁচার উদ্দেশে সে স্বীয় দীন নিয়ে পলায়ন করবে। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (19)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5387)


وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: أَشْرَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أُطُمٍ مِنْ آطَامِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ: " هَلْ تَرَوْنَ مَا أَرَى؟ قَالُوا: لَا. قَالَ: «فَإِنِّي لأرى الْفِتَن خلال بُيُوتكُمْ كوقع الْمَطَر» . مُتَّفق عَلَيْهِ




৫৩৮৭-[৯] উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) - মদীনার একটি গৃহের উপর আরোহণ করে (লোকেদেরকে) বললেন, আমি যা অবলোকন করছি তোমরাও কি তা অবলোকন করছ? তারা বললেন, জ্বী, না। তিনি বললেন, আমি অবলোকন করছি যে, তোমাদের গৃহের ফাঁকে ফাঁকে বৃষ্টির মতো ফিতনাহ্ পতিত হচ্ছে। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (1878) و مسلم (9/ 2885)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5388)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلَكَةُ أُمَّتِي عَلَى يَدَي غِلْمةٍ مِنْ قُرْيشٍ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ




৫৩৮৮-[১০] আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : কুরায়েশের কতক যুবকের হাতেই আমার উম্মতের ধ্বংস নিহীত। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3605)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5389)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَتَقَارَبُ الزَّمَانُ وَيُقْبَضُ الْعِلَمُ وَتَظْهَرُ الْفِتَنُ وَيُلْقَى الشُّحُّ وَيَكْثُرُ الْهَرْجُ» قَالُوا: وَمَا الْهَرْجُ؟ قَالَ: «الْقَتْلُ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ




৫৩৮৯-[১১] উক্ত রাবী (আবূ হুরায়রাহ্ [রাঃ]) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সময় সংকীর্ণ হয়ে যাবে, বিদ্যা উঠিয়ে নেয়া হবে, ফিতনা-ফাসাদ বৃদ্ধি পাবে, কার্পণ্যতা দেখা দেবে এবং ’হারজ’-এর আধিক্য হবে। লোকেরা প্রশ্ন করল, "হারজ’ কী? তিনি বললেন, হত্যা। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (85) و مسلم (11/ 2672)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5390)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا تَذْهَبُ الدُّنْيَا حَتَّى يَأْتِي يَوْمٌ لَا يَدْرِي الْقَاتِلُ فِيمَ قَتَلَ؟ وَلَا الْمَقْتُولُ فِيمَ قُتِلَ؟ فَقِيلَ: كَيْفَ يَكُونُ ذَلِكَ؟ قَالَ: «الْهَرْجُ الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ» . رَوَاهُ مُسلم




৫৩৯০-[১২] উক্ত রাবী (আবূ হুরায়রাহ্ [রাঃ]) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! সেই পর্যন্ত দুনিয়ার পরিসমাপ্তি ঘটবে না, যে পর্যন্ত না মানুষের ওপর এমন একদিন আসবে, যেদিন হত্যকারী বলতে পারবে না কেন সে হত্যা করেছে এবং নিহত ব্যক্তিও জানতে পারবে না কেন সে নিহত হয়েছে। প্রশ্ন করা হলো, এটা কিরূপে হবে? তিনি (সা.) বললেন, ফিতনার কারণে। যাতে হত্যাকারী ও নিহত উভয়ই জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (56/ 2908)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5391)


وَعَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «الْعِبَادَةُ فِي الْهَرْجِ كَهِجْرَةٍ إِلَيَّ» . رَوَاهُ مُسلم




৫৩৯১-[১৩] মা’কিল ইবনু ইয়াসার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ফিতনার সময় ইবাদতে ব্যস্ত থাকার প্রতিদান আমার দিকে হিজরত করে আসার সমপরিমাণ। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (130/ 2948)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5392)


وَعَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ قَالَ: أَتَيْنَا أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ فَشَكَوْنَا إِلَيْهِ مَا نَلْقَى مِنَ الْحَجَّاجِ. فَقَالَ: «اصْبِرُوا فَإِنَّهُ لَا يَأْتِي عَلَيْكُمْ زمَان إِلَّا الَّذِي بعده أشرمنه حَتَّى تَلْقَوْا رَبَّكُمْ» . سَمِعْتُهُ مِنْ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ




৫৩৯২-[১৪] যুবায়র ইবনু ’আদী (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কাছে গিয়ে হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ-এর নির্যাতনের অভিযোগ করলাম। তখন তিনি বললেন, ধৈর্যধারণ কর যে পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ কর। কেননা আগামীতে তোমাদের ওপর যে সময় আসবে, তা অতীতের তুলনায় আরো খারাপ হবে। আমি এ কথাগুলো তোমাদের নবী (সা.) থেকে শুনেছি। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (7068)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5393)


عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: وَاللَّهِ مَا أَدْرِي أَنَسِيَ أَصْحَابِي أَمْ تَنَاسَوْا؟ وَاللَّهِ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قَائِدِ فِتْنَةٍ إِلَى أَنْ تَنْقَضِيَ الدُّنْيَا يَبْلُغُ مَنْ مَعَهُ ثَلَاثَمِائَةٍ فَصَاعِدًا إِلَّا قَدْ سَمَّاهُ لَنَا بِاسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ واسمِ قبيلتِه. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد




৫৩৯৩-[১৫] হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি বলতে পারি না যে, আমার বন্ধুগণ (সাহাবায়ি কিরামগণ) কি আসলেই ভুলে গিয়েছেন? নাকি না ভুলেও ভুলার ভান করে আছেন? আল্লাহর শপথ করে বলছি, রাসূলুল্লাহ (সা.) এমন কোন ফিতনাকারীর আলোচনা অবশিষ্ট রাখেননি, যা কিয়ামত পর্যন্ত আবির্ভূত হবে এবং তার সাথে উক্ত ফিতনাহ সৃষ্টিকারীদের সংখ্যা তিনশত বা তারও অধিক পর্যন্ত পৌছবে। বরং তিনি ঐ ব্যক্তির নাম, তার পিতার নাম এবং তার বংশ পরিচয়ও আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। (আবূ দাউদ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ أبو داود (4243)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5394)


وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّمَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي الْأَئِمَّةَ الْمُضِلِّينَ وَإِذَا وُضِعَ السَّيْفُ فِي أُمَّتِي لَمْ يُرْفَعْ عَنْهُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد والترمذيُّ




৫৩৯৪-[১৬] সাওবান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি আমার উম্মাতের ব্যাপারে পথভ্রষ্টকারী নেতাদের খুব বেশি আশঙ্কা করছি। আর আমার উম্মতের ওপর যখন একবার তলোয়ার চালু হবে, তখন আর কিয়ামত অবধি তাদের হতে উঠবে না। (আবূ দাউদ ও তিরমিযী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ أبو داود (4252) و الترمذي (2229 وقال: صحیح)