হাদীস বিএন


মিশকাতুল মাসাবিহ





মিশকাতুল মাসাবিহ (5401)


وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَتَكُونُ فِتْنَةٌ تَسْتَنْظِفُ الْعَرَبَ قَتْلَاهَا فِي النَّارِ اللِّسَانُ فِيهَا أَشَدُّ مِنْ وَقْعِ السَّيْفِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْن مَاجَه




৫৪০১-[২৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: অদূর ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ ফিতনাহ দেখা দেবে, যা গোটা আরবভূমিকে গ্রাস করে ফেলবে। তাতে যারা নিহত হবে তারা জাহান্নামী। উক্ত হট্টগোলের সময় মুখের ভাষা হবে তলোয়ারের আঘাত অপেক্ষা অধিক ক্ষতিকর। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (2178 وقال: غریب) و ابن ماجہ (3967)، [و أبو داود (4256)] ٭ زیاد: مجھول الحال و لیث بن أبي سلیم: ضعیف .









মিশকাতুল মাসাবিহ (5402)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «سَتَكُونُ فِتْنَةٌ صَمَّاءُ بكماء عمياءُ مَنْ أَشْرَفَ لَهَا اسْتَشْرَفَتْ لَهُ وَإِشْرَافُ اللِّسَانِ فِيهَا كوقوع السَّيْف» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد




৫৪০২-[২৪] আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: অদূর ভবিষ্যতে বোবা, বধির অন্ধ ফিতনাহ্ দেখা দেবে। যে ব্যক্তি তার দিকে দৃষ্টি দিবে উক্ত ফিতনাও তার দিকে দৃষ্টি দিবে, তাতে কথাবার্তায় অংশগ্রহণ করা তলোয়ারের আঘাতের মতো ক্ষতিকর হবে। (আবূ দাউদ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ أبو داود (4264) ٭ عبد الرحمٰن بن البیلماني:، ضعیف .









মিশকাতুল মাসাবিহ (5403)


وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: كُنَّا قُعُودًا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ الْفِتَنَ فَأَكْثَرَ فِي ذِكْرِهَا حَتَّى ذَكَرَ فِتْنَةَ الْأَحْلَاسِ فَقَالَ قَائِلٌ: وَمَا فِتْنَةُ الْأَحْلَاسِ. قَالَ: " هِيَ هَرَبٌ وَحَرَبٌ ثُمَّ فِتْنَةُ السَّرَّاءِ دَخَنُهَا مِنْ تَحْتِ قَدَمَيْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يَزْعُمُ أَنَّهُ مِنِّي وَلَيْسَ مِنِّي إِنَّمَا أَوْلِيَائِي الْمُتَّقُونَ ثُمَّ يَصْطَلِحُ النَّاسُ عَلَى رَجُلٍ كورك على ضلع ثمَّ فتْنَة الدهماء لَا تَدَعُ أَحَدًا مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ إِلَّا لَطْمَتْهُ لَطْمَةً فَإِذَا قِيلَ: انْقَضَتْ تَمَادَتْ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا حَتَّى يَصِيرَ النَّاسُ إِلَى فُسْطَاطَيْنِ: فُسْطَاطِ إِيمَانٍ لَا نِفَاقَ فِيهِ وَفُسْطَاطِ نِفَاقٍ لَا إِيمَانَ فِيهِ. فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ فَانْتَظِرُوا الدَّجَّالَ مِنْ يَوْمِهِ أَوْ من غده ". رَوَاهُ أَبُو دَاوُد




৫৪০৩-[২৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা নবী (সা.) -এর নিকট বসা ছিলাম। তখন তিনি (সা.) নানাবিধ ফিতনাহ্ সম্পর্কে আলোচনা করলেন, এমনকি ’ফিতনায়ে আহলাস’-এরও উল্লেখ করলেন। জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, ’ফিতনায়ে আহলাস’ কি? তিনি (সা.) বললেন, তাতে পলায়নপর হবে (পরস্পরের মধ্যে শত্রুতার দরুন একে অন্য থেকে পলায়ন করবে) এবং ছিনতাই হবে। অতঃপর দেখা দেবে ’ফিতনাতুস্ সারা’ (ধনের প্রাচুর্যের বিলাসিতায় লিপ্ত হয়ে হওয়ার ফিতনাহ্), উক্ত ফিতনার ধোঁয়া আমার পরিবারস্থ এক ব্যক্তির পায়ের নিচ হতে উৎপত্তি লাভ করবে। সে আমার বংশের লোক বলে দাবি করবে, অথচ প্রকৃতপক্ষে সে আমার আপনজনদের মধ্যে হবে না। মূলত পরহেজগার লোকই হলেন আমার বন্ধু। অতঃপর লোকেরা এমন ব্যক্তির ওপর ক্ষমতা হস্তান্তরে একমত হবে, যে পাঁজরের হাড়ের উপর নিতম্বের মতো হবে (অনভিজ্ঞ ও অযোগ্য ব্যক্তিই হবে তাদের অধিনায়ক)। তারপর শুরু হবে অন্ধকারাচ্ছন্ন ফিতনাহ্ তা কাউকেও ছাড়বে না, বরং প্রত্যেক ব্যক্তিকে এক একটি চপেটাঘাত লাগাবেই (অর্থাৎ ফিতনার শিকার হয়ে পড়বে)। আর যখন বলা হবে ফিতনার পরিসমাপ্তি ঘটেছে, তখন তা এত প্রসারিত হবে যে, মানুষ ভোরে ঈমানদার হয়ে উঠবে, কিন্তু সন্ধ্যায় সে কাফির হয়ে যাবে। পরিশেষে সকল মানুষ দুটি তাবুতে (দলে) বিভক্ত হয়ে যাবে। এক দল হবে ঈমানের, এখানে মুনাফিকী থাকবে না। আর অপর দল হবে মুনাফিক্বীর, যার মধ্যে ঈমান থাকবে না। যখন অবস্থা এ সীমায় পৌছবে, তখন তোমরা দাজ্জালের আগমনের প্রতীক্ষা কর, সে ঐ দিনই অথবা পরের দিন আবির্ভূত হবে। (আবূ দাউদ)।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ أبو داود (4242)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5404)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ أَفْلَحَ مَنْ كَفَّ يَدَهُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد




৫৪০৪-[২৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: দুর্ভাগ্য ’আরবদের জন্য যে, এক বিরাট ফিতনাহ্ তাদের কাছাকাছি। সে লোকই সাফল্যমণ্ডিত হবে, যে (তা হতে) নিজের হাতকে গুটিয়ে রাখবে। (আবূ দাউদ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ أبو داود (4249) ٭ الأعمش مدلس و عنعن و، للحدیث شواھد معنویۃ عند الحاکم (4/ 439) وغیرہ، غیر قولہ: ’’أفلح من کف یدہ‘‘.









মিশকাতুল মাসাবিহ (5405)


وَعَن الْمِقْدَاد بن الْأسود قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ وَلَمَنِ ابْتُلِيَ فَصَبَرَ فَوَاهًا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد




৫৪০৫-[২৭] মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি সৌভাগ্যবান ঐ ব্যক্তি যাকে ফিতনাহ্ হতে পৃথক রাখা হয়েছে, সৌভাগ্যবান ঐ ব্যক্তি যাকে ফিতনাহ্ হতে পৃথক রাখা হয়েছে, সৌভাগ্যবান ঐ ব্যক্তি যাকে ফিতনাহ্ হতে পৃথক রাখা হয়েছে এবং সেই ব্যক্তিও সৌভাগ্যবান যে তাতে উপনীত হয়ে ধৈর্যধারণ করেছে। তার জন্য মুবারকবাদ। (আবূ দাউদ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ أبو داود (4263)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5406)


وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا وُضِعَ السَّيْفُ فِي أُمَّتِي لَمْ يُرْفَعْ عَنْهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَلَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ وَحَتَّى تَعْبُدَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي الْأَوْثَانَ وَإِنَّهُ سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي كَذَّابُونَ ثَلَاثُونَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيُّ اللَّهِ وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيين لَا نَبِيَّ بِعْدِي وَلَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ




৫৪০৬-[২৮] সাওবান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্যে যখন একবার তলোয়ার চালিত হবে, তখন তা আর কিয়ামত পর্যন্ত বন্ধ করা হবে না। আর কিয়ামত সেই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হবে না যে পর্যন্ত না আমার উম্মতের কোন কোন সম্প্রদায় মুশরিকদের সাথে মিলিত হবে এবং যেই পর্যন্ত না আমার উম্মতের কোন গোত্র মূর্তিপূজা করবে। তিনি (সা.) আরো বলেছেন, অদূর ভবিষ্যতে আমার উম্মতের মাঝে ত্রিশজন মিথ্যাবাদীর আগমন ঘটবে এবং তারা প্রত্যেকেই আল্লাহর নবী হওয়ার দাবি করবে। অথচ সত্য কথা হলো, আমিই শেষ নবী, আমার পরে আর কোন নবী নেই। তিনি (সা.) আরো বলেছেন, আমার উম্মতের একটি দল সত্যের উপর অনড় থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা কিয়ামত আসা পর্যন্ত তাদের কোনই ক্ষতিসাধন করতে পারবে না। (আবূ দাউদ ও তিরমিযী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ أبو داود (4252)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5407)


وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «تَدُورُ رَحَى الْإِسْلَامِ لِخَمْسٍ وَثَلَاثِينَ أَوْ سِتٍّ وَثَلَاثِينَ أَوْ سَبْعٍ وَثَلَاثِينَ فَإِنْ يَهْلِكُوا فَسَبِيلُ مَنْ هَلَكَ وَإِنْ يَقُمْ لَهُمْ دِينُهُمْ يَقُمْ لَهُمْ سَبْعِينَ عَامًا» . قُلْتُ: أَمِمَّا بَقِيَ أَوْ مِمَّا مَضَى؟ قَالَ: «مِمَّا مضى» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد




৫৪০৭-[২৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.)- হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: ইসলামের চাকা পঁয়ত্রিশ অথবা ছত্রিশ অথবা সাইত্রিশ বছর সঠিকভাবে ঘুরতে থাকবে। এটার পরে যদি লোকজন ধ্বংসের মুখোমুখী হয়, তবে তারা পূর্ববর্তী লোকেদের পথে চলার কারণেই ধ্বংস হবে। অতঃপর দীনের নেযাম যদি আবার প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা তাদের মধ্যে সত্তর বছর পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। ইবনু মাস’ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, সেই সত্তর বছর কি উল্লিখিত (পঁয়ত্রিশ) বছরের পরে আসবে, নাকি আগের সেই বছরগুলোসহ? তিনি (সা.) বললেন, আগের বছরগুলোসহ। (আবূ দাউদ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ أبو داود (4254)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5408)


عَن أبي واقدٍ اللَّيْثِيّ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا خَرَجَ إِلَى غَزْوَةِ حُنَيْنٍ مَرَّ بِشَجَرَةٍ لِلْمُشْرِكِينَ كَانُوا يُعَلِّقُونَ عَلَيْهَا أَسْلِحَتَهُمْ يُقَالُ لَهَا: ذَاتُ أَنْوَاطٍ. فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ اجْعَلْ لَنَا ذَاتَ أَنْوَاطٍ كَمَا لَهُمْ ذَاتُ أَنْوَاطٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سُبْحَانَ اللَّهِ هَذَا كَمَا قَالَ قَوْمُ مُوسَى (اجْعَل لنا إِلَهًا كَمَا لَهُم آلهةٌ) وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَرْكَبُنَّ سُنَنَ مَنْ كَانَ قبلكُمْ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ




৫৪০৮-[৩০] আবূ ওয়াক্বিদ আল লায়সী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) হুনায়নের যুদ্ধে বের হলেন, তখন তিনি মুশরিকদের এমন এক গাছের নিকট দিয়ে গমন করলেন, যাতে তারা নিজেদের অস্ত্রসমূহ ঝুলিয়ে রাখত। উক্ত গাছটিকে ’যাতু আনওয়াত’ বলা হত। এটা দেখে কোন কোন নতুন মুসলিমরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! ঐ সমস্ত মুশরিকদের মতো আমাদের জন্যও একটি ’যাতু আনওয়াত’ ধার্য করে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) (বিস্ময় প্রকাশে) বললেন, ’সুবহা-নাল্ল-হ মূসা (আঃ)-এর সম্প্রদায়ও তাকে বলেছিল, "...(হে। মুসা!) আমাদের জন্য এরূপ উপাস্য নির্ধারণ করে দিন যেরূপ ঐ কাফির সম্প্রদায়ের উপাস্য রয়েছে..."(সূরাহ আল আ’রাফ ৭: ১৩৮)। তোমরাও তো সেরূপ কথা বললে, সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয় তোমরা ঐ সকল লোকদের পথ অনুকরণ করে চলবে, যারা তোমাদের আগে অতীত হয়ে গেছে। (তিরমিযী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ الترمذي (2180 وقال: حسن صحیح)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5409)


وَعَن ابْن الْمسيب قَالَ: وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ الْأُولَىيَعْنِي مَقْتَلَ عُثْمَانَفَلَمْ يَبْقَ مِنْ أَصْحَابٍ بَدْرٍ أَحَدٌ ثُمَّ وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ الثَّانِيَةُيَعْنِي الْحَرَّةَفَلَمْ يَبْقَ مِنْ أَصْحَابِ الْحُدَيْبِيَةِ أَحَدٌ ثُمَّ وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ الثَّالِثَةُ فَلَمْ تَرْتَفِعْ وَبِالنَّاسِ طَبَاخٌ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ




৫৪০৯-[৩১] ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহ.) বর্ণিত। তিনি বলেন, ইসলামের প্রথম ফিতনাহ্ হলো ’উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হত্যা। এরপর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন সাহাবীও অবশিষ্ট ছিলেন না। দ্বিতীয় ফিতনাহ্ হলো ’হাররা’র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অতঃপর হুদায়বিয়ায় অংশগ্রহণকারী একজন সাহাবীও অবশিষ্ট রইলেন না। আর তৃতীয় ফিতনাহ্ সংঘটিত হওয়ার পর তা কখনো শেষ হয়নি, যতদিন মানুষের মধ্যে জ্ঞান ও সৎ গুণাবলি বিদ্যমান ছিল। (তখন সাহাবী ও তাবি’ঈদের কেউই অবশিষ্ট থাকেননি)। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (4024)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5410)


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم قا ل: " لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَقْتَتِلَ فِئَتَانِ عَظِيمَتَانِ تَكُونُ بَيْنَهُمَا مَقْتَلَةٌ عَظِيمَةٌ دَعَوَاهُمَا وَاحِدَةٌ وَحَتَّى يبْعَث دجالون كذابون قريب مِنْ ثَلَاثِينَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ وَحَتَّى يُقْبَضَ الْعِلْمُ وَتَكْثُرَ الزَّلَازِلُ وَيَتَقَارَبَ الزَّمَانُ وَيظْهر الْفِتَنُ وَيَكْثُرَ الْهَرْجُ وَهُوَ الْقَتْلُ وَحَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمُ الْمَالُ فَيَفِيضَ حَتَّى يُهِمَّ رَبَّ الْمَالِ مَنْ يَقْبَلُ صَدَقَتَهُ وَحَتَّى يَعْرِضَهُ فَيَقُولُ الَّذِي يعرضه عَلَيْهِ: لَا أَرَبَ لِي بِهِ وَحَتَّى يَتَطَاوَلَ النَّاسُ فِي الْبُنْيَانِ وَحَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ فَيَقُولُ: يَا لَيْتَنِي مَكَانَهُ وَحَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ آمَنُوا أَجْمَعُونَ فَذَلِكَ حِينَ (لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا) وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدْ نَشَرَ الرَّجُلَانِ ثَوْبَهُمَا بَيْنَهُمَا فَلَا يَتَبَايَعَانِهِ وَلَا يَطْوِيَانِهِ وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدِ انْصَرَفَ الرَّجُلُ بِلَبَنِ لِقْحَتِهِ فَلَا يَطْعَمُهُ وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَهُوَ يُلِيطُ حَوْضَهُ فَلَا يَسْقِي فِيهِ وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدْ رَفَعَ أُكْلَتَهُ إِلَى فِيهِ فَلَا يطْعمهَا ". مُتَّفق عَلَيْهِ




৫৪১০- আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত দুটি বৃহৎ দল পরস্পরে মারাত্মক যুদ্ধে লিপ্ত না হবে। এ উভয় দলের মধ্যে ভীষণ যুদ্ধ সংঘটিত হবে, অথচ তাদের মূল দাবি হবে এক অভিন্ন। আর যতক্ষণ পর্যন্ত প্রায় ত্রিশজন মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আগমন না ঘটবে, যাদের প্রত্যেকেই নিজেকে আল্লাহর নবী বলে দাবি করবে। আর যতক্ষণ পর্যন্ত (দীনী) বিদ্যা উঠিয়ে নেয়া হবে। ভূমিকম্পের সংখ্যা বা পরিমাণ বেড়ে যাবে। সময়ের (পরিধি) নিকটবর্তী হয়ে আসবে। ফিতনার সূচনা ঘটবে। খুন-খারাবি বেড়ে যাবে। আর এমনকি তোমাদের মধ্যে ধন-সম্পদের এমন প্রাচুর্য দেখা দেবে যে, সম্পদশালী লোক ও ধন-সম্পদের মালিক চিন্তিত ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে এজন্য যে, কে তার সাদাকা গ্রহণ করবে? এমনকি যার কাছেই তা পেশ করা হবে বলে উঠবে, আমার এই সম্পদের কোন প্রয়োজন নেই।
আর যতক্ষণ না লোকজন সুউচ্চ দালান নির্মাণকার্যে একে অপরের প্রতিযোগিতা করবে। যতক্ষণ না এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কবরের কাছ দিয়ে গমনকালে বলবে, হায়! আমি যদি এ স্থানে থাকতাম। আর যতক্ষণ না পশ্চিমদিক হতে সূর্য উদিত হবে। অতঃপর সূর্য যখন (পশ্চিমদিক হতে) উদিত হবে, তখন লোকেরা তা দেখার পর সকলেই ঈমান আনবে। কিন্তু সে সময় এমন হবে যে, তখনকার ঈমান কোন লোকের কাজে আসবে না। সে ব্যক্তি ইতোপূর্বে ঈমান গ্রহণ করেনি কিংবা ঈমানদার অবস্থায় কোন ভালো কাজ করেনি। আর কিয়ামত এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যে, দু’ ব্যক্তি (ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশে) একে অন্যের সম্মুখে কাপড় খুলবে, কিন্তু সে কাপড় ক্রয়-বিক্রয় করার কিংবা গুটিয়ে নেয়ারও সুযোগ পাবে না। আর কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে এমতাবস্থায় যে, এক ব্যক্তি তার উষ্ট্রী দোহন করে দুগ্ধ নিয়ে আসবে, কিন্তু তা পান করারও সময় পাবে না। আর কিয়ামত অবশ্যই এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যে, এক ব্যক্তি তার চৌবাচ্চা ঠিকঠাক বা নির্মাণ করতে থাকবে, কিন্তু তাতে সে পানি পান করার সময় পাবে না। আর কিয়ামত এমন পরিস্থিতি ও পরিবেশে অবশ্যই সংঘটিত হবে যে, এক ব্যক্তি খাদ্যের লোকমা বা গ্রাস তার মুখ পর্যন্ত উত্তোলন করবে, কিন্তু সে তা খাওয়ার সুযোগ পাবে না। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (7121) و مسلم (248/ 157)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5411)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعْرُ وَحَتَّى تُقَاتِلُوا التُّرْكَ صِغَارَ الْأَعْيُنِ حُمْرَ الْوُجُوهِ ذُلْفَ الْأُنُوفِ كأنَّ وجوهَهُم المجَانُّ المُطْرَقة» . مُتَّفق عَلَيْهِ




৫৪১১-[২] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ততদিন পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন না তোমরা পশমের জুতা পরিধানকারী এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এবং যতক্ষণ না তোমরা তুর্কীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যারা ছোট চক্ষু, লাল চেহারা, চ্যাপ্টা নাকবিশিষ্ট, তাদের মুখমগুল হবে পরতে পরতে ভাঁজ করা চামড়ার ঢালের মতো। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2928) و مسلم (62، 66 / 2912)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5412)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا خُوزًا وَكِرْمَانَ مِنَ الْأَعَاجِمِ حُمْرَ الْوُجُوهِ فُطْسَ الْأُنُوفِ صِغَارَ الْأَعْيُنِ وُجُوهُهُمُ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ نِعَالُهُمُ الشّعْر» . رَوَاهُ البُخَارِيّ




৫৪১২-[৩] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে পর্যন্ত তোমরা আজমী ’খূয ও কিরমান’ জাতির সাথে যুদ্ধ করবে না, সে পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। তাদের চেহারা হবে লাল বর্ণের, চ্যাপ্টা নাক, ছোট চক্ষুবিশষ্ট এবং মুখমণ্ডল হবে পরতে পরতে ভাঁজ চামড়ার ঢালের মতো। আর তাদের জুতা হবে পশমের। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3590)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5413)


وَفِي راوية لَهُ وَعَن عَمْرو بن تغلب: «عراض الْوُجُوه»




৫৪১৩-[৪] অপর এক বর্ণনাতে ’আমর ইবনু তাগলিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেন, তাদের চেহারা হবে চওড়া।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (2927)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5414)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ الْيَهُودَ فَيَقْتُلُهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى يختبئ الْيَهُودِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْحَجَرِ وَالشَّجَرِ فَيَقُولُ الْحَجَرُ وَالشَّجَرُ: يَا مُسْلِمُ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا يَهُودِيٌّ خَلْفِي فَتَعَالَ فَاقْتُلْهُ إِلَّا الْغَرْقَدَ فَإِنَّهُ من شجر الْيَهُود ". رَوَاهُ مُسلم




৫৪১৪-[৫] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মুসলিমগণ ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। তখন মুসলিমগণ তাদেরকে হত্যা করবে। এমনকি ইয়াহূদী পাথর এবং গাছের আড়ালে লুকিয়ে আত্মগোপন করবে, তখন সেই পাথর ও বৃক্ষ বলবে, হে মুসলিম! ওহে আল্লাহর বান্দা! এই যে ইয়াহুদী আমার পিছনে রয়েছে। অতএব এদিকে আসো এবং তাকে হত্যা কর। তবে শুধু ’গারকদ’ নামক বৃক্ষ ডেকে বলবে, না, কেননা তা ইয়াহুদীদের গাছ। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (82/ 2922)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5415)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَخْرُجَ رَجُلٌ مِنْ قَحْطَانَ يَسُوقُ النَّاسَ بعصاه» . مُتَّفق عَلَيْهِ




৫৪১৫-[৬] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না ’কাহতান’ গোত্র হতে এক ব্যক্তির আগমন ঘটবে, সে লোকেদেরকে লাঠি দ্বারা হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3517) و مسلم (60/ 2910)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5416)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَا تَذْهَبُ الْأَيَّامُ وَاللَّيَالِي حَتَّى يَمْلِكَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ: الْجَهْجَاهُ ". وَفِي رِوَايَةٍ: " حَتَّى يَمْلِكَ رَجُلٌ مِنَ الْمَوَالِي يُقَالُ لَهُ: الجَهجاه ". رَوَاهُ مُسلم




৫৪১৬-[৭] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: জাহজাহ নামক এক লোক মানুষের শাসক না হওয়া পর্যন্ত রাত্র-দিনের আবর্তন শেষ হবে না (কিয়ামত হবে)। অপর এক বর্ণনায় আছে, যে যাবৎ গোলাম বংশ হতে ’জাহজাহ’ নামক এক ব্যক্তি শাসক না হবে। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (61/ 2911)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5417)


وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَتَفْتَحَنَّ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ كَنْزَ آلِ كِسْرَى الَّذِي فِي الْأَبْيَض» . رَوَاهُ مُسلم




৫৪১৭-[৮] জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি। [রাসূল (সা.) বলেছেন] নিশ্চয় মুসলিমদের এক দল ’কিসরার’ (পারস্যের) সম্রাট বংশের গোপন সম্পদ জয় করবে যা একটি শ্বেত প্রাসাদে রক্ষিত রয়েছে। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (78/ 2919)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5418)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلَكَ كِسْرَى فَلَا يَكُونُ كِسْرَى بَعْدَهُ وَقَيْصَرُ لِيَهْلِكَنَّ ثُمَّ لَا يَكُونُ قَيْصَرُ بَعْدَهُ وَلَتُقْسَمَنَّ كُنُوزُهُمَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ» وَسَمَّى «الْحَرْبُ خُدْعَةٌ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ




৫৪১৮-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (পারস্য সম্রাট) কিসরা নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হবে, অতঃপর আর কেউই কিসরা হবে না। আর শীঘ্রই (রোম সম্রাট) কায়সার ধ্বংস হবে, অতঃপর আর কেউই কায়সার হবে না। এটাও অবশ্যম্ভাবী যে, তাদের রক্ষিত ধন-সম্পদ বিজিত হয়ে আল্লাহর রাস্তায় বণ্টিত হবে। আর তিনি (সা.) যুদ্ধকে প্রতারণা বলে অভিহিত করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3027۔ 3028) و مسلم (76 / 2918)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5419)


وَعَنْ نَافِعِ بْنِ عُتْبَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَغْزُونَ جَزِيرَةَ الْعَرَبِ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ فَارِسَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ تَغْزُونَ الرُّومَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ تَغْزُونَ الدَّجَّال فيفتحه الله» . رَوَاهُ مُسلم




৫৪১৯-[১০] নাফি’ ইবনু ’উতবাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা ’আরব উপদ্বীপে যুদ্ধ অভিযান চালাবে এবং আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে তাতে বিজয়ী করবেন। অতঃপর পারস্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, তাতেও আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে জয়যুক্ত করবেন। তারপর রূমকদের (রোমানদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, এটাতেও আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে জয়যুক্ত করবেন। অবশেষে তোমরা দাজ্জালের বিরুদ্ধে লড়াই করবে, তাতেও আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে বিজয়ী করবেন। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (38/ 2900)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5420)


وَعَن عَوْف بن مَالك قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةٍ تَبُوكَ وَهُوَ فِي قُبَّةٍ مِنْ أَدَمٍ فَقَالَ: " اعْدُدْ سِتًّا بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ: مَوْتِي ثُمَّ فَتْحُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ ثُمَّ مُوتَانٌ يَأْخُذُ فِيكُمْ كَقُعَاصِ الْغَنَمِ ثُمَّ اسْتِفَاضَةُ الْمَالِ حَتَّى يُعْطَى الرَّجُلُ مِائَةَ دِينَارٍ فَيَظَلُّ سَاخِطًا ثُمَّ فِتْنَةٌ لَا يَبْقَى بَيْتٌ مِنَ الْعَرَبِ إِلَّا دَخَلَتْهُ ثُمَّ هُدْنَةٌ تَكُونُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ بَنِي الْأَصْفَرِ فَيَغْدِرُونَ فَيَأْتُونَكُمْ تَحْتَ ثَمَانِينَ غَايَةً تَحْتَ كُلِّ غَايَةٍ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا ". رَوَاهُ البُخَارِيّ




৫৪২০-[১১] ’আওফ ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধের সময় আমি নবী (সা.) -এর খিদমতে আসলাম। এ সময় তিনি (সা.) একটি চামড়ার তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। তখন তিনি (সা.) বললেন কিয়ামতের আগের ছয়টি নিদর্শনকে তুমি গণনা করে রাখ।
১. আমার মৃত্যু।
২. অতঃপর বায়তুল মাক্বদিস বিজয়।
৩. ব্যাপক মহামারি যা তোমাদেরকে বকরির মড়কের মতো আক্রমণ করবে।
৪. ৫. ধনসম্পদের এত প্রাচুর্য হবে যে, কোন ব্যক্তিকে একশত দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) প্রদান করলেও সে (নগণ্য মনে করে) অসন্তুষ্টি প্রকাশ করবে।
৬. অতঃপর রূমকদের (রোমানদের) সাথে তোমাদের একটি সন্ধিচুক্তি হবে, পরে তারা উক্ত চুক্তি ভঙ্গ করে তোমাদের বিরুদ্ধে আশিটি পতাকার নীচে অবস্থান নিয়ে বারো হাজার করে সৈন্য থাকবে। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3176)