মিশকাতুল মাসাবিহ
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: لَقِيَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُيَعْنِي ابْنَ صَيَّادٍفِي بَعْضِ طُرُقِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ؟» فَقَالَ هُوَ: أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «آمَنْتُ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ مَاذَا تَرَى؟» قَالَ: أَرَى عَرْشًا عَلَى الْمَاءُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَرَى عَرْشَ إِبْلِيسَ عَلَى الْبَحْرِ وَمَا تَرَى؟» قَالَ: أَرَى صَادِقَيْنِ وَكَاذِبًا أَوْ كَاذِبَيْنِ وَصَادِقًا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لُبِسَ عَلَيْهِ فَدَعُوهُ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
৫৪৯৫-[২] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আবূ বকর ও ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -এর সাথে মদীনার কোন এক রাস্তায় ইবনু সাইয়্যাদ-এর সাক্ষাৎ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) এ বললেন, তুমি কি এটা সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল? সে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমি আল্লাহ প্রতি, তাঁর ফেরেশতগণের প্রতি, তাঁর নাযিলকৃত কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর পাঠানো সমস্ত রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি। অতঃপর রাসূল (সা.) তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কি দেখতে পাও? সে বলল, আমি পানির উপরে একখানা সিংহাসন দেখতে পাই। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি সাগরের উপর ইবলীসের সিংহাসন দেখ। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, তুমি আর কি দেখতে পাও? সে বলল, দু’জন সত্যবাদী এবং একজন মিথ্যাবাদী অথবা বলল, দু’জন মিথ্যাবাদী এবং একজন সত্যবাদীকে দেখতে পাই। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ও বললেন, বিষয়টি তার উপর হজবরল হয়ে পড়েছে। অতএব তোমরা তাকে পরিত্যাগ কর। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (87/ 2925)
وَعَنْهُ أَنَّ ابْنَ صَيَّادٍ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ تُرْبَةِ الْجَنَّةِ. فَقَالَ: «در مَكَّة يبضاء ومسك خَالص» . رَوَاهُ مُسلم
৫৪৯৬-[৩] উক্ত রাবী [আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। ইবনু সাইয়্যাদ নবী (সা.) কে জান্নাতের মাটি সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তিনি (সা.) বললেন, তা ময়দার মতো সাদা এবং নির্ভেজাল কস্তরির মতো (সুগন্ধি) হবে। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (93/ 2928)
وَعَنْ نَافِعٍ قَالَ: لَقِيَ ابْنُ عُمَرَ ابْنَ صَيَّادٍ فِي بَعْضِ طُرُقِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ لَهُ قَوْلًا أَغْضَبَهُ فَانْتَفَخَ حَتَّى مَلَأَ السِّكَّةَ. فَدَخَلَ ابْنُ عُمَرَ عَلَى حَفْصَةَ وَقَدْ بَلَغَهَا فَقَالَتْ لَهُ: رَحِمَكَ اللَّهُ مَا أَرَدْتَ مِنِ ابْنِ صياد؟ أما علمت أَن رَسُول اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا يَخْرُجُ مِنْ غضبةٍ يغضبها» . رَوَاهُ مُسلم
৫৪৯৭-[৪] নাফি (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন মদীনার কোন এক পথে ইবনু সাইয়্যাদ-এর সাথে ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাক্ষাৎ হলো। তখন ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে এমন একটি কথা বললেন, যাতে সে খুবই রাগান্বিত হলো। এমনকি রাগে সে এমনভাবে ফুলে উঠল যেন গলি (পথ) ভরে গেল। অতঃপর ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর বোন হাফসার নিকট গেলেন এবং হাফসার কাছে সেই খবর আগেই পৌছেছিল। তখন হাফসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁকে বললেন, আল্লাহ তা’আলা তোমার প্রতি দয়া করুন। তুমি ইবনু সাইয়্যাদ থেকে কি (জানতে) চেয়েছিলেন? তুমি জান না যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (দাজ্জাল) কোন এক বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অত্যধিক ক্রোধান্বিত অবস্থায় বের হবে। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (98/ 2932)
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: صَحِبْتُ ابْنَ صياد إِلَى مَكَّة فَقَالَ: مَا لَقِيتُ مِنَ النَّاسِ؟ يَزْعُمُونَ أَنِّي الدَّجَّالُ أَلَسْتَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّهُ لَا يُولَدُ لَهُ» . وَقَدْ وُلِدَ لِي أَلَيْسَ قَدْ قَالَ: «هُوَ كَافِرٌ» . وَأَنا مُسلم أَو لَيْسَ قَدْ قَالَ: «لَا يَدْخُلُ الْمَدِينَةَ وَلَا مَكَّةَ» ؟ وَقَدْ أَقْبَلْتُ مِنَ الْمَدِينَةِ وَأَنَا أُرِيدُ مَكَّةَ. ثُمَّ قَالَ لِي فِي آخِرِ قَوْلِهِ: أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ مَوْلِدَهُ وَمَكَانَهُ وَأَيْنَ هُوَ وَأَعْرِفُ أَبَاهُ وَأُمَّهُ قَالَ: فَلَبَسَنِي قَالَ: قُلْتُ لَهُ: تَبًّا لَكَ سَائِرَ الْيَوْمِ. قَالَ: وَقِيلَ لَهُ: أَيَسُرُّكَ أَنَّكَ ذَاكَ الرَّجُلُ؟ قَالَ: فَقَالَ: لَوْ عُرِضَ عَلَيَّ مَا كَرِهْتُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
৫৪৯৮-[৫] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি ইবনু সাইয়্যাদ-এর সাথে মক্কার পথে যাত্রী হলাম। সে আমাকে বলল, আমি লোকের পক্ষে থেকে আশ্চর্যজনক ধারণার সম্মুখীন হয়েছি। লোকেরা বলে, আমিই দাজ্জাল। আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেননি যে, দাজ্জালের কোন সন্তানাদি হবে না? অথচ আমার সন্তানাদি আছে। এ কথাটি তিনি কি বলেননি যে, সে কাফির? অথচ আমি একজন মুসলিম। তিনি কি এ কথাটি বলেননি যে, সে মক্কাহ্ ও মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না? অথচ আমি মদীনাহ থেকে এসেছি এবং মক্কায় যাচ্ছি। আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অতঃপর সে আমাকে শেষ কথাটি বলল যে, আল্লাহর শপথ! জেনে রাখুন, আমি তার (দাজ্জালের) জন্ম সময়, জন্মস্থান এবং বর্তমানে সে কোথায় থাকে নিশ্চিতভাবে জানি এবং আমি তার বাপ মাকেও চিনি। রাবী [আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] বলেন, তার এই শেষ কথাটি আমাকে সন্দেহে ফেলে দিল। তখন আমি বললাম, তোর সারাদিন অকল্যাণ হোক, তখন (সফর সঙ্গীদের) কেউ বলল, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে যে, তুমিই সেই (ব্যক্তি)? সে বলল, যদি দাজ্জালের পদবি (গুণাবলি) আমাকে প্রদান করা হয়, তাহলে তাকে অপছন্দ করব না। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (91۔ 89/ 2927)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: لَقِيتُهُ وَقَدْ نَفَرَتْ عَيْنُهُ فَقُلْتُ: مَتَى فَعَلَتْ عَيْنُكَ مَا أَرَى؟ قَالَ: لَا أَدْرِي. قُلْتُ: لَا تَدْرِي وَهِيَ فِي رَأْسِكَ؟ قَالَ: إِنْ شَاءَ اللَّهُ خَلَقَهَا فِي عَصَاكَ. قَالَ: فَنَخَرَ كأشد نخير حمَار سَمِعت. رَوَاهُ مُسلم
৫৪৯৯-[৬] ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি ইবনু সাইয়্যাদ-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম, দেখলাম তার চোখ ফোলা। আমি প্রশ্ন করলাম, কখন থেকে তোমার চক্ষুর এ অবস্থা, যা আমি দেখছি? সে বলল, আমি জানি না। তখন আমি বললাম, তুমি জান না অথচ তা তোমার মাথায় রয়েছে? তখন সে বলল, যদি আল্লাহ তা’আলা ইচ্ছা করেন, তবে তিনি তোমার লাঠির মধ্যেও দৃষ্টিশক্তি সৃষ্টি করতে ক্ষমতা রাখেন। ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অতঃপর আমি তার নাকের ছিদ্র থেকে গাধার আওয়াজের চেয়েও বিকট আওয়াজ শুনতে পাই। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (99/ 2932)
وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ قَالَ: رَأَيْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَحْلِفُ بِاللَّهِ أَنَّ ابْنَ الصَّيَّادِ الدَّجَّالُ. قُلْتُ: تَحْلِفُ بِاللَّهِ؟ قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ عُمَرَ يَحْلِفُ عَلَى ذَلِكَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يُنْكِرْهُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
৫৫০০-[৭] মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে দেখেছি, তিনি আল্লাহর শপথ করে বলতেন যে, ইবনু সাইয়্যাদই দাজ্জাল। তখন আমি বললাম, আপনি আল্লাহর শপথ করে বলছেন? জবাবে তিনি বললেন, আমি ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে এ সম্পর্কে নবী (সা.) -এর সামনে কসম করে বলতে শুনেছি, অথচ নবী (সা.) তাতে কোন আপত্তি করেননি। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (7355) و مسلم (94/ 2929)
عَنْ نَافِعٍ قَالَ: كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَقُولُ: وَاللَّهِ مَا أَشُكُّ أَنَّ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ ابْنُ صيَّادٍ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «كِتَابِ الْبَعْثِ والنشور»
৫৫০১-[৮] নাফি (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলতেন, ইবনু সাইয়্যাদ যে মাসীহে দাজ্জাল, তাতে আমার কোন সন্দেহ নেই। (আবূ দাউদ ও বায়হাক্বী’র "কিতাবুল বাসি ওয়ান্ নুযূর)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ صحیح، رواہ أبو داود (4330) و البیھقي فی البعث و النشور، (لم أجدہ)
وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَدْ فَقَدْنَا ابْنَ صَيَّادٍ يَوْمَ الْحَرَّةِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
৫৫০২-[৯] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাররাহ্ যুদ্ধের দিন থেকে আমরা ইবনু সাইয়্যাদ-কে আর খুঁজে পাইনি। (আবূ দাউদ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ أبو داود (4332) ٭ الأعمش مدلس و عنعن .
وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «يمْكث أَبُو الدَّجَّالِ ثَلَاثِينَ عَامًا لَا يُولَدُ لَهُمَا وَلَدٌ ثُمَّ يُولَدُ لَهُمَا غُلَامٌ أَعْوَرُ أَضْرَسُ وَأَقَلُّهُ مَنْفَعَةً تَنَامُ عَيْنَاهُ وَلَا يَنَامُ قَلْبُهُ» . ثُمَّ نَعَتَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَوَيْهِ فَقَالَ: «أَبُوهُ طُوَالٌ ضَرْبُ اللَّحْمِ كَأَنَّ أَنْفَهُ مِنْقَارٌ وَأُمُّهُ امْرَأَةٌ فِرْضَاخِيَّةٌ طَوِيلَةُ الْيَدَيْنِ» . فَقَالَ أَبُو بَكْرَةَ: فَسَمِعْنَا بِمَوْلُودٍ فِي الْيَهُود. فَذَهَبْتُ أَنَا وَالزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى أَبَوَيْهِ فَإِذَا نَعْتُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِمَا فَقُلْنَا هَلْ لَكُمَا وَلَدٌ؟ فَقَالَا: مَكَثْنَا ثَلَاثِينَ عَامًا لَا يُولَدُ لَنَا وَلَدٌ ثُمَّ وُلِدَ لَنَا غُلَامٌ أَعْوَرُ أَضْرَسُ وَأَقَلُّهُ مَنْفَعَةً تَنَامُ عَيْنَاهُ وَلَا يَنَامُ قَلْبُهُ قَالَ فَخَرَجْنَا مِنْ عِنْدِهِمَا فَإِذَا هُوَ مجندل فِي الشَّمْسِ فِي قَطِيفَةٍ وَلَهُ هَمْهَمَةٌ فَكَشَفَ عَن رَأسه فَقَالَ: مَا قلتما: وَهَلْ سَمِعْتَ مَا قُلْنَا؟ قَالَ: نَعَمْ تَنَامُ عَيْنَايَ وَلَا ينَام قلبِي رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
৫৫০৩-[১০] আবূ বকরাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: দাজ্জালের বাপ মা ত্রিশ বছর পর্যন্ত নিঃসন্তান থাকবে। অতঃপর তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করবে, যে হবে কানা, লম্বা লম্বা দাঁতবিশিষ্ট ও অকেজো। তার চক্ষুদ্বয় নিদ্রা যাবে কিন্তু তার অন্তর ঘুমাবে না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) তার পিতামাতার অবস্থা বললেন, তার পিতা হবে পাতলা দেহবিশিষ্ট, ছিপছিপে লম্বা, তার নাক হবে পাখির ঠোটের মতো সরু। আর তার মাতা হবে মোটা দেহবিশিষ্ট, হাত দুইখানা লম্বা লম্বা। আবূ বকরাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, মদীনার ইয়াহূদীদের ঘরে (এ জাতীয়) একটি সন্তান জন্ম হওয়ার কথা আমরা শুনতে পেলাম। তখন আমি ও যুবায়র ইবনুল আওয়াম (তাকে দেখতে) গেলাম এবং তার পিতামাতার কাছে পৌছে দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের উভয়ের ব্যাপারে যেরূপ বর্ণনা করেছিলেন, তারা হুবহু সেরূপই। অতঃপর আমরা তাদেরকে প্রশ্ন করলাম, তোমাদের কোন সন্তান আছে কি? তারা বলল, ত্রিশ বছর পর্যন্ত আমরা নিঃসন্তান ছিলাম, অতঃপর আমাদের এমন একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে, যে কানা, বড় বড় দাঁতবিশিষ্ট ও অপদার্থ। তার চোখ ঘুমায় কিন্তু তার অন্তর ঘুমায় না। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা তাদের নিকট থেকে বের হয়ে দেখি যে, সে সন্তান একখানা চাদর মুড়া দিয়ে রৌদ্রের মধ্যে শুয়ে আছে এবং তা হতে গুনগুন শব্দ শুনা যাচ্ছে। তখন সে মাথা থেকে চাদর সরিয়ে বলল, তোমরা দু’জনে কি কথা বলেছ? আমরা প্রশ্ন করলাম, আমরা যা বলেছি তুমি তা শুনেছ? সে বলল, হ্যা শুনেছি। আমার চক্ষুদ্বয় নিদ্রা যায়, কিন্তু আমার অন্তর ঘুমায় না। (তিরমিযী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (2248 و قال: حسن غریب) ٭ فیہ علي بن، زید بن جدعان: ضعیف .
وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ امْرَأَةً مِنَ الْيَهُودِ بِالْمَدِينَةِ وَلَدَتْ غُلَامًا مَمْسُوحَةٌ عَيْنُهُ طَالِعَةٌ نَابُهُ فَأَشْفَقَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن يَكُونَ الدَّجَّالَ فَوَجَدَهُ تَحْتَ قَطِيفَةٍ يُهَمْهِمُ. فَآذَنَتْهُ أُمُّهُ فَقَالَتْ: يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا أَبُو الْقَاسِمِ فَخَرَجَ مِنَ الْقَطِيفَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا لَهَا قَاتَلَهَا اللَّهُ؟ لَوْ تَرَكَتْهُ لَبَيَّنَ " فَذَكَرَ مِثْلَ مَعْنَى حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ائْذَنْ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَقْتُلَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِن يكن هُوَ فَلَيْسَتْ صَاحِبَهُ إِنَّمَا صَاحِبُهُ عِيسَى بْنُ مَرْيَمَ وَإِلَّا يكن هُوَ فَلَيْسَ لَك أتقتل رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْعَهْدِ» . فَلَمْ يَزَلْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُشْفِقًا أَنَّهُ هُوَ الدَّجَّال. رَوَاهُ فِي شرح السّنة وَهَذَا الْبَابُ خَالٍ عَنِ الْفَصْلِ الثَّالِثِ
৫৫০৪-[১১] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। এক সময় মদীনার জনৈকা মহিলা এমন একটি পুত্র সন্তান জন্ম দিল, যার এক চোখ মোছানো, মাঢ়ির দাঁতগুলো মুখের বাহির পর্যন্ত লম্বা, তাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) এই আশঙ্কা করেছিলেন যে, হয়তো সে-ই দাজ্জাল। অতঃপর একদিন তিনি (সা.) তাকে দেখলেন, সে একখানা চাদর জড়িয়ে শুয়ে গুনগুন করছে, তখন তার মা তাকে ডেকে বলল, হে ’আবদুল্লাহ! এই যে আবূল কাসিম। তখন সে চাদরের ভিতর হতে বের হলো, এ সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) (বিরক্তির সুরে) বললেন, এ মহিলাটির কি হলো আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন, যদি সে তাকে আপন অবস্থায় ছেড়ে দিত, তাহলে প্রকৃত অবস্থা উদঘাটিত হয়ে যেত। অতঃপর বর্ণনাকারী জাবির ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণিত হাদীসের মতো বর্ণনা করেন। তখন ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি তাকে হত্যা করে ফেলি।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, যদি সে প্রকৃত দাজ্জালই হয়, তবে তুমি তার হত্যাকারী নও, বরং তার হত্যাকারী হলেন ’ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ)। আর যদি সে প্রকৃত দাজ্জালই না হয়, তাহলে এমন এক লোককে হত্যা করা তোমার অধিকার নেই, যে নিরাপত্তা চুক্তির আওতার রয়েছে। বর্ণনাকারী জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন থেকে এই আশঙ্কা করতেন যে, হয়তো সে (ইবনু সাইয়্যাদ)-ই প্রকৃত দাজ্জাল। (শারহুস্ সুন্নাহ্)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ البغوي في شرح السنۃ (5/ 78ح 4274) [و أحمد، (3/ 368 ح 15018)] ٭ فیہ أبو الزبیر مدلس و عنعن .
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ليوشكَنَّ أَن ينزلَ فِيكُم ابنُ مَرْيَم حكَمَاً عَدْلًا فَيَكْسِرُ الصَّلِيبَ وَيَقْتُلُ الْخِنْزِيرَ وَيَضَعُ الْجِزْيَةَ وَيَفِيضُ الْمَالُ حَتَّى لَا يَقْبَلَهُ أَحَدٌ حَتَّى تكون السَّجْدَة الْوَاحِدَة خيرامن الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا» . ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ: فاقرؤا إِن شئْتم [وإِنْ من أهل الْكتاب إِلاّ ليُؤْمِنن بِهِ قبل مَوته] الْآيَة. مُتَّفق عَلَيْهِ
৫৫০৫- আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) - বলেছেন: সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ। অচিরেই ইবনু মারইয়াম ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে তোমাদের মাঝে অবতরণ করবেন। তিনি (খ্রিষ্টান ধর্মের প্রতীক) শূলী ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, জিযইয়াহ্ প্রথা রহিত করবেন (অর্থাৎ ইসালাম গ্রহণ ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করা হবে না) এবং মাল-সম্পদের এত প্রাচুর্য হবে যে, কেউই তা কবুল করবে না। সেই সময় একটি সিজদাহ্ দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তা অপেক্ষা অধিক উত্তম হবে। অতঃপর আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যদি তোমরা চাও (তবে প্রমাণ হিসেবে) এ আয়াতটি পাঠ কর- (وَ اِنۡ مِّنۡ اَهۡلِ الۡکِتٰبِ اِلَّا لَیُؤۡمِنَنَّ بِهٖ قَبۡلَ مَوۡتِهٖ) "তাঁর [ঈসা (আঃ) এর] ওফাতের পূর্বে প্রতিটি আহলে কিতাব তার উপরে ঈমান আনবে"- (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪: ১৫৯)। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2222) و مسلم (242 / 155)
وَعنهُ قا ل: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَاللَّهِ لَيَنْزِلَنَّ ابْنُ مَرْيَمَ حَكَمًا عَادِلًا فَلَيَكْسِرَنَّ الصَّلِيبَ وَلَيَقْتُلَنَّ الْخِنْزِيرَ وَلَيَضَعَنَّ الْجِزْيَةَ وَلَيَتْرُكَنَّ الْقِلَاصَ فَلَا يسْعَى عَلَيْهَا ولتذهبن الشحناء وَالتَّحَاسُدُ وَلَيَدْعُوَنَّ إِلَى الْمَالِ فَلَا يَقْبَلُهُ أَحَدٌ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا قَالَ: «كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا نَزَلَ ابْنُ مَرْيَمَ فِيكُمْ وَإِمَامُكُمْ مِنْكُم»
৫৫০৬-[২] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: নিশ্চয় ইবনু মারইয়াম সত্যপরায়ণ শাসকরূপে অবতরণ করবেন। তিনি শূলী ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, জিযইয়াহ্ প্রথা রহিত করে দেবেন। লোকেরা জোয়ান জোয়ান তাজা-তাগড়া উষ্ট্ৰীসমূহ ছেড়ে দেবে, অথচ কেউই তার প্রতি গুরুত্ব দিবে না। মানুষের অন্তর হতে কার্পণ্য, হিংসা ও বিদ্বেষ সমূলে দূর হয়ে যাবে এবং ঈসা আলায়হিস সালাম মানুষদেরকে সম্পদ প্রদানের জন্য ডাকবেন, কিন্তু (প্রয়োজন না থাকায়) কেউই তা গ্রহণ করবে না। (মুসলিম)
বুখারী ও মুসলিম-এর অপর এক বর্ণনায় আছে- তিনি (সা.) বলেছেন, তখন তোমাদের অবস্থা কেমন হবে? যখন ইবনু মারইয়াম তোমাদের মাঝে অবতরণ করবেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে ইমাম হবেন। (অর্থাৎ ’ঈসা আলায়হিস সালাম হবেন শাসক, আর সালাতের ইমামতি করবেন মাহদী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (243 / 155) والروایۃ الثانیۃ، رواھا البخاري (3449) و، مسلم (244/ 155)
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَة» . قا ل: " فَينزل عِيسَى بن مَرْيَمَ فَيَقُولُ أَمِيرُهُمْ: تَعَالَ صَلِّ لَنَا فَيَقُولُ: لَا إِنَّ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ أُمَرَاءُ تَكْرِمَةَ الله هَذِه الْأمة ". رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَهَذَا الْبَابُ خَالٍ عَنِ الْفَصْلِ الثَّانِي
৫৫০৭-[৩] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার উম্মতের একদল লোক সত্যের উপর দৃঢ় থেকে (বাতিলের বিরুদ্ধে বিজয়ীরূপে কিয়ামত পর্যন্ত যুদ্ধ করতে থাকবে। তিনি (সা.) বলেন, অতঃপর ’ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) অবতরণ করবেন। সে সময়ের লোকেদের আমীর বা নেতা (ইমাম মাহদী) তাকে বলবেন, আপনি এদিকে আসুন এবং লোকদেরকে সালাত আদায় করিয়ে দিন। তিনি বলবেন না; বরং তোমরা একে অপরের ইমাম। আল্লাহ তা’আলা এ উম্মাতকে মর্যাদা দান করেছেন। (মুসলিম)।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (247/ 156)
عَن عبد الله بن عَمْرو قا ل: قا ل رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَنْزِلُ عِيسَى بن مَرْيَمَ إِلَى الْأَرْضِ فَيَتَزَوَّجُ وَيُولَدُ لَهُ وَيَمْكُثُ خَمْسًا وَأَرْبَعِينَ سَنَةً ثُمَّ يَمُوتُ فَيُدْفَنُ مَعِي فِي قَبْرِي فأقوم أَنا وَعِيسَى بن مَرْيَمَ فِي قَبْرٍ وَاحِدٍ بَيْنَ أَبَى بَكْرٍ وَعُمَرَ» . رَوَاهُ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي كِتَابِ الْوَفَاءِ
৫৫০৮-[৪] আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "ঈসা ইবনু মারইয়াম আলায়হিস সালাম জমিনে অবতরণ করবেন, এরপর তিনি বিবাহ করবেন এবং তার সন্তানাদিও জন্মিবে এবং তিনি পঁয়তাল্লিশ বছর অবস্থান করবেন। অতঃপর তিনি ইন্তিকাল করবেন। তাকে আমার সাথে আমার কবরের সাথে দাফন করা হবে। কিয়ামতের দিন আমি ও ঈসা ইবনু মারইয়াম একই কবরস্থান থেকে আবূ বকর ও ’উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যখান হতে উত্থিত হব। (ইবনু জাওযী তাঁর "আল ওয়াফা" গ্রন্থে)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: منكر
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ ابن الجوزي في کتاب الوفاء (2/ 714) [و العلل، المتناھیۃ (2/ 433 ح 1529)] ٭ فیہ عبد الرحمٰن بن زیاد بن أنعم الإفریقي ضعیف و، فی السند إلیہ نظر .
عَن شعبةَ عَن قَتَادَة عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ» . قَالَ شُعْبَةُ: وَسَمِعْتُ قَتَادَةَ يَقُولُ فِي قَصَصِهِ كفصل إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى فَلَا أَدْرِي أَذَكَرَهُ عَنْ أنس أَو قَالَه قَتَادَة؟ مُتَّفق عَلَيْهِ
৫৫০৯- শু’বাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) কতাদাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি ও কিয়ামত এ দুটি অঙ্গুলির মতো প্রেরিত হয়েছি। শু’বাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি কতাদাহ্-কে বলতে শুনেছি, তিনি এ হাদীসটি ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেছেন, যেমন মধ্যমা ও তর্জনী (শাহাদাত) অঙ্গুলির মাঝে একটি অন্যটি হতে কিছু বর্ধিত। অতঃপর শু’বাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি বলতে পারি না, এ ব্যাখ্যাটি কি কতাদাহ (রহিমাহুল্লাহ) আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে শুনে বলেছেন, নাকি কতাদাহ্ নিজেই বলেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (6504) و مسلم (133/ 2951)
وَعَن جَابر قا ل: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ بِشَهْرٍ: «تَسْأَلُونِي عَنِ السَّاعَةِ؟ وَإِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَأُقْسِمُ بِاللَّهِ مَا عَلَى الْأَرْضِ مِنْ نَفْسٍ مَنْفُوسَةٍ يَأْتِي عَلَيْهَا مِائَةُ سَنَةٍ وَهِيَ حَيَّةٌ يَوْمَئِذٍ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
৫৫১০-[২] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সা.) -কে বলতে শুনেছি। [নবী (সা.) বলেছেন] মৃত্যুর একমাস পূর্বে বলেন, তোমরা আমাকে প্রশ্ন করছ কিয়ামত কখন হবে? অথচ তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি। বর্তমানে এই ভূপৃষ্ঠে যে ব্যক্তিই বেঁচে আছে, একশত বছর অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত তাদের কেউই জীবিত থাকবে না। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (218/ 2538)
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَأْتِي مِائَةُ سَنَةٍ وَعَلَى الْأَرْضِ نَفْسٌ مَنْفُوسَةٌ الْيَوْمَ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
৫৫১১-[৩] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আজ যারা ভূপৃষ্ঠে বেঁচে আছে, একশত বছর অতিবাহিত হতেই তাদের কেউ জীবিত থাকবে না। (মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (219/ 2539)
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رِجَالٌ مِنَ الْأَعْرَابِ يَأْتُونَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَسْأَلُونَهُ عَنِ السَّاعَةِ فَكَانَ يَنْظُرُ إِلَى أصغرِهم فَيَقُول: «إِنْ يَعِشْ هَذَا لَا يُدْرِكْهُ الْهَرَمُ حَتَّى تَقُومَ عَلَيْكُمْ سَاعَتُكُمْ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
৫৫১২-[৪] ’আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অনেক বেদুঈন লোকই নবী (সা.) -এর নিকট এসে প্রশ্ন করত, কিয়ামত কখন হবে? তখন তিনি (সা.) তাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে বলতেন, এই বালকটি যদি জীবিত থাকে, তবে বৃদ্ধ হওয়ার আগেই তোমাদের ওপর কিয়ামত ঘটে যাবে। (বুখারী ও মুসলিম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (6511) و مسلم (136 / 2952)
عَن الْمُسْتَوْرد بن شَدَّاد عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «بُعِثْتُ فِي نَفَسِ السَّاعَةِ فَسَبَقْتُهَا كَمَا سَبَقَتْ هذِه هذِه» وأشارَ بأصبعيهِ السبَّابةِ وَالْوُسْطَى. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
৫৫১৩-[৫] মুসতাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আমি কিয়ামতের (সময়ের) শুরুতেই প্রেরিত হয়েছি। অবশ্য আমি তা হতে এতটুকু পরিমাণ আগে আগমন করছি, যে পরিমাণ এ অঙ্গুলি ঐ অঙ্গুলি হতে বেড়ে রয়েছে। এ কথা বলে তিনি স্বীয় তর্জনী ও মধ্যমা অঙ্গুলির প্রতি ইঙ্গিত করলেন। (তিরমিযী)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ الترمذي (2213 وقال: غریب) ٭ مجالد ضعیف و عبیدۃ، بن الأسود مدلس و عنعن و روی أحمد (5/ 348) بلفظ: ’’بعثت أنا والساعۃ جمیعًا، إن، کادت لتسبقني‘‘ و سندہ حسن .
وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ لَا تَعْجِزَ أُمَّتِي عِنْدَ رَبِّهَا أَنْ يُؤَخِّرَهُمْ نِصْفَ يَوْمٍ» . قِيلَ لِسَعْدٍ: وَكَمْ نِصْفُ يَوْمٍ؟ قَالَ: خَمْسُمِائَةِ سَنَةٍ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
৫৫১৪-[৬] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আমি আশাবাদী যে, আমার উম্মাত তাদের প্রভুর কাছে এত অসহায় নয় যে, তিনি তাদেরকে অর্ধ দিনেরও অবকাশ দেবেন না। সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে প্রশ্ন করা হলো, সেই অর্থ দিনের পরিমাণ কত? উত্তরে তিনি বললেন, পাঁচশত বছর। (আবূ দাউদ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ أبو داود (4350) ٭ السند منقطع، شریح بن عبید لم، یدرک سعدًا رضي اللہ عنہ . (انظر التہذیب الکمال 3/ 380 تحقیق بشارعواد) و لہ، شاھد ضعیف منقطع عند أحمد (1/ 170 ح 1464) و حدیث أبي داود (4349 وسندہ صحیح)، یغني عنہ .