হাদীস বিএন


মিশকাতুল মাসাবিহ





মিশকাতুল মাসাবিহ (5695)


وَعَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " لَا تَزَالُ جَهَنَّمَ يُلْقَى فِيهَا وَتَقُولُ: هَلْ مِنْ مَزِيدٍ؟ حَتَّى يَضَعَ رَبُّ العزَّةِ فِيهَا قدَمَه فينزَوي بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ فَتَقُولُ: قَطْ قَطْ بِعِزَّتِكَ وَكَرَمِكَ وَلَا يَزَالُ فِي الْجَنَّةِ فَضْلٌ حَتَّى يُنْشِئَ اللَّهُ لَهَا خَلْقًا فَيُسْكِنُهُمْ فَضْلَ الْجَنَّةِ ". مُتَّفق عَلَيْهِ وذكرَ حَدِيث أنسٍ: «حُفَّتِ الجنَّةُ بالمكارِه» فِي «كتاب الرقَاق»




৫৬৯৫-[২] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: জাহান্নামে অবিরাম (জিন-ইনসানকে) নিক্ষেপ করা হবে। তখন জাহান্নাম বলতে থাকবে, আরো বেশি কিছু আছে কি? এভাবে ততক্ষণ পর্যন্ত বলতে থাকবে, যতক্ষণ না মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তার মধ্যে নিজের পবিত্র পা রাখবেন। তখন জাহান্নামের একাংশ অপর অংশের সাথে চেপে যাবে এবং বলবে, তোমার মর্যাদা ও অনুগ্রহের শপথ। যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। আর জান্নাতের মধ্যে লোকেদের প্রবেশের পরও অতিরিক্ত স্থান থেকে যাবে, এমনকি আল্লাহ তা’আলা তার জন্য নতুন নতুন সৃষ্টজীব সৃষ্টি করে তাদেরকে জান্নাতের সেই সমস্ত খালি স্থানে অবস্থান করাবেন। (বুখারী ও মুসলিম)
আর এ প্রসঙ্গে আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস (حُفَّتِ الجنَّةُ بالمكارِه) "জান্নাতকে কষ্টদায়ক জিনিস দ্বারা ঘিরে দেয়া হয়েছে" ’রিকাক’ (সদয় হওয়া) অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (7384) و مسلم (38/ 2848) حدیث ’’حفت، الجنۃ بالمکارہ‘‘ تقدم (5160)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5696)


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ الْجَنَّةَ قَالَ لِجِبْرِيلَ: اذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَذَهَبَ فَنَظَرَ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعَدَّ اللَّهُ لِأَهْلِهَا فِيهَا ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ: أَيْ رَبِّ وَعِزَّتِكَ لَا يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ إِلَّا دَخَلَهَا ثُمَّ حَفَّهَا بالمكارِه ثُمَّ قَالَ: يَا جِبْرِيلُ اذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَذَهَبَ فَنَظَرَ إِلَيْهَا ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ: أَيْ رَبِّ وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ لَا يَدْخُلَهَا أَحَدٌ ". قَالَ: " فَلَمَّا خَلَقَ اللَّهُ النَّارَ قَالَ: يَا جبريلُ اذهبْ فانظرْ إِليها فذهبَ فنظرَ إِليها فَقَالَ: أَيْ رَبِّ وَعِزَّتِكَ لَا يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ فَيَدْخُلُهَا فَحَفَّهَا بِالشَّهَوَاتِ ثُمَّ قَالَ: يَا جبريلُ اذهبْ فانظرْ إِليها فذهبَ فَنَظَرَ إِلَيْهَا فَقَالَ: أَيْ رَبِّ وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ لَا يَبْقَى أَحَدٌ إِلَّا دَخَلَهَا ". رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ




৫৬৯৬-[৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা যখন জান্নাত তৈরি করলেন, তখন জিবরীল আলায়হিস সালাম-কে বললেন, যাও জান্নাতখানা দেখে আসো। তিনি গিয়ে তা এবং তার অধিবাসীদের জন্য যে সকল জিনিস আল্লাহ তা’আলা তৈরি করে রেখেছেন, সবকিছু দেখে এসে বললেন, হে আল্লাহ! তোমার সম্মানের শপথ! যে কেউ এ জান্নাতের সম্পর্কে শুনবে, সে অবশ্যই তাতে প্রবেশ ( আকাঙ্ক্ষা ) করবে। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা জান্নাতের চতুষ্পর্শ কষ্টসমূহ দ্বারা বেষ্টন করে দিলেন, অতঃপর আবার জিবরীল আলায়হিস সালাম-কে বললেন, হে জিবরীল! আবার যাও এবং পুনরায় জান্নাত দেখে আসো। তিনি গিয়ে তা দেখে এসে বললেন, হে আমার প্রভু! এখন যা কিছু দেখলাম, তার প্রবেশপথ যে,
কষ্টকর। এতে আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে, কেউই তাতে প্রবেশ করবে না। তিনি (সা.) বলেন, অতঃপর আলাহ তা’আলা যখন জাহান্নামকে তৈরি করলেন, তখন বললেন, হে জিবরীল! যাও জাহান্নামটি দেখে আসো, তিনি গিয়ে দেখলেন, অতঃপর এসে বললেন, হে প্রভু! তোমার সম্মানের শপথ! যে কেউ এ জাহান্নামের ভয়ঙ্কর অবস্থার কথা শুনবে, সে কখনো তাতে প্রবেশ করবে না। অতঃপর জাহান্নামের চতুষ্পর্শ্বে আল্লাহ তা’আলা বেষ্টন করলেন প্রবৃত্তির আকর্ষণীয় বস্তু দ্বারা এবং পুনরায় জিবরীল আলায়হিস সালাম -কে বললেন, আবার যাও এবং দ্বিতীয়বার তা দেখে আসো। তিনি গেলেন এবং এবার দেখে এসে বললেন, হে প্রভু! তোমার সম্মানের শপথ করে বলছি, আমার আশঙ্কা হচ্ছে, একজন লোকও তাতে প্রবেশ ব্যতীত অবশিষ্ট থাকবে না। (তিরমিযী, আবূ দাউদ ও নাসায়ী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (2560 وقال: حسن صحیح) و أبو داود، (4744) و النسائي (7/ 3 ح 3794)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5697)


عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صلى بِنَا يَوْمًا الصَّلَاةَ ثُمَّ رَقِيَ الْمِنْبَرَ فَأَشَارَ بِيَدِهِ قِبَلَ قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ فَقَالَ: «قَدْ أُرِيتُ الْآنَ مُذْ صَلَّيْتُ لَكُمُ الصَّلَاةَ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ مُمَثَّلَتَيْنِ فِي قِبَلِ هَذَا الْجِدَارِ فَلَمْ أَرَ كَالْيَوْمِ فِي الْخَيْر وَالشَّر» . رَوَاهُ البُخَارِيّ




৫৬৯৭-[৮] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে সালাত আদায় করালেন। অতঃপর মিম্বারে উঠলেন এবং মসজিদের কিবলার দিকে হাত দ্বারা ইঙ্গিত করে বললেন, আমি এখন তোমাদেরকে সালাত আদায় করার সময় জান্নাত ও জাহান্নামকে এ দেয়ালের সামনে এক বিশেষ বিশেষ রূপ ও আকৃতিতে দেখতে পেয়েছি, কিন্তু আজকের মতো এত উত্তম এবং এত নিকৃষ্ট এর আগে আর কখনো দেখতে পাইনি। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (749)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5698)


عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: إِنِّي كُنْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ جَاءَ قومٌ منْ بَني تميمٍ فَقَالَ: «اقْبَلُوا الْبُشْرَى يَا بَنِي تَمِيمٍ» قَالُوا: بَشَّرْتَنَا فَأَعْطِنَا فَدَخَلَ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ فَقَالَ: «اقْبَلُوا الْبُشْرَى يَا أَهْلَ الْيَمَنِ إِذْ لَمْ يَقْبَلْهَا بَنُو تَمِيمٍ» . قَالُوا: قَبِلْنَا جِئْنَاكَ لِنَتَفَقَّهَ فِي الدِّينِ وَلِنَسْأَلَكَ عَنْ أَوَّلِ هَذَا الْأَمْرِ مَا كَانَ؟ قَالَ: «كَانَ اللَّهُ وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ قَبْلَهُ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ ثُمَّ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَكَتَبَ فِي الذِّكْرِ كلَّ شيءٍ» ثُمَّ أَتَانِي رَجُلٌ فَقَالَ: يَا عِمْرَانُ أَدْرِكْ ناقتَكَ فقدْ ذهبتْ فانطلقتُ أطلبُها وايمُ اللَّهِ لَوَدِدْتُ أَنَّهَا قَدْ ذَهَبَتْ وَلَمْ أَقُمْ. رَوَاهُ البُخَارِيّ




৫৬৯৮- ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তখন তাঁর কাছে বানূ তামীম-এর কিছু লোক আসলো। তিনি (সা.) বললেন, হে বানূ তামীম! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। উত্তরে তারা বলল, আপনি শুভ সংবাদ তো শুনিয়েছেন, এবার আমাদেরকে কিছু দান করুন। পরক্ষণে তাঁর কাছে ইয়ামানের কিছু লোক আসলো। তিনি তাদেরকে বললেন, হে ইয়ামানবাসী! শুভ সংবাদ গ্রহণ কর। কেননা বানূ তামীম তা গ্রহণ করেনি। তারা উত্তর দিল, আমরা তা কবুল করলাম। অবশ্য আমরা দীনের বিধান সম্পর্কে কিছু অবহিত হওয়ার জন্য আপনার কাছে উপস্থিত হয়েছি। আমরা এ সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে কিছু অবগত হওয়ার জন্য আপনার কাছে উপস্থিত হয়েছি। আমরা আপনাকে এ সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে প্রশ্ন করতে চাই, সর্বপ্রথম কি ছিল? উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, আদিতে একমাত্র আল্লাহই ছিলেন এবং তার আগে কিছুই ছিল না। আর তার আরশ স্থাপিত ছিল পানির উপরে।
অতঃপর তিনি আকাশ ও জমিন সৃষ্টি করেন এবং লাওহে মাহফুযে প্রত্যেক জিনিসের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন। ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এ সময় এক লোক এসে আমাকে বলল, হে ’ইমরান! তুমি তোমার উষ্ট্রীর খোঁজ কর, তা তো পালিয়েছে। অতএব আমি তার খোঁজে চলে গেলাম। আল্লাহর শপথ! যদি উষ্ট্রীটি চলে যেত আর আমি তথা হতে উঠে না যেতাম, তাই আমার কাছে প্রিয় ছিল। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (7418)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5699)


وَعَن عمر قَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَامًا فَأَخْبَرَنَا عَنْ بَدْءِ الْخَلْقِ حَتَّى دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ مَنَازِلَهُمْ وَأَهْلُ النَّارِ مَنَازِلَهُمْ حَفِظَ ذَلِكَ مَنْ حَفِظَهُ وَنَسِيَهُ مَنْ نسيَه ". رَوَاهُ البُخَارِيّ




৫৬৯৯-[২] ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন, এতে তিনি সৃষ্টির সূচনা হতে জান্নাতবাসীদের তাদের বাসস্থানে প্রবেশ এবং জাহান্নামীদের তাদের শাস্তির স্থলে প্রবেশ পর্যন্ত আলোচনা করলেন। সে আলোচনা যে স্মরণ রাখার সে স্মরণ রেখেছে, আর যে ভোলার সে ভুলে গেছে। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3192)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5700)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى كَتَبَ كِتَابًا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ الْخَلْقَ: إِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ غَضَبِي فَهُوَ مَكْتُوب عِنْده فَوق الْعَرْش ". مُتَّفق عَلَيْهِ




৫৭০০-[৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা’আলা সমস্ত সৃষ্টজীব সৃষ্টি করার পূর্বে এটা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন যে, আমার রহমত আমার গজবের উপর সর্বদাই অগ্রগামী। আর এ বাক্যটি তাঁর কাছে আরশের উপরে লিখিতভাবে রয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (7554) ومسلم (14/ 2751)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5701)


وَعَنْ عَائِشَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «خُلِقَتِ الْمَلَائِكَةُ مِنْ نُورٍ وَخُلِقَ الْجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وصف لكم» . رَوَاهُ مُسلم




৫৭০১-[৮] ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাদের)-কে নূরের দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর জিন্ জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে ধোঁয়া মিশ্রিত অগ্নিশিখা হতে এবং আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে ঐ বস্তু দ্বারা, যার বর্ণনা (কুরআনে) তোমাদেরকে বলা হয়েছে। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (60/ 2996)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5702)


وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَمَّا صَوَّرَ اللَّهُ آدَمَ فِي الْجَنَّةِ تَرَكَهُ مَا شَاءَ أَنْ يَتْرُكَهُ فَجَعَلَ إِبْلِيسُ يُطِيفُ بِهِ يَنْظُرُ مَا هُوَ فَلَمَّا رَآهُ أَجْوَفَ عَرَفَ أَنَّهُ خُلِقَ خَلْقًا لَا يتمالَكُ» . رَوَاهُ مُسلم




৫৭০২-[৫] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা যখন জান্নাতে আদম (আঃ)-এর দেহ আকৃতি তৈরি করলেন এবং যতদিন ইচ্ছা তিনি এ অবস্থায় রেখে দিলেন, তখন ইবলীস উক্ত আকৃতির চতুস্পার্শ্বে ঘোরাফেরা করত এবং তার প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করতে লাগল। অতঃপর যখন সে দেখতে পেল তার মধ্যস্থল শূন্য, তখন সে বুঝতে পারল যে, এটা এমন একটি সৃষ্টিজীব যে নিজেকে আয়ত্তে রাখতে পারবে না। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (111/ 2611)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5703)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اخْتَتَنَ إِبْرَاهِيمُ النَّبِيُّ وَهُوَ ابْنُ ثَمَانِينَ سَنَةً بِالْقَدُومِ» . مُتَّفق عَلَيْهِ




৫৭০৩-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ইবরাহীম আলায়হিস সালাম স্বয়ং স্বীয় হাতে নিজের খৎনা করেছেন ’কদূম’ দ্বারা এবং তখন তার বয়স ছিল আশি বছর। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3356) ومسلم (151/ 2370)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5704)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَمْ يَكْذِبْ إِبْرَاهِيمُ إِلَّا فِي ثَلَاثَ كَذَبَاتٍ: ثِنْتَيْنِ مِنْهُنَّ فِي ذَاتِ اللَّهِ قولُه (إِني سَقيمٌ) وقولُه (بلْ فعلَه كبيرُهم هَذَا) وَقَالَ: بَيْنَا هُوَ ذَاتَ يَوْمٍ وَسَارَةُ إِذْ أَتَى عَلَى جَبَّارٍ مِنَ الْجَبَابِرَةِ فَقِيلَ لَهُ: إِن هَهُنَا رَجُلًا مَعَهُ امْرَأَةٌ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَسَأَلَهُ عَنْهَا: مَنْ هَذِهِ؟ قَالَ: أُخْتِي فَأَتَى سَارَةَ فَقَالَ لَهَا: إِنَّ هَذَا الْجَبَّارَ إِنْ يَعْلَمْ أَنَّكِ امْرَأَتِي يَغْلِبُنِي عَلَيْكِ فَإِنْ سألكِ فأخبِريهِ أنَّكِ أُختي فإِنكِ أُخْتِي فِي الْإِسْلَامِ لَيْسَ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ مُؤْمِنٌ غَيْرِي وَغَيْرُكِ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا فَأُتِيَ بِهَا قَامَ إِبْرَاهِيمُ يُصَلِّي فَلَمَّا دَخَلَتْ عَلَيْهِ ذَهَبَ يَتَنَاوَلُهَا بِيَدِهِ. فَأُخِذَوَيُرْوَى فَغُطَّحَتَّى رَكَضَ بِرِجْلِهِ فَقَالَ: ادْعِي اللَّهَ لِي وَلَا أَضُرُّكِ فَدَعَتِ اللَّهَ فَأُطْلِقَ ثُمَّ تَنَاوَلَهَا الثَّانِيَةَ فَأُخِذَ مِثْلَهَا أَوْ أَشَدُّ فَقَالَ: ادْعِي اللَّهَ لِي وَلَا أَضُرُّكِ فَدَعَتِ اللَّهَ فَأُطْلِقَ فَدَعَا بَعْضَ حجَبتِه فَقَالَ: إِنَّكَ لم تأتِني بِإِنْسَانٍ إِنَّمَا أَتَيْتَنِي بِشَيْطَانٍ فَأَخْدَمَهَا هَاجَرَ فَأَتَتْهُ وَهُوَ قائمٌ يُصلي فأوْمأَ بيدِه مَهْيَمْ؟ قَالَتْ: رَدَّ اللَّهُ كَيْدَ الْكَافِرِ فِي نَحْرِهِ وَأَخْدَمَ هَاجَرَ " قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: تِلْكَ أُمُّكُمْ يَا بَنِي مَاءِ السَّمَاءِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ




৫৭০৪-[৭] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ইবরাহীম আলায়হিস সালাম তিনবার ছাড়া আর কখনো মিথ্যা বলেননি। এর মধ্যে দু’বার ছিল শুধু আল্লাহ তা’আলার (সত্তার ক্ষেত্রে) জন্য। যেমন- তিনি বলেছেন, ’আমি অসুস্থ’ এবং তার অপর কথাটি হলো, বরং তাদের এই বড় মূর্তিটিই এটা করেছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, একদিন ইবরাহীম আলায়হিস সালাম ও তাঁর স্ত্রী সারা এক অত্যাচারী শাসনকর্তার এলাকায় (মিসরে) এসে পৌছলেন। শাসনকর্তাকে খবর দেয়া হলো যে, এখানে একজন লোক এসেছে, তার সাথে আছে অতি সুন্দরী এক রমণী। রাজা তখন ইবরাহীম আলায়হিস সালাম -এর কাছে (লোক) পাঠাল। সে তাঁকে প্রশ্ন করল, এই মহিলাটি কে? ইবরাহীম আলায়হিস সালাম জবাব দিলেন, আমার দীনী ভগ্নি। অতঃপর ইবরাহীম আলায়হিস সালাম সারার কাছে এসে বললেন, হে সারা! যদি এই যালিম জানতে পারে যে, তুমি আমার স্ত্রী তাহলে সে তোমাকে আমার কাছে থেকে বলপূর্বক ছিনিয়ে নেবে। অতএব যদি সে তোমাকে প্রশ্ন করে, তখন বলে দেবে তুমি আমার বোন। মূলত তুমি আমার দীনী বোন। প্রকৃত আমি এবং তুমি ছাড়া এই জমিনের উপর আর কোন মুমিন নেই। রাজা এবার সারা’র নিকট (তাকে আনার জন্য) লোক পাঠাল। তাকে উপস্থিত করা হলো। অন্যদিকে ইবরাহীম আলায়হিস সালাম সালাত আদায় করার জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন। অতঃপর সারা যখন তার কাছে প্রবেশ করলেন তখন রাজা তাকে ধরার জন্য হাত বাড়াল, তখনই সে আল্লাহর ক্রোধে পাকড়াও হলো। অন্য বর্ণনায় রয়েছে- তার দম বন্ধ হয়ে গেল, এমনকি জমিনে পা মারতে লাগল। অত্যাচারী (অবস্থা বেগতিক দেখে সারাকে) বলল, আমার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ কর, আমি তোমার ক্ষতি করব না। তখন সারা (তার জন্য) আল্লাহর কাছে দু’আ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেল। অতঃপর সে দ্বিতীয়বার তাঁকে ধরার জন্য হাত বাড়াল। তখন সে আগের মতো কিংবা আরো কঠিনভাবে পাকড়াও হলো। এবারও সে বলল, আমার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ কর, আমি তোমার কোন অকল্যাণ করব না। অতএব সারা আবারও আল্লাহর কাছে দু’আ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেয়ে গেল। তখন সে রাজা তার একজন দারোয়ানকে ডেকে বলল, তোমরা তো আমার কাছে কোন মানুষকে আননি; বরং তোমরা আমার কাছে এনেছ একজন শয়তানকে। এরপর সে সারার সেবার জন্য ’হাজেরা (নামে একটি রমণী)-কে দান করল। অতঃপর সারা ইবরাহীম আলায়হিস সালাম -এর কাছে ফিরে আসলেন, তখনো তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। (সালাতের মধ্যেই) হাতের ইশারায় সারাকে প্রশ্ন করলেন, ঘটনা কি হলো? সারা বললেন, আল্লাহ তা’আলা কাফিরের চক্রান্ত তারই বক্ষে পাল্টা নিক্ষেপ (নস্যাৎ) করেছেন। আর সে আমার সেবার জন্য ’হাজেরা’কে দান করেছে। আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হাদীসটি বর্ণনা করে বললেন, হে আকাশের পানির সন্তান! অর্থাৎ হে ’আরববাসীগণ! এই ’হাজেরাই তোমাদের আদি মাতা। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (2213، 3358) و مسلم (154/ 2371)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5705)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " نَحْنُ أَحَقُّ بِالشَّكِّ مِنْ إِبْرَاهِيمَ إِذْ قَالَ: (رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تحيي الْمَوْتَى) وَيَرْحَمُ اللَّهُ لُوطًا لَقَدْ كَانَ يَأْوِي إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٍ وَلَوْ لَبِثْتُ فِي السِّجْنِ طُولَ مَا لَبِثَ يُوسُفُ لَأَجَبْتُ الدَّاعِيَ ". مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ




৫৭০৫-[৮] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ইবরাহীম আলায়হিস সালাম অপেক্ষা আমরা সন্দেহ পোষণ করার অধিক হকদার। যখন তিনি বলেছিলেন, হে আমার প্রভু! আপনি কিরূপ মৃতকে জীবিত করবেন তা আমাকে দেখিয়ে দিন। আল্লাহ তা’আলা লূত আলায়হিস সালাম -এর ওপর দয়া করুন! (আল্লাহর দীন প্রচারে অসহায়তার দরুন) তিনি একটি দৃঢ় খুঁটির (ব্যক্তি বা দলের) আশ্রয় পেতে চেয়েছিলেন। আর ইউসুফ আলায়হিস সালাম যত দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন, এত দীর্ঘ সময় আমিও যদি কারাগারে থাকতাম, তাহলে তখনই আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিতাম। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3372) و مسلم (152/ 151)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5706)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ مُوسَى كَانَ رَجُلًا حَيِيًّا سِتِّيرًا لَا يُرَى مِنْ جِلْدِهِ شَيْءٌ اسْتِحْيَاءً فَآذَاهُ مَنْ آذَاهُ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ فَقَالُوا: مَا تَسَتَّرَ هَذَا التَّسَتُّرَ إِلَّا مِنْ عَيْبٍ بِجِلْدِهِ: إِمَّا بَرَصٌ أَوْ أُدْرَةٌ وَإِنَّ اللَّهَ أَرَادَ أَنْ يُبَرِّئَهُ فَخَلَا يَوْمًا وَحده ليغتسل فَوَضَعَ ثَوْبَهُ عَلَى حَجَرٍ فَفَرَّ الْحَجَرُ بِثَوْبِهِ فَجمع مُوسَى فِي إِثْرِهِ يَقُولُ: ثَوْبِي يَا حَجَرُ ثَوْبِي يَا حَجَرُ حَتَّى انْتَهَى إِلَى مَلَأٍ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ فَرَأَوْهُ عُرْيَانًا أَحْسَنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ وَقَالُوا: وَاللَّهِ مَا بِمُوسَى مِنْ بَأْسٍ وَأَخْذَ ثَوْبَهُ وَطَفِقَ بِالْحَجَرِ ضَرْبًا فَوَاللَّهِ إِنَّ بِالْحَجَرِ لَنَدَبًا مِنْ أَثَرِ ضَرْبِهِ ثَلَاثًا أَو أَرْبعا أَو خمْسا ". مُتَّفق عَلَيْهِ




৫৭০৬-[৯] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মূসা আলায়হিস সালাম ছিলেন খুবই লাজুক স্বভাবের লোক। সব সময় শরীর ঢেকে রাখতেন। লজ্জাশীলতার কারণে তাঁর দেহের কোন অংশ কখনো খোলা দেখা যেত না। বানী ইসরাঈল সম্প্রদায়ের একদল লোক (এ ব্যাপারে) তাঁকে মারাত্মক কষ্ট দিল। তারা (অভিযোগ এনে) বলল, তিনি যে শরীর ঢেকে রাখতে এত বেশি তৎপর, এর একমাত্র কারণ হলো, তার দেহে নিশ্চয় কোন দোষ আছে। হয়তো শ্বেত (কুষ্ঠ) রোগ রয়েছে কিংবা অণ্ডকোষে একশিরা আছে। মহান আল্লাহ তা’আলা নির্দোষিতা প্রকাশ করার ইচ্ছা করলেন। অতএব একদিন গোসল করার জন্য মূসা আলায়হিস সালাম একা এক নির্জন স্থানে গেলেন এবং পরনের কাপড় খুলে একটি পাথরের উপর রাখলেন এবং অমনি তার কাপড়সহ পাথরটি ছুটে চলল। সাথে সাথেই মূসা আলায়হিস সালাম পাথরটিকে ধাওয়া করলেন; আর চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলেন, হে পাথর! আমার কাপড়! হে পাথর, আমার কাপড়! শেষ পর্যন্ত পাথরটি বানী ইসরাঈলের এক বৈঠকে এসে পৌছল। ফলে তারা মূসা আলায়হিস সালাম -কে পোষাকহীন অবস্থায় দেখে ফেলল। তারা দেখতে পেল, মূসা আলায়হিস সালাম -এর শরীর আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক সৌন্দর্যপূর্ণ এবং সকলে এক বাক্যে বলে উঠল- আল্লাহর শপথ! মূসা আলায়হিস সালাম -এর শরীরে কোন প্রকারের দোষ নেই। এবার তিনি কাপড়টি নিয়ে পরিধান করলেন এবং (হাতের লাঠি দ্বারা) পাথরকে খুব জোরে মারতে লাগলেন। আল্লাহর শপথ! এতে পাথরের গায়ে তিন, চার কিংবা পাঁচটি আঘাতের দাগ পড়ে গেল। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3404) و مسلم (156/ 2371)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5707)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " بَيْنَا أَيُّوبُ يَغْتَسِلُ عُرْيَانًا فَخَرَّ عَلَيْهِ جَرَادٌ مِنْ ذَهَبٍ فَجَعَلَ أَيُّوبُ يَحْثِي فِي ثَوْبِهِ فَنَادَاهُ رَبُّهُ: يَا أَيُّوبُ أَلَمْ أَكُنْ أَغْنَيْتُكَ عَمَّا تَرَى؟ قَالَ: بَلَى وَعِزَّتِكَ وَلَكِن لَا غنى بِي عَن بركتك ". رَوَاهُ البُخَارِيّ




৫৭০৭-[১০] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: একদিন আইয়ুব আলায়হিস সালাম উলঙ্গ অবস্থায় গোসল করছিলেন, এমনি অবস্থায় তাঁর ওপর সোনালী পঙ্গপাল পতিত হলো। তখন আইয়ুব আলায়হিস সালাম সেগুলোকে দ্রুত ধরে কাপড়ে রাখতে লাগলেন। তখন তার প্রভু তাকে ডেকে বললেন, হে আইয়ূব! তুমি যা দেখছ, আমি কি তা হতে তোমাকে অমুখাপেক্ষী করে দেইনি। উত্তরে তিনি বললেন, হ্যা, নিশ্চয় আপনার ’ইজ্জতের শপথ! কিন্তু আপনার বারাকাত ও কল্যাণ হতে তো আমি অভাবমুক্ত নই। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (279)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5708)


وَعَنْهُ قَالَ: اسْتَبَّ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَرَجُلٌ مِنَ الْيَهُودِ. فَقَالَ الْمُسْلِمُ: وَالَّذِي اصْطَفَى مُحَمَّدًا عَلَى الْعَالَمِينَ. فَقَالَ الْيَهُودِيُّ: وَالَّذِي اصْطَفَى مُوسَى عَلَى الْعَالَمِينَ. فَرَفَعَ الْمُسْلِمُ يَدَهُ عِنْدَ ذَلِكَ فَلَطَمَ وَجْهَ الْيَهُودِيِّ فَذَهَبَ الْيَهُودِيُّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ بِمَا كَانَ من أمره وأمرِ الْمُسلم فَدَعَا النَّبِي صلى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُسْلِمَ فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُخَيِّرُونِي عَلَى مُوسَى فَإِنَّ النَّاسَ يُصْعَقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأُصْعَقُ مَعَهُمْ فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ يُفِيقُ فَإِذَا مُوسَى بَاطِشٌ بِجَانِبِ الْعَرْشِ فَلَا أَدْرَى كَانَ فِيمَنْ صُعِقَ فَأَفَاقَ قَبْلِي أَوْ كَانَ فِيمَنِ اسْتَثْنَى اللَّهُ.» . وَفِي رِوَايَةٍ: " فَلَا أَدْرِي أَحُوسِبَ بِصَعْقَةِ يَوْمِ الطُّورِ أَوْ بُعِثَ قَبْلِي؟ وَلَا أَقُولُ: أَنَّ أَحَدًا أَفْضَلَ مِنْ يُونُسَ بنِ مَتَّى "




৫৭০৮-[১১] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] বলেন, একবার একজন মুসলিম ও একজন ইয়াহূদী একে অপরে গালাগালিতে লিপ্ত হলো। মুসলিম লোকটি বলল, সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি মুহাম্মাদ (সা.) - কে সমস্ত জগতের উপর নির্বাচন করেছেন। তখন ইয়াহুদী বলে উঠল, শপথ সেই সত্তার! যিনি মূসা আলায়হিস সালামকে সারা জগতের উপর নির্বাচন করেছেন। (এ কথাটি শুনামাত্রই) মুসলিম লোকটি তৎক্ষণাৎ ইয়াহূদীর গালে একটি থাপ্পড় মারল। অতঃপর সেই ইয়াহূদী নবী (সা.) -এর কাছে গিয়ে তার ও মুসলিম লোকটির মধ্যে সংঘটিত ব্যাপারটি তাঁকে জানাল। তখন নবী (সা.) লোকটিকে ডেকে আনলেন এবং ঘটনাটির সত্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন, সেও ঘটনাটি বর্ণনা করল। তখন নবী (সা.) বললেন, ’আমাকে মূসা আলায়হিস সালাম -এর ওপর প্রাধান্য দিতে যেয়ো না। কেননা কিয়ামতের দিন সকল মানুষই হুশ হারিয়ে ফেলবে, আমিও তাদের সাথে বেহুশ থাকব। তবে আমি সর্বপ্রথম হুঁশ ফিরে পেতেই দেখব, মূসা আলায়হিস সালাম ’আরশের এক কিনারা ধরে রয়েছেন। তবে আমি জানি না, তিনিও বেহুশ হয়েছেন এবং আমার পূর্বেই হুঁশপ্রাপ্ত হয়েছেন অথবা তিনি তাদেরই অন্তর্ভুক্ত, যাদেরকে মহান আল্লাহ (বেহুঁশ হওয়া হতে) বাদ রেখেছেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে -
নবী (সা.) বলেছেন: আমি জানি না, তূর পাহাড়ের ঘটনার দিন তিনি যে বেহুশ হয়েছিলেন, তা হিসাবে রাখা হয়েছে অথবা আমার পূর্বেই তিনি হুঁশ ফিরে পেয়েছেন? তিনি আরো বলেছেন, ’আমি এটাও বলব না যে, কোন লোক ইউনুস ইবনু মাত্তা অপেক্ষা উত্তম।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (2411) [و مسلم (160/ 2373) الروایۃ الثانیۃ:، البخاري (3415)]









মিশকাতুল মাসাবিহ (5709)


وَفِي رِوَايَةِ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: «لَا تُخَيِّرُوا بَيْنَ الْأَنْبِيَاءِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةِ أَبِي هُرَيْرَة: «لَا تفضلوا بَين أَنْبيَاء الله»




৫৭০৯-[১২] অপর এক বর্ণনায় আবূ সাঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা নবীদের একে অপরের মধ্যে একজনকে আরেকজনের ওপর প্রধান্য দিয়ো না। (বুখারী ও মুসলিম)
আর আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -এর অপর এক বর্ণনায় আছে- তিনি (সা.) বলেছেন: তোমরা নবীদের মধ্যে একজনকে আরেকজনের ওপর মর্যাদা প্রদান করো না।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (6916) و مسلم (163 / 2374) وروایۃ، سیدنا أبي ھریرۃ رضي اللہ عنہ، رواھا البخاري (3414) و مسلم (159/ 2372)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5710)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَا يَنْبَغِي لِعَبْدٍ أَنْ يَقُولَ: إِنِّي خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى ". مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةِ البُخَارِيّ قَالَ: " من قَالَ: أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى فقد كذب "




৫৭১০-[১৩] আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কারো পক্ষেই এ কথা বলা উচিত নয় যে, আমি (মুহাম্মাদ) ইউনুস ইবনু মাত্তার তুলনায় উত্তম। (বুখারী ও মুসলিম)
বুখারী-এর অন্য এক বর্ণনায় আছে- রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে লোক বলবে, আমি (মুহাম্মাদ) ইউনুস ইবনু মাত্তা আলায়হিস সালাম হতে উত্তম, সে মিথ্যা বলেছে।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3416) و مسلم (116/ 2376) والروایۃ، الثانیۃ، رواھا البخاري (4604)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5711)


وَعَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْغُلَامَ الَّذِي قَتَلَهُ الْخَضِرُ طُبِعَ كَافِرًا وَلَوْ عَاشَ لَأَرْهَقَ أَبَوَيْهِ طُغْيَانًا وَكُفْرًا» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ




৫৭১১-[১৪] উবাই ইবনু কা’ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে বালকটিকে খাযির আলায়হিস সালাম হত্যা করেছিলেন, সে ছিল জন্মগত কাফির। যদি সে বেঁচে থাকত, তাহলে সে তার পিতামাতাকে অবাধ্যতা ও কুফরের মধ্যে ফেলে দিত (অথচ তাঁরা ছিলেন ঈমানদার)। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (لم أجدہ) و مسلم (29/ 2661)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5712)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا سُمِّيَ الْخَضِرُ لِأَنَّهُ جَلَسَ عَلَى فَرْوَةٍ بَيْضَاءَ فَإِذَا هِيَ تَهْتَزُّ من خَلْفِه خضراء» . رَوَاهُ البُخَارِيّ




৫৭১২-[১৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: খাযিরকে খাযির নামে আখ্যায়িত করার কারণ হলো এই যে, একদিন তিনি একটি শুকনো সাদা জায়গায় বসেছিলেন। তাঁর উঠে যাওয়ার পরই হঠাৎ ঐ স্থানটি সবুজের সমারোহে পরিপূর্ণ হয়ে গেল (সে ঘটনা হতে তার নাম ’খাযির হয়ে গেল)। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3402)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5713)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " جَاءَ مَلَكُ الْمَوْتِ إِلَى مُوسَى ابْنِ عِمْرَانَ فَقَالَ لَهُ: أَجِبْ رَبَّكَ ". قَالَ: «فَلَطَمَ مُوسَى عَيْنَ مَلَكَ الْمَوْتِ فَفَقَأَهَا» قَالَ: " فَرَجَعَ الْمَلَكُ إِلَى اللَّهِ فَقَالَ: إِنَّكَ أَرْسَلْتَنِي إِلَى عَبْدٍ لَكَ لَا يُرِيدُ الْمَوْتَ وَقَدْ فَقَأَ عَيْنِي " قَالَ: " فَرَدَّ اللَّهُ إِلَيْهِ عَيْنَهُ وَقَالَ: ارْجِعْ إِلَى عَبْدِي فَقُلْ: الْحَيَاةَ تُرِيدُ؟ فَإِنْ كُنْتَ تُرِيدُ الْحَيَاةَ فَضَعْ يَدَكَ عَلَى مَتْنِ ثَوْرٍ فَمَا تَوَارَتْ يَدُكَ مِنْ شَعْرِهِ فَإِنَّكَ تَعِيشُ بِهَا سَنَةً قَالَ: ثُمَّ مَهْ؟ قَالَ: ثُمَّ تَمُوتُ. قَالَ: فَالْآنَ مِنْ قَرِيبٍ رَبِّ أَدْنِنِي مِنَ الْأَرْضِ الْمُقَدَّسَةِ رَمْيَةً بِحَجَرٍ ". قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَاللَّهِ لَوْ أَنِّي عِنْدَهُ لَأَرَيْتُكُمْ قَبْرَهُ إِلَى جَنْبِ الطَّرِيقِ عِنْدَ الْكَثِيبِ الْأَحْمَرِ» . مُتَّفق عَلَيْهِ




৫৭১৩-[১৬] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মৃত্যুর মালাক (ফেরেশতা) মূসা ইবনু ইমরান (আঃ)-এর কাছে এসে বললেন, আপনার প্রভুর ডাকে সাড়া দিন। তখন মূসা আলায়হিস সালাম মৃত্যুর ফেরেশতার চোখের উপর চপেটাঘাত করলেন। ফলে তার চোখ উপড়ে গেল। তিনি বলেন, অতঃপর মালাক (ফেরেশতা) আল্লাহ তা’আলার কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, আপনি আমাকে আপনার এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন, যে মরতে চায় না। এমনকি সে আমার চোখ উপড়িয়ে ফেলেছে।
তিনি (সা.) বলেছেন: তখন আল্লাহ তা’আলা তার চোখ ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন, তুমি পুনরায় আমার সেই বান্দার কাছে যাও এবং বল, তুমি কি বেঁচে থাকতে চাও? যদি তুমি বেঁচে থাকতে চাও, তাহলে একটি ষাড়ের পিঠে হাত রাখ এবং তোমার হাত তার যতগুলো লোম ঢেকে ফেলবে, প্রতিটি লোমের বদলে তোমাকে এক এক বছর আয়ু দান করা হবে। তা শুনে মূসা আলায়হিস সালাম প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা, তারপর কি হবে? মালাক (ফেরেশতা) বললেন, অতঃপর তোমাকে মরতে হবে। তখন মূসা ’আলায়হিস সালাম বললেন, তাহলে কাছাকাছি সময়ে এখনই তা হোক। (এরপর তিনি দু’আ করলেন,) হে প্রভু! আপনি আমাকে পবিত্র ভূমি (বায়তুল মাক্বদিস) হতে একটি ঢিল নিক্ষেপের দূরত্ব পর্যন্ত কাছে পৌছিয়ে দিন। (অর্থাৎ তথায় যেন আমাকে দাফন করা হয়) রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহর শপথ! যদি আমি সেখানে উপস্থিত থাকতাম, তবে পথ পার্শ্বে লাল বালুর টিলার কাছে তাঁর কবর আমি তোমাদেরকে দেখিয়ে দিতাম। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (1339) و مسلم (158، 157 / 2372)









মিশকাতুল মাসাবিহ (5714)


وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «عُرِضَ عَلَيَّ الْأَنْبِيَاءُ فَإِذَا مُوسَى ضَرْبٌ مِنَ الرِّجَالِ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنوءَةَ ورأيتُ عِيسَى بن مَرْيَم فإِذا أقربُ مَن رأيتُ بِهِ شَبَهًا عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ وَرَأَيْتُ إِبْرَاهِيمَ فَإِذَا أَقْرَبُ مَنْ رَأَيْتُ بِهِ شَبَهًا صَاحِبُكُمْيَعْنِي نَفْسَهُوَرَأَيْتُ جِبْرِيلَ فَإِذَا أَقْرَبُ مَنْ رَأَيْتُ بِهِ شَبَهًا دِحْيَةُ بْنُ خَلِيفَةَ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ




৫৭১৪-[১৭] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (মি’রাজের রাতে) নবী গণকে আমার সামনে উপস্থিত করা হয়। তন্মধ্যে মূসা আলায়হিস সালাম-কে দেখলাম, তিনি মাঝারি ধরনের পুরুষ। মনে হচ্ছিল তিনি যেন শানুয়াহ্ গোত্রেরই একজন লোকে। আর ’ঈসা ইবনু মারইয়াম আলায়হিস সালাম-কেও দেখলাম, আমি যে সকল লোকেদেরকে দেখেছি, তাদের মাঝে তিনি উরওয়াহ্ ইবনু মাস’উদ-এর ঘনিষ্ঠ সদৃশ। আর আমি ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কে দেখেছি। তাঁকে দেখলাম, তিনি অনেকটা তোমাদের বন্ধুর সদৃশ অর্থাৎ তিনি [নবী (সা.)] নিজেই। আর জিবরীল আলায়হিস সালাম-কে দেখলাম, তিনি হলেন আমার দেখা লোকেদের মধ্যে দিহইয়া ইবনু খলীফার সদৃশ। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (271/ 167)