হাদীস বিএন


মিশকাতুল মাসাবিহ





মিশকাতুল মাসাবিহ (6001)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُلْكُ فِي قُرَيْشٍ وَالْقَضَاءُ فِي الْأَنْصَارِ وَالْأَذَانُ فِي الْحَبَشَةِ وَالْأَمَانَةُ فِي الْأَزْدِ» يَعْنِي الْيَمَنَ. وَفِي رِوَايَةٍ مَوْقُوفًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ: هَذَا أصح




৬০০১-[২৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: শাসন-কর্তৃত্ব কুরায়শদের মাঝে, বিচার আনসারদের মধ্যে, আযান হাবশীদের মাঝে এবং আমানতকারী আযদ তথা ইয়ামানীদের মাঝে। (ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি মাওকূফ হিসেবে বর্ণিত হওয়াই অধিক সহীহ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: موقوف




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3936)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6002)


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُطِيعٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ: «لَا يُقْتَلُ قُرَشِيٌّ صَبْرًا بَعْدَ هَذَا الْيَوْمِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَة» . رَوَاهُ مُسلم




৬০০২-[২৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু মুত্বী (রহ.) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মক্কাহ্ বিজয়ের দিন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, আজকের পর হতে কিয়ামত অবধি কোন কুরায়শী বন্দি অবস্থায় হত্যা করা যাবে না। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (88/ 1782)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6003)


وَعَنْ أَبِي نَوْفَلٍ مُعَاوِيَةَ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ: رَأَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ عَلَى عَقَبَةِ الْمَدِينَةِ قَالَ فَجَعَلَتْ قُرَيْشٌ تَمُرُّ عَلَيْهِ وَالنَّاسُ حَتَّى مَرَّ عَلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَوقف عَلَيْهِ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكَ أَبَا خُبَيْبٍ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَبَا خُبَيْبٍ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَبَا خُبَيْبٍ أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ هَذَا أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ هَذَا أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ هَذَا أَمَا وَاللَّهِ إِنْ كُنْتَ مَا عَلِمْتُ صَوَّامًا قَوَّامًا وَصُولًا لِلرَّحِمِ أَمَا وَاللَّهِ لَأُمَّةٌ أَنْتَ شَرُّهَا لَأُمَّةُ سَوْءٍوَفِي رِوَايَةٍ لَأُمَّةُ خَيْرٍثُمَّ نَفَذَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَبَلَغَ الْحَجَّاجَ مَوْقِفُ عَبْدِ اللَّهِ وَقَوْلُهُ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَأُنْزِلَ عَنْ جِذْعِهِ فَأُلْقِيَ فِي قُبُورِ الْيَهُودِ ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَى أُمِّهِ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ فَأَبَتْ أَنْ تَأْتِيَهُ فَأَعَادَ عَلَيْهَا الرَّسُولَ لَتَأْتِيَنِّي أَوْ لَأَبْعَثَنَّ إِلَيْكِ مَنْ يَسْحَبُكِ بِقُرُونِكِ. قَالَ: فَأَبَتْ وَقَالَتْ: وَاللَّهِ لَا آتِيكَ حَتَّى تَبْعَثَ إِلَيَّ من يسحبُني بقروني. قَالَ: فَقَالَ: أَرُونِي سِبْتِيَّ فَأَخَذَ نَعْلَيْهِ ثُمَّ انْطَلَقَ يَتَوَذَّفُ حَتَّى دَخَلَ عَلَيْهَا فَقَالَ: كَيْفَ رَأَيْتِنِي صَنَعْتُ بِعَدُوِّ اللَّهِ؟ قَالَتْ: رَأَيْتُكَ أَفْسَدْتَ عَلَيْهِ دُنْيَاهُ وَأَفْسَدَ عَلَيْكَ آخِرَتَكَ بَلَغَنِي أَنَّكَ تَقُولُ لَهُ: يَا ابْنَ ذَاتِ النِّطَاقَيْنِ أَنَا وَاللَّهِ ذَاتُ النِّطَاقَيْنِ أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكُنْتُ أَرْفَعُ بِهِ طَعَامَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَطَعَامَ أَبِي بَكْرٍ مِنَ الدَّوَابِّ وَأَمَّا الْآخَرُ فنطاق المرأةِ الَّتِي لَا تَسْتَغْنِي عَنهُ أما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدثنَا: «أَن فِي ثَقِيف كذابا ومبيرا» . فَأَما الْكَذَّابُ فَرَأَيْنَاهُ وَأَمَّا الْمُبِيرُ فَلَا إِخَالُكَ إِلَّا إِيَّاه. قَالَ فَقَامَ عَنْهَا وَلم يُرَاجِعهَا. رَوَاهُ مُسلم




৬০০৩-[২৫] আবূ নাওফাল মু’আবিয়াহ্ ইবনু মুসলিম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনামুখী মক্কার গিরিপথে আমি ’আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে (অর্থাৎ তাঁর মৃত লাশ) দেখতে পাই। তিনি বলেন, তাঁর কাছ দিয়ে কুরায়শ ও অন্যান্য বহু লোকই অতিক্রম করে যাচ্ছিল, অবশেষে ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার পার্শ্ব দিয়ে যাওয়ার বেলায় দাঁড়িয়ে বললেন, ’আস্সালামু আলাইকা ইয়া আবা খুবায়ব, আসসালামু আলাইকা ইয়া আবা খুবায়ব, আসসালামু আলাইকা ইয়া আবা খুবায়ব। অতঃপর বললেন, জেনে রাখ! আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমি তোমাকে এমন কাজ হতে নিষেধ করেছিলাম যার ফলে এটা হয়েছে, জেনে রাখ! আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমি তোমাকে এমন কাজ হতে নিষেধ করেছিলাম যার ফলে এটা ঘটেছে। জেনে রাখ! আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমি তোমাকে এমন কাজ হতে নিষেধ করেছিলাম যার ফলে এটা ঘটেছে। জেনে রাখ! আল্লাহর কসম! আমার জানা মতে তুমি ছিলে অধিক সিয়ামদার, খুব বেশি "ইবাদত ও তাহাজ্জুদগুযার এবং আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি সদ্ব্যবহারকারী। জেনে রাখ! আল্লাহর শপথ! যে দলের ’আক্বীদাহ্ ও ধারণা মন্দ তাদের নিকট প্রকৃতপক্ষে তুমি মন্দ নও। তিনি এটা বলেছিলেন উপহাসস্বরূপ।
অপর এক বর্ণনাতে আছে, হ্যা, তারা খুব চমৎকার একটি গোষ্ঠী। (বর্ণনাকারী বলেন,) এরপর ’আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তথা হতে চলে গেলেন। অতঃপর ’আবদুল্লাহ-এর উক্ত স্থানে দাঁড়ানো এবং উল্লিখিত কথাগুলো বলার সংবাদটি হাজ্জাজ-এর কাছে পৌছল। অতঃপর সে ইবনু যুবায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর লাশের কাছে লোক পাঠালেন এবং শূলির কাষ্ঠ হতে লাশটি নামিয়ে ইয়াহুদীদের কবরস্থানে ফেলে দিলো। এরপর হাজ্জাজ তাঁর মাতা আসমা বিনতু আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -কে তার কাছে ডেকে পাঠাল; কিন্তু আসমা’ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার কাছে আসতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর হাজ্জাজ এ কথা বলে আবার লোক পাঠাল যে, তাকে গিয়ে বল! হয়তো তুমি স্বেচ্ছায় আমার কাছে আসবে অথবা আমি তোমার কাছে এমন লোককে পাঠাব, যে তোমার চুলের বেণি চেপে ধরে তোমাকে হেঁচড়িয়ে টেনে নিয়ে আসবে। বর্ণনাকারী বলেন, আসমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এবারও আসতে অস্বীকার জানিয়ে বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমার কাছে ততক্ষণ অবধি আসব না, যে পর্যন্ত তুমি এমন লোককে আমার কাছে পাঠাবে, যে আমার চুলের বেণি ধরে আমাকে হেঁচড়িয়ে নিয়ে আসবে। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে হাজ্জাজ বলল, তোমরা আমার জুতা দাও। অতঃপর সে তার জুতা পরিধান করল এবং দ্রুত রওয়ানা হলো এবং আসমা’ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কাছে এসে বলল, আল্লাহর দুশমন আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র -এর সাথে আমি যে আচরণ করেছি। এ ব্যাপারে তুমি আমাকে কেমন পেলে? উত্তরে তিনি বললেন, "আমি দেখেছি, তুমি তার দুনিয়াকে ধ্বংস করেছ, আর সে তোমার আখিরাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমার কাছে এ খবরও পৌছেছে, তুমি নাকি তাকে (উপহাসস্বরূপ) বলেছ, হে দুই ফিতাওয়ালী সন্তান! আল্লাহর শপথ! আমিই সেই দুই ফিতাওয়ালী মহিলা। জেনে রাখ, তার (আমার কোমরে বাঁধবার দো-পাট্টার) একখণ্ড দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সা.) ও আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -এর সফরের খাদ্য বেঁধে উপরে ঝুলিয়ে রাখতাম এ আশঙ্কায় যাতে ইঁদুর বা অন্য কোন জীবজন্তু কোন ক্ষতি করতে না পারে এবং অপর খণ্ড ঐ কাজে ব্যবহার করতাম যা হতে কোন নারী অমুখাপেক্ষী থাকতে পারে না। জেনে রাখ, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন, সাকীফ গোত্রে এক চরম মিথ্যাবাদী ও এক মহা অত্যাচারী জন্মগ্রহণ করবে। অতএব সে চরম মিথ্যুক (মুখতার)-কে আমরা এর আগে দেখেছি। আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস তুমিই সেই মহা অত্যাচারী যালিম। বর্ণনাকারী বলেন, আসমা’(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) -এর মুখে উপরিউক্ত কথাগুলো শুনে হাজ্জাজ কোন প্রত্যুত্তর না করে চলে গেল। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (229/ 2545)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6004)


وَعَن نَافِع عَن ابْنَ عُمَرَ أَتَاهُ رَجُلَانِ فِي فِتْنَةِ ابْنِ الزُّبَيْرِ فَقَالَا: إِنَّ النَّاسَ صَنَعُوا مَا تَرَى وَأَنْتَ ابْنُ عُمَرَ وَصَاحِبُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَخْرُجَ؟ فَقَالَ: يَمْنعنِي أنَّ اللَّهَ حرم دَمَ أَخِي الْمُسْلِمِ. قَالَا: أَلَمْ يَقُلِ اللَّهُ: [وقاتلوهم حَتَّى لَا تكونَ فتْنَة] فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: قَدْ قَاتَلْنَا حَتَّى لَمْ تَكُنْ فِتْنَةٌ وَكَانَ الدِّينُ لِلَّهِ وَأَنْتُمْ تُرِيدُونَ أَنْ تُقَاتِلُوا حَتَّى تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لغيرِ اللَّهِ. رَوَاهُ البُخَارِيّ




৬০০৪-[২৬] নাফি (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। ’আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর যুগে সৃষ্ট ফিতনার সময় দুই লোক ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কাছে এসে বলল, লোকজন যা কিছু করছে তা তো আপনি দেখেছেন। অথচ আপনি একদিকে ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পুত্র এবং অপর দিকে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর একজন সাহাবী। এতদসত্ত্বেও আপনাকে বের হতে কিসে বাধা দিচ্ছে? তিনি উত্তর দিলেন, এটা আমাকে বাধা দিচ্ছে যে, আল্লাহ তা’আলা আমার ওপর মুসলিম ভাইয়ের রক্ত অবৈধ করে দিয়েছেন। তারা বলল, আল্লাহ তা’আলা কি বলেননি যে, ফিতনাহ্ নির্মূল না হওয়া অবধি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর? ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমরা যুদ্ধ করেছি, যাতে ফিতনাহ্ মিটে যায় এবং আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠিত হয়। আর আজ তোমরা যুদ্ধ করতে চাও, যাতে ফিতনাহ সৃষ্টি হয় এবং আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্যের দীন প্রতিষ্ঠিত হয়। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (4513)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6005)


وَعَن أبي هريرةَ قَالَ: جَاءَ الطُّفَيْلُ بْنُ عَمْرٍو الدَّوْسِيُّ إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وسل فَقَالَ: إِنَّ دَوْسًا قَدْ هَلَكَتْ عَصَتْ وَأَبَتْ فَادْعُ اللَّهَ عَلَيْهِمْ فَظَنَّ النَّاسُ أَنَّهُ يَدْعُو عَلَيْهِمْ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اهْدِ دَوْسًا وَأْتِ بِهِمْ» . مُتَّفق عَلَيْهِ




৬০০৫-[২৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন তুফায়ল ইবনু ’আমর আদ দাওসী রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসে বললেন, দাওস গোত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা আল্লাহর অবাধ্য হয়েছে এবং ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। অতএব আপনি তাদের ওপর আল্লাহর কাছে বদদু’আ করুন। তখন লোকেরা ধারণা করল, রাসূল (সা.) তাদের ওপর বদদু’আ করবেন, কিন্তু তিনি বললেন, হে আল্লাহ! তুমি দাওস গোত্রকে হিদায়াত দান কর এবং তাদেরকে নিয়ে আসো। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (6397) و مسلم (197 / 2524)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6006)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَحِبُّوا الْعَرَبَ لِثَلَاثٍ: لِأَنِّي عَرَبِيٌّ وَالْقُرْآنُ عَرَبِيٌّ وَكَلَامُ أَهْلِ الْجَنَّةِ عربيٌّ «. رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي» شعب الْإِيمَان "




৬০০৬-[২৮] ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা তিন কারণে ’আরবকে ভালোবাসবে। প্রথমত আমি হলাম ’আরবী, দ্বিতীয়ত কুরআন মাজীদের ভাষা হলো ’আরবী এবং তৃতীয়ত জান্নাতবাসীদের কথাবর্তার মধ্যস্থতা হবে ’আরবী। (বায়হাক্বী তাঁর শুআবূল ঈমান গ্রন্থে)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: موضوع




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ موضوع، رواہ البیھقي في شعب الإیمان (1610، 1433، نسخۃ، محققۃ: 1364، 1496) [والحاکم (4/ 87) والعقیلي فی الضعفاء الکبیر (3/ 348)] ٭، فیہ العلاء بن عمرو الحنفی: کذاب، و علل أخری .









মিশকাতুল মাসাবিহ (6007)


عَن أبي سعيدٍ الْخُدْرِيّ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي فَلَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نصيفه» . مُتَّفق عَلَيْهِ




৬০০৭- আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন: তোমরা আমার সাহাবীগণকে গালমন্দ করো না। কেননা তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও আল্লাহর পথে খরচ করে, তবুও তাঁদের মর্যাদার এক মুদ কিংবা অর্ধ মুদ (যব গম খরচ)-এর সমান সাওয়াব পৌছতে পারবে না। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3673) و مسلم (222/ 2541)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6008)


وَعَن أبي بردة عَن أَبيه قَالَ: رَفَعَيَعْنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلمرَأسه إِلَى السَّمَاء وَكَانَ كثيرا مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ. فَقَالَ: «النُّجُومُ أَمَنَةٌ لِلسَّمَاءِ فَإِذَا ذَهَبَتِ النُّجُومَ أَتَى السَّمَاءَ مَا توعَدُ وَأَنا أَمَنةٌ لِأَصْحَابِي فَإِذَا ذَهَبْتُ أَنَا أَتَى أَصْحَابِي مَا يُوعَدُونَ وَأَصْحَابِي أَمَنَةٌ لِأُمَّتِي فَإِذَا ذَهَبَ أَصْحَابِي أَتَى أُمتي مَا يُوعَدُون» . رَوَاهُ مُسلم




৬০০৮-[২] আবূ বুরদাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) , আকাশের দিকে মাথা তুলে তাকালেন। বস্তুত তিনি (সা.) প্রায় আসমানের দিকে মাথা তুলে দেখতেন। অতঃপর বললেন, তারকারাজি আকাশের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ। যেদিন এ সমস্ত গ্রহগুলো চলে যাবে, সেদিন আকাশের তাই ঘটবে, যার প্রতিশ্রুতি পূর্বেই দেয়া হয়েছে (অর্থাৎ ধ্বংস হয়ে যাবে)। আর আমি হলাম আমার সাহাবীদের ওপর নিরাপত্তাস্বরূপ। অতএব আমি যখন চলে যাব, তখন আমার সাহাবীদের মধ্যে তাই সংঘটিত হবে, যার প্রতিশ্রুতি আগেই দেয়া হয়েছে। আর আমার সাহাবীগণ হলেন আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ। যখন আমার সাহাবীগণ চলে যাবেন, তখন আমার উম্মতের ওপর তাই নেমে আসবে, আগেই যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে (শারী’আহ্ পরিপন্থী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাবে)। (মুসলিম)।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (207/ 2531)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6009)


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ فَيَغْزُو فِئَامٌ مِنَ النَّاسِ فَيَقُولُونَ: هَلْ فِيكُمْ مَنْ صَاحَبَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَيَقُولُونَ: نَعَمْ. فَيُفْتَحُ لَهُمْ ثُمَّ يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ فَيَغْزُو فِئَامٌ مِنَ النَّاسِ فَيُقَالُ: هَلْ فِيكُمْ مَنْ صَاحَبَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ. فَيُفْتَحُ لَهُمْ ثُمَّ يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ فَيَغْزُو فِئَامٌ مِنَ النَّاسِ فَيُقَالُ: هَلْ فِيكُمْ مَنْ صَاحَبَ مَنْ صَاحَبَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ. فَيُفْتَحُ لَهُمْ ". مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ قَالَ: " يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يُبْعَثُ مِنْهُمُ الْبَعْثُ فَيَقُولُونَ: انْظُرُوا هَلْ تَجِدُونَ فِيكُمْ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيُوجَدُ الرَّجُلُ فَيُفْتَحُ لَهُمْ بِهِ ثُمَّ يُبْعَثُ الْبَعْثُ الثَّانِي فَيَقُولُونَ: هَلْ فِيهِمْ مَنْ رَأَى أَصْحَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيُفْتَحُ لَهُمْ بِهِ ثُمَّ يُبْعَثُ الْبَعْثُ الثَّالِثُ فَيُقَالُ: انْظُرُوا هَلْ تَرَوْنَ فِيهِمْ مَنْ رَأَى مَنْ رَأَى أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ ثُمَّ يَكُونُ الْبَعْثُ الرَّابِعُ فَيُقَالُ: انْظُرُوا هَلْ تَرَوْنَ فِيهِمْ أَحَدًا رَأَى مَنْ رَأَى أَحَدًا رَأَى أَصْحَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيُوجَدُ الرَّجُلُ فَيُفْتَحُ لَهُم بِهِ "




৬০০৯-[৩] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে, যে বহুসংখ্যক লোকে জিহাদের যোগদান করবে। তখন তারা একে অপরকে প্রশ্ন করবে, তোমাদের মাঝে কি এমন কোন লোক আছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহচর্য অর্জন করেছেন? তারা বলবে, হ্যাঁ, আছেন। তখন তাদেরকে বিজয় দান করা হবে। অতঃপর লোকেদের ওপর এমন এক সময় আসবে যে, তাদের বহুসংখ্যক লোক জিহাদে যোগদান করবে। তখন তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে, তোমাদের মাঝে কি এমন কোন লোক রয়েছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীদের সাহচর্য লাভ করেছেন? তারা বলবে, হ্যাঁ, রয়েছেন। তখন তাদেরকে বিজয় দান করা হবে। তারপর লোকেদের ওপর এমন এক যামানা আসবে যে, তাদের বহুসংখ্যক লোক জিহাদে যোগদান করবে। তখন তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে, তোমাদের মাঝে কি এমন কোন ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীদের সাহচর্য লাভকারীদের (তাবিঈদের) সাহচর্য লাভ করেছেন? তারা বলবে, হ্যাঁ, রয়েছেন। তখন তাদের (উক্ত তাবি তাবি’ঈদের বরকতে) জয়যুক্ত করা হবে। (বুখারী ও মুসলিম)
মুসলিম-এর অপর এক রিওয়ায়াতে আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মানুষের উপর এমন এক সময় আসবে, তাদের মধ্য হতে একটি সেনাদলকে অভিযানে পাঠানো হবে, তখন মুজাহিদগণ বলবে, তালাশ করে দেখ তো তোমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীদের কাউকেও পাও নাকি? তখন এক ব্যক্তিকে পাওয়া যাবে। অতএব তাদেরকে জয়যুক্ত করা হবে। পরবর্তী যুগে দ্বিতীয় আরেকটি সেনাদল পাঠানো হবে। তখন তারা পরস্পর বলবে, তাদের মাঝে এমন কোন লোক আছেন কি, যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীদেরকে দেখেছেন? তখন তাদেরকেও বিজয় দান করা হবে। এর পরবর্তী সময়ে তৃতীয় সেনাদল প্রেরণ করা হবে। তখন বলা হবে, খোঁজ করে দেখ তো তাদের মাঝে এমন কোন লোক আছেন কি, যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীকে দেখেছেন, বা তাকে দেখেছেন? তারপর চতুর্থ সেনাদলকে পাঠানো হবে, তখন বলা হবে, অনুসন্ধান করে দেখ! তাদের মাঝে এমন কোন লোক আছেন কি যিনি এমন কোন লোককে দেখেছেন যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীকে দর্শনকারী কোন লোককে দেখেছেন। তখন এক ব্যক্তিকে সন্ধান করে পাওয়া যাবে। অতএব তাদেরকেও তার কারণে জয়যুক্ত করা হবে।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3649) و مسلم (208/ 2532 و الروایۃ، الثانیۃ 209/ 2532)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6010)


وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَيْرُ أُمَّتِي قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ إِنَّ بَعْدَهُمْ قَوْمًا يَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ وَيَخُونُونَ وَلَا يُؤْتَمَنُونَ وَيَنْذُرُونَ وَلَا يفون وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السِّمَنُ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «وَيَحْلِفُونَ وَلَا يستحلفون» . مُتَّفق عَلَيْهِ




৬০১০-[৪] "ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম লোক হলো আমার যুগের লোক (সাহাবীদের যুগ)। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগের লোক, অতঃপর তৎপরবর্তী যুগের লোক, অতঃপর তৎপরবর্তী যুগের লোক, তাদের পর এমন কিছু লোকের আগমন ঘটবে, যারা সাক্ষ্য দিবে অথচ তাদের কাছ হতে সাক্ষ্য চাওয়া হবে না। তারা খিয়ানত করবে, তাদের আমানাতদারীর উপর বিশ্বাস করা যাবে না। তারা মানৎ করবে; কিন্তু তা পূর্ণ করবে না, তাদের মধ্যে স্থূলতা প্রকাশ পাবে। অপর এক বর্ণনাতে আছে, তারা (নিষ্প্রয়োজনে) শপথ করবে, অথচ তাদের কাছ হতে শপথ চাওয়া হবে না। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3650) و مسلم (214 / 2535 و الروایۃ، الثانیۃ 215/ 2535)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6011)


وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: «ثُمَّ يخلف قوم يحبونَ السمانة»




৬০১১-[৫] আর মুসলিম-এর এক বর্ণনাতে আবূ হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, অতঃপর এমন লোক তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে, যারা স্কুলদেহী হওয়া পছন্দ করবে।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (213/ 2534)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6012)


عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَكْرِمُوا أَصْحَابِي فَإِنَّهُمْ خِيَارُكُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ يَظْهَرُ الْكَذِبُ حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ لَيَحْلِفُ وَلَا يُسْتَحْلَفُ وَيَشْهَدُ وَلَا يُسْتَشْهَدُ أَلَا مَنْ سَرَّهُ بُحْبُوحَةُ الْجَنَّةِ فَلْيَلْزَمِ الْجَمَاعَةَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ ثَالِثُهُمْ وَمَنْ سَرَّتْهُ حَسَنَتُهُ وَسَاءَتْهُ سيئته فَهُوَ مُؤمن»




৬০১২-[৬] ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার সাহাবীদেরকে সম্মান কর। কেননা তারা তোমাদের মাঝে সর্বোত্তম লোক। অতঃপর তৎপরবর্তী লোকেদেরকে, অতঃপর তৎপরবর্তী লোকেদেরকে, এরপর প্রকাশ্যে মিথ্যা চলতে থাকবে। এমনকি কোন লোক কসম করবে, অথচ তার নিকট হতে কসম চাওয়া হবে না। সে সাক্ষ্য দিবে, অথচ তার কাছ হতে সাক্ষ্য চাওয়া হবে না। সাবধান! যে ব্যক্তি জান্নাতের মধ্যস্থলের আকাঙ্ক্ষী, সে যেন জামা’আতকে ধরে রাখে। (অর্থাৎ সাহাবী, তাবিঈ, তাবি তাবিঈন ও সালাফে সালিহীনদের অনুসরণ করে চলে) কেননা শয়তান একক লোকের সাথে থাকে। আর সে দুজনের জামা’আত হতে বেশি দূরে থাকে। তোমাদের কেউ যেন কোন বেগানা নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান না করে। কেননা শয়তান তৃতীয় লোক হিসেবে তাদের সাথে উপস্থিত থাকে। আর যার ভালো কাজে মনের মধ্যে আনন্দ জাগে এবং বদকাজ তাকে চিন্তিত করে ফেলে সে-ই প্রকৃত ঈমানদার।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * صحیح، رواہ [النسائي فی الکبری (5/ 387۔ 388 ح 9222۔ 9224) و عبد، بن حمید (23) و لہ طریق آخر عند الحمیدي (32)]









মিশকাতুল মাসাবিহ (6013)


وَعَنْ جَابِرٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تَمَسُّ النَّارُ مُسْلِمًا رَآنِي أَو رأى من رَآنِي» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ




৬০১৩-[৭] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: এমন কোন মুসলিমকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না, যে আমাকে দেখেছে বা আমাকে যে দেখেছে- তাকে দেখেছে। (তিরমিযী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3858)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6014)


وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُ اللَّهَ فِي أَصْحَابِي لَا تَتَّخِذُوهُمْ غَرَضًا مِنْ بَعْدِي فَمَنْ أَحَبَّهُمْ فَبِحُبِّي أَحَبَّهُمْ وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ فَبِبُغْضِي أَبْغَضَهُمْ وَمَنْ آذَاهُمْ فَقَدْ آذَانِي وَمَنْ آذَانِي فَقَدْ آذَى اللَّهَ وَمَنْ آذَى اللَّهَ فَيُوشِكُ أَنْ يَأْخُذَهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيث غَرِيب




৬০১৪-[৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহকে ভয় কর আমার সাহাবীদের ব্যাপারে। আমার (ওফাতের পরে তাদেরকে সমালোচনার পাত্র বানিও না। যে লোক তাদেরকে ভালোবাসে, সে আমার মুহাব্বাতেই তাদেরকে মুহাব্বাত করল। পক্ষান্তরে যে লোক তাদের প্রতি ঘৃণা ও শত্রুতা রাখে, সে আমার প্রতি ঘৃণা ও শত্রুতা রাখল। আর যে লোক তাদেরকে দুঃখ বা কষ্ট দিল, সে মূলত আমাকেই কষ্ট দিল। অতএব যে আল্লাহ তা’আলাকে কষ্ট দিল, আল্লাহ তা’আলা তাকে শীঘ্রই পাকড়াও করবেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3862) ٭ عبد الرحمٰن بن زیاد اختلفوا، في اسمہ و لم یوثقہ غیر ابن حبان وھو مجھول الحال و لم یثبت عن الترمذي بأنہ قال، في حدیثہ: حسن: و قال البخاري: فیہ نظر (التاریخ الکبیر 5/ 131 ت 389)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6015)


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَثَلُ أَصْحَابِي فِي أُمَّتِي كَالْمِلْحِ فِي الطَّعَامِ لَا يَصْلُحُ الطَّعَامُ إِلَّا بِالْمِلْحِ» قَالَ الْحَسَنُ: فَقَدْ ذَهَبَ مِلْحُنَا فَكَيْفَ نصلح؟ رَوَاهُ فِي «شرح السّنة»




৬০১৫-[৯] আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্যে আমার সাহাবীগণ হলেন খাদ্যের মাঝে লবণের মতো। মূলত লবণ ছাড়া খাদ্য সুস্বাদু হয় না। হাসান বাসরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, আমাদের লবণ চলে গেছে, অতএব আমরা কেমন করে সংশোধিত হব। (শারহুস সুন্নাহ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ البغوي في شرح السنۃ (14/ 72۔ 73 ح 3863) ٭، فیہ إسماعیل بن مسلم المکي وھو ضعیف و فی السند علۃ أخری .









মিশকাতুল মাসাবিহ (6016)


وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ أَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِي يَمُوتُ بِأَرْضٍ إِلَّا بُعِثَ قَائِدًا وَنُورًا لَهُمْ يَوْمِ الْقِيَامَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَذُكِرَ حَدِيثَ ابْنِ مَسْعُودٍ «لَا يُبَلِّغُنِي أَحَدٌ» فِي بَاب «حفظ اللِّسَان»




৬০১৬-[১০] ’আবদুল্লাহ ইবনু বুরয়দাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ভূমিতে আমার কোন একজন সাহাবী মৃত্যুবরণ করবেন, কিয়ামতের দিন তাঁকে এভাবে উঠানো হবে যে, তিনি সে জমিনের অধিবাসীগণকে জান্নাতের দিকে টেনে নিয়ে যাবেন এবং তিনি হবেন তাদের জন্য জ্যোতি।
[ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব। আর ইবনু মাস’উদ-এর হাদীস (لَا يُبَلِّغُنِي أَحَدٌ) "আমাকে কেউ সংবাদ দেয়নি" বাক্যটি ’হিফযুল লিসান "জিহ্বার হিফাযাত" অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3865) ٭ فیہ عثمان بن ناجیۃ: مستور .، حدیث ابن مسعود تقدم (4852)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6017)


عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: " إِذا رَأَيْتُمْ الَّذِينَ يَسُبُّونَ أَصْحَابِي فَقُولُوا: لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى شركم ". رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ




৬০১৭-[১১] ইবনু ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যখন তোমরা ঐ সমস্ত লোকদেরকে দেখবে, যারা আমার সাহাবীদেরকে গালি দেয়, তখন তোমরা বলবে, তোমাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত তোমাদের এ মন্দ আচরণের জন্য। (তিরমিযী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: لم تتم دراسته




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3866) ٭ نصر بن حماد: ضعیف و سیف بن، عمر: ضعیف فی الحدیث و ضعیف فی التاریخ علی الراجح .









মিশকাতুল মাসাবিহ (6018)


وَعَن عمر بن الْخطاب قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " سَأَلْتُ رَبِّي عَنِ اخْتِلَافِ أَصْحَابِي مِنْ بَعْدِي فَأَوْحَى إِلَيَّ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّ أَصْحَابَكَ عِنْدِي بِمَنْزِلَةِ النُّجُومِ فِي السَّمَاءِ بَعْضُهَا أَقْوَى مِنْ بَعْضٍ وَلِكُلٍّ نُورٌ فَمَنْ أَخَذَ بِشَيْءٍ مِمَّا هُمْ عَلَيْهِ مِنِ اخْتِلَافِهِمْ فَهُوَ عِنْدِي عَلَى هُدًى " قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ فَبِأَيِّهِمُ اقْتَدَيْتُمْ اهْتَدَيْتُمْ» . رَوَاهُ رزين




৬০১৮-[১২] ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, তিনি (সা.) বলেছেন: আমি আমার প্রভুকে আমার মৃত্যুর পর আমার সাহাবীদের মধ্যে মতবিরোধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি ওয়াহীর মাধ্যমে আমাকে জানিয়ে দিলেন, হে মুহাম্মাদ! আমার নিকট তোমার সাহাবীদের মর্যাদা হলো আকাশের তারকারাজির ন্যায়। যার একটি আরেকটি থেকে অধিক উজ্জ্বল। অথচ প্রত্যেকটির মধ্যে আলো রয়েছে। এরূপই আমার সাহাবীগণ। অতএব তাদের (সাহাবীদের) মতভেদ হতে যে কোন লোক কোন একটি অভিমত গ্রহণ করবে, সে আমার সঠিক পথের উপর প্রতিষ্ঠিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, আমার সাহাবীগণ হলেন তারকারাজির মতো। অতএব তোমরা তাদের যে কাউকে অনুসরণ করবে হিদায়াত পাবে। (রযীন)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: باطل




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * ضعیف جدًا، رواہ رزین (لم أجدہ) [و الخطیب فی الفقیہ و المتفقہ، (1/ 177) و فیہ نعیم بن حماد صدوق حسن الحدیث و لکن عبد الرحیم بن زید العمي، کذاب و أبوہ ضعیف، و للحدیث شواھد باطلۃ و مردودۃ]









মিশকাতুল মাসাবিহ (6019)


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ مِنْ أَمَنِّ النَّاسِ عَلَيَّ فِي صُحْبَتِهِ وَمَالِهِ أَبُو بَكْرٍوَعِنْدَ الْبُخَارِيِّ أَبَا بَكْرٍوَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا وَلَكِنْ أُخُوَّةُ الْإِسْلَامِ وَمَوَدَّتُهُ لَا تُبْقَيَنَّ فِي الْمَسْجِدِ خَوْخَةٌ إِلَّا خَوْخَةَ أَبِي بَكْرٍ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا غَيْرَ رَبِّي لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ




৬০১৯- আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: লোকেদের মধ্যে নিজস্ব সম্পদ ও সাহচর্য দ্বারা আমার প্রতি সর্বাধিক ইহসান করেছেন আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আর বুখারীতে (أَبُو بَكْرٍ) -এর স্থলে (أَبَا بَكْ) রয়েছে। যদি আমি কাউকে বিশেষ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তাহলে আবূ বকর-কেই বিশেষ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, কিন্তু তাঁর সাথে ইসলামী ভ্রাতত্ব ও (দীনী) মুহাব্বাত রয়েছে। (অতঃপর তিনি ঘোষণা দিলেন,) মসজিদে আবূ বকর-এর দরজা ব্যতীত আর কোন দরজা যেন অবশিষ্ট না থাকে। অপর এক রিওয়ায়াতে আছে- [নবী (সা.) বলেছেন] যদি আমি আমার রব্ ব্যতীত আর কাউকে বিশেষ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম তাহলে আবূ বকর-কেই আমি বিশেষ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3904 و الروایۃ الثانیۃ: 3654) و مسلم، (2/ 2382)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6020)


وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا وَلَكِنَّهُ أَخِي وَصَاحِبِي وَقَدِ اتَّخَذَ اللَّهُ صَاحِبَكُمْ خَلِيلًا» . رَوَاهُ مُسلم




৬০২০-[২] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: যদি আমি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম, তাহলে আবূ বকর-কেই অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। তবে তিনি আমার (দীনী) ভাই ও সাথি। অবশ্য আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সাথিকে খলীফারূপে গ্রহণ করেছেন। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (3/ 2383)