হাদীস বিএন


মিশকাতুল মাসাবিহ





মিশকাতুল মাসাবিহ (6121)


وَعَنِ الزُّبَيْرِ قَالَ: كَانَ عَلَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ أُحُدٍ دِرْعَانِ فَنَهَضَ إِلَى الصَّخْرَةِ فَلَمْ يَسْتَطِعْ فَقَعَدَ طَلْحَةُ تَحْتَهُ حَتَّى اسْتَوَى عَلَى الصَّخْرَةِ فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «أَوْجَبَ طَلْحَةُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ




৬১২১-[১৪] যুবায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন নবী (সা.) -এর দেহে দুটি লৌহবর্ম ছিল। তিনি একটি পাথরের উপর উঠতে চাইলেন, কিন্তু (বর্মের ভারী ওযনের দরুন) উঠতে পারছিলেন না। তখন ত্বলহাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূল (সা.)-এর নিচে বসে গেলেন। এমনকি নবী (সা.) তার উপরে ভর দিয়ে পাথরটির উপরে উঠলেন। (বর্ণনাকারী বলেন,) তখন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, ত্বলহাহ্ নিজের জন্য (জান্নাত) আবশ্যক করে নিয়েছে। (তিরমিযী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * حسن، رواہ الترمذي (3738 وقال: حسن صحیح غریب)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6122)


وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: نَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ: «مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ يَمْشِي عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ وَقَدْ قَضَى نَحْبَهُ فَلْيَنْظُرْ إِلَى هَذَا» . وَفِي رِوَايَةٍ: «مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى شَهِيدٍ يَمْشِي عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ الله» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ




৬১২২-[১৫] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) ত্বলহাহ্ ইবনু ’উবায়দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, যদি কেউ এমন কোন লোককে জমিনের উপর চলাফেরা করতে দেখতে চায়, যে তার মৃত্যু-প্রতিজ্ঞাপূর্ণ করেছে, সে যেন এই লোকটির দিকে চেয়ে দেখে।
অপর এক বর্ণনায় আছে, যদি কেউ এমন শহীদকে দেখতে চায়, যে জমিনের উপর বিচরণ করেছে, সে যেন ত্বলহাহ্ ইবনু উবায়দুল্লাহ-কে দেখে নেয়। (তিরমিযী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * ضعیف، رواہ الترمذي (3739 وقال: غریب) [و ابن ماجہ (125)] ٭، الصلت بن دینار: متروک و للحدیث شواھد ضعیفۃ و لم أجد لہ طریقًا صحیحًا ولا، حسنًا .









মিশকাতুল মাসাবিহ (6123)


وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ أُذُنِي مِنْ فِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «طَلْحَةُ وَالزُّبَيْرُ جَارَايَ فِي الْجَنَّةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ




৬১২৩-[১৬] ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার দু’কান রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর জবান হতে বলতে শুনেছে, ত্বলহাহ্ ও যুবায়র (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তারা দু’জন জান্নাতে আমার প্রতিবেশী।
[ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব।]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3741) ٭ فیہ عقبۃ بن علقمۃ و عبد، الرحمٰن بن منصور العنزي: ضعیفان .









মিশকাতুল মাসাবিহ (6124)


وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَوْمَئِذٍ يَعْنِي يَوْمَ أُحُدٍ: «اللَّهُمَّ اشْدُدْ رَمْيَتَهُ وَأَجِبْ دعوتَه» . رَوَاهُ فِي «شرح السّنة»




৬১২৪-[১৭] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) সেদিন অর্থাৎ উহুদ যুদ্ধের দিন বললেন, হে আল্লাহ! তার তীর নিক্ষেপ সঠিক ও দৃঢ় কর এবং তার দু’আ গ্রহণ কর। (শারহুস্ সুন্নাহ্)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ البغوي في شرح السنۃ (14/ 124۔ 125 ح 3922) [و، الحاکم (3/ 499۔ 500) و ابن حبان (2215)] ٭ فیہ إبراہیم بن یحیی الشجري و أبوہ، ضعیفان و إسماعیل بن أبي خالد مدلس و عنعن إن صح السند إلیہ .









মিশকাতুল মাসাবিহ (6125)


وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «اللَّهُمَّ اسْتَجِبْ لِسَعْدٍ إِذَا دَعَاكَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ




৬১২৫-[১৮] উক্ত রাবী [সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! তুমি সা’দ-এর দু’আ গ্রহণ কর যখনই সে দু’আ করে। (তিরমিযী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ الترمذي (3751) ٭ إسماعیل بن أبي خالد مدلس و، عنعن و للحدیث شواھد .









মিশকাতুল মাসাবিহ (6126)


وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: مَا جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَاهُ وَأُمَّهُ إِلَّا لِسَعْدٍ قَالَ لَهُ يَوْمَ أُحُدٍ: «ارْمِ فَدَاكَ أَبِي وَأُمِّي» وَقَالَ لَهُ: «ارْمِ أَيهَا الْغُلَام الحزور» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ




৬১২৬-[১৯] ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর মা-বাপকে একত্রে উৎসর্গ হওয়ার কথা সা’দ ছাড়া আর কারো জন্য উচ্চারণ করেননি। তিনি উহুদের দিন তাকে কেন্দ্র করে বললেন, তীর নিক্ষেপ কর হে বাহাদুর যুবক! আমার পিতা ও আমার মাতা তোমার জন্য কুরবান হোন। (তিরমিযী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3753، 2829 وقال: حسن صحیح) ٭ فیہ، سفیان بن عیینۃ وھو مدلس عنعن و کان یدلس عن الثقات و الضعفاء و المدلسین کما، حققتہ في تخریج الفتن و الملاحم، و قولہ: ’’ارم ایھا الغلام الحزور‘‘ سندہ ضعیف، و باقي الحدیث صحیح بالشواھد .









মিশকাতুল মাসাবিহ (6127)


وَعَن جَابر قَالَ: أَقْبَلَ سَعْدٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذَا خَالِي فَلْيُرِنِي امْرُؤٌ خَالَهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: كَانَ سَعْدٌ مِنْ بَنِي زهرَة وَكَانَتْ أُمُّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ بَنِي زُهْرَةَ فَلِذَلِكَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذَا خَالِي» . وَفِي «الْمَصَابِيحِ» : «فلْيُكرمَنَّ» بدل «فَلْيُرني»




৬১২৭-[২০] জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সা.) -এর সম্মুখে উপস্থিত হলেন। তখন নবী (সা.) বললেন, ইনি হলেন আমার মামা, অতএব কারো যদি এমন মামা থেকে থাকেন, তবে সে আমাকে দেখাক। (তিরমিযী)
ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ছিলেন যুহরাহ্ বংশের লোক আর নবী (সা.) -এর মাতাও ছিলেন সে বানী যুহরাহ্-এর কন্যা। এ হিসেবে নবী (সা.) (সা’দকে) বলেছেন, "ইনি আমার মামা। মাসাবীহ-এর গ্রন্থকার (فَلْيُرني) ’তবে সে আমাকে দেখবে’-এর পরিবর্তে (فلْيُكرمَنَّ) অর্থাৎ ’অবশ্যই তার সম্মান করা উচিত’ শব্দ বর্ণনা করেছেন।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * سندہ ضعیف، رواہ الترمذي (3752 وقال: حسن) ٭ مجالد ضعیف و للحدیث، شواھد ضعیفۃ عند الحاکم (3/ 491) وغیرہ .









মিশকাতুল মাসাবিহ (6128)


عَن قيس بن حَازِمٍ قَالَ: سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ يَقُولُ: إِنِّي لَأَوَّلُ رَجُلٍ مِنَ الْعَرَبِ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَرَأَيْتُنَا نَغْزُو مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا لَنَا طَعَامٌ إِلَّا الْحُبْلَةَ وَوَرَقَ السَّمُرِ وَإِنْ كَانَ أَحَدنَا ليضع كَمَا تضع الشَّاة مَاله خِلْطٌ ثُمَّ أَصْبَحَتْ بَنُو أَسَدٍ تُعَزِّرُنِي عَلَى الْإِسْلَامِ لَقَدْ خِبْتُ إِذًا وَضَلَّ عَمَلِي وَكَانُوا وَشَوْا بِهِ إِلَى عُمَرَ وَقَالُوا: لَا يُحْسِنُ يُصَلِّي. مُتَّفق عَلَيْهِ




৬১২৮-[২১] কায়স ইবনু আবূ হাযিম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি, ’আরবদের মাঝে আমিই সর্বপ্রথম লোক, যে আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেছে। আর আমরা নিজেদেরকে এ অবস্থায় দেখেছি যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে জিহাদে বের হয়েছি এবং আমাদের কাছে কোন খাদ্যদ্রব্য ছিল না, শুধু গাছের গোটা এবং বাবলার পাতা ছাড়া। যার ফলে আমাদের প্রতিটি লোক বকরির মলের মতো বড়ি বড়ি আকারে মল ত্যাগ করত। অতঃপর (পরবর্তীকালে) বানী আসাদ গোত্র আমাকে ইসলাম (সালাত) সম্পর্কে তিরস্কার করছে, এমতাবস্থায় তো আমি খুবই হতভাগা হব এবং আমার সকল ’আমল অহেতুক সাব্যস্ত হবে। আর (সা’দ এজন্য এ কথা বললেন যে,) বানূ আসাদ ’উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কাছে তাঁর সম্পর্কে কটাক্ষ করেছিল এবং তারা অভিযোগে করেছিল যে, তিনি সঠিকভাবে সালাত আদায় করতে জানেন না। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3728) و مسلم (12/ 2966)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6129)


وَعَنْ سَعْدٍ قَالَ: رَأَيْتُنِي وَأَنَا ثَالِثُ الْإِسْلَامِ وَمَا أَسْلَمَ أَحَدٌ إِلَّا فِي الْيَوْمِ الَّذِي أَسْلَمْتُ فِيهِ وَلَقَدْ مَكَثْتُ سَبْعَةَ أَيَّامٍ وَإِنِّي لثالث الْإِسْلَام. رَوَاهُ البُخَارِيّ




৬১২৯-[২২] সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমাকে এ অবস্থায় দেখতে পেয়েছি যে, আমি ছিলাম ইসলামের তৃতীয় লোক। তিনি আরো বলেন, আমি যে সময় ইসলাম গ্রহণ করেছি, তখন আর কেউই ইসলাম গ্রহণ করেনি এবং [পর] সাত দিন অবধি আমি ইসলামের এক-ততীয়াংশ হিসেবে ছিলাম। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (3727)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6130)


وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ لِنِسَائِهِ: «إِنَّ أَمْرَكُنَّ مِمَّا يَهُمُّنِي مِنْ بَعْدِي وَلَنْ يَصْبِرَ عَلَيْكُنَّ إِلَّا الصَّابِرُونَ الصِّدِّيقُونَ» قَالَتْ عَائِشَةُ: يَعْنِي الْمُتَصَدِّقِينَ ثُمَّ قَالَتْ عَائِشَةُ لِأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ سَقَى اللَّهُ أَبَاكَ مِنْ سَلْسَبِيلِ الْجَنَّةِ وَكَانَ ابنُ عوفٍ قَدْ تَصَدَّقَ عَلَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ بِحَدِيقَةٍ بِيعَتْ بِأَرْبَعِينَ ألفا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ




৬১৩০-[২৩] ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্ত্রীগণকে বলতেন, আমার পর তোমাদের অবস্থা কি হবে, তা আমাকে চিন্তিত রাখে। আর একমাত্র সাবির ও সিদ্দীকগণই তোমাদের ব্যাপারে সবরের পরিচয় দেবে। আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যারা দান-সদাক্বাহ করেন। অতঃপর ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রহমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললেন, আল্লাহ তা’আলা তোমার আব্বাকে জান্নাতের ’সালসাবীল’ নহর হতে তুষ্ট করুন। এই ’আবদুর রহমান ইবনু আওফ উম্মহাতুল মু’মিনীনের জন্য একটি বাগান দিয়েছিলেন, যা চল্লিশ হাজারে (দীনারে) বিক্রয় হয়েছে। (তিরমিযী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ حسن، رواہ الترمذي (3749 وقال: حسن صحیح غریب)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6131)


وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لِأَزْوَاجِهِ: «إِنَّ الَّذِي يَحْثُو عَلَيْكُنَّ بَعْدِي هُوَ الصَّادِقُ الْبَارُّ اللَّهُمَّ اسْقِ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ مِنْ سلسبيلِ الجنةِ» . رَوَاهُ أَحْمد




৬১৩১-[২৪] উম্মু সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে তাঁর বিবিদের লক্ষ্য করে বলতে শুনেছি, আমার (ওফাতের) পর যে লোক তোমাদেরকে অঞ্জলি ভরে দান করবে, সে সাচ্চা (ঈমানদার) এবং সৎ। হে আল্লাহ! তুমি আবদুর রহমান ইবনু আওফ-কে জান্নাতের সালসাবীল হতে পান করাও। (আহমাদ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ أحمد (6/ 299 ح 27094) [والحاکم (3/ 311)] ٭، محمد بن إسحاق مدلس و عنعن و محمد بن عبد الرحمٰں بن عبد اللہ بن الحصین و ثقہ، ابن حبان وحدہ .









মিশকাতুল মাসাবিহ (6132)


وَعَن حُذَيْفَة قَالَ: جَاءَ أَهْلُ نَجْرَانَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ ابْعَثْ إِلَيْنَا رَجُلًا أَمِينًا. فَقَالَ: «لَأَبْعَثَنَّ إِلَيْكُمْ رَجُلًا أَمِينًا حَقَّ أَمِينٍ» فَاسْتَشْرَفَ لَهَا الناسُ قَالَ: فَبعث أَبَا عبيدةَ بن الْجراح. مُتَّفق عَلَيْهِ




৬১৩২-[২৫] হুযায়ফাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নাজরানবাসীগণ রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য একজন আমানতদার (বিশ্বস্ত) শাসক পাঠান। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদের জন্য একজন অতি বিশ্বস্ত আমানতদার ব্যক্তিকে পাঠাব। অতঃপর সাহাবীগণ এই মর্যাদা লাভের প্রতীক্ষা করতে লাগলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) আবূ উবায়দা ইবনুল জাররাহ-কে পাঠালেন। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3745) و مسلم (55/ 2420)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6133)


وَعَن عَليّ قَالَ: قيل لرَسُول اللَّهِ: مَنْ نُؤَمِّرُ بَعْدَكَ؟ قَالَ: «إِنْ تُؤَمِّرُوا أَبَا بَكْرٍ تَجِدُوهُ أَمِينًا زَاهِدًا فِي الدُّنْيَا رَاغِبًا فِي الْآخِرَةِ وَإِنْ تُؤَمِّرُوا عُمَرَ تَجِدُوهُ قَوِيًّا أَمِينًا لَا يَخَافُ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لَائِمٍ وَإِنْ تُؤَمِّرُوا عَلِيًّاوَلَا أَرَاكُمْ فَاعِلِينَتَجِدُوهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا يَأْخُذُ بِكُمُ الطَّرِيقَ الْمُسْتَقِيمَ» . رَوَاهُ أَحْمد




৬১৩৩-[২৬] ’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার পর কাকে আমাদের আমির নিযুক্ত করব? উত্তরে তিনি (সা.) বলেন, যদি তোমরা আবূ বকর-কে নিজেদের আমীর নিযুক্ত কর, তখন তাকে পাবে অতি বিশ্বস্ত, আমানতদার, দুনিয়াত্যাগী, পরকালমুখী। আর তোমরা যদি ’উমারকে নিজেদের আমীর নিযুক্ত কর, তখন তাকে পাবে শক্তিশালী, আমানতদার, আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে সে কারো তিরস্কারের প্রতি গুরুত্ব দিবে না। আর তোমরা যদি ’আলীকে নিজেদের আমির নিযুক্ত কর, তবে আমার ধারণা তোমরা এরূপ করবে না, তখন তোমরা তাকে সরল পথপ্রদর্শক এবং সঠিক পথের অনুসারী পাবে, আর তোমাদেরকেও সে সঠিক পথে পরিচালিত করবে। (আহমাদ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ أحمد (1/ 109 ح 859) ٭ فیہ أبو إسحاق السبیعي، مدلس و عنعن .









মিশকাতুল মাসাবিহ (6134)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَحِمَ اللَّهُ أَبَا بَكْرٍ زَوَّجَنِي ابْنَتَهُ وَحَمَلَنِي إِلَى دَارِ الْهِجْرَةِ وَصَحِبَنِي فِي الْغَارِ وَأَعْتَقَ بِلَالًا مِنْ مَالِهِ. رَحِمَ اللَّهُ عُمَرَ يَقُولُ الْحَقَّ وَإِنْ كَانَ مُرًّا تَرَكَهُ الْحَقُّ وَمَا لَهُ مِنْ صَدِيقٍ. رَحِمَ اللَّهُ عُثْمَانَ تَسْتَحْيِيهِ الْمَلَائِكَةُ رَحِمَ اللَّهُ عَلِيًّا اللَّهُمَّ أَدِرِ الْحَقَّ مَعَهُ حَيْثُ دَارَ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ




৬১৩৪-[২৭] উক্ত রাবী [’আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা আবূ বকর-এর প্রতি অনুগ্রহ করুন। তিনি স্বীয় কন্যাকে আমার কাছে বিবাহ দিয়েছেন, নিজের উটে আমাকে সওয়ার করিয়ে ’দারুল হিজরতে’ নিয়ে এসেছেন, সাওর গুহায় আমার সাথে ছিলেন এবং নিজের সম্পদ দ্বারা বিলাল-কে ক্রয় করে মুক্ত করেছেন। আল্লাহ তা’আলা ’উমার-এর প্রতি অনুগ্রহ করুন। তিনি সত্যবাদী ছিলেন, যদিও তা (কারো কাছে) তিক্ত হত। সত্যবাদিতা তাঁকে এমন পর্যায়ে পৌছিয়েছেন যে, তাঁর কোন বন্ধু নেই। আল্লাহ তা’আলা ’উসমান-এর প্রতি অনুগ্রহ করুন, ফেরেশতাও তাঁকে দেখে লজ্জা পায়। আল্লাহ তা’আলা ’আলী-এর প্রতি অনুগ্রহ করুন। হে আল্লাহ! হককে ’আলী-এর সাথে করে দাও, যেদিকে ’আলী থাকেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * إسنادہ ضعیف، رواہ الترمذي (3714) ٭ فیہ مختار بن نافع: ضعیف .









মিশকাতুল মাসাবিহ (6135)


عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: لَمَّا نزلت هَذِه الْآيَة [ندْعُ أبناءنا وأبناءكم] دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلِيًّا وَفَاطِمَةَ وَحَسَنًا وَحُسَيْنًا فَقَالَ: «اللَّهُمَّ هَؤُلَاءِ أهل بَيْتِي» رَوَاهُ مُسلم




৬১৩৫- সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন (ندْعُ أبناءنا وأبناءكم) "আসো আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রগণকে ও তোমাদের পুত্রগণকে"- (সূরাহ আ-লি ইমরান ৩: ৬১); আয়াত অবতীর্ণ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ’আলী, ফাতিমা ও হাসান এবং হুসায়ন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে আহ্বান করে বললেন, হে আল্লাহ! এরা সকলে আমার আহলে বায়ত। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (32/ 2404)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6136)


وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَدَاةً وَعَلَيْهِ مِرْطٌ مُرَحَّلٌ مِنْ شَعْرٍ أَسْوَدَ فَجَاءَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ فَأَدْخَلَهُ ثُمَّ جَاءَ الْحُسَيْنُ فَدَخَلَ مَعَهُ ثُمَّ جَاءَتْ فَاطِمَةُ فَأَدْخَلَهَا ثُمَّ جَاءَ عَلَيٌّ فَأَدْخَلَهُ ثُمَّ قَالَ: [إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أهل الْبَيْت وَيُطَهِّركُمْ تَطْهِيرا] رَوَاهُ مُسلم




৬১৩৬-[২] ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন সকালে নবী (সা.)- একখানা কালো রঙের পশমি নকশী কম্বল গায়ে দিয়ে বের হলেন। এমন সময় হাসান ইবনু ’আলী সেখানে আসলেন, তিনি (সা.) তাঁকে কম্বলের ভিতরে ঢুকিয়ে নিলেন। তারপর হুসায়ন আসলেন, তাঁকেও হাসান-এর সাথে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। তারপর ’আলী আসলেন, তাঁকেও তার ভিতরে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন- "হে আমার আহলে বায়ত! আল্লাহ তা’আলা তোমাদের গুনাহের অপবিত্রতা হতে সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চান"- (সূরা আল আহযাব ৩৩: ৩৩)। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (61/ 2424)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6137)


وَعَن الْبَراء قَالَ: لَمَّا تُوُفِّيَ إِبْرَاهِيمُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لَهُ مُرْضِعًا فِي الْجنَّة» رَوَاهُ البُخَارِيّ




৬১৩৭-[৩] বারা’ ইবনু ’আযিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ছেলে ইবরাহীম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন মৃত্যুবরণ করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, নিশ্চয় তার জন্য জান্নাতে একজন ধাত্রী রয়েছে। (বুখারী)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ البخاري (1382)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6138)


وَعَنْ عَائِشَةَ: قَالَتْ: كُنَّاأَزْوَاجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَعِنْدَهُ. فَأَقْبَلَتْ فَاطِمَةُ مَا تَخْفَى مِشْيَتُهَا مِنْ مِشْيَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا رَآهَا قَالَ: «مَرْحَبًا بِابْنَتِي» ثُمَّ أَجْلَسَهَا ثُمَّ سَارَّهَا فَبَكَتْ بُكَاءً شَدِيدًا فَلَمَّا رَأَى حُزْنَهَا سَارَّهَا الثَّانِيَةَ فَإِذَا هِيَ تَضْحَكُ فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلْتُهَا عَمَّا سَارَّكِ؟ قَالَتْ: مَا كُنْتُ لِأُفْشِيَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سِرَّهُ فَلَمَّا تُوُفِّيَ قُلْتُ: عَزَمْتُ عَلَيْكِ بِمَا لي عَلَيْك مِنَ الْحَقِّ لِمَا أَخْبَرْتِنِي. قَالَتْ: أَمَّا الْآنَ فَنَعَمْ أَمَّا حِينَ سَارَّ بِي فِي الْأَمْرِ الأوَّل فإِنه أَخْبرنِي: «إِنَّ جِبْرِيل كَانَ يُعَارضهُ بِالْقُرْآنِ كل سنة مرّة وَإنَّهُ قد عَارَضَنِي بِهِ الْعَامَ مَرَّتَيْنِ وَلَا أَرَى الْأَجَلَ إِلَّا قَدِ اقْتَرَبَ فَاتَّقِي اللَّهَ وَاصْبِرِي فَإِنِّي نعم السّلف أَنا لَك» فَلَمَّا رَأَى جَزَعِي سَارَّنِيَ الثَّانِيَةَ قَالَ: «يَا فَاطِمَةُ أَلَا تَرْضِينَ أَنْ تَكُونِي سَيِّدَةَ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَوْ نِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ؟» وَفِي رِوَايَةٍ: فَسَارَّنِي فَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ يُقْبَضُ فِي وَجَعِهِ فَبَكَيْتُ ثُمَّ سَارَّنِي فَأَخْبَرَنِي أَنِّي أَوَّلُ أَهْلِ بَيْتِهِ أتبعه فَضَحكت. مُتَّفق عَلَيْهِ




৬১৩৮-[৪] ’আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (সা.) -এর স্ত্রীগণ তাঁর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় ফাতিমা আসলেন। তাঁর চলার ভঙ্গি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চলার ভঙ্গির সাথে পরিষ্কার মিল ছিল। তিনি (সা.) তাঁকে দেখে বললেন, হে আমার কন্যা! তোমার আগমন মুবারক হোক। অতঃপর তিনি (সা.) তাঁকে নিজের কাছে বসালেন, তারপর চুপে চুপে তাকে কিছু বললেন। এতে ফাতিমাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ভীষণভাবে কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর যখন তার অস্থিরতা দেখলেন, তখন তিনি (সা.) আবার তার কানে চুপে চুপে কিছু বললেন, এবার তিনি হাসতে লাগলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন সেখান থেকে উঠে গেলেন, তখন আমি ফাতিমাকে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ (সা.) চুপে চুপে তোমার সাথে কি কথা বলেছেন? উত্তরে ফাতিমাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর গোপনীয়তা ফাস করতে চাই না। রাসূলুল্লাহ (সা.)- এর ওফাতের পর আমি ফাতিমাহ্-কে বললাম, তোমার ওপর আমার যে অধিকার রয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আমি তোমাকে কসম দিয়ে বলছি, সে রহস্য সম্পর্কে তুমি আমাকে অবশ্যই অবহিত করবে।
ফাতিমাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, এখন সে কথাটি প্রকাশ করতে কোন আপত্তি নেই। প্রথমবার যখন তিনি চুপি চুপি আমাকে কিছু কথা বললেন, তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন, জিবরীল (আঃ) প্রতি বছর (রমযানে) একবার পুরো কুরআন মাজীদকে আমার কাছ থেকে শুনতেন, আমাকে শুনাতেন, কিন্তু এ বছর তিনি তা দু’বার দাওর করেছেন। তাতে আমি ধারণা করি যে, আমার ওফাতের সময় নিকটবর্তী হয়ে গেছে। অতএব আল্লাহকে ভয় কর এবং ধৈর্যধারণ কর। আমি তোমার জন্য শ্রেয় অগ্রযাত্রী। এ কথা শুনে আমি কাঁদতে লাগলাম। অতঃপর যখন তিনি (সা.) আমাকে অস্থির দেখলেন তখন চুপে চুপে বললেন, হে ফাতিমাহ্! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি হবে জান্নাতের নারীকুলের নেতা অথবা মু’মিন নারীদের নেত্রী? অপর এক বর্ণনাতে আছে, তিনি (সা.) চুপে চুপে আমাকে এ খবরটি দিয়েছেন যে, এই অসুখেই তিনি মৃত্যুবরণ করবেন। তখন আমি কাঁদতে লাগলাম। তারপর (দ্বিতীয়বার) তিনি চুপে চুপে আমাকে এ সংবাদটি দিলেন যে, তাঁর পরিজনদের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম তাঁর পশ্চাদগামী হব, তখন আমি হেসে ফেললাম। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (6285۔ 2686 و الروایۃ الثانیۃ: 3626) و، مسلم (98/ 2450 و الروایۃ الثانیۃ: 2450/97)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6139)


وَعَن المِسور بْنِ مَخْرَمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «فَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّي فَمَنْ أَغْضَبَهَا أَغْضَبَنِي» وَفِي رِوَايَةٍ: «يُرِيبُنِي مَا أَرَابَهَا وَيُؤْذِينِي مَا آذاها» . مُتَّفق عَلَيْهِ




৬১৩৯-[৫] মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ফাতিমা আমার (দেহেরই) একটি টুকরা, যে তাকে ক্রোধান্বিত করবে, সে নিশ্চয় আমাকে ক্রোধান্বিত করবে।
অপর এক বর্ণনায় আছে, সে যা ঘৃণা করে আমি তা ঘৃণা করি এবং তাকে যা কষ্ট দেয়, আমাকেও তা কষ্ট দেয়। (বুখারী ও মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: متفق عليه




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * متفق علیہ، رواہ البخاري (3767 و الروایۃ الثانیۃ: 5230) و مسلم، (93/ 2449)









মিশকাতুল মাসাবিহ (6140)


وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ: قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فِينَا خَطِيبًا بِمَاءٍ يُدْعَى: خُمًّا بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَوَعَظَ وَذَكَّرَ ثُمَّ قَالَ: " أمَّا بعدُ أَلا أيُّها النَّاس فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ يُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَنِي رَسُولُ رَبِّي فَأُجِيبَ وَأَنَا تَارِكٌ فِيكُمُ الثَّقَلَيْنِ: أَوَّلُهُمَا كِتَابُ اللَّهِ فِيهِ الْهُدَى وَالنُّورُ فَخُذُوا بِكِتَابِ اللَّهِ وَاسْتَمْسِكُوا بِهِ " فَحَثَّ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ وَرَغَّبَ فِيهِ ثُمَّ قَالَ: «وَأَهْلُ بَيْتِي أُذَكِّرُكُمُ اللَّهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي أُذَكِّرُكُمُ اللَّهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي» وَفِي رِوَايَة: «كتاب الله عز وَجل هُوَ حَبْلُ اللَّهِ مَنِ اتَّبَعَهُ كَانَ عَلَى الْهُدَى وَمَنْ تَرَكَهُ كَانَ عَلَى الضَّلَالَةِ» . رَوَاهُ مُسلم




৬১৪০-[৬] যায়দ ইবনু আরকাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) - মক্কাহ্ ও মদীনার মাঝামাঝি ’খুম নামক জলাশয়ের কাছে দাঁড়িয়ে আমাদেরকে ভাষণ দান করলেন। প্রথমে আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করলেন, এরপর ওয়াজ ও নাসীহত করলেন, অতঃপর বললেন, এটা (আম্মা বা’দ) সাবধান! হে লোকসকল! নিশ্চয় আমি একজন মানুষই, শীঘ্রই আমার কাছে আল্লাহর দূত (মালাকুল মাওত) আসবে, তখন আমি আমার রবের আহ্বানে সাড়া দেব। আমি তোমাদের মাঝে দুটি মূল্যবান সম্পদ রেখে যাচ্ছি। তন্মধ্যে প্রথমটি হলো, আল্লাহর কিতাব’, এর মধ্যে রয়েছে হিদায়াত ও জ্যোতি। অতএব, তোমরা আল্লাহর কিতাবকে খুব শক্তভাবে আঁকড়ে ধর এবং দৃঢ়তার সাথে তার বিধি-বিধান মেনে চল। (বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর কিতাবের নির্দেশাবলী শক্তভাবে মেনে চলার জন্য অনুপ্রাণিত করলেন। এরপর তিনি বললেন, (দ্বিতীয়টি হলো) আমার আহলে বায়ত সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে আল্লাহর পক্ষ হতে বিশেষ নসীহত করছি। অপর এক বর্ণনাতে আছে, আল্লাহর কিতাব হলো আল্লাহর রশি। যে লোক তার আনুগত্য করবে, সে হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত হবে। আর যে তাকে পরিত্যাগ করবে, সে পথভ্রষ্ট, গোমরাহ হয়ে যাবে। (মুসলিম)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: * رواہ مسلم (37/ 248)