রিয়াদুস সালিহীন
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّه عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّه صلى الله عليه وسلم:إِنَّ اللَّه وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّوْنَ عَلىٰ مَيَامِنِ الصُّفُوْفِ» رواه أبو داود بإِسناد عَلى شرْطِ مُسْلِمٍ، وفيهِ رجلٌ مُخْتَلَفٌ في توْثِيقِهِ .
১৩/১১০১। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ অবশ্যই কাতারগুলোর ডানদিকের উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং আল্লাহর ফেরেশতারা তাদের জন্য দো‘আ করতে থাকেন। (আবূ দাউদ) [1]
[1] আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি (বর্ণনাকারী উসমা হচ্ছেন উসামা ইবনু যায়েদ লাইসী। সমালোচক মুহাক্কেক আলেমদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে এই যে, তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে ভালো যদি তার বিরোধিতা করা না হয়। এ কারণে তার এ হাদীসকে একদল হাফিয হাসান আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু হাদীসটি এ ভাষায় শায অথবা মুনকার। কারণ তিনি অন্য সব নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করে এককভাবে এটিকে বর্ণনা করেছেন। আর বর্ণনাকারী মু‘য়াবিয়্যাহ্ ইবনু হিশামের মধ্যে তার হেফযের দিক দিয়ে দুর্বলতা রয়েছে। (তবুও বিরোধিতা না হয়ে থাকলে তার হাদীসও গ্রহণযোগ্য)। হাদীসটি নিরাপদ হচ্ছে (যেমনটি বাইহাক্বী বলেছেন) এ ভাষায়ঃ “আল্লাহ্ রহমাত নাযিল করেন আর ফেরেশতারা তাদের প্রতি রহমাত কামনা করে দু‘আ করেন যারা কাতার সমূহকে (ফাঁক না রেখে) পূর্ণ করে দাঁড়ায়”। যেমনটি আমি “মিশকাত” গ্রন্থের (নং ১০৯৬) টীকায় উল্লেখ করেছি আর “য‘ঈফু আবী দাঊদ” (নং ১৫৩) এবং “সহীহ্ আবী দাঊদ” গ্রন্থে (৬৮০) বর্ণনা করেছি। আবূ ৬৭৬, ইবনু মাজাহ ১০০৫।
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ যঈফ
وَعَنِ البَرَاءِ قَالَ: كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَحْبَبْنَا أَنْ نَكُونَ عَنْ يَمِينهِ، يُقْبِلُ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ، فَسَمِعْتُهُ يَقُوْل: «رَبِّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ - أَو تَجْمَعُ - عِبَادَكَ»رواه مُسلِمٌ
১৪/১১০২। বারা’ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে যখন নামায পড়তাম তখন তাঁর ডান দিকে (দাঁড়ানো) পছন্দ করতাম। যাতে তিনি স্বীয় মুখমণ্ডল আমাদের দিকে ফিরান। বস্তুত আমি (একদিন) তাঁকে বলতে শুনেছি, ‘রাব্বি ক্বিনী ‘আযা-বাকা ইয়াওমা তাব‘আসু (অথবা তাজমাউ) ‘ইবা-দাক।’ হে আমার রব! তুমি আমাকে তোমার সেই দিনের আযাব থেকে বাঁচিয়ো, যেদিন তুমি স্বীয় বান্দাদেরকে কবর থেকে উঠাবে কিংবা হিসাবের জন্য জমা করবে। (মুসলিম)[1]
[1] মুসলিম ৭০৯, নাসায়ী ৮২২, আবূ দাউদ ৬১৫, ইবনু মাজাহ ১০০৬, আহমাদ ১৮০৮২, ১৮২৩৬
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم «وَسِّطُوا الإِمَامَ، وَسُدُّوا الخَلَلَ». رواه أبُو دَاوُد.
১৫/১১০৩। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা ইমামকে কাতারের ঠিক মাঝখানে কর। আর কাতারের ফাঁক বন্ধ করো।” (আবূ দাউদ, হাদিসের প্রথমাংশ সহীহ নয়।)[1]
[1] আমি (আলবানী) বলছিঃ এর সনদে দু’জন মাজহূল (অপরিচিত) বর্ণনাকারী রয়েছেন। যেমনটি আমি “দ্ব‘ঈফু আবী দাঊদ” গ্রন্থে (নং ১০৫) বর্ণনা করেছি। তবে হাদীসটির দ্বিতীয় বাক্যের আব্দুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাযি) হতে কতিপয় শাহেদ বর্ণিত হয়েছে। অতএব দ্বিতীয় বাক্যটি সহীহ্। এ সম্পর্কে (১০৯৮) নম্বরে সহীহ্ আখ্যা দেয়া হয়েছে। এর সনদে বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইবনু বাশীর ইবনে খাল্লাদ এবং তার মা তারা উভয়েই মাজহূল (অপরিচিত)। ইবনু কাত্তান বলেনঃ তাদের উভয়ের অবস্থা অজ্ঞাত। আব্দুল হক্ব ইশবীলী বলেনঃ এ সনদটি শক্তিশালী নয়। হাফিয যাহাবী বলেনঃ তার সনদটি দুর্বল। হাফিয ইবনু হাজার “আত্তাক্বরীব” গ্রন্থে আর শাওকানী তার অনুসরণ করে ((৩/১৫৩) বলেনঃ ইয়াহ্ইয়া ইবনু বাশীরের অবস্থা অপ্রকাশিত আর তার মা অপরিচিতা। বিস্তারিত দেখুন “দ‘ঈফু আবী দাঊদ-আলউম্ম-” গ্রন্থে (নং ১০৬)। আবূ দাউদ ৬৮১
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ/যঈফ [মিশ্রিত]
وَعَنْ أُمِّ المُؤْمِنِينَ أُمِّ حَبِيبَةَ رَمْلَةَ بِنْتِ أَبِي سُفْيَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَتْ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُوْلُ: «مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لِلهِ تَعَالىَ كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعاً غَيرَ الفَرِيضَةِ، إِلاَّ بَنَى اللهُ لَهُ بَيْتاً فِي الجَنَّةِ، أَوْ إِلاَّ بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الجَنَّةِ». رواه مُسلِمٌ
১/১১০৪। মুমিন জননী উম্মে হাবীবাহ রামলা বিনতে আবূ সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “যে কোনো মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর (সন্তুষ্টি অর্জনের) জন্য প্রত্যহ ফরয নামায ছাড়া বারো রাক‘আত সুন্নত নামায পড়ে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি গৃহ নির্মাণ করেন অথবা তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করা হয়।” (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৭২৮, তিরমিযী ৪১৫, নাসায়ী ১৭৯৬-১৮১০, আবূ দাউদ ১২৫০, ইবনু মাজাহ ১১৪১, আহমাদ ২৬২৩৫, ২৬৮৪৯, ২৬৮৬৫, দারেমী ১২৫০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ، وَرَكْعَتْينِ بَعْدَهَا، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الجُمُعَةِ، وَرَكْعَتَينِ بَعدَ المَغْرِبِ، وَرَكْعَتَينِ بَعدَ العِشَاءِ . متفقٌ عَلَيهِ
২/১১০৫। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমি দু’ রাকআত যোহরের (ফরযের) আগে, দু’ রাকআত তার পরে এবং দু’ রাকআত জুমার পরে, দু’ রাকআত মাগরিব বাদ, আর দু’ রাকআত নামায এশার (ফরযের) পরে পড়েছি।’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬১৮, ৯৩৭, ১১৬৯, ১১৭৩, ১১৮১, মুসলিম ৭২৩, ৭২৯, ৮৮২, তিরমিযী ৪২৫, ৪৩৩, ৫২২, নাসায়ী ৫৮৩, ১৪২৭, ১৪২৮, ১৭৬৯০, ১৭৬১, ১৭৬৫-১৭৭৯, আবূ দাউদ ১১২৮, ১১৩০, ১১৩২, ইবনু মাজাহ ১১৪৫, আহমাদ ৪৪৯২, ৪৫৭৭, ৪৬৪৬, ৫৭৪২, ৪৯০২, ৫১০৬, ৫২৭৪, ৫৩৯৪, ৫৪০৯, ৫৪২৫, ৫৪৫৬, ৫৫৭১, ৫৬৫৫, ৫৭০৫, মুওয়াত্তা মালিক ২৬১, ২৮৫, দারেমী ১৪৩৭, ১৪৪৩, ১৪৪৪, ১৫৭৩, ১৫৭৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ مُغَفَّلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ، بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ، بَيْنَ كُلِّ أَذَانَينِ صَلاَةٌ». قال في الثَّالِثةِ: «لِمَنْ شَاءَ». متفقٌ عَلَيهِ
৩/১১০৬। আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক দুই আযানের মাঝখানে নামায আছে। প্রত্যেক দুই আযানের মাঝখানে নামায আছে। প্রত্যেক দুই আযানের মাঝখানে নামায আছে।” তৃতীয়বারে বললেন, “যে চায় তার জন্য।” (বুখারী ও মুসলিম)[1]
‘দুই আযানের মাঝখানে’ অর্থাৎ আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে।
[1] সহীহুল বুখারী ৬২৪, ৬২৭, মুসলিম ৮৩৮, তিরমিযী ১৮৫, নাসায়ী ৬৮১, আবূ দাউদ ১২৮৩, ইবনু মাজাহ ১১৬২, আহমাদ ১৬৪৮, ২০০২১, ২০০৩৭, ২০০৫১, দারেমী ১৪৪০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
َنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَدَعُ أَرْبَعاً قَبْلَ الظُّهْرِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الغَدَاةِ . رَوَاهُ البُخَارِيُّ
১/১১০৭। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের (ফরয নামাযের) পূর্বে চার রাকআত ও ফজরের আগে দু’ রাকআত নামায কখনো ত্যাগ করতেন না। (বুখারী)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ১১৮২, নাসায়ী ১৭৫৭, ১৭৫৮, আবূ দাউদ ১২৫৩, ইবনু মাজাহ ১১৫৬, আহমাদ ২৩৬৪৭, ২৩৮১৯, , মুসলিম ২৪৬২৩, দারেমী ১৪৩৯
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْها، قَالَتْ: لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى شَيْءٍ مِنَ النَّوَافِلِ أَشَدَّ تَعَاهُداً مِنهُ عَلَى رَكْعَتَي الفَجْرِ . متفقٌ عَلَيهِ
২/১১০৮। উক্ত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’ রাকআত সুন্নতের প্রতি যেরূপ যত্নবান ছিলেন, সেরূপ অন্য কোনো নফল নামাযের প্রতি ছিলেন না।’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ১১৬৩, মুসলিম ৭২৪, আবূ দাউদ ১২৫৪, আহমাদ ২৩৭৫, ২৪৮৩৬
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْها، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «رَكْعَتَا الفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا». رواه مُسلِمٌ . وفي رواية: «لَهُمَا أحَبُّ إليَّ مِنَ الدُّنْيَا جَمِيعاً»
২/১১০৯। উক্ত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ফজরের দু’ রাকআত (সুন্নত) পৃথিবী ও তাতে যা কিছু আছে সবার চেয়ে উত্তম।” (মুসলিম) [1] অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, “ঐ দুই রাকআত আমার নিকট দুনিয়ার সবকিছু থেকে অধিক প্রিয়।”
[1] মুসলিম ২৫, তিরমিযী ৪১৬, নাসায়ী ১৭৫৯, আহমাদ ২৫৭৫৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبِي عَبدِ اللهِ بِلاَلِ بنِ رَبَاح رضي الله عنه مُؤَذِّنِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَنَّهُ أَتَى رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لِيُؤْذِنَهُ بِصَلاَةِ الغَدَاةِ، فَشَغَلَتْ عَائِشَةُ بِلالاً بِأَمْرٍ سَأَلَتْهُ عَنْهُ، حَتَّى أَصْبَحَ جِدّاً، فَقَامَ بِلاَلٌ فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ، وَتَابَعَ أَذَانَهُ، فَلَمْ يَخْرُجْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا خَرَجَ صَلَّى بِالنَّاسِ، فَأَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ شَغَلَتْهُ بِأَمْرٍ سَأَلَتْهُ عَنْهُ حَتَّى أَصْبَحَ جِدّاً، وَأنَّهُ أَبْطَأَ عَلَيْهِ بِالخُرُوجِ، فَقَالَ - يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم «إنِّي كُنْتُ رَكَعْتُ رَكْعْتَي الفَجْرِ» فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، إنَّكَ أَصْبَحْتَ جِدّاً ؟ فقَالَ: «لَوْ أَصْبَحْتُ أَكْثَرَ مِمَّا أَصْبَحْتُ، لَرَكَعْتُهُمَا، وَأَحْسَنْتُهُمَا وَأَجْمَلْتُهُمَا». رواه أبُو دَاوُدَ بإسناد حسن
৪/১১১০। আবূ আব্দুল্লাহ বিলাল ইবনে রাবাহ- যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুয়াজ্জিন ছিলেন।- (একবার) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফজরের নামাযের খবর দেবার মানসে তাঁর নিকট হাযির হলেন। তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা তাঁকে এমন বিষয়ে ব্যস্ত রাখলেন, তিনি যে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভোর খুব বেশি পরিস্ফুট হয়ে পড়ল, সুতরাং বিলাল দাঁড়িয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নামাযের খবর দিলেন এবং বারংবার জানাতে থাকলেন। কিন্তু তিনি বাইরে আসলেন না। (তার কিছুক্ষণ পর) তিনি আসলেন ও লোকদেরকে নিয়ে নামায পড়লেন।
তখন বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালেন যে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁকে এমন বিষয়ে ব্যস্ত রেখেছিলেন, যে সম্পর্কে তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। শেষ পর্যন্ত খুব ফর্সা হয়ে গেল এবং তিনিও বাইরে আসতে দেরি করলেন। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “আমি ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত পড়ছিলাম।” বিলাল বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো একদম সকাল করে দিলেন।’ তিনি বললেন, “তার চেয়েও বেশি সকাল হয়ে গেলেও, আমি ঐ দু’ রাকআত সুন্নত পড়তাম এবং সুন্দর ও উত্তমরূপে পড়তাম।” (আবূ দাউদ, হাসান সূত্রে)[1]
[1] আবূ দাউদ ১২৫৭, আহমাদ ২৩৩৯৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
عَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ بَيْنَ النِّدَاءِ وَاِلإقَامَةِ مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ . متفقٌ عَلَيهِ .
وفي روايَةٍ لَهُمَا: يُصَلِّي رَكْعَتَي الفَجْرِ، فَيُخَفِّفُهُمَا حَتَّى أَقُولَ: هَلْ قَرَأَ فِيهِمَا بِأُمِّ القُرْآنِ .
وفي رواية لمسلم: كَانَ يُصلِّي رَكْعَتَي الفَجْرِ إِذَا سَمِعَ الأَذَانَ وَيُخَفِّفُهُمَا. وفي رواية: إذَا طَلَعَ الفَجْرُ.
১/১১১১। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সময় আযান ও ইকামতের মাঝখানে সংক্ষিপ্ত দু’ রাকআত নামায পড়তেন। (বুখারী ও মুসলিম) [1]
উভয়ের অন্য বর্ণনায় আছে, আযান শোনার পর তিনি ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত এত সংক্ষেপে ও হাল্কা-ভাবে পড়তেন যে, আমি (মনে মনে) বলতাম, ‘তিনি সূরা ফাতেহাও পাঠ করলেন কি না (সন্দেহ)?’
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, ‘যখন তিনি আযান শুনতেন তখন ঐ দু’ রাকআত সংক্ষিপ্তভাবে পড়তেন।’ অন্য বর্ণনায় আরও আছে, ‘যখন ফজর উদয় হয়ে যেত।’
[1] সহীহুল বুখারী ৬১৯, ১১৫৯, ১১৬৪, মুসলিম ৪৭১, ৭২৪, ৭৩৬, তিরমিযী ৪৫৯, নাসায়ী ৬৮৫, ৯৪৬, ১৭৫৬, ১৭৫৭, ১৭৫৮, ১৭৬২, ১৭৮০, ১৭৮১, আদ ১২৫৫, ১৩৩৮, ১৩৩৮, ১৩৩৯, ১৩৪০, ইবনু মাজাহ ১৩৫, ১৩৫৮, ১৩৫৯, আহমাদ ২৩৪৯৭, ২৩৫৩৭, ২৩৬৪৭, ২৩৭০৫, ২৩৭১৯, ২৩৭৩৭, ২৩৭৪১, ২৩৮১৯, ২৩৯২৫, দারেমী ১৪৪৭, ১৪৭৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ حَفصَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَذَّنَ المُؤَذِّنُ لِلْصُّبْحِ وَبَدَا الصُّبْحُ، صَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ . متفقٌ عَلَيهِ.
وفي رواية لمسلم: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إِذَا طَلَعَ الفَجْرُ لاَ يُصَلِّي إِلاَّ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ .
২/১১১২। হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, যখন মুয়াজ্জিন আযান দিত ও ফজর উদয় হত তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ রাকআত সংক্ষিপ্ত নামায পড়তেন। (বুখারী-মুসলিম)
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, যখন ফজর উদয় হত তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ রাকআত সংক্ষিপ্ত নামায ছাড়া আর কিছু পড়তেন না। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬১৮, ৯৩৭, ১১৬৯, ১১৭৩, ১১৮১, মুসলিম ৭২৩, ৭২৯, ৮৮২, তিরমিযী ৪২৫, ৪৩৩, ৫২২, নাসায়ী ৫৮৩, ১৪২৭, ১৪২৮, ১৭৬৯০, ১৭৬১, ১৭৬৫-১৭৭৯, আবূ দাউদ ১১২৮, ১১৩০, ১১৩২, ইবনু মাজাহ ১১৪৫, আহমাদ ৪৪৯২, ৪৫৭৭, ৪৬৪৬, ৫৭৪২, ৪৯০২, ৫১০৬, ৫২৭৪, ৫৩৯৪, ৫৪০৯, ৫৪২৫, ৫৪৫৬, ৫৫৭১, ৫৬৫৫, ৫৭০৫, মুওয়াত্তা মালিক ২৬১, ২৮৫, দারেমী ১৪৩৭, ১৪৪৩, ১৪৪৪, ১৫৭৩, ১৫৭৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى، وَيُوتِرُ بِرَكْعَةٍ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ، وَيُصَلِّي الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الغَدَاةِ، وَكَأَنَّ الأَذَانَ بِأُذُنَيْهِ . متفقٌ عَلَيهِ
৩/১১১৩। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে (তাহাজ্জুদের নামায) দুই দুই রাকআত করে পড়তেন। আর রাতের শেষ ভাগে এক রাকআত বিতির পড়তেন। ফজরের নামাযের পূর্বে দু’ রাকআত (সুন্নত) পড়তেন। আর এত দ্রুত পড়তেন যেন তাকবীর-ধ্বনি তাঁর কানে পড়ছে।’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৪৭২, ৯৯৫, নাসায়ী , ৪৭৩, ৯৯১, ৯৯৩, ৯৯৮, ১১৩৭, মুসলিম ৭৪৯, ৭৫১, তিরমিযী ৪৩৭, ৪৬১, নাসায়ী ১৬৬৬, ১৬৬৭, ১৬৬৮, ১৬৬৯, ১৬৭০, ১৬৭১, ১৬৭২, ১৬৭৩, ১৬৭৪, ১৬৮২, ১৬৯২, ১৬৯৪, আবূ দাউদ ১৪২১, ১৪৩৮, ইবনু মাজাহ ১১৭৪, ১১৭৫, ১১৭৬, ১৩২২, আহমাদ ৪৪৭৮, ৪৫৪৫, ৪৬৯৬, ৪৭৭৬, ৪৮৩২, ৪৮৪৫, ৪৯৫১, ৫০১২, মুওয়াত্তা মালিক ২৬১, ২৬৯, ২৭৫, ২৭৬, দারেমী ১৪৫৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي رَكْعَتَي الفَجْرِ فِي الأُولَى مِنْهُمَا: ﴿ قولوا آمنا بالله وما أنزل إلينا﴾ [البقرة: ١٣٦] الآيَةَ الَّتِي فِي البَقَرَةِ، وَفِي الآخِرَةِ مِنْهُمَا: ﴿آمنا بالله واشهد بأنا مسلمون﴾ [ال عمران: ٥٢] .
وفي رواية: وَفِي الآخِرَةِ الَّتي فِي آلِ عِمْرَانَ: ﴿تعالوا إلى كلمة سواء بيننا وبينكم﴾ [ال عمران: ٦٤]
৪/১১১৪। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সুন্নত নামাযের প্রথম রাকআতে ‘ক্বূলূ আমান্না বিল্লাহি অমা উনযিলা ইলাইনা’ (১৩৬নং) শেষ আয়াত পর্যন্ত - যেটি সূরা বাকারায় আছে - পাঠ করতেন। আর তার দ্বিতীয় রাকআতে ‘আমান্না বিল্লাহি অশহাদ বিআন্না মুসলিমূন’ (আলে ইমরানের ৫২নং আয়াত) পড়তেন।
অন্য বর্ণনায় আছে, দ্বিতীয় রাকআতে আলে-ইমরানের (৬৪নং আয়াত) ‘তাআলাউ ইলা কালিমাতিন সাওয়াইন বাইনানা অবাইনাকুম’ পাঠ করতেন। (মুসলিম)[1]
[1] মুসলিম ৭২৭, নাসায়ী ৯৪৪, আহমাদ ২০৪৬, ২৩৮৬
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَرَأَ فِي رَكْعَتَي الفَجْرِ: ( قُلْ يَا أَيُّهَا الكَافِرُونَ ) وَ ( قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ ). رَوَاهُ مُسلِم
৫/১১১৫। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’ রাকআত সুন্নতে সূরা ‘ক্বুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরূন’ ও ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করতেন। (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৭২৬, নাসায়ী ৯৪৫, ইবনু মাজাহ ১১৪৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: رَمَقْتُ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم شَهْراً فَكَانَ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الفَجْرِ: (قُلْ يَا أيُّهَا الْكَافِرُونَ) وَ (قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ) رَوَاهُ التِّرمِذِيُّ، وَقَالَ: حَدِيثٌ حَسَنٌ
৬/১১১৬। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক মাস ব্যাপী লক্ষ্য করে দেখলাম, তিনি ফজরের আগে দু’রাকআত সুন্নত নামাযে এই দুই সূরা ‘ক্বুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরূন’ ও ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করতেন। (তিরমিযী, হাসান)[1]
[1] তিরমিযী ৪১৭, ইবনু মাজাহ ১১৪৯, নাসায়ী ৯৯২, আহমাদ ৫৬৫৮, ৫৬৬৬, ৫৭০৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
عن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إذَا صَلَّى رَكعَتَي الفَجْرِ، اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَن . رَوَاهُ البُخَارِي
১/১১১৭। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত পড়তেন, তখন ডান পাশে শুয়ে (বিশ্রাম) নিতেন।’ (বুখারী) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬২৬, ৯৯৪, ১১৬০, ১১২৩, ১১৩৯, ১১৪০, ১১৬৫, ৬৩১০, মুসলিম ৭২৪, ৭৩৬-৭৩৮, তিরমিযী ৪৪০, ৪৩৯, নাসায়ী ৬৮৫, ১৫৯৬, ১৭৪৯, ১৭৬২, আবূ দাউদ ১১৫৪, ১২৫৫, ১২৬২, ১৩৩৪, ১৩৩৮-৯, ১৩৪০, ইবনু মাজাহ ১১৯৮, ১৩৫৮, আহমাদ ২৩৫৩৭, ২৩৫৫৩, ২৩৫৯৬, ২৩৬৬৮, ২৩৬৯৭, ২৩৭০৫, ২৩৯২৪, মুওয়াত্তা মালিক ২৪৩, ২৫৪, দারেমী ১৪৪৭, ১৪৭৩, ১৪৭৪, ১৫৮৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْها، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِيمَا بَيْنَ أَنْ يَفْرُغَ مِنْ صَلاَةِ العِشَاءِ إلَى الفَجْرِ إِحْدَى عَشرَةَ رَكْعَةً، يُسَلِّمُ بَيْنَ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ، وَيُوتِرُ بِوَاحِدَةٍ، فَإِذَا سَكَتَ المُؤَذِّنُ مِنْ صَلاَةِ الفَجْرِ، وَتَبَيَّنَ لَهُ الفَجْرُ، وَجَاءهُ المُؤَذِّنُ، قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَينِ، ثُمَّ اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ، هكَذَا حَتَّى يأْتِيَهُ المُؤَذِّنُ لِلإِقَامَةِ . رَوَاهُ مُسلِم
২/১১১৮। উক্ত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতেই বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামায শেষ করার পর থেকে নিয়ে ফজরের নামায অবধি এগার রাকআত (তাহাজ্জুদের নামায পড়তেন)। প্রত্যেক দু’ রাকআতে সালাম ফিরতেন এবং এক রাকআত বিতির পড়তেন। অতঃপর যখন মুয়াজ্জিন ফজরের নামাযের আযান দিয়ে চুপ হত এবং ফজর তাঁর সামনে উজ্জ্বল হয়ে উঠত, আর মুয়াজ্জিন (ফজরের সময় সম্পর্কে অবহিত করার জন্য) তাঁর কাছে আসত, তখন তিনি উঠে সংক্ষিপ্তভাবে দু’ রাকআত নামায পড়ে নিতেন। তারপর ডান পার্শে শুয়ে (জিরিয়ে) নিতেন। এইভাবে মুয়াজ্জিন নামাযের তাকবীর দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে হাযির হওয়া পর্যন্ত (তিনি শুয়ে থাকতেন)।’ (মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬২৬, ৯৯৪, ১১৫৪, ১১৬৫, ৬৩১০, মুসলিম ৭৩৬, তিরমিযী ৪৪০, ৪৫৯, নাসায়ী ৬৮৫, ৯৪৬, ১৬৯৬, ১৭১৭, ১৭২৩, ১৭৪৯, ১৭৫৬, ১৭৬২, ১৭৮০, ১৭৮১, আবূ দাউদ ১২৫৪, ১২৫৫, ১২৬২, ১৩৩৪-১৩৩৬, ১৩৩৮-১৩৪০, ১৩৪২, ১৩৫৯, ১৩৬০, ইবনু মাজাহ ১৩৫৭, ১৩৫৯, আহমাদ ২৩৫৩৭, ২৩৫৫০, ২৩৫৫৩, ২৩৫৯৬, ২৩৯৪০, মুওয়াত্তা মালিক ২৬৪, ২৬৬, ২৮৬, দারেমী ১৪৪৭, ১৪৭৩, ১৪৭৪, ১৫৮৫, ১৫৮১
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم :«إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ رَكْعَتَي الفَجْرِ، فَلْيَضْطَجِعْ عَلَى يَمِينِهِ». رواه أبُو دَاوُدَ وَالتِّرمِذِيُّ بأسانيد صحيحة، قال الترمذي: حديث حسن صحيح
৩/১১১৯। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত পড়বে, তখন সে যেন তার ডান পাশে শুয়ে যায়।” (আবূ দাউদ, তিরমিযী বিশুদ্ধ সূত্রে, তিরমিযীর উক্তি: হাদিসটি হাসান সহীহ) [1]
[1] আবূ দাউদ ১২৬১, তিরমিযী ৪২০, ইবনু মাজাহ ১১৯৯
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
عَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا . متفقٌ عَلَيهِ
১/১১২০। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে যোহরের আগে দু’ রাকআত ও তার পরে দু’ রাকআত সুন্নত পড়েছি।’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬১৮, ৯৩৭, ১১৬৯, ১১৭৩, ১১৮১, মুসলিম ৭২৩, ৭২৯, ৮৮২, তিরমিযী ৪২৫, ৪৩৩, ৫২২, নাসায়ী ৫৮৩, ১৪২৭, ১৪২৮, ১৭৬৯০, ১৭৬১, ১৭৬৫-১৭৭৯, আবূ দাউদ ১১২৮, ১১৩০, ১১৩২, ইবনু মাজাহ ১১৪৫, আহমাদ ৪৪৯২, ৪৫৭৭, ৪৬৪৬, ৫৭৪২, ৪৯০২, ৫১০৬, ৫২৭৪, ৫৩৯৪, ৫৪০৯, ৫৪২৫, ৫৪৫৬, ৫৫৭১, ৫৬৫৫, ৫৭০৫, মুওয়াত্তা মালিক ২৬১, ২৮৫, দারেমী ১৪৩৭, ১৪৪৩, ১৪৪৪, ১৫৭৩, ১৫৭৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ