রিয়াদুস সালিহীন
عَن عَلِيِّ بنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي قَبْلَ العَصْرِ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، يَفْصِلُ بَيْنَهُنَّ بِالتَّسْلِيمِ عَلَى المَلائِكَةِ المُقَرَّبِينَ، وَمَنْ تَبِعَهُمْ مِنَ المُسْلِمِينَ وَالمُؤْمِنِينَ . رَوَاهُ التِّرمِذِيُّ، وَقَالَ: حَدِيثٌ حَسَنٌ
১/১১২৬। আলী ইবনে আবী তালেব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের ফরয নামাযের আগে চার রাকআত সুন্নত পড়তেন। তার মাঝখানে নিকটবর্তী ফেরেশতাবর্গ ও তাঁদের অনুসারী মুসলিম ও মুমিনদের প্রতি সালাম পেশ করার মাধ্যমে পার্থক্য করতেন।’ (অর্থাৎ চার রাকআতে দু’ রাকআত পর পর সালাম ফিরতেন।) (তিরমিযী হাসান) [1]
[1] তিরমিযী ৪২৯, ইবনু মাজাহ ১১৬১
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «رَحِمَ اللهُ امْرَءاً صَلَّى قَبْلَ العَصْرِ أَرْبَعاً». رواه أبُو دَاوُدَ وَالتِّرمِذِيُّ، وَقَالَ: حَدِيثٌ حَسَنٌ.
২/১১২৭। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ সেই ব্যক্তির উপর রহম করুন, যে ব্যক্তি আসরের পূর্বে চার রাকআত সুন্নত পড়ে।” (আবূ দাঊদ, তিরমিযী হাসান) [1]
[1] আবূ দাউদ ১২৭১, তিরমিযী ৪৩০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
وعنْ عليِّ بن أَبي طالبٍ، رَضِيَ اللَّه عنهُ، أَنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم كانَ يُصَلِّي قَبْلَ العَصرِ رَكْعَتَيْنِ .
৩/১১২৮। আলী ইবনু আবী ত্বালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মাঝে মাঝে) আসরের আগে দু রাক‘আত (সুন্নাত) পড়তেন। (আবূ দাউদ) হাদিসটি দুর্বল। [1]
[1] আমি (আলবানী) বলছিঃ কিন্তু ‘তিনি আসরের পূর্বে দু’রাক‘আত আদায় করতেন’ এ ভাষায় হাদীসটি শায। মাহফূয বা নিরাপদ হচ্ছে “তিনি আসরের পূর্বে চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন’। “দ্ব‘ঈফ আবী দাঊদ” গ্রন্থে (নং ২৩৫) এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আবূ দাউদ ১২৭২, তিরমিযী ৪২৯।
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ যঈফ
وَعَنْ عبد الله بن مُغَفَّلٍ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «صَلُّوا قَبْلَ المَغْرِبِ». قال في الثَّالِثَةِ: «لِمَنْ شَاءَ». رواه البُخَارِيُّ
এ বিষয়ে ইবনে উমার ও আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বিশুদ্ধ হাদিস (১১০৫, ১১২২ নম্বরে) গত হয়েছে; যাতে আছে যে, মাগরিবের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ রাকআত নামায পড়তেন।
১/১১২৯। আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু’বার) বললেন, “তোমরা মাগরিবের পূর্বে (দু’ রাকআত) নামায পড়।” অতঃপর তৃতীয় বারে তিনি বললেন, “যার ইচ্ছা হবে, (সে পড়বে।)” (বুখারী) [1]
*(যদিও মাগরিবের পূর্বে এটি সুন্নাতে রাতেবা নয় তবুও তিনবার এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করাতে এর গুরুত্ব প্রকাশ পাচ্ছে। এর প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উৎসাহ দান তথা জোর দেওয়ায় এর মুস্তাহাব হওয়ার কথা প্রতিপন্ন হয়।)
[1] সহীহুল বুখারী ১১৮৩, ৭৩৬৮, আবূ দাউদ ১২৮১, আহমাদ ২০০২৯
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: لَقَدْ رَأيْتُ كِبَارَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَبْتَدِرُونَ السَّوَارِيَ عِندَ المَغْرِبِ. رَوَاهُ البُخَارِيُّ
২/১১৩০। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বড় বড় সাহাবীদেরকে দেখেছি, তাঁরা মাগরিবের সময় থামগুলোর দিকে দ্রুত বেগে অগ্রসর হতেন।’ (দু’ রাকআত সুন্নত পড়ার উদ্দেশ্যে।) (বুখারী)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৫০৩, ৬২৫, মুসলিম ৮৩৬, ৮৩৭, নাসায়ী ৬৮২, আবূ দাউদ ১২৮২, আহমাদ ১১৯০১, ১২৬৬৫, ১৩৫৭১, ১৩৫৯৬, ইবনু মাজাহ ১১৬৩, দারেমী ১৪৪১
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْه، قَالَ: كُنَّا نُصَلِّي عَلَى عَهدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ غُرُوبِ الشَّمْسِ قَبْلَ المَغْرِبِ، فَقِيلَ: أَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صَلاَّهُمَا ؟ قَالَ: كَانَ يَرَانَا نُصَلِّيهِمَا فَلَمْ يَأمُرْنَا وَلَمْ يَنْهَنَا . رواه مسلم
৩/১১৩১। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতেই বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সূর্যাস্তের পর মাগরিবের ফরয নামাযের আগে দু’ রাকআত সুন্নত পড়তাম।’ তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ দু’ রাকআত পড়তেন কি?’ তিনি বললেন, ‘তিনি আমাদেরকে ওই দু’ রাকআত পড়তে দেখতেন, কিন্তু আমাদেরকে (তার জন্য) আদেশও করতেন না এবং তা থেকে বারণও করতেন না।’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৮৩৬, সহীহুল বুখারী ৫০৩, ৬২৫, ৪৩৭০, নাসায়ী ৬৮২, আবূ দাউদ ১২৮, ইবনু মাজাহ ১১৬৩, আহমাদ ১১৯০১, ১২৬৪৫, ১৩৫৭১, দারেমী ১৪৪১
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْه، قَالَ: كُنَّا بِالمَدِينَةِ فَإِذَا أَذَّنَ المُؤَذِّنُ لِصَلاَةِ المَغْرِبِ، ابْتَدَرُوا السَّوَارِيَ، فَرَكَعُوا رَكْعَتَيْنِ، حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ الغَرِيبَ لَيَدْخُلُ المَسْجِدَ فَيَحْسَبُ أَنَّ الصَّلاَةَ قَدْ صُلِّيَتْ مِنْ كَثْرَةِ مَنْ يُصَلِّيهِمَا . رواه مسلم
৪/১১৩২। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতেই বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা মদিনাতে ছিলাম। যখন মুয়াজ্জিন মাগরিবের আযান দিত, তখন লোকেরা থামগুলির দিকে দ্রুত অগ্রসর হত এবং দু’ রাকআত নামায পড়ত। এমনকি কোন বিদেশী অচেনা মানুষ মসজিদে এলে, অধিকাংশ লোকের ঐ দু’ রাকআত পড়া দেখে মনে করত যে, (মাগরিবের ফরয) নামায পড়া হয়ে গেছে (এবং তারা পরের সুন্নত পড়ছে)।’ (মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৫০৩, ৬২৫, মুসলিম ৮৩৬, ৮৩৭, নাসায়ী ৬৮২, আবূ দাউদ ১২৮২, আহমাদ ১১৯০১, ১২৬৬৫, ১৩৫৭১, ১৩৫৯৬, ইবনু মাজাহ ১১৬৩, দারেমী ১৪৪১
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «إِذَا صَلَّى أَحَدُكُم الجُمُعَةَ، فَلْيُصَلِّ بَعْدَهَا أَرْبعاً». رواه مسلم
بَابُ سُنَّةِ الْعِشَاءِ بَعْدَهَا وَقَبْلَهَا
পরিচ্ছেদ - ২০২: এশার আগে ও পরের সুন্নতসমূহের বিবরণ
এ বিষয়ে বিগত ইবনে উমরের (১১০৫ নং) হাদিস, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এশার পর দু’ রাকআত সুন্নত পড়েছি’ এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল কর্তৃক বর্ণিত (১১০৬নং) হাদিস, ‘প্রত্যেক দুই আযানের মধ্যবর্তী সময়ে নামায আছে।’ উল্লিখিত হয়েছে।
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পূর্বোক্ত (১১০৫নং) হাদিস গত হয়েছে। তাতে উল্লিখিত হয়েছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে জুমুআর পর দু’ রাকআত সুন্নত পড়েছেন। (বুখারী ও মুসলিম)
১/১১৩৩। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন কোন ব্যক্তি জুমার নামায আদায় করবে, তখন সে যেন তারপর চার রাকআত (সুন্নত) পড়ে।” (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৮৮১, তিরমিযী ৫২৩-২৪, নাসায়ী ১৪২৬, আবূ দাউদ ১১৩১, ইবনু মাজাহ ১১৩২, আহমাদ ৯৪০৬, ১০১০১, দারেমী ১৫৭৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يُصَلِّي بَعْدَ الجُمُعَةِ حَتَّى يَنْصَرِفَ، فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ في بَيْتِهِ . رواه مسلم
২/১১৩৪। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার পর (মসজিদ থেকে) ফিরে না আসা পর্যন্ত কোন সুন্নত নামায পড়তেন না। সুতরাং নিজ বাড়িতে (এসে) দু’ রাকআত নামায পড়তেন। (মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬১৮, ৯৩৭, ১১৬৯, ১১৭৩, ১১৮১, মুসলিম ৭২৩, ৭২৯, ৮৮২, তিরমিযী ৪২৫, ৪৩৩, ৫২২, নাসায়ী ৫৮৩, ১৪২৭, ১৪২৮, ১৭৬৯০, ১৭৬১, ১৭৬৫-১৭৭৯, আবূ দাউদ ১১২৮, ১১৩০, ১১৩২, ইবনু মাজাহ ১১৪৫, আহমাদ ৪৪৯২, ৪৫৭৭, ৪৬৪৬, ৫৭৪২, ৪৯০২, ৫১০৬, ৫২৭৪, ৫৩৯৪, ৫৪০৯, ৫৪২৫, ৫৪৫৬, ৫৫৭১, ৫৬৫৫, ৫৭০৫, মুওয়াত্তা মালিক ২৬১, ২৮৫, দারেমী ১৪৩৭, ১৪৪৩, ১৪৪৪, ১৫৭৩, ১৫৭৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَن زَيدِ بنِ ثَابِتٍ رضي الله عنه : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «صَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ، فَإنَّ أفْضَلَ الصَّلاَةِ صَلاَةُ المَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلاَّ المَكْتُوبَةَ». متفقٌ عَلَيْهِ
১/১১৩৫। যায়েদ ইবনে সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হে লোক সকল! তোমরা নিজ নিজ বাড়িতে নামায পড়। কারণ, ফরয নামায ব্যতীত পুরুষের উত্তম নামায হল, যা সে নিজ বাড়িতে পড়ে থাকে।” (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৭৩১, ৬১১৩, ৭২৯০, মুসলিম ৭৮১, তিরমিযী ৪৫০, নাসায়ী ১৫৯৯, আবূ দাউদ ১০৪৪, ১৪৫৭, আহমাদ ২১০৭২, ২১০৮, ২১১১৪, মুওয়াত্তা মালিক ২৯৩, দারেমী ১৩৫৬
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «اجْعَلُوا مِنْ صَلاَتِكُمْ فِي بُيُوتِكُمْ، وَلاَ تَتَّخِذُوهَا قُبُوراً». متفقٌ عَلَيْهِ
২/১১৩৬। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা নিজেদের কিছু নামায তোমাদের বাড়িতে পড় এবং সে (ঘর-বাড়ি)গুলিকে কবরে পরিণত করো না।” (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৪৩২, ১১৮৭, মুসলিম ৭৭৭, তিরমিযী ৪৫১, নাসায়ী ১৫৯৮, আবূ দাউদ ১৪৫৮, ইবনু মাজাহ ১৩৭৭, আহমাদ ৪৪৯৭, ৪৬৩৯, ৬০০৯
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «إِذَا قَضَى أَحَدُكُمْ صَلاَتَهُ فِي مَسْجِدِهِ فَلْيَجْعَلْ لِبَيْتِهِ نَصِيباً مِنْ صَلاَتِهِ ؛ فَإِنَّ اللهَ جَاعِلٌ فِي بَيْتِهِ مِنْ صَلاَتِهِ خَيْراً». رواه مسلم
৩/১১৩৭। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি স্বীয় (ফরয) নামায মসজিদে আদায় করে নেবে, সে যেন তার কিছু নামায নিজ বাড়ির জন্যও নির্ধারিত করে। কেননা, তার নিজ ঘরে আদায়কৃত (সুন্নত) নামাযে আল্লাহ তার জন্য কল্যাণ ও বরকত প্রদান করেন।” (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৭৭৮, ইবনু মাজাহ ১৩৭৬, আহমাদ ১৩৯৮২, ১৩৯৮৬
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ عُمَرَ بنِ عَطَاءٍ: أَنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ أَرْسَلَهُ إِلَى السَّائِبِ ابنِ أُخْتِ نَمِرٍ يَسأَلُهُ عَنْ شَيْءٍ رَآهُ مِنْهُ مُعَاوِيَةُ فِي الصَّلاَةِ، فَقَالَ: نَعَمْ، صَلَّيْتُ مَعَهُ الجُمُعَةَ في المَقْصُورَةِ، فَلَمَّا سَلَّمَ الإمَامُ، قُمْتُ فِي مَقَامِي، فَصَلَّيْتُ، فَلَمَّا دَخَلَ أَرْسَلَ إلَيَّ، فَقَالَ: لاَ تَعُدْ لِمَا فَعَلْتَ. إِذَا صَلَّيْتَ الجُمُعَةَ فَلاَ تَصِلْهَا بِصَلاةٍ حَتَّى تَتَكَلَّمَ أَوْ تَخْرُجَ ؛ فَإِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَمَرَنَا بِذَلِكَ، أَن لاَ نُوصِلَ صَلاَةً بِصَلاَةٍ حَتَّى نَتَكَلَّمَ أَوْ نَخْرُجَ . رواه مسلم
৪/১১৩৮। উমার ইবনে আতা হতে বর্ণিত, নাফে‘ ইবনে জুবাইর তাঁকে নামেরের ভাগ্নে সায়েবের নিকট এমন একটি বিষয়ে প্রশ্ন করার উদ্দেশ্যে পাঠালেন, যা মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে নামাযের ব্যাপারে করতে দেখেছিলেন। তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি তাঁর (মুয়াবিয়া)র সাথে মাকসূরায় (মসজিদের মধ্যে বাদশাদের জন্য তৈরি বিশেষ নিরাপদ স্থান) জুমার নামায পড়েছি। সুতরাং যখন ইমাম সালাম ফিরালেন, তখন আমি যেখানে ফরয নামায পড়ছিলাম, সেখানেই উঠে দাঁড়িয়ে গেলাম এবং (সুন্নত) নামায পড়লাম।
তারপর যখন মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বাড়ি প্রবেশ করলেন, তখন আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, “তুমি যা করলে তা আগামীতে আর কখনো করো না। যখন তুমি জুমার (ফরয) নামায পড়বে, তখন তার সাথে মিলিয়ে অন্য নামায পড়ো না; যতক্ষণ না তুমি কারো সাথে কথা বল অথবা সেখান থেকে অন্যত্র সরে যাও। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আদেশ আমাদেরকে করেছেন যে, আমরা যেন এক নামাযকে অন্য নামাযের সাথে না মিলাই, যতক্ষণ না কোনো লোকের সাথে কথা বলে নেই, কিংবা সেখান হতে অন্যত্র সরে যাই।” (মুসলিম)[1]
[1] মুসলিম ৮৮৩, আবূ দাউদ ১১২৯, আহমাদ ১৬৪২৪, ১৬৪৬৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَن عَليٍّ رضي الله عنه، قَالَ: الوِتْرُ لَيْسَ بِحَتْمٍ كَصَلاَةِ المَكْتُوبَةِ، وَلَكِنْ سَنَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إنَّ اللهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الوِتْرَ، فَأَوْتِرُوا يَا أهْلَ القُرْآنِ». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن
১/১১৩৯। আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘বিতরের নামায, ফরয নামাযের ন্যায় অপরিহার্য নয়। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটিকে প্রচলিত করেছেন (অর্থাৎ এটি সুন্নত)। তিনি বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ বিতির (বিজোড়) সেহেতু তিনি বিতির (বিজোড়কে) ভালবাসেন। অতএব হে কুরআনের ধারক-বাহকগণ! তোমরা বিতির পড়।” (আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান) [1]
[1] আবূ দাউদ ১৪১৬, তিরমিযী ৪৫৩, নাসায়ী ১৬৭৫, ইবনু মাজাহ ১১৬৯
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، قَالَتْ: مِنْ كُلِّ اللَّيْلِ قَدْ أَوْتَرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ، وَمِنْ أوْسَطِهِ، وَمِنْ آخِرِهِ، وَانْتَهَى وِتْرُهُ إِلَى السَّحَرِ . متفقٌ عَلَيْهِ
২/১১৪০। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাতের প্রতিটি ভাগেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতির পড়েছেন; রাতের প্রথম ভাগে, এর মধ্য ভাগে ও শেষ ভাগে। তাঁর বিতরের শেষ সময় ছিল ভোরবেলা পর্যন্ত।’ (বুখারী, মুসলিম)[1]
(অর্থাৎ এর প্রথম সময় এশার পর পরই শুরু হয় আর শেষ সময় ফজর উদয়কাল অবধি অবশিষ্ট থাকে। এর মধ্যে যে কোন সময় ১,৩,৫,৭, প্রভৃতি বিজোড় সংখ্যায় বিতির পড়া বিধেয়।)
[1] মুসলিম ৭৪৫, তিরমিযী ৪৫৬, নাসায়ী ১৬৮১, আবূ দাউদ ১৪৩৫, ইবনু মাজাহ ১১৮৫, আহমাদ ২৪৪৫৩, দারেমী ১৫৮৭
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «اجْعَلُوا آخِرَ صَلاَتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْراً». متفقٌ عَلَيْهِ
৩/১১৪১। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা তোমাদের রাতের শেষ নামায বিতির কর।” (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৪৭২, ৯৯৫, নাসায়ী , ৪৭৩, ৯৯১, ৯৯৩, ৯৯৮, ১১৩৭, মুসলিম ৭৪৯, ৭৫১, তিরমিযী ৪৩৭, ৪৬১, নাসায়ী ১৬৬৬, ১৬৬৭, ১৬৬৮, ১৬৬৯, ১৬৭০, ১৬৭১, ১৬৭২, ১৬৭৩, ১৬৭৪, ১৬৮২, ১৬৯২, ১৬৯৪, আবূ দাউদ ১৪২১, ১৪৩৮, ইবনু মাজাহ ১১৭৪, ১১৭৫, ১১৭৬, ১৩২২, আহমাদ ৪৪৭৮, ৪৫৪৫, ৪৬৯৬, ৪৭৭৬, ৪৮৩২, ৪৮৪৫, ৪৯৫১, ৫০১২, মুওয়াত্তা মালিক ২৬১, ২৬৯, ২৭৫, ২৭৬, দারেমী ১৪৫৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِي: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَوْتِرُوا قَبْلَ أَنْ تُصْبِحُوا». رواه مسلم
৪/১১৪২। আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ফজর হওয়ার পূর্বেই তোমরা বিতির পড়ে ফেল।” (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৭৫৪, তিরমিযী ৪৬৮, নাসায়ী ১৬৮৩, ১৬৮৪, ইবনু মাজাহ ১১৮৯, আহমাদ ১০৭১, ১০৯০৯, ১০৯৩১, ১১২০৮, দারেমী ১৫৮৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: أَنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي صَلاَتَهُ بِاللَّيْلِ، وَهِيَ مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَإذَا بَقِيَ الوِتْرُ، أَيْقَظَهَا فَأَوْتَرتْ . رواه مسلم
وفي روايةٍ لَهُ: فَإذَا بَقِيَ الوِتْرُ، قَالَ: قُومِي فَأَوتِرِي يَا عَائِشَة
৫/১১৪৩। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাঁর (তাহাজ্জুদ) নামায পড়তেন। আর তিনি (আয়েশা) তাঁর সামনে আড়াআড়ি শুয়ে থাকতেন। অতঃপর যখন (সব নামায পড়ে) বিতির বাকি থাকত, তখন তাঁকে তিনি জাগাতেন এবং তিনি (আয়েশা) বিতির পড়তেন। (মুসলিম)[1]
অন্য বর্ণনায় আছে, যখন বিতির অবশিষ্ট থাকত, তখন তিনি বলতেন, “আয়েশা! উঠ, বিতির পড়ে নাও।”
[1] মুসলিম ৭৪৪, সহীহুল বুখারী ৫১২-১৫, ৫১৯, নাসায়ী ১৬৬-৬৮, ৭৫৯, আবূ দাউদ ৭১০-১৪, আহমাদ ২৪৬৫৮, ২৫১৬৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «بَادِرُوا الصُّبْحَ بِالوِتْرِ».رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح
৬/১১৪৪। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ফজর হওয়ার আগে ভাগেই বিতির পড়ে নাও।” (আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান সহীহ)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৯৯৫, ৪৭২, নাসায়ী , ৪৭৩, ৯৯১, ৯৯৩, ৯৯৮, ১১৩৭, মুসলিম ৭৪৯, ৭৫১, তিরমিযী ৪৩৭, ৪৬১, নাসায়ী ১৬৬৬, ১৬৬৭, ১৬৬৮, ১৬৬৯, ১৬৭০, ১৬৭১, ১৬৭২, ১৬৭৩, ১৬৭৪, ১৬৮২, ১৬৯২, ১৬৯৪, আবূ দাউদ ১৪২১, ১৪৩৮, ইবনু মাজাহ ১১৭৪, ১১৭৫, ১১৭৬, ১৩২২, আহমাদ ৪৪৭৮, ৪৫৪৫, ৪৬৯৬, ৪৭৭৬, ৪৮৩২, ৪৮৪৫, ৪৯৫১, ৫০১২, মুওয়াত্তা মালিক ২৬১, ২৬৯, ২৭৫, ২৭৬, দারেমী ১৪৫৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «مَنْ خَافَ أَنْ لاَ يَقُومَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ، فَلْيُوتِرْ أَوَّلَهُ، وَمَنْ طَمِعَ أَنْ يَقُومَ آخِرَهُ فَلْيُوتِرْ آخِرَ اللَّيلِ، فَإِنَّ صَلاَةَ آخِرِ اللَّيْلِ مَشْهُودَةٌ، وَذَلِكَ أَفْضَلُ». رواه مسلم
৭/১১৪৫। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি শেষ রাতে উঠতে না পারার আশংকা করবে, সে যেন শুরু রাতেই বিতির পড়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি রাতের শেষ ভাগে উঠে (ইবাদত) করার লালসা রাখে, সে যেন রাতের শেষ ভাগেই বিতির সমাধা করে। কারণ, রাতের শেষ ভাগের নামাযে ফেরেশতারা হাজির হন এবং এটিই উত্তম আমল। (মুসলিম)[1]
[1] মুসলিম ৭৫৫, তিরমিযী ৪৫৫, ইবনু মাজাহ ১১৮৭, আহমাদ ১৩৯৭২, ১৪২১৫, ১৪৩৩৫, ২৭০২১
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ