হাদীস বিএন


রিয়াদুস সালিহীন





রিয়াদুস সালিহীন (1346)


وَعَن أَبي يَحيَى خُرَيْمِ بنِ فَاتِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم : «مَنْ أَنْفَقَ نَفَقَةً فِي سَبِيلِ اللهِ كُتِبَ لَهُ سَبْعُمِئَةِ ضِعْفٍ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن.




৫৪/১৩৪৬। আবূ য়্যাহয়্যা খুরাইম ইবনে ফাতেক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কিছু খরচ করে, তার জন্য সাতশ’ গুণ নেকী লেখা হয়।” (তিরমিযী, হাসান) [1]


[1] তিরমিযী ১৬২৫, নাসায়ী ৩১৮৬

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান









রিয়াদুস সালিহীন (1347)


وَعَن أَبي سَعِيدٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم : «مَا مِنْ عَبْدٍ يَصُومُ يَوْماً فِي سَبيلِ اللهِ إِلاَّ بَاعَدَ اللهُ بِذلِكَ اليَوْمِ وَجهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرْيفاً». متفقٌ عَلَيْهِ




৫৫/১৩৪৭। আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে বান্দা আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা রাখবে, আল্লাহ ঐ একদিন (রোযার) বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নাম হতে সত্তর বছর (দূরত্ব সম) দূরে রাখবেন।” (বুখারী, মুসলিম)[1]


[1] সহীহুল বুখারী ২৮৪০, মুসলিম ১১৫২, তিরমিযী ১৬২৩, নাসায়ী ২২৫১-২২৫৩, ইবনু মাজাহ ১৭১৭, আহমাদ ১০৮২৬, ১১০১৪, ১১১৬৬, ১১৩৮১, দারেমী ২৩৯৯

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1348)


وَعَن أَبي أُمَامَة رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ صَامَ يَوْماً فِي سَبِيلِ اللهِ جَعَلَ اللهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّارِ خَنْدَقاً كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح




৫৬/১৩৪৮। আবূ উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোযা রাখবে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মধ্যে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যেকার দূরত্ব-সম একটি গর্ত খনন করে দেবেন।” (তিরমিযী হাসান সহীহ) [1]


[1] তিরমিযী ১৬২৪

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান









রিয়াদুস সালিহীন (1349)


وَعَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم : «مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْزُ، وَلَمْ يُحَدِّثْ نَفْسَهُ بِالغَزْوِ، مَاتَ عَلَى شُعْبَةٍ مِنَ النِّفَاقِ». رواه مسلم




৫৭/১৩৪৯। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ সে জিহাদ করেনি এবং অন্তরে জিহাদ সম্পর্কে কোন চিন্তা-ভাবনাও করেনি, সে মুসাফেকীর একটি শাখায় মৃত্যুবরণ করল।” (মুসলিম)[1]


[1] মুসলিম ১৯১০, নাসায়ী ৩০৯৭, আবূ দাউদ ২৫০২

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1350)


وَعَن جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فِي غَزَاةٍ فَقَالَ: «إنَّ بِالمَدِينَةِ لَرِجَالاً مَا سِرْتُمْ مَسِيراً، وَلاَ قَطَعْتُمْ وَادِياً إِلاَّ كَانُوا مَعَكُمْ، حَبَسَهُمُ المَرَض» . وفي رواية: «حَبَسَهُمُ العُذْرُ» . وفي رواية: إِلاَّ شَرَكُوكُمْ في الأجْرِ». رواه البخاري من رواية أنس، ورواه مسلم من رواية جابر واللفظ لَهُ .




৫৮/১৩৫০। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক যুদ্ধে ছিলাম। তিনি বললেন, “মদিনাতে কিছু লোক এমন আছে যে, তোমরা যত সফর করছ এবং যে কোন উপত্যকা অতিক্রম করছ, তারা তোমাদের সঙ্গে রয়েছে। অসুস্থতা তাদেরকে মদিনায় থাকতে বাধ্য করেছে।” আর একটি বর্ণনায় আছে যে, “কোন ওজর তাদেরকে মদিনায় থাকতে বাধ্য করেছে।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “তারা নেকীতে তোমাদের অংশীদার।” (বুখারী আনাস হতে, মুসলিম জাবের হতে এবং শব্দাবলী তাঁরই।)[1]


[1] সহীহুল বুখারী ২৮৩৯, মুসলিম ১৯১১, ইবনু মাজাহ ২৭৬৫, আহমাদ ১৪২৬৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1351)


وَعَن أَبي مُوسَى رضي الله عنه: أَنَّ أَعْرَابياً أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، الرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِلْمَغْنَمِ، وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِيُذْكَرَ، وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ ليُرَى مَكَانُهُ ؟ وفي رواية: يُقَاتِلُ شَجَاعَةً، وَيُقَاتِلُ حَمِيَّةً وفي رواية: يُقَاتِلُ غَضَباً، فَمَنْ فِي سَبِيلِ اللهِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم : «مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللهِ هِيَ العُلْيَا، فَهُوَ فِي سَبيلِ اللهِ». متفقٌ عَلَيْهِ




৫৯/১৩৫১। আবূ মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, ‘এক লোক গনিমতের মালের জন্য, এক লোক নাম নেওয়ার জন্য আর এক লোক নিজ মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য জিহাদে অংশ গ্রহণ করল।’ অন্য বর্ণনায় আছে, ‘বীরত্ব দেখাবার জন্য এবং বংশীয় ও গোত্রীয় পক্ষপাতিত্বের জন্য।’ আর এক বর্ণনানুযায়ী, ‘ক্রুদ্ধ হয়ে জিহাদে অংশ গ্রহণ করল। তাদের মধ্যে কে আল্লাহর পথে জিহাদ করল?’ তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি আল্লার বাণীকে উঁচু করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করল, সেই আল্লাহর পথে জিহাদ করল।” (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ১২৩, ২৮১০, ৩১২৬, ৭৪৫৮, মুসলিম ১৯০৪, তিরমিযী ১৬৪৬, নাসায়ী ৩১৩৬, আবূ দাউদ ২৫১৭, ইবনু মাজাহ ২৭৮৩, আহমাদ ১৮৯৯৯, ১৯০৪৯, ১৯০৯৯, ১৯১৩৪, ১৯২৪০

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1352)


وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم : «مَا مِنْ غَازِيَةٍ، أَوْ سَرِيّةٍ تَغْزُو، فَتَغْنَمُ وَتَسْلَمُ، إِلاَّ كَانُوا قَدْ تَعَجَّلُوا ثُلُثَيْ أُجُورهُمْ، وَمَا مِنْ غَازِيَةٍ أَوْ سَرِيّةٍ تُخْفِقُ وَتُصَابُ إِلاَّ تَمَّ لَهُمْ أُجُورهُمْ». رواه مسلم




৬০/১৩৫২। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ-স রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে যোদ্ধাদল বা সেনাবাহিনী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করল এবং গনিমতের সম্পদ অর্জন করল তথা নিরাপদে বাড়ি ফিরে এলো, সে দল বা বাহিনী স্বীয় প্রতিদানের (নেকীর) তিন ভাগের দু’ভাগ (পার্থিব জীবনেই) সত্বর লাভ করে নিলো (এবং একভাগ পরকালে পাবে)। আর যে সেনাদল লড়াই করল এবং গনিমতের মালও পেল না এবং শহীদ বা ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল, সে সেনাদল (পরকালে) পূর্ণ প্রতিদান অর্জন করবে।” (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ১৯০৬, নাসায়ী ৩১২৫, আবূ দাউদ ২৪৯৭, ইবনু মাজাহ ২৭৮৫, আহমাদ ৬৫৪১

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1353)


وَعَن أَبي أُمَامَة رضي الله عنه: أَنَّ رَجُلاً، قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، اِئْذَنْ لِي فِي السِّيَاحَةِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ سِيَاحَةَ أُمَّتِي الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ - عز وجل - رواه أَبُو داود بإسنادٍ جيدٍ




৬১/১৩৫৩। আবূ উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একটি লোক নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে (সংসার ত্যাগ করে বিদেশ) ভ্রমণ করার অনুমতি দিন।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আমার উম্মতের ভ্রমণ কার্য আল্লাহর পথে জিহাদ করার মধ্যে নিহিত।” (আবূ দাউদ, উত্তম সানাদ) [1]


[1] আবূ দাউদ ২৪৮৬

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান









রিয়াদুস সালিহীন (1354)


وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «قَفْلَةٌ كَغَزْوَةٍ». رواه أَبُو داود بإسنادٍ جيدٍ




৬২/১৩৫৪। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন করার নেকীও জিহাদে লিপ্ত থাকার মতই।” (আবূ দাউদ উত্তম সানাদ)[1]

অর্থাৎ জিহাদ থেকে ফিরে আসার নেকীও জিহাদের মতই। (যেহেতু সে অবসর ও বিশ্রাম জিহাদের স্বার্থেই হয়।)


[1] আবূ দাউদ ২৪৮৭, আহমাদ ৬৫৮৮

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান









রিয়াদুস সালিহীন (1355)


وَعَن السَّائِبِ بنِ يَزِيدَ رضي الله عنه، قَالَ: لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ تَلَقَّاهُ النَّاسُ، فَتَلَقّيتُهُ مَعَ الصِّبْيَانِ عَلَى ثَنيَّةِ الوَدَاعِ. رواه أَبُو داود بإسنادٍ صحيح بهذا اللفظ
ورواه البخاري قَالَ: ذَهَبنا نَتَلَقَّى رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، مَعَ الصِّبْيَانِ إِلَى ثَنِيَّةِ الوَدَاعِ.




৬৩/১৩৫৫। সায়েব ইবনে ইয়াযিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবূত অভিযান হতে ফিরে এলেন, তখন তাঁকে (আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকল) মানুষ সবাগত জ্ঞাপন করেছিল। আমিও ছোট শিশুদের সাথে (মদিনার উপকণ্ঠে অবস্থিত) ‘সানিয়াতুল অদা’ নামক স্থানে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলাম।” (আবূ দাউদ- উক্ত শব্দে শুদ্ধ সানাদে) [1]

বুখারীতে আছে, সায়েব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমরা ছোট ছোট ছেলেদের সঙ্গে ‘সানিয়াতুল অদা’ নামক স্থানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম।”


[1] সহীহুল বুখারী ৩০৮৩, ৪৪২৭, ৪৪২৮, তিরমিযী ১৭১৮, আবূ দাউদ ২৭৭৯, আহমাদ ১৫২৯৪

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1356)


وَعَن أَبي أُمَامَة رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ لَمْ يَغْزُ، أَوْ يُجَهِّزْ غَازِياً، أَوْ يَخْلُفْ غَازياً في أهْلِهِ بِخَيرٍ، أصَابَهُ اللهُ بِقَارعَةٍ قَبْلَ يَوْمِ القِيَامَةِ». رواه أَبُو داود بإسناد صحيح




৬৪/১৩৫৬। আবূ উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করল না, অথবা কোন মুজাহিদকে (যুদ্ধ-সরঞ্জাম দিয়ে যুদ্ধের জন্য) প্রস্তুত করল না কিংবা মুজাহিদদের গৃহবাসীদের ভালভাবে তত্ত্বাবধান করার জন্য তার প্রতিনিধিত্ব করল না, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের পূর্বেই কোন বিপদ বা দুর্ঘটনায় আক্রান্ত করবেন।” (আবূ দাউদ শুদ্ধ সানাদ) [1]


[1] আবূ দাউদ ২৫০৩, ইবনু মাজাহ ২৭৬২, দারেমী ২৪১৮

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1357)


وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «جَاهِدُوا المُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ». رواه أَبُو داود بإسنادٍ صحيح




৬৫/১৩৫৭। আনাস হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমরা জান-মাল ও বাক্য দ্বারা সংগ্রাম চালাও।” (আবূ দাউদ, বিশুদ্ধ সানাদ)[1]


[1] আবূ দাউদ ২৫০৪, নাসায়ী ৩০৯৬, ৩১৯২, আহমাদ ১১৮৩৭, ১২১৪৫, ১৩২২৬, দারেমী ২৪৩১

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1358)


وَعَن أَبي عَمرٍو - وَيُقَالُ: أَبُو حَكِيمٍ - النُّعْمَانِ بنِ مُقَرِّنٍ رضي الله عنه قَالَ: شَهِدْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، إِذَا لَمْ يُقَاتِلْ مِن أَوَّلِ النَّهَارِ أَخَّرَ القِتَالَ حَتَّى تَزُوْلَ الشَّمْسُ، وَتَهُبَّ الرِّيَاحُ، وَيَنْزِلَ النَّصْرُ . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح




৬৬/১৩৫৮। আবূ আমর মতান্তরে আবূ হাকীম নু’মান ইবনে মুক্বার্রিন হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুদ্ধে হাজির ছিলাম। (তাঁর রণকৌশল এই ছিল যে,) যদি তিনি দিনের শুরুতে যুদ্ধ না করতেন, তাহলে সূর্য ঢলে যাওয়া ও বাতাস প্রবাহিত হওয়া এবং সাহায্য নেমে না আসা পর্যন্ত যুদ্ধ স্থগিত রাখতেন।’ (আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান সহীহ) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ৩১৬০, তিরমিযী ১৬১২, ১৬১৩, আবূ দাউদ ২৬৫৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান









রিয়াদুস সালিহীন (1359)


وَعَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم : «لاَ تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ العَدُوِّ، وَاسْأَلُوا اللهَ العَافِيَةَ، فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا». متفقٌ عَلَيْهِ




৬৭/১৩৫৯। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “শত্রুর সাথে মুকাবিলা করার আকাঙ্ক্ষা করো না; বরং আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা কর। আর যদি তাদের সম্মুখীন হয়ে যাও, তাহলে ধৈর্য ধারণ কর।” (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ২৯৬৫, ২৯৬৬,২৮১৯, ২৮৩৩, ২৯৩৩, ৩০২৪, ৩০২৬, ৪১১৫, ৬৩৯২, ৭২৩৭,ম ৭৪৮৯, মুসলিম ১৭৪১, ১৭৪২ তিরমিযী ১৬৭৮, আবূ দাউদ ২৬৩১, ইবনু মাজাহ ২৭৯৬, আহমাদ ১৮৬২৮, ১৮৬৫০, ১৮৬৬০, ১৮৯১৭

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1360)


وَعَنهُ وَعَن جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: الحَرْبُ خَدْعَةٌ». متفقٌ عَلَيْهِ




৬৮/১৩৬০। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু উভয় কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যুদ্ধ হচ্ছে প্রতারণামূলক এক ধরনের চক্রান্ত।” (বুখারী) [1]



(অন্য সময় ধোঁকা ও প্রতারণা অবৈধ হলেও যুদ্ধের সময় তা বৈধ। যেহেতু রক্ত-পিয়াসী শত্রুকে যেন-তেন প্রকারে পরাস্ত করাই উদ্দিষ্ট।)


[1] সহীহুল বুখারী ৩০৩০, মুসলিম ১৭৩৯, তিরমিযী ১৬৭৫, আবূ দাউদ ২৬৩৬, আহমাদ ১৩৭৬৫, ১৩৮৯৬

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1361)


وَعَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم : «الشُّهَدَاءُ خَمْسَةٌ: المَطْعُونُ وَالمَبْطُونُ، وَالغَرِيقُ، وَصَاحِبُ الهَدْمِ، وَالشَّهِيدُ فِي سَبِيلِ اللهِ». متفقٌ عَلَيْهِ




পারলৌকিক সওয়াবের দিক দিয়ে যারা শহীদ, তাঁদেরকে গোসল দিয়ে জানাজার নামায পড়ে সমাধিস্থ করতে হবে। পক্ষান্তরে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিহত প্রকৃত শহীদদের যে অবস্থায় নিহত হবে সেই অবস্থায় দাফন করতে হবে।



১/১৩৬১। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “(পারলৌকিক পুরস্কারে পুরস্কৃত হওয়ার দিক দিয়ে) শহীদ পাঁচ ধরনের; (১) প্লেগ-রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত, (২) পেটের রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত, (৩) পানিতে ডুবে মৃত, (৪) মাটি চাপা পড়ে মৃত এবং (৫) আল্লাহর পথে থাকা অবস্থায় মৃত।” (বুখারী-মুসলিম) [1]




[1] সহীহুল বুখারী ৬১৫, ৬৫৩, ৭২১, ২৪৭২, ২৬৮৯, ২৮২৯, ৫৭৩৩, মুসলিম ৪৩৭, ৪৩৯, ১৯১৪, তিরমিযী ২২৫, ১০৬৩, ১৯৫৮, নাসায়ী ৪৫০, ৭৭১, আবূ দাউদ ৫২৪৫, ইবনু মাজাহ ৯৭৯, আহমাদ ৭১৮৫, ৭৬৮০, ৭৭৮২, ৭৯৬২, ৮১০৬, ৮২৯৩, ৯২০২, ৯৭৫০, মুওয়াত্তা মালিক ১৫১, ২৯৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1362)


وَعَنهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم : «مَا تَعُدُّونَ الشُّهَدَاءَ فِيكُمْ ؟» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، مَنْ قُتِلَ فِي سَبيلِ اللهِ فَهُوَ شَهِيدٌ . قَالَ: «إِنَّ شُهَدَاءَ أُمَّتِي إِذَاً لَقَليلٌ» قالوا: فَمَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: «مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ الله فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي سَبِيلِ الله فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي الطَّاعُونِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي البَطْنِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَالغَرِيقُ شَهِيدٌ». رواه مسلم




২/১৩৬২। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা তোমাদের মাঝে কোন কোন ব্যক্তিকে শহীদ বলে গণ্য কর?” সকলেই বলে উঠল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে যে নিহত হয়, সেই শহীদ।’ তিনি বললেন, “তাহলে তো আমার উম্মতের মধ্যে শহীদ খুবই অল্প।” লোকেরা বলল, ‘তাহলে তাঁরা কে কে হে আল্লাহর রাসূল?’ তিনি বললেন, “যে আল্লাহর পথে নিহত হয় সে শহীদ, যে আল্লাহর পথে মারা যায় সে শহীদ, যে প্লেগ রোগে মারা যায় সে শহীদ, যে পেটের রোগে প্রাণ হারায়, সে শহীদ এবং যে পানিতে ডুবে মারা যায় সেও শহীদ।” (মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ৬৫৪, ২৪৭২, মুসলিম ১৯১৪, ১৯১৫, তিরমিযী ১০৬২, ১৯৫৮, আবূ দাউদ ৫২৪৫, ইবনু মাজাহ ২৮০৪, ৩৬৮২, আহমাদ ৭৭৮২, ৭৯৭৯, ৮১০৬, ৮৩১৫, ৯১১৫, মুওয়াত্তা মালিক ২৯৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1363)


وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم : «مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ». متفقٌ عَلَيْهِ




৩/১৩৬৩। ‘আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আমর ইবনে ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার ধন-সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে খুন হয়, সে শহীদ।” (বুখারী-মুসলিম)[1]


[1] সহীহুল বুখারী ২৪৮০, মুসলিম ১৪১, তিরমিযী ১৪১৯, ১৪২০, নাসায়ী ৪০৮৪-৪০৮৯, আবূ দাউদ ৪৭৭১, আহমাদ ৬৪৮৬, ৬৭৭৭, ৬৭৮৪, ৬৮৮৩, ৬৯১৭, ৭০১৫, ৭০৪৪

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1364)


وَعَن أَبي الأعْوَرِ سَعيدِ بنِ زَيدِ بنِ عَمْرِو بنِ نُفَيْلٍ، أَحَدِ العَشَرَةِ المَشْهُودِ لَهُمْ بِالجَنَّةِ، قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ قُتِلَ دُونَ دَمِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ قُتِلَ دُونَ دِينهِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ قُتِلَ دُونَ أَهْلِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح




৪/১৩৬৪। জীবদ্দশায় জান্নাতি হবার শুভ সংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীদের অন্যতম সাহাবী আবুল আ’ওয়ার সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি তার মাল-ধন রক্ষা করতে গিয়ে খুন হয়, সে শহীদ। যে ব্যক্তি নিজ রক্ত (প্রাণ) রক্ষা করতে গিয়ে খুন হয়, সে শহীদ। যে তার দ্বীন রক্ষা করতে গিয়ে খুন হয়, সে শহীদ এবং যে তার পরিবার রক্ষা করতে গিয়ে খুন হয়, সেও শহীদ। (আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান সহীহ) [1]


[1] আবূ দাউদ ৪৭৭২, তিরমিযী ১৪১৮, ১৪২১, নাসায়ী ৪০৯০, ৪০৯০, ৪০৯৪, ৪০৯৫,াজা ২৫৮০, আহমাদ ১৬৩১, ১৬৩৬, ১৬৫২

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান









রিয়াদুস সালিহীন (1365)


وَعَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، أَرَأيتَ إنْ جَاءَ رَجُلٌ يُرِيدُ أَخْذَ مَالِي ؟ قَالَ: «فَلاَ تُعْطِهِ مَالَكَ» قَالَ: أَرَأَيْتَ إِنْ قَاتَلَنِي ؟ قَالَ: «قَاتِلْهُ» قَالَ: أَرَأَيْتَ إِنْ قَتَلَنِي ؟ قَالَ: «فَأَنْتَ شَهِيدٌ» قَالَ: أَرَأيْتَ إِنْ قَتَلْتُهُ ؟ قَالَ: «هُوَ فِي النَّارِ». رواه مسلم




৫/১৩৬৫। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বলুন, যদি কেউ আমার মাল (অবৈধভাবে) নিতে আসে তাহলে কি করতে হবে?’ তিনি বললেন, “তুমি তাকে তোমার মাল দেবে না।” পুনরায় সে নিবেদন করল, ‘যদি সে আমার সাথে লড়াই করে?’ তিনি বললেন, “তাহলে (তুমিও) তার সাথে লড়াই কর।” সে বলল, ‘বলুন, সে যদি আমাকে হত্যা করে দেয়?’ তিনি বললেন, “তাহলে তুমি শহীদ হয়ে যাবে।” সে আবার জিজ্ঞাসা করল, ‘বলুন, আমি যদি তাকে মেরে ফেলি (তাহলে কি হবে)?’ তিনি বললেন, “তাহলে সে জাহান্নামী হবে।” (মুসলিম)[1]


[1] মুসলিম ১৪০

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ