রিয়াদুস সালিহীন
وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «اثْنَتَان فِي النَّاسِ هُمَا بِهِمْ كُفْرٌ : الطَّعْنُ فِي النَّسَبِ، وَالنِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ». رواه مسلم
মহান আল্লাহ বলেছেন,
﴿وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا﴾ [الاحزاب : ٥٨]
অর্থাৎ যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব ৫৮ আয়াত)
১/১৫৮৬। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘লোকের মধ্যে দু’টি এমন দোষ রয়েছে, যা আসলে কাফেরদের [আচরণ]: বংশে খোঁটা দেওয়া এবং মৃত ব্যক্তির জন্য মাতম করা।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৬৭, তিরমিযী ১০০১, আহমাদ ৭৮৯৪৮, ৮৬৮৮, ৯১০১, ৯২৯১, ৯৩৯৭, ৯৫৬২, ১০০৫৭, ১০৪২৮, ১০৪৯০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلاَحَ فَلَيْسَ مِنَّا، وَمَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا» . رواه مسلم
وفي رواية لَهُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، مَرَّ عَلَى صُبْرَةِ طَعَامٍ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِيهَا فَنَالَتْ أَصَابِعُهُ بَلَلاً، فَقَالَ: «مَا هذَا يَا صَاحِبَ الطَّعَامِ ؟» قَالَ: أَصَابَتهُ السَّمَاءُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ: «أَفَلاَ جَعَلْتَهُ فَوقَ الطَّعَامِ حَتَّى يرَاهُ النَّاسُ ! مَنْ غشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا» .
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا﴾ [الاحزاب : ٥٨]
অর্থাৎ যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব ৫৮ আয়াত)
১/১৫৮৭। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে আমাদের উপর অস্ত্র তোলে। আর যে আমাদেরকে ধোঁকা দেয়, সেও আমাদের দলভুক্ত নয়।’’ (মুসলিম)[1]
অন্য এক বর্ণনায় আছে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [বাজারে] এক খাদ্যরাশির নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাতে নিজ হাত ঢুকালেন। তিনি আঙ্গুলে অনুভব করলেন যে, ভিতরের শস্য ভিজে আছে। বললেন, ‘‘ওহে ব্যাপারী! এ কি ব্যাপার?’’ ব্যাপারী বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! ওতে বৃষ্টি পড়েছে।’ তিনি বললেন, ‘‘ভিজেগুলোকে শস্যের উপরে রাখলে না কেন, যাতে লোকে দেখতে পেত? [জেনে রেখো!] যে আমাদেরকে ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’’
[1] মুসলিম ১০১, ইবনু মাজাহ ২৫৭৫, আহমাদ ৮১৫৯, ২৭৫০০ [দ্বিতীয়াংশ) মুসলিম ১০২, তিরমিযী ১৩১৫, ইবনু মাজাহ ২২৪, আহমাদ ৭২৫০, ২৭৫০০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْهُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لاَ تَنَاجَشُوا». متفق عَلَيْهِ
২/১৫৮৮। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘[ক্রয় করার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও বিক্রেতার জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি করার জন্য ক্রেতা আকৃষ্ট করে] দালালি করো না।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ২১৪০, ২১৪৮, ২১৫০, ২১৫১, ২১৬০, ২১৬২, ২৭২৩, ২৭২৭, ৫১৫২, ৬৬০১, মুসলিম ১০৭৬, ১৪১৩, ১৫১৫, তিরমিযী ১১৩৪, ১১৯০, ১২২১, ১২২২, ১২৫১, ১২৫২, ১৩০৪, নাসায়ী ৩২৩৯, ৩২৪০, ৩২৪১, ৩২৪২, ৪৪৮৭, ৪৪৯০, ৪৪৮৯, ৪৪৯১, ৪৪৯৬, ৪৫০২, ৪৫০৬, ৪৫০৭, আবূ দাউদ ২০৮০, ৩৪৩৭, ৩৪৩৮, ৩৪৪৩, ৩৪৪৪, ৩৪৪৫, ইবনু মাজাহ ১৮৬৭, ২১৭২, ২১৭৪, ২১৭৫, ২১৭৮, ২২৩৯, আহমাদ ৭২০৭, ৭২৬৩, ৭২৭০, ৭৩৩৩, ৭৪০৬, ৭৪৭১, ৭৬৪১, ৮০৩৯, ৮৫০৫, ৮৭১৩, ৮৭৮০, ৮৮৭৬, ৯০১৩, ৯০৫৫, ৯৬১১, ৯৯০৬, মুওয়াত্তা মালিক ১১১১ দারেমী ২১৭৫, ২৫৫৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، نَهىَ عَنِ النَّجْشِ . متفق عَلَيْهِ
৩/১৫৮৯। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, [তিনি বলেন,] ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [ক্রেতাকে ধোঁকা দিয়ে মূল্য বৃদ্ধি করার] দালালি করতে নিষেধ করেছেন।’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ২১৪২, ৬৯৬৩, মুসলিম ১৫১৬, নাসায়ী ৪৪৯৭, ৪৫০৫, ইবনু মাজাহ ২১৭৩, আহমাদ ৫৮২৮, ৬৪১৫, মুওয়াত্তা মালিক ১৩৯২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْهُ، قَالَ: ذَكَرَ رَجُلٌ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم : أنَّهُ يُخْدَعُ في البُيُوعِ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «مَنْ بَايَعْتَ، فَقُلْ : لاَ خِلاَبَةَ» . متفق عَلَيْهِ
৪/১৫৯০। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি লোক এসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিবেদন করল যে, সে ব্যবসা বাণিজ্য বা ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ধোঁকা খায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘যার সাথে তুমি কেনা-বেচা করবে, তাকে বলে দেবে যে, ধোঁকা যেন না হয়।’’ [অর্থাৎ আমার পণ্য বস্তু ফিরিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার থাকবে।] (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ২১১৭, ২৪০৭, ২৪১৪, ৬৯৬৪, মুসলিম ১৫৩৩, নাসায়ী ৪৮৮৪, আবূ দাউদ ৩৫০০, আহমাদ ৫০১৫, ৫২৪৯, ৫৩৮২, ৫৪৯১, ৫৮২০, ৬০৯৯, মুওয়াত্তা মালিক ১৩৯৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «مَنْ خَبَّبَ زَوْجَةَ امْرِئٍ، أَوْ مَمْلُوكَهُ، فَلَيْسَ مِنَّا» . رواهُ أَبُو داود
৫/১৫৯১। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে কারো স্ত্রী অথবা কারো ভৃত্যকে প্ররোচনা বা প্রলোভন দ্বারা নষ্ট করবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।’’ [আবূ দাঊদ][1]
[1] আবূ দাউদ ৫১৭০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقاً خَالِصاً، وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَها : إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ، وَإِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ، وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ» . متفق عَلَيْهِ .
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ﴾ [المائدة: ١]
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূর্ণ কর। (সূরা মায়েদাহ ১ নং আয়াত)
তিনি আরও বলেছেন, ﴿وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا﴾ [الاسراء: ٣٤]
অর্থাৎ আর প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে। (সূরা বানী ঈস্রাঈল ৩৪ আয়াত)
১/১৫৯২। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবন ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, ‘‘চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকবে সে খাঁটি মুনাফিক গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তির মাঝে তার মধ্য হতে একটি স্বভাব থাকবে, তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকদের একটি স্বভাব থেকে যাবে। [সে স্বভাবগুলি হল,] ১। তার কাছে আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে। ২। কথা বললে মিথ্যা বলে। ৩। ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং ৪। ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল ভাষা বলে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৩৪, ২৪৫৯, ৩১৭৮, মুসলিম ৫৮, তিরমিযী ২৬৩২, নাসায়ী ৫০২০ আবূ দাউদ ৪৫৮৮, আহমাদ ৬৭২৯, ৬৮২৫, ৬৮৪০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وعَنِ ابنِ مَسعودٍ، وَابنِ عُمَرَ، وَأَنَسٍ - رَضِيَ الله عَنهُم - قَالُوا : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : «لِكُلِّ غادِرٍ لِواءٌ يَوْمَ القِيَامَةِ، يُقَالُ : هَذِهِ غَدْرَةُ فُلاَنٍ» . متفق عَلَيْهِ
২/১৫৯৩। ইবনে মাসঊদ, ইবনে উমার ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কিয়ামতের দিনে প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি করে [বিশেষ] পতাকা নির্দিষ্ট হবে। বলা হবে যে, এটা অমুক ব্যক্তির [বিশ্বাসঘাতকতার] প্রতীক।’’ (বুখারী, মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৩১৮৬, ৩১৮৭, ৩১৮৮, ৬১৭৭, ৬১৭৮, ৬৯৬৬, ৭১১১, মুসলিম ১৭৩৬, ১৭৩৭, ইবনু মাজাহ ২৮৭২, আহমাদ ৩৮৯০, ২৯৪৯, ৪১৮৯, ১২০৩৫, ১২১০৯, ১৩২০০, ১৩৪৪৬, দারেমী ২৫৪২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِيّ رضي الله عنه : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ عِنْدَ اسْتِهِ يومَ القِيَامَةِ يُرْفَعُ لَهُ بِقَدَرِ غَدْرِهِ، أَلاَ وَلاَ غَادِرَ أَعْظَمُ غَدْراً مِنْ أَمِيرِ عَامَّةٍ» . رواه مسلم
৩/১৫৯৪। আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কিয়ামতের দিনে প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের পাছায় একটা পতাকা থাকবে, যাকে তার বিশ্বাসঘাতকতা অনুপাতে উঁচু করা হবে। জেনে রেখো! রাষ্ট্রনায়কের [বিশ্বাসঘাতক হলে তার] চেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক আর অন্য কেউ হতে পারে না।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ১৭৩৮, তিরমিযী ২১৯১, ইবনু মাজাহ ২৮৭৩, আহমাদ ১০৬৫১, ১০৭৫৯, ১০৯১০, ১০৯৫৮, ১১০৩৫, ১১১৯৩, ১১২২২, ১১২৬৯, ১১৩৮৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «قَالَ الله تَعَالَى : ثَلاَثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ القِيَامَةِ : رَجُلٌ أَعْطَى بِي ثُمَّ غَدَرَ، وَرَجُلٌ بَاعَ حُرَّاً فَأَكَلَ ثَمَنَهُ، وَرَجُلٌ اسْتَأجَرَ أَجِيراً، فَاسْتَوْفَى مِنْهُ، وَلَمْ يُعْطِهِ أَجْرَهُ» . رواه البخاري
৪/১৫৯৫। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘‘তিন প্রকার লোক এমন আছে, কিয়ামতের দিন যাদের প্রতিবাদী স্বয়ং আমি; [১] সে ব্যক্তি, যে আমার নামে অঙ্গীকারাবদ্ধ হল, পরে তা ভঙ্গ করল। [২] সে ব্যক্তি, যে স্বাধীন মানুষকে [প্রতারণা দিয়ে] বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করল। [৩] সে ব্যক্তি, যে কোন মজুরকে খাটিয়ে তার নিকট থেকে পুরাপুরি কাজ নিল, কিন্তু তার মজুরী দিল না।’’ (বুখারী) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ২২২৭, ২২৭০, ইবনু মাজাহ ২৫৪২, আহমাদ ৮৪৭৭
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي ذَرٍّ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ القِيَامَةِ، وَلاَ يَنْظُرُ إلَيْهِمْ، وَلاَ يُزَكِّيِهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَليمٌ» قَالَ: فَقَرَأَهَا رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَ مِرَارٍ : قَالَ أَبُو ذَرٍّ : خَابُوا وَخَسِرُوا مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ؟ قَالَ: «المُسْبِلُ، وَالمَنَّانُ، وَالمُنْفِقُ سِلْعَتَهُ بِالحَلِفِ الكَاذِبِ» . رواه مسلم
وفي روايةٍ لَهُ : «المُسْبِلُ إِزَارَهُ» يَعْنِي : المُسْبِلَ إِزَارَهُ وَثَوْبَهُ أَسْفَلَ مِنَ الكَعْبَيْنِ لِلخُيَلاَءِ .
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُمْ بِالْمَنِّ وَالْأَذَىٰ﴾ [البقرة: ٢٦٤]
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! দানের কথা প্রচার করে এবং কষ্ট দিয়ে তোমরা তোমাদের দানকে নষ্ট করে দিও না। (সূরা বাকারাহ ২৬৪ আয়াত)
তিনি আরও বলেছেন,
الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ لَا يُتْبِعُونَ مَا أَنْفَقُوا مَنًّا وَلَا أَذًى [البقرة: ٢٦٢]
অর্থাৎ যারা আল্লাহর পথে আপন ধন ব্যয় করে অতঃপর যা ব্যয় করে, তার কথা বলে বেড়ায় না [এবং ঐ দানের বদলে কাউকে] কষ্টও দেয় না, [তাদের পুরস্কার রয়েছে তাদের প্রতিপালকের নিকট, বস্তুতঃ তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।] (সূরা বাকারাহ ২৬২ আয়াত)
১/১৫৯৬। আবূ যার্র রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য হবে মর্মন্তুদ শাস্তি।’’ বর্ণনাকারী বলেন, এরূপ তিনি তিনবার বললেন। তখন আবূ যার্র বললেন, ‘ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তারা কারা হে আল্লাহর রাসূল?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘যে [পায়ের] গাঁটের নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরে, দান করে যে প্রচার করে বেড়ায় এবং মিথ্যা কসম খেয়ে নিজের পণ্যদ্রব্য বিক্রি করে।’’ (মুসলিম)[1]
এর অন্য বর্ণনায় আছে, ‘‘যে গাঁটের নীচে লুঙ্গি ঝুলিয়ে পরে।’’ এর অর্থ হচ্ছে, যে ব্যক্তি তার লুঙ্গি, কাপড় ইত্যাদি অহংকারের সাথে গাঁটের নীচে ঝুলিয়ে পরে।
[1] মুসলিম ১০৬, তিরমিযী ১২১১, নাসায়ী ২৫৬৩, ২৫৬৪, ৪৪৫৮, ৪৪৫৯, ৫৩৩৩, আবূ দাউদ ৪০৮৭, ইবনু মাজাহ ২২০৮, আহমাদ ২০৮১১, ২০৮৯৫, ২০৯২৫, ২০৯৭০, ২১০৩৪, দারেমী ২৬০৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ عِيَاضِ بنِ حِمَارٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللهَ تَعَالَى أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ تَوَاضَعُوا حَتَّى لاَ يَبْغِيَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ، وَلاَ يَفْخَرَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ» . رواه مسلم
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿فَلَا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ ۖ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَىٰ﴾ [النجم : ٣٢]
অর্থাৎ তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনিই সম্যক জানেন আল্লাহ-ভীরু কে। (সূরা নজম ৩২ আয়াত)
তিনি আরও বলেছেন,
﴿إِنَّمَا السَّبِيلُ عَلَى الَّذِينَ يَظْلِمُونَ النَّاسَ وَيَبْغُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ ۚ أُولَٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ﴾ [الشورى: ٤٢]
অর্থাৎ কেবল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যারা মানুষের ওপর অত্যাচার করে এবং পৃথিবীতে অহেতুক বিদ্রোহাচরণ করে বেড়ায়। তাদের জন্যই রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। (সূরা শূরা ৪২ আয়াত)
১/১৫৯৭। ইয়ায ইবনে হিমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘মহান আল্লাহ আমাকে প্রত্যাদেশ করেছেন যে, তোমরা পরস্পরের প্রতি নম্রতা ও বিনয় ভাব প্রদর্শন কর। যাতে কেউ যেন অন্যের প্রতি অত্যাচার না করতে পারে এবং কেউ কারো সামনে গর্ব প্রকাশ না করে।’’ (মুসলিম)[1]
بغي শব্দের অর্থ: সীমালঙ্ঘন করা, অত্যাচার করা, বিদ্রোহাচরণ করা ইত্যাদি।
[1] মুসলিম ২৮৬৫, আবূ দাউদ ৪৮৯৫, ইবনু মাজাহ ৪১৭৯, আহমাদ ১৭০৩০, ১৭৮৭৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِذَا قَالَ الرَّجُلُ : هَلَكَ النَّاسُ، فَهُوَ أَهْلَكُهُمْ». رواه مسلم
২/১৫৯৮। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি [গর্বভরে] বলে, লোকেরা সব ধ্বংস হয়ে গেল, সে তাদের মধ্যে সর্বাধিক বেশি ধ্বংসোন্মুখ।’’ (মুসলিম) [1]
প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী [أهْلَكُهُمْ] ‘কাফ’ বর্ণে পেশ হবে। [যার অর্থ হবে: সে তাদের মধ্যে সর্বাধিক বেশি ধ্বংসোন্মুখ।] ‘কাফ’ বর্ণে যবর দিয়েও বর্ণনা করা হয়েছে। [যার অর্থ: সেই তাদেরকে ধ্বংস করল।] ‘সবাই উচ্ছন্নে গেল বা ধ্বংস হয়ে গেল’ বলা সেই ব্যক্তির জন্য নিষেধ, যে গর্বভরে সকলকে অবজ্ঞা করে ও নিজেকে সর্বশ্রেষ্ঠ ভেবে ঐ কথা বলে। এটাই হল হারাম। কিন্তু কোন ব্যক্তি যদি লোকদের মধ্যে দ্বীনদারীর অভাব প্রত্যক্ষ করে দ্বীনী আবেগের বশীভূত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করার মানসে ঐ কথা মুখ থেকে বের করে, তাহলে তাতে কোন ক্ষতি নেই। উলামাগণ এরূপই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। উক্ত ব্যাখ্যাকারী উলামাগণের মধ্যে ইমাম মালেক ইবনে আনাস, খাত্ত্বাবী, হুমাইদী [রহঃ] প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। আমি আমার ‘আযকার’ নামক গ্রন্থে তার উপর আলোকপাত করেছি।
[1] মুসলিম ২৬২৩, আবূ দাউদ ৪৯৮৩, আহমাদ ৮৩০৯, ৯৬৭৮, ১০৩১৯, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৪৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «لاَ تَقَاطَعُوا، وَلاَ تَدَابَرُوا، وَلاَ تَبَاغَضُوا، وَلاَ تَحَاسَدُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ إِخْوَاناً، وَلاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَث» . متفق عَلَيْهِ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ﴾ [الحجرات: ١٠]
অর্থাৎ সকল ঈমানদাররা তো পরস্পর ভাই ভাই, সুতরাং তোমরা দুই ভাই-এর মধ্যে সন্ধি স্থাপন কর। (সূরা হুজুরাত ১০ আয়াত)
তিনি আরও বলেছেন, ﴿وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ﴾ [المائدة: ٢]
অর্থাৎ পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে তোমরা একে অন্যের সাহায্য করো না। (সূরা মায়েদাহ ২ আয়াত)
১/১৫৯৯। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা পরস্পর সম্পর্ক-ছেদ করো না, একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন হয়ো না, পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর হিংসা করো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে যাও। কোন মুসলিমের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বলা বন্ধ রাখবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬০৫৬, ৬০৭৬, মুসলিম ২৫৫৯, তিরমিযী ১৯৩৫, আবূ দাউদ ৪৯১০, আহমাদ ১১৬৬৩, ১২২৮০, ১২৬৪০, ১২৭৬৭, ১২৯৪১, মুওয়াত্তা মালিক ১৬৮৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي أَيُّوبَ رضي الله عنه : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ: يَلْتَقِيَانِ، فَيُعْرِضُ هَذَا، وَيُعْرِضُ هَذَا، وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلاَمِ» . متفق عَلَيْهِ
২/১৬০০। আবূ আইয়ূব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কোন মুসলিমের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বলা বন্ধ রাখে। যখন তারা পরস্পর সাক্ষাৎ করে, তখন এ এ দিকে মুখ ফিরায় এবং ও ওদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর তাদের দু’জনের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সেই হবে, যে সাক্ষাৎকালে প্রথমে সালাম পেশ করবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬০৭৭, ৬২৩৭, মুসলিম ২৫৬০, তিরমিযী ১৯৩২, আবূ দাউদ ৪৯১১, আহমাদ ২৩০১৭, ২৩০৬৪, ২৩০৭৩, মুওয়াত্তা মালিক ১৬৮২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «تُعْرَضُ الأَعْمَالُ فِي كُلِّ اثْنَيْنِ وَخَمْيسٍ، فَيَغْفِرُ اللهُ لِكُلِّ امْرِئٍ لاَ يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئاً، إِلاَّ امْرَءاً كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ، فَيَقُولُ : اتْرُكُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا» . رواه مسلم
৩/১৬০১। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘প্রত্যেক সোম ও বৃহস্পতিবার আমলসমূহ পেশ করা হয়। সুতরাং প্রত্যেক সেই বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার স্থাপন করেনি। তবে সেই ব্যক্তিকে নয়, যার সাথে তার অন্য মুসলিম ভাইয়ের শত্রুতা থাকে। [তাদের সম্পর্কে] বলা হয়, এদের দু’জনকে সন্ধি করা পর্যন্ত অবকাশ দাও।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ২৫৬৫, তিরমিযী ৭৪৭, ২০২৩, আবূ দাউদ ৪৯১৬, ইবনু মাজাহ ১৭৪০, আহমাদ ৭৫৮৩, ৮১৬১, ৮৯৪৬, ৯৯০২, মুওয়াত্তা মালিক ১৬৮৬, ১৬৮৭
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ : «إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ يَئِسَ أَنْ يَعْبُدَهُ المُصَلُّونَ فِي جَزِيرَةِ العَرَبِ، وَلَكِنْ فِي التَّحْرِيشِ بَيْنَهُمْ» . رواه مسلم
৪/১৬০২। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি, ‘‘নিশ্চয় শয়তান এ ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েছে যে, আরব দ্বীপে নামাযী (মুসলিম)রা তার পূজা করবে। তবে [এ বিষয়ে সুনিশ্চিত] যে, সে তাদের মধ্যে উস্কানি দিয়ে [উত্তেজনা সৃষ্টি করে তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-কলহে লিপ্ত করতে সফল হবে।]’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ২৮১২, তিরমিযী ১৯৩৭, আহমাদ ১৩৯৭৫, ১৪৪০২, ১৪৫২৩, ১৪৬১৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «لاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثٍ، فَمَنْ هَجَرَ فَوْقَ ثَلاَثٍ فَمَاتَ، دَخَلَ النَّارَ» . رواه أَبُو داود بإسناد عَلَى شرط البخاري ومسلم
৫/১৬০৩। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কোন মুসলিমের জন্য এ কাজ বৈধ নয় যে, তার কোন মুসলিম ভাইয়ের সাথে তিন দিনের ঊর্ধ্বে কথাবার্তা বন্ধ রাখবে। সুতরাং যে ব্যক্তি তিন দিনের ঊর্ধ্বে কথাবার্তা বন্ধ রাখবে এবং সেই অবস্থায় মারা যাবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’’ (আবূ দাঊদ বুখারী-মুসলিমের শর্তাধীন সূত্রে) [1]
[1] আবূ দাউদ ৪৯১২, ৪৯১৪, মুসলিম ২৫৬২, আহমাদ ৮৮৪৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي خِراشٍ حَدْرَدِ بنِ أَبي حَدْرَدٍ الأسلَمِيِّ . وَيُقَالُ : السُّلَمِيّ الصَّحَابِي رضي الله عنه : أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، يَقُوْلُ : «مَنْ هَجَرَ أَخَاهُ سَنَةً فَهُوَ كَسَفْكِ دَمِهِ» . رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
৬/১৬০৪। আবূ খিরাশ হাদরাদ ইবনে আবূ হাদরাদ আসলামী, মতান্তরে সুলামী সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, ‘‘যে ব্যক্তি তার কোন (মুসলিম) ভাইয়ের সঙ্গে বছরব্যাপী বাক্যালাপ বন্ধ করবে, তা হবে তার রক্তপাত ঘটানোর মত।’’ (আবূ দাঊদ বিশুদ্ধ সূত্রে) [1]
[1] আবূ দাউদ ৪৯১৫, আহমাদ ১৭৪৭৬
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أنًّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم : «لَا يَحِلُّ لِمُؤْمِنٍ أنْ يَّهْجُرَ مُؤْمِناً فَوْقَ ثَلَاثٍ، فَإَنْ مَرَّتْ بِهِ ثَلَاثٌ، فَلْيَلْقَهُ، وَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ، فَإِنْ رَدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ، فَقَدِ اشْتَرَكَا فِيْ الْأَجْرِ، وَإٍنْ لَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ، فَقَدْ بَاءَ بِالْإِثْمِ، وَخَرَجَ الْمُسَلِّمُ مِنَ الْهَجْرَةِ». رواهُ أبو داود بإسنادٍ حسن . قال أبو داود : إذا كَانَتِ الهجْرَةُ للهِ تَعالى فَلَيْس مِنْ هذَا في شيءٍ .
৭/১৬০৫। আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন মুমিন লোকের পক্ষে অন্য কোন মু‘মিন লোককে তিনদিনের বেশি ত্যাগ করে থাকা বৈধ নয়। তিন দিন অতিক্রম হওয়ার পর যদি সাক্ষাৎ করে ও তাকে সালাম দেয় এবং অপরজনও সালামের জবাব দেয়, তবে দু’জনই সাওয়াব পাবে। যদি সে সালামের উত্তর না দেয়, তাহলে গুনাহগার হবে এবং সালামকারী ত্যাগ করার গুনাহ থেকে পরিত্রাণ যাবে। [আবূ দাঊদ হাদিসটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন][1]
আবু দাউদ বলেন, তবে যদি মহান আল্লাহর কারণে সে তাকে পরিত্যাগ করে থাকে তবে সেটা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
[1] আমি [আলবানী) বলছিঃ হাদীসটিকে হাসান আখ্যা দেয়ার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কারণ এর সনদে হিলাল মাদানী রয়েছেন। হাফিয যাহাবী বলেনঃ তাকে চেনা যায় না। দেখুন ‘‘ইরওয়াউল গালীল’’ [২০২৯)।
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ যঈফ