হাদীস বিএন


রিয়াদুস সালিহীন





রিয়াদুস সালিহীন (1621)


وَعَنْ عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: حَمَلْتُ عَلَى فَرَسٍ فِي سَبِيلِ اللهِ فَأَضَاعَهُ الَّذِي كَانَ عِندَهُ، فَأَرَدْتُ أَنْ أَشْتَرِيَهُ، وَظَنَنْتُ أَنَّهُ يَبِيعُهُ بِرُخْصٍ، فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: لاَ تَشْتَرِهِ وَلاَ تَعُدْ فِي صَدَقَتِكَ وَإِنْ أَعْطَاكَهُ بِدِرْهَمٍ ؛ فَإِنَّ العَائِدَ فِي صَدَقَتِهِ كَالعَائِدِ فِي قَيْئِهِ




২/১৬২১। উমার ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমার একটি ঘোড়া ছিল, যা আমি আল্লাহর রাস্তায় [ব্যবহারের জন্য এক মুজাহিদকে] দান করলাম। যার কাছে এটা ছিল, সে এটাকে নষ্ট করে দিল। [অর্থাৎ যথোচিত যত্ন করতে না পারলে ঘোড়াটি রুগ্ন বা দুর্বল হয়ে পড়ল]। ফলে আমি তা কিনে নিতে চাইলাম এবং আমার ধারণা ছিল যে, সে সেটি সস্তা দামে বিক্রি করবে। [এ সম্পর্কে] আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, ‘‘তুমি তা ক্রয় করো না এবং তোমার [দেওয়া] সাদকাহ ফিরিয়ে নিয়ো না; যদিও সে তোমাকে তা এক দিরহামের বিনিময়ে দিতে চায়। কেননা, দান করে ফেরৎ গ্রহণকারী ব্যক্তি, বমি করে পুনর্ভক্ষণকারীর মত।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ২৬২৩, ১৪৯০, ২৬৩৬, ২৯৭০, ৩০০৩, মুসলিম ১৬২০, তিরমিযী ৬৬৮, নাসায়ী ২৬১৫, ২৬১৬, আবূ দাউদ ১৫৯৩, ইবনু মাজাহ ২৩৯০, ২৩৯২, আহমাদ ১৬৭, ২৬০, ২৮৩, ৩৮৬, মুওয়াত্তা মালিক ৬২৪, ৬২৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1622)


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «اِجْتَنِبُوا السَّبْعَ المُوبِقَاتِ !» قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَمَا هُنَّ ؟ قَالَ: «الشِّرْكُ بِاللهِ، وَالسِّحْرُ، وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللهُ إِلاَّ بِالحَقِّ، وَأَكْلُ الرِّبَا، وَأَكْلُ مَالِ اليَتِيمِ، وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ، وَقَذْفُ المُحْصَنَاتِ المُؤْمِنَاتِ الغَافِلاَتِ». متفق عَلَيْهِ




মহান আল্লাহ বলেছেন,

﴿إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَىٰ ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا ۖ وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا﴾ [النساء : ١٠]

অর্থাৎ নিশ্চয় যারা পিতৃহীন [এতীম]দের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা আসলে নিজেদের উদরে অগ্নি ভক্ষণ করে। আর অচিরেই তারা জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। (সূরা নিসা ১০ আয়াত)

তিনি আরও বলেছেন, ﴿وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ﴾ [الانعام: ١٥٢]

অর্থাৎ পিতৃহীন [অনাথ] বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সৎ উদ্দেশ্য ছাড়া তার সম্পত্তির নিকটবর্তী হয়ো না। (সূরা আন‘আম ১৫২ আয়াত)

তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,

﴿ وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَىٰ ۖ قُلْ إِصْلَاحٌ لَهُمْ خَيْرٌ ۖ وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ ۚ وَاللَّهُ يَعْلَمُ الْمُفْسِدَ مِنَ الْمُصْلِحِ ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَعْنَتَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ﴾ [البقرة: ٢٢٠]

অর্থাৎ লোকে তোমাকে পিতৃহীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বল, তাদের উপকারের চেষ্টা করাই উত্তম। আর যদি তোমরা তাদের সাথে মিলে মিশে থাক, তাহলে তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ জানেন কে হিতকারী ও কে অনিষ্টকারী। (সূরা বাকারাহ ২২০ আয়াত)



১/১৬২২। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা সাত প্রকার ধ্বংসাত্মক কর্ম থেকে দূরে থাক।’’ লোকেরা বলল, ‘সেগুলো কি কি? হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, [১] ‘‘আল্লাহর সাথে শিরক করা। [২] যাদু করা। [৩] অন্যায়ভাবে এমন জীবন হত্যা করা, যাকে আল্লাহ হারাম করে দিয়েছেন। [৪] সুদ খাওয়া। [৫] এতীমের ধন-সম্পদ ভক্ষণ করা। [৬] ধর্মযুদ্ধ কালীন সময়ে [রণক্ষেত্র] থেকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করা। [৭] সতী-সাধ্বী উদাসীনা মুমিন নারীদের চরিত্রে মিথ্যা কলঙ্ক আরোপ করা।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]




[1] সহীহুল বুখারী ২৭৬৭, ২৭৬৬, ৫৭৬৪, ৬৮৫৭, মুসলিম ৮৯, নাসায়ী ৩৬৭১, আবূ দাউদ ২৮৭৪

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1623)


وَعَنِ ابنِ مَسعُود رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: لَعَنَ رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ . رَوَاهُ مُسلِمٌ
زَادَ التِّرمِذِي وَغَيرُهُ : وَشَاهِدَيْهِ وَكَاتِبَهُ




আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا ۗ وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ۚ فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَىٰ فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ ۖ وَمَنْ عَادَ فَأُولَٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ - يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِالى قوله تعالىيَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا

‘‘যারা সুদ খায় তারা [কিয়ামতে] সেই ব্যক্তির মত দণ্ডায়মান হবে, যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে দিয়েছে। তা এ জন্য যে তারা বলে, ‘ব্যবসা তো সূদের মতই।’ অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে বৈধ ও সুদকে অবৈধ করেছেন। অতএব যার কাছে তার প্রতিপালকের উপদেশ এসেছে তারপর সে [সুদ খাওয়া থেকে] বিরত হয়েছে, সুতরাং [নিষিদ্ধ হওয়ার পূর্বে] যা অতীত হয়েছে তা তার [জন্য ক্ষমার্হ হবে], আর তার ব্যাপার আল্লাহর এখতিয়ার-ভুক্ত। কিন্তু যারা পুনরায় [সুদ খেতে] আরম্ভ করবে, তারাই দোযখ-বাসী; সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বৃদ্ধি দেন। আল্লাহ কোন অকৃতজ্ঞ পাপিষ্ঠকে ভালবাসেন না। ....হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সূদের যা বকেয়া আছে তা বর্জন কর; যদি তোমরা ঈমানদার হও। আর যদি তোমরা [সুদ বর্জন] না কর, তাহলে আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধ সুনিশ্চিত জানো। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। তোমরা কারো উপর অত্যাচার করবে না এবং নিজেরাও অত্যাচারিত হবে না।’’ (সূরা বাকারাহ ২৭৫-২৭৯ আয়াত)

এ বিষয়ে সহীহ গ্রন্থে প্রসিদ্ধ অনেক হাদিস বিদ্যমান। তার মধ্যে পূর্বোক্ত পরিচ্ছেদে আবূ হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত [১৬২১নং] হাদিসটি অন্যতম।



১/১৬২৩। ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদখোর ও সূদদাতাকে অভিশাপ করেছেন।’ (মুসলিম) [1]



তিরমিযী ও অন্যান্য গ্রন্থকারগণ এ শব্দগুলি বর্ধিত আকারে বর্ণিত করেছেন, ‘এবং সূদের সাক্ষীদ্বয় ও সূদের লেনদেন লেখককে [অভিশাপ করেছেন।]’


[1] মুসলিম ১৫৯৭, তিরমিযী ১২০৬, নাসায়ী ৩৪১৬, আবূ দাউদ ৩৩৩৩, ইবনু মাজাহ ২২৭৭, আহমাদ ৩৭১৭, ৩৭২৯, ৩৭৯৯, ৩৮৭১, ৪০৭৯, ৪২৭১, ৪৩১৫, ৪৪১৪, দারেমী ২৫৩৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1624)


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : «قَالَ الله تَعَالَى : أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ، مَنْ عَمِلَ عَمَلاً أَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ» . رواه مسلم




আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ﴾ [البينة: ٥]

অর্থাৎ তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠ-ভাবে তাঁর ইবাদত করতে। (সূরা বাইয়িনাহ ৫ আয়াত)

তিনি আরও বলেছেন,

﴿لَا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُمْ بِالْمَنِّ وَالْأَذَىٰ كَالَّذِي يُنْفِقُ مَالَهُ رِئَاءَ النَّاسِ﴾ [البقرة: ٢٦٤]

অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! দানের কথা প্রচার করে এবং কষ্ট দিয়ে তোমরা তোমাদের দানকে নষ্ট করে দিয়ো না ঐ লোকের মত যে নিজের ধন লোক দেখানোর জন্য ব্যয় করে। (সূরা বাকারাহ ২৬৪ আয়াত)

তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,

﴿ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَىٰ يُرَاءُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلًا﴾ [النساء : ١٤٢]

অর্থাৎ নিশ্চয় মুনাফিক [কপট] ব্যক্তিরা আল্লাহকে প্রতারিত করতে চায়। বস্তুতঃ তিনিও তাদেরকে প্রতারিত করে থাকেন এবং যখন তারা নামাযে দাঁড়ায় তখন শৈথিল্যের সাথে নিছক লোক-দেখানোর জন্য দাঁড়ায় এবং আল্লাহকে তারা অল্পই স্মরণ করে থাকে। (সূরা নিসা ১৪২)



১/১৬২৪। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ বলেন, ‘‘আমি সমস্ত অংশীদারদের চাইতে অংশীদারি [শির্ক] থেকে অধিক অমুখাপেক্ষী। কেউ যদি এমন কাজ করে, যাতে সে আমার সঙ্গে অন্য কাউকে অংশীদার স্থাপন করে, তাহলে আমি তাকে তার অংশীদারি [শির্ক] সহ বর্জন করি।’’ [অর্থাৎ তার আমলই নষ্ট করে দিই।] (মুসলিম) [1]




[1] সহীহুল বুখারী ২৯৮৫, ইবনু মাজাহ ৪২০২, আহমাদ ৭৯৩৯, ৯৩৩৬

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1625)


وَعَنْه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : «إِنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُقْضَى يَومَ القِيَامَةِ عَلَيْهِ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ، فَأُتِيَ بِهِ، فَعَرَّفَهُ نِعْمَتَهُ، فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا ؟ قَالَ: قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ . قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ لأَنْ يُقَالَ: جَرِيءٌ ! فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ. وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ العِلْمَ وَعَلَّمَهُ، وَقَرَأَ القُرآنَ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا . قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا ؟ قَالَ: تَعَلَّمْتُ العِلْمَ وَعَلَّمْتُهُ، وَقَرَأتُ فِيكَ القُرآنَ، قَالَ: كَذَبْتَ، وَلكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ لِيُقَالَ: عَالِمٌ ! وَقَرَأتَ القُرْآنَ لِيُقَالَ: هُوَ قَارِئٌ ؛ فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ . وَرَجُلٌ وَسَّعَ اللهُ عَلَيْهِ، وَأَعْطَاهُ مِنْ أَصْنَافِ المَالِ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ، فَعَرَفَهَا . قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا ؟ قَالَ: مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلاَّ أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ. قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ: جَوَادٌ ! فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ في النَّارِ» . رواه مسلم




২/১৬২৫। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি শুনেছি, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, ‘‘কিয়ামতের দিন অন্যান্য লোকদের পূর্বে যে ব্যক্তির প্রথম বিচার হবে সে হচ্ছে একজন শহীদ। তাকে আল্লাহর নিকটে হাজির করা হবে। আল্লাহ তাকে তাঁর দেওয়া নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। সুতরাং সে তা স্মরণ করবে। অতঃপর আল্লাহ বলবেন, ‘ঐ নেয়ামতের বিনিময়ে তুমি কি আমল করে এসেছ?’ সে বলবে ‘আমি তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য জিহাদ করেছি এবং অবশেষে শহীদ হয়ে গেছি।’ আল্লাহ বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি এই উদ্দেশ্যে জিহাদ করেছ, যাতে লোকেরা তোমাকে বলে, অমুক একজন বীর পুরুষ। সুতরাং তা-ই বলা হয়েছে।’ অতঃপর [ফিরিশ্তাদেরকে] আদেশ করা হবে এবং তাকে উবুড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

দ্বিতীয় হচ্ছে এমন ব্যক্তি, যে ইলম শিক্ষা করেছে, অপরকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে আল্লাহর নিকটে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ তাকে [পৃথিবীতে প্রদত্ত] তাঁর সকল নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। সেও সব কিছু স্মরণ করবে। অতঃপর আল্লাহ বলবেন, ‘এই সকল নেয়ামতের বিনিময়ে তুমি কি আমল করে এসেছ?’ সে বলবে, ‘আমি ইলম শিখেছি, অপরকে শিখিয়েছি এবং তোমার সন্তুষ্টি-লাভের জন্য কুরআন পাঠ করেছি।’ আল্লাহ বলবেন, ‘মিথ্যা বলছ তুমি। বরং তুমি এই উদ্দেশ্যে ইলম শিখেছ, যাতে লোকেরা তোমাকে আলেম বলে এবং এই উদ্দেশ্যে কুরআন পড়েছ, যাতে লোকেরা তোমাকে ক্বারী বলে। আর [দুনিয়াতে] তা বলা হয়েছে।’ অতঃপর [ফিরিশ্তাদেরকে] নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উবুড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

তৃতীয় হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যার রুযীকে আল্লাহ প্রশস্ত করেছিলেন এবং সকল প্রকার ধন-দৌলত যাকে প্রদান করেছিলেন। তাকে আল্লাহর নিকটে হাজির করা হবে। আল্লাহ তাকে তাঁর দেওয়া সমস্ত নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। সেও সব কিছু স্মরণ করবে। অতঃপর আল্লাহ প্রশ্ন করবেন, ‘তুমি ঐ সকল নেয়ামতের বিনিময়ে কি আমল করে এসেছ?’ সে বলবে, ‘যে সকল রাস্তায় দান করলে তুমি খুশী হও সে সকল রাস্তার মধ্যে কোনটিতেও তোমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে খরচ করতে ছাড়িনি।’ তখন আল্লাহ বলবেন, ‘মিথ্যা বলছ তুমি। বরং তুমি এ জন্যই দান করেছিলে; যাতে লোকে তোমাকে দানবীর বলে। আর তা বলা হয়েছে।’ অতঃপর [ফিরিশ্তাবর্গকে] হুকুম করা হবে এবং তাকে উবুড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। [মুসলিম ১৯০৫ নং] [1]


[1] মুসলিম ১৯০৫, তিরমিযী ২৩৮২, নাসায়ী ৩১৩৭, আহমাদ ৮০৮৭

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1626)


وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ نَاساً قَالُوا لَهُ : إِنَّا نَدْخُلُ عَلَى سَلاَطِيننَا فَنَقُولُ لَهُمْ بِخِلاَفِ مَا نَتَكَلَّمُ إِذَا خَرَجْنَا مِنْ عِندِْهِمْ ؟ قَالَ ابنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : كُنَّا نَعُدُّ هَذَا نِفاقاً عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم . رواه البخاري




৩/১৬২৬। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, কিছু লোক তাঁর নিকট নিবেদন করল যে, ‘আমরা আমাদের শাসকদের নিকট যাই এবং তাদেরকে ঐ সব কথা বলি, যার বিপরীত বলি তাদের নিকট থেকে বাইরে আসার পর। [সে সম্বন্ধে আপনার অভিমত কি?]’ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু উত্তর দিলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় এরূপ আচরণকে আমরা ‘মুনাফিক্বী’ আচরণ বলে গণ্য করতাম।’ (বুখারী) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ৭১৭৮, ইবনু মাজাহ ৩৯৭৫, আহমাদ ৫৭৯৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1627)


وَعَنْ جُندُبِ بنِ عَبدِ اللهِ بنِ سُفيَان رضي الله عنه قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللهُ بِهِ، وَمَنْ يُرَائِي يُرَائِي اللهُ بِهِ» . متفق عَلَيْهِ . ورواه مسلم أَيضاً من رواية ابن عباس رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا .




৪/১৬২৭। জুন্দুব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সুফয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি শোনাবে, আল্লাহ তা শুনিয়ে দিবেন। আর যে ব্যক্তি দেখাবে, আল্লাহ তা দেখিয়ে দিবেন।’’ (বুখারী ও মুসলিম, মুসলিম ইবনে আব্বাস থেকেও বর্ণনা করেছেন।) [1]



** ‘যে ব্যক্তি শোনাবে’ অর্থাৎ যে তার আমলকে মানুষের সামনে প্রদর্শনের জন্য প্রকাশ করবে। ‘আল্লাহ তা শুনিয়ে দিবেন’ অর্থাৎ কিয়ামতের দিনে [সৃষ্টির সামনে সে কথা জানিয়ে] তাকে লাঞ্ছিত করবেন। ‘যে ব্যক্তি দেখাবে’ অর্থাৎ যে ব্যক্তি মানুষের সামনে স্বকৃত নেক আমল প্রকাশ করবে যাতে সে তাদের নিকট সম্মানার্হ হয়। ‘আল্লাহ তা দেখিয়ে দিবেন’ অর্থাৎ সৃষ্টির সম্মুখে তার গুপ্ত উদ্দেশ্যের কথা ব্যক্ত [করে অপমানিত] করবেন।


[1] সহীহুল বুখারী ৭১৫২, ৬৪৯৯, মুসলিম ২৯৮৭, ইবনু মাজাহ ৪২০৭, আহমাদ ১৮৩৩০

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1628)


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «مَنْ تَعَلَّمَ عِلْماً مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللهِ - عَزَّ وَجَلَّ - لاَ يَتَعَلَّمُهُ إِلاَّ لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضاً مِنَ الدُّنْيَا، لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الجَنَّةِ يَوْمَ القِيَامَةِ» يَعْنِي : رِيحَهَا. رواه أَبُو داود بإسنادٍ صحيحٍ والأحاديث في الباب كثيرةٌ مشهورةٌ




৫/১৬২৮। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে বিদ্যা দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, তা যদি একমাত্র সামান্য পার্থিব স্বার্থ লাভের উদ্দেশ্যে কেউ শিক্ষা করে, তাহলে সে কিয়ামতের দিনে জান্নাতের সুগন্ধটুকুও পাবে না।’’ (আবূ দাঊদ-বিশুদ্ধ সূত্রে) [1]

আর এ মর্মে আরও প্রসিদ্ধ হাদিস বিদ্যমান রয়েছে।


[1] ইবনু মাজাহ ২৫২, আবূ দাউদ ২৬৬৪, আহমাদ ৮২৫২

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1629)


وَعَنْ أَبي ذرٍ رضي الله عنه قَالَ: قِيلَ لِرَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم : أرَأيْتَ الرَّجُلَ الَّذِي يَعْمَلُ العَمَلَ مِنَ الخَيْرِ، وَيَحْمَدُهُ النَّاسُ عَلَيْهِ ؟ قَالَ: «تِلْكَ عَاجِلُ بُشْرَى المُؤْمِنِ». رواه مسلم




১/১৬২৯। আবূ যার্র রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হল; বলুন, ‘যে মানুষ সৎকাজ করে, আর লোকে তার প্রশংসা করে থাকে [তাহলে এরূপ কাজ কি রিয়া বলে গণ্য হবে?]’ তিনি বললেন, ‘‘এটা মু’মিনের সত্বর সুসংবাদ।’’ (মুসলিম) [1]



[আমলকারীর মনে সুনাম নেওয়ার উদ্দেশ্য না থাকলে; লোক-সমাজে তার সুনাম হলেও তা রিয়াবলে গণ্য হবে না। বরং তা হবে তার সওয়াবের একটি অংশ সত্বর প্রতিদান।]


[1] মুসলিম ২৬৪২, ইবনু মাজাহ ৪২২৫, আহমাদ ২০৮৭২, ২০৯৬৬

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1630)


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «كُتِبَ عَلَى ابْن آدَمَ نَصِيبُهُ مِنَ الزِّنَا مُدْرِكُ ذَلِكَ لاَ مَحَالَةَ : العَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الكَلاَمُ، وَاليَدُ زِنَاهَا البَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الخُطَا، وَالقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الفَرْجُ أَوْ يُكَذِّبُهُ» . متفق عَلَيْهِ . هَذَا لفظ مسلمٍ، ورواية البخاري مختصرَةٌ




মহান আল্লাহ বলেছেন, ﴿قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ﴾ [النور : ٣٠]

অর্থাৎ ঈমানদারগণকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে। (সূরা নূর ৩০ আয়াত)

তিনি আরও বলেছেন, ﴿ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا﴾ [الاسراء: ٣٦]

অর্থাৎ নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে। (সূরা বানী ইস্রাঈল ৩৬ আয়াত)

তিনি অন্যত্র বলেছেন, ﴿ يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ﴾ [غافر: ١٩]

অর্থাৎ চক্ষুর চোরা চাহনি ও অন্তরে যা গোপন আছে সে সম্বন্ধে তিনি অবহিত। (সূরা মুমিন ১৯ আয়াত)

তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন, ﴿ إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ﴾ [الفجر: ١٤]

অর্থাৎ নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক সময়ের প্রতীক্ষায় থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। (সূরা ফজর ১৪ আয়াত)



১/১৬৩০। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা আদম সন্তানের জন্য ব্যভিচারের অংশ লিখে দিয়েছেন; যা সে অবশ্যই পাবে। সুতরাং চক্ষুদ্বয়ের ব্যভিচার [সকাম অবৈধ] দর্শন। কর্ণদ্বয়ের ব্যভিচার [অবৈধ যৌনকথা] শ্রবণ, জিভের ব্যভিচার [সকাম অবৈধ] কথন, হাতের ব্যভিচার [সকাম অবৈধ] ধারণ এবং পায়ের ব্যভিচার [সকাম অবৈধ পথে] গমন। আর হৃদয় কামনা ও বাসনা করে এবং জননেন্দ্রিয় তা সত্য বা মিথ্যায় পরিণত করে।’’ (মুসলিম) [1]

[1] সহীহুল বুখারী ৬২৪৩, ৬৬১২, মুসলিম ২৬৫৭, আবূ দাউদ ২১৫২, আহমাদ ৭৬৬২, ৮১৫৬, ৮৩২১, ৮৩৩৪, ৮৩৯২, ৮৬২৬, ৯০৭৬, ৯২৭৯

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1631)


وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِيِّ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِيَّاكُمْ وَالجُلُوسَ فِي الطُّرُقَاتِ !» قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، مَا لَنَا مِنْ مَجَالِسِنَا بُدٌّ، نَتَحَدَّثُ فِيهَا . فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «فَإذَا أَبَيْتُمْ إِلاَّ المَجْلِسَ، فَأَعْطُوا الطَّرِيقَ حَقَّهُ» قَالُوا : وَمَا حَقُّ الطَّريقِ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ؟ قَالَ: «غَضُّ البَصَرِ، وَكَفُّ الأَذَى، وَرَدُّ السَّلاَمِ، وَالأَمرُ بِالمَعْرُوفِ، وَالنَّهيُ عَنِ المُنْكَرِ». متفق عَلَيْهِ




২/১৬৩১। আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাক।’’ লোকেরা বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! ওখানে আমাদের বসা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। আমরা [ওখানে] বসে বাক্যালাপ করি।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘যদি তোমরা রাস্তায় বসা ছাড়া থাকতে না পার, তাহলে রাস্তার হক আদায় কর।’’ তারা নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! রাস্তার হক কি?’ তিনি বললেন, ‘‘দৃষ্টি অবনত রাখা, [অপরকে] কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেওয়া এবং ভাল কাজের আদেশ দেওয়া ও মন্দ কাজে বাধা প্রদান করা।’’ (বুখারী-মুসলিম) [1]



[কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকাযেমন, পরচর্চা-পরনিন্দা করা, কুমন্তব্য করা, কু-ধারণা করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা এবং রাস্তা আগলে সংকীর্ণ করার মাধ্যমে পথচারীকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা।]


[1] সহীহুল বুখারী ২৪৬৫, ৬২২৯, মুসলিম ১২১১, ২১১৬, আবূ দাউদ ৪৮১৫, আহমাদ ১০৯১৬, ১১০৪৪, ১১১৯২

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1632)


وَعَنْ أَبي طَلحَة زَيدِ بنِ سَهلٍ رضي الله عنه قَالَ: كُنَّا قُعُوداً بِالأَفْنِيَةِ نَتَحَدَّثُ فِيهَا فَجَاءَ رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ عَلَيْنَا، فَقَالَ: «مَا لَكُمْ وَلِمَجَالسِ الصُّعُدَاتِ ؟ اِجْتَنِبُوا مَجَالِسَ الصُّعُدَاتِ» فَقُلْنَا : إِنَّمَا قَعَدْنَا لِغَيْرِ مَا بَأسٍ، قَعَدْنَا نَتَذَاكَرُ، وَنَتَحَدَّثُ . قَالَ: «إِمَّا لاَ فَأَدُّوا حَقَّهَا : غَضُّ البَصَرِ، وَرَدُّ السَّلاَمِ، وَحُسْنُ الكَلَامِ» . رواه مسلم




৩/১৬৩২। আবূ ত্বালহা যায়েদ ইবনে সাহল রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা ঘরের বাইরে অবস্থিত প্রাঙ্গণে বসে কথাবার্তায় রত ছিলাম। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [সেখানে] এসে আমাদের নিকট দাঁড়িয়ে বললেন, ‘‘তোমরা রাস্তায় বৈঠক করছ? তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাক।’’ আমরা নিবেদন করলাম, ‘আমরা তো এখানে এমন উদ্দেশ্যে বসেছি, যাতে [শরীয়তের দৃষ্টিতে] কোন আপত্তি নেই। আমরা এখানে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করা ও কথাবার্তা বলার জন্য বসেছি।’ তিনি বললেন, ‘‘যদি রাস্তায় বসা ত্যাগ না কর, তাহলে তার হক আদায় কর। আর তা হল, দৃষ্টি সংযত রাখা, সালামের উত্তর দেওয়া এবং সুন্দরভাবে কথাবার্তা বলা।’’ (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ২১৬১, আহমাদ ১৫৯৩২

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1633)


وَعَنْ جَرِيرٍ رضي الله عنه قَالَ: سَأَلتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَن نَظَرِ الفَجْأَةِ فَقَالَ: «اِصْرِفْ بَصَرَكَ». رواه مسلموَعَنْ جَرِيرٍ رضي الله عنه قَالَ: سَأَلتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَن نَظَرِ الفَجْأَةِ فَقَالَ: «اِصْرِفْ بَصَرَكَ». رواه مسلم




৪/১৬৩৩। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, আচমকা দৃষ্টি সম্পর্কে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ‘‘তুমি তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও।’’ (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ২১৫৯, তিরমিযী ২৭৭৬, আবূ দাউদ ২১৪৮, আহমাদ ১৮৬৭৯, ১৮৭১৫, দারেমী ২৬৪৩

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1634)


وَعَنْ أمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ : كُنْتُ عِنْدَ رَسُوْلِ اللَّه وَعِنْدَهُ مَيْمُوْنَهُ، فَأَقْبَلَ ابْنُ أُمُّ مَكْتُوْمٍ، وَذَلِكَ بَعْدَ أنْ أُمِرْنَا بِالْحِجَابِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «اِحْتَجِبَا مِنْهُ» فَقُلْنَا : يَا رَسُوْلَ اللهِ ألَيْسَ هُوَ أعْمىٰ : لَا يُبْصِرُنَا، وَلَا يَعْرِفُنَا ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : «أفَعَمْيَاوَانِ أَنْتُمَا أَلَسْتُمَا تُبْصِرَانِهِ ؟» رواه أبو داود والترمذي وقَالَ: حَدِيثٌ حسنٌ صَحِيحٌ





৫/১৬৩৪। উম্মু সালামাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম। তখন তাঁর নিকট মাইমুনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও ছিলেন। এমন সময় আবদুল্লাহ ইবনু উম্মু মাকতুম এসে হাজির হন। এটা আমাদেরকে পর্দার হুকুম দেয়ার পরবর্তী ঘটনা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘‘তার সম্মুখে পর্দা কর। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সে কি অন্ধ নয়? সে তো আমাদেরকে দেখতে পায় না, চিনতেও পারে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা দু’জনও কি অন্ধ? তাকে কি তোমরা দেখতে পাও না?’’ [আবূ দাঊদ, তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন] [1]



[1] আমি [আলবানী) বলছিঃ তিনি এরূপই বলেছেন। আর এর সনদের মধ্যে উম্মু সালামার দাস নাবহান রয়েছেন। তার ব্যাপারে অজ্ঞতা রয়েছে। অর্থাৎ তিনি মাজহূল। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন শাইখ আলবানী রচিত গ্রন্থ ‘‘আররাদ্দুল মুকহিম’’ [১/৬২ হা নং ৫)।

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ যঈফ









রিয়াদুস সালিহীন (1635)


وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لاَ يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ، وَلاَ المَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ المَرْأَةِ، وَلاَ يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ، وَلاَ تُفْضِي المَرْأةُ إِلَى المَرْأَةِ فِي الثَّوْبِ الواحِدِ» . رواه مسلم




৬/১৬৩৫। আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কোন পুরুষ অন্য পুরুষের গুপ্তা-ঙ্গের দিকে যেন না তাকায়। কোন নারী অন্য নারীর গুপ্ত-স্থানের দিকে যেন না তাকায়। কোন পুরুষ অন্য পুরুষের সঙ্গে একই কাপড়ে যেন [উলঙ্গ] শয়ন না করে। [অনুরূপভাবে] কোন নারী, অন্য নারীর সাথে একই কাপড়ে যেন [উলঙ্গ] শয়ন না করে। (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ৩৩৮, আহমাদ ১১২০৭

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1636)


وَعَنْ عُقبَةَ بنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهَ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ !» فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ : أَفَرَأيْتَ الحَمْوَ ؟ قَالَ: «الحَمْوُ المَوْتُ !» . متفق عَلَيْهِ




আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ

অর্থাৎ তোমরা তাদের নিকট হতে কিছু চাইলে পর্দার অন্তরাল হতে চাও। (সূরা আহযাব ৫৩ আয়াত)



১/১৬৩৬। উকবা ইবনে আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তোমরা [বেগানা] নারীদের নিকট [একাকী] যাওয়া থেকে বিরত থাক।’’ [এ কথা শুনে] জনৈক আনসারী নিবেদন করল, ‘স্বামীর আত্মীয় সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?’ তিনি বললেন, ‘‘স্বামীর আত্মীয় তো মুত্যুসম [বিপজ্জনক]।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]



**‘স্বামীর আত্মীয়’ যেমন, তার ভাই, ভাইপো, চাচাতো [মামাতো, খালাতো ফুফাতো] ভাই ইত্যাদি।

[প্রকাশ থাকে যে, স্বামীর ছোট ভাই কোন মুসলিম মহিলার দেওর’ ‘দেবরবা দ্বিতীয় বর হতে পারে না। মহিলার উচিত, তাকে দ্বিতীয় বর বা উপহাসের পাত্র মনে না করে নিজ ছোট ভাই সম গণ্য করা। যেমন ঐ ভাইয়ের উচিত, ভাবীকে ভাবের ইমনে না করে নিজ বড় বোন সম গণ্য করা।]


[1] সহীহুল বুখারী ৫২৩২, মুসলিম ২১৭২, তিরমিযী ১১৭১, আহমাদ ১৬৮৯৬, ১৬৯৪৫, দারেমী ২৬৪২

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1637)


وعَنِ ابنِ عباس رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أنَّ رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لاَ يَخْلُونَّ أَحَدكُمْ بامْرَأَةٍ إِلاَّ مَعَ ذِي مَحْرَمٍ» . متفق عَليْهِ




২/১৬৩৭। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মাহরামের উপস্থিতি ছাড়া কোন পুরুষ যেন কোনো মহিলার সাথে নির্জন-বাস না করে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]



[যার সাথে চিরতরে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন হারাম, তাকেই মাহরাম বা এগানা বলে। আর এর বিপরীত যার সাথে কোনও সময় বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন জায়েয, তাকেই গায়র মাহরাম বা বেগানা বলে।]


[1] সহীহুল বুখারী ১৮৬২, ৩০০৬, ৩০৬১, ৫২৩৩, মুসলিম ১৩৪১, ইবনু মাজাহ ২৯০০, আহমাদ ১৯৩৫, ৩২২১

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1638)


وَعَنْ بُرَيدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «حُرْمَةُ نِسَاءِ المُجَاهِدِينَ عَلَى القَاعِدِينَ كَحُرْمَةِ أُمَّهَاتِهِمْ، مَا مِنْ رَجُلٍ مِنَ القَاعِدِيْنَ يَخْلُفُ رَجُلاً مِنَ المُجَاهِدِينَ فِي أَهْلِهِ، فَيَخُونُهُ فِيهِمْ إِلاَّ وُقِفَ لَهُ يَوْمَ القِيَامَةِ، فَيَأْخُذُ مِنْ حَسَنَاتِهِ مَا شَاءَ حَتَّى يَرْضى» ثُمَّ التَفَتَ إِلَيْنَا رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «مَا ظَنُّكُمْ ؟». رواه مسلم




৩/১৬৩৮। বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘স্বগৃহে অবস্থানকারী লোকদের পক্ষে মুজাহিদদের স্ত্রীদের মর্যাদা তাদের নিজেদের মায়ের মর্যাদার মত। স্বগৃহে অবস্থানকারী লোকদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন মুজাহিদ ব্যক্তির পরিবারের প্রতিনিধিত্ব [দেখা-শুনা] করে, অতঃপর তাদের ব্যাপারে সে তার খেয়ানত করে বসে, তবে কিয়ামতের দিন তাকে মুজাহিদের সম্মুখে দাঁড় করানো হবে এবং সে তার নেকীসমূহ থেকে সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ইচ্ছামত নেকী নিয়ে নেবে।’’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতি মুখ ফিরিয়ে বললেন, ‘‘তোমাদের ধারণা কি? [সে কি তখন তার কাছ থেকে নেকী নিতে ছাড়বে?]’’ (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ১৮৯৭, নাসায়ী ৩১৮৯, ৩১৯০, ৩১৯১, আবূ দাউদ ২৪৯৬, আহমাদ ২২৪৬৮, ২২৪৯৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1639)


عَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم المُخَنَّثِينَ مِنَ الرِّجَالِ، وَالمُتَرَجِّلَاتِ مِنَ النِّسَاءِ . وَفِي رِوَايَةٍ : لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم المُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ، وَالمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ . رواه البخاري




১/১৬৩৯। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষদেরকে এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী মহিলাদেরকে অভিশাপ করেছেন।’

অন্য বর্ণনায় আছে, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষদেরকে এবং পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী মহিলাদেরকে অভিশাপ করেছেন।’ (বুখারী) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ৫৮৮৫, ৫৮৮৬, ৬৮৩৬, তিরমিযী ২৭৮৪, আবূ দাউদ ৪০৯৭৮, ৪৯৩০, ইবনু মাজাহ ১৯০৪, আহমাদ ১৯৮৩, ২০০৭, ২১২৪, ২২৬৩, ২২৯১, ৩১৪১, ৩৪৪৮, দারেমী ২৬৪৯

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (1640)


وَعَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الرَّجُلَ يَلْبَسُ لِبْسَةَ المَرْأَةِ، وَالمَرْأَةَ تَلْبَسُ لِبْسَةَ الرَّجُلِ. رواه أَبُو داود بإسناد صحيح




২/১৬৪০। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই পুরুষকে অভিসম্পাত করেছেন, যে মহিলার পোশাক পরে এবং সেই মহিলাকে অভিসম্পাত করেছেন যে পুরুষের পোশাক পরিধান করে।’ (আবূ দাঊদ বিশুদ্ধ সনদ)[1]


[1] আবূ দাউদ ৪০৯৮, আহমাদ ৮১১০

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ