রিয়াদুস সালিহীন
وَعَنهُ رضي الله عنه، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ الله، مَنْ أحَقُّ النَّاسِ بِحُسْنِ صَحَابَتِي ؟ قَالَ: «أُمُّكَ»قَالَ : ثُمَّ مَنْ ؟ قَالَ: «أُمُّكَ»، قَالَ : ثُمَّ مَنْ ؟ قَالَ : «أُمُّكَ»، قَالَ : ثُمَّ مَنْ ؟ قَالَ: «أبُوكَ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
وفي رواية : يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، مَنْ أَحَقُّ بحُسْنِ الصُّحْبَةِ ؟ قَالَ: أُمُّكَ، ثُمَّ أُمُّكَ، ثُمَّ أُمُّكَ، ثُمَّ أَبَاكَ، ثُمَّ أدْنَاكَ أدْنَاكَ
والصَّحابة « بمعنى : الصُّحبةِ . وقوله : » ثُمَّ أباك « هَكَذا هو منصوب بفعلٍ محذوف،ٍ أي ثم برَّ أَباك
وفي رواية : » ثُمَّ أَبُوكَ « وهذا واضِح .
৫/৩২১। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছ থেকে সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশী হকদার কে?’ তিনি বললেন, ‘‘তোমার মা।’’ সে বলল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন, ‘‘তোমার মা।’’ সে বলল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন, ‘‘তোমার মা।’’ সে বলল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন, ‘‘তোমার বাপ।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশী হকদার কে?’ তিনি বললেন, ‘‘তোমার মা, তারপর তোমার মা, তারপর তোমার মা, তারপর তোমার বাপ, তারপর যে তোমার সবচেয়ে নিকটবর্তী।’’
[1] সহীহুল বুখারী ৫৯৭১, মুসলিম ২৫৪৮, ইবনু মাজাহ ২৭৩৮, ৩৭০২, আহমাদ ৮১৪৪, ৮৮৩৮, ৮৯৬৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنهُ، عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «رَغِمَ أَنفُ، ثُمَّ رَغِمَ أنْفُ، ثُمَّ رَغِمَ أنْفُ مَنْ أدْرَكَ أبَويهِ عِنْدَ الكِبَرِ، أَحَدهُما أَوْ كِليهمَا فَلَمْ يَدْخُلِ الجَنَّةَ». رواه مسلم
৬/৩২২। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকেই বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তার নাক ধূলিধূসরিত হোক, অতঃপর তার নাক ধূলিধূসরিত হোক, অতঃপর তার নাক ধূলিধূসরিত হোক, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে বৃদ্ধ অবস্থায় পেল; একজনকে অথবা দু’জনকেই। অতঃপর সে (তাদের খিদমত ক’রে) জান্নাত যেতে পারল না।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ২৫৫১, আহমাদ ৮৩৫২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنهُ رضي الله عنه : أَنَّ رَجُلاً قَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، إنَّ لِي قَرَابةً أصِلُهُمْ وَيَقْطَعُوني، وَأُحْسِنُ إلَيْهِمْ وَيُسِيئُونَ إلَيَّ، وَأحْلَمُ عَنْهُمْ وَيَجْهَلُونَ عَلَيَّ، فَقَالَ: «لَئِنْ كُنْتَ كَمَا قُلْتَ، فَكأنَّمَا تُسِفُّهُمْ الْمَلَّ، وَلاَ يَزَالُ مَعَكَ مِنَ اللهِ ظَهِيرٌ عَلَيْهِمْ مَا دُمْتَ عَلَى ذَلِكَ». رواه مسلم
وتسِفُّهُمْ « بضم التاءِ وآسرِ السين المهملةِ وتشديد الفاءِ . » والمَلُّ « بفتحِ الميم ، وتشديد اللام وهوالرَّماد الحارُّ : أَيْ آأَنَّمَا تُطْعِمُهُمْ الرَّماد الحارَّ وهُو تَشبِيهٌ لِما يلْحَقُهمْ مِنَ الإِثم بِما يَلْحقُ آآِلَ الرَّمادِ مِنَ الإِثمِ، ولا شئَ على المُحْسِنِ إِلَيْهِمْ ، لَكِنْ يَنَالهُمْ إِثْمٌ عَظَيمٌ بَتَقْصيِرهِم في حَقِه ، وإِدخَالِهِمُ الأَذَى عَلَيْهِ، واللَّه أعلم.
৭/৩২৩। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকেই বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার কিছু আত্মীয় আছে, আমি তাদের সাথে আত্মীয়তা বজায় রাখি, আর তারা ছিন্ন করে। আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করি, আর তারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। তারা কষ্ট দিলে আমি সহ্য করি, আর তারা আমার সাথে মূর্খের আচরণ করে।’ তিনি বললেন, ‘‘যদি তা-ই হয়, তাহলে তুমি যেন তাদের মুখে গরম ছাই নিক্ষেপ করছ (অর্থাৎ এ কাজে তারা গোনাহগার হয়।) এবং তোমার সাথে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্যকারী থাকবে; যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এর উপর অনড় থাকবে।’’ (মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ২৫৫৮, আহমাদ ৮৩৫২, ৭৯৩২, ২৭৪৯৯, ৯৯১৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ : «مَن أحَبَّ أنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ، ويُنْسأَ لَهُ فِي أثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
৮/৩২৪। আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি চায় যে, তার রুযী (জীবিকা) প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বৃদ্ধি হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ২০৬৭, ৫৯৮৬, মুসলিম ২৫৫৭, আবূ দাউদ ১৬৯৩, আহমাদ ১২১৭৮, ১২৯৮৮, ম১৩১৭৩, ১৩৩৯৯
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَن أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ : كَانَ أَبُو طَلْحَةَ رضي الله عنه أكْثَرَ الأنْصَار بالمَدِينَةِ مَالاً مِنْ نَخْل، وَكَانَ أَحَبُّ أمْوالِهِ إِلَيْه بَيْرُحَاء، وَكَانتْ مُسْتَقْبلَةَ المَسْجِدِ وَكَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُهَا وَيَشْرَبُ مِنْ مَاءٍ فِيهَا طَيِّب . قَالَ أنَسٌ : فَلَمَّا نَزَلَتْ هذِهِ الآيةُ: ﴿ لن تنالوا البر حتى تنفقوا مما تحبون﴾ [ال عمران: ٩٢] قام أَبُو طَلْحَةَ إِلَى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ : يَا رَسُولَ الله، إنَّ الله تَعَالَى أنْزَلَ عَلَيْكَ : ﴿ لن تنالوا البر حتى تنفقوا مما تحبون﴾ وَإنَّ أَحَبَّ مَالِي إِلَيَّ بَيْرُحَاءُ، وَإنَّهَا صَدَقَةٌ للهِ تَعَالَى، أرْجُو بِرَّهَا، وَذُخْرَهَا عِنْدَ الله تَعَالَى، فَضَعْهَا يَا رَسُول الله حَيْثُ أرَاكَ الله، فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: بَخ ! ذلِكَ مَالٌ رَابحٌ، ذلِكَ مَالٌ رَابحٌ، وقَدْ سَمِعْتُ مَا قُلْتَ، وَإنِّي أرَى أنْ تَجْعَلَهَا في الأقْرَبينَ»، فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ : أفْعَلُ يَا رَسُولَ الله، فَقَسَّمَهَا أَبُو طَلْحَةَ في أقَارِبِهِ، وبَنِي عَمِّهِ . مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
৯/৩২৫। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, মদ্বীনার আনসারীগণের মধ্যে আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সবচেয়ে অধিক খেজুর বাগানের মালিক ছিলেন। মসজিদে নববীর নিকটবর্তী বায়রুহা নামক বাগানটি তাঁর কাছে অধিক প্রিয় ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাগানে প্রবেশ করে সুপেয় পানি পান করতেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল; যার অর্থ, ‘‘তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ।’’ (আলে ইমরান ৯২আয়াত)
তখন আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহ আপনার উপর (আয়াত) অবতীর্ণ করে বলেছেন, ‘‘তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ।’’ আর বায়রুহা বাগানটি আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়। এটি আল্লাহর নামে সদকাহ করা হল। আমি এর কল্যাণ কামনা করি এবং তা আল্লাহর নিকট আমার জন্য জমা হয়ে থাকবে। কাজেই আপনি যাকে দান করা ভাল মনে করেন, তাকে দান করে দিন।’
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘আরে! এ হচ্ছে লাভজনক সম্পদ। এ হচ্ছে লাভজনক সম্পদ। তুমি যা বলেছ, তা শুনেছি। আমি মনে করি, তুমি তোমার আপন-জনদের মধ্যে তা বণ্টন করে দাও।’’ আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তাই করব।’ তারপর তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজন, আপন চাচার বংশধরদের মধ্যে তা বণ্টন করে দিলেন। (বুখারী-মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ১৪৬১, ২৩১৮, ২৭৫২, ২৭৬৯, ৪৫৫৫, ৫৬১১, মুসলিম ৯৯৮, তিরমিযী ২৯৯৭, নাসায়ী ৩৬০২, আবূ দাউদ ১৬৮৯, আহমাদ ১১৭৩৪, ১২০৩০, ১২৩৭০, ১৩২৭৬, ১৩৩৫৬, ১৩৬২২, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৭৫, দারেমী ১৬৫৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ : أقبلَ رَجُلٌ إِلَى نَبيِّ الله صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ : أُبَايِعُكَ عَلَى الهِجْرَةِ وَالجِهَادِ أَبْتَغي الأَجْرَ مِنَ الله تَعَالَى . قَالَ: «فَهَلْ لَكَ مِنْ وَالِدَيْكَ أحَدٌ حَيٌّ؟» قَالَ : نَعَمْ، بَلْ كِلاهُمَا. قَالَ: «فَتَبْتَغي الأجْرَ مِنَ الله تَعَالَى؟» قَالَ : نَعَمْ. قَالَ: «فارْجِعْ إِلَى وَالِدَيْكَ، فَأحْسِنْ صُحْبَتَهُمَا». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ، وهذا لَفْظُ مسلِم .
وفي رواية لَهُمَا: جَاءَ رَجُلٌ فَاسْتَأذَنَهُ في الجِهَادِ، فقَالَ: أحَيٌّ وَالِداكَ ؟ قَالَ : نَعَمْ، قَالَ: فَفيهِمَا فَجَاهِدْ
১০/৩২৬। আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, এক ব্যক্তি আল্লাহর নবীর নিকট এসে বলল, ‘আমি আপনার সঙ্গে আল্লাহ তা‘আলার কাছে নেকী পাওয়ার উদ্দেশ্যে হিজরত এবং জিহাদের বায়‘আত করছি।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তোমার পিতা-মাতার মধ্যে কি কেউ জীবিত আছে?’’ সে বলল, ‘জী হ্যাঁ; বরং দু’জনই জীবিত রয়েছে।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তুমি আল্লাহ তা‘আলার কাছে নেকী পেতে চাও?’’ সে বলল, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘‘তাহলে তুমি তোমার পিতা-মাতার নিকট ফিরে যাও এবং উত্তমরূপে তাদের খিদমত কর।’’ (বুখারী, আর শব্দগুলি মুসলিমের) [1]
উভয়ের অন্য এক বর্ণনায় আছে, এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে জিহাদ করার অনুমতি চাইল। তিনি বললেন, ‘‘তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত আছে?’’ সে বলল, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘‘অতএব তুমি তাদের (সেবা করার) মাধ্যমে জিহাদ কর।’’
[1] সহীহুল বুখারী ৩০০৪, ৫৯৭২, মুসলিম ১৯৬০, ২৫৪৯, তিরমিযী ১৬৭১, নাসায়ী ৩১০৩, আবূ দাউদ ২৫২৯, ইবনু মাজাহ ২৭৮২, আহমাদ ৬৪৮৯, ৬৫০৮, ৬৭২৬, ৬৭৭২, ৬৭৯৪, ৬৮১৯
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنه، عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لَيْسَ الوَاصِلُ بِالمُكَافِئ، وَلكِنَّ الوَاصِلَ الَّذِي إِذَا قَطَعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا». رواه البخاري
১১/৩২৭। আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘সেই ব্যক্তি সম্পর্ক বজায়কারী নয়, যে সম্পর্ক বজায় করার বিনিময়ে বজায় করে। বরং প্রকৃত সম্পর্ক বজায়কারী হল সেই ব্যক্তি, যে কেউ তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সে তা কায়েম করে।’’ (বুখারী) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৫৯৯১, তিরমিযী ১৯০৮, আবূ দাউদ ১৬৯৭, আহমাদ ৬৪৮৮, ৬৭৪৬, ৬৭৪৬, ৬৭৭৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَن عَائِشَةَ، قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «الرَّحِمُ مُعَلَّقَةٌ بِالعَرْشِ تَقُولُ : مَنْ وَصَلَنِي، وَصَلَهُ اللهُ، وَمَنْ قَطَعَنِي، قَطَعَهُ اللهُ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
১২/৩২৮। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘জ্ঞাতিবন্ধন আরশে ঝুলন্ত আছে এবং সে বলছে, ‘যে আমাকে অবিচ্ছিন্ন রাখবে, আল্লাহ তাঁর সম্পর্ক তার সাথে অবিচ্ছিন্ন রাখবেন। আর যে আমাকে বিচ্ছিন্ন করবে, আল্লাহ তাঁর সম্পর্ক তার সাথে বিচ্ছিন্ন করবেন।’’ (বুখারী, মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৫৯৮৯, মুসলিম ২৫৫৫, আহমাদ ২৩৮১৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَن أُمِّ الْمُؤمِنِينَ مَيمُونَةَ بِنتِ الحَارِثِ رَضِيَ اللهُ عَنهَا: أنَّهَا أعْتَقَتْ وَلِيدَةً وَلَمْ تَستَأذِنِ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا كَانَ يَوْمُهَا الَّذِي يَدُورُ عَلَيْهَا فِيهِ، قَالَتْ: أشَعَرْتَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، أنِّي أعتَقْتُ وَلِيدَتِي؟ قَالَ: «أَوَ فَعَلْتِ؟» قَالَتْ: نَعَمْ. قَالَ: « أما إنَّكِ لَوْ أعْطَيْتِهَا أخْوَالَكِ كَانَ أعْظَمَ لأََِجْرِكِ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
১৩/৩২৯। উম্মুল মু’মেনীন মায়মূনাহ বিনতিল হারেস রাদিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক বর্ণিত, তিনি তাঁর একটি ক্রীতদাসীকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুমতি না নিয়েই মুক্ত করলেন। অতঃপর যখন ঐ দিন এসে পৌঁছল, যেদিন তাঁর কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যাওয়ার পালা, তখন মায়মূনাহ বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি যে আমার ক্রীতদাসীকে মুক্ত করে দিয়েছি, আপনি কি তা বুঝতে পেরেছেন?’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি কি (সত্যই) এ কাজ করেছ?’’ মায়মূনা বললেন, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘‘তুমি যদি ক্রীতদাসীটিকে তোমার মামাদেরকে দিতে, তাহলে তুমি বেশী সওয়াব পেতে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ২৫৯২, মুসলিম ৯৯৯, আবূ দাউদ ১৬৯০, আহমাদ ২৬২৭৭
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَن أسماءَ بِنتِ أَبي بَكرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَتْ : قَدِمَتْ عَلَيَّ أُمِّي وَهِيَ مُشرِكَةٌ في عَهْدِ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم، فاسْتَفْتَيْتُ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم، قُلْتُ : قَدِمَتْ عَلَيَّ أُمِّي وَهِيَ رَاغِبَةٌ، أفَأصِلُ أُمِّي ؟ قَالَ: «نَعَمْ، صِلِي أُمَّكِ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
১৪/৩৩০। আসমা বিন্তে আবূ বকর সিদ্দীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আমার অমুসলিম মা আমার কাছে এল। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম; বললাম, ‘আমার মা (ইসলাম) অপছন্দ করা অবস্থায় (আমার সম্পদের লোভ রেখে) আমার নিকট এসেছে, আমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখব কি?’ তিনি বললেন, ‘‘হ্যাঁ, তুমি তোমার মায়ের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখ।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ২৬২০, ৩১৮৩, ৫৯৭৯, মুসলিম ১০০৩, আবূ দাউদ ১৬৬৮, আহমাদ ২৬৩৭৩, ২৬৩৯৯, ২৬৪৫৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَن زَينَبَ الثَّقَفِيَّةِ امرَأَةِ عَبدِ اللهِ بنِ مَسعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُ وَعَنهَا، قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «تَصَدَّقْنَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ وَلَوْ مِنْ حُلِيِّكُنَّ»، قَالَتْ : فَرَجَعْتُ إِلَى عَبدِ اللهِ بنِ مَسعُودٍ، فَقُلتُ لَهُ : إنَّكَ رَجُلٌ خَفِيفُ ذَاتِ اليَدِ، وَإنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَدْ أمَرَنَا بِالصَّدَقَةِ فَأْتِهِ، فَاسأَلهُ، فإنْ كَانَ ذلِكَ يْجُزِئُُ عَنِّي وَإلاَّ صَرَفْتُهَا إِلَى غَيْرِكُمْ . فَقَالَ عَبدُ اللهِ : بَلِ ائْتِيهِ أنتِ، فانْطَلَقتُ، فَإذَا امْرأةٌ مِنَ الأنْصارِ بِبَابِ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَاجَتي حَاجَتُها، وَكَانَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم قَدْ أُلْقِيَتْ عَلَيهِ المَهَابَةُ، فَخَرجَ عَلَيْنَا بِلاَلٌ، فَقُلْنَا لَهُ : ائْتِ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، فَأخْبِرْهُ أنَّ امْرَأتَيْنِ بِالبَابِ تَسألانِكَ : أُتُجْزِئُ الصَّدَقَةُ عَنْهُمَا عَلَى أزْواجِهمَا وَعَلَى أيْتَامٍ في حُجُورِهِما ؟، وَلاَ تُخْبِرْهُ مَنْ نَحْنُ، فَدَخلَ بِلاَلٌ عَلَى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم، فَسَأَلَهُ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «مَنْ هُمَا ؟»قَالَ : امْرَأةٌ مِنَ الأنْصَارِ وَزَيْنَبُ . فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: «أيُّ الزَّيَانِبِ هِيَ ؟»، قَالَ: امْرَأةُ عَبدِ الله، فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: «لَهُمَا أجْرَانِ : أجْرُ القَرَابَةِ وَأجْرُ الصَّدَقَةِ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
১৫/৩৩১। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর স্ত্রী যায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘হে মহিলাগণ! তোমরা সাদকাহ কর; যদিও তোমাদের অলংকার থেকে হয়।’’ যায়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, সুতরাং আমি (আমার স্বামী) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর নিকট এসে বললাম, ‘আপনি গরীব মানুষ, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাদকাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
অতএব আপনি তাঁর নিকট গিয়ে এ কথা জেনে আসুন যে, (আমি যে, আপনার উপর ও আমার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত এতীমদের উপর খরচ করি তা) আমার পক্ষ থেকে সাদকাহ হিসাবে যথেষ্ট হবে কি? নাকি আপনাদেরকে বাদ দিয়ে আমি অন্যকে দান করব?’ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘বরং তুমিই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জেনে এসো।’ সুতরাং আমি তাঁর নিকট গেলাম। দেখলাম, তাঁর দরজায় আরও একজন আনসারী মহিলা দাঁড়িয়ে আছে, তার প্রয়োজনও আমার প্রয়োজনের অনুরূপ।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভাবগম্ভীরতা দান করা হয়েছিল। (তাঁকে সকলেই ভয় করত।) ইতোমধ্যে বিলাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-কে আমাদের পাশ দিয়ে যেতে দেখে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে বলুন, ‘দরজার কাছে দু’জন মহিলা আপনাকে জিজ্ঞাসা করছে যে, তারা যদি নিজ স্বামী ও তাদের তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত এতীমদের উপর খরচ করে, তাহলে তা সাদকাহ হিসাবে যথেষ্ট হবে কি? আর আমরা কে, সে কথা জানাবেন না।’
তিনি প্রবেশ করে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তারা কে?’’ বিলাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘এক আনসারী মহিলা ও যায়নাব।’ তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘কোন্ যায়নাব?’’ বিলাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু উত্তর দিলেন, ‘আব্দুল্লাহর স্ত্রী।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তাদের জন্য দু’টি সওয়াব রয়েছে, আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার সওয়াব এবং সাদকাহ করার সওয়াব।’’ (বুখারী-মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ১৪৬৬, মুসলিম ১০০০, তিরমিযী ৬৩৫, নাসায়ী ২৫৮৩, ইবনু মাজাহ ১৮৩৪, আহমাদ ১৫৬৫২, ২৬৫০৮, দারেমী ১৬৫৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَن أَبي سُفيَانَ صَخرِ بنِ حَربٍ رضي الله عنه في حَديثِهِ الطويل في قِصَّةِ هِرَقْلَ: أنَّ هِرَقْلَ قَالَ لأَبِي سُفْيَانَ: فَمَاذَا يَأمُرُكُمْ بِهِ؟ يَعْنِي النَّبيّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: قُلْتُ: يَقُولُ: « اعْبُدُوا اللهَ وَحْدَهُ، وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيئاً، واتْرُكُوا مَا يَقُولُ آبَاؤُكُمْ، وَيَأمُرُنَا بِالصَّلاةِ، وَالصِّدْقِ، والعَفَافِ، والصِّلَةِ»مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
১৬/৩৩২। আবূ সুফিয়ান সাখর ইবনু হারব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে (রোম-সম্রাট) হিরাক্লিয়াসের ঘটনা সম্পর্কিত দীর্ঘ হাদীসে বর্ণিত, হিরাক্লিয়াস আবূ সুফিয়ানকে বললেন, ‘তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদেরকে কী নির্দেশ দেন?’ আবূ সুফিয়ান বলেন, আমি বললাম, ‘তিনি বলেন, ‘‘তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত কর এবং তার সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না এবং তোমাদের বাপ-দাদার ভ্রান্ত পথ পরিত্যাগ কর।’’ আর তিনি আমাদেরকে নামায পড়ার, সত্যবাদিতার, চারিত্রিক পবিত্রতার এবং আত্মীয়তা বজায় রাখার আদেশ দেন।’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৭, ৫১, ২৬৮১, ২৮০৪, ২৯৩৬, ২৯৪১, ২৯৭৮, ৩১৭৪, ৪৫৫৩, ৫৯৮০, ৬২৬১, ৭১৯৬, মুসলিম ১৭৭৩, তিরমিযী ২৭১৭, আবূ দাউদ ৫১৩৬, আহমাদ ২৩৬৬
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَن أَبي ذَرٍّ رضي الله عنه، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «إنَّكُمْ سَتَفْتَحُونَ أرْضاً يُذْكَرُ فِيهَا القِيرَاطُ» . وفي رِوَايَةٍ: «سَتَفْتَحُونَ مِصْرَ وَهِيَ أرْضٌ يُسَمَّى فِيهَا القِيراطُ، فَاسْتَوْصُوا بأهْلِهَا خَيْراً ؛ فَإنَّ لَهُمْ ذِمَّةً وَرَحِماً»وفي رواية: «فَإِذَا افتَتَحتُمُوهَا، فَأَحسِنُوا إِلَى أَهلِهَا ؛ فَإِنَّ لَهُم ذِمَّةً وَرَحِماً»، أَوْ قَالَ: «ذِمَّةً وصِهْراً». رواه مسلم
১৭/৩৩৩। আবূ যার্র রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা অদূর ভবিষ্যতে এমন এক এলাকা জয় করবে, যেখানে ক্বীরাত্ব (এক দ্বীনারের ২০ ভাগের একভাগ স্বর্ণমুদ্রা) উল্লেখ করা হয়।’’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘তোমরা অচিরে মিসর জয় করবে এবং এটা এমন ভূখণ্ড যেখানে কীরাত্ব (শব্দ) সচরাচর বলা হয়। (সেখানে ঐ মুদ্রা প্রচলিত।) তোমরা তার অধিবাসীদের সাথে ভাল ব্যবহার করো। কেননা, তাদের প্রতি (আমাদের) দায়িত্ব (অধিকার ও মর্যাদা) এবং আত্মীয়তা রয়েছে।’’
অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘সুতরাং যখন তোমরা তা জয় করবে, তখন তার অধিবাসীর প্রতি সদ্ব্যবহার করো। কেননা, তাদের প্রতি (আমাদের) দায়িত্ব (অধিকার ও মর্যাদা) এবং আত্মীয়তা রয়েছে।’’ অথবা বললেন, ‘‘দায়িত্ব (অধিকার ও মর্যাদা) এবং বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে।’’ (মুসলিম)[1]
* উলামাগণ বলেন, তাদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়তা এভাবে যে, ইসমাঈল এর মা হাজার (বা হাজেরা) তাদেরই বংশের ছিলেন। বৈবাহিক সম্পর্ক এভাবে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্র ইব্রাহীমের মা মারিয়াহ তাদের বংশের ছিলেন।
[1] মুসলিম ২৫৪৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ : لَمَّا نَزَلَت هَذِهِ الآيَةُ : ﴿ وَأَنذِرۡ عَشِيرَتَكَ ٱلۡأَقۡرَبِينَ ٢١٤ ﴾ [الشعراء: ٢١٤] دَعَا رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم قُرَيْشاً، فَاجْتَمَعُوا فَعَمَّ وَخَصَّ، وَقالَ: «يَا بَنِي عَبْدِ شَمْسٍ، يا بَنِي كَعْبِ بْنِ لُؤَيٍّ، أنقِذُوا أنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ، يَا بَنِي مُرَّةَ بنِ كَعْبٍ، أنْقِذُوا أنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ، يَا بَنِي عَبْدِ مَنَاف، أنْقِذُوا أنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ، يَا بَنِي هَاشِم، أَنقِذُوا أَنفُسَكُم مِنَ النَّار، يَا بَني عَبدِ الْمُطَّلِب، أَنقِذُوا أَنفُسَكُم مِنَ النَّار، يَا فَاطِمَةُ، أنْقِذِي نَفْسَكِ مِنَ النَّارِ . فَإنِّي لاَ أمْلِكُ لَكُمْ مِنَ اللهِ شَيئاً، غَيْرَ أنَّ لَكُمْ رَحِماً سَأبُلُّهَا بِبِلالِهَا». رواه مسلم
১৮/৩৩৪। আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল যার অর্থ হল, ‘‘তুমি তোমার নিকট আত্মীয়বর্গকে সতর্ক কর।’’ (সূরা শুআরা ২১৪ আয়াত) তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরায়েশ (সম্প্রদায়)কে আহ্বান করলেন। সুতরাং তারা একত্রিত হল। অতঃপর তিনি সাধারণ ও বিশেষভাবে (সম্বোধন করে) বললেন, ‘‘হে বানী আব্দে শাম্স! হে বানী কা‘ব ইবনুলুআই! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। হে বানী মুর্রাহ ইবনু কা‘ব! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। হে বানী আব্দে মানাফ! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। হে বানী হাশেম! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। হে বানী আব্দিল মুত্তালিব! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।
হে ফাতেমা! তুমি নিজেকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। কারণ, আমি আল্লাহর নিকট তোমাদের (উপকার-অপকার) কিছুরই মালিক নই। তবে তোমাদের সাথে (আমার) যে আত্মীয়তা রয়েছে তা আমি (দুনিয়াতে) অবশ্যই আর্দ্র রাখব। (আখেরাতে আমার আনুগত্য ছাড়া আত্মীয়তা কোনো কাজে আসবে না।)’’ (মুসলিম) [1]
* উক্ত হাদীসে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করাকে আগুনের সাথে উপমা দেওয়া হয়েছে, যা পানি দিয়ে নিভাতে হয়। তাই আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখাকে তা আর্দ্র বা ভিজে রাখা বলা হয়েছে।
[1] সহীহুল বুখারী ২৭৫৩, ৩৫২৭, ৪৭৭১, মুসলিম ২০৪, ২০৬, তিরমিযী ৩০৯৪, নাসায়ী ৩৬৪৪, ৩৬৪৬, ৩৬৪৭, আহমাদ ৮১৯৭, ৮৩৯৫, ৮৫০৯, ৮৯২৬, ৯৫০১, দারেমী ২৭৩২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَن أَبي عَبدِ اللهِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ : سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم جِهَاراً غَيْرَ سِرٍّ، يَقُولُ: «إنَّ آل بَني فُلاَنٍ لَيْسُوا بِأولِيَائِي، إِنَّمَا وَلِيِّيَ اللهُ وَصَالِحُ المُؤْمِنينَ، وَلَكِنْ لَهُمْ رَحِمٌ أبُلُّهَا بِبلاَلِهَا». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ، واللفظ للبخاري
১৯/৩৩৫। আবূ আব্দুল্লাহ ‘আমর ইবনু ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গোপনে নয় প্রকাশ্যে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘‘অমুক গোত্রের লোকেরা (যারা আমার প্রতি ঈমান আনেনি তারা) আমার বন্ধু নয়। আমার বন্ধু তো আল্লাহ এবং নেক মু’মিনগণ। কিন্তু ওদের সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক রয়েছে, আমি (দুনিয়াতে) অবশ্যই তা আর্দ্র রাখব।’’ (বুখারী ও মুসলিম, শব্দ বুখারীর) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৫৯৯০, মুসলিম ২১৫, আহমাদ ১৭৩৪৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَن أَبي أَيُّوبٍ خَالِدِ بنِ زَيدٍ الأَنصَارِي رضي الله عنه : أنَّ رَجُلاً قَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، أخْبِرْني بِعَمَلٍ يُدْخِلُني الجَنَّةَ، وَيُبَاعِدُني مِنَ النَّارِ . فَقَالَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: «تَعْبُدُ الله، وَلاَ تُشْرِكُ بِهِ شَيئاً، وَتُقِيمُ الصَّلاةَ، وتُؤتِي الزَّكَاةَ، وتَصِلُ الرَّحمَ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
২০/৩৩৬। আবূ আইয়ূব খালেদ ইবনু যায়েদ আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে এমন আমল বলে দিন, যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তার সাথে কাউকে অংশীদার করবে না, নামায প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দেবে এবং রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ১৩৯৬, ৫৯৮৩, মুসলিম ১৩, নাসায়ী ৪৬৮, আহমাদ ২৩০২৭, ২৩০৩৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَن سَلمَانَ بنِ عَامِرٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ » إِذا أَفْطَرَ أَحَدُآُمْ فَلْيُفْطِرْ
عَلَى تَمرٍ ، فَإِنَّهُ برآَةٌ ، فَإِنْ لَمْ يجِد تَمْراً ، فَالماءُ ، فَإِنَّهُ طُهُورٌ « وقال: » الصَّدَقَةُ عَلَى المِسكينِ صَدَقةٌ، وعَلَى ذِي الرَّحِمِ ثِنْتَانِ : صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ». رواه الترمذي، وَقالَ: حديث حسن».
২১/৩৩৭। সালমান ইবনু আমের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, কেননা এতে বরকত রয়েছে। আর যদি সে খেজুর না পায়, তাহলে সে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে, কেননা এটি পবিত্র। [- হাদিসের এই অংশটুকু সহিহ নয়]
তিনি আরো বলেন "মিসকীনকে সাদকাহ করলে সাদকাহ (করার সওয়াব) হয়। আর আত্মীয়কে সাদকাহ করলে দু’টি সওয়াব হয়ঃ সাদকাহ করার ও আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার।’’ (তিরমিযী এটিকে হাসান বলেছেন [1])
[1] তিরমিযী ৬৫৮, নাসায়ী ২৫৮২, আবূ দাউদ ২৩৫৫, ইবনু মাজাহ ১৬৯৯, ১৮৪৪, আহমাদ ১৫৭৯২, ১৫৭৯৮, ১৭৪১৪, ২৭৭৪৮, ১৭৪৩০, দারেমী ১৬৮০, ১৭০১
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ/যঈফ [মিশ্রিত]
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: كَانَتْ تَحْتِي امْرَأةٌ، وَكُنْتُ أحِبُّهَا، وَكَانَ عُمَرُ يَكْرَهُهَا، فَقَالَ لي : طَلِّقْهَا، فَأبَيْتُ، فَأتَى عُمَرُ رضي الله عنه النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم، فَذَكَرَ ذلِكَ لَهُ، فَقَالَ النَّبيّ صلى الله عليه وسلم: «طَلِّقْهَا». رواه أَبُو داود والترمذي، وَقالَ: حديث حسن صحيح»
২২/৩৩৮। ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, ‘আমার বিবাহ বন্ধনে এক স্ত্রী ছিল, যাকে আমি ভালবাসতাম। কিন্তু (আমার পিতা) উমার তাকে অপছন্দ করতেন। সুতরাং তিনি আমাকে বললেন, ‘‘তুমি ওকে ত্বালাক দাও।’’ কিন্তু আমি (তা) অস্বীকার করলাম। অতঃপর উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলেন এবং এ কথা উল্লেখ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাকে) বললেন, ‘‘তুমি ওকে ত্বালাক দিয়ে দাও।’’ (সুতরাং আমি তাকে ত্বালাক দিয়ে দিলাম।) (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, হাসান সহীহ সূত্রে) [1]
* (উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ঐ মহিলার চরিত্রে এমন কিছু দেখেছিলেন, যার জন্য তাঁর কথা মেনে ত্বালাক দেওয়া জরুরী ছিল। অনুরূপ কারো পিতা দেখলে বা জানতে পারলে তাঁর কথা মেনে পুত্রের উচিত স্ত্রীকে ত্বালাক দেওয়া। নচেৎ পিতামাতার কথা শুনে ভালো স্ত্রীকে অকারণে ত্বালাক দেওয়া পিতৃমাতৃভক্তির পরিচয় নয়।)
[1] তিরমিযী ১১৮৯, আবূ দাউদ ৫১৩৮, ইবনু মাজাহ ২০৮৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
وَعَن أَبي الدَّردَاءِ رضي الله عنه: أَنَّ رَجُلاً أَتَاهُ، قَالَ : إنّ لِي امرَأةً وإنّ أُمِّي تَأمُرُنِي بِطَلاقِهَا، فَقَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «الوَالِدُ أوْسَطُ أبْوَابِ الجَنَّةِ، فَإنْ شِئْتَ، فَأضِعْ ذلِكَ البَابَ، أَو احْفَظْهُ». رواه الترمذي، وَقالَ: حديث حسن صحيح»
২৩/৩৩৯। আবূ দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল, ‘আমার এক স্ত্রী আছে। আমার মা তাকে ত্বালাক দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।’ আবূ দারদা বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘‘পিতা-মাতা জান্নাতের দুয়ারসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দুয়ার। সুতরাং তুমি যদি চাও, তাহলে এ দুয়ারকে নষ্ট কর অথবা তার রক্ষণাবেক্ষণ কর।’’ (তিরমিযী, হাসান সহীহ সূত্রে)[1]
[1]তিরমিযী ১৯০০, ইবনু মাজাহ ২০৮৯, ৩৬৬৩, আহমাদ ২১২১০, ২৬৯৮০, ২৭০০৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
وَعَنِ البَرَاءِ بنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «الخَالةُ بِمَنْزِلَةِ الأُمِّ». رواه الترمذي، وَقالَ: حديث حسن صحيح»
২৪/৩৪০। বারা ইবনু ‘আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কৃর্তক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘খালা মায়ের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত।’’ (তিরমিযী)[1]
এ প্রসঙ্গে আরো অনেক সহীহ ও প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে, তার মধ্যে গুহাবন্দী তিন ব্যক্তির (১৩নং) হাদীস, জুরাইজের (২৬৪নং) লম্বা হাদীস এবং আরো অন্যান্য সহীহ ও প্রসিদ্ধ হাদীস সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে উল্লেখ করলাম না। তার মধ্যে ‘আমর ইবনু আবাসাহর (৪৪৩নং) হাদীসটি বড়ই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ইসলামের অনেকানেক মৌলনীতি ও শিষ্টাচারিতার কথা বর্ণিত হয়েছে। যেটিকে পূর্ণরূপে ‘আল্লাহর দয়ার আশা রাখার গুরুত্ব’ পরিচ্ছেদে উল্লেখ করব -ইনশাআল্লাহ। যে হাদীসে সাহাবী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি নবুঅতের শুরুর দিকে মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এলাম এবং বললাম, ‘আপনি কি?’ তিনি বললেন, ‘‘আমি নবী।’’ আমি বললাম, ‘নবী কি?’ তিনি বললেন, ‘‘আমাকে মহান আল্লাহ প্রেরণ করেছেন।’’ আমি বললাম, ‘ কী নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করেছেন?’ তিনি বললেন, ‘‘জ্ঞাতিবন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখা, মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা, আল্লাহকে একক উপাস্য মানা এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করার নির্দেশ দিয়ে।---’’ (অতঃপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই অধিক জানেন।)
[1] সহীহুল বুখারী ২৭০০, ৪২৫১, তিরমিযী ১৯০৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ