হাদীস বিএন


রিয়াদুস সালিহীন





রিয়াদুস সালিহীন (741)


وَعَن جَابِرٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَأَلَ أهْلَهُ الأُدْمَ، فَقَالُوا: مَا عِنْدَنَا إِلاَّ خَلٌّ، فَدَعَا بِهِ، فَجَعَلَ يَأكُلُ، ويَقُولُ: « نِعْمَ الأُدْمُ الخَلُّ، نِعْمَ الأُدْمُ الخَلُّ ». رواه مسلم




২/৭৪১। জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ পরিবারের কাছে তরকারি চাইলেন। তারা বলল, ‘আমাদের নিকট সির্কা ছাড়া আর কিছুই নেই।’ তিনি তাই চাইলেন এবং (তা দিয়ে) আহার করতে থাকলেন ও বলতে থাকলেন, ‘‘সির্কা কতই না চমৎকার তরকারি। সির্কা কতই না ভাল ব্যঞ্জন।’’ (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ২৫০২

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (742)


عَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « إِذَا دُعِيَ أحَدُكُمْ فَلْيُجِبْ، فَإنْ كَانَ صَائِماً فَلْيُصَلِّ، وَإنْ كَانَ مُفْطِراً فَلْيَطْعَمْ ». رواه مسلم




১/৭৪২। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন তোমাদের কাউকে খাবারের দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন সে যেন তা (কোন আপত্তিকর ব্যাপার না থাকলে সাদরে) গ্রহণ করে। আর সে যদি রোযা অবস্থায় থাকে, তাহলে (দাওয়াতকারীর জন্য) দো‘আ করে। আর যদি রোযা অবস্থায় না থাকে, তাহলে যেন আহার করে। (মুসলিম)[1]


[1] মুসলিম ১৪৩১, তিরমিযী ৭৮০, আবূ দাউদ ২৪৬০, আহমাদ ৭৬৯১, ৯৯৭৬, ১০২০৭

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (743)


عَن أَبي مَسعُودٍ البَدْريِّ رضي الله عنه، قَالَ: دَعَا رَجُلٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لِطَعَامٍ صَنعَهُ لَهُ خَامِسَ خَمْسَةٍ، فَتَبِعَهُمْ رَجُلٌ، فَلَمَّا بَلَغَ البَابَ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: « إنَّ هَذَا تَبِعَنَا، فَإنْ شِئْتَ أنْ تَأْذَنَ لَهُ، وَإنْ شِئْتَ رَجَعَ ». قَالَ: بل آذَنُ لَهُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم . متفقٌ عَلَيْهِ




২/৭৪৩। আবূ মাস‘ঊদ বদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খাবারের জন্য দাওয়াত দিল, যা সে পাঁচ জনের জন্য প্রস্তুত করেছিল, যার পঞ্চম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। (রাস্তায়) এক (অনাহূত) ব্যক্তি তাঁদের অনুগামী হল। যখন তাঁরা বাড়ির দরজায় পৌঁছলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমন্ত্রণকারীকে) বললেন, ‘‘এ ব্যক্তি আমাদের সাথে চলে এসেছে। তুমি চাইলে ওকে অনুমতি দিতে পার, না চাইলে ও ফিরে যাবে।’’ কিন্তু সে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! বরং আমি তাকে অনুমতি দিলাম।’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ২০৮১, ২৪৫৬, ৫৪৩৪, ৫৪৬১, মুসলিম ২০৩৬, তিরমিযী ১০৯৯

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (744)


عَن عُمَرَ بنِ أَبي سَلمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: كُنْتُ غُلاَماً فِي حِجْرِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَكَانَتْ يَدِي تَطِيشُ فِي الصَّحْفَةِ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: يَا غُلاَمُ، سَمِّ اللهَ تَعَالَى، وَكُلْ بِيَمِينِكَ، وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ . متفقٌ عَلَيْهِ




১/৭৪৪। উমার ইবনে আবী সালামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বাল্যকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তত্ত্বাবধানে ছিলাম। একদা খাবার পাত্রে আমার হাত ছুটাছুটি করছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘‘ওহে কিশোর! ‘বিসমিল্লাহ’ বলে ডান হাতে খাও এবং তোমার সামনে এক তরফ থেকে খাও।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] ৭৩২-এর অনুরূপ

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (745)


وَعَن سَلَمَةَ بنِ الأَكْوَعِ رضي الله عنه: أنَّ رَجُلاً أَكَلَ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِشِمَالِهِ، فَقَالَ: « كُلْ بِيَمِينِكَ» قَالَ: لاَ أسْتَطِيعُ . قَالَ: لاَ اسْتَطَعْتَ ! مَا مَنَعَهُ إِلاَّ الكِبْرُ ! فَمَا رَفَعَهَا إِلَى فِيهِ . رواه مسلم




২/৭৪৫। সালামা ইবনে আকওয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে একটি লোক তার বাম হাত দ্বারা আহার করল। (এ দেখে) তিনি বললেন, ‘‘তুমি ডান হাত দ্বারা খাও।’’ সে বলল, ‘আমি পারবো না!’ তিনি বদ-দো‘আ দিয়ে বললেন, ‘‘তুমি যেন না পারো।’’ ওর অহংকারই ওকে (কথা মানতে) বাধা দিয়েছিল। সুতরাং তারপর থেকে সে আর তার হাত মুখে তুলতে পারেনি। (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ২০২১, আহমাদ ১৬০৫৮, ১৬০৬৪, ১৬০৯০, দারেমী ২০৩২

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (746)


عَن جَبَلَة بنِ سُحَيْمٍ، قَالَ: أصَابَنَا عَامُ سَنَةٍ مَعَ ابنِ الزُّبَيْرِ ؛ فَرُزِقْنَا تَمْراً، وَكَانَ عَبدُ اللهِ بنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا يَمُرُّ بِنَا وَنَحنُ نَأكُلُ، فَيَقُولُ: لاَ تُقَارِنُوا، فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عنِ القِرَانِ، ثُمَّ يَقُولُ: إِلاَّ أنْ يَسْتَأذِنَ الرَّجُلُ أخَاهُ . متفقٌ عَلَيْهِ




১/৭৪৬। জাবালাহ ইবনে সুহাইম বলেন, ইবনে যুবাইরের খেলাফতকালে আমরা দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হয়েছিলাম। সুতরাং আমাদেরকে খেজুর দেওয়া হত। আর ‘আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতেন, যখন আমরা তা আহার করতাম। তিনি বলতেন, ‘তোমরা জোড়া জোড়া খেজুর এক সাথে খাবে না। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোড়া খেজুর (দুটো খেজুর এক সঙ্গে) খেতে বারণ করেছেন।’ তারপর বললেন, ‘তবে যদি তার সঙ্গী ভাইয়ের কাছে সে অনুমতি গ্রহণ করে (তবে তা স্বতন্ত্র ব্যাপার)।’ (বুখারী, মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ২৪৫৫, ২৪৮৯, ২৪৯০, ৫৪৪৬, মুসলিম ২০৪৫, তিরমিযী ১৮১৪, আবূ দাউদ ৩৮৩৪, ইবনু মাজাহ ৩৩৩১, আহমাদ ৪৪৯৯, ৫০১৭, ৫০৪৩, ৫২২৪, ৫৪১২, ৫৫০৮, ৫৭৬৮, ৬১১৪

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (747)


عَن وَحْشِيِّ بنِ حَربٍ رضي الله عنه: أَنَّ أَصحَابَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، إنَّا نَأكُلُ وَلاَ نَشْبَعُ ؟ قَالَ: « فَلَعَلَّكُمْ تَفْتَرِقُونَ » قَالُوا: نَعَمْ . قَالَ: « فَاجْتَمِعُوا عَلَى طَعَامِكُمْ، وَاذْكُرُوا اسْمَ اللهِ، يُبَارَكْ لَكُمْ فِيهِ ». رواه أَبُو داود




১/৭৪৭। অহশী ইবনে হার্ব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, সাহাবাগণ নিবেদন করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমরা খাই, কিন্তু যেন পেট ভরে না।’ তিনি বললেন, ‘‘তাহলে হয়তো তোমরা আলাদা আলাদা খাও।’’ তারা বললেন, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘‘তোমরা জামা‘আতবদ্ধভাবে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে আহার করো, তাহলে তাতে তোমাদের জন্য বরকত দান করা হবে।’’ (আবূ দাঊদ) [1]


[1] আবূ দাউদ ৩৭৬৪, ইবনু মাজাহ ৩২৮৬, আহমাদ ১৫৬৪৮

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (748)


وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: البَرَكَةُ تَنْزِلُ وَسَطَ الطعَامِ ؛ فَكُلُوا مِنْ حَافَتَيْهِ، وَلاَ تَأكُلُوا مِنْ وَسَطِهِ . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح




এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী পূর্বে পার হয়ে গেছে, ‘‘তুমি তোমার সামনে একধার থেকে খাও।’’ (বুখারী, মুসলিম)

১/৭৪৮। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যেহেতু খাবারের মাঝখানে বরকত নাযিল হয়, সেহেতু তোমরা ওর দুই ধার থেকে খাও, আর ওর মাঝখান থেকে খেয়ো না।’’ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী হাসান সহীহ)[1]


[1] তিরমিযী ১৮০৫, আবূ দাউদ ৩৭৭২,ইবনু মাজাহ ৩২৭৭

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান









রিয়াদুস সালিহীন (749)


وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ بُسْرٍ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَصْعَةٌ يُقَالُ لَهَا: الغَرَّاءُ يَحْمِلُهَا أرْبَعَةُ رِجَالٍ ؛ فَلَمَّا أضْحَوْا وَسَجَدُوا الضُّحَى أُتِيَ بِتِلْكَ الْقَصْعَةِ ؛ يَعنِي وَقَدْ ثُرِدَ فِيهَا، فَالتَفُّوا عَلَيْهَا، فَلَمَّا كَثُرُوا جَثَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ أَعرَابيٌّ: مَا هَذِهِ الجِلْسَةُ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: إنَّ اللهَ جَعَلَنِي عَبْداً كَرِيماً، وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّاراً عَنِيداً ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: كُلُوا مِنْ حَوَالَيْهَا، وَدَعُوا ذِرْوَتَهَا يُبَارَكْ فِيهَا ». رواه أَبُو داود بإسنادٍ جيد




২/৭৪৯। আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি পাত্র ছিল যাকে ‘গার্রা’ বলা হত, সেটাকে চারজন মানুষ ধরে তুলতো। একদা চাশ্তের সময়ে যখন চাশ্তের নামায পড়ার পর ঐ (বিশাল) পাত্রটি আনা হল---অর্থাৎ তাতে ‘সারীদ’ (গোশত ও খন্ড খন্ড রুটি সংমিশ্রণে প্রস্তুত সুসবাদু খাদ্য) রাখার পর, তখন লোকেরা তাতে জমায়েত হল। লোকের পরিমাণ যখন বেশি হল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁটুর ভরে বসে পড়লেন। (এরূপ দেখে) জনৈক বেদুঈন বলল, ‘এ কেমন বসা?’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘নিশ্চিতরূপে আল্লাহ আমাকে ভদ্র (বিনয়ী) বান্দা করেছেন এবং উদ্ধত ও হঠকারী করেননি।’’ তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তোমরা পাত্রের এক ধার থেকে খেতে থাক। আর ওর শীর্ষভাগ ছেড়ে দাও, ওখানে বরকত অবতীর্ণ হবে।’’ (আবূ দাঊদ উত্তম সনদে) [1]


[1] আবূ দাউদ ৩৭৭৩, ইবনু মাজাহ ৩২৬৩, ৩২৭৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান









রিয়াদুস সালিহীন (750)


عَن أَبي جُحَيْفَةَ وَهْبِ بنِ عَبدِ اللهِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «لاَ آكُلُ مُتَّكِئاً». رواه البخاري




১/৭৫০। আবূ জুহাইফা অহাব ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আমি হেলান দিয়ে বসে আহার করি না।’’ (বুখারী)[1]

ইমাম খাত্ত্বাবী (রঃ) বলেন, ‘এখানে হেলান দিয়ে বসার মানে হচ্ছে নিচে কোন নরম গদি বা আসনে চেপে বসা। উদ্দেশ্য হল, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক ভোজনবিলাসী পেটুক মানুষের মত কোন গদিতে চেপে বা ঠেস বালিশে হেলান দিয়ে বসতেন না এবং তিনি আরামের সাথে না বসে এমনভাবে হাঁটু দু’টি উঁচু করে বসতেন, যেন উঠে দাঁড়াবেন। তিনি যথা পরিমিতভাবে আহার করতেন।’ --এ হল ইমাম খাত্ত্বাবীর কথা। অন্যান্য আলেমগণ এ অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, একপার্শ্বে ভর দিয়ে চেপে বসা হল হেলান দিয়ে বসা। আর আল্লাহই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।


[1] সহীহুল বুখারী ৫৩৯৮, ৫৩৯৯, তিরমিযী ১৮৩০, আবূ দাউদ ৩৭৬৯, ইবনু মাজাহ ৩২৬২, আহমাদ ১৮২৭৯,১৮২৮৯, দারেমী ২০৭১

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (751)


وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم جَالِساً مُقْعِياً يَأكُلُ تَمْراً . رواه مسلم




২/৭৫১। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উঁচু হয়ে বসে খেজুর খেতে দেখেছি।’ (মুসলিম)[1]



* উঁচু হয়ে বসার পদ্ধতি এই যে, পায়ের নলা দুখানা উঁচু করে বুকের সাথে লাগিয়ে মাটিতে বা কোন আসনে পাছা ঠেকিয়ে বসা।


[1] মুসলিম ২০৪৪, আবূ দাউদ ৩৭৭১, আহমাদঃ, ১২৬৮৮, দারেমী ২০৬২

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (752)


عَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: إِذَا أكَلَ أَحَدُكُمْ طَعَاماً، فَلاَ يَمْسَحْ أَصَابِعَهُ حَتَّى يَلْعَقَهَا أَوْ يُلْعِقَها ». متفقٌ عَلَيْهِ




খাওয়ার পর আঙ্গুল চেটে ও চুষে খাওয়া উত্তম। তা চাটার পূর্বে মুছে (বা ধুয়ে) ফেলা অপছন্দনীয়। বাসন চেটে খাওয়া ও নিচে পড়ে যাওয়া খাবারের লুকমা বা দানা তুলে খাওয়া উত্তম এবং আঙ্গুল চাটা বা চুষার পর হাত-পা ইত্যাদিতে মুছা বৈধ।



১/৭৫২। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের কেউ যখন আহার করে, সে যেন তার আঙ্গুলগুলি না মুছে; যতক্ষণ না সে তা নিজে চেটে খায় কিংবা অন্য (শিশু প্রভৃতি)কে দিয়ে চাঁটিয়ে নেয়।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]


[1] সহীহুল বুখারী ৫৪৫৬, মুসলিম ২০৩১, আবূ দাউদ ৩৮৪৭, ইবনু মাজাহ ৩২৬৯, আহমাদ ২৬৬৩, ৩২২৪, ২৭৭৭৩, দারেমী ২০২৬

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (753)


وَعَن كَعبِ بنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: رَأَيتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَأكُلُ بثَلاَثِ أَصَابِعَ، فَإِذَا فَرَغَ لَعِقَهَا . رواه مسلم




২/৭৫৩। কা‘ব ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তিন আঙ্গুল দ্বারা (রুটি, খেজুর ইত্যাদি) খেতে দেখেছি। অতঃপর যখন তিনি খাবার শেষ করলেন, তখন সেগুলিকে চাটলেন।’ (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ২০৩২, আবূ দাউদ ৩৮৪৮, আহমাদ ১৫৩৩৭, ২৬৬২৬, দারেমী ২০৩৩

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (754)


وَعَن جَابِرٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِلَعْقِ الأَصَابِعِ وَالصَّحفَةِ، وَقَالَ: « إنَّكُمْ لاَ تَدْرُونَ فِي أيِّ طَعَامِكُمُ البَرَكَةُ ». رواه مسلم




৩/৭৫৪। জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবারান্তে আঙ্গুল ও থালা চেটে খাবার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘‘তোমরা জান না যে, তোমাদের কোন্ খাদ্যে বরকত নিহিত আছে।’’ (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ২০৩৩, ইবনু মাজাহ ৩২৭০, আহমাদ ১৩৮০৯, ১৩৯৭৯, ১৪১৪২, ১৪২১৮, ১৪৫২১, ১৪৮০২, ১৪৮১৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (755)


وَعَنهُ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: إِذَا وَقَعَتْ لُقْمَةُ أحَدِكُمْ، فَلْيأخُذْهَا فَلْيُمِطْ مَا كَانَ بِهَا مِنْ أَذىً، وَلْيَأْكُلْهَا، وَلاَ يَدَعْهَا لِلشَّيْطَان، وَلاَ يَمْسَحْ يَدَهُ بِالمِنْدِيل حَتَّى يَلْعَقَ أصَابِعَهُ، فَإنَّهُ لاَ يَدْري فِي أيِّ طَعَامِهِ البَرَكَةُ . رواه مسلم




৪/৭৫৫। উক্ত রাবী হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন কারো খাদ্য গ্রাস (বা দানা পাত্রের বাইরে) পড়ে যাবে, তখন সে যেন তা থেকে নোংরা দূর করে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা ছেড়ে না দেয়। আর রুমালে হাত মুছে ফেলার পূর্বে যেন আঙ্গুলগুলি চেটে নেয়। কেননা, সে জানে না যে, তার কোন্ খাদ্যাংশে বরকত নিহিত আছে।’’ (মুসলিম) [1]


[1] প্রাগুক্ত

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (756)


وَعَنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: إنَّ الشَّيْطَانَ يَحْضُرُ أحَدَكُمْ عِنْدَ كُلِّ شَيْءٍ مِنْ شَأنِهِ، حَتَّى يَحْضُرَهُ عِنْدَ طَعَامِهِ، فإذَا سَقَطَتْ لُقْمَةُ أحَدِكُمْ فَلْيَأخُذْهَا فَليُمِطْ مَا كَانَ بِهَا مِنْ أذىً، ثُمَّ لِيَأْكُلْهَا وَلاَ يَدَعْهَا للشَّيْطَانِ، فإذَا فَرَغَ فَلْيَلْعَقْ أصَابِعَهُ، فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي فِي أيِّ طَعَامِهِ البَرَكَةُ . رواه مسلم




৫/৭৫৬। উক্ত রাবী থেকেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘শয়তান তোমাদের সমস্ত কাজ কর্মে তোমাদের নিকট উপস্থিত হয়; এমনকি তোমাদের খাবারের সময়েও উপস্থিত হয়। সুতরাং যখন কারো খাবার লুকমা (থালার বাইরে) পড়ে যায়, তখন সে যেন তা তুলে তা থেকে নোংরা পরিষ্কার করে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা ফেলে না রাখে। আর আহারান্তে আঙ্গুলগুলি চেটে নেয়। কারণ, তার জানা নেই যে, তার কোন্ খাবারে বরকত নিহিত আছে। (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ২০৩৪, তিরমিযী ১৮০১, আহমাদ ৮২৯৪, ৯১০৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (757)


وَعَن أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أكَلَ طَعَاماً، لَعِقَ أصَابِعَهُ الثَّلاَثَ . قَالَ: وَقَالَ: إِذَا سَقَطَتْ لُقْمَةُ أَحَدِكُمْ فَلْيُمِط عَنهَا الأَذَى، وليَأكُلْهَا وَلاَ يَدَعْهَا لِلشَّيْطان. وأَمَرَ أن تُسلَتَ القَصْعَةُ، قَالَ: فإنَّكُمْ لاَ تَدْرُونَ في أيِّ طَعَامِكُمُ البَرَكَة . رواه مسلم




৬/৭৫৭। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আহার করতেন তখন নিজ তিনটি আঙ্গুল চেটে খেতেন এবং বলতেন, ‘‘কারো খাবারের লুকমা নিচে পড়ে গেলে, সে যেন তা তুলে পরিষ্কার করে খেয়ে ফেলে এবং শয়তানের জন্য ফেলে না রাখে।’’ আর তিনি আমাদেরকে খাদ্যপাত্র (বা বাসন) চেটে খেতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘‘তোমরা জান না যে, তোমাদের কোন্ খাবারে বরকত নিহিত আছে।’’ (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ২০৩৪, তিরমিযী ১৮০১, আবূ দাউদ ৩৮৪৫, আহমাদ ১২৪০৪, ১৩৬৭৫, দারেমী ১৯৪২, ২০২৫, ২০২৮

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (758)


وَعَن سَعِيدِ بنِ الحَارِثِ: أَنَّهُ سَأَلَ جَابِراً رضي الله عنه عَنِ الوُضُوءِ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ، فَقَالَ: لاَ، قَدْ كُنَّا زَمَنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لاَ نَجِدُ مِثْلَ ذَلِكَ الطَّعامِ إِلاَّ قَلِيلاً، فَإِذَا نَحْنُ وَجَدْنَاهُ، لَمْ يَكُنْ لَنَا مَنَادِيلُ إِلاَّ أَكُفَّنَا، وَسَواعِدَنَا، وَأقْدَامَنَا، ثُمَّ نُصَلِّي وَلاَ نَتَوَضَّأُ . رواه البخاري




৭/৭৫৮। সা‘ঈদ ইবন হারেস কর্তৃক বর্ণিত, তিনি জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-কে আগুনে স্পর্শ করা বস্তু খাওয়ার পর ওযূ করা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, ‘না। (ওযূ করতে হবে না।) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে তো আমরা এরূপ খাদ্য খুব কমই পেতাম। আর যখন আমরা তা পেতাম, তখন আমাদের তো হাতের চেটো, হাতের নলা ও পা ছাড়া কোন রুমাল ছিল না। (আমরা এগুলিতে মুছে ফেলতাম।) তারপর (নতুন) ওযূ না করেই আমরা নামায আদায় করতাম।’ (বুখারী) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ৫৪৫৭, তিরমিযী ৮০, নাসায়ী ১৮৫, আবূ দাউদ ১৯১, ১৯২, ইবনু মাজাহ ৪৮৯, ৩২৮২, আহমাদ ১৩৮৮৭, ১৪০৪৪, ১৪৫০৩, ১৪৬০২, ১৪৬৬২, মুওয়াত্তা মালেক ৫৭

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (759)


عَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « طَعَامُ الاِثنَينِ كَافِي الثَّلاَثَةِ، وَطَعَامُ الثَّلاَثَةِ كَافِي الأَربَعَةِ ». متفق عَلَيْهِ




১/৭৫৯। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘দু’জনের খাবার তিনজনের জন্য যথেষ্ট এবং তিনজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ৫৩৯২, মুসলিম ২০৫৮, তিরমিযী ১৮২০, আহমাদ ৭২৭৮, ৯০২৪, মুওয়াত্তা মালেক ১৭২৬

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (760)


وَعَن جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: « طَعَامُ الوَاحِدِ يَكْفِي الاِثْنَيْنِ، وَطَعَامُ الاِثْنَيْنِ يَكْفِي الأَرْبَعَةَ، وَطَعَامُ الأَرْبَعَةِ يَكْفِي الثَّمَانِيَةَ ». رواه مسلم




২/৭৬০। জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, ‘‘একজনের খাবার দু’জনের জন্য যথেষ্ট এবং দু’জনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট, আর চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট।’’ (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ২০৫৯, তিরমিযী ১৮২০, ইবনু মাজাহ ৩২৫৪, আহমাদ ১৩৮১১, ১৩৯৮০, ১৪৬৮৪, দারেমী ২০৪৪

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ