রিয়াদুস সালিহীন
وَعَنْ أَبي جُرَيٍّ الهُجَيْمِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: أتيتُ رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقُلتُ: عَلَيْكَ السَّلامُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم! قَالَ: لاَ تَقُلْ عَلَيْكَ السَّلامُ ؛ فَإِنَّ عَلَيْكَ السَّلاَمُ تَحِيَّةُ المَوتَى . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح ، وَقَدْ سَبَقَ بِطُولِهِ.
৭/৮৬১। আবূ জুরাই হুজাইমী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাযির হয়ে বললাম, ‘আলাইকাস সালাম’ ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেন, ‘‘আলাইকাস সালাম’ বলো না। কেননা, ‘আলাইকাস সালাম’ হচ্ছে মৃত ব্যক্তিদেরকে জানানো অভিবাদন বাক্য।’’ (আবু দাঊদ, তিরমিযী হাসান সহীহ, ইতোপূর্বে সম্পূর্ণ হাদীসটি ৮০০ নম্বরে গত হয়েছে।) [1]
[1] তিরমিযী ২৭২১, ২৭২২, আবূ দাউদ ৫০২৯
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
عَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى المَاشِي، وَالمَاشِي عَلَى القَاعِدِ، وَالقَليلُ عَلَى الكَثِيرِ . متفقٌ عَلَيْهِ، وَفِي رِوَايَةٍ لِلبُخَارِي: وَالصَّغِيرُ عَلَى الكَبِيرِ
১/৮৬২। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আরোহী পায়ে হাঁটা ব্যক্তিকে, পায়ে হাঁটা ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তিকে এবং অল্প সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যক লোককে সালাম দেবে।’’ (বুখারী-মুসলিম) [1]
বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘ছোট বড়কে সালাম দেবে।’’
[1] সহীহুল বুখারী ৬২৩১, ৬২৩২, ৬২৩৪, ৩১, ৩২, ৩৪, মুসলিম ২১৬০, তিরমিযী ২৭০৩, আবূ দাউদ ৫১৯৮, আহমাদ ২৭৩৭৯, ৮১১৩, ১০২৪৬
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي أُمَامَةَ صُدَيِّ بنِ عَجلاَنَ البَاهِلِي رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « إنَّ أَوْلى النَّاسِ بِاللهِ مَنْ بَدَأهُمْ بِالسَّلامِ ». رواه أَبُو داود بإسنادٍ جيدٍ .
ورواه الترمذي عَن أَبي أُمَامَةَ رضي الله عنه، قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، الرَّجُلاَنِ يَلْتَقِيَانِ أَيُّهُمَا يَبْدَأُ بِالسَّلاَمِ ؟ قَالَ: « أَوْلاَهُمَا بِاللهِ تَعَالَى . قَالَ الترمذي: «هَذَا حديث حسن
২/৮৬৩। আবূ উমামাহ সুদাই ইবনে আজলান বাহেলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আল্লাহর নিকটবর্তী সেই, যে লোকদেরকে প্রথমে সালাম করে।’’ (আবূ দাঊদ উত্তম সূত্রে) [1]
তিরমিযীও আবূ উমামাহ কর্তৃক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! দু’জনের সাক্ষাৎকালে তাদের মধ্যে কে প্রথমে সালাম দেবে?’ তিনি বললেন, ‘‘যে মহান আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী হবে।’’ (তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান)
[1] তিরমিযী ২৬৯৪, আবূ দাউদ ৫১৯৭, আহমাদ ২১৬৮৮, ২১৭৪৯, ২১৭৭৬, ২১৮১৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
عَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه فِي حَدِيثِ المُسِيءِ صَلاَتَهُ: أَنَّهُ جَاءَ فَصَلَّى، ثُمَّ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، فَرَدَّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ، فَقَالَ: « ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ » فَرَجَعَ فَصَلَّى، ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، حَتَّى فَعَلَ ذَلِكَ ثَلاثَ مَرَّاتٍ . متفقٌ عَلَيْهِ
১/৮৬৪। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, নামায ভুলকারীর হাদীসে এসেছে যে, সে ব্যক্তি এসে নামায পড়ল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তাঁকে সালাম দিল। তিনি তার সালামের জবাব দিয়ে বললেন, ‘‘ফিরে যাও, এবং নামায পড়। কেননা, তোমার নামায পড়া হয়নি।’’ কাজেই সে ফিরে গিয়ে আবার নামায পড়ল। তারপর পুনরায় এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিল। এভাবে সে তিনবার করল। (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৭৫৭, ৭৯৩, ৬২৫১, ৬৬৬৭, মুসলিম ৩৯৭, তিরমিযী ৩০৩, নাসায়ী ৮৮৪, আবূ দাউদ ৮৫৬, ইবনু মাজাহ ১০৬০, ৩৬৯৫, আহমাদ ৯৩৫২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وعنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: "إذا لقي أحدكم أخاه، فليسلم عليه، فإن حالت بينهما شجرة، أو جدار، أو حجر، ثم لقيه، فليسلم عليه" ((رواه أبو داود)).
২/৮৬৫। উক্ত রাবী হতেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন কেউ তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে দেখা করবে, তখন সে যেন তাকে সালাম দেয়। অতঃপর যদি তাদের দু’জনের মাঝে গাছ বা দেওয়াল অথবা পাথর আড়াল হয়, তারপর আবার সাক্ষাৎ হয়, তাহলে সে যেন আবার সালাম দেয়।’’ (আবূ দাঊদ) [1]
[1] আবূ দাউদ ৫২০০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: يَا بُنَيَّ، إِذَا دَخَلْتَ عَلَى أهْلِكَ، فَسَلِّمْ، يَكُنْ بَرَكَةً عَلَيْكَ، وَعَلَى أهْلِ بَيْتِكَ . رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح
১/৮৬৬। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘হে বৎস! তোমার বাড়িতে যখন তুমি প্রবেশ করবে, তখন সালাম দাও, তাহলে তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য তা বরকতময় হবে।’’ (ইমাম তিরমিযী হাসান সহীহ বলেছেন)[1]
[1] তিরমিযী ২৬৯৮
হাদিসটি যঈফ, এর সনদে আলী ইবনে যায়েদ ইবনে জাদআন আছে, যিনি দুর্বল রাবী
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ যঈফ
عَن أَنَسٍ رضي الله عنه: أنَّهُ مَرَّ عَلَى صِبْيَانٍ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ، وَقَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُهُ. متفقٌ عَلَيْهِ
১/ ৮৬৭। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি কতিপয় শিশুর নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাদেরকে সালাম দিলেন এবং বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬২৪৭, মুসলিম ২১৬৮, তিরমিযী ২৬৯৬, আবূ দাউদ ৫২০২, ইবনু মাজাহ ৩৭০০, আহমাদ ১১৯২৮, ১২৩১৩, ১২৪৮৫, ১২৬১০, দারেমী ২৬৩৬
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَن سَهلِ بنِ سَعدٍ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَتْ فِينَا امْرَأةٌ ـ وفي رواية: كَانَتْ لَنَا عَجُوزٌ ـ تَأخُذُ مِنْ أصُولِ السِّلْقِ فَتَطْرَحُهُ فِي القِدْرِ، وَتُكَرْكِرُ حَبَّاتٍ مِنْ شَعِيرٍ، فَإذَا صَلَّيْنَا الْجُمُعَةَ، وَانْصَرَفْنَا، نُسَلِّمُ عَلَيْهَا، فَتُقَدِّمُهُ إلَيْنَا . رواه البخاري
নিজ স্ত্রীকে স্বামীর সালাম দেওয়া, অনুরূপভাবে কোন পুরুষের তার ‘মাহরাম’ (যার সাথে বৈবাহিক-সম্পর্ক চিরতরে নিষিদ্ধ এমন) মহিলাকে সালাম দেওয়া, অনুরূপ ফিতনা-ফাসাদের আশংকা না থাকলে ‘গায়র মাহরাম’ (যার সাথে বৈবাহিক-সম্পর্ক কোন সময় বৈধ এমন) মহিলাদেরকে সালাম দেওয়া বৈধ। যেমন উক্ত মহিলাদেরও উক্ত পুরুষদেরকে ঐ শর্ত-সাপেক্ষে সালাম দেওয়া বৈধ।
১/৮৬৮। সাহল ইবনে সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে এক মহিলা ছিল। অন্য বর্ণনায় আছে আমাদের একটি বুড়ি ছিল। সে বীট (কেটে) হাঁড়িতে রেখে তাতে কিছু যব দানা পিষে মিশ্রণ করত। অতঃপর আমরা যখন জুমআর নামায পড়ে ফিরে আসতাম, তখন তাকে সালাম দিতাম। আর সে আমাদের জন্য তা পেশ করত।’ (বুখারী) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৯৩৮, ৯৩৯, ৯৪১, ৫৪০৩, ২৩৪৯, ৬২৪৮, ৬২৭৯, মুসলিম ৮৫৯, তিরমিযী ৫২৫, ইবনু মাজাহ ১০৯৯
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أُمِّ هَانِىءٍ فَاخِتَةَ بِنتِ أَبي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: أَتَيتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الفَتْحِ وَهُوَ يَغْتَسِلُ، وَفَاطِمَةُ تَسْتُرُهُ بِثَوْبٍ، فَسَلَّمْتُ ... وَذَكَرَتِ الحديث . رواه مسلم
২/৮৬৯। উম্মে হানী ফাখেতাহ বিনতে আবী ত্বালেব রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘মক্কা বিজয়ের দিন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাজির হলাম। তখন তিনি গোসল করছিলেন। ফাতেমা তাঁকে একটি কাপড় দিয়ে আড়াল করছিলেন। আমি (তাঁকে) সালাম দিলাম।...’ অতঃপর তিনি সম্পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৩৫৭, ২৮০, মুসলিম ৩৩৬, তিরমিযী ৪৭৪, ২৭৩৪, নাসায়ী ২২৫, আবূ দাউদ ১১০৪, ১১৭৬, ৩১৭১, ৪২৯২, ৬১৫৮, ইবনু মাজাহ ৪৬৫, ৬১৪, ১৩২৩, ১৩৭৯, আহমাদ ২৬৩৪৭, ২৬৩৫৬, ২৬৮৩৩, মালেক ৩৫৯, দারেমী ১৪৫২, ১৪৫৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أسماءَ بِنتِ يَزِيدَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: مَرّ عَلَيْنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي نِسوَةٍ فَسَلَّمَ عَلَيْنَا . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن ، وهذا لفظ أَبي داود .
ولفظ الترمذي: أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَرَّ في المَسْجِدِ يَوْماً، وَعُصْبَةٌ مِنَ النِّسَاءِ قُعُودٌ، فَأَلْوَى بِيَدِهِ بالتَّسْلِيمِ .
৩/৮৭০। আসমা বিনতে য়্যাযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাদের) একদল মহিলার নিকট অতিক্রম করার সময় আমাদেরকে সালাম দিলেন।’ (আবু দাঊদ) [1]
তিরমিযীর শব্দগুচ্ছ এরূপঃ ‘একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ অতিক্রম করছিলেন, মহিলাদের একটা দল বসেছিল, তিনি তাদেরকে হাতের ইঙ্গিতে সালাম দিলেন।’ (এটি সহীহ নয়)
[1] আবূ দাউদ ৫২০৪, দারেমী ২৬৩৭, তিরমিযী ২৬৯৭, ইবনু মাজাহ ৩৭০১, আহমাদ ২৭০১৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ/যঈফ [মিশ্রিত]
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: « لاَ تَبْدَأُوا اليَهُودَ وَلاَ النَّصَارَى بالسَّلامِ، فَإِذَا لَقِيتُمْ أَحَدَهُمْ في طَرِيقٍ فَاضطَرُّوهُ إِلَى أَضْيَقِهِ». رواه مسلم
১/৮৭১। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানদেরকে প্রথমে সালাম দিয়ো না। যখন পথিমধ্যে তাদের কারো সাথে সাক্ষাৎ হবে, তখন তাকে পথের এক প্রান্ত দিয়ে যেতে বাধ্য করো।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ২১৬৭, তিরমিযী ২৭০০, আবূ দাউদ ১৪৯, আহমাদ ৭৫১৩,৭৫৬২,৮৩৫৬,৯৪৩৩,৯৬০৩,১০৪৪১৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أهْلُ الكِتَابِ فَقُولُوا: وَعَلَيْكُمْ» متفقٌ عَلَيْهِ
২/৮৭২। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কিতাবধারীরা (ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানরা) যখন তোমাদেরকে সালাম দেয়, তখন তোমরা জবাবে বল, ‘ওয়া আলাইকুম।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬২৫৮, ৬৯২৬, মুসলিম ২১৬৩, তিরমিযী ৩৩০১, আবূ দাউদ ৫২০৭, ইবনু মাজাহ ৩৬৯৭, আহমাদ ১১৫৩৭,১১৭০৫,১১৭৩১,১২০১৯, ১২৫৮, ১২৫৮৩, ১২৬৭৪, ১৩৩৪৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أُسَامَةَ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَى مَجْلِسٍ فِيهِ أخْلاَطٌ مِنَ المُسْلِمِينَ وَالمُشْرِكينَ ـ عَبَدَة الأَوْثَانِ ـ واليَهُودِ فَسَلَّمَ عَلَيْهِم النبيُّصلى الله عليه وسلم . متفقٌ عَلَيْهِ
৩/৮৭৩। উসামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সভা অতিক্রম করেন, যার মধ্যে মুসলিম, মুশরিক (মূর্তিপূজক) ও ইয়াহুদীর সমাগম ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সালাম করলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৫৬৬৩, ৪৫৬৬, ৬২০৭, ৬২৫৪, মুসলিম ১৭৯৮, তিরমিযী ২৭০২, আহমাদ ২১২৬০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: إِذَا انْتَهى أَحَدُكُمْ إِلَى المَجْلِسِ فَلْيُسَلِّمْ، فَإذَا أرَادَ أنْ يَقُومَ فَلْيُسَلِّمْ، فَلَيْسَتِ الأُولَى بِأحَقّ مِنَ الآخِرَةِ . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن
১/৮৭৪। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন তোমাদের কেউ সভায় পৌঁছবে তখন সালাম দেবে। আর যখন সভা ছেড়ে চলে যাবে, তখনও সালাম দেবে। কেননা, প্রথম সালাম শেষ সালাম অপেক্ষা বেশী উত্তম নয়।’’ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, হাসান হাদীস)[1]
[1] আবূ দাউদ ৫২০৮, তিরমিযী ২৭০৬, আহমাদ ৭৭৯৩, ৭১০২, ৯৩৭২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
عَن أَبي مُوسَى الأَشعَرِي رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « الاِسْتِئْذَانُ ثَلاَثٌ، فَإنْ أُذِنَ لَكَ وَإِلاَّ فَارْجِعْ ». متفقٌ عَلَيْهِ
মহান আল্লাহ বলেন,
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَدْخُلُواْ بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُواْ وَتُسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَهْلِهَا ﴾ [النور: ٢٧]
অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য কারও গৃহে গৃহবাসীদের অনুমতি না নিয়ে ও তাদেরকে সালাম না দিয়ে প্রবেশ করো না।” (সূরা নূর ২৭ আয়াত)
তিনি আরো বলেন,
﴿وَإِذَا بَلَغَ ٱلۡأَطۡفَٰلُ مِنكُمُ ٱلۡحُلُمَ فَلۡيَسۡتَٔۡذِنُواْ كَمَا ٱسۡتَٔۡذَنَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡۚ﴾ [النور: ٥٩]
অর্থাৎ “তোমাদের শিশুরা বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন তাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের মত (সর্বদা) অনুমতি প্রার্থনা করে।” (সূরা নূর ৫৯ আয়াত)
১/৮৭৫। আবূ মূসা আশ্আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘অনুমতি তিনবার নেওয়া চায়। যদি তোমাকে অনুমতি দেয় (তাহলে ভিতরে প্রবেশ করবে) নচেৎ ফিরে যাবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬২৪৫, ২০৬২, ৭৩৫৩, মুসলিম ২১৫৪, আবূ দাউদ ৫১৮১, আহমাদ ১৯০১৬, ১৯০৬২, ১৯০৮৪, মুওয়াত্তা মালিক ১৭৯৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ سَهلِ بنِ سَعدٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « إنَّمَا جُعِلَ الاِسْتِئذَانُ مِنْ أجْلِ البَصَرِ». متفقٌ عَلَيْهِ
২/৮৭৬। সাহল ইবনে সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘দৃষ্টির কারণেই তো (প্রবেশ) অনুমতির বিধান করা হয়েছে।’’ (অর্থাৎ দৃষ্টি থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে ঐ নির্দেশ।) (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬২৪২, ৬৮৮৯, ৬৯০০, মুসলিম ২১৫৭, তি২৭০৮, নাসায়ী ৪৮‘‘৫৮, আবূ দাউদ ৫১৭১ আহমাদ ১১৮৪৮, ১১৬৪৪, ১২০১৭, ১২৪১৮, ১৩১৩১
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ رِبْعِيِّ بنِ حِرَاشٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَامِرٍ أنَّهُ اسْتَأذَنَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي بَيتٍ، فَقَالَ: أَأَلِجُ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لِخَادِمِهِ: « أُخْرُجْ إِلَى هَذَا فَعَلِّمْهُ الاِسْتِئذَانَ، فَقُلْ لَهُ: قُلِ: السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، أَأَدْخُلُ ؟ » فَسَمِعَهُ الرَّجُلُ، فَقَالَ: السَّلامُ عَلَيْكُمْ، أَأَدْخُلُ ؟ فَأذِنَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَدَخَلَ . رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
৩/৮৭৭। রিব্য়ী ইবনে হিরাশ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন বনু ‘আমেরের একটা লোক আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, সে একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (প্রবেশ) অনুমতি চাইল। তখন তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং সে নিবেদন করল, ‘আমি কি প্রবেশ করব?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় খাদেমকে বললেন, ‘বাইরে গিয়ে এই লোকটিকে অনুমতি গ্রহণের পদ্ধতি শিখিয়ে দাও এবং তাকে বল, তুমি বল ‘আসসালামু আলাইকুম, আমি কি প্রবেশ করব?’ সুতরাং লোকটা ঐ কথা শুনতে পেয়ে বলল, ‘আসসালামু আলাইকুম, আমি কি প্রবেশ করব?’ অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন এবং সে প্রবেশ করল। (আবু দাঊদ, বিশুদ্ধ সূত্রে ) [1]
[1] আবূ দাউদ ৫১৭৭, আহমাদ ২২৬১৭
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه فِي حَدِيثِهِ الْمَشْهُورِ فيِ الإسرَاءِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: ثُمَّ صَعَدَ بِي جِبْرِيلُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَاسْتَفْتَحَ، فَقِيلَ: مَنْ هَذَا ؟ قَالَ: جِبْرِيلُ، قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ، ثُمَّ صَعَدَ إِلَى السَّمَاءِ الثَّانِيَةِ فَاسْتَفْتَحَ، قِيلَ: مَنْ هَذَا ؟ قَالَ: جِبْرِيل، قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ وَالثَّالِثَةِ وَالرَّابِعَةِ وَسَائِرِهنَّ وَيُقَالُ فِي بَابِ كُلِّ سَمَاءٍ: مَنْ هَذَا ؟ فَيَقُولُ: جِبْريلُ . متفقٌ عَلَيْهِ
১/৮৭৯। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মি’রাজ সম্পর্কিত তাঁর সুদীর্ঘ হাদীস বর্ণিত হয়েছে; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘.... অতঃপর জিবরীল আলাইহিস সালাম আমাকে সঙ্গে নিয়ে নিকটবর্তী (প্রথম) আসমানে চড়লেন এবং তার (দরজা) খোলার আবেদন করলেন। তখন জিজ্ঞাসা করা হল, ‘আপনি কে?’ জিবরীল বললেন, ‘জিবরীল।’ জিজ্ঞাসা করা হল, ‘আপনার সাথে কে?’ তিনি বললেন, ‘মুহাম্মাদ।’ (এভাবে) তৃতীয়, চতুর্থ তথা বাকি সব আসমানে প্রত্যেক প্রবেশ-দ্বারে জিজ্ঞাসা করা হল ‘আপনি কে?’ আর জিবরীল উত্তর দিলেন, ‘জিবরীল।’ (বুখারী-মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৩২০৭, ৩৩৯৩, ৩৪৩০, ৩৮৮৭, মুসলিম ১৬২, ১৬৪, তিরমিযী ৩৩৪৬, নাসায়ী ৪৪৮, আহমাদ ১৭৩৭৮, ১৭৩৮০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي ذَرٍّ رضي الله عنه، قَالَ: خَرَجْتُ لَيْلَةً مِنَ اللَّيَالِي، فَإذَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَمْشِي وَحْدَهُ، فَجَعَلْتُ أمْشِي فِي ظلِّ القَمَرِ، فَالْتَفَتَ فَرَآنِي، فَقَالَ: « مَنْ هَذَا ؟ » فَقُلْتُ: أَبُو ذَرٍّ . متفقٌ عَلَيْهِ
২/৮৮০। আবূ যার্র রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক রাতে আমি বের হলাম। হঠাৎ (দেখলাম,) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাই পায়ে হেঁটে চলেছেন। আমি চাঁদের ছায়াতে চলতে লাগলাম। তিনি (পিছনে) ফিরে তাকালে আমাকে দেখে ফেললেন এবং বললেন, ‘‘কে তুমি?’’ আমি বললাম, ‘আবূ যার্র।’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ১২৩৭, ২৩৮৮, ৩২২২, ৫৮২৭, ৬২৬৮, ৬৪৪৩, ৬৪৪৪, ৬৪৮৭, মুসলিম ৯৪, তিরমিযী ২৬৪৪, আহমাদ ২০৮৪০, ২০৯০৫, ২০৯১৫, ২০৯৫৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أُمِّ هَانِئٍٍ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: أَتَيتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَغْتَسِلُ وَفَاطِمَةُ تَسْتُرُهُ، فَقَالَ: «مَنْ هذِهِ ؟» فَقُلتُ: أَنَا أُمُّ هَانِئٍٍ . متفقٌ عَلَيْهِ
৩/ ৮৮১। উম্মে হানী রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাযির হলাম, তখন তিনি গোসল করছিলেন। আর (তাঁর মেয়ে) ফাতেমা তাঁকে কাপড় দিয়ে আড়াল করছিলেন। সুতরাং তিনি বললেন, ‘‘কে তুমি?’’ আমি বললাম, ‘আমি উম্মে হানী।’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৩৫৭, ২৮০, মুসলিম ৩৩৬, তিরমিযী ৪৭৪, ২৭৩৪, নাসায়ী ২২৫ আবূ দাউদ ১১০৪, ১১৭৬, ৩১৭১, ৪২৯২, ৬১৫৮, ইবনু মাজাহ ৪৬৫, ৬১৪, ১৩২৩, ১৩৭৯, আহমাদ ২৬৩৪৭, ২৬৩৫৬, ২৬৮৩৩,মুওয়াত্তা মালিক ৩৫৯, দারেমী ১৪৫২, ১৪৫৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ