রিয়াদুস সালিহীন
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: يَا بُنَيَّ، إِذَا دَخَلْتَ عَلَى أهْلِكَ، فَسَلِّمْ، يَكُنْ بَرَكَةً عَلَيْكَ، وَعَلَى أهْلِ بَيْتِكَ . رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح
১/৮৬৬। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘হে বৎস! তোমার বাড়িতে যখন তুমি প্রবেশ করবে, তখন সালাম দাও, তাহলে তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য তা বরকতময় হবে।’’ (ইমাম তিরমিযী হাসান সহীহ বলেছেন)[1]
[1] তিরমিযী ২৬৯৮
হাদিসটি যঈফ, এর সনদে আলী ইবনে যায়েদ ইবনে জাদআন আছে, যিনি দুর্বল রাবী
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ যঈফ
عَن أَنَسٍ رضي الله عنه: أنَّهُ مَرَّ عَلَى صِبْيَانٍ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ، وَقَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُهُ. متفقٌ عَلَيْهِ
১/ ৮৬৭। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি কতিপয় শিশুর নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাদেরকে সালাম দিলেন এবং বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬২৪৭, মুসলিম ২১৬৮, তিরমিযী ২৬৯৬, আবূ দাউদ ৫২০২, ইবনু মাজাহ ৩৭০০, আহমাদ ১১৯২৮, ১২৩১৩, ১২৪৮৫, ১২৬১০, দারেমী ২৬৩৬
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَن سَهلِ بنِ سَعدٍ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَتْ فِينَا امْرَأةٌ ـ وفي رواية: كَانَتْ لَنَا عَجُوزٌ ـ تَأخُذُ مِنْ أصُولِ السِّلْقِ فَتَطْرَحُهُ فِي القِدْرِ، وَتُكَرْكِرُ حَبَّاتٍ مِنْ شَعِيرٍ، فَإذَا صَلَّيْنَا الْجُمُعَةَ، وَانْصَرَفْنَا، نُسَلِّمُ عَلَيْهَا، فَتُقَدِّمُهُ إلَيْنَا . رواه البخاري
নিজ স্ত্রীকে স্বামীর সালাম দেওয়া, অনুরূপভাবে কোন পুরুষের তার ‘মাহরাম’ (যার সাথে বৈবাহিক-সম্পর্ক চিরতরে নিষিদ্ধ এমন) মহিলাকে সালাম দেওয়া, অনুরূপ ফিতনা-ফাসাদের আশংকা না থাকলে ‘গায়র মাহরাম’ (যার সাথে বৈবাহিক-সম্পর্ক কোন সময় বৈধ এমন) মহিলাদেরকে সালাম দেওয়া বৈধ। যেমন উক্ত মহিলাদেরও উক্ত পুরুষদেরকে ঐ শর্ত-সাপেক্ষে সালাম দেওয়া বৈধ।
১/৮৬৮। সাহল ইবনে সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে এক মহিলা ছিল। অন্য বর্ণনায় আছে আমাদের একটি বুড়ি ছিল। সে বীট (কেটে) হাঁড়িতে রেখে তাতে কিছু যব দানা পিষে মিশ্রণ করত। অতঃপর আমরা যখন জুমআর নামায পড়ে ফিরে আসতাম, তখন তাকে সালাম দিতাম। আর সে আমাদের জন্য তা পেশ করত।’ (বুখারী) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৯৩৮, ৯৩৯, ৯৪১, ৫৪০৩, ২৩৪৯, ৬২৪৮, ৬২৭৯, মুসলিম ৮৫৯, তিরমিযী ৫২৫, ইবনু মাজাহ ১০৯৯
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أُمِّ هَانِىءٍ فَاخِتَةَ بِنتِ أَبي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: أَتَيتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الفَتْحِ وَهُوَ يَغْتَسِلُ، وَفَاطِمَةُ تَسْتُرُهُ بِثَوْبٍ، فَسَلَّمْتُ ... وَذَكَرَتِ الحديث . رواه مسلم
২/৮৬৯। উম্মে হানী ফাখেতাহ বিনতে আবী ত্বালেব রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘মক্কা বিজয়ের দিন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাজির হলাম। তখন তিনি গোসল করছিলেন। ফাতেমা তাঁকে একটি কাপড় দিয়ে আড়াল করছিলেন। আমি (তাঁকে) সালাম দিলাম।...’ অতঃপর তিনি সম্পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৩৫৭, ২৮০, মুসলিম ৩৩৬, তিরমিযী ৪৭৪, ২৭৩৪, নাসায়ী ২২৫, আবূ দাউদ ১১০৪, ১১৭৬, ৩১৭১, ৪২৯২, ৬১৫৮, ইবনু মাজাহ ৪৬৫, ৬১৪, ১৩২৩, ১৩৭৯, আহমাদ ২৬৩৪৭, ২৬৩৫৬, ২৬৮৩৩, মালেক ৩৫৯, দারেমী ১৪৫২, ১৪৫৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أسماءَ بِنتِ يَزِيدَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: مَرّ عَلَيْنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي نِسوَةٍ فَسَلَّمَ عَلَيْنَا . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن ، وهذا لفظ أَبي داود .
ولفظ الترمذي: أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم مَرَّ في المَسْجِدِ يَوْماً، وَعُصْبَةٌ مِنَ النِّسَاءِ قُعُودٌ، فَأَلْوَى بِيَدِهِ بالتَّسْلِيمِ .
৩/৮৭০। আসমা বিনতে য়্যাযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাদের) একদল মহিলার নিকট অতিক্রম করার সময় আমাদেরকে সালাম দিলেন।’ (আবু দাঊদ) [1]
তিরমিযীর শব্দগুচ্ছ এরূপঃ ‘একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ অতিক্রম করছিলেন, মহিলাদের একটা দল বসেছিল, তিনি তাদেরকে হাতের ইঙ্গিতে সালাম দিলেন।’ (এটি সহীহ নয়)
[1] আবূ দাউদ ৫২০৪, দারেমী ২৬৩৭, তিরমিযী ২৬৯৭, ইবনু মাজাহ ৩৭০১, আহমাদ ২৭০১৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ/যঈফ [মিশ্রিত]
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: « لاَ تَبْدَأُوا اليَهُودَ وَلاَ النَّصَارَى بالسَّلامِ، فَإِذَا لَقِيتُمْ أَحَدَهُمْ في طَرِيقٍ فَاضطَرُّوهُ إِلَى أَضْيَقِهِ». رواه مسلم
১/৮৭১। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানদেরকে প্রথমে সালাম দিয়ো না। যখন পথিমধ্যে তাদের কারো সাথে সাক্ষাৎ হবে, তখন তাকে পথের এক প্রান্ত দিয়ে যেতে বাধ্য করো।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ২১৬৭, তিরমিযী ২৭০০, আবূ দাউদ ১৪৯, আহমাদ ৭৫১৩,৭৫৬২,৮৩৫৬,৯৪৩৩,৯৬০৩,১০৪৪১৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أهْلُ الكِتَابِ فَقُولُوا: وَعَلَيْكُمْ» متفقٌ عَلَيْهِ
২/৮৭২। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কিতাবধারীরা (ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানরা) যখন তোমাদেরকে সালাম দেয়, তখন তোমরা জবাবে বল, ‘ওয়া আলাইকুম।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬২৫৮, ৬৯২৬, মুসলিম ২১৬৩, তিরমিযী ৩৩০১, আবূ দাউদ ৫২০৭, ইবনু মাজাহ ৩৬৯৭, আহমাদ ১১৫৩৭,১১৭০৫,১১৭৩১,১২০১৯, ১২৫৮, ১২৫৮৩, ১২৬৭৪, ১৩৩৪৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أُسَامَةَ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَى مَجْلِسٍ فِيهِ أخْلاَطٌ مِنَ المُسْلِمِينَ وَالمُشْرِكينَ ـ عَبَدَة الأَوْثَانِ ـ واليَهُودِ فَسَلَّمَ عَلَيْهِم النبيُّصلى الله عليه وسلم . متفقٌ عَلَيْهِ
৩/৮৭৩। উসামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সভা অতিক্রম করেন, যার মধ্যে মুসলিম, মুশরিক (মূর্তিপূজক) ও ইয়াহুদীর সমাগম ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সালাম করলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৫৬৬৩, ৪৫৬৬, ৬২০৭, ৬২৫৪, মুসলিম ১৭৯৮, তিরমিযী ২৭০২, আহমাদ ২১২৬০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: إِذَا انْتَهى أَحَدُكُمْ إِلَى المَجْلِسِ فَلْيُسَلِّمْ، فَإذَا أرَادَ أنْ يَقُومَ فَلْيُسَلِّمْ، فَلَيْسَتِ الأُولَى بِأحَقّ مِنَ الآخِرَةِ . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن
১/৮৭৪। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন তোমাদের কেউ সভায় পৌঁছবে তখন সালাম দেবে। আর যখন সভা ছেড়ে চলে যাবে, তখনও সালাম দেবে। কেননা, প্রথম সালাম শেষ সালাম অপেক্ষা বেশী উত্তম নয়।’’ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, হাসান হাদীস)[1]
[1] আবূ দাউদ ৫২০৮, তিরমিযী ২৭০৬, আহমাদ ৭৭৯৩, ৭১০২, ৯৩৭২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
عَن أَبي مُوسَى الأَشعَرِي رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « الاِسْتِئْذَانُ ثَلاَثٌ، فَإنْ أُذِنَ لَكَ وَإِلاَّ فَارْجِعْ ». متفقٌ عَلَيْهِ
মহান আল্লাহ বলেন,
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَدْخُلُواْ بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُواْ وَتُسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَهْلِهَا ﴾ [النور: ٢٧]
অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য কারও গৃহে গৃহবাসীদের অনুমতি না নিয়ে ও তাদেরকে সালাম না দিয়ে প্রবেশ করো না।” (সূরা নূর ২৭ আয়াত)
তিনি আরো বলেন,
﴿وَإِذَا بَلَغَ ٱلۡأَطۡفَٰلُ مِنكُمُ ٱلۡحُلُمَ فَلۡيَسۡتَٔۡذِنُواْ كَمَا ٱسۡتَٔۡذَنَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡۚ﴾ [النور: ٥٩]
অর্থাৎ “তোমাদের শিশুরা বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন তাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের মত (সর্বদা) অনুমতি প্রার্থনা করে।” (সূরা নূর ৫৯ আয়াত)
১/৮৭৫। আবূ মূসা আশ্আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘অনুমতি তিনবার নেওয়া চায়। যদি তোমাকে অনুমতি দেয় (তাহলে ভিতরে প্রবেশ করবে) নচেৎ ফিরে যাবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬২৪৫, ২০৬২, ৭৩৫৩, মুসলিম ২১৫৪, আবূ দাউদ ৫১৮১, আহমাদ ১৯০১৬, ১৯০৬২, ১৯০৮৪, মুওয়াত্তা মালিক ১৭৯৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ سَهلِ بنِ سَعدٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « إنَّمَا جُعِلَ الاِسْتِئذَانُ مِنْ أجْلِ البَصَرِ». متفقٌ عَلَيْهِ
২/৮৭৬। সাহল ইবনে সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘দৃষ্টির কারণেই তো (প্রবেশ) অনুমতির বিধান করা হয়েছে।’’ (অর্থাৎ দৃষ্টি থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে ঐ নির্দেশ।) (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬২৪২, ৬৮৮৯, ৬৯০০, মুসলিম ২১৫৭, তি২৭০৮, নাসায়ী ৪৮‘‘৫৮, আবূ দাউদ ৫১৭১ আহমাদ ১১৮৪৮, ১১৬৪৪, ১২০১৭, ১২৪১৮, ১৩১৩১
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ رِبْعِيِّ بنِ حِرَاشٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَامِرٍ أنَّهُ اسْتَأذَنَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي بَيتٍ، فَقَالَ: أَأَلِجُ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لِخَادِمِهِ: « أُخْرُجْ إِلَى هَذَا فَعَلِّمْهُ الاِسْتِئذَانَ، فَقُلْ لَهُ: قُلِ: السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، أَأَدْخُلُ ؟ » فَسَمِعَهُ الرَّجُلُ، فَقَالَ: السَّلامُ عَلَيْكُمْ، أَأَدْخُلُ ؟ فَأذِنَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَدَخَلَ . رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
৩/৮৭৭। রিব্য়ী ইবনে হিরাশ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন বনু ‘আমেরের একটা লোক আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, সে একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (প্রবেশ) অনুমতি চাইল। তখন তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং সে নিবেদন করল, ‘আমি কি প্রবেশ করব?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় খাদেমকে বললেন, ‘বাইরে গিয়ে এই লোকটিকে অনুমতি গ্রহণের পদ্ধতি শিখিয়ে দাও এবং তাকে বল, তুমি বল ‘আসসালামু আলাইকুম, আমি কি প্রবেশ করব?’ সুতরাং লোকটা ঐ কথা শুনতে পেয়ে বলল, ‘আসসালামু আলাইকুম, আমি কি প্রবেশ করব?’ অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন এবং সে প্রবেশ করল। (আবু দাঊদ, বিশুদ্ধ সূত্রে ) [1]
[1] আবূ দাউদ ৫১৭৭, আহমাদ ২২৬১৭
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه فِي حَدِيثِهِ الْمَشْهُورِ فيِ الإسرَاءِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: ثُمَّ صَعَدَ بِي جِبْرِيلُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَاسْتَفْتَحَ، فَقِيلَ: مَنْ هَذَا ؟ قَالَ: جِبْرِيلُ، قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ، ثُمَّ صَعَدَ إِلَى السَّمَاءِ الثَّانِيَةِ فَاسْتَفْتَحَ، قِيلَ: مَنْ هَذَا ؟ قَالَ: جِبْرِيل، قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ وَالثَّالِثَةِ وَالرَّابِعَةِ وَسَائِرِهنَّ وَيُقَالُ فِي بَابِ كُلِّ سَمَاءٍ: مَنْ هَذَا ؟ فَيَقُولُ: جِبْريلُ . متفقٌ عَلَيْهِ
১/৮৭৯। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মি’রাজ সম্পর্কিত তাঁর সুদীর্ঘ হাদীস বর্ণিত হয়েছে; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘.... অতঃপর জিবরীল আলাইহিস সালাম আমাকে সঙ্গে নিয়ে নিকটবর্তী (প্রথম) আসমানে চড়লেন এবং তার (দরজা) খোলার আবেদন করলেন। তখন জিজ্ঞাসা করা হল, ‘আপনি কে?’ জিবরীল বললেন, ‘জিবরীল।’ জিজ্ঞাসা করা হল, ‘আপনার সাথে কে?’ তিনি বললেন, ‘মুহাম্মাদ।’ (এভাবে) তৃতীয়, চতুর্থ তথা বাকি সব আসমানে প্রত্যেক প্রবেশ-দ্বারে জিজ্ঞাসা করা হল ‘আপনি কে?’ আর জিবরীল উত্তর দিলেন, ‘জিবরীল।’ (বুখারী-মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৩২০৭, ৩৩৯৩, ৩৪৩০, ৩৮৮৭, মুসলিম ১৬২, ১৬৪, তিরমিযী ৩৩৪৬, নাসায়ী ৪৪৮, আহমাদ ১৭৩৭৮, ১৭৩৮০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي ذَرٍّ رضي الله عنه، قَالَ: خَرَجْتُ لَيْلَةً مِنَ اللَّيَالِي، فَإذَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَمْشِي وَحْدَهُ، فَجَعَلْتُ أمْشِي فِي ظلِّ القَمَرِ، فَالْتَفَتَ فَرَآنِي، فَقَالَ: « مَنْ هَذَا ؟ » فَقُلْتُ: أَبُو ذَرٍّ . متفقٌ عَلَيْهِ
২/৮৮০। আবূ যার্র রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক রাতে আমি বের হলাম। হঠাৎ (দেখলাম,) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাই পায়ে হেঁটে চলেছেন। আমি চাঁদের ছায়াতে চলতে লাগলাম। তিনি (পিছনে) ফিরে তাকালে আমাকে দেখে ফেললেন এবং বললেন, ‘‘কে তুমি?’’ আমি বললাম, ‘আবূ যার্র।’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ১২৩৭, ২৩৮৮, ৩২২২, ৫৮২৭, ৬২৬৮, ৬৪৪৩, ৬৪৪৪, ৬৪৮৭, মুসলিম ৯৪, তিরমিযী ২৬৪৪, আহমাদ ২০৮৪০, ২০৯০৫, ২০৯১৫, ২০৯৫৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أُمِّ هَانِئٍٍ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: أَتَيتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَغْتَسِلُ وَفَاطِمَةُ تَسْتُرُهُ، فَقَالَ: «مَنْ هذِهِ ؟» فَقُلتُ: أَنَا أُمُّ هَانِئٍٍ . متفقٌ عَلَيْهِ
৩/ ৮৮১। উম্মে হানী রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাযির হলাম, তখন তিনি গোসল করছিলেন। আর (তাঁর মেয়ে) ফাতেমা তাঁকে কাপড় দিয়ে আড়াল করছিলেন। সুতরাং তিনি বললেন, ‘‘কে তুমি?’’ আমি বললাম, ‘আমি উম্মে হানী।’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৩৫৭, ২৮০, মুসলিম ৩৩৬, তিরমিযী ৪৭৪, ২৭৩৪, নাসায়ী ২২৫ আবূ দাউদ ১১০৪, ১১৭৬, ৩১৭১, ৪২৯২, ৬১৫৮, ইবনু মাজাহ ৪৬৫, ৬১৪, ১৩২৩, ১৩৭৯, আহমাদ ২৬৩৪৭, ২৬৩৫৬, ২৬৮৩৩,মুওয়াত্তা মালিক ৩৫৯, দারেমী ১৪৫২, ১৪৫৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: أتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَدَقَقْتُ البَابَ، فَقَالَ: « مَنْ هَذَا ؟ » فَقُلتُ: أَنَا، فَقَالَ: « أنَا، أنَا ! » كَأنَّهُ كَرِهَهَا» . متفقٌ عَلَيْهِ
৪/৮৮২। জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে দরজায় করাঘাত করলাম। তিনি বললেন, ‘‘কে?’’ আমি বললাম, ‘আমি।’ তিনি বললেন, ‘‘আমি, আমি।’’ যেন তিনি কথাটিকে অপছন্দ করলেন। (বুখারী, মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬২৫০, মুসলিম ২১৫৫, তিরমিযী ২৭১১, আবূ দাউদ ৫১৮৭, ইবনু মাজাহ ৩৭০৯, আহমাদ ১৩৭৭৩, ১৪০৩০, ১৪৪৯৩, দারেমী ২৬৩০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: « إنَّ الله يُحِبُّ العُطَاسَ، وَيَكْرَهُ التَّثَاؤُبَ، فَإذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ وَحَمِدَ الله تَعَالَى كَانَ حَقّاً عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ سَمِعَهُ أنْ يَقُولَ لَهُ: يَرْحَمُكَ اللهُ، وَأَمَّا التَّثَاؤُبُ فَإنَّمَا هُوَ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَإذَا تَثَاءَبَ أحَدُكُمْ فَلْيَرُدَّهُ مَا اسْتَطَاعَ، فَإنَّ أحَدَكُمْ إِذَا تَثَاءَبَ ضَحِكَ مِنْهُ الشَّيْطَانُ ». رواه البخاري
১/৮৮৩। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা হাঁচি ভালবাসেন, আর হাই তোলা অপছন্দ করেন। অতএব তোমাদের কেউ যখন হাঁচবে এবং ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়বে তখন প্রত্যেক মুসলিম শ্রোতার উচিত হবে যে, সে তার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলবে। আর হাই তোলার ব্যাপারটা এই যে, তা হচ্ছে শয়তানের পক্ষ থেকে (আলস্য ও ক্লান্তির লক্ষণ)। অতএব কেউ যখন হাই তুলবে তখন সে যেন যথাসাধ্য তা রোধ করে। কেননা, যখন তোমাদের কেউ হাই তোলে, তখন শয়তান তা দেখে হাসে।’’ (বুখারী) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬২২৩, ৩২৮৯, ৬২২৬, মুসলিম ২৯৯৪, তিরমিযী ৩৭০, ২৭৪৬, ২৭৪৭, আবূ দাউদ ৫০২৮, আহমাদ ৭৫৪৫, ৯২৪৬, ১০৩১৭, ১০৩২৯, ২৭৫০৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: « إِذَا عَطَسَ أحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ: اَلحَمْدُ للهِ، وَلْيَقُلْ لَهُ أخُوهُ أَوْ صَاحِبُهُ: يَرْحَمُكَ الله. فَإِذَا قَالَ لَهُ: يَرْحَمُكَ اللهُ، فَليَقُلْ: يَهْدِيكُمُ اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ». رواه البخاري
২/৮৮৪। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন তোমাদের কেউ হাঁচবে, তখন সে যেন বলে, ‘আলহামদু লিল্লাহ।’ (তা শুনে) তার ভাই বা সাথীর বলা উচিত, ‘য়্যারহামুকাল্লাহ।’ সুতরাং যখন জবাবে ‘য়্যারহামুকাল্লাহ’ বলবে, তখন যে (হাঁচি দিয়েছে) সে বলবে, ‘য়্যাহদীকুমুকাল্লাহু অ য়্যুস্লিহু বালাকুম।’ (অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদেরকে সুপথ দেখান ও তোমাদের অন্তর সংশোধন করে দেন।)’’ (বুখারী) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬২২৪, আবূ দাউদ ৫০৩৩, আহমাদ ৮৪১৭
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي مُوسَى رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: « إِذَا عَطَسَ أحَدُكُمْ فَحَمِدَ اللهَ فَشَمِّتُوهُ، فَإنْ لَمْ يَحْمَدِ الله فَلاَ تُشَمِّتُوهُ ». رواه مسلم
৩/৮৮৫। আবূ মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, ‘‘যখন তোমাদের কেউ হাঁচবে এবং ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলবে, তখন তার উত্তর দাও। যদি সে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ না বলে, তাহলে তার উত্তর দিয়ো না।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ২৯৯২, আহমাদ ১৯১৯৭
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: عَطَسَ رَجُلانِ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَشَمَّتَ أَحَدَهُمَا وَلَمْ يُشَمِّتِ الآخَرَ، فَقَالَ الَّذِي لَمْ يُشَمِّتْهُ: عَطَسَ فُلانٌ فَشَمَّتَّهُ، وَعَطَسْتُ فَلَمْ تُشَمِّتْنِي ؟ فَقَالَ: « هَذَا حَمِدَ الله، وَإنَّكَ لَمْ تَحْمَدِ الله ». متفقٌ عَلَيْهِ
৪/৮৮৬। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, দু’জন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে হাঁচল। তিনি তাদের মধ্যে একজনের উত্তর দিলেন। আর দ্বিতীয় জনের উত্তর দিলেন না। যে ব্যক্তির উত্তর দিলেন না সে বলল, ‘অমুক ব্যক্তি হাঁচল তো তার উত্তর দিলেন, আর আমি হাঁচলাম, কিন্তু আপনি আমার উত্তর দিলেন না!?’ তিনি বললেন, ‘‘ঐ ব্যক্তি ‘আলহামদু লিল্লাহ’ পড়েছে। আর তুমি ‘আলহামদু লিল্লাহ’ পড়নি তাই।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬২২৫, মুসলিম ২৯৯১
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ