রিয়াদুস সালিহীন
وَعَنِ القَاسِمِ بنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنهَا: وَارَأسَاهُ ! فَقَالَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: « بَلْ أنَا، وَارَأسَاهُ ! » ... وذكر الحديث . رواه البخاري
৩/৯২১। কাসেম ইবনে মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বললেন, ‘হায়! আমার মাথার ব্যথা।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘বরং হায়! আমার মাথার ব্যথা!’’ (অর্থাৎ আমার মাথাতেও প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে।) (বুখারী) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৫৬৬৬, ৭২১৭, মুসলিম ২৩৮৭
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَنْ مُعَاذٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: مَنْ كَانَ آخِرَ كَلامِهِ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ دَخَلَ الجَنَّةَ . رواه أَبُو داود والحاكم، وَقَالَ: صحيح الإسناد
১/৯২২। মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তির শেষ কথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে (অর্থাৎ এই কালেমা পড়তে পড়তে যার মৃত্যু হবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’ (আবূ দাউদ, হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন।) [1]
[1] আবূ দাউদ ৩১১৬, আহমাদ ২১৫২৯, ২১৬২২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِي رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ ». رواه مسلم
২/৯২৩। আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদেরকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ স্মরণ করিয়ে দাও।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৯১৬, ৯১৭, তিরমিযী ৯৭৬, নাসায়ী ১৮২৬, আবূ দাউদ ৩১১৭, ইবনু মাজাহ ১৪৪৫, আহমাদ ১০৬১০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَن أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: دَخَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَلَى أَبي سَلَمَةَ وَقَدْ شَقَّ بَصَرُهُ، فَأَغْمَضَهُ، ثُمَّ قَالَ: إنَّ الرُّوحَ إِذَا قُبِضَ، تَبِعَهُ البَصَرُ فَضَجَّ نَاسٌ مِنْ أهْلِهِ، فَقَالَ: لاَ تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ إِلاَّ بِخَيْرٍ، فَإنَّ المَلاَئِكَةَ يَؤمِّنُونَ عَلَى مَا تَقُولُونَ ثُمَّ قَالَ: اَللهم اغْفِرْ لأَبِي سَلَمَة، وَارْفَعْ دَرَجَتْهُ فِي المَهْدِيِّينَ، وَاخْلُفْهُ فِي عَقِبهِ فِي الغَابِرِينَ، وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ يَا رَبَّ العَالَمِينَ، وَافْسَحْ لَهُ في قَبْرِهِ، وَنَوِّرْ لَهُ فِيهِ . رواه مسلم
১/৯২৪। উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ সালামার নিকট গেলেন। তখন তাঁর (আত্মা বের হওয়ার পর) চোখ খোলা ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বন্ধ করার পর বললেন, ‘‘যখন (কারো) প্রাণ নিয়ে নেওয়া হয়, তখন চোখ তার দিকে তাকিয়ে থাকে।’’ (এ কথা শুনে) তাঁর পরিবারের কিছু লোক চিল্লিয়ে কাঁদতে আরম্ভ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তোমরা নিজেদের আত্মার জন্য মঙ্গলেরই দো‘আ কর। কেননা, ফিরিশ্তাবর্গ তোমাদের কথার উপর ‘আমীন’ বলেন।’’ অতঃপর তিনি এই দো‘আ বললেন,
‘আল্লা-হুম্মাগফির লি আবী সালামাহ, (এখানে মৃতের নাম নিতে হবে) অরফা’ দারাজাতাহু ফিল মাহদিইয়্যীন, ওয়াখলুফহু ফী আক্বিবিহী ফিল গা-বিরীন, অগফির লানা অলাহু ইয়া রাববাল ‘আ-লামীন, ওয়াফসাহ লাহু ফী ক্বাবরিহী অ নাউওয়িরলাহু ফীহ।’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি (অমুককে) মাফ করে দাও এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের দলে ওর মর্যাদা উন্নত কর, অবশিষ্টদের মধ্যে ওর পশ্চাতে ওর উত্তরাধিকারী দাও। আমাদেরকে এবং ওকে মার্জনা করে দাও হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক! ওর কবরকে প্রশস্ত করো এবং ওর জন্য কবরকে আলোকিত করো। (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৯২০, আবূ দাউদ ৩১১৮, ইবনু মাজাহ ১৪৫৪, আহমাদ ২৬০০৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَن أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: إِذَا حَضَرتُمُ المَرِيضَ أَو المَيِّتَ، فَقُولُوا خَيْراً، فَإنَّ المَلائِكَةَ يُؤَمِّنُونَ عَلَى مَا تَقُولُونَ ، قَالَتْ: فَلَمَّا مَاتَ أَبُو سَلَمَةَ، أتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلتُ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، إنَّ أَبَا سَلَمَة قَدْ مَاتَ، قَالَ: قُولِي: اَللهم اغْفِرْ لِي وَلَهُ، وَأعْقِبْنِي مِنْهُ عُقْبَى حَسَنَةً . فَقُلتُ، فَأعْقَبَنِيَ اللهُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ لِي مِنْهُ: مُحَمَّداً صلى الله عليه وسلم . رواه مسلم
১/৯২৫। উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা পীড়িত অথবা মৃতের নিকট উপস্থিত হলে ভাল কথা বল। কেননা, ফিরিশ্তারা তোমাদের কথায় ‘আমীন’ বলেন।’’ (উম্মে সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, অতঃপর যখন (আমার স্বামী) আবূ সালামাহ মারা গেলেন, তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আবূ সালামাহ মারা গেছেন। (সুতরাং আমি এখন কী বলব?)’
তিনি বললেন, তুমি এই দো‘আ বল, ‘আল্লাহুম্মাগফির লী অলাহু, অআ‘ক্বিবনী মিনহু উক্ববা হাসানাহ।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ও তাঁকে মার্জনা কর এবং আমাকে তাঁর চেয়ে উত্তম বিনিময় প্রদান কর।’ সুতরাং আমি তা বললাম, ফলে মহান আল্লাহ আমাকে তাঁর চেয়ে উত্তম বিনিময় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (স্বামীরূপে) প্রদান করলেন। (মুসলিম) [1]
(মুসলিম ‘পীড়িত অথবা মৃত’ সন্দেহের সাথে বর্ণনা করেছেন। আর আবূ দাঊদ প্রমুখ বিনা সন্দেহে ‘মৃতের নিকট উপস্থিত’ হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন।)
[1] মুসলিম ৯১৯, ৯১৮, তিরমিযী ৯৭৭, নাসায়ী ১৮২৫, আহমাদ ৩১১৯, ইবনু মাজাহ ১৪৪৭, আহমাদ ২৫৯৫৮, ২৬০৬৮, ২৬০৯৫, ৬১২৯, ২৬১৫৭, ২৬১৯৯, মুওয়াত্তা মালিক ৫৫৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْها، قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: « مَا مِنْ عَبْدٍ تُصيبُهُ مُصِيبَةٌ، فَيَقُولُ: إِنَّا ِللهِ وَإنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اَللهم أجُرْنِي فِي مُصِيبَتي وَاخْلُفْ لِي خَيراً مِنْهَا، إِلاَّ أَجَرَهُ اللهُ تَعَالَى فِي مُصِيبَتِهِ وَأخْلَفَ لَهُ خَيْراً مِنْهَا . قَالَتْ: فَلَمَّا تُوُفِّيَ أَبُو سَلَمَة قُلتُ كَمَا أمَرَنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَأخْلَفَ اللهُ لِي خَيْراً مِنْهُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم . رواه مسلم
২/৯২৬। উক্ত উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘যে বান্দা বিপদগ্রস্ত অবস্থায় এই দো‘আ বলবে,
‘ইন্না লিল্লা-হি অইন্না ইলাইহি রা-জি‘ঊন, আল্লা-হুম্মা’জুরনী ফী মুসীবাতী অখ্লুফলী খাইরাম মিনহা।’ (যার অর্থ, আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করব। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার এই বিপদে প্রতিদান দাও এবং তার জায়গায় উত্তম বিনিময় প্রদান কর।)
আল্লাহ তাকে তার বিপদে প্রতিদান ও তার জায়গায় উত্তম বিনিময় দান করবেন।’’
উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, ‘যখন আবূ সালামাহ মারা গেলেন, তখন আমি সেইরূপ বললাম, যেরূপ বলার আদেশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দিয়েছিলেন। সুতরাং আল্লাহ আমাকে তার চেয়ে উত্তম বিনিময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (স্বামীরূপে) প্রদান করলেন।’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৯১৮, ৯১৯, তিরমিযী ৯৭৭, নাসায়ী ১৮২৫, আহমাদ ৩১১৯, ইবনু মাজাহ ১৪৪৭, আহমাদ ২৫৯৫৮, ২৬০৬৮, ২৬০৯৫, ৬১২৯, ২৬১৫৭, ২৬১৯৯, মুওয়াত্তা মালিক ৫৫৮
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي مُوسَى رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: « إِذَا مَاتَ وَلَدُ العَبْدِ، قَالَ اللهُ تَعَالَى لِمَلائِكَتِهِ: قَبَضْتُمْ وَلَدَ عَبْدِي ؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ . فَيَقُولُ: قَبَضْتُمْ ثَمَرَة فُؤَادِهِ ؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ . فَيَقُولُ: مَاذَا قَالَ عَبْدِي ؟ فَيَقُولُونَ: حَمِدَكَ وَاسْتَرْجَعَ . فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى: ابْنُوا لِعَبْدِي بَيْتاً فِي الجَنَّةِ، وَسَمُّوهُ بَيْتَ الحَمْدِ ». رواه الترمذي، وَقَالَ: «حديث حسن »
৩/৯২৭। আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন বান্দার সন্তান মারা যায় আল্লাহ ফিরিশ্তাদেরকে বলেন, ‘তোমরা আমার বান্দার সন্তানের প্রাণ নিয়েছ?’ তাঁরা বলেন, ‘হ্যাঁ।’ অতঃপর আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তার অন্তরের ফল কেড়ে নিয়েছ?’ তাঁরা বলেন, ‘হ্যাঁ।’ তারপর তিনি বলেন, ‘আমার বান্দা কী বলেছে?’ তাঁরা উত্তরে বলেন, ‘সে তোমার প্রশংসা করেছে এবং ‘‘ইন্না লিল্লা-হি অইন্না ইলাইহি রা-জিঊন’’ পড়েছে।’ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ কর এবং তার নাম রাখ---প্রসংশা-গৃহ।’ (তিরমিযী, হাসান) [1]
[1] তিরমিযী ১০২১, আহমাদ ১৯২২৬
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: « يَقُولُ اللهُ تَعَالَى: مَا لِعَبْدِي المُؤمِن عِنْدِي جَزَاءٌ إِذَا قَبَضْتُ صَفِيَّهُ مِنْ أهْل الدُّنْيَا، ثُمَّ احْتَسَبَهُ إِلاَّ الجَنَّةَ ». رواه البخاري
৪/৯২৮। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন আমি আমার বান্দার পছন্দনীয় পার্থিব জিনিসকে কেড়ে নিই, অতঃপর সে (তাতে) সওয়াবের আশা রাখে, তখন তার জন্য আমার নিকট জান্নাত ছাড়া অন্য কোন বিনিময় নেই।’ (বুখারী) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৬৪২৪, আহমাদ ৯১২৭
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أسَامَةَ بنِ زَيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: أرْسَلَتْ إحْدى بَنَاتِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَيْهِ تَدْعُوهُ وَتُخْبِرُهُ أنَّ صَبِيَّاً لَهَا - أَوْ ابْناً- فِي المَوْتِ فَقَالَ لِلرَّسُولِ: « اِرْجِعْ إِلَيْهَا، فَأَخْبِرْهَا أَنَّ للهِ تَعَالَى مَا أخَذَ وَلَهُ مَا أعْطَى، وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمّى، فَمُرْهَا، فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ » ... وذكر تمام الحديث . متفقٌ عَلَيْهِ
৫/৯২৯। উসামাহ ইবনে যায়দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা তাঁকে ডাকার জন্য এবং এ সংবাদ দেওয়ার জন্য দূত পাঠালেন যে, তাঁর শিশু অথবা পুত্র মরণাপন্ন। অতঃপর তিনি দূতকে বললেন, ‘‘তুমি তার নিকট ফিরে গিয়ে বল, ‘তা আল্লাহরই--যা তিনি নিয়েছেন এবং যা কিছু দিয়েছেন--তাও তাঁরই। আর তাঁর নিকট প্রতিটি জিনিসের নির্দিষ্ট সময় রয়েছে।’ অতএব তাকে বল, সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং নেকীর আশা রাখে।’’ ---অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ১২৮৪, ৫৬৫৫, ৬৬০২, ৬৬৫৫, ৭৩৭৭, ৭৪৪৮, মুসলিম ৯২৩, নাসায়ী ১৮৬৮, আবূ দাউদ ৩১২৫, আহমাদ ২১২৬৯, ২১২৮২, ২১২৯২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عاد سعد بن عباده ومعه عبد الرحمن بن عوف، وسعد بن أبي وقاص، وعبد الله بن مسعود رضي الله عنهم، فبكي رسول الله صلى الله عليه وسلم ، فلما رأي القوم بكاء رسول الله صلى الله عليه وسلم ، بكوا ؛ فقال: “ألا تسمعون؟ إن الله لا يعذب بدمع العين، ولا بحزن القلب، ولكن بهذا أو يرحم " وأشار إلا لسانه" ((متفق عليه)).
মাতম করা হারাম। (এ বিষয়ে নিষিদ্ধ বস্তু অধ্যায়ে এক পরিচ্ছেদ আসবে ইন-শাআল্লাহু তা‘আলা।) কাঁদা নিষেধ হওয়ার ব্যাপারে বহু হাদীস এসেছে। আর যে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘‘মৃতকে তার পরিবার-পরিজনদের কাঁদার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়’’ তার অর্থ এই যে, যে ব্যক্তি কাঁদার অসিয়ত করে মারা যাবে। পক্ষান্তরে কেবলমাত্র সেই কান্না নিষিদ্ধ, যাতে মৃতের প্রশংসা করা হয় অথবা মাতম করা হয়। আর প্রশংসা ও মাতমবিহীন কান্নার বৈধতার ব্যাপারেও বহু হাদীস রয়েছে; তার কিছু নিম্নরূপঃ-
১/৯৩০। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা‘দ ইবনে উবাদার সাক্ষাতে গেলেন। তাঁর সঙ্গে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ, সাদ ইবনে আবী অক্কাস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুও ছিলেন। সেখানে পৌঁছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁদতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাঁদা দেখে লোকেরাও কাঁদতে আরম্ভ করল। অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘তোমরা কি শুনতে পাও না যে, আল্লাহ চোখের অশ্রু এবং অন্তরের দুঃখের উপর শাস্তি দেন না। কিন্তু তিনি এটার কারণে শাস্তি দেন অথবা দয়া করেন।’’ সেই সাথে তিনি নিজের জিভের দিকে ইঙ্গিত করলেন। (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ১৩০৪, মুসলিম ৯২৪
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أُسَامَةَ بنِ زَيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم رُفِعَ إِلَيْهِ ابنُ ابْنَتِهِ وَهُوَ فِي المَوتِ، فَفَاضَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لَهُ سَعدٌ: مَا هَذَا يَا رَسُولِ اللهِ ؟! قَالَ: « هَذِهِ رَحْمَةٌ جَعَلَهَا اللهُ تَعَالَى فِي قُلُوبِ عِبَادِهِ، وَإنَّمَا يَرْحَمُ اللهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاءَ ». متفقٌ عَلَيْهِ
২/৯৩১। উসামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তাঁর নাতিকে তার মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে আসা হল। (ওকে দেখে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু ঝরতে লাগল। সা‘দ বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এ কী?’ তিনি বললেন, ‘‘এটা রহমত (দয়া); যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তরে রেখেছেন। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়ালুদের প্রতিই দয়া করেন।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ১২৮৪, ৫৬৫৫, ৬৬০২, ৬৬৫৫, ৭৩৭৭, ৭৪৪৮, মুসলিম ৯২৩, নাসায়ী ১৮৬৮, আবূ দাউদ ৩১২৫, আহমাদ ২১২৬৯, ২১২৮২, ২১২৯২
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَى ابْنِهِ إبْرَاهيمَ رضي الله عنه، وَهُوَ يَجُودُ بِنَفسِهِ، فَجَعَلَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَذْرِفَانِ . فَقَالَ لَهُ عَبدُ الرَّحمَانِ بنُ عَوفٍ: وَأَنتَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ؟! فَقَالَ: « يَا ابْنَ عَوْفٍ إنَّهَا رَحْمَةٌ» ثُمَّ أَتْبَعَهَا بأُخْرَى، فَقَالَ: « إنَّ العَيْنَ تَدْمَعُ والقَلبُ يَحْزنُ، وَلاَ نَقُولُ إِلاَّ مَا يُرْضِي رَبَّنَا، وَإِنَّا لِفِرَاقِكَ يَا إِبرَاهِيمُ لَمَحزُونُونَ ». رواه البخاري، وروى مسلم بعضه.
৩/৯৩২। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পুত্র ইব্রাহীমের নিকট গেলেন, যখন সে মারা যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দু’চোখ দিয়ে অশ্রুপাত হতে লাগল। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ তাঁকে বললেন, ‘আপনিও (কাঁদছেন)? হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘হে আওফের পুত্র! এটা তো মমতা।’’ অতঃপর দ্বিতীয়বার কেঁদে ফেললেন। তারপর বললেন, ‘‘চোখ অশ্রুপাত করছে এবং অন্তর দুঃখিত হচ্ছে। আমরা সে কথাই বলব, যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করবে। আর হে ইব্রাহীম! আমরা তোমার বিরহে দুঃখিত।’’ (বুখারী, মুসলিম কিছু অংশ) [1]
এ বিষয়ে আরো অনেক প্রসিদ্ধ সহীহ হাদীস রয়েছে।
[1] সহীহুল বুখারী ১৩০৩, মুসলিম ২৩১৫, আবূ দাউদ ৩১২৬, আহমাদ ১২৬০৬
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أَبي رَافِعٍ أَسلَمَ مَولَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: « مَنْ غَسَّلَ مَيتاً فَكَتَمَ عَلَيْهِ، غَفَرَ اللهُ لَهُ أربَعِينَ مَرَّة ». رواه الحاكم، وَقَالَ: صحيح عَلَى شرط مسلم
১/৯৩৩। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্বাধীনকৃত দাস আবূ রাফে’ আসলাম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি মৃতকে গোসল দেবে এবং তার দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ তাকে চল্লিশবার ক্ষমা করবেন।’’ (হাকেম, মুসলিমের শর্তে সহীহ) [1]
[1] সিলসিলা সহীহা ২৩৫৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: مَنْ شَهِدَ الجَنَازَةَ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا، فَلَهُ قِيراطٌ، وَمَنْ شَهِدَهَا حَتَّى تُدْفَنَ، فَلَهُ قِيرَاطَانِ قِيلَ: وَمَا القِيرَاطانِ ؟ قَالَ: مِثْلُ الجَبَلَيْنِ العَظِيمَيْنِ . متفقٌ عَلَيْهِ
১/৯৩৪। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি নামায পড়া পর্যন্ত জানাযায় উপস্থিত থাকবে, তার জন্য এক ক্বীরাত্ব সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি দাফন করা পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে, তার জন্য দুই ক্বীরাত সওয়াব রয়েছে।’’ জিজ্ঞাসা করা হল, ‘দুই ক্বীরাতের পরিমাণ কতটুকু?’ তিনি বললেন, ‘‘দুই বড় পাহাড়ের সমান।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৪৭, ১৩২৪, ১৩২৫, মুসলিম ৯৪৫, তিরমিযী ১০৪০, নাসায়ী ১৯৯৪, থেকে ১৯৯৭, ৫০৩২, আবূ দাউদ ৩১৬৮, ইবনু মাজাহ ১৫৩৯, আহমাদ ৪৪৩৯, ৭১৪৮, ৭৩০৬, ৭৬৩৩, ৭৭১৮, ৮০৬৬, ৮৭৮৯, ১০৪৯
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: مَنِ اتَّبَعَ جَنَازَةَ مُسْلِمٍ إِيمَاناً وَاحْتِسَاباً، وَكَانَ مَعَهُ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا وَيُفرَغَ مِنْ دَفْنِهَا، فَإنَّهُ يَرْجِعُ مِنَ الأَجْرِ بِقيراطَيْنِ كُلُّ قِيرَاطٍ مِثْلُ أُحُدٍ، وَمَنْ صَلَّى عَلَيْهَا، ثُمَّ رَجَعَ قَبْلَ أنْ تُدْفَنَ، فَإنَّهُ يَرْجِعُ بِقيرَاطٍ . رواه البخاري
২/৯৩৫। উক্ত রাবী হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি (আল্লাহর প্রতি) বিশ্বাস রেখে এবং নেকীর আশা রেখে কোনো মুসলিমের জানাযার সাথে যাবে এবং তার জানাযার নামায পড়া এবং তাকে দাফন করা পর্যন্ত তার সাথে থাকবে, সে দু’ ক্বীরাত্ব সওয়াব নিয়ে (বাড়ি) ফিরবে। এক ক্বীরাত উহুদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি জানাযার নামায পড়ে মৃতকে সমাধিস্থ করার পূর্বেই ফিরে আসবে, সে এক কীরাত্ব সওয়াব নিয়ে (বাড়ি) ফিরবে।’’ (বুখারী) [1]
[1] সহীহুল বুখারী ৪৭, ১৩২৪, ১৩২৫, মুসলিম ৯৪৫, তিরমিযী ১০৪০, নাসায়ী ১৯৯৪, থেকে ১৯৯৭, ৫০৩২, আবূ দাউদ ৩১৬৮, ইবনু মাজাহ ১৫৩৯, আহমাদ ৪৪৩৯, ৭১৪৮, ৭৩০৬, ৭৬৩৩, ৭৭১৮, ৮০৬৬, ৮৭৮৯, ১০৪৯
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: نُهِينَا عَنِ اتِّبَاعِ الجَنَائِزِ، وَلَمْ يُعْزَمْ عَلَيْنَا . متفقٌ عَلَيْهِ
ومعناه: وَلَمْ يُشَدَّدْ في النَّهْيِ كَمَا يُشَدَّدُ في المُحَرَّمَاتِ .
৩/৯৩৬। উম্মে আত্বিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, ‘আমাদেরকে জানাযার সাথে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু (এ ব্যাপারে) আমাদের উপর জোর দেওয়া হয়নি।’ (বুখারী-মুসলিম) [1]
এর অর্থ হল, যেমন অন্যান্য হারাম কাজ কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, তেমন কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়নি।
[1] সহীহুল বুখারী ১২৭৮, ৩১৩, ১২৭৯, ৫৩৪০, ৫৩৪১, ৫৩৪৩, মুসলিম ৯৩৮, নাসায়ী ৩৫৩৪, আবূ দাউদ ২৩০২, ইবনু মাজাহ ২০৮৬, আহমাদ ২০২৭০, ২৬৭৫৯, দারেমী ২২৮৬
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
عَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « مَا مِنْ مَيتٍ يُصَلِّي عَلَيْهِ أُمَّةٌ مِنَ المُسْلِمِينَ يَبْلُغُونَ مِئَةً كُلُّهُمْ يَشْفَعُونَ لَهُ إِلاَّ شُفِّعُوا فِيهِ ». رواه مسلم
১/৯৩৭। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে মৃতের জানাযার নামায একটি বড় জামাআত পড়ে, যারা সংখ্যায় একশ’ জন পৌঁছে এবং সকলেই তার ক্ষমার জন্য সুপারিশ করে, তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৯৪৭, তিরমিযী ১০২৯, নাসায়ী ১৯৯১, আহমাদ ১৩৩৯৩, ২৩৫১৮, ২৩৬০৭, ২৪১৩৬, ২৫৪১৯
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنِ ابنِ عباسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: « مَا مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَمُوتُ، فَيقومُ عَلَى جَنَازَتِهِ أَرْبَعُونَ رَجُلاً لاَ يُشْرِكُونَ بِاللهِ شَيْئاً، إِلاَّ شَفَّعَهُمُ اللهُ فِيهِ». رواه مسلم
২/৯৩৮। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘যে কোন মুসলিম মারা যাবে এবং তার জানাযায় এমন চল্লিশজন লোক নামায পড়বে, যারা আল্লাহর সাথে কোন জিনিসকে শরীক করে না, আল্লাহ তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ গ্রহণ করবেন।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৯৪৮, আহমাদ ২৫০৫
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ
وَعَنْ مَرثَدِ بنِ عَبدِ اللهِ اليَزَنِيِّ، قَالَ: كَانَ مَالِكُ بنُ هُبَيْرَةَ رضي الله عنه إِذَا صَلَّى عَلَى الجَنَازَةِ، فَتَقَالَّ النَّاس عَلَيْهَا، جَزَّأَهُمْ عَلَيْهَا ثَلاَثَةَ أَجْزَاءٍ، ثُمَّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: مَنْ صَلَّى عَلَيْهِ ثَلاَثَةُ صُفُوفٍ فَقَدْ أَوْجَبَ . رواه أَبُو داود والترمذي، وَقَالَ: حديث حسن
৩/৯৩৯। মারষাদ ইবনে আব্দুল্লাহ য়্যাযানী বলেন, মালেক ইবনে হুবাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যখন (কারো) জানাযার নামায পড়তেন এবং লোকের সংখ্যা কম বুঝতে পারতেন, তখন তিনি তাদেরকে তিন কাতারে বণ্টন করতেন। তারপর তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তিন কাতার (লোক) যার জানাযা পড়ল, সে (জান্নাত) ওয়াজেব করে নিল।’’ (আবু দাঊদ, তিরমিযী, হাসান সূত্রে) [1]
[1] আবূ দাউদ ৩১৬৬, তিরমিযী ১০২৮, ইবনু মাজাহ ১৪৯০, আহমাদ ১৬২৮৩
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান
عَن أَبي عَبدِ الرَّحمَانِ عَوفِ بنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَلَى جَنازَةٍ، فَحَفِظْتُ مِنْ دُعَائِهِ، وَهُوَ يَقُولُ: « اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ، وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ، وَأكْرِمْ نُزُلَهُ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ، وَاغْسِلْهُ بِالمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالبَرَدِ، وَنَقِّهِ مِن الخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَس، وَأَبدِلْهُ دَاراً خَيْراً مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلاً خَيراً مِنْ أَهْلِهِ، وَزَوْجَاً خَيْراً مِنْ زَوْجِهِ، وَأَدْخِلهُ الجَنَّةَ، وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ ». حَتَّى تَمَنَّيتُ أَنْ أَكُونَ أنَا ذَلِكَ الْمَيِّت . رواه مسلم
জানাযার নামাযে চার তকবীর বলবে। প্রথম তকবীরের পর ‘আউযু বিল্লাহ’ পড়ে সূরা ফাতিহা পড়বে। অতঃপর দ্বিতীয় তকবীর বলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি দরূদ পড়বে। বলবে, ‘আল্লাহুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদ, অআলা আ-লি মুহাম্মাদ।’ উত্তম হল ‘কামা স্বাল্লাইতা আলা ইবরা-হীমা অ আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’ পর্যন্ত পুরো পড়া। অধিকাংশ সাধারণ লোকের মত শুধু (সূরা আহযাবের ৫৬নং) এই আয়াতটি ‘ইন্নাল্লাহা অমালাইকাতাহু ইউস্বাল্লূনা আলান নবী’ যেন না পড়ে। কারণ, এইটুকু পড়েই যথেষ্ট করলে নামায শুদ্ধ হবে না।
অতঃপর তৃতীয় তকবীর বলে মৃতের এবং সকল মুসলিমের জন্য যে সমস্ত দো‘আ পড়বে সে সম্পর্কিত একাধিক হাদীস আমি পরবর্তীতে বর্ণনা করব—ইন-শাআল্লাহু তা‘আলা। পুনরায় চতুর্থ তকবীর বলবে এবং দো‘আ করবে। এখানে সর্বোত্তম দো‘আর মধ্যে এটি একটি, ‘আল্লা-হুম্মা লা তাহরিমনা আজরাহু অলা তাফতিন্না বা’দাহ, অগফির লানা অ লাহ।’
চতুর্থ তকবীরের পর লম্বা দো‘আ করা পছন্দনীয়, অথচ অধিকাংশ লোকের এর বিপরীত অভ্যাস রয়েছে। এ ব্যাপারে ইবনে আবী আওফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে প্রমাণিত আছে, যা পরবর্তীতে উল্লেখ করব---ইন-শাআল্লাহু তা‘আলা।
পক্ষান্তরে তৃতীয় তকবীরের পর যে দো‘আগুলি প্রমাণিত আছে তার মধ্যে কিছু নিম্নরূপঃ-
১/৯৪০। আবূ আব্দুর রহমান আওফ ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জানাযায় নামায পড়লেন। আমি তাঁর দো‘আ মুখস্থ করে ফেললাম। সে দো‘আ হল এইঃ-
‘আল্লা-হুম্মাগফির লাহু অরহামহু অ‘আ-ফিহী অ‘ফু ‘আনহু অআকরিম নুযুলাহু অঅসসি‘ মুদখালাহু, অগসিলহু বিলমা-ই অসসালজি অল-বারাদ। অনাক্কিহী মিনাল খাত্বায়্যা কামা নাক্কাইতাস সাউবাল আবয়্যাদা মিনাদ দানাস। অ আবদিলহু দা-রান খাইরাম মিন দা-রিহী অ আহলান খাইরাম মিন আহলিহী অযাওজান খাইরাম মিন যাওজিহ। অ আদখিলহুল জান্নাতা অ আ‘ইযহু মিন ‘আযা-বিল ক্বাবরি অমিন ‘আযা-বিন্নার।’
অর্থ- হে আল্লাহ! তুমি ওকে ক্ষমা করে দাও এবং ওকে রহম কর। ওকে নিরাপত্তা দাও এবং মার্জনা করে দাও, ওর মেহেমানী সম্মানজনক কর এবং ওর প্রবেশস্থল প্রশস্ত কর। ওকে তুমি পানি, বরফ ও শিলাবৃষ্টি দ্বারা ধৌত করে দাও এবং ওকে গোনাহ থেকে এমন পরিষ্কার কর, যেমন তুমি সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করেছ। আর ওকে তুমি ওর ঘর অপেক্ষা উৎকৃষ্ট ঘর, ওর পরিবার অপেক্ষা উত্তম পরিবার, ওর জুড়ী অপেক্ষা উৎকৃষ্ট জুড়ী দান কর। ওকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং কবর ও জাহান্নামের আযাব থেকে রেহাই দাও।
(বর্ণনাকারী সাহাবী আউফ ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন এই দো‘আ বলতে শুনলাম) তখন আমি এই কামনা করলাম যে, যদি আমি এই মাইয়্যেত হতাম! (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ৯৬৩, তিরমিযী ১০২৫, নাসায়ী ১৯৮৩, ১৯৮৪, ইবনু মাজাহ ১৫০০, আহমাদ ২৩৪৫৫, ২৩৪৮০
তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ