হাদীস বিএন


রিয়াদুস সালিহীন





রিয়াদুস সালিহীন (946)


وَعَنْ وَاثِلَة بنِ الأَسْقَعِ رضي الله عنه، قَالَ: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَلَى رَجُلٍ مِنَ المُسْلِمِينَ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: « اَللهم إنَّ فُلانَ ابْنَ فُلانٍ فِي ذِمَتِّكَ وَحَبْلِ جِوَارِكَ، فَقِهِ فِتْنَةَ القَبْرِ، وَعذَابَ النَّار، وَأنْتَ أهْلُ الوَفَاءِ وَالحَمْدِ ؛ اَللهم فَاغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ، إنَّكَ أنْتَ الغَفُورُ الرَّحيمُ ». رواه أَبُو داود




৭/৯৪৬। ওয়াসেলাহ ইবনে আসকা’ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এক মুসলিম ব্যক্তির জানাযার নামায পড়ালেন। সুতরাং আমি তাঁকে এই দো‘আটি বলতে শুনলাম,

‘আল্লা-হুম্মা ইন্না ফুলা-নাবনা ফুলা-নিন ফী যিম্মাতিকা অহাবলি জিওয়ারিক, ফাক্বিহী ফিতনাতাল ক্বাবরি অ আযা-বান্নার, অ আন্তা আহলুল অফা-ই অলহাম্দ, ফাগ্ফির লাহু অরহামহু ইন্নাকা আন্তাল গাফূরুর রাহীম।’

অর্থ- হে আল্লাহ! নিশ্চয় অমুকের পুত্র অমুক তোমার দায়িত্বে এবং তোমার আমানতে। অতএব ওকে তুমি কবর ও জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর। তুমি প্রতিশ্রুতি পালনকারী ও প্রশংসার পাত্র। সুতরাং ওকে তুমি মাফ করে দাও এবং ওর প্রতি দয়া কর। নিঃসন্দেহে তুমিই মহাক্ষমাশীল অতি দয়াবান। (আবূ দাউদ) [1]


[1] আবূ দাউদ ৩২০২, ইবনু মাজাহ ১৪৯৯, আহমাদ ১৫৫৮৮

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (947)


وَعَنْ عبدِ الله بنِ أبي أَوْفى رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أنَّهُ كَبَّرَ عَلَى جَنَازَةِ ابْنَةٍ لَهُ أرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ، فَقَامَ بَعْدَ الرَّابِعَةِ كَقَدْرِ مَا بَيْنَ التَّكْبِيرَتَيْنِ يَسْتَغْفِرُ لَهَا وَيَدْعُو، ثُمَّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ هكَذَا.
وفي رواية: كَبَّرَ أرْبَعاً فَمَكَثَ سَاعَةً حَتَّى ظَنَنْتُ أنَّهُ سَيُكَبِّرُ خَمْساً، ثُمَّ سَلَّمَ عَنْ يَمينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ . فَلَمَّا انْصَرَفَ قُلْنَا لَهُ: مَا هَذَا ؟ فَقَالَ: إنِّي لاَ أَزيدُكُمْ عَلَى مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ، أَوْ: هَكَذَا صَنَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم . رواه الحاكم، وَقَالَ: «حديث صحيح »




৮/৯৪৭। আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁর এক মেয়ের জানাযায় চার তাকবীর দিলেন। অতঃপর তিনি চতুর্থ তাকবীরের পর দুই তাকবীরের মধ্যস্থলে যতটা সময় লাগে ততক্ষণ দাঁড়িয়ে তার (কন্যার) জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও দো‘আ করলেন। তারপর তিনি বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রকমই করতেন।’

অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি চার তাকবীর বলার পর কিছুক্ষণ থেমে গেলেন, এমনকি আমি ধারণা করলাম যে, তিনি পাঁচ তাকবীর বলবেন। অতঃপর তিনি তাঁর ডানে ও বামে সালাম ফিরলেন। তারপর তিনি যখন নামায শেষ করলেন, তখন আমরা তাঁকে বললাম, ‘একী!?’ তিনি বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যা করতে দেখেছি, তার চেয়ে বেশী করব না’ অথবা ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রকমই করেছেন।’ (হাকেম সহীহ সূত্রে) [1]




[1] ইবনু মাজাহ ১৫০৩, আহমাদ ১৮৬৫৯ থেকে ১৮৯২৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (948)


عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: أَسْرِعُوا بِالجَنَازَةِ، فَإنْ تَكُ صَالِحَةً، فَخَيرٌ تُقَدِّمُونَهَا إِلَيْهِ، وَإنْ تَكُ سِوَى ذَلِكَ، فَشَرٌّ تَضَعُونَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ - متفقٌ عَلَيْهِ.
وفي روايةٍ لمسلمٍ: فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا عَلَيْهِ




১/৯৪৮। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা জানাযার (লাশ) নিয়ে যেতে তাড়াতাড়ি কর। কেননা, সে যদি পুণ্যবান হয়, তাহলে ভালো; ভালোর দিকেই তোমরা তাকে পেশ করবে। আর যদি তা এর উল্টো হয়, তাহলে তা মন্দ; যা তোমরা তোমাদের ঘাড় থেকে নামিয়ে দেবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]

মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘তোমরা তাকে ভালোর উপরই পেশ করবে।’


[1] সহীহুল বুখারী ১৩১৫, মুসলিম ৯৪৪, তিরমিযী ১০১৫, নাসায়ী ১৯১০ থেকে ১৯১১, আবূ দাউদ ৩১১৮, ইবনু মাজাহ ১৪৭৭, আহমাদ ৭৭১৪ থেকে ২৭৩০৪

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (949)


وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِي رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: « إِذَا وُضِعَت الجَنَازَةُ، فَاحْتَمَلَهَا الرِّجَالُ عَلَى أَعنَاقِهِمْ، فَإِنْ كَانَتْ صَالِحَةً، قَالَتْ: قَدِّمُونِي، وَإنْ كَانَتْ غَيْرَ صَالِحَةٍ، قَالَتْ ِلأَهْلِهَا: يَا وَيْلَهَا أَيْنَ تَذْهَبُونَ بِهَا ؟ يَسْمَعُ صَوْتَهَا كُلُّ شَيْءٍ إِلاَّ الإنْسَانَ، وَلَوْ سَمِعَ الإنسَانُ لَصَعِقَ». رواه البخاري




২/৯৪৯। আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, ‘‘যখন জানাযা (খাটে) রাখা হয় এবং লোকেরা তা নিজেদের ঘাড়ে উঠিয়ে নেয়, তখন সে সৎ হলে বলে, ‘আমাকে আগে নিয়ে চল।’ আর অসৎ হলে তার পরিবার-পরিজনদের উদ্দেশ্যে বলে, ‘হায় আমার দুর্ভোগ! তোমরা (আমাকে) কোথায় নিয়ে যাচ্ছ?’ মানুষ ছাড়া তার এই আওয়াজ সব জিনিসই শুনতে পায়। যদি মানুষ তা শুনতো, তবে নিশ্চয় বেঁহুশ হয়ে যেত।’’ (বুখারী) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ১৩১৪, ১৩১৬, ১৩৮০, নাসায়ী ১৯০৯, আহমাদ ১০৯৭৯, ১১১৫৮

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (950)


عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: نَفْسُ المُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ . رواه الترمذي، وَقَالَ: حديث حسن




১/৯৫০। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘ঋণ পরিশোধ অবধি মু’মিনের আত্মা ঝুলানো থাকে।’’ (অর্থাৎ তার জান্নাতে অথবা জাহান্নামে যাওয়ার ফায়সালা হয় না।) (তিরমিযী হাসান)[1]


[1] তিরমিযী ১০৭৮, ইবনু মাজাহ ২৪১৩, আহমাদ ৯৩৭৮, ৯৮০০, দারেমী ২৫৯১

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান









রিয়াদুস সালিহীন (951)


عن حُصَيْنِ بن وحْوَحٍ رضي الله عنه أَنْ طَلْحَةَ بنَ الْبُرَاءِ بن عازب رضِي اللهُ عنْهما مَرِض، فَأتَاهُ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم يَعُودُهُ فَقَالَ: «إنّي لا أُرَى طَلْحةَ إلاَّ قدْ حَدَثَ فِيهِ المَوْتُ فَآذِنُوني بِهِ وَعَجِّلُوا بِهِ، فَإنَّهُ لا يَنْبَغِي لجِيفَةِ مُسْلِمٍ أنْ تُحْبَسَ بَيْنَ ظَهْرَانَيْ أَهْلِهِ » . رواه أبو داود .




২/৯৫১। হুসাইন ইবনু ওয়াহ্ওয়াহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, ত্বালহা ইবনুল বারা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রোগগ্রস্ত হয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখতে গেলেন। তিনি বললেনঃ ত্বালহার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে, তার বিষয়ে এছাড়া আমি আর কিছুই চিন্তা করি না। আমাকে তার মৃত্যুর খবর জানাবে। আর তার দাফন-কাফনের কাজ দ্রুত সমাধা করবে। কারণ, মুসলিমের লাশ তার পরিবারবর্গের নিকট আটকে রাখা উচিত নয়। (আবূ দাউদ)[1]


[1] আমি (আলবানী) বলছিঃ এর সনদটি দুর্বল যেমনটি ‘‘আহকামুল জানায়েয’’ গ্রন্থে (পৃ ১৩-১৪) এবং ‘‘য‘ঈফাহ্’’ গ্রন্থে (৩২৩২) আলোচনা করেছি। এ সনদটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। হুসাইন ইবনু অহ্অহ্ এর নিচের বর্ণনাকারীদেরকে চেনা যায় না। হাফিয ইবনু হাজার ‘‘উরওয়া ইবনু সা‘ঈদ আনসারী এবং তার পিতা সম্পর্কে বলেনঃ তারা উভয়েই মাজহূল (অপরিচিত)। আর সা‘ঈদ ইবনু উসমান বালাওয়ী হচ্ছেন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) (অর্থাৎ মুতাবা‘য়াত পাওয়া যাওয়ার শর্তে)। এ ছাড়াও বালাওয়ী থেকে ঈসা ইবনু ইউনুস ছাড়া কেউ বর্ণনা করেননি। আর ইবনু হিববান ছাড়া অন্য কেউ তাকে নির্ভরযোগ্যও আখ্যা দেননি। [দেখুন ‘‘য‘ঈফাহ্’’ (৩২৩২), আবূ দাউদ ৩১৫৯।

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ যঈফ









রিয়াদুস সালিহীন (952)


عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا فِي جَنَازَةٍ في بَقِيعِ الغَرْقَدِ، فَأَتَانَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فَقَعَدَ، وَقَعَدْنَا حَوْلَهُ وَمَعَهُ مِخْصَرَةٌ فَنَكَّسَ وَجَعَلَ يَنْكُتُ بِمِخْصَرَتِهِ، ثُمَّ قَالَ: « مَا مِنْكُمْ مِنْ أحَدٍ إِلاَّ وَقَدْ كُتِبَ مَقْعَدُهُ مِنَ النَّارِ وَمَقْعَدُهُ مِنَ الجَنَّةِ » فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، أفَلا نَتَّكِلُ عَلَى كِتَابنَا ؟ فَقَالَ: اِعْمَلُوا ؛ فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ ... » وذكَر تَمَامَ الحديث . متفقٌ عَلَيْهِ




১/৯৫২। আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমরা এক জানাযার সাথে বাক্বীউল গারক্বাদ (কবর স্থানে) ছিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বসলেন এবং আমরাও তাঁর আশপাশে বসে গেলাম। তাঁর সাথে একটি ছড়ি ছিল, তিনি মাথা নীচু করে তা দিয়ে (চিন্তাগ্রস্থের মত) মাটিতে আঁক কাটতে লাগলেন। তারপর তিনি বললেন, ‘‘তোমাদের প্রত্যেকের জাহান্নামে ও জান্নাতে ঠিকানা লিখে দেওয়া হয়েছে।’’ সাহাবীরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আমরা কি আমাদের (ভাগ্য) লিপির উপর ভরসা করব না?’ তিনি বললেন, ‘‘(না, বরং) তোমরা কর্ম করতে থাক। কেননা, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সে কাজ সহজ হয়, যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]




[1] সহীহুল বুখারী ১৩৬২,৪৯৪৫,৪৯৪৬,৪৯৪৭,৪৯৪৮,৪৯৪৯,৬২১৭,৬৬০৫,৭৫৫২,মুসলিম ২৬৪৭, তিরমিযী ২১৩৬,৩৩৪৪, আবূ দাউদ ৪৬৯৪, ইবনু মাজাহ ৭৮, আহমাদ ৯২২,১০৭০,১১১৩,১১৮৫,১৩৫২

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (953)


وَعَنْ أَبي عَمرٍو - وَقِيلَ: أَبُو عَبدِ اللهِ، وَقِيلَ: أَبُو لَيلَى - عُثمَانَ بنِ عَفَّانَ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا فُرِغَ مِن دَفْنِ المَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ، وَقَالَ: « اِسْتَغْفِرُوا ِلأَخِيكُمْ وَسَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ، فَإِنَّهُ الآنَ يُسألُ ». رواه أَبُو داود




১/৯৫৩। আবূ ‘আমর মতান্তরে আবূ আব্দুল্লাহ বা আবূ লাইলা উসমান ইবনে আফ্ফান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃতকে সমাধিস্থ করার পর তার নিকট দাঁড়িয়ে বলতেন, ‘‘তোমরা তোমাদের ভাইদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার জন্য স্থিরতার দো‘আ কর। কেননা, এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে।’’ (আবূ দাঊদ) [1]


[1] আবূ দাউদ ৩২২১

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (954)


وَعَنْ عَمرِو بنِ العَاصِ رضي الله عنه، قَالَ: إِذَا دَفَنْتُمُونِي، فَأَقِيمُوا حَوْلَ قَبْرِي قَدْرَ مَا تُنْحَرُ جَزُورٌ، وَيُقَسَّمُ لَحمُهَا حَتَّى أَسْتَأنِسَ بِكُمْ، وَأعْلَمَ مَاذَا أُرَاجِعُ بِهِ رُسُلَ رَبِّي. رواه مسلم. وَقَدْ سبق بطوله.
قَالَ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللهُ: وَيُسْتَحَبُّ أنْ يُقْرَأ عِنْدَهُ شَيْءٌ مِنَ القُرآنِ، وَإنْ خَتَمُوا القُرآنَ عِنْدَهُ كَانَ حَسَنَاً.




২/৯৫৪। ‘আমর ইবনে ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেছেন, ‘তোমরা যখন আমাকে সমাধিস্থ করবে, তখন আমার কবরের আশ-পাশে তোমরা ততক্ষণ অবস্থান করবে, যতক্ষণ একটা উট যবেহ করে তার গোশত বণ্টন করতে লাগে। যেন আমি তোমাদের পেয়ে নিঃসঙ্গতা বোধ না করি এবং জেনে নিই যে, আমি আমার প্রভুর দূতগণকে কী জবাব দিচ্ছি।’ (মুসলিম) [1]

এ বর্ণনাটি পূর্বে ৭১৬ নম্বরে বিস্তারিতভাবে গত হয়ে গেছে।

ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, কবরের নিকট কুরআনের কিছু অংশ পড়া উত্তম। যদি তার নিকট কুরআন খতম করে, তবে তা উত্তম হবে।[2]


[1] মুসলিম ১২১, আহমাদ ১৭৩২৬,১৭৩৫৭

[2] আমি (আলবানী) বলছিঃ ইমাম শাফেঈ‘ উক্ত কথা কোথায় বলেছেন জানি না এবং তা তার উদ্ধৃতিতে সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে আমার নিকট বড় ধরনের সন্দেহ রয়েছে। কিভাবে সাব্যস্ত হবে যেখানে তার মাযহাব হচ্ছে এই যে, যদি কেউ কুরআন তিলাওয়াত করে তার সাওয়াব মৃত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে হাদিয়্যাহ্ দেয় তাহলে তা তাদের নিকট পৌঁছবে না। যেমনটি হাফিয ইবনু কাসীরوَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسَانِ إِلَّا مَا سَعَى (সূরা আন-নাজম ৩৯) আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন।

শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ্ তার ‘‘আলইকতিযা’’ গ্রন্থে ইমাম শাফে‘ঈ হতে তা সাব্যস্ত না হওয়ার দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেনঃ ইমাম শাফে‘ঈ হতে এ মাসআলার ব্যাপারে কোন কথা সাব্যস্ত হয়নি। কারণ তা তার নিকট বিদ‘আত ছিল। আর ইমাম মালেক বলেছেনঃ আমরা কোন একজন হতেও জানিনি যে, সে তা করেছে। এ থেকে জানা যাচ্ছে যে, সহাবা এবং তাবে‘ঈগণ তা করতেন না।

আমি (আলবানী) বলছিঃ ইমাম আহমাদের মাযহাবও এটিই যে, কবরের নিকট কুরআন পাঠ করা যাবে না। যেমনটি আমি আমার কিতাব ‘‘আহকামুল জানায়েয’’ গ্রন্থের (পৃ ১৯২-১৯৩) মধ্যে সাব্যস্ত করেছি। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ্ এর সিদ্ধান্তও এটিই যেমনটি আমি আমার কিতাব ‘‘আহকামুল জানায়েয’’ গ্রন্থে (পৃ ১৭৫-১৭৬) তাহকীক্ব করেছি।

আম্বার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীস বিভাগের প্রধান ডঃ মাহের ইয়াসীন আলফাহল ‘‘রিয়াদুস সালেহীন’’ গ্রন্থের তাহ্কীক্ব করতে গিয়ে বলেনঃ এটি ইমাম শাফেঈ‘র কথা নয় বরং তার সাথীদের কথা। দেখুন ‘‘আলমাজমূ‘’’ (৫/১৮৫)।

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (955)


وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا: أَنَّ رَجُلاً قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا وَأُرَاهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ، فَهَلْ لَهَا أجْرٌ إنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا ؟ قَالَ: « نَعَمْ ». متفقٌ عَلَيْهِ




মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ﴾ [الحشر: ١٠]

অর্থাৎ যারা তাদের পর আগমন করে তারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এবং ঈমানে অগ্রগামী আমাদের ভ্রাতৃগণকে ক্ষমা করে দেন।’ (সূরা হাশর ১০)



১/৯৫৫। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু‘‘আনহা হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, ‘আমার মা হঠাৎ মারা গেছে। আমার ধারণা যে, সে কথা বলার সুযোগ পেলে সাদকাহ করত। সুতরাং আমি যদি তার পক্ষ থেকে সাদকাহ করি, তাহলে কি সে নেকী পাবে?’ তিনি বললেন, ‘‘হ্যাঁ।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]


[1] সহীহুল বুখারী ১৩৮৮,২৭৬০, মুসলিম ১০০৪ নাসায়ী ৩৬৪৯, আবূ দাউদ ২৮৮১, ইবনু মাজাহ ২৭১৭, আহমাদ ২৩৭৩০, মুওয়াত্তা মালিক ১৪৯০

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (956)


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: « إِذَا مَاتَ الإنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاثٍ: صَدَقةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ ». رواه مسلم




২/৯৫৬। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন কোন মানুষ মারা যায়, তখন তার কর্ম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি জিনিস নয়; (১) সাদকা জারিয়াহ, (২) যে বিদ্যা দ্বারা উপকার পাওয়া যায় অথবা (৩) সৎ সন্তান যে তার জন্য দো‘আ করে।’’ (মুসলিম) [1]


[1] মুসলিম ১৬৩১, তিরমিযী ১৩৭৬, নাসায়ী ৩৬৫১, আবূ দাউদ ২৮৮০,৩৫৪০, আহমাদ ৮৬২৭, দারেমী ৫৫৯

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (957)


عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: مَرُّوا بِجَنَازَةٍ، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا خَيْراً، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: « وَجَبَتْ » ثُمَّ مَرُّوا بِأُخْرَى، فَأثْنَوْا عَلَيْهَا شَرّاً، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: « وَجَبَتْ »، فَقَالَ عُمَرُ بنُ الخَطَّابِ رضي الله عنه: مَا وَجَبَت ؟ فَقَالَ: « هَذَا أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ خَيْراً، فَوَجَبتْ لَهُ الجَنَّةُ، وَهَذَا أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ شَرّاً، فَوَجَبَتْ لَهُ النَّارُ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللهِ فِي الأَرضِ ». متفقٌ عَلَيْهِ




১/৯৫৭। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, কিছু লোক একটা জানাযা নিয়ে পার হয়ে গেল। লোকেরা তার প্রশংসা করতে লাগল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘অবধারিত হয়ে গেল।’’ অতঃপর দ্বিতীয় আর একটি জানাযা নিয়ে পার হলে লোকেরা তার দুর্নাম করতে লাগল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘অবধারিত হয়ে গেল।’’ উমার ইবন খাত্ত্বাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘কী অবধারিত হয়ে গেল?’ তিনি বললেন, ‘‘তোমরা যে এর প্রশংসা করলে তার জন্য জান্নাত, আর ওর দুর্নাম করলে তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গেল। তোমরা হলে পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]


[1] সহীহুল বুখারী ১৩৬৭,২৬৪২, মুসলিম ৯৪৯, তিরমিযী ১০৫৮, নাসায়ী ১৯৩২, ইবনু মাজাহ ১৪৯১, আহমাদ ১২৪২৬, ১২৫২৬, ১২৬২৭, ২৭৯১, ১৩১৬০

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (958)


وَعَنْ أَبي الأَسْوَدِ، قَالَ: قَدِمْتُ المَدِينَةَ، فَجَلَسْتُ إِلَى عُمَرَ بنِ الخَطَّاب رضي الله عنه فَمَرَّتْ بِهمْ جَنَازَةٌ، فَأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبِهَا خَيْراً، فَقَالَ عُمَرُ: وَجَبَتْ، ثُمَّ مُرَّ بَأُخْرَى فَأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبِهَا خَيْراً، فَقَالَ عُمَرُ: وَجَبَتْ، ثُمَّ مُرَّ بِالثَّالِثَةِ، فَأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبِهَا شَرّاً، فَقَالَ عُمَرُ: وَجَبَتْ، قَالَ أَبُو الأَسوَدِ: فَقُلتُ: وَمَا وَجَبَتْ يَا أَمْيرَ المُؤمِنِينَ ؟ قَالَ: قُلْتُ كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: « أيُّمَا مُسْلِمٍ شَهِدَ لَهُ أرْبَعَةٌ بِخَيرٍ، أَدْخَلَهُ اللهُ الجَنَّةَ » فَقُلْنَا: وَثَلاثَةٌ ؟ قَالَ: « وَثَلاثَةٌ » فَقُلنَا: وَاثْنَانِ ؟ قَالَ: «وَاثْنَانِ » ثُمَّ لَمْ نَسْأَلْهُ عَنِ الوَاحِدِ . رواه البخاري




২/৯৫৮। আবূল আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি মদ্বীনায় এসে উমার ইবনে খাত্ত্বাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর নিকট বসলাম। অতঃপর তাঁদের পাশ দিয়ে একটি জানাযা পার হলে তার প্রশংসা করা হল। উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘ওয়াজেব (অনিবার্য) হয়ে গেল।’ অতঃপর আর একটা জানাযা পার হলে তারও প্রশংসা করা হলে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘ওয়াজেব হয়ে গেল।’ অতঃপর তৃতীয় একটা জানাযা পার হলে তার নিন্দা করা হলে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘ওয়াজেব হয়ে গেল।’

আবুল আসওয়াদ বলেন, আমি বললাম, ‘কী ওয়াজেব হয়ে গেল? হে আমীরুল মু’মিনীন!’ তিনি বললেন, ‘আমি বললাম, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, ‘‘যে মুসলিমের নেক হওয়ার ব্যাপারে চারজন লোক সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’’ আমরা বললাম, ‘আর তিনজন?’ তিনি বললেন, ‘‘তিনজন হলেও।’’ আমরা বললাম, ‘আর দু’জন?’ তিনি বললেন, ‘‘দু’জন হলেও।’’ অতঃপর আমরা এক জনের (সাক্ষ্য) সম্পর্কে আর জিজ্ঞাসা করলাম না। (বুখারী) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ১৩৬৮,২৬৪৩, তিরমিযী ১০৫৯, নাসায়ী ১৯৩৪, আহমাদ ১৪০,২০৪,৩২০,৩৯১

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (959)


وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ لَهُ ثَلاَثَةٌ لَمْ يَبْلُغُوا الحِنْثَ إِلاَّ أَدْخَلَهُ اللهُ الجَنَّةَ بِفَضْلِ رَحْمَتِهِ إيَّاهُمْ ». متفقٌ عَلَيْهِ




১/৯৫৯। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে কোন মুসলিমের তিনটি নাবালক সন্তান মারা যাবে, তাকে আল্লাহ তাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের বরকতে জান্নাত দেবেন।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]


[1] সহীহুল বুখারী ১২৪৮, ১৩৮১, নাসায়ী ১৮৭৩, ইবনু মাজাহ ১৬০৫, আহমাদ ১২১২৬

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (960)


وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « لاَ يَمُوتُ لأَحَدٍ مِنَ المُسْلِمينَ ثَلاَثَةٌ مِنَ الوَلَدِ لاَ تَمسُّهُ النَّارُ إِلاَّ تَحِلَّةَ القَسَمِ ». متفقٌ عَلَيْهِ




২/৯৬০। আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে কোন মুসলিমের তিনটি (নাবালক) সন্তান মারা যাবে, তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। কিন্তু (আল্লাহ) তাঁর কসম পূরা করার জন্য (তাদেরকে জাহান্নামের উপর পার করাবেন)।’’ (বুখারী ও মুসলিম)[1]

আল্লাহর কসম পুরা করার ব্যাপারে তিনি বলেছেন,

﴿ وَإِن مِّنكُمۡ إِلَّا وَارِدُهَاۚ كَانَ عَلَىٰ رَبِّكَ حَتۡمٗا مَّقۡضِيّٗا ٧١ ﴾ [مريم: ٧١]

অর্থাৎ তোমাদের প্রত্যেকেই তাতে প্রবেশ করবে; এটা তোমার প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত। (সূরা মারয়্যাম ৭১ আয়াত)

আর মু’মিনদের প্রত্যেকের জাহান্নামে প্রবেশ করার অর্থ জাহান্নামের উপর স্থাপিত পুলসিরাত পার হওয়া। আল্লাহ আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন। (আমীন।)


[1] সহীহুল বুখারী ১০২, ১২৫১, ১২৫০, ৬৬৫৬, ৭৩১০, মুসলিম ২৬৩৪, নাসায়ী ১৮৭৬, ইবনু মাজাহ ১৬০৩, আহমাদ ১০৭২২, ১০৯০৩, ১১২৮৯

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (961)


وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِي رضي الله عنه، قَالَ: جَاءَتِ امْرأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، ذَهبَ الرِّجَالُ بِحَدِيثِكَ، فَاجْعَلْ لَنَا مِنْ نَفْسِكَ يَوْماً نَأْتِيكَ فِيهِ تُعَلِّمُنَا مِمَّا عَلَّمَكَ اللهُ، قَالَ: «اجْتَمِعْنَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا » فَاجْتَمَعْنَ، فَأَتَاهُنَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَعَلَّمَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَهُ اللهُ، ثُمَّ قَالَ: « مَا مِنْكُنَّ مِنِ امْرَأَةٍ تُقَدِّمُ ثَلاَثَةً مِنَ الوَلَدِ إِلاَّ كَانُوا لَهَا حِجَاباً مِنَ النَّارِ ». فقَالَتْ امْرَأَةٌ: وَاثْنَينِ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « وَاثْنَيْنِ ». متفقٌ عَلَيْهِ




৩/৯৬১। আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! কেবলমাত্র পুরুষেরাই আপনার হাদীস শোনার সৌভাগ্য লাভ করছে। সুতরাং আপনি আমাদের জন্যও একটি দিন নির্ধারিত করুন। আমরা সে দিন আপনার নিকট আসব, আপনি আমাদেরকে তা শিক্ষা দেবেন, যা আল্লাহ আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন।’ তিনি বললেন, ‘‘তোমরা অমুক অমুক দিন একত্রিত হও।’’

অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট এসে সে শিক্ষা দিলেন, যা আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন। তারপর তিনি বললেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে যে কোন মহিলার তিনটি সন্তান মারা যাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড় হয়ে যাবে।’’ এক মহিলা বলল, ‘আর দু’টি সন্তান মারা গেলে?’ তিনি বললেন, ‘‘দু’টি মারা গেলেও (তাই হবে)।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]


[1] সহীহুল বুখারী ১০২, ১২৫১, ১২৫০, ৬৬৫৬, ৭৩১০, মুসলিম ২৬৩৪, নাসায়ী ১৮৭৬, ইবনু মাজাহ ১৬০৩, আহমাদ ১০৭২২, ১০৯০৩, ১১২৮৯

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (962)


عَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ لأَصْحَابِهِ - يَعْنِي لَمَّا وَصَلُوا الحِجْرَ - دِيَارَ ثَمُودَ -: « لاَ تَدْخُلُوا عَلَى هَؤُلاَءِ المُعَذَّبِينَ إِلاَّ أَنْ تَكُونُوا بَاكِينَ، فَإنْ لَمْ تَكُونُوا بَاكِينَ، فَلاَ تَدْخُلُوا عَلَيْهِمْ، لاَ يُصِيبُكُمْ مَا أصَابَهُمْ ». متفقٌ عَلَيْهِ
وفي روايةٍ قَالَ: لَمَّا مَرَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم بِالحِجْرِ، قَالَ: « لاَ تَدْخُلُوا مَسَاكِنَ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ، أَنْ يُصِيبَكُمْ مَا أَصَابَهُمْ، إِلاَّ أنْ تَكُونُوا بَاكِينَ ». ثُمَّ قَنَّعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم رَأسَهُ وأسْرَعَ السَّيْرَ حَتَّى أَجَازَ الوَادِي .




১/৯৬২। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামূদ জাতির বাসস্থান হিজর (নামক) স্থানে পৌঁছে নিজ সাহাবীদেরকে বললেন, ‘‘তোমরা এ সকল শাস্তিপ্রাপ্তদের স্থানে প্রবেশ করলে কাঁদতে কাঁদতে (প্রবেশ) কর। যদি না কাঁদ, তাহলে তাদের স্থানে প্রবেশ করো না। যেন তাদের মত তোমাদের উপরেও শাস্তি না পৌঁছে যায়।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]

অন্য এক বর্ণনায় আছে, ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজর অতিক্রম করার সময় বললেন, ‘‘তোমরা সেই লোকদের বাসস্থানে প্রবেশ করো না, যারা নিজেদের আত্মার প্রতি অত্যাচার করেছে। যেন তাদের মত তোমাদের উপরেও আযাব না পৌঁছে। কিন্তু কান্নারত অবস্থায় প্রবেশ করতে পার।’’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ মাথা ঢেকে নিলেন এবং দ্রুত গতিতে উপত্যকা পার হয়ে গেলেন।


[1] সহীহুল বুখারী ৪৩৩, ৩৩৭৮, ৩৩৭৯, ৩৩৮০, ৩৩৮১, ৪৪১৯, ৪৪২০, ৪৭০২, মুসলিম ২৯৮০, আহমাদ ৫২০৩, ৫৩২০, ৫৩৮১, ৬১৭৬

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (963)


عَنْ كَعبِ بنِ مَالِكٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ يَوْمَ الخَمِيسِ، وَكَانَ يُحِبُّ أَنْ يَخْرُجَ يَوْمَ الْخَميسِ . متفقٌ عَلَيْهِ.
وفي رواية في الصحيحين: لَقَلَّمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ إِلاَّ فِي يَوْمِ الخَمِيسِ.




১/৯৬৩। কা‘ব ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক অভিযানে বৃহস্পতিবার বের হলেন। আর তিনি বৃহস্পতিবার (সফরে) বের হওয়া পছন্দ করতেন। (বুখারী, মুসলিম) [1]

বুখারী-মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃহস্পতিবার ছাড়া অন্য দিনে কমই সফরে বের হতেন।

(প্রকাশ থাকে যে বৃহস্পতিবার সফরে বের হওয়ার কথা মুসলিম শরীফে নেই।)


[1] সহীহুল বুখারী ২৯৪৯, ২৭৫৮, ২৯৪৭, ২৯৪৮, ২৯৫০, ৩০৮৮, ৩৫৫৬, ৩৮৮৯, ৩৯৫১, ৪৪১৮, ৪৬৭৩, ৪৬৭৬, ৪৬৭৭, ৪৬৭৮, ৬২৫৫, ৬৬৯০, ৭২২৫, মুসলিম ২৭৬৯, তিরমিযী ৩১০২, নাসায়ী ৩৮২৪, ৩৮২৬, আবূ দাউদ ২২০২, ৩৩১৭, ৩৩১৯, ৩৩২১, ৪৬০০, আহমাদ ১৫৩৪৩, ১৫৩৪৫, ১৫৩৫৪

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ









রিয়াদুস সালিহীন (964)


وَعَنْ صَخرِ بنِ وَدَاعَةَ الغَامِدِيِّ الصَّحَابِيِّ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: اَللهم بَارِكْ ِلأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا. وَكَانَ إِذَا بَعَثَ سَرِيَّةً أَوْ جَيْشَاً بَعَثَهُمْ مِنْ أوَّلِ النَّهَارِ . وَكَانَ صَخْرٌ تَاجِراً، وَكَانَ يَبْعَثُ تِجَارَتَهُ أوَّلَ النَّهَار، فَأَثْرَى وَكَثُرَ مَالُهُ. رواه أَبُو داود والترمذي، وَقَالَ:حديث حسن




২/৯৬৪। স্বাখর ইবনে অদা‘আহ গামেদী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘হে আল্লাহ! তুমি আমার উম্মতের জন্য তাদের সকালে বরকত দাও।’’ আর তিনি যখন সেনার ছোট বাহিনী অথবা বড় বাহিনী পাঠাতেন, তখন তাদেরকে সকালে রওয়ানা করতেন। স্বাখর ব্যবসায়ী ছিলেন। সুতরাং তিনি তাঁর ব্যবসার পণ্য সকালেই প্রেরণ করতেন। ফলে তিনি (এর বরকতে) ধনী হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর মাল প্রচুর হয়েছিল। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী হাসান) [1]


[1] ইবনু মাজাহ ২২৩৬, আবূ দাউদ ২৬০৬, আহমাদ ১৫০১২, ১৫০১৭, ১৫১২৯, ১৫১৩০, দারেমী ২৪৩৫

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ হাসান









রিয়াদুস সালিহীন (965)


عَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: لَوْ أَنَّ النَّاسَ يَعْلَمُونَ مِنَ الوحدَةِ مَا أعْلَمُ، مَا سَارَ رَاكبٌ بِلَيْلٍ وَحْدَهُ ! . رواه البخاري




১/৯৬৫। ইবনে ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যদি লোকেরা জানত যে, একাকী সফরে কী ক্ষতি রয়েছে; যা আমি জানি, তাহলে কোন সওয়ার একাকী সফর করত না।’’ (বুখারী)[1]


[1] সহীহুল বুখারী ২৯৯৮, তিরমিযী ১৬৭৩, ইবনু মাজাহ ৩৭৬৮, আহমাদ ৪৭৩৭, ৫২৩০, ৫৫৫৬, ৫৬১৮, দারেমী ২৬৭৯

তাহক্বীক শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানীঃ সহীহ