সুনান আত-তিরমিযী
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَقِيَهُ وَهُوَ جُنُبٌ قَالَ فَانْبَجَسْتُ أَىْ فَانْخَنَسْتُ فَاغْتَسَلْتُ ثُمَّ جِئْتُ فَقَالَ " أَيْنَ كُنْتَ أَوْ أَيْنَ ذَهَبْتَ " . قُلْتُ إِنِّي كُنْتُ جُنُبًا . قَالَ " إِنَّ الْمُسْلِمَ لاَ يَنْجُسُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ حُذَيْفَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ لَقِيَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ جُنُبٌ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَخَّصَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي مُصَافَحَةِ الْجُنُبِ وَلَمْ يَرَوْا بِعَرَقِ الْجُنُبِ وَالْحَائِضِ بَأْسًا . وَمَعْنَى قَوْلِهِ فَانْخَنَسْتُ يَعْنِي تَنَحَّيْتُ عَنْهُ .
আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাথে সাক্ষাত করলেন। তখন তিনি (আবূ হুরাইরা) নাপাক ছিলেন। তিনি (আবূ হুরাইরা) বলেন, আমি চুপচাপ সরে গেলাম এবং গোসল করে তাঁর নিকট এলাম। তিনি বললেন, এতক্ষণ কোথায় ছিলে, অথবা কোথায় গিয়েছিলে? আমি বললাম, আমি নাপাক ছিলাম। তিনি বললেনঃ “মুমিন ব্যক্তি কখনও নাপাক হয় না”।
সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(৫৩৪), বুখারী ও মুসলিম।
এ অনুচ্ছেদে হুযাইফা ও ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। ‘ইন খানাসতু’ শব্দের অর্থ হলো, আমি তার নিকট থেকে দূরে সরে গেলাম। বিদ্বানগণ নাপাক অবস্থায় পরস্পরকে মুসাফাহা করার অনুমতি দিয়েছেন। তাদের মতে, নাপাক ব্যক্তির ঘাম এবং ঋতুবতী মহিলার ঘামের মধ্যে কোন অপবিত্রতা (নাপাক) নেই।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح ، وأخرجه البخاري (٢٨٣) و (٢٨٥) ، ومسلم (٣٧١) ، وأبو داود (٢٣١) ، وابن ماجه (٥٣٤) ، والنسائي ١ / ١٤٥ . وهو في " المسند " (٧٢١١) ، و " صحيح ابن حبان " (١٢٥٩).
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ جَاءَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ بِنْتُ مِلْحَانَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لاَ يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ فَهَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ تَعْنِي غُسْلاً إِذَا هِيَ رَأَتْ فِي الْمَنَامِ مِثْلَ مَا يَرَى الرَّجُلُ قَالَ " نَعَمْ إِذَا هِيَ رَأَتِ الْمَاءَ فَلْتَغْتَسِلْ " . قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ قُلْتُ لَهَا فَضَحْتِ النِّسَاءَ يَا أُمَّ سُلَيْمٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ عَامَّةِ الْفُقَهَاءِ أَنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا رَأَتْ فِي الْمَنَامِ مِثْلَ مَا يَرَى الرَّجُلُ فَأَنْزَلَتْ أَنَّ عَلَيْهَا الْغُسْلَ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَالشَّافِعِيُّ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سُلَيْمٍ وَخَوْلَةَ وَعَائِشَةَ وَأَنَسٍ .
উম্মু সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মিলহান কন্যা উম্মু সুলাইম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! হক কথা বলতে আল্লাহ তা’আলা লজ্জাবোধ করেন না। অতএব কোন নারীর পুরুষদের মত স্বপ্নদোষ হলে কি তাকে গোসল করতে হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যখন সে পানির (বীর্যপাতের) চিহ্ন দেখতে পায় তখন যেন গোসল করে নেয়। উম্মু সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি তাঁকে বললাম, হে উম্মু সুলাইম! আপনি তো নারীদের অপমান করলেন।
সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(৬০০), বুখারী ও মুসলিম।
আবূ ‘ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ্। ফিকহ্বিদগণ এ ব্যাপারে একমত যে, কোন স্ত্রীলোকের পুরুষের মত স্বপ্নদোষ হলে এবং বীর্যপাত হলে তাকে গোসল করতে হবে। সুফিয়ান সাওরী এবং শাফিঈও একথা বলেছেন। এ অনুচ্ছেদে উম্মু সুলাইম, খাওলা, ‘আয়িশাহ্ ও আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও বর্ণিত হাদীস রয়েছে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح ، وأخرجه البخاري (١٣٠) و (٢٨٢) و (٣٣٢٨) و (٦٠٩١) و (٦١٢١) ، = = ومسلم (٣١٣) ، وابن ماجه (٦٠٠) ، والنسائي ١ / ١١٤ . وهو في " المسند " (٢٦٥٠٣) ، و " صحيح ابن حبان " (١١٦٥).
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حُرَيْثٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ رُبَّمَا اغْتَسَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ جَاءَ فَاسْتَدْفَأَ بِي فَضَمَمْتُهُ إِلَىَّ وَلَمْ أَغْتَسِلْ " .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لَيْسَ بِإِسْنَادِهِ بَأْسٌ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا اغْتَسَلَ فَلاَ بَأْسَ بِأَنْ يَسْتَدْفِئَ بِامْرَأَتِهِ وَيَنَامَ مَعَهَا قَبْلَ أَنْ تَغْتَسِلَ الْمَرْأَةُ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
আইশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনও কখনও নাপাকির গোসল করে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরতেন শরীর গরম করার জন্য। আমি তাঁকে আমার সাথে জড়িয়ে নিতাম (ঠান্ডা দূর করার জন্য)। অথচ আমি তখনও নাপাকির গোসল করিনি।
যঈফ, ইবনু মাজাহ (৫৮০)।
আবু ঈসা বলেন এ হাদীসের সনদে কোন ত্রুটি নেই। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একাধিক বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাবিঈদের মতে, কোন ব্যক্তি নাপাকির গোসল করে এসে নাপাক স্ত্রীকে জড়িয়ে নিয়ে শরীর গরম করলে এবং তার সাথে ঐ অবস্থায় ঘুমিয়ে গেলে কোন দোষ নেই। সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাক ও এইমত দিয়েছেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف، ابن ماجہ (580)، حریث بن أبي مطر: ضعیف کما فی، التقریب (1182) ، (انوار الصحیفہ ص 192، 193)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف لضعف حريث : وهو ابن أبي مطر ، قال أبو بكر بن العربي في " شرحه " ١ / ١٩١ : حديث لم يصح ولم يستقم ، فلا يثبت به شيء . وأخرجه ابن أبي شيبة ١ / ٧٦ - ٧٧ ، وابن ماجه (٥٨٠) ، وأبو القاسم البغوي في " الجعديات " (٢٣٧٦) ، ومن طريقه أبو محمد البغوي في " شرح السنة " (٢٦٢) عن شريك ، وأبو يعلى (٤٨٤٦) من طريق زكريا بن أبي زائدة ، والحاكم ١ / ١٥٤ من طريق شريك وإسماعيل بن زكريا ، والدارقطني ١ / ١٤٣ من طريق علي بن هاشم ، والبيهقي ١ / ١٨٧ من طريق عيسى بن يونس ، خمستهم عن حريث بن أبي مطر ، بهذا الإسناد . وقد تحرف " حريث " في المطبوع من " شرح السنة " إلى : " حصين " فيستدرك من هنا ، وصححه الحاكم على شرط مسلم ، ووافقه الذهبي ، فوهما !
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ بُجْدَانَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الصَّعِيدَ الطَّيِّبَ طَهُورُ الْمُسْلِمِ وَإِنْ لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ عَشْرَ سِنِينَ فَإِذَا وَجَدَ الْمَاءَ فَلْيُمِسَّهُ بَشَرَتَهُ فَإِنَّ ذَلِكَ خَيْرٌ " . وَقَالَ مَحْمُودٌ فِي حَدِيثِهِ " إِنَّ الصَّعِيدَ الطَّيِّبَ وَضُوءُ الْمُسْلِمِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَكَذَا رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ بُجْدَانَ عَنْ أَبِي ذَرٍّ . وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ أَيُّوبُ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ عَنْ رَجُلٍ مِنْ بَنِي عَامِرٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ وَلَمْ يُسَمِّهِ . قَالَ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ عَامَّةِ الْفُقَهَاءِ أَنَّ الْجُنُبَ وَالْحَائِضَ إِذَا لَمْ يَجِدَا الْمَاءَ تَيَمَّمَا وَصَلَّيَا . وَيُرْوَى عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُ كَانَ لاَ يَرَى التَّيَمُّمَ لِلْجُنُبِ وَإِنْ لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ . وَيُرْوَى عَنْهُ أَنَّهُ رَجَعَ عَنْ قَوْلِهِ فَقَالَ يَتَيَمَّمُ إِذَا لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ পবিত্র মাটি মুসলমানদের জন্য পবিত্রতাকারী, যদিও সে দশ বছর ধরে পানি না পায়। যখন সে পানি পাবে তখন নিজের শরীরে যেন পানি পৌঁছায় (গোসল করে)। এটাই (তার জন্য) উত্তম। মাহমূদ তার বর্ণিত হাদীসে এরূপ উল্লেখ করেছেনঃ পবিত্র মুসলমানদের জন্য ওযূ গোসলের (বিকল্প) উপকরণ।
সহীহ্। মিশকাত-(৫৩০), সহীহ্ আবূ দাঊদ-(৩৫৭), ইরওয়া-(১৫৩)।
এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা, আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ও ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ খালিদ আলহাজ্জা হতে এই হাদীসটি আরো অনেকে বর্ণনা করেছেন এই হাদীসটি আইয়ূব আবূ কিলাবা হতে তিনি বনু-আমির গোত্রের এক ব্যক্তি হতে তিনি আবূ যার হতে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি হাসান। জামহুর ফুকাহাদের এটাই মত যে, নাপাক ব্যক্তি ও ঋতুবতী মহিলা (ঋতুশেষে) পবিত্রতা অর্জনের জন্য পানি না পেলে তায়াম্মুম করে নামায আদায় করবে। ইবনু মাসঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি নাপাক ব্যক্তির জন্য পানি না পেলেও তায়াম্মুম জায়িয মনে করেন না। বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁর এ অভিমত পরবর্তী কালে প্রত্যাহার করেছেন বলেও উল্লেখ আছে। অতঃপর তিনি পানি না পাওয়া গেলে তায়াম্মুম করে নেবে। সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, মালিক, আহমাদ অ ইসহাক এ মতেরই সমর্থক।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: حسن، مشکوۃ المصابیح (530)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه أبو داود (٣٣٢) و (٣٣٣)، والنسائي ١/ ١٧١، وهو في "المسند" (٢١٣٧١)، و"صحيح ابن حبان" (١٣١١).
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَعَبْدَةُ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَلاَ أَطْهُرُ أَفَأَدَعُ الصَّلاَةَ قَالَ " لاَ إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلاَةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي " . قَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ فِي حَدِيثِهِ وَقَالَ " تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلاَةٍ حَتَّى يَجِيءَ ذَلِكَ الْوَقْتُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ جَاءَتْ فَاطِمَةُ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمَالِكٌ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ أَنَّ الْمُسْتَحَاضَةَ إِذَا جَاوَزَتْ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا اغْتَسَلَتْ وَتَوَضَّأَتْ لِكُلِّ صَلاَةٍ .
‘আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ হুবাইশের কন্যা ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন ইস্তিহাযার রোগিণী, কখনও পবিত্র হই না। আমি কি নামায ছেড়ে দেব? তিনি বললেনঃ “না, এটা একটা শিরার রক্ত, হায়িয নয়। যখন তোমার হায়িয শুরু হবে,নামায ছেড়ে দেবে। যখন হায়িযের সময়সীমা শেষ হবে, তোমার শরীর হতে রক্ত ধুয়ে ফেলবে (গোসল করে নেবে) এবং নামায আদায় করবে”।
আবূ মুআবিয়া তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) বললেন, (হায়িযের মুদ্দাত শেষ হওয়ার পর) প্রত্যেক নামাযের জন্য ওযূ কর (নামায আদায় কর), যতক্ষণ পরবর্তী (হায়িযের) সময় না আসে।
সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(৬২১), বুখারী ও মুসলিম।
এ অনুচ্ছেদে উম্মু সালামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ‘আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর এই হাদীসটি হাসান সহীহ। নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক বিশেষজ্ঞ সাহাবা এবং তাবিঈনের এই মত। সুফিয়ান সাওরী, মালিক, ইবনুল মুবারাক ও শাফিঈ বলেন, ইস্তিহাযার রোগিণী হায়িযের সময়সীমা পার হলে গোসল করবে এবং প্রত্যেক নামযের জন্য (নতুন করে) ওযূ করবে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه البخاري (٢٢٨) و (٣٠٦) و (٣٢٠) و (٣٢٥) و (٣٣١)، ومسلم (٣٣٣)، وأبو داود (٢٨٢) و (٢٨٣) و (٢٩٨)، وابن ماجه (٦٢١) و (٦٢٤)، والنسائي ١/ ١٨١ و ١٨٣ - ١٨٦. وهو في "المسند" (٢٤١٤٥) و (٢٥٦٢٢)، و"صحيح ابن حبان" (١٣٥٠).
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ " تَدَعُ الصَّلاَةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا الَّتِي كَانَتْ تَحِيضُ فِيهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتَتَوَضَّأُ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ وَتَصُومُ وَتُصَلِّي " .
‘আদী ইবনু সাবিত (রাহিমাহুল্লাহ) হতে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইস্তিহাযার রোগিণী সম্পর্কে বলেনঃ ইতোপূর্বে সে যে কয়দিন ঋতুবতী থাকতো ততদিন নামায ছেড়ে দেবে; অতঃপর গোসল করবে এবং প্রত্যেক নামযের সময় নতুন করে ওযূ করবে এবং রোযা রাখবে ও নামায আদায় করবে।
সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(৬২৫)।
-
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف، ابو داود (257) ابن ماجہ (625)، أبو الیقظان ضعیف مدلس، وللحدیث شواھد ضعیفۃ ، (انوار الصحیفہ ص 193)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح لغيره، وهذا إسناد ضعيف، شريك - وهو ابن عبد الله النخعي - سيئ الحفظ، وأبو اليقظان - واسمه عثمان بن عمير - ضعيف، ووالد عدي مجهول الحال. وهو في "العلل الكبير" للمصنف ١/ ١٨٥. وأخرجه الدارمي (٧٩٣)، وأبو داود (٢٩٧)، وابن ماجه (٦٢٥)، والطحاوي ١/ ١٠٢، والبيهقي ١/ ١١٦ من طرق عن شريك، بهذا الإسناد. ويشهد له حديث عائشة السالف.
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ قَدْ تَفَرَّدَ بِهِ شَرِيكٌ عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقُلْتُ عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ جَدُّ عَدِيٍّ مَا اسْمُهُ فَلَمْ يَعْرِفْ مُحَمَّدٌ اسْمَهُ وَذَكَرْتُ لِمُحَمَّدٍ قَوْلَ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ أَنَّ اسْمَهُ دِينَارٌ فَلَمْ يَعْبَأْ بِهِ . وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ إِنِ اغْتَسَلَتْ لِكُلِّ صَلاَةٍ هُوَ أَحْوَطُ لَهَا وَإِنْ تَوَضَّأَتْ لِكُلِّ صَلاَةٍ أَجْزَأَهَا وَإِنْ جَمَعَتْ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ بِغُسْلٍ وَاحِدٍ أَجْزَأَهَا .
'আলী ইবনু হুজ্র হতে বর্ণিত, 'আলী ইবনু হুজ্র হতেও শুরাইক এর সূত্রে উপরের হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসের রাবী শারীক একাই আবূ ইয়াকযানের নিকট হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আমি ইমাম বুখারীকে এই হাদীস সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি `আদীর দাদার নাম বলতে পারেননি। আমি তাঁর নিকট ইয়াহ্ইয়া ইবনু মু'ঈনের কথা উল্লেখ করলাম যে, তিনি 'আদীর দাদার নাম দীনার বলেছেন। কিন্ত বুখারী তা নির্ভরযোগ্য মনে করলেন না। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক বলেন, যদি ইস্তিহাযার রোগিণী প্রত্যেক নামাযের সময় গোসল করে তাহলে এটা উত্তম। আর যদি শুধু ওযূ করে নেয় তবে তাও জায়িয। সে যদি এক গোসলে দুই ওয়াক্ত নামায আদায় করে তবে তাও যথেষ্ট (অর্থাৎ এক গোসলে যুহর-আসর, দ্বিতীয় গোসলে মাগরিব-ইশা এবং তৃতীয় গোসলে ফযরের নামায আদায় করা) ।
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف، ابو داود (257) ابن ماجہ (625)، أبو الیقظان ضعیف مدلس، وللحدیث شواھد ضعیفۃ ، (انوار الصحیفہ ص 193)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح لغيره كسابقه، وانظر تخريجه فيه.
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ عَمِّهِ، عِمْرَانَ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أُمِّهِ، حَمْنَةَ بِنْتِ جَحْشٍ قَالَتْ كُنْتُ أُسْتَحَاضُ حَيْضَةً كَثِيرَةً شَدِيدَةً فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَسْتَفْتِيهِ وَأُخْبِرُهُ فَوَجَدْتُهُ فِي بَيْتِ أُخْتِي زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُسْتَحَاضُ حَيْضَةً كَثِيرَةً شَدِيدَةً فَمَا تَأْمُرُنِي فِيهَا قَدْ مَنَعَتْنِي الصِّيَامَ وَالصَّلاَةَ قَالَ " أَنْعَتُ لَكِ الْكُرْسُفَ فَإِنَّهُ يُذْهِبُ الدَّمَ " . قَالَتْ هُوَ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ قَالَ " فَتَلَجَّمِي " . قَالَتْ هُوَ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ قَالَ " فَاتَّخِذِي ثَوْبًا " . قَالَتْ هُوَ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ إِنَّمَا أَثُجُّ ثَجًّا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " سَآمُرُكِ بِأَمْرَيْنِ أَيَّهُمَا صَنَعْتِ أَجْزَأَ عَنْكِ فَإِنْ قَوِيتِ عَلَيْهِمَا فَأَنْتِ أَعْلَمُ " . فَقَالَ " إِنَّمَا هِيَ رَكْضَةٌ مِنَ الشَّيْطَانِ فَتَحَيَّضِي سِتَّةَ أَيَّامٍ أَوْ سَبْعَةَ أَيَّامٍ فِي عِلْمِ اللَّهِ ثُمَّ اغْتَسِلِي فَإِذَا رَأَيْتِ أَنَّكِ قَدْ طَهُرْتِ وَاسْتَنْقَأْتِ فَصَلِّي أَرْبَعًا وَعِشْرِينَ لَيْلَةً أَوْ ثَلاَثًا وَعِشْرِينَ لَيْلَةً وَأَيَّامَهَا وَصُومِي وَصَلِّي فَإِنَّ ذَلِكِ يُجْزِئُكِ وَكَذَلِكِ فَافْعَلِي كَمَا تَحِيضُ النِّسَاءُ وَكَمَا يَطْهُرْنَ لِمِيقَاتِ حَيْضِهِنَّ وَطُهْرِهِنَّ فَإِنْ قَوِيتِ عَلَى أَنْ تُؤَخِّرِي الظُّهْرَ وَتُعَجِّلِي الْعَصْرَ ثُمَّ تَغْتَسِلِينَ حِينَ تَطْهُرِينَ وَتُصَلِّينَ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا ثُمَّ تُؤَخِّرِينَ الْمَغْرِبَ وَتُعَجِّلِينَ الْعِشَاءَ ثُمَّ تَغْتَسِلِينَ وَتَجْمَعِينَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ فَافْعَلِي وَتَغْتَسِلِينَ مَعَ الصُّبْحِ وَتُصَلِّينَ وَكَذَلِكِ فَافْعَلِي وَصُومِي إِنْ قَوِيتِ عَلَى ذَلِكِ " . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَهُوَ أَعْجَبُ الأَمْرَيْنِ إِلَىَّ " .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَاهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو الرَّقِّيُّ وَابْنُ جُرَيْجٍ وَشَرِيكٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ عَمِّهِ عِمْرَانَ عَنْ أُمِّهِ حَمْنَةَ إِلاَّ أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ يَقُولُ عُمَرُ بْنُ طَلْحَةَ وَالصَّحِيحُ عِمْرَانُ بْنُ طَلْحَةَ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ هُوَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهَكَذَا قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ هُوَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ إِذَا كَانَتْ تَعْرِفُ حَيْضَهَا بِإِقْبَالِ الدَّمِ وَإِدْبَارِهِ وَإِقْبَالُهُ أَنْ يَكُونَ أَسْوَدَ . وَإِدْبَارُهُ أَنْ يَتَغَيَّرَ إِلَى الصُّفْرَةِ فَالْحُكْمُ لَهَا عَلَى حَدِيثِ فَاطِمَةَ بِنْتِ أَبِي حُبَيْشٍ وَإِنْ كَانَتِ الْمُسْتَحَاضَةُ لَهَا أَيَّامٌ مَعْرُوفَةٌ قَبْلَ أَنْ تُسْتَحَاضَ فَإِنَّهَا تَدَعُ الصَّلاَةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ وَتُصَلِّي وَإِذَا اسْتَمَرَّ بِهَا الدَّمُ وَلَمْ يَكُنْ لَهَا أَيَّامٌ مَعْرُوفَةٌ وَلَمْ تَعْرِفِ الْحَيْضَ بِإِقْبَالِ الدَّمِ وَإِدْبَارِهِ فَالْحُكْمُ لَهَا عَلَى حَدِيثِ حَمْنَةَ بِنْتِ جَحْشٍ . وَكَذَلِكَ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ الْمُسْتَحَاضَةُ إِذَا اسْتَمَرَّ بِهَا الدَّمُ فِي أَوَّلِ مَا رَأَتْ فَدَامَتْ عَلَى ذَلِكَ فَإِنَّهَا تَدَعُ الصَّلاَةَ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا فَإِذَا طَهُرَتْ فِي خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا أَوْ قَبْلَ ذَلِكَ فَإِنَّهَا أَيَّامُ حَيْضٍ فَإِذَا رَأَتِ الدَّمَ أَكْثَرَ مِنْ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا فَإِنَّهَا تَقْضِي صَلاَةَ أَرْبَعَةَ عَشَرَ يَوْمًا ثُمَّ تَدَعُ الصَّلاَةَ بَعْدَ ذَلِكَ أَقَلَّ مَا تَحِيضُ النِّسَاءُ وَهُوَ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي أَقَلِّ الْحَيْضِ وَأَكْثَرِهِ فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَقَلُّ الْحَيْضِ ثَلاَثَةٌ وَأَكْثَرُهُ عَشَرَةٌ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ وَبِهِ يَأْخُذُ ابْنُ الْمُبَارَكِ وَرُوِيَ عَنْهُ خِلاَفُ هَذَا . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمْ عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ أَقَلُّ الْحَيْضِ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ وَأَكْثَرُهُ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالأَوْزَاعِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَأَبِي عُبَيْدٍ .
হামনা বিনতু জাহ্শ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি গুরুতরভাবে ও অত্যধিক পরিমাণে ইস্তিহাযাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিধান জিজ্ঞেস করতে এবং ব্যাপারটা তাঁকে জানাতে আসলাম। আমি আমার বোন যাইনাব বিনতি জাহ্শের ঘরে তাঁর দেখা পেলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি গুরুতররূপে ও অত্যধিক পরিমানে ইস্তিহাযাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। এ ব্যাপারে আপনি আমাকে কি হুকুম করেন? এটা আমাকে রোযা-নামাযে বাধা দিচ্ছে। তিনি বললেনঃ আমি তোমাকে তুলা ব্যবহারের উপদেশ দিচ্ছি; এটা রক্ত শোষণ করবে। তিনি (হামনা) বলেন, এটা তার চেয়েও বেশি। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি (নির্দিষ্ট স্থানে কাপড়ের) লাগাম বেঁধে নাও। তিনি (হামনা) বললেন, এটা তার চেয়েও বেশি। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি কাপড়ের পট্টি বেঁধে নাও। তিনি বললেন, এটা আরো অধিক গুরুতর, আমি পানি প্রবাহের মত রক্তক্ষরণ করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাকে দু'টো নির্দেশ দিচ্ছি, এর মধ্যে যেটাই তুমি অনুসরণ করবে তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। আর যদি তুমি উভয়টিই করতে পার তাহলে তুমিই ভাল জান ( কোনটি অনুসরণ করবে )। অতঃপর তিনি তাকে বললেনঃ এটা শাইতানের একটা আঘাত ছাড়া আর কিছু নয় (অতএব চিন্তার কিছু নেই)।
এক. তুমি হায়িযের সময়সীমা ছয় দিন অথবা সাত দিন ধরে নিবে। প্রকৃত ব্যাপার আল্লাহ তা'আলার জ্ঞানে রয়েছে। অতঃপর তুমি গোসল করবে। তুমি যখন মনে করবে যে, তুমি পবিত্র হয়ে গেছ তখন (মাসের অবশিষ্ট ) চব্বিশ দিন অথবা তেইশ দিন নামায আদায় করবে এবং রোযা রাখবে। এটা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। তুমি প্রতি মাসে এরূপ করবে, যেভাবে অন্য মেয়েরা তাদের হায়িযের সময়ে এবং তোহরের (পবিত্রতার) সময়ে নিজেদের হায়িযের সময়সীমা ও তুহরের সময়সীমা গণনা করে থাকে।
দুই. যদি তুমি যুহরের নামায পিছিয়ে আনতে এবং আসরের নামায এগিয়ে আনতে পার তাহলে পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল করে যুহর ও আসর উভয় নামায একত্রে আদায় করে নাও। এভাবে মাগরিবের নামায পিছিয়ে আনতে এবং ইশার নামায এগিয়ে আনতে পার এবং গোসল করে উভয় নামায এক সাথে আদায় করতে পারলে তাই করবে। তুমি যদি ফযরের নামাযের জন্যও গোসল করতে পার তাহলে তাই করবে এবং রোযাও রাখবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দু'টি বিকল্প নির্দেশের মধ্যে শেষেরটিই আমার নিকট বেশি পছন্দনীয়।
হাসান। ইবনু মাজাহ- (৬২৭)।
আবূ 'ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ । হাদীসটি 'আমর ইবনু রাক্কী, ইবনু জুরাইজ এবং শারীক আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু 'আক্কীল হতে তিনি ইবরহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু তালহা হতে তিনি তার চাচা ইমরান হতে, তিনি তার মা হামনাহ হতে বর্ণনা করেছেন । ইবনু জুরাইজ তার বর্ণনায় 'উমার ইবনু তালহা বলেছেন । সঠিক হলো, 'ইমরান ইবনু তালহা । আমি মুহাম্মাদকে (বুখারীকে) এ হাদীস সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটি হাসান সহীহ্ হাদীস । অনুরুপভাবে আহমাদ ইবনু হাম্বালও বলেছেন, এটা হাসান সহীহ হাদীস ।
ইমাম আহমাদ ও ইসহাক বলেন, যদি ইস্তিহাযার রোগিণী হায়িযের শুরু এবং শেষ বুঝতে পারে, তবে রক্তস্রাব যখন আরম্ভ হয় তখন তার রং হয় কালো এবং শেষের দিকে তা হলুদ বর্ণ ধারন করে । এ ধরনের মহিলাদের জন্য ফাতিমা বিনতু আবূ হুবাইশ হতে বর্ণিত হাদীসের নির্দেশ প্রযোজ্য ।
পূর্বে নিয়মিত ঋতুস্রাব হয়েছে এবং পরে ইস্তিহাযার রোগ দেখা দিয়েছে এরূপ মহিলার কর্তব্য হচ্ছে, হায়িযের নির্দিষ্ট দিন কয়টির নামায ছেড়ে দেবে; অতঃপর গোসল করবে এবং প্রত্যেক নামাযের জন্য পৃথকভাবে ওযূ করে নামায আদায় করবে । কোন মহিলার যদি রক্তস্রাব হতেই থাকে এবং পূর্ব হতে কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা বা অভ্যাসও না থাকে যে, কত দিন হায়িয হয়; এরূপ মহিলার ক্ষেত্রে হামনা বিনতু জাহ্শ হতে বর্ণনাকৃত হাদীসের হুকুম প্রযোজ্য । আবূ 'উবাইদও এরূপ বলেন । ইমাম শাফিঈ বলেন, ইস্তিহাযার রোগিণীর যদি প্রথম হায়িয হয়ে থাকে এবং তা পনের দিন অথবা তার কম সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়, তবে তার এ দিনগুলো হায়িযের মধ্যে গণ্য হবে ।
এ কয়দিন সে নামায আদায় করবে না । পনের দিনের পরও যদি রক্তস্রাব চলতে থাকে তবে (উক্ত পনের দিনের মধ্যে) চৌদ্দ দিনের নামায কাযা হিসেবে আদায় করবে এবং এক দিনের নামায ছেড়ে দিবে । কেননা (ইমাম শাফিঈর মতে) হায়িযের নিম্নতম মুদ্দাত এক দিন ।
আবূ 'ঈসা বলেন,হায়িযের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মুদ্দাত নিয়ে ইমামদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞ বলেছেন, হায়িযের সর্বনিম্ন সীমা তিন দিন এবং সর্বোচ্চ সীমা দশদিন । সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসীগণ (ইমাম আবূ হানীফা ও তাঁর আনুসারীগণ) একথা বলেছেন । ইবনুল মুবারাক এ মতটিই গ্রহণ করেছেন । অপর একদল বিদ্বান, যাদের মধ্যে আতা ইবনু আবূ রাবাহ্ও রয়েছেন, বলেছেন, হায়িযের নিম্নতম মুদ্দাত এক দিন এক রাত এবং সর্বোচ্চ মুদ্দাত পনের দিন (ও রাত) । ইমাম আওযাঈ, মালিক, শাফিঈ, আহমাদ, ইসহাক ও আবূ 'উবাইদ এ অভিমত দিয়েছেন ।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف، ابو داود (287) ابن ماجہ (622،627)، ابن عقیل ضعیف، (انوار الصحیفہ ص 193)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف، عبد الله بن محمد بن عقيل، ضعيف يعتبر به في المتابعات، ولم يتابع عليه. وأخرجه أبو داود (٢٨٧)، وابن ماجه (٦٢٢) و (٦٢٧). وهو في "المسند" (٢٧١٤٤) و (٢٧٤٧٤)، و"شرح مشكل الآثار" (٢٧١٧). "الكُرسف": هو القطن، كأنه ينعته لها لتحتشي به، فيمنع نزول الدم، ثم يقطعه. "فتلجَّمي": قال القاضي أبو بكر بن العربي: كلمة غريبة لم يقع لي تفسيرها في كتاب، وإنما أخذتها استقراءً، قال الخليل: اللجام معروف. أخذناه من هذا، كأن معناه: افعلي فعلًا يمنع سيلانه واسترساله، كما يمنع اللجام استرسال الدابة. وقال ابن الأثير في "النهاية": أي: اجعلي موضع خروج الدم عصابة تمنع الدم تشبيهًا بوضع اللجام في فم الدابة. وقولها: "أثجُّ ثجًّا" الثجُّ: صب الدم وسيلانه بشدة. وقوله: "إنما هي ركضة من الشيطان" قال ابن الأثير في "النهاية" ٢/ ٢٥٩: أصل الرَّكْض: الضرب بالرجل والإصابة بها، كما تُركض الدابة وتصاب بالرّجل، أراد الإضرار بها والأذى، والمعنى: أن الشيطان قد وَجد بذلك طريقًا إلى التلبيس عليها في أمر دينها وطُهرها وصلاتها حتى أنساها ذلك عادتَها. وقوله: "فتحيَّضي" قال في "النهاية": تحيضت المرأة إذا قعدت أيام حيضها تنتظر انقطاعه، أراد: عُدِّي نفسك حائضًا، وافعلي ما تفعل الحائض، وإنما خصَّ الست والسبع؛ لأنهما الغالب على أيام الحيض. وقوله: "واستنقأت" قال العلامة القاري في "المرقاة" ١/ ٣٨٢: قال في "المغرب": الاستنقاء مبالغة في تنقية البدن قياس، ومنه قوله: إذا رأيت أنك طهرت واستنقيت، والهمزة فيه خطأ انتهى قال: وهو في النسخ كلها (يعني نسخ المشكاة) بالهمز مضبوط، فيكون جرأة عظيمة من صاحب "المغرب" بالنسبة إلى العدول الضابطين الحافظين مع إمكان حمله على الشذوذ، إذ الياء من حروف الإبدال، وقد جاء "شئمة" مهموز بدل من "شيمة" شاذًا على ما في "الشافية". قال الشيخ أحمد شاكر: والذي قاله العلامة ملا علي القاري في "شرح المشكاة" جيد وصواب إلا في حمل الحرف على الشذوذ، فإنه ليس شاذًا، بل هو استعمال جائز ومسموع إذ إن همز ما ليس بمهموز كثير في كلام العرب …
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتِ اسْتَفْتَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ ابْنَةُ جَحْشٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنِّي أُسْتَحَاضُ فَلاَ أَطْهُرُ أَفَأَدَعُ الصَّلاَةَ فَقَالَ " لاَ إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ فَاغْتَسِلِي ثُمَّ صَلِّي " . فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلاَةٍ . قَالَ قُتَيْبَةُ قَالَ اللَّيْثُ لَمْ يَذْكُرِ ابْنُ شِهَابٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ أُمَّ حَبِيبَةَ أَنْ تَغْتَسِلَ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ وَلَكِنَّهُ شَيْءٌ فَعَلَتْهُ هِيَ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَيُرْوَى هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتِ اسْتَفْتَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَقَدْ قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْمُسْتَحَاضَةُ تَغْتَسِلُ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ . وَرَوَى الأَوْزَاعِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ وَعَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ .
'আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহ্শ কন্যা উম্মু হাবীবা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফাতোয়া জানতে চাইলেন। তিনি বললেন, আমি সর্বদা ইস্তিহাযার রোগে আক্রান্ত থাকি এবং কখনও পবিত্র হই না। আমি কি নামায ছেড়ে দেব? তিনি বললেনঃ "না, এটা একটি শিরার রক্ত; তুমি গোসল করে নামায আদায় করবে। " অতঃপর তিনি (উম্মু হাবীবা) প্রত্যেক নামাযের জন্য গোসল করতেন।
সহীহ্। ইবনু মাজাহ- (৬২৬), বুখারী ও মুসলিম।
কুতাইবা বলেন, লাইস বলেছেন, ইবনু শিহাব (তাঁর বর্ণনায়) একথা উল্লেখ করেননি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু হাবীবাকে প্রত্যেক নামাযের সময় গোসল করার নির্দেশ দিয়েছেন । বরং তিনি স্বেচ্ছায় একাজ করতেন (নিজের ইজতিহাদের ভিত্তিতে) ।
আবূ 'ঈসা বলেন, যুহরীও 'আমরার সূত্রে, তিনি 'আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সূত্রে এ হদীসটি বর্ণনা করেছেন। কোন কোন মনীষীর মতে ইস্তিহাযার রোগিণীকে প্রত্যেক নামাযের জন্য গোসল করতে হবে। ‘আওযায়ী ও যুহরী হতে পূর্বোক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح مسلم
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه البخاري (٣٢٧)، ومسلم (٣٣٤)، وأبو داود (٢٧٩) و (٢٨٥) و (٢٨٨) و (٢٩٠ - ٢٩٢)، وابن ماجه (٦٢٦)، والنسائي ١/ ١١٧ - ١٢١ و ١٨٣. وهو في "المسند" (٢٤٥٢٣)، و"صحيح ابن حبان" (١٣٥٣). قال الإمام الشافعي في "الأم" ١/ ٥٣ - ٥٤: إنما أمرها رسولُ الله ﷺ أن تغتسل وتصلي، وليس فيه أنه أمرها أن تغتسل لكل صلاة .. ولا أشك - إن شاء الله تعالى - أن غسلها كان تطوعًا غير ما أمرت به، وذلك واسع لها.
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ مُعَاذَةَ، أَنَّ امْرَأَةً، سَأَلَتْ عَائِشَةَ قَالَتْ أَتَقْضِي إِحْدَانَا صَلاَتَهَا أَيَّامَ مَحِيضِهَا فَقَالَتْ أَحَرُورِيَّةٌ أَنْتِ قَدْ كَانَتْ إِحْدَانَا تَحِيضُ فَلاَ تُؤْمَرُ بِقَضَاءٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَائِشَةَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ أَنَّ الْحَائِضَ لاَ تَقْضِي الصَّلاَةَ . وَهُوَ قَوْلُ عَامَّةِ الْفُقَهَاءِ لاَ اخْتِلاَفَ بَيْنَهُمْ فِي أَنَّ الْحَائِضَ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلاَ تَقْضِي الصَّلاَةَ .
মুআযাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, এক মহিলা 'আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট প্রশ্ন করল, আমাদের কেউ তার হায়িয চলাকালীন সময়ের নামায কি পরে আদায় করবে? তিনি (‘আয়িশাহ্) বললেন, তুমি কি হারূরা এলাকার বাসিন্দা (খারিজী)? আমাদের কাউকে মাসিক ঋতু চলাকালীন ছুটে যাওয়া নামায পরবর্তীতে কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হত না।
সহীহ্। ইবনু মাজাহ- (৬৩১), বুখারী ও মুসলিম।
আবূ 'ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ । 'আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, ঋতুবতী নারীকে তার ছুটে যাওয়া নামায পরবর্তী সময়ে কাযা করতে হবে না । সমস্ত ফিক্হবিদ এ ব্যাপারে একমত । হায়িযগ্রস্তা মহিলাকে তার ছুটে যাওয়া নামায কাযা করতে হবে না, কিন্তু রোযার কাযা করতে হবে, এ ব্যাপারেও ফিক্হবিদদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই ।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه البخاري (٣٢١)، ومسلم (٣٣٥)، وأبو داود (٢٦٢) و (٢٦٣)، وابن ماجه (٦٣١)، والنسائي ١/ ١٩١ - ١٩٢ و ٤/ ١٩١. وهو في "المسند" (٢٤٠٣٦)، و"صحيح ابن حبان" (١٣٤٩).
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقْرَإِ الْحَائِضُ وَلاَ الْجُنُبُ شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَقْرَإِ الْجُنُبُ وَلاَ الْحَائِضُ " . وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِثْلِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا لاَ تَقْرَأُ الْحَائِضُ وَلاَ الْجُنُبُ مِنَ الْقُرْآنِ شَيْئًا إِلاَّ طَرَفَ الآيَةِ وَالْحَرْفَ وَنَحْوَ ذَلِكَ وَرَخَّصُوا لِلْجُنُبِ وَالْحَائِضِ فِي التَّسْبِيحِ وَالتَّهْلِيلِ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ إِنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ عَيَّاشٍ يَرْوِي عَنْ أَهْلِ الْحِجَازِ وَأَهْلِ الْعِرَاقِ أَحَادِيثَ مَنَاكِيرَ . كَأَنَّهُ ضَعَّفَ رِوَايَتَهُ عَنْهُمْ فِيمَا يَنْفَرِدُ بِهِ . وَقَالَ إِنَّمَا حَدِيثُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ أَهْلِ الشَّأْمِ . وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ أَصْلَحُ مِنْ بَقِيَّةَ وَلِبَقِيَّةَ أَحَادِيثُ مَنَاكِيرُ عَنِ الثِّقَاتِ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ قَالَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ ذَلِكَ .
ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ঋতুবর্তী নারী ও নাপাক ব্যক্তি (যার উপর গোসল ফরয) কুরআনের কোন অংশ তিলাওয়াত করবে না।
মুনকার, ইবনু মাজাহ (৫৯৫)।
এ অনুচ্ছেদে ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনাকৃত হাদীস ও আছে।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি ইসমা’ঈল ইবনু ‘আইয়াশ একটি মাত্র সনদে সূত্রেই বর্ণনা করেছেন যে, নাপাক ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্তা নারী কুরআন তিলাওয়াত করবে না। এ সূত্র ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে আমরা উপরোক্ত হাদীস জানতে পারিনি। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাবিঈ এটাই বলেছেন। তাদের পরবর্তীগণ যেমন, সুফইয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক বলেনঃ নাপাক ও হায়িয অবস্থায় কুরআনের কোন অংশ তিলাওয়াত করবে না; কিন্তু কোন আয়াতের অংশবিশেষ অথবা শব্দ ইত্যাদি পাঠ করতে পারবে। তাঁরা নাপাক ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্তা নারীকে তাসবীহ-তাহলীল (সুবহানাল্লাহ, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ ইত্যাদি) পড়ার অনুমতি দিয়েছেন।
ইমাম তিরমিযী বলেনঃ আমি মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল (বুখারী)-কে বলতে শুনেছি, এ হাদীসের এক রাবী ইসমাঈল ইবনু ‘আইয়াশ, হিজায ও ইরাকবাসীদের হতে অস্বীকৃত (মুনকার) হাদীসগুলো বর্ণনা করে থাকে। ইমাম বুখারী তাদের সূত্রে বর্ণিত তার এ ধরনের একক বর্ণনাগুলোকে য‘ঈফ বলতে চান। তিনি আরো বলেছেন, সিরীয়াবাসীদের নিকট হতে বর্ণিত ইসমা‘ঈল ইবনু ‘আইয়াশের হাদীসগুলো শক্তিশালী। আহমাদ ইবনু হাম্বাল বলেছেনঃ ইসমা‘ঈল ইবনু ‘আইয়াশ বাকিয়ার তুলনায় অনেক ভাল। কেননা বাকিয়া সিকাহ রাবীদের বরাতে মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আহমাদ ইবনু হাসান আমাকে এ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, আমি আহমাদ ইবনু হাম্বালকে এ কথা বলতে শুনেছি।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: منكر
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف، ابن ماجہ (595)، موسی بن عقبۃ: مدني حجازي،وروایۃ، إسماعیل بن عیاش عن الحجازیین ضعیفۃ کما نقل المؤلف عن البخاري رحمہ اللہ، قال معاذ: وقال احمد بن حنبل: ’’هذا، باطل أنكره على إسماعيل بن عياش يعني أنه وهم من إسماعيل بن عياش‘‘ (العلل، ومعرفۃ الرجال لعبداللہ بن احمد بن حنبل: 5675)، (انوار الصحیفہ ص 193)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حسن لغيره، وهذا إسناد ضعيف، إسماعيل بن عياش صدوق في روايته عن أهل بلده، مخلِّطٌ في غيرها، وهذا الحديث من روايته عن غير أهل بلده، فهو حمصي وموسى بن عقبة مدني. وأخرجه الدارقطني ١/ ١١٧، والبيهقي ١/ ٨٩ و ٣٠٩ من طرق عن الحسن بن عَرَفة، بهذا الإسناد. وقال البيهقي: ليس هذا بالقويِّ. وأخرجه ابن ماجه في "السنن" (٥٩٥)، وأبو الحسن القطان (راوي سنن ابن ماجه) في زوائده على "السنن" (٥٩٦)، والطحاوي ١/ ٨٨، والدارقطني ١/ ١١٧ من طرق عن إسماعيل بن عياش، به. وأخرجه الدارقطني ١/ ١١٨ من طريق محمد بن إسماعيل الحسَّاني، عن رجل، عن أبي معشر، عن موسى بن عقبة، به. وهذا سند ضعيف، وضعفه الحافظ في "التلخيص" ١/ ١٣٨. وأخرجه الدارقطني ١/ ١١٧ من طريق عبد الملك بن مسلمة، عن مغيرة بن عبد الرحمن، عن موسى بن عقبة، به. وهذا سند ضعيف أيضًا، عبد الملك بن مسلمة نقل الحافظ في "لسان الميزان" ٤/ ٦٨ عن ابن يونس أنه قال فيه: منكر الحديث. وقال ابن حبان في "المجروحين" ٢/ ١٣٤: شيخ يروي عن أهل المدينة المناكير الكثيرة التي لا تخفى على مَن عُني بعلم السنن. وقال ابن أبي حاتم في "الجرح والتعديل" ٥/ ٣٧١ عن أبيه: هو مضطرب الحديث ليس بالقوي، وقال أبو زرعة: ليس بالقوي منكر الحديث. ونقل ابن أبي حاتم في "العلل" ١/ ٤٩ عن أبيه، قال: هذا خطأ، إنما هو عن ابن عمر قوله. وفي الباب عن علي، وسنده حسن، وسيرد عند المؤلف برقم (١٤٦). وعن عبد الله بن رواحة أخرجه يعقوب بن سفيان في "تاريخه" ١/ ٢٥٩ عن أبي نعيم، والدارقطني ١/ ١٢٠ من طريق إسماعيل بن عياش، كلاهما عن زمعة بن صالح، عن سلمة بن وهرام، عن عكرمة، قال: قال عبد الله بن رواحة: نهانا رسول الله ﷺ أن يقرأ أحد منا القرآن وهو جنب. زمعة بن صالح ضعيف، وعكرمة عن ابن رواحة منقطع. وعن عبد الله بن مالك الغافقي، ويقال: مالك بن عبادة، أخرجه الطحاوي في "شرح معاني الآثار" ١/ ٨٨ من طريق عمرو بن خالد وابن بكير، والدارقطني ١/ ١١٩ من طريق أبي الأسود وسعيد بن عفير، والبيهقي ١/ ٨٩ من طريق ابن وهب، خمستهم عن عبد الله بن لهيعة، عن عبد الله بن سليمان، عن ثعلبة بن أبي الكنود، عن عبد الله الغافقي، أنه سمع رسول الله ﷺ يقول لعمر بن الخطاب: "إذا توضأتُ وأنا جنب، أكلتُ وشربتُ، ولا أُصلي ولا أقرأ حتى أغتسلَ". وهذا سند حسن في الشواهد، فإن رواية ابن وهب عن ابن لهيعة قوية، وعبد الله بن سليمان هو البكري، روى عنه اثنان، وأورده ابن أبي حاتم ٥/ ٧٥، ولم يذكر فيه جرحًا ولا تعديلًا، وثعلبة بن أبي الكود روى عنه ثلاثة، وذكره ابن حبان في "الثقات" ٤/ ٩٩. وأخرج ابن أبي شيبة ١/ ١٠٢، وعبد الرزاق (١٣٠٧) من طرق عن الأعمش، عن أبي وائل شقيق بن سلمة، عن عَبِيدة السلماني، عن عمر قال: لا يقرأ الجنب القرآن. ولفظ عبد الرزاق: كان عمر بن الخطاب يكره أن يقرأ القرآن وهو جنب. وإسناده صحيح على شرطهما. وأخرج ابن أبي شيبة ١/ ١٠٢، وعبد الرزاق (١٣٠٦)، والدارقطني ١/ ١١٨، والبيهقي ١/ ٨٩ من طرق عن عامر بن السِّمْط، حدثنا أبو الغريف الهمداني، قال: كنا مع علي في الرحبة، فخرج إلى أقصى الرحبة، فوالله ما أدري أَبَوْلًا أحدث أو غائطًا، ثم جاء فدعا بكوزٍ من ماء فغسل كفيه، ثم قبضهما إليه، ثم قرأ صدرًا من القرآن، ثم قال: اقرؤوا القرآن ما لم يُصب أحدَكم جنابةٌ، فإن أصابته جنابة، فلا ولا حرفًا واحدًا. لفظ الدارقطني، وعامر بن السمط ثقة، وثقه يحيى بن سعيد والنسائي وابن حبان، وأبو الغريف - واسمه عبيد الله بن خليفة الهمداني - روى عنه جمع، وذكره ابن حبان في "الثقات" ٥/ ٦٨ - ٦٩ وكان على شرطة علي، وقال الدارقطني بعد أن أخرجه: هو صحيح عن علي. وأخرج ابن أبي شيبة ١/ ١٠٢ عن غندر، عن شعبة، عن حماد، عن إبراهيم: أن ابن مسعود كان يمشي نحو الفرات وهو يقرئ رجلًا، فبال ابن مسعود، فكفَّ الرجل عنه، فقال ابن مسعود: ما لك؟ قال: إنك بلتَ. فقال ابن مسعود: إني لست بجنبٍ. رجاله ثقات رجال الصحيح إلا أن رواية إبراهيم - وهو ابن يزيد النخعي - عن ابن مسعود مرسلة، ولكن قبل العلماء مراسيله عن ابن مسعود، لأنه قال: إنه كان إذا أرسل، فقد حدثه به غير واحد عنه. انظر "شرح علل الترمذي" للحافظ ابن رجب ١/ ٢٩٤. وأخرج ابن المنذر في "الأوسط" ٢/ ٩٧ عن ابن عبد الحكم، عن عبد الله بن وهب، عن ابن لهيعة، عن أبي الزبير أنه سأل جابرًا عن المرأة الحائض والنفساء هل تقرأ شيئًا من القرآن؟ فقال جابر: لا. وهذا سند حسن، وابن لهيعة رواية العبادلة عنه ومنهم ابن وهب مقبولة عند أهل العلم. وأخرج ابن أبي شيبة ١/ ١٠٢ عن ابن مهدي، عن سفيان، عن إبراهيم بن المهاجر، عن إبراهيم، عن الأسود، قال: لا يقرأ الجنب. رجاله ثقات غير إبراهيم بن المهاجر، ففيه لين. وأخرج أيضًا عن ابن عيينة، عن ابن أبي نجيح، عن مجاهد، قال: لا يقرأ الجنب القرآن، وإسناده صحيح. وفيه، وفي سنن الدارمي (٩٩١) عن شريك، عن فراس، عن عامر، قال: الجنب والحائض لا يقرآن القرآن. وسنده حسن. وفيه عن غندر، عن شعبة، عن سيار، عن أبي وائل، قال: لا يقرأ الجنب والحائض القرآن. واسناده صحيح، وانظر الدارمي (٩٩٨). وأخرج عبد الرزاق (١٣٠٢) عن معمر، قال: سألت الزهري عن الحائض والجنب: أيذكران الله؟ قال: نعم. قلت: أفيقرآن القرآن؟ قال: لا. قال معمر: وكان الحسن وقتادة يقولان: لا يقرآن شيئًا من القرآن.
حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا حِضْتُ يَأْمُرُنِي أَنْ أَتَّزِرَ ثُمَّ يُبَاشِرُنِي . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ وَمَيْمُونَةَ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
'আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখন ঋতুবতী হতাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিতেনঃ 'তুমি শক্ত করে পাজামা বেঁধে নাও। অতঃপর তিনি আমাকে আলিঙ্গন করতেন।
সহীহ্। ইবনু মাজাহ- (২৬০), বুখারী ও মুসলিম।
এ অনুচ্ছেদে উম্মু সালামাহ্ ও মাইমূনাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনাকৃত হাদীসও রয়েছে । আবূ 'ঈসা বলেন, 'আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- এর হাদীসটি হাসান সহীহ । একাধিক বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাবিঈ এটাই বলেছেন (ঋতুবতীর সাথে একত্রে ঘুমানো যাবে) । ইমাম শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও এই মত দিয়েছেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه البخاري (٣٠٠) و (٣٠٢)، ومسلم (٢٩٣)، وأبو داود (٢٦٨) و (٢٧٣)، وابن ماجه (٦٣٥) و (٦٣٦)، والنسائي ١/ ١٥١ و ١٨٩. وهو في "المسند" (٢٤٠٤٦) و (٢٥٥٦٣)، و"صحيح ابن حبان" (١٣٦٤).
حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ حَرَامِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَمِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ مُوَاكَلَةِ الْحَائِضِ فَقَالَ " وَاكِلْهَا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأَنَسٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَهُوَ قَوْلُ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ لَمْ يَرَوْا بِمُوَاكَلَةِ الْحَائِضِ بَأْسًا . وَاخْتَلَفُوا فِي فَضْلِ وَضُوئِهَا فَرَخَّصَ فِي ذَلِكَ بَعْضُهُمْ وَكَرِهَ بَعْضُهُمْ فَضْلَ طَهُورِهَا .
আবদুল্লাহ ইবনু সা'দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হায়িযগ্রস্তা নারীর সাথে একত্রে পানাহার সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ তার সাথে খাও।
সহীহ্। ইবনু মাজাহ- (৬৫১)।
এ অনুচ্ছেদে 'আয়িশাহ্ এবং আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনাকৃত হাদীসও রয়েছে । আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব । জামহুর উলামাদের মতে, হায়িযগ্রস্তার সাথে একত্রে পানাহার কোন দোষ নেই । কিন্তু স্ত্রীলোকদের ওযূ করার পর অবশিষ্ট পানি ব্যবহার করা সম্পর্কে মতের অমিল আছে । কেউ কেউ এটা ব্যবহার করার পক্ষে অভিমত দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ মাকরূহ বলেছেন ।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه أبو داود (٢١٢)، وابن ماجه (٦٥١). وهو في "المسند" (١٩٠٠٨) و (٢٢٥٠٥).
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَتْ لِي عَائِشَةُ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَاوِلِينِي الْخُمْرَةَ مِنَ الْمَسْجِدِ " . قَالَتْ قُلْتُ إِنِّي حَائِضٌ . قَالَ " إِنَّ حَيْضَتَكِ لَيْسَتْ فِي يَدِكِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ نَعْلَمُ بَيْنَهُمُ اخْتِلاَفًا فِي ذَلِكَ بِأَنْ لاَ بَأْسَ أَنْ تَتَنَاوَلَ الْحَائِضُ شَيْئًا مِنَ الْمَسْجِدِ .
কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিলেনঃ "হাত বাড়িয়ে মাসজিদ হতে আমাকে মাদুরটি এনে দাও। " তিনি ('আয়িশাহ্) বলেন, আমি বললাম, আমি হায়িযগ্রস্তা। তিনি বললেনঃ তোমার হায়িয তো তোমার হাতে নয়।
সহীহ। ইবনু মাজাহ- (৬৩২), মুসলিম।
এ অনুচ্ছেদে ইবনু 'উমার ও আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)- এর হাদীসও রয়েছে । আবূ 'ঈসা বলেন, 'আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ । হায়িযগ্রস্তা নারী মাসজিদ হতে হাত বাড়িয়ে কোন কিছু তুলে আনতে পারে, এ ব্যাপারে আলিমদের মধ্যে কোন মতবিরোধ নেই ।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح مسلم
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه مسلم (٢٩٨)، وأبو داود (٢٦١)، وابن ماجه (٦٣٢)، والنسائي ١/ ١٤٦ و ١٩٢. وهو في "المسند" (٢٤١٨٤)، و"صحيح ابن حبان" (١٣٥٧). "الخُمْرة": هي السجادة يسجدُ عليها المصلي، يقال: سُميت خمرة، لأنها تُخمر وجه المصلي عن الأرض، أي: تستره. وقوله: "إن حَيضتك": بفتح الحاء المهملة، قال القاضي عياض في "مشارق الأنوار" ١/ ٢١٧: كذا ضبطه الرواة والفقهاء بفتح الحاء، وزعم أبو سليمان الخطابي أن صوابه بكسر الحاء كالقعدة والجلسة، يريد حالة الحيض أو الاسم، قال القاضي ﵀: والذي عندي أن الصواب ما عند الجماعة، لأن النبي ﷺ إنما نفى عن يدها الحيض الذى هو الدم والنجاسة التي يجب تجنبها واستقذارها، فأما حكم الحيض وحالتها التي تتصف بها المرأة، فلازم ليدها وجميعها، وإنما جاءت الفِعلة في هيئات الأفعال كالقعدة والجلسة، لا في الأحكام والأحوال.
حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، وَبَهْزُ بْنُ أَسَدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حَكِيمٍ الأَثْرَمِ، عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَتَى حَائِضًا أَوِ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا أَوْ كَاهِنًا فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم " .
قَالَ أَبُو عِيسَى لاَ نَعْرِفُ هَذَا الْحَدِيثَ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ حَكِيمٍ الأَثْرَمِ عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . وَإِنَّمَا مَعْنَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى التَّغْلِيظِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَتَى حَائِضًا فَلْيَتَصَدَّقْ بِدِينَارٍ " . فَلَوْ كَانَ إِتْيَانُ الْحَائِضِ كُفْرًا لَمْ يُؤْمَرْ فِيهِ بِالْكَفَّارَةِ . وَضَعَّفَ مُحَمَّدٌ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ قِبَلِ إِسْنَادِهِ . وَأَبُو تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيُّ اسْمُهُ طَرِيفُ بْنُ مُجَالِدٍ .
আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি ঋতুবতী নারীর সাথে সহবাস করে অথবা স্ত্রীর গুহ্যদ্বারে সহবাস করে অথবা গনক ঠাকুরের নিকটে যায়- সে মুহাম্মাদ সাল্লল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা (কুরআন) অবিশ্বাস করে।
সহীহ। ইবনু মাজাহ- (৬৩৯)।
আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে আবূ তামীমা, তাঁর হতে হাকীম আল-আসরাম - এই সূত্র ছাড়া অন্য কোন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই । (আবূ তামীমার বিশ্বস্ততা সম্পর্কে কোন কোন হাদীস বিশারদ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন- অনুবাদক) । মনীষীগণ এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, 'অবতীর্ণ করা জিনিসের প্রতি অবিশ্বাস করে'-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা তিরস্কার ও ধমকের সুরে বলেছেন। কেননা উল্লেখিত কাজ করলে কেউ কাফির হয়ে যায় না । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে এরূপ বর্ণনাও আছে, তিনি বলেনঃ "যে ব্যক্তি ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করে সে যেন একটি দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) সাদকা করে। ''
হায়িযগ্রস্তার সাথে সহবাস করা যদি কুফরীর পর্যায়ভুক্ত হত, তাহলে এর পরিবর্তে সাদকা করার নির্দেশ দেয়া হত না । ইমাম বুখারীও সনদের দৃষ্টিকোণ হতে হাদীসটি য'ঈফ বলেছেন । আবূ তামীমা আল-হুজাইমী'র নাম তারীফ ইবনু মুজালিদ ।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: حسن، مشکوۃ المصابیح (551)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح دون قوله: "حائضًا" وهذا إسناد حسن، حكيم الأثرم وثقه ابن المديني وأبو داود، وقال النسائي: لا بأس به، وباقي رجاله ثقات، وأخرجه أبو داود (٣٩٠٤)، وابن ماجه (٦٣٩)، والنسائي في "الكبرى" (٨٩٦٧). وهو في "المسند" (٩٢٩٠) و (٩٥٣٦). وأخرجه الحارث بن أبي أسامة في "مسنده"، ومن طريقه الحاكم ١/ ٨ بلفظ: "من أتى عرافًا، أو كاهنًا، فصدقه فيما يقول، فقد كفر بما أنزل على محمد" وإسناده صحيح، وقال الحافظ العراقي في "أماليه": حديث صحيح، ورواه عن الحاكم البيهقي في "سننه"، فقال الذهبي في "مختصره": إسناده قوي. وأخرج أحمد (٧٦٨٤)، وأبو داود (٢١٦٢)، وابن ماجه (١٩٢٣)، والنسائي في "الكبرى" (٨٩٦٦) من طريق سهيل بن أبي صالح، عن الحارث بن مخلد، عن أبي هريرة بلفظ: "ملعون من أتى امرأته في دُبرها" وإسناده حسن في الشواهد. ولقوله: "من أتى امرأة … فقد كفر بما أنزل على محمد" شاهد من حديث ابن عباس عند الترمذي (١١٦٥)، والنسائي في "الكبرى" (٨٩٥٢)، وصححه ابن حبان (٤٢٠٢). وآخر من حديث عبد الله بن عمرو بن العاص عند أحمد (٦٧٠٦)، والنسائي في "الكبرى" (٨٩٤٧) وإسناده حسن. ومن حديث خزيمة بن ثابت عند أحمد (٢١٨٥٨)، والنسائي في "الكبرى" (٨٩٣٣) ورجاله ثقات. ومن حديث جابر بن عبد الله عند الطبراني في "الأوسط" (٧٧١٨) وإسناده حسن. ولقوله: "من أتى كاهنًا، فقد كفر بما أنزل على محمد" شاهد من حديث جابر بن عبد الله عند البزار (٣٠٤٥ - كشف الأستار) عن عقبة بن سنان، حدثنا غسان بن مضر، حدثنا سعيد بن يزيد، عن أبي نضرة، عن جابر، عن النبي ﷺ، فذكره. وهذا إسناد صحيح، عقبة بن سنان ذكره ابن أبي حاتم في "الجرح والتعديل"، ونقل عن أبيه قوله: صدوق، ووثقه الحافظ ابن حجر في "مختصر زوائد البزار" (١١٧١)، وباقي السند رجاله ثقات. وآخر من حديث عمران بن حصين عند البزار (٣٠٤٤ - كشف الأستار)، وقال الهيثمي: ورجاله رجال الصحيح خلا أبي حمزة العطار - واسمه إسحاق بن الربيع - وهو ثقة، وقال فيه البزار نفسه بإثر الحديث: لا بأس به.
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ خُصَيْفٍ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الرَّجُلِ يَقَعُ عَلَى امْرَأَتِهِ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ " يَتَصَدَّقُ بِنِصْفِ دِينَارٍ " .
ইবনু 'আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে হায়িয চলাকালীন সময়ে সহবাস করে তার সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "সে অর্ধ দীনার সাদকা করবে"।
সহীহ্ - এই শব্দে "এক দীনার বা অর্ধ দীনার" - সহীহ্ আবূ দাউদ -(২৫৬), ইবনু মাজাহ-(৬৪০)। হাদীসে বর্ণিত অর্ধ দীনার এই শব্দে হাদীসটি য'ঈফ, য'ঈফ আবূ দাঊদ-(৪২)।
-
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف بهذا اللفظ والصحيح بلفظ دينارا ونصف دينار
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف، ابو داود (266)، (انوار الصحیفہ ص 193)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف، شريك - وهو ابن عبد الله القاضي -، وكذا خصيف - وهو ابن عبد الرحمن الجزري -، كلاهما سيء الحفظ، وأخرجه أبو داود (٢٦٤) و (٢٦٦) و (٢١٦٨)، وابن ماجه (٦٤٠)، والنسائي في "المجتبى" ١/ ١٥٣ و ١٨٨، وهو في "المسند" (٢٠٣٢) و (٢٤٥٨). وأخرجه عبد الرزاق (١٢٦١)، ومن طريقه النسائي في "الكبرى" (٩٠٥٠) عن معمر، عن خُصيف، بهذا الإسناد موقوفًا على ابن عباس.
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ السُّكَّرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا كَانَ دَمًا أَحْمَرَ فَدِينَارٌ وَإِذَا كَانَ دَمًا أَصْفَرَ فَنِصْفُ دِينَارٍ " .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ الْكَفَّارَةِ فِي إِتْيَانِ الْحَائِضِ قَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَوْقُوفًا وَمَرْفُوعًا . وَهُوَ قَوْلُ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ يَسْتَغْفِرُ رَبَّهُ وَلاَ كَفَّارَةَ عَلَيْهِ . وَقَدْ رُوِيَ نَحْوُ قَوْلِ ابْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ بَعْضِ التَّابِعِينَ مِنْهُمْ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ وَإِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ وَهُوَ قَوْلُ عَامَّةِ عُلَمَاءِ الأَمْصَارِ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যখন রক্ত লাল থাকে তখন (সহবাস করলে) এক দীনার, আর যখন রক্ত পীতবর্ণ ধারণ করে তখন অর্ধ দীনার।
য’ঈফ। এই বিশ্লেষণ সহীহ সনদে মাওকূফ, সহীহ আবূ দাঊদ-(২৫৮)।
আবূ ঈসা বলেন, ‘ঋতুবতীর সাথে সহবাস করার কাফফারা’ সম্পর্কিত হাদীস ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সূত্রে দুইভাবে অর্থাৎ ‘মাওকূফ এবং মারফূ’ হিসাবে বর্ণিত হয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞ কাফফারা আদায়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক এই মতের সমর্থক। ইবনুল মুবারাক বলেন, সহবাসকারীকে কোন কাফফারা দিতে হবে না, বরং সে আল্লাহ তা’আলার নিকটে তাওবা করবে। কিছু তাবিঈও তাঁর অনুরূপ মত দিয়েছেন। সা’ঈদ ইবনু জুবাইর ও ইবরাহীম নাখঈও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত। এটাই অধিকাংশ বিদ্বানগণের অভিমত।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف والصحيح عنه بهذا التفصيل موقوف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: ضعیف، ابن ماجہ (650)، عبد الکریم ھو أبو أمیۃ الضعیف، کما فی السنن الکبری للبیہقي (1/ 316،317) والنکت الظراف (5/ 248) وھو ضعیف، فالسند ضعیف وللحدیث شواھد ضعیفۃ، (انوار الصحیفہ ص 193)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: أخرجه النسائي في "الكبرى" (٩٠٦٦)، والصواب وقفه كسابقه. وهو في "المسند" (٣٤٧٣)، وانظر تمام الكلام عليه فيه.
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّ امْرَأَةً، سَأَلَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الثَّوْبِ يُصِيبُهُ الدَّمُ مِنَ الْحَيْضَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " حُتِّيهِ ثُمَّ اقْرُصِيهِ بِالْمَاءِ ثُمَّ رُشِّيهِ وَصَلِّي فِيهِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَسْمَاءَ فِي غَسْلِ الدَّمِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الدَّمِ يَكُونُ عَلَى الثَّوْبِ فَيُصَلِّي فِيهِ قَبْلَ أَنْ يَغْسِلَهُ قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ إِذَا كَانَ الدَّمُ مِقْدَارَ الدِّرْهَمِ فَلَمْ يَغْسِلْهُ وَصَلَّى فِيهِ أَعَادَ الصَّلاَةَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا كَانَ الدَّمُ أَكْثَرَ مِنْ قَدْرِ الدِّرْهَمِ أَعَادَ الصَّلاَةَ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ . وَلَمْ يُوجِبْ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ وَغَيْرِهِمْ عَلَيْهِ الإِعَادَةَ وَإِنْ كَانَ أَكْثَرَ مِنْ قَدْرِ الدِّرْهَمِ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ يَجِبُ عَلَيْهِ الْغَسْلُ وَإِنْ كَانَ أَقَلَّ مِنْ قَدْرِ الدِّرْهَمِ وَشَدَّدَ فِي ذَلِكَ .
আসমা বিনতু আবী বাকার সিদ্দীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, এক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হায়েইযের রক্ত লাগা কাপড়ের বিধান সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আঙ্গুল দিয়ে খুঁটে খুঁটে তা তুলে ফেল, অতঃপর পানি দিয়ে তা আঙ্গুলের মাধ্যমে মলে নাও, অতঃপর তাতে পানি গড়িয়ে দাও, অতঃপর তা পরে নামায আদায় কর।
সহীহ। ইবনু মাজাহ- (৬২৯), বুখারী ও মুসলিম।
এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা ও উম্মু ক্বাইস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, আসমা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এ হাদীসটি হাসান সহীহ। কাপড়ে হায়িযের রক্ত লেগে গেলে তা না ধুয়ে নামায আদায় করা যাবে কি না এ ব্যাপারে বিদ্বানদের মধ্যে মতের অমিল আছে। তাবিঈদের মধ্যে কিছু বিশেষজ্ঞ বলেছেন, যদি কাপড়ের রক্ত এক দিরহাম পরিমাণ হয় এবং তা না ধুয়েই ঐ কাপড় পরেই নামায আদায় করা হয় তাহলে নামায আবার আদায় করতে হবে। অপর দল বলেছে, রক্তের পরিমাণ এক দিরহামের বেশি হলেই আবার নামায আদায় করতে হবে। সুফিয়ান সাওরী ও ইবনুল মুবারাক একথা বলেছেন। কিছু সংখ্যক তাবেঈ এবং আহমাদ ও ইসহাকের মতে রক্তের পরিমাণ এক দিরহামের বেশি হলেও নতুন করে নামায আদায় করতে হবে না। ইমাম শাফিঈর মতে, কাপড়ে এক দিরহামের কম পমান রক্ত লাগলেও তা ধুয়ে নেয়া ওয়াজিব। তিনি এ ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه البخاري (٢٢٧) و (٣٠٧)، ومسلم (٢٩١)، وأبو داود (٣٦٠ - ٣٦٢)، وابن ماجه (٦٢٩)، والنسائي ١/ ١٥٥. وهو في "المسند" (٢٦٩٢٠)، و"صحيح ابن حبان" (١٣٩٦). والحتُّ: هو فَرْك الشيء اليابس عن الثوب ونحوه. والقَرْص: الدَّلك بأطراف الأصابع والأظفار، مع صب الماء عليه حتى يذهب أثره.
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا شُجَاعُ بْنُ الْوَلِيدِ أَبُو بَدْرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ أَبِي سَهْلٍ، عَنْ مُسَّةَ الأَزْدِيَّةِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كَانَتِ النُّفَسَاءُ تَجْلِسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعِينَ يَوْمًا فَكُنَّا نَطْلِي وُجُوهَنَا بِالْوَرْسِ مِنَ الْكَلَفِ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَهْلٍ عَنْ مُسَّةَ الأَزْدِيَّةِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ . وَاسْمُ أَبِي سَهْلٍ كَثِيرُ بْنُ زِيَادٍ . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى ثِقَةٌ وَأَبُو سَهْلٍ ثِقَةٌ . وَلَمْ يَعْرِفْ مُحَمَّدٌ هَذَا الْحَدِيثَ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَهْلٍ . وَقَدْ أَجْمَعَ أَهْلُ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ عَلَى أَنَّ النُّفَسَاءَ تَدَعُ الصَّلاَةَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا إِلاَّ أَنْ تَرَى الطُّهْرَ قَبْلَ ذَلِكَ فَإِنَّهَا تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي . فَإِذَا رَأَتِ الدَّمَ بَعْدَ الأَرْبَعِينَ فَإِنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا لاَ تَدَعُ الصَّلاَةَ بَعْدَ الأَرْبَعِينَ وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْفُقَهَاءِ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَيُرْوَى عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ أَنَّهُ قَالَ إِنَّهَا تَدَعُ الصَّلاَةَ خَمْسِينَ يَوْمًا إِذَا لَمْ تَرَ الطُّهْرَ . وَيُرْوَى عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ وَالشَّعْبِيِّ سِتِّينَ يَوْمًا .
উম্মু সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে নিফাসগ্রস্তা মহিলারা চল্লিশ দিন বসে থাকত। আমরা ওয়ারস ঘাস পিষে তা দিয়ে আমাদের চেহারার দাগ তুলতাম।
হাসান সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৬৪৮)
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র আবূ সাহলের সূত্রে মুসসাহ আল-আজ দিয়াহ এর বরাতে উম্মু সালামাহ হতে জানতে পেরেছি। ইমাম বুখারী বলেন, আলী ইবনু আবদুল আ’লা ও আবূ সাহল সিক্বাহ রাবী। মুহাম্মাদও (বুখারী) এ হাদীসটি আবূ সাহলের সূত্রে জেনেছে। আবূ সাহলের নাম কাছীর ইবনু যিয়াদ।
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিশেষজ্ঞ সাহাবা, তাবিঈন ও তাদের পরবর্তীদের মধ্যে এ ব্যাপারে অভিন্ন মত রয়েছে যে, নিফাসগ্রস্তা মহিলারা চল্লিশ দিন পর্যন্ত নামায আদায় করবে না। হ্যাঁ, যদি চল্লিশ দিনের পূর্বে পবিত্র হয়ে যায় তবে গোসল করে নামায শুরু করে দেবে। যদি চল্লিশ দিন পরো রক্তস্রাব চলতে থাকে, তবে বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞের মতে চল্লিশ দিন পর আর নামায ছাড়া থাকা যাবে না। বেশিরভাগ ফিকহবিদেরও এই ফাতোয়া। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (এবং ইমাম আবূ হানীফাও) এই কথাই বলেছেন। হাসান বাসরী পঞ্চাশ দিন এবং আতা ইবনু আবূ রাবাহ ও শাবী ষাট দিন নামায ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন, যদি ঋতুস্রাব চলতেই থাকে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: حسن
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حسن لغيره، وهذا إسناد ضعيف لجهالة مُسَّة الأزدية، لكن للحديث شواهد يحسن بها. وأخرجه أبو داود (٣١١) و (٣١٢)، وابن ماجه (٦٤٨)، وهو في "مسند أحمد" (٢٦٥٦١). وانظر فيه الكلام على إسناده مفصلًا، وذكر شواهده. الوَرْس: نبت أصفر يُصبغ به، والكلف: لون أو حمرة كَدِرَةٌ تعلو الوجه تغير بشرته، أو نَمَش يعلو الوجه كالسِّمْسِم.
حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَطُوفُ عَلَى نِسَائِهِ فِي غُسْلٍ وَاحِدٍ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي رَافِعٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَطُوفُ عَلَى نِسَائِهِ بِغُسْلٍ وَاحِدٍ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمُ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ أَنْ لاَ بَأْسَ أَنْ يَعُودَ قَبْلَ أَنْ يَتَوَضَّأَ . وَقَدْ رَوَى مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ هَذَا عَنْ سُفْيَانَ فَقَالَ عَنْ أَبِي عُرْوَةَ عَنْ أَبِي الْخَطَّابِ عَنْ أَنَسٍ . وَأَبُو عُرْوَةَ هُوَ مَعْمَرُ بْنُ رَاشِدٍ . وَأَبُو الْخَطَّابِ قَتَادَةُ بْنُ دِعَامَةَ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنِ ابْنِ أَبِي عُرْوَةَ عَنْ أَبِي الْخَطَّابِ . وَهُوَ خَطَأٌ وَالصَّحِيحُ عَنْ أَبِي عُرْوَةَ .
আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই গোসলে তাঁর স্ত্রীদের নিকট যেতেন (একাধিক স্ত্রীর সাথে সহবাস করে একবারেই গোসল করতেন)।
সহীহ। ইবনু মাজাহ –(৫৮৮), বুখারী ও মুসলিম।
এ অনুচ্ছেদে আবূ রাফি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনাকৃত হাদীসও রয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। একাধিক বিশেষজ্ঞেই মত দিয়েছে যে, ওযূ না করে দ্বিতীয়বার সহবাস করায় কোন দোষ নেই। হাসান বাসরী তাদের অন্তর্ভুক্ত। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ সুফিয়ান হতে, তিনি আবূ উরওয়া হতে তিনি আবুল খাত্তাব হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর আবূ উরওয়া হলেন মা’মার ইবনু রাশিদ। আবুল খাত্তাব হলেন, কাতাদা ইবনু দি’আমাহ।
আবূ ‘ঈসা বলেন ঃ কেউ কেউ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ হতে, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি ইবনু আবী উরওয়া হত্র, তিনি আবুল খাত্তাব হতে বর্ণনা করেছেন। আর এই বর্ণনাটি ভুল। সঠিক হলো আবূ উরওয়া।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه بألفاظ متقاربة البخاري (٢٦٨) و (٢٨٤) و (٥٠٦٨) و (٥٢١٥)، ومسلم (٣٠٩)، وأبو داود (٢١٨)، وابن ماجه (٥٨٨) و (٥٨٩)، والنسائي ١/ ١٤٣ و ١٤٣ - ١٤٤. وهو في "المسند" (١١٩٤٦) و (١٢٦٤٠)، و"صحيح ابن حبان" (١٢٠٦) وما بعده.