সুনান আত-তিরমিযী
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفَتْحِ وَهُوَ بِمَكَّةَ يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ حَرَّمَ بَيْعَ الْخَمْرِ وَالْمَيْتَةِ وَالْخِنْزِيرِ وَالأَصْنَامِ " . فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ شُحُومَ الْمَيْتَةِ فَإِنَّهُ يُطْلَى بِهَا السُّفُنُ وَيُدْهَنُ بِهَا الْجُلُودُ وَيَسْتَصْبِحُ بِهَا النَّاسُ قَالَ " لاَ هُوَ حَرَامٌ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ ذَلِكَ " قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْهِمُ الشُّحُومَ فَأَجْمَلُوهُ ثُمَّ بَاعُوهُ فَأَكَلُوا ثَمَنَهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ .
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সেখানে থাকাবস্থায় বলতে শুনেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ও তার রাসূল শারাব, মৃত জীব, শূকর ও মূর্তির ব্যবসা হারাম করেছেন। তাঁকে বলা হল, হে আল্লাহ্র রাসূল! মৃত জীবের চর্বি প্রসঙ্গে আপনার বক্তব্য কি? এটাতো ব্যবহার করা হয় নৌকায় প্রলেপের কাজে ও চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার কাজে এবং লোকেরা এটা দিয়ে প্রদীপ জ্বালায়। তিনি বললেনঃ না, এটা হারাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বললেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা ইয়াহুদীদের ধ্বংস করে দিন! আল্লাহ্ তা’আলা চর্বিকে তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা তা গলিয়ে বিক্রয় করেছে এবং এর মূল্য ভক্ষণ করেছে।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২১৬৭), নাসা-ঈ
উমার ও ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رضى الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ لَنَا مَثَلُ السَّوْءِ الْعَائِدُ فِي هِبَتِهِ كَالْكَلْبِ يَعُودُ فِي قَيْئِهِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لاَ يَحِلُّ لأَحَدٍ أَنْ يُعْطِيَ عَطِيَّةً فَيَرْجِعَ فِيهَا إِلاَّ الْوَالِدَ فِيمَا يُعْطِي وَلَدَهُ " .
ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাদের জন্য নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করা শোভনীয় নয়। দান (হেবা) করার পর যে লোক তা আবার ফিরিয়ে নেয় সে এমন এক কুকুরের সমতুল্য যে বমি করার পর তা আবার ভক্ষণ করে।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২৩৮৫), নাসা-ঈ
এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেনঃ কোন কিছু দান করে তা আবার ফিরিয়ে নেওয়া কোন ব্যক্তির জন্য হালাল নয়। তবে পিতা নিজ পুত্রকে দান করে তা আবার ফিরিয়ে নিতে পারে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: بخاری ومسلم
حَدَّثَنَا بِذَلِكَ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ أَنَّهُ سَمِعَ طَاوُسًا يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ يَرْفَعَانِ الْحَدِيثَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ رضى الله عنهما حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ قَالُوا مَنْ وَهَبَ هِبَةً لِذِي رَحِمٍ مَحْرَمٍ فَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَرْجِعَ فِيهَا وَمَنْ وَهَبَ هِبَةً لِغَيْرِ ذِي رَحِمٍ مَحْرَمٍ فَلَهُ أَنْ يَرْجِعَ فِيهَا مَا لَمْ يُثَبْ مِنْهَا . وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ لاَ يَحِلُّ لأَحَدٍ أَنْ يُعْطِيَ عَطِيَّةً فَيَرْجِعَ فِيهَا إِلاَّ الْوَالِدَ فِيمَا يُعْطِي وَلَدَهُ . وَاحْتَجَّ الشَّافِعِيُّ بِحَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَحِلُّ لأَحَدٍ أَنْ يُعْطِيَ عَطِيَّةً فَيَرْجِعَ فِيهَا إِلاَّ الْوَالِدَ فِيمَا يُعْطِي وَلَدَهُ " .
ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সূত্রে উপরোক্ত হাদীসটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে মারফূ হিসেবে বর্ণিত আছে।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২৩৮৬)
আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ্। এ হাদীস অনুযায়ী একদল সাহাবী ও তাবিঈ আমল করেছেন। তারা বলেছেন, কোন ব্যক্তির পক্ষে নিজের নিকটাত্মীয়কে কিছু দান করে বা উপহার দিয়ে তা ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার নেই। তবে নিকটাত্মীয় ব্যতীত অন্য কাউকে দান করে এবং তার বিনিময়ে কিছু গ্রহণ না করলে উক্ত দান ফিরত নেওয়া যায়। সুফিয়ান সাওরীও একথা বলেছেন। শাফিঈ বলেছেন, পিতা ব্যতীত অন্য কোন লোক দান বা উপহার ফিরিয়ে নিতে পারবে না। তিনি নিজ মতের সপক্ষে উপরে বর্ণিত ইবনু উমারের হাদীস দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ صحیح
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ إِلاَّ أَنَّهُ قَدْ أَذِنَ لأَهْلِ الْعَرَايَا أَنْ يَبِيعُوهَا بِمِثْلِ خَرْصِهَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَجَابِرٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ هَكَذَا رَوَى مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ هَذَا الْحَدِيثَ . وَرَوَى أَيُّوبُ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ . وَبِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ رَخَّصَ فِي الْعَرَايَا . وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ .
যাইদ ইবনু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, ‘মুহাকালা’ ও ‘মুযাবানা’ ধরণের বেচা-কেনাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন, কিন্তু ‘আরাইয়ার’ অনুমতি দিয়েছেন-অনুমানে যে পরিমাণ নির্ধারিত হয় তদানুযায়ী বিক্রয় করতে।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২২৬৮, ২২৬৯), নাসা-ঈ
আবূ হুরাইরা ও জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। যাইদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকও এরকমই বর্ণনা করেছেন।
আইয়্যূব, উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার এবং মালিক ইবনু আনাস (রাহিমাহুল্লাহ) নাফির সূত্রে, তিনি ইবনু উমারের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, ‘মুহাকালা’ ও ‘মুযাবানা’ ধরণের কেনা-বেচাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষিদ্ধ করেছেন। যাইদ ইবনু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) একই সনদে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরাইয়ার অনুমতি দিয়েছেন।
মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের হাদীসের তুলনায় এ হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ্।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، مَوْلَى ابْنِ أَبِي أَحْمَدَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَخَّصَ فِي بَيْعِ الْعَرَايَا فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ أَوْ كَذَا .
আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরাইয়া পদ্ধতিতে বিক্রয়ের সম্মতি দিয়েছেন।
সহীহ্, বেচা-কেনার হাদীস
মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঁচ ওয়াসাক বা তার কম পরিমাণের মধ্যে আরাইয়া পদ্ধতিতে বিক্রয়ের অনুমতি প্রদান করেছেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْخَصَ فِي بَيْعِ الْعَرَايَا بِخَرْصِهَا .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ وَقَالُوا إِنَّ الْعَرَايَا مُسْتَثْنَاةٌ مِنْ جُمْلَةِ نَهْىِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ نَهَى عَنِ الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ وَاحْتَجُّوا بِحَدِيثِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَحَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ وَقَالُوا لَهُ أَنْ يَشْتَرِيَ مَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ . وَمَعْنَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَرَادَ التَّوْسِعَةَ عَلَيْهِمْ فِي هَذَا لأَنَّهُمْ شَكَوْا إِلَيْهِ وَقَالُوا لاَ نَجِدُ مَا نَشْتَرِي مِنَ الثَّمَرِ إِلاَّ بِالتَّمْرِ فَرَخَّصَ لَهُمْ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ أَنْ يَشْتَرُوهَا فَيَأْكُلُوهَا رُطَبًا .
যাইদ ইবনু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুমান করে পরিমাণ নির্ধারণ করার পর আরাইয়া পদ্ধতিতে বিক্রয়ের অনুমতি প্রদান করেছেন।
সহীহ্, বেচা-কেনার হাদীস, নাসা-ঈ
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ্। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। তাদের মধ্যে ইমাম শাফিঈ, আহ্মাদ ও ইসহাকও অন্তর্ভুক্ত আছেন। তারা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘মুহাকালা’ ও ‘মুযাবানা’ নিষিদ্ধ করেছেন এবং তা হতে আরাইয়াকে বাদ রেখেছেন। তারা দলীল হিসাবে আবূ হুরাইরা ও যাইদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীসকে গ্রহণ করেছেন। তাদের মতে আরাইয়ার ফল পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণের মধ্যে (পরিপক্ক ফলের বিনিময়ে) কেনা জায়িয। কিছু সংখ্যক আলিমের মতে, এই নির্দেশের মর্মার্থ এই যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দরিদ্র লোকদেরকে এ ব্যাপারে কিছুটা সুযোগ দিতে চেয়েছেন। কেননা, তারা তাঁর নিকট আবেদন করে যে, তারা (আরাইয়ার) গাছের কাঁচা ফল কেনার জন্য শুধু পাকা ফলই দিতে পারে সুতরাং তিনি তাজা খেজুর খাওয়ার সুযোগকে বৃদ্ধির জন্য আরাইয়ার পরিমাণ পাঁচ ওয়াসাকের কমের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا بُشَيْرُ بْنُ يَسَارٍ، مَوْلَى بَنِي حَارِثَةَ أَنَّ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ، وَسَهْلَ بْنَ أَبِي حَثْمَةَ، حَدَّثَاهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ الْمُزَابَنَةِ الثَّمَرِ بِالتَّمْرِ إِلاَّ لأَصْحَابِ الْعَرَايَا فَإِنَّهُ قَدْ أَذِنَ لَهُمْ وَعَنْ بَيْعِ الْعِنَبِ بِالزَّبِيبِ وَعَنْ كُلِّ ثَمَرٍ بِخَرْصِهِ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
রাফি ইবনু খাদীজ ও সাহল ইবনু আবূ হাসমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, শুকনো ফলের পরিবর্তে গাছের কাঁচা ফল (সংগৃহীত) বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন, কিন্তু আরাইয়া ব্যবসায়ীদের আরাইয়া করার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি একইভাবে তাজা আঙ্গুরের বিনিময়ে শুকনো আঙ্গুর এবং অনুমানে পরিমাণ নির্ধারণ করে ফল বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।
সহীহ্, বেচা-কেনার হাদীস
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে হাসান সহীহ্ গারীব বলেছেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ قُتَيْبَةُ يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَنَاجَشُوا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَنَسٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . كَرِهُوا النَّجْشَ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَالنَّجْشُ أَنْ يَأْتِيَ الرَّجُلُ الَّذِي يَفْصِلُ السِّلْعَةَ إِلَى صَاحِبِ السِّلْعَةِ فَيَسْتَامُ بِأَكْثَرَ مِمَّا تَسْوَى وَذَلِكَ عِنْدَمَا يَحْضُرُهُ الْمُشْتَرِي يُرِيدُ أَنْ يَغْتَرَّ الْمُشْتَرِي بِهِ وَلَيْسَ مِنْ رَأْيِهِ الشِّرَاءُ إِنَّمَا يُرِيدُ أَنْ يَخْدَعَ الْمُشْتَرِيَ بِمَا يَسْتَامُ وَهَذَا ضَرْبٌ مِنَ الْخَدِيعَةِ . قَالَ الشَّافِعِيُّ وَإِنْ نَجَشَ رَجُلٌ فَالنَّاجِشُ آثِمٌ فِيمَا يَصْنَعُ وَالْبَيْعُ جَائِزٌ لأَنَّ الْبَائِعَ غَيْرُ النَّاجِشِ .
আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা পরস্পর ‘নাজাশ’ (ক্রেতাকে ঠকানোর জন্য দ্রব্যের দরদাম) কর না।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২১৭৪), নাসা-ঈ
ইবনু উমার ও আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। তারা বেচা-কেনার ক্ষেত্রে ‘নাজাশ’ করাকে মাকরূহ বলেছেন। আবূ ঈসা বলেন, নাজাশ বা তানাজুশ-এর অর্থ হলঃ এক লোক বিক্রেতার মালের দেখাশোনা করে এবং সে তার মালের দর-দাম প্রসঙ্গে ওয়াকিফহাল। যখন কোন ক্রেতা বিক্রেতার নিকট এসে মালের দামাদামি করে, তখন সে এসে উপস্থিত হয়। সে নকল ক্রেতার রূপ নিয়ে এসে ক্রেতার চেয়েও বেশি দাম হাঁকে। এখানে ক্রেতাকে ধোঁকায় ফেলে বিক্রেতার মাল বেশি মূল্যে বিক্রয় করাই তার উদ্দেশ্য। ইহা এক প্রকার প্রতারণা। ইমাম শাফিঈ বলেছেন, যে লোক ‘নাজাশ’ করে সে গুনাহ্গার হবে কিন্তু আইনগতভাবে বিক্রয়টি হালাল হবে। কেননা, মূল বিক্রেতা প্রতারণা করেনি।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: بخاری ومسلم
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ جَلَبْتُ أَنَا وَمَخْرَفَةُ الْعَبْدِيُّ، بَزًّا مِنْ هَجَرَ فَجَاءَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَسَاوَمَنَا بِسَرَاوِيلَ وَعِنْدِي وَزَّانٌ يَزِنُ بِالأَجْرِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلْوَزَّانِ " زِنْ وَأَرْجِحْ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سُوَيْدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَهْلُ الْعِلْمِ يَسْتَحِبُّونَ الرُّجْحَانَ فِي الْوَزْنِ . وَرَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ سِمَاكٍ فَقَالَ عَنْ أَبِي صَفْوَانَ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ .
সুয়াইদ ইবনু কাইস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাজার নামক জায়গা হতে আমি ও মাখরাফা আল-আবদী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কিছু কাপড় আমদানি করলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট এলেন। তিনি আমাদের নিকট হতে একটি পায়জামা কেনার জন্য দামাদামি করলেন। আমাদের নিকটই একজন কয়াল (পরিমাপক) উপস্থিত ছিল। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সে ওজন করে দিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (দ্রব্যের মূল্য পরিশোধকালে) কয়ালকে বলেনঃ ওজন কর এবং কিছুটা বেশি দাও।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২২২০)
জাবির ও আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। সুয়াইদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। ওজনের সময় একটু বেশি দেওয়াকে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ উত্তম বলেছেন। সিমাকের সূত্রে শুবা উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং সনদে আবূ সাফওয়ানকে সিমাকের পরে যোগ করেছেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح، مشکوۃ المصابیح (2924)
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّازِيُّ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا أَوْ وَضَعَ لَهُ أَظَلَّهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَحْتَ ظِلِّ عَرْشِهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلاَّ ظِلُّهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي الْيَسَرِ وَأَبِي قَتَادَةَ وَحُذَيْفَةَ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَعُبَادَةَ وَجَابِرٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক অভাবী ঋনগ্রস্থকে সুযোগ প্রদান করে অথবা ঋণ মাফ করে দেয়, কিয়ামাতের দিবসে আল্লাহ্ তা’আলা তাকে নিজের আরশের ছায়ায় আশ্রয় প্রদান করবেন, যেদিন তাঁর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না।
সহীহ্, তা’লীকুর রাগীব (২/৩৭), বেচা-কেনার হাদীস
আবূল ইয়াসার, আবূ কাতাদা, হুযাইফা, ইবনু মাসঊদ ও উবাদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে হাসান সহীহ্ গারীব বলেছেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ صحیح
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " حُوسِبَ رَجُلٌ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَلَمْ يُوجَدْ لَهُ مِنَ الْخَيْرِ شَيْءٌ إِلاَّ أَنَّهُ كَانَ رَجُلاً مُوسِرًا وَكَانَ يُخَالِطُ النَّاسَ وَكَانَ يَأْمُرُ غِلْمَانَهُ أَنْ يَتَجَاوَزُوا عَنِ الْمُعْسِرِ فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ نَحْنُ أَحَقُّ بِذَلِكَ مِنْهُ تَجَاوَزُوا عَنْهُ " .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو الْيَسَرِ كَعْبُ بْنُ عَمْرٍو .
আবূ মাসঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির মধ্যে কোন এক লোকের হিসাব নেওয়া হলে তার কোন কাজ পাওয়া গেল না। সে ছিল ধনীলোক। সে যখন লোকদের সাথে লেন-দেন করত তখন নিজ গোলামদের হুকুম প্রদান করতঃ অভাবী ঋণগ্রস্থদের সাথে সহানুভূতিপূর্ণ আচরন কর। এতে আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ আমি ক্ষমা ও সহানুভূতির ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশী উপযোগী। অতএব, (হে ফেরেশ্তাগণ!) তাকে মুক্তি প্রদান কর।
সহীহ্, বেচা-কেনার হাদীস, মুসলিম
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। আবূল ইয়াসাবের নাম কা’ব, পিতা আমর।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح مسلم
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ وَإِذَا أُتْبِعَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيٍّ فَلْيَتْبَعْ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَالشَّرِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ الثَّقَفِيِّ .
আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ ঋণ পরিশোধ করার ক্ষেত্রে সক্ষম ব্যক্তির টালবাহানা করা অন্যায়। তোমাদের কারো পাওনা পরিশোধ করার জন্য ঋণগ্রস্থ ব্যক্তি কোন সক্ষম ব্যক্তির উপর দায়িত্ব দিলে তা অনুমোদন করা উচিত।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২৪০৩), নাসা-ঈ
ইবনু উমার ও আশ-শারীদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও এ অনুচ্ছেদ হাদীস বর্ণিত আছে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَرَوِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ وَإِذَا أُحِلْتَ عَلَى مَلِيءٍ فَاتْبَعْهُ وَلاَ تَبِعْ بَيْعَتَيْنِ فِي بَيْعَةٍ " .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَمَعْنَاهُ أَنَّهُ إِذَا أُحِيلَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيٍّ فَلْيَتْبَعْ . فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا أُحِيلَ الرَّجُلُ عَلَى مَلِيٍّ فَاحْتَالَهُ فَقَدْ بَرِئَ الْمُحِيلُ وَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَرْجِعَ عَلَى الْمُحِيلِ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا تَوِيَ مَالُ هَذَا بِإِفْلاَسِ الْمُحَالِ عَلَيْهِ فَلَهُ أَنْ يَرْجِعَ عَلَى الأَوَّلِ . وَاحْتَجُّوا بِقَوْلِ عُثْمَانَ وَغَيْرِهِ حِينَ قَالُوا لَيْسَ عَلَى مَالِ مُسْلِمٍ تَوًى . قَالَ إِسْحَاقُ مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ " لَيْسَ عَلَى مَالِ مُسْلِمٍ تَوًى " . هَذَا إِذَا أُحِيلَ الرَّجُلُ عَلَى آخَرَ وَهُوَ يَرَى أَنَّهُ مَلِيٌّ فَإِذَا هُوَ مُعْدِمٌ فَلَيْسَ عَلَى مَالِ مُسْلِمٍ تَوًى .
ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ স্বচ্ছল অবস্থা সম্পন্ন লোকদের (ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে) টালবাহানা করা যুলুম। তোমাকে অবস্থা সম্পন্ন ব্যক্তির উপর সোপর্দ করা হলে তুমি তা আনুমোদন করবে এবং এক বিক্রয় চুক্তির মধ্যে দুই বিক্রয় (শর্ত) অন্তর্ভুক্ত করবে না।
সহীহ্, বেচা-কেনার হাদীস
আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীসের তাৎপর্য হলঃ কোন লোক তার (ঋণ ইত্যাদির) দায় স্বচ্ছল লোকের উপর অর্পণ (হাওয়ালা) করলে সে যেন তা অনুমোদন করে। কিছু আলিম বলেছেন, সক্ষম ব্যক্তির উপর ঋণ অর্পণ করা হলে এবং পাওনাদার তা অনুমোদন করলে ঋণগ্রস্থ ব্যক্তি দায় মুক্ত হয়ে যাবে। ঋণদানকারী আর তাকে তাগাদা দিতে পারবে না। এই মত দিয়েছেন ইমাম শাফিঈ, আহ্মাদ ও ইসহাক।
অন্য একদল আলিম বলেছেন, সক্ষম অবস্থাসম্পন্ন লোকের উপর যে লোকের ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল সে যদি দেউলিয়া হয়ে যায়, তবে ঋনদানকারী তার আসল ঋণীকে তাগাদা দেয়ার অধিকারী হবে। তারা নিজেদের দলীল হিসাবে উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও অন্যান্য সাহাবীর একটি বক্তব্যকে গ্রহন করেছেনঃ “মুসলমানের মাল বিলীন হতে পারে না”।
ইসহাক বলেন, ‘মুসলমানের মাল বিলীন হতে পারে না’ কথার তাৎপর্য এই যে, ঋণগ্রহীতা ঋনদাতাকে অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হতে তাকে স্বচ্ছল ভেবে তার ঋণ আদায় করে নেওয়ার কথা বলে। কিন্তু দেখা গেল যে, সে আসলে দেউলিয়া। এই অবস্থায় মুসলমানের মাল বিনস্ট হতে পারে না (হাওয়ালাকারীকেই তা পরিশোধ করতে হবে)।
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْمُنَابَذَةِ وَالْمُلاَمَسَةِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عُمَرَ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَمَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ أَنْ يَقُولَ إِذَا نَبَذْتُ إِلَيْكَ الشَّىْءَ فَقَدْ وَجَبَ الْبَيْعُ بَيْنِي وَبَيْنَكَ . وَالْمُلاَمَسَةُ أَنْ يَقُولَ إِذَا لَمَسْتَ الشَّىْءَ فَقَدْ وَجَبَ الْبَيْعُ وَإِنْ كَانَ لاَ يَرَى مِنْهُ شَيْئًا مِثْلَ مَا يَكُونُ فِي الْجِرَابِ أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ وَإِنَّمَا كَانَ هَذَا مِنْ بُيُوعِ أَهْلِ الْجَاهِلِيَّةِ فَنَهَى عَنْ ذَلِكَ .
আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুনাবাযা ও মুলামাসা প্রকারের বেচা-কেনাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষিদ্ধ করেছেন।
সহীহ্, বেচা-কেনার হাদীস, নাসা-ঈ
আবূ সাঈদ ও ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীসের তাৎপর্য এই যে, বিক্রেতা বললঃ আমি যখন তোমার দিকে কিছু নিক্ষেপ করব তখন তোমার ও আমার মাঝে বেচা-কেনা বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। একে বলে মুনাবাযা। মুলামাসার অর্থ হলঃ বিক্রেতা ক্রেতাকে বলল, অমুক জিনিসটি তুমি র্স্পষ করলে বেচা-কেনা করাতা বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে, ক্রেতা যদি পণ্যটি না দেখে থাকে তারপরেও, যেমন মোড়কের মধ্যের জিনিস, খাপের মধ্যের তরবারি ইত্যাদি। এটা এক প্রকার বিক্রয় পদ্ধতি যা জাহিলী যুগে করা হতো। এ উভয় প্রকার বিক্রয় পদ্ধতিতে বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَهُمْ يُسْلِفُونَ فِي الثَّمَرِ فَقَالَ " مَنْ أَسْلَفَ فَلْيُسْلِفْ فِي كَيْلٍ مَعْلُومٍ وَوَزْنٍ مَعْلُومٍ إِلَى أَجَلٍ مَعْلُومٍ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَجَازُوا السَّلَفَ فِي الطَّعَامِ وَالثِّيَابِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا يُعْرَفُ حَدُّهُ وَصِفَتُهُ وَاخْتَلَفُوا فِي السَّلَمِ فِي الْحَيَوَانِ فَرَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمُ السَّلَمَ فِي الْحَيَوَانِ جَائِزًا . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَكَرِهَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمُ السَّلَمَ فِي الْحَيَوَانِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ . أَبُو الْمِنْهَالِ اسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُطْعِمٍ .
ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সময় মাদীনায় আসেন সে সময় বিভিন্ন ধরণের ফলমূল অগ্রিম বেচা-কেনায় এখানকার লোকজন অভ্যস্ত ছিল। তিনি বললেনঃ যে লোক অগ্রিম বেচা-কেনা করতে চায় সে যেন পরিমাপ, ওজন ও মেয়াদ নির্দিষ্ট করে নেয়।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২২৮০), নাসা-ঈ
ইবনু আবী আওফা ও আবদুর রাহমান ইবনু আবযা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী সাহাবী ও তাবীঈগণ আমল করেছেন। তাদের মতে অগ্রিম বেচা-কেনা জায়িয হবে খাদ্যশস্য, কাপড়-চোপড় এবং যেসব বস্তুর পরিমান, বৈশিষ্ট্য, অবস্থা ও ধরণ নির্ধারণ করা যায় এমন পণ্যের ক্ষেত্রে।
পশু অগ্রিম বেচা-কেনা করা যায় কিনা এ ব্যাপারে মতের অমিল আছে। পশুর অগ্রিম বেচা-কেনা করাটা একদল সাহাবী ও তাবিঈর মতে জায়িয। এই মত দিয়েছেন ইমাম শাফিঈ, আহ্মাদ ও ইসহাক। এটাকে আরেকদল আলিম নাজায়িয বলেছেন। সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণ এই শেষোক্ত মত গ্রহন করেছেন। আবূল মিনহালের নাম আব্দুর রহমান, পিতা মুতঈম।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ الْيَشْكُرِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ كَانَ لَهُ شَرِيكٌ فِي حَائِطٍ فَلاَ يَبِيعُ نَصِيبَهُ مِنْ ذَلِكَ حَتَّى يَعْرِضَهُ عَلَى شَرِيكِهِ " .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ إِسْنَادُهُ لَيْسَ بِمُتَّصِلٍ . سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ سُلَيْمَانُ الْيَشْكُرِيُّ يُقَالُ إِنَّهُ مَاتَ فِي حَيَاةِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ . قَالَ وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْهُ قَتَادَةُ وَلاَ أَبُو بِشْرٍ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَلاَ نَعْرِفُ لأَحَدٍ مِنْهُمْ سَمَاعًا مِنْ سُلَيْمَانَ الْيَشْكُرِيِّ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ فَلَعَلَّهُ سَمِعَ مِنْهُ فِي حَيَاةِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ . قَالَ وَإِنَّمَا يُحَدِّثُ قَتَادَةُ عَنْ صَحِيفَةِ سُلَيْمَانَ الْيَشْكُرِيِّ وَكَانَ لَهُ كِتَابٌ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ . حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْعَطَّارُ عَبْدُ الْقُدُّوسِ قَالَ قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ ذَهَبُوا بِصَحِيفَةِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ إِلَى الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ فَأَخَذَهَا أَوْ قَالَ فَرَوَاهَا وَذَهَبُوا بِهَا إِلَى قَتَادَةَ فَرَوَاهَا وَأَتَوْنِي بِهَا فَلَمْ أَرْوِهَا . يَقُولُ رَدَدْتُهَا .
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোন বাগানের মালিকানায় কোন ব্যক্তির সাথে তার আরো শরীক থাকলে, সে তার অংশ বিক্রয়ের জন্য শরীকদেরকে ক্রয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পূর্বে যেন সেটা অন্যের নিকট বিক্রয় না করে।
সহীহ্, ইরওয়া (৫/৩৭৩), বেচা-কেনার হাদীস, মুসলিম অনুরূপ
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদ পরস্পর সংযুক্ত (মুত্তাসিল) নয়। আমি ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছিঃ সুলাইমান ইয়াশকুরী প্রসঙ্গে কথিত আছে যে, জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জিবদ্দশাতেই তিনি মৃত্যু বরণ করেন। আর তার নিকট হতে বিশর ও কাতাদা (রাহিমাহুল্লাহ) কখনও কিছু শুনেননি। বুখারী আরো বলেন, সুলাইমান ইয়াশকুরীর কাছে আমর ইবনু দীনার ব্যতিত আর কেউ শুনেছেন বলে আমার জানা নেই। জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জীবদ্দশায় হয়ত আমর তার নিকট হাদীস শুনেছেন। কাতাদা (রাহিমাহুল্লাহ) সুলাইমান ইয়াশকুরীর পাণ্ডুলিপি হতেই হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি এটা জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট হতে অর্জন করেছিলেন। সুলাইমান আত-তাইমী বলেছেন, তারা হাসান বাসরীর নিকট জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পাণ্ডুলিপিটি নিয়ে গেলেন। তিনি এটাকে গ্রহন করলেন বা তা হতে রিওয়াত করেন। অতঃপর তারা এটাকে কাতাদার নিকট নিয়ে গেলে তিনিও তা হতে রিওয়াত করেন। তারপর এটাকে তারা আমার কেছে নিয়ে এলে আমি তা হতে রিওয়াত করিনি এবং তা ফেরত দেই।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ وَالْمُخَابَرَةِ وَالْمُعَاوَمَةِ وَرَخَّصَ فِي الْعَرَايَا .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘মুহাকালা’, ‘মুযাবানা’, ‘মুখাবারা’ ও ‘মুআওয়ামা’ করতে নিষেধ করেছেন, কিন্তু আরাইয়ার অনুমতি প্রদান করেছেন।
সহীহ্, বেচা-কেনার হাদীস, মুসলিম
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।
মুহাকালাঃ নিদিষ্ট পরিমাণ গমের বিনিময়ে অনুমান করে ক্ষেতের অপ্রস্তুত শস্য বিক্রয় করা। মুযাবানাঃ নির্দিষ্ট পরিমাণ শুকনা খেজুরের বিনিময়ে গাছের কাঁচা খেজুর অনুমান করে বিক্রয় করা। মুখাবারাঃ ক্ষেতের এক তৃতীয়াংশ বা চতুর্থাংশের বিনিময়ে জমি ভাড়া দেওয়া। মুআওয়ামাঃ কোন নির্দিষ্ট বাগানের ফল দুই তিন বৎসরের জন্য অগ্রীম বিক্রয় করা। অনুবাদক।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: بخاری ومسلم
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، وَثَابِتٍ، وَحُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ غَلاَ السِّعْرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ سَعِّرْ لَنَا . فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمُسَعِّرُ الْقَابِضُ الْبَاسِطُ الرَّزَّاقُ وَإِنِّي لأَرْجُو أَنْ أَلْقَى رَبِّي وَلَيْسَ أَحَدٌ مِنْكُمْ يَطْلُبُنِي بِمَظْلَمَةٍ فِي دَمٍ وَلاَ مَالٍ " .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে একবার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে লোকেরা বলতে লাগল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের জন্য দ্রব্যমূল্য বেঁধে দিন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা’আলাই মূল্য নির্ধারণ করে থাকেন, তিনিই নিয়ন্ত্রণকারী, অপ্রশস্তকারী, প্রশস্তকারী ও রিযিক দানকারী। আমি আমার প্রতিপালকের সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হতে চাই যে, তোমাদের কোন লোক যেন এ দাবি করতে না পারে (আমার বিরুদ্ধে) যে, তার জান-মালের উপর আমি হস্তক্ষেপ করেছি।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২২০০)
আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ্ বলেছেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ صحیح، مشکوۃ المصابیح (2894)
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَى صُبْرَةٍ مِنْ طَعَامٍ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِيهَا فَنَالَتْ أَصَابِعُهُ بَلَلاً فَقَالَ " يَا صَاحِبَ الطَّعَامِ مَا هَذَا " . قَالَ أَصَابَتْهُ السَّمَاءُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " أَفَلاَ جَعَلْتَهُ فَوْقَ الطَّعَامِ حَتَّى يَرَاهُ النَّاسُ " . ثُمَّ قَالَ " مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنَّا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَبِي الْحَمْرَاءِ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَبُرَيْدَةَ وَأَبِي بُرْدَةَ بْنِ نِيَارٍ وَحُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا الْغِشَّ وَقَالُوا الْغِشُّ حَرَامٌ .
আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, কোন একসময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (বাজারে) একটি খাদ্যশস্যের স্তূপ অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। তিনি নিজের হাতকে স্তূপের মধ্যে প্রবেশ করালেন। তিনি তাঁর হাতে ভিজা অনুভব করেন। স্তূপের মালিককে তিনি প্রশ্ন করেনঃ এ কি? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এটা বৃষ্টির পানিতে ভিজে গিয়েছিল। তিনি বললেনঃ ভিজাগুলো স্তূপের উপরে রাখলে না কেন, যাতে লোকেরা দেখতে পেত? অতঃপর তিনি বললেনঃ প্রতারণাকারী ও ধোঁকাবাজকারীদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই।
সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২২২৪)
ইবনু উমার, আবুল হামরাআ, ইবনু আব্বাস, বুরাইদা, আবূ বুরদা, ইবনু নিয়ার ও হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ মত দিয়েছেন। প্রতারণা ও ধোঁকাবাজিকে তারা খুবই জঘন্য অপরাধ হিসাবে উল্লেখ করেছেন এবং এটাকে হারাম বলেছেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح مسلم
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ اسْتَقْرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِنًّا فَأَعْطَاهُ سِنًّا خَيْرًا مِنْ سِنِّهِ وَقَالَ " خِيَارُكُمْ أَحَاسِنُكُمْ قَضَاءً " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي رَافِعٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَاهُ شُعْبَةُ وَسُفْيَانُ عَنْ سَلَمَةَ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ لَمْ يَرَوْا بِاسْتِقْرَاضِ السِّنِّ بَأْسًا مِنَ الإِبِلِ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَكَرِهَ بَعْضُهُمْ ذَلِكَ .
আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি উঠতি বয়সের উটকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ধার হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি ফিরত দেওয়ার সময় এর চেয়েও ভাল উট প্রদান করলেন এবং বললেনঃ তোমাদের মধ্যে সেই বেশি উত্তম যে উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধ করে।
সহীহ্, বেচা-কেনার হাদীস, নাসা-ঈ
আবূ রাফি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। উক্ত হাদীসটি সালামার সূত্রে শুবা ও সুফিয়ান (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। নির্দিষ্ট বয়সের উট ধার হিসেবে গ্রহণ করাতে তারা কোন সমস্যা মনে করেন না। এই মত দিয়েছেন শাফিঈ, আহ্মাদ ও ইসহাক। কিন্তু এটাকে অন্য একদল আলিম মাকরূহ মনে করেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ