সুনান আত-তিরমিযী
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَالَ اللَّهُ تَعَالَى أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِينَ مَا لاَ عَيْنٌ رَأَتْ وَلاَ أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلاَ خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ وَتَصْدِيقُ ذَلِكَ فِي كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ : ( فلاَ تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ) " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আবু হুরাইরাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন কিছু তৈরি করে রেখেছি, যা কোন চোখ কখনো দেখেনি, কোন কান (এর বর্ণনা) কখনো শুনেনি এবং মানুষের অন্তর তা কল্পনাও করতে পারবে না। এর সত্যতা আল্লাহ তা'আলার কিতাবেই বিদ্যমানঃ “তাদের ভাল কাজের ফল স্বরূপ তাদের চক্ষু শীতলকারী কী লুকায়িত রাখা হয়েছে তা কেউই জানে না"- (সূরা সাজদাহ্ ১৭)।
সহীহঃ রাওযুন নাযীর (১১০৬), বুখারী (৪৭৭৯), মুসলিম।
আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ طَرِيفٍ، وَعَبْدِ الْمَلِكِ، وَهُوَ ابْنُ أَبْجَرَ سَمِعَا الشَّعْبِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ، عَلَى الْمِنْبَرِ يَرْفَعُهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ سَأَلَ رَبَّهُ فَقَالَ أَىْ رَبِّ أَىُّ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَدْنَى مَنْزِلَةً قَالَ رَجُلٌ يَأْتِي بَعْدَ مَا يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ فَيُقَالُ لَهُ ادْخُلِ الْجَنَّةَ . فَيَقُولُ كَيْفَ أَدْخُلُ وَقَدْ نَزَلُوا مَنَازِلَهُمْ وَأَخَذُوا أَخَذَاتِهِمْ . قَالَ فَيُقَالُ لَهُ أَتَرْضَى أَنْ يَكُونَ لَكَ مَا كَانَ لِمَلِكٍ مِنْ مُلُوكِ الدُّنْيَا فَيَقُولُ نَعَمْ أَىْ رَبِّ قَدْ رَضِيتُ . فَيُقَالُ لَهُ فَإِنَّ لَكَ هَذَا وَمِثْلَهُ وَمِثْلَهُ وَمِثْلَهُ فَيَقُولُ رَضِيتُ أَىْ رَبِّ . فَيُقَالُ لَهُ فَإِنَّ لَكَ هَذَا وَعَشْرَةَ أَمْثَالِهِ فَيَقُولُ رَضِيتُ أَىْ رَبِّ . فَيُقَالُ لَهُ فَإِنَّ لَكَ مَعَ هَذَا مَا اشْتَهَتْ نَفْسُكَ وَلَذَّتْ عَيْنُكَ " .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنِ الْمُغِيرَةِ وَلَمْ يَرْفَعْهُ وَالْمَرْفُوعُ أَصَحُّ .
মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, মিম্বারে দাড়িয়ে বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মূসা (আঃ) নিজ সৃষ্টিকর্তার নিকট আরজ করলেনঃ হে প্রভু! সর্বাপেক্ষা নিম্ন শ্রেণীর জান্নাতী কে? তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ জান্নাতবাসীরা জান্নাতে চলে যাওয়ার পর এক লোক উপস্থিত হবে। তাকে বলা হবে, প্রবেশ কর। সে বলবে, আমি কি করে জান্নাতে প্রবেশ করব, লোকেরা তো নিজ নিজ স্থানে পৌছে তা দখল করে নিয়েছে! তখন তাকে বলা হবে, দুনিয়ার বাদশাদের মধ্যে একজন বাদশার যত বড় রাজত্ব হতে পারে, তোমাকে যদি ততটুকু দেয়া হয় তবে তুমি কি খুশি হবে? সে বলবে, হে প্ৰভু! হ্যাঁ আমি তাতে খুশি হব। তাকে বলা হবে, তোমাকে এ পরিমাণ এবং এর অতিরিক্ত তিন গুণ স্থান দেয়া হল। সে বলবে, হে প্ৰভু! আমি এতে খুশি আছি। তাকে বলা হবে, তোমাকে এই পরিমাণ দেয়া হল এবং তার দশ গুণ দেয়া হল। সে বলবে, হে প্ৰভু! আমি সন্তুষ্ট হলাম। তাকে বলা হবে, এ ব্যতীতও তোমার আত্মা যা কামনা করবে এবং তোমার চোখ যা পেয়ে শীতল হবে তাও তোমাকে দেয়া হবে।
সহীহঃ মুসলিম (৬/৪৫-৪৬)
আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। কিছু বর্ণনাকারী শা'বী হতে, তিনি মুগীরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, এই সনদে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মারফুরূপে নয়। তবে মারফুরূপে বর্ণিত হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح مسلم
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا صَاعِدٌ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، أَخْبَرَنَا قَابُوسُ بْنُ أَبِي ظَبْيَانَ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ قَالَ قُلْنَا لاِبْنِ عَبَّاسٍ أَرَأَيْتَ قَوْلَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ : (ما جَعَلَ اللَّهُ لِرَجُلٍ مِنْ قَلْبَيْنِ فِي جَوْفِهِ ) مَا عَنَى بِذَلِكَ قَالَ قَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا يُصَلِّي فَخَطَرَ خَطْرَةً فَقَالَ الْمُنَافِقُونَ الَّذِينَ يُصَلُّونَ مَعَهُ أَلاَ تَرَى أَنَّ لَهُ قَلْبَيْنِ قَلْبًا مَعَكُمْ وَقَلْبًا مَعَهُمْ . فَأَنْزَلَ اللَّهُ : (ما جَعَلَ اللَّهُ لِرَجُلٍ مِنْ قَلْبَيْنِ فِي جَوْفِهِ ) .
কাবূস ইবনু আবূ যাব্ইয়ান (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তার পিতা তাকে বলেছেন, আমরা ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে প্রশ্ন করলামঃ আপনি কি বলেন, আল্লাহ্ তা'আলার বাণী "আল্লাহ্ তা'আলা কোন ব্যক্তির বক্ষে দুটি হৃদয় তৈরী করেননি" (সুরাঃ আল-আহযাব- ৪), এর অর্থ কি? তিনি বললেন, একদিন আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করলেন। নামাযে তাঁর কিছু (ওয়াসওয়াসা জাতীয়) ত্রুটি হয়। যেসব মুনাফিক তাঁর সাথে নামায আদায় করে তারা একে অপরকে বলল, তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ না যে, তাঁর দুটি হৃদয় আছে? একটি হৃদয় তোমাদের সাথে, অন্যটি হৃদয় তাদের সাথে থাকে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ "কোন ব্যক্তির বক্ষে আল্লাহ্ তা'আলা দুটি হৃদয় তৈরী করেননি"।
সনদ দুর্বল, আব্দ ইবনু হুমাইদ-আহ্মাদ ইবনু ইউনুস হতে তিনি যুহাইর (রাহিমাহুল্লাহ) সূত্রে উপরের হাদীসের মতই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান। এ সনদটিও দুর্বল।
-
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف الإسناد
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف ، قابوس: ضعیف ، (انوار الصحیفہ ص 285)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ عَمِّي أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ سُمِّيتُ بِهِ لَمْ يَشْهَدْ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَبُرَ عَلَيْهِ فَقَالَ أَوَّلُ مَشْهَدٍ شَهِدَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غِبْتُ عَنْهُ أَمَا وَاللَّهِ لَئِنْ أَرَانِيَ اللَّهُ مَشْهَدًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيَرَيَنَّ اللَّهُ مَا أَصْنَعُ . قَالَ فَهَابَ أَنْ يَقُولَ غَيْرَهَا فَشَهِدَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أُحُدٍ مِنَ الْعَامِ الْقَابِلِ فَاسْتَقْبَلَهُ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فَقَالَ يَا أَبَا عَمْرٍو أَيْنَ قَالَ وَاهًا لِرِيحِ الْجَنَّةِ أَجِدُهَا دُونَ أُحُدٍ فَقَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ فَوُجِدَ فِي جَسَدِهِ بِضْعٌ وَثَمَانُونَ مِنْ بَيْنِ ضَرْبَةٍ وَطَعْنَةٍ وَرَمْيَةٍ فَقَالَتْ عَمَّتِي الرُّبَيِّعُ بِنْتُ النَّضْرِ فَمَا عَرَفْتُ أَخِي إِلاَّ بِبَنَانِهِ . وَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةَُ : (رجالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلاً ) .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার চাচা আনাস ইবনু নাযর- যার নামানুসারে আমার নাম রাখা হয়েছে- বলেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। ব্যাপারটি তার নিকট অসহনীয় লাগছিল। তিনি বলেন, মুশরিকদের সাথে প্রথম যে যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপস্থিত ছিলেন আমি তাতে অনুপস্থিত রইলাম। আল্লাহর কসম! যদি তিনি আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেন তবে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই দেখবেন আমি কি করি। এ কথা বলার সাথে সাথে তার ভয় হল যে, তিনি বিপরীতের কিছু বলেন কি না। পরবর্তী বছর তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে উহুদের যুদ্ধে শরীক হন। উহুদে যেতে পথিমধ্যে সা’দ ইবনু মুআয (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে তার দেখা হয়। তিনি প্রশ্ন করেন, হে আবু আমর! কোথায় যাচ্ছ? তিনি বললেন, আহা! জান্নাতের ঘ্রাণের দিকে। আমি উহুদের দিকে তা অনুভব করছি। (বর্ণনাকারী বলেন), তিনি যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন। তার শরীরে আশিরও বেশি জখম ছিল। এর মধ্যে কিছু ছিল তরবারির আঘাত, কিছু বর্শার আঘাত এবং কিছু তীরের আঘাত। আমার ফুফু রুবাই বিনতু নাযর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, জখমের কারণে আমি আমার ভাইকে চিনতে পারছিলাম না। শুধু তার আঙ্গুলের গোছা দেখেই তাকে চিনতে পেরেছি। তার সম্পর্কেই এ আয়াত অবতীর্ণ হল (অনুবাদ)ঃ “ঈমানদার ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহ তা'আলার সাথে তাদের কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে, তাদের কেউ কেউ নিজের ইচ্ছা পূর্ণ করেছে (শহীদ হয়েছে) এবং কেউ অপেক্ষায় রয়েছে। তারা নিজেদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করেনি"- (সূরা আহ্যাব ২৩)।
সহীহঃ মুসলিম (৬/৪৫-৪৬)
আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح مسلم
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ عَمَّهُ، غَابَ عَنْ قِتَالِ، بَدْرٍ فَقَالَ غِبْتُ عَنْ أَوَّلِ، قِتَالٍ قَاتَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُشْرِكِينَ لَئِنِ اللَّهُ أَشْهَدَنِي قِتَالاً لِلْمُشْرِكِينَ لَيَرَيَنَّ اللَّهُ كَيْفَ أَصْنَعُ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ انْكَشَفَ الْمُسْلِمُونَ فَقَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَبْرَأُ إِلَيْكَ مِمَّا جَاءَ بِهِ هَؤُلاَءِ . يَعْنِي الْمُشْرِكِينَ وَأَعْتَذِرُ إِلَيْكَ مِمَّا يَصْنَعُ هَؤُلاَءِ . يَعْنِي أَصْحَابَهُ ثُمَّ تَقَدَّمَ فَلَقِيَهُ سَعْدٌ فَقَالَ يَا أَخِي مَا فَعَلْتَ أَنَا مَعَكَ فَلَمْ أَسْتَطِعْ أَنْ أَصْنَعَ مَا صَنَعَ . فَوُجِدَ فِيهِ بِضْعٌ وَثَمَانُونَ مِنْ ضَرْبَةٍ بِسَيْفٍ وَطَعْنَةٍ بِرُمْحٍ وَرَمْيَةٍ بِسَهْمٍ فَكُنَّا نَقُولُ فِيهِ وَفِي أَصْحَابِهِ نَزَلَتْ : (فمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ ) . قَالَ يَزِيدُ يَعْنِي هَذِهِ الآيَةَ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَاسْمُ عَمِّهِ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ .
আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তার চাচা বদরের যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি (চাচা) বলেন, এটাই ছিল প্রথম যুদ্ধ যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুশরিকদের বিরুদ্ধে পরিচালনা করেন। অথচ এই প্রথম যুদ্ধেই আমি অংশগ্রহণ করতে পারলাম না। আল্লাহ তা'আলা যদি ভবিষ্যতে মুশরিকদের বিরুদ্ধে আমাকে কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন, তবে তিনি দেখবেন আমি কি করি। তারপর উহুদের যুদ্ধে মুসলিমরা পরাজয়ের সম্মুখীন হলে তিনি বলেন, “হে আল্লাহ! মুশরিকরা যে বিপদ নিয়ে এসেছে আমি তা হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর মুসলিমরা যা করেছে সে প্রসঙ্গে তোমার নিকট ওজরখাহি করছি।" তারপর তিনি সামনে আগালেন। তার সঙ্গে সা'দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাক্ষাৎ হলে তিনি বলেন, হে ভাই! তুমি কি করছ, আমি তোমার সাথে আছি। (সা’দ বলেন) কিন্তু সে যা করল আমি তা করতে ব্যর্থ হলাম। তার দেহে আশির বেশি জখম পাওয়া গেল। এর কতগুলো ছিল তরবারির আঘাত, কতগুলো বর্শার আঘাত এবং কতগুলো তীরের আঘাত। আমরা বলাবলি করতাম যে, তার ও তার বন্ধুদের বিষয়ে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে (অনুবাদ)ঃ “তাদের ভিতর কেউ কেউ ইচ্ছা পূর্ণ করেছে এবং কেউ সময় আসার অপেক্ষায় রয়েছে"- (সূরা আহযাব ২৩)।
সহীহঃ বুখারী (২৮০৫)
আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর চাচার নাম আনাস ইবনু নাযর ।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح بخاری
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْقُدُّوسِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَطَّارُ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى مُعَاوِيَةَ فَقَالَ أَلاَ أُبَشِّرُكَ قُلْتُ بَلَى . قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " طَلْحَةُ مِمَّنْ قَضَى نَحْبَهُ " .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثَ مُعَاوِيَةَ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَإِنَّمَا رُوِيَ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أَبِيهِ .
মূসা ইবনু ত্বালহা (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মু'আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট প্রবেশ করলে তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে একটি সুসংবাদ শুনাব না? আমি বললাম, হ্যা অবশ্যই। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ যারা নিজেদের ইচ্ছা পূর্ণ করেছে, ত্বালহা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাদের দলে।
হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (১২৬)
আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারব। আমরা শুধু উল্লেখিত সনদসূত্রে মু'আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে এ হাদীস জেনেছি এবং এটি মূসা ইবনু ত্বালহা হতে তার বাবার সনদে বর্ণিত হয়েছে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف ، ابن ماجہ (126۔127) وانظر الحدیث، الآتي (3740)، إسحاق بن یحیی بن طلحۃ ضعیف ، و الحدیث الآتي (الأصل: 3203) یغني، عنہ، (انوار الصحیفہ ص 285)
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ مُوسَى، وَعِيسَى، ابْنَىْ طَلْحَةَ عَنْ أَبِيهِمَا، طَلْحَةَ أَنَّ أَصْحَابَ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالُوا لأَعْرَابِيٍّ جَاهِلٍ سَلْهُ عَمَّنْ قَضَى نَحْبَهُ مَنْ هُوَ وَكَانُوا لاَ يَجْتَرِئُونَ عَلَى مَسْأَلَتِهِ يُوَقِّرُونَهُ وَيَهَابُونَهُ فَسَأَلَهُ الأَعْرَابِيُّ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ سَأَلَهُ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ سَأَلَهُ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ إِنِّي اطَّلَعْتُ مِنْ بَابِ الْمَسْجِدِ وَعَلَىَّ ثِيَابٌ خُضْرٌ فَلَمَّا رَآنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَيْنَ السَّائِلُ عَمَّنْ قَضَى نَحْبَهُ " . قَالَ الأَعْرَابِيُّ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا مِمَّنْ قَضَى نَحْبَهُ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ يُونُسَ بْنِ بُكَيْرٍ .
তালহা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ এক মূৰ্খ বেদুঈনকে বলল, তুমি গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন কর, “যারা নিজেদের মানৎ পূর্ণ করেছে" দ্বারা কাদের বুঝানো হয়েছে? সাহাবীগণ সরাসরি তার নিকট এ কথা প্রশ্ন করতে সাহস পাননি। তারা তাঁকে সম্মান ও সমীহ করতেন। বিদুঈন তাঁর নিকট ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করলে তিনি মুখ ফিরিয়ে নেন। সে আবারো তাকে প্রশ্ন করলে তিনি এবারও মুখ ফিরিয়ে নেন। সে আবারো তাকে প্রশ্ন করলে তিনি এবারও মুখ ফিরিয়ে নেন। তারপর আমি মাসজিদের দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকলাম। আমার পরনে ছিল সবুজ কাপড়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দেখে বললেনঃ প্রশ্নকারী কোথায়, যে ‘মানৎ পূর্ণকারীদের’ বিষয়ে প্রশ্ন করেছে? বেদুঈন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এই আমি। রাসূলুল্লাহঃ বললেনঃ যারা নিজেদের মানৎ পূর্ণ করেছে এ লোক (ত্বালহা) তাদের একজন।
হাসান সহীহঃ সহীহাহ (১/৩৬)
আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু ইউনুস ইবনু বুকাইরের সনদে এ হাদীস জেনেছি।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ حسن
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ لَمَّا أُمِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِتَخْيِيرِ أَزْوَاجِهِ بَدَأَ بِي فَقَالَ " يَا عَائِشَةُ إِنِّي ذَاكِرٌ لَكِ أَمْرًا فَلاَ عَلَيْكِ أَنْ لاَ تَسْتَعْجِلِي حَتَّى تَسْتَأْمِرِي أَبَوَيْكِ " . قَالَتْ وَقَدْ عَلِمَ أَنَّ أَبَوَاىَ لَمْ يَكُونَا لِيَأْمُرَانِي بِفِرَاقِهِ قَالَتْ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: ( يا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ ) حَتَّى بَلَغَ : ( للْمُحْسِنَاتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا ) فَقُلْتُ فِي أَىِّ هَذَا أَسْتَأْمِرُ أَبَوَىَّ فَإِنِّي أُرِيدُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ وَفَعَلَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ مَا فَعَلْتُ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا أَيْضًا عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رضى الله عنها .
আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে তার সহধর্মিণীগনকে (তার স্ত্রীত্বে থাকার বা পার্থিব ভোগবিলাস প্রহন করার) এখতিয়ার দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলে তিনি প্রথমে আমাকেই প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, হে আয়িশাহ! তোমাকে একটি কথা বলতে চাচ্ছি। তুমি ধীরস্থীরভাবে উত্তর দিবে, তাড়াহুড়া করবে না এবং প্রয়োজনে তোমার বাবা মার সাথেও শলা পরামর্শ করবে। আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তিনি ভালো করেই জানতেন যে, আমার পিতামাতা কখনো আমাকে তাঁর হতে পৃথক হওয়ার অনুমতি দিবেন না। ‘আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তারপর তিনি বললেন যে, আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “হে নবী! তোমার স্ত্রীদের বল, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার চাকচিক্য কামনা কর তবে এসো, আমি তোমাদের কিছু ভোগসামগ্রী দিয়ে ভদ্রভাবে বিদায় করে দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও আখিরাতের সুখ স্বাচ্ছন্দ লাভ করতে চাও, তবে তোমাদের ভিতর যারা সৎকর্মশীল তাদের জন্য আল্লাহ তায়ালা মহান পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন” – (সূরা আহযাব ২৮-২৯)। আমি বললাম, আমি কী বিষয়ে আমার পিতা মাতার সাথে পরামর্শ করব! আমি তো আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও আখিরাতের জীবনই কামনা করি। আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি যে উত্তর দিয়েছি, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অপর স্ত্রীগণও একই রকম উত্তর দেন।
সহীহঃ বুখারি (৪৭৮৬), মুসলিম।
আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সাহিহ । ইমাম জুহরি (রাহিমাহুল্লাহ) উরয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) হতে এবং তিনি আয়িশা (রাহিমাহুল্লাহ) হতে এই সুত্রেও এ হাদীস বর্ণিত আছে ।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الأَصْبَهَانِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، رَبِيبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلمَّ : ( إنمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا ) فِي بَيْتِ أُمِّ سَلَمَةَ فَدَعَا فَاطِمَةَ وَحَسَنًا وَحُسَيْنًا فَجَلَّلَهُمْ بِكِسَاءٍ وَعَلِيٌّ خَلْفَ ظَهْرِهِ فَجَلَّلَهُمْ بِكِسَاءٍ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ هَؤُلاَءِ أَهْلُ بَيْتِي فَأَذْهِبْ عَنْهُمُ الرِّجْسَ وَطَهِّرْهُمْ تَطْهِيرًا " . قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ وَأَنَا مَعَهُمْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَالَ " أَنْتِ عَلَى مَكَانِكِ وَأَنْتِ عَلَى خَيْرٍ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ عَطَاءٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ .
উমার ইবনু আবি সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, যিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আশ্রয়ে লালিত-পালিত হন। তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর ঘরে রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল (অনুবাদ) “আল্লাহ তা’আলা তো চান আহ্লে বাইত হতে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদের কে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে”– (সূরা আহযাবঃ ৩৩), তখন তিনি ফাতিমাহ, হাসান ও হুসাইন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে ডাকলেন এবং তাদেরকে একটি কম্বলের ভিতর ঢেকে নিলেন। আলি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর পেছনে ছিলেন। তিনি তাকেও কম্বলের ভিতরে নিয়ে নিলেন। তারপর তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহ! এরা আমার ‘আহলে বাইত’ (পরিবার সদস্য)। তুমি তাদের ভিতর হতে অপরিছন্নতা দূর করে দাও এবং সম্পূর্ণরূপে পরিচ্ছন্ন করে দাও”। উম্মু সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, হে আল্লাহর নবী! আমিও কি তাদের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেনঃ তুমি স্ব-স্থানে থাক এবং তুমি কল্যাণের মধ্যেই আছ।
সহীহঃ রাওযুন নাযির (৯৭৬, ১১৯০), মুসলিম।
আবু ঈসা বলেন, আমর ইবনু আবু সালামাহ হতে আতার রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীসটি গারিব ।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَمُرُّ بِبَابِ فَاطِمَةَ سِتَّةَ أَشْهُرٍ إِذَا خَرَجَ إِلَى صَلاَةِ الْفَجْرِ يَقُولُ " الصَّلاَةَ يَا أَهْلَ الْبَيْتِ : ( إنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا ) " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي الْحَمْرَاءِ وَمَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ وَأُمِّ سَلَمَةَ .
আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ছয় মাস পর্যন্ত এই চর্চা ছিল যে, তিনি ফজরের নামাযের জন্য ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ঘরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বলতেনঃ "হে আহ্লে বাইত! তোমরা নামায কায়িম কর। আল্লাহ্ তা'আলা ইচ্ছা করেন, তোমাদের নবীর ঘরের লোকদের মধ্য হতে ময়লা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে"।
যঈফ, প্রাগুক্ত
আবূ ঈসা বলেনঃ উল্লেখিত সনদসূত্রে এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধুমাত্র হাম্মাদ ইবনু সালামার সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এ অনুচ্ছেদে আবুল হামরাআ, মাকিল ইবনু ইয়াসার ও উম্মু সালামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف، علي بن زید: ضعیف ، (انوار الصحیفہ ص 285)
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ الزِّبْرِقَانِ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ لَوْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَاتِمًا شَيْئًا مِنَ الْوَحْىِ لَكَتَمَ هَذِهِ الآيَةَ : ( إِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ ) يَعْنِي بِالإِسْلاَمِ : ( وأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ ) بِالْعِتْقِ فَأَعْتَقْتَهُ : ( أمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ ) إِلَى قَوْلِهِ : (وكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولاً ) وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا تَزَوَّجَهَا قَالُوا تَزَوَّجَ حَلِيلَةَ ابْنِهِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى : ( ما كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ ) وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَبَنَّاهُ وَهُوَ صَغِيرٌ فَلَبِثَ حَتَّى صَارَ رَجُلاً يُقَالُ لَهُ زَيْدُ بْنُ مُحَمَّدٍ فَأَنْزَلَ اللَّهُ : ( ادعُوهُمْ لآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ ) فُلاَنٌ مَوْلَى فُلاَنٍ وَفُلاَنٌ أَخُو فُلاَنٍ (هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ ) يَعْنِي أَعْدَلُ عِنْدَ اللَّهِ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ .
আইশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি ওয়াহীর কোন অংশ গোপন করতেন তাহলে এই অংশ গোপন করতেনঃ “স্মরণ কর, যার প্রতি আল্লাহ্ তা’আলা (ইসলাম গ্রহণ করার) অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনিও যার উপর (দাসত্বমুক্ত করে) অনুগ্রহ করেছেন আপনি তাকে বলেছেন, তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখ এবং আল্লাহ্ তা’আলাকে ভয় কর। আপনি আপনার মনের মধ্যে যে কথা লুকিয়েছেন, তা আল্লাহ্ তা’আলা প্রকাশ করে দিচ্ছেন। আপনি লোকভয় করছিলেন, অথচ আল্লাহ্ তা’আলাকে ভয় করা আপনার পক্ষে অধিকতর সংগত। পরে যাইদ যখন তার (যাইনাবের) সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে (যাইনাবকে) আপনার নিকট বিয়ে দিলাম, যেন মু’মিনদের পালিত ছেলেরা নিজ স্ত্রীর সাথে বিবাহ সূত্র ছিন্ন করলে সেই সব নারীদের বিবাহ করায় মু’মিন লোকদের কোন অসুবিধা না থাকে। আল্লাহ্ তা’আলার নির্দেশ কার্যকারী হয়েই থাকে” (সূরাঃ আল-আহযাব- ৩৭)।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাকে (যাইনাবকে) বিয়ে করলেন তখন লোকেরা বলতে লাগল, তিনি নিজের ছেলের বিবিকে বিয়ে করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা’আলা আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষ লোকদের মধ্যে কারো পিতা নন, বরং আল্লাহ্র রাসূল ও সর্বশেষ নবী” (সূরাঃ আল-আহযাব- ৪০)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে পালিত পুত্র বানিয়েছিলেন। তিনি (যাইদ) তখন বালক ছিলেন। তিনি তাঁর কাছে থাকলেন এবং ধীরে ধীরে বেড়ে উঠলেন। তাকে যাইদ ইবনু মুহাম্মাদ বলে ডাকা হত। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা’আলা আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “পালিত ছেলেদেরকে তোমরা তাদের পিতার সাথে সম্পর্ক সূত্রে ডাকো, এটা আল্লাহ্ তা’আলার নিকটে বেশি ন্যায়সংগত।
আর তোমরা যদি তাদের পিতার পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের দীনী ভাই এবং সাথী” (সূরাঃ আল-আহযাব- ৫) অর্থাৎ অমুক অমুকের বন্ধু এবং অমুক অমুকের ভাই। এটাই আল্লাহ্ তা’আলার নিকট বেশি ন্যায়সংগত কথা অর্থাৎ আল্লাহ্ তা’আলার নিকটে বেশি ন্যায়ানুগ কথা।
সনদ অত্যন্ত দুর্বল
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। অন্য এক সূত্রে এ হাদীস দাঊদ ইবনু আবূ হিন্দ হতে, তিনি শাবী হতে, তিনি মাসরূক হতে, তিনি আইশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করেছেন। আইশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি ওয়াহীর কোন অংশ গোপন করতেন, তবে এই আয়াত গোপন করতেনঃ ‘যখন তুমি সেই ব্যক্তিকে বলেছিলে, যার প্রতি আল্লাহ্ তা’আলা এবং তুমি অনুগ্রহ করেছিলে….” আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এ সূত্রে হাদীসটি বিস্তারিত আকারে বর্ণিত হয়নি। এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনু ওয়ায্যাহ আলকূফী, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু ইদরীস হতে, তিনি দাঊদ ইবনু আবী হিন্দ হতে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف الإسناد جدا
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف جدًا، داود بن الزبرقان: متروک وکذبہ، الأزدي (تقریب: 1785) ، والحدیث الآتي (الأصل: 3208) یغني، عنہ، (انوار الصحیفہ ص 285)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ لَوْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَاتِمًا شَيْئًا مِنَ الْوَحْىِ لَكَتَمَ هَذِهِ الآيَةَِ : ( إذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ ) الآيَةَ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি ওয়াহীর কোন অংশ গোপনকারী হতেন, তাহলে অবশ্যই তিনি এ আয়াত গোপন করতেন (অনুবাদ)ঃ “যখন তুমি সে লোককে বলেছিলে যার প্রতি আল্লাহ তা‘আলা এবং তুমি দয়া করেছিলে......”- (সূরা আহ্যাব ৩৭) শেষ পর্যন্ত।
সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
-
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ مَا كُنَّا نَدْعُو زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ إِلاَّ زَيْدَ بْنَ مُحَمَّدٍ حَتَّى نَزَلَ الْقُرْآنُ : ( ادعُوهُمْ لآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ ) .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যাইদ ইবনু হারিসাহ্ না ডেকে বরং যাইদ ইবনু মুহাম্মাদ ডাকতাম। অবশেষে নাযিল হলঃ “তোমরা তাদেরকে তাদের পিতার পরিচয়ে ডাকো। এটাই আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট বেশি ন্যায়সঙ্গত”- (সূরা আহ্যাব ৫)।
সহীহঃ বুখারী (৪৭৮২), মুসলিম।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ قَزَعَةَ، - بَصْرِيٌّ - حَدَّثَنَا مَسْلَمَةُ بْنُ عَلْقَمَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، فِي قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ : ( ما كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ ) قَالَ مَا كَانَ لِيَعِيشَ لَهُ فِيكُمْ وَلَدٌ ذَكَرٌ .
আমির আশ-শাবী (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তিনি আল্লাহ্র বাণীঃ “মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নন” (সূরাঃ আল-আহ্যাব- ৪০) প্রসঙ্গে বলেনঃ এ আয়াতের ভাবার্থ হচ্ছেঃ তোমাদের মাঝে তাঁর কোন ছেলে সন্তান জীবিত থাকবে না।
যঈফ, সনদ বিচ্ছিন্ন
-
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف مقطوع
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ حسن
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ حُسَيْنٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أُمِّ عُمَارَةَ الأَنْصَارِيَّةِ، أَنَّهَا أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ مَا أَرَى كُلَّ شَيْءٍ إِلاَّ لِلرِّجَالِ وَمَا أَرَى النِّسَاءَ يُذْكَرْنَ بِشَيْءٍ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ : (إن الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ) الآيَةَ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَإِنَّمَا يُعْرَفُ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
উম্মু ‘উমারাহ্ আল-আনসারিয়্যাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেনঃ আমি (কুরআনে) প্রতিটি প্রসঙ্গ পুরুষদের জন্যই উল্লেখিত দেখতে পাচ্ছি। অথচ মহিলাদের প্রসঙ্গে কোন বিষয়ে আলোচনা দেখছি না। তখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ)ঃ “নিশ্চয় যেসব পুরুষ ও স্ত্রীলোক মুসলিম, মু’মিন, আল্লাহ্ তা‘আলার অনুগত, সত্য পথের পথিক, ধৈর্যশীল, আল্লাহ্ তা‘আলাকে ভয়কারী, দান-খাইরাতকারী রোযা পালনকারী, নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাযাতকারী এবং বেশি পরিমাণে আল্লাহ্ তা‘আলাকে মনে করে, আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কার রেখেছেন”- (সূরা আহ্যাব ৩৫)।
সনদ সহীহ।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। উল্লেখিত সনদেই শুধু আমরা এ হাদীস জেনেছি।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح الإسناد
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: حسن
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ : (وتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ ) فِي شَأْنِ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ جَاءَ زَيْدٌ يَشْكُو فَهَمَّ بِطَلاَقِهَا فَاسْتَأْمَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ " .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (অনুবাদ)ঃ “তুমি (নাবী) নিজের মনে সে কথা লুকিয়ে রেখেছিলে, যা আল্লাহ্ তা‘আলা প্রকাশ করবেন”- (সূরা আহ্যাব ৩৭), এ আয়াত তখন অবতীর্ণ হয় যাইদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন যাইনাব বিনতু জাহ্শ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রসঙ্গে অভিযোগ করতে এলেন। তিনি যাইনাবকে ত্বালাক্ব দেয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অনুমতি চান। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “তোমার স্ত্রীকে স্বীয় বিবাহধীনে রাখ এবং আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় কর”- (সূরা আহ্যাব ৩৭)।
সহীহঃ বুখারী (৭৪২০)
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح بخاری
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِي زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ : (فلَمَّا قَضَى زَيْدٌ مِنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَاكَهَا ) قَالَ فَكَانَتْ تَفْتَخِرُ عَلَى أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَقُولُ زَوَّجَكُنَّ أَهْلُكُنَّ وَزَوَّجَنِي اللَّهُ مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سَمَوَاتٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যাইনাব বিনতু জাহশ সম্পর্কে যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল (অনুবাদ)ঃ “তারপর যাইদ যখন তার (যাইনাবের) সাথে বিয়ের সম্পর্ক শেষ করল তখন আমরা তাকে (যাইনাবকে) তোমার কাছে বিয়ে দিলাম,” তখন যাইনাব বিনতু জাহ্শ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীদের সামনে গর্ব ভরে বলতেন, তোমাদেরকে তোমাদের পরিবারের লোকেরা বিয়ে দিয়েছেন, আর আমাকে বিয়ে দিয়েছেন সাত আসমানের উপর হতে আল্লাহ তা‘আলা।
সহীহঃ মুখাতাসার আল-ঊলুয়ি (৮৪/৬), বুখারী।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح بخاری
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أُمِّ هَانِئٍ بِنْتِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَتْ خَطَبَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاعْتَذَرْتُ إِلَيْهِ فَعَذَرَنِي ثُمَّ أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى : (إنَّا أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَاجَكَ اللاَّتِي آتَيْتَ أُجُورَهُنَّ وَمَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْكَ وَبَنَاتِ عَمِّكَ وَبَنَاتِ عَمَّاتِكَ وَبَنَاتِ خَالِكَ وَبَنَاتِ خَالاَتِكَ اللاَّتِي هَاجَرْنَ مَعَكَ وَامْرَأَةً مُؤْمِنَةً إِنْ وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِيِّ ) الآيَةَ قَالَتْ فَلَمْ أَكُنْ أَحِلُّ لَهُ لأَنِّي لَمْ أُهَاجِرْ كُنْتُ مِنَ الطُّلَقَاءِ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ السُّدِّيِّ .
আবূ তালিব-কন্যা উম্মু হানী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বিয়ে করার পয়গাম পাঠান। আমি তাঁকে নিজের অক্ষমতা জানালাম। তিনি আমার আপত্তি গ্রহণ করলেন। তারপর আল্লাহ্ তা’আলা আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “হে নবী! আমরা তোমার জন্য বৈধ করেছি তোমার সেই স্ত্রীদের, যাদের মোহরানা তুমি আদায় করেছ এবং সেই মহিলাদেরকেও (বৈধ করেছি), যারা আল্লাহ্ তা’আলার দেয়া দাসীদের মধ্য হতে তোমার মালিকানাভুক্ত হয়েছে, তোমার সেই চাচাতো, ফুফাতো ও মামাতো বোনদেরকেও (বৈধ করেছি), যারা তোমার সাথে হিযরাত করে এসেছে, সেই মু’মিন মহিলাকেও, যে নিজেকে নবীর জন্য হেবা করে, যদি নবী তাকে বিয়ে করতে চায়। এই সুবিধাদান বিশেষভাবে তোমার জন্য, অন্যান্য ইমানদার লোকদের জন্য নয়” (সূরাঃ আল-আহ্যাব- ৫০)। রাবী (উম্মু হানী) বলেনঃ এ কারণেই আমি তাঁর জন্য বৈধ ছিলাম না। কেননা আমি তাঁর সাথে হিযরাত করিনি, আমি ছিলাম তুলাকাভুক্ত।
সনদ অত্যন্ত দুর্বল
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আমরা শুধু উল্লেখিত সূত্রেই সুদ্দীর হাদীস হিসেবে জেনেছি।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف الإسناد جدا
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف، أبو صالح: ضعیف ، (انوار الصحیفہ ص 285)
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ بَهْرَامَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رضى الله عنهما نُهِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَصْنَافِ النِّسَاءِ إِلاَّ مَا كَانَ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ الْمُهَاجِرَاتِ قَالَ : ( لا يَحِلُّ لَكَ النِّسَاءُ مِنْ بَعْدُ وَلاَ أَنْ تَبَدَّلَ بِهِنَّ مِنْ أَزْوَاجٍ وَلَوْ أَعْجَبَكَ حُسْنُهُنَّ إِلاَّ مَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ ) فَأَحَلَّ اللَّهُ فَتَيَاتِكُمُ الْمُؤْمِنَاتِ وَامْرَأَةً مُؤْمِنَةً إِنْ وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِيِّ وَحَرَّمَ كُلَّ ذَاتِ دِينٍ غَيْرَ الإِسْلاَمِ ثُمَّ قَالَ : (ومَنْ يَكْفُرْ بِالإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ ) وَقَالَ : ( يا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَاجَكَ اللاَّتِي آتَيْتَ أُجُورَهُنَّ وَمَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْكَ ) إِلَى قَوْلِهِ : ( خالِصَةً لَكَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ) وَحَرَّمَ مَا سِوَى ذَلِكَ مِنْ أَصْنَافِ النِّسَاءِ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ بَهْرَامَ . قَالَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْحَسَنِ يَقُولُ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلِ لاَ بَأْسَ بِحَدِيثِ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ بَهْرَامَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ .
ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে হিযরাতকারিনী মু’মিন স্ত্রীলোকদের ছাড়া অন্য স্ত্রীলোকদেরকে বিয়ে করতে মানা করা হয়েছে। অতএব আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেনঃ “এরপর তোমার জন্য কোন নারী হালাল নয় এবং তোমার স্ত্রীদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করারও অনুমতি নেই, যদিও তাদের রূপ সৌন্দর্য তোমাকে মুগ্ধ করে। তবে তোমার অধিকারভুক্ত দাসীদের ব্যাপার স্বতন্ত্র” (সূরাঃ আল-আহ্যাব- ৫২)। আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের মু’মিন দাসীদের বৈধ করেছেন। “এবং সেই মু’মিন নারীকেও (বৈধ করা হয়েছে) যে নিজেকে নবীর জন্য হেবা করে” (সূরাঃ আল-আহ্যাব- ৫০)। মুসলমান স্ত্রীলোক ব্যতীত অন্যান্য ধর্মের স্ত্রীলোকদের বিয়ে করা তাঁর জন্য অবৈধ করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ “কেউ ঈমান অস্বীকার করলে তার সকল কর্মফল নিষ্ফল হবে এবং আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে” (সূরাঃ আল-মায়িদাহ- ৫)। আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেছেনঃ “হে নবী! আমরা তোমার জন্য বৈধ করেছি তোমার সেই স্ত্রীদের যাদের মোহরানা তুমি পরিশোধ করেছ, সেই মহিলাদেরকেও যারা আল্লাহ্ তা’আলার দেয়া দাসীদের মধ্য হতে তোমার মালিকানাভুক্ত হয়…. এই বিশেষ সুবিধা শুধু তোমাকেই দেয়া হয়েছে, মু’মিনদেরকে নয়” (সূরাঃ আল-আহ্যাব- ৫০)। এ ছাড়া অন্য সব ধরনের মহিলাদের অবৈধ করা হয়েছে।
সনদ দুর্বল,
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। আমরা শুধু আব্দুল হামীদ ইবনু বাহরামির রিওয়ায়াত হিসেবেই এ হাদীস জেনেছি। আমি আহমাদ ইবনুল হাসানকে বলতে শুনেছি, ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, শাহ্র ইবনু হাওশাবের সূত্রে আবদুল হামীদ ইবনু বাহরামের বর্ণিত হাদীসে আপত্তির কিছু নেই।
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ حسن
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ مَا مَاتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أُحِلَّ لَهُ النِّسَاءُ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তিকালের পূর্বেই এ সব স্ত্রীলোক তাঁর জন্য হালাল করা হয়।
সনদ সহীহ।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح الإسناد
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ صحیح