হাদীস বিএন


সুনান আত-তিরমিযী





সুনান আত-তিরমিযী (3257)


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الأَسْوَدِ أَبُو عَمْرٍو الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَأَى مَخِيلَةً أَقْبَلَ وَأَدْبَرَ فَإِذَا مَطَرَتْ سُرِّيَ عَنْهُ ‏.‏ قَالَتْ فَقُلْتُ لَهُ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ وَمَا أَدْرِي لَعَلَّهُ كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى ‏:‏ ‏(‏فلمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا هَذَا عَارِضٌ مُمْطِرُنَا ‏)‏ ‏"‏ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏




আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন দেখতেন তখন (অস্থির হয়ে) একবার সামনে যেতেন আবার পেছনে যেতেন। তারপর বৃষ্টি বর্ষিত হলে তাঁর অস্থিরতা দূর হত। তিনি (‘আয়িশাহ) বলেন, আমি তাকে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ আমি জানি না, এটা সেই আযাব কিনা যে প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেনঃ “তারপর তারা যখন তাদের উপত্যকার দিকে মেঘ আসতে দেখল তখন বলতে লাগল, এ তো মেঘ, আমাদেরকে বৃষ্টি দান করবে”- (সূরা আহক্বাফ ২৪)

সহীহঃ সহীহাহ (২৭৫৭) বুখারী, মুসলিম।

আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান ।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ









সুনান আত-তিরমিযী (3258)


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ دَاوُدَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ قُلْتُ لاِبْنِ مَسْعُودٍ رضى الله عنه هَلْ صَحِبَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ الْجِنِّ مِنْكُمْ أَحَدٌ قَالَ مَا صَحِبَهُ مِنَّا أَحَدٌ وَلَكِنْ قَدِ افْتَقَدْنَاهُ ذَاتَ لَيْلَةٍ وَهُوَ بِمَكَّةَ فَقُلْنَا اغْتِيلَ أَوِ اسْتُطِيرَ مَا فُعِلَ بِهِ فَبِتْنَا بِشَرِّ لَيْلَةٍ بَاتَ بِهَا قَوْمٌ حَتَّى إِذَا أَصْبَحْنَا أَوْ كَانَ فِي وَجْهِ الصُّبْحِ إِذَا نَحْنُ بِهِ يَجِيءُ مِنْ قِبَلِ حِرَاءَ قَالَ فَذَكَرُوا لَهُ الَّذِي كَانُوا فِيهِ فَقَالَ ‏"‏ أَتَانِي دَاعِيَ الْجِنِّ فَأَتَيْتُهُمْ فَقَرَأْتُ عَلَيْهِمْ ‏"‏ ‏.‏ فَانْطَلَقَ فَأَرَانَا آثَارَهُمْ وَآثَارَ نِيرَانِهِمْ ‏.‏ قَالَ الشَّعْبِيُّ وَسَأَلُوهُ الزَّادَ وَكَانُوا مِنْ جِنِّ الْجَزِيرَةِ فَقَالَ ‏"‏ كُلُّ عَظْمٍ لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ يَقَعُ فِي أَيْدِيكُمْ أَوْفَرَ مَا كَانَ لَحْمًا وَكُلُّ بَعْرَةٍ أَوْ رَوْثَةٍ عَلَفٌ لِدَوَابِّكُمْ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فَلاَ تَسْتَنْجُوا بِهِمَا فَإِنَّهُمَا زَادُ إِخْوَانِكُمْ مِنَ الْجِنِّ ‏"‏ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.




আলক্বামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি ইবনু মাস’উদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে প্রশ্ন করলাম, জিনের রাতে আপনাদের কেউ কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথী ছিলেন? তিনি বললেন, আমাদের কেউ তাঁর সঙ্গে ছিল না। তবে তিনি মক্কাতে থাকার সময় এক রাতে আমাদের হতে হারিয়ে গেলেন। আমরা বলাবলি করলাম, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে অথবা অপহরণ করা হয়েছে, এরকম কিছু করা হয়েছে। আমরা খুবই অশান্তিতে রাত কাটালাম। তারপর খুব ভোরে হঠাৎ দেখলাম তিনি হেরা পর্বতের দিক হতে আসছেন। রাবী বলেনঃ তাঁর নিকটে সকলে বিগত রাতের অস্থিরতার কথা বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ আমার নিকট জিনদের এক প্রতিনিধি এসেছিল। আমি তাদের কাছে গিয়ে কুরআন পাঠ করেছি। তারপর তিনি এগিয়ে গিয়ে তাদের বিভিন্ন প্রমাণ ও আগুনের চিহ্ন দেখান। শা’বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ জিনেরা তার নিকটে তাদের খাবার চাইল। তারা ছিল কোন এক উপদ্বীপের অধিবাসী। তিনি তাদের বলেন, যে সব হাড়ে আল্লাহ্‌ তা’আলার নাম নেয়া হয়েছে সেগুলো তোমাদের হাতে আসার সাথে সাথে গোশত পূর্ণ হয়ে যাবে, যেমন পূর্বে তা গোশতে পূর্ণ ছিল। আর সব রকমের বিষ্ঠা ও গোবর তোমাদের পশুর খাদ্য। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আমাদেরকে) বললেনঃ তোমরা এগুলো ঢিলা হিসেবে ব্যবহার করবে না। কেননা এগুলো তোমাদের ভাই জিনদের খাদ্য।

যে হাড়ে “আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে” এবং “তোমাদের পশুর খাদ্য” এই শব্দ ব্যতীত হাদীসটি সহীহ। যঈফাহ (১০৩৮)

আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ ।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح دون جملة اسم الله




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ صحیح









সুনান আত-তিরমিযী (3259)


حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه ‏:‏ ‏(‏واسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ‏)‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةً ‏"‏ ‏.‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ - وَيُرْوَى عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَيْضًا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ ‏"‏ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ ‏"‏ ‏.‏ وَرَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ‏.




আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, “তোমার দোষের জন্য এবং ঈমানদার নারী-পুরুষদের জন্য তুমি ক্ষমা চাও” – (সূরা মুহাম্মাদ ১৯)। উক্ত আয়াত প্রসঙ্গে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমি আল্লাহ্‌ তা’আলার নিকট প্রতিদিন সত্তরবার ক্ষমা প্রার্থনা করি।

সহীহঃ বুখারী (৬৩০৭), তাতে আছে সত্তর বারেরও বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করি

আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অপর একটি হাদীসে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ ........... আমি আল্লাহ্‌ তা’আলার নিকট দৈনিক এক শতবার ক্ষমা প্রার্থনা করি”। একাধিক সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত আছেঃ “নিশ্চয় আমি দৈনিক এক শতবার আল্লাহ্‌ তা’আলার কাছে ক্ষমা চাই”। এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু ‘আম্র-আবূ সালামাহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ بلفظ أكثر من سبعين مرة




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح بخاری









সুনান আত-তিরমিযী (3260)


حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا شَيْخٌ، مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ تَلاَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا هَذِهِ الآيَة ‏:‏ ‏(‏وإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لاَ يَكُونُوا أَمْثَالَكُمْ ‏)‏ قَالُوا وَمَنْ يُسْتَبْدَلُ بِنَا قَالَ فَضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى مَنْكِبِ سَلْمَانَ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ هَذَا وَقَوْمُهُ هَذَا وَقَوْمُهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ فِي إِسْنَادِهِ مَقَالٌ ‏.‏ وَقَدْ رَوَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ أَيْضًا هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ‏.




আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেন (অনুবাদ) “যদি তোমরা বিমুখ হও, তাহলে তিনি অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলবর্তী করবেন। তারপর তারা তোমাদের মত হবে না” – (সূরা মুহাম্মাদ ৩৮)। উপস্থিত সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, কোন লোকদেরকে আমাদের স্থলবর্তী করা হবে? বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) –এর কাঁধে ঝাঁকুনি দিয়ে বলেনঃ এ লোক ও তার জাতি, এ লোক ও তার জাতি।

সহীহঃ সহীহাহ ২য় সংস্করণ (১০১৭)

আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এর সনদসূত্র প্রসঙ্গে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফারও হাদীস ‘আলা ইবনু ‘আব্দুর রহমান হতে বর্ণনা করেছেন ।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف، شیخ من أھل المدینۃ مجہول ، (انوار الصحیفہ ص 287)









সুনান আত-তিরমিযী (3261)


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ نَجِيحٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ قَالَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ هَؤُلاَءِ الَّذِينَ ذَكَرَ اللَّهُ إِنْ تَوَلَّيْنَا اسْتُبْدِلُوا بِنَا ثُمَّ لَمْ يَكُونُوا أَمْثَالَنَا قَالَ وَكَانَ سَلْمَانُ بِجَنْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخِذَ سَلْمَانَ قَالَ ‏ "‏ هَذَا وَأَصْحَابُهُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ كَانَ الإِيمَانُ مَنُوطًا بِالثُّرَيَّا لَتَنَاوَلَهُ رِجَالٌ مِنْ فَارِسَ ‏"‏ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ نَجِيحٍ هُوَ وَالِدُ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ وَقَدْ رَوَى عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ الْكَثِيرَ ‏.‏ وَحَدَّثَنَا عَلِيٌّ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ ‏.




আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কয়েকজন সাহাবী প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্‌ তা’আলা যে বলেছেন, যদি আমরা বিমুখ হই তবে আমাদের বাদে অন্যদেরকে প্রতিষ্ঠিত করা হবে, তারপর তারা আমাদের ন্যায় হবে না, সেসব ব্যক্তি কারা? বর্ণনাকারী বলেন, সালমান ফারসী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটেই ছিলেন। সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর উরুতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃদু আঘাত করে বলেন, ইনি ও তার সাথীরা। সেই সত্তার ক্বসম, যার হাতে আমার প্রাণ! ঈমান যদি সুরাইয়াহ নক্ষত্রের সাথেও ঝুলন্ত থাকত, তবুও পারস্যের কিছু ব্যক্তি তা নিয়ে আসত।

সহীহঃ প্রাগুপ্ত, বুখারী ও মুসলিমে হাদীসের শেষ অংশ বর্ণিত হয়েছে।

আবূ ‘ঈসা বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফার ইবনু নাজীহ হলেন ‘আলী ইবনু মাদীনীর পিতা। ‘আলী ইবনু হুজর (রাহিমাহুল্লাহ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফারের সূত্রে অনেক কিছু বর্ণনা করেছেন। আমার নিকট এ হাদীস বর্ণনা করেছেন ‘আলী (রাহিমাহুল্লাহ)-ইসমাঈল ইবনু জা’ফার ইবনু নাজীহ সূত্রে ‘আবদুল্লাহ ইবনু জ্জা’ফার হতে। বিশর ইবনু মি’আয ‘আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফার হতে, তিনি আলা-‘আলা হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন তবে তাতে ‘মানুতান শব্দের পরিবর্তে’ মু’আল্লাকান শব্দ আছে।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح وعند البخاري ومسلم شطره الأخير




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف، عبداللّٰہ بن جعفر بن نجیح ضعیف، (تقریب: 3255) و سقط ذکرہ من دلائل النبوۃ للبیہقي (334/6) ، و تابعہ مسلم بن خالد الزنجي وھو ضعیف، (سنن أبي داود:3510) ، و حدیث البخاري (4897۔4898) یغني، عنہ، (انوار الصحیفہ ص 287)









সুনান আত-তিরমিযী (3262)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَثْمَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رضى الله عنه يَقُولُ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ فَكَلَّمْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَكَتَ ثُمَّ كَلَّمْتُهُ فَسَكَتَ ثُمَّ كَلَّمْتُهُ فَسَكَتَ فَحَرَّكْتُ رَاحِلَتِي فَتَنَحَّيْتُ وَقُلْتُ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ نَزَرْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَ مَرَّاتٍ كُلُّ ذَلِكَ لاَ يُكَلِّمُكَ مَا أَخْلَقَكَ أَنْ يَنْزِلَ فِيكَ قُرْآنٌ قَالَ فَمَا نَشِبْتُ أَنْ سَمِعْتُ صَارِخًا يَصْرُخُ بِي قَالَ فَجِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ لَقَدْ أُنْزِلَ عَلَىَّ هَذِهِ اللَّيْلَةَ سُورَةٌ مَا أُحِبُّ أَنَّ لِي بِهَا مَا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ ‏:‏ ‏(‏إنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا ‏)‏ ‏"‏ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ وَرَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنْ مَالِكٍ مُرْسَلاً ‏.‏




‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কিছু বললে তিনি নির্বাক থাকেন। আমি আমার কথার পুনরাবৃত্তি করলে তিনি এবারও নীরব রইলেন। আমি আমার কথা পুনর্ব্যক্ত করলে তিনি এবারও নীরব থাকেন। অতএব আমি আমার জন্তুজান হাঁকিয়ে একপাশে চলে গেলাম এবং মনে মনে বললেম, হে খাত্তাবের পুত্র! তোমার মা তোমাকে হারাক। তুমি তিন তিনবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করে বিরক্ত করলে, অথচ একবারও তিনি কথা বলেননি। এখন তোমার প্রসঙ্গে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি বলেন, মুহূর্তকাল অতিবাহিত না হতেই আমি শুনতে পেলাম, কে যেন চিৎকার করে আমাকে ডাকছে। অতএব আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলাম। তিনি বললেনঃ হে ইবনুল খাত্তাব! আজ রাতে আমার উপর এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে, যার পরিবর্তে সারা জগতের সকল কিছু আমাকে দেয়া হলেও আমি তা পছন্দ করব না। সেই সূরাটি হল (অনুবাদ) “নিশ্চয়ই আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়” – (সূরা ফাতহ ১)

সনদ সহীহ, বুখারী (৪৮৩৭)



আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব। কোন কোন বর্ণনাকারী হাদীসটি মালিক হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح بخاری









সুনান আত-তিরমিযী (3263)


حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، رضى الله عنه قَالَ أُنْزِلَتْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلمَ ‏:‏ ‏(‏ليغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ ‏)‏ مَرْجِعَهُ مِنَ الْحُدَيْبِيَةِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَىَّ آيَةٌ أَحَبُّ إِلَىَّ مِمَّا عَلَى الأَرْضِ ثُمَّ قَرَأَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِمْ فَقَالُوا هَنِيئًا مَرِيئًا يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَدْ بَيَّنَ اللَّهُ لَكَ مَاذَا يُفْعَلُ بِكَ فَمَاذَا يُفْعَلُ بِنَا فَنَزَلَتْ عَلَيْهِ ‏:‏ ‏(‏ ليُدْخِلَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الأَنْهَارُ ‏)‏ حَتَّى بَلَغَ ‏:‏ ‏(‏فوزًا عَظِيمًا ‏)‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَفِيهِ عَنْ مُجَمِّعِ بْنِ جَارِيَةَ ‏.‏




আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুদাইবিয়া হতে প্রত্যাবর্তনের সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর উপর আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “যেন আল্লাহ্‌ তা’আলা তোমার অতীত ও ভবিষ্যৎ ভুলসমূহ মাফ করেন” – (সূরা আল ফাতহ, ২), তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমার উপর এমন একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যা আমার নিকটে দুনিয়ার সবকিছু হতে প্রিয়। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণের সামনে আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মুবারাকবাদ! এটি আপনার জন্য অভিনন্দন। আপনার সাথে কেমন আচরণ করা হবে, তাতো আল্লাহ্‌ তা’আলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের সাথে কেমন ব্যবহার করা হবে? তখন তার উপর এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “তা এজন্য যে, তিনি ঈমানদার পুরুষ ও মহিলাদের জান্নাতে দাখিল করাবেন, যার নিম্নদেশে প্রবাহিত হয় নহরসমূহ। সেখানে তারা অনন্তকাল থাকবে এবং তিনি তাদের পাপসমূহ মার্জনা করবেন। এটাই আল্লাহ্‌ তা’আলার সমীপে মহা সাফল্য।” (সূরা আল-ফাতহ ২)

সনদ সহীহ, বুখারী (৪৭১২) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মুবারাকবাদ .... এই অংশটুকু মুরসাল, মুসলিম (৫/১৭৬) আনাস হতে ঐ অতিরিক্ত অংশ ব্যতীত, তা শাজ।



আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদের মুজাম্মি’ ইবনু জারিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح الإسناد. رواه البخاري لكن جعل قوله فقالوا




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح









সুনান আত-তিরমিযী (3264)


حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ ثَمَانِينَ، هَبَطُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ مِنْ جَبَلِ التَّنْعِيمِ عِنْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ وَهُمْ يُرِيدُونَ أَنْ يَقْتُلُوهُ فَأُخِذُوا أَخْذًا فَأَعْتَقَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللَّهُ ‏:‏ ‏(‏ هُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ ‏)‏ الآيَةَ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.




আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, একদা আশিজন কাফির ফাজরের সময় ‘তান’ঈম পাহাড় হতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণকে হত্যা করার উদ্দেশে নেমে আসে। তারা সকলেই গ্রেপ্তার হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে ছেড়ে দিলেন। তখন আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “তিনি সেই সত্তা যিনি (মক্কা উপত্যকায় তাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করার পর) তাদের হাত তোমাদের হতে এবং তোমাদের হাত তাদের হতে নিবারিত করেছেন। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ্‌ তা’আলা তা দেখেন” –(সূরা ফাতহ ২৪)

সহীহঃ সহীহ আবু দাঊদ (২৪০৮), মুসলিম।

আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ ।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح مسلم









সুনান আত-তিরমিযী (3265)


حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ قَزْعَةَ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حَبِيبٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ ثُوَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الطُّفَيْلِ بْنِ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلمَ ‏:‏ ‏(‏ وألْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَى ‏)‏ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ‏.‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ الْحَسَنِ بْنِ قَزْعَةَ قَالَ وَسَأَلْتُ أَبَا زُرْعَةَ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَلَمْ يَعْرِفْهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏




উবাই ইবনু ক্বা’ব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্‌ তা’আলার বাণী (অনুবাদ) “তিনি তাদেরকে তাক্বওয়ার বাক্যে সুদৃঢ় করলেন” – (সূরা ফাতহ ২৬) প্রসঙ্গে বলেনঃ এ বাক্যের অর্থ হল, কালিমা “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ”।

আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু হাসান ইবনু কাযা’আর সনদে এ হাদীস মারফু’রূপে জেনেছি। এ হাদীস প্রসঙ্গে আমি আবূ যুর’আকে প্রশ্ন করলে তিনি উপর্যুক্ত সুত্র ব্যতীত এটিকে মারফু’রূপে রিওয়ায়াত হওয়া প্রসঙ্গে অজ্ঞতা প্রকাশ করেন।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: حسن









সুনান আত-তিরমিযী (3266)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُؤَمِّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ بْنِ جَمِيلٍ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ، قَدِمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ اسْتَعْمِلْهُ عَلَى قَوْمِهِ ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ لاَ تَسْتَعْمِلْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ فَتَكَلَّمَا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى ارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ لِعُمَرَ مَا أَرَدْتَ إِلاَّ خِلاَفِي ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ مَا أَرَدْتُ خِلاَفَكَ قَالَ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ‏:‏ ‏(‏ يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ ‏)‏ فَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بَعْدَ ذَلِكَ إِذَا تَكَلَّمَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يُسْمِعْ كَلاَمَهُ حَتَّى يَسْتَفْهِمَهُ ‏.‏ قَالَ وَمَا ذَكَرَ ابْنُ الزُّبَيْرِ جَدَّهُ يَعْنِي أَبَا بَكْرٍ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَقَدْ رَوَى بَعْضُهُمْ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ مُرْسَلٌ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ ‏.




আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, আল-আক্বরা ইবনু হাবিস রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এলে আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাঁকে তার গোত্রের কর্মকর্তা নিয়োগ করুন। ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাকে কর্মচারীর পদে নিয়োগ করবেন না। তারা পরস্পরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সম্মুখে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হন এবং তাদের কন্ঠস্বর চরমে পৌঁছে। আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)–কে বললেন, আমার বিরোধিতা করাই আপনার একমাত্র লক্ষ্য। ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমার লক্ষ্য আপনার বিরোধিতা করা নয়। বর্ণনাকারী বলেন, এ আয়াতটি তখন অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “হে ঈমানদারগণ! নাবীর কণ্ঠস্বরের উপর তোমরা নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না” –(সূরা হুজুরাত ২)। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর হতে ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে কথা বললে তার কথা শুনা যেত না, এমনকি তা বুঝার জন্য আবার ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রয়োজন হত।

সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৮৪৫, ৪৮৪৭)।

আবূ ‘ঈসা বলেন, ইবনুয যুবাইর তার নানা আবু বাকর (রাযি)-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি। আবু ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি কিছু বর্ণনাকারী ইবনু আ’বী মুলাইকাহর সূত্রে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে ‘আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাযিঃ০-এর উল্লেখ করেননি ।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح بخاری









সুনান আত-তিরমিযী (3267)


حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، فِي قَوْلِهِ ‏:‏ ‏(‏ إنَّ الَّذِينَ يُنَادُونَكَ مِنْ وَرَاءِ الْحُجُرَاتِ أَكْثَرُهُمْ لاَ يَعْقِلُونَ ‏)‏ قَالَ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ حَمْدِي زَيْنٌ وَإِنَّ ذَمِّي شَيْنٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ذَاكَ اللَّهُ تَعَالَى ‏"‏ ‏.‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏




আল-বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, “যারা আপনাকে উচ্চস্বরে ঘরের বাইরে হতে ডাকে, তাদের বেশির ভাগই নির্বোধ”-(সুরা ফাতহ)। বর্ণনাকারী বলেন, জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার প্রসঙ্গে প্রশংসা হল সৌন্দর্য এবং আমার প্রসঙ্গে নিন্দা হল অপমান। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ মর্যাদা শুধুমাত্র মহান আল্লাহ তা’আলার।

আবূ ঈসা বুলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: حسن









সুনান আত-তিরমিযী (3268)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ الْجَوْهَرِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو زَيْدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، قَالَ سَمِعْتُ الشَّعْبِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي جَبِيرَةَ بْنِ الضَّحَّاكِ، قَالَ كَانَ الرَّجُلُ مِنَّا يَكُونُ لَهُ الاِسْمَيْنِ وَالثَّلاَثَةَ فَيُدْعَى بِبَعْضِهَا فَعَسَى أَنْ يَكْرَهَ قَالَ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ‏(‏ وَلاَ تَنَابَزُوا بِالأَلْقَابِ ‏)‏ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ أَبُو جَبِيرَةَ هُوَ أَخُو ثَابِتِ بْنِ الضَّحَّاكِ بْنِ خَلِيفَةَ أَنْصَارِيٌّ وَأَبُو زَيْدٍ سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ صَاحِبُ الْهَرَوِيِّ بَصْرِيٌّ ثِقَةٌ ‏.‏




আবূ জুবাইরাহ ইবনুয যাহহাক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের কারো কারো দু’তিনটি নাম থাকতো। কোন কোন নামে সম্বোধন করা তাদের কাছে মন্দ লাগত। এ প্রসঙ্গেই এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ)ঃ “তোমরা একে অন্যকে মন্দ নামে সম্বোধন করো না ......”-( সুরা ফাতহ)।

সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩৭৪১)

আবূ ‘ঈসা বলেন, এটি হাসান সহীহ হাদীস। আবূ জুবাইরাহ ইবনুয যাহহাক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হলেন সাবিত ইবনুয যাহহাক আল-আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সহোদর ভাই। আল-হারাভীর সংগী আবূ যাইদের নাম সা’ঈদ ইবনুর রাবী বাসরার অধিবাসি নির্ভরযোগ্য রাবী। আবূ সালামাহ ইয়াহইয়া ইবনু’ খালাফ-বিশর ইবনুল মুফাযযাল হতে, তিনি দাউদ ইবনু আবূ হিন্দ হতে, তিনি শা’বী হতে, তিনি আবূ জুবাইরাহ ইবনুয যাহহাক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে উপরের হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ صحیح









সুনান আত-তিরমিযী (3269)


حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، عَنِ الْمُسْتَمِرِّ بْنِ الرَّيَّانِ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، قَالَ قَرَأَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ ‏:‏ ‏(‏ واعْلَمُوا أَنَّ فِيكُمْ، رَسُولَ اللَّهِ لَوْ يُطِيعُكُمْ فِي كَثِيرٍ مِنَ الأَمْرِ لَعَنِتُّمْ ‏)‏ قَالَ هَذَا نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم يُوحَى إِلَيْهِ وَخِيَارُ أَئِمَّتِكُمْ لَوْ أَطَاعَهُمْ فِي كَثِيرٍ مِنَ الأَمْرِ لَعَنِتُوا فَكَيْفَ بِكُمُ الْيَوْمَ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ ‏.‏ قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ سَأَلْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ الْقَطَّانَ عَنِ الْمُسْتَمِرِّ بْنِ الرَّيَّانِ فَقَالَ ثِقَةٌ ‏.‏




আবূ নাযরাহ (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ সা’ঈদ আল-খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তিলাওয়াত করেন (অনুবাদ) : “তোমরা জেনে রাখ যে, আল্লাহর রাসুল তোমাদের মাঝে আছেন। তিনি অনেক বিষয়ে তোমাদের কথা শুনলে তোমরাই ব্যথিত হতে, কিন্তু তোমাদের কাছে আল্লাহ তা’আলা ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং তাঁকে তোমাদের হৃদয়গ্রাহী করেছেন......... ” –(সূরা ফাতহ ৭)। তারপর তিনি বলেন, ইনিই তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর কাছে ওহী পাঠানো হয় এবং তিনি হচ্ছেন তোমাদের সবচেয়ে উত্তম নেতা। রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বহু বিষয়ে তাদের কথা শুনলে তারাই সমস্যায় পড়ে যেতেন। অতএব যদি আজকাল তোমাদের কথা শুনা হয় তাহলে কি পরিস্থিতি হবে!

হাদীসটির সানাদ সহীহ।

আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনু সা’ঈদ আল-কাত্তানের কাছে মুসতামির ইবনু রাইয়্যানের অবস্থা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন যে, তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح الإسناد




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ صحیح









সুনান আত-তিরমিযী (3270)


حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ النَّاسَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ فَقَالَ ‏"‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَذْهَبَ عَنْكُمْ عُبِّيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ وَتَعَاظُمَهَا بِآبَائِهَا فَالنَّاسُ رَجُلاَنِ رَجُلٌ بَرٌّ تَقِيٌّ كَرِيمٌ عَلَى اللَّهِ وَفَاجِرٌ شَقِيٌّ هَيِّنٌ عَلَى اللَّهِ وَالنَّاسُ بَنُو آدَمَ وَخَلَقَ اللَّهُ آدَمَ مِنْ تُرَابٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ اللَّهُ ‏:‏ ‏(‏ يا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ ‏)‏ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ يُضَعَّفُ ضَعَّفَهُ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَغَيْرُهُ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ هُوَ وَالِدُ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ ‏.‏




ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন এবং বলেনঃ হে জনমন্ডলী! তোমাদের হতে আল্লাহ তা’আলা জাহিলিয়াত যুগের দম্ভ ও অহংকার এবং পূর্বপুরুষের গৌরবগাথা বাতিল করেছেন। এখন মানুষ দুই অংশে বিভক্তঃ এক দল মানুষ নেককার, পরহেজগার, আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রিয় ও সম্মানিত এবং অন্য দল পাপিষ্ঠ, দুর্ভাগা, আল্লাহ তা’আলার নিকট অত্যন্ত নিকৃষ্ট, নিচু ও ঘৃণিত। সকল মানুষই আদমের সন্তান। আল্লাহ তা’আলা আদম (আঃ)- কে মাটি দিয়ে তৈরী করেছেন। মহান আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ “হে লোক সকল! তোমাদেরকে আমি একজন পুরুষ ও একজন নারী হতে তৈরী করেছি, তারপর বিভিন্ন বংশ ও গোত্রে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি, তোমরা যাতে একে অন্যকে চিনতে পার। যে লোক তোমাদের মাঝে বেশি পরহেজগার সেই আল্লাহ তা’আলার নিকট বেশি মর্যাদার অধিকারী। আল্লাহ তা’আলা সবকিছু সম্পর্কে জ্ঞাত, সব খবর রাখেন”-(সুরা ফাতহ ১৩)।

সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ২৭০০)

আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র আবদুল্লাহ ইবনু দীনার হতে, তিনি ইবনু উমার(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, এ সনদেই জেনেছি। আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফর হাদীস শাস্ত্রে অত্যন্ত দুর্বল। তাঁকে ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন প্রমুখ দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফর হলেন আলী ইবনু মাদীনীর বাবা।এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরাহ ও ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও হাদীস উল্লেখিত।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف ، عبداللّٰہ بن جعفر بن نجیح ضعیف، ، والحدیث الآتي (الأصل: 3956) یغني، عنہ ، (انوار الصحیفہ ص 287)









সুনান আত-তিরমিযী (3271)


حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ الأَعْرَجُ الْبَغْدَادِيُّ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سَلاَّمِ بْنِ أَبِي مُطِيعٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الْحَسَبُ الْمَالُ وَالْكَرَمُ التَّقْوَى ‏"‏ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ سَمُرَةَ ‏.‏ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ سَلاَّمِ بْنِ أَبِي مُطِيعٍ وَهُوَ ثِقَةٌ ‏.‏




সামুরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ধন-সম্পদ হল আভিজাত্যের প্রতীক এবং পরহেজগারী হল সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক।

সহীহঃ ইরওয়াহ (হাঃ ১৮৭০)।

আবূ ইসা বলেন, এ হাদীসটি সামুরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর উদ্ধৃত হিসেবে হাসান, সহীহ গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমা(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাল্লাম ইবনু আবী মুত্বী –এর সনদে জেনেছি।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف ، ابن ماجہ (4219)، قتادۃ عنعن ، و حدیث النسائي (4/ 64 ح 3227 و سندہ، صحیح) یغني عنہ ، (انوار الصحیفہ ص 287)









সুনান আত-তিরমিযী (3272)


حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ تَزَالُ جَهَنَّمُ تَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ حَتَّى يَضَعَ فِيهَا رَبُّ الْعِزَّةِ قَدَمَهُ فَتَقُولُ قَطْ قَطْ وَعِزَّتِكَ وَيُزْوَى بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ ‏"‏ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏ وَفِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏




আনাস ইবনু মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “অবিরত জাহান্নাম বলতে থাকবে, আরো আছে কি?” (সূরা ক্বাফ ৩০)। অবশেষে জাহান্নামের উপর মহামহিম আল্লাহ তা’আলা তাঁর পা রাখবেন। তখন সে বলবে যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে, আপনার ইজ্জতের ক্বসম। তারপর তাঁর এক ভাগ অপর ভাগের সংগে কুঞ্চিত হয়ে যাবে।

সহীহঃ জিলালুল জান্নাত (হাঃ ৫৩১, ৫৩৪), বুখারী, মুসলিম।

আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উপর্যক্ত সূত্রে গারীব। এ অধ্যায়ে আবূ হুরাইরাহ(রাযীঃ) সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে হাদীস বর্ণিত আছে।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ









সুনান আত-তিরমিযী (3273)


حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ سَلاَّمٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ رَبِيعَةَ قَالَ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَدَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذُكِرْتُ عِنْدَهُ وَافِدَ عَادٍ فَقُلْتُ أَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِثْلَ وَافِدِ عَادٍ ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَمَا وَافِدُ عَادٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَقُلْتُ عَلَى الْخَبِيرِ سَقَطْتَ إِنَّ عَادًا لَمَّا أُقْحِطَتْ بَعَثَتْ قَيْلاً فَنَزَلَ عَلَى بَكْرِ بْنِ مُعَاوِيَةَ فَسَقَاهُ الْخَمْرَ وَغَنَّتْهُ الْجَرَادَتَانِ ثُمَّ خَرَجَ يُرِيدُ جِبَالَ مَهْرَةَ فَقَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي لَمْ آتِكَ لِمَرِيضٍ فَأُدَاوِيَهِ وَلاَ لأَسِيرٍ فَأُفَادِيَهُ فَاسْقِ عَبْدَكَ مَا كُنْتَ مُسْقِيَهُ وَاسْقِ مَعَهُ بَكْرَ بْنَ مُعَاوِيَةَ ‏.‏ يَشْكُرْ لَهُ الْخَمْرَ الَّذِي سَقَاهُ فَرُفِعَ لَهُ سَحَابَاتٌ فَقِيلَ لَهُ اخْتَرْ إِحْدَاهُنَّ فَاخْتَارَ السَّوْدَاءَ مِنْهُنَّ فَقِيلَ لَهُ خُذْهَا رَمَادًا رَمْدَدًا لاَ تَذَرُ مِنْ عَادٍ أَحَدًا وَذُكِرَ أَنَّهُ لَمْ يُرْسَلْ عَلَيْهِمْ مِنَ الرِّيحِ إِلاَّ قَدْرُ هَذِهِ الْحَلْقَةِ يَعْنِي حَلْقَةَ الْخَاتَمِ ‏.‏ ثُمَّ قَرَأَ ‏:‏ ‏(‏إذْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الرِّيحَ الْعَقِيمَ * مَا تَذَرُ مِنْ شَيْءٍ أَتَتْ عَلَيْهِ إِلاَّ جَعَلَتْهُ كَالرَّمِيمِ ‏)‏ الآيَةَ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ سَلاَّمٍ أَبِي الْمُنْذِرِ عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ حَسَّانَ وَيُقَالُ لَهُ الْحَارِثُ بْنُ يَزِيدَ ‏.‏




আবূ ওয়ায়িল (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাবী’আহ গোত্রের এক লোক বলেন, আমি মাদীনায় পৌঁছে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হলাম। তার নিকট আমি আদ জাতির দূত প্রসঙ্গে বললাম, আমি আদ জাতির দূতের মত হওয়া হতে আল্লাহ তা’আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রশ্ন করেনঃ আদ জাতির দূতের কি হয়েছিল? আমি বললাম, আপনি ওয়াকিফহাল ব্যক্তিরই সাক্ষাৎ পেয়েছেন। আদ জাতি দুর্ভিক্ষে পতিত হলে তারা ক্বায়ল নামক এক লোককে প্রেরণ করে এবং সে (মক্কার কাছাকাছি) বাকর ইবনু মু’আবিয়াহর বাড়িতে উপস্থিত হয়। বাকর তাকে মদ পান করায় এবং তার সম্মূখে দু’টি গায়িকা বাদী গান পরিবেশন করে। তারপর সে মাহারা (গোত্রের) অঞ্চলের পর্বতমালায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। সে এ বলে প্রার্থনা করেঃ হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি কোন অসুখ হতে নিরাময় পাওয়ার জন্য আসিনি এবং কোন বন্দিকে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত করার জন্যও আসিনি। অতএব আপনার এ বান্দাকে আপনি যত পারেন বৃষ্টিতে সিক্ত করুন এবং এর সংগে বাকর ইবনু মু’আবিয়াহকেও সিক্ত করুন। বাকর তাকে যে মদ পান করায়, সে তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছিল। অতএব তার জন্য মেঘমালা উত্থিত হল এবং তাকে বলা হল, তুমি এগুলোর মাঝে যে কোন একটি মেঘখন্ড বেছে নাও। সে মেঘমালার মাঝ হতে একখন্ড কালো মেঘ বেছে নিল। তাকে বলা হল, ক্ববুল কর, এটা জ্বলে পুড়ে ছাইয়ের ন্যায় করে ফেলবে, যা আদ জাতির কাউকে পরিত্রাণ দিবে না। উল্লেখ্য যে, একটি আংটির বৃত্তের পরিমাণ বাতাসের ঝাপটা তাদের উপর পাঠানো হয়েছিল মাত্র। তারপর এ আয়াতটি তিনি পাঠ করেন (অনুবাদ)ঃ “তাদের উপর যখন আমি বিধ্বংসী বায়ু পাঠিয়ে ছিলাম তা যখন যা কিছুর উপর বয়ে গিয়েছিল সমস্ত কিছু চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছিল”-(সূরা যারিয়াত ৪১-৪২)

হাসানঃ জঈফ হাদীস সিরিজ (হাঃ ১২২৮)-এর অংশ।

আবূ ঈসা বলেন, একাধিক বর্ণনাকারি এ হাদীসটি আবুল মুনযির সাল্লাম (রাহিমাহুল্লাহ)- এর সূত্রে তিনি আসিম ইবনু আবী নাজুদ হতে, তিনি আবূ ওয়ায়িল হতে, তিনি হারিস ইবনু হাসসান হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই আল-হারিসকে ইবনু ইয়াজিদও বলা হয়।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: حسن









সুনান আত-তিরমিযী (3274)


حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، حَدَّثَنَا سَلاَّمُ بْنُ سُلَيْمَانَ النَّحْوِيُّ أَبُو الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ الْبَكْرِيِّ، قَالَ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَدَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا هُوَ غَاصٌّ بِالنَّاسِ وَإِذَا رَايَاتٌ سُودٌ تَخْفُقُ وَإِذَا بِلاَلٌ مُتَقَلِّدٌ السَّيْفَ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ مَا شَأْنُ النَّاسِ قَالُوا يُرِيدُ أَنْ يَبْعَثَ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ وَجْهًا فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ نَحْوًا مِنْ حَدِيثِ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ بِمَعْنَاهُ ‏.‏ قَالَ وَيُقَالُ لَهُ الْحَارِثُ بْنُ حَسَّانَ أَيْضًا ‏.




আল-হারিস ইবনু ইয়াযিদ আল-বাকরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনায় পৌছে আমি মাসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম যে, তা লোকে পরিপূর্ণ। আর কালো পতাকাগুলো আওয়াজ সৃষ্টি করে উড়ছে এবং বিলাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার গলায় তরবারি ঝুলিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সম্মুখে উপস্থিত। আমি প্রশ্ন করলাম, এতো লোকজন জড়ো হওয়ার কারণ কি? তারা বললেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমর ইবনুল আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে জিহাদের লক্ষে কোথাও পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন। তারপর বর্ণনাকারী সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহর হাদীসের ন্যায় দীর্ঘ হাদীস রিওয়ায়াত করেন।

হাসানঃ দেখুন পূর্বের হাদীস।

আবূ ঈসা বলেন, আল হারিস ইবনু ইয়াযীদ আল-বাকরীকে আল-হারিস ইবনু ইবনু হাসসানও বলা হয়।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ صحیح









সুনান আত-তিরমিযী (3275)


حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ الرِّفَاعِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ رِشْدِينَ بْنِ كُرَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِدْبَارُ النُّجُومِ الرَّكْعَتَانِ قَبْلَ الْفَجْرِ وَإِدْبَارُ السُّجُودِ الرَّكْعَتَانِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ ‏"‏ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ عَنْ رِشْدِينَ بْنِ كُرَيْبٍ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ مُحَمَّدٍ وَرِشْدِينَ ابْنَىْ كُرَيْبٍ أَيُّهُمَا أَوْثَقُ قَالَ مَا أَقْرَبَهُمَا وَمُحَمَّدٌ عِنْدِي أَرْجَحُ ‏.‏ قَالَ وَسَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ هَذَا فَقَالَ مَا أَقْرَبَهُمَا عِنْدِي وَرِشْدِينُ بْنُ كُرَيْبٍ أَرْجَحُهُمَا عِنْدِي ‏.‏ قَالَ وَالْقَوْلُ عِنْدِي مَا قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ وَرِشْدِينُ أَرْجَحُ مِنْ مُحَمَّدٍ وَأَقْدَمُ وَقَدْ أَدْرَكَ رِشْدِينُ ابْنَ عَبَّاسٍ وَرَآهُ ‏.‏




ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “নক্ষত্রের অস্তগমন” (সূরাঃ আত-তূর-৪০) অর্থ ফজরের ফরয নামাযের আগেকার দুই রাক‘আত এবং “নামাযের পর” (সূরাঃ ক্বাফ-৪০) অর্থ মাগরিবের ফরযের পর দুই রাক‘আত সুন্নাত নামায।

যঈফ, যঈফা (২১৭৭)



আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু মুহাম্মাদ ইবনু ফুযাইল হতে রিশদীন ইবনু কুরাইব (রাহিমাহুল্লাহ) সূত্রে এ হাদীস মারফূ হিসেবে জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলের নিকট মুহাম্মাদ ও রিশদীন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম যে, তাদের মধ্যে কে বেশি নির্ভরযোগ্য? তিনি বলেনঃ তারা দু’জনই সমান, তবে আমার নিকট মুহাম্মাদ শ্রেষ্ঠ। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমানের নিকট আমি একথাটি জানতে চাইলে তিনি বলেনঃ তারা উভয়ে সমান, তবে আমার মতে রিশদীন উল্লেখযোগ্য। রিশদীন ইবনু আব্বাসের সাক্ষাৎ পেয়েছেন।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف ، رشدین بن کریب: ضعیف ، (انوار الصحیفہ ص 287)









সুনান আত-তিরমিযী (3276)


حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا بَلَغَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِدْرَةَ الْمُنْتَهَى قَالَ ‏"‏ انْتَهَى إِلَيْهَا مَا يَعْرُجُ مِنَ الأَرْضِ وَمَا يَنْزِلُ مِنْ فَوْقَ ‏.‏ قَالَ فَأَعْطَاهُ اللَّهُ عِنْدَهَا ثَلاَثًا لَمْ يُعْطِهِنَّ نَبِيًّا كَانَ قَبْلَهُ فُرِضَتْ عَلَيْهِ الصَّلاَةُ خَمْسًا وَأُعْطِيَ خَوَاتِمَ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَغُفِرَ لأُمَّتِهِ الْمُقْحِمَاتُ مَا لَمْ يُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ ‏:‏ ‏(‏ إذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى ‏)‏ قَالَ السِّدْرَةُ فِي السَّمَاءِ السَّادِسَةِ ‏.‏ قَالَ سُفْيَانُ فَرَاشٌ مِنْ ذَهَبٍ وَأَشَارَ سُفْيَانُ بِيَدِهِ فَأَرْعَدَهَا وَقَالَ غَيْرُ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ إِلَيْهَا يَنْتَهِي عِلْمُ الْخَلْقِ لاَ عِلْمَ لَهُمْ بِمَا فَوْقَ ذَلِكَ ‏.

‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.




আব্দুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (মি’রাজের রাতে) যখন সিদরাতুল মুন্তাহায় পৌছালেন। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, সিদরাতুল মুন্তাহা হল একটি কেন্দ্র যেই পর্যন্ত পৃথিবীর যা কিছু উপরে চলে যায় এবং যেখান হতে নিচের দিকে কোন কিছু অবতরণ হয়ে আসে। এখানে আল্লাহ তা’আলা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে এমন তিনটি জিনিস উপহার দেন যা তিনি ইতোপূর্বে কোন নাবীকেই দেননি। পাঁচ ওয়াক্ত নামায তাঁর উপর ফরজ করা হয়, সুরা আল-বাকারার শেষের কয়টি আয়াত তাঁকে দেয়া হয় এবং তাঁর উম্মতের কাবীরাহ গুনাহসমূহ (তওবার মাধ্যমে) ক্ষমা করা হয়, যদি তারা আল্লাহ তা’আলার সংগে কোন কিছু অংশীদার না করে থাকে। তারপর এ আয়াতটি ইবনু মাস’ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) পাঠ করেন (অনুবাদ)ঃ “যখন কুলগাছটি যা দ্বারা আচ্ছাদিত হওয়ার তা দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল”-(সুরা নাজম ১৬)। তিনি বলেন, ৬ষ্ঠ আকাশে সিদরাতুল মুন্তাহা অবস্থিত। সুফইয়ান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটি সোনার পাখিসমূহ দ্বারা আচ্ছাদিত, এই বলে তিনি তার হাতের ইশারায় তাদের উড়ন্ত অবস্থা বুঝালেন। মালিক ইবনু মিগওয়াল ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ বলেন, সিদরাতুল মুন্তাহা পর্যন্ত পৌছালে সৃষ্টির জ্ঞান শেষ হয়ে যায়, এর ঊর্ধ্বজগৎ সম্পর্কে সৃষ্টির কোন জ্ঞান নেই।

সহীহ মুসলিম (হাঃ ১/১০৯)

আবূ ঈসা বলেন, এটি হাসান সহীহ হাদীস।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح




تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح