সুনান আত-তিরমিযী
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّازِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْوُضُوءِ مِنْ لُحُومِ الإِبِلِ فَقَالَ " تَوَضَّئُوا مِنْهَا " . وَسُئِلَ عَنِ الْوُضُوءِ مِنْ لُحُومِ الْغَنَمِ فَقَالَ " لاَ تَتَوَضَّئُوا مِنْهَا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ وَأُسَيْدِ بْنِ حُضَيْرٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ أُسَيْدِ بْنِ حُضَيْرٍ . وَالصَّحِيحُ حَدِيثُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ . وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ وَغَيْرِهِمْ أَنَّهُمْ لَمْ يَرَوُا الْوُضُوءَ مِنْ لُحُومِ الإِبِلِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ .
বারাআ ইবনু আযিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উটের গোশত খেলে আবার ওযূ করতে হবে কি না এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে প্রশ্ন করা হল। তিনি বললেনঃ উটের গোশত খাওয়ার পর ওযূ কর। তাঁকে আবার বকরীর গোশত খেলে ওযূ করতে হবে কি না এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হল। তিনি বললেন এতে (বকরীর গোশত খেলে) তোমরা ওযূ করো না।
সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(৪৯৪)।
এ অনুচ্ছেদে জাবির ইবনু সামুরা ও উসাইদ ইবনু হুযাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করা হাদীসও রয়েছে।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাজ্জাজ ইবনু আরতাত তাঁর সনদ পরম্পরায় এ হাদীসটি উসাইদ ইবনু হুযাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সূত্রে বর্ণনাকৃত হাদীসটি সহীহ। এ হাদীসটি উবাইদাহ যাব্বী বর্ণনা করেছেন ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্দিল্লাহ আলরাজী হতে তিনি ‘আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা হতে, তিনি জিল গুররাহ্ জুহানী হতে। আর হাম্মাদ ইবনু সালামা হাদীসটি বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবনু আরতাহ হতে। তিনি ভুলবশতঃ বলেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা হতে তিনি তার পিতা হতে তিনি উসাইদ ইবনু হুদাইর হতে। সঠিক কথা হলো- ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দিল্লাহ আলরাজী হতে তিনি ‘আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা হতে তিনি বারাআ ইবনু ‘আযিব হতে বর্ণনা করেছেন।
ইসহাক বলেন, এ অনুচ্ছেদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে বর্ণনা করা দু’টি সর্বাধিক সহীহ হাদীস রয়েছে। একটির রাবী বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং অপরটির রাবী জাবির ইবনু সামুরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)।
ইমাম ইসহাক ও আহমাদের মতে, উটের গোশত খেলে ওযূ করতে হবে কিন্তু কিছু তাবেয়ী’ বিদ্বান, সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসী আলিমদের মতে ওযূ করতে হবে না।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ صحیح
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه أبو داود (١٨٤)، وابن ماجه (٤٩٤). وهو في "المسند" (١٨٥٣٨)، و"صحيح ابن حبان" (١١٢٨).
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ بُسْرَةَ بِنْتِ صَفْوَانَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ مَسَّ ذَكَرَهُ فَلاَ يُصَلِّ حَتَّى يَتَوَضَّأَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ وَأَبِي أَيُّوبَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَرْوَى ابْنَةِ أُنَيْسٍ وَعَائِشَةَ وَجَابِرٍ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ هَكَذَا رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ مِثْلَ هَذَا عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ بُسْرَةَ .
বুসরা বিনতু সাফওয়ান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি (ওযূ করার পর) নিজের যৌনাংগ স্পর্শ করেছে, সে যেন আবার ওযূ না করা পর্যন্ত নামায না আদায় করে।
সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(৪৭৯)।
এ অনুচ্ছেদে উম্মু হাবীবা, আবূ আইউব, আবূ হুরাইরা, আরওয়া বিনতু উনাইস, ‘আয়িশাহ্, জাবির, যাইদ ইবনু খালিদ ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করা হাদীসও রয়েছে।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। তিনি আরো বলেন, আরো অনেকেই এভাবে হিশাম ইবনু উরওয়া হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি বুসরা হতে বর্ণনা করেছেন।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ صحیح، مشکوۃ المصابیح (319) وتکلم بعض الناس في ھذا الحدیث بکلام باطل
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه النسائي ١/ ٢١٦. وهو في "المسند" (٢٧٢٩٥)، و"صحيح ابن حبان" (١١١٥).
وَرَوَى أَبُو أُسَامَةَ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَرْوَانَ، عَنْ بُسْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، بِهَذَا .
হিশাম (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে হিশাম, আবূ উসামা, আবুল যিনাদ ও অন্য রাবীগণ হতে বর্ণনা করেছেন।
সহীহ্। দেখুন পূর্বোক্ত হাদীস।
-
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه أبو داود (١٨١)، وابن ماجه (٤٧٩)، والنسائي ١/ ١٠٠ و ٢١٦. وهو في "المسند" (٢٧٢٩٣) و (٢٧٢٩٥)، و"صحيح ابن حبان" (١١١٢ - ١١١٤) و (١١١٦). تنبيه: هذا الإسناد لم يذكره الحافظ المزي في "تحفة الأشراف" ١١/ ٢٧٢! وهو ثابت في أصولنا الخطية.
وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ بُسْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ بُسْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَبِهِ يَقُولُ الأَوْزَاعِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَأَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ بُسْرَةَ . وَقَالَ أَبُو زُرْعَةَ حَدِيثُ أُمِّ حَبِيبَةَ فِي هَذَا الْبَابِ صَحِيحٌ وَهُوَ حَدِيثُ الْعَلاَءِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ . وَقَالَ مُحَمَّدٌ لَمْ يَسْمَعْ مَكْحُولٌ مِنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ وَرَوَى مَكْحُولٌ عَنْ رَجُلٍ عَنْ عَنْبَسَةَ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ . وَكَأَنَّهُ لَمْ يَرَ هَذَا الْحَدِيثَ صَحِيحًا .
আবুল যিনাদ ওরওয়ার সূত্রে হতে বর্ণিত, আবুল যিনাদ ওরওয়ার সূত্রে বুসরা হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করছেন।
সহীহ্। দেখুন পূর্বের হাদীস।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একাধিক সাহাবী ও তাবিঈন এই মত দিয়েছেন যে, যৌনাংগ স্পর্শ করলে ওযূ নষ্ট হবে। ইমাম আওযাঈ, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও এ কথাই বলেছেন। মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারী) বলেন, এ অনুচ্ছেদে বুসরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করা হাদীসই বেশি সহীহ। আবূ যুর’আহ্ বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে উম্মু হাবীবা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করা হাদীসটি বেশি সহীহ। এর সনদসূত্রটি এরূপঃ ‘আলা ইবনু হারিস-মাকহূল হতে, তিনি আনবাসা ইবনু আবূ সুফিয়ান হতে, তিনি উম্মু হাবীবা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী বলেন, আনবাসা ইবনু আবূ সুফিয়ান হতে মাকহূল কখনও কিছু অবগত হননি। মাকহূল এক ব্যক্তির সূত্রে আনবাসা হতে এটা ছাড়া অন্য হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি (বুখারী) উম্মু হাবীবা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করা হাদীসটি সহীহ মনে করেন না।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ حسن
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح كسابقيه، وانظر تخريجه فيهما.
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا مُلاَزِمُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَدْرٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ طَلْقِ بْنِ عَلِيٍّ، هُوَ الْحَنَفِيُّ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " وَهَلْ هُوَ إِلاَّ مُضْغَةٌ مِنْهُ أَوْ بَضْعَةٌ مِنْهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَبَعْضِ التَّابِعِينَ أَنَّهُمْ لَمْ يَرَوُا الْوُضُوءَ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْكُوفَةِ وَابْنِ الْمُبَارَكِ . وَهَذَا الْحَدِيثُ أَحْسَنُ شَيْءٍ رُوِيَ فِي هَذَا الْبَابِ . وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ أَيُّوبُ بْنُ عُتْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ جَابِرٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ طَلْقٍ عَنْ أَبِيهِ . وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُ أَهْلِ الْحَدِيثِ فِي مُحَمَّدِ بْنِ جَابِرٍ وَأَيُّوبَ بْنِ عُتْبَةَ . وَحَدِيثُ مُلاَزِمِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَدْرٍ أَصَحُّ وَأَحْسَنُ .
কাইস ইবনু তালক্ব ইবনু ‘আলী আল-হানাফী হতে তাঁর পিতার (তালকের) সূত্রে হতে বর্ণিত, কাইস ইবনু তালক্ব ইবনু ‘আলী আল-হানাফী হতে তাঁর পিতার (তালকের) সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ‘এটা (যৌনাংগ) তাঁর দেহের একটা অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়। ’ (অথবা রাবীর সন্দেহ) তিনি ‘বুয্আহ’ (টুকরা, অংশ) শব্দ বলেছেন।
সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(৪৮৩)।
এ অনুচ্ছেদে আবূ উমামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে,
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবী ও কিছু সংখ্যক তাবিঈ যৌনাংগ স্পর্শ করলে আবার ওযূ করা দরকার আছে বলে মনে করেন না। ইবনুল মুবারাক ও কূফাবাসীদের এটাই উপস্থাপিত মত।
এ অনুচ্ছেদে এ হাদীসটি বেশি সহীহ। এ হাদীসটি অপর এক সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ সূত্রে দু’জন রাবী- ‘মুহাম্মাদ ইবনু জাবির’ ও ‘আইউব ইবনু উতবা’ সম্পর্কে কিছু হাদীস পারদর্শী ব্যক্তি বিভিন্ন কথা বলেছেন। অতএব মুলাযিম ইবনু ‘আমরের বর্ণনাটিই বেশি সহীহ এবং উত্তম।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ صحیح، مشکوۃ المصابیح (320)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه أبو داود (١٨٢)، وابن ماجه (٤٨٣)، والنسائي ١/ ١٠١. وهو في "المسند" (١٦٢٨٦)، و"صحيح ابن حبان" (١١١٩)، وصححه عمرو بن علي الفلاس وابن المديني والطحاوي والطبراني وابن حزم. ولا تعارض بين حديث طلق هذا، وحديث بسرة السالف بأن يحمل الأمر بالوضوء في حديث بُسرة على الندب لوجود الصارف عن الوجوب في حديث طلق. والبَضْعة - بفتح الباء وقد تُكسر -: القطعة من اللحم.
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَهَنَّادٌ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ وَأَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبَّلَ بَعْضَ نِسَائِهِ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ . قَالَ قُلْتُ مَنْ هِيَ إِلاَّ أَنْتِ قَالَ فَضَحِكَتْ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ نَحْوُ هَذَا عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ قَالُوا لَيْسَ فِي الْقُبْلَةِ وُضُوءٌ . وَقَالَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَالأَوْزَاعِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ فِي الْقُبْلَةِ وُضُوءٌ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ . وَإِنَّمَا تَرَكَ أَصْحَابُنَا حَدِيثَ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا لأَنَّهُ لاَ يَصِحُّ عِنْدَهُمْ لِحَالِ الإِسْنَادِ . قَالَ وَسَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ الْعَطَّارَ الْبَصْرِيَّ يَذْكُرُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ قَالَ ضَعَّفَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ هَذَا الْحَدِيثَ جِدًّا . وَقَالَ هُوَ شِبْهُ لاَ شَىْءَ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يُضَعِّفُ هَذَا الْحَدِيثَ وَقَالَ حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عُرْوَةَ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبَّلَهَا وَلَمْ يَتَوَضَّأْ . وَهَذَا لاَ يَصِحُّ أَيْضًا . وَلاَ نَعْرِفُ لإِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ سَمَاعًا مِنْ عَائِشَةَ . وَلَيْسَ يَصِحُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْبَابِ شَيْءٌ .
‘আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কোন এক স্ত্রীকে চুমু খেলেন, অতঃপর নামায আদায় করতে গেলেন, কিন্তু তিনি (নতুন করে) ওযূ করেননি। উরওয়া বলেন, আমি বললাম, তা আপনি (‘আয়িশাহ্) ছাড়া আর কেউ নয়। এতে তিনি হেসে দিলেন।
সহীহ্। ইবনু মাজাহ- (৫০২)।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ একইভাবে একাধিক সাহাবা ও তাবিঈ এ ধরনের হাদীস বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসীগণ (ইমাম আবূ হানীফা ও তাঁর মতানুসারীগণ) বলেন, চুমু দিলে ওযূ নষ্ট হয় না। মালিক ইবনু আনাস,আওযাঈ, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের মতে চুমু দিলে ওযূ নষ্ট হয়। এটা একাধিক ফিক্হবিদ সাহাবা ও তাবিঈর মত। তিরমিযী বলেন, আমাদের সাথীরা এ প্রসঙ্গে ‘আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসটি বাদ দিয়েছেন। কেননা সনদের দিক হতে হাদীসটি সহীহ নয়। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন, এ হাদীস বিশ্বাস যোগ্য নয়। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলও (বুখারী) এ হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। কেননা হাবীব ইবনু আবূ সাবিত উরওয়ার নিকট হতে কিছুই শুনেননি। ইবরাহীম তাইমী হতেও ‘আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছেঃ “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে চুমু খেলেন কিন্তু ওযূ করলেন নয়া। ” এ বর্ণনাটিও সহীহ নয়, কেননা ইবরাহীম তাইমী ‘আয়িশাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট হতে কিছু শুনার সুযোগ পেয়েছেন বলে আমাদের কোন তথ্য জানা নেই।
মোটকথা, এ অনুচ্ছেদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়নি।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف، ابو داود (179) ابن ماجہ (502)، الأعمش مدلس و عنعن و، حبیب لم یسمع من عروۃ، (انوار الصحیفہ ص 191)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، وأخرجه أحمد (٢٥٧٦٦)، وأبو داود (١٧٩)، وابن ماجه (٥٠٢)، والدارقطني ١/ ١٣٦، والبيهقي ١/ ١٢٥ - ١٢٦، والبغوي في "شرح السنة" (١٦٨) من طرق عن وكيع، بهذا الإسناد، وعروة: هو ابن الزبير كما جاء مصرحًا به في رواية أحمد وابن ماجه. قال ابنُ عبد البر فيما نقله عنه الزيلعيُّ في "نصب الراية" ١/ ٧٢، وابنُ سيد الناس في "شرح الترمذي" ورقة ١٩٩/ ١: صحح هذا الحديث الكوفيون وثبتوه لرواية الثقات من أئمة الحديث له، وحبيب لا يُنكر لقاؤه عروةَ لروايته عمن هو أكبرُ من عروةَ وأقدم موتًا، وهو إمامٌ ثقة من أئمة العلماء الأجِلَّة، قال ابنُ سيد الناس: وقول أبي عمر هذا أفاد إثبات إمكان اللقاء، وهو مزيلٌ للانقطاع عند الأكثرين، وأرفع من هذا قولُ أبي داود فيما رويناه عنه بالسند السالف - هو في "سننه" بإثر الحديث رقم (١٨٠) - قال: وقد روى حمزة الزيات، عن حبيب، عن عروة بن الزبير، عن عائشة حديثًا صحيحًا، فهذا يثبت اللقاء، فهو مزيل للانقطاع عندهم. قلنا: وقد تابعه عليه هشامُ بنُ عروة، فرواه الدارقطني ١/ ١٣٦ قال: حدثنا أبو بكر النيسابوري، حدثنا حاجب بن سليمان، حدثنا وكيع، عن هشام بنِ عروة، عن أبيه، عن عائشة، قالت: قَبَّلَ رسولُ الله ﷺ بعض نسائه، ثم صلى ولم يتوضأ، ثم ضحكت. وهذا سند قوي، فأبو بكر النيسابوري - واسمه عبد الله بن محمد بن زياد - حافظ متقن موثَّق في روايته، وشيخه حاجب بن سليمان، هو المَنبِجي، وثقه النسائي، وقال في موضع آخر: لا بأس به، وذكره ابن حبان في "الثقات"، ومَنْ فوقهما على شرط الشيخين. وتابع أبو أويس وكيعًا على روايته عن هشام، عن أبيه عند الدارقطني أيضًا ١/ ١٣٦ فرواه عن الحسين بن إسماعيل، عن علي بن عبد العزيز الوراق، حدثنا عاصم بن علي، حدثنا أبو أويس، حدثني هشام بن عروة، عن أبيه، عن عائشة: أنها بلغها قولُ ابن عمر: في القبلة الوضوء، فقالت: كان رسول الله ﷺ يقبل وهو صائم ثم لا يتوضأ. وهذا إسناد حسن في المتابعات. ورواه البزار في "مسنده" - كما في "الجوهر النقي" ١/ ١٢٥ - من طريقٍ آخر، فقال: حدثنا إسماعيل بن يعقوب بن صبيح، حدثنا محمد بن موسى بن أعين، حدثنا أبي، عن عبد الكريم الجزري، عن عطاء، عن عائشة: أنه ﵇ كان يُقبِّل بعض نسائه، ولا يتوضأ. وقد سقط: "عن عطاء" من مطبوع "الجوهر النقي"، واستدركناه من "نصب الراية" ١/ ٧٤. قال ابن التركماني في "الجوهر النقي" ١/ ١٢٥: وعبد الكريم روى عنه مالك في "الموطَّأ"، وأخرج له الشيخان وغيرهما، ووثقه ابن معين وأبو حاتم وأبو زرعة وغيرهم، وموسى بن أعين مشهور، وثقة أبو زرعة وأبو حاتم، وأخرج له مسلم، وابنه مشهور، روى له البخاري، وإسماعيل روى عنه النسائي ووثقه، وأبو عوانة الإسفراييني، وأخرج له ابنُ خزيمة في "صحيحه"، وذكره ابن حبان في "الثقات". قلنا: وقال الحافظ في "الدراية" ١/ ٤٥ بعد أن أورده عن البزار: ورجاله ثقات. وقال ابن جرير الطبري في "جامع البيان" ٨/ ٣٩٦: وأولى القولين في ذلك قول من قال: عنى الله بقوله: ﴿أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ﴾ [النساء: ٤٣] الجماعَ دون غيره من معاني اللمس لصحة الخبر عن رسول الله ﷺ: أنه قبل بعض نسائه، ثم صلى ولم يتوضأ. وروى النسائي ١/ ١٠١ عن عائشة قالت: إن كان رسول الله ﷺ ليصلي وإني لمعترضة بين يديه اعتراض الجنازة، حتى إذا أراد أن يُوتر مسني برجله. قال الحافظ في "التلخيص" ١/ ١٣٣: إسناده صحيح، واستدل به على أن اللمس في الآية الجماع، لأنه لمسها في الصلاة واستمر. وفي المتفق عليه، عن عائشة قالت: كنت أنام بين يدي رسول الله ﷺ ورجلاي في قِبلته، فإذا سجد غمزني، فقبضت رجلي، وإذا قام بسطتها، قالت: والبيوتُ يومئذ ليس فيها مصابيح. وانظر لزامًا "بداية المجتهد" ١/ ٢٩ - ٣٠.
حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ أَبِي السَّفَرِ، - وَهُوَ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَمْدَانِيُّ الْكُوفِيُّ وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ حَدَّثَنَا وَقَالَ، إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ الْمَخْزُومِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاءَ فَأَفْطَرَ فَتَوَضَّأَ . فَلَقِيتُ ثَوْبَانَ فِي مَسْجِدِ دِمَشْقَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ صَدَقَ أَنَا صَبَبْتُ لَهُ وَضُوءَهُ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ مَعْدَانُ بْنُ طَلْحَةَ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَابْنُ أَبِي طَلْحَةَ أَصَحُّ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَأَى غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ مِنَ التَّابِعِينَ الْوُضُوءَ مِنَ الْقَىْءِ وَالرُّعَافِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لَيْسَ فِي الْقَىْءِ وَالرُّعَافِ وُضُوءٌ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ . وَقَدْ جَوَّدَ حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ هَذَا الْحَدِيثَ . وَحَدِيثُ حُسَيْنٍ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ . وَرَوَى مَعْمَرٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ فَأَخْطَأَ فِيهِ فَقَالَ عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الأَوْزَاعِيَّ وَقَالَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ وَإِنَّمَا هُوَ مَعْدَانُ بْنُ أَبِي طَلْحَةَ .
আবূ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বমি করলেন, ফলে তিনি ইফতার করলেন। অতঃপর ওযূ করলেন। মাদান বলেন, আমি দামিশকের মাসজিদে সাওবান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে দেখা করে তাঁকে এ কথা বললাম। তিনি বললেন, আবূ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ঠিকই বলেছেন, এ সময় আমি তাঁর (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) ওযূর পানি ঢেলেছিলাম।
-সহীহ। ইরওয়া- (১১১)
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ একাধিক বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাবিঈর মতে বমি করলে বা নাক দিয়ে খুন বের হলে ওযূ নষ্ট হবে এবং নতুন করে ওযূ করতে হবে। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাক এ মত পোষণ করেছেন। কিছু বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বমি হলে অথবা নাক দিয়ে রক্ত বের হলে পুনরায় ওযূ করতে হবে না। ইমাম মালিক ও শাফিঈ এ মত দিয়েছেন।
হুসাইন আল-মু‘আল্লিম এ হাদীসটিকে নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী বলেছেন। এ অনুচ্ছেদে হুসাইনের হাদীসটি অধিকতর সহীহ। অপর একটি সূত্রেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটি মা‘মার ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবী কাসীর হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি ভুল করে বলেছেন, ইয়া‘ঈশ ইবনুল ওয়ালীদ খালিদ ইবনু মা‘দান হতে তিনি আবুদ দারদা হতে। তিনি এতে আওযাঈর উল্লেখ করেননি। আর তিনি বলেছেন, খালিদ ইবনু মা‘দান। প্রকৃতপক্ষে তিনি হলেন, মা‘দান ইবনু আবী ত্বালহা।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ حسن، مشکوۃ المصابیح (2008)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه أبو داود (٢٣٨١)، والنسائي في "السنن الكبرى" (٣١٠٧) وما بعده. ولفظه عندهما: "قاءَ فأفطر". وهو في "المسند" (٢١٧٠١) و (٢٧٥٠٢)، و"صحيح ابن حبان" (١٠٩٧).
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي فَزَارَةَ، عَنْ أَبِي زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ سَأَلَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَا فِي إِدَاوَتِكَ " . فَقُلْتُ نَبِيذٌ . فَقَالَ " تَمْرَةٌ طَيِّبَةٌ وَمَاءٌ طَهُورٌ " . قَالَ فَتَوَضَّأَ مِنْهُ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَبِي زَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَأَبُو زَيْدٍ رَجُلٌ مَجْهُولٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ لاَ يُعْرَفُ لَهُ رِوَايَةٌ غَيْرُ هَذَا الْحَدِيثِ . وَقَدْ رَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْوُضُوءَ بِالنَّبِيذِ مِنْهُمْ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَغَيْرُهُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يُتَوَضَّأُ بِالنَّبِيذِ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ إِسْحَاقُ إِنِ ابْتُلِيَ رَجُلٌ بِهَذَا فَتَوَضَّأَ بِالنَّبِيذِ وَتَيَمَّمَ أَحَبُّ إِلَىَّ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَوْلُ مَنْ يَقُولُ لاَ يُتَوَضَّأُ بِالنَّبِيذِ أَقْرَبُ إِلَى الْكِتَابِ وَأَشْبَهُ لأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ: "فإِن لَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا ".
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে প্রশ্ন করলেনঃ তোমার পাত্রে কি আছে? আমি বললাম, নাবীয (খেজুর দ্বারা তৈরী শরবত)। তিনি বললেনঃ খেজুর পবিত্র এবং পানিও পবিত্র। ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তারপর তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা দিয়ে ওযূ করলেন।
যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৮৪)।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি শুধু আবূ যাইদ হতে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত আছে। অথচ আবূ যাইদ হাদীস বিশারদদের নিকট অপরিচিত ব্যক্তি। এ বর্ণনাটি ছাড়া আর কোথাও তাঁর বর্ণনা জানা যায়নি। কিছু বিদ্বান বলেন, খেজুর ভিজানো পানি (নাবীয) দিয়ে ওযূ করা জায়িয। সুফিয়ান সাওরী ও অন্যরা এ মত দিয়েছেন। শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের মতে খেজুর ভিজানো পানি দিয়ে ওযূ হবে না। ইসহাক বলেন, যদি পানি পাওয়া না যায় তাহলে নাবীয দিয়ে ওযূ করবে, তারপর তায়াম্মুম করে নেয়াই আমার নিকট পছন্দনীয়। আবূ ঈসা বলেন, যারা বলেন নাবীয দিয়ে ওযূ না করা উচিৎ, তাদের এ মত কুরআনের বাণীর সাথে সামঞ্জস্যশীল কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ “যদি তোমরা পানি না পাও তাহলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর” – সূরা নিসাঃ ৪৩। আর নাবীয তো পানি নয়, অতএব এটা দ্বারা ওযূ করা জায়িয নয়।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف، ابو داود (84) ابن ماجہ (384)، قال الترمذي: ’’وأ بو زید ھذا رجل مجہول، عند أھل الحدیث‘‘ والحدیث ضعفہ ابن حبان (المجروحین 3/ 158)، (انوار الصحیفہ ص 191)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف لجهالة أبي زيد، وهو مولى عمرو بن حريث. وأخرجه أبو داود (٨٤)، وابن ماجه (٣٨٤). وانظر "المسند" (٣٨١٠).
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم شَرِبَ لَبَنًا فَدَعَا بِمَاءٍ فَمَضْمَضَ وَقَالَ " إِنَّ لَهُ دَسَمًا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ وَأُمِّ سَلَمَةَ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْمَضْمَضَةَ مِنَ اللَّبَنِ وَهَذَا عِنْدَنَا عَلَى الاِسْتِحْبَابِ وَلَمْ يَرَ بَعْضُهُمُ الْمَضْمَضَةَ مِنَ اللَّبَنِ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুধ পান করে পানি আনতে বললেন, অতঃপর কুলি করলেন এবং বললেনঃ দুধে তৈলাক্ত পদার্থ (চর্বি) আছে।
সহীহ। ইবনু মাজাহ (৪৯৮)
এ অনুচ্ছেদে সাহল ইবনু সা‘দ ও উম্মু সালামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনাকৃত হাদীসও রয়েছে।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। কেউ কেউ দুধ পান করার পর কুলি করা মুস্তাহাব মনে করেন, আমাদের অভিমতও তাই। আবার কেউ কুলি করা দরকার মনে করেন না।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه البخاري (٢١١) و (٥٦٠٩)، ومسلم (٣٥٨)، وأبو داود (١٩٦)، وابن ماجه (٤٩٨)، والنسائي ١/ ١٠٩. وهو في "المسند" (١٩٥١)، و"صحيح ابن حبان" (١١٥٨) و (١١٥٩).
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الزُّبَيْرِيُّ عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، سَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَبُولُ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَإِنَّمَا يُكْرَهُ هَذَا عِنْدَنَا إِذَا كَانَ عَلَى الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ . وَقَدْ فَسَّرَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ ذَلِكَ . وَهَذَا أَحْسَنُ شَيْءٍ رُوِيَ فِي هَذَا الْبَابِ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنِ الْمُهَاجِرِ بْنِ قُنْفُذٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْظَلَةَ وَعَلْقَمَةَ بْنِ الْفَغْوَاءِ وَجَابِرٍ وَالْبَرَاءِ .
ইবনু ‘উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে সালাম করল, তখন তিনি প্রস্রাব করছিলেন। তিনি তার সালামের জবাব দেননি।
হাসান সহীহ্। ইরওয়া (৫৪) সহীহ্ আবূ দাঊদ (১২-১৩), মুসলিম।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। আমাদের মতে মলত্যাগ বা পেশাবরত অবস্থায় সালামের জবাব দেওয়া মাকরূহ। কিছু বিশেষজ্ঞ এ হাদীসের তাৎপর্য এটাই বলেছেন। এ অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হাদীসসমূহের মধ্যে এ হাদীসটি সর্বাধিক হাসান। মুহাজির ইবনু কুনফুয, ‘আবদুল্লাহ ইবনু হানযালা, আলক্বামা ইবনু ফাগওয়া, জাবির ও বারাআ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح مسلم
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه ابن أبي شيبة ٨/ ٦٢٣، ومسلم (٣٧٠)، وأبو داود (١٦)، وابن ماجه (٣٥٣)، والنسائي في ١/ ٣٥ - ٣٦، وابن الجارود (٣٨)، وابن خزيمة (٧٣)، والبيهقي ١/ ٩٩ من طرق عن سفيان الثوري، به. وسيأتي برقم (٢٩١٧). وأخرج الطيالسي (١٨٥١)، وأبو داود السجستاني (٣٣٠)، والطحاوي ١/ ٨٥، والبيهقي ١/ ٢٠٦ و ٢١٥، والبغوي (٣١١) من طريق محمد بن ثابت العبدي، عن نافع قال: انطلقت مع ابن عمر في حاجته إلى ابن عباس، فقضى ابن عمر حاجته، فكان من حديثه يومئذ أن قال: مر رجل على رسول الله ﷺ في سكةٍ من السكك وقد خرج من غائط أو بول، فسلم عليه فلم يرد عليه، حتى إذا كاد الرجل أن يتوارى في السكة ضرب بيديه على الحائط، ومسح بهما وجهه، ثم ضرب ضربة أخرى فمسح ذراعيه، ثم رد على الرجل السلام، وقال: "إنه لم يمنعني أن أرد عليك السلام إلا أني لم أكن على طهر". قال أبو داود السجستاني بإثره: سمعت أحمد بن حنبل يقول: روى محمد بن ثابت حديثًا منكرًا في التيمم، قال ابن داسة: قال أبو داود: لم يتابع محمد بن ثابت في هذه القصة على ضربتين عن النبي ﷺ، ورووه فعل ابن عمر. وأخرج أبو داود (٣٣١) والبيهقي ١/ ٢٠٦ من طريق حيوة بن شريح، عن ابن الهاد، أن نافعًا حدثه عن ابن عمر قال: أقبل رسول الله ﷺ من الغائط فلقيه رجل عند بئر جمل، فسلم عليه، فلم يرد عليه رسول الله ﷺ حتى أقبل على الحائط، فوضع يده على الحائط، ثم مسح وجهه ويديه، ثم رد رسول الله ﷺ على الرجل السلام. وفي الباب عن المهاجر بن قنفذ عند أبي داود (١٧)، والنسائي ١/ ٣٧، والبغوي (٣١٢)، وهو في "مسند أحمد" (١٩٠٣٤)، لكن رواية "المسند": "وهو يتوضأ" بدلًا من "وهو يبول"، وفيه تمام تخريجه وبعض شواهده. وانظر تتمة أحاديث الباب عند حديث عبد الله بن جابر في "مسند أحمد" (١٧٥٩٧).
حَدَّثَنَا سَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ أَيُّوبَ، يُحَدِّثُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " يُغْسَلُ الإِنَاءُ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ سَبْعَ مَرَّاتٍ أُولاَهُنَّ أَوْ أُخْرَاهُنَّ بِالتُّرَابِ وَإِذَا وَلَغَتْ فِيهِ الْهِرَّةُ غُسِلَ مَرَّةً " .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا وَلَمْ يُذْكَرْ فِيهِ " إِذَا وَلَغَتْ فِيهِ الْهِرَّةُ غُسِلَ مَرَّةً " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ .
আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কুকুর কোন পাত্রে মুখ দিলে তা সাতবার ধুতে হবে, প্রথম অথবা শেষবার মাটি দ্বারা ঘষতে হবে। বিড়াল যদি তাতে মুখ দেয় তবে একবার ধোয়াই যথেষ্ট।
সহীহ্। সহীহ্ আবূ দাউদ (৬৪-৬৬), মুসলিম অনুরূপ; কিন্তু তাতে বিড়ালের উল্লেখ নেই।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের এটাই মত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীসটি আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মাধ্যমে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু তাতে এ বর্ণনা টুকু নেইঃ “বিড়াল পাত্রে মুখ দিলে একবার ধুতে হবে। ”
এ অনুচ্ছেদে ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনাকৃত হাদীস রয়েছে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: ضعیف، قولہ: ’’وإذا ولغت فیہ الھرۃ غسل مرۃ، ‘‘مدرج من قول أبي ہریرۃ رضي اللّٰہ عنہ،والباقي: مرفوع صحیح۔، (انوار الصحیفہ ص 192)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: (1) الغسل من ولوغ الكلب صحيح مرفوعًا، وأما الغسل من ولوغ الهرة فصحيح أيضًا، لكنه موقوف. وحديث ولوغ الكلب دون الهرة أخرجه البخاري (١٧٢)، ومسلم (٢٧٩)، وأبو داود (٧١) و (٧٣)، وابن ماجه (٣٦٣) و (٣٦٤)، والنسائي في "المجتبى" ١/ ٥٢ و ٥٢ - ٥٣ و ٥٣ و ١٧٦ - ١٧٧ و ١٧٧ و ١٧٧ - ١٧٨، وفي "الكبرى" (٦٨) و (٦٩) و (٩٧١٢). وهو في "مسند أحمد" (٧٣٤٦) و (٩٥١١)، و"صحيح ابن حبان" (١٢٩٧). وأخرجه بزيادة ولوغ الهرة أبو داود (٧٢) من طريق أيوب، عن محمد بن سيرين، عن أبي هريرة موقوفًا. وهو في "شرح مشكل الآثار" (٢٦٥٠) بهذه الزيادة مرفوعًا. قال البيهقي في "معرفة السنن والآثار" ٢/ ٧٠: حديث محمد بن سيرين، عن أبي هريرة: "وإذا ولغ الهر غسل مرة" أدرجه بعض الرواة في حديثه عن النبي ﷺ في ولوغ الكلب، ووهموا فيه، والصحيح أنه في ولوغ الكلب مرفوع، وفي ولوغ الهر موقوف. ميزه علي بن نصر الجهضمي، عن قرة بن خالد، عن ابن سيرين، عن أبي هريرة، ووافقه عليه جماعة من الثقات.
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ حُمَيْدَةَ بِنْتِ عُبَيْدِ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ كَبْشَةَ بِنْتِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، وَكَانَتْ، عِنْدَ ابْنِ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ، دَخَلَ عَلَيْهَا . قَالَتْ فَسَكَبْتُ لَهُ وَضُوءًا قَالَتْ فَجَاءَتْ هِرَّةٌ تَشْرَبُ فَأَصْغَى لَهَا الإِنَاءَ حَتَّى شَرِبَتْ قَالَتْ كَبْشَةُ فَرَآنِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ أَتَعْجَبِينَ يَا بِنْتَ أَخِي فَقُلْتُ نَعَمْ . قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ إِنَّمَا هِيَ مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ أَوِ الطَّوَّافَاتِ " . وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْعُلَمَاءِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِثْلِ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ لَمْ يَرَوْا بِسُؤْرِ الْهِرَّةِ بَأْسًا . وَهَذَا أَحَسَنُ شَيْءٍ رُوِيَ فِي هَذَا الْبَابِ . وَقَدْ جَوَّدَ مَالِكٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ وَلَمْ يَأْتِ بِهِ أَحَدٌ أَتَمَّ مِنْ مَالِكٍ .
কাবাশা বিনতু কা’ব ইবনি মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি আবূ কাতাদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর পুত্রবধূ ছিলেন। আবূ কাতাদা (শ্বশুর) তাঁর নিকট এলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর জন্য ওযূর পানি ঢাললাম। তিনি বলেনঃ একটি বিড়াল এসে তা পান করতে লাগল। তিনি পাত্রটি কাত করে ধরলেন আর বিড়ালটি পানি পান করতে থাকল। কাবশা বলেন, তিনি (শ্বশুর) দেখলেন, আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি বললেন, হে ভাইঝি! তুমি কি আশ্চর্য হচ্ছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “বিড়াল অপবিত্র নয়। এটা তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারী অথবা বিচরণকারিণী। ”
সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(৩৬৭)
কেউ কেউ মালিক হতে বর্ণনা করেছেন যে, কাবশা কাতাদার স্ত্রী ছিলেন। সঠিক হলো কাতাদার ছেলের স্ত্রী ছিলেন।
এ অনুচ্ছেদে ‘আয়িশাহ্ ও আবূ হুরাইরা (রা) হতেও বর্ণিত হাদীস রয়েছে।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসিটি হাসান সহীহ।
বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবা, তাবিঈন ও পরবর্তীদের মতে বিড়ালের ঝুটা নাপাক নয়। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এ মত দিয়েছেন। এ অনুচ্ছেদে এ হাদীসটি অধিকতর হাসান। ইমাম মালিকের তুলনায় আরো উত্তম সনদে আর কেউ এ হাদীসটি বর্ণনা করতে পারেননি।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ صحیح، مشکوۃ المصابیح (482)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وهو في "موطأ" مالك ١/ ٢٢ - ٢٣، ومن طريقه أخرجه أبو داود (٧٥)، وابن ماجه (٣٦٧)، والنسائي ١/ ٥٥ و ١٧٨. وهو في "مسند أحمد" (٢٢٥٨٠)، و"صحيح ابن حبان" (١٢٩٩)، و"شرح مشكل الآثار" (٢٦٥٥) من طريق مالك أيضًا. "فأصغى" أي: أماله، ليسهل عليها الشرب. "بنَجَس" بفتح الجيم كما ضبطه غير واحدٍ من أهل العلم، والنجس: النجاسة، وهو وصف بالمصدر يستوي فيه المذكر والمؤنث. تنبيه: وقع في طبعة الشيخ شاكر بإثر هذا الحديث: "وقد روى بعضهم عن مالك: وكانت عند أبي قتادة، والصحيح ابن أبي قتادة"، ولم يرد في أصولنا الخطية.
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ بَالَ جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ فَقِيلَ لَهُ أَتَفْعَلُ هَذَا قَالَ وَمَا يَمْنَعُنِي وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُهُ . قَالَ إِبْرَاهِيمُ وَكَانَ يُعْجِبُهُمْ حَدِيثُ جَرِيرٍ لأَنَّ إِسْلاَمَهُ كَانَ بَعْدَ نُزُولِ الْمَائِدَةِ . هَذَا قَوْلُ إِبْرَاهِيمَ يَعْنِي كَانَ يُعْجِبُهُمْ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَحُذَيْفَةَ وَالْمُغِيرَةِ وَبِلاَلٍ وَسَعْدٍ وَأَبِي أَيُّوبَ وَسَلْمَانَ وَبُرَيْدَةَ وَعَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ وَأَنَسٍ وَسَهْلِ بْنِ سَعْدٍ وَيَعْلَى بْنِ مُرَّةَ وَعُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ وَأُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ وَأَبِي أُمَامَةَ وَجَابِرٍ وَأُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ وَابْنِ عُبَادَةَ وَيُقَالُ ابْنُ عِمَارَةَ وَأُبَىُّ بْنُ عِمَارَةَ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ جَرِيرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
হাম্মাম ইবনুল হারিস (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) পেশাব করলেন, অতঃপর ওযূ করলেন এবং মোজার উপর মাসিহ করলেন। তাঁকে বলা হল, আপনি এরূপ করছেন? তিনি বললেন, কোন জিনিস আমাকে বাধা দিবে? আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে এরূপ করতে দেখেছি। হাম্মাম বলেন, জারীরের এ হদীস সবারই ভাল লাগত। কেননা তিনি সূরা মায়িদাহ্ অবতীর্ণ হওয়ার পর মুসলমান হয়েছেন।
সহীহ্। ইবনু মাজাহ (৫৪৩)।
এ অনুচ্ছেদে উমার, আলী, হুযাইফা, মুগীরা, বিলাল, সা’দ, আবূ আইউব, সালমান, বুরাইদা, আমর ইবনু উমাইয়া, আনাস, সাহল ইবনু সা‘দ, ইয়া‘লা ইবনু মুররা, উবাদা ইবনুস সামিত, উসামা ইবনু শারীক, আবু উমামা, জাবির এবং উসামা ইবনু যাইদ, ইবনু উবাদাহ বা ইবনু উমারাহ বা উবাই ইবনু উমারাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে।
আবূ ‘ঈসা বলেন, জারীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: متفق علیہ
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه البخاري (٣٨٧)، ومسلم (٢٧٢)، وابن ماجه (٥٤٣)، والنسائي ١/ ٨١ و ٢/ ٧٣ - ٧٤. وهو في "المسند" (١٩١٦٨)، و"صحيح ابن حبان" (١٣٣٥)، و"شرح مشكل الآثار" (٢٤٩١). قال الإمام النووي في "شرح مسلم" ٣/ ١٦٤: معناه: أن الله تعالى قال في سورة المائدة: ﴿فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ﴾ فلو كان إسلام جرير متقدمًا على نزول المائدة، لاحتمل كون حديثه في مسح الخف منسوخًا بآية المائدة، فلما كان إسلامه متأخرًا، علمنا أن حديثه يعمل به، وهو مبين أن المراد بآية المائدة غير صاحب الخُفِّ، فتكون السنة مخصصة للآية.
وَيُرْوَى عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، قَالَ رَأَيْتُ جَرِيرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ فَقُلْتُ لَهُ فِي ذَلِكَ فَقَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ . فَقُلْتُ لَهُ أَقَبْلَ الْمَائِدَةِ أَمْ بَعْدَ الْمَائِدَةِ فَقَالَ مَا أَسْلَمْتُ إِلاَّ بَعْدَ الْمَائِدَةِ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ زِيَادٍ التِّرْمِذِيُّ عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ جَرِيرٍ . قَالَ وَرَوَى بَقِيَّةُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ جَرِيرٍ . وَهَذَا حَدِيثٌ مُفَسِّرٌ لأَنَّ بَعْضَ مَنْ أَنْكَرَ الْمَسْحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ تَأَوَّلَ أَنَّ مَسْحَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْخُفَّيْنِ كَانَ قَبْلَ نُزُولِ الْمَائِدَةِ وَذَكَرَ جَرِيرٌ فِي حَدِيثِهِ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ بَعْدَ نُزُولِ الْمَائِدَةِ .
শাহার ইবনু হাওশাব হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি জারীর ইবনু আবদুল্লাহকে ওয়ূ করতে এবং মোজার উপর মাসিহ করতে দেখলাম। আমি এ ব্যাপারে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম। তিনি বললেন, আমি রাসূলুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ওযূ করতে এবং মোজার উপর মাসিহ করতে দেখেছি। আমি (শাহর) তাঁকে (জারীরকে) প্রশ্নে করলাম, সেটা কি সূরা মাইদা অবতীর্ণ হওয়ার আগে না পরে? তিনি বললেন আমি তো সূরা মাইদা অবতীর্ণ হওয়ার পরেই ইসলাম গ্রহণ করেছি।
সহীহ। ইরওয়া (১/১৩৭)।
এ হাদীসটি কুতাইবা বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনু যিয়াদ আত্-তিরমিযী হতে তিনি মুক্বাতিল হতে তিনি শাহর ইবনু হাওশাব হতে তিনি জারীর হতে। আর বাক্বিয়্যাহ্ বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম ইবনু আদহাম হতে তিনি মুক্বাতিল ইবনু হাইয়্যান হতে। তিনি শাহর ইবনু হাওশাব হতে তিনি জারীর হতে। এ হাদীস কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা পেশ করছে। কেননা একদল লোক মোজার উপর মাসিহ করা অসঙ্গত মনে করেন। তারা এ ব্যাখ্যায় বলেন, সূরা মায়িদাহ্ অবতীর্ণ হওয়ার আগে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মোজার উপর মাসিহ করেছিলেন। অথচ হাদীসের রাবী জারীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) উল্লেখ করেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে সূরা মায়িদাহ্ অবতীর্ণ হওয়ার পরই মোজার উপর মাসিহ করতে দেখেছেন (তাই এ হাদীস যেন ওযূ সম্পর্কিত আয়াতের ব্যাখ্যা)।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ حسن
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث حسن، شهر وإن كان مختلفًا فيه، قد تابعه عليه أبو زرعة بن عمرو بن جرير عند ابن أبي شيبة ١/ ١٧٩، وأبي داود (١٥٤)، وابن خزيمة (١٨٧)، والحاكم ١/ ١٦٩، والبيهقي ١/ ٢٧٠. لكن في الطريق إليه بكير بن عامر، وهو ضعيف، وهو في "شرح مشكل الآثار" (٢٤٩٤)، وتابعه عليه أيضًا مجاهد، عن جرير عند أحمد (١٩٢٢١).
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ، عَنْ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَ " لِلْمُسَافِرِ ثَلاَثَةٌ وَلِلْمُقِيمِ يَوْمٌ " . وَذُكِرَ عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ أَنَّهُ صَحَّحَ حَدِيثَ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ فِي الْمَسْحِ . وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيُّ اسْمُهُ عَبْدُ بْنُ عَبْدٍ وَيُقَالُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَأَبِي بَكْرَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَصَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ وَعَوْفِ بْنِ مَالِكٍ وَابْنِ عُمَرَ وَجَرِيرٍ .
খুযাইমাহ্ ইবনু সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট মোজার উপর মাসাহ করা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ “মুসাফিরের জন্য তিন (দিন) এবং মুকীমের জন্য এক (দিন)”।
সহীহ্। ইবনু মাজাহ (৫৫৩)
ইয়াহ্ইয়া ইবনু মা‘ঈন হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি উপরোক্ত হাদীসকে সহীহ বলেছেন। আবূ ‘ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ আব্দুল্লাহ আল-জাদালী’র নাম ‘আবদ ইবনু ‘আবদ, এত্ত বলা হয়েছে যে, তার নাম ‘আব্দুল্লাহ রহমান ইবনু ‘আবদ। এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। এ অনুচ্ছেদে আলী, আবূ বাকার, আবূ হুরাইরা, সাফওয়ান ইবনু ‘আসসাল, আওফ ইবনু মালিক, ইবনু উমার ও জারীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: صحیح
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه أبو داود (١٥٧)، وفيه: "للمقيم يوم وليلة"، وأخرجه ابن ماجه (٥٥٣) و (٥٥٤)، واقتصر على المسح للمسافر. وزاد في الموضع الأول: ولو مضى السائل على مسألته لجعلها خمسًا. وهو في "المسند" (٢١٨٥١)، و"صحيح ابن حبان" (١٣٢٩).
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا إِذَا كُنَّا سَفْرًا أَنْ لاَ نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ إِلاَّ مِنْ جَنَابَةٍ وَلَكِنْ مِنْ غَائِطٍ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍ " .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَى الْحَكَمُ بْنُ عُتَيْبَةَ وَحَمَّادٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ عَنْ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ وَلاَ يَصِحُّ . قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ شُعْبَةُ لَمْ يَسْمَعْ إِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ مِنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ حَدِيثَ الْمَسْحِ . وَقَالَ زَائِدَةُ عَنْ مَنْصُورٍ كُنَّا فِي حُجْرَةِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ وَمَعَنَا إِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ فَحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ التَّيْمِيُّ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ عَنْ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ الْمُرَادِيِّ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْعُلَمَاءِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ الْفُقَهَاءِ مِثْلِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا يَمْسَحُ الْمُقِيمُ يَوْمًا وَلَيْلَةً وَالْمُسَافِرُ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ عَنْ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُمْ لَمْ يُوَقِّتُوا فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَالتَّوْقِيتُ أَصَحُّ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ أَيْضًا مِنْ غَيْرِ حَدِيثِ عَاصِمٍ .
সাফওয়ান ইবনু ‘আসসাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন সফরে থাকতাম রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিতেন, আমরা যেন নাপাকির গোসল ছাড়া তিন দিন তিন রাত আমাদের মোজা না খুলি; এমনকি এমনকি মলত্যাগ-পেশাব ও ঘুম হতে ওঠার পর ওযূ করার সময়ও (মোজা না খুলি)।
হাসান। ইবনু মাজাহ (৪৭৮)
আবূ ‘ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। হাকমি ইবনু ‘উতাইবা ও হাম্মাদ-ইবরাহীশ নাখঈর সূত্রে, তিনি আবূ আবদুল্লাহ আল- জাদালীর সূত্রে, তিনি খুযাইমার সূত্রে মোজার উপর মাসিহ সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ বর্ণনাটি সহীহ নয়। ‘আলী ইবনু মাদীনী বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সা‘ঈদ বলেছেন, শু’বা বলেছেন, আবূ আবদুল্লাহ আল-জাদলীর নিকট হতে ইবরাহীম নাখাঈ মাসিহ সম্পর্কিত হাদীস শুনেননি। যায়িদাহ মানসূর হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমরা ইবরাহীম তাইমীর ঘরে বসা ছিলাম। ইবরাহীশ নাখাঈও অমাদের সাথে ছিলেন। তখন ইবরাহীম তাইমী আমাদের নিকট ‘আমর ইবনু মাইমূনের সূত্রে, তিনি আবদুল্লাহ আল-জাদালীর সূত্রে, তিনি খুযাইমা ইবনু সাবিতের সূত্রে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে ‘মোজার উপর সামিহ’ সম্পর্কিথ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (ইমাম বুখারী) বলেন, এ অনুচ্ছেদে সাফওয়ান ইবনু ‘আসসাল আল-মুরাদী (রা) হতে বর্ণিথ হাদীসটি বেশি উত্তম।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ বিশেষজ্ঞ সাহাবা, তাবিঈও পরবর্তী যুগের ফিক্হবিদ যেমন সুফিয়ান সাত্তরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিউ, আহমাদ ও ইসহাকের মতে মুসাফির ব্যক্তি তিন দিন তিন রাত এবং মুক্বীম ব্যক্তি এক দিন একরাত পর্যন্ত মোজার উপর মাসিহ করতে পারবে।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ কিছ বিদ্বান যেমন মালিখ ইবনু আনাস মোজার উপর মাসিহ করার সময়সীমা নির্দিষ্ট করেননি। কিন্তু সময়সীমা নির্ধারিত করাটাই বেশি সহীহ। এই হাদীসটি সাফওয়ান ইবনু ‘আসসাল হতে আসিম ব্যতীত অন্য সূতেও বর্ণিত হয়েছে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ حسن، مشکوۃ المصابیح (520)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح لغيره، وهذا إسناد حسن من أجل عاصم بن أبي النجود، وأخرجه ابن ماجه (٤٧٨)، والنسائي ١/ ٨٣ و ٨٣ - ٨٤ و ٩٨، ولفظ ابن ماجه دون قوله: "إذا كنا سفرًا"، واقتصر النسائي في موضعه الأول على قوله: "إذا كنا مسافرين أن لا ننزع خفافنا ثلاثة أيام ولياليهن". وهو في "المسند" (١٨٠٩١) و (١٨٠٩٥)، و"صحيح ابن حبان" (١١٠٠) و (١٣١٩). قال الخطابي في "معالم السنن" ١/ ٦٢: قوله: "ولكن من غائط وبول ونوم": كلمة "لكن" موضوعة للاستدراك، وذلك لأنه قد تقدمه نفي واستثناء، وهو قوله: "كان يأمرنا أن لا ننزع خفافنا ثلاثة أيام ولياليهن إلا من جنابة"، ثم قال: "لكن من بول وغائط ونوم"، فاستدركه بلكن ليعلم أن الرخصة إنما جاءت في هذا النوع من الأحداث دون الجنابة، فإن المسافر الماسح على خفه إذا أجنب كان عليه نزع الخف، وغسل الرجل مع سائر البدن، وهذا كما تقول: ما جاءني زيد، لكن عمرو، وما رأيت زيدًا، لكن خالدًا.
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، أَخْبَرَنِي ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ أَعْلَى الْخُفِّ وَأَسْفَلَهُ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ الْفُقَهَاءِ وَبِهِ يَقُولُ مَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَإِسْحَاقُ . وَهَذَا حَدِيثٌ مَعْلُولٌ لَمْ يُسْنِدْهُ عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ غَيْرُ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَأَلْتُ أَبَا زُرْعَةَ وَمُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالاَ لَيْسَ بِصَحِيحٍ لأَنَّ ابْنَ الْمُبَارَكِ رَوَى هَذَا عَنْ ثَوْرٍ عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ قَالَ حُدِّثْتُ عَنْ كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ مُرْسَلٌ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الْمُغِيرَةَ .
মুগীরা ইবনু শু’বা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মোজার উপরের অংশ মাসিহ করেছেন এবং নীচের অংশও মাসিহ করেছেন।
যঈফ, ইবনু মাজাহ (৫৫০)।
আবূ ঈসা বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একাধিক সাহাবা এবং তাবিঈদের এটাই সিদ্ধান্ত যে, মোজার উপর ও নীচের দিক মাসিহ করতে হবে। ইমাম মালিক, শাফিঈ এবং ইসহাকেরও এই মত।
এই হাদীসটি ত্রুটি যুক্ত। ওয়ালিদ ইবনু মুসলিম ব্যতীত অন্য কেহই সাওর ইবনু ইয়াযীদের দিকে এর সম্পৃক্ততা বর্ণনা করেন নাই।
আবূ ঈসা বলেনঃ আবূ যুরআহ্ এবং ইসমাঈলকে এই হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় তারা বলেনঃ হাদীসটি সহীহ নয়। কেননা ইবনুল মুবারাক হাদীসটি সাওর হতে রাজা ইবনু হাইওয়ার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি মুগীরার সচীব হতে মুরসাল ভাবে রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি উহাতে মুগীরার নাম উল্লেখ করেননি।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف، ابو داود (165) ابن ماجہ (550)، رجاء لم یسمع من کاتب المغیرۃ، بن شعبۃ، وثور لم یسمعہ من رجاء، وجاء تصریحہ بالسماع عند الدارقطني، (1/ 195 ح 742) والسند إلیہ ضعیف فالحدیث معلول، (انوار الصحیفہ ص 192)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف، الوليد بن مسلم يدلس ويسوّي وقد عنعن، ثم هو منقطع بين ثور وبين رجاء. وأخرجه أبو داود (١٦٥)، وابن ماجه (٥٥٠). وهو في "المسند" (١٨١٩٧).
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ عَلَى ظَاهِرِهِمَا .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ الْمُغِيرَةِ حَدِيثٌ حَسَنٌ وَهُوَ حَدِيثُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُرْوَةَ عَنِ الْمُغِيرَةِ وَلاَ نَعْلَمُ أَحَدًا يَذْكُرُ عَنْ عُرْوَةَ عَنِ الْمُغِيرَةِ " عَلَى ظَاهِرِهِمَا " . غَيْرَهُ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَأَحْمَدُ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَكَانَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ يُشِيرُ بِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الزِّنَادِ .
মুগীরা ইবনু শু’বা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে তাঁর মোজা দুটির উপরিভাগ মাসাহ করতে দেখেছি।
হাসান সহীহ্। মিশকাত- (৫২২), সহীহ আবূ দাঊদ- (১৫১-১৫২)।
আবূ ‘ঈসা বলেন: মুগীরার বর্ণনা করা হাদীসটি হাসান। এই হাদীসটি আব্দুর রহমান ইবনু আবী জিনাদ হতে বর্ণিত, তিনি তার পিতা জিনাদ হতে তিনি উরওয়াহ হতে তিনি মুগীরা হতে বর্ণনা করেছেন। আবূ জিনাদ ব্যতীত অন্য কেউ উরওয়ার সূত্রে মুগীরা হতে মুজার উপর মাসিহ করার কথা উল্লেখ করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আর এটাই (মুজার উপরিভাগ মাসিহ করা) অনেক বিদ্বানের অভিমত। সুফিয়ান সাওরী ও আহমাদ এ হাদীসের উপর আমল করেছেন। মুহাম্মাদ বলেন, মালিক এ হাদীসের রাবী আবদুর রহমান ইবনু আবূ যিনাদের দিকে ইঙ্গিত করতেন (দুর্বল বলতেন)।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ حسن، مشکوۃ المصابیح (522)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه أبو داود (١٦١)، وليس فيه: "على ظاهرهما"، لكنه قال عقبه: وقال غير محمد - يعني ابن الصباح شيخ أبي داود -: "على ظهر الخفين". والحديث في "مسند الإمام أحمد" برقم (١٨١٥٦).
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ هُزَيْلِ بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَمَسَحَ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ وَالنَّعْلَيْنِ .
قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ قَالُوا يَمْسَحُ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ وَإِنْ لَمْ تَكُنْ نَعْلَيْنِ إِذَا كَانَا ثَخِينَيْنِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي مُوسَى .
قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ صَالِحَ بْنَ مُحَمَّدٍ التِّرْمِذِيَّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا مُقَاتِلٍ السَّمَرْقَنْدِيَّ يَقُولُ دَخَلْتُ عَلَى أَبِي حَنِيفَةَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ وَعَلَيْهِ جَوْرَبَانِ فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا ثُمَّ قَالَ فَعَلْتُ الْيَوْمَ شَيْئًا لَمْ أَكُنْ أَفْعَلُهُ مَسَحْتُ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ وَهُمَا غَيْرُ مُنَعَّلَيْنِ .
মুগীরা ইবনু শু’বা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওযূ করলেন এবং জাওরাব ও জুতার উপর মাসাহ করলেন।
সহীহ। ইবনু মাজাহ- (৫৫৯)।
আবূ ‘ঈসা বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ। একাধিক বিশেষজ্ঞ যেমন, সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আমহাদ ও ইসহাক বলেছেন, জাওরাবের উপর মাসিহ করা যাবে, তার সাথে জুতা না পরা হলেও। এটা যখন মোটা বস্ত্রের হবে। এ অনুচ্ছেদে আবূ মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে।
আবূ ‘ঈসা বলেন: আমি সালিহ ইবনু মুহাম্মাদ আত্-তিরমিযীর নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবূ মুকাতিল সামার কান্দীকে বলতে শুনেছি, আমি ইমাম আবূ হানীফার নিকট ঐ অসুখের সময় উপস্থিত হলাম যে অসুখে তিনি ইনতিকাল করেছেন। তিনি পানি আনতে বললেন, অতঃপর ওযূ করলেন তার পায়ে জাওরাবা ছিল, তিনি তার উপর মাসাহ করলেন আর বললেন, আজ আমি এমন একটি কাজ করলাম, যা আমি পূর্বে করিনি। আমি জাওরাবার উপর মাসাহ করেছি অথচ তার সাথে জুতা ছিল না।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: إسنادہ ضعيف، ابو داود (159) ابن ماجہ (559)، سفیان الثوري مدلس وعنعن، (انوار الصحیفہ ص 192)
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح، وهذا إسناد لم ينفرد به أبو قيس الأودي - وهو عبد الرحمن بن ثروان -، بل تابعه فضالة بن عمرو - ويقال: عمير - الزهراني، وعمرو بن وهب الثقفي، وقد صححه الترمذي وابن حبان وابن التركماني، ومال إلى تصحيحه ابن سيد الناس في "شرح الترمذي" ورقة ١٩. وأخرجه أبو داود (١٥٩)، وابن ماجه (٥٥٩)، والنسائي في "الكبرى" (١٢٩). وهو في "المسند" (١٨٢٠٦)، و"صحيح ابن حبان" (١٣٣٨). وأخرجه أبو بكر الإسماعيلي في "معجمه" ٢/ ٧٠٣ - ٧٠٤ من طريق أحمد الدورقي، عن يزيد بن هارون، عن داود بن أبي هند، عن أبي العالية الرياحي، عن فضالة بن عمرو الزهراني، وأبو الشيخ في "طبقات المحدثين بأصبهان" ٤/ ١٤ من طريق سعيد بن عبد الرحمن - وهو البصري أخو أبي حرة - عن محمد بن سيرين، عن عمرو بن وهب الثقفي، كلاهما (فضالة وعمرو) عن المغيرة بن شعبة، به. وللحديث بتمامه شاهد من حديث أبي موسى الأشعري عند ابن ماجه (٥٦٠)، والطحاوي في "شرح معاني الآثار" ١/ ٩٧، وإسناده ضعيف. وللمسح على الجوربين شاهد من حديث ثوبان عند أحمد (٢٢٣٨٣)، وإسناده صحيح.
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ ابْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ وَالْعِمَامَةِ . قَالَ بَكْرٌ وَقَدْ سَمِعْتُ مِنِ ابْنِ الْمُغِيرَةِ . قَالَ وَذَكَرَ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ أَنَّهُ مَسَحَ عَلَى نَاصِيَتِهِ وَعِمَامَتِهِ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ ذَكَرَ بَعْضُهُمُ الْمَسْحَ عَلَى النَّاصِيَةِ وَالْعِمَامَةِ وَلَمْ يَذْكُرْ بَعْضُهُمُ النَّاصِيَةَ . وَسَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْحَسَنِ يَقُولُ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ مَا رَأَيْتُ بِعَيْنِي مِثْلَ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ وَسَلْمَانَ وَثَوْبَانَ وَأَبِي أُمَامَةَ .
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَأَنَسٌ . وَبِهِ يَقُولُ الأَوْزَاعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ قَالُوا يَمْسَحُ عَلَى الْعِمَامَةِ . وَقَالَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ لاَ يَمْسَحُ عَلَى الْعِمَامَةِ إِلاَّ أَنْ يَمْسَحَ بِرَأْسِهِ مَعَ الْعِمَامَةِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَمِعْتُ الْجَارُودَ بْنَ مُعَاذٍ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعَ بْنَ الْجَرَّاحِ يَقُولُ إِنْ مَسَحَ عَلَى الْعِمَامَةِ يُجْزِئُهُ لِلأَثَرِ .
মুগীরা ইবনু শুবা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওযূ করলেন এবং মোজা ও পাগড়ীর উপর মাসাহ করলেন।
সহীহ্। সহীহ্ আবূ দাঊদ- (১৩৭, ১৩৮), মুসলিম।
বাক্র বলেন, আমি এ হাদীসটি ইবনু মুগীরার নিকট শুনেছি। মুহাম্মাদ ইবনু বাশ্শার অন্য এক স্থানে এ হাদীসে বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাথার সম্মুখভাগ এবং পাগড়ীর উপর মাসাহ করলেন।
এ হাদীসটি মুগীরা ইবনু শুবা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু রাবী বর্ণনা করেছেন, “তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাথার সম্মুখভাগ ও পাগড়ীর উপর মাসাহ করেছেন। ” আর কিছু রাবী শুধু পাগড়ীর কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু মাথার সম্মুখ ভাগের কথা উল্লেখ করেননি।
আবু ‘ঈসা বলেন: আমি আহমাদ ইবনু হাসানকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, আহ্মাদ ইবনু হাম্বাল (রহ:) বলেছেন, আমি স্বচক্ষে ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তানের মত ভালো লোক দেখিনি। এ অনুচ্ছেদে ‘আমর ইবনু উমাইয়া, সালমান, সাওবান ও আবূ উমামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও বর্ণিত হাদীস রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, মুগীরার হাদীসটি হাসান সহীহ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সাহাবী যেমন, আবূ বাক্র, উমার ও আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) পাগড়ীর উপর মাসাহ করার পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। ইমাম আওযাঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও একই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাবিঈগণ বলেছেন, শুধু পাগড়ীর উপর মাসাহ করা যাবে না, এর সাথে মাথাও মাসাহ করতে হবে। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস, ইবনুল মুবারাক ও শাফিঈ এ মত ব্যক্ত করেছেন। আবূ ঈসা বলেন: আমি জারুদ ইবনু মু’আযকে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: আমি ওয়াকী’ ইবনুল জাররাহকে বলতে শুনেছি, কোন ব্যক্তি যদি শুধু পাগড়ীর উপর মাসাহ করে তবে তার জন্য তাই যথেষ্ট হবে সাহাবা হতে বর্ণিত আছারের কারণে।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح
تحقيق الشيخ زبیر العلیزي الباكستاني: بخاری ومسلم
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح، وأخرجه مسلم (٢٧٤) (٨٢) و (٨٣)، وأبو داود (١٥٠)، والنسائي ١/ ٧٦. وهو في "المسند" (١٨٢٣٤)، و"صحيح ابن حبان" (١٣٤٦).