হাদীস বিএন


মুখতাসার সহীহ মুসলিম





মুখতাসার সহীহ মুসলিম (1875)


1875 - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ بَيْنَمَا ثَلَاثَةُ نَفَرٍ يَتَمَشَّوْنَ أَخَذَهُمْ الْمَطَرُ فَأَوَوْا إِلَى غَارٍ فِي جَبَلٍ فَانْحَطَّتْ عَلَى فَمِ غَارِهِمْ صَخْرَةٌ مِنْ الْجَبَلِ فَانْطَبَقَتْ
عَلَيْهِمْ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ انْظُرُوا أَعْمَالًا عَمِلْتُمُوهَا صَالِحَةً لِلَّهِ فَادْعُوا اللَّهَ بِهَا لَعَلَّ اللَّهَ يَفْرُجُهَا عَنْكُمْ فَقَالَ أَحَدُهُمْ اللَّهُمَّ إِنَّهُ كَانَ لِي وَالِدَانِ شَيْخَانِ كَبِيرَانِ وَامْرَأَتِي وَلِي صِبْيَةٌ صِغَارٌ أَرْعَى عَلَيْهِمْ فَإِذَا أَرَحْتُ عَلَيْهِمْ(1) حَلَبْتُ فَبَدَأْتُ بِوَالِدَيَّ فَسَقَيْتُهُمَا قَبْلَ بَنِيَّ وَإني نَأَى بِي ذَاتَ يَوْمٍ الشَّجَرُ فَلَمْ آتِ حَتَّى أَمْسَيْتُ فَوَجَدْتُهُمَا قَدْ نَامَا فَحَلَبْتُ كَمَا كُنْتُ أَحْلُبُ فَجِئْتُ بِالْحِلَابِ فَقُمْتُ عِنْدَ رُؤوسِهِمَا أَكْرَهُ أَنْ أُوقِظَهُمَا مِنْ نَوْمِهِمَا وَأَكْرَهُ أَنْ أَسْقِيَ الصِّبْيَةَ قَبْلَهُمَا وَالصِّبْيَةُ يَتَضَاغَوْنَ(2) عِنْدَ قَدَمَيَّ فَلَمْ يَزَلْ ذَلِكَ دَأْبِي وَدَأْبَهُمْ حَتَّى طَلَعَ الْفَجْرُ فَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَافْرُجْ لَنَا مِنْهَا فُرْجَةً نَرَى مِنْهَا السَّمَاءَ فَفَرَجَ اللَّهُ مِنْهَا فُرْجَةً فَرَأَوْا مِنْهَا السَّمَاءَ وَقَالَ الْآخَرُ اللَّهُمَّ إِنَّهُ كَانَتْ لِيَ ابْنَةُ عَمٍّ أَحْبَبْتُهَا كَأَشَدِّ مَا يُحِبُّ الرِّجَالُ النِّسَاءَ وَطَلَبْتُ إِلَيْهَا نَفْسَهَا فَأَبَتْ حَتَّى آتِيَهَا بِمِائَةِ دِينَارٍ فَتَعِبْتُ حَتَّى جَمَعْتُ مِائَةَ دِينَارٍ فَجِئْتُهَا بِهَا فَلَمَّا وَقَعْتُ بَيْنَ رِجْلَيْهَا قَالَتْ يَا عَبْدَ اللَّهِ اتَّقِ اللَّهَ وَلَا تَفْتَحْ الْخَاتَمَ إِلَّا بِحَقِّهِ فَقُمْتُ عَنْهَا فَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَافْرُجْ لَنَا مِنْهَا فُرْجَةً فَفَرَجَ لَهُمْ وَقَالَ الْآخَرُ اللَّهُمَّ إِنِّي كُنْتُ اسْتَأْجَرْتُ أَجِيرًا بِفَرَقِ(3) أَرُزٍّ فَلَمَّا قَضَى عَمَلَهُ قَالَ أَعْطِنِي حَقِّي فَعَرَضْتُ عَلَيْهِ فَرَقَهُ فَرَغِبَ عَنْهُ فَلَمْ أَزَلْ أَزْرَعُهُ حَتَّى جَمَعْتُ مِنْهُ بَقَرًا وَرِعَاءَهَا فَجَاءَنِي فَقَالَ اتَّقِ اللَّهَ وَلَا تَظْلِمْنِي حَقِّي قُلْتُ اذْهَبْ إِلَى تِلْكَ الْبَقَرِ وَرِعَائِهَا فَخُذْهَا فَقَالَ اتَّقِ اللَّهَ وَلَا تَسْتَهْزِئْ بِي فَقُلْتُ إِنِّي لَا أَسْتَهْزِئُ بِكَ خُذْ ذَلِكَ الْبَقَرَ وَرِعَاءَهَا فَأَخَذَهُ فَذَهَبَ بِهِ فَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَافْرُجْ لَنَا مَا بَقِيَ فَفَرَجَ اللَّهُ مَا بَقِيَ. (م 8/ 89 - 90)




আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: একবার তিনজন লোক হেঁটে যাচ্ছিল। এমন সময় তাদের বৃষ্টি পেয়ে বসলো। তখন তারা পাহাড়ের একটি গুহায় আশ্রয় নিলো। এমন সময় পাহাড় থেকে একটি বড় পাথর নেমে এসে তাদের গুহার মুখ বন্ধ করে দিলো। তখন তারা একে অপরকে বললো, তোমরা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য যেসব ভালো কাজ করেছো, সেগুলো স্মরণ করো এবং এর ওসিলায় আল্লাহ্‌র কাছে দু‘আ করো। হতে পারে আল্লাহ্‌ তোমাদের এই বিপদ দূর করে দেবেন।

তখন তাদের একজন বললো: হে আল্লাহ! আমার বয়স্ক দুর্বল পিতামাতা ছিলেন, আর আমার স্ত্রী ও ছোট ছোট কয়েকটি সন্তান ছিল, যাদের দেখাশোনার জন্য আমি পশুপালন করতাম। যখন আমি পশুগুলোকে চারণভূমি থেকে নিয়ে আসতাম, তখন দুধ দোহন করে নিতাম এবং আমার সন্তানদের আগে পিতামাতাকে পান করিয়ে শুরু করতাম। একদিন কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে আমার বেশি দূর যেতে হলো, তাই ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। এসে দেখি তারা দু’জন ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমি আগের মতো দুধ দোহন করলাম এবং দুধের পাত্র নিয়ে তাদের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে থাকলাম। আমি তাদেরকে ঘুম থেকে জাগানো অপছন্দ করছিলাম এবং তাদের আগে বাচ্চাদেরকে দুধ পান করানোও অপছন্দ করছিলাম। আর বাচ্চারা আমার পায়ের কাছে ক্ষুধার যন্ত্রণায় চেঁচামেচি করছিল। এইভাবে ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত আমি এবং তারা (আমার বাবা-মা) দাঁড়িয়ে থাকলাম। হে আল্লাহ! যদি তুমি জানো যে, আমি তোমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এই কাজ করেছি, তবে আমাদের জন্য এই গুহা থেকে এতটুকু পথ খুলে দাও যাতে আমরা আকাশ দেখতে পাই। তখন আল্লাহ্‌ তাদের জন্য গুহার মুখ সামান্য খুলে দিলেন, যাতে তারা আকাশ দেখতে পেল।

এরপর দ্বিতীয় ব্যক্তি বললো: হে আল্লাহ! আমার একজন চাচাতো বোন ছিল। আমি তাকে এমন তীব্রভাবে ভালোবাসতাম, যেমন পুরুষেরা নারীদের তীব্রভাবে ভালোবাসে। আমি তার সাথে মিলিত হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সে রাজি হলো না, যতক্ষণ না আমি তাকে একশো’ দিনার দেই। আমি বহু কষ্ট করে একশো’ দিনার সংগ্রহ করলাম এবং তা নিয়ে তার কাছে আসলাম। যখন আমি তার দু’পায়ের মাঝখানে বসলাম, তখন সে বললো: হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় করো এবং বৈধ অধিকার ছাড়া মোহর (যৌন সম্পর্ক) ভেঙো না। তখন আমি তার কাছ থেকে উঠে গেলাম। হে আল্লাহ! যদি তুমি জানো যে, আমি তোমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এই কাজ করেছি, তবে আমাদের জন্য আর একটু জায়গা খুলে দাও। তখন আল্লাহ্‌ তাদের জন্য আর একটু খুলে দিলেন।

আর তৃতীয় ব্যক্তি বললো: হে আল্লাহ! আমি একজন শ্রমিককে এক ‘ফারাক’ চালের বিনিময়ে মজুরি দিয়েছিলাম। যখন সে তার কাজ শেষ করলো, তখন বললো: আমাকে আমার পাওনা দিয়ে দাও। আমি তাকে তার প্রাপ্য চাল দিলাম, কিন্তু সে তা নিতে অস্বীকার করলো। আমি সেই চাল দিয়ে কৃষি কাজ করতে লাগলাম, অবশেষে তা থেকে অনেকগুলো গরু ও তাদের রাখালদের সংগ্রহ করলাম। কিছুকাল পরে সে আমার কাছে এসে বললো: আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার প্রাপ্য মজুরির ব্যাপারে আমার প্রতি অবিচার করো না। আমি বললাম: ঐ গরু ও রাখালদের কাছে যাও এবং তা নিয়ে নাও। সে বললো: আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার সাথে ঠাট্টা করো না। আমি বললাম: আমি তোমার সাথে ঠাট্টা করছি না। ঐ গরু ও রাখালদের নিয়ে নাও। তখন সে তা নিয়ে চলে গেল। হে আল্লাহ! যদি তুমি জানো যে, আমি তোমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এই কাজ করেছি, তবে আমাদের জন্য বাকি অংশ খুলে দাও। তখন আল্লাহ্‌ তাদের জন্য বাকি অংশও খুলে দিলেন।