Part 7 | Page 3
খন্ডঃ 7 | পৃষ্ঠাঃ 3
পরিপূর্ণ পরিচ্ছন্নতা অর্জন; আর ধৌত করার সংখ্যা বিজোড় হওয়া মুস্তাহাব। মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার মূল বিধান হলো ফরযে কিফায়া। অনুরূপভাবে তাকে বহন করা, কাফন পরানো, তার জানাযার নামায পড়া এবং তাকে দাফন করা—এসবই ফরযে কিফায়া। গোসলের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো একবার পুরো শরীরে পানি পৌঁছে দেওয়া। এ বিষয়ে এটিই হলো সংক্ষিপ্ত আলোচনা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যদি তোমরা তা সঙ্গত মনে করো"—এখানে 'কাফ' বর্ণে যের যোগে সম্বোধনটি উম্মে আতিয়্যাহর প্রতি করা হয়েছে। এর অর্থ হলো: "যদি তোমাদের প্রয়োজন মনে হয়।" এর অর্থ এই নয় যে, বিষয়টি তাদের ইচ্ছাধীন বা খেয়ালখুশির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উম্মে আতিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) মৃত নারীদের গোসল দিতেন। তিনি বিজ্ঞ ও মর্যাদাবান মহিলা সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর নাম হলো নুসাইবাহ (নুনের ওপর পেশ যোগে, তবে যবর দিয়েও বলা হয়েছে)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে কন্যাকে তাঁরা গোসল দিয়েছিলেন, জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরামের মতে তিনি হলেন যায়নাব (রাযিয়াল্লাহু আনহা)। কাযী ইয়ায বলেন, কোনো কোনো সীরাত বিশেষজ্ঞের মতে তিনি ছিলেন উম্মে কুলসুম। তবে সঠিক মত হলো যায়নাব, যেমনটি ইমাম মুসলিম এর পরবর্তী বর্ণনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "পানি ও কুল পাতা দিয়ে"—এর মধ্যে মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার সময় কুল পাতা ব্যবহারের মুস্তাহাব হওয়ার দলীল রয়েছে। এর মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। এটি ওয়াজিব গোসলের সময়ই ব্যবহার করা হবে। কেউ কেউ বলেছেন, উভয় ক্ষেত্রেই এটি জায়েয।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "এবং শেষবার কপূর বা সামান্য কপূর ব্যবহার করো"—এর মধ্যে শেষবারের ধোয়ায় সামান্য কপূর ব্যবহারের মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। আমাদের নিকট এটি সর্বসম্মত মত। ইমাম মালিক, আহমাদ এবং জুমহুর উলামায়ে কেরামও একই মত পোষণ করেছেন। তবে ইমাম আবু হানীফা বলেন, এটি মুস্তাহাব নয়। জুমহুরের দলীল হলো এই হাদীস। তাছাড়া এটি মৃতদেহকে সুগন্ধযুক্ত করে, শরীরকে দৃঢ় ও শীতল রাখে এবং দ্রুত পচন রোধ করে অথবা এটি মৃতকে সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।
তাঁর (উম্মে আতিয়্যাহর) উক্তি: "তিনি আমাদের দিকে তাঁর লুঙ্গি ছুঁড়ে দিলেন এবং বললেন: এটি তাঁর শরীরের সাথে মিলিয়ে (ভিতরের কাফন হিসেবে) দাও।" 'হিক্বওয়াহ' শব্দটি 'হা' বর্ণে যের এবং যবর উভয়ভাবেই পড়া যায়, যার অর্থ তাঁর পরিধেয় লুঙ্গি। মূলত লুঙ্গি যেখানে বাঁধা হয় তাকে 'হিক্ব' বলা হয়। রূপক অর্থে লুঙ্গিকেও 'হিক্ব' বলা হয় কারণ এটি সেখানেই বাঁধা হয়। 'শরীরের সাথে মিলিয়ে দাও' এর অর্থ হলো: এটিকে তাঁর 'শিআর' বানিয়ে দাও। আর 'শিআর' বলা হয় ঐ কাপড়কে যা শরীরের সাথে লেগে থাকে। একে 'শিআর' বলার কারণ হলো এটি শরীরের পশমের সাথে মিশে থাকে। তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের লুঙ্গি পরানোর হিকমত বা রহস্য হলো এর মাধ্যমে বরকত লাভ করা। সুতরাং এতে নেককার ব্যক্তিদের ব্যবহৃত বস্তু ও পোশাকের মাধ্যমে বরকত হাসিল করার বৈধতা প্রমাণিত হয়। এছাড়া পুরুষের পোশাকে নারীকে কাফন দেওয়ার বৈধতাও এতে পাওয়া যায়।
তাঁর উক্তি: "আমরা তাঁর চুলকে তিনটি ভাগে বিন্যস্ত করে দিলাম"—অর্থাৎ তিনটি বেণী করে দিলাম। আমরা তাঁর দুই পাশের চুলকে দুটি বেণী বানালাম...