হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (161)


161 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُسْلِمُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ، وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ». [13: 3]




১৬১. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’মুসলিম ব্যক্তি এক পেটে আহার করে আর কাফির ব্যক্তি সাত পেটে আহার করে।’




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (3/ 122): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (162)


162 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ الطَّائِيُّ بِمَنْبَجَ أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَافَهُ ضَيْفٌ كَافِرٌ، فَأَمَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَاةٍ، فَشَرِبَ حِلَابَهَا، ثُمَّ أُخْرَى فَشَرِبَ حِلَابَهَا، حَتَّى شَرِبَ حِلَابَ سَبْعِ شِيَاهٍ، ثُمَّ إِنَّهُ أَصْبَحَ فَأَسْلَمَ، فَأَمَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَاةٍ، فَحُلِبَتْ فَشَرِبَ حِلَابَهَا، ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِأُخْرَى، فَلَمْ يَسْتَتِمَّهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَشْرَبُ فِي مِعًى وَاحِدٍ، وَالْكَافِرَ يَشْرَبُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ». [13: 3]




১৬২. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাসায় একজন কাফির ব্যক্তি মেহমান হলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য একটি ছাগীর দুধ দোহন করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর সে তার দুধ পান করলো। তারপর তার জন্য আরেকটি ছাগীর দুধ দোহন করার নির্দেশ দিলেন। সে সেটারও দুধ পান করলো। এভাবে সে সাতটি ছাগীর দুধ পান করলো। তার পরদিন সকালে সে ব্যক্তি মুসলিম হয়ে গেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য একটি ছাগীর দুধ দোহন করার নির্দেশ দিলেন। দুধ দোহন করা হলো। অতঃপর তিনি তার দুধ পান করলেন। তারপর তাঁর জন্য আরেকটি ছাগীর দুধ দোহন করার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু তিনি সেই দুধ পান করে শেষ করতে পারলেন না। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’নিশ্চয়ই মুসলিম ব্যক্তি এক পেটে আহার করে আর কাফির ব্যক্তি সাত পেটে আহার করে।’[1]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.









সহীহ ইবনু হিব্বান (163)


163 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْطَى رِجَالًا، وَلَمْ يُعْطِ رَجُلًا مِنْهُمْ شَيْئًا، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَعْطَيْتَ فُلَانًا وَفُلَانًا، وَلَمْ تُعْطِ فُلَانًا شَيْئًا وَهُوَ مُؤْمِنٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَوْ مُسْلِمٌ» قَالَهَا ثَلَاثًا قَالَ الزُّهْرِيُّ: نَرَى أَنَّ الْإِسْلَامَ الْكَلِمَةُ، وَالْإِيمَانَ الْعَمَلُ. [65: 3]




১৬৩. সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশ কিছু লোককে দান করলেন কিন্তু তাদের মাঝে একজন ব্যক্তিকে কিছুই দিলেন না। তখন আমি বললাম: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি ওমুক, ওমুক ব্যক্তিকে দিলেন অথচ ওমুক ব্যক্তিকে কিছুই দিলেন না, অথচ সে ব্যক্তি মু’মিন।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’(সে মু’মিন) নাকি মুসলিম?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি তিনবার বললেন। ইমাম যুহরী রহিমাহুল্লাহ বলেন: ’’আমরা কালেমা মুখে পড়াকে ইসলাম মনে করি আর আমলকে ঈমান মনে করি।”[1]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإيمان» لابن أبي شيبة (ص 11 و 12)، «صحيح سنن أبي داود» (4683): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح، رجاله رجال الشيخين غير ابن أبي السري، فإنه كثير الأوهام، وقد توبع.









সহীহ ইবনু হিব্বান (164)


164 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءَ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ، عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ لَقِيتُ رَجُلًا مِنَ الْكُفَّارِ فَقَاتَلَنِي، فَضَرَبَ إِحْدَى يَدَيَّ بِالسَّيْفِ فَقَطَعَهَا، ثُمَّ لَاذَ مِنِّي بِشَجَرَةٍ وَقَالَ: أَسْلَمْتُ لِلَّهِ، أَفَأَقْتُلُهُ بَعْدَ أَنْ قَالَهَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقْتُلْهُ»، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّهُ قَدْ قَطَعَ يَدِي، ثُمَّ قَالَ ذَلِكَ بَعْدَ أَنْ قَطَعَهَا، أَفَأَقْتُلُهُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقْتُلْهُ، فَإِنْ قَتَلْتَهُ فَإِنَّهُ بِمَنْزِلَتِكَ قَبْلَ أَنْ تَقْتُلَهُ، وَأَنْتَ بِمَنْزِلَتِهِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ كَلِمَتَهُ الَّتِي قَالَ». [65: 3] [ص:382] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَإِنْ قَتَلْتَهُ فَإِنَّهُ بِمَنْزِلَتِكَ قَبْلَ أَنْ تَقْتُلَهُ» يُرِيدُ بِهِ: أَنَّكَ تُقْتَلُ قَوَدًا، لِأَنَّهُ كَانَ قَبْلَ أَنْ أَسْلَمَ حَلَالَ الدَّمِ، وَإِذَا قَتَلْتَهُ بَعْدَ إِسْلَامِهِ صِرْتَ بِحَالَةٍ تُقْتَلُ مِثْلَهُ قَوَدًا بِهِ، لَا أَنَّ قَتْلَ الْمُسْلِمِ يُوجِبُ كُفْرًا يُخْرِجُ مِنَ الْمِلَّةِ، إِذِ اللَّهُ قَالَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى} [البقرة: 178].




১৬৪. মিকদাদ বিন আসওয়াদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এই ব্যাপারে আপনার কী অভিমত, আমার যদি কোন কাফির ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ হয়, অতঃপর সে আমার সাথে ‍লড়াইয়ে লিপ্ত হয় এবং তরবারী দিয়ে আমার এক হাতে আঘাত করে তা কেটে ফেলে দেয়, তারপর সে আমার থেকে বাঁচতে গাছের আড়ালে আশ্রয় নেয় এবং বলে, ’আমি আল্লাহর কাছে আত্নসমর্পণ করলাম’ এটা বলার পর আমি কি তাকে হত্যা করতে পারবো?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’তুমি তাকে হত্যা করবে না।’ আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সে আমার হাত কেটে ফেলেছে, আমার হাত কাটার পর তারপর সে এমনটা বলেছে, আমি কি তাকে হত্যা করবো না?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’তুমি তাকে হত্যা করবে না। যদি তুমি তাকে হত্যা করো, তবে তুমি তাকে হত্যা করার পূর্বে যে জায়গায় ছিলে, সে সেই জায়গায় পৌঁছে যাবে আর সে এই বাক্য বলার আগে যে জায়গায় ছিল, তুমি সেই জায়গায় পৌঁছে যাবে।’[1]

আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভাষ্য: ’তুমি তাকে হত্যা করবে না। যদি তুমি তাকে হত্যা করো, তবে তুমি তাকে হত্যা করার পূর্বে যে জায়গায় ছিলে, সে সেই জায়গায় পৌঁছে যাবে আর সে এই বাক্য বলার আগে যে জায়গায় ছিল, তুমি সেই জায়গায় পৌঁছে যাবে।’ –এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাহলে কিসাস স্বরুপ তোমাকে হত্যা করা হবে। কারণ ইসলাম গ্রহণ করার পর তার রক্ত বৈধ ছিল, যদি তুমি তাকে ইসলাম গ্রহণ করার পর হত্যা করো, তাহলে তুমি এমন অবস্থায় পরিণত হবে যে, কিসাস স্বরুপ তার মত তোমাকেও হত্যা করা হবে। হাদীসের উদ্দেশ্য এটা নয় যে, কোন ‍মুসলিমকে হত্যা করা এমন কুফর যা মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। কারণ আল্লাহ বলেছেন: ’হে ঈমানদারগণ, নিহত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তোমাদের উপর কিসাসকে ফরয করা হয়েছে।’ (সূরা আল বাকারা: ১৭৮।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح سنن أبي داود» (2376): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، ويزيد بن موهب: هو يزيد بن خالد بن يزيد بن موهب الرملي أبو خالد، ثقة، ومن فوقه على شرط الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (165)


165 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ حَجَّاجٍ الصَّوَّافِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ: كَانَتْ لِي غُنَيْمَةٌ تَرْعَاهَا جَارِيَةٌ لِي فِي قِبَلِ أُحُدٍ، وَالْجَوَّانِيَّةِ، فَاطَّلَعْتُ عَلَيْهَا ذَاتَ يَوْمٍ، وَقَدْ ذَهَبَ الذِّئْبُ مِنْهَا بِشَاةٍ، وَأَنَا مِنْ بَنِي آدَمَ آسَفُ كَمَا يَأْسَفُونَ، فَصَكَكْتُهَا صَكَّةً، فَعَظُمَ ذَلِكَ عَلَيَّ، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: أَفَلَا أَعْتِقُهَا؟ قَالَ: «ائْتِنِي بِهَا»، فَأَتَيْتُهُ بِهَا، فَقَالَ: «أَيْنَ اللَّهُ؟ » قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ، قَالَ: «مَنْ أَنَا؟ » قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «أَعْتِقْهَا، فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ». [49: 3]




১৬৫. মু’আবিয়া বিন হাকাম আস ‍সুলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’আমার কিছু ছাগল ছিল, যা আমার এক দাসী উহুদ ও আল জাওওয়ানা নামক জায়গার দিকে চরাতো। একদিন আমি তার কাছে গিয়ে জানলাম যে, এক নেকড়ে আমার একটি ছাগল নিয়ে চলে গেছে। ফলে আদম সন্তান হিসেবে অন্যান্যদের মত আমারও আফসোস হলো। অতঃপর প্রচন্ডভাবে তাকে থাপ্পড় দিলাম। তারপর ব্যাপারটি আমার কাছে খুবই গুরুতর মনে হলো। ফলে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বললাম: ’আমি কি তাকে মুক্ত করে দিব না?’ তিনি আমাকে বললেন: ’তুমি তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো।’ অতঃপর আমি তাকে তার কাছে নিয়ে আসলাম। তিনি তাকে বললেন: ’আল্লাহ কোথায়?’ সে জবাবে বললো: ’আসমানে।’ তিনি বললেন: ’আমি কে?’ সে জবাবে বললো: ’আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ তখন তিনি বললেন: ’একে মুক্ত করে দাও, নিশ্চয়ই সে একজন মু’মিনা।’[1]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (3161): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، ابن أبي عدي: هو محمد بن إبراهيم.









সহীহ ইবনু হিব্বান (166)


166 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً، أَوْ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً، فَأَرْفَعُهَا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ». [1: 1] [ص:385] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: أَشَارَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْخَبَرِ إِلَى الشَّيْءِ الَّذِي هُوَ فَرْضٌ عَلَى الْمُخَاطَبِينَ فِي جَمِيعِ الْأَحْوَالِ، فَجَعَلَهُ أَعْلَى الْإِيمَانِ، ثُمَّ أَشَارَ إِلَى الشَّيْءِ الَّذِي هُوَ نَفْلٌ لِلْمُخَاطَبِينَ فِي كُلِّ الْأَوْقَاتِ، فَجَعَلَهُ أَدْنَى الْإِيمَانِ، فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ كُلَّ شَيْءٍ فَرْضٌ عَلَى الْمُخَاطَبِينَ فِي كُلِّ الْأَحْوَالِ، وَكُلَّ شَيْءٍ فَرْضٌ عَلَى بَعْضِ الْمُخَاطَبِينَ فِي بَعْضِ الْأَحْوَالِ، وَكُلَّ شَيْءٍ هُوَ نَفْلٌ لِلْمُخَاطَبِينَ فِي كُلِّ الْأَحْوَالِ، كُلُّهُ مِنَ الْإِيمَانِ، [ص:386] وَأَمَّا الشَّكُّ فِي أَحَدِ الْعَدَدَيْنِ، فَهُوَ مِنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ فِي الْخَبَرِ، كَذَلِكَ قَالَهُ مَعْمَرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، وَقَدْ رَوَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ مَرْفُوعًا، وَقَالَ: «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً»، وَلَمْ يَشُكَّ، وَإِنَّمَا تَنَكَّبْنَا خَبَرَ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ فِي هَذَا الْمَوْضِعِ، وَاقْتَصَرْنَا عَلَى خَبَرِ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ لِنُبَيِّنَ أَنَّ الشَّكَّ فِي الْخَبَرِ لَيْسَ مِنْ كَلَامِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِنَّمَا هُوَ كَلَامُ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ كَمَا ذَكَرْنَاهُ




১৬৬. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’ঈমানের ষাটের অধিক শাখা-প্রশাখা আছে অথবা (রাবীর সন্দেহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন) ঈমানের সত্তরেরও অধিক শাখা-প্রশাখা আছে। সর্বোচ্চ শাখা হলো ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, সর্বনিম্ন শাখা রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস অপসারণ করা। লজ্জাও ঈমানের একটি শাখা।’[1]

আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “এই হাদীসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুখাতাব (যাদের উপর শরীয়তের বিধি-বিধান আরোপিত হয়) ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় ফরয এমন জিনিসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং সেটাকে ঈমানের সর্বোচ্চ শাখা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তারপর তিনি মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় নফল এমন জিনিসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং সেটাকে ঈমানের সর্বনিম্ন শাখা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। কাজেই এই হাদীস প্রমাণ করে যে, মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় ফরয, কিছু মুখাতাবের উপর কোন কোন সময় ফরয এবং মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় নফল- এসবই ঈমানের অন্তর্ভূক্ত বিষয়।

আর হাদীসে দুই সংখ্যার যে সংশয়, এই সংশয়টি এসেছে রাবী সুহাইল বিন আবী সালিহ এর পক্ষ থেকে। সুহাইল থেকে মা’মার এভাবেই (সন্দেহযুক্তভাবে) বর্ণনা করেছেন। অথচ হাদীসটি সুলাইমান বিন বিলাল আব্দুল্লাহ বিন দীনার থেকে তিনি আবু সালিহ থেকে মারফু’ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, সেখানে বলা হয়েছে: ’ঈমানের ষাটের অধিক শাখা-প্রশাখা আছে।’ এখানে তিনি কোন সংশয় প্রকাশ করেননি। আমরা এখানে সুলাইমান বিন বিলালের হাদীস কাঁধে তুলে নিয়েছি আর সুহাইল বিন আবী সালিহ এর হাদীস সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি এটা স্পষ্ট করে দেওয়ার জন্য যে, হাদীসে বর্ণিত সংশয়টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আসেনি বরং তা এসেছে সুহাইল বিন আবী সালিহ এর পক্ষ থেকে, যা আমরা ইতোমধ্যেই উল্লেখ করেছি।”




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1769): ق، ولفظ: «سبعون» أصح.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.









সহীহ ইবনু হিব্বান (167)


167 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو قُدَامَةَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ». [1: 1] [ص:387] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: اخْتَصَرَ سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ هَذَا الْخَبَرَ، فَلَمْ يَذْكُرْ ذِكْرَ الْأَعْلَى وَالْأَدْنَى مِنَ الشُّعَبِ، وَاقْتَصَرَ عَلَى ذِكْرِ السِّتِّينَ دُونَ السَّبْعِينَ، وَالْخَبَرُ فِي بِضْعٍ وَسَبْعِينَ خَبَرٌ مُتَقَصًّى صَحِيحٌ لَا ارْتِيَابَ فِي ثُبُوتِهِ، وَخَبَرُ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ خَبَرٌ مُخْتَصَرٌ غَيْرُ مُتَقَصًّى، وَأَمَّا الْبِضْعُ، فَهُوَ اسْمٌ يَقَعُ عَلَى أَحَدِ أَجْزَاءِ الْأَعْدَادِ، لِأَنَّ الْحِسَابَ بِنَاؤُهُ عَلَى ثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ: عَلَى الْأَعْدَادِ، وَالْفُصُولِ، وَالتَّرْكِيبِ، فَالْأَعْدَادُ مِنَ الْوَاحِدِ إِلَى التِّسْعَةِ، وَالْفُصُولُ هِيَ الْعَشَرَاتُ وَالْمِئُونُ وَالْأُلُوفُ، وَالتَّرْكِيبُ مَا عَدَا مَا ذَكَرْنَا، وَقَدْ تَتَبَّعْتُ مَعْنَى الْخَبَرِ مُدَّةً، وَذَلِكَ أَنَّ مَذْهَبَنَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَتَكَلَّمْ قَطُّ إِلَّا بِفَائِدَةٍ، وَلَا مِنْ سُنَنِهِ شَيْءٌ لَا يُعْلَمُ مَعْنَاهُ، فَجَعَلْتُ أَعُدُّ الطَّاعَاتِ مِنَ الْإِيمَانِ، فَإِذَا هِيَ تَزِيدُ عَلَى هَذَا الْعَدَدِ شَيْئًا كَثِيرًا، فَرَجَعْتُ إِلَى السُّنَنِ، فَعَدَدْتُ كُلَّ طَاعَةٍ عَدَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْإِيمَانِ، فَإِذَا هِيَ تَنْقُصُ مِنَ الْبِضْعِ وَالسَّبْعِينَ، فَرَجَعْتُ إِلَى مَا بَيْنَ الدَّفَّتَيْنِ مِنْ كَلَامِ رَبِّنَا، وَتَلَوْتُهُ آيَةً آيَةً بِالتَّدَبُّرِ، وَعَدَدْتُ كُلَّ طَاعَةٍ عَدَّهَا اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا مِنَ الْإِيمَانِ، فَإِذَا هِيَ تَنْقُصُ عَنِ الْبِضْعِ وَالسَّبْعِينَ، فَضَمَمْتُ الْكِتَابَ إِلَى السُّنَنِ، وَأَسْقَطْتُ الْمُعَادَ مِنْهَا، فَإِذَا كُلُّ شَيْءٍ عَدَّهُ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا مِنَ الْإِيمَانِ فِي كِتَابِهِ، وَكُلُّ طَاعَةٍ جَعَلَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْإِيمَانِ فِي سُنَنِهِ تِسْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً لَا يَزِيدُ عَلَيْهَا وَلَا يَنْقُصُ مِنْهَا شَيْءٌ، فَعَلِمْتُ أَنَّ مُرَادَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي الْخَبَرِ أَنَّ الْإِيمَانَ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَنِ، فَذَكَرْتُ هَذِهِ الْمَسْأَلَةَ [ص:388] بِكَمَالِهَا بِذِكْرِ شُعْبَةَ فِي كِتَابِ «وَصْفُ الْإِيمَانِ وَشُعَبِهِ» بِمَا أَرْجُو أَنَّ فِيهَا الْغَنِيَّةَ لِلْمُتَأَمِّلِ إِذَا تَأَمَّلَهَا، فَأَغْنَى ذَلِكَ عَنْ تِكْرَارهَا فِي هَذَا الْكِتَابِ، وَالدَّلِيلُ عَلَى أَنَّ الْإِيمَانَ أَجْزَاءٌ بِشُعَبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي خَبَرِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ: «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً: أَعْلَاهَا شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ»، فَذَكَرَ جُزْءًا مِنْ أَجْزَاءِ شُعَبِهِ، هِيَ كُلُّهَا فَرْضٌ عَلَى الْمُخَاطَبِينَ فِي جَمِيعِ الْأَحْوَالِ، لِأَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَقُلْ: وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، وَالْإِيمَانُ بِمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَمَا يُشْبِهُ هَذَا مِنْ أَجْزَاءِ هَذِهِ الشُّعْبَةِ، وَاقْتَصَرَ عَلَى ذِكْرِ جُزْءٍ وَاحِدٍ مِنْهَا، حَيْثُ قَالَ: «أَعْلَاهَا شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ»، فَدَلَّ هَذَا عَلَى أَنَّ سَائِرَ الْأَجْزَاءِ مِنْ هَذِهِ الشُّعْبَةِ كُلُّهَا مِنَ الْإِيمَانِ، ثُمَّ عَطَفَ فَقَالَ: «وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ»، فَذَكَرَ جُزْءًا مِنْ أَجْزَاءِ شُعَبِهِ هِيَ نَفْلٌ كُلُّهَا لِلْمُخَاطَبِينَ فِي كُلِّ الْأَوْقَاتِ، فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ سَائِرَ الْأَجْزَاءِ الَّتِي هِيَ مِنْ هَذِهِ الشُّعْبَةِ وَكُلَّ جُزْءٍ مِنْ أَجْزَاءِ الشُّعَبِ الَّتِي هِيَ مِنْ بَيْنِ الْجُزْأَيْنِ الْمَذْكُورَيْنِ فِي هَذَا الْخَبَرِ اللَّذَيْنِ هُمَا مِنْ [ص:389] أَعْلَى الْإِيمَانِ وَأَدْنَاهُ كُلُّهُ مِنَ الْإِيمَانِ، وَأَمَّا قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ»، فَهُوَ لَفْظَةٌ أُطْلِقَتْ عَلَى شَيْءٍ بِكِنَايَةِ سَبَبِهِ، وَذَلِكَ أَنَّ الْحَيَاءَ جِبِلَّةٌ فِي الْإِنْسَانِ، فَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُكْثِرُ فِيهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَقِلُّ ذَلِكَ فِيهِ، وَهَذَا دَلِيلٌ صَحِيحٌ عَلَى زِيَادَةِ الْإِيمَانِ وَنُقْصَانِهِ، لِأَنَّ النَّاسَ لَيْسُوا كُلُّهُمْ عَلَى مَرْتَبَةٍ وَاحِدَةٍ فِي الْحَيَاءِ، فَلَمَّا اسْتَحَالَ اسْتِوَاؤُهُمْ عَلَى مَرْتَبَةٍ وَاحِدَةٍ فِيهِ، صَحَّ أَنَّ مَنْ وُجِدَ فِيهِ أَكْثَرُ، كَانَ إِيمَانُهُ أَزِيدَ، وَمَنْ وُجِدَ فِيهِ مِنْهُ أَقَلُّ، كَانَ إِيمَانُهُ أَنْقَصَ، وَالْحَيَاءُ فِي نَفْسِهِ: هُوَ الشَّيْءُ الْحَائِلُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَبَيْنَ مَا يُبَاعِدُهُ مِنْ رَبِّهِ مِنَ الْمَحْظُورَاتِ، فَكَأَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَعَلَ تَرْكَ الْمَحْظُورَاتِ شُعْبَةً مِنَ الْإِيمَانِ بِإِطْلَاقِ اسْمِ الْحَيَاءِ عَلَيْهِ، عَلَى مَا ذَكَرْنَاهُ.




১৬৭. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’’ঈমানের ষাটের অধিক শাখা-প্রশাখা। লজ্জাও ঈমানের একটি শাখা।’[1]

আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “সুলাইমান বিন বিলাল হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। তিনি ঈমানের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন শাখা উল্লেখ করেননি এবং সত্তরটি উল্লেখ না করে ষাটটি উল্লেখের উপর ক্ষ্যান্ত থেকেছেন। সত্তরেরও বেশি শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট হাদীসটি বিস্তারিত ও সহীহ, সেটি বিশুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। সুলাইমান বিন বিলালের হাদীসটি সংক্ষিপ্ত, বিস্তারিত নয়।

আরবি الْبِضْعُ (৩-৯ পর্যন্ত সংখ্যা) শব্দটি একক যে কোন সংখ্যার উপর ব্যবহৃত হয়। কেননা সংখ্যার গণনা তিনটি জিনিসের উপর প্রতিষ্ঠিত; একক সংখ্যা, ফুসূল (দশক, শতক ও সহস্রবোধক শব্দ) এবং যৌগিক সংখ্যা। একক সংখ্যা হলো ১-৯ পর্যন্ত, ফুসূল হলো দশক, শতক ও সহস্রবোধক শব্দ আর বাকীগুলো যৌগিক সংখ্যা।

আমি হাদীসটির অর্থ একটা দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান করেছি। কারণ আমাদের অভিমত হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফায়দা বিহীন কোন কথা বলেননি। আর হাদীসেও এমন কোন কিছু নেই যার অর্থ জানা যায় না। ফলে আমি সৎকাজগুলোকে ঈমানের অন্তর্ভূক্ত ধরে গণনা করতে থাকি, অতঃপর দেখি যে, তার এই সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হয়। অতঃপর আমি হাদীসে ফিরে যাই এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেসব আমলকে ঈমানের পর্যায়ভুক্ত হিসেবে গণ্য করেছেন, দেখি সেগুলো সত্তরের কম হয়। তারপর আমি দুই খন্ডে সংরক্ষিত আল্লাহর কিতাবের দিকে ফিরে গেলাম এবং তিনি তাঁর কিতাবে যেসব আমলকে ঈমান হিসেবে গণ্য করেছেন, দেখলাম সেগুলি সত্তরের কম হয়। তারপর হাদীসের সংখ্যার সাথে কুরআনের সংখ্যা যোগ করলাম এবং পুনরুক্ত বিষয়গুলো বাদ দিলাম, ফলে আমি দেখলাম যে, যেসব আমলকে মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে ঈমানের অন্তর্ভূক্ত করেছেন এবং যেসব আমলকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসে ঈমানের অন্তর্ভূক্ত করেছেন, সেগুলি ৭৯ টি; একটিও কম-বেশি নেই। ফলে আমি জানলাম যে, হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উদ্দেশ্য হলো কুরআন ও হাদীসে ঈমানের শাখা সত্তরের অধিক।

অতঃপর ঈমানের প্রত্যেকটি শাখার আলোচনা وَصْفُ الْإِيمَانِ وَشُعَبِهِ (ঈমান ও তার শাখা-প্রশাখার বিবরণ) নামক কিতাবে পরিপূর্ণভাবে উল্লেখ করেছি। আমি আশা করি, চিন্তাশীল মানুষের জন্য সেটিই যথেষ্ট, যদি তিনি সেটা চিন্তা-গবেষণা করেন। আর এজন্য আমরা সে সম্পর্কে আলোচনা এখানে পুনারাবৃত্তি করছি না। ঈমান বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত এই মর্মে দলীল হলো আব্দুল্লাহ বিন দীনার বর্ণিত হাদীসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’ঈমানের সত্তরেরও অধিক শাখা-প্রশাখা আছে। সর্বোচ্চ শাখা হলো ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এখানে তিনি ঈমানের শাখাসমূহের মাঝে একটি শাখার একাংশের কথা বলেছেন, যে শাখার পুরোটা মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় ফরয। কারণ এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেননি যে, ’আমি আল্লাহর রাসূল।’ ফেরেস্তা, আসমানী কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, জান্নাত, জাহান্নাম প্রভৃতির প্রতি ঈমান এই শাখার অন্তর্ভূক্ত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এখানে একটি শাখার একাংশ উল্লেখ করে বলেছেন: ’সর্বোচ্চ শাখা হলো ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। কাজেই এটি প্রমাণ করে যে, এই শাখার অন্যান্য বাকী অংশগুলোও ঈমানের অন্তর্ভূক্ত। এরপর তিনি আতফ করে (পূর্বের বাক্যের সাথে যোগ করে) বলেছেন: ’সর্বনিম্ন হলো: রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস অপসারণ করা।’ এখানে তিনি ঈমানের শাখাসমূহের একটির অংশ উল্লেখ করেছেন, যার সম্পূর্ণটাই মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় নফল। কাজেই এটি প্রমাণ করে যে, এই শাখার অন্যান্য অংশসমূহ এবং ঈমানের শাখাসমূহের মধ্য হতে হাদীসে উল্লেখিত সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দুটি অংশ- সবই ঈমানের অন্তর্ভূক্ত।

অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভাষ্য: ’লজ্জাও ঈমানের একটি শাখা।’ এখানে الْحَيَاءُ শব্দটি একটি জিনিসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, তার উপকরণের প্রতি ইঙ্গিত করে। কারণ الْحَيَاءُ মানুষের মাঝে একটি প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য যা কিছু মানুষের মাঝে বেশি পরিমাণে থাকে আবার কিছু মানুষের মাঝে তা অল্প পরিমাণে থাকে। কাজেই ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি একটি বিশুদ্ধ দলীল। কারণ লজ্জার ক্ষেত্রে একই পর্যায়ভূক্ত নয়। কাজেই লজ্জার ক্ষেত্রে যখন মানুষ একই পর্যায়ভূক্ত হওয়া সম্ভব নয়, সুতরাং এটি সঠিক কথা যে, যার মধ্যে লজ্জা তুলনামূলকভাবে অধিক পরিমাণে পাওয়া যাবে, তার ঈমানও তুলনামূলকভাবে বেশি হবে আর যার মধ্যে লজ্জা তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণে পাওয়া যাবে, তার ঈমানও তুলনামূলকভাবে কম হবে। আর মানুষ ও যেসব নিষিদ্ধ জিনিস মানুষকে তার প্রভু থেকে দূরে ঠেলে দেয়- উভয়ের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টিকারী সেসব জিনিসই হলো সত্তাগতভাবে الْحَيَاءُ বা লজ্জা। কাজেই লজ্জাকে ঈমানের শাখার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে যেন তিনি নিষিদ্ধ জিনিস বর্জন করাকেই ঈমানের শাখা হিসেবে গণ্য করেছেন, যা আমরা আলোচনা করলাম।”




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (168)


168 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، قَالَ: خَرَجْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيُّ حَاجَّيْنِ أَوْ مُعْتَمِرَيْنِ، وَقُلْنَا: لَعَلَّنَا لَقِينَا رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ [ص:390] مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنَسْأَلَهُ عَنِ الْقَدَرِ، فَلَقِيَنَا ابْنَ عُمَرَ، فَظَنَنْتُ أَنَّهُ يَكِلُ الْكَلَامَ إِلَيَّ، فَقُلْنَا: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَدْ ظَهَرَ عِنْدَنَا أُنَاسٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ يَتَقَفَّرُونَ الْعِلْمَ تَقَفُّرًا، يَزْعُمُونَ أَنْ لَا قَدَرَ، وَأَنَّ الْأَمْرَ أُنُفٌ، قَالَ: فَإِنْ لَقِيتَهُمْ، فَأَعْلِمْهُمْ أَنِّي مِنْهُمْ بَرِيءٌ، وَهُمْ مِنِّي بُرَآءُ، وَالَّذِي يَحْلِفُ بِهِ ابْنُ عُمَرَ: لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا، ثُمَّ لَمْ يُؤْمِنْ بِالْقَدَرِ لَمْ يُقْبَلْ مِنْهُ، ثُمَّ قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ جَالِسًا، إِذْ جَاءَ شَدِيدُ سَوَادِ اللِّحْيَةِ، شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ، فَوَضَعَ رُكْبَتَهُ عَلَى رُكْبَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، مَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ: «شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ، وَحَجُّ الْبَيْتِ»، قَالَ: صَدَقْتَ، فَعَجِبْنَا مِنْ سُؤَالِهِ إِيَّاهُ، وَتَصْدِيقِهِ إِيَّاهُ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي: مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ رُسُلِهِ، وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ حُلْوِهِ وَمُرِّهِ»، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَعَجِبْنَا مِنْ سُؤَالِهِ إِيَّاهُ، [ص:391] وَتَصْدِيقِهِ إِيَّاهُ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي: مَا الْإِحْسَانُ؟ قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ»، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: «مَا الْمَسْؤُولُ بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ»، قَالَ: فَمَا أَمَارَتُهَا؟ قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ»، قَالَ: فَتَوَلَّى وَذَهَبَ، فَقَالَ عُمَرُ: فَلَقِيَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ ثَالِثَةٍ، فَقَالَ: «يَا عُمَرُ، أَتَدْرِي مَنِ الرَّجُلُ؟ » قُلْتُ: لَا، قَالَ: «ذَاكَ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ». [30: 3]




১৬৮. ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি ও হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান আল হিমইয়ারী হজ্জ অথবা উমরার উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমরা বললাম যে, হতে পারে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কোন সাহাবীর সাক্ষাৎ পাবো, (যদি সাক্ষাৎ পাই) তাহলে আমরা তাঁকে ভাগ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবো। অতঃপর আমরা আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার সাক্ষাৎ পেয়ে গেলাম। আমার মনে পড়ে যে, আমার সঙ্গী আমাকে কথা বলার দায়িত্ব দেন। ফলে আমরা তাঁকে বললাম: ’হে আবু আব্দুর রহমান (এটি আব্দুল্লাহ বিন উমারের উপনাম), আমাদের মাঝে একদল লোকের আবির্ভাব হয়েছে, যার কুরআন পাঠ করে, ইলমও অর্জন করে- তারা বলে যে, ’ভাগ্য বলতে কিছু নেই। নিশ্চয়ই সবকিছু তাৎক্ষণিকভাবেই ঘটে।’ তখন আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার বলেন: ’যদি তুমি তাদের সাক্ষাৎ পাও, তবে তাদেরকে জানিয়ে দিয়ো যে, আমি তাদের থেকে সম্পূর্ণরুপে মুক্ত, আর তারাও আমার থেকে মুক্ত। আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা শপথ করে বলেন: ’যদি তাদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দান করে আর ভাগ্যের প্রতি ঈমান আনয়ন না করে, তবে তাদের সে দান কখনই গ্রহন করা হবে না।’ তারপর তিনি বলেন:

’আমাকে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন যে, ’একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে বসে ছিলেন। এমন সময় অত্যন্ত কালো দাড়ি ও ধবধবে সাদা পোশাক বিশিষ্ট্য একজন ব্যক্তি আসলেন। তিনি তাঁর হাঁটু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাঁটুর সাথে লাগালেন। অতঃপর বললেন: ’হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইসলাম কী?’ জবাবে তিনি বললেন: “এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের সিয়াম পালন করা এবং বায়তুল্লাহর হজ্জ করা।’ তিনি বললেন: ’আপনি ঠিকই বলেছেন।’ ফলে আমরা অবাক হলাম যে, তিনি নিজেই প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই উত্তর সত্যায়িত করছেন। তিনি বললেন: ’আমাকে বলুন, ঈমান কী?’ জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’ঈমান হলো তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেস্তা, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূলগণ, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, ভাগ্যের ভাল-মন্দ, তিক্ততা-মিষ্টতা প্রভৃতির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।’ তিনি বললেন: ’আপনি ঠিকই বলেছেন।’ ফলে আমরা অবাক হলাম যে, তিনি নিজেই প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই উত্তর সত্যায়িত করছেন। তিনি বললেন: ’আমাকে বলুন, ইহসান কী?’ জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’ইহসান হলো তুমি এমনভাবে ইবাদত করবে যে, যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছো। যদি তুমি তাকে দেখতে না পাও তবে (মনে করবে যে) নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন।’ তিনি আবারো বললেন: ’আমাকে বলুন, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে?’ তিনি বলেন: ’এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞেসকারীর চেয়ে বেশি অবগত নন। তিনি বললেন: ’তাহলে তার আলামত কী।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: কিয়ামতের আলামত হলো তুমি দাসীকে দেখবে তার মুনীবকে প্রসব করতে, দেখবে বিবস্ত্র, নগ্নপদ, ছাগলের রাখালদের প্রাসাদ নিয়ে গর্ব করতে। তারপর লোকটি চলে যায়। উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: ’এর তিনদিন পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি আমাকে বলেন: ’হে উমার, তুমি কি জানো সেই লোকটি কে ছিল?’ আমি বললাম: ’জ্বী, না।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’উনি জিবরীল আলাইহিস সালাম, তিনি এসেছিলেন,আপনাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য।’[1]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «ابن ماجه» (63)، «الصحيحة» (2903): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (169)


169 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ بِسْطَامٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، وَحَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، وَعَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، دَخَلَ الْجَنَّةَ» فَقُلْتُ: وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: «وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ». [26: 3]




১৬৯. আবু যার আল গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’যে ব্যক্তি ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ আমি বললাম: ’যদি সে ব্যভিচার করে, যদি সে ‍চুরি করে?’ তিনি জবাবে বলেন: ’যদিও সে ব্যভিচার করে, যদিও সে চুরি করে।’[1]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (826): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح. إبراهيم بن بسطام: ترجمه المؤلف في «الثقات» 8/ 85، فقال: إبراهيم بن بسطام الأُبُلي، يروي عن البصريين، مات بعد سنة خمسين ومئتين، حدثنا عنه أحمد بن يحيى بن زهير وغيره، وباقي رجال السند ثقات.









সহীহ ইবনু হিব্বান (170)


170 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْقَطَّانُ، بِالرَّقَّةِ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، قَالَ: أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ أَبَا ذَرٍّ، بِالرَّبَذَةِ، يَقُولُ: كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَرَّةِ الْمَدِينَةِ فَاسْتَقْبَلَنَا أُحُدٌ، فَقَالَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ، مَا يَسُرُّنِي أَنَّ أُحُدًا لِي ذَهَبًا أُمْسِي وَعِنْدِي مِنْهُ دِينَارٌ إِلَّا أَصْرِفُهُ لِدَيْنٍ»، ثُمَّ مَشَى، وَمَشَيْتُ مَعَهُ، فَقَالَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ»، قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ، فَقَالَ: «إِنَّ الْأَكْثَرِينَ هُمُ الْأَقَلُّونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»، ثُمَّ قَالَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ، لَا تَبْرَحْ حَتَّى آتِيَكَ»، ثُمَّ انْطَلَقَ حَتَّى تَوَارَى، فَسَمِعْتُ صَوْتًا فَقُلْتُ: أَنْطَلِقُ، ثُمَّ ذَكَرْتُ قَوْلَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِي فَلَبِثْتُ حَتَّى جَاءَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي سَمِعْتُ صَوْتًا فَأَرَدْتُ أَنْ أُدْرِكَكَ*، فَذَكَرْتُ قَوْلَكَ لِي، فَقَالَ: «ذَلِكَ جِبْرِيلُ أَتَانِي فَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ: مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ»، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: «وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ» [ص:395] أَخْبَرْنَاهُ الْقَطَّانُ فِي عَقِبِهِ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ. [26: 3]
رقم طبعة با وزير = (170) و (170/*)




১৭০. যাইদ বিন ওয়াহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’আমি সাক্ষ্য দিয়ে বলছি যে, অবশ্যই আমি রাবাযাহ নামক জায়গায় আবু যার আল গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে শুনেছি। তিনি বলেছেন: ’আমি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে মদীনার কঙ্করময় এলাকা দিয়ে হাঁটছিলাম। আমাদের সামনে উহুদ পাহাড় পড়লো, অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’হে আবু যার, আমার মোটেও পছন্দ নয় যে, উহুদ পাহাড় আমার জন্য সোনায় পরিণত হয়ে তার একটি দীনারও সন্ধা পর্যন্ত আমার কাছে থাকুক। তবে সেটা ব্যতিত যা আমি ঋণ পরিশোধ করার জন্য রাখি।’ তারপর তিনি চলতে লাগলেন আমিও তাঁর সাথে চললাম। তারপর তিনি বললেন: ’হে আবু যার!’ আমি বললাম: ’আমি আপনার এবং আপনার সন্তুষ্টির কাছে সদাপ্রস্তুত! তিনি বললেন: ’(দুনিয়াতে ধন-সম্পদের দিক দিয়ে) আধিক্যতা লাভকারীরা কিয়ামতের দিন (সাওয়াব প্রাপ্তির দিক দিয়ে) স্বল্প লাভকারী হবে।’ তারপর তিনি বললেন: ’হে আবু যার, আমি তোমার কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত তুমি এখানেই থাকো।’ এরপর তিনি চলতে লাগলেন এমনকি তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন। অতঃপর আমি একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি মনে মনে বললাম: ’আমিও চলি।’ তারপরেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা মনে পড়লো। ফলে তিনি না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। এরপর তিনি আসলে আমি বললাম: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি একটি আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলাম, ফলে আমি আপনার কাছে যাওয়ার ইচ্ছা করি কিন্তু পরক্ষণেই আপনার কথা মনে হয়।’ তিনি বলেন: ’উনি জিবরীল, আমার কাছে এসেছিলেন। তিনি আমাকে বলেছেন: ’আমার উম্মতের মাঝে যে ব্যক্তি মারা যাবে এমতাবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করেনি, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম: ’যদি সে ব্যভিচার করে, যদি সে ‍চুরি করে?’ তিনি জবাবে বললেন: ’যদিও সে ব্যভিচার করে, যদিও সে চুরি করে।’[1]

উপরোক্ত হাদীসটি আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণিত হয়েছে।[2]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: [تنبيه!! ] هذا الحديث فصله الشيخ الألباني جزئين لوجود إسنادين به. الجزء الأول: 170 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ ... «وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ» وقال عن هذا الجزء: صحيح - المصدر نفسه، «تخريج فقه السيرة» (446): ق. الجزء الثاني: [170/*] أَخْبَرْنَاهُ الْقَطَّانُ فِي عَقِبِهِ، حَدَّثَنَا ... عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ. وقال عن هذا الجزء: لم يحكم الشيخ على هذا الجزء. [تنبيه آخر] في «طبعة باوزير» «آتِيَكَ» بدلا من «أُدْرِكَكَ» وكتب الشيخ تعليق على هذه اللفظه فقال: [في الأصل «أتركك»]. - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [تنبيه!! ] هذا الحديث حكم عليه الشيخ شعيب بحكمين لوجود إسنادين به. الإسناد الأول: أخبرنا الحسين بن عبد الله بن يزيد القطان، بالرقة، ... وإن زنى، وإن سرق». الأسناد الثاني: أخبرناه القطان في عقبه، حدثنا هشام بن عمار ... بمثله. وفي كِلا الموضعين قال الشيخ: إسناده صحيح على شرط البخاري. - مدخل بيانات الشاملة -.









সহীহ ইবনু হিব্বান (171)


171 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْجَعِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «مَنْ وَحَّدَ اللَّهَ وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُونِهِ، حَرُمَ مَالُهُ وَدَمُهُ، وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ». [26: 3]




১৭১. আবু মালিক আল আশজা’য়ী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর বাবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে ‍শুনেছি, তিনি বলেছেন: ’যে ব্যক্তি আল্লাহকে এক বলে জানবে, তাঁকে ছাড়া যা কিছুর উপাসনা করা হয়, সেসবকে অস্বীকার করবে, তার জান-মাল (অন্য মুসলিমদের জন্য) হারাম হয়ে যাবে। আর তার হিসাব আল্লাহর উপর বর্তাবে।’[1]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (428): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، أبو خالد الأحمر: هو سليمان بن حيان، وأبو مالك الأشجعي: هو سعد بن طارق.









সহীহ ইবনু হিব্বান (172)


172 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، قَالَ: كُنْتُ أُتَرْجِمُ بَيْنَ ابْنِ عَبَّاسٍ وَبَيْنَ النَّاسِ، فَأَتَتْهُ امْرَأَةٌ تَسْأَلُهُ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ، فَقَالَ: إِنَّ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ أَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ الْوَفْدُ، أَوْ مَنِ الْقَوْمُ؟ »، قَالُوا: رَبِيعَةُ، قَالَ: «مَرْحَبًا بِالْقَوْمِ أَوْ بِالْوَفْدِ غَيْرَ خَزَايَا وَلَا نَدَامَى»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا نَأْتِيكَ مِنْ شُقَّةٍ بَعِيدَةٍ، إِنَّ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ هَذَا الْحَيُّ مِنْ كُفَّارِ مُضَرَ، وَإِنَّا لَا نَسْتَطِيعُ أَنْ نَأْتِيَكَ إِلَّا فِي شَهْرٍ حَرَامٍ، فَمُرْنَا بِأَمْرٍ نُخْبِرُ بِهِ مَنْ وَرَاءَنَا، وَنَدْخُلُ بِهِ الْجَنَّةَ، قَالَ: فَأَمَرَهُمْ بِأَرْبَعٍ، وَنَهَاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ: أَمَرَهُمْ بِالْإِيمَانِ بِاللَّهِ وَحْدَهُ، وَقَالَ: «هَلْ تَدْرُونَ مَا الْإِيمَانُ بِاللَّهِ وَحْدَهُ؟ » قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ، وَأَنْ تُعْطُوا الْخُمُسَ مِنَ الْمَغْنَمِ، وَنَهَاهُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ، وَالْمُزَفَّتِ». قَالَ شُعْبَةُ: وَرُبَّمَا قَالَ: وَالنَّقِيرِ، وَرُبَّمَا قَالَ: الْمُقَيَّرِ، وَقَالَ: «احْفَظُوهُ وَأَخْبِرُوهُ مَنْ وَرَاءَكُمْ»




১৭২. আবু হামযা রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি একবার আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ও মানুষের মাঝে দোভাষী হিসেবে কাজ করছিলাম। এসময় তাঁর কাছে এক মহিলা এসে তাঁকে কলসির শরবত পান করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি জবাবে বলেন: ’একবার আব্দুল কায়িস গোত্রের প্রতিনিধি দল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বলেন: ’আপনারা কোন প্রতিনিধি দল? অথবা বলেছেন: ’আপনারা কোন সম্প্রদায়ের লোক?’ তাঁরা বললেন: ’আমরা রাবি’আহ গোত্রের লোক।’ তিনি বললেন: ’এই কওম বা প্রতিনিধিদলকে স্বাগতম, আপনারা লাঞ্চিতও হবেন না এবং অনুশোচনাও করবেন না।’ তাঁরা বললেন: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমরা আপনার কাছে অনেক দূর থেকে আসি। আমাদের ও আপনার মাঝে কুফফার মুযার গোত্রের আছে ফলে আমরা আপনার কাছে হারাম মাস ছাড়া অন্য কোন সময় আসতে পারি না। অতএব আপনি আমাদেরকে এমন কিছুর আদেশ দিন, যা আমাদের পিছে রেখে আসা লোকদের জানিয়ে দিব এবং তা আমল করে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো।’ রাবী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে চারটি জিনিসের আদেশ করেন এবং চারটি জিনিস থেকে নিষেধ করেন। তাঁদেরকে তিনি আদেশ করলেন এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে, তিনি বললেন: ’আপনারা কি জানেন এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী?’ তাঁরা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই ভালো জানেন।’ তিনি বলেন: ’সেটি হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রাসূল’, (তিনি আরো আদেশ করলেন) সালাত প্রতিষ্ঠা করতে, যাকাত প্রদান করতে, রমযানের সিয়াম পালন করতে এবং তোমাদের প্রাপ্ত গনীমত হতে এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করবে।’ তিনি তাঁদেরকে নিষেধ করেন কদুর খোলস, সবুজ কলসি, আল কাতরার প্রলেপ দেওয়া পাত্র এবং খেজুরের কাষ্ঠ খোদাই করা পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেন।’ এখানে ইমাম শু’বাহ রহিমাহুল্লাহ কোন কোন সময় النَّقِيرِ আবার কোন কোন সময় الْمُقَيَّرِ বলেছেন (অর্থ একই)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে বলেন: ’আপনারা এসব ভালভাবে মুখস্ত করে নিন এবং এসব আপনাদের পিছে থাকা লোকদের জানিয়ে দিবেন।’[1]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (157).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين؛ أبو جمرة: هو نصر بن عمران الضبعي.









সহীহ ইবনু হিব্বান (173)


173 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ وَاضِحٍ الْهَاشِمِيُّ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ قَالَ: قُلْتُ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَعْنِي لِابْنِ عُمَرَ: إِنَّ أَقْوَامًا يَزْعُمُونَ أَنْ لَيْسَ قَدَرٌ قَالَ: هَلْ عِنْدَنَا مِنْهُمْ أَحَدٌ؟ قُلْتُ: لَا، قَالَ: فَأَبْلِغْهُمْ عَنِّي إِذَا لَقِيتَهُمْ: إِنَّ ابْنَ عُمَرَ يَبْرَأُ إِلَى اللَّهِ مِنْكُمْ، وَأَنْتُمْ بُرَآءُ مِنْهُ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أُنَاسٍ، إِذْ جَاءَ رَجُلٌ [ص:398] لَيْسَ عَلَيْهِ سَحْنَاءُ سَفَرٍ، وَلَيْسَ مِنْ أَهْلِ الْبَلَدِ، يَتَخَطَّى حَتَّى وَرَكَ، فَجَلَسَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، مَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ: «الْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَأَنْ تُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَحُجَّ وَتَعْتَمِرَ، وَتَغْتَسِلَ مِنَ الْجَنَابَةِ، وَأَنْ تُتِمَّ الْوُضُوءَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ»، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَنَا مُسْلِمٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ، وَتُؤْمِنَ بِالْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَالْمِيزَانِ، وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ»، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ، فَأَنَا مُؤْمِنٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، مَا الْإِحْسَانُ؟ قَالَ: «الْإِحْسَانُ أَنْ تَعْمَلَ لِلَّهِ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنَّكَ إِنْ لَا تَرَاهُ، فَإِنَّهُ يَرَاكَ»، قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ هَذَا، فَأَنَا مُحْسِنٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَمَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: «سُبْحَانَ اللَّهِ، مَا الْمَسْؤُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ، وَلَكِنْ إِنْ شِئْتَ نَبَّأْتُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا»، قَالَ: أَجَلْ، قَالَ: «إِذَا رَأَيْتَ الْعَالَةَ الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبِنَاءِ، وَكَانُوا مُلُوكًا»، قَالَ: مَا الْعَالَةُ الْحُفَاةُ الْعُرَاةُ؟ قَالَ: «الْعُرَيْبُ»، قَالَ: «وَإِذَا رَأَيْتَ الْأَمَةَ تَلِدُ رَبَّتَهَا، فَذَلِكَ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ»، قَالَ: صَدَقْتَ، ثُمَّ نَهَضَ فَوَلَّى، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَلَيَّ بِالرَّجُلِ»، فَطَلَبْنَاهُ كُلَّ مَطْلَبٍ فَلَمْ نَقْدِرْ عَلَيْهِ، فَقَالَ [ص:399] رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلْ تَدْرُونَ مَنْ هَذَا؟ هَذَا جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ لَيُعَلِّمَكُمْ دِينَكُمْ، خُذُوا عَنْهُ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا شُبِّهَ عَلَيَّ مُنْذُ أَتَانِي قَبْلَ مَرَّتِي هَذِهِ، وَمَا عَرَفْتُهُ حَتَّى وَلَّى» *. [1: 1] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: تَفَرَّدَ سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ بِقَوْلِهِ «خُذُوا عَنْهُ»، وَبِقَوْلِهِ: «تَعْتَمِرَ وَتَغْتَسِلَ وَتُتِمَّ الْوُضُوءَ».




১৭৩. ইয়াহইয়া বিন ইয়া’মার রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি বললাম: ’হে আবু আব্দুর রহমান (এর দ্বারা তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমারকে বুঝিয়েছেন), কিছু লোক বিশ্বাস করে যে, ভাগ্য বলতে কিছু নেই।’ তিনি বললেন: ’আপনাদের মাঝে (এখানে) তাদের কেউ আছে কি?’ আমি বললাম: ’জ্বী, না।’ তিনি বলেন: ’যখনি আপনি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন, তখন আমার পক্ষ থেকে তাদেরকে জানিয়ে দিবেন যে, ’নিশ্চয়ই আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা তোমাদের থেকে আল্লাহর কাছে দায়মুক্ত, আর তোমরাও তাঁর থেকে দায়মুক্ত।’ এরপর তিনি বলেন: ’আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, তিনি বলেছেন: ’আমরা একদিন কিছু লোকের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে বসে ছিলাম, এমন সময় একজন লোক আসলেন, যার উপর সফরের কোন আলামত ছিল না আর সে আমাদের শহরের লোকও ছিল না। তিনি মানুষকে ডিঙ্গিয়ে এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বসলেন। অতঃপর বললেন: ’হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইসলাম কী?’ জবাবে তিনি বললেন: “ইসলাম হলো আপনি এই সাক্ষ্য দিবেন যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত প্রতিষ্ঠা করবেন, যাকাত প্রদান করবেন, হজ্জ করবেন উমরা করবেন, নাপাকীর গোসল করবেন, পরিপূর্ণভাবে ওযূ করবেন এবং রমযানের সিয়াম পালন করবেন।’ তিনি বললেন: ’যখন আমি এসব পালন করবো, তখন কি আমি মুসলিম হয়ে যাবো?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ’হ্যাঁ।’তিনি বললেন: ’আপনি ঠিকই বলেছেন।’ তিনি বললেন: ’হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাকে বলুন, ঈমান কী?’ জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’ঈমান হলো আপনি আল্লাহ, তাঁর ফেরেস্তা, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস করবেন, বিশ্বাস করবেন জান্নাত, জাহান্নাম ও মীযানের প্রতি, বিশ্বাস করবেন মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি, আরো বিশ্বাস করবেন ভাগ্যের ভাল-মন্দের প্রতি।’ তিনি বললেন: ’যখন আমি এসব বিশ্বাস করবো, তখন কি আমি মু’মিন হয়ে যাবো?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ’হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ’আপনি ঠিকই বলেছেন।’ তিনি বললেন: ইহসান কী?’ জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’ইহসান হলো আপনি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবেন যে, যেন আপনি তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন। যদি আপনি তাকে দেখতে না পান তবে (মনে করবেন যে) নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেখতে পাচ্ছেন।’ তিনি বললেন: ’যখন আমি এমন করবো, তখন কি আমি মুহসিন হয়ে যাবো?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ’হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ’আপনি ঠিকই বলেছেন।’ তিনি বললেন:কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে?’ তিনি বলেন: ’সুবহানাল্লাহ! এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞেসকারীর চেয়ে বেশি অবগত নন। তবে আপনি চাইলে আমি আপনাকে কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে বলতে পারি।’ তিনি বললেন: ’জ্বী, বলুন।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: কিয়ামতের আলামত হলো তুমি দেখবে অভাবী, বিবস্ত্র, নগ্নপদ, ছাগলের রাখালদের প্রাসাদ নিয়ে গর্ব করতে আর তারা রাজা হয়ে যাবে।’ তিনি বললেন: ’অভাবী, বিবস্ত্র, নগ্নপদ কী?’ তিনি বলেন: ’নিম্ন শ্রেণির গ্রাম্য লোক। আর যখন তুমি দাসীকে তার মুনীবকে প্রসব করতে দেখবে, এসব কিয়ামতের আলামত।’ তিনি বললেন: ’আপনি ঠিকই বলেছেন।’ তারপর তিনি উঠে চলে গেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’তোমরা লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে আসো।’ অতঃপর আমরা তাঁকে সাধ্যমত খোঁজা-খুঁজি করলাম, কিন্তু তাঁকে খুঁজে বের করতে পারলাম না। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’কি জানো সেই লোকটি কে ছিল? উনি জিবরীল আলাইহিস সালাম, তিনি এসেছিলেন,আপনাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য। তোমরা তাঁর থেকে এসব শিখে নাও। আল্লাহর শপথ! জিবরীল আলাইহিস সালাম যতবার আমার কাছে এসেছেন, (তাঁকে চেনার ক্ষেত্রে) এবার ছাড়া আর কখনই সংশয়পূর্ণ হয়নি। আর এবার তিনি চলে যাওয়ার পরেই তাঁকে চিনতে পেরেছি।’[1]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (1/ 34)، «الصحيحة» (2903): م دون الزيادة في آخره، وتقدم (168). * قال الشيخ: انظر الحديث رقم (168). قلت: وإسناده صحيح، وكذا هذا. وليس عند مسلم جملة «وتؤمن بالجنة والنار والميزان»، وزاد عليه - أيضا - في الحديث المتقدم - بعد: «خيره وشرّه» -: «حُلوه ومرّه». وهو رواية للبيهقي في «الشعب» (1/ 202).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح.









সহীহ ইবনু হিব্বান (174)


174 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ بِالْبَصْرَةِ، حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَإِذَا شَهِدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَآمَنُوا بِي وَبِمَا جِئْتُ بِهِ، عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ [ص:400] وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ» تَفَرَّدَ بِهِ الدَّرَاوَرْدِيُّ، قَالَهُ الشَّيْخُ. [1: 1]




১৭৪. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’আমি আদিষ্ট হয়েছি মানুষের সাথে সংগ্রাম করতে, যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেয় যে, ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই।’ যখন তারা এই সাক্ষ্য দেয় যে, ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই।’ এবং আমি ও আমার আনিত সমস্ত বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিবে। তবে সম্পদের হক ব্যতীত। আর তাদের হিসাব আল্লাহর উপর বর্তাবে।’[1]

এটি দারাওয়ারদি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এটি আমাদের শাইখ বলেছেন।




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (408): م، وعنده متابع للدراوردي.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.









সহীহ ইবনু হিব্বান (175)


175 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، بِالْمَوْصِلِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَرْعَرَةَ، حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ وَاقِدِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ، عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّ الْإِسْلَامِ، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ». [1: 1] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: تَفَرَّدَ بِهِ شُعْبَةُ وَفِي هَذَا الْخَبَرِ بَيَانٌ وَاضِحٌ بِأَنَّ [ص:402] الْإِيمَانَ أَجْزَاءٌ، وَشُعَبٌ تَتَبَايَنُ أَحْوَالُ الْمُخَاطَبِينَ فِيهَا، لِأَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَكَرَ فِي هَذَا الْخَبَرِ: «حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ»، فَهَذَا هُوَ الْإِشَارَةُ إِلَى الشُّعْبَةِ الَّتِي هِيَ فَرْضٌ عَلَى الْمُخَاطَبِينَ فِي جَمِيعِ الْأَحْوَالِ، ثُمَّ قَالَ: «وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ»، فَذَكَرَ الشَّيْءَ الَّذِي هُوَ فَرْضٌ عَلَى الْمُخَاطَبِينَ فِي بَعْضِ الْأَحْوَالِ، ثُمَّ قَالَ: «وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ»، فَذَكَرَ الشَّيْءَ الَّذِي هُوَ فَرْضٌ عَلَى الْمُخَاطَبِينَ فِي بَعْضِ الْأَحْوَالِ، فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ كُلَّ شَيْءٍ مِنَ الطَّاعَاتِ الَّتِي تُشْبِهُ الْأَشْيَاءَ الثَّلَاثَةَ الَّتِي ذَكَرَهَا فِي هَذَا الْخَبَرِ مِنَ الْإِيمَانِ




১৭৫. আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’আমি আদিষ্ট হয়েছি মানুষের সাথে সংগ্রাম করতে, যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেয় যে, ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই। এবং আমি আল্লাহর রাসূল, এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত প্রদান করে। যখন তারা এমনটা করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিবে। তবে ইসলামের হক ব্যতীত। আর তাদের হিসাব আল্লাহর উপর বর্তাবে।’[1]

আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “হাদীসটি ইমাম শু’বাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, ঈমানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা ও অংশ রয়েছে, যাতে মুখাতাবগণের অবস্থাগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই হাদীসে বলেছেন: ’যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেয় যে, ’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই। এবং আমি আল্লাহর রাসূল’ এটা হলো ঈমানের ঐ শাখার প্রতি ইঙ্গিত, যা মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় ফরয। তারপর তিনি বলেছেন: ’এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করে’ এখানে তিনি এমন একটি ইবাদতের বিষয়ে বলেছেন, যা মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর কিছু অবস্থায় ফরয। তারপর তিনি বলেছেন: ’যাকাত প্রদান করে।’ এখানে তিনি এমন একটি ইবাদতের বিষয়ে বলেছেন, যা মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর কিছু অবস্থায় ফরয। কাজেই এটি প্রমাণ করে যে, হাদীসে উল্লেখিত তিনটি বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ প্রতিটি সৎ আমল ঈমানের অন্তর্ভূক্ত।”




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (408): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، إبراهيم بن محمد بن عرعرة: ثقة، حافظ، تكلم أحمد في بعض سماعه، وباقي السند رجاله رجال الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (176)


176 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتُوَائِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ سَلَّامٍ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: «إِذَا سَرَّتْكَ حَسَنَاتُكَ، وَسَاءَتْكَ سَيِّئَاتُكَ، فَأَنْتَ مُؤْمِنٌ»، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَمَا الْإِثْمُ؟ قَالَ: «إِذَا حَاكَ فِي قَلْبِكَ شَيْءٌ فَدَعْهُ». [23: 3]




১৭৬. আবু উমামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বললেন: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ঈমান কী?’ তিনি জবাবে বললেন: ’যখন তোমার সৎ আমল তোমাকে আনন্দ দিবে, পাপ কাজ তোমার খারাপ লাগবে, তবে তুমি মু’মিন।’ তিনি আবার বললেন: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, পাপ কী?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’যখন তোমার অন্তরে কোন কিছু খটকা লাগবে, তখন সেটি তুমি বর্জন করবে।’ [1]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (550).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، وقد خرج أصحاب الصحاح ليحيى بن أبي كثير بالعنعنة، وجد زيد بن سلام هو ممطور الأسود الحبشي أبو سلام.









সহীহ ইবনু হিব্বান (177)


177 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ *، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذِ بْنِ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ السِّمْطِ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ طَلْحَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي ثُمَّ اسْتَكْتَمَنِي أَنْ أُحَدِّثَ بِهِ مَا عَاشَ مُعَاوِيَةُ، فَذَكَرَ عَامِرٌ، قَالَ: سَمِعْتُهُ وَهُوَ يَقُولُ: حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ يَسَارٍ، وَهُوَ قَاضِي الْمَدِينَةِ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ وَهُوَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَيَكُونُ أُمَرَاءُ مِنْ بَعْدِي يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ، وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يَؤْمَرُونَ، فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَمَنْ جَاهَدَهُمْ [ص:404] بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ، لَا إِيمَانَ بَعْدَهُ» قَالَ عَطَاءٌ: فَحِينَ سَمِعْتُ الْحَدِيثَ مِنْهُ انْطَلَقْتُ بِهِ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَأَخْبَرْتُهُ، فَقَالَ: أَنْتَ سَمِعْتَ ابْنَ مَسْعُودٍ يَقُولُ هَذَا؟ كَالْمُدْخَلِ عَلَيْهِ فِي حَدِيثِهِ قَالَ عَطَاءٌ: فَقُلْتُ: هُوَ مَرِيضٌ فَمَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَعُودَهُ؟ قَالَ: فَانْطَلِقْ بِنَا إِلَيْهِ، فَانْطَلَقَ وَانْطَلَقْتُ مَعَهُ، فَسَأَلَهُ عَنْ شَكْوَاهُ، ثُمَّ سَأَلَهُ عَنِ الْحَدِيثِ. قَالَ: فَخَرَجَ ابْنُ عُمَرَ وَهُوَ يُقَلِّبُ كَفَّهُ وَهُوَ يَقُولُ: مَا كَانَ ابْنُ أُمِّ عَبْدٍ يَكْذِبُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [3: 49]




১৭৭. মদীনার বিচারপতি আতা’ বিন ইয়াসার রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’অচিরেই আমার পরে কিছু শাসক আসবে, যারা এমন কিছু বলবে যা তারা নিজেরাই আমল করবে না, আর এমন কিছু করবে যা তাদেরকে করতে আদেশ করা হয়নি। যে ব্যক্তি তাদের সাথে হাত দিয়ে জিহাদ করবে, সে মু’মিন, যে ব্যক্তি তাদের সাথে জবান দিয়ে জিহাদ করবে, সেও মু’মিন, যে ব্যক্তি তাদের সাথে অন্তর দিয়ে জিহাদ করবে, সেও মু’মিন। এরপর আর কোন ঈমান নেই।’[1]

রাবী আতা’ রহিমাহুল্লাহ বলেন, তাঁর কাছ থেকে হাদীসটি শুনে আমি এই ব্যাপারে আমি আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম এর কাছে গেলাম। অতঃপর হাদীসটি তাঁকে বর্ণনা করলাম। তিনি আমাকে বললেন যে, ’আপনি নিজেই কি হাদীসটি আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীসটি শুনেছেন?’ আতা’ রহিমাহুল্লাহ বলেন: ’তিনি তো অসুস্থ, তাঁকে দেখতে যাচ্ছেন না কেন?’ তিনি বললেন: ’আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে চলুন।’ এরপর তিনি চলতে লাগলেন আমিও তাঁর সাথে চলতে লাগলাম। তারপর তিনি তাঁকে তাঁর অসুস্থতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। এরপর তিনি অত্র হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। রাবী আতা’ বলেন, এরপর আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম তাঁর কাছ থেকে বের হলেন এবং হাতের তালু উল্টিয়ে বললেন: “উম্মু আবদ এর ছেলে (অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামে মিথ্যা কথা বলেন না।”




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح الإسناد: ورواه مسلم من طريق آخر؛ دون قوله: قال عطاء ... الخ - «التعليق على إصلاح المساجد» (ص 44). * [عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ] قال الشيخ: هو مِن الحفّاظ الأثبات الذين أكثر عنهم المؤلِّف - رحمه الله -، وقد ترجمَه الذهبيّ في «السير» (14/ 136 - 137). ومن فوقه ثقاتٌ مِن رجال البخاري، غير عامر بنِ السِّمْطِ، وهو ثقةٌ، فالإسناد صحيحٌ متصل بسماع عطاء بن يسار مِن ابن مسعود. وله عنه طريق في «مسلم» وغيره، وهو مُخرَّج في «إصلاح المساجد» (ص 44).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده جيد، رجاله رجال الصحيح غير عامر بن السمط، وهو ثقة.









সহীহ ইবনু হিব্বান (178)


178 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيٍّ، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا يُؤْمِنُ الْعَبْدُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِأَرْبَعٍ: يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، [ص:405] وَيُؤْمِنُ بِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَيُؤْمِنُ بِالْقَدَرِ». [49: 3]




১৭৮. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’কোন বান্দা মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে চারটি বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে। সে এই সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, আর নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল, বিশ্বাস স্থাপন করবে মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি এবং আরো বিশ্বাস স্থাপন করবে ভাগ্যের প্রতি ।’[1]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «المشكاة» (104)، «الظلال» (130).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما. منصور هو ابن المعتمر، وربعي هو ابن حِراش.









সহীহ ইবনু হিব্বান (179)


179 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذِ بْنِ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا يُؤْمِنُ [ص:406] أَحَدُكُمْ، حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَلَدِهِ وَوَالِدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ». [49: 3]




১৭৯. আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’তোমাদের কেউ মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার সন্তান, তার পিতা ও সমস্ত মানুষ অপেক্ষা প্রিয় হবো।’[1]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «مختصر مسلم» (23): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.









সহীহ ইবনু হিব্বান (180)


180 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ وَرْدَانَ بِمِصْرَ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى دِمَائِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ». [49: 3]




১৮০. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’মুসলিম ঐ ব্যক্তি যার হাত ও জবান থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকেন। আর মু’মিন ঐ ব্যক্তি যাকে মানুষ তাদের জান-মালের ব্যাপারে নিরাপদ মনে করে।’[1]




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «المشكاة» (33 / التحقيق الثاني)، «الصحيحة» (549).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي. ابن عجلان - واسمه محمد -: صدوق. أخرج له مسلم في "صحيحه" متابعة، وباقي السند على شرط مسلم.