হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (2552)


2552 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى صَلَاةً أَحَبَّ أَنْ يُدَاوِمَ عَلَيْهَا، وَكَانَ إِذَا شَغَلَهُ عَنْ قِيَامِ اللَّيْلِ نَوْمٌ أَوْ مَرَضٌ، أَوْ وَجَعٌ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً»
رقم طبعة با وزير = (2543)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোন সালাত আদায় করতেন, তখন তিনি সেটাকে নিয়মিত পড়তে ভালবাসতেন। আর তিনি যদি ঘুম, অসুস্থতা বা ব্যথা-বেদনার কারণে রাতের সালাত (তাহাজ্জুদ) না আদায় করতে পারতেন, তখন তিনি দিনে ১২ রাকা‘আত সালাত আদায় করতেন।”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ৭৪৬; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১১৬৯; বাগাবী: ৯৮৭; আবূ দাঊদ: ১৩৪২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪৭১৪; আবূ আওয়ানা: ২/৩২১-৩২২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ১২১৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (2411). تنبيه!! رقم (2411) = (2420) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (2553)


2553 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ الْعَابِدُ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الزُّهْرِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلَاثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ مَكَانَ كُلِّ عُقْدَةٍ: عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدْ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ، انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، وَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، وَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، [ص:294] فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ، وَإِلَّا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلَانَ»
رقم طبعة با وزير = (2544)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ ঘুমায়, তখন শয়তান তার মাথার পশ্চাৎভাগে তিনটি গিরা দেয়। প্রত্যেকটি গিরার জায়গায় সে এটা সিল মেরে দেয়, “তোমার অনেক রাত বাকী আছে। কাজেই তুমি ঘুমাও।” অতঃপর যদি সে জাগ্রত হয় এবং আল্লাহর যিকর করে, তবে একটি গিরা খুলে যায়। আর যদি সে ওযূ করে, তখন আরেকটি গিরা খুলে যায়। যদি সে সালাত আদায় করে, তখন আরেকটি গিরা খুলে যায়। ফলে সে ভাল ও প্রফুল্ল মনে সকাল করে। অন্যথায় সে খারাপ মন ও অলসতা নিয়ে সকাল করে।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৭৬; সহীহ আল বুখারী: ১১৪২; আবূ দাঊদ: ১৩০৬; মুসনাদ্ আহমাদ: ২/২৪৩; সহীহ মুসলিম: ৭৭৬; নাসাঈ: ৩/২০৩-২০৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১১৩১; সুনান বাইহাকী: ৩/১৫-১৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/২১৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (1/ 213).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (2554)


2554 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الذُّهْلِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سُفْيَانَ يَقُولُ: سَمِعْتُ جَابِرًا يَقُولُ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ ذَكَرٍ وَلَا أُنْثَى إِلَّا عَلَى رَأْسِهِ جَرِيرٌ مَعْقُودٌ حِينَ يَرْقُدُ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ [ص:295] فَذَكَرَ اللَّهَ، انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِذَا قَامَ فَتَوَضَّأَ وَصَلَّى، انْحَلَّتِ الْعُقَدُ»
رقم طبعة با وزير = (2545)




জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন, “যে কোন নারী বা পুরুষ যখন সে ঘুমায়, তখন তার মাথায় গিরা দেওয়া হয়। অতঃপর যদি সে জাগ্রত হয় এবং আল্লাহর যিকর করে, তবে একটি গিরা খুলে যায়। আর যখন সে উঠে ওযূ করে সালাত আদায় করে, তখন সবগুলো গিরা খুলে যায়।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১১৩৩; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩১৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/২১৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (1/ 213).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (2555)


2555 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ أَبَا عُشَّانَةَ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ: لَا أَقُولُ الْيَوْمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا لَمْ يَقُلْ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ بَيْتًا مِنْ جَهَنَّمَ»
رقم طبعة با وزير = (2546)

2555 - وَسَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «رَجُلٌ مِنْ أُمَّتِي يَقُومُ مِنَ اللَّيْلِ يُعَالِجُ نَفْسَهُ إِلَى الطَّهُورِ وَعَلَيْهِ عُقَدٌ، فَإِذَا وَضَّأَ يَدَيْهِ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِذَا وَضَّأَ وَجْهَهُ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، وَإِذَا مَسَحَ رَأْسَهُ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، وَإِذَا وَضَّأَ رِجْلَيْهِ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَيَقُولُ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا لِلَّذِي وَرَاءَ الْحِجَابِ: انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا يُعَالِجُ نَفْسَهُ [ص:296] لَيَسْأَلَنِي، مَا سَأَلَنِي عَبْدِي هَذَا فَهُوَ لَهُ، مَا سَأَلَنِي عَبْدِي هَذَا فَهُوَ لَهُ»
رقم طبعة با وزير = (2546)




উকবাহ বিন আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আজকে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামে এমন কথা বলবো না, যা তিনি বলেননি, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার ব্যাপারে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা কথা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার বাড়ি বানিয়ে নেয়।” আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আরো বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমার উম্মাতের এক ব্যক্তি রাত্রে উঠে কষ্ট করে পবিত্রতা অর্জন করে। আর এসময় তার উপর (শয়তানের) গিরা দেওয়া থাকে। অতঃপর সে যখন তার দুই হাত ধৌত করে, তখন একটি গিরা খুলে যায়। যখন সে তার মুখ ধৌত করে, তখন আরেকটি গিরা খুলে যায়। যখন সে তার মাথা মাসেহ করে, তখন আরেকটি গিরা খুলে যায়। যখন সে তার দুই পা ধৌত করে, তখন আরেকটি গিরা খুলে যায়। তখন মহান আল্লাহ পর্দার বাইরের ফেরেস্তাদের বলেন, “তোমরা আমার এই বান্দার দিকে দেখো, সে কষ্ট স্বীকার করছে আমার কাছে চাওয়ার জন্য। আমার এই বান্দা যা কিছু চাইবে, তাকে তা দিয়ে দেওয়া হবে। আমার এই বান্দা যা কিছু চাইবে, তাকে তা দিয়ে দেওয়া হবে।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/২০১; আত তাবারানী আল কাবীর: ১৭/৩০৫; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ১/২২৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/২২০।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - مضى (1049). تنبيه!! رقم (1049) = (1052) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (2556)


2556 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ، ذَكَرٍ وَلَا أُنْثَى، يَنَامُ إِلَّا وَعَلَيْهِ جَرِيرٌ مَعْقُودٌ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ، انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، وَإِنْ هُوَ تَوَضَّأَ ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ أَصْبَحَ نَشِيطًا قَدْ أَصَابَ خَيْرًا، وَقَدِ انْحَلَّتْ عُقَدُهُ كُلُّهَا، وَإِنْ أَصْبَحَ وَلَمْ يَذْكُرِ [ص:297] اللَّهَ أَصْبَحَ وَعُقَدُهُ عَلَيْهِ، وَأَصْبَحَ ثَقِيلًا كَسْلَانًا لَمْ يُصِبْ خَيْرًا»
رقم طبعة با وزير = (2547)




জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন, “যে কোন নারী বা পুরুষ যখন সে ঘুমায়, তখন তার মাথায় গিরা দেওয়া হয়। অতঃপর যদি সে জাগ্রত হয় এবং আল্লাহর যিকর করে, তবে একটি গিরা খুলে যায়। আর যদি সে উঠে ওযূ করে তারপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তখন সে প্রফুল্লচিত্তে সকাল করে এমন অবস্থায় যে তার সবগুলো গিরা খুলে গিয়েছে। আর যদি সে সকাল করে এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর যিকর করেনি, তবে সে সকাল করে এমন অবস্থায় যে, তার উপর তার গিরাগুলো থেকে যায় এবং সে ভারী-অলস হয়ে সকাল করে; সে কোন কল্যাণ অর্জন করেনি।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১১৩৩; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩১৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/২১৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (1/ 213).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (2557)


2557 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ مُرَّةَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «عَجِبَ رَبُّنَا مِنْ رَجُلَيْنِ: رَجُلٍ ثَارَ مِنْ وِطَائِهِ وَلِحَافِهِ مِنْ بَيْنِ حِبِّهِ وَأَهْلِهِ إِلَى الصَّلَاةِ، فَيَقُولُ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا: انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي ثَارَ مِنْ فِرَاشِهِ وَوِطَائِهِ مِنْ بَيْنَ حِبِّهِ وَأَهْلِهِ إِلَى صَلَاتِهِ رَغْبَةً فِيمَا عِنْدِي، وَشَفَقَةً مِمَّا عِنْدِي، وَرَجُلٍ غَزَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَانْهَزَمَ النَّاسُ، وَعَلِمَ مَا عَلَيْهِ فِي الِانْهِزَامِ، وَمَا لَهُ فِي الرُّجُوعِ، فَرَجَعَ حَتَّى أُهْرِيقَ دَمُهُ، فَيَقُولُ اللَّهُ لِمَلَائِكَتِهِ: انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي، رَجَعَ رَجَاءً فِيمَا [ص:298] عِنْدِي، وَشَفَقَةً مِمَّا عِنْدِي حَتَّى أُهْرِيقَ دَمُهُ»
رقم طبعة با وزير = (2548)




আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমাদের প্রভু দুইজন ব্যক্তির প্রতি খুশি হন। (১) ঐ ব্যক্তি, যে তার পরিবার ও প্রিয়জনের মাঝ থেকে, তার বিছানা ও কম্বল ছেড়ে সালাতের জন্য উঠে। তখন মহিমান্বিত, সুমহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা আমার এই বান্দার দিকে দেখো, সে তার পরিবার ও প্রিয়জনের মাঝ থেকে, তার বিছানা ও কম্বল ছেড়ে সালাতের জন্য উঠেছে আমার কাছে যে প্রতিদান রয়েছে তার আগ্রহে এবং আমার কাছে যে শাস্তি রয়েছে তার ভয়ে। (২) ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে অতঃপর লোকজন পরাস্ত হয়ে পলায়ন করে। আর এই ব্যক্তি জানে যে পলায়ন করলে, তাতে কী শাস্তি আছে এবং যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার মাঝে কী প্রতিদান রয়েছে, ফলে সে যুদ্ধে ফিরে যায় এমনকি তার রক্ত প্রবাহিত করা হয়। তখন মহান আল্লাহ ফিরেস্তাদের বলেন, “তোমরা আমার এই বান্দার দিকে দেখো, সে আমার কাছে যে প্রতিদান রয়েছে, তার আগ্রহে এবং আমার কাছে যে শাস্তি রয়েছে, তার ভয়ে যুদ্ধে ফিরে এসেছে এমনকি তার রক্ত প্রবাহিত করা হয়।”[1]



[1] মুসনাদ আবী ইয়া‘লা: ২/২৫২; সুনান বাইহাকী: ৯/১৬৪; মুসনাদ আহমাদ: ১/৪১৬; আবূ দাঊদ: ২৫৩৬; ইবনু আবী আসিম, আস সুন্নাহ: ৫৬৯; মুসতাদরাক হাকিম: ২/১১২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২৫৪৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - انظر ما بعده.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (2558)


2558 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَحْمُودِ بْنِ عَدِيٍّ بِنَسَا، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ زَنْجُوَيْهِ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ أَسْلَمَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ مُرَّةَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَجِبَ رَبُّنَا مِنْ رَجُلَيْنِ: رَجُلٍ ثَارَ عَنْ وِطَائِهِ وَلِحَافِهِ مِنْ بَيْنَ حِبِّهِ وَأَهْلِهِ إِلَى صَلَاتِهِ، فَيَقُولُ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا لِمَلَائِكَتِهِ: انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي، ثَارَ عَنْ فِرَاشِهِ وَوِطَائِهِ مِنْ بَيْنَ حِبِّهِ وَأَهْلِهِ إِلَى صَلَاتِهِ رَغْبَةً فِيمَا عِنْدِي، وَشَفَقَةً مِمَّا عِنْدِي، وَرَجُلٍ غَزَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَانْهَزَمَ أَصْحَابُهُ، وَعَلِمَ مَا عَلَيْهِ فِي الِانْهِزَامِ، وَمَا لَهُ فِي الرُّجُوعِ، فَرَجَعَ حَتَّى هُرِيقَ دَمُهُ، فَيَقُولُ اللَّهُ لِمَلَائِكَتِهِ: انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي، رَجَعَ رَجَاءً فِيمَا [ص:299] عِنْدِي، وَشَفَقًا مِمَّا عِنْدِي حَتَّى هُرِيقَ دَمُهُ»
رقم طبعة با وزير = (2549)




আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমাদের প্রভু দুইজন ব্যক্তির প্রতি খুশি হন। (১) ঐ ব্যক্তি, যে তার পরিবার ও প্রিয়জনের মাঝ থেকে, তার বিছানা ও কম্বল ছেড়ে সালাতের জন্য উঠে। তখন মহিমান্বিত, সুমহান আল্লাহ ফেরেস্তাদের বলেন, “তোমরা আমার এই বান্দার দিকে দেখো, সে তার পরিবার ও প্রিয়জনের মাঝ থেকে, তার বিছানা ও কম্বল ছেড়ে সালাতের জন্য উঠেছে আমার কাছে যে প্রতিদান রয়েছে তার আগ্রহে এবং আমার কাছে যে শাস্তি রয়েছে তার ভয়ে। (২) ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে অতঃপর লোকজন পরাস্ত হয়ে পলায়ন করে। আর এই ব্যক্তি জানে যে পলায়ন করলে তাতে কী শাস্তি আছে এবং যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার মাঝে কী প্রতিদান রয়েছে, ফলে সে যুদ্ধে ফিরে যায় এমনকি তার রক্ত প্রবাহিত করা হয়। তখন মহান আল্লাহ ফিরেস্তাদের বলেন, “তোমরা আমার এই বান্দার দিকে দেখো, সে আমার কাছে যে প্রতিদান রয়েছে তার আগ্রহে এবং আমার কাছে যে শাস্তি রয়েছে তার ভয়ে যুদ্ধে ফিরে এসেছে, এমনকি তার রক্ত প্রবাহিত করা হয়।”[1]



[1] মুসনাদ আবী ইয়া‘লা: ২/২৫২; সুনান বাইহাকী: ৯/১৬৪; মুসনাদ আহমাদ: ১/৪১৬; আবূ দাঊদ: ২৫৩৬; ইবনু আবী আসিম, আস সুন্নাহ: ৫৬৯; মুসতাদরাক হাকিম: ২/১১২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২২৮৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (2287).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (2559)


2559 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي إِذَا رَأَيْتُكَ طَابَتْ نَفْسِي، وَقَرَّتْ عَيْنِي، أَنْبِئْنِي عَنْ كُلِّ شَيْءٍ، قَالَ: «كُلُّ شَيْءٍ خُلِقَ مِنَ الْمَاءِ»، فَقُلْتُ: أَخْبِرْنِي بِشَيْءٍ إِذَا عَمِلْتُ بِهِ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ، قَالَ: «أَطْعِمِ الطَّعَامَ، وَأَفْشِ السَّلَامَ، وَصِلِ الْأَرْحَامَ، وَقُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ، تَدْخُلِ الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ»
رقم طبعة با وزير = (2550) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنْبِئْنِي عَنْ كُلِّ شَيْءٍ، [ص:300] أَرَادَ بِهِ عَنْ كُلِّ شَيْءٍ خُلِقَ مِنَ الْمَاءِ، وَالدَّلِيلُ عَلَى صِحَّةِ هَذَا جَوَابُ الْمُصْطَفَى إِيَّاهُ، حَيْثُ قَالَ: «كُلُّ شَيْءٍ خُلِقَ مِنَ الْمَاءِ»، فَهَذَا جَوَابٌ خَرَجَ عَلَى سُؤَالٍ بِعَيْنِهِ، لَا أَنَّ كُلَّ شَيْءٍ خُلِقَ مِنَ الْمَاءِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مَخْلُوقًا




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি বললাম, হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিশ্চয়ই যখন আমি আপনাকে দেখি আমার মন খুশি হয়ে যায়, আমার চক্ষু শীতল হয়ে যায়। আপনি আমাকে প্রতিটি জিনিস সম্পর্কে অবহিত করুন।” জবাবে তিনি বলেন, “প্রতিটি জিনিস পানি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।” অতঃপর আমি বললাম, “আমাকে এমন কিছু সম্পর্কে বলুন, যা আমি আমল করলে, জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো।” তিনি জবাবে বলেন, “তুমি মানুষকে খাদ্য খাওয়াবে, ব্যাপকভাবে সালাম প্রদান করবে, রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখবে, আর রাতে সালাত আদায় করবে, যখন লোকজন ঘুমিয়ে থাকে, তবে তুমি নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য “আপনি আমাকে প্রতিটি জিনিস সম্পর্কে অবহিত করুন” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন প্রত্যেক জিনিস যা পানি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আমাদের এই ব্যাখ্যার বিশুদ্ধতার পক্ষে দলীল হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবাব, যেখানে তিনি বলেছেন, “প্রতিটি জিনিস পানি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে”। কাজেই এই জবাবটি তার খোদ প্রশ্ন থেকে উদ্গত হয়েছে; এটা উদ্দেশ্য নয় যে, প্রত্যেকটি জিনিস পানি থেকে সৃষ্টি হয়েছে, যদিও সেটা মাখলূক না হয়।”



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/২৯৫; হাকিম: ৪/১২৯; মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ৫/১৬। হাদীসটিকে শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (আল মাওয়ারিদ: ৬৪২) উল্লেখ যে, শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে অত্র কিতাবের ৫০৮ নং হাদীসে একাধিক সমর্থক বর্ণনা থাকার কারণে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৬৯, ১৭১।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «الموارد» (642).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات رجال الشيخين غير أبي ميمونة









সহীহ ইবনু হিব্বান (2560)


2560 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ سُحَيْمٌ حَرَّانِيٌّ ثَبْتٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ فُلَانًا يُصَلِّي اللَّيْلَ كُلَّهُ، فَإِذَا أَصْبَحَ سَرَقَ، قَالَ: «سَيَنْهَاهُ مَا تَقُولُ»
رقم طبعة با وزير = (2551) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُهُ: «سَيَنْهَاهُ مَا تَقُولُ» مِمَّا نَقُولُ فِي كُتُبِنَا: إِنَّ الْعَرَبَ تُضِيفُ الْفِعْلَ إِلَى الْفِعْلِ نَفْسِهِ، كَمَا تُضِيفُ [ص:301] إِلَى الْفَاعِلِ، أَرَادَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ الصَّلَاةَ إِذَا كَانَتْ عَلَى الْحَقِيقَةِ فِي الِابْتِدَاءِ وَالِانْتِهَاءِ، يَكُونُ الْمُصَلِّي مُجَانِبًا لِلْمَحْظُورَاتِ مَعَهَا، كَقَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ: {إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ} [العنكبوت: 45]




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিশ্চয়ই ওমুক ব্যক্তি সারা রাত তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করে। অতঃপর যখন সে সকাল করে, তখন সে চুরি করে!” জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তুমি যা বলছো, তা থেকে অচিরেই এটি (তাহাজ্জুদ সালাত) তাকে বাধা দিবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তুমি যা বলছো, তা থেকে অচিরেই এটি (তাহাজ্জুদ সালাত) তাকে বাধা দিবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য যা আমরা আমাদের কিতাব বলেছি, সেটা হলো: আরবরা অনেক সময় ক্রিয়াকে খোদ ক্রিয়ার দিকে সম্পর্কিত করে, যেভাবে তারা কর্তার দিকে সম্পর্কিত করে থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্য হলো যখন সালাত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যথাযথভাবে আদায় করা হবে, তখন মুসল্লী ব্যক্তি নিষিদ্ধ কাজসমূহ থেকে বিরত থাকবে। যেমনটা মহান আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয়ই সালাত মন্দ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সূরা আনকাবূত: ৪৫)



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৮/৬৬; বাযযার: ২/৪৪৭; বাযযার: ৭২০; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ২/২৫৮। হাদীসটিকে শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৩৪৮২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (3482)، «الضعيفة» تحت الحديث (2).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (2561)


2561 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «فِي اللَّيْلِ سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ خَيْرًا مِنَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ»
رقم طبعة با وزير = (2552)




জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “রাতে একটি সময় আছে, আর যদি কোন মুসলিম ব্যক্তি তা লাভ করে সে সেই সময়ে দুনিয়া ও আখিরাতের কোন দু‘আ করে, তবে অবশ্যই আল্লাহ্‌ তাকে তা প্রদান করবেন।”[1]



[1] মুসনাদ আবী ইয়া‘লা: ১৯১১; সহীহ মুসলিম: ৭৫৭; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩১৩; আবূ আওয়ানা: ২/২৮৯। হাদীসটিকে শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২৫৫২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (2562)


2562 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ يَزِيدَ الْجَرْمِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ رَجُلٍ نَامَ حَتَّى أَصْبَحَ، فَقَالَ: «بَالَ الشَّيْطَانُ فِي أُذُنِهِ أَوْ فِي أُذُنَيْهِ» قَالَ سُفْيَانُ: «هَذَا عِنْدَنَا يُشْبِهُ أَنْ يَكُونَ نَامَ عَنِ الْفَرِيضَةِ»
رقم طبعة با وزير = (2553)




আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, যে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকে।” তিনি জবাবে বলেন, “শয়তান তার কানে অথবা (রাবীর সন্দেহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন) দুই কানে পেশাব করে দিয়েছে।”[1] সুফিয়ান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমাদের মতে এটি ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যিনি ফরয সালাত না পড়ে ঘুমিয়ে থাকে।”



[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/৩৭৫; সহীহ আল ‍বুখারী: ১১৪৪; সহীহ মুসলিম: ৭৭৪; নাসাঈ: ৩/২০৪; ইবনু মাজাহ: ১৩৩০; সুনান বাইহাকী: ৩/১৫। হাদীসটিকে শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/২২৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (1/ 223): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (2563)


2563 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ خَلِيلٍ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَسْرُوقِيُّ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنِ ابْنِ الْمُنْتَشِرِ، عَنْ حُمَيْدٍ الْحِمْيَرِيِّ، [ص:303] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ الصَّلَاةِ أَفْضَلُ بَعْدَ الْمَكْتُوبَةِ؟ قَالَ: «الصَّلَاةُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ»، قَالَ: فَأَيُّ الصِّيَامِ أَفْضَلُ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ؟ قَالَ: «شَهْرُ اللَّهِ الَّذِي يَدَعُونَهُ الْمُحَرَّمَ»
رقم طبعة با وزير = (2554)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, “ফরযের পর কোন সালাত সর্বোত্তম?” জবাবে তিনি বলেন, “মধ্য রজনীর সালাত (তাহাজ্জুদ)।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “রমাযানের পর কোন সিয়াম সর্বোত্তম?” জবাবে তিনি বলেন, “আল্লাহর মাসের সিয়াম, যাকে লোকজন মুহাররম মাস বলে।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৩২৯; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৪২; সহীহ মুসলিম: ১১৬৩; ইবনু মাজাহ: ১৭৪২; আবূ আওয়ানা: ২/২৯০; দারেমী: ২/২১; আবূ দাঊদ: ২৪২৯; তিরমিযী: ৪৩৮; নাসাঈ: ৩/২০৬-২০৭। হাদীসটিকে শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুল হিসান: ২৫৫৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (2564)


2564 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا [ص:304] عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا عَوْفٌ، عَنِ الْمُهَاجِرِ أَبِي مَخْلَدٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو مُسْلِمٍ، قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا ذَرٍّ: أَيُّ قِيَامِ اللَّيْلِ أَفْضَلُ؟ قَالَ أَبُو ذَرٍّ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا سَأَلْتَنِي، فَقَالَ: «نِصْفُ اللَّيْلِ، أَوْ جَوْفُ اللَّيْلِ» شَكَّ عَوْفٌ
رقم طبعة با وزير = (2555)




আবূ মুসলিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি আবূ যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোন কিয়ামুল লাইল উত্তম?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘তুমি যেমন আমাকে প্রশ্ন করেছো, তদ্রুপ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, জবাবে তিনি বলেন, “অর্ধরাত অথবা মধ্য রজনীর সালাত (তাহাজ্জুদ)।”[1] আওফ হাদীসটি সন্দেহমূলক শব্দে বর্ণনা করেছেন।



[1] নাসাঈ আল কুবরা: ৯/১৯৬। হাদীসটিকে শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ যয়ীফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/২৭৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «الكلم الطيب» (113/ 70 - التحقيق الثاني)، «التعليق الرغيب» (2/ 276).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (2565)


2565 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ خَشِيَ مِنْكُمْ أَنْ لَا يَقُومَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ، فَلْيُوتِرْ مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ، وَمَنْ طَمِعَ مِنْكُمْ [ص:305] أَنْ يَقُومَ آخِرَ اللَّيْلِ، فَلْيُوتِرْ آخِرَ اللَّيْلِ، فَإِنَّ قِرَاءَةَ آخِرِ اللَّيْلِ مَحْضُورَةٌ، وَذَلِكَ أَفْضَلُ»
رقم طبعة با وزير = (2556)




জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আশংকা করে যে, তিনি শেষ রাতে উঠতে পারবেন না, তবে সে যেন রাতের প্রথম ভাগে বিতর পড়ে নেয় আর যে ব্যক্তি আশা রাখে যে, তিনি শেষ রাতে উঠতে পারবেন, তবে সে যেন রাতের শেষ ভাগে বিতর পড়ে। কেননা শেষ রাতের কিরাআতে (ফেরেস্তাগণ) উপস্থিত থাকেন, আর এটা উত্তম।”[1]



[1] মুসন্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪৬২৩; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩১৫; সহীহ মুসলিম: ৭৫৫; তিরমিযী: ২/৩১৮; ইবনু মাজাহ: ১১৮৭; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮০৬; আবূ ইয়ালা: ১৯০৫; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৫; বাগাবী: ৯৬৯; আবূ আওয়ানা: ২/২৯০-২৯১। হাদীসটিকে শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২৬১০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الروض النضير» (1025)، «الصحيحة» (2610): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (2566)


2566 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ، أَنَّ أَبَاهُ أَخْبَرَهُ، أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَرَقَهُ فَقَالَ: «أَلَا تُصَلُّونَ؟ » فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّمَا أَنْفُسُنَا بِيَدِ اللَّهِ، فَإِذَا شَاءَ أَنْ يَبْعَثَنَا بَعَثَنَا، فَانْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ قُلْتُ ذَلِكَ، وَلَمْ يَرْجِعْ إِلَيَّ شَيْئًا، ثُمَّ سَمِعْتُهُ وَهُوَ يَضْرِبُ بِيَدِهِ وَيَقُولُ [ص:306]: {وَكَانَ الْإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا} [الكهف: 54]
رقم طبعة با وزير = (2557)




আলী বিন আবী তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দরজায় করাঘাত করে বললেন, “তোমরা কি সালাত আদায় কর না?” তখন আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিশ্চয়ই আমাদের আত্নাগুলো আল্লাহর হাতে। যখন তিনি আমাদের জাগিয়ে তুলতে চান, তখন তিনি জাগিয়ে দেন। যখন আমি এটা বললাম, তখন তিনি আমার কথার কোন প্রতিউত্তর না করে চলে যান। তারপর আমি শুনতে পাই, তিনি হাত দিয়ে আঘাত করেন এবং বলেন, وَكَانَ الْإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا (আর মানুষ অতিশয় তর্ক প্রবণ।– সূরা কাহফ: ৫৪)।”[1]



[1] সহীহ আল বুখারী: ৪৭২৪; আবূ আওয়ানা: ২/২৯২; মুসনাদ আহমাদ: ১/৯১; সহীহ মুসলিম: ৭৭৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১১৩৯; সুনান বাইহাকী: ২/৫০০; নাসাঈ: ৩/২০৫। হাদীসটিকে শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকু আলা সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১১৪০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح الأدب المفرد» (749)، «التعليق على صحيح ابن خزيمة» (1140): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (2567)


2567 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو قُدَامَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى [ص:307] الْقَطَّانُ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَحِمَ اللَّهُ رَجُلًا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ يُصَلِّي، وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ، فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا الْمَاءَ، وَرَحِمَ اللَّهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ، وَأَيْقَظَتْ زَوْجَهَا، فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ الْمَاءَ»
رقم طبعة با وزير = (2558)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ আল্লাহ ঐ ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যে ব্যক্তি রাতে উঠে সালাত আদায় করে এবং তার স্ত্রীকে জাগিয়ে দেয়। যদি সে উঠতে না চায়, তবে তার মুখে পানি ছিটা দেয় এবং আল্লাহ ঐ নারীর প্রতি রহম করুন, যে নারী রাতে উঠে সালাত আদায় করে এবং তার স্বামীকে জাগিয়ে দেয়। যদি সে উঠতে না চায়, তবে তার মুখে পানি ছিটা দেয়।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১১৪৮; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৫০; আবূ দাঊদ: ১৩০৮; নাসাঈ: ৩/২০৫; ইবনু মাজাহ: ১৩৩৬; সুনান বাইহাকী: ২/৫০১; হাকিম: ১/৩০৯। হাদীসটিকে শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকু আলা সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১১৪০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «صحيح أبي داود» (1181).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (2568)


2568 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ بِتُسْتُرَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَيْبَانَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْأَقْمَرِ، عَنِ الْأَغَرِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ اسْتَيْقَظَ مِنَ اللَّيْلِ وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ، فَقَامَا [ص:308] فَصَلَّيَا رَكْعَتَيْنِ، كُتِبَا مِنَ الذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ»
رقم طبعة با وزير = (2559)




আবূ সা‘ঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতে জাগ্রত হয় এবং তার স্ত্রীকে জাগিয়ে তুলে, অতঃপর তারা দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করে, তবে তাদেরকে ‘আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নর ও অধিক স্মরণকারী নারীগণ’এর পর্যায়ভু্ক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।”[1]



[1] ইবনু মাজাহ: ১৩৩৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১১৪৮; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৫০; আবূ দাঊদ: ১৩০৮; নাসাঈ: ৩/২০৫; ইবনু মাজাহ: ১৩৩৬; সুনান বাইহাকী: ২/৫০১; হাকিম: ১/৩০৯। হাদীসটিকে শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১১৮২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1182).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (2569)


2569 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْأَقْمَرِ، عَنِ الْأَغَرِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا اسْتَيْقَظَ الرَّجُلُ مِنَ اللَّيْلِ، وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ، فَصَلَّيَا [ص:309] رَكْعَتَيْنِ، كُتِبَا مِنَ الذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ»
رقم طبعة با وزير = (2560)




আবূ সা‘ঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন কোন ব্যক্তি রাতে জাগ্রত হয় এবং তার স্ত্রীকে জাগিয়ে তুলে, অতঃপর তারা দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করে, তবে তাদেরকে ‘আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নর ও অধিক স্মরণকারী নারীগণ’এর পর্যায়ভু্ক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।”[1]



[1] ইবনু মাজাহ: ১৩৩৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১১৪৮; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৫০; আবূ দাঊদ: ১৩০৮; নাসাঈ: ৩/২০৫; ইবনু মাজাহ: ১৩৩৬; সুনান বাইহাকী: ২/৫০১; হাকিম: ১/৩০৯। হাদীসটিকে শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১১৮২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (2570)


2570 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، وَمُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ نُوَيْفِعٍ، مَوْلَى آلِ الزُّبَيْرِ، كِلَاهُمَا حَدَّثَنِي عَنْ كُرَيْبٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ فِي بُرْدٍ لَهُ حَضْرَمِيٍّ مُتَوَشِّحَهُ مَا عَلَيْهِ غَيْرُهُ»
رقم طبعة با وزير = (2561)




আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি, তিনি রাতে হাদরামীর একজোড়া কাপড় তাওয়াশশুহ [1] করে পরিধান করে সালাত করেছেন। এসময় তাঁর পরিধানে আর কোন কাপড় ছিল না।”[2]



[1] ‘‘তাওয়াশশুহ হলো কাপড়ের এক প্রান্ত বাম হাতের নিচ দিয়ে ডান কাঁধের উপর রাখবে আর আরেক প্রান্ত ডান হাতের নিচ দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের উপর রাখবে অতঃপর দুই প্রান্ত বুকের উপর নিয়ে বাধবে।” –অনুবাদক।



[2] মুসনাদ আহমাদ: ১/২৬৫। হাদীসটিকে শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকু আলাল মাওয়ারিদ: ৩০৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «التعليق على الموارد» رقم (306 - «صحيحه»).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (2571)


2571 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحْتَجِرُ حَصِيرًا بِاللَّيْلِ فَيُصَلِّي إِلَيْهِ، وَيَبْسُطُهُ بِالنَّهَارِ فَيَجْلِسُ عَلَيْهِ، قَالَ: فَجَعَلَ [ص:310] النَّاسُ يَثُوبُونَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُصَلُّونَ بِصَلَاتِهِ حَتَّى كَثُرُوا، قَالَ: فَأَقْبَلَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، خُذُوا مِنَ الْأَعْمَالِ مَا تُطِيقُونَ، فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَمَلُّ حَتَّى تَمَلُّوا، وَإِنَّ أَحَبَّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ مَا دَامَ وَإِنْ قَلَّ»
رقم طبعة با وزير = (2562)




‘আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে চাটাই দিয়ে হুজরা বানিয়ে নিতেন অতঃপর সেটাকে সামনে রেখে সালাত আদায় করতেন আর দিনে তা বিছিয়ে তার উপর বসতেন।” রাবী বলেন, “তারপর লোকজন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসেন এবং তাঁর সালাতের অনুসরণে সালাত আদায় করা শুরু করেন। এভাবে লোকসংখ্যা বেড়ে যায়। তখন তিনি লোকদের উদ্দেশ্যে আগমন করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “হে লোকসকল, তোমরা তোমাদের সাধ্য অনুসারে আমল গ্রহণ করো। কেননা আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত সাওয়াব দেওয়া থেকে বিরত থাকেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা ইবাদত করতে বিরক্তি বোধ করো। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত পালন করা হয়, যদিও তা (পরিমাণে) কম হয়।”[1]



[1] তাবারানী: ২৯/৫০; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৮৪; সহীহ ইবনু খুযাইমা: ১২৮৩; সহীহ আল বুখারী: ১৯৭০; সহীহ মুসলিম: ২/৮১১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ১২৩৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما