সহীহ ইবনু হিব্বান
3341 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، [ص:131] عَنْ طَارِقٍ الْمُحَارِبِيِّ، قَالَ: ثُمَّ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَائِمٌ يَخْطُبُ النَّاسَ، وَهُوَ يَقُولُ: «يَدُ الْمُعْطِي الْعُلْيَا، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ، أُمَّكَ وَأَبَاكَ وَأُخْتَكَ وَأَخَاكَ، ثُمَّ أَدْنَاكَ أَدْنَاكَ»
رقم طبعة با وزير = (3330)
তারিক মুহারিবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি মদীনায় আগমন করে দেখতে পাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষন দিচ্ছেন। তিনি বলছিলেন, “দানের হাত হলো উঁচু হাত। (দানের ক্ষেত্রে) তুমি তোমার পরিবারের লোকদের থেকে শুরু করবে; তোমার মা, তোমার বাবা, তোমার বোন এবং তোমার ভাইকে। তারপর তোমার নিকটতম ব্যক্তিকে। অতঃপর তোমার নিকটতম ব্যক্তিকে।”[1]
[1] নাসাঈ: ৫/৬১; দারাকুতনী: ৬৫২৮; আত তায়ালিসী: ১২৫৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২১২; সুনান বাইহাকী: ৮/৩৪৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৬৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩৩০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3342 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلَّانَ، بِأَذَنَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الزِّمَّانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَجُلًا يُقَالُ لَهُ أَبُو مَذْكُورٍ دَبَّرَ غُلَامًا لَهُ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُ، وَكَانَ يُقَالُ لِلْغُلَامِ: يَعْقُوبُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يَشْتَرِي هَذَا؟ »، فَاشْتَرَاهُ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَدِيِّ بْنِ كَعْبٍ بِثَمَنِ مِائَةِ دِرْهَمٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ مُحْتَاجًا فَلْيَبْدَأْ [ص:132] بِنَفْسِهِ، فَإِنْ كَانَ لَهُ فَضْلٌ فَبِأَهْلِهِ، فَإِنْ كَانَ لَهُ فَضْلٌ فَبِأَقْرِبَائِهِ، فَإِنْ كَانَ لَهُ فَضْلٌ فَهَاهُنَا وَهَاهُنَا وَهَاهُنَا»
رقم طبعة با وزير = (3331)
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আবূ মাযকূর নামে এক ব্যক্তি মরনোত্তর তার গোলামকে মুক্ত করেন। তার এই গোলাম ছাড়া আর কোন সম্পদ ছিল না। তার গোলামের নাম ছিল ইয়াকূব। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এই গোলামকে কে ক্রয় করবে?” অতঃপর বানূ আদী বিন কা‘ব গোত্রের এক ব্যক্তি তাকে একশ দিরহাম দিয়ে ক্রয় করে নেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যখন তোমাদের কেউ অভাবী হবে, তখন সে দানের ক্ষেত্রে নিজেকে দিয়ে শুরু করবে। অতঃপর যদি তার আরো অতিরিক্ত সম্পদ থাকে, তবে সে নিকটাত্নীয়দের দিবে। অতঃপর যদি তার আরো অতিরিক্ত সম্পদ থাকে, তবে সে এখানে, এখানে এখানে দিবে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩০৫; সহীহ মুসলিম: ৯৯৭; আবূ দাঊদ: ৩৯৫৭; নাসাঈ: ৭/৩০৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৪৫; সুনান বাইহাকী: ১০/৩০৯-৩১০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩৩১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3343 - أَخْبَرَنَا ابْنُ سَلْمٍ، حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ، أَنَّهَا أَعْتَقَتْ وَلِيدَةً فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «لَوْ أَعْطَيْتِهَا أَخْوَالَكِ كَانَ أَعْظَمَ لِأَجْرِكِ»
رقم طبعة با وزير = (3332)
মাইমূনাহ বিনতুল হারিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়কালে একটি দাসীকে মুক্ত করেন। অতঃপর তিনি বিষয়টি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বর্ণনা করলে, তিনি বলেন, “যদি তুমি এটা তোমার মামাদের দিতে, তবে এটা তোমার জন্য বেশি সাওয়াব হতো।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ৯৯৯; নাসাঈর বরাতে তুহফাতুল আহওয়াযী: ১২/৪৯৫; সুনান বাইহাকী: ৪/১৭৯; সহীহুল বুখারী: ২৫৯২; তাবারানী আল কাবীর: ২৩/১০৬৭; বাগাবী: ১৬৭৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান:৩৩৩১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3344 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا [ص:133] بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، عَنْ أُمِّ الرَّائِحِ بِنْتِ صُلَيْعٍ، عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «الصَّدَقَةُ عَلَى الْمِسْكِينِ صَدَقَةٌ، وَهِيَ عَلَى ذِي الرَّحِمِ اثْنَانِ: صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ»
رقم طبعة با وزير = (3333)
সালমান বিন আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মিসকিনদের দান করলে সাদাকাহ হয়। এটি রক্ত সম্পর্কীয় কাউকে দান করলে, দ্বিগুণ সাওয়াব হয়; সাদাকার সাওয়াব ও রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখার সাওয়াব।”[1]
[1] তাবারানী: ৬২১১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৩৮৫; মুসনাদ আহমাদ: ৪/১৭; দারেমী: ১/৩৯৭; নাসাঈ: ৫/৯২; ইবনু মাজাহ: ১৮৪৪; হাকিম: ১/৪০৭; সুনান বাইহাকী: ৪/১৭৪; হুমাইদী: ৮২৩; তিরমিযী: ৬৫৮; সহীহ বুখারী: ৪১৬৬; সহীহ মুসলিম: ১০০০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান লিগাইরিহী বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল:৮৮৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن لغيره - «الإرواء» (883).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح
3345 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى بْنِ عَبْدَانَ، بِعَسْكَرِ مُكْرَمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ الْبَحْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَفْضَلُ الصَّدَقَةِ مَا كَانَ عَنْ ظَهْرِ غِنًى، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ»
رقم طبعة با وزير = (3334)
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “শ্রেষ্ঠ সাদাকাহ হলো যা স্বাবলম্বী অবস্থায় দান করা হয়। আর দান তোমার পরিবারের লোকদের দিয়ে শুরু করবে।”[1]
[1] ইমাম শাফেঈ: ২/৬৮; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৩০; সুনান বাইহাকী: ১০/৩০৯; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/১১৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল:৩/৩১৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (3/ 319).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
3346 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَعْدَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «جُهْدُ الْمُقِلِّ، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ»
رقم طبعة با وزير = (3335)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কোন সাদাকাহ উত্তম?” তিনি জবাবে বলেন, “অল্প সম্পদের অধিকারী ব্যক্তির কষ্টার্জিত সম্পদ সাদাকাহ করা। আর তুমি তোমার পরিবারের লোকদের দিয়ে শুরু করবে।”[1]
[1] আবূ দাঊদ: ১৬৭৭; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৫৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৪৪; হাকিম: ১/৪১৪; সুনান বাইহাকী: ১/৪৮০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ:১৪৭২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1472).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3347 - أَخْبَرَنَا حَاجِبُ بْنُ أَرْكِينَ الْفَرْغَانِيُّ، بِدِمَشْقَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَبَقَ دِرْهَمٌ مِائَةَ أَلْفٍ»، فَقَالَ رَجُلٌ: وَكَيْفَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «رَجُلٌ لَهُ مَالٌ كَثِيرٌ أَخَذَ مِنْ عُرْضِهِ مِائَةَ أَلْفٍ، فَتَصَدَّقَ بِهَا، وَرَجُلٌ لَيْسَ لَهُ إِلَّا دِرْهَمَانِ فَأَخَذَ أَحَدَهُمَا فَتَصَدَّقَ بِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3336)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এক দিরহাম এক লক্ষ দিরহামকে ছাড়িয়ে গেছে!” তখন এক ব্যক্তি বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এটা কিভাবে?” জবাবে তিনি বলেন, “একজন মানুষের প্রচুর সম্পদ রয়েছে। সে সেখান থেকে এক লক্ষ দিরহাম নিয়ে দান করলো। আরেক ব্যক্তির কাছে মাত্র দুই দিরহাম রয়েছে, সে সেখান থেকে এক দিরহাম নিয়ে দান করে।”[1]
[1] নাসাঈ: ৫/৫৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৪৩; হাকিম: ১/৪১৬; সুনান বাইহাকী: ৪/১৮১-১৮২; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৭৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব:২/২৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «التعليق الرغيب» (2/ 28).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن
3348 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ [ص:136] حُرَيْثٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ، قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَقْيُ الْمَاءِ»
رقم طبعة با وزير = (3337)
সা‘দ বিন উবাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি বললাম, হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কোন সাদাকাহ উত্তম?” তিনি জবাবে বলেন, “পানি পান করানো।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৯৭; নাসাঈ: ৬/২৫৪-২৫৫; ইবনু মাজাহ: ৩৬৮৪; তাবারানী: ৫৩৭৯; আবূ দাঊদ: ১৬৭৯; হাকিম: ১/৪১৪; সুনান বাইহাকী: ৪/১৮৫; আহমাদ: ৫/২৫৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির সানাদ বিচ্ছিন্ন বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৭৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (1474).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات رجال الشيخين إلا أنه منقطع
3349 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، [ص:137] حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «ثَلَاثَةٌ يُحِبُّهُمُ اللَّهُ، وَثَلَاثَةٌ يُبْغِضُهُمُ اللَّهُ، أَمَّا الَّذِينَ يُحِبُّهُمُ اللَّهُ: فَرَجُلٌ أَتَى قَوْمًا فَسَأَلَهُمْ بِاللَّهِ وَلَمْ يَسْأَلُهُمْ بِقَرَابَةٍ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ، فَتَخَلَّفَ رَجُلٌ بِأَعْقَابِهِمْ، فَأَعْطَاهُ سِرًّا لَا يَعْلَمُ بِعَطِيَّتِهِ إِلَّا اللَّهُ وَالَّذِي أَعْطَاهُ، وَقَوْمٌ سَارُوا لَيْلَتَهُمْ حَتَّى إِذَا كَانَ النَّوْمُ أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِمَّا يَعْدِلُ بِهِ نَزَلُوا، فَوَضَعُوا رُءُوسَهُمْ، وَقَامَ يَتَمَلَّقُنِي وَيَتْلُو آيَاتِي، وَرَجُلٌ كَانَ فِي سَرِيَّةٍ فَلَقِيَ الْعَدُوَّ فَهُزِمُوا، وَأَقْبَلَ بِصَدْرِهِ يَقْتُلُ أَوْ يُفْتَحُ لَهُ، وَثَلَاثَةٌ يُبْغِضُهُمُ اللَّهُ: الشَّيْخُ الزَّانِي، وَالْفَقِيرُ الْمُخْتَالُ، وَالْغَنِيُّ الظَّلُومُ»
رقم طبعة با وزير = (3338)
আবূ যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তিন শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ পছন্দ করেন এবং তিন শ্রেণির মানুষকে তিনি অপছন্দ করেন। যাদের তিনি পছন্দ করেন, তারা হলেন, (১) এক ব্যক্তি এক কওমের কাছে এসে আল্লাহর ওয়াস্তে সাহায্য চান। তার ও তাদের মাঝে আত্নীয়তার সম্পর্ক থাকার কারণে সে তাদের কাছে সাহায্য চায়নি। তারপর এক ব্যক্তি তাদের পিছনে যায় এবং তাকে গোপনে দান করেন, যে দানের কথা আল্লাহ ও যাকে দান করেছে সে ছাড়া আর কেউ জানে না। (২) একদল লোক রাত্রে সফর করে। অতঃপর যখন ঘুম তাদের কাছে ঘুমের সমপর্যায়ভুক্ত যে কোন জিনিস অপেক্ষা প্রিয় হয়, তখন তারা যাত্রা বিরতি দেয় এবং তারা মাথা এলিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে যায়। এমন সময় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যায় আমার কাছে প্রার্থনা করার জন্য এবং সে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে। (৩) আরেক ব্যক্তি যে একটি ছোট বাহিনীতে থাকে। অতঃপর সে শত্রুর মুখোমুখি হয়। তার সঙ্গীরা পরাস্ত হয়। আর সে বুক উঁচিয়ে সামনে অগ্রসর হয়। এভাবে এক পর্যায়ে সে নিহত হয় অথবা বিজয় দেওয়া হয়। আর যেই তিনজনকে আল্লাহ ঘৃণা করেন, তারা হলেন, বৃদ্ধ ব্যভিচারী, অহংকারী দরিদ্র ও অত্যাচারী ধনী।”[1]
[1] তিরমিযী: ২৫৬৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৫৬; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৫৩; নাসাঈ: ৫/৮৪; হাকিম: ২/১১৩; আত তায়ালিসী: ৪৬৮; তাবারানী: ১৬৩৭; সুনান বাইহাকী: ৯/১৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব:২/৩২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «التعليق الرغيب» (2/ 32)، «المشكاة» (1922 / التحقيق الثاني)، وقد صحَّ عن أبي ذر بسياق آخره ليس فيه الأول، والثاني من الثلاثة الأُوَل، وقال في الثلاثة الذين يبغضهم الله: «والفخور المختال، والبخيل المنان، والبَّياع الحلاَّف».
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح
3350 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ظَبْيَانَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «ثَلَاثَةٌ يُحِبُّهُمُ اللَّهُ، وَثَلَاثَةٌ يُبْغِضُهُمُ اللَّهُ: يُحِبُّ رَجُلًا كَانَ فِي قَوْمٍ فَأَتَاهُمْ سَائِلٌ، فَسَأَلَهُمْ بِوَجْهِ اللَّهِ لَا يَسْأَلُهُمْ لَقَرَابَةٍ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ، فَبَخِلُوا، فَخَلَفَهُمْ بِأَعْقَابِهِمْ حَيْثُ لَا يَرَاهُ إِلَّا اللَّهُ وَمَنْ أَعْطَاهُ، وَرَجُلٌ كَانَ فِي كَتِيبَةٍ، فَانْكَشَفُوا، فَكَبَّرَ فَقَاتَلَ حَتَّى يَفْتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ، أَوْ يُقْتَلَ، وَرَجُلٌ كَانَ فِي قَوْمٍ فَأَدْلَجُوا، فَطَالَتْ دُلْجَتُهُمْ، فَنَزَلُوا وَالنَّوْمُ أَحَبُّ إِلَيْهِمْ مِمَّا يَعْدِلُ بِهِ، فَنَامُوا، وَقَامَ يَتْلُو آيَاتِي وَيَتَمَلَّقُنِي، وَيُبْغِضُ الشَّيْخَ الزَّانِي، وَالْبَخِيلَ الْمُتَكَبِّرَ، وَذَكَرَ الثَّالِثَ»
رقم طبعة با وزير = (3339)
আবূ যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তিন শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ পছন্দ করেন এবং তিন শ্রেণির মানুষকে তিনি অপছন্দ করেন। তিনি পছন্দ করেন ঐ ব্যক্তিকে, যে এক কওমের থাকে অতঃপর এক সাহায্যপ্রার্থী এসে তাদের কাছে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সাহায্য চান। তার ও তাদের মাঝে আত্নীয়তার সম্পর্ক থাকার কারণে সে তাদের কাছে সাহায্য চায়নি। অতঃপর তারা কৃপণতা করে আর সে ব্যক্তি তাদের পিছনে যায় এবং তাকে গোপনে দান করেন, যে দানের কথা আল্লাহ ও যাকে দান করেছে সে ছাড়া আর কেউ জানে না। (২) আরেক ব্যক্তি যে একটি ছোট বাহিনীতে থাকে। অতঃপর লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় আর সে ব্যক্তি আল্লাহু আকবার বলে যুদ্ধ করে যতক্ষন না মহান আল্লাহ তাকে বিজয় দেন অথবা সে নিহত হয় (৩) আরেক ব্যক্তি একদল লোকের মাঝে রাত্রে দীর্ঘ সফর করে। অতঃপর তারা যাত্রা বিরতি দেয়। অতঃপর ঘুম তাদের কাছে ঘুমের সমপর্যায়ভুক্ত যে কোন জিনিস অপেক্ষা প্রিয় হয়, ফলে তারা ঘুমিয়ে যায়। এমন সময় সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যায়, সে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং আমার কাছে সাহায্য চায়। আর যেই তিনজনকে আল্লাহ ঘৃণা করেন, তারা হলেন, বৃদ্ধ ব্যভিচারী, অহংকারী কৃপণ।” অধঃস্তন রাবী বলেন, “তিনি তৃতীয় জনের কথাও উল্লেখ করেন।”[1]
[1] তিরমিযী: ২৫৬৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৫৬; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৫৩; নাসাঈ: ৫/৮৪; হাকিম: ২/১১৩; আত তায়ালিসী: ৪৬৮; তাবারানী: ১৬৩৭; সুনান বাইহাকী: ৯/১৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব:২/৩২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null
3351 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، [ص:139] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ الْمِسْكِينُ الَّذِي تَرُدُّهُ التَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ، وَالْأَكْلَةُ وَالْأَكْلَتَانِ، وَلَكِنَّ الْمِسْكِينَ الَّذِي لَيْسَ لَهُ مَا يَسْتَغْنِي بِهِ، وَلَا يُعْلَمُ بِحَاجَتِهِ فَيُتَصَدَّقُ عَلَيْهِ، فَذَلِكَ الْمَحْرُومُ»
رقم طبعة با وزير = (3340)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ঐ ব্যক্তি (প্রকৃত) মিসকিন নয় যাকে এক গ্রাস বা দুই গ্রাস, এক লুকমা বা দুই লুকমা, একটি ও দুটি খেজুর দিয়ে বিদায় দেওয়া হয়। বস্তুত মিসকিন হলো ঐ ব্যক্তি যে এমন কিছু পায় না, যার মাধ্যমে সে স্বাবলম্বী হবেন আর তার প্রয়োজনের কথা মানুষ জানতে পারে না যে, তাকে সাদাকাহ করা হবে। এই ব্যক্তি হলো (কুরআনে বর্ণিত) মাহরুম বা বঞ্চিত ব্যক্তি।”[1]
[1] আবূ দাঊদ: ১৬৩২; সহীহুল বুখারী: ১৪৭৬; দারেমী: ১/৩৭৯; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৬০; সুনান বাইহাকী: ৭/১১; বাগাবী: ১৬০৩; সহীহ মুসলিম: ১০৯৩; নাসাঈ: ৫/৮৪-৮৫; আবূ দাঊদ: ১৬৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৩৬৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে “বঞ্চিত’’ অংশটুকু বাদে বাকী অংশকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৪২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح دون قوله: «فذلك المحروم»؛ فَإِنَّهُ مقطوع من كلام الزُّهْرِيّ - «صحيح أبي داود» (1442): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري
3352 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، بِمَنْبِجَ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَيْسَ الْمِسْكِينُ بِهَذَا الطَّوَّافِ الَّذِي يَطُوفُ عَلَى النَّاسِ تَرُدُّهُ اللُّقْمَةُ وَاللُّقْمَتَانِ، وَالتَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ»، قَالُوا: فَمَنِ الْمِسْكِينُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟، قَالَ: «الَّذِي لَا يَجِدُ غِنًى يُغْنِيهِ، وَلَا يُفْطَنُ لَهُ فَيُتَصَدَّقُ عَلَيْهِ، وَلَا يَقُومُ فَيَسْأَلُ النَّاسَ»
رقم طبعة با وزير = (3341)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মিসকিন সে নয়, যে মানুষের কাছে ঘুরে ঘুরে সাহায্য চায়। অতঃপর তাকে একটি বা দুটি খেজুর অথবা এক বা দু্‘লুকমা খাবার দিয়ে বিদায় করা হয়।” সাহাবীগণ বললেন, “তাহলে কিসকীন কে?” জবাবে তিনি বলেন, “যে ব্যক্তির এমন সহায়-সম্বল নেই যার মাধ্যমে সে স্বাবলম্বী হয়ে চলবে। আর তার অভাব বুঝাও যায় না, তাকে সাদাকাহ করা হবে। আর সে উঠে গিয়ে মানুষের কাছে সাহায্যও চায় না।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/৯২৩; সহীহুল বুখারী: ১৪৭৯; নাসাঈ: ৫/৮৫; সুনান বাইহাকী: ৭/১১; বাগাবী: ১৬০২; সহীহ মুসলিম: ১০৩৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৪২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
3353 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا، وَأُرَاهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ، أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَعَمْ»
رقم طبعة با وزير = (3342)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, “আমার মা আকস্মিক মারা গিয়েছে। আমার ধারণা তিনি যদি কথা বলতে পারতেন, তবে তিনি সাদাকাহ করতেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে সাদাকাহ করবো?” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, “হ্যাঁ (পারবে)।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/৭৬০; সহীহুল বুখারী: ২৭৬০; নাসাঈ: ৬/২৫০; সুনান বাইহাকী: ৬/২৭৭; বাগাবী: ১৬৯০; সহীহ মুসলিম: ১০০৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৯৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২৫৬৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (217)، «صحيح أبي داود» (2565) «التعليق على ابن خزيمة» (2499): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
3354 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: خَرَجَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ وَحَضَرَتْ أُمَّهُ الْوَفَاةُ بِالْمَدِينَةِ، فَقِيلَ لَهَا: أُوصِي، فَقَالَتْ: فَبِمَ أُوصِي، إِنَّمَا الْمَالُ مَالُ سَعْدٍ، فَتُوُفِّيَتْ قَبْلَ أَنْ يَقْدِمَ سَعْدٌ، فَلَمَّا [ص:141] قَدِمَ سَعْدٌ ذُكِرَ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ سَعْدٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ يَنْفَعُهَا أَنْ أَتَصَدَّقُ عَنْهَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَعَمْ»، فَقَالَ سَعْدٌ: حَائِطُ كَذَا وَكَذَا صَدَقَةٌ عَلَيْهَا، لِحَائِطٍ سَمَّاهُ
رقم طبعة با وزير = (3343)
সাঈদ বিন আমর বিন শুরাহবীল বিন সাঈদ বিন সা‘দ বিন উবাদাহ তার ও দাদার পরম্পরায় হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার দাদা বলেন, “একবার সা‘দ বিন উবাদাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কোন এক যুদ্ধে বের হন। এই সময় মদীনার তার মা মুমূর্ষু অবস্থায় নিপতিত হন। তখন তার মাকে বলা হলো, “আপনি অসিয়ত করুন।” জবাবে তিনি বলেন, “আমি কী অসিয়ত করবো, সম্পদ তো সা‘দের।” অতঃপর সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মদীনায় আসার আগেই তিনি মারা যান। তারপর সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মদীনায় আসলে, তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। তখন সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি যদি তার পক্ষ থেকে সাদাকাহ করি, তবে সেটা কি তার উপকারে আসবে?” তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “হ্যাঁ (উপকার হবে)।” তখন সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “ওমুক ওমুক বাগান তার পক্ষ থেকে সাদাকাহ করে দিলাম।” রাবী বলেন, “তিনি বাগানের নাম ধরে বলেন।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/৭৬০; নাসাঈ: ৬/২৫০-২৫১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৫০০; হাকিম: ১/৪২০; সুনান বাইহাকী: ৬/২৭৮; তাবারানী: ৫৩৮২; সহীহুল বুখারী: ২৭৬২; আবূ দাঊদ: ২৮৮২; তিরমিযী: ৬৬৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকু আলা সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৫০০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «التعليق على «صحيح ابن خزيمة»» (2500).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح
3355 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «بَيْنَمَا رَجُلٌ بِفَلَاةٍ مِنَ الْأَرْضِ إِذْ رَأَى سَحَابَةً فَسَمِعَ فِيهَا صَوْتًا: اسْقِ حَدِيقَةَ فُلَانٍ، فَجَاءَ ذَلِكَ السَّحَابُ فَأَفْرَغَ مَا فِيهِ فِي حُرَّةٍ، قَالَ: فَانْتَهَيْتُ فَإِذَا فِيهَا أَذْنَابُ شِرَاجٍ، وَإِذَا شَرْجَةٌ مِنْ تِلْكَ الشُّرَجِ قَدِ اسْتَوْعَبَتِ الْمَاءَ فَسَقَتْهُ، فَانْتَهَيْتُ إِلَى رَجُلٍ قَائِمٍ يَحُولُ الْمَاءَ بِمِسْحَاتِهِ فِي حَدِيقَةٍ، فَقُلْتُ لَهُ: يَا عَبْدَ اللَّهِ، مَا اسْمُكَ؟، فَقَالَ: فُلَانٌ، الِاسْمُ الَّذِي سَمِعَ فِيَ السَّحَابَةِ، قَالَ: كَيْفَ تَسْأَلُنِي يَا عَبْدَ اللَّهِ عَنِ اسْمِي؟، قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ فِيَ السَّحَابَةِ الَّذِي هَذَا مَاؤُهَا يَقُولُ: اسْقِ حَدِيقَةَ فُلَانٍ بِاسْمِكَ، فَأَخْبِرْنِي مَا تَصْنَعُ فِيهَا، قَالَ: أَمَا إِذَا قُلْتَ هَذَا فَإِنِّي أَنْظُرُ إِلَى مَا خَرَجَ مِنْهَا فَأَصَّدَقُ بِثُلُثِهِ، وَآكُلُ أَنَا وَعِيَالِي ثُلُثَهُ، وَأُعِيدُ فِيهَا ثُلُثَهُ»
رقم طبعة با وزير = (3344)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “একবার এক ব্যক্তি জনমানবহীন প্রান্তরে ছিলেন, এমন সময় তিনি একটি মেঘ দেখতে পান। অতঃপর তিনি তাতে এই আওয়াজ শুনতে পান, “ওমুকের বাগানে পানি বর্ষন করো।” অতঃপর সেই মেঘ তার মধ্যস্থিত সব পানি এক কঙ্করময় জায়গায় বর্ষন করলো। আমি সেখানে পানির বেশ কিছু নালা দেখতে পেলাম। আমি দেখলাম একটি নালা সব পানিকে নিয়ে নেয় এবং তাকে পানি দেয়। আমি সেখানে গিয়ে দেখি এক ব্যক্তি তার দাঁড়িয়ে কোদাল দিয়ে পানি বাগানে ঘুরিয়ে নিচ্ছে। তখন আমি বললাম, “আল্লাহর বান্দা, আপনার নাম কী?” তিনি জবাব দেন, “ওমুক।” –যেই নাম মেঘে বলা হয়েছে।– সেই ব্যক্তি বলেন, “হে আল্লাহর বান্দা, আপনি কিভাবে আমার নাম জিজ্ঞেস করলেন?” তিনি বলেন, “এই পানি যেই মেঘ থেকে এসেছে, আমি সেই মেঘে বলতে শুনেছি, “ওমুকের বাগানে পানি বর্ষন করো।” সেখানে আপনার নাম বলা হয়েছে। আপনি আমাকে বলুন, আপনি এই বাগানের মালে কী করেন?’’ জবাবে তিনি বলেন, “আপনি যখন এটা বললেন, তবে শুনুন, “নিশ্চয়ই আমি লক্ষ্য করি এই বাগান থেকে কতটুকু ফল উৎপন্ন হয়। অতঃপর আমি এর এক-তৃতীয়াংশ সাদাকাহ করি। এক-তৃতীয়াংশ আমি ও আমার পরিবার ভক্ষন করি। আর এক-তৃতীয়াংশ বাগানে পুনরায় খরচ করি।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ২৯৮৪; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৯৬; আত তায়ালিসী: ২৫৮৭; সুনান বাইহাকী: ৩/১৩৩; হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/২৭৫-২৭৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১১৯৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1197).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
3356 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الدَّغُولِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُشْكَانَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادٍ، حَدَّثَنَا الْأَعْرَجُ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَالَ رَجُلٌ: لَأَتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ، فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ زَانِيَةٍ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَتَحَدَّثُونَ: تُصُدِّقَ اللَّيْلَةَ عَلَى زَانِيَةٍ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى زَانِيَةٍ، لَأَتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ، فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ سَارِقٍ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَتَحَدَّثُونَ: تُصُدِّقَ اللَّيْلَةَ عَلَى سَارِقٍ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى سَارِقٍ، لَأَتَصَدَّقَنَّ اللَّيْلَةَ بِصَدَقَةٍ، فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ غَنِيٍّ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَتَحَدَّثُونَ: تُصُدِّقَ اللَّيْلَةَ عَلَى غَنِيٍّ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى غَنِيٍّ، فَأُتِيَ، فَقِيلَ: أَمَّا صَدَقَتُكَ فَقَدْ قُبِلَتْ، أَمَّا الزَّانِيَةُ فَلَعَلَّهَا تَسْتَعِفُّ بِهَا [ص:144] عَنْ زِنَاهَا، وَأَمَّا السَّارِقُ فَلَعَلَّهُ يَسْتَعِفُّ عَنْ سَرِقَتِهِ، وَلَعَلَّ الْغَنِيَّ يَعْتَبِرُ فَيُنْفِقُ مِمَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ تَعَالَى»
رقم طبعة با وزير = (3345)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এক ব্যক্তি বললো, “অবশ্যই আমি সাদাকাহ করবো।” অতঃপর সে সাদাকাহ নিয়ে বের হয়। অতঃপর সে তা এক বেশ্যা নারীর হাতে দেয়। অতঃপর সকালে লোকজন বলাবলি করতে থাকে, “আজ রাতে এক বেশ্যা নারীকে সাদাকাহ করা হয়েছে।” সেই ব্যক্তি বলে, “হে আল্লাহ, আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা, এক বেশ্যা নারীর হাতে (আমার সাদাকাহ পড়েছে)। অবশ্যই আমি আরেকটি সাদাকাহ করবো।” তারপর সে আবার সাদাকাহ নিয়ে বের হয়। অতঃপর সে এক চোরের হাতে তা সোপর্দ করে। অতঃপর সকালে লোকজন বলাবলি করতে থাকে, “আজ রাতে এক চোরকে সাদাকাহ করা হয়েছে।” সেই ব্যক্তি বলে, “হে আল্লাহ, আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা, এক চোরের হাতে (আমার সাদাকাহ পড়েছে)। অবশ্যই আমি আরেকটি সাদাকাহ করবো।” তারপর সে আবার সাদাকাহ নিয়ে বের হয়। অতঃপর সে এক ধনী ব্যক্তির হাতে তা সোপর্দ করে। অতঃপর সকালে লোকজন বলাবলি করতে থাকে, “আজ রাতে এক ধনী ব্যক্তিকে সাদাকাহ করা হয়েছে।” সেই ব্যক্তি বলে, “হে আল্লাহ, আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা, এক ধনী ব্যক্তির হাতে (আমার সাদাকাহ পড়েছে)। তারপর তাকে (আল্লাহর কাছে) আনা হয়। অতঃপর তাকে বলা হয়, “তোমার সাদাকাহ কবূল করা হয়েছে। বেশ্যা নারী হয়তো সে এর মাধ্যমে তার ব্যভিচার থেকে নিজেকে পবিত্র রাখবে। চোর হয়তো, এর মাধ্যমে তার চৌর্যবৃত্তি থেকে নিজেকে পবিত্র রাখবে। আর ধনী ব্যক্তি হয়তো এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে অতঃপর আল্লাহ তাকে যা কিছু প্রদান করেছেন, সেখান থেকে সে দান করবে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৩২২; সহীহুল বুখারী: ১৪২১; সহীহ মুসলিম: ১০২২; নাসাঈ: ৫/৫৫-৫৬; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯১-১৯২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (মুশকিলাতুল ফাকর: ৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «مشكلة الفقر» (6).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح
3357 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْذِرِ بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهَا جَاءَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: «يَا نَبِيَّ اللَّهِ لَيْسَ لِي شَيْءٌ إِلَّا مَا أَدْخَلَ عَلَيَّ الزُّبَيْرُ، فَهَلْ عَلَيَّ مِنْ جُنَاحٍ أَنْ أَرْضَخَ مِمَّا يُدْخِلُ عَلَيَّ؟، قَالَ: » ارْضَخِي مَا اسْتَطَعْتِ، وَلَا تُوعِي فَيُوعِيَ اللَّهُ عَلَيْكِ «
رقم طبعة با وزير = (3346)
আসমা বিনতে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তিনি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, “হে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ঘরে যা নিয়ে আসেন, তা ছাড়া আমার কোন কিছুই নেই। কাজেই তিনি যা ঘরে নিয়ে আসেন, যদি আমি সেখান থেকে দান করি, তবে কি আবার গোনাহ হবে?” জবাবে তিনি বলেন, “তুমি যথাসাধ্য দান করো। তুমি টাকা থলেতে বেধে রাখবে না, তাহলে আল্লাহও তোমাকে দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।”[1]
[1] সহীহুল বুখারী: ১৪৩৪; সহীহ মুসলিম: ১০২৯; নাসাঈ: ৫/৭৪; সুনান বাইহাকী: ৪/১৮৭; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৩৫৪; বাগাবী: ১৬৫৪; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৬৬১৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৯০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1490): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3358 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِذَا تَصَدَّقْتِ الْمَرْأَةُ مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا غَيْرَ مُفْسِدَةٍ فَلَهَا أَجْرُهَا وَلِزَوْجِهَا أَجْرُ مَا اكْتَسَبَ، وَلَهَا أَجْرُ مَا نَوَتْ، وَلِلْخَازِنِ مِثْلُ ذَلِكَ»
رقم طبعة با وزير = (3347)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন কোন নারী ফাসাদ সৃষ্টি না করে স্বামীর সম্পদ থেকে দান করে, তবে তার জন্য সাওয়াব রয়েছে। তার স্বামীর জন্য সম্পদ উপার্জন করার সাওয়াব রয়েছে, সেই নারী যে নিয়ত করেছে, তার সাওয়াব রয়েছে, অনুরুপভাবে সম্পদ হেফাযতকারীর জন্যও সাওয়াব রয়েছে।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭২৭৫; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৪৪; সহীহুল বুখারী: ১৪২৫; সহীহ মুসলিম: ১০২৪; আবূ দাঊদ: ১৬৮৫; তিরমিযী: ৬৭২; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯২; বাগাবী: ১৬৯২; নাসাঈ: ৫/৬৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৭৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1479): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3359 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ حَمَّادٍ، سَجَّادَةٌ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنِي بُرَيْدٌ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «الْخَازِنُ الْمُسْلِمُ الْأَمِينُ الَّذِي يُنْفِقُ»، وَرُبَّمَا قَالَ: «يُعْطِي مَا أُمِرَ، فَيُعْطِيهِ كَامِلًا مُوَفَّرًا طَيِّبَةً بِهِ نَفْسُهُ، فَيَدْفَعُهُ إِلَى الَّذِي أُمِرَ بِهِ أَحَدُ الْمُتَصَدِّقِينَ»
رقم طبعة با وزير = (3348)
আবূ মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমানতদার মুসলিম মালরক্ষক যে খরচ করে –কোন কোন সময় তিনি বলেছেন, দান করে- যা তাকে আদেশ করা হয়। সে সেটা খুশি মনে পরিপূর্ণভাবে দান করে, যাকে দেওয়ার জন্য আদেশ করা হয়, তাকেই প্রদান করে, সে দুইজন দানকারীর একজন হিসেবে বিবেচিত।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৯৪; সহীহুল বুখারী: ১৪৩৮; সহীহ মুসলিম: ১০২৩; আবূ দাঊদ: ১৬৮৪; মুসনাদুশ শিহাব: ৩০২; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯২; নাসাঈ: ৫/৭৯-৮০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৭৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1478): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3360 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عُمَيْرٍ، مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ، قَالَ: كُنْتُ مَمْلُوكًا، فَكُنْتُ أَتَصَدَّقُ بِلَحْمٍ مِنْ لَحْمِ مَوْلَايَ، فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «تَصَدَّقْ وَالْأَجْرُ بَيْنَكُمَا نِصْفَانِ»
رقم طبعة با وزير = (3349) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: أُضْمِرَ فِي هَذَا الْخَبَرِ: تَصَدَّقْ بِإِذْنِهِ، فَذِكْرُ الْإِذْنِ فِيهِ مُضْمَرٌ، وَعُمَيْرٌ مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ إِنَّمَا قِيلَ: آبِي اللَّحْمِ، لِأَنَّهُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ حَرَّمَ عَلَى نَفْسِهِ اللَّحْمَ وَأَبَى أَنْ يَأْكُلَ، فَقِيلَ: آبِي اللَّحْمِ، [ص:148] وَمُحَمَّدُ بْنُ زَيْدٍ هَذَا هُوَ مُحَمَّدُ بْنُ زَيْدِ بْنِ الْمُهَاجِرِ بْنِ قُنْفُذٍ الْجُدْعَانِيُّ الْقُرَشِيُّ، سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، وَمُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ، رَوَى عَنْهُ مَالِكٌ وَأَهْلُ الْمَدِينَةِ
আবুল লাহমের আজাদকৃত দাস উমাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি কৃতদাস ছিলাম। অতঃপর আমি আমার মুনিবের গোসত থেকে কিছু গোসত সাদাকাহ করতাম। তারপর একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন, “তুমি সাদাকাহ করতে থাকো আর সাওয়াব তোমাদের উভয়ের মাঝে আধা আধি হবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসে একটি কথা উহ্য রয়েছে। সেটা হলো তুমি তোমার মুনিবের অনুমতি নিয়ে সাদাকাহ করবে। কাজেই অনুমতি নেওয়ার কথা এখানে উহ্য রয়েছে। আর উমাইর হলেন আবিল লাহমের আজাদকৃত দাস। তাকে আবিল লাহম বলার কারণ হলো তিনি জাহেলী যুগে নিজের উপর গোসত খাওয়া হারাম করে নিয়েছিলেন। তিনি গোসত খেতে অস্বীকৃতি জানাতেন। এজন তাকে আবিল লাহম বা গোসত ক্ষেত্রে অস্বীকারকারী বলা হয়। আর মুহাম্মাদ বিন যাইদের নাম হলো মুহাম্মাদ বিন যাইদ আল মুহাজির বিন কুনফুয আল জুদ‘আনী আল কুরাশী। তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমার, মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। তার কাছ থেকে ইমাম মালিক ও মদীনাবাসী হাদীস বর্ণনা করেছেন।”
[1] সহীহ মুসলিম: ১০২৫; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/১৬৪; ইবনু মাজাহ: ২২৯৭; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯৪; নাসাঈ: ৫/৬৩-৬৪; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩৪৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م (3/ 91).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم